ব্যাখ্যা
- মাইক্রোফোন ও ইয়ারফোন বা স্পিকার উভয়ই এক ধরণের ট্রান্সডিউসার।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬ / ৬৪ · ৫০১–৬০০ / ৬,৪০৯
মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে।
যেমন- ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে।
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• অক্সিজেনের যোজ্যতা হলো 2। অর্থাৎ, এটি সর্বাধিক দুটি একক বা সমমানের বন্ধন তৈরি করতে পারে।
• যোজ্যতা:
- যোজ্যতা হলো একটি মৌলের ক্ষমতা কতটি হাইড্রোজেন বা অন্যান্য এক-ভ্যালেন্সি পরমাণুর সঙ্গে বন্ধন তৈরি করতে পারে তা নির্দেশ করে।
- এটি মৌলের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াশীলতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- পারমাণবিক সংখ্যা 8 → ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p4.
- সর্বশেষ কক্ষপথে ৬টি ইলেকট্রন আছে।
- সর্বশেষ কক্ষপথে (৮ ইলেকট্রন) পেতে আরও ২টি ইলেকট্রন দরকার।
- তাই অক্সিজেন সর্বাধিক ২টি বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম।
উদাহরণ:
- H2O: প্রতিটি হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সঙ্গে একটি একক বন্ধন তৈরি করেছে → মোট ২টি বন্ধন।
- O2: দুটি অক্সিজেন পরমাণুর মধ্যে দ্বিগুণ বন্ধন (double bond) আছে।
উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
pH স্কেল:
- বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন।
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
অর্থাৎ, pH = -log[H+]
- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়।
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে।
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়।
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে; আবার দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়।
- এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যারোমিটার হল বায়ুর চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র।
ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী টরেসিলি। যে যন্ত্র দিয়ে বাতাসের চাপ মাপা হয় সে যন্ত্রকে বলা হয় ব্যারোমিটার।
- বাতাসের চাপ সবসময় স্থির থাকে না। কখনো তা বাড়ে আবার কখনো কমে। এর একমাত্র কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের হ্রাস-বৃদ্ধি।
- বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বাতাসের চাপ কমে যায় এবং তা ব্যারোমিটারে ধরা পড়ে।
- বাতাসের চাপ কমলে বুঝতে হবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বাতাসের চাপ বাড়তে থাকলে আবহাওয়া পরিষ্কার হবে।
- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, এই শক্তির উৎস স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
যথা-
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি।
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল (পেট্রোল), নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
রাসায়নিক বন্ধন:
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে।
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু।
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি।
- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে।
- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে।
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষন বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়।
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- ধাতব বন্ধন।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার (Photoelectric Effect) ব্যাখ্যা দেন।
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।
কণা তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে।
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়।
তরঙ্গ তত্ত্ব:
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়।
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়।
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়।
তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব:
- এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো।
- এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না।
- এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজে পটাশিয়াম (K) তালিকার একদম উপরের দিকে অবস্থান করে, যার ফলে এটি অত্যন্ত সক্রিয়।
- অন্যদিকে কপার, সোনা এবং প্লাটিনাম তালিকার নিচের দিকে অবস্থিত এবং এরা তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় বা কম সক্রিয় ধাতু।
• সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়।
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়।
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল।
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়।
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়।
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।
- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে।
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কাঠের মধ্য দিয়ে তড়িৎ পরিবহনের জন্য কোন মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায়, ইহা বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ বলে। যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ ইত্যাদি।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
- রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, বোরাক্স ইত্যাদি হলো সোডিয়ামের আকরিক।
- সল্টপিটার হলো পটাশিয়ামের আকরিক।
- ডলোমাইট হলো ক্যালসিয়ামের আকরিক।
- ক্রায়োলাইট হলো অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
• আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি বা SI পদ্ধতিতে তাপের একক হলো জুল (J)।
• তাপ:
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- তাপের SI একক জুল (J)।
- তাপের অন্য একটি ব্যবহারিক একক ক্যালরি।
- এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক।
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার।
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না।
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
• তাপমাত্রা:
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
- তাপমাত্রা SI একক কেলভিন।
- এ ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক হল সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট।
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার।
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে।
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার বা আয়তন নেই, একে যে কোনো পাত্রে রাখলে এটি সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে নেয়। বায়বীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বল অত্যন্ত কম এবং গতিশক্তি অনেক বেশি থাকে, ফলে অণুগুলো সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বদ্ধ পাত্রের পুরো জায়গা জুড়ে অবস্থান করে।
পদার্থ:
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে।
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে।
কঠিন পদার্থ:
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে।
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি।
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়।
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে।
তরল পদার্থ:
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি।
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়।
বায়বীয় পদার্থ:
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই।
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে।
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
◉ চুম্বকের চারপাশে যে অঞ্চলে চৌম্বক বল অনুভূত হয় তাকে বলা হয় চৌম্বক ক্ষেত্র।
চৌম্বক ক্ষেত্র:
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে।
- লম্বা সোজা পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করা হলে এর চারদিকে যে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তা চুম্বক শলাকার সাহায্যে চৌম্বক ক্ষেত্র রেখা (বা চৌম্বক আবেশ রেখা) অঙ্কিত করে দেখানো যায়। রেখাগুলিকে চৌম্বক বলরেখাও বলা হয়ে থাকে।
- লম্বা সোজা পরিবাহীর জন্য কোনো বিন্দুতে চৌম্বক ক্ষেত্রের মান (১) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের সমানুপাতিক এবং (২) বিন্দু থেকে পরিবাহীর দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক।
- এটি একটি অদৃশ্য বল ক্ষেত্র, যা চুম্বকের চারপাশে বিস্তৃত থাকে।
- যখন কোনো চৌম্বকীয় বস্তু বা চার্জযুক্ত কণা এই অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখন এটি চৌম্বক বলের প্রভাব অনুভব করে।
- চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ধারণ করা হয় উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুর দিকে।
- টেসলা হচ্ছে চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহের কারণে বর্তনীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন করা সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করার মূল উদ্দেশ্য।
• সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজ:
- যান্ত্রিক কারণে কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে হঠাৎ তড়িৎ প্রবাহ বেড়ে গেলে যন্ত্রটি গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে।
- বাড়িতে, হাসপাতালে, বিদ্যালয়ে, ছোট বড় শিল্প কারখানায় এই কারণেই তড়িৎ প্রবাহে দুর্ঘটনা হয়।
- হঠাৎ করে অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা রোধের উদ্দেশ্যে সরবরাহ লাইনে সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়।
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলেই বর্তনীকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। - ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু ও নিম্ন গলনাংকের একটা তারের ভেতর দিয়ে নেয়া হয়।
- কোনো কারণে নির্ধারিত মানের অধিক তড়িৎ প্রবাহ হলে ফিউজের সরু তার উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দেয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
নিউটনের প্রথম সূত্র (ইনর্শিয়ার সূত্র):
- কোন বস্তুর উপর যদি বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, তবে বস্তুটি তার বিশ্রাম অবস্থায় থাকবে বা সমত্ব বেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
অর্থাৎ, এটি শুধুমাত্র গতিশীলতার ধারণা দেয়, কিন্তু সরাসরি বল ও পরিমাণের সম্পর্ক দেয় না।
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র (F = ma):
- কোনো বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে, ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকেই ঘটে।
- এই সূত্রটি গাণিতিকভাবে F = ma দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যেখানে F হল প্রযুক্ত বল, m হল বস্তুর ভর এবং a হল ত্বরণ।
- তাই, পরিমাণ বা momentum-এর পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করে নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র।
নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- প্রতিটি ক্রিয়ার জন্য সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।
অর্থাৎ, এটি বলের জোড়ার সম্পর্ক দেখায়, কিন্তু একক বস্তুতে পরিমাণ পরিবর্তনের ধারণা সরাসরি দেয় না।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
আয়তন অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের শতকরা পরিমাণ-
নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
অক্সিজেন- ২০.৭১%
আর্গন - ০.৮০%
কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
অন্যান্য গ্যাসসমূহ- ০.০২%
ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
পানি কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তার পরিমাপক হলো pH. এর সীমা ০-১৪, যেখানে ৭ নিরপেক্ষতা নির্দেশ করে, ৭ এর নিচে অম্লতা নির্দেশ করে, এবং ৭ এর উপরে ক্ষারক নির্দেশ করে। অ্যান্টাসিড হলো ক্ষারকীয় দ্রবণ। তাই এর pH এর মাত্রা ৭.০ এর বেশি।
Source: usgs.gov
ডিজেল পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে।
Source: eia.gov
সালফারযুক্ত ডিজেল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে এর দহন প্রক্রিয়ায় সালফারের জারন থেকে সালফার অক্সাইড উৎপন্ন ও নির্গত হয়।
সালফার ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ বেশি হবে না কম হবে তা ডিজেলে উপস্থিত সালফারের উপর নির্ভর করে।
(http://doe.portal.gov.bd)
জেনে রাখা ভাল,
অন্যদিকে ডিজেল একটি হাইড্রোকার্বন হওয়ায় এটির দহনে সবসময়ই কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। সকল হাইড্রোকার্বনই এমন দহন বিক্রিয়া দেয়।
যুক্ত্রাষ্ট্রের Energy Information Administration (EIA) এর তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ডিজেল পোড়ানোর কারণে ৪৬১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গত হয়েছে। যা ঐ বৎসরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের শতকরা ৯ ভাগ।
(https://www.eia.gov)
প্রশ্ন - কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে? উত্তরঃ ডিজেল।
সালফার ডাই অক্সাইড বায়ুমন্ডলে যুক্ত হওয়ার পরিমাণ নির্ভর করে ডিজেলের সাথে সালফারের উপস্থিতির উপর।
তবে, মনে রাখতে হবে, ডিজেল পোড়ালে সবচেয়ে বেশি বায়ুমন্ডলে যুক্ত হয়- কার্বন ডাই অক্সাইড।
প্রশ্ন - ডিজেল পোড়ালে সবচেয়ে বেশি কোন গ্যাসটি বায়ুমণ্ডলে যুক্ত হয়?
উত্তর হবে - কার্বন ডাই অক্সাইড
Sources: Bangladesh Govt. & U.S. Energy Information Administration (EIA) Websites.
যখন আমরা ১কেজি লিখিত একটি চাউলের প্যাকেট বা একটি দুধের টিন কিনি-তখন বুঝি ঐ প্যাকেটের চাউলের বা টিনের দুধের ভর ১ কেজি কিন্তু ওজন ১ কেজি নয়, পৃথিবীতে এগুলাের ওজন হবে ৯.৮ নিউটন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
ভিন্ন তাপমাত্রার দুটি বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে তাদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে।
যে বস্তুটির তাপমাত্রা বেশি সেটি তাপ ছেড়ে দেয় বা বর্জন করে, আর যে বস্তুটির তাপমাত্রা কম সেটি তাপ নেয় বা গ্রহণ করে। দুটি বস্তুর তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের এই আদান প্রদান বা গ্রহণ- বর্জন চলতে থাকে।
যদি তাপের এই আদান প্রদানের সময় অন্য কোনো ভাবে তাপ নষ্ট না হয়, তবে বেশি তাপমাত্রার বস্তুটি যে পরিমাণ তাপ বর্জন করবে কম তাপমাত্রার বস্তুটি ঠিক সেই পরিমাণ তাপ গ্রহণ করবে। অর্থাৎ মোট বর্জিত তাপ = মোট গৃহীত তাপ।
সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
শব্দ:
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়।
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক।
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।
যেমন- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে বায়বীয় মাধ্যমের চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে বেগ সবচেয়ে বেশি বেশি।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে।
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়।
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• পর্যায় সারণির গ্রুপ-৩ থেকে গ্রুপ-১২ এর মৌলগুলোকে অবস্থান্তর মৌল বলে। সোডিয়াম (Na) এর অবস্থান গ্রুপ-১ এ হওয়ায় এটি অবস্থান্তর মৌল নয়।
• অবস্থান্তর মৌল:
- অবস্থান্তর মৌল হলো সেই ধাতু যাদের d-অরবিটাল আংশিকভাবে পূর্ণ থাকে।
- সাধারণত এগুলো ডি-ব্লক মৌল হিসেবে পরিচিত, যা পিরিয়ডিক টেবিলের গ্রুপ ৩ থেকে ১২ এ থাকে।
- অবস্থান্তর মৌল বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে থাকতে পারে এবং তাদের যৌগ রঙিন হয়।
• বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ ঘনত্ব এবং উচ্চ গলনাঙ্ক।
- রঙিন যৌগ গঠন এবং ক্যাটালিস্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে প্রবেশ করতে সক্ষম।
• উদাহরণ:
- লোহা (Fe): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d6 4s2 → অবস্থান্তর মৌল।
- তামা (Cu): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d10 4s1 → অবস্থান্তর মৌল।
- ক্রোমিয়াম (Cr): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d5 4s1 → অবস্থান্তর মৌল।
উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ হলো সেই তরঙ্গ যা মাধ্যমের কণার স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়।
• তরঙ্গের প্রকারভেদ:
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় তাকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে।
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না তাকে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে।
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তা দুই ধরনের। যথা—অনুপ্রস্থ তরঙ্গ, অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ (Transverse wave):
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হলে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানির পৃষ্ঠ বরাবর সামনে অগ্রসর হয়।
- অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। এ তরঙ্গকে আড় তরঙ্গও বলা হয়।
- যেমন—আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ।
• অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ (Longitudinal wave):
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে মাধ্যমের কণাগুলো কম্পনের দিকের সমান্তরালে আন্দোলিত হয়, কিন্তু নিজ অবস্থান পরিবর্তন করে না।
- নমনীয় স্প্রিংয়ে মৃদু আঘাত করলে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
- এ তরঙ্গে তরঙ্গ শীর্ষ বা তরঙ্গ পাদ থাকে না।
- বরং সংকোচন ও প্রসারণের পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস থাকে।
• অন্যান্য অপশন:
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ → কণার কম্পন ও তরঙ্গের অগ্রসর হওয়ার দিক সমান্তরাল।
- যান্ত্রিক তরঙ্গ → সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়।
- তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ → সঞ্চারণের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
শব্দ:
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে।
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে।
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না।
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে।
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়।
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1।
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে।
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে।
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
অপরিবাহী:
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি।
পরিবাহী:
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি।
অর্ধ-পরিবাহী:
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধ-পরিবাহী পদার্থ।
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে।
যেমন- সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।
ইলেকট্রন দান বা বর্জনের প্রক্রিয়াকে বলা হয় জারন।
আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে।
যেমন- অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।
ইলেকট্রন গ্রহণের উক্ত প্রক্রিয়াকে বলে বিজারন।
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• ভর-শক্তি সমীকরণ:
- আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc2.
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র।
- নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়।
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আমরা যে শক্তি পেয়ে থাকি তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।
উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পানি বিশুদ্ধ করার কয়েকটি উপায় আছে৷ এরমধ্যে অন্যতম হলো ক্লোরিনেশন, ফুটানো, থিতানো এবং ছাঁকন৷
এদের মধ্যে পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ক্লোরিনেশন৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
ব্যাখ্যা:
- কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হিসেবে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
অ্যামিটার:
- অ্যামিটার এমন একটি পরিমাপক যন্ত্র যা দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। এটিকে বর্তনীর সাথে সিরিজে সংযুক্ত করা হয়।
ভোল্টমিটার:
-যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায় তাকে ভোল্টমিটার বলে।
অণুবীক্ষণযন্ত্র:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে অতি ক্ষুদ্র বস্তু যা খালি চোখে দেখা যায় না সেই বস্তুটিকে বড় করে দেখা যায় তাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণয় করা যায়, তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা:
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়।
- 1803 সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দেন, থমসন 1897 সালে ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন, এবং রাদারফোর্ড 1911 সালে পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। তবে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন মডেলটি স্থিতিশীলতার দিক থেকে ব্যাখ্যাতীত ছিল।
- 1900 সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন, যা কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করে। পরবর্তীতে বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যায় কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রয়োগ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে বিকিরণসংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রস্তাব করেন এবং তাঁকে এই তত্ত্বের জনক বলা হয়; তাঁর নামে কণার নামকরণ হয় বোসন (Boson)।
- 1900–1930 সময়কালে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাক প্রমুখ বিজ্ঞানীরা মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
- মাইকেলসন ও মোরলি 1887 সালে ইথারের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন এবং দেখান যে আলোর বেগ সব মাধ্যমে সমান।
- আইনস্টাইন 1905 সালে আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Theory of Relativity) প্রবর্তন করে এটি ব্যাখ্যা দেন এবং বিখ্যাত সূত্র E = mc2 প্রদান করেন, যা ভরকে শক্তিতে রূপান্তরযোগ্য প্রমাণ করে।
- ডিরাক 1931 সালে প্রতিকণার (Antiparticle) অস্তিত্বের পূর্বাভাস দেন, যা পরের বছর প্রমাণিত হয়।
- 1895 সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
- 1896 সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে।
- 1899 সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।