বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪৮ / ৬৪ · ৪,৭০১৪,৮০০ / ৬,৪০৯

৪,৭০১.
তাপমাত্রা কম থাকলে বায়ু কীরূপ হবে?
  1. হালকা
  2. শীতল
  3. উষ্ণ
  4. ঘন
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: 
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন। 
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। 
- এটি একটি স্বতঃস্ফুর্ত ঘটনা। 
- এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়। 
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয় সেগুলো হলো- 

তরলের প্রকৃতি: 
- বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। 
- সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। 
- উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 

বায়ু প্রবাহ: 
- তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 

তরলের উপর চাপ: 
- তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। 
- চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। 
- শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 

তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: 
- বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। 
- তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 

তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয় এবং তাপমাত্রা কম হলে বাষ্পায়নও ধীরগতির হয় অর্থাৎ ঘন হয়। 

তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: 
- বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭০২.
কিটোনের কার্যকরী মূলক-
  1. -OH
  2. -COOH
  3. >C=O
  4. -NH2
ব্যাখ্যা
কার্যকরী মূলক (Functional groups)
- অসংখ্য জৈব যৌগসমূহকে কতকগুলো সমধর্মী শ্রেণী বা সমগোত্রীয় শ্রেণীতে (Homologous series) ভাগ করা হয়।
- একই সমধর্মী শ্রেণীর যৌগ সমূহের মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য আছে।
- প্রত্যেক জৈব যৌগের শ্রেণীর ধর্ম উহাদের অণুতে একটি বিশেষ মূলকের উপস্থিতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই মুলকটিকে ঐ শ্রেণীর কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল মুলক বলে। অর্থাৎ “কোন জৈব যৌগের অণুতে উপস্থিত যে পরমাণু বা পরমাণুগোষ্ঠী যৌগের সব রাসায়নিক ধর্মকে কার্যকর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল মূলক বলে।”

• উদাহরণ:
- অ্যালকোহলের কার্যকরী মুলক হ'ল হাইড্রোক্সিল মূলক -OH
- অ্যামিনের কার্যকরী মুলক –NH2,
- কিটোনের >C=O,
- এসিডের -COOH ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭০৩.
রাদারফোর্ডের মডেল কোন কণার ঘূর্ণন ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছিল?
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন
  3. ফোটন
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- 1911 খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। 
- এ মডেল অনুসারে- 
(a) প্রত্যেকটি পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে। এই কেন্দ্রের নাম নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রন এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রন অবস্থান করে। যেহেতু আপেক্ষিকভাবে ইলেকট্রনের ভর শূন্য ধরা হয় কাজেই নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের ভরই পরমাণুর ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
(b) নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ও পরমাণুর ভেতরে বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা। 
(c) সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে যেমন গ্রহগুলো ঘুরে তেমনি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেকট্রনগুলো ঘুরছে। কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি প্রোটন থাকে নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক সেই কয়টি ইলেকট্রন থাকে। যেহেতু প্রোটন এবং ইলেকট্রনের চার্জ একে অপরের সমান ও বিপরীত চিহ্নের, তাই পরমাণুর সামগ্রিকভাবে চার্জ শূন্য। 
(d) ধনাত্মক চার্জবাহী নিউক্লিয়াসের প্রতি ঋণাত্মক চার্জবাহী ইলেকট্রন এক ধরনের আকর্ষণ বল অনুভব করে। এই আকর্ষণ বল কেন্দ্রমুখী এবং এই কেন্দ্রমুখী বলের কারণে পৃথিবী যেরকম সূর্যের চারদিকে ঘুরে ইলেকট্রন সেরকম নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরে। 

- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে এ মডেলটিকে সোলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন। 
- তিনিই সর্বপ্রথম একটি গ্রহণযোগ্য পরমাণু মডেল প্রদান করলেও তার পরমাণু মডেলের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। 
সেগুলো হলো- 
(a) এই মডেল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার (ব্যাসার্ধ) ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা দিতে পারেনি। 
(b) সৌরজগতের সূর্য ও গ্রহগুলোর সামগ্রিকভাবে কোনো আধান বা চার্জ নেই কিন্তু পরমাণুতে ইলেকট্রন এবং নিউক্লিয়াসের আধান বা চার্জ আছে। কাজেই চার্জহীন সূর্য এবং গ্রহগুলোর সাথে চার্যযুক্ত নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের তুলনা করা সঠিক নয়। 
(c) একের অধিক ইলেকট্রনবিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কীভাবে নিউক্লিয়াসের চারদিকে পরিভ্রমণ করে তার কোনো ধারণা এ মডেলে দেওয়া হয়নি। 
(d) ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনের সময় ক্রমাগত শক্তি হারাতে থাকবে। ফলে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন পথও ছোট হতে থাকবে এবং এক সময় ইলেকট্রনটি নিউক্লিয়াসে পতিত হবে। অর্থাৎ পরমাণুর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটে না অর্থাৎ ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল সঠিক নয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭০৪.
পানিতে কোন রাসায়নিক উপাদানের আধিক্যে শ্যাওলা জন্মে?
  1. ক) সালফেট ও নাইট্রেট
  2. খ) ফসফেট ও নাইট্রোজেন
  3. গ) পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা
পানিতে ফসফেট ও নাইট্রোজেন এর আধিক্যে শ্যাওলা জন্মে।
৪,৭০৫.
“The origin of species by means of natural selection” বইটির লেখক কে?
  1. ক) মেন্ডেল
  2. খ) ডারউইন
  3. গ) ডে ভ্রিস
  4. ঘ) ভাইজম্যান
ব্যাখ্যা
১৮৫৯ সালে ডারউইনের The origin of species by means of natural selection বইটি প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ দেন।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪,৭০৬.
কোনো পদার্থ কতটুকু অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝতে কোন বিজ্ঞানী pH স্কেল ব্যবহার করেন?
  1. জে. জে. থমসন
  2. জেমস চ্যাডউইক
  3. আইনস্টাইন
  4. সোরেনসেন
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়।
- কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭০৭.
এক অ্যাটোসেকেন্ড = কত সেকেন্ড?
  1. 10-18
  2. 10-21
  3. 10-15
  4. 10-12
ব্যাখ্যা
অ্যাটোসেকেন্ড: 
- এক অ্যাটোসেকেন্ড হল এক সেকেন্ডের 1×10-18 এর সমান। 
- এটি আন্তর্জাতিক সিস্টেমে সময়ের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম একটি একক। 
- ১ সেকেন্ডেকে ১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ক্ষুদ্র সময়টা পাওয়া যাবে (১০-১৮ সেকেন্ড) তার সমান। 
- পরমাণুর ভেতরের জগতে কোনো কোনো ঘটনা ঘটে অ্যাটোসেকেন্ডের দশভাগের একভাগ বা তার চেয়েও কম সময়ে। সেসব ক্ষুদ্রতম সময়ের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আলোক স্পন্দনের এই অ্যাটোসেকেন্ড স্পন্দন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 
অর্থাৎ, পরমাণুর ভেতরকার কার্যকলাপ সম্পর্কে একটা স্পষ্ট চিত্র তৈরি করতে পারা যাবে। 
- অ্যাটোসেকেন্ড পদার্থবিদ্যা সবচেয়ে বড় সুফল নিয়ে আসবে ইলেকট্রনিক জগতে, যেখানে সবকিছু চলে ইলেকট্রোডাইনামিকস বা ইলেকট্রন গতিবিদ্যার সাহায্যে। 
- তুলনা করার জন্য, এক অ্যাটোসেকেন্ড =  এক সেকেন্ড ধরা হলে, এক সেকেন্ড = প্রায় 31.71 বিলিয়ন বছর। 
- মার্কিন বিজ্ঞানী পিয়েরে অগাস্তিনি, হাঙ্গেরিয়ান বিজ্ঞানী ফ্রেঙ্ক ক্রাউজ ও ফরাসি বিজ্ঞানী অ্যান লুইলিয়ে এই তিন বিজ্ঞানী ইলেকট্রনের আলোক শোষণের ঘটনাকে অ্যাটোসেকেন্ড স্কেলে পরিমাপ করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।
- ২০২৩ সালে এই তিন বিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। 

উল্লেখ্য যে, 
- এক মিলিসেকেন্ড = 10-3 = 1/1,000 
- এক মাইক্রোসেকেন্ড = 10-6 = 1/1,000,000 
- এক ন্যানোসেকেন্ড = 10-9 = 1/1,000,000,000 
- এক পিকোসেকেন্ড = 10-12 = 1/1,000,000,000,000 
- এক ফেমটোসেকেন্ড = 10-15 = 1/1,000,000,000,000,000 
- এক অ্যাটোসেকেন্ড = 10-18 = 1/1,000,000,000,000,000,000

উৎস:
কালেরকণ্ঠ পত্রিকা (৩ অক্টোবর, ২০২৩)।
৪,৭০৮.
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের মূল একক কোনটি?
  1. গ্লুকোজ
  2. অ্যামাইনো এসিড
  3. ফ্যাটি এসিড
  4. গ্লিসারল
ব্যাখ্যা

- স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ইত্যাদি শর্করা জাতীয় খাবারের মূল একক হলো গ্লুকোজ।
- প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের মূল একক হলো অ্যামাইনো এসিড।
- স্নেহ জাতীয় খাবারের মূল একক হলো ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারল।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪,৭০৯.
কোন রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. লিউকেমিয়া চিকিৎসায়
  2. থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
  3. হাড়ের ক্যান্সার চিকিৎসায়
  4. হৃদযন্ত্রের রক্তপ্রবাহ নির্ণয়ে
ব্যাখ্যা

• থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ব্যবহৃত হয়।

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- রক্তের লিউকেমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- এই রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য:
- রক্তস্বল্পতা বা লিউকেমিয়া চিকিৎসায় সাধারণত তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32) ব্যবহৃত হয়।
- হাড়ের ব্যথানাশক বা হাড়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় স্ট্রনসিয়াম (Sr-89) অথবা রেডিয়াম ব্যবহৃত হয়।
- হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন বা ব্লকেজ পরীক্ষা করতে টেকনেশিয়াম (Tc-99m) ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭১০.
কোন তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 হয়?
  1. 0° C
  2. 0° K
  3. 273° C
  4. 373° K
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ মস্তিষ্কে থাকে। এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭১১.
কত ক্যারেট স্বর্ণ ১০০% বিশুদ্ধ?
  1. ক) ২৫ ক্যারেট
  2. খ) ২৪ ক্যারেট
  3. গ) ২২ ক্যারেট
  4. ঘ) ২১ ক্যারেট
ব্যাখ্যা

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৭১২.
লোহার যোজনী কত? 
  1. ২ ও ৩
  2. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• লোহা প্রধানত ২ ও ৩ যোজনী প্রদর্শন করে।

• যোজনী:
- যোজনী হলো একটি মৌল কতটি ইলেকট্রন ব্যবহার করে অন্য মৌলের সঙ্গে যৌগ (bond) গঠন করতে পারে তা নির্দেশ করে।
- এটি মূলত মৌলের শেষ কক্ষপথে উপস্থিত ইলেকট্রনের সংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত হয়।

• লোহা (Fe) এর যোজনী:
- লোহা একটি অবস্থান্তর মৌল (গ্রুপ - ৮)।
- লোহা বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে থাকতে পারে, যার ফলে এর যোজনীও পরিবর্তিত হয়।

• লোহা প্রধানত দুইটি যোজনী প্রদর্শন করে:
- Fe2+ (Ferrous) → যোজনী ২
- Fe3+ (Ferric) → যোজনী ৩

• বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ:
- FeO (Ferrous oxide) → লোহা ২+ অবস্থায় → যোজনী ২
- Fe2O3 (Ferric oxide) → লোহা ৩+ অবস্থায় → যোজনী ৩
- লোহা উভয় অক্সিডেশন অবস্থায় রাসায়নিক যৌগ তৈরি করতে সক্ষম।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪,৭১৩.
শেভিং ফোম বা জেল- এর রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. ক) CuSO4.5H2O
  2. খ) C17H35COOK
  3. গ) ZnCO3
  4. ঘ) C17H35COONa
ব্যাখ্যা
• শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট যার রাসায়নিক সংকেত হলো- C17H35COOK
• কাপড় কাচার সাবানে থাকে মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট, যার রাসায়নিক সংকেত- C17H35COONa
• কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O
• তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O
• ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O]
• ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
• মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
• বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭১৪.
পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্ট শিলাকে কী বলা হয়? 
  1. জীবাশ্ম শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
যেমন- নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks): 
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। 
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে। 
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা। 
- এই শিলায় জীবাশ্ম নেই। এই শিলার বৈশিষ্ট্য হলো- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অস্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী। 
- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে। এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়। 

- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): 
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম এবং রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি। 

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): 
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭১৫.
যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের কী বলা হয়?
  1. আইসোটোন
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার 
  4. আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ (Isotope) বলা হয়। একই প্রোটন সংখ্যা থাকায় আইসোটোপগুলো একই মৌলের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু হয়, তবে ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

• আইসোবার: 
- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলে। 

• আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭১৬.
বিভব শক্তি অন্য কী নামে পরিচিত?
  1. শব্দ শক্তি
  2. তাপ শক্তি
  3. গতি শক্তি
  4. স্থিতি শক্তি
ব্যাখ্যা
বিভবশক্তি: 
বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তি বলা হয়। 
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। 
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক। 
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি। 
যেমন- পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। 
- একইভাবে একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে বিভব শক্তি জমা থাকে। 
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ। 
- গতি শক্তিও যান্ত্রিকশক্তির একটি রূপ। 
অর্থাৎ, যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার। 
যথা- গতি শক্তি এবং বিভবশক্তি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭১৭.
উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র কোনটি?
  1. ওডোমিটার
  2. অ্যালটিমিটার 
  3. ম্যানোমিটার
  4. ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রের নাম হলো ট্যাকোমিটার (Tachometer)। আধুনিক বিমানে বায়ুর গতির সাপেক্ষে গতি মাপতে 'এয়ার স্পিড ইন্ডিকেটর' ব্যবহৃত হয়। 

অন্যদিকে, 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪,৭১৮.
নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের কতগুণ হবে?
  1. অর্ধেক
  2. দ্বিগুণ
  3. চারগুণ
  4. এক-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ও মহাকর্ষ বল: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে, এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: "মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে"। 
ধরা যাক, m1 এবং m2 ভরের দুটি বস্তু কণা পরস্পর থেকে d দূরত্বে অবস্থিত। এদের মধ্যকার আকর্ষণ বল F হলে, মহাকর্ষ সূত্রানুসারে, 

F = G(m1m2)/d2
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক, একে সর্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। 
অর্থাৎ, দুটি এক কিলোগ্রাম ভরের বস্তু এক মিটার দূরত্বে স্থাপন করলে এরা পরস্পরকে যে বলে আকর্ষণ করে, তার মান সংখ্যাগতভাবে G এর মানের সমান। 
- মহাকর্ষ সূত্রানুসারে দেখা যায়, নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত দুটি বস্তু কণাদ্বয়ের বস্তুর ভরের গুণফল দ্বিগুণ হলে বল দ্বিগুণ হবে, ভরের গুণফল তিনগুণ হলে বল তিনগুণ হবে। 
- আর নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের এক-চতুর্থাংশ হবে, দূরত্ব তিনগুণ করলে বল পূর্বের নয় ভাগের এক ভাগ হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৭১৯.
মরিচার রাসায়নিক সংকেত কী? 
  1. CaCO3
  2. Fe2O3.nH2O
  3. NaHCO3
  4. Na2CO3.10H2O
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক নাম ও সংকেত: 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3). 
- চুনের নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO). 
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2
- চুন (CaO) এর সাথে পানি (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 
- মরিচার রাসায়নিক সংকেত হলো Fe2O3.nH2O

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭২০.
ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
  1. KW
  2. KVA
  3. MVAR
  4. MVA
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা KVA (কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার) এককে প্রকাশ করা হয়। কারণ ট্রান্সফরমার হলো একটি যন্ত্র যা বিদ্যুৎশক্তি স্থানান্তর করে কিন্তু নিজে কোনো বিদ্যুৎ খরচ করে না।

ট্রান্সফরমার: 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭২১.
বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধানত কোন ধরণের কারখানায় ETP স্থাপন করা বেশি প্রয়োজন?
  1. ট্যানারি শিল্প
  2. পশু খামার শিল্প
  3. রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্প
  4. কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে ETP (Effluent Treatment Plant) বা বর্জ্য পানি নিষ্কাশন কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন হয় মূলত সেই সকল শিল্পে যেখানে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বা দূষিত পানি উৎপন্ন হয়। বিশেষভাবে ট্যানারি শিল্পে ETP থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়াম, সলফার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হয়, যা সরাসরি পরিবেশে ফেলা হলে মাটি, জল এবং মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে। অন্যদিকে, পশু খামার, রেডিমেড গার্মেন্টস বা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বর্জ্য পানি কম দূষিত বা সহজে পরিচালনাযোগ্য হলেও, কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান অনুসারে ছোট ETP থাকতে পারে। তাই সর্বাধিক জরুরি এবং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ETP হলো ট্যানারি শিল্পে।
 
• ETP (Effluent Treatment Plant) এর প্রয়োজনীয়তা শিল্প কারখানায়:
- ETP হলো একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিল্প কারখানার তরল বর্জ্য বা জলকে পরিশোধন করা হয়।
- এটি পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের সময় কিছু ধরণের শিল্পে ETP স্থাপন বাধ্যতামূলক।  

• ট্যানারি শিল্প (Tannery Industry):
- ট্যানারি শিল্পে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর রঞ্জক এবং রাসায়নিক ব্যবহার হয়।
- এই শিল্প থেকে নির্গত বর্জ্যে ভারী ধাতু এবং বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে।
- তাই, ট্যানারি শিল্পে ETP স্থাপন করা বাধ্যতামূলক।  

• পশু খামার শিল্প (Animal Farming Industry):
- পশুপালন বা খামার শিল্প থেকে সাধারণত জৈব বর্জ্য উৎপন্ন হয়।
- যদিও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, এটি ETP বাধ্যতামূলক নয়।  

• রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্প (Readymade Garments Industry):
- গার্মেন্টস শিল্পে প্রধানত রঙ এবং রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বর্জ্য সাধারণত সহজে পরিশোধনযোগ্য।
- তাই সব ক্ষেত্রে ETP বাধ্যতামূলক নয়।  
- টেক্সটাইল ডাইং ফ্যাক্টরিগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিকযুক্ত রঙিন পানি নির্গত হয়, যা শোধন করতে ETP লাগে। তবে রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পের তুলনায় ট্যানারি শিল্পে ETP স্থাপন করা বেশি প্রয়োজন। 

• কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প (Agricultural Processing Industry):
- কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে তরল বর্জ্য সাধারণত কম দূষিত হয়।
- ETP স্থাপন সাধারণত ঐচ্ছিক, নির্দিষ্ট শিল্প ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।  

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

৪,৭২২.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক কী? 
  1. কেজি
  2. সেন্টিগ্রাম 
  3. কুইন্টাল 
  4. গ্রাম 
ব্যাখ্যা

সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে- 
• দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার (cm),
• ভরের একক গ্রাম (g) এবং
• সময়ের একক (s). 

এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI) এম.কে.এস. পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই
• দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m), 
ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং
• সময়ের একক (s). 

এফ.পি.এস পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে-
• দৈর্ঘ্যের একক ফুট (ft),
• ভরের একক পাউন্ড (lb)এবং
• সময়ের একক (s). 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং britannica.com।

৪,৭২৩.
তাপের এস.আই একক এবং ক্যালরির মধ্যে সম্পর্ক কোনটি সঠিক?
  1. 1 Cal = 1 J
  2. 1 Cal = 4.2 J
  3. 1 J = 4.2 Cal 
  4. 1 J = 1 Cal
ব্যাখ্যা

- তাপের আন্তর্জাতিক বা এস.আই (S.I) একক হলো জুল (Joule)। অন্যদিকে, ক্যালরি (Calorie) হলো তাপের একটি প্রচলিত একক। বৈজ্ঞানিক পরিমাপে এই দুই এককের মধ্যে সম্পর্ক হলো ১ ক্যালরি তাপ প্রায় ৪.১৮৪ জুলের সমান, যাকে গাণিতিক সুবিধার্থে সাধারণত ৪.২ জুল ধরা হয় অর্থাৎ, 1 Cal ≈ 4.2 J । 

তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস.আই একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭২৪.
হাইড্রোজেন গাড়ি থেকে বর্জ্য হিসেবে নিচের কোনটি নির্গত হয়?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. জলীয় বাষ্প
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন গাড়িতে হাইড্রোজেন জ্বালানী কোষে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। 
- এই বিক্রিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। 
- এই প্রক্রিয়ায় একমাত্র বর্জ্য হিসেবে নির্গত হয় জলীয় বাষ্প।
 
- পেট্রোল এবং ডিজেল গাড়িতে, জ্বালানী পুড়িয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়। 
- বাতাসে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্লোবাল ওয়ার্মিং হওয়ার জন্য দায়ী।
 
উৎস: বিবিসি ওযেবসাইট।
৪,৭২৫.
পরিবাহকের ক্ষেত্রফল বাড়লে রোধের সম্পর্ক কোনটি? 
  1. R∝A
  2. R∝1/A
  3. R ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে না
  4. R∝√A 
ব্যাখ্যা

বিদ্যুতের রোধ (Resistance, R) হলো পরিবাহকের বৈদ্যুতিক প্রবাহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মাত্রা।
কোনো পরিবাহকের রোধ নির্ভর করে: 
- দৈর্ঘ্য (L) – দীর্ঘ পরিবাহকের রোধ বেশি।
- ক্ষেত্রফল (A) – বড় ক্ষেত্রফলের পরিবাহকের রোধ কম।
- প্রতিরোধ (ρ) – পদার্থের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
•মূল সূত্র: R=ρ(L/A)
- R ∝ L (দৈর্ঘ্যের সাথে সরাসরি সমানুপাতিক)
- R ∝ 1/A (ক্ষেত্রফলের সাথে বিপরীত সমানুপাতিক)

ফলাফল: ক্ষেত্রফল বাড়ালে রোধ কমে, ক্ষেত্রফল কমলে রোধ বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান। 

৪,৭২৬.
RADAR - এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) Radio Detection And Routing
  2. খ) Radio Detecting And Routing
  3. গ) Radio Detection And Ranging
  4. ঘ) Radio Detecting And Ranging
ব্যাখ্যা
'RADAR'- এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Radio Detection And Ranging.

এটি এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে দূরবর্তী কোনো বস্তুর উপস্থিতি, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করা যায়। রাডার হলো এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে রেডিও প্রতিধ্বনির মাধ্যমে কোন বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়।
যুদ্ধে শত্রু বিমানের উপস্থিতি ও গতিবিধি, বিমানের পথ নির্দেশ, ঝড়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
১৯২২ সালে এ.এইচ. টেলর এবং লিও সি ইয়ং রাডার উদ্ভাবন করেন।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭২৭.
টেলিভিশনের মৌলিক রং নয় কোনটি? 
  1. নীল
  2. সবুজ
  3. হলুদ
  4. লাল
ব্যাখ্যা
টেলিভিশন: 
- টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র, যেখানে দূরবর্তী কোনো টেলিভিশন সম্প্রচার স্টেশন থেকে শব্দের সাথে সাথে ভিডিও বা চলমান ছবিও দেখা যায়। 
- ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও বা চলমান ছবি পাঠিয়েছিলেন। 
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি আলাদা সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়। 
- চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং আমাদের চোখে তখন সেগুলোকে আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি বলে মনে হয়। 
- টেলভিশনে রঙিন ছবি পাঠানোর জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা প্রতিটি ছবিকে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রংয়ে ভাগ করে তিনটি আলাদা ছবি তুলে দেয়। 

- টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে আলো CCD ( Charge Coupled Device) ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়। 
- এই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গ ব্যবহার করে এন্টেনার ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। 
- বর্তমানে ইলেকট্রন গান দিয়ে স্ক্রিনে ছবি তৈরি না করে লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলইডি ( Light Emitting Diode) -তে বিদ্যুৎ প্রবাহ করে ছবি তৈরি করা হয়। 
- এলইডি টেলিভিশনের ছবির ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি এবং গুণগত মানও অনেক ভালো। 
- এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের সিগন্যাল পাঠানো ছাড়াও কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দিয়েও সিগন্যাল পাঠানো যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭২৮.
2311Na এ সোডিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 11
  2. খ) 12
  3. গ) 23
  4. ঘ) 16
ব্যাখ্যা
কোনো পরমাণুতে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে।
ভরসংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেহেতু ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়। সোডিয়ামের (Na) ভরসংখ্যা হলো 23, এর প্রোটন সংখ্যা 11, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে 23 - 11 = 12

কোনো পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা পরমাণুর প্রতীকের নিচে বাম পাশে লেখা হয়, পরমাণুর ভরসংখ্যা প্রতীকের বাম পাশে উপরের দিকে লেখা হয়। যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর প্রতীক Na, এর পারমাণবিক সংখ্যা 11 এবং ভরসংখ্যা 23। এটাকে এভাবে প্রকাশ করা যায়: 2311Na

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
৪,৭২৯.
বিষুব অঞ্চলের তুলনায় মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন কেন বেশি?
  1. মেরুতে বস্তুর ঘনত্ব বেশি 
  2. মেরুতে ভরের মান বেশি 
  3. মেরুতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি 
  4. মেরুতে বস্তুর আকার বড় 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- কোন বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি হয়। 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৪,৭৩০.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়?
  1. অ্যামিটার
  2. জেনারেটর
  3. মাইক্রোফোন
  4. বৈদ্যুতিক মোটর
ব্যাখ্যা

• জেনারেটর বা ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- এটি মাইকেল ফ্যারাডের তড়িৎ-চুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- যখন কোনো পরিবাহী কুন্ডলীকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে যান্ত্রিকভাবে ঘুরানো হয়, তখন তাতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উল্লেখ্য:
-অ্যামিটার: এটি বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ (Current) পরিমাপ করার যন্ত্র, শক্তি রূপান্তরকারী নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৩১.
নিচের কোনটি সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ?
  1. কেলাসিত ইথেন ডাইওয়িক এসিড বা অক্সালিক এসিড
  2. পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট
  3. অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট
  4. পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট
ব্যাখ্যা
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 

- যেসব কঠিন রাসায়নিক পদার্থকে (১) বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়; (২) এরা বাতাসের সংস্পর্শে জলীয় বাষ্প বা O2 সহ বিক্রিয়া করে না; (৩) এদের ওজন নেয়ার সময় রাসায়নিক নিক্তিকে ক্ষয় করে না এবং (৪) এদের দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, এদেরকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) ক্ষার, 
(২) কেলাসিত ইথেন ডাইওয়িক এসিড বা অক্সালিক এসিড (H2C2O4.2H2O), 
(৩) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K2Cr2O7) জারক পদার্থ, 
(৪) কেলাসিত সোডিয়াম ইথেন ডাইওয়েট বা অক্সালেট (Na2C2O4.2H2O) বিজারক পদার্থ ইত্যাদি হলো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ। 

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থের মধ্যে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের যেমন বিশুদ্ধতা, বাতাসে অপরিবর্তিত থাকা, রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় না করা অথবা ঘনমাত্রার পরিবর্তন না ঘটা ইত্যাদির মধ্যে কোনো একটির অভাব ঘটলে, এদেরকে সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) NaOH ক্ষার, 
(২) HCl এসিড, 
(৩) H2SO4 এসিড, 
(৪) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) জারক পদার্থ, 
(৫) সোডিয়াম থায়োসালফেট (Na2S2O3.5H2O) বিজারক ইত্যাদি। 
- এ সব সেকেন্ডারি পদার্থের মোলার দ্রবণ বা ডেসিমোলার (0.1M) দ্রবণ প্রমাণ দ্রবণ হয় না। 
- সেকেন্ডারি পদার্থের দ্রবণকে অপর পদার্থের প্রমাণ দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করে এর সঠিক মোলার ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়। 
- এরূপ সেকেন্ডারি পদার্থের যেমন KMnO4 এর 0.1M দ্রবণ তৈরি করে জারণ-বিজারণ টাইট্রেশনে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৪,৭৩২.
জীবন্ত মেষ থেকে যে পশম তৈরি করা হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) ফ্লিস উল
  2. খ) পুল্ড উল
  3. গ) অ্যারিস উল
  4. ঘ) বোরাক্স উল
ব্যাখ্যা
- মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন নামক প্রোটিন থাকে।
- রেশম মূলত ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন দ্বারা তৈরি।
- জীবন্ত মেষ থেকে লোম সরিয়ে যে পশম তৈরি করা হয়, তাকে ফ্লিস উল (Fleece Wool) বলে।
- মৃত বা জবাই করা মেষ থেকে যে পশম তৈরি করা হয়, পুল্ড উল (Pulled Wool) বলে।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৩৩.
প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য শব্দের বেগ কতটুকু বৃদ্ধি পায়?
  1. ০.৬ মিটার/সেকেন্ড
  2. ০.৮ মিটার/সেকেন্ড
  3. ১.৬ মিটার/সেকেন্ড
  4. ১.৮ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
- যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
- কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পাবে।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি।
- ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৩৪.
শীতকালে ভিজা কাপড় অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি শুকায় কারণ -
  1. ক) বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে।
  2. খ) বাতাসে সামান্য জলীয় বাষ্প থাকে।
  3. গ) বায়ুর চাপ বেশি থাকে।
  4. ঘ) বাতাসের তাপমাত্রা বেশি থাকে।
ব্যাখ্যা
বর্ষাকাল অপেক্ষা শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায়। 
ভিজা কাপড় শুকানো অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া। 
বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে।
ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়। 
 
অন্যদিকে শীতকালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে। 
অর্থাৎ বাতাস শুকনো থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।
 
কোনো স্থানের বা একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে অর্থাৎ বায়ু কতটুকু শুকনো বা ভেজা থাকে তার নির্দেশক বায়ুর আর্দ্রতা।
কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প আছে এবং ঐ একই তাপমাত্রায় ঐ আয়তনের বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পের প্রয়োজন তার অনুপাতকে ঐ স্থানের বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৭৩৫.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. ক) স্টেথোস্কোপ
  2. খ) কার্ডিওগ্রাফ
  3. গ) ক্রেস্কোগ্রাফ
  4. ঘ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র ক্রেস্কোগ্রাফ। এছাড়া হৃৎপিন্ড ও ফুসফুসের শব্দ নির্ণায়ক যন্ত্র স্টেথোস্কোপ; হৃৎপিন্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কার্ডিওগ্রাফ; এবং মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক যন্ত্র স্ফিগমোম্যানোমিটার। সূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৩৬.
কোন ধাতুটির বিজারণ তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটানো হয়?
  1. Cu
  2. Zn
  3. Al
  4. Au
ব্যাখ্যা
ধাতব অক্সাইডকে মুক্ত ধাতুতে রূপান্তর: 
- আকরিককে ভষ্মীকরণ বা তাপজারণ করায় যে ধাতব অক্সাইড পাওয়া যায় তাদেরকে বিজারিত করলে ধাতু পাওয়া যায়। 
- বিভিন্নভাবে এ বিজারণ সম্পন্ন করা যায়। 
যেমন- তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজারণ, কার্বন বিজারণ পদ্ধতি, স্ববিজারণ ইত্যাদি। 
- ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজে তাদের অবস্থানের উপর কোন পদ্ধতিতে বিজারণ সম্পন্ন হবে তা নির্ভর করে। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৩৭.
ডিটারজেন্টের রাসায়নিক নাম কী ?
  1. ক) সোডিয়াম সালফেট
  2. খ) লরাইল অ্যালকোহল
  3. গ) লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট
  4. ঘ) সোডিয়াম লরাইল সালফেট
ব্যাখ্যা
- ডিটারজেন্ট সাবানের মতোই এক প্রকার পরিষ্কারক দ্রব্য।
- ডিটারজেন্ট সাধারণত পাউডারের মতো হয় এবং তরল আকারেও পাওয়া যায়।
- লরাইল অ্যালকোহলের ( C12H26O ) সাথে সালফিউরিক এসিড ( H2SO4 ) বিক্রিয়া করে লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট ( C12H26SO4 ) এবং পানি উৎপন্ন করে।
- এই লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট ( C12H26SO4 ) এর সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ( NaOH ) বিক্রিয়া করে সোডিয়াম লরাইল সালফেট ( C12H25SO4Na ) এবং পানি (H2O) উৎপন্ন হয়।
- সোডিয়াম লরাইল সালফেট ( C12H25SO4Na ) ডিটারজেন্ট নামে পরিচিত।

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৩৮.
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর কত? 
  1. 16 
  2. 2
  3. 18 
  4. 32 
ব্যাখ্যা
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর: 
- পানির অণুতে 2 পরমাণু হাইড্রোজেন ও 1 পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 
সুতরাং, H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = (1 × 2 + 16 x 1) 
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = 18

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৩৯.
আদর্শ মাটিতে কত ভাগ জৈব পদার্থ থাকে?
  1. ৫%
  2. ৯%
  3. ১১%
  4. ২১%
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর বিশাল প্রাকৃতিক শোধনাগার হচ্ছে মাটি। সাধারণত আদর্শ মাটিতে ৫% জৈব পদার্থ থাকে।
মাটির গঠন, বর্ণ, পানি ধারণক্ষমতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে মাটিকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়;
যথা-
(ক) বালু মাটি,
(খ) পলি মাটি,
(গ) কাদামাটি এবং
(ঘ) দো-আঁশ মাটি।

সূত্র - ষষ্ঠ শ্রেণি, কৃষি শিক্ষা, বোর্ড বই
৪,৭৪০.
Which light has the shortest wavelength?
  1. Red
  2. Green
  3. Violet
  4. Blue
ব্যাখ্যা
আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য:
- দৃশ্যমান আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৭৪১.
এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের অধীনে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?
  1. 0° K
  2. 0° C
  3. 100° C
  4. 100° K
ব্যাখ্যা

- এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক হলো 100° C। এই তাপমাত্রায় পানি তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় বা বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হতে শুরু করে। 

• গলন ও গলনাঙ্ক: 
- কোনো বস্তুর কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। 
- নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। 
- এক বায়ু মণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাংক 0°C, সমস্ত পদার্থ না গলা পর্যন্ত তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকে। 

বাস্পীভবন: 
- কোনো বস্তুর তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
- বাষ্পীভবন দু'ভাবে সংঘটিত হয়। 
(১) স্ফুটন এবং (২) স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন। 

১। স্ফুটনাঙ্ক ও স্ফুটন: 
- তাপ প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের দ্রুত বাষ্পীভবন ঘটানোর প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে। 
- যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের স্ফুটন সংঘটিত হয় তাকে ঐ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে। 
- এক বায়ু মণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C । 

২। স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন: 
- যখন তরল পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় তাপ সংগ্রহ করে নিজের উপরের স্তর থেকে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হয়, তখন এই প্রক্রিয়াকে স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন বলা হয়। 
উদাহরণস্বরূপ- ভিজা কাপড় রোদে শুকিয়ে যাওয়া, পানি মেঝেতে শুকিয়ে বাষ্পে পরিণত হওয়া এবং কেরোসিনের বোতল খোলা রাখলে কেরোসিন বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়া এই প্রক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৪২.
ভোল্টমিটার দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়? 
  1. বিভব পার্থক্য 
  2. শক্তি 
  3. ত্বরণ 
  4. বিদ্যুৎ প্রবাহ 
ব্যাখ্যা

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

অ্যামিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৪৩.
মিথাইল কার্বিনলের সংকেত কোনটি?
  1. CH3 CH2OH
  2. CH3OH
  3. CH3CH2-CH2OH
  4. (CH3)2 CHOH
ব্যাখ্যা
- মিথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো CH3-CH2OH

অন্যদিকে,  
- ইথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো CH3CH2-CH2OH. 
- ডাইমিথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো (CH3)2-CHOH. 
- ট্রাইমিথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো (CH3)3-COH. 
- মিথাইল মিথেন এর সংকেত হলো CH3-CH3
- ডাইমিথাইল মিথেন এর সংকেত হলো CH3-CH2-CH3. 
- ট্রাইমিথাইল মিথেন এর সংকেত হলো (CH3)3-CH. 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৪,৭৪৪.
5 KVA Ratings এর কম ট্রান্সফরমারে ব্যবহৃত হয়-
  1. Oil cooled
  2. Natural air cooled
  3. Water cooled
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
- 5 কেভিএ (কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার) রেটযুক্ত ট্রান্সফরমারগুলি সাধারণত আকারে ছোট হয় এবং কম শক্তি প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে: Natural air cooled ব্যবহৃত হয়। 

- 5 কেভিএ পর্যন্ত রেটিং সহ ট্রান্সফরমারগুলি প্রায়শই প্রাকৃতিক পরিচলন (ফ্যান বা অতিরিক্ত কুলিং সিস্টেম ছাড়া) ব্যবহার করে এয়ার-কুল করা যেতে পারে।
- এই ছোট ট্রান্সফরমারগুলি শীতল করার জন্য তাদের কয়েল এবং কোরের চারপাশে প্রাকৃতিক বায়ু সঞ্চালনের উপর নির্ভর করে।
৪,৭৪৫.
তাপমাত্রা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল স্থির থাকলে বিভিন্ন পরিবাহীর রোধ কি রকম হয়?
  1. ক) একই
  2. খ) বিভিন্ন
  3. গ) উভয়টি প্রযোজ্য
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কোন পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান ও তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। রোধের এ নির্ভরশীলতার উপর ভিত্তি করে রোধের তিনটি সূত্র আছে।
উপাদানের সূত্রঃ তাপমাত্রা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল স্থির থাকলে বিভিন্ন পরিবাহীর রোধ বিভিন্ন হয়।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
৪,৭৪৬.
কোনটি আলোর প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয় না?
  1. সবুজ
  2. নীল
  3. লাল
  4. হলুদ
ব্যাখ্যা
◉ লাল, নীল, সবুজ এই তিনটি রঙকে মৌলিক রঙ (মূল রঙ) বা প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয়। হলুদ মৌলিক রঙ নয়।

রং সম্পর্কিত জ্ঞান:
- আমাদের চারপাশের প্রতিটি বস্তুরই নিজস্ব রং রয়েছে।
- রঙের উৎস প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম হতে পারে।

◉ রং মূলত তিন প্রকার। যথা-
১। মৌলিক/প্রাথমিক রং:
- লাল, নীল, সবুজ এই তিনটি রঙকে মৌলিক রঙ (মূল রঙ) বা প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- মৌলিক রং বা প্রাথমিক রংগুলো বিশুদ্ধ রং, কেননা এগুলো অন্যান্য রঙের সংমিশ্রণে তৈরি হয় না বরং এদের সংমিশ্রণে অন্যান্য রং সৃষ্টি হয়।

২। গৌণ রং:
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ।
- দুটো মৌলিক রঙের মিশ্রণে গৌণ রং তৈরি হয়। যেমন-
• নীল + লাল = বেগুনি,
• লাল + সবুজ = হলুদ এবং
• নীল + সবুজ = নীলাভ সবুজ।
- এই রংগুলোকে মিশ্র বা মাধ্যমিক বর্ণও বলা হয়।

৩। প্রান্তিক রং:
- মৌলিক রঙের সাথে কাছাকাছি যে কোনো একটি গৌণ রং মিশিয়ে প্রান্তিক রং প্রস্তুত করা হয়। যেমন-
• হলুদ + সবুজ = হলদে সবুজ,
• লাল + বেগুনি = লালচে বেগুনি,
• লাল + কমলা = লালচে/কমলা এবং
• কমলা + হলুদ = হলদে কমলা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,৭৪৭.
কোনটিকে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বলা হয়? 
  1. গ্যাস 
  2. কঠিন 
  3. প্লাজমা 
  4. তরল 
ব্যাখ্যা

পদার্থের চতুর্থ অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা আছে যার নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়।
- আমাদের ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, নিয়ন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে।
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায় সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।
- বর্তমানে ফিশন পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়।
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশান পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭৪৮.
ক্ষমতা নির্ণয়ের সঠিক সূত্র কোনটি? 
  1. P = বল/সময়
  2. P = কাজ × সময়
  3. P = বল × বেগ
  4. P = সময়/কাজ
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
সুতরাং, ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৪৯.
রেলওয়ে ষ্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক-
  1. ক) আসলের সমান হবে
  2. খ) আসলের চেয়ে বেশি হবে
  3. গ) আসলের চেয়ে কম হবে
  4. ঘ) আসল গতির সাথে সম্পর্কযুক্তভাবে কমে যাবে
ব্যাখ্যা
• রেলওয়ে ষ্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক আসলের চেয়ে বেশি হবে।
- শব্দের উৎস থেকে কম্পাঙ্ক যেদিকে যায়, শব্দের উৎস তথা ট্রেন সেদিকেই এগোতে থাকলে কম্পাঙ্কের ঘনত্ব বাড়ে, এতে শব্দের তিব্রতা বাড়ে।
- এই ঘটনা ডপলার অ্যাফেক্ট দ্বারা বর্ণনা করা যায়।
- শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতির ফলে শ্রুত শব্দের কম্পাঙ্কের যে আপাত পরিবর্তন হয় তাকে ডপলার ক্রিয়া বলে।
- ডপলার ক্রিয়া শব্দ বিজ্ঞানের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয়।
- ১৮৪২ সালে অস্ট্রিয়ার পদার্থবিদ ডপলার এ সূত্র প্রদান করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,৭৫০.
একটি বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য 8√2 একক হলে বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা কত একক?
  1. 32 একক
  2. 36 একক
  3. 40 একক
  4. 44 একক
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য 8√2 একক হলে বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা কত একক?

সমাধান:
ধরি,
বর্গক্ষেত্রের একবাহুর দৈর্ঘ্য = a একক
তাহলে, বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য = a√2 একক
এবং বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা = 4a একক

প্রশ্নমতে,
a√2 = 8√2
⇒ a = 8 একক

∴ বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা = 4 × 8 একক
= 32 একক
৪,৭৫১.
কোনটির সাহায্যে ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়? 
  1. টেলিস্কোপ
  2. পেরিস্কোপ
  3. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪,৭৫২.
কঁচু খেলে গলা চুলকায় কঁচুতে উপস্থিত কোন যৌগের কারণে?
  1. ক্যালসিয়াম সালফেট
  2. ক্যালসিয়াম অক্সালেট
  3. ম্যগনেসিয়াম অক্সালেট
  4. ক্যালসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
• কঁচুতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকার কারণে কঁচু খেলে গলা চুলকায়।

-কচু খাওয়ার পর গলা চুলকানোর প্রধান কারণ হলো এতে থাকা একটি বিশেষ যৌগ ক্যালসিয়াম অক্সালেট (Calcium Oxalate)।
- এই যৌগটি সূক্ষ্ম সূচের মতো স্ফটিক আকারে থাকে, যা মুখ বা গলার সংবেদনশীল টিস্যুকে জ্বালাপোড়া বা চুলকানি অনুভূতি দেয়।

প্রতিকার:
- ভালভাবে রান্না করা: উচ্চ তাপে রান্না করলে বা উপযুক্ত পদ্ধতিতে কচু প্রক্রিয়াজাত করলে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের পরিমাণ কমে যায়।
- লেবুর রস বা দই ব্যবহার: খাবারের সাথে লেবুর রস বা দই মিশিয়ে খেলে চুলকানি কম হয়।
- নুন মাখানো: রান্নার আগে কচুতে লবণ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে এই যৌগগুলোর কার্যকারিতা কমে।
- এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া, তবে সঠিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করলে সমস্যা এড়ানো যায়।

উৎস: USDA অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪,৭৫৩.
সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ক্রেসকোমিটার 
  2. ক্রোনোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. ট্যাকোমিটার 
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র- ক্রোনোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্নায়ক যন্ত্র- ক্রেসকোগ্রাফ। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্নায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪,৭৫৪.
নিম্নের কোন কম্পাঙ্কের শব্দকে ইনফ্রাসাউন্ড বলা যায়?
  1. ক) 10 Hz
  2. খ) 20 Hz
  3. গ) 100 Hz
  4. ঘ) 20000 Hz
ব্যাখ্যা
20 Hz থেকে 20000 Hz বিশিষ্ট শব্দকে মানুষ শুনতে পারে। 20 Hz এর কম হলে তাকে ইনফ্রাসাউন্ড এবং 20000 Hz এর বেশি হলে তাকে আলট্রাসাউন্ড বলে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪,৭৫৫.
ডিজিটাল ঘড়িতে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে ওঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. ক) এলইডি
  2. খ) সিলিকন চিপ
  3. গ) এলসিডি
  4. ঘ) আইসি
ব্যাখ্যা
আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলি সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে।
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেমন কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়।

সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই এবং সেটা থাকার কোন সুযোগও নেই।
- সহজ কথায়, যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে।
৪,৭৫৬.
আইসি তৈরি করতে কোনটি লাগে না? 
  1. ক্যাপাসিটর 
  2. ট্রানজিস্টর
  3. রেজিস্টর 
  4. ট্রান্সফরমার 
ব্যাখ্যা

- আইসি তৈরি করতে 'ট্রান্সফরমার' লাগে না, কিন্তু ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে এই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) তৈরি করা হয়। 

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি): 

- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে। 
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৪,৭৫৭.
কবি, গণিতবিদ ও দার্শনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন- 
  1. পিথাগোরাস 
  2. ডেমোক্রিটাস 
  3. আল মাসুদি 
  4. ওমর খৈয়াম 
ব্যাখ্যা

গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- প্রাচীনকালে পদার্থবিজ্ঞান শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা ও জ্যামিতির সমন্বয়ে। 
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিস প্রথম ধর্ম ও পৌরাণিক ব্যাখা পরিহার করে যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা দেন এবং সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেন। 
- পিথাগোরাস জ্যামিতি ও কম্পমান তারের ওপর কাজ করেন। 
- ডেমোক্রিটাস পদার্থের অবিভাজ্য একক অ্যাটম-এর ধারণা দেন, যদিও প্রমাণ করতে পারেননি। 
- অ্যারিস্টটল চার উপাদান (মাটি, পানি, বাতাস, আগুন) দ্বারা গঠিত জগতের মতবাদ দেন। 
- আরিস্তারাকস সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দেন এবং সেলেউকাস তা যুক্তি দিয়ে সমর্থন করেন। 
- আর্কিমিডিস তরলে ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র ও আয়নার মাধ্যমে সূর্যরশ্মি কেন্দ্রীভূত করে যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরানোর জন্য বিখ্যাত। 
- ইরাতোস্থিনিস সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয় করেন। 

- গ্রিক যুগের পর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞানচর্চা থেমে যায়, তবে ভারতীয়, মুসলিম ও চীনা সভ্যতা তা ধরে রাখে। 
- ভারতে আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত ও ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং শূন্যের ব্যবহার প্রবর্তন করেন। 
- মুসলিম বিজ্ঞানী আল খোয়ারিজমি-র আল জাবির বই থেকে “অ্যালজেবরা” শব্দের উৎপত্তি। 
- ইবনে আল হাইয়াম আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি। 
- আল মাসুদি প্রকৃতির ইতিহাসে এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। 
- ওমর খৈয়াম ছিলেন কবি, গণিতবিদ ও দার্শনিক। 
- চীনে শেন কুয়ো চুম্বক নিয়ে গবেষণা করেন ও কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণের ধারণা দেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭৫৮.
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ১৭
  3. গ) ১৮
  4. ঘ) ১৯
ব্যাখ্যা
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা- ১৯। 

পটাশিয়ামের পারমাণবিক ভর- ৩৯। 

পারমাণবিক সংখ্যা হলো কোনো মৌলের পরমাণুতে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যা। পারমাণবিক সংখ্যা একটি উপাদানের প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়।

সূত্র: ৬৯ পৃষ্ঠা, রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।  
৪,৭৫৯.
ফিউশন প্রক্রিয়ায়-
  1. ক) একটি পরমাণু ভেঙ্গে প্রচন্ড শক্তি সৃষ্টি করে
  2. খ) একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
  3. গ) ভারী পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু গঠিত হয়
  4. ঘ) একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
ফিউশন প্রক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে এবং প্রচন্ড তাপশক্তি উৎপন্ন করে। উৎসঃমাধ্যমিক রসায়ন বই


পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়।
প্রক্রিয়া দুটি হল :
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন 
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন 

নিউক্লিয়ার ফিশন :
যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি
খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।


নিউক্লিয়ার ফিউশন : যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়
এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 
জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন
পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। প্রকৃতি এ শক্তি ব্যবহার করছে।
সূর্যে এ বিক্রিয়া স্বচ্ছন্দে ঘটে। 

[উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি]
৪,৭৬০.
এক অশ্বক্ষমতা (1 HP) এর জন্য কোনটি সঠিক?
  1. 1 KW
  2. 0.764 KW
  3. 0.746 KW
  4. 0.784 KW
ব্যাখ্যা

• অশ্বক্ষমতা (Horsepower):
- অশ্বক্ষমতা হলো শক্তি উৎপাদনের একক, যা সাধারণত ইঞ্জিন বা যন্ত্রের ক্ষমতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- 1 অশ্বক্ষমতা বলতে বোঝায় এমন শক্তি যা প্রতি সেকেন্ডে 746 জুল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। 
- এটি প্রায়শই বৈদ্যুতিক বা মেকানিক্যাল যন্ত্রের পাওয়ার রেটিং নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়।
- কিলোওয়াটে রূপান্তর করলে, 1 HP = 0.746 kW.

• কিলোওয়াট (Kilowatt):
- কিলোওয়াট শক্তির মাপকাঠি, যা 1000 ওয়াটের সমান। 
- এটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের শক্তি পরিমাপের সাধারণ একক।
- HP থেকে kW রূপান্তর করতে 1 HP × 0.746 = kW সূত্র ব্যবহার করা হয়।

• সঠিক রূপান্তর:
- যেহেতু 1 HP = 0.746 kW, তাই 1 অশ্বক্ষমতা কে কিলোওয়াটে রূপান্তর করলে ফলাফল হবে 0.746 kW.
- অন্য অপশনগুলো (1 kW, 0.764 kW, 0.784 kW) ভুল কারণ সঠিক রূপান্তর 0.746 kW.

সুতরাং, 1 অশ্বক্ষমতার জন্য সঠিক মান হলো 0.746 kW.
সঠিক উত্তর: গ) 0.746 KW

সূত্র: Britannica [লিংক]

৪,৭৬১.
কোনটি একটি দ্বিপরমাণুক অণু?
  1. O2
  2. O3
  3. CH4
  4. CO2
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বন্ধন: 
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে। 
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। 
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি। 
- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে। 
- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে। 
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষন বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- ধাতব বন্ধন। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৬২.
কোনটি উর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) নিশাদল
  3. গ) ন্যাপথালিন
  4. ঘ) বেনজিন
ব্যাখ্যা

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা তরলে রূপান্তরিত না হয় সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। যেমন:
- কর্পুর,
- গন্ধক,
- আয়োডিন,
- ন্যাপথালিন,
- নিশাদল,
- অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- আর্সেনিক,
- বেনজয়িক এসিড ইত্যাদি।
• কিন্তু বেনজিন উর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়।
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭৬৩.
সালফিউরিক এসিডে কোন মৌলিক পদার্থটি নেই?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিডের সংকেত H2SO4.
সংকেত থেকে আমরা দেখতে পাই সালফিউরিক এসিডে দুই অণু হাইড্রোজেন, এক অণু সালফার ও চার অণু অক্সিজেন থাকে। 
নাইট্রোজেন থাকে না। 
৪,৭৬৪.
নিচের কোনটি মেটালয়েড?
  1. ক) থ্যালিয়াম
  2. খ) টেলুরিয়াম
  3. গ) সীসা
  4. ঘ) সেলেনিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
যে সকল মৌলের ক্ষেত্রে ধাতু ও অধাতু উভয় শ্রেণির ধর্ম প্রকাশ পায়; তাদেরকে অপধাতু বা মেটালয়েড বলে।
বোরন, সিলিকন, জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, অ্যান্টিমনি এবং টেলুরিয়াম- এই ছয়টি মৌল হলো অপধাতু।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,৭৬৫.
বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. ওয়াট
  2. ভোল্ট
  3. ওহম
  4. অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা: 
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক ওয়াট। 
- ক্ষমতা কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ক্ষমতা = বল × বেগ। 

অন্যদিকে, 
- রোধের একক ওহম। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- বৈদ্যুতিক বিভবের একক ভোল্ট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৬৬.
পানি (H₂O) কোন ধরনের যৌগ?
  1. জৈব
  2. অজৈব
  3. মিশ্র
  4. অ্যারোমাটিক যৌগ
ব্যাখ্যা
• অজৈব যৌগ: যে সকল যৌগে কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন (C-H) থাকে না এবং সাধারণত খনিজ বা ভূ-তাত্ত্বিক উৎস থেকে পাওয়া যায় তাদেরকে অজৈব যৌগ বলা হয়। ।
পানি (H₂O) হলো একটি অজৈব যৌগ।

এর কারণ হলো:
-  জৈব যৌগ সাধারণত কার্বন (C) এবং হাইড্রোজেন (H) এর সরাসরি বন্ধন (C–H bond) ধারণ করে।
-  পানি-তে কার্বন নেই। এটি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের বন্ধনে তৈরি। তাই  এটি একটি অজৈব যৌগ।

-   পানি জীবদেহের জন্য অপরিহার্য হলেও রাসায়নিক গঠনের দিক থেকে এটি জৈব রসায়নের  (C-H ভিত্তিক) অংশ নয়।
-  পানিতে কার্বন-হাইড্রোজেন (C-H) বন্ধন নেই, যা জৈব যৌগের মূল শর্ত।
-  এটি প্রাকৃতিকভাবে খনিজ বা ভূতাত্ত্বিক উৎস (নদী, সমুদ্র, বৃষ্টি) থেকে পাওয়া যায়, জীবদেহ থেকে সংশ্লেষিত হয় না।
-   এর গঠন ও ধর্ম অজৈব যৌগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (যেমন: উচ্চ গলনাঙ্ক, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা)।

অন্যদিকে, 
•  জৈব: জৈব যৌগে অবশ্যই C-H বন্ধন থাকতে হয়, যা পানিতে নেই।
মিশ্র: মিশ্র যৌগ বলতে সাধারণত মিশ্রণ বোঝায় (যেমন: লোহা-কার্বন মিশ্রণ), যা পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অ্যারোমাটিক যৌগ: যে সকল জৈব যৌগের অণুতে এক বা একাধিক বেনজিন চক্র উপস্থিত থাকে তাদেরকে অ্যারোমাটিক যৌগ বলা হয়। পানি অ্যারোমাটিক যৌগ নয়। 


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৪,৭৬৭.
বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. ক্যাপিং
  2. মিক্সিং
  3. ডোপিং
  4. ট্রান্সেন্ডিং
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping): 
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে। 
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৬৮.
“ইনার্ট গ্যাস” নয় কোনটি?
  1. Rn
  2. Ra
  3. Xe
  4. Ar
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gas): 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়। 
যেমন: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)। 
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোন যৌগ গঠন করতে চায় না। 
- নিষ্ক্রিয় অন্য মৌলগুলো থেকে হিলিয়াম (He) মৌলটি ব্যতিক্রম। কারণ হিলিয়াম (He) এর বাইরের শক্তিস্তর ২টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে যা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অন্য মৌলগুলোর ক্ষেত্রে ৮টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে। 
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে। 
- Ra (Radium) - নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা, “ইনার্ট গ্যাস” নয়।

Figure: ptable.com [লিংক]

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৬৯.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন-
  1. ক) জন ফ্লেমিং
  2. খ) ম্যাক্সওয়েল
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া বলে। ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৪,৭৭০.
যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে, তাকে কী বলে?
  1. জারক
  2. বিজারক
  3. জারিত
  4. বিজারিত
ব্যাখ্যা
- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে।
- উদাহরণ: সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে।
- উদাহরণ: অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৪,৭৭১.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ -
  1. নীল লিটমাসকে লাল করে
  2. লাল লিটমাসকে নীল করে
  3. নীল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. নীল লিটমাসকে সবুজ করে
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস:
রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৭২.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয়?
  1. ভ্যাকুয়াম
  2. কঠিন
  3. তরল
  4. বায়বীয়
ব্যাখ্যা
শব্দের গতি: 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শূন্য বা ভ্যাকুয়াম মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৭৩.
অপসারিত তরলের ওজন যখন বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হবে তখন কি ঘটবে ?
  1. বস্তু ভাসবে
  2. বস্তু ডুবে যাবে
  3. নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• আর্কিমিডিসের নীতি:
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত করলে সেটি যে পরিমাণ তরল অপসারণ করে সেইটুকু তরলের সমান ওজন বস্তুটির ওজন থেকে কমে যায়।
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত থাকলে তার ওপর যে উর্ধ্বমুখী প্লবতা বল ক্রিয়া করে, তার মান বস্তুটি কর্তৃক বিতাড়িত তরলের ওজনের ঠিক সমান।

• প্রথম অবস্থা:
- যখন কোনো বস্তু কর্তৃক অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর ওজনের চেয়ে বেশি হয়, তখন প্লবতা বল বস্তুর ওজনের চেয়ে বেশি হয়।
- ফলে বস্তুর ওপর ক্রিয়ারত নেট বল উর্ধ্বমুখী হয় এবং বস্তুটি তরলের উপরিভাগে ভেসে থাকে।
- উদাহরণ: কাঠ, কর্ক, প্লাস্টিকের বল, জাহাজ, হাওয়াই জুতা ইত্যাদি।

• দ্বিতীয় অবস্থা:
- যখন অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর ওজনের সমান হয়, তখন প্লবতা বল এবং বস্তুর ওজন পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী হয়ে একে অপরকে নিঃশেষ করে ফেলে।
- ফলে বস্তুর ওপর কোনো নেট বল ক্রিয়া করে না এবং বস্তুটি তরলের যেকোনো গভীরতায় নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকে।
উদাহরণ: পানিতে সাঁতার কাটা মাছ, ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক সামঞ্জস্য করা সাবমেরিন, ঘন লবণপানিতে ডিম ইত্যাদি।

• তৃতীয় অবস্থা:
- যখন অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হয়, তখন প্লবতা বল বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হয়।
- ফলে বস্তুর ওপর ক্রিয়ারত নেট বল নিম্নমুখী হয় এবং বস্তুটি তরলের তলদেশে ডুবে যায়।
- উদাহরণ: লোহা, পাথর, ইট, সোনা, তামা, কাচের গোলক ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭৭৪.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লিটমাসকে কী রঙে পরিবর্তিত করে? 
  1. লাল
  2. নীল
  3. সবুজ
  4. অপরিবর্তিত
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- 
• NaOH, 
• KOH, 
• Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- 
• NH4OH, 
• Fe(OH)2
• Fe(OH)3
• Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৭৫.
তরলের বাষ্পায়ন কোন বিষয়টি দ্বারা প্রভাবিত হয় না? 
  1. বায়ু প্রবাহ
  2. তরলের প্রকৃতি
  3. তরলের উপর চাপ
  4. পদার্থের ঘনত্ব
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: 
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন। 
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। 
- এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা, এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়। 
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। 
যেমন- 
তরলের প্রকৃতি: বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 
বায়ু প্রবাহ: তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
তরলের উপর চাপ: তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 
• তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 
• তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
• তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৭৬.
পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবাহী ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান কেমন থাকে?
  1. ক) বেশী থাকে
  2. খ) কম থাকে
  3. গ) উপরিলেপন ঘটে
  4. ঘ) থাকে না
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের ইলেকট্রন কে যোজন ইলেকট্রন বলে ।
- যোজন ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ড কে যোজন ব্যান্ড বলে।
- পরমাণুতে অবস্থিত মুক্ত যোজন ইলেকট্রন গুলো পরিবহনে অংশ নিলে তাদের পরিবাহী ইলেকট্রন বলে।
- পরিবাহী ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ডকে পরিবাহী ব্যান্ড বলে।

- পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবাহী ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান থাকেই না , বরং উপরিলেপন ঘটে। ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্যে তড়িৎ প্রবাহের সূচনা হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই। 
৪,৭৭৭.
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে বুঝায়-
  1. এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা
  2. এক ওয়াট-ঘণ্টা
  3. এক কিলোওয়াট
  4. এক ওয়াট
ব্যাখ্যা
কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ঘণ্টা 
- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল। 
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 

- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে এক কিলোওয়াট ঘন্টা বুঝায়। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৭৮.
পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য হল-
  1. মাটির অনেক গভীরে থাকে
  2. ভিজা ও নরম
  3. পাহাড়ী এলাকায় পাওয়া যায়
  4. দহন ক্ষমতা কয়লার তুলনায় অধিক
ব্যাখ্যা
- পীট কয়লা হলো জৈব পদার্থের আংশিক পচন দ্বারা গঠিত স্পঞ্জি উপাদান যা প্রাথমিকভাবে উদ্ভিদ উপাদান। 
- পীট কয়লা সবচেয়ে নিম্ন মানের কয়লা যা মাটির ভূগর্ভে থেকে পাওয়া যায়। 
- পীট কয়লা ভিজা ও নরম, দহনে খুব কম তাপ উৎপন্ন করে। 
- শুষ্ক অবস্থায় এটি অবাধে জ্বলে। 
- এতে শনাক্তযোগ্য উদ্ভিজ্জ কণিকা বিদ্যমান থাকলেও মণিক নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৪,৭৭৯.
নিচের কোন যৌগের মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন? 
  1. মোম
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কেরোসিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন: 
- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। 
যেমন - মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
(i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও 
(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৮০.
​পেরিস্কোপে কতটি দর্পণ থাকে?
  1. ২ 
  2. ৩ 
  3. ৪ 
  4. ১ 
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪,৭৮১.
বাংলাদেশে প্রতি সেকেন্ডে কতবার পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়? 
  1. ৪০ বার
  2. ১০০ বার
  3. ৬০ বার
  4. ৫০ বার
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে। 
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। 
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়। 
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ। 
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

(খ) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৭৮২.
লোহা একটি -
  1. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
  2. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  3. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  4. অ্যান্টি-ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
প্যারাচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরোচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়াচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৮৩.
তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া কয়টি? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪ট
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়।
যথা-
১। পরিবহন,
২। পরিচলন ও
৩। বিকিরণ।
• বিকিরণ পদ্ধতি:
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।

• পরিচলন পদ্ধতি:
-কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• পরিবহন পদ্ধতি:
-যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৮৪.
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে কী বলে?
  1. ভর সংখ্যা
  2. নিউট্রন সংখ্যা
  3. নিউক্লিয়ন সংখ্যা
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
- পারমাণবিক সংখ্যাকে 'Z' অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- যেমন: সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11 টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11.
- তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হলো, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৭৮৫.
জারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. ক) তড়িৎ- ধনাত্মক আধান হ্রাস
  2. খ) তড়িৎ- ঋণাত্মক আধান বৃদ্ধি
  3. গ) তড়িৎ- ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি
  4. ঘ) ইলেকট্রন গ্রহণ
ব্যাখ্যা
- কোন পরমাণুর,আয়ন বা পরমাণুপুঞ্জ (রেডিক্যাল) থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে তড়িৎ- ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ- ঋণাত্মক আধান হ্রাসের প্রক্রিয়াকে জারণ বলা হয়।
- যে সকল পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ ক্রতে পারে, তাদেরকে জারক পদার্থ বলা হয়।
- আর যে সকল পদার্থের বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন প্রদান করে তাকে বিজারক পদার্থ বলে।

এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৭৮৬.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ওডোমিটার
  2. স্পিডোমিটার
  3. অ্যালটিমিটার
  4. ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

- উড়োজাহাজ বা বিমানের গতি নির্ণয় করার জন্য ট্যাকোমিটার (Tachometer) নামক যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্রটি মূলত বিমানের ইঞ্জিনের ঘূর্ণন গতি (RPM - Revolutions Per Minute) পরিমাপ করে যা গতি নির্ধারণে সহায়তা করে। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র- ক্যালরিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েসাইট।

৪,৭৮৭.
250 kg ভরের একটি গাড়ি 450 ms-1 বেগে গতিশীল। গাড়িটির গতিশক্তি কত?
  1. 4.06 × 109 J
  2. 7.06 × 106 J
  3. 6.02 × 105 J
  4. কোনোটিই নয়
৪,৭৮৮.
Which chemical compound is responsible for the sweet aroma of fruits?
  1. Alcohol
  2. Ester
  3. Amine
  4. Carboxylic Acid
  5. None of these
ব্যাখ্যা

• ফলের সুগন্ধের পেছনে মূলত উদ্বায়ী এস্টার যৌগগুলো কাজ করে। বিভিন্ন ফলের নির্দিষ্ট গন্ধ নির্দিষ্ট ধরণের এস্টারের উপস্থিতির কারণে হয়, যেমন- পাকা কলার গন্ধে থাকে অ্যামাইল অ্যাসিটেট এবং কমলার গন্ধে থাকে অক্টাইল অ্যাসিটেট।

• এস্টার: 

- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -COOR.
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
• মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস, 
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৮৯.
ক্ষারীয় দ্রবণকে কীভাবে শনাক্ত করা যায়?
  1. এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে
  2. এটি নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
  3. এটি হলুদ লিটমাস কাগজকে বাদামী করে
  4. এটি সবুজ লিটমাস কাগজকে কালো করে
ব্যাখ্যা

ক্ষারীয় (alkaline) দ্রবণ হলো এমন জলীয় দ্রবণ যার pH ৭-এর উপরে থাকে। যেমন— সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) ইত্যাদি। ক্ষারীয় দ্রবণের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল রঙে পরিবর্তন করে।

​ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
​- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

মৃদু ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়।
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 ইত্যাদি।
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়।

তীব্র ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়।
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৯০.
ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়া কোনটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ক) অ্যামোনিয়া
  2. খ) ন্যাপথলিন
  3. গ) নিশাদল
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন - 
নিশাদল (NH4Cl), 
• কর্পূর (C10H16O), 
ন্যাপথলিন (C10H8), 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), 
আয়োডিন (I2), 
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪,৭৯১.
ডায়োড সাধারণত কোন কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. তাপ উৎপাদনে
  2. শব্দ কমাতে
  3. বিদ্যুৎ উৎপাদনে
  4. এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- ডায়োডের রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৯২.
হেনরি বেকরেল কোন আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?
  1. ক) রঞ্জন রশ্মি
  2. খ) রেডিয়াম
  3. গ) তেজস্ক্রিয়তা
  4. ঘ) কোয়ান্টাম তথ্য
ব্যাখ্যা
১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে তিনি এটি আবিষ্কার করেন। তেজস্ক্রিয়তার একক বেকরেল। উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
৪,৭৯৩.
H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে কোন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে? 
  1. ব্যাপন
  2. প্রস্বেদন
  3. নিঃসরণ
  4. অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৪,৭৯৪.
The average salinity of sea of water is ___
  1. 1%
  2. 2.5%
  3. 5%
  4. 3.5%
  5. None
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানি:
- সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- গড়ে সমুদ্রের পানির ওজনের প্রায় ৩.৫ শতাংশ হলো দ্রবীভূত লবণ। 
- এর অর্থ ১ কিলোগ্রাম সমুদ্রের পানিতে ৩৫ গ্রাম দ্রবীভূত লবণ রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
- পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি।
- সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪,৭৯৫.
ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিন দিয়ে কী সম্ভব? 
  1. উচ্চ পটেনশিয়াল তৈরি
  2. কম তাপ উৎপাদন
  3. তড়িৎ তরঙ্গ সঞ্চালন
  4. কম বিদ্যুতের কাজ
ব্যাখ্যা
ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিন: 
- অত্যন্ত উচ্চ বিভব দিয়ে নানা ধরনের কাজ করা হয়। 
- ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিনে সেটি করা সম্ভব হয় স্থির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। 
- একটি ঘুরন্ত বিদ্যুৎ অপরিবাহী বেল্টে চার্জযুক্ত কণা বা স্থির বিদ্যুৎ স্প্রে করা হয়, বেল্টটি ঘুরিয়ে একটি ধাতব গোলকের ভেতর নেওয়া হয়। 
- বেল্টের ওপর থেকে একটা স্পর্শক এই চার্জটা গ্রহণ করে ধাতব গোলকের কাছে পৌঁছে দেয়। 

- চার্জ সব সময়ই বেশি থেকে কম বিভবে প্রবাহিত হয়। 
- ভ্যান ডি গ্রাফ জেনারেটরে এটি সব সময় ঘটে থাকে, কারণ ধাতব গোলকের ভেতরে সব সময়ই গোলকের সমান বিভব থাকে। 
- বেল্টের উপরের বাড়তি চার্জটুকুর জন্য যে বাড়তি ভোল্টেজ তৈরি হয় সেটি তাই সব সময়ই গোলকের  ভোল্টেজ থেকে বেশি। সে কারণে গোলকের ভেতরে চার্জ থাকলেই সেটা গোলকপৃষ্ঠে চলে যায়। 
- এভাবে বিশাল পরিমাণ চার্জ জমা করিয়ে অনেক উচ্চ পটেনশিয়াল তৈরি করা সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৯৬.
কোন বর্ণের আলো সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়?
  1. বেগুনি 
  2. নীল 
  3. লাল 
  4. হলুদ 
ব্যাখ্যা

- আলোর বিক্ষেপণ তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে। আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম হয়, তার বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। দৃশ্যমান বর্ণালীর মধ্যে বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এই বর্ণের আলো সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। অন্যদিকে, নীল আলোর বিক্ষেপণ অনেক বেশি হলেও তা বেগুনির চেয়ে কিছুটা কম, তবে বায়ুমণ্ডলে এর প্রভাব বেশি স্পষ্ট হয়। 

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
 - এই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৯৭.
কোন বছর পরিমাপের এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতির প্রবর্তন হয়েছিল? 
  1. 1940 সালে
  2. 1950 সালে
  3. 1960 সালে
  4. 1970 সালে
ব্যাখ্যা
পরিমাপের একক: 
- পরিমাপ বলতে বুঝায় কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করা। 
যেমন- রুপম প্রতিদিন সকালে ২ কিলোমিটার দৌড়ায়, প্রীতমের বাসা থেকে স্কুলে যেতে ১৫ মিনিট সময় লাগে। এখানে ২ কিলোমিটার হলে দূরত্বের পরিমাণ এবং ১৫ মিনিট হলো সময়ের পরিমাণ। 
অর্থাৎ, কোনো কিছু পরিমাণ নির্ণয় করতে হলে দুটি জিনিসের প্রয়োজন হয়। একটি হলো সংখ্যা অন্যটি হলো একক। 
- যে কোন ভৌত রাশির পরিমাপের জন্য তার একটি নিদিষ্ট পরিমাণকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয় এবং এই পরিমাণের সাপেক্ষে সমগ্র ভৌত রাশিটির পরিমাপ করা হয়, এ আদর্শ পরিমাণকে ঐ রাশিটির একক বলা হয়। 
- বিভিন্ন ভৌত রাশি যেমন- ক্ষেত্রফল, আয়তন, ওজন, কোণ, সময়, বল, তাপ, শক্তি ইত্যাদি পরিমাপের জন্য ভিন্ন ভিন্ন একক রয়েছে এবং পরিমাপের বিভিন্ন পদ্ধতিতে এদের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। 
- যে আদর্শ পরিমাপের সাথে তুলনা করে ভৌত রাশিকে পরিমাপ করা হয় তাকে পরিমাপের একক বলা হয়। 
যেমন- মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড, নিউটন, জুল ইত্যাদি পরিমাপের এককের উদাহরণ। 

এস.আই (S.I) এর মৌলিক একক: 
- মৌলিক রাশির এককসমূহ অন্য কোনো এককের উপর নির্ভর করে না, তাই মৌলিক একক ইচ্ছামত নির্বাচন করা যায়। তবে নির্বাচিত এককগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং এই এককগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে।
যেমন- এটি হবে অপরিবর্তনীয় অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কোন কিছুর উপর নির্ভর করবে না।
- কালের বিবর্তনে বা অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এর কোন পরিবর্তন হবে না।
- 1960 সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর সময় মৌলিক এককগুলোর যে আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করা হয়েছিল পরবর্তীকালে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের লক্ষ্যে এদের মধ্যে অনেক এককের আদর্শ বদল করা হয়েছে কিন্তু তাতে এককগুলোর মানের কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৯৮.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. বায়োগ্যাস
  3. কয়লা 
  4. তরল পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা
জ্বালানি ও জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপাদিত হয়, সেগুলোকে জ্বালানি বলা হয়। 
- জ্বালানিই তাপশক্তির প্রধান উৎস। 

জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরল পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- এগুলো প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর উচ্চ চাপ ও তাপে পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়।

অন্যদিকে, 
- বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয় কারণ এটি পুনঃনবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎস
- এটি সাম্প্রতিক জৈব পদার্থের পচন থেকে উৎপন্ন হয়, যা স্বল্প সময়ে পুনরায় উৎপাদনযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৯৯.
একটি অণু বা পরমানুর সম্মিলিত চার্জ-
  1. ক) ধণাত্মক
  2. খ) ঋণাত্মক
  3. গ) শূন্য
  4. ঘ) অশূন্য
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়াসের ভেতরে ধণাত্মক চার্জ যুক্ত প্রোটন এবং এর বাইরে ঋণাত্মক চার্জ যুক্ত ইলেকট্রন থাকে বলে একটি অণু বা পরমানুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪,৮০০.
পৃথিবীতে অজৈব যৌগের সংখ্যা কত?
  1. ক) প্রায় ৯০ হাজার
  2. খ) প্রায় ৮০ লক্ষ
  3. গ) প্রায় ৩৯ হাজার
  4. ঘ) প্রায় ১ কোটি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
কার্বনের ক্যাটেনেশন ও জৈব যৌগের সমাণুতার জন্য বর্তমানে আবিষ্কৃত জৈব যৌগের সংখ্যা প্রায় ৮০ লক্ষ। অন্যদিকে অজৈব যৌগের সংখ্যা ১ লাখেরও কম (প্রায় ৯০ হাজার মাত্র)
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি