বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৬৪ · ১০১২০০ / ৬,৪০৯

১০১.
"ফেনলফথ্যালিন" নির্দেশক ক্ষারকে কোন রং প্রদর্শন করে?
  1. গোলাপী
  2. নীল
  3. বেগুনী
  4. বর্ণহীন
ব্যাখ্যা
• ফেনলফথ্যালিন - নির্দেশকের বর্ণ বর্ণহীন, এসিডে বর্ণহীন এবং ক্ষারকে গোলাপী বর্ণ প্রদর্শন করে।

এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক হলো-
- লিটমাস কাগজ - এসিডে লাল এবং ক্ষারকে নীল বর্ণ প্রদর্শন করে।

- মিথাইল রেড - নির্দেশকের বর্ণ লাল।
- মিথাইল রেড এসিডে লাল এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

- মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশকের বর্ণ হচ্ছে কমলা।
- এটি এসিডে গোলাপী এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

সুত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই।
১০২.
নাইট্রিক এসিডের মৌলিক পদার্থ কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. সোডিয়াম
  3. অক্সিজেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

নাইট্রিক এসিডের মৌলিক পদার্থ হল হাইড্রোজেন।
- নাইট্রিক এসিডে(HNO3) হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন থাকলেও এখানে অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন নাইট্রেট যৌগমূলক রূপে অবস্থান করে|
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন মৌলের মধ্যে অবস্থান করে ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি

১০৩.
কোনটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট হিসেবে পরিচিত?
  1. FPGA
  2. VLSI
  3. LSI
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হলো একটি ছোট চিপে হাজার হাজার বা মিলিয়ন ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপাদান একত্রিত করা। FPGA হলো প্রোগ্রামেবল লজিক ডিভাইস যা বিভিন্ন ডিজাইন অনুযায়ী কনফিগার করা যায়। LSI (Large Scale Integration) এবং VLSI (Very Large Scale Integration) হল বড় আকারের ইন্টিগ্রেশন প্রযুক্তি, যেখানে ক্রমশ আরও বেশি ট্রানজিস্টর একটি চিপে সংযুক্ত করা হয়।
- তাই FPGA, LSI এবং VLSI - তিনটিই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উদাহরণ। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) সবগুলোই।

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের সুবিধা সমূহ- 
১. এটি আকারে বেশ ছোট্ট। 
২. অনেক জটিল সার্কিট একটি একক চিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তাই এটি একটি জটিল বৈদ্যুতিক সার্কিটের নকশাকে সহজতর করে। এছাড়াও এটি সার্কিটের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. আইসিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
৪. অধিক উৎপাদনের কারণে এগুলো কম খরচে পাওয়া যায়।
৫. আইসিগুলো খুব অল্প শক্তি গ্রহণ করে।
৬. প্যারাসাইটিক ক্যাপাসিট্যান্স প্রভাব না থাকায় এদের অপারেটিং গতি অনেক উচ্চ হয়।
৭. মূল সার্কিট থেকে খুব সহজেই প্রতিস্থাপন করা যায়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

১০৪.
High AC voltage পরিমাপের জন্য কোন পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হয়?
  1. Capacitance potential divider
  2. Sphere gaps
  3. Electro static voltmeter
  4. উপরের সব কয়টি
ব্যাখ্যা
High AC voltage পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়- 
Capacitance potential divider:
- এটি প্রকৃতপক্ষে উচ্চ-ভোল্টেজ এসি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- এতে ক্যাপাসিটর সিরিজে যুক্ত থাকে। 
- এতে voltage divider circuit তৈরি হয়। 

Sphere gaps 
Sphere gaps হল এক ধরনের উচ্চ-ভোল্টেজ পরিমাপক যন্ত্র যা প্রাথমিকভাবে উচ্চ-ভোল্টেজ এসি বা ডিসি সিস্টেমের ভোল্টেজের মাত্রা নির্ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়।
- এগুলি বায়ুমণ্ডলীয় চাপে গ্যাস বা বাতাসে ভরা একটি ছোট গ্যাপ দ্বারা পৃথক দুটি সমকেন্দ্রিক গোলক বা ইলেক্ট্রোড নিয়ে গঠিত।

Electro static voltmeter
- একটি ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ভোল্টমিটার হল একটি উচ্চ-প্রতিবন্ধক ভোল্টমিটার যা উচ্চ ভোল্টেজ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে কিলোভোল্ট (কেভি) এবং মেগাভোল্ট (এমভি) রেঞ্জে।
- এটি চার্জযুক্ত প্লেটের মধ্যে ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক আকর্ষণ বা বিকর্ষণ নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
১০৫.
'বেকরেল' নিচের কোনটির একক?
  1. এক্সরে
  2. দীপন ক্ষমতা
  3. তেজস্ক্রিয়তা
  4. লেন্সের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ করার জন্য যে একক ধরা হয় তাকে বলা হয় বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা হলো যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি, তাদের নিউক্লিয়াস দ্রুত গতির নিউটন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদন সম্পূর্ণ বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনা।
- ফরাসি বিজ্ঞানী অঁতোয়ান অঁরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করে ফেলেন যা সারা বিশ্বের বিজ্ঞান জগতে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- তিনি দেখতে পান যে, ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত বিশেষ ভেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি বা বিকিরণ নির্গত হয়।
- তার নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকারেল রশ্মি।
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে।

উৎস: Britannica.com
১০৬.
পানি 100 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে তখন বায়ুমন্ডলীয় চাপ কত থাকে?
  1. ক) 1 atm
  2. খ) 2 atm
  3. গ) 3 atm
  4. ঘ) 0 atm
ব্যাখ্যা
যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে তাকে স্ফুটনাংক বলে যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100 ডিগ্রী সেলসিয়াস। স্ফুটনাংক এর বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
১০৭.
রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. গ) কর্ণিয়া
  4. ঘ) অ্যাকুয়া রিজিয়া
ব্যাখ্যা

অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৮.
নিলস বোরের পরমাণু মডেলের নাম কী?
  1. ক) সোলার মডেল
  2. খ) লুনার মডেল
  3. গ) কিশমিশ পুডিং মডেল
  4. ঘ) কোয়ান্টাম মডেল
ব্যাখ্যা

থমসনের পরমাণু মডেলের নাম - কিশমিশ পুডিং মডেল
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের নাম - সৌর মডেল
বোরের পরমাণু মডেলের নাম - কোয়ান্টাম মডেল৷

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

১০৯.
এক মাইক্রোফ্যারাডে বলতে বুঝায়-
  1. এক ফ্যারাডের এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  2. এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  3. এক ফ্যারাডের এক কোটি ভাগের এক ভাগ
  4. এক ফ্যারাডের দশ কোটি ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
পরিবাহীর ধারকত্ব: 
- কোনো বিভব একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ আধানের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ পরিবাহকের ধারকত্ব বলে। 
মনে করি, কোনো পরিবাহকের বিভব V পরিমাণ বৃদ্ধি করতে Q পরিমাণ আধান প্রয়োজন হয়। 
সুতরাং, পরিবাহকের ধারকত্ব, Q ∞ V 
বা, Q/V = ধ্রবক = ধারকত্ব 
∴ C = Q/V. 

একক: 
- এস. আই বা S.I পদ্ধতিতে ধারকত্বের একক ফ্যারাড (F)। 
- উপরের সমীকরণ থেকে দেখা যায় যে, V = 1 ভোল্ট (V) এবং Q = 1 কুলম্ব (C) হলে C = 1 ফ্যারাড (F) হয়। 

ফ্যারাডের সংজ্ঞা: 
- কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (1V) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (1C) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্বকে এক ফ্যারাড (1F) বলে।
∴ 1F= 1C/1V = 1 CV-1
- এক ফ্যারাড (1F) বেশ বড় একক বিধায়, একে সচরাচর ব্যবহার করা হয় না, মাইক্রোফ্যারাড (µF) কেই ধারাকত্বের একক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগকে এক মাইক্রোফ্যারাড বলে। 
অর্থাৎ, 1µF = 10-6F. 
- মাইক্রোফ্যারাড ছাড়াও ন্যানোফ্যারাড (nF), পিকোফ্যারাড বা মাইক্রো মাইক্রোফ্যারাড (µµF) এককও ব্যবহার করা হয়। 
1nF = 10-9F এবং 1pF = 1µµF =10-12F. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
নিচের কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়?
  1. সৌর শক্তি
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস তাই এ শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব কত?
  1. ২.৫ সে.মি.
  2. ২৫ মি.
  3. ২৫ সে.মি.
  4. ২.৫ মি.
ব্যাখ্যা
দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব:
- যে নিকটতম দূরত্ব পর্যন্ত চোখ বিনা শ্রান্তিতে স্পষ্ট দেখতে পায় তাকে স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম বা নিকটতম দূরত্ব বলে।
- কোন বস্তু স্পষ্ট দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
- চোখের লেন্স থেকে ২৫ সে.মি. দূরবর্তী বিন্দুতে স্থাপিত বস্তুটিকে সুন্দর সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- এর থেকে কম দূরত্বে স্থাপিত বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১২.
একটি Transformer এর দক্ষতা 80%, 100v, 4kw। যদি সেকেন্ডারি ভোল্টেজ 240v হয়, তবে প্রাইমারি কারেন্ট কত?
  1. 40A
  2. 30A
  3. 20A
  4. 10A
ব্যাখ্যা
Input = 4 Kw

primary current = 4000/100
= 40 A
১১৩.
পরমাণুতে ইলেকট্রন সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাকে কী বলে? 
  1. নিউট্রন
  2. পজিট্রন
  3. ক্যাটায়ন
  4. অ্যানায়ন
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষণ: 
- কোনো অম্ল, ক্ষারক বা লবণ জাতীয় পদার্থের দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর দ্রব পদার্থের প্রত্যেকটি অণু দুটি তড়িতাহিত অংশে বিভক্ত হয় যায়। 
অর্থাৎ, “কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে”। 
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবনের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- সকল অ্যাসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, অ্যাসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ। 
যেমন- H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি। 

- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়। 
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকে যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশী ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে। 
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
কোন পদার্থ আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে?
  1. HCl
  2. HNO3
  3. H2O
  4. K2Cr2O7
ব্যাখ্যা

• আর্দ্রতা শোষণ: এটি এমন প্রক্রিয়া যেখানে একটি পদার্থ বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প শোষণ করে।

K2Cr2O7 (পটাসিয়াম ডাইক্রোমেট):
- এটি একটি হাইজ্রোস্কোপিক যৌগ, অর্থাৎ এটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে।
- এই প্রক্রিয়ায় যৌগটি পানির সাথে মিশে গলে যেতে পারে।
- HNO3 (নাইট্রিক এসিড): সাধারণত সোনা গলাতে ব্যবহার করা হয়, আর্দ্রতা শোষণ প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- HCl (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড): গ্যাস আকারে থাকে, আর্দ্রতা শোষণ প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- H₂O (পানি): এটি নিজেই পানি, শোষণ করার অর্থ নেই।

সুতরাং, আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে K2Cr2O7

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।    

১১৫.
তরল পদার্থের ক্ষেত্রে সঠিক কোনটি? 
  1. নির্দিষ্ট আকার আছে, আয়তন নেই 
  2. নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই নেই 
  3. নির্দিষ্ট আকার নেই, নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
  4. অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার।
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৬.
এক্স-রে কোন সালে আবিষ্কৃত হয়? 
  1. ১৮৮৫ সালে
  2. ১৮৯৫ সালে
  3. ১৮৯৯ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
এক্স-রে: 
- ১৮৯৫ সালে উইলহেম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- এক্স-রে এর একক হলো রন্টজেন যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- এক্স-রে -এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m এর কাছাকাছি। 
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 

এক্স-রের ব্যবহার: 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায়। 
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়। 
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। 
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
নিচের কোনটি মুদ্রা ধাতু নয়?
  1. ক) তামা
  2. খ) রূপা
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) দস্তা
ব্যাখ্যা

পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর ৪টি মৌল হচ্ছে- তামা, রূপা, সোনা এবং রন্টজেনিয়াম।
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম ৩টি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে।
- কারণ এই গ্রুপের রন্টজেনিয়াম ছাড়া অন্য ৩টি মৌল দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হতো।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১১৮.
কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়? 
  1. খনিজ তেল
  2. কয়লা
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'বায়োগ্যাস' একটি নবায়নযোগ্য শক্তি, এই শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৯.
চোখের লেন্সের ধরণ কোনটি?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. দ্বি-উত্তল
  4.  দ্বি-অবতল
ব্যাখ্যা

মানুষের চোখের লেন্সটি হলো একটি দ্বি-উত্তল লেন্স, যা উভয় দিকেই উত্তল আকৃতির। 
- এই লেন্সটি অভিসারী লেন্স হিসেবে কাজ করে এবং আলোকরশ্মিকে প্রতিসারিত করে রেটিনার উপর ফোকাস করতে সাহায্য করে, যার ফলে আমরা কোনো বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখতে পাই।

দ্বি-উত্তল লেন্স:
- দ্বি-উত্তল লেন্স হলো একটি বিশেষ ধরনের উত্তল লেন্স, যার উভয় পৃষ্ঠই বাইরের দিকে বক্রাকার বা উত্তল আকৃতির।
- এটি অভিসারী (converging) লেন্স হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি এর মধ্য দিয়ে যাওয়া সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (ফোকাস বিন্দুতে) একত্রিত করে।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি এর মধ্য দিয়ে আপতিত সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে প্রতিসরণের পর একটি বিন্দুতে মিলিত করে।
- এটি সাধারণত বাস্তব (real) এবং উল্টো (inverted) প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
- রেটিনায় সৃষ্ট উল্টো প্রতিবিম্বের তথ্য অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, এবং মস্তিষ্ক সেই সংকেতগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে সোজা করে দেখায়।

চোখে দ্বি-উত্তল লেন্সের কার্যকারিতা:
- চোখের লেন্স হলো একটি প্রাকৃতিক, নমনীয় এবং স্বচ্ছ দ্বি-উত্তল লেন্স। 
- এর মূল কাজ হলো বিভিন্ন দূরত্বে থাকা বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মিকে রেটিনার ওপর সঠিকভাবে ফোকাস করা, যাতে একটি স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উপযোজন (Accommodation) প্রক্রিয়া:
- চোখের লেন্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর উপযোজন ক্ষমতা। এটি চোখের সিলিয়ারি পেশী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- দূরের বস্তু দেখার জন্য চোখের লেন্স পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে ফোকাস দূরত্ব বেড়ে যায় এবং রেটিনার উপর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
- আর কাছের বস্তু দেখার সময় লেন্সটি মোটা হয়ে যায়, যার কারণে ফোকাস দূরত্ব কমে যায় এবং রেটিনার উপর প্রতিবিম্ব সঠিকভাবে গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়াটিই উপযোজন নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য-
- উত্তল: এটি লেন্সের একটি সাধারণ প্রকার, কিন্তু চোখের লেন্সের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট ধরণ হলো দ্বি-উত্তল।
- অবতল: এটি একটি অপসারী লেন্স এবং এটি দৃষ্টি ত্রুটি (যেমন: মায়োপিয়া) সংশোধনের জন্য চশমায় ব্যবহৃত হয়, চোখে নয়।
- দ্বি-অবতল: এটি অবতল লেন্সের একটি প্রকারভেদ এবং এটিও সাধারণত চশমা ও কিছু বিশেষ আলোকীয় যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১। পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১২০.
প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. ১৮
ব্যাখ্যা
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়।
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2 । যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
এ সূত্রানুসারে,
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1, অতএব
- K শেল অর্থাৎ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 12) টি = 2 টি।  
এভাবে প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২১.
কোন বল শুধুই আকর্ষণধর্মী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎচৌম্বক বল
  3. সবল নিউক্লিয় বল
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ বল শুধুই আকর্ষণধর্মী।

• মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে। অর্থাৎ, এই বল শুধু আকর্ষণধর্মী।
- বল দুইটি বস্তুর ভর ও দূরত্বের উপর নির্ভর করে।
- এই বলের পাল্লা অসীম অর্থাৎ অসীম পর্যন্ত এই বল কার্যকর।
- এই বলের বাহক কণা হলো গ্রেভিটন।

• তড়িৎচৌম্বক বল:
- এই বল আকর্ষণ ও বিকর্ষণধর্মী হয়।
- সমধর্মী চার্জ পরষ্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীতধর্মী চার্জ পরষ্পরকে আকর্ষণ করে।
- চৌম্বকের সমমেরু পরষ্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীত মেরু পরষ্পরকে আকর্ষণ করে।
- এই বলের বাহক কণা হলো ফোটন।

• সবল নিউক্লিয় বল:
- নিউক্লিয়াসে থাকা অবস্থায় দুটি নিউক্লিয়নের মধ্যে (নিউক্লিয়াসের ভিতর প্রোটন ও নিউট্রন নামে যে কণা থাকে তাদেরকে এক কথায় নিউক্লিয়ন বলে) যে প্রবল আকর্ষণ বল বিদ্যমান তাকে সবল নিউক্লিয় বল বলে।
- এ বল আকর্ষণধর্মী, স্বল্প পাল্লা বিশিষ্ট এবং চার্জ নিরপেক্ষ। নিউক্লিয়াসের বাইরে এ বলের কোনো প্রভাব নেই।
- দুটি নিউক্লিয়নের মধ্যে মেসন (meson) নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়।
- এর পাল্লা 10-15 m যা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধের সমান।

- সবল নিউক্লিয় বল প্রোটন ও নিউট্রনের মধ্যে খুব শক্তিশালী আকর্ষণ সৃষ্টি করে, যা পারমাণবিক কোর (nucleus) কে একসাথে ধরে রাখে।
- তবে, খুব ছোট দূরত্বে (প্রায় ০.৮ ফেমটোমিটার বা তার কম) এর মধ্যে একটি বিকর্ষণধর্মী অংশও থাকে, যা পারমাণবিক কোরের মধ্যে অংশগুলিকে একে অপর থেকে খুব বেশি কাছে যেতে বাধা দেয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, শাহাজাহান তপন।
১২২.
“Response in the Living and Non-living” গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. রাদারফোর্ড
  4. জগদীশচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

• “Response in the Living and Non-living” গ্রন্থটি জগদীশচন্দ্র বসুর রচনা, যেখানে তিনি জীব ও জড়বস্তুর প্রতিক্রিয়ার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করেছেন।

• জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান (Contributions of Jagadish Chandra Bose):
-জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮–১৯৩৭) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী।
- তিনি মূলত উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
 
• বৈজ্ঞানিক অবদান:
- তিনি প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদও উদ্দীপনায় সাড়া দেয় এবং উদ্ভিদের মধ্যেও সংবেদনশীলতা বিদ্যমান।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি, উদ্দীপনা ও প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণের জন্য তিনি ক্রেস্কোগ্রাফ (Crescograph) নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ভিদের সূক্ষ্মতম বৃদ্ধি ও প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা সম্ভব হয়।
 
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ গবেষণা:
- জগদীশচন্দ্র বসু তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন এবং রেডিও তরঙ্গের ধর্ম ব্যাখ্যায় অবদান রাখেন।
- তিনি বেতার যোগাযোগ গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
 
• স্বীকৃতি ও সম্মান:
- তিনি রয়্যাল সোসাইটি (Fellow of the Royal Society – FRS)–এর ফেলো নির্বাচিত হন।
- তার গবেষণা কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়।
 
• গ্রন্থ:
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Response in the Living and Non-living”, যেখানে জীব ও জড়বস্তুর প্রতিক্রিয়ার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১২৩.
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ধারণ ক্ষমতা কত ডিবি?
  1. ৪৫-৫৫ ডিবি
  2. ৩৫-৪৫ ডিবি
  3. ৫৫-৬৫ ডিবি
  4. ২৫-৩৫ ডিবি
ব্যাখ্যা
- যে কোনো বস্তুতে ঘর্ষণের ফলে এক ধরনের তরঙ্গ ধ্বনির সৃষ্টি হয়। এই তরঙ্গ ধ্বনি মূলত এক প্রকার শক্তি। 
- এই তরঙ্গ শক্তি মানুষের কানে প্রবেশ করে শ্রবণ অনুভূতি সৃষ্টি করে। ফলে আমরা শুনতে পাই। একে শব্দ বলে। 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের ধারণ ক্ষমতার ঊর্ধ্বে সৃষ্ট যে শব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাকে শব্দ দূষণ বলে। 
-  National Center for Environmental Health (NCEH) এর তথ্যমতে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪৫-৫৫ ডেসিবল। 

 
উৎস: National Center for Environmental Health (NCEH) এবং পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
পানির একটি অণুকে ভাঙলে কয়টি পরমাণু পাওয়া যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা

পানির একটি অণুকে ভাঙলে তিনটি পরমাণু পাওয়া যায়। 

দুইটি হাইড্রোজেন এবং একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলে পানির একটি অণু গঠিত হয়।
অক্সিজেনের একটি অণুকে ভাঙলে দুইটি পরমাণু পাওয়া যায়।
অণু হচ্ছে কোনো পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক, যাতে ঐ পদার্থের সকল গুণাগুণ বিদ্যমান থাকে।
মৌলিক পদার্থের যে ক্ষুদ্রতম কণার মধ্যে মৌলটির সমস্ত ধর্ম উপস্থিত থাকে এবং যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে মৌলিক পদার্থটির পরমাণু বলে।

উৎস: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

১২৫.
The density of milk is measured by -
  1. lactometer
  2. Fadometer
  3. Seismograph
  4. Barometer
  5. Manometer
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:
- দুধের ঘনত্ব পরিমাপের যন্ত্রের নাম ল্যাকটোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১২৬.
নিচের কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. Ra
  2. Na
  3. K
  4. Fe
ব্যাখ্যা

• রেডিয়াম (Ra) হচ্ছে মৃৎক্ষার ধাতুর উদাহরণ।

• মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়।
- মৌলগুলো হলো: বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra)।
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

• ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। - এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৭.
কোন পদার্থ পরম শূন্য তাপমাত্রায় অন্তরকের ন্যায় কাজ করে?
  1. অতিপরিবাহী পদার্থ
  2. অপরিবাহী পদার্থ 
  3. অর্ধপরিবাহী পদার্থ
  4. প্লাজমা
ব্যাখ্যা

• পরম শূন্য তাপমাত্রায় তাপীয় শক্তির অভাবে অর্ধপরিবাহীর ইলেকট্রনগুলো যোজন ব্যান্ড থেকে পরিবহন ব্যান্ডে যেতে পারে না। ফলে কোনো মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় এটি একটি নিখুঁত অন্তরকের ন্যায় আচরণ করে।

• অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

• অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৮.
কোনটিতে ঋণাত্মক আধান থাকে?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা । 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11 × 10-28 গ্রাম ও 1.60 × 10-19 কুলম্ব। 
- ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট। 

প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67 × 10-24 গ্রাম ও 1.60× 10-19 কুলম্ব। 
- ধণাত্মক আধান বিশিষ্ট। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক (James Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 গ্রাম। 

উৎস: রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৯.
স্যাটেলাইট কোন বলের কারণে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে?
  1. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. মহাকর্ষ বল
  3. আপেক্ষিক বল
  4. সমান্তরাল বল
ব্যাখ্যা

- স্যাটেলাইট প্রধানত মহাকর্ষ বল বা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে।
- স্যাটেলাইটের নিজস্ব ভরবেগ (Momentum) বা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি এবং পৃথিবীর টান এমনভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে যে, এটি পৃথিবীতে আছড়ে না পড়ে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।
- স্যাটেলাইটের  ঘূর্ণন বজায় রাখার পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করে। যথা:

• মহাকর্ষ বল (Gravitational Force):
- মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে, তাই মহাকর্ষ বল। এটি একটি সর্বজনীন আকর্ষণ বল।
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি স্যাটেলাইটকে সবসময় নিজের কেন্দ্রের দিকে টেনে ধরে রাখে।

• কেন্দ্রমুখী বল (Centripetal Force):
- কেন্দ্রমুখী বল হলো সেই বাহ্যিক বল যা কোনো বস্তুকে বৃত্তাকার পথে ঘোরানোর জন্য কেন্দ্রের দিকে কাজ করে।
- মহাকর্ষ বলই মূলত এখানে কেন্দ্রমুখী বল হিসেবে কাজ করে, যা স্যাটেলাইটটিকে সোজা পথে চলে যেতে না দিয়ে বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার পথে ঘুরতে বাধ্য করে।

• অন্যান্য অপশন সমূহ:

আপেক্ষিক বল: 
- আপেক্ষিক বল বলতে সাধারণত একটি চলন্ত বা অ-জড় (non-inertial) প্রসঙ্গ কাঠামো থেকে পরিমাপ করা কোনো বস্তুর ওপর প্রযুক্ত বলকে বোঝায়, যার মধ্যে প্রকৃত বলের সাথে কাল্পনিক বলও (pseudo-force) অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি পর্যবেক্ষকের গতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। 

সমান্তরাল বল:
- যখন দুই বা ততোধিক বলের ক্রিয়ারেখা পরস্পর সমান্তরাল হয়, তখন তাদের সমান্তরাল বল বলে। এই বলগুলো একই দিকে (সদৃশ/সমমুখী) অথবা বিপরীত দিকে (বিসদৃশ) কাজ করতে পারে।

অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষজ ত্বরণ (Gravitational acceleration) হলো পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হার, যাকে 'g' দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর মান প্রায় 9.8 m/s2 । 

উৎস:
১। পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।
২। National Environmental Satellite, Data & Information Service- USA [Link]

১৩০.
কোন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে মহাবিশ্বে ইথারের কোনো অস্তিত্ব নেই?
  1. ক) বোর-রাদারফোর্ড পরীক্ষা
  2. খ) হকিং-বোস পরীক্ষা
  3. গ) মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা
  4. ঘ) আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

অ্যালবার্ট মাইকেলসন ও এডওয়ার্ড মােরলে ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে ইথারের অস্তিত্ব নির্ণয়ের জন্য একটি বিখ্যাত পরীক্ষা সম্পাদন করেন।
এটি মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা নামে সুপরিচিত।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, মহাবিশ্বে ইথারের কোনাে অস্তিত্ব নেই।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

১৩১.
Gamma rays in electric and magnetic fields- 
  1. are scattered
  2. are not scattered
  3. travel in curved paths
  4. are partially scattered
  5. are scattered in electric fields but not in magnetic fields
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্ত হয় না (not scattered), কারণ গামা রশ্মি আধান নিরপেক্ষ (কোনো চার্জ নেই), ফলে এটি তড়িৎ ক্ষেত্র বা চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিচ্যুত বা বক্র পথে চালিত হয় না, বরং সরলরেখায় চলে যায়। 

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মি আলোর বেগের ন্যায় গতিশীল। 
- বেগের কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
- গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 
- গামা রশ্মিটি ফটোগ্রাফিক পেণ্টটের উপর বিক্রিয়া করে। 
- গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে। 
- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৩২.
কোন প্রক্রিয়ার সাহায্যে স্টার্চকে অ্যালকোহলে রূপান্তর করা হয়?
  1. ক্রিস্টালাইজেশন
  2. ক্লোরিনেশন
  3. ডিস্টিলেশন
  4. ফার্মেন্টেশন
ব্যাখ্যা

• স্টার্চকে অ্যালকোহলে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াটি ফার্মেন্টেশন। এই প্রক্রিয়ায় স্টার্চ প্রথমে সহজ চিনিতে রূপান্তরিত হয়, সাধারণত অ্যামাইলেজ নামক এনজাইমের মাধ্যমে। এরপর সেই সহজ চিনি খামির বা অন্য মাইক্রোবায়ালের সাহায্যে আলকোহলে রূপান্তরিত হয়। ফার্মেন্টেশনের সময় চিনি ভেঙে ইথানল এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সংমিশ্রণ, যা বীয়ার, রম, ভদকা ইত্যাদির উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অন্য তিনটি প্রক্রিয়া—ক্রিস্টালাইজেশন, ক্লোরিনেশন, এবং ডিস্টিলেশন—স্টার্চকে সরাসরি অ্যালকোহলে রূপান্তর করতে সক্ষম নয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) ফার্মেন্টেশন।
 
অ্যালকোহল: 
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। 
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। 
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলের ৯৬% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে। 
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। 

- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়, একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। 
- কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। 
- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৩.
শূন্য মাধ্যমে নিচের তিনটি বস্তুকে একসাথে ছেড়ে দিলে কোনটি আগে মাটিতে পড়বে?
  1. পালক
  2. পাথর
  3. কাঠ
  4. সবকয়টি একসাথে মাটি স্পর্শ করবে
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর পরীক্ষা:
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে, একই উচ্চতা থেকে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু একই সময়ে মাটিতে এসে পড়ে।

• প্রথম সূত্র:
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে ।
• দ্বিতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
• তৃতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ t সময়ে বস্তু h দূরত্ব অতিক্রম করলে, h∝ t.

- তাই শূন্য মাধ্যমে ৩টি বস্তুকে একসাথে ছেড়ে দিলে সবকয়টি একসাথে মাটি স্পর্শ করবে।

উৎস: পসার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে কী তৈরি হয়?
  1. রেডন ও থোরিয়াম
  2. হাইড্রোজেন ও ক্রিপ্টন 
  3. হিলিয়াম ও বেরিয়াম
  4. ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
ব্যাখ্যা

• বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

• পারমাণবিক শক্তি:
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস।
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে E = উৎপন্ন শক্তি, m = শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c = আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)।
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

উৎস:
১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।

১৩৫.
সরল দোলকের প্রথম সূত্র (সমকাল সূত্র) অনুযায়ী নিচের কোনটি সত্য?
  1. কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে সকল দোলকের দোলনকাল সমান
  2. দোলনকাল দৈর্ঘ্যের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  3. দোলনকাল অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. দোলনকাল দোলকের ভরের উপর নির্ভর করে
ব্যাখ্যা

কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪°  কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ধ্রুব থাকে।

• সরল দোলক (Pendulum):
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকে ওজনহীন, অপ্রসারণশীল ও নমনীয় সুতার সাহায্য বুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে থাকে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও সরল দোলকের চারটি সূত্র প্রদান করেন।

- কৌণিক বিস্তার ৪°  এর বেশি না হলে, সরল দোলকের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত চারটি সূত্র প্রযোজ্য হবে।
সূত্রগুলো নিম্নরূপ-

• প্রথম সূত্র (সমকাল সূত্র):
- কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪°  কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ধ্রুব থাকে।

• দ্বিতীয় সূত্র (দৈর্ঘ্যের সূত্র):
- স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪° কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল তার কার্যকরী দৈর্ঘ্যোর বর্গমূলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ T ∝ √L যেখানে T দোলনকাল এবং L কার্যকরী দৈর্ঘ্য

তৃতীয় সূত্র (ত্বরণের সূত্র):
- কার্যকরী দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে ৪° কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ঐ স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

• চতুর্থ সূত্র (ভরের সূত্র):
- একটি নির্দিষ্ট স্থানে যদি সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য স্থির থাকে এবং কৌণিক বিস্তার ৪° এর বেশি না হয়, তবে সরল দোলকের দোলনকাল দোলক পিন্ডের ভর, আকার এবং উপাদানের উপর নির্ভর করে না।
- বিভিন্ন ভর আয়তন বা উপাদানের ভরের জন্য দোলনকাল একই হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১৩৬.
কোনটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) নিশাদল
  3. গ) মোম
  4. ঘ) কর্পূর
ব্যাখ্যা
- মোম পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়।

গলন
:
- কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করার প্রক্রিয়াকে গলন বলা হয়।
যেমন- কঠিন মোমকে তাপ দেয়ার ফলে তা গলে তরল মোমে পরিণত হয়।
- কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ হলে এটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলতে আরম্ভ করে এবং গলন যতক্ষণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে।
- এরূপ যে স্থির তাপমাত্রায় কোনো বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে তাকে ঐ কঠিন পদার্থের গলনাংক বলে।
- কঠিন পদার্থের মধ্যে অপদ্রব্য বা ভেজাল মিশ্রিত থাকলে উহা অপেক্ষাকৃত নিম্ন তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে।

উর্ধ্বপাতন
:
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর।
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না, যাদের উদ্বায়ী পদার্থ বলে।
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
যেমন- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন ব্যক্তির ভর ৮০ কেজি, চাঁদের পৃষ্ঠে তার ভর কত হবে?
  1. ক) ৬ গুণ কমে যাবে
  2. খ) ৬ গুণ বেড়ে যাবে
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকবে
  4. ঘ) অর্ধেক কমে যাবে
ব্যাখ্যা
ভর: প্রত্যেক বস্তু পদার্থ দ্বারা গঠিত। ভর হলো কোনো বস্তুতে পদার্থের পরিমাণ। বস্তুর ধর্ম এর অবস্থান, আকৃতি  ও গতি পরিবর্তিনের জন্য পরিবর্তিত হয় না। যে পরমাণু ও অণু দিয়ে বস্তুটি গঠিত হয়, তার সংখ্যা ও সংযুক্তির উপর বস্তুটির ভর নির্ভর করে।

অতএব, চাঁদের পৃষ্ঠে ব্যক্তির ভরের কোনো পরিবর্তন হবে না
১৩৮.
একটি পরমাণুর প্রধান শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে- 
  1. n2
  2. 2n2
  3. 2n
  4. 3n2
ব্যাখ্যা

শক্তিস্তর: 
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- একটি পরমাণুর প্রধান শক্তি স্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2,(যেখানে, n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি)।
- এ সূত্রানুসারে, 
• প্রথম বা K শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2 
= ( 2 x 12) টি, 
= 2 টি। 

• দ্বিতীয় বা L শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2 
= ( 2 x 22) টি, 
= 8 টি। 

• তৃতীয় বা M শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2 
= ( 2 x 32) টি, 
= 18 টি। 

• চতুর্থ বা N শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2
= ( 2 x 42) টি,
= 32 টি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৯.
শহরের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সাধারণত সাদা ছাতা ও সাদা জামা ব্যবহার করে থাকে কারণ -
  1. সরকারি নির্দেশ
  2. দূর থেকে চোখে পড়বে বলে
  3. তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য
  4. দেখতে সুন্দর লাগে
ব্যাখ্যা
• তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য শহরের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সাধারণত সাদা ছাতা ও সাদা জামা ব্যবহার করে থাকে।

- সূর্যের সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমম্বয়ে গঠিত।
- সাদা বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা একেবারেই কম।
- গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় আরামদায়ক হয়, কেননা সাদা কাপড় সূর্যের আলোর সব বর্ণকেই প্রতিফলিত করে এবং সামান্য অংশ জামা কর্তৃক শোষিত হয়।
- সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম, এজন্যই গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক।
- কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, সেজন্য তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১৪০.
বাড়িতে ব্যবহৃত ফ্রিজে হিমায়করূপে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) নিয়ন
  2. খ) ফ্রেয়ন /অ্যামোনিয়া
  3. গ) স্পিরিট
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাড়িতে ব্যবহৃত ফ্রিজে হিমায়করূপে ফ্রেয়ন /অ্যামোনিয়া ব্যবহৃত হয়। 

- অ্যামোনিয়া হিম হিসাবে কাজ করে এবং জল শোষণকারী হিসাবে কাজ করে।

- একটি সরলীকৃত আকারে গ্যাস মডেলটিতে নিম্নলিখিত প্রযুক্তিগত মডিউল রয়েছে:
১. গ্যাস গরম করার মডিউল।
২. জেনারেটর (আরো সঠিকভাবে, একটি বয়লার)।
৩. ক্যাপাসিটর।
৪. শোষক। 
৫. ইভাপোরেটর।

- গ্যাস হিটার জেনারেটরের বিষয়বস্তু গরম করে। জেনারেটর মডিউলটি বাষ্পযুক্ত অ্যামোনিয়া তৈরি করতে এবং শোষক এলাকায় একটি দুর্বল অ্যামোনিয়া দ্রবণ সরবরাহ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

- কনডেন্সার মডিউল অ্যামোনিয়া বাষ্পকে ঘনীভূত তাপমাত্রায় ঠান্ডা করতে কাজ করে। এবং "শোষক" নামক একটি মডিউল অ্যামোনিয়া শোষকের কার্য সম্পাদন করে। গ্যাস রেফ্রিজারেটরের বাষ্পীভবন একটি ঠান্ডা জেনারেটর হিসাবে কাজ করে।

সূত্র: American Society of Heating Website [লিঙ্ক]
১৪১.
HCl + NaOH → NaCl + H2O -এই বিক্রিয়ায় NaCl কী ধরনের লবণ?
  1. অম্লীয়
  2. ক্ষারীয় 
  3. পূর্ণ সরল
  4. আংশিক লবণ
ব্যাখ্যা

- NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড) একটি পূর্ণ সরল (Neutral) লবণ কারণ এটি একটি শক্তিশালী অ্যাসিড (HCl) এবং একটি শক্তিশালী ক্ষার (NaOH) এর প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়। শক্তিশালী অ্যাসিড ও শক্তিশালী ক্ষার সম্পূর্ণরূপে একে অপরকে প্রশমিত করে। 

লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ।
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে। 
যেমন- 
• HCl + NaOH → NaCl + H2
• এসিড + ক্ষার → লবণ + পানি 

- এছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। এই লবণগুলোর মধ্যে কোনোটি অম্লীয়, আবার কোনোটি ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
১) পূর্ণ সরল লবণ: NaCl, KNO3, CaCO3 ইত্যাদি। 
২) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3 ইত্যাদি। 
৩) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪২.
ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ইরিডিয়াম আইসোটোপ
  2. কোবাল্ট আইসোটোপ
  3. ইউরেনিয়াম আইসোটোপ
  4. আয়োডিন আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি। 
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১৪৩.
প্লাস্টিক বোতলের মধ্যে যে PET লেখা থাকে, তার পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) PolyEthylene Tetrachloride
  2. খ) PolyEthylene Trichloride
  3. গ) PolyEthylene Terephthalate
  4. ঘ) PolyEthylene Tetraphenol
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিক বোতলের মধ্যে যে PET লেখা থাকে, তার পূর্ণরূপ - PolyEthylene Terephthalate.

Polyethylene terephthalate (PET or PETE) হচ্ছে একধরনের শক্ত সিন্থেটিক ফাইবার। এটি পলিমারের পলিয়েস্টার পরিবারের সদস্য।
- PET ইথিলিন গ্লাইকোল এবং টেরেফথালিক অ্যাসিডের পলিমারাইজেশন দ্বারা উত্পাদিত হয়।
- ইথিলিন গ্লাইকোল হল ইথিলিন থেকে প্রাপ্ত একটি বর্ণহীন তরল পদার্থ।
- টেরেফথালিক অ্যাসিড হল জাইলিন থেকে প্রাপ্ত একটি স্ফটিক কঠিন।
- রাসায়নিক অনুঘটকের প্রভাবে একসাথে উত্তপ্ত হলে, ইথিলিন গ্লাইকোল এবং টেরেফথালিক অ্যাসিড গলিত আকারে PET তৈরি করে।
- এটিকে সরাসরি ফাইবারে প্রক্রিয়াজাত করা যায় অথবা পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য শক্ত প্লাস্টিকে রূপান্তর করা যায়।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১৪৪.
শূন্য ঘরের চেয়ে লোক ভর্তি ঘরে শব্দ কম হয়, কারণ-
  1. শূন্য ঘর নীরব থাকে
  2. লোক ভর্তি ঘরে মানুষের সোরগোল হয়
  3. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ বেশি হয়
  4. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- যখন একটি ঘরে মানুষ বা আসবাব পত্র দিয়ে ভর্তি থাকে, তখন অনেক শব্দ সেগুলোর মাধ্যমে শোষিত হয়ে যায়। 
অর্থাৎ, লোকভর্তি হল ঘরে মানুষ বেশি থাকায় শব্দের শোষণ বেশি হয় তাই সেখানে শব্দের আওয়াজ ক্ষীণ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৫.
পঁচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী কোন গ্যাস?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ক্লোরিন
  3. গ) হাইড্রোজেন সালফাইড
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেন সালফাইড:
- এটি একটি রাসায়নিক যৌগ। এর রাসায়নিক সংকেত H2S.
- ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল উইলহেম শিলি হাইড্রোজেন সালফাইড আবিষ্কার করেন।
- এটি বর্ণহীন গ্যাস।
- এতে রয়েছে পচা ডিমের গন্ধ।
- সাধারণ প্রাকৃতিক বাতাসের থেকে এই গ্যাস একটু ভারি।
- জীবের জন্য এই গ্যাস বিষাক্ত।
১৪৬.
নিচের কোন পদার্থটি ঊর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. বেজয়িক এসিড
  2. আয়োডিন
  3. নিশাদল
  4. বেনজিন
ব্যাখ্যা
• বেনজিন ঊর্ধ্বপাতিত হয় না।
- কারণ এটি কঠিন নয়, বরং একটি উদ্বায়ী তরল, যা গরম করলে বাষ্পে পরিণত হয়।

• ঊর্ধ্বপাতন:

- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
যেমন -
• বেজয়িক এসিড,
• নিশাদল (NH4CI),
• কপূর (C10H16O),
• ন্যাপথলিন (C10H8),
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂),
• আয়োডিন (I2),
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AICI₃)।
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৭.
পরপর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ বা পরপর দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বকে কী বলা হয়?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  3. বিস্তার
  4. পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: 
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে। 
- তরঙ্গের উপর পরপর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার মধ্যবর্তী দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে গ্রীক বর্ণ λ (ল্যামডা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- পর পর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ বা পরপর দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বও একটি তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

দশা: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে। 

পর্যায়কাল: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। 
- পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত ƒ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
শব্দ সঞ্চালনের জন্য কোনটি অপরিহার্য? 
  1. মাধ্যম 
  2. আলো 
  3. উচ্চ তাপমাত্রা 
  4. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা পদার্থের কণাগুলোর কম্পনের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়। কোনো স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম (যেমন: কঠিন, তরল বা বায়বীয় পদার্থ) ছাড়া শব্দ চলাচল করতে পারে না। 

শব্দ সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টি করে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়। আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১৪৯.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. ওডোমিটার
  2. ট্যাকোমিটার
  3. অডিওমিটার
  4. ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে অডিওমিটার ব্যবহার করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৫০.
হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোন কণিকা নেই? 
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকা: 
- ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়। এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের। 
যেমন- 
স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫১.
ইউরিয়া যখন মাটিতে প্রয়োগ করা হয়, তখন কোন এনজাইমের মাধ্যমে NH4+ উৎপন্ন হয়? 
  1. প্রোটিয়েজ 
  2. লিপেজ
  3. অ্যামিলেজ 
  4. ইউরিয়েজ 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া (Urea): 
- ইউরিয়া মূল্যবান পদার্থ।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অ্যামোনিয়া গ্যাসের মিশ্রণকে উচ্চ চাপে এবং 130°-150°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে প্রথমে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট (NH2COONH4) উৎপন্ন হয়। 
- পরবর্তীতে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট ভেঙে ইউরিয়া (NH2-CO-NH2) প্রস্তুত হয়। 
• CO2 + 2NH3 → NH2COONH4
• NH2COONH4 → NH2-CO-NH2 + H2

- শিল্পক্ষেত্রে এবং কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়ার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে ইউরিয়া থেকে ম্যালামাইন পলিমার তৈরি করা হয়।
- কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়াকে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জমিতে ইউরিয়া সার দেওয়া হয় যাতে গাছ ইউরিয়া সার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে।
- উদ্ভিদ বায়ু থেকে সরাসরি N2 গ্রহণ করে না। মাটিতে ইউরিয়েজ (urease) এনজাইমের উপস্থিতিতে ইউরিয়া পানির সাথে বিক্রিয়া করে NH4+, OH- এবং CO2 তৈরি করে। উদ্ভিদ এই NH4+ শোষণ করে। 
• NH2-CO-NH2 + 3H2O → 2NH4+ + 2OH- + CO2

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫২.
পানীয় হিসেবে গ্রহণযোগ্য একমাত্র অ্যালকোহল কোনটি? 
  1. ইথানল
  2. মিথানল 
  3. প্রোপানল 
  4. বিউটানল 
ব্যাখ্যা

মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit) । 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাচাঁমালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানল একমাত্র অ্যালকোহল যা পানীয় হিসেবে পান করা যায়। 
- অধিক পরিমাণ ইথানল পান বিষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে বা শিল্পে ব্যবহৃত ইথানলকে মানুষের পানের অযোগ্য করার জন্য এতে বিষাক্ত মিথানল (৪%) মিশিয়ে দেয়া হয়। 
- মিথানল মিশ্রিত এ ধরনের রেকটিফাইড স্পিরিটকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। একে ডিনেচারড অ্যালকোহলও (Denatured alcohol) বলা হয়ে থাকে। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন: শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৩.
নন-রেডক্স বিক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ইলেকট্রন স্থানান্তর ঘটে
  2. শুধুমাত্র অক্সিডেশন ঘটে
  3. জারণ সংখ্যা পরিবর্তিত হয়
  4. জারণ সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

নন-রেডক্স বিক্রিয়া: 
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারণে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- প্রশমন বিক্রিয়া এবং অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৪.
নিচের কোন ধাতুটি সবচেয়ে কম সক্রিয়?
  1. গোল্ড
  2. লিথিয়াম
  3. পটাসিয়াম
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়।
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল।
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়।
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়।
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে।
- অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলা
১৫৫.
নিচের কোনটি প্রকৃতিতে প্রায় বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়?
  1. ক) পটাশিয়াম
  2. খ) সীসা
  3. গ) লোহা
  4. ঘ) প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা

প্লাটিনাম এবং সোনা দুইটি প্রায় অসক্রিয় ধাতু। এদের অবস্থান ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজের একেবারে নিচে। তাই পারতপক্ষে অন্য কোনো মৌলের সাথে এরা বিক্রিয়া করতে চায় না।
তাই প্রকৃতিতে এদের প্রায় বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৫৬.
প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাঙ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে-
  1. বেশি থাকে
  2. কম থাকে
  3. স্বাভাবিক থাকে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• স্ফুটনাঙ্ক:
- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রদানের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উত্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্যে তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়।
- প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।
- স্থির আয়তনে প্রেসার কুকারে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে পানির স্ফুটনাংক বেড়ে যায়।
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না।
- ফলে উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। এতে বাড়তি তাপ সৃষ্টি হয়ে রান্না হয় তাড়াতাড়ি।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৭.
এস্টারের অম্লীয় আর্দ্র বিশ্লেষণে কী উৎপন্ন হয়?
  1. অ্যামাইড
  2. অ্যালডিহাইড
  3. জৈব এসিড
  4. অ্যানহাইড্রাইড
ব্যাখ্যা
এস্টার (R-COOR): 
- উদ্ভিজ্জ্ব তৈল ও প্রাণিজ চর্বি হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের ট্রাইগ্লিসারাইড এস্টার। 
- এ এস্টারকে লঘু HCI এসিডসহ আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে উচ্চতর ফ্যাটি এসিড (জৈব এসিড) ও গ্লিসারিন উৎপন্ন হয়। 
- সাধারণ এস্টারও ব্যবহার করা যায়। 


ফরমিক এসিড বা মিথানোয়িক এসিড প্রস্তুতি: 
- প্রায় 200°C ও 8 atm চাপে CO ও NaOH বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ফরমেট উৎপন্ন করে। 
- এটিকে লঘু H2SO4 সহ অর্দ্র বিশ্লেষণের পর উৎপন্ন ফরমিক এসিডকে 101°C-এ পাতিত তরলরূপে সংগ্রহ করা হয়। 


অ্যাসিটিক এসিড প্রস্তুতি: 
- পেট্রোলিয়াম তাপ বিযোজনে উৎপন্ন অ্যাসিটিলিনকে 60°C এ 2%HgS04 ও 20% H2SO4 এর মিশ্রণে চালনা করলে ইথান্যাল উৎপন্ন হয়। 
- ইথান্যালকে ম্যাঙ্গানাস অ্যাসিটেট প্রভাবকের উপস্থিতিতে 60°C-এ বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত করে উৎপন্ন অ্যাসিটিক এসিডকে 118°C-এ পাতন করা হয়। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১৫৮.
এরোপ্লেন ও ডুবুরিদের কাছে যে নিষ্ক্রিয় গ্যাস প্রয়োজন তা হলো-
  1. হিলিয়াম
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
হিলিয়াম: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৯.
ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের জনক -
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) নিউটন
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
ব্যাখ্যা
নিউটন  হলেন ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের জনক। 

- ক্লাসিক্যাল মেকানিক্স ম্যাক্রোস্কোপিক শাখাগুলো নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা এবং গবেষণা করা হয়।
- মেক্রোস্কোপিক স্ট্যাটিক্সগুলি ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের অধীন আলোচনা করা হয়।
- ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের তিনটি শাখা রয়েছে,  যথা, নিউটনিয়ান মেকানিক্স, লেগ্রেঞ্জিয়ান মেকানিক্স এবং হ্যামিল্টোনিয়ান মেকানিক্স।
- উপরোক্ত এই তিনটি শাখা গাণিতিক পদ্ধতি এবং গতি গবেষণা অধ্যয়ন ব্যবহৃত পরিমাণে উপর ভিত্তি করে। 
- ১৬৮৭ সালে প্রকাশিত Philosophiae Naturalis Principia Mathematica বইতে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন তিনটি গতিসূত্র প্রকাশ করেন, যা পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি ঘটনা।

সূত্র: ২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৬০.
নিচের কোনটি পদার্থের অবস্থা বিবেচনা করা হয় না?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. প্লাজমা
  4. ভয়েড
ব্যাখ্যা

• পদার্থের অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা আছে যার নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়।
- আমাদের ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, নিয়ন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে।
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায় সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।
- বর্তমানে ফিশন পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়।
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশান পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

• ভয়েড:
- পদার্থের কণার মধ্যে ফাঁকা স্থান থাকাকে ভয়েড বা Void বলা হয়।
- প্রত্যেক পদার্থের কণার মধ্যে ছোট বা বড় পরিমাণে ভয়েড (শূন্যস্থান) থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬১.
ভেদন ক্ষমতার ক্ষেত্রে সঠিক ক্রম কোনটি?
  1. গামা < আলফা < বিটা
  2. আলফা < বিটা < গামা
  3. বিটা < গামা < আলফা
  4. গামা < বিটা < আলফা
ব্যাখ্যা
• ভেদন ক্ষমতার ক্ষেত্রে সঠিক ক্রম হলো আলফা < বিটা < গামা। 

• ভেদন ক্ষমতা:
- ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) বলতে বোঝায় কোনো বিকিরণ পদার্থের কতটুকু গভীরে বা কতদূর ভেদ করে যেতে পারে।
- এটি নির্ভর করে কণার শক্তি, ভর ও আধান-এর উপর।

• তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে তিন ধরনের রশ্মি নির্গত হয়।
- আলফা
- বিটা
- গামা 

• আলফা কণার ধর্ম:
- আলফা কণার ধনাত্মক আধানযুক্ত। এর আধান 3.2 × 10-19 C । 
- এ কণা চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- এ কণা তীব্র আয়নায়ন সৃষ্টি করতে পারে।
- এর ভর বেশি হওয়ায় ভেদনক্ষমতা কম।

• বিটা কণার ধর্ম:
- এ কণা ঋণাত্মক আধানযুক্ত। এর আধান 1.6 × 10 -19 C ।
- এ কণা চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এ কণা অত্যন্ত দ্রুত নির্গত হয়। এর দ্রুতি আলোর দ্রুতির শতকরা 98 ভাগ পর্যন্ত হতে পারে।
- এ কণা অতি উচ্চ দ্রুতিসম্পন্ন ইলেকট্রনের প্রবাহ। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা ও গামা রশ্মির মাঝামাঝি। 

• গামা রশ্মির ধর্ম:
- এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- এ রশ্মি তড়িৎ ও চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয় না।
- এর বেগ আলোর বেগের সমান অর্থাৎ ৪.3 × 108 ms-1
- আলফা ও বিটা কণার চেয়ে এ রশ্মির ভেদনক্ষমতা বেশি। এটি কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সীসার পাত ভেদ করে যেতে পারে।

• তিনটি বিকিরণের মধ্যে গামা রশ্মি সবচেয়ে বেশি ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। সবচেয়ে কম ভেদনক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মি হলো আলফা। বিটা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা আলফা ও গামা রশ্মির মাঝামাঝি। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১৬২.
কোন পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ে?
  1. প্লাস্টিক
  2. সিলিকন
  3. রূপা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৩.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মে কোন যৌগ আলোর সংস্পর্শে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় চিত্র তৈরি করে? 
  1. সিলভার নাইট্রেট
  2. সিলভার ব্রোমাইড
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

আলোক শক্তির রূপান্তর: 
আলোক শক্তি → রাসায়নিক শক্তি: 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে চিত্র তৈরি হয়। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মে সিলভার ব্রোমাইড (AgBr) বা সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) থাকে, যা আলোর সংস্পর্শে এলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে; ফলে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → তাপ শক্তি: 
- হারিকেনের চিমনির কাচ স্পর্শ করলে গরম লাগে, কারণ আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি: 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপন্ন হলে পরে তা গ্রহণকারী প্রাণীর দেহে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৬৪.
মহাবিশ্বের যে কোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে তাকে কী বলে?
  1. তড়িৎ বল
  2. চৌম্বক বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. ঘর্ষণ বল
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের যে কোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলা হয়।

• মহাকর্ষের ধারণা:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু অন্য সব বস্তুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- এই সার্বজনীন আকর্ষণ বলই মহাকর্ষ বল নামে পরিচিত।
- মহাকর্ষ বল সর্বদা আকর্ষণমূলক এবং সব বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল।

• মহাকর্ষ বলের বৈশিষ্ট্য:
- বলের মান বস্তুর ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
- বলের মান বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
- বলটি বস্তুর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে কার্যকর হয়।

• পৃথিবী ও মহাকর্ষের সম্পর্ক:
- পৃথিবী অন্যান্য বস্তুকে আকর্ষণ করে যে বল দ্বারা, সেটি অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বল হিসেবে পরিচিত—এটি মহাকর্ষ বলেরই একটি বিশেষ রূপ।

• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- তড়িৎ বল: বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল।
- চৌম্বক বল: চুম্বক বা চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সৃষ্টি হয়।
- ঘর্ষণ বল: সংস্পর্শে থাকা পৃষ্ঠের মধ্যে ক্রিয়াশীল।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

১৬৫.
মৌলের স্থায়ী কণিকা কোনটি?
  1. ক) পজিট্রন
  2. খ) নিউট্রিনো
  3. গ) মেসন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- যে সকল মূল কণিকা সকল মৌলের পরমাণুতেই উপস্থিত থাকে, তাকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
- স্থায়ী মূল কণিকা হলো ৩ টি, যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। 

- যে সকল মূল কণিকা কোনো কোনো মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে, তাকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। এদের সংখ্যা প্রায় ১০০।
- নিউট্রিনো, অ্যান্টিনিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন ইত্যাদি হলো অস্থায়ী মূল কণিকা। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১৬৬.
শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল কত? 
  1. ১.০ সেকেন্ড
  2. ০.০০১ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. অসীম
ব্যাখ্যা

• আমাদের মস্তিষ্কে কোনো শব্দের অনুভূতি শোনার পর তা প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হয়। একে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বা শব্দের ক্ষণস্থায়িত্ব বলা হয়।

• শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
অর্থাৎ, এই 0.1 সেকেন্ড সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৭.
এক আলােকবর্ষ হলাে -
  1. ক) 9.4 x 1012 km
  2. খ) 9.4 x 1015 km
  3. গ) 9.4 x 1018 km
  4. ঘ) 9.4 x 1021 km
ব্যাখ্যা

আলােক বর্ষ বা লাইট ইয়ার (ly ) : আলাে 3 x 10m/s বেগে এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলােক বর্ষ বলে। 1 ly = 9.46 x 1012 km (উৎসঃ  ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

১৬৮.
 নিচের কোনটির স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে কম?
  1. রাবার
  2. ইস্পাত
  3. হীরা
  4. পিতল
ব্যাখ্যা

প্রদত্ত অপশনসমূহের মধ্যে রাবার সবচেয়ে কম স্থিতিস্থাপক।

স্থিতিস্থাপকতা:
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে।
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে।
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক।

স্থিতিস্থাপক সীমা:
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক।
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়।
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন।
- যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম।

অপশনসমূহ:
- ইস্পাত: ইস্পাত রাবারের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক।
- হীরা: হীরা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন এবং অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক একটি পদার্থ।
- পিতল: পিতল একটি সংকর ধাতু যা ইস্পাত এবং হীরার চেয়ে কম স্থিতিস্থাপক হলেও রাবারের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

১৬৯.
রাদারফোর্ড, পিয়ের কুরি ও মেরি কুরির তেজস্ক্রিয়তার ওপর গবেষণার প্রধান অবদান কী ছিল? 
  1. রেডিওঅ্যাক্টিভ ধাতু আবিষ্কার
  2.  তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ
  3. নিউট্রনের গঠন ব্যাখ্যা 
  4. আলফা রশ্মির শক্তি পরিমাপ
ব্যাখ্যা

• মেরি কুরি ও পিয়ের কুরির তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক অবদান
- মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি ইউরেনিয়াম যৌগ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে, কিছু পদার্থ নিজে থেকেই শক্তিশালী বিকিরণ নির্গত করে, যা বাহ্যিক কোনো প্রভাব ছাড়াই ঘটে।তাঁরা গবেষণার মাধ্যমে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়াম (Ra) ও পোলোনিয়াম (Po) আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কার তেজস্ক্রিয়তার ধারণাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং আধুনিক পরমাণুবিজ্ঞানের ভিত্তি গঠনে সহায়তা করে।
- মেরি কুরি 1903 সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (বেকেরেল ও পিয়ের কুরির সঙ্গে) এবং 1911 সালে রসায়নে এককভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁরা প্রমাণ করেন যে তেজস্ক্রিয়তা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়, বরং এটি পরমাণুর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনজনিত প্রক্রিয়া।

- রাদারফোর্ড তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান রশ্মি শনাক্ত করেন 
(i) আলফা (α) রশ্মি: ধনাত্মক চার্জযুক্ত, ভারী ও কম অনুপ্রবেশক্ষম।
(ii) বিটা (β) রশ্মি: ঋণাত্মক চার্জযুক্ত, ইলেকট্রন সদৃশ কণা।
(iii) গামা (γ) রশ্মি: কোনো চার্জ নেই, তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, প্রবেশক্ষমতা সর্বাধিক।

উল্লেখ্য,
ক) রেডিওঅ্যাক্টিভ ধাতু আবিষ্কার - পিয়ের কুরি ও মেরি কুরির একটি অবদান কিন্তু,
খ) তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ - সর্বোত্তম উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।
মেরি ও পিয়ের কুরি রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু এটি তাদের প্রধান অবদান নয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

১৭০.
ZnCO3 কোনটি নির্দেশ করে?
  1. বেকিং সোডা
  2. ক্যালামিন
  3. মিল্ক অফ লাইম
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সংকেত: 
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH.
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭১.
কোনটি কলয়েডধর্মী না?”
  1. ক) পানি
  2. খ) স্টার্চ
  3. গ) সেলুলোজ
  4. ঘ) জিলেটিন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদদেহের কলয়েডধর্মী পদার্থের (স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন) পানি শোষণের প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে।
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৭২.
প্রোটন আবিস্কার করেন কে?
  1. ক) জে জে থমসন
  2. খ) রাদারফোর্ড
  3. গ) জেমস্‌ চ্যাডউইক
  4. ঘ) রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
পরমানুর মৌলিক কণিকা ৩ টি।
ইলেক্ট্রন - জে জে থমসন আবিস্কার করেন।
প্রোটন - রাদারফোর্ড আবিস্কার করেন।
নিউট্রন - জেমস্‌ চ্যাডউইক আবিস্কার করেন।

- রবার্ট হুক কোষ আবিস্কার করেন।

উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই।
১৭৩.
চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কী হয়?
  1. মার্বেল
  2. কোয়ার্টজাইট
  3. স্লেট
  4. নিস
ব্যাখ্যা

• রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।
যেমন: 
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১৭৪.
Which of the following inert gases is used in tube lights?
  1. ক) Helium
  2. খ) Neon
  3. গ) Argon
  4. ঘ) Radon
ব্যাখ্যা
পূর্বে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে নাইট্রোজেন এবং টিউবলাইটে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হতো।
তবে বর্তমানে উভয়ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসাবে আর্গন ব্যবহৃত হয়।

আর্গনের ব্যবহার:
১. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
২. রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৩. ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪. তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।।

উল্লেখ্য, প্রশ্নের অপশনে আর্গন না থাকলে নাইট্রোজেন উত্তর হবে।

উৎস: রসায়ন বই, SSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৫.
কোন পদার্থটি কঠিন অবস্থা থেকে তরলে রূপান্তরিত হলে আয়তনে হ্রাস পায়?
  1. মোম
  2. তামা
  3. বরফ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
(ক) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায় যেমন মোম, তামা ইত্যাদি।
চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় গলে।

(খ) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায় যেমন লোহা, বরফ, বিসমাথ ইত্যাদি। চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায়।
অর্থাৎ এরা কম তাপমাত্রায় গলে। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৬.
পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়-
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. হাইড্রোজেন
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক চুল্লি:
- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

উৎস:
১. রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. IAEA ওয়েবসাইট।
১৭৭.
সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে কোন ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহৃত হয়?
  1. Na2O
  2. ZnO
  3. Al2O3
  4. CuO
ব্যাখ্যা
- সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে ব্যবহৃত পার্টিকেল হচ্ছে জিঙ্ক অক্সাইড (ZnO)। 

ন্যানো পার্টিকেল বা ন্যানো কণা: 
- ন্যানো শব্দের সাধারণ অর্থ হলো 'খুবই ক্ষুদ্র'; যেমন, সংখ্যার একক মানের 1x 10-9 বোঝায় এবং মিটার এককে এর প্রতীক হলো 1nm = 10-9 m. 
- ন্যানোস্কেল সিস্টেম বলতে ক্ষুদ্রতম কণার প্রস্থ 1nm থেকে 50mm পরিসর হলে তাকে ন্যানো কণা বলে। 

ন্যানো কণার শ্রেণিবিভাগ: 
১. ন্যানো-লেয়ার (nanolayer): 
- ন্যানো স্কেল মতে One dimension বা একমাত্রিক বা রৈখিক বস্তুকণার পরিসর (range) 1nm - 100nm হলে, এদেরকে ন্যানো-লেয়ার (nanolayer) বলে। 

২. ন্যানো-টিউব: 
- ন্যানো স্কেল মতে, 1nm-100nm এর দ্বিমাত্রিক (বা two dimensions) ক্ষুদ্রকণার নাম হলো ন্যানো-টিউব বা ন্যানো-ওয়্যার (nanotube বা, nanowire)। 

৩. ন্যানো পার্টিকেল: 
- ন্যানো স্কেল মতে, 1nm-100nm এর ত্রিমাত্রিক ক্ষুদ্রকণাকে ন্যানো পার্টিকেল বলে। 

- পদার্থের স্বাভাবিক অবস্থায় বস্তুর স্থূলতা বা পরিমাণ ভৌত ধর্মকে প্রভাবিত করে না; কিন্তু ন্যানো পার্টিকেলের আকার ছোট বা বড় হলে এদের ভৌত ধর্মসমূহে বিশেষত অপটিকেল (optical), চুম্বকীয় (magnetic), বৈদ্যুতিক (electrical), যান্ত্রিক (mechanical) ইত্যাদি ধর্মে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়। 
- এর মূলে রয়েছে ন্যানো কণার তলের ক্ষেত্রফল (surface area) পদার্থের স্বাভাবিক স্থল অবস্থা থেকে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। 
যেমন- 
(a) সাধারণ অবস্থায় সোনার বর্ণ হলো সোনালী হলুদ এবং সিলিকন হলো ধূসর বর্ণের। কিন্তু ন্যানো আকারে সোনার ও সিলিকনের বর্ণ হলো লাল। 
(b) সাধারণ অবস্থায় স্বর্ণের গলনাঙ্ক হলো 1064°C; কিন্তু 2.5 nm আকারের স্বর্ণের গলনাঙ্ক হয় প্রায় 300°C. 
(c) ফটোভোল্টিক সেলে (Photovoltic cell) সৌর রশ্মির শোষণের পরিমাণ ঐ সেলের ভেতরের পদার্থের আকারের ওপর নির্ভর করে। এতে সাধারণ অবস্থার পদার্থ যে পরিমাণ সৌর রশ্মি শোষণ করে, ন্যানো কণা যত ছোট হয়। ততো বেশি পরিমাণে সৌর রশ্মি শোষণ করতে পারে। 
(d) আবার ZnO স্বাভাবিক অবস্থায় UV রশ্মি যে পরিমাণ প্রতিহত করে এর চেয়ে ন্যানো কণা অবস্থায় ZnO অনেক বেশি UV রশ্মি প্রতিহত করে। এজন্য ZnO ন্যানো কণা অবস্থায় 'Sun-screen lotion' তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
(e) সাধারণত অদ্রবণীয় কঠিন বস্তুর গুঁড়া তরল পদার্থে মিশ্রিত করলে ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে ঐ কঠিন বস্তুর গুঁড়া তরলে ভাসবে অথবা তলায় পড়ে জমা হবে। কিন্তু ন্যানো স্কেলের সূক্ষ্ম গুঁড়া বিস্তারণ বল, আয়ন ডাইপোল সম্পর্ক মতে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সাসপেনশন অবস্থায় থাকে।
(f) ন্যানো কণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌতধর্ম হলো চুম্বকীয় ধর্ম ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ধর্ম। যেমন ফেরো-ইলেকট্রিক কঠিন পদার্থ 10 nm এর ছোট আকারে থাকলে কক্ষ তাপমাত্রার তাপীয় শক্তি ব্যবহার করে সুপার প্যারা ম্যাগনেটিজম ধর্ম প্রকাশ করে। তখন এসব ন্যানো পার্টিকেল মেমোরি স্টোরেজ (memory storage)-এর অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই সব সময় এরূপ ধর্ম ন্যানো পার্টিকেলে সুবিধাজনক বা কাম্য নয়। অনেক ন্যানো কণা বিশেষত গ্রাফিন ও কার্বন ন্যানো টিউব সাধারণ গ্রাফাইটের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী হয়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
১৭৮.
কোন মৌলিক পদার্থের পারমাণবিক সংখ্যা ২৬?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) আয়রন
ব্যাখ্যা

ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা 17
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 19
ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 20
আয়রনের পারমাণবিক সংখ্যা 26

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

১৭৯.
কোন পদ্ধতিতে গ্যাস পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বাইরে বের হয়ে যায়? 
  1. পাতন
  2. ব্যাপন
  3. নিঃসরণ
  4. ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম। আর যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮০.
যদি একটি তামার তারের ব্যাস দ্বিগুণ করা হয় তবে এর কারেন্ট বহন করার ক্ষমতা -
  1. ক) চতুর্গুণ বৃদ্ধি পায়
  2. খ) দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়
  3. গ) অর্ধেক হ্রাস পায়
  4. ঘ) এক-চতুর্থাংশ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
একটি তামার তারের ব্যাস দ্বিগুণ করা হলে এর রোধ এক-চতুর্থাংশ হয় এবং এর কারেন্ট বহন করার ক্ষমতা চারগুণ হয়।
১৮১.
কোন ধরনের পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা ধাতব পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি থাকে?
  1. রাবার
  2. কাচ
  3. রূপা
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা

◉ অর্ধপরিবাহী (Semiconductors) যেমন সিলিকন, জার্মেনিয়াম—এদের পরিবাহিতা পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি।

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে (যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি) যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮২.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্দেশ করে?
    ব্যাখ্যা
    তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
    ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় মৌল। 
    অপশনের গ) তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্দেশ করে।

    সূত্র - রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
    ১৮৩.
    Infrasound frequency range -
    1. ক) < 20 Hz
    2. খ) > 20 Hz
    3. গ) > 200 Hz
    4. ঘ) < 200 Hz
    ব্যাখ্যা
    - Spectrum are very low-frequency sounds (below 20 Hz), known as infrasound.
    - Elephants use infrasound for communication, making sounds too low for humans to hear.
    - Because low-frequency sounds travel farther than high-frequency ones, infrasound is ideal for communicating over long distances.

    Source: www.nps.gov
    ১৮৪.
    নিচের কোনটি সবচেয়ে ছোট মান নির্দেশ করে? 
    1. পিকো
    2. ফেমটো
    3. ন্যানো
    4. মাইক্রো
    ব্যাখ্যা
    - ফেমটো = 10−15 যা সবচেয়ে ছোট মান নির্দেশ করে, কারণ এর সূচক সবচেয়ে বড় ঋণাত্মক (−15)। 

    উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
    - বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
    - কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু SI উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
    - এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারা যায়। 
    - কিছু উপসর্গ নিচের টেবিলে দেখানো হয়েছে- 


    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৮৫.
    পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতি হয়-
    1. সান্দ্রতা
    2. স্থিতিস্থাপকতা
    3. প্লবতা
    4. পৃষ্ঠটান
    ব্যাখ্যা
    • তলটান বা পৃষ্ঠটান:
    - তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।
    - পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘর্টনা ঘটে তা হলো:
    ১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
    ২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা।
    ৩. সুঁচ পানিতে ভাসা।
    ৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া।

    • পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতির হয় পৃষ্ঠটানের কারণে।
    - পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়।
    - মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৮৬.
    গ্যালিলিওর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর বেগ (v) ও সময় (t) এর সম্পর্ক কী?
    1. বেগ সময়ের সমানুপাতিক
    2. বেগ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক
    3. বেগ সমান থাকে সব সময়
    4. বেগ দূরত্বের সমানুপাতিক
    ব্যাখ্যা

    স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক।

    • পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ:
    - ষোড়শ শতাব্দীতে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র প্রদান করেন।

    ১. প্রথম সূত্র:
    - স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা ধাঁধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।
    - অর্থাৎ বায়ু শূন্য স্থানে একটি পালক ও একটি পাথর একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে দুটি বস্তুই একই সময়ে একই পথ অতিক্রম করে মাটিতে গড়বে।

    ২. দ্বিতীয় সূত্র:
    - স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
    - এই ক্ষেত্রে বেগ v ও সময় t হলে, v ∝ t ।

      ৩. তৃতীয় সুত্র:
    - স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব, ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
    - এই ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত দূরত্ব h ও সময় t হলে, h ∝ t2

    উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১৮৭.
    ভিনেগার অন্য কী নামে পরিচিত?
    1. ম্যালিক এসিড
    2. অ্যাসিটিক এসিড
    3. ল্যাকটিক এসিড
    4. সাইট্রিক এসিড
    ব্যাখ্যা
    ভিনেগার: 
    - প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
    ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
    - এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
    - এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
    - খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
    - তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
    - তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

    ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
    - মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
    - যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
    - ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
    - পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
    - দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

    উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৮৮.
    মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে বলা হয় -
    1. অণু
    2. পরমাণু
    3. প্রোটন
    4. ইলেকট্রন
    ব্যাখ্যা
    - মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

    পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
    ১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
    ২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
    যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
    ৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
    ৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

    অন্যদিকে, 
    - দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

    উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
    ১৮৯.
    কোনো যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে কতটি অণুকে বুঝায়?
    1. 6.023×10 - 17
    2. 6.023×1017
    3. 6.023×10 - 23
    4. 6.023×1023
    ব্যাখ্যা
    অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা:  
    - রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
    - কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
    - পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
    - অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার মান 6.023×1023। 
    - কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023। 
    - কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
    - আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

    উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৯০.
    ইউরোনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা -
    1. ৯২
    2. ৮৯
    3. ৯৮
    4. ৯০
    ব্যাখ্যা
    পারমাণবিক সংখ্যা:
    - কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়।
    - প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
    যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11।
    তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17
    - মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
    - রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

    অন্যদিকে, 
    - ইউরোনিয়ামের (U) পারমাণবিক সংখ্যা  ৯২। 
    - অ্যাক্টিনিয়ামের (Ac) পারমাণবিক সংখ্যা  ৮৯। 
    - ক্যালিফোর্নিয়ামের (Cf) পারমাণবিক সংখ্যা  ৯৮।  
    - থোরিয়ামের (Th) পারমাণবিক সংখ্যা ৯০।

    উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
    ১৯১.
    নিচের কোনটি উৎকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা?
    1. বিটুমিনাস 
    2. পিট 
    3. অ্যানথ্রাসাইট 
    4. লিগনাইট 
    ব্যাখ্যা

    কয়লা (Coal): 
    - কোনো এক যুগে ভূপৃষ্ঠস্থ বিশেষ এক ধরনের গাছপালা ভূগর্ভে প্রোথিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ তাপ ও উপরের শিলাস্তরের চাপের ফলে তা রূপান্তরিত হয়ে এক ধরনের শিলাস্তরে পরিণত হয় তাকে কয়লা বলে। 
    - কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
    - কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
    - কয়লা কার্বনের সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
    - কার্বনের পরিমাণ বেশি হলে তাপ প্রদানের ক্ষমতাও অধিক হয়।
    সুতরাং, তাপ প্রদানের ক্ষমতা দ্বারাই কয়লার গুণাগুণ বিচার করা হয়।
    - গুণাগুণের পার্থক্য অনুযায়ী কয়লাকে প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
    যথা- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পিট।
    যথা - 
    ১। অ্যানথ্রাসাইট: 
    - অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
    - অ্যানথ্রাসাইট হলো উৎকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা। 

    ২। বিটুমিনাস: 
    - বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

    ৩। লিগনাইট: 
    - লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

    ৪। পিট:
    - পিট হচ্ছে এক ধরণের নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা। 

    উল্লেখ্য, 
    - নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই অনুসারে, কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
    যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস, লিগনাইট। 

    উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজজেম হোসেন চৌধুরী)।

    ১৯২.
    জন্মদিনে কেক ফলানোর জন্য শেহতাজ একটি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে। উল্লিখিত রাসায়নিক পদার্থটি কি?
    1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
    2. সোডিয়াম গ্লুটামেট
    3. সোডিয়াম কার্বনেট
    4. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
    ব্যাখ্যা
    বেকিং সোডা (Baking Soda) :
    - বেকিং সোডা (NaHCO3) বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
    - বেকিং সোডা ব্যবহার করে খাবার তৈরির বেলায় খাবারের উপাদান হিসেবে ভিনেগার বা লেবুর রস বা টক দই অথবা অন্য এমন কোন উপাদান থাকে যা অম্লধর্মী।
    - এক্ষেত্রে NaHCO3 খাবারের অম্ল উপাদানের (যেমন- ভিনেগার) সাথে বিক্রিয়া করে H2CO3 এসিড উৎপন্ন করে। H2CO3 সহজেই বিয়োজিত হয় এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে যা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে। 

    উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৯৩.
    নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
    1. ক) বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
    2. খ) বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
    3. গ) বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
    4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
    ব্যাখ্যা
    বায়ু এক ধরণের মিশ্র পদার্থ যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্পসহ অন্যান্য পদার্থ থাকে। বায়ু এমন একটি মিশ্র পদার্থ যেখানে মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরণের পদার্থ রয়েছে।
     
    যে সকল পদার্থ একটি মাত্র উপাদান দিয়ে তৈরি, তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বলে।
    যেমন- লোহা, তামা, সোনা, রূপা হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ইত্যাদি।

    যে সব পদার্থ একের অধিক ভিন্নধর্মী উপাদান দিয়ে তৈরি, তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলা হয়।
    যেমন- পানি, লবণ, চিনি, ইস্পাত ইত্যাদি।


    সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি। 
    ১৯৪.
    কোনটি অধাতুর বৈশিষ্ট নয়? 
    1. ক) তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়
    2. খ) বিজারক 
    3. গ) আঘাত করলে শব্দ হয় না
    4. ঘ) ঘষলে চকচক করে না 
    ব্যাখ্যা
    অধাতুর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:  

    - তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়।
    - আঘাত করলে শব্দ হয় না।
    - অধাতু ঘাত সহনশীল ও নমনীয় নয়।
    - ঘষলে চকচক করে না।
    - অধাতু সমূহের দ্যুতি নেই।
    - ওজনে হালকা হয়।
    - সহজে জোড়া লাগানো যায় না।
    - পিটিয়ে পাত করা যায় না।
    - কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতুগুলো জারক পদার্থ।
    - অপেক্ষাকৃত নিম্ন গলনাংক ও স্ফুটনাংক বিশিষ্ট।
    - অধাতুসমূহ এসিডের হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করে লবণ উৎপন্ন করে না।
    - চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ ডায়াম্যাগনেটিক প্রকৃতির।
    ১৯৫.
    একজন শিশুর স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব-
    1. ক) ৫ সেমি
    2. খ) ১৫ সেমি
    3. গ) ২৫ সেমি
    4. ঘ) ৩৫ সেমি
    5. ঙ) কোনটিই নয়
    ব্যাখ্যা
    একজন শিশুর স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব৫ সেন্টিমিটার এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের এই দূরত্ব ২৫ সেন্টি মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
    উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
    ১৯৬.
    জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ হচ্ছে - 
    1. বায়োগ্যাস
    2. জিওথার্মাল
    3. পেট্রোলিয়াম
    4. জলবিদ্যুৎ
    ব্যাখ্যা

    • জীবাশ্ম জ্বালানি হলো সেই ধরনের জ্বালানি যা প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীতে সৃষ্টি হওয়া মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশিষ্ট থেকে তৈরি হয়। পেট্রোলিয়াম, কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এর মধ্যে প্রধান উদাহরণ। এই জ্বালানি নির্দিষ্ট সময়ে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং পুনঃপ্রয়োগযোগ্য নয়।
    - প্রশ্নে উল্লিখিত অপশন গুলির মধ্যে, পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানির একটি উদাহরণ। বায়োগ্যাস এবং জিওথার্মাল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আর জলবিদ্যুৎও পুনঃনবীকরণযোগ্য উৎস থেকে উৎপন্ন হয়, তাই সেগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ নয়।

    • জীবাশ্ম জ্বালানি:
    - কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 

    • জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
    - কয়লা,
    - খনিজ তেল,
    - প্রাকৃতিক গ্যাস।

    • পেট্রোলিয়াম:
    - পেট্রোলিয়াম এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি।
    - তেলের প্রতিশব্দ হচ্ছে পেট্রোলিয়াম।
    - ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত পেট্রো + অলিয়াম। পেট্রো শব্দের অর্থ রক বা শিলা এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ অয়েল বা তৈল। অর্থাৎ পাথরের বা শিলার স্তরে সঞ্চিত যে তেল তাহাকে পেট্রোলিয়াম বলে।
    - আজ থেকে প্রায় পাঁচশত কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলার স্তরে গাছ-পালা ও প্রাণিদেহের দেহাবশেষ জৈব বিধ্বংসী পাতন প্রক্রিয়ার ফলে খনিজ তেলের সৃষ্টি হয়।
    - ইহা কার্বন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ। তাই পেট্রোলিয়াম হচ্ছে তরল জীবাশ্ম জ্বালানি।

    • অন্যান্য অপশন আলোচনা:
    - জল বিদ্যুৎ ও জিও থার্মাল, বায়োগ্যাস নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

    উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১৯৭.
    শিখা পরীক্ষার ইটের মত লাল বর্ণ ধারণ করে কোনটি? 
    1. ক) সোডিয়াম 
    2. খ) পটাসিয়াম 
    3. গ) তামা  
    4. ঘ) ক্যালসিয়াম 
    ব্যাখ্যা
    শিখা পরীক্ষা হল রসায়নের পরীক্ষায় ব্যবহার করা একটি বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি, এটি বিভিন্ন উপাদানের সনাক্তকরণের পরীক্ষা। শিক্ষা পরীক্ষার ধাতুসমূহ নিন্মোক্ত বর্ন ধারণ করে। 

    ধাতু  --  শিখা পরীক্ষায় বর্ণ 
    সোডিয়াম - সোনালি হলুদ 
    পটাশিয়াম - বেগুনী 
    তামা - গাঢ সবুজ 
    ক্যালসিয়াম - লাল বর্ণ (ইটের ন্যায়)
    ১৯৮.
    নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম পরমাণুকে আঘাত করা হয়-
    1. ইলেক্ট্রন দ্বারা
    2. নিউট্রন দ্বারা
    3. পজিট্রন দ্বারা
    4. প্রোটন দ্বারা
    ব্যাখ্যা


    সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৯৯.
    আলফা কণিকার চার্জ কোনটি? 
    1. শূন্য 
    2. ধনাত্মক 
    3. ঋণাত্মক 
    4. পরিবর্তনশীল 
    ব্যাখ্যা

    আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
    ১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
    ২। আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে, এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব
    ৩। আলফা কণিকার শক্তি 1 MeV বা 1.6×10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44×10-12 J পর্যন্ত হয়। 
    ৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
    ৫। আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
    ৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
    ৭। আলফা কণিকা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়, এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
    ৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
    ৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ২০০.
    লাউড স্পিকার কোন শক্তিকে রূপান্তর করে?
    1. যান্ত্রিক → তড়িৎ
    2. শব্দ → যান্ত্রিক
    3. তড়িৎ → যান্ত্রিক 
    4. তড়িৎ → শব্দ
    ব্যাখ্যা

    শক্তির রূপান্তর: 
    - মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
    - বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
    - লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
    - জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
    - মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

    উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।