বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৬৪ · ১০০ / ৬,৪০৯

.
মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজ কোনটি?
  1. তথ্য স্থায়ীভাবে জমা রাখা
  2. তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা
  3. বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করা
  4. তথ্য প্রদর্শন করা
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোপ্রসেসর: 
- সমন্বিত (Integrated Circuit) বর্তনী আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে পার্সোনাল কম্পিউটারগুলোতে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং গাণিতিক/যুক্তি ইউনিটগুলো একই সঙ্গে মাইক্রোপ্রসেসরে থাকে। ফলে আধুনিক কম্পিউটারে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বলতে মাইক্রোপ্রসেসরকেই বুঝায়। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যের উপর কম্পিউটারের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজগুলো হলো- 
১. ইনপুট ও আউটপুট অংশগুলোর সংগে কাজের সমন্বয় সাধন করা। 
২. গাণিতিক/যুক্তির কাজ করা। 
৩. কম্পিউটারের স্মৃতিতে সঞ্চিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা।  
৪. স্মৃতি ও গাণিতিক/যুক্তি অংশের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ এবং অন্যান্য অংশের সাথে তথ্য বিনিময়ের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। 
- এই সমস্ত কাজ সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরে প্রয়োজনীয় বর্তনী থাকে। 
- উপরে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরের সংগঠনকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। নিয়ন্ত্রণ অংশ, 
২। গাণিতিক/যুক্তি অংশ এবং   
৩। স্মৃতি । 


উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন আলোক তরঙ্গ মানব চোখে দেখতে পাওয়া যায়?
  1. ১০ থেকে ৪০০ নেমি (nm)
  2. ৪০০ থেকে ৭০০ নেমি (nm)
  3. ১০০ মাইক্রোমিটার (um) থেকে ১ মি(m)
  4. ১ মি(m) - এর ঊধবে
ব্যাখ্যা
- আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- সব ধরনের আলো আমরা দেখতে পাই না। 
- যে আলোর তরঙ্গ (Light spectrum) দৈর্ঘ্য ৪০০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত সেই আলো আমরা দেখতে পাই। 
- ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এর আলো বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকলে রং পরিবর্তন হতে থাকে।
- আই আলোই হচ্ছে দৃশ্যমান আলো। 
- আলোক তরঙ্গ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।

বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য (একক ন্যানোমিটারে nm = 10-9m) নিচে দেয়া হলো- 
• মহাজাগতিক রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: <0.00005nm  
• গামা রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 0.0005 - 0.15 nm
• রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 0.01 – 10 nm
• অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: <380 nm
• দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 400 - 700nm 
• অবলোহিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >700nm 
• রেডিও ও টেলিভিশন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >2.2 x 105 nm


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু?
  1. ক) বোসন
  2. খ) কৃষ্ণবিবর
  3. গ) কোয়াসার
  4. ঘ) নিউট্রন স্টার
ব্যাখ্যা
কোয়াসার (Quasar):
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি।
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো।

- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে।
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে।
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু।
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রাকৃতিক গ্যাসের কত শতাংশ ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১৫%
  2. খ) ২১%
  3. গ) ২৫%
  4. ঘ) ৩৩%
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল তৈরিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের  ২১ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। 
শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ২২%। 
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫১%। 
বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১১%। 
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১%। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই। 
.
সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ফটোভোল্টায়িক কোষ
  2. গ্যাস টারবাইন
  3. কয়লা জ্বালানি চুল্লি
  4. নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর
ব্যাখ্যা

• ফটোভোল্টায়িক কোষ:
- সূর্যালোককে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে।
- সোলার প্যানেলে অনেকগুলো কোষ সিরিজ বা প্যারালাল সংযোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
- সূর্যের আলোর কণা (ফোটন) সেমিকন্ডাক্টর উপাদানে পড়লে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

• গ্যাস টারবাইন:
- এটি গ্যাস বা তেলের জ্বালানি পুড়িয়ে ঘূর্ণনশক্তি তৈরি করে।
- সাধারণত বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত।

• কয়লা জ্বালানি চুল্লি:
- এটি কয়লা পুড়িয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সৌরশক্তি নয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে ট্রানজিস্টর কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
সংজ্ঞাঃ দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।

সুতরাং একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত এবং এর তিনটি প্রান্ত রয়েছে।
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকারঃ
(১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং
(২) n-p-n ট্রানজিস্টর।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বিটা রশ্মির বিকিরণ মূলত কোনটি? 
  1. মেসনের প্রবাহ
  2. নিউট্রনের প্রবাহ
  3. ইলেকট্রনের প্রবাহ
  4. প্রোটনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• বিটা রশ্মি মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। যখন কোনো অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে, তখন এটি অতিরিক্ত শক্তি মুক্তি পায়। এই শক্তি মুক্তির সময় নিউক্লিয়াস ইলেকট্রন নির্গত করে, যাকে আমরা বিটা কণা বা বিটা রশ্মি বলি। বিটা কণা একটি ক্ষুদ্র, নেতিবাচক চার্জযুক্ত কণা, যা দ্রুত গতিতে নির্গত হয়। তাই বিটা রশ্মির সাথে ইলেকট্রনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এবং এটি পারমাণবিক বিকিরণের এক গুরুত্বপূর্ণ ধরন।

- সঠিক উত্তর: গ) ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
একটি আয়তাকার পরিবাহকের মধ্য দিয়ে X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে এবং Y-অক্ষ বরাবর একটি সমসত্ত্ব চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হলো। যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হয়, তবে আধান বাহক কেমন হবে?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

• হল প্রভাবের ক্ষেত্রে উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হলে হল বিভব ধনাত্মক হয় এবং আধান বাহক ধনাত্মক।

• হল প্রভাব (Hall Effect):
- কোনো পরিবাহকের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত অবস্থায় প্রবাহের লম্বভাবে চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে পরিবাহকের দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- এই বিভব পার্থক্যকে হল বিভব (Hall Voltage) এবং ঘটনাটিকে হল প্রভাব বলা হয়।

• অক্ষ ভিত্তিক ব্যাখ্যা:
- যদি X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- Y-অক্ষ বরাবর চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়।
- তবে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হয়।

• হল প্রভাবের কারণ:
- চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে প্রবাহিত আধান কণার উপর চৌম্বক বল ক্রিয়া করে।
- আধান কণাগুলি এক পার্শ্বে সঞ্চিত হয়।
- বিপরীত পার্শ্বে সমপরিমাণ বিপরীত আধান সঞ্চিত হয়।
- ফলে দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

• আধানের প্রকৃতি নির্ণয়:
- যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব (Vb) নিচের পৃষ্ঠের বিভব (Va)-এর চেয়ে বেশি হয়, অর্থাৎ Vb > Va হয়।
- তবে VH = Vb – Va ধনাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ধনাত্মক।
- যদি Va > Vb হয়।
- তবে VH ঋণাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ঋণাত্মক।

• অর্ধপরিবাহকের ক্ষেত্রে হল প্রভাব:
- হল বিভব ধনাত্মক হলে আধান বাহক ধনাত্মক আধান (হোল)।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি P-টাইপ।
- হল বিভব ঋণাত্মক হলে আধান বাহক ইলেকট্রন।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি N-টাইপ।

• হল বিভবের রাশিমালা:
- হল বিভব চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতার উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব তড়িৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব আধান বাহকের ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল।

• হল প্রভাবের প্রয়োগ:
- আধান বাহকের প্রকৃতি নির্ণয়।
- আধান বাহকের ঘনত্ব নির্ণয়।
- অর্ধপরিবাহকের ধরন নির্ণয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য
  2. খ) মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চল থেকে কম
  3. গ) 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান: 
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms-2, 
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2 
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81ms-2 
-  সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত g-এর মান 9.75 ms-2
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- এই মান হচ্ছে 9.80665 ms-2 । 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
Which of the following is not a fossil fuel?
  1. Coal
  2. Petroleum
  3. Firewood
  4. Natural gas
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি:
- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা প্রচুর পরিমাণ তাপশক্তি উৎপাদিত হয় তাকে জ্বালানি বলে।
- তাপশক্তির উৎস হলো জ্বালানি।
- জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।
- মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে উচ্চ চাপ ও উচ্চ তাপে পরিবর্তিত হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়।
- জীবাশ্ম জ্বালানিসমূহ অনবায়নযোগ্য।
- অর্থাৎ এসব জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এবং এদের মজুদ সীমিত।

⇒ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
- খনিজ তেল
- কয়লা
- প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ফায়ারওড জীবাশ্ম জ্বালানী নয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
নিচের কোনটি পরিবেশ বান্ধব শক্তির উৎস?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. ভূ-তাপীয় শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
ব্যাখ্যা

◉ ভূ-তাপীয় শক্তি: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ থেকে উৎপন্ন শক্তি। এটি অবিরামভাবে পাওয়া যায় এবং পরিবেশের ক্ষতি করে না। তাই এটি একটি পরিবেশ বান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

​শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
সূর্য রশ্মি থেকে বিকিরণের প্রধান উৎস হিসেবে কোন রশ্মি বের হয়? 
  1. এক্স রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. অতিবেগুনি রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সকল বিকিরণ গামা রশ্মি বা γ-ray। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হওয়ায় কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই শক্তিও বেশি। 
- দৃশ্যমান আলোর চেয়ে এর শক্তি পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি। 
- তেজষ্ক্রিয় মৌলসমূহ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তার বেশির ভাগই গামা রশ্মি। 
- প্রাণী দেহের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

এক্স রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে 10-8 m পর্যন্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গসমূহকে বলা হয় X-ray বা এক্স রশ্মি। 
- বিজ্ঞানী উলহেলম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তার নাম অনুসারে এই রশ্মিকে রঞ্জন রশ্মিও বলা হয়। 
- গামা রশ্মি থেকে এর কম্পাঙ্ক কম বলে এর শক্তিও অপেক্ষাকৃত কম। 
- এই রশ্মি মানুষের দেহের নরম অংশের মধ্য দিয়ে ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু হাড় বা টিউমার জাতীয় শক্ত টিস্যুর মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। তাই এই রশ্মির সাহায্যে ফটো তুলে দেহের ভেতরের হাড় এবং টিউমার সনাক্ত করা হয়। 

অতিবেগুনি রশ্মি: 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই রশ্মি বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- এই রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
তাপ পরিমাপের যন্ত্র কোনটি?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. ক্যালরিমিটার
  3. থার্মোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
ব্যাখ্যা

- ক্যালরিমিটার বস্তুর গ্রহণ করা বা বর্জন করা তাপের পরিমাণ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত ক্যালরিমিতির মূলনীতির (গৃহীত তাপ = বর্জিত তাপ) ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। 

তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপের এস.আই (S.I) একক জুল। 
- তাপের মেট্রিক পদ্ধতির একটি একক হচ্ছে ক্যালরি যা এখনো পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- হাইগ্রোমিটার: এটি বাতাসের আর্দ্রতা (বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ) পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- থার্মোমিটার: এটি বস্তুর তাপমাত্রা (বস্তু কতটা গরম বা ঠান্ডা) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়, তাপের মোট পরিমাণ নয়।
- ব্যারোমিটার: এটি বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
H+ সংকেত দ্বারা কোন কণিকা বুঝায়? 
  1. নিউট্রন 
  2. ইলেকট্রন 
  3. পজিট্রন 
  4. প্রোটন 
ব্যাখ্যা

- H+ সংকেত দ্বারা মৌলিক কণিকা প্রোটনকে বুঝায়, এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 

পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 

- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 

প্রোটন (Proton): 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের সংকেত H+ । 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর 1.67×10-24 g ও আধান 1.60× 10-19 C । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে
  2. জারক পদার্থ ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
  3. জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া
  4. উপরের সবকয়টি সঠিক
ব্যাখ্যা
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:

- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

- জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া: Na → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ);
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া: Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ); 

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na + Cl  → NaCl

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই। 
১৬.
স্কেলার রাশির উদাহরণ কোনটি? 
  1. সরণ 
  2. তাপমাত্রা 
  3. বেগ 
  4. ওজন 
ব্যাখ্যা

ভৌত রাশি: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান-
  1. তামা
  2. দস্তা
  3. ক্রোমিয়াম
  4. এলুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান হলো ক্রোমিয়াম।

• সংকর ধাতু:
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে।
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়।
যেমন-
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)।


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮.
Among these colours, which one has the highest heat absorption capacity?
  1. Yellow
  2. Green
  3. Blue
  4. Red
  5. Black
ব্যাখ্যা
• তাপ শোষণ ক্ষমতা:
- কালো রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি।  
- চায়ের কাপ কালো রঙের হলে তা থেকে অধিক পরিমাণ তাপ শোষণ করবে এবং এতে চা তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হবে। 
- সাদা রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সেজন্য গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক, কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। 
- অন্যদিকে, কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
কোনটি চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. ফেনল
  2. ক্লোরোফরম
  3. বেনজিন
  4. হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা
ইথানল থেকে ক্লোরোফরম প্রস্তুতির মূলনীতি: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 
-ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে অ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়। 


ক্লোরোফরম  ব্যবহার: 
১। চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 
২। পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৩। ফাংগাসের বংশবৃদ্ধি রোধ, জৈবযৌগের সংশ্লেষণ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪। চর্বি, তেল, মোম, রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কোন তাপমাত্রায় পানি জমে বরফে পরিণত হয়?
  1. ক) 100 K
  2. খ) - 273 K
  3. গ) 273 K
  4. ঘ) 0 K
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, 0 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি জমে বরফে পরিণত হয়।
সেলসিয়াস স্কেলের নিম্ন স্থিরাঙ্ক ০ ডিগ্রী, ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক ১০০ ডিগ্রী ধরে মৌলিক ব্যবধানকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়।
কেলভিন স্কেলে নিম্ন স্থিরাঙ্ক ২৭৩ এবং ঊর্ধ স্থিরাঙ্ক ৩৭৩ ধরে মৌলিক দৈর্ঘ্যকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
তাই ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর ২৭৩ কেল্ভিন একই তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২১.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- 
  1. সেক্সট্যান্ট
  2. অডিওমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।  
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২২.
কোন দুটি ট্রান্সফরমারের মুখ্য ও গৌণ কুণ্ডলীর পাকসংখ্যার অনুপাত 1:2, সেগুলাের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের অনুপাত কত হবে?
  1. ক) 1:2
  2. খ) 1:4
  3. গ) 2:1
  4. ঘ) 4:1
ব্যাখ্যা
কুণ্ডলী দুটির তড়িৎ প্রবাহমাত্রা তাদের পাক সংখ্যার ব্যস্তানুপাতিক। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
২৩.
কৃষিতে শৈবালের উৎপাদন বন্ধ করতে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়?
  1. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  2. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. অ্যামোনিয়াম ফসফেট 
  4. কপার সালফেট
ব্যাখ্যা

কৃষিতে ব্যবহৃত লবণ: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- আবার বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়, ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪.
নিচের কোনটি অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক নয়?
  1. বক্সাইট
  2. ডলোমাইট
  3. কোরান্ডাম
  4. ক্রায়োলাইট
ব্যাখ্যা
• আয়রন বা লোহার আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

• সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।

• ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২৫.
মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় তা মূলত -
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) ইথেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল, গ্যাস বা কয়লা।
- তেল, গ্যাস বা কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে।
- মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়।
- মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় (Crude Oil) প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে।
- মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় সেটি মূলত মিথেন (CH4), এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশানো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়। 

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
২৬.
১ অশ্বক্ষমতা (HP) সমান কত ওয়াট?
  1. ৬৪৬ ওয়াট
  2. ৯৪৬ ওয়াট
  3. ৭৪৬ ওয়াট
  4. ৮৪৬ ওয়াট
ব্যাখ্যা

১ অশ্বক্ষমতা (HP) সমান ৭৪৬ ওয়াট।

• ক্ষমতা:
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
 - ক্ষমতাকে p দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট।
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়।
-1HP = 746 ওয়াট
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T- 3

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
কোন তাপমাত্রায় বরফ গলতে শুরু করে? 
  1. ০°সেন্টিগ্রেড
  2. ৪°সেন্টিগ্রেড
  3. ২৫°সেন্টিগ্রেড
  4. ১০০°সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়।  আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮.
নিচের কোনটির উপর কোনো এসিডের শক্তিমাত্রা নির্ভর করে না?
  1. ক) দ্রাবকের প্রকৃতি
  2. খ) প্রান্তীয় পরমাণুর জারণ অবস্থা
  3. গ) হাইড্রাসিডের ঋণাত্মক আয়নের আকার
  4. ঘ) এসিডের বিয়োজন ধ্রবক
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
এসিডের তীব্রতা বা শক্তিমাত্রা নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে-
- এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকঃ এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকের মান যতো বেশি হয়, এসিডটি ততো বেশি শক্তিশালী হয়।
- হাইড্রাসিডের ঋণাত্মক আয়নের আকারঃ ঋণাত্মক আয়নের আকার যতো বড় হয়, অণুর বিয়োজন ততো বেশি হয় অর্থাৎ এসিডের তীব্রতা ততো বেশি হয়।
- কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ অবস্থাঃ অক্সিজেন পরমাণুযুক্ত এসিডসমূহের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা যতো বেশি, ঐ এসিডের তীব্রতা ততো বেশি।
- কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকারঃ অক্সিজেন পরমাণুযুক্ত এসিডসমূহের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা সমান হলে তখন যেটির কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকার ছোটো হবে সে এসিডের তীব্রতা বেশি হবে।
- দ্রাবকের প্রকৃতিঃ দ্রাবকের প্রোটন গ্রহণ করার ক্ষমতাভবা ক্ষারকত্ব বেশি হলে এতে দ্রবীভূত এসিডের আয়নীকরণ বৃদ্ধি পায়।

২৯.
নিচের কোনটি ইলেকট্রোলাইট?
  1. চিনি
  2. প্যারাফিন ওয়েল
  3. কেরোসিন
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড হলো ইলেকট্রোলাইট। 
- ইলেকট্রোলাইটিক পরিবাহী : যেসব পরিবাহী পদার্থের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহনের ফলে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে এবং | ফলশ্রুতিতে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় যেমন, এসিড, ক্ষার গলিত লবন ইত্যাদি।
- এক্ষেত্রে আয়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয়।
- এ ধরনের পরিবাহীকে ইলেকট্রোলাইটিক পরিবাহী বলে।
 
উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০.
দহন কোন ধরনের বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সংযোজন
  2. বিয়োজন
  3. প্রতিস্থাপন
  4. জারণ-বিজারণ
ব্যাখ্যা
• দহন বিক্রিয়া জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। 

• দহন বিক্রিয়া:
- কোনো মৌল বা যৌগকে বাতাসের অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে।

• দহন বিক্রিয়ার উদাহরণ:
CH4(g) + 2O2(g) → CO2 (g) + 2H2O(g) + তাপ

- দহন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন এর আদান-প্রদান ঘটে। 
- দহন বিক্রিয়ার প্রতিক্ষেত্রেই অক্সিজেন ইলেকট্রন গ্রহণ করে অপর যৌগ বা মৌল ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
সুতরাং দহন বিক্রিয়া জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
• সংযোজন বিক্রিয়া: যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক রাসায়নিক পদার্থ পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটিমাত্র উৎপাদ উৎপন্ন করে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- যেমন: 2FeCl2(aq) + Cl2(g) → FeCl3(aq)

• বিয়োজন বিক্রিয়া: যে বিক্রিয়ায় একটি যৌগ ভেঙে একাধিক যৌগ বা মৌলে উৎপন্ন হয় তাকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলা হয়।
- যেমন: PCl5 →  PCl3 + Cl2

• প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া: কোনো অধিক সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলক অপর কোনো কম সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলককে প্রতিস্থাপন করে নতুন যৌগ উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে।
- যেমন: Zn(s) + H2SO4 (l) →ZnSO4(aq) + H2(g)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩১.
যৌগিক পদার্থের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) পানি
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) এসিড 
  4. ঘ) তামা
ব্যাখ্যা
তামা একটি মৌলিক পদার্থ, কারণ তামাকে ভাঙলে অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না। 

মৌলিক পদার্থ : যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
মৌলিক পদার্থের উদাহরণ : হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

যৌগিক পদার্থ : দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে। অথবা, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
যৌগিক পদার্থের উদাহরণ : জল, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি 

৩২.
লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক কোনটি?
  1. রেডিয়ান
  2. ডায়াপ্টার
  3. মিটার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লেন্স:
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়।
- লেন্স সাধারণত কাচের তৈরি হয়। এছাড়া কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারাও লেন্স তেরি করা হয়।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex Lens)।
• অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave Lens)।

লেন্সের ক্ষমতা:
- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর একক হচ্ছে ডায়াপ্টার।
- দূরত্বকে মিটারে প্রকাশ করে এর বিপরীত রাশি নিলে লেন্সটির ক্ষমতা ডায়াপ্টার পাওয়া যায়।
- ডায়াপ্টারকে সংক্ষেপে D দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- লেন্সের ক্ষমতা ধণাত্মক বা ঋণাত্মক যে কোনোটিই হতে পারে।
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক হয়, তাহলে বুঝতে হবে লেন্সটি উত্তল।
- লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক হয়, তাহলে লেন্সটি হবে অবতল।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী?
  1. অত্যন্ত সক্রিয়
  2. যোজনী স্তর পূর্ণ
  3. ধাতব ধর্ম প্রদর্শন করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বা নোবেল গ্যাস (Noble Gases) পর্যায় সারণীর ১৮তম গ্রুপের মৌল।
-  এগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো যোজনী স্তর পূর্ণ (Full Valence Shell), যা এদেরকে রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে তোলে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাসের বৈশিষ্ট্য:
- যোজনী স্তর পূর্ণ:
- এদের সর্ববহিঃস্থ শেলে ইলেকট্রন সংখ্যা পূর্ণ থাকে। ফলে এদের যোজনী স্তর পূর্ণ থাকে। 
উদাহরণ: নিয়ন (Ne) এর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s22s22p6 (৮টি যোজনী ইলেকট্রন)।

• রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা:
- যোজনী স্তর পূর্ণ থাকায় এরা সাধারণত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
- ব্যতিক্রম: ভারী নিষ্ক্রিয় গ্যাস (যেমন: Xe, Kr) কিছু বিশেষ অবস্থায় ফ্লোরিন বা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩৪.
শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করেছিলেন কে? 
  1. থেলিস
  2. আর্যভট্ট
  3. পিথাগোরাস
  4. আরিস্তারাকস
ব্যাখ্যা
গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান বলতে যে বিষয়টিকে বোঝানো হয়, প্রাচীনকালে সেটি শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে। 
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিসের (BC 624-586) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, কারণ তিনিই প্রথম কার্যকারণ এবং যুক্তি ছাড়া শুধু ধর্ম, অতীন্দ্রিয় এবং পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 
- সেই সময়ের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীদের মাঝে পিথাগোরাস (527 BC) একটি স্মরণীয় নাম। জ্যামিতি এবং কম্পমান তারের ওপর তার মৌলিক কাজ ছিল। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (460 BC) প্রথম ধারণা দেন যে পদার্থের অবিভাজ্য একক আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যাটম (এই নামটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকে)। তবে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তার ধারণাটি প্রমাণের কোনো সুযোগ ছিল না বলে সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। 
- সেই সময়কার সবচেয়ে বড় দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের মাটি, পানি, বাতাস ও আগুন দিয়ে সবকিছু তৈরি হওয়ার মতবাদটিই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। 
- আরিস্তারাকস (310 BC) প্রথমে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দিয়েছিলেন এবং তার অনুসারী সেলেউকাস যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটি প্রমাণ করেছিলেন, যদিও সেই যুক্তিগুলো এখন কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। 
- গ্রিক বিজ্ঞান এবং গণিত তার সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের (287 BC) সময়। তরল পদার্থে ঊর্ধ্বমুখী বলের বিষয়টি এখনো বিজ্ঞান বইয়ের পঠনসূচিতে থাকে। গোলীয় আয়নায় সূর্যরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে দূর থেকে শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরিয়ে তিনি যুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন। 
- গ্রিক আমলের আরেকজন বিজ্ঞানী ছিলেন ইরাতোস্থিনিস (276 BC), যিনি সেই সময়ে সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বের করেছিলেন। 

- এরপর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা প্রায় বন্ধ হয়েছিল। শুধু ভারতীয়, মুসলিম এবং চীনা ধারার সভ্যতা গ্রিক ধারার এই জ্ঞানচর্চাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। 
- ভারতবর্ষে আর্যভট্ট (476), ব্রহ্মগুপ্ত এবং ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন। 
- শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করার কাজটিও ভারতবর্ষে (আর্যভট্ট) করা হয়েছিল। 
- মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর আল খোয়ারিজমির (783) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। তার লেখা আল জাবির বই থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 
- ইবনে আল হাইয়াম (965) কে আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- আল মাসুদি (896) প্রকৃতির ইতিহাস নিয়ে 30 খণ্ডে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লিখেছিলেন। 
- ওমর খৈয়ামের নাম সবাই কবি হিসেবে জানে; কিন্তু তিনি ছিলেন উঁচুমাপের একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক। 
- চীনা গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীরাও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তাদের মাঝে শেন কুয়োর নামটি উল্লেখ করা যায় (1031), যিনি চুম্বক নিয়ে কাজ করেছেন এবং ভ্রমণের সময় কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫.
স্বল্প দ্রবণীয় দ্রবের উদাহরণ কোনটি?
  1. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

দ্রব (Solute):
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়।
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব।
একইভাবে,
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব।
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব:
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে।
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়।
যেমন-
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl),
• সিলভার ব্রোমাইড (AgBr),
• সিলভার আয়োডাইড (AgI),
• সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3),
ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),
• ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2),
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4),
• ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2,
• লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি।

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব:
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়।
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না।
যেমন-
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl),
• সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3),
• পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCI),
পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3),
• অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4CI),
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 19
  2. 20
  3. 39
  4. 58
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

পটাশিয়াম (K) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 

- পটাশিয়াম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 19 এবং 
- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণুর ভর সংখ্যা 39 
অতএব, পটাশিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হবে = 39 - 19 = 20

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
বোরের পরমাণু মডেল কোন মূল ধারণার উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত? 
  1. পাউলির বর্জন সূত্র
  2. প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. আরহেনিয়াসের তড়িৎ বিযোজন তত্ত্ব
  4. ডাল্টনের পারমাণবিক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• বোরের পরমাণু মডেল মূলত প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত। প্লাঙ্ক দেখিয়েছিলেন যে তাপীয় বিকিরণ নির্দিষ্ট পরিমাণের শক্তি “কোয়ান্টাম” আকারে নিঃসৃত হয়। এই ধারণা ব্যবহার করে নীলস বোর ১৯১৩ সালে হাইড্রোজেন পরমাণুর জন্য একটি নতুন মডেল প্রস্তাব করেন। বোরের মডেল অনুযায়ী, ইলেকট্রন নির্দিষ্ট স্থির কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে ঘুরতে পারে এবং এই কক্ষপথে অবস্থান করার সময় কোনো বিকিরণ নিঃসৃত হয় না। শুধুমাত্র ইলেকট্রন যখন একটি কক্ষপথ থেকে অন্য কক্ষপথে স্থানান্তরিত হয়, তখনই নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি আলো বা ফোটনের আকারে নির্গত হয়। এটি কোয়ান্টাইজড শক্তির ধারণাকে পরমাণুর মধ্যে প্রয়োগ করার প্রথম পদক্ষেপ ছিল। তাই বোরের মডেল প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত।

- সঠিক উত্তর: খ) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব। 

• বোরের পরমাণু মডেল (Bohr's Atomic Model):
- বোরের পরমাণু মডেল মূলত প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব এর ধারণার উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত হয়।
- নিউক্লিয়াসের চারপাশে ইলেকট্রনের কক্ষপথের শক্তি নির্দিষ্ট কোয়ান্টাম সংখ্যার (quantum number) মান অনুসারে নির্ধারিত হয়।
- ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে এবং সেই কক্ষপথের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তনের সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি গ্রহণ বা বিকিরণ করে।
- এটি পরমাণুর স্থায়িত্ব এবং তার বিকিরণ রশ্মি বর্ণনায় সহায়ক হয়েছে।
- বোরের মডেল ক্লাসিক্যাল বৈদ্যুতিক তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করেছে এবং পরমাণুর কোয়ান্টাইজড প্রকৃতি প্রকাশ করেছে।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

৩৮.
গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় পরা হয়, কারণ-
  1. সাদা কাপড়ের তাপ বিকিরণ ক্ষমতা বেশি
  2. সাদা কাপড় তাপ শোষণ করে না
  3. সাদা কাপড়ে তাপ প্রতিফলন ক্ষমতা বেশি
  4. সাদা কাপড়ের প্রতিসরণ ক্ষমতা বেশি
ব্যাখ্যা
- সূর্যের সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমম্বয়ে গঠিত। 
- সাদা বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা একেবারেই কম। 
- গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় আরামদায়ক হয়, কেননা সাদা কাপড় সূর্যের আলোর সব বর্ণকেই প্রতিফলিত করে এবং সামান্য অংশ জামা কর্তৃক শোষিত হয়। 
- সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম, এজন্যই গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক। 
 
অন্যদিকে, 
- কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, সেজন্য তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
৩৯.
কোনো পদার্থে ঘনীভবন প্রক্রিয়া ঘটলে তাপের কোন পরিবর্তনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষন
  2. তাপের নির্গমন
  3. তাপের কোন পরিবর্তন ঘটে না।
  4. তাপ নির্গত হয় না
ব্যাখ্যা
• ঘনীভবন হল একটি তাপগতীয় প্রক্রিয়া যেখানে গ্যাস অবস্থায় থাকা কোন পদার্থ তাপ হ্রাসের কারণে তরল অবস্থায় পরিণত হয়।

-  এটি সাধারণত তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে ঘটে, যখন গ্যাসের কণাগুলির গতির পরিমাণ কমে যায় এবং তারা একে অপরকে আকর্ষণ করে,
 ফলে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। 

এটি একটি তাপোৎপাদী প্রক্রিয়া (Exothermic process), অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়। 

-  যখন গ্যাস তরল অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, তখন তার আণবিক শক্তি কমে যায় এবং তাপ মুক্ত হয়।

-  এই মুক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৪০.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কার পান -
  1. ক) বেল বার্ডিন
  2. খ) ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  3. গ) উইলিয়াম শকলি
  4. ঘ) উপরের সকলে
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য ১৯৫৬ সালে বেল বার্ডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪১.
পলিথিন কী দিয়ে তৈরি?
  1. ইথিলিন
  2. ইথাইন
  3. ক্লোরোইথিন
  4. ইথিলিন গ্লাইকল
ব্যাখ্যা
পলিথিন: 
- ইথিলিন থেকে পলিথিন  পাওয়া যায়। 
- ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পলিথিন পাওয়া যায়।
- তবে এক্ষেত্রে পলিমারকরণ দ্রুত করার জন্য প্রভাবক হিসেবে অক্সিজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 

অথবা 


- তবে উচ্চ চাপ পদ্ধতি সহজসাধ্য না হওয়ায় বর্তমানে পদ্ধতি টি জনপ্রিয় নয়।
- এখন টাইটেনিয়াম ট্রাই ক্লোরাইড (TiCl3) নামক প্রভাবক ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপেই পলিথিন তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২.
তড়িৎ তীব্রতার একক হচ্ছে -
  1. N
  2. Nm
  3. Nm -1
  4. NC-1
ব্যাখ্যা
তড়িৎ তীব্রতার একক হচ্ছে NC-1
 
স্থির তড়িৎ বল F, আধান q ও তড়িৎ ক্ষেত্রের তীব্রতা E-এর মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে, 
     F = qE
বা, E = F/q
৪৩.
পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয় -
  1. গ্রাফাইট
  2. ইউরেনিয়াম
  3. কয়লা
  4. হীরক
ব্যাখ্যা
কার্বন:
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক। 
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক্।  
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক।

গ্রাফাইটের ব্যবহার:
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান।
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।
- এ ছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গলিত ধাতব লবণের তড়িৎ বিশ্লেষণে গ্রাফাইট অ্যানোড ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ- NaCl-এর তড়িৎ বিশ্লেষণ থেকে সোডিয়াম নিষ্কাশনে, KCI থেকে K, MgCl2 থেকে Mg, CaCl2 থেকে Ca প্রভৃতি ধাতু আহরণে গ্রাফাইট ইলেকট্রোড ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক/মডারেটর হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৪৪.
পানিকে রাসায়নিকভাবে ভাঙলে কোন মৌলগুলো পাওয়া যায়? 
  1. হিলিয়াম ও নাইট্রোজেন 
  2. কার্বন ও অক্সিজেন 
  3. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন 
  4. নাইট্রোজেন ও ফসফরাস 
ব্যাখ্যা

মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ইত্যাদি। 
- এই পর্যন্ত ১১৮ টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলোর মধ্যে ৯৮টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- মৌলিক পদার্থকে ভাঙলে শুধু ঐ পদার্থই পাওয়া যাবে। 
- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানিকে যদি ভাঙা হয় (অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়) তবে কিন্তু দুটি ভিন্ন মৌল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যাবে। আবার, লেখার চককে যদি ভাঙা যায় তাহলে সেখানে ক্যালসিয়াম, কার্বন ও অক্সিজেন এ তিনটি মৌল পাওয়া যাবে। 
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে। 
যেমন- পানিকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে
হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2: 1 । 
- যৌগের ধর্ম কিন্তু মৌলসমূহের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। 
যেমন- সাধারণ তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসীয় কিন্তু এদের থেকে উৎপন্ন যৌগ পানি সাধারণ তাপমাত্রায় তরল। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫.
ইথানল ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশে প্রধানত কোন প্রভাবটি পড়ে? 
  1. সূর্যের আলো কমে 
  2. বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে 
  3. জলবায়ুর তাপমাত্রা বাড়ে 
  4. জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমে 
ব্যাখ্যা

ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার: 
- ইথানল-এর অপর নাম ইথাইল অ্যালকোহল। 
- ইথানল-এর রাসায়নিক সংকেত CH3-CH2-OH । 
- জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল প্রভৃতির মতো ইথানলকে পোড়ালেও তাপ উৎপন্ন হয়। 
- তাই জীবাশ্ম জ্বালানির মতো ইথানলকেও তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করে কলকারখানা, গাড়ি, বিমান, জাহাজ প্রভৃতি চালানো যেতে পারে। 
- উত্তর আমেরিকাসহ অনেক দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির সাথে ইথানলকে মিশিয়ে তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়িতে পেট্রলের সাথে শতকরা 10 ভাগ ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই যত ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ততই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬.
নিচের কোন পদার্থ ফটো ইলেকট্রিক ক্রিয়া প্রদর্শন করে না?
  1. আয়রন
  2. ক্যালসিয়াম
  3. পটাশিয়াম
  4. রুবিডিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম প্রভৃতি ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেক্ট্রন নির্গত হতে দেখা যায়। ফটো- ইলেক্ট্রিক কোষ এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। এরূপ একটি কোষে আলো ফেলে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৭.
কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলো -----
  1. ক) অ্যামিটার
  2. খ) ভোল্টামিটার
  3. গ) অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
  5. ঙ) বিদ্যুৎনিরীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণয় করা যায় তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৪৮.
বর্তনীতে কত প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়?
  1. দুই
  2. চার
  3. তিন
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯.
বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু কোন ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান?
  1. অপটিক্স
  2. ব্যাটারি ডিজাইন
  3. তাপগতিবিজ্ঞান 
  4. তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০.
নিচের কোনটি অর্ধ-পরিবাহী নয়?
  1. সিলিকন
  2. জার্মেনিয়াম
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. গ্যালিয়াম
ব্যাখ্যা
• সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী:
- অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি আপেক্ষিক রোধের কয়েকটি পদার্থ আছে সেগুলোকে বলা হয় সেমিকন্ডাক্টর। যেমন—জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের। কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই সেমিকন্ডাক্টর চিহ্নিত করা হয় না।
- কেননা কিছু সংকরও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু সেগুলো সেমিকন্ডাক্টর নয়। 

• অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:
- এর আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।
- এতে কোনো অপদ্রব্য মিশালে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় (0K, শূন্য কেলভিন) এরা অপরিবাহী।
-  একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পাল্লা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
 - দু প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বৃদ্ধি করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
-  এদের পরিবহণ ও যোজনব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর কম।

জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী হলেও অ্যালুমিনিয়াম অর্ধপরিবাহী নয় , বরং এটি একটি পরিবাহী পদার্থ। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৫১.
নিচের কোন পদার্থ সাধারণত বিজারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. হাইড্রোজেন 
  2. অক্সিজেন
  3. ক্লোরিন 
  4. ব্রোমিন 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেন সাধারণত বিজারক হিসেবে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে। বিজারক পদার্থ অন্য পদার্থকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়। অন্যদিকে অক্সিজেন, ক্লোরিন এবং ব্রোমিন ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এরা জারক পদার্থ। 

বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S), হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2) প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), অক্সিজেন (O), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2)ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2) সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

৫২.
একটি সাধারণ ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য কত?
  1. ক) ১.০V
  2. খ) ১.৫V
  3. গ) ২.০V
  4. ঘ) ২.৫V
ব্যাখ্যা
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে।
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট।

- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়।

- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋনাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 

- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫V। সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০V.

- বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০V থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি। আবার ২২০V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫৩.
ট্রান্সফরমারে বিভব বৃদ্ধি করলে কী ঘটে?
  1. শক্তি কমে যায়
  2. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়
  4. তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা

- ট্রান্সফরমারে যখন ভোল্টেজ বা বিভব বৃদ্ধি করা হয় (যাকে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার বলা হয়), তখন শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী তড়িৎ প্রবাহ বা কারেন্ট কমে যায়। যেহেতু ট্রান্সফরমারের আদর্শ অবস্থায় ইনপুট ক্ষমতা এবং আউটপুট ক্ষমতা সমান থাকে (P = V × I), তাই ভোল্টেজ (V) বৃদ্ধি পেলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে তড়িৎ প্রবাহের (I) মান হ্রাস পেতে হয়। 

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও ২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
নিচের কোনটির মাধ্যমে দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশ করা হয়?
  1. মোলারিটি
  2. মোলালিটি
  3. নরমালিটি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
দ্রবণের শক্তি বা ঘনমাত্রা
দ্রবণের ঘনমাত্রা নিম্নলিখিত স্কেলে বা এককে প্রকাশ করা হয়।
যেমন-
১। শতকরা মাত্রা,
২। নরমালিটি,
৩। মোলারিটি,
81 মোলালিটি,
৫ ৷ মোল-ভগ্নাংশ ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
কোনটি মৌলিক পদার্থ?
  1. চিনি
  2. নিয়ন
  3. পানি
  4. লবণ
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা, লৌহ, নিয়ন, আর্গন প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ। 

যৌগিক পদার্থ: 
- যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবণ, চিনি, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হলো যৌগিক পদার্থ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫৬.
কাঁচ ও সিরিজ কাগজ তৈরি করতে নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. মাইকা
  2. কোয়ার্টজ
  3. চুনাপাথর
  4. ম্যাগনেটাইট
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।  
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে।
ধাতব খনিজ পদার্থ: 
• লোহা (Fe), 
• তামা  (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

অধাতব খনিজ পদার্থ: 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica) এবং 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 
- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 

- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট (Fe3O4) খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর (CaCO3) খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭.
সর্বপ্রথম পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ দেখান-
  1. ক) বেকরেল
  2. খ) রন্টজেন
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) বেইন
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম বেকেরেল ১৮৯৬ সালে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ দেখান।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫৮.
1 মোলের 1 লিটার NaOH দ্রবণ তৈরীতে 40 গ্রাম দ্রব প্রয়োজন। একই দ্রবের একই পরিমাণ 0.01 মোলার দ্রবণ তৈরীতে কত গ্রাম দ্রব প্রয়োজন?
  1. ক) 0.4 g
  2. খ) 4 g
  3. গ) 0.8 g
  4. ঘ) 10 g
ব্যাখ্যা
• 1 মোলের 1 লিটার NaOH দ্রবণ তৈরীতে 40 গ্রাম দ্রব প্রয়োজন। একই দ্রবের একই পরিমাণ 0.01 মোলার দ্রবণ তৈরীতে 0.4 g দ্রব প্রয়োজন।
৫৯.
"শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।"
- এই তত্ত্বটি কে প্রদান করেন?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. আইজ্যাক নিউটন
  3. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্বঃ ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।

প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।

কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬০.
এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে কোনটি?
  1. ইনডাক্টর
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ইনভার্টার
ব্যাখ্যা

• রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
অন্যদিকে,
- ইনডাক্টর হলো একটি ইলেকট্রনিক উপাদান যা চুম্বকীয় ক্ষেত্রে শক্তি সঞ্চয় করে এবং এসি প্রবাহের পরিবর্তনে বাধা দেয়।
- ট্রান্সফরমার কেবল এসি ভোল্টেজের মান কমায় বা বাড়ায় কিন্তু প্রবাহের প্রকৃতি এসি থেকে ডিসিতে পরিবর্তন করতে পারে না।
- ইনভার্টার রেকটিফায়ারের ঠিক বিপরীত কাজ করে অর্থাৎ এটি ডিসি বিদ্যুৎকে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।

• রেকটিফায়ার:
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
- একমুখীকারক দুই প্রকার। যথা-
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

• ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন।

৬১.
ডায়োডে কয়টি তড়িৎদ্বার থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা
ডায়োডে দুইটি তড়িৎদ্বার থাকে।
৬২.
নিচের কোন মৌলিক কণিকার সংখ্যা কখনো সমান কিংবা কখনো বেশি থাকে? 
  1. ইলেকট্রন 
  2. নিউট্রন 
  3. প্রোটন 
  4. পজিট্রন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি কণিকাকে পরমাণুর স্থায়ী কণিকাও বলা হয়। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, আর প্রোটন ও নিউট্রন এই নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩.
সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণুর অভ্যন্তরে কোন কণিকাগুলো বিদ্যমান?
  1. ১ টি প্রোটন ও ১ টি নিউট্রন
  2. ১ টি ইলেকট্রন, ১ টি প্রোটন ও ১ টি নিউট্রন
  3. ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি নিউট্রন
  4. ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন 
ব্যাখ্যা

- সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোনো নিউট্রন থাকে না। হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১, যার অর্থ এতে একটি প্রোটন রয়েছে। একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন এবং ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, তাই এতে একটি ইলেকট্রনও থাকে। 

পরমাণুর মূল কণিকা: 

- ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়, এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের হয়। 
যেমন- 
• স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাই এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

• অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

• কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪.
নিচের কোন পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. বরফ
  3. পানি
  4. জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি:

• যে আকর্ষণ শক্তির জন্যে কোনো পদার্থের কণাগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে তাকে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি বলে। অপরদিকে, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তির কারণে কণাগুলোর মধ্যবর্তী দুরত্বকে আন্তঃআণবিক দুরত্ব বলে।
• কঠিন পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি। 

• পদার্থের বিভিন্ন অবস্থা:

কঠিন অবস্থা:     

- নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে।
- এ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি।
- উদাহরণ: লোহা, বরফ, কাঠ ইত্যাদি               

তরল অবস্থা:
- নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু আয়তন আছে।
- এ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ কঠিন থেকে কম কিন্তু বায়বীয় থেকে বেশি।
-  উদাহরণ: পানি, কেরোসিন ইত্যাদি।       

বায়বীয় অবস্থা:
- নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই।
-  এ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম।
-  উদাহরণ: অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন।
৬৫.
মাথার চুলে থাকা সেবাম (Sebum) নামক প্রাকৃতিক তেলের pH এর মান কত?
  1. ৫.৭
  2. ৫.০
  3. ৬ থেকে বেশী
  4. ৬.০
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর ৫.৫। ত্বকের pH এর মান ৫.৫
থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। ত্বকের pH এর মান
আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়।
মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল। এর pH এর মান হলো ৫.০।
চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH এর মান ৫.৫ এর কাছাকাছি থাকাই উচিত।
চুলের pH এর মান ৬ এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬.
বিশ্বে জ্বালানির কত শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে? 
  1. প্রায় ৮০ শতাংশ
  2. প্রায় ৭০ শতাংশ
  3. প্রায় ৬০ শতাংশ
  4. প্রায় ৯০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- বিশ্বে জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে। 

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ু সংকটের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি মূলত দায়ী। 
- তাই জাতিসংঘ প্রধান জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধে একমত হতে আগেই দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। 
- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জাতিসংঘের কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসার জন্য সব দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন। 

উৎস: ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
৬৭.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) ২৮০ m/s
  2. খ) ৩৩২ m/s
  3. গ) ৩৫০ m/s
  4. ঘ) বেগ নাই
ব্যাখ্যা

শব্দ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের বেগ বলে।
শব্দ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়ােজন। কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশিও বায়বীয় বা গ্যাসীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম।
শূন্য মাধ্যমে শব্দের কোন বেগ থাকে না।

৬৮.
নীচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
• কার্বন মনোক্সাইড:
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে।
- কার্বন মনোক্সাইড ইংরেজিতে Carbon Monoxide (রাসায়নিক সংকেত: CO) হলো একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম।
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে।
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত।

• কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে:
- দুর্বলতা,
- বমি বমি ভাব,
- মাথা ঘোরানো,
- ক্লান্তি,
- ক্ষুধা,
- মাথা ব্যাথা,
- অজ্ঞান হওয়া,
- খিঁচুনি ইত্যাদি।

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website.
৬৯.
স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা ______।
  1. কম থাকে
  2. বেশী থাকে
  3. সমান থাকে
  4. যেকোনোটিই হতে পারে
ব্যাখ্যা
• ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুন্ডলী থাকে।
- কুন্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুন্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- ট্রান্সফরমার যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী থাকে।
- অপর দিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
মোট নিষ্ক্রিয় মৌলের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
- যে সব গ্যাসীয় মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় অর্থাৎ অন্য কোনো মৌলের সাথে সংযুক্ত হয় না, এমনকি নিজেদের মধ্যেও সংযুক্ত হয় না, সর্বদা এক পরমাণুক অবস্থা বিরাজ করে তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gas) বলে।
- নিষ্ক্রিয় মৌল মোট ৭টি -  হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)। 
- সাধারণ অবস্থায় এগুলো বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং এক পরমাণুক গ্যাস। এছাড়াও এগুলোর স্ফুটনাংক ও গলনাংক খুবই কম।
- আলোকসজ্জা, ওয়েল্ডিং এবং মহাশূন্য প্রযুক্তিতে এই গ্যাসগুলোর অনেক ব্যবহার রয়েছে।
- ওগানেসন পর্যায় সারণীর ১৮-তম গ্রুপের একমাত্র নিষ্ক্রিয় মৌল কিন্তু গ্যাস নয়।

সূত্র- ৬৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।    
৭১.
আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল কি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) টেলিফোন
  2. খ) টেলিভিশন
  3. গ) তড়িৎ
  4. ঘ) টেলিগ্রাফিক সংকেত
ব্যাখ্যা
- ১৮৭৬ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন।
- টেলিফোনের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা-
সুইচ,
রিংগার,
কি প্যাড,
মাইক্রোফোন,
এবং স্পিকার।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
৭২.
অম্লের স্বাদ কেমন?
  1. ক) মিষ্টি
  2. খ) তেতো
  3. গ) টক
  4. ঘ) নোনতা
ব্যাখ্যা
এসিড টক স্বাদ যুক্ত। তেঁতুলের ভেতর টারটারিক এসিড থাকে বলেই তেতুল এত টক হয়৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৭৩.
কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. এক্সরে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:

• তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (আলফা, বিটা ও গামা) নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
• এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত নিউক্লীয় ও স্বাভাবিক ঘটনা। 
• পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর বেশি তারাই মূলত তেজস্ক্রিয় পদার্থ।
• যেমন: ইউরোনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, নেপচুনিয়াম, রেডিয়াম, রেডন, থোরিয়াম ইত্যাদি।
• ভরের বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে (বেশি হতে কম) আলফা রশ্মি > বিটা রশ্মি > গামা রশ্মি।
• ভেদন ক্ষমতার বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে: গামা রশ্মি > বিটা রশ্মি> আলফা রশ্মি।

উল্লেখ্য,
• 1896 খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল (Henry Becquerel) সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
• তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য দুটি একক রয়েছে, যথা- 
(১) কুরী (Curie) এবং (২) বেকেরেল (Becquerel)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
৭৪.
হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্টে জলীয়শক্তি কীসে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তিতে
  2. আলোক শক্তিতে
  3. বৈদ্যুতিক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্টে জলীয়শক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

• হাইড্রোইলেক্ট্রিক প্ল্যান্ট:

- হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্ট হল এক ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র যেখানে পানিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

• সাধারণত, একটি উঁচু স্থান থেকে পানি ছেড়ে দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- এই টারবাইনগুলো জেনারেটরের সাথে যুক্ত থাকে এবং টারবাইনের ঘূর্ণনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। 

• কাজের ধাপ:
- উঁচু জলাধার থেকে পানি ছাড়া হয়। 
- পানির কারণে টারবাইন ঘুরে → গতিশক্তি উৎপন্ন হয়। 
- টারবাইন জেনারেটরের সাথে যুক্ত থাকে → জেনারেটর ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। 

• হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্টে শক্তি রূপান্তরের ধারা:
জলীয়শক্তি → গতিশক্তি → যান্ত্রিক শক্তি → বৈদ্যুতিক শক্তি

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৭৫.
বিদ্যুৎ প্রবাহের একক-
  1. ভোল্ট
  2. জুল
  3. ওয়াট
  4. অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
- অর্থাৎ কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 

অন্যদিকে, 
- ক্ষমতার একক ওয়াট।  
- কাজ ও তাপের একক জুল। 
- তড়িৎ বিভব মাপার জন্য ব্যবহৃত হয় ভোল্ট। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬.
স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH কত?
  1. 6.6
  2. 7.4
  3. 7.8
  4. 8.2
ব্যাখ্যা
pH:
- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. রিমেনেন্স
  2. চৌম্বক ধারকতা 
  3. কুরি তাপমাত্রা
  4. চৌম্বক সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৭৮.
বরফের গলণাঙ্ক কত?
  1. ক) 0K
  2. খ) -273K
  3. গ) 273K
  4. ঘ) 373k
ব্যাখ্যা
• যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক।
• বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস বা ২৭৩ কেলভিন। 
• অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে।
• আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।
• ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
----------------------
সেলসিয়াস স্কেলের সাথে ২৭৩.১৫ যোগ করলেই কেলভিন স্কেল পাওয়া যায়৷
কেলভিন স্কেলে নিম্ন স্থিরাঙ্ক ২৭৩ এবং ঊর্ধ স্থিরাঙ্ক ৩৭৩ ধরে মৌলিক দৈর্ঘ্যকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
তাই ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর ২৭৩ কেল্ভিন একই তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে-
  1. ক) ১০ কিমি
  2. খ) ২৭ কিমি
  3. গ) ৫ কিমি
  4. ঘ) ১০ নিউটন
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্টে বায়ু চাপ ১০ নিউটন বা 10m/atm(m=meter, atm=atmosphere)। এবং যেহেতু পানির ঘনত্ব সমান তাই তলদেশের দিকে যেতে থাকলে চাপ একই হারে বাড়তে থাকে। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮০.
এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার কোথায় দেখা যায়? 
  1. শিল্প ক্ষেত্রে
  2. চিকিৎসা ক্ষেত্রে
  3. গোয়েন্দা বিভাগে
  4. বৈজ্ঞানিক গবেষণায়
ব্যাখ্যা
এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- এক্স-রে শিল্পে নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ধাতুর ঢালাইয়ের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি শনাক্তকরণ, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান, এবং ঝালাইয়ের ত্রুটি নির্ণয় ইত্যাদি। 
- এছাড়া টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান পরীক্ষা এবং ক্ষতিকর বস্তু সনাক্তকরণেও এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

২। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। 
- এক্স-রের ভেদন ক্ষমতার মাধ্যমে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। 
- কোমল এক্স-রে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে, কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করতে পারে না। এর মাধ্যমে হাড়ের ফাঁটল, দুর্ঘটনায় প্রবেশ করা ধাতব বস্তু, পাকস্থলিতে পাথর, ফুসফুসের ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের আলসার ইত্যাদি নির্ণয় করা সম্ভব। 
- বর্তমান সময়ে ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কিছু চর্মরোগ নিরাময়ে এক্স-রের ভূমিকা অপরিহার্য। 

৩। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়: 
- এক্স-রে কেলাসের গঠন এবং অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গবেষণার জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম। 

৪। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- এক্স-রে গোয়েন্দা বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। 
- এটি চোরাচালানী বা নিষিদ্ধ বস্তু, বিস্ফোরক, গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- এমনকি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও এক্স-রের ব্যবহার দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
কোন সরল দোলককে পাহাড়ের উপরে নিয়ে গেলে কী ঘটবে?
  1. ক) দোলনকাল কমবে
  2. খ) দোলনকাল বাড়বে।
  3. গ) দোলনকাল একই থাকবে
  4. ঘ) দোলনকাল অর্ধেক হবে।
ব্যাখ্যা
একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।
৮২.
হাইড্রোকার্বনকে কোন ধরনের রাসায়নিক যৌগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?
  1. অজৈব যৌগ 
  2. লবণ 
  3. জৈব যৌগ 
  4. এসিড
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোকার্বনকে জৈব যৌগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, অর্থাৎ সঠিক উত্তর হলো গ) জৈব যৌগ। হাইড্রোকার্বন মূলত কার্বন ও হাইড্রোজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত রাসায়নিক যৌগ, যা জৈব রসায়নের মূল ভিত্তি। জীবদেহে উপস্থিত বিভিন্ন জৈব পদার্থ যেমন প্রোটিন, চর্বি ও শর্করার গঠনেও কার্বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের মতো জ্বালানিও হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ। কার্বনের বিশেষ বন্ধন ক্ষমতার কারণে এই যৌগগুলো নানা গঠন ও বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, যা অজৈব যৌগ, লবণ বা এসিডের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
 
জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার। 

অজৈব যৌগ: 
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে। 
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩.
আর্কিমিডিসের নীতি প্রযোজ্য-
  1. ক) কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  2. খ) তরল ও কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে
  3. গ) তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতিঃ
বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়। বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল উর্ধ্বচাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে। তাই, কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।।
৮৪.
তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বিটা রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হয় কোন বলের কারণে?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. সবল নিউক্লিয় বল
  3. তড়িৎ চৌম্বক বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
দুর্বল নিউক্লিয় বল:
- যে স্বল্প পাল্লার ও স্বল্প মানের বল নিউক্লিয়াসের মধ্যে মৌলিক কণাগুলোর মধ্যে ক্রিয়া করে অনেক নিউক্লিয়াসের অস্থিতিশীলতার উদ্ভব ঘটায় তাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলে।
- নিউক্লিয়াস থেকে বিটা কণিকা ক্ষয়ের জন্য এই মৌলিক বল ক্রিয়াশীল থাকে। 

• প্রকৃতিতে বেশ কিছু মৌলিক পদার্থ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যায় (যেমন ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ইত্যাদি)।  
•  এই সমস্ত নিউক্লিয়াস থেকে তিন ধরনের কণিকা ও রশ্মি নির্গত হয় যাদেরকে আলফা কণিকা (a-particle), বিটা কণিকা (B-particle) এবং গামা রশ্মি (y-ray) বলা হয়।
•   β রশ্মির নির্গমনের সময় নিউক্লিয়াস থেকে একটি ইলেকট্রন এবং একটি অনাহিত কণা নিউট্রিনো (neutrino) নির্গত হয়।

•  দুর্বল নিউক্লিয় বল মহাকর্ষ বল অপেক্ষা শক্তিশালী কিন্তু তাড়িতচৌম্বক বল অপেক্ষা কম শক্তিশালী। এই বলের পাল্লা অত্যন্ত কম, যেখানে সৃষ্টি হয় সেখানেই শুধুমাত্র কার্যকর থাকে। এর পাল্লা 10-m।
• মাধ্যমিক ভেক্টর বোসন (Intermediate vector bosons) নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ-
  1. ক) রান্নার জন্য তাপ নয় চাপও কাজে লাগে
  2. খ) বদ্ধ পাত্রে তাপ সংরক্ষিত হয়
  3. গ) উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
  4. ঘ) সঞ্চিত বাষ্পের তাপ রান্নায় সহায়ক
ব্যাখ্যা
প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না।
ফলে উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। এতে বাড়তি তাপ সৃষ্টি হয়ে রান্না হয় তাড়াতাড়ি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৮৬.
পরমাণুর অস্থায়ী মূল কণিকা নয় কোনটি?
  1. মেসন
  2. নিউট্রিনো
  3. অ্যান্টি নিউট্রিনো
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা
• নিউট্রন পরমাণুর অস্থায়ী মূল কণিকা নয় , এটি পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা। 

• পরমাণু ও পরমাণুর মূল কণিকা:
- পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি। এ সব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়।

• পরমাণুর মূল কণিকা তিন ধরনের।
যথা:
- স্থায়ী মূল কণিকা,
- অস্থায়ী মূল কণিকা,
- কম্পোজিট কণিকা।

•  স্থায়ী মূল কণিকা:
- যে সব মূল কণিকা স্থায়ীভাবে সকল মৌলের পরমাণুতেই উপস্থিত থাকে তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে।
- উদাহরণ- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে।  এতে কোন নিউট্রন নেই।

• অস্থায়ী মূল কণিকা:
- যে সকল কণিকা কোনো কোনো মৌলের পরমাণুতে ক্ষণস্থায়ীভাবে অবস্থান করে তাকে অস্থায়ী মূল কণিকা(Temporary Core Particle) বলা হয়। 
- উদাহরণ- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন ইত্যাদি। 

• কম্পোজিট কণিকা (Composite particles):
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়।
- উদাহরণ- আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণিকা। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭.
নিচের কোনটি পানির স্ফুটনাংক?
  1. ক) ০° সেলসিয়াস
  2. খ) ১০০° সেলসিয়াস
  3. গ) ২৭৩° সেলসিয়াস
  4. ঘ) -২৭৩° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
তরল:

- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক হলো ১০০° সেলসিয়াস। 
- এই তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে।

অন্যদিকে,
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম / সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮.
'স্টিল'-এ কত ভাগ লোহা থাকে?
  1. ক) ৯৯
  2. খ) ৯৮
  3. গ) ৯৭
  4. ঘ) ৯৬
ব্যাখ্যা
স্টিল একটি সংকর ধাতু। এতে ৯৯ ভাগ লোহা এবং ১ ভাগ কার্বন থাকে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৮৯.
উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল হওয়ার কারণে প্রধানত গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়- 
  1. বৈদ্যুতিক তারে
  2. প্লাস্টিক শিল্পে
  3. ক্রুসিবল তৈরিতে
  4. কাঁচ তৈরিতে
ব্যাখ্যা

উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীলতার কারণে গ্রাফাইট প্রধানত ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি গলিত ধাতু বা কাঁচের মতো পদার্থকে উচ্চ তাপে গলানো ও প্রক্রিয়াজাত করার জন্য উপযুক্ত, যা হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তন সহ্য করতে পারে এবং দূষণ প্রতিরোধ করে। 

কার্বন: 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক। 
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক। 

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান। 
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। 
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে এটি ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

৯০.
আলো চুম্বক ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সরল রৈখিক ভাবে সমবর্তিত হয় এটি প্রমাণ করেন-
  1. ক) রবার্ট হুক
  2. খ) এলবার্ট মাইকেলসন
  3. গ) মাইকেল ফ্যারাডে
  4. ঘ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব:
- ১৮৪৫ সালে মাইকেল ফ্যারাডে (Michael Faraday) আবিষ্কার করেন, আলো চুম্বক ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সরল রৈখিক ভাবে সমবর্তিত (polarized) হয়
- আলোর সমবর্তন তল মাধ্যমের মধ্যে ঘুরে যায়।
- এ থেকে প্রমাণ হয় আলোর উপর তড়িৎ চুম্বকের প্রভাব আছে।
- ১৮৪৬ সালে তিনি অনুমান করেন চুম্বক ক্ষেত্রের বল রেখার সঞ্চালনের কোন প্রকার বিশৃঙ্খলার (disturbance) ফলে আলো উৎপন্ন হয়।
- ১৮৪৭ সালে মাইকেল ফ্যারাডে প্রস্তাব দেন আলো উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা যেকোনো মাধ্যমের মধ্যে এমনকি মাধ্যম ছাড়াও সঞ্চালিত হতে পারে।  - এজন্য ইথার বা অনুরূপ কোন মাধ্যমের প্রয়োজন নাই। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়াকে কী বলে?
  1. ক) ফিশন
  2. খ) ফিউশন
  3. গ) মেসন
  4. ঘ) লেপ্টন
ব্যাখ্যা
• পরমাণুর নিউক্লিয়াসে একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়াকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
• পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা:
১.  নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন।
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন।
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।
- উচ্চ শক্তিসম্পন্ন প্রোটন, নিউট্রন বা ডিউটেরনের আঘাতের ফলে ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াস ৩টি নিউট্রনসহ দুটি তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে পড়ে। 
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
- অত্যধিক উচ্চ তাপে ফিউশন সংঘটিত হয়।
- চারটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস ফিউশন প্রক্রিয়াতে জড়িত হয়ে একটি করে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
কোনটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস নয়?
  1. He
  2. Xe
  3. Rn
  4. Cl
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
মৌলগুলাে হলাে:
হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) । 

হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল।
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি।
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩.
রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) কর্ণিয়া
  3. গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  4. ঘ) অ্যাকুয়া রিজিয়া
ব্যাখ্যা
অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
গতিশীল গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীরা সামনে ঝুঁকে পরেনে এটি কিসের উদাহরণ
  1. ক) গতি জড়তা
  2. খ) স্থিতি জড়তা
  3. গ) গতি
  4. ঘ) ভরবেগ
ব্যাখ্যা
পদার্থ যেই অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যেই প্রবণতা, তাকে জড়তা বলে।
এটি দুই প্রকার:
১. স্থিতি জড়তা
২. গতি জড়তা

গতিশীল ঘোড়ার গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে গাড়িতে বসা যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। গাড়ি যখন গতিশীল ছিল তখন যাত্রীর শরীরের উপরের অংশ এবং নিচের অংশ উভয়ই গতিশীল ছিল। কিন্তু গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ায় গাড়ি সংলগ্ন শরীরের নিচের অংশ সর্বপ্রথম থেমে যায় বা স্থির হয়। কিন্তু উপরের অংশ তখনও গতিশীল থাকায় তা গতিশীলই থাকতে চায়। ফলে আরোহী বা যাত্রী পিছনের দিকে ঝুঁকে পরে।
৯৫.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে যাওয়া সম্ভব, কারণ- 
  1. আলো দ্রুত চলে 
  2. আলো শক্তিশালী 
  3. কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ খুবই কম 
  4. কোর বড় হওয়ায়
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। 
- এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৬.
ডেরলিন প্লাস্টিক কোন মৌলিক উপাদান থেকে প্রস্তুত হয়?
  1. ইউরিয়া
  2. ইথানল
  3. মিথান্যাল
  4. ফেনল
ব্যাখ্যা
অ্যালডিহাইড: 
- অ্যালডিহাইড যৌগ থেকে বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের পলিমার প্রস্তুত করা যায়। 
- অ্যালডিহাইড যৌগের প্রথম সদস্য মিথান্যাল থেকে ডেরলিন নামক পলিমার প্রস্তুত করা যায়। 
- ডেরলিন এর ব্যবহার খুবই ব্যাপক, প্লাস্টিকের চেয়ার, টেবিল, বালতি, জগ, মগ, প্লেট ইত্যাদি প্রস্তুতিতে ডেরলিন ব্যবহৃত হয়। 
- মিথান্যাল ইউরিয়ার ঘনীভবনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় মেলামাইন। 
- মেলামাইন দ্বারা প্লেট, মগ, গ্লাস, কাপ, প্রিজ, গামলা, বাটি ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। 
- মিথান্যাল ও ফেনল থেকে প্রস্তুত করা হয় ব্যাকেলাইট প্লাস্টিক, এটি খুবই শক্ত ও সুদৃঢ় পলিমার। 
- এ থেকে বৈদ্যুতিক সুইচ, চিরুনি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির হাতল, কলমের বডি প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া মেলামাইন ও মিথান্যালের ঘনীভবন বিক্রিয়ার ফলে মেলাডুর নামক মেলামাইন রেজিন ব্যবহার করা হয়। 

- মিথান্যাল পানিতে দ্রবীভূত করে ফরমালিন প্রস্তুত করা হয়। 
- 40% মিথান্যাল 52% পানি ও ৪% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রণ ফরমালিন। 
- মৃত জীবদেহ সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়। 
- ফরমালিন শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুজনিত পচন নিরোধক। 
- সংক্রামক রোগীর ব্যবহৃত বিছানা, আসবাব ও ঘর জীবাণুমুক্ত করতে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়। 
- কিছু অসাধু অর্থলোভী ব্যবসায়ী মাছ, মাংস, দুধ, ফল, শাক-সবজি সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করে থাকে। 
- ফরমালিন ব্যবহারে খাদ্যের অস্বাভাবিক খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙ্গে যায়, ফলে খাদ্যের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ ও খাদ্যমান বিনষ্ট হয়। 
- ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে মানুষের কিডনি, যকৃত, হৃৎপিন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
কোন মৌলের পরমাণু স্বাধীন বা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ঘ) হিলিয়াম

• পরমাণু:

- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

• পরমাণুর বৈশিষ্ট্য: 
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
৪. একমাত্র হাইড্রোজেন ছাড়া সকল পদার্থের পরমাণু তিনটি কণা দিয়ে তৈরি। সেগুলো হচ্ছে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এই কণাগুলোকে পরমাণুর সাংগঠনিক (fundamental) বা মৌলিক কণা বলে।
৫. পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরতে থাকে। 


♦ নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gases) মৌলগুলোর পরমাণু স্বাধীন বা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে। এদের সর্বশেষ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস পূর্ণ থাকায় এরা অন্য কোনো পরমাণুর সাথে বিক্রিয়া করে না বা অণু গঠন করে না। যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন  এবং রেডন।  
 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮.
বস্তুর ধর্ম ধারণ করে এরূপ ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম -
  1. পরমাণু
  2. অণু
  3. কণা
  4. মৌল
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রতম কণার মতবাদ: 
- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থকে ক্রমাগত ভাঙতে ভাঙতে এক পর্যায়ে এটি ক্ষুদ্রতম কণায় পরিণত হয়। 
- এই ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানা রকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমক্রিটাস (Democritus) খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা নিয়ে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য (যা আর ভাঙা যায় না কণা দিয়ে তৈরি।
- তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটমস (Atomos) থেকে, যার অর্থ হলো অবিভাজ্য (Indivisible) বা যা ভাঙা যায় না। 
- তাঁর সমসাময়িক আরও দুজন দার্শনিক প্লেটো (Plato) এবং অ্যারিস্টটল ( Aristotle) তাঁর মতবাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। 
- অ্যারিস্টটলের মতে, পদার্থসমূহ অবিচ্ছেদ্য (Continuous) এবং ভাঙনের কোনো সীমা নেই অর্থাৎ যতই ভাঙা হোক না কেন, পদার্থের কণাগুলো ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে। 

অণু ও পরমাণু: 
- আমরা ডাল্টনের মতবাদ থেকে জানলাম যে, পদার্থ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দিয়ে গঠিত। এ ক্ষুদ্র কণাদেরকে পরমাণু বলা হয়। 
- তবে পরমাণু স্বাধীন বা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না। 
- এরা একে অন্যের সাথে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে। 
- অণুরা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে। 
- মৌলিক পদার্থের বেলায় শুধু ঐ পদার্থের পরমাণুরা যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে। 
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত হয়ে একটি অক্সিজেন অণু গঠন করে। 

- পরমাণু নামক ক্ষুদ্র কণা দ্বারা পদার্থ গঠিত। 
- এরা স্বাধীন অবস্থায় থাকতে পারে না। 
- দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলে অণু গঠন করে। 
- একই ধরনের পরমাণু মিলে মৌলিক পদার্থের অণু গঠন করে। 
- আর দুই বা ততোধিক পদার্থের পরমাণু মিলে যৌগিক পদার্থের অণু গঠন করে। 
অর্থাৎ, বস্তুর ধর্ম ধারণ করে এরূপ ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম অণু। 
- অণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৯৯.
কোনটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?
  1. ক) আলােক
  2. খ) বেতার তরঙ্গ
  3. গ) শব্দ তরঙ্গ
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
১০০.
নিচের কোনটি ধাতু বিশুদ্ধকরণের জন্য তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. লোহা
  2. সোনা
  3. কপার
  4. প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা
ধাতু বিশুদ্ধকরণ: 
- আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশনের পর প্রাপ্ত ধাতুতে যথেষ্ট পরিমাণে ভেজাল দ্রব্য মিশ্রিত থাকে। 
- এ সকল ধাতুকে বিশুদ্ধ করতে তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। 
- কপার, জিংক, লেড, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি ধাতুকে বিশুদ্ধকরণের জন্য তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- যে ভেজাল মিশ্রিত ধাতু থেকে ভেজাল অপসারণ করে বিশুদ্ধ ধাতু তৈরি করা হয় সেই ভেজাল মিশ্রিত ধাতুর দণ্ডকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুকে বিশুদ্ধ করতে চাওয়া হয় ঐ ধাতুর একটি বিশুদ্ধ দণ্ড ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে ভেজাল মিশ্রিত অবিশুদ্ধ ধাতুর দণ্ড থেকে ধাতব আয়ন দ্রবণে চলে যায় এবং দ্রবণ থেকে ঐ ধাতব আয়ন বিশুদ্ধ ধাতব দণ্ডে জমা পড়ে, ফলে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত বিশুদ্ধ ধাতব দণ্ড মোটা হতে থাকে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ চলাকালে একদিকে ভেজাল মিশ্রিত অবিশুদ্ধ ধাতব দণ্ড ক্ষয় হতে থাকে, অন্যদিকে বিশুদ্ধ ধাতব দণ্ড মোটা হতে থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।