বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৩ / ৬৪ · ১,২০১১,৩০০ / ৬,৪০৯

১,২০১.
নিচের কোন বিবৃতিটি গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ভুল?
  1. এর ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি
  2. এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ
  3. এর ফোটনগুলোর শক্তি অনেক কম
  4. এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মির ফোটনগুলোর শক্তি অনেক বেশি। এর উচ্চ শক্তিই এর উচ্চ ভেদন ক্ষমতার কারণ। 

গামা রশ্মি (Gamma Ray):
- গামা রশ্মি হচ্ছে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)।
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান।
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়।
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন কণা, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না।
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব কম (প্রায় ১০- ১২ মিটারের নিচে), যা এর উচ্চ শক্তির একটি সূচক। 
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও ফোটনের শক্তি একে অপরের বিপরীতানুপাতিক।
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) অত্যন্ত বেশি। এটি কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সীসার পাত বা কয়েক মিটার পুরু কংক্রিট ভেদ করতে পারে।
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২০২.
IC চিপ তৈরিতে মূলত ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) সিলিকা
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) ক্রোমিয়াম
  4. ঘ) নিকেল
ব্যাখ্যা
Integrated Circuit (IC) বা কম্পিউটার চিপ তৈরিতে সিলিকন ব্যবহার করা হয়।
মূলত IC অর্ধ-পরিবাহী উপাদানের ওপরে নির্মিত অতিক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক বর্তনী।

Source: Britannica
১,২০৩.
পরিবাহী পদার্থের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করা হলে, রোধের কীরূপ পরিবর্তন হবে?
  1. ক) দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে
  2. খ) দ্বিগুণ কমবে
  3. গ) চারগুণ বৃদ্ধি পাবে
  4. ঘ) চারগুণ কমবে
ব্যাখ্যা
- রোধ হচ্ছে বিদ্যুৎ প্রবাহের বাধা, তাই কোনো পদার্থের দৈর্ঘ্য (L) যত বেশি হবে তার বাধা তত বেশি হবে অর্থাৎ রোধও বেশি হবে।
R ∝ L

- আবার সরু একটা পথ দিয়ে যত সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারবে, চওড়া একটা পথ দিয়ে তার থেকে অনেক সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারবে অর্থাৎ প্রস্থচ্ছেদ (A) যত বেশি হবে রোধ তত কম হবে।
R ∝ (1/A)

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
১,২০৪.
হাবলের টেলিস্কোপ হল একটি-
  1. ক) এক্সরে টেলিস্কোপ
  2. খ) গামা-রে টেলিস্কোপ
  3. গ) অপটিক্যাল টেলিস্কোপ
  4. ঘ) রেডিও টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা
রেডিও টেলিস্কোপঃ যে যন্ত্রের সাহায্যে তারকা, গ্যালাক্সি, কোয়াসার এবং অন্যান্য নভোমন্ডলীয় বস্তু থেকে প্রাকৃতিকভাবে নির্গত তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ (রেডিও তরঙ্গ) সনাক্ত ও পরিমাপ করে ঐ সব বস্তু সম্পর্কে অনুসন্ধান চালানো হয় , তাকে রেডিও টেলিস্কোপ বলে।

গামা রে টেলিস্কোপঃ গামা রে হচ্ছে সবচেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অর্থাৎ বেশী কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট। গামা-রে টেলিস্কোপে  গামা রশ্মির ব্যবহার করা হয়। 

এক্সরে টেলিস্কোপঃ মহাকাশে সংঘটিত বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক ঘটনা যেমন- নক্ষত্রের বিস্ফোরণ থেকে এক্সরে নির্গত হয়। এক্সরে র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অনেক ক্ষুদ্র বলে সাধারণ দর্পণ এক্ষেত্রে কাজ করে না । এক্সরে টেলিস্কোপ এসব রশ্মি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে।

অপটিক্যাল টেলিস্কোপঃ এই টেলিস্কোপের সাহায্যে দৃশ্যমান আলোর সহায়তায় দৃশ্যমান আলো নিঃসরণকারী বা প্রতিফলনকারী বস্তু পর্যবেক্ষণ করা হয় । 

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,২০৫.
কোনো তরঙ্গে কণার সর্বাধিক স্থানচ্যুতি ও বিশ্রাম অবস্থার মধ্যে দূরত্বকে কী বলে?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  2. বিস্তার
  3. সময়কাল
  4. ফেজ পার্থক্য
ব্যাখ্যা

• বিস্তার (Amplitude):
- মাধ্যমের কণার বিশ্রাম অবস্থান থেকে সর্বাধিক স্থানচ্যুতি পর্যন্ত দূরত্ব।
- তরঙ্গের শক্তি এবং তীব্রতা নির্ধারণ করে।
- জল ঢেউয়ের উচ্চতা, শব্দ তরঙ্গের চাপ ইত্যাদি বিস্তারের উদাহরণ।
- বিস্তার পরিবর্তন করলে তরঙ্গের শব্দ বা আলোতে তীব্রতা পরিবর্তিত হয়।

• তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength):
- একই ফেজে থাকা দুটি বিন্দুর মধ্যে দূরত্ব (যেমন, শিখর থেকে পরবর্তী শিখর পর্যন্ত)।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য তরঙ্গের প্রকার (উদাহরণ: আলো, শব্দ) নির্ধারণ করে।

• সময়কাল (Time Period):
- এক সম্পূর্ণ কম্পনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়।
- সময়কাল নির্ধারণ করে তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি।

• ফেজ পার্থক্য (Phase Difference):
- দুই বিন্দুর কম্পনের আপেক্ষিক অবস্থানের পার্থক্য।
- ফেজ পার্থক্য নির্ধারণ করে দুই তরঙ্গের সংযোজন বা বিঘ্নন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

১,২০৬.
চোখে প্রবেশ করা আলোর প্রতিচ্ছবি চোখের কোন অংশে গঠিত হয়?
  1. কর্নিয়া
  2. রেটিনা
  3. লেন্স
  4. অপটিক স্নায়ু
ব্যাখ্যা

• চোখে প্রবেশ করা আলোর প্রতিচ্ছবি রেটিনায় গঠিত হয়।

• চোখ: 
- স্বাভাবিক চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
- স্বাভাবিক চোখের স্পষ্ট দর্শনের দূরতম দূরত্ব অসীম।
- দর্শানুভূতির স্থায়িত্বকাল (Persistence of Vision) ০.১ সেকেন্ড।
- লাল-বেগুনি আলোতে দর্শানুভূতি সবচেয়ে কম।
- সবুজ-হলুদ আলোতে দর্শানুভূতি সবচেয়ে বেশি।

• চোখের প্রধান অংশসমূহ ও তাদের ভূমিকা:
• কর্নিয়া (Cornea) আলো প্রবেশের প্রধান অংশ।
• লেন্স (Lens) আলোর প্রতিসরন ও ফোকাস নিশ্চিত করে।
রেটিনা (Retina) আলোর প্রতিচ্ছবি তৈরি করে।
• অপটিক স্নায়ু (Optic Nerve) রেটিনার সিগন্যাল মস্তিষ্কে পাঠায়।
• অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous Humor) চোখের সামনের তরল পদার্থ।
• ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous Humor) চোখের পেছনের জেলির মতো পদার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২০৭.
নিচের কোনটি অজৈব যৌগ?
  1. ক) মরিচা
  2. খ) ইথেন
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) পেন্টাইন
ব্যাখ্যা
অজৈব যৌগ:

- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয়।
- এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।
- জৈব যৌগ: মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি।
- অজৈব যৌগ: পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২০৮.
কোন রাসায়নিক পদার্থ পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাকের মূল ভূমিকা পালন করে?
  1. সাইট্রিক অ্যাসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. ফরমিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাকের মূল ভূমিকা পালন করে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (Hydrochloric Acid)।

হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ভূমিকা:
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত একটি শক্তিশালী অ্যাসিড।
- এটি পাকস্থলীর ভেতরে একটি অত্যন্ত অম্লীয় পরিবেশ তৈরি করে (pH 1.5-3.5), যা খাবার হজমের জন্য অপরিহার্য।
- এই অম্লীয় পরিবেশের কারণে পেপসিনোজেন নামক নিষ্ক্রিয় এনজাইম সক্রিয় পেপসিনে রূপান্তরিত হয়, যা প্রোটিন পরিপাকে সাহায্য করে।
- এটি খাবারের সাথে আসা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতেও সহায়তা করে।
- হাইড্রোক্লোরিক এসিডের অম্লীয় পরিবেশ খাবারের জটিল উপাদানগুলোকে সহজে ভেঙে ফেলে, যা পরবর্তীতে ক্ষুদ্রান্তে শোষিত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
-  সাইট্রিক অ্যাসিড: সাধারণত লেবু জাতীয় ফলে পাওয়া যায়, যা পরিপাক প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নয়।
- এসিটিক এসিড: ভিনেগারের প্রধান উপাদান, যা মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে পরিপাকের জন্য উৎপন্ন হয় না।
- ফরমিক এসিড: মূলত পিঁপড়া এবং কিছু অন্যান্য পোকামাকড়ের দেহে পাওয়া যায় এবং এটি পরিপাক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২০৯.
ETP দিয়ে কী করা হয়?
  1. বায়ু দূষণ রোধ করা হয়।
  2. এসিড বৃষ্টি রোধ করা হয়।
  3. শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়।
  4. বর্জ্য পানি পরিশোধন করা হয়।
ব্যাখ্যা
ইটিপি (ETP): 
- রাসায়নিক শিল্প কারখানার বর্জ্য পানি বা তরল পদার্থে জৈব ও অজৈব পদার্থ মিশ্রিত থাকে, এ বর্জ্য পানিকে effluent বলা হয়। 
- এরূপ শিল্প কারখানার effluent থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থকে পৃথক করার প্রক্রিয়াকে effluent treatment plant বা ETP বলে। 
- কারখানার প্রকৃতিভেদে বর্জ্য পানিতে দূষকের বিভিন্ন প্রকৃতি যেমন ধাতব আয়ন, জৈব পদার্থ ও জৈব যৌগ হতে পারে। 
- চন্দ্রঘোনার পেপার মিলের বর্জ্য দূষিত পানি দ্বারা কর্ণফুলি নদীর পানির দূষণ ঘটছে। 
- ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে ট্যানারির দূষিত বর্জ্য পানি দ্বারা দূষণ ঘটে চলেছে। 
- নদীর বর্জ্য দূষিত পানির মারাত্মক দূষণ প্রতিরোধ করতে ETP হলো আধুনিক চিন্তার গ্রিন কেমিস্ট্রির বারটি নীতির অন্যতম প্রয়োগ। 
- বাংলাদেশে বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শিল্প কারখানা জোন সৃষ্টি করে বিভিন্ন শিল্পের বর্জ্য পানিকে সমন্বিত প্রক্রিয়ায় কম্বাইন্ড ইটিপি বা CETP এর মাধ্যমে পরিশোধন প্রক্রিয়ার কার্যক্রম অনুমোদিত হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,২১০.
পাহাড়ি রাস্তার বিপজ্জনক বাঁকে সমতল দর্পন কত ডিগ্রী কোণে স্থাপন করা হয়?
  1. ক) 30°
  2. খ) 45°
  3. গ) 60°
  4. ঘ) 90°
ব্যাখ্যা

পাহাড়ি রাস্তা গুলো মাঝে মাঝে ৯০° ডিগ্রি কোণে বা তার কাছাকাছি পরিমাণে বেকে যায়।  এতে করে বাঁকের উভয় পাশ থেকে আগত গাড়ি গুলো একটা আরেকটা কে দেখতে পায় না। ফলে পাহাড়ি রাস্তার বাঁক গুলোতে মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। 

এই সমস্যা দূর করতে ৯০ ডিগ্রি কোণের বাঁক গুলোতে ৪৫ ডিগ্রি কোণে সমতল দর্পন স্থাপন করা হয়। এর ফলে বাঁকের উভয় পাশের ড্রাইভার একে অপরকে দর্পনের সাহায্যে দেখতে পায়। তাই পাহাড়ি রাস্তায় দূর্ঘটনা এড়াতে বড় বড় সমতল দর্পন স্হাপন করা হয়।

 SOURCE: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,২১১.
পেরিস্কোপের প্রধান অংশ কোনটি?
  1. দুটি বৃত্তাকার লেন্স
  2. একটি ফোকাল লেন্স
  3. একটি বৃত্তাকার লেন্স ও একটি দর্পণ
  4. দুটি সমতল দর্পণ
ব্যাখ্যা

- সাধারণত পেরিস্কোপ মূলত আলোর প্রতিফলনের সূত্র কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়। এতে একটি দীর্ঘ টিউব বা নলের দুই প্রান্তে দুটি সমতল দর্পণ একে অপরের সমান্তরালে এবং নলের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। উপরের দর্পণে আলো প্রতিফলিত হয়ে নিচে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে এবং সেখান থেকে পুনরায় প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখে পৌঁছায়, যার ফলে সরাসরি দেখা যায় না এমন বস্তুও দেখা সম্ভব হয়

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা এর মাধ্যমে দেখা যায়। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।  

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,২১২.
নিচের কোন যৌগটির জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির?
  1. NaCl 
  2. Na2SO4 
  3. Na2CO3 
  4. FeCl3
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। 
- লবণের ধনাত্মক আয়নটি ক্ষার থেকে আসে, তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয়মূলক (Basic radical) বলে। 
- আর লবণের ঋণাত্মক আয়নটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে, তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক (Acid radical) বলে। 
- তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ প্রকৃতির। 
যেমন- NaCl, Na2SO4 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ। 
- তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির। 
যেমন- FeCl3, Zn(NO3)2 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ অম্লীয়। 
- তীব্র ক্ষার ও মৃদু এসিডের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 
যেমন- Na2CO3, CH3COONa (সোডিয়াম ইথানয়েট) ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২১৩.
মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ সর্বোচ্চ-
  1. ভূপৃষ্ঠে
  2. ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার গভীরে
  3. এভারেস্টের চূড়ায়
  4. ভূকেন্দ্রে
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষজ ত্বরণের মান:
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম।
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে এ এর মান শূন্য।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,২১৪.
বায়ুতে কোন গ্যাসটির অভাব হলে সামান্য আগুনেই পৃথিবীময় আগুন ছড়িয়ে পড়তো?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) জলীয়বাষ্প
ব্যাখ্যা
- বায়ুর সক্রিয় অক্সিজেনের লঘুকারক হিসেবে নাইট্রোজেন বায়ুতে বিদ্যমান।
- নাইট্রোজেন না থাকলে বিশুদ্ধ অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসক্রিয়ার ফলে জীবদেহে এত বেশি তাপ উৎপন্ন হতো যে— জীবদেহ নিজের শরীরের তাপেই দগ্ধ হতো।   
- তাছাড়া শুধু অক্সিজেন দ্বারা দহন  ক্রিয়া এতো দ্রুত সংঘটিত হতো যে সামান্য আগুনেই পৃথিবীময় আগুন ছড়িয়ে পড়তো এবং অগ্নিনিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতো না। 
- এছাড়াও নাইট্রোজেন উদ্ভিদ ও জীবদেহে প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের প্রধান উপকরণ। 
- বায়ুস্থ নাইট্রোজেনকে কাজে লাগিয়ে সার ও বিভিন্ন রাসায়নি যৌগ বর্তমানে ব্যাপক হারে উৎপাদন ও ব্যবহার করা হচ্ছে।
 
উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২১৫.
ইটিপি কোন বর্জ্য পরিশোধন করে?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বস্তুকণা
  4. গ্যাসীয়
ব্যাখ্যা
- রাসায়নিক শিল্প কারখানার তরল বর্জ্যকে effluent বলে। 
- এ সকল বর্জ্যে বিভিন্ন দূষক পদার্থ থাকে যা বাতাস, পানি ও মাটি তথা সমগ্র পরিবেশ দূষিত করে। 
- তাই শিল্প কারখানার এ সব বর্জ্য পদার্থকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে পরিত্যাগের পূর্বে এদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকর পদার্থসমূহকে পৃথক করা প্রয়োজন। 
- শিল্পজাত তরল বর্জ্যের বিশোধনকল্পে প্রতিটি শিল্প কারখানায় তরল বর্জ্য বিশোধন প্লান্ট (Effluent Treatment Plant, ETP) স্থাপন করা আবশ্যক। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৬.
শব্দ দূষণ পরিমাপ করতে কোন একক ব্যবহার করা হয়?
  1. Nanometer
  2. Hertz
  3. Decibel
  4. Newton
ব্যাখ্যা

• শব্দ দূষণ পরিমাপের জন্য সাধারণত ডেসিবেল (Decibel) একক ব্যবহার করা হয়। শব্দের তীব্রতা বা লাউডনেসকে ডেসিবেলে মাপা হয়। বেশি ডেসিবেলের শব্দ মানুষের কানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শোনা হলে শুনার সমস্যা তৈরি করতে পারে। অন্য একক যেমন ন্যানোমিটার, হার্টজ বা নিউটন শব্দের দূষণ মাপার জন্য ব্যবহার হয় না। তাই শব্দ দূষণের মাত্রা বোঝাতে ডেসিবেল সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

শব্দদূষণ:
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
- সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১৭.
এক্স রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কেমন? 
  1. আলোর চেয়ে অনেক ছোট
  2. আলোর চেয়ে অনেক বড়
  3. আল্ট্রাসনিক তরঙ্গের মতো
  4. আলোর সমান
ব্যাখ্যা
এক্স-রশ্মির ধর্ম: 
- এক্স রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
- এক্স রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্স রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্স রশ্মি জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
- এক্স রশ্মির তরঙ্গ তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্স রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এক্স রশ্মি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- এক্স রশ্মি আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটায়। 
- এক্স রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্স-রে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্স-রে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
- এক্স রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্স অদৃশ্য রশ্মি, সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৮.
কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. তামা
  2. ইস্পাত
  3. পিতল
  4. স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে।
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়।
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা।
- উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।

• অচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২১৯.
টানা তারের ক্ষেত্রে টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে কম্পাঙ্ক (f) তারের দৈর্ঘ্য (l)-এর সাথে কী সম্পর্কযুক্ত?
  1. দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক
  2. দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক
  3. দৈর্ঘ্যের বর্গের সমানুপাতিক
  4. দৈর্ঘ্যের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা

• টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে টানা তারের কম্পাঙ্ক তারের দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক।

• টানা তারের আড় কম্পনের সূত্র:
- একটি তারকে দুই প্রান্তে দৃঢ়ভাবে বেঁধে নির্দিষ্ট বলে টান টান করে রাখা হয়।
- তারটিকে দৈর্ঘ্যের সাথে লম্বভাবে টেনে ছেড়ে দিলে আড় তরঙ্গ উৎপন্ন হয়।
- উৎপন্ন তরঙ্গ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- স্থির তরঙ্গের ফলে তারটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কে কাঁপতে থাকে।
- ফরাসী বিজ্ঞানী মার্সেন ১৬৩৬ সালে টানা তারের কম্পনের সূত্রসমূহ আবিষ্কার করেন।

• দৈর্ঘ্যের সূত্র:
- কোনো কম্পমান তারের টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে কম্পাঙ্ক (f) তারের দৈর্ঘ্য (l)-এর ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, f ∝ 1 / l যখন T ও m স্থির থাকে।
- তারের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে কম্পাঙ্ক হ্রাস পায়।
- তারের দৈর্ঘ্য কমলে কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। তাই ছোট তার তীক্ষ্ণ সুর এবং বড় তার গুরু সুর উৎপন্ন করে।

• টানের সূত্র:
- কোনো কম্পমান তারের দৈর্ঘ্য (l) স্থির থাকলে কম্পাঙ্ক (f) টান (T)-এর বর্গমূলের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, f ∝ √T যখন l ও m স্থির থাকে।

• ভরের সূত্র:
- দৈর্ঘ্য (l) ও টান (T) স্থির থাকলে কম্পাঙ্ক (f) প্রতি একক দৈর্ঘ্যের ভর (m)-এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।
অর্থাৎ, f ∝ 1 / √m যখন l ও T স্থির থাকে।

উপর্যুক্ত তিনটি সূত্র একত্র করে পাওয়া যায়,


উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

১,২২০.
কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাট স্কেল সমান তাপমাত্রা প্রদর্শন করে?
  1. ক) - ৪০ ডিগ্রি
  2. খ) ৪০ ডিগ্রি
  3. গ) ১০০ ডিগ্রি
  4. ঘ) ০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো -
C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]

এখন, সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/5 = (x - 32)/ 9
Or, 9x = 5x - 160
Or, 4x = -160
Or, x = -40

অর্থাৎ, - 40 ডিগ্রিতে সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ফারেনহাইট তাপমাত্রা সমান।
১,২২১.
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর
- ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়।
- ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন ( J. Bardeen ), ডবিণ্ঢউ ব্রাটেন (W. Brattain) ও ডবিউ সকলে (W. Shockley) ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিনজনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
- ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

সংজ্ঞা: দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
সুতরাং একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত।

গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার:
(১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং
(২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২২.
পাকা আনারসে কোন ধরনের এস্টার বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) অকটাইল অ্যাসিটেড
  2. খ) মিথাইল বিউটারেট
  3. গ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
  4. ঘ) ইথাইল বিউটারেট
ব্যাখ্যা

- এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
- এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
- পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
- পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
- নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।

১,২২৩.
কোয়াসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি নয়? 
  1. সৌরজগতের চেয়ে ছোট 
  2. দেখতে নক্ষত্রের মতো 
  3. লোহিত সরণ খুব বেশি 
  4. তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস
ব্যাখ্যা

- কোয়াসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়- সৌরজগতের চেয়ে ছোট। 

কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২২৪.
একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল কত হবে? 
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কম
  4. ভূ-পৃষ্ঠের সমান
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য, তাই একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে। 
- একটি পূর্ণ দোলন এর জন্য সরল দোলকের যে সময় লাগে তাকে দোলনকাল বলে। 
- দোলনকাল অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৫.
খর পানি বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) যে পানি ঘোলা ও লবণাক্ত
  2. খ) যে পানিতে সাবানের ফেনা ভালো হয় না
  3. গ) যে পানি ঘোলা ও জোয়ারভাটা সম্পন্ন
  4. ঘ) যে পানিতে চিনির শরবত তৈরি করা যায় না
ব্যাখ্যা
যে পানি সাবানের সাথে সহজে ফেনা উৎপন্ন করে না, অনেক সাবান খরচ করার পর ফেনা উৎপন্ন করে তাকে খর পানি বলে।
খর পানিতে সাবান ফেনা না দিলেও ডিটারজেন্ট উত্তম ফেনা দেয়।
১,২২৬.
Who is the discoverer of the law governing the refraction of light?
  1. Willebrord
  2. Young
  3. Newton
  4. Galileo
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
প্রতিসরণ (Refraction): 
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে। 
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে। 

প্রতিসরণের সূত্র: 
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে। 
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন, তাই এ সূত্রটিকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়। 

যেমন- 
(১) দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে। 
(২) এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব। 
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৭.
পরমাণুর N শেলে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. 2 টি
  2. 8 টি
  3. 18 টি
  4. 32 টি
ব্যাখ্যা
• পরমাণুর শক্তিস্তর:
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি।

এ সূত্রানুসারে, 
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 হলে, 
- K শেল বা প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 12) টি = 2 টি। 

- দ্বিতীয় বা L শক্তিস্তরের জন্য n = 2 হলে, 
- L শেল বা দ্বিতীয় শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 22) টি = 8 টি। 

- তৃতীয় বা M শক্তিস্তরের জন্য n = 3 হলে, 
- M শেল বা তৃতীয় শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 32) টি = 18 টি। 

- চতুর্থ বা N শক্তিস্তরের জন্য n = 4 হলে, 
- N শেল বা চতুর্থ শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 42) টি = 32 টি। 
- এভাবে প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২২৮.
মৃৎক্ষার ধাতু কোনটি?
  1. Mg
  2. Rb
  3. Na
  4. Li
ব্যাখ্যা
মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৯.
9.8 N ওজনের কোনো বস্তুর চন্দ্রে ওজন কত?
  1. ক) 19.6N
  2. খ) 16N
  3. গ) 7.8N
  4. ঘ) 1.63N
ব্যাখ্যা
চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ছয় ভাগের এক ভাগ। 9.8 N ওজনের কোনো বস্তুর চাঁদে ওজন 9.8N/6 = 1.63N
১,২৩০.
সেলুলোজ থেকে কোনটি প্রস্তুত করা হয়?
  1. ক) তুলা
  2. খ) রেশম
  3. গ) রেয়ন
  4. ঘ) পশম
ব্যাখ্যা
রেয়ন
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক উদ্ভিজ সেলুলোজ থেকে রেয়ন প্রস্তুত করা হয়। 
- কৃত্রিম তন্তুর মধ্যে রেয়ন হলো প্রথম ও প্রধান তন্তু। 
- রেয়ন বস্ত্র মোটামুটি টেকসই হলেও বেশ সুন্দর, উজ্জ্বল, অভিজাত ও মনোরম।
- অধিক তাপে রেয়ন গলে যায়। তাই রেয়ন বস্ত্র কম তাপে সতর্কতার সাথে ইস্ত্রি করা উচিত। 
- রেয়ন তৈরির উপজাত পরিবেশের জন্য হুমকি। রেয়ন শিল্পে পরিবেশ বান্ধব প্রস্তুতি নিতে হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩১.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে হিগের কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে?
  1. ক) ক্রলার ট্রান্সপোর্টার
  2. খ) লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার
  3. গ) স্মল হ্যাড্রন কলাইডার
  4. ঘ) ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটি
ব্যাখ্যা
লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার যন্ত্রের সাহায্যে ২০১৩ সালে হিগসের কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে৷ এই কণাকে ঈশ্বর কণা বলে অভিহিত করা হয়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,২৩২.
লোহা, কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে কোন সংকর ধাতু প্রস্তুত করা হয়?
  1. পিতল
  2. কাঁসা
  3. ডুরালুমিন
  4. মরিচাবিহীন ইস্পাত
ব্যাখ্যা

• মরিচাবিহীন ইস্পাত লোহা, কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয় এবং এটি মরিচা প্রতিরোধী ও অধিক টেকসই।

• সংকর ধাতু:
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়।
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- সাধারণ বিশুদ্ধ ধাতুর অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়।
- যেমন—বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গহনা তৈরির উপযোগী নয়, তাই স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমাণ রূপা মিশিয়ে গহনা তৈরি করা হয়।
- আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়, যা লোহার তুলনায় অধিক শক্ত ও টেকসই।

• উল্লেখযোগ্য সংকর ধাতু ও ব্যবহার:
- ইস্পাত → লোহা ৯৯%, কার্বন ১%; ব্যবহার—যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন, ছুরি, কাঁচি, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।
- মরিচাবিহীন ইস্পাত → লোহা ৭৪%, ক্রোমিয়াম ১৮%, নিকেল ৮%; ব্যবহার—যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন, ছুরি, কাঁচি, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।
- পিতল (ব্রাস) → তামা ৬৫%, জিঙ্ক ৩৫%; ব্যবহার—অলংকার, বৈদ্যুতিক সুইচ, দরজার হাতল, পাত্র ইত্যাদি।
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ) → তামা ৯০%, টিন ১০%; ব্যবহার—যন্ত্রাংশ, ঘণ্টা, তৈজসপত্র ইত্যাদি।
- ডুরালুমিন → অ্যালুমিনিয়াম ৯৫%, কপার ৪%, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম ও লোহা ১%; ব্যবহার—উড়োজাহাজের কাঠামো, বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ ইত্যাদি।
- স্বর্ণ → ২৪ ক্যারেটে ১০০% স্বর্ণ; ২১ ক্যারেটে ৮৭.৫% স্বর্ণ ও ১২.৫% অন্যান্য ধাতু; ২২ ক্যারেটে ৯১.৬৭% স্বর্ণ ও ৮.৩৩% অন্যান্য ধাতু; ব্যবহার—অলংকার প্রস্তুতিতে।

• অন্যান্য অপশন:
- পিতল → তামা ও জিঙ্কের সংকর ধাতু।
- কাঁসা → তামা ও টিনের সংকর ধাতু।
- ডুরালুমিন → অ্যালুমিনিয়ামভিত্তিক সংকর ধাতু, উড়োজাহাজ নির্মাণে ব্যবহৃত।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৩.
ক্যাথোড রশ্মি মূলত প্রবাহ কীসের প্রবাহ?
  1. ক) পজিট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
- ক্যাথোড থেকে নির্গত এক প্রকার অতিক্ষুদ্র কণিকা নলের দেয়ালের গায়ে ধাক্কা খাওয়ার ফলে প্রতিপ্রভার সৃষ্টি হয়।
- ক্যাথোড থেকে নির্গত হয় বলেই এই অতিক্ষুদ্র কণিকার স্রোতকে ক্যাথোড রশ্মি বলে। 
- ক্যাথোড রশ্মি “ইলেকট্রন”- এর প্রবাহ ছাড়া অন্য কিছু নয় ।
- জার্মানীর বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন (Wilhelm Roentgen) ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে আকস্মিক ভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,২৩৪.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না?
  1. জলবিদ্যুৎ
  2. বায়োগ্যাস
  3. কয়লা
  4. ভূতাপীয় শক্তি
ব্যাখ্যা
- 'কয়লা' একটি অনবায়নযোগ্য শক্তি, যার কারণে তা পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 

শক্তির উৎস: 

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
i) নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং 
ii) অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

নবায়নযোগ্য শক্তি: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হলো - 
• সৌর শক্তি, 
• জলবিদ্যুৎ, 
• বায়ু বিদ্যুৎ, 
• বায়োগ্যাস, 
• ভূতাপীয় শক্তি। 

অনবায়নযোগ্য শক্তি: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনাবয়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হলো - 
কয়লা
• খনিজ তেল, 
• প্রাকৃতিক গ্যাস, 
• নিউক্লিয় শক্তি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩৫.
নিউক্লিয় বিক্রিয়ার সময় নিউক্লিয়াসকে আঘাত করা হয় সাধারণত কোনটি দ্বারা?
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন
  3. পজিট্রন
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার সময় নিউক্লিয়াসকে আঘাত করা হয় সাধারণত নিউট্রন দ্বারা।

- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর বা আয়নের সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে।
- নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না।
- কিন্তু নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে।

- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া:
- যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে।
- এর সাথে নিউট্রন আর প্রচুর (Fission) পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- স্বল্পগতির নিউট্রন দিয়ে   23592U কে আঘাত করলে নিউক্লিয়াসটি প্রায় দুটি সমান অংশে বিভক্ত হয়ে   14156Ba ও  9236Kr এর নিউক্লিয়াস ও তিনটি নিউট্রন  10n  ও তার সাথে প্রচুর পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
 
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১,২৩৬.
নিচের কোনটি পদার্থ? 
  1. বিদ্যুৎ 
  2. তাপ 
  3. আলো 
  4. বাতাস 
ব্যাখ্যা

পদার্থ: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ। 
- পদার্থের ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং জড়তা আছে। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- বাতাস হচ্ছে একটি মিশ্র পদার্থ যা পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তর ঘটে। 
১। কঠিন পদার্থ: 
- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 

২। তরল পদার্থ: 
- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 

৩। বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ: 
- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- তাপ, বিদ্যুৎ ও আলো হচ্ছে এক ধরনের শক্তি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৭.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কোন বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে? 
  1. মাধ্যমের ধরন ও তড়িৎ প্রবাহ
  2. কণাদ্বয়ের আয়তন ও তাপমাত্রা
  3. কণাদ্বয়ের আকার ও তাদের রঙ
  4. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,২৩৮.
চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক তীব্রতার অনুপাতকে বলা হয় -
  1. চৌম্বক প্রাবল্য
  2. চৌম্বক প্রবেশ্যতা
  3. চৌম্বক গ্রাহিতা
  4. চৌম্বক প্রবণতা
ব্যাখ্যা
♦ চৌম্বক প্রবেশ্যতা (Magnetic permeability): 
- চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ (B) ও চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুাতকে ঐ পদার্থের চৌম্বক প্রবশ্যেতা বলে।
- একে μ (মিউ) দ্বারা প্রকাশ করা হয় 

- এর একক TmA-1

♦ চৌম্বক প্রাবল্য (Magnetic Intensity): 
- চৌম্বকক্ষেত্রের কোনো চৌম্বক আবেশ এবং চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতকে চৌম্বক প্রাবল্য বা তীব্রতা বলে ।
- একে H দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
এর একক Am-1

চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা (Magnetic susceptibiliby): 
- কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকায়ন তীব্রতা (I) এবং চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুপাতকে চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা বলে । 
- এটি একটি এককবিহীন রাশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩৯.
নিচের কোন অবস্থায় ট্রান্সফরমার কাজ করবে না?
  1. যখন AC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
  2. যখন কয়েল দুটি চৌম্বকীয় কোরের উপর আবৃত থাকে
  3. যখন DC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
  4. যখন সেকেন্ডারি কয়েল লোডের সঙ্গে যুক্ত থাকে
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমার (Transformer):
- ট্রান্সফরমার হলো একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস যা AC ভোল্টেজকে অন্য ভোল্টেজে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
- এর মূল উপাদান হলো দুটি কয়েল: প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি , যা সাধারণত একটি লৌহ বা ফেরাইট কোরের চারপাশে আবৃত থাকে।

• কাজের মূল নীতি:
- ট্রান্সফরমারের কাজ ফ্যারাডে’র ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন-এর উপর নির্ভর করে।
- সেকেন্ডারি ভোল্টেজ তৈরি হয় প্রাইমারি কয়েলের পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র (dΦ/dt) থেকে।
- AC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, তাই ট্রান্সফরমার কাজ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

১,২৪০.
নিম্নের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. ক) আইসোটোপে ভর সংখ্যা অভিন্ন হয়।
  2. খ) আলফা, বিটা, গামা তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
  3. গ) নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি (α-কণা), বিটা রশ্মি (β-কণা) ও গামা রশ্মি (γ-কণা) হলো তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
এ সব রশ্মির বিকিরণের ফলেই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন প্রকৃতির নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। এরা হলোঃ
ক) নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া
খ) নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া 

- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া সংঘঠিত হলে অনেক বেশি তাপ শক্তির উদ্ভব ঘটে। এ তাপকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের ভারী নিউক্লিয়াসকে উচ্চগতি সম্পন্ন নিউট্রন দ্বারা আঘাত করার ফলে দুটি ভিন্ন ভর ও পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়।
এ প্রক্রিয়াতে প্রচুর তাপের সৃষ্টি হয়। এ তাপকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

-  আইসোটোপ: যেসব মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরমাণুর আইসোটোপ বলে। পারমাণবিক সংখ্যা বলতে মৌলের পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা বোঝায়।
১,২৪১.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. লোহা - চৌম্বক পদার্থ
  2. অ্যালুমিনিয়াম - অচৌম্বক পদার্থ
  3. নিকেল - চৌম্বক পদার্থ
  4. পারদ - চৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) পারদ - চৌম্বক পদার্থ (কারণ পারদ একটি অচৌম্বক পদার্থ)

- পারদ একটি অচৌম্বক পদার্থ (বিশেষত ডায়াম্যাগনেটিক), তাই এটি চৌম্বক পদার্থ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
- লোহা, নিকেল এবং কোবাল্ট হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থ, যার অর্থ এগুলো চুম্বক দ্বারা দৃঢ়ভাবে আকৃষ্ট হয় এবং চুম্বক ক্ষেত্রে রাখলে নিজেরাও চুম্বকে পরিণত হতে পারে।

- অ্যালুমিনিয়াম একটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ, যা চুম্বক দ্বারা খুব কম পরিমাণে আকৃষ্ট হয়, তাই এটিকে প্রায়শই অচৌম্বক পদার্থের শ্রেণীভুক্ত করা হয়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

১,২৪২.
নিরাপদ কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম নাইট্রেট
  2. ক্যালসিয়াম প্রোপানয়েট
  3. সোডিয়াম বেনজ্যোয়েট
  4. ক্যালসিয়াম কার্বাইড
ব্যাখ্যা
• নিরাপদ কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে পরিচিত সোডিয়াম বেনজ্যোয়েট।

• খাদ্য সংরক্ষক:
- খাদ্যবস্তুর পচন রোধকরূপে নির্দিষ্ট স্বল্প মাত্রায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থসমূহকে কৃত্রিম বা রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভস্ বলা হয়।
- আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভসসমূহ তিন শ্রেণিভুক্ত। যেমন,
(ক) অ্যান্টি মাইক্রোবায়েল এজেন্ট,
(খ) অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এজেন্ট,
(গ) কিলেটিং এজেন্ট। 

ক) অ্যান্টি মাইক্রোবায়েল:
- অ্যান্টিমাইক্রোবায়েল রাসায়নিক প্রিজারভেটিভস্ ব্যাকটেরিয়া, ঈস্ট ও মোল্ডস-এর বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
- এসব রাসায়নিক পদার্থ মাইক্রো অর্গানিজম কোষের মেমব্রেন ফাটিয়ে দেয়, এনজাইমের ক্রিয়া রোধ করে থাকে।
- এ সব প্রিজারভেটিভ অম্লধর্মী হয়। যেমন-
১) সোডিয়াম বেনজোয়েট ও বেনজয়িক এসিড,
২) পটাসিয়াম সরবেট, সোডিয়াম সরবেট ও ক্যালসিয়াম সরবেট, (
৩) সায়ট্রিক এসিড,
৪) অ্যাসিটিক এসিড,
৫) ক্যালসিয়াম প্রোপানোয়েট,
৬) নাইট্রেট ও নাইট্রাইট লবণ,
৭) সালফাইট, SO2 গ্যাস (পটাসিয়াম মেটা বাইসালফাইট)।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
১,২৪৩.
একটি গোলকের ব্যাসার্ধ r = 5.00 ± 0.02 cm. গোলকের আয়তনের শতকরা ত্রুটি কত হবে?
  1. 0.12%
  2. 0.6%
  3. 1.20%
  4. 3 %
ব্যাখ্যা

আমরা জানি,
গোলকের আয়তন, V = (4/3) πr2
অতএব, আয়তন V ব্যাসার্ধ r-এর ঘাত ৩ এর সমানুপাতিক।
V∝r3
আবার,         
ΔV/V = 3(Δr/r)
এখানে,
Δr = 0.02cm
r = 5cm
তাহলে,
ΔV/V = 3 × (0.02/5)
         = 3 × 0.004
         = 0.012

শতকরা ত্রুটি = 0.012 × 100
                     = 1.2%

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৪৪.
আকাশ নীল কেন দেখা যায়? 
  1. বাতাসে অক্সিজেনের কারণে 
  2. বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে 
  3. সূর্যের আলোতে নীল রঙের আধিক্য থাকার কারণে 
  4. বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম কণার কারণে নীল আলো বেশি ছড়ায় 
ব্যাখ্যা

বিক্ষেপণ: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপন বলে। 
- আলোর বিক্ষেপন নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপন বেশি হয়। ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৪৫.
যে তাপ সঞ্চালন পদ্ধতিতে কোনো জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, সেটি হলো- 
  1. পরিবাহীতা
  2. পরিবহন
  3. বিকিরণ
  4. পরিচলন 
ব্যাখ্যা

- বিকিরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে তাপ কোনো জড় মাধ্যম (কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) ছাড়াই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হতে পারে। এই পদ্ধতিতে তাপ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের আকারে প্রবাহিত হয়, যা শূন্যস্থানের মধ্য দিয়েও ভ্রমণ করতে পারে। যেমন— সূর্য থেকে তাপ বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে আসে। 

তাপ সঞ্চালন: 
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে, তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে। 
- তাপ সঞ্চালন তিন ভাবে হয়। 
যথা- পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ। 

তাপ বিকিরণ: 
- পৃথিবীতে সূর্যই তাপের মূল উৎস। 
- সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে প্রায় সবটুকুই ফাঁকা, কোনো বায়বীয় পদার্থও নেই। 
- সূর্য থেকে তাপ আসে বিকিরণের মাধ্যমে, যেখানে কোনো জড় মাধ্যম নেই, সেখানে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- আলো এক রকমের তরঙ্গ, যা কোনো মাধ্যম ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। 
- বিকিরণের সময় তাপ আলো বা বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়। আসলে মাধ্যম থাকুক বা না থাকুক, উত্তপ্ত বস্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ নির্গত করে।
- কোনো পদার্থ তাপ বিকিরণ করলে তাকে বিকিরক বলে। আবার কোনো পদার্থ তাপ শোষণ করলে তাকে বলে শোষক। 
- কোনো পদার্থ তার তাপমাত্রার জন্য তাপ বিকিরণ বা শোষণ করলে তাকে তাপীয় বিকিরণ (Thermal radiation) বা তাপীয় শোষণ বলে। 
- বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, কোনো পদার্থ ভালো তাপ বিকিরক হলে সেটি ভালো তাপ শোষকও হয়। তা না হলে একটি বিকিরক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ বিকিরণ কার ক্রমশ শীতল হতে থাকবে এবং একটি শোষক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ শোষণ করে ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,২৪৬.
কার্বলিক এসিডের রাসায়নিক নাম কী ?
  1. ক) ফেনল
  2. খ) ডয়টেরিয়াম অক্সাইড
  3. গ) ট্রাইক্লোরো মিথেন
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
কার্বলিক অ্যাসিড, যেটি ফেনল হিসেবেও পরিচিত, একটি অ্যারোমেটিক জৈব যৌগ।
• ফেনলের আণবিক সংকেত: C6H5OH ।
• এটি সাদা দানাদার কঠিন পদার্থ এবং সহজে উদ্বায়ী।
• ফেনলের অণুতে একটি ফিনাইল মূলক থাকে (-C6H5) যা একটি হাইড্রোক্সিল মূলক (-OH) এর সাথে বন্ধনে যুক্ত থাকে।

অপরদিকে -
» মার্বেল পাথর এর  রাসায়নিক নাম   ---ক্যালসিয়াম কার্বনেট
» ভারী জল এর  রাসায়নিক নাম   - --ডয়টেরিয়াম অক্সাইড
» ক্লোরোফর্ম  এর  রাসায়নিক নাম  - -----ট্রাইক্লোরো মিথেন

SOURCE: রসায়ন বিজ্ঞান, এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,২৪৭.
খাবার সোডার রাসায়নিক নাম কী? 
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
  4. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সংকেত: 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 

- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3). 
- চুনের নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO). 
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2
- চুন (CaO) এর সাথে পানি (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- মরিচার রাসায়নিক নাম - Fe2O3.nH2O. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪৮.
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক কোনটি?
  1. ক) বক্সাইট
  2. খ) কোরান্ডাম
  3. গ) ক্রায়োলাইট
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
- আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪৯.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) পরমাণু
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) অণু
  4. ঘ) প্রোটন
ব্যাখ্যা

- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।
পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক।
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি।
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না।

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৫০.

তড়িৎ বর্তনীতে এ প্রতীক দ্বারা কী বুঝানো হয়?
  1. স্থির রোধ
  2. পরিবর্তনশীল রোধ 
  3. সংযোগহীন তার
  4. ভূ - সংযোগ ধারক
ব্যাখ্যা
পরিবর্তনশীল রোধ:

- তড়িৎ বর্তনীতে এ প্রতীক দ্বারা "পরিবর্তনশীল রোধ" বুঝানো হয়।
- পরিবর্তনশীল রোধকে রিওস্টেট-ও বলা হয়।
- যে রোধকে ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যায় তাকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে।

এখানে, চিত্রটিতে ইলেকট্রিক সার্কিট বা তড়িৎ বর্তনীতে ব্যবহার করা প্রতীক চিহ্ন দেওয়া আছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৫১.
পানিতে শব্দের বেগের পরিমাণ কত?
  1. ক) 1339 m/s
  2. খ) 1493 m/s
  3. গ) 1639 m/s
  4. ঘ) 1254 m/s
ব্যাখ্যা

পানিতে শব্দের বেগ ১৪৯৩ মি/সে।
বাতাসে শব্দের বেগ 330 মি/সে।

পানিতে শব্দের বেগ বাতাসে শব্দের বেগের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কারণ, পানিতে কণাগুলো কাছাকাছি অবস্থান করে, কিন্তু, বাতাসে কণাগুলো পানির কণাগুলো থেকে বেশি দূরত্বে অবস্থান করে।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।

১,২৫২.
নিচের কোনটিতে ক্লোরিন এর জারণ সংখ্যা বেশি?
  1. ক) KCI
  2. খ) KCIO
  3. গ) KCIO
  4. ঘ) KCIO
ব্যাখ্যা
ধরি,
Cl এর জারণ সংখ্যা x

KCI এ, Cl এর জারণ সংখ্যা -1

KCIO এ,
+ 1 + x - 2 = 0
⇒ x - 1 = 0
∴ x = 1

KCIO2 এ,
+ 1 + x - (2 × 2) = 0
⇒ 1 + x - 4 = 0
∴ x = 3

KClO3 এ,
+1 + x - (2 × 3) = 0
⇒ x - 5 = 0
∴ x = 5

অতএব, KClO3 এ Cl এর জারণ সংখ্যা বেশী।
১,২৫৩.
নিচের কোনটি প্যারাফিন নামে পরিচিত?
  1. বিউটেন
  2. প্রোপাইন
  3. ইথিন
  4. এসিটিক এসিড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
অ্যালকেনের বন্ধন ভাঙা অনেক কঠিন। তাই অ্যালকেন রাসায়নিকভাবে অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এজন্য এদেরকে প্যারাফিন বলে। প্যারাফিন অর্থ আসক্তিহীন।
মিথেন, ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ইত্যাদি হলো অ্যালকেন। ইথিন একটি অ্যালকিন, প্রোপাইন একটি অ্যালকাইন এবং এসিটিক এসিড একটি কার্বক্সিলিক এসিড।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,২৫৪.
মানবদেহে কোন ধাতুর আধিক্য রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে বাঁধা প্রদান করে?
  1. Cd
  2. Pb
  3. Fe
  4. As
ব্যাখ্যা
লেডের উৎস: 
- লেড-এসিড স্টোরেজ ব্যাটারির ইলেকট্রোড তৈরিতে লেড পারঅক্সাইড PbO2 ব্যবহৃত হয়। 
- পরিত্যক্ত স্টোরেজ ব্যাটারির PbO2 মাটিতে ও সারফেস ওয়াটারে Pb2+ আয়নরূপে মিশে থাকে। 
- কয়লার দহনকালে কয়লার মধ্যস্থ লেড যৌগ থেকে লেড বাষ্পরূপে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। 
- এছাড়া হার্বিসাইড লেড আর্সেনেট যুক্ত পাউডার এবং স্প্রে থেকেও লেড বাতাসে সংক্রমিত হয়। 
- পরে অধঃক্ষেপরূপে বাতাস থেকে এসব লেড যৌগ ও লেড কণা মাটিতে পুকুর ও জলাভূমিতে মিশে থাকে। 
- মাটি ও পানি থেকে লেড (II) আয়নরূপে উদ্ভিদ দেহে প্রবেশ করে। 
- পরে উদ্ভিদ থেকে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির দেহে চর্বিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- পেট্রোল ইঞ্জিনে ব্যবহৃত জ্বালানির অকটেন নাম্বার বৃদ্ধির জন্য এখনও টেট্রাঅ্যালকাইল লেড (PbR4) ব্যবহৃত হয়। 
- মোটর ইঞ্জিনে জ্বালানির দহনে সৃষ্ট বর্জ্য গ্যাসে লেড বাষ্প লেড অক্সাইডে পরিণত হয়ে মাটিতে অধঃক্ষিপ্ত হয়। 
- এ উভয় উৎসের Pb2+ আয়ন মাটিসহ পুকুর, নদী ও হ্রদের পানিতে মিশে থাকে। 

খাদ্য শৃঙ্খলে Pb-এর প্রবেশ পথ: 
- মাটি থেকে উদ্ভিদে এবং উদ্ভিদ থেকে গরু, ছাগল ও পোল্ট্রির হাঁস-মুরগির দেহে তিন ধাপে সঞ্চিত হয়।
- এ সব প্রাণীর মাংস খাদ্যরূপে তৃতীয় স্তরের খাদক মানুষ গ্রহণ করলে মানুষের দেহে লেডের বিষক্রিয়া ঘটায়।
- আবার পুকুর, নদী ও হ্রদের পানি লেড দ্বারা দূষিত হলে ঐ লেড প্রথমে প্লাঙ্কটনে এর পরে মাছ ও পাখির দেহে সঞ্চিত হয়। 
- সবশেষে ঐ মাছ ও পাখির মাংস লেড দূষিত হওয়ায় তা খাদ্য শৃঙ্খলের তৃতীয় পর্যায়ভুক্ত খাদক মানুষের দেহে লেডের বিষক্রিয়া ঘটায়। 

লেডের বিষক্রিয়ার প্রভাব: 
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর রিপোর্ট মতে, দেহে লেডের পরিমাণ 50 ppb এর বেশি হলে লেডের বিষক্রিয়া দেখা দেয়। 
- লেডের বিষক্রিয়ায় দাঁতের মাড়ি নীলাভ হয়। 
- এছাড়া লেড হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে বাঁধা দেয়, ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- লেড দূষণের ফলে গর্ভবতী মহিলা মৃত সন্তান প্রসব করেন। 
- সাত বছরের কম বয়সের শিশুর লেড বিষাক্ততায় মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়; শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি বা IQ হ্রাস পায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,২৫৫.
বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রভাব কোনটির উপর কম হয়?
  1. প্রতিসরণ 
  2. বিচ্যুতি
  3. বিক্ষেপণ
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় যা মূলত দৃশ্যমান বিকিরণ অথবা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এই আলোর বিভিন্ন বর্ণকে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- আলোর বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৬.
ক্ষারক মূলত কী কাজ করে? 
  1. অক্সিজেন মুক্ত করে
  2. তাপ বৃদ্ধি করে 
  3. এসিডকে প্রশমিত করে 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

• ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

• তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

• মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৭.
পারমাণবিক চুল্লীতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক চুল্লি: 
- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়। 
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
উল্লেখ্য,
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়

অন্যদিকে,
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং IAEA ওয়েবসাইট।
১,২৫৮.
মশা বা পিঁপড়া মারার অ্যারোসল স্প্রে করলে গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়া কোন প্রক্রিয়ার উদাহরণ? 
  1. ব্যাপন 
  2. নিঃসরণ 
  3. সংকোচন 
  4. বাষ্পীভবন 
ব্যাখ্যা

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
• কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
• রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৯.
'Nuclear Sizes/Length' পরিমাপের একক কোনটি?
  1. Angstrom
  2. Fermi
  3. Newton
  4. Tesla
ব্যাখ্যা
• 'Nuclear Sizes/Length' পরিমাপের একক হচ্ছে Fermi.
→ 1 Fermi = 10-15m

এছাড়া,
- পারমানবিক ব্যাসার্ধ পরিমাপের একক Angstrom.
- বলের একক হচ্ছে নিউটন।
- চৌম্বক আবেশের একক টেসলা।

সূত্র:
1. University of Southampton [Link]
2. উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,২৬০.
বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় কোন ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়?
  1. প্রবাহী ঘর্ষণ
  2. স্থিতি ঘর্ষণ
  3. আবর্ত ঘর্ষণ
  4. চল ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা - 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ: 
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাঁধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 
- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২৬১.
বায়ুর সাপেক্ষে হীরকের প্রতিসরণাঙ্ক কত?
  1. ক) 2.417
  2. খ) 1.447
  3. গ) 1.333
  4. ঘ) 1.306
ব্যাখ্যা
পরম প্রতিসরণাঙ্ক: 
- শূন্য মাধ্যমের সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক। 
অর্থাৎ আলোক রশ্মি যখন শূন্য মাধ্যম থেকে অন্য কোনো মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন শূন্য মাধ্যমের আপতন কোণের সাইন ও সেই মাধ্যমের প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক বিবেচনা করা হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন শূন্য মাধ্যম থেকে কোনো বস্তু মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করে তখন নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক বলে। 
গাণিতিকভাবে শূন্য মাধ্যমে আপতন কোণ i এবং অন্য কোন মাধ্যম 'a' তে প্রতিসরণ কোণ r হলে, 'a' মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক μa প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- সাধারণত বায়ু মাধ্যমের সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ককে ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক হিসাবে ধরা হয়। 
- কাঁচের পরম প্রতিসরণাঙ্ক 1.5 বলতে বুঝায় যে শূন্য মাধ্যম বা বায়ু মাধ্যম থেকে আলোক রশ্মি তীর্যকভাবে কাঁচের মধ্যে প্রবেশ করলে আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইন-এর অনুপাত 1.5 হয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬২.
নিচের কোন মৌলটি বহুরূপতা প্রদর্শন করে?
  1. হাইড্রোজেন
  2. কার্বন
  3. হিলিয়াম 
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

বহুরূপতা: 
- প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে। 
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
- অদানাদার রূপভেদ হলো কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের একটি দানাদার রূপভেদ হলো গ্রাফাইট যা বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,২৬৩.
তড়িৎ প্রবাহের একক কোনটি?
  1. ক) সিমেন্স
  2. খ) কুলম্ব
  3. গ) ওহম
  4. ঘ) অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহের একক : তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয় ।

তড়িৎ প্রবাহের প্রকারভেদ :
তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার— (ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ (খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ

(ক) অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায় । আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়।
 
(খ) পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। যেমন: বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ৬০ বার দিক পরিবর্তন করে।

অন্যদিকে, 
- রোধের একক ওহম।
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স।
- আধানের একক কুলম্ব।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬৪.
গ্যালিলিও কতটি সূত্র প্রস্তাব করেছেন পড়ন্ত বস্তুর জন্য?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• গ্যালিলিও গ্যালিলি পড়ন্ত বস্তুর গতির ওপর গবেষণা করেছিলেন এবং তিনি মূলত ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা নীতি প্রস্তাব করেছিলেন।

• সূত্রগুলো হচ্ছে:
- প্রথম সূত্র:
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।

- দ্বিতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ v ∝ t.

- তৃতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ, h ∝ t2

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।

১,২৬৫.
ক্ষারের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- 
  1. লাল লিটমাসকে নীল করে 
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. লাল লিটমাসকে কমলা করে
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।

• ক্ষারের বৈশিষ্ট্য:
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH মান সাধারণত ৭-এর বেশি, সাধারণত ৮-১৪ এর মধ্যে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৬.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী শক্তির ক্ষুদ্রতম প্যাকেটকে কী বলা হয়?
  1. নিউট্রন
  2. পজিট্রন 
  3. ফোটন
  4. মেসন 
ব্যাখ্যা

- কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, আলো বা অন্যান্য তড়িৎচ্চুম্বকীয় বিকিরণ শক্তির অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ হিসেবে না এসে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের আকারে নির্গত বা শোষিত হয়, এই ক্ষুদ্রতম শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছকে কোয়ান্টাম বলা হয়। যখন বিশেষভাবে আলোক শক্তির কথা বলা হয়, তখন এই কোয়ান্টামকে ফোটন নামে অভিহিত করা হয়। 

প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়। প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়। 
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬৭.
বাসাবাড়ির আইপিএস এর অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো -
  1. ক) নাইট্রিক এসিড
  2. খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) ফসফরিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিনেগারের হলো অ্যাসিডটক এসিড (CH3-COOH) এর 6-10% জলীয় দ্রবণ।
সার কারখানায় নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক এসিড (HPO,) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড  (HCI), নাইট্রিক এসিড (HNO3) বা সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী এসিড।
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৮.
পানি যখন ফুটতে থাকে তার উষ্ণতার কি পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) বাড়তে থাকে
  2. খ) কমতে থাকে
  3. গ) একই থাকে
  4. ঘ) কম-বেশি হয়
ব্যাখ্যা
পানি যখন ফুটতে থাকে তখন পানি আর পানি ফুটে যে বাষ্প তৈরি হয় উভয়ের ১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড উষ্ণতা থাকে। পানি বাষ্পীভূত হওয়ার শুরু থেকে সম্পূর্ণ পানি বাষ্পীভূত হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা/উষ্ণতা পরিবর্তিত হয় না।
১,২৬৯.
কোনাে বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়ােগের ফলে যদি বলের দিকে বলের প্রয়ােগ বিন্দুর এক মিটার সরণ হয় তবে সম্পন্ন কাজের পরিমাণকে বলা হয়-
  1. ক) এক ওয়াট
  2. খ) এক নিউটন
  3. গ) এক জুল/সেকেন্ড
  4. ঘ) এক জুল
ব্যাখ্যা

কাজের একক = বল x সরণ এর একক।
যদি বল F = 1 N, সরণ S = 1 m এবং θ= 0° হয়, তাহলে W = 1J হবে।
1J = 1N m
কোনাে বস্তুর উপর এক নিউটন (N) বল প্রয়ােগের ফলে যদি বলের দিকে বলের প্রয়ােগ বিন্দুর এক মিটার (m) সরণ হয় তবে সম্পন্ন কাজের পরিমাণকে এক জুল (J) বলে।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৭০.
নিচের কোন বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যা পরিবর্তন ঘটে না? 
  1. নন-রেডক্স বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া 
  3. রেডক্স বিক্রিয়া 
  4. দহন বিক্রিয়া 
ব্যাখ্যা

রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- সংযোজন বিক্রিয়া, বিয়োজন বিক্রিয়া, প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি। 

নন-রেডক্স বিক্রিয়া: 
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারণে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- প্রশমন বিক্রিয়া এবং অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭১.
বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. আলোক শক্তিতে
  2. তড়িৎ শক্তিতে
  3. তাপ শক্তিতে 
  4. শব্দ শক্তিতে 
ব্যাখ্যা

বায়ু শক্তি: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে। 
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো। 
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। 
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,২৭২.
কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. লেড
  2. কয়লা
  3. কার্বন
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
হীরক ধাতু: 
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক। 
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়। 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৭৩.
স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব কত সেন্টিমিটার?
  1. ক) ২৬
  2. খ) ৩০
  3. গ) ২৫
  4. ঘ) ২০
ব্যাখ্যা
স্বাভাবিক চোখ ন্যূনতম যে দূরত্ব পর্যন্ত কোন একটা বস্তুকে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পায় সে দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব বলে এবং স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব হচ্ছে 25 সেন্টিমিটার।
১,২৭৪.
R1 এবং R2 ফিলামেন্ট রেজিষ্ট্যান্স এবং বাল্ব দু’টি যথাক্রমে 200w ও 100w এবং R1 এবং R2, এর মধ্যকার রিলেশন কি হবে যদি দুটি বাল্ব একই voltage এ চালিত হয়?
  1. R1 = 2R2
  2. R2 = 4R1
  3. R1 = 4R2
  4. R2 = 2R1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: R1 এবং R2 ফিলামেন্ট রেজিষ্ট্যান্স এবং বাল্ব দু’টি যথাক্রমে 200w ও 100w এবং R1 এবং R2, এর মধ্যকার রিলেশন কি হবে যদি দুটি বাল্ব একই voltage এ চালিত হয়?

সমাধান: 
P = V2/R

200 = V2/R1
100 = v2/R2

200/100 = (V2/R1)/( v2/R2)
⇒ 2 = R2/R1
⇒ R2 = 2R1
১,২৭৫.
ফিউশন বিক্রিয়ায় কোনটি ঘটে?
  1. একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুইটি পরমাণু তৈরি হয়
  2. একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
  3. একটি নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রচণ্ড শক্তি সৃষ্টি হয়
  4. একাধিক পরমাণু ভেঙ্গে একাধিক পরমাণু গঠিত হয়
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে। 

• নিউক্লিয়ার ফিশন:
- নিউক্লিয়ার ফিশন হলো এমন একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া, যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস (যেমন ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239) দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় নিউট্রন ও বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়।
• ব্যবহার:
- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। 
- পারমাণবিক অস্ত্র (Atomic Bomb)। 

• নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion):
- নিউক্লিয়ার ফিউশন (Fusion) হলো এমন একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া, যেখানে দুই বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে এবং এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়।

উদাহরণ:
সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে প্রতিনিয়ত হাইড্রোজেন ফিউশন ঘটে, যার ফলে হিলিয়াম তৈরি হয় ও বিশাল শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১,২৭৬.
সাধারণত আম বা যেকোনো ফল পাঁকাতে ব্যবহৃত হয়-
  1. অ্যাসিটিলিন
  2. ইথিলিন
  3. ক্যালসিয়াম কার্বাইড
  4. ওপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• কাঁচা ফল পাকানো:
- অসাধু ব্যবসায়ী অনেক সময় কাঁচা আম বা ফল কিনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়, ফলে আমের গায়ে দাগ পড়ে না।
- এরপর এই কাঁচা আমের উপর অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্যালসিয়াম কার্বাইডের জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করে, ফলে আম পেকে যায়।
- ক্যালসিয়াম কার্বাইড (CaC₂) এর মধ্যে পানি যোগ করে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করা হয়।
- এই অ্যাসিটিলিন গ্যাস ফল পাকাতে সাহায্য করে।
      CaC2 + 2H2O → C2H2 + Ca(OH)2

- এছাড়া ইথিলিন গ্যাস দ্বারাও কাঁচা আম পাকানো হয়।
- ইথিলিনও আমদের শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
- কার্বাইড দিয়ে আম পাকানো বলতে অ্যাসিটিলিন দ্বারা আম পাকানোর পদ্ধতিকেই বোঝানো হয়।
- সাধারণত পাকা ফল থেকে ইথিলিন (প্রকৃতিক হরমোন) গ্যাস নিঃসৃত হয়ে আশপাশের কাঁচা ফলকেও পাকিয়ে ফেলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৭৭.
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রধানত কোন বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. জারণ বিক্রিয়া
  2. নিউক্লিয় ফিউশন
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. রাসায়নিক দহন
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শক্তির প্রধান উৎস হলো নিউক্লিয় ফিশন (Nuclear Fission) বিক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় একটি ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে (যেমন: ইউরেনিয়াম-২৩৫) নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে দুই বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে বিভক্ত করা হয়। এই বিভাজনের ফলে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি নির্গত হয়, যা ব্যবহার করে পানি ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয় এবং সেই বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 

- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৭৮.
কোনটি শক্তি?
  1. কয়লা
  2. গ্যাস
  3. তাপ
  4. উষ্ণতা
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
- একটি ভাগে আছে পদার্থ যাদের ওজন বা ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয়। 
- অন্যভাগে আছে শক্তি। এদের কোনো ওজন নেই, জায়গা দখল করে না বা বল প্রয়োগে কোনো বাধা দেয় না। এদের আমরা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করতে পারি। 
- তাপ এমন এক ধরনের শক্তি। 
- পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে তাপকে কেবল ত্বক দ্বারা অনুভব করা যায়। 
- কোন কিছু ঠান্ডা না গরম তার পেছনে রয়েছে তাপ। তাপের কারণে কোন কিছুকে আমাদের ঠান্ডা বা গরম বোধ করি। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,২৭৯.
তাপমাত্রার প্রভাবমুক্ত ঘনমাত্রার একক কোনটি? 
  1. মোলার দ্রবণ
  2. নরমাল দ্রবণ
  3. মোলাল দ্রবণ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মোলাল দ্রবণ (Molality) হলো সেই একক, যা তাপমাত্রার পরিবর্তনে প্রভাবিত হয় না।

মোলালিটি: 

মোলালিটি (m) = দ্রাবিত পদার্থের মোল সংখ্যা/দ্রাবকের কিলোগ্রামে ভর 
- মোলালিটি নির্ণয়ে ভলিউমের পরিবর্তে ভর ব্যবহার করা হয়। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ভলিউম বদলাতে পারে, কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকে। 

মোলার দ্রবণ: 

- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

- কোনো দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশে বিভিন্ন একক ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
• মোলার দ্রবণ, 
• মোলাল দ্রবণ, 
• নরমাল দ্রবণ, 
• শতকরা পরিমাণ এবং 
• মোল ভগ্নাংশ। 
- মোলার দ্রবণ ও নরমাল দ্রবণ তাপমাত্রা নির্ভরশীল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ) এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮০.
অধাতব খনিজ পদার্থ নয় কোনটি? 
  1. গ্রাফাইট
  2. সোনা
  3. জিপসাম
  4. কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
সোনা (Au)
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
কোয়ার্টজ (Quartz)
• মাইকা (Mica), 
গ্রাফাইট
জিপসাম
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,২৮১.
কোন ধাতুকে পোড়ালে ইটের ন্যায় লাল বর্ণের শিখা দেখা যায়?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. পটাসিয়াম
  4. কপার
ব্যাখ্যা
• যখন ক্যালসিয়াম (Calcium) ধাতুকে পুড়ানো হয়, তখন তা ইটের ন্যায় লাল বর্ণের শিখা উৎপন্ন করে।
- এটি মূলত ক্যালসিয়াম আয়ন দ্বারা নির্গত তাপের কারণে।
- ক্যালসিয়ামের জন্য এই শিখার বর্ণ বিশেষভাবে চিহ্নিতকরণ এবং এটি কেমিক্যাল পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- সোডিয়াম → সোডিয়াম ধাতু আম্বর (Yellow) বা কমলা রঙের শিখা উৎপন্ন করে।
- পটাসিয়াম → পটাসিয়াম ধাতু হালকা বেগুনি (Lilac) শিখা উৎপন্ন করে।
- কপার → কপার ধাতু সবুজ (Green) রঙের শিখা উৎপন্ন করে।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
১,২৮২.
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে?
  1. ক) আলফ্রেড নোবেল
  2. খ) ওপেনহেইমার
  3. গ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
যুক্তরাজ্যের বৈজ্ঞানিক মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন। আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেন ডিনামাইট; ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; এবং তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করে হেনরি বেকেরেল।
সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
১,২৮৩.
সোনার গহনা তৈরিতে নিচের কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. কার্বোলিক এসিড 
  3. সালফিউরিক এসিড 
  4. নাইট্রিক এসিড 
ব্যাখ্যা

- সোনার গহনা তৈরি ও পরিশোধনের কাজে প্রধানত নাইট্রিক এসিড (Nitric Acid) ব্যবহার করা হয়। স্বর্ণকাররা সোনার খাদ (যেমন- তামা বা রূপা) আলাদা করতে বা সোনা পরিষ্কার করার কাজে এই এসিডটি ব্যবহার করেন। উল্লেখ্য, খাঁটি সোনা এককভাবে কোনো শক্তিশালী এসিডে গলে না, তবে হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিডের ৩ : ১ অনুপাতের মিশ্রণ 'অ্যাকুয়া রেজিয়া' বা 'রাজকীয় অম্ল' সোনাকে দ্রবীভূত করতে সক্ষম। 

এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়।
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,২৮৪.
নিচের কোনটিতে আলোর সমস্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রতিফলিত হয়?
  1. কফি
  2. দুধ
  3. মধু
  4. চা
ব্যাখ্যা
দুধ আলোর সমস্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রতিফলিত করে এবং এর প্রতিফলন বৈশিষ্ট্যের কারণে কোনো রঙ শোষণ করে না। দুধে উপস্থিত উপাদান যেমন কেসিন (casein), ক্যালসিয়াম কমপ্লেক্স এবং চর্বি সবই সাদা রঙের। এছাড়াও, দুধে পানির পরিমাণ (৮৭% পর্যন্ত) বর্ণহীন, যা দুধকে সম্পূর্ণ আলোকে প্রতিফলিত করতে এবং এটিকে একটি অস্বচ্ছ কাঠামো দিতে সহায়তা করে। অণুগুলো সব রং শুষে নিলে দুধ সাদা হতো না।

Source: ndtv.com
১,২৮৫.
নিচের কোনটি পানিবাহিত রোগ?
  1. টাইফয়েড
  2. ডায়রিয়া
  3. আমাশয়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

পানিবাহিত রোগ:
- পানিবাহিত রোগ হলো সেইসব রোগ যা দূষিত পানি পান, ব্যবহার বা খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
- এই রোগগুলো সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া ও অন্যান্য প্যাথোজেনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়।
- পানিবাহিত রোগ এর মধ্যে অন্যতম হলো- কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ, ডায়রিয়া ও আমাশয় ইত্যাদি।
- পানিবাহিত রোগের কারণগুলো হচ্ছে -
- অপরিষ্কার পানি পান করা।
- দূষিত পানিতে রান্না/ফল ধোয়া।
- সঠিক স্যানিটেশন না থাকা।
- অপরিচ্ছন্ন নালা/ব্রিজের পানি ব্যবহার।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৮৬.
যেসব নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয় তাদেরকে কী বলা হয়?
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোটোন
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

• আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৮৭.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি?
  1. ত্বরণ
  2. বিভব
  3. বল
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- 
• দৈর্ঘ্য, 
• ভর, 
• সময়, 
• তাপমাত্রা, 
• তড়িৎপ্রবাহ, 
• দীপন তীব্রতা এবং 
• পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন - 
• বেগ, 
• ত্বরণ, 
• কাজ, 
• বল, 
• তাপ, 
• বিভব ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৮.
অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহৃত হয় -
  1. মোটর তৈরিতে
  2. টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায়
  3. ক) ও খ) উভয়ই
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বকঃ কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক
অস্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।
স্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮৯.
প্রতি 1°C তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি কী পরিমাণ বেড়ে যায়?
  1. প্রায় 0.4 ms-1
  2. প্রায় 0.6 ms-1
  3. প্রায় 0.8 ms-1
  4. প্রায় 0.9 ms-1
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট, কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়, মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তত বেশি হয়। 
যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220 ms-1 । 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯০.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ কোনটি?
  1. মরীচিকা
  2. হীরার ঔজ্জ্বল্য
  3. অপটিক্যাল ফাইবার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মরীচিকা, হীরার ঔজ্জ্বল্য, অপটিক্যাল ফাইবার সবগুলোই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ।

• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection):

- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) হলো এমন একটি আলোকীয় ঘটনা যেখানে আলোকরশ্মি একটি মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত:
১) আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে।
২) আপতন কোণ সংকট কোণের থেকে বড় হতে হবে।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ:
মরীচিকা, অপটিক্যাল ফাইবার, হীরার ঔজ্জ্বল্য ইত্যাদি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৯১.
একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে কোন শক্তি জমা থাকে?
  1. ক) গতি শক্তি
  2. খ) বিভব শক্তি
  3. গ) তাপ শক্তি
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।

যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।

একইভাবে একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে বিভব শক্তি জমা থাকে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১,২৯২.
কাজ ও বলের একক যথাক্রমে-
  1. নিউটন ও মিটার
  2. জুল ও ডাইন
  3. ওয়াট ও পাউন্ড
  4. প্যাসকেল ও কিলোগ্রাম
ব্যাখ্যা
SI পদ্ধতিতে কাজের একক জুল। SI পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন। C.G.S পদ্ধতিতে বলের একক ডাইন।

• কাজের একক:
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়।
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)।
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক।
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল।

• বলের  এককসমূহ:
- ডাইন,
- নিউটন,
- পাউন্ডাল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৩.
ট্রান্সফরমারের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি? 
  1. এটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
  2. এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে না।
  3. এটি উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে।
  4. এটি একটি কুন্ডলীতে থেকে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করে।
ব্যাখ্যা
- ট্রান্সফরমারের বৈশিষ্ট্য হলো- ট্রান্সফরমার পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুন্ডলী থাকে। 
- কুন্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুন্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 

- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও 
২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৪.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন কেমন হয়?
  1. শূন্য
  2. কম
  3. সর্বাধিক
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - 273°C.
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

১,২৯৫.
AC-কে DC-তে রূপান্তর করে- 
  1. জেনারেটর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. তড়িৎ মোটর
  4. রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি (AC) প্রবাহকে ডিসি (DC) প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৬.
ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) আরগন
  4. ঘ) জেনন
ব্যাখ্যা

- পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
- এইজন্য এদেকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি।
- এগুলো হলো- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ও ওগানেসন।
- ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

১,২৯৭.
ব্যাটারী থেকে কোন ধরনের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
  1. AC
  2. DC
  3. ADC
  4. TC
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়।
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়।
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে।
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট।
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে ব্যাটারি থেকে ডিসি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯৮.
অ্যাকোয়া রেজিয়া কোনটি? 
  1. 2NO3 + 3HCl
  2. 3HNO3 + 3HCl
  3. 1HNO3 + 3HCl
  4. 3HNO3 + 1HCl
ব্যাখ্যা
- এক মোল গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং তিন মোল গাঢ় হাইডোক্লোরিক এসিডের (HCl) মিশ্রণকে অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্ল বলে। 
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যে কোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়। 
- সোনার গহনা তৈরির সময় স্বর্ণকাররা নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করেন। 
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির ক্ষেত্রে নাইট্রিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,২৯৯.
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বৃদ্ধি পেলে কী ঘটবে? 
  1. তাপমাত্রা কমে যাবে
  2. পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমবে
  3. পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বাড়বে
  4. বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কমে যাবে
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 
যেমন- 
• কোনো স্থানে ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বুঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ জলীয় বাষ্প বায়ু থেকে হালকা। এক্ষেত্রে ঐস্থানে বা এলাকায় বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা। 
• যদি কোনো স্থানে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ খুব কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে চারিদিকে বায়ুমণ্ডলের চাপ সহসা কমে গেছে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তখন পার্শ্ববর্তী উচ্চ চাপের এলাকা থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঐ স্থানে ছুটে আসবে। সুতরাং ঐ স্থানে দ্রুত ঝড়ের সম্ভাবনা। 
• ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে বা এলাকায় বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প অপসারিত হয়ে শুষ্ক বাতাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুতরাং আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। এভাবে ব্যারোমিটারের পাঠ দেখে আহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০০.
১ কিলোগ্রাম কত পাউন্ডের সমান?
  1. ২.১০
  2. ২.১৫
  3. ২.২০
ব্যাখ্যা
• ১ কেজি  = ২.২০ পাউন্ড।

উল্লেখ্য,
- ১ কুইন্টাল = ১০০ কিলোগ্রাম।
- ১ মেট্রিক টন = ১০০০ কিলোগ্রাম। 
- ১০ কুইন্টাল = ১ মেট্রিক টন। 
- ১ পাউন্ড = ১৬ আউন্স।
- ১ মণ = ৩৭.৩২ কেজি।
- ১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি। 
- ১ মিটার = ১০০ সে.মি.। 
- ১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেন্টিমিটার। 
- ১ মিটার = ১০০ সেন্টিমিটার। 
- ১ মিটার = ১০০০ মিলিমিটার। 
- ১ কিলোমিটার = ১০০০ মিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা।