• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' ‘কমেডি অব এররস’ নাটকের গদ্য অনুবাদ।
------------------------
• 'ভ্রান্তিবিলাস' নিয়ে কিছু কথা:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯) মূলত উইলিয়াম শেক্সপীয়রের কমেডি অফ এররস নাটকের কাহিনী অবলম্বনে রচিত। এটি একটি কৌতুকপূর্ণ বাংলা গদ্য আখ্যান বা অনুবাদ সাহিত্য। কাহিনীর মূল উপজাত্য হলো দুই জোড়া যমজ ভাই ও ভৃত্যের নামের মিলের কারণে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি, যা পরিশেষে মিলনের মাধ্যমে সমাধান হয়। বিদ্যাসাগর শেকসপীয়রের মূল ইংরেজি নাম ও স্থান পরিবর্তন করে কাহিনীটি বাংলাভাষী পাঠকের জন্য উপযোগী করেছেন। ভ্রান্তিবিলাস রচিত হয় ১৮৬৯ সালে, যা বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা বেতালপঞ্চবিংশতি-এর ২২ বছর পরে প্রকাশিত হয়।
---------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন প্রখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও জনহিতৈষী।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- মানবিকতা ও দয়ার জন্যে তিনি করুণাসাগর নামে পরিচিত ছিলেন, তাকে এই উপাধি দিয়েছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের “প্রথম শিল্পী” এবং গদ্যের জনক বলে অভিহিত করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের অসংলগ্ন রূপগুলো সংস্কার করে তা আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও ছন্দময় করেছেন।
- এছাড়া তিনি লিপি সংস্কারের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে সহজপাঠ্য করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বিদ্যাসাগর সংস্কৃত ও দর্শনে স্নাতকোত্তর স্তরে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে তাঁকে বিদ্যাসাগর (‘জ্ঞানের মহাসাগর’) সম্মানসূচক উপাধি প্রদান করা হয়।
- আধুনিক মনোভাবাপন্ন বিদ্যাসাগর সমাজ পরিবর্তনের জন্য সক্রিয় ছিলেন।
- তিনি বিশ্বাস করতেন, পুরনো মূল্যবোধ ও পরিবারভিত্তিক সংস্কার না আনলে সমাজ ও দেশের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়।
- এজন্য তিনি বিধবা বিবাহ চালু করা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা, এবং স্ত্রীশিক্ষার প্রসারের জন্য আন্দোলন শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হলো বেতালপঞ্চবিংশতি।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রথমবার আধুনিক বিরামচিহ্নের ব্যবহারপ্রচলন করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী পরিচিত বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত নামে।
- তিনি ২৯ জুলাই ১৮৯১ সালে প্রয়াণ করেন।
• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।