বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলন (১৯৪৭ - ১৯৫৩)

মোট প্রশ্ন৯৫০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা আন্দোলন (১৯৪৭ - ১৯৫৩)

PrepBank · পাতা / ১০ · ৬০১৭০০ / ৯৫০

৬০১.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. আবদুল আলীম
  4. আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
আলতাফ মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে। 
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।

৬০২.
একুশের কবিতা, 'আমি কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' এর রচয়িতা -
  1. ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে হত্যা করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলরত তরুণদের।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী তখন অসুস্থ; তাঁর শরীরে জলবসন্তের চিহ্ন।
- রাত জেগে তিনি লিখলেন আগুনঝরা কবিতা: ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’
- ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে প্রতিবাদ সভায় সে কবিতা পড়লেন তাঁরই সতীর্থ চৌধুরী হারুণ-উর-রশীদ।
- পাকিস্তান সরকার সে কবিতা বাজেয়াপ্ত করে।
- হুলিয়া জারি করে মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ওপর।
- তিনি এবং তাঁর কবিতা হয়ে গেল ইতিহাসের অংশ।

উল্লেখ্য,
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ একুশের প্রথম কবিতা।

অন্যদিকে -
- আবদুল গাফফার চৌধুরী একুশের গানটি রচনা করেন।

উৎস: প্রথম আলো, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯।
৬০৩.
'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'- এই পুস্তিকার লেখক ছিলেন-
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ জন
ব্যাখ্যা

- 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' পুস্তিকার লেখক ছিলেন ৩ জন।
- লেখক তিন জন হলেনঃ অধ্যাপক আবুল কাশেম, ড. কাজী মোতাহার হোসেন ও আবুল মনসুর আহমদ।
- ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যবিশিষ্ট 'তমুদ্দন মজলিস' ভাষা আন্দোলনের গোড়াপত্তন করে।
- ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও আবুল কাশেমের তিনটি প্রবন্ধ নিয়ে 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' শীর্ষক প্রকাশিত একটি পুস্তিকায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার আহ্বান জানানো হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬০৪.
উর্দু পাকিস্তানের কত শতাংশ জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিল?
  1. ৩.২৭%
  2. ১৩.২৭%
  3. ৩২.২৭%
  4. ৭.৫৬%
সঠিক উত্তর:
৩.২৭%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩.২৭%
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করাকে কেন্দ্র করে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- ভাষা আন্দোলন হলো- ধর্ম ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ থেকে ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনায় রূপান্তর ও বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ।
- প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটারের অধিক ভৌগোলিক ব্যবধান নিয়ে সৃষ্ট নতুন রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দু ভাষী নেতা। 
- পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০% মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘিষ্ঠ মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।
- যদিও পাকিস্তানের শতকরা মাত্র ৩.২৭ ভাগ লোকের মাতৃভাষা ছিল উর্দু তথাপি পাকিস্তানের মুদ্রা, ডাকটিকেট, মানি অর্ডার ফরম, রেলের টিকেট প্রভৃতিতে কেবল ইংরেজি ও উর্দুভাষা ব্যবহার করা হয়।
- পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
- এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে উর্দু ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ফলে সূচিত হয় ভাষা আন্দোলন।
- প্রথমেই প্রতিবাদ মুখর হলো বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ।
- তারা এই অন্যায় বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। 
- দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে উঠে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রথম শহীদ হলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে।
- রক্তের বিনিময়ে পূর্ববাংলা অর্জন করে ভাষার অধিকার।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৫.
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কবে গঠিত হয়?
  1. ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫২
  2. ১১ জানুয়ারি ১৯৫২
  3. ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
  4. ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
– ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 
– কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
– রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়– ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
– দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়-  ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামছুল আলম।

সূত্র: - ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৬.
বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন কে?
  1. হাসিনা খাতুন
  2. হাসিনা বেগম
  3. হাসিনা খানম
  4. হাসিনা আক্তার
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:

- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৬০৭.
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি কবে দেওয়া হয়?
  1. ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪
  2. মে, ১৯৫৪
  3. ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
  4. মে, ১৯৫৬
সঠিক উত্তর:
ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার স্বীকৃতি:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন হয়। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা জারি অমান্য করে রাস্তায় নামলে শহীদ হন সালাম, রফিক, সফিক, বরকতসহ জাতির আরও অনেক সূর্য-সন্তানেরা। 
- ৯ মে মতান্তরে ৭ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় তারও দু’বছর পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস করা হয় ১৯৮৭ সালে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬০৮.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাকালে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন —
  1. অধ্যাপক এ.এস.এম. নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
  4. হাসান ইকবাল
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ: 
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ। 
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র। 
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৬০৯.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. ক) রাষ্ট্রচিন্তা
  2. খ) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  3. গ) তমুদ্দিন মজলিশ
  4. ঘ) রাষ্ট্রভাষা সভা
সঠিক উত্তর:
গ) তমুদ্দিন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তমুদ্দিন মজলিশ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৬১০.
তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাশেম কোন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন?
  1. দর্শন
  2. ইতিহাস
  3. পদার্থবিজ্ঞান
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
পদার্থবিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিস:
- তমদ্দুন মজলিস একটি ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরে সংগঠনটি গড়ে ওঠে।
- সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাস্থল ঢাকা।
- তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭।
- প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম।
- প্রতিষ্ঠাকালে সংগঠনটির নাম ছিল পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস।
- সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করা।
- বাংলা ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিসের ভূমিকা ছিল পূর্ববাংলার জনসাধারণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে তমদ্দুন মজলিস বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করে।
- রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সংগঠনটি বাংলা ভাষার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬১১.
ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে কোন রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি গড়ে তোলে? 
  1. সাম্যবাদী রাজনীতি
  2. ধর্মভিত্তিক রাজনীতি 
  3. বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  4. সমাজতান্ত্রিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি তৈরি করে।

• ভাষা আন্দোলন:
- বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ১৯৪৮ সালের প্রথমদিকে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এর সূচনা হলেও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- দুই পর্বে বিভক্ত এই আন্দোলন ।
- ১৯৪৮ সালে অনেকটা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- এবং শুধু বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হলেও ১৯৫২ সালের আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- বাঙালি জাতির পরবর্তীকালে সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলনে প্রেরণা আসে ভাষা আন্দোলন থেকে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
- প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬১২.
নিচের ভাষা শহীদদের মধ্যে সবার শেষে শহীদ হন?
  1. ক) আবুল বরকত
  2. খ) রফিকউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আবদুস সালাম
  4. ঘ) আবদুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুস সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুস সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করলে্ পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং আবদুল জব্বারসহ আরো অনেকে শহিদ হন। আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ এপ্রিল মারা যান।
সূত্র : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৩.
বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিল?
  1. বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা
  2. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  3. আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
  4. তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

- অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় তমদ্দুন মজলিশ।
- ৪ জানুয়ারি, ১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ঢাকার কে. এম. দাস লেনের রোজগার্ডেনে এক কর্মী সম্মেলনে পূর্ব বাংলার বাঙালি প্রগতিশীল নেতা ও কর্মী ঢাকায় মিলিত হয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' গঠন করেন।
- ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৬১৪.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর কে ছিলেন?
  1. ফিরোজ খান নুন
  2. খাজা নাজিমউদ্দীন
  3. নুরুল আমিন
  4. আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

৬১৫.
ইউনেস্কো কবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯৬ সালের ১৭ নভেম্বর
  2. ১৯৯৭ সালের ১৭ নভেম্বর
  3. ১৯৯৮ সালের ১৭ নভেম্বর
  4. ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- এই স্বীকৃতি ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা বেড়েছে।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস  বাংলাদেশের জনগণের ভাষা আন্দোলন এবং ভাষাশহীদদের স্মরণে পালিত দিবস।
- ১৯৫২ সালের  একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে ঢাকায় কয়েকজন ছাত্র-জনতা পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
- তাঁদের স্মরণে ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৬.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. মহাখালী
  2. সেগুনবাগিচা
  3. শাহবাগ
  4. ধানমন্ডি
সঠিক উত্তর:
সেগুনবাগিচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেগুনবাগিচা
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট:

- ১৫ মার্চ ২০০১ সালে ঢাকার সেগুনবাগিচায় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি এ আনান-এর উপস্থিতিতে এ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও ক্ষুদ্র জাতিসমূহের ভাষা সংগ্রহ, সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং বাংলাসহ অন্যান্য ভাষা আন্দোলনের তথ্যসংগ্রহ ও গবেষণা এবং ইউনেস্কোর সদস্য দেশসমূহের মধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্যাবলি পৌঁছে দেওয়া।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আমাই) ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আইন ২০১০ অনুযায়ী তিনিই এ ইনস্টিটিউটের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
- তাঁর সরকারের উদ্যোগের ফলেই ইনস্টিটিউট পরিণত হয়েছে ইউনেস্কো-র ক্যাটেগরি ২ প্রতিষ্ঠানে।

তথ্যসূত্র - আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৬১৭.
নিচের কোন নেতার নেতৃত্বে কংগ্রেস অখণ্ড বাংলা প্রস্তাবের বিরোধিতা করে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  3. জওহরলাল নেহরু ও বল্লভ ভাই প্যাটেল
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
জওহরলাল নেহরু ও বল্লভ ভাই প্যাটেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জওহরলাল নেহরু ও বল্লভ ভাই প্যাটেল
ব্যাখ্যা
• অখণ্ড বাংলা প্রস্তাবের ব্যর্থতা:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের প্রাক্কালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও এ. কে. ফজলুল হক "অখণ্ড স্বাধীন বাংলা" প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যাতে বাংলা ভারত পাকিস্তানের অংশ না হয়ে হয়ে একটি স্বাধীন, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গঠিত হয়।

- প্রথমদিকে এই প্রস্তাবে মুসলিম লীগের কিছু রক্ষণশীল নেতা, এমনকি মহাত্মা গান্ধী ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও মৌন সমর্থন জানান। কিন্তু কংগ্রেসের কট্টর হিন্দু নেতাদের তীব্র বিরোধিতায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।

- জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেলসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব কোলকাতা ও আসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ভারত থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কায় এই প্রস্তাবকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। হিন্দু মহাসভার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীও এর কঠোর বিরোধিতা করেন। ফলে প্রস্তাবটি কংগ্রেসের সমর্থন হারায় এবং পরবর্তীতে মুসলিম লীগও এটি থেকে সরে এসে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেয়।

- পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে ১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
২০ জুন বাংলার আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। এর ফলস্বরূপ ভারত স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী বাংলা ও পাঞ্জাব দুইটি প্রদেশে বিভক্ত হয়। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশ হয়ে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত হয় এবং পশ্চিম বাংলা যুক্ত হয় ভারতের সঙ্গে।

এইভাবে ঐতিহাসিক বাংলার সংযুক্তির স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে পড়ে এবং “অখণ্ড স্বাধীন বাংলা” রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৬১৮.
ভাষা শহিদদের স্বরণে নির্মিত ভাস্কর্য কোনটি?
  1. ক) অপরাজেয় বাংলা
  2. খ) অঙ্গীকার
  3. গ) মোদের গর্ব
  4. ঘ) দুরন্ত
সঠিক উত্তর:
গ) মোদের গর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোদের গর্ব
ব্যাখ্যা

• ভাষা শহিদদের স্বরণে নির্মিত ভাস্কর্য - মোদের গর্ব।
• মোদের গর্ব বা আমাদের গর্ব হল রাজধানী ঢাকার বাংলা একাডেমি ভবনের সামনে অবস্থিত একটি ভাস্কর্য।
• মোদের গর্ব ভাস্কর্যটির নকশা ও নির্মাণ করেছেন শিল্পী অখিল পাল।
• ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানানো হয়। এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদদের সম্মানে এই ভাস্কর্যটি তৈরী করা হয়।

অপরদিকে, 
• অঙ্গীকার:
- অঙ্গীকার হচ্ছে চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে লেকের উপর স্বাধীনতা যুদ্ধে চাঁদপুরের শহীদের স্মরণে ১৯৮৯ সালে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য।
- যার স্থপতি প্রফেসর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ।
- এটি চাঁদপুর কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ হিসেবে বিবেচিত। 

• অপরাজেয় বাংলা:
- 'অপরাজেয় বাংলা' ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নিবেদিত একটি ভাস্কর্য
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত।
- ভাস্কর্যটি ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে উদ্বোধন করা হয়।
- এর ভাস্কর ছিলেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ।

• দুরন্ত:

- দুরন্ত ভাস্কর্যটি শিশু একাডেমিতে অবস্থিত।
- ‘দুরন্ত’ ভাস্কর্যটির ভাস্কর – সুলতানকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬১৯.
বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ছিল -
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) গণ-অভ্যুত্থান
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) যুক্তফ্রন্ট
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমিঃ
অবস্থান - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে; প্রতিষ্ঠাকাল - ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫।
প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট - ভাষা আন্দোলন; পুরাতন ভবনের নাম - বর্ধমান হাউস।
প্রথম সভাপতি - মওলানা আকরাম খাঁ।
প্রথম পরিচালক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক; প্রথম মহাপরিচালক - ড. মাযহারুল ইসলাম।
মূল মিলনায়তনের নাম - আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তন।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২০.
‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয় কবে?
  1. ১১ মার্চ, ১৯৪৮
  2. ১১ মার্চ, ১৯৫০
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ, ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান।
- তাঁর দাবি অগ্রাহ্য হলে ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' পুনর্গঠিত হয়।
- সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ‘বাংলাভাষা দাবি দিবস’ ঘোষণা দেয়া হয়।
- এদিন সারাদেশে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয় এবং পুলিশের গুলিতে অনেকে হতাহত এবং গ্রেফতার হয়।
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় দখল করে আছে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ।
- ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে এই দিনটি পূর্ব পাকিস্তানে পালিত হয়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ হিসেবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী।
৬২১.
১৯৫২ সালের পূর্বে ছাত্ররা কোন দিনকে ভাষা আন্দোলনের জন্য পালন করত?
  1. ১১ ফেব্রুয়ারি
  2. ২১ ফেব্রুয়ারি
  3. ১১ মার্চ
  4. ২১ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১১ মার্চ (১৯৪৮) পূর্ব বাংলার সর্বত্র সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে।
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯ মার্চ পূর্ব বাংলা সফরে আসেন।
- ২১ মার্চ (১৯৪৮) ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি স্পষ্ট করে ঘোষণা করেন যে, পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।
- জিন্নাহর এই ঘোষণার প্রতিবাদে জনসভার কোনো কোনো অংশে মৃদু 'নো', 'নো' ধ্বনি উচ্চারিত হয়।
- জনসভার তিন দিন পর (২৪ মার্চ, ১৯৪৮) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি বলেন যে, পাকিস্তানের সরকারি ভাষা অবশ্যই হবে উর্দু।
- জিন্নাহর এ উক্তির তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে উপস্থিত গ্রাজুয়েটবৃন্দ 'না', 'না' ধ্বনি উচ্চারণ করে।
- জিন্নাহর ঘোষণায় পাকিস্তান সরকারের প্রতি পূর্ববাংলার মানুষের মনে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের ভাব সৃষ্টি হয়।
- জিন্নাহর পূর্ববাংলা সফর ভাষা-আন্দোলনকে স্তিমিত করে দেয়।
- তাঁর জনপ্রিয়তা এবং তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের অগাধ শ্রদ্ধাবোধ অনেক আন্দোলনকারীকে আন্দোলন থেকে সরিয়ে ফেলে।
- এমনকি তমদ্দুন মজলিশও আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।
- তবে ভাষার জন্য ছাত্রদের মনে ক্ষোভ অব্যাহত থাকে।
- ছাত্ররা ১৯৪৮ এর পর থেকে ১৯৫১ পর্যন্ত প্রতি বছর ১১ মার্চ ভাষা দিবস পালন করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২২.
কোন সংগঠনের উদ্যোগে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়?
  1. পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৬২৩.
"Mother Language Lovers of the World" সংগঠনটি কোথায় গঠিত হয়েছিল?
  1. নিউইয়র্ক
  2. ভ্যাঙ্কুভার
  3. লন্ডন
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ভ্যাঙ্কুভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্যাঙ্কুভার
ব্যাখ্যা
• শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর থেকে প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এদিন ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রভাতফেরি ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।

- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির জন্য ১৯৯৮ সালে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে "Mother Language Lovers of the World" নামের একটি ভাষাপ্রেমী সংগঠন জাতিসংঘে আবেদন করে। তারা জাতিসংঘের ২৭ ধারার আলোকে ভাষা ব্যবহারের অধিকার রক্ষার কথা তুলে ধরে। ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান-এর কাছে একটি আবেদনপত্র পেশ করে।

- আবেদনপত্রে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বহু জাতিগোষ্ঠী মাতৃভাষা ভুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সনদের লঙ্ঘন। এই দিবস ঘোষণার মাধ্যমে পৃথিবীর প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীকে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উৎসাহিত করা হবে।

- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিনটি ভাষার অধিকারের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৬২৪.
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) নুরুল আমীন
  2. খ) খাজা নাজিমউদ্দীন
  3. গ) মোহাম্মাদ আলী
  4. ঘ) লিয়াকত আলী খান
সঠিক উত্তর:
খ) খাজা নাজিমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খাজা নাজিমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়:
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী : খাজা নাজিমউদ্দিন
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী : নুরুল আমিন
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল : গোলাম মুহাম্মদ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬২৫.
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের পক্ষে মত দেয় কে?
  1. মাওলানা আব্দুর রশিদ
  2. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
  3. মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১৭ মে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান এবং একই বছর জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের পক্ষে মত দেন।

- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন বাঙালি লেখক, বুদ্ধিজীবী এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলার পক্ষে বক্তব্য দেন। পূর্ব বাংলায় ছাত্র ও শিক্ষিত সমাজ রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে পত্র-পত্রিকায় মতামত প্রকাশ করতে শুরু করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৬.
কোন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে?
  1. ছয়দফা আন্দোলন
  2. ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৭.
From which year has the 'International Mother Language Day's been observed?
  1. 1998
  2. 2000
  3. 1999
  4. 2001
  5. None
সঠিক উত্তর:
2000
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2000
ব্যাখ্যা
২০০০ সালে থেকে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালন শুরু হয়।

ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়।
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬২৮.
কোন ঘটনাটি আগে সংঘটিত হয়?
  1. ছয়দফা ঘোষণা
  2. আইয়ুব খানের পতন
  3. পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচনা
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাথে পূর্ব বাংলার মতানৈক্য তৈরি হয়। এর অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বরে তমুদ্দিন মজলিশ নামে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠনের জন্ম হয়।
- এভাবে সূত্রপাত হওয়া ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২১শে ফেব্রুয়ারি পাকবাহিনীর গুলিতে সালাম, রফিক, জব্বার প্রমুখ শহীদ হলে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
- এতে করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে,
- পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বা সংবিধান রচিত হয় ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ছয়দফা ঘোষণা করেন।
- আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬২৯.
ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত 'তমদ্দুন মজলিস' কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. খ) আবুল কাশেম
  3. গ) আবুল মতিন
  4. ঘ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। 
- এ সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশিত হয়।
- পুস্তিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩০.
ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্যে একুশে পদক-২০২১ লাভ করেন কে?
  1. ক) মোতাহার হোসেন তালুকদার
  2. খ) শামছুল হক
  3. গ) আফসার উদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
একুশে পদক-২০২১ প্রাপ্তরা (মোট ২১ জন):
- ভাষা আন্দোলনে : মোতাহার হোসেন তালুকদার (মরণোত্তর), শামছুল হক (মরণোত্তর) ও আফসার উদ্দীন আহমদ (মরণোত্তর)
- শিল্পকলায় : পাপিয়া সারোয়ার (সংগীত), রাইসুল ইসলাম আসাদ (অভিনয়), সালমা বেগম সুজাতা (অভিনয়), আহমেদ ইকবাল হায়দার (নাটক), সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী (চলচ্চিত্র), ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় (আবৃত্তি), পাভেল রহমান (আলোকচিত্র)
- মুক্তিযুদ্ধে : গোলাম হাসনায়েন, ফজলুর রহমান খান ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুমা সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর)
- সাংবাদিকতায় : অজয় দাশগুপ্ত
- গবেষণায় : ড. সমীর কুমার সাহা
- শিক্ষায় : মাহফুজা খানম
- অর্থনীতিতে : ড. মির্জা আব্দুল জলিল
- সমাজসেবায় : প্রফেসর কাজী কামরুজ্জামান
- ভাষা ও সাহিত্যে : কবি কাজী রোজী, বুলবুল চৌধুরী ও গোলাম মুরশিদ।
(সূত্র: ডেইলি স্টার)
৬৩১.
পাকিস্তান গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে প্রথমে কোন দুটি ভাষাকে নির্বাচন করা হয়?
  1. ইংরেজি ও বাংলা 
  2. ইংরেজি ও উর্দু
  3. বাংলা ও উর্দু
  4. পাঞ্জাবি ও উর্দু
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ও উর্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ও উর্দু
ব্যাখ্যা

- পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে প্রথমে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়।

• ভাষা আন্দোলন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তারিখে'তমাদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমাদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
- ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
- কিন্তু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বাঙালিদের দাবি উপেক্ষা করে উর্দুকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়।
- যদিও পাকিস্তানের শতকরা মাত্র ৩.২৭ ভাগ লোকের মাতৃভাষা ছিল উর্দুভ
- তথাপি পাকিস্তানের মুদ্রা, ডাকটিকেট, মানি অর্ডার ফরম, রেলের টিকেট প্রভৃতিতে কেবল ইংরেজি ও উর্দুভাষা ব্যবহার করা হয়।
 - পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
- এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩২.
কিসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
  1. বাঙ্গালী সামাজিক চেতনা
  2. বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
  3. দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  4. অসাম্প্রদায়িকতা
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
- স্বাধীন বংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। 
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা-ই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৬৩৩.
বাঙালির জাতীয় ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. ছয়দফা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
 ‍মুক্তি সংগ্রাম:
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
-ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
-  যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনসংঘটিত হয় ১৯৫৪ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩৪.
দ্বিতীয়বারে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মনোনীত হয়েছিলেন কে?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শামসুল আলম
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. আবদুল মতিন
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- পরিষদে নিম্নলিখিত সংগঠনের প্রত্যেকটি থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যথা:
- তমাদ্দুন মজলিশ, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক যুবলীগ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ফজলুল হক মুসলিম হল সহ অন্যান্য ছাত্রাবাস, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ফেডারেশন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৫.
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়-
  1. ১৯৫৬ সাল
  2. ১৯৫৪ সাল
  3. ১৯৫৭ সাল
  4. ১৯৫৩ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ সাল
ব্যাখ্যা

 • ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ৯ মে ১৯৫৪।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩৬.
বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ছয় দফা আন্দোলন
  2. এগারো দফা আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সংগ্রাম:
- বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সালে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩৭.
'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' ঘোষণা দেন -
  1. ক) লিয়াকত আলী খান
  2. খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. গ) ফিরোজ খান নুন
  4. ঘ) খাজা নাজিম উদ্দিন
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব-পাকিস্তান সফরে ঢাকায় আসেন।
- ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ ঘোষণা করেন, ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা'।
- জিন্নাহর এ ঘোষণা পূর্ববাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- ২৪ মার্চ সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি জানিয়ে জিন্নাহকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। 

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৩৮.
When did Dhirendranath Datta demand the use of Bengali language along with Urdu in the Constituent Assembly of Pakistan?
  1. ক) 22 February, 1948
  2. খ) 23 February, 1948
  3. গ) 24 February, 1948
  4. ঘ) 25 February, 1948
সঠিক উত্তর:
খ) 23 February, 1948
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 23 February, 1948
ব্যাখ্যা
গণপরিষদের ভাষা:
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতায় তার দাবী গৃহিত হয়নি।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি
৬৩৯.
একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয় -
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ দিবস পালন:
- একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম শহিদ দিবস হিসাবে পালিত হয় ১৯৫৩ সালে।

⇒ ভাষাশহীদদের মহান ত্যাগের কথা স্মরণে ১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো পালন করা হয় শহীদ দিবস।
- ওই দিন বিভিন্ন স্তরের ও শ্রেণির মানুষ বিশেষ করে নারীরা খালি পায়ে ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত দীর্ঘ শোভাযাত্রা নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন। এরপর দলে দলে নগরবাসী আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং পরবর্তীতে কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। দিবস উপলক্ষে মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকে।
- বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ১২টার সময়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’ স্লোগান সমেত সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে তারা শোকজ্ঞাপক কালো পতাকা, কালো ব্যাজ ধারণ করে অগ্রসর হতে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
- ভাষা আন্দোলনের ফলে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশ ঘটে। এই আন্দোলন দ্বিজাতি তত্ত্বের ধর্মীয় চেতনার মূলে আঘাত হানে। পাকিস্তান সৃষ্টির সাম্প্রদায়িক ভিত্তি ভেঙ্গে বাঙালিরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে ওঠে।
- ১৯৫৩ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি 'শহিদ দিবস' হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি খালি পায়ে হেঁটে শহিদ মিনারে ফুল অর্পণ করে আমরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস' এর স্বীকৃতি দান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
৬৪০.
২০২৩ সালের ২১শে মার্চ ভাষা আন্দোলনের কত বছর পূর্ণ হয়েছে?
  1. ক) ৭০ বছর
  2. খ) ৭১ বছর
  3. গ) ৭২ বছর
  4. ঘ) ৭৩ বছর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭১ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭১ বছর
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিলো ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি।
- ২০২৩ এর ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পূর্ণ হয়েছে।
৬৪১.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার স্থাপিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬৩ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৬৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম শহিদ মিনার:
- ঢাকায় প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের সামনে।
- নির্মিত হয়: ২৩ ফ্রেবুয়ারি, ১৯৫২ সালে।
- এর ডিজাইনার ছিলেন- ডা. বদরুল আলম।
- ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভি মাহবুবুর রহমান এ শহিদ মিনার টি উদ্ধোধন করেন।


কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গ কারীদের স্মরণে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে।
- নির্মিত হয়: ১৯৬৩ সালে।
- স্থপতি: হামিদুর রহমান ও সহকর্মী ছিলেন- নভেরা আহমেদ।
- স্তম্ভ রয়েছে- ৫ টি।
- ভাষা শহিদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন (১৯৬৩ সালে)

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা অফিস, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬৪২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) অলি আহাদ
  3. গ) আবদুল মতিন
  4. ঘ) গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মতিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা - আহমদ রফিক : বাংলাদেশ প্রতিদিন)
৬৪৩.
কোন পত্রিকাটি ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করে?
  1. ক) পাকিস্তান অবজারভার
  2. খ) মিল্লাত
  3. গ) দৈনিক আজাদ
  4. ঘ) মর্নিং নিউজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মর্নিং নিউজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মর্নিং নিউজ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে থাকা সংবাদপত্রসমূহ:
- সৈনিক,
- ইত্তেফাক,
- আজাদ,
- সংবাদ,
- অগত্যা,
- মিল্লাত,
- ইনসাফ,
- জিন্দেগী,
- পাকিস্তান অবজারভার প্রভৃতি।

অন্যদিকে, ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই তথ্য বিকৃতি করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৬৪৪.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. আজিমপুর
  2. সেগুনবাগিচা
  3. শাহবাগ
  4. মিরপুর
সঠিক উত্তর:
সেগুনবাগিচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেগুনবাগিচা
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট:

- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত।
- ১৫ মার্চ ২০০১ সালে ঢাকার সেগুনবাগিচায় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি এ আনান-এর উপস্থিতিতে এ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও ক্ষুদ্র জাতিসমূহের ভাষা সংগ্রহ, সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং বাংলাসহ অন্যান্য ভাষা আন্দোলনের তথ্যসংগ্রহ ও গবেষণা এবং ইউনেস্কোর সদস্য দেশসমূহের মধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্যাবলি পৌঁছে দেওয়া।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আমাই) ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আইন ২০১০ অনুযায়ী তিনিই এ ইনস্টিটিউটের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
- তাঁর সরকারের উদ্যোগের ফলেই ইনস্টিটিউট পরিণত হয়েছে ইউনেস্কো-র ক্যাটেগরি ২ প্রতিষ্ঠানে।

তথ্যসূত্র - আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৬৪৫.
কোন ভাষা শহীদ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে শহীদ হননি?
  1. ক) আবুল বরকত
  2. খ) আবদুস সালাম
  3. গ) রফিক উদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) আবদুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুস সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুস সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার। আবদুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহীদ হন। ২২ শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা শহীদদের জন্য শোক মিছিল বের করে। আবারও মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে। এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন। অনেকে গ্রেফতার হন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৬৪৬.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
  1. জননী
  2. বর্ণমালা
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৭.
প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' এর আহ্বায়ক ছিলেন-
  1. নুরুল হক ভূঞা
  2. শামসুল আলম
  3. গাজীউল হক
  4. আবদুল মতিন
সঠিক উত্তর:
নুরুল হক ভূঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল হক ভূঞা
ব্যাখ্যা
প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:

• ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
• ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' নামেও পরিচিত) এবং আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
• রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১১ মার্চ (১৯৪৮) পূর্ব বাংলার সর্বত্র সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।
- এটি ৪০ সদস্য বিশিষ্ট ছিল।
• ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪৮.
প্রথম নির্মিত শহিদ মিনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কে?
  1. নেয়ামত উল্লাহ
  2. আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  4. শফিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
প্রথম শহিদ মিনার:

- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে।
- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৪৯.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কত সালে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫০.
ইউনেস্কো তাদের কত তম সাধারণ সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ২৮ তম
  2. ২৯ তম
  3. ৩০ তম
  4. ৩২ তম 
সঠিক উত্তর:
৩০ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ তম
ব্যাখ্যা
২১শে ফেব্রুয়ারি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি:

• ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ ইউনেস্কো তাদের ৩০তম সাধারণ সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। 
• ২০০০ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতে শুরু করে।
• ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয়।
• জাতিসংঘ ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করে। 
• ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।
কার
• প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আমাই) ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন। 

উৎস: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। 
৬৫১.
পাকিস্তানের সংবিধানে উর্দু ও বাংলাকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫২সালে
  2. খ) ১৯৫৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের পর প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে উর্দু ও বাংলাকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে অনুমোদন করা হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
৬৫২.
কাগমারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়-
  1. ক) রোজ গার্ডেন
  2. খ) সিরাজগঞ্জ
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) সন্তোষে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্তোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্তোষে
ব্যাখ্যা

 ১৯৫৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার কাগমারীর সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে সম্মেলনটি আরম্ভ হয়।
- কাগমারী সাংস্কৃতিক সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।
- ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি।
- কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণি

৬৫৩.
ভাষা আন্দোলন চলাকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ফিরোজ খান নুন
  2. নুরুল আমিন
  3. গোলাম মুহাম্মদ
  4. খাজা নাজিমুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিমুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিমুদ্দীন
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন চলাকালীন শাসকগণ:
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী: খাজা নাজিমউদ্দিন,
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: নুরুল আমিন,
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল: গোলাম মুহাম্মদ,
- পূর্ব বাংলার গভর্নর: ফিরোজ খান নুন।

⇒ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন, দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৫৪.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে ছিলেন?
  1. নিতুন কুণ্ডু
  2. শামীম শিকদার
  3. আমিনুল ইসলাম
  4. হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- ১৯৫৭ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। 
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৫৫.
পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে-
  1. ক) ১৯৫৪ সালে
  2. খ) ১৯৫৬ সালে
  3. গ) ১৯৫৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এর আগে ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
- ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৫৬.
'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি' এর রচয়িতা-
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান
  3. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' এর রচয়িতা হলেন মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬৫৭.
১৯৪৮ সালে গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন -
  1. কাজী গোলাম মাহবুব
  2. নূরুল হক ভূঁইয়া
  3. আবদুল মতিন
  4. শামসুল আলম
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

⇒ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৬৫৮.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. কাজী গোলাম মাহবুব
  2. অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা
  3. শামসুল আলম
  4. আবদুল মতিন
সঠিক উত্তর:
আবদুল মতিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২রা মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো। (link)
৬৫৯.
কোন ভাষা শহীদ 'ঢাকা হাইকোর্ট' এর কর্মচারী ছিলেন?
  1. আবদুস সালাম
  2. শফিউর রহমান
  3. আবদুল আউয়াল
  4. রফিক উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
শফিউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শফিউর রহমান
ব্যাখ্যা
•ভাষা শহীদ:
- ২৪শে জানুয়ারী ১৯১৮ সালে কোননগর, হুগলী, চব্বিশ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গে ভাষা শহীদ শফিউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন।
- শফিউর রহমান ছিলেন ঢাকা হাইকোর্টের হিসাবরক্ষণ শাখার কেরানি।
- শফিউর রহমানের রক্তমাখা শার্ট, কোট, জুতা সংরক্ষণ করা হয়।
- বর্তমানে এগুলো বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

অন্যদিকে,
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন আবুল বরকত।
- আব্দুস সালাম ছিলেন সরকারের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি।
- আবদুল জব্বার ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামের এক কৃষক পরিবারের সন্তান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিডিনিউজ পত্রিকা রিপোর্ট।
৬৬০.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. সাধারণ পরিষদ
  3. ছাত্র ইউনিয়ন
  4. ছাত্রলীগ
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৬৬১.
ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের কোন রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি তৈরি করে দেয়?
  1. ধর্মভিত্তিক রাজনীতি
  2. পাকিস্তানপন্থী জাতীয়তা
  3. সাম্যবাদী রাজনীতি
  4. বাঙালি জাতীয়তাবাদ
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ১৯৪৮ সালের প্রথমদিকে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এর সূচনা হলেও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- দুই পর্বে বিভক্ত এই আন্দোলন ।
- ১৯৪৮ সালে অনেকটা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- এবং শুধু বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হলেও ১৯৫২ সালের আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- বাঙালি জাতির পরবর্তীকালে সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলনে প্রেরণা আসে ভাষা আন্দোলন থেকে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে,।
- প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

উৎস: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬২.
একুশের প্রথম গান রচনা করেন-
  1. ক) আলতাফ মাহমুদ
  2. খ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) আ. ন. ম. গাজীউল হক
  4. ঘ) আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
গ) আ. ন. ম. গাজীউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আ. ন. ম. গাজীউল হক
ব্যাখ্যা
- একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ. ন. ম. গাজীউল হক।
- গানটির প্রথম চরন- 'ভুলবো না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'।
- ৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- ১৯৫৩-৫৪ সাল পর্যন্ত ওই গানটি গেয়েই প্রভাতফেরি করা হতো।
- গানটির সুরকার ছিলেন গাজীউল হক নিজেই। 

- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।” - এই গানটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- এটি প্রথমে সুর করেন - আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন - আলতাফ মাহমুদ।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৬৬৩.
তমদ্দুন মজলিশ কর্তৃক প্রকাশিত "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" পুস্তিকাটি প্রকাশিত হয় -
  1. ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর
  2. ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  3. ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর
  4. ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

উল্লেখ্য,
বাজারের গাইড বই এমনকি অনেক বোর্ড বইতে "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" পুস্তিকাটি প্রকাশের তারিখ হিসাবে ১৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া যা সঠিক নয়।
তবে পরীক্ষায় প্রশ্নের অপশনে যদি ১৬ সেপ্টেম্বর না থাকে তাহলে ১৫ সেপ্টেম্বর উত্তর করা যাবে।
৬৬৪.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. আবদুল মতিন
  3. নূরুল হক ভূঁইয়া
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

⇒ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৬৬৫.
From which year has the International Mother Language Day been observed?
  1. 1998
  2. 1999
  3. 2000
  4. 2001
  5. None
সঠিক উত্তর:
2000
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2000
ব্যাখ্যা
২০০০ সালে থেকে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালন শুরু হয়।

ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা: 
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়। 
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।
 
উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
          ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৬৬.
একুশের প্রথম ভাষা শহীদ কে ছিলেন?
  1. শহীদ আবুল বরকত
  2. শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ
  3. শহীদ  শফিউর রহমান
  4. শহীদ আবদুস সালাম 
সঠিক উত্তর:
শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

• প্রথম ভাষা শহীদ:
- একুশের প্রথম শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ। 
- তিনি ছিলেন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
- তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ এবং মায়ের নাম রাফিজা খানম। 
- রফিক উদ্দিনের জন্ম ১৯২৬ সালে, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়। 
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি শহীদ হন। 
- ঘটনার সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের কারণে ছাত্ররা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যারাকে আশ্রয় নেন। 
- ওই সময় পুলিশের গুলিতে তাঁর মাথার খুলি উড়ে যায়।
- মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তখনই মারা যান তিনি।
- ম্যাজিস্ট্রেট ওবায়দুল্লাহর উপস্থিতিতে তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান আজিমপুর মসজিদের ইমাম হাফেজ আবদুল গফুর।
- আত্মীয়স্বজনকে না জানিয়ে গোপনে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। 
- ভাষা শহীদ রফিক ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো

৬৬৭.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. বাংলা ভাষা সংগ্রাম কমিটি
  4. বাংলা ভাষা বাংলা কমিটি
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

উল্লেখ্য:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৬৬৮.
তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  2. কামুদ্দিন আহমেদ
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আবদুল মতিন
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
- ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
- পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
- এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৯.
কত সাল থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে?
  1. ১৯৯৯ সাল
  2. ২০০০ সাল
  3. ২০০১ সাল
  4. ১৯৯৮ সাল
সঠিক উত্তর:
২০০০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০০ সাল
ব্যাখ্যা
• মাতৃভাষা দিবস:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর:
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ সর্বসম্মতিক্রমে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- সকল সদস্য রাষ্ট্রকে দিবসটি উদ্যাপনের জন্য প্রস্তাব গৃহীত হয়।​

• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:

- ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অন্যান্য আরো অনেকে।
- ২০০০ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি সারাবিশ্বে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হচ্ছে।​

• বর্তমান প্রেক্ষাপট:
- ২১শে ফেব্রুয়ারি বা বাংলাভাষা শুধু বাংলাদেশের মানুষের কথা বলে না, এটি এখন বিশ্বের সকল ভাষার অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক।​

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।​
৬৭০.
'কবর' নাটকের বিষয়বস্তু -
  1. ক) পাণিপথের যুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

- মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক (একাঙ্ক) কবর।
- রণেশ দাসগুপ্তের অনুরোধে জেলে থাকাকালীন সময়ে তিনি এটি ১৯৫৩ সালে রচনা করেন এবং তখনই রাজবন্দীদের দ্বারা সেটি অভিনীত হয়েছিল।
- ১৯৫৫ সালের আগস্ট মাসে সংবাদ পত্রিকার আজাদী সংখ্যায় কবর প্রথম প্রকাশিত হয়। এর ১০ বছর পর হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলনের দ্বিতীয় সংস্করণে নাটকটি পুনর্মুদ্রিত হয় এবং ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের শাহীন বুক ক্লাব থেকে অপর দুটি নাটিকা ‘মানুষ’ ও ‘নষ্টছেলে’র সঙ্গে কবর শিরোনামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশ্যে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৫৬ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে উদযাপন উপলক্ষে।
- একুশে ফেব্রুয়ারির পটভূমিতে রচিত প্রথম নাটক এটি।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead অবলম্বনে রচিত।
সুত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা। 

৬৭১.
১৯৪৮ সালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তৎকালীন পাকিস্তানের একজন নেতা ঘোষণা করেন 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।' তিনি -
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খাজা নাজিম উদ্দিন
  3. ফিরোজ খান নুন
  4. মোহাম্মদ হোসেন জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা:
- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব-পাকিস্তান সফরে ঢাকায় আসেন।
- গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কনভোকেশনে ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' (Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan)।
- জিন্নাহর এ বক্তব্য পেশের সময় উপস্থিত ছাত্ররা 'না' 'না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানান।

এছাড়াও,
- জিন্নাহর এ ঘোষণা পূর্ববাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- ২৪ মার্চ সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি জানিয়ে জিন্নাহকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। 

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৬৭২.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করেন? 
  1. গোলাম মোহাম্মদ
  2. নুরুল আমিন
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. ফিরোজ খান নুন
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্র পাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- এই সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি। 

৬৭৩.
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কোন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. তমদ্দুন মজলিস
  2. ভাষা পরিষদ
  3. মাতৃভাষা পরিষদ
  4. আমরা বাঙালি
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিস
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
----------------------- 
• তমদ্দুন মজলিশ:

তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।

প্রতিষ্ঠা: ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে।
উদ্দেশ্য: বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা এবং দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা প্রচার করা।

প্রতিষ্ঠাতা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম, যিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মুখপত্র: সাপ্তাহিক "সৈনিক" পত্রিকা; প্রথম প্রকাশিত হয় ১৪ নভেম্বর, ১৯৪৮।

বিশেষ প্রকাশনা: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে, যা ভাষা আন্দোলনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস:
- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৬৭৪.
স্বাধীনতার প্রথম ডাকটিকিটে ছবির বিষয়বস্তু কোনটি ছিল?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) বঙ্গবন্ধু
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) শহীদ বুদ্ধিজীবী
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাময়িক সরকার ৮টি ডাকটিকিটের একটি সেট ২৯ জুলাই ১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য প্রকাশ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এর পর প্রথম স্মারক ডাকটিকিট ২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২, প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের জন্য “শহীদ মিনার” ছবিসহ।
- তারপর বাংলাদেশ ডাকবিভাগ অবিরাম নির্দিষ্ট স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে চলছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, উত্তরাধিকার ও সংস্কৃতির উপর।
- অদ্যতক বাংলাদেশ ডাকবিভাগ ৭৩২ প্রকার ডাকটিকিট এবং ২৮টি সুভ্যেনির প্রকাশ করেছে।

সুত্রঃ ডাক অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
৬৭৫.
'পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি'র সভাপতি কে ছিলেন?
  1. শামসুল আলম
  2. আবুল হাশেম 
  3. আকরাম খাঁ
  4. নুরুল হক ভূঁইয়া
সঠিক উত্তর:
আকরাম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকরাম খাঁ
ব্যাখ্যা

পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার ভাষা কমিটির সভাপতি ছিলেন মাওলানা আকরাম খাঁ। 

⇒ ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্ব বলা যায়। এই সময়ে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার জনগণের আন্দোলনের মুখে প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁকে সভাপতি এবং কবি গোলাম মোস্তফাকে সম্পাদক করে একটি সংস্কার কমিটি গঠন করে।
- দেড় বছর ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
- এই রিপোর্টে বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণমালার প্রচুর সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়।
- নতুন ভাষার নামকরণ হয় 'সহজ বাংলা'।
- কমিটি রোমান বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রশ্নকে কমপক্ষে বিশ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়।
- এ সময়ের মধ্যে উর্দু ভাষাকেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানায়।
- এই রিপোর্টটি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পছন্দ হয়নি বলেই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৬.
বাংলাদেশের অর্থায়নে বহির্বিশ্বে প্রথম শহিদ মিনার কোথায় নির্মিত হয়?
  1. ইংল্যান্ড
  2. জাপান
  3. রাশিয়া
  4. ওমান
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিজের অর্থায়নে ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহিদ মিনার নির্মিত হয়। 
দেশের বাহিরে শহিদ মিনার:

- বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহিদ মিনার স্থাপিত হয় ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে। 
- গ্রেট মেনচেস্টারের ওল্ডহ্যামের ওয়েস্টহুড নেবারহুডে তৈরি হয়েছে এ মিনার।
-  ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর সেখানকার ‘বাংলাদেশি কালচারাল অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন ওল্ডহ্যাম’ সে দেশে শহিদ মিনার নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। 
- তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহিদ মিনার নির্মিত হয়। 
- জাপান বাংলাদেশ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর বৈশাখি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার এই শহিদ মিনারটি নির্মাণ করে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৭৭.
গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন কবে?
  1. ১৯৪৮ সালের ২৩ অক্টোবর
  2. ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৪৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৪৯ সালের ২৩ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এক অধিবেশনে নিম্নপর্যায় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে গ্রহণের প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগের সদস্যদের ভোটে তা অগ্রাহ্য হয়।
- এই সংবাদ ঢাকায় পৌছুলে এদেশের ছাত্র ও শিক্ষিত সমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে পড়ে।
- তারা বুঝতে পারে মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে হলে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রয়োজন।
- ২৬ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৮.
ভাষা শহিদ আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?
  1. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  2. ইতিহাস
  3. সমাজ বিজ্ঞান
  4. অর্থনীতি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
• ভাষা শহিদ আবুল বরকত :
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৩ জুন (মতান্তরে ১৬ জুন) মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর থানার বাবলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম - আবাই।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় আসেন।
- ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন এবং এম.এ শেষ পর্বে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে।
- আবুল বরকত গুলিবিদ্ধ ঐ সময় গুলিবিদ্ধ হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬৭৯.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ তে কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধু সঙ্গী কে ছিলেন?
  1. ক) আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  2. খ) মহিউদ্দিন আহমদ
  3. গ) মওলানা ভাসানী
  4. ঘ) খান সাহেব ওসমনা আলী
সঠিক উত্তর:
খ) মহিউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহিউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'বায়ান্নর দিনগুলো' তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (২০১২) গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এতে দেখা যায় কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।
উৎসঃ সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৬৮০.
'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অপর কোনো ভাষা নয়' বলেছিলেন-
  1. ক) লিয়াকত আলী খান
  2. খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. গ) ইস্কান্দার মির্জা
  4. ঘ) খাজা নাজিমুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে তৃতীয় সপ্তাহে পূর্ব বাংলা সফরে আসেন। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় তিনি বলেন যে, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অপর কোনো ভাষা নয়'। ২৪ মার্চ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন যে, 'উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।'
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৮১.
'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের' আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. আবুল কাশেম
  2. আব্দুল মতিন
  3. গোলাম মাহবুব
  4. ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লা
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মতিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মতিন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন: 
- ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন।
- এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০শে জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে।
- আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- ৩১শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে নতুনভাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।
- ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়।
- ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ হরতাল পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮২.
১৯৪৭ সালে পাকিস্তানে মোট জনসংখ্যার শতকরা কত ভাগ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা?
  1. ৯৮ ভাগ 
  2. ৬২ ভাগ 
  3. ৫৬ ভাগ 
  4. ৪৯ ভাগ 
সঠিক উত্তর:
৫৬ ভাগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬ ভাগ 
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ সালের ভাষাগত পরিসংখ্যান:
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার
- ৫৬% বাংলা,
- ২৮.০৪% পাঞ্জাবি, 
- ৫.৮% সিন্ধি, 
- ৭.১% পশতু, 
- ৭.২% উর্দু এবং 
- বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক। 
- এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষির দিক থেকে ৩য় স্থানে। 

উল্লেখ্য, 
- তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যার ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী।
- এখানে ৯৮% বাংলা এবং মাত্র ১.১% ছিল উর্দু ভাষী।
- অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়। - কিন্তু সংগ্রামের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতি মাতৃভাষার ওপর এ আঘাতের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. শামসুল আলম
  2. অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা
  3. আবদুল মতিন
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
আবদুল মতিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২রা মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
৬৮৪.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. কবর
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮৫.
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদে নতুন কমিটির আহবানে কত তারিখ ধর্মঘট পালিত হয়?
  1. ১১ই মার্চ
  2.  ১২ মার্চ
  3. ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ৩ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১১ই মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ই মার্চ
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকেই শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- এ সময় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের এক সভায় শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
-  মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করতে থাকে।
- ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ঢাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ ১৯৪৮ সালে দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৬৮৬.
তমদ্দুন মজলিস নামক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কবে গড়ে ওঠে?
  1. ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সাল
  2. ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সাল
  3. ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সাল
  4. ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সাল
  5. ২ সেপ্টেম্বর ১৯৫১ সাল
সঠিক উত্তর:
২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সাল
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিস: 
- ১৯৪৭ সালের ১৭ই মে চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন।
- তাদের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আবদুল হক, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আবুল মনসুর আহমদ এবং ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কজন বুদ্ধিজীবী প্রবন্ধ লিখে প্রতিবাদ জানান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তমদ্দুন মজলিস নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
- ৬-৭ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উক্ত সংগঠনের যুবকর্মী সম্মেলনে 'বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন' করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
বাংলাপিডিয়ার সূত্র অনুসারে, তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।
✔⚠ তাই অপশনে ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ না থাকলে ১ সেপ্টেম্বর উত্তর হবে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৮৭.
ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয় -
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়।
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৮৮.
বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটি ছিল -
  1. ৮ মাঘ
  2. ১২ বৈশাখ
  3. ৮ ফাল্গুন
  4. ৮ চৈত্র
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারি: 
- একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- এটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের একাধারে মর্মান্তিক ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন।
- ১৯৫২ সালের এ দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন।
- তাই এ দিন শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
- পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তার চরম প্রকাশ ঘটে।
- ওই দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়।
- এতে আবুল বরকত, আবদুল জববার ও আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্রযুবা হতাহত হন।
- নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে।
- তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে।
- ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৮৯.
পূর্ব পাকিস্তান সফরে ঢাকায় দুটি সভায় বক্তৃতায় একমাত্র উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন কে?
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ 
  2. খাজা নাজিমুদ্দীন
  3. নূরুল আমিন
  4. লিয়াকত আলী খান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ 
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর পূর্ব পাকিস্তান সফর:
- আন্দোলনের মুখে সরকারের মনোভাব কিছুটা নমনীয় হয়। মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ছাত্রনেতাদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- তবে চুক্তিতে তিনি অনেকগুলি শর্তের সঙ্গে একমত হলেও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তাঁকে কোনো কিছুই মানানো যায়নি।
- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল  মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসেন।
- তিনি ঢাকার দুটি সভায় বক্তৃতা দেন এবং দুই জায়গাতেই তিনি বাংলা ভাষার দাবিকে উপেক্ষা করে একমাত্র উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন।
- এ সময় সারা পূর্ব পাকিস্তানেই ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল।
- জিন্নাহর বক্তব্য তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৯০.
'উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা' উক্তিটি কার?
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. আইয়ুব খান
  3. নুরুল আমিন
  4. খাজা নাজিমুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন: 
- ১৯৪৮ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন।
- ১৯৪৮ সালের ২১শে মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'।
- ২৪শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনেও তিনি অনুরূপ ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে এবং আবদুল মতিনকে অনুসরণ করে সবাই 'না, না' বলে তাঁর উক্তির প্রতিবাদ জানায়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহ'র ঘোষণারও তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
পরে একপর্যায়ে পাকিস্তান সরকার আরবি হরফে বাংলা প্রচলনের উদ্যোগ নিয়েছিল।
- পূর্ববাংলার মানুষ এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করে।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে পূর্ববাংলার জনগণ জাতীয়ভাবে নিজেদের বিকাশের গুরুত্ব উপলব্ধি করে।

এছাড়াও,
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৯১.
পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা কোথায় অনুষ্ঠিত হতো?
  1. সংসদ ভবনে
  2. জগন্নাথ হলের অডিটরিয়ামে
  3. কার্জন হলে
  4. ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে
সঠিক উত্তর:
জগন্নাথ হলের অডিটরিয়ামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগন্নাথ হলের অডিটরিয়ামে
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:

- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৪৪ ধারা ভাঙার পন্থা হিসেবে দশজন দশজন করে ছাত্র রাস্তায় মিছিল বের করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
- পুলিশ মিছিলকারীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ছাত্ররা মেডিকেল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হন।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত।
- আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববাংলা আইন পরিষদে যোগদানকারী সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার দাবির কথা পৌঁছে দেয়া যেন তাঁরা অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করেন।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯২.
পাকিস্তান সরকার বাংলাকে পকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান করে কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৩ সালে
  2. খ) ১৯৫৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়।
- এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এর আগে ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) অলি আহাদ
  3. গ) আবদুল মতিন
  4. ঘ) কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মতিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা - আহমদ রফিক : বাংলাদেশ প্রতিদিন)
৬৯৪.
'তমুদ্দিন মজলিস' কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) হাসান ইকবাল
  2. খ) আবুল কালাম
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিস:
 - 'তমদ্দুন মজলিস' ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।
উল্লেখ্য - তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে তথ্যকল্পদ্রুমের ৭নং পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 
৬৯৫.
'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।' - উক্তিটি কার?
  1. ক) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খ) খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. গ) লিয়াকত আলী খান
  4. ঘ) টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
ক) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা সম্পর্কে জিন্নাহর দম্ভোক্তি:

- গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স (ঘোড়দৌড়) ময়দানের জনসভায় এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কনভোকেশনে ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' (Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan)।
- জিন্নাহর এ বক্তব্য পেশের সময় উপস্থিত ছাত্ররা 'না' 'না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানান।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৬৯৬.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটির বর্তমান সুরের স্রষ্টা কে?
  1. আবদুল লতিফ
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. মহাদেব সাহা 
সঠিক উত্তর:
আলতাফ মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।
ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু
গড়ায়ে ফেব্রুয়ারি।।
আমার সোনার দেশের
রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।।"

- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি লিখেছেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
- গানটি ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে তৈরি করা হয়েছে।
- গানটিতে প্রথম সুর দিয়েছিলেন আব্দুল লতিফ।
- পরে আলতাফ মাহমুদ ১৯৫৪ সালে নতুন করে সুর দেন, যা আজও প্রচলিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬৯৭.
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদ নন -
  1. ক) আসাদ
  2. খ) সালাম
  3. গ) বরকত
  4. ঘ) শফিউর
সঠিক উত্তর:
ক) আসাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আসাদ
ব্যাখ্যা

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রেুয়ারি১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিতে দিতে বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে সমবেত হলে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করলে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ বাধে।
এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে আবদস সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার প্রমুখ শহীদ হন। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শোভাযাত্রায় পুলিশ গুলি করলে শফিউর রহমান নিহত হন।

অন্যদিকে,
১৯৬৯ সালের ১৪ই জানুয়ারির হরতাল ও ১৮ই জানুয়ারির ধর্মঘটে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০শে জানুয়ারি ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করে। হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান নিহত হন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬৯৮.
প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় কখন?
  1. সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
  2. ডিসেম্বর ১৯৪৭
  3. জানুয়ারি ১৯৪৮
  4. ফেব্রুয়ারি ১৯৪৯
সঠিক উত্তর:
ডিসেম্বর ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিসেম্বর ১৯৪৭
ব্যাখ্যা

- আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা (দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’) হলে এর আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যার আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা : আহমদ রফিক)

৬৯৯.
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার কে উদ্বোধন করেন?
  1. আবুল বরকতের মা
  2. শফিউর রহমানের মা
  3. আবুল বরকতের বাবা
  4. শফিউর রহমানের বাবা
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকতের মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকতের মা
ব্যাখ্যা

প্রথম শহিদ মিনার:
- ঢাকায় প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের সামনে।
- নির্মিত হয়: ২৩ ফ্রেবুয়ারি, ১৯৫২ সালে।
- এর ডিজাইনার ছিলেন- ডা. বদরুল আলম।
- ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভি মাহবুবুর রহমান এ শহিদ মিনার টি উদ্ধোধন করেন।


কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গ কারীদের স্মরণে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে।
- নির্মিত হয়: ১৯৬৩ সালে।
- স্থপতি: হামিদুর রহমান ও সহকর্মী ছিলেন- নভেরা আহমেদ।
- স্তম্ভ রয়েছে- ৫ টি।
- ভাষা শহিদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন (১৯৬৩ সালে)

উৎস: ঢাকা জেলা অফিস, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭০০.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. ক) মইনুল হোসেন
  2. খ) হামিদুর রহমান
  3. গ) শামীম শিকদার
  4. ঘ) হামিদুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
খ) হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভার আমলে শিল্পী হামিদুর রহমানের পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী মেডিকেল হোস্টেল প্রাঙ্গণের একাংশে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু হয়। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]