বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলন (১৯৪৭ - ১৯৫৩)

মোট প্রশ্ন৯৫০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা আন্দোলন (১৯৪৭ - ১৯৫৩)

PrepBank · পাতা / ১০ · ৪০১৫০০ / ৯৫০

৪০১.
‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালিত হয় কবে?
  1. ক) ১ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৪ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৫ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালিত হয়।
১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানের এদেশীয় দোসররা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি অমর করে রাখতে ১৯৭২ সালে ঢাকার মিরপুরে মোস্তফা আলী কুদ্দুসের নকশায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-১৯৬)
৪০২.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. লুই আই কান
  2. মাজহারুল ইসলাম
  3. হামিদুর রহমান
  4. শামীম শিকদার
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৪০৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. অলি আহাদ
  2. আবদুল মতিন
  3. গোলাম মাওলা
  4. গাজীউল হক
সঠিক উত্তর:
আবদুল মতিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন। 

১৯৪৯-১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের বিস্তার:

- ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্ব বলা যায়।
- ১৯৪৮ সালের পর প্রতি বছর ১১ মার্চ প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালন করা হতো।
- ১৯৪৯ সালে আরবি হরফে বাংলা লেখার সরকারি ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এ উদ্দেশে ১৯৪৯ সালের মার্চে আকরাম খাঁকে সভাপতি করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী 'পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করে। 'পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি' গঠিত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালে নাজিমুদ্দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হয়ে ২৭ জানুয়ারি উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ছাত্র সমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। ৩১ জানুয়ারি সর্বদলীয় সভায়ও সরকারি নীতির সমালোচনা করা হয়।এ সময় আবদুল মতিনকে আহবায়ক করে নতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
-  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে এক সভায় 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। এ পরিষদই ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববঙ্গে হরতাল আহ্বান করে।

⇒ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রসভা শুরু হয়।
- এ সভা থেকেই ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে, বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্রজনতা মিছিল করলে পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল জববার ও আবদুস সালাম শহীদ হন।
- তখন থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৪.
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি কত বঙ্গাব্দ ছিল?
  1. ২২ ফাল্গুন, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ
  2. ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ
  3. ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ
  4. ১৩ ফাল্গুন, ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা

একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহস্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৪৪ ধারা ভাঙার পন্থা হিসেবে দশজন দশজন করে ছাত্র রাস্তায় মিছিল বের করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত। 
- বেলা সোয়া তিনটার দিকে এম.এল.এ. এবং মন্ত্রীরা মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে পরিষদে আসতে থাকেন।
-  এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন।
- ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়।
- তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪০৫.
তমুদ্দিন মজলিশের মুখপত্র ছিলো-
  1. দৈনিক গণকন্ঠ
  2. সাপ্তাহিক সৈনিক 
  3. সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ
  4. সাপ্তাহিক দেশ
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক 
ব্যাখ্যা

 • তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো সাপ্তাহিক 'সৈনিক পত্রিকা'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।
- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণী।

৪০৬.
ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের একজনের নাম উল্লেখ করুন।
  1. ক) ইকবাল
  2. খ) আসাদ
  3. গ) সালাম
  4. ঘ) নুরহোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার। আবদুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহীদ হন। ২২ শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা শহীদদের জন্য শোক মিছিল বের করে। আবারও মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে। এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন। অনেকে গ্রেফতার হন।
সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৪০৭.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন-
  1. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  3. তমদ্দুন মজলিশ
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা সংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
- সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই আবদুল হক ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দুন মজলিস গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুনমজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪০৮.
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন কে?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. তমিজুদ্দিন খান
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি সদস্যদের বাংলায় বক্তৃতা প্রদান এবং সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ইংরেজিতে প্রদত্ত বক্তৃতায় বাংলাকে অধিকাংশ জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে উল্লেখ করে ধীরেন্দ্রনাথ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবি তোলেন। এ ছাড়া সরকারি কাগজে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান তিনি।

- সংসদ সদস্য প্রেমহরি বর্মণ, ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত ও শ্রীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তাঁরা পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তাঁদের এ সমর্থনের মাধ্যমে মূলত পূর্ব পাকিস্তানের স্বাভাবিক মতামতই প্রতিফলিত হয়েছিল।

- তমিজুদ্দিন খানের নেতৃত্বে পরিষদের সব মুসলমান সদস্য (সবাই মুসলিম লীগের) একযোগে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। খাজা নাজিমুদ্দিন এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, ‘পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষ চায় রাষ্ট্রভাষা উর্দু হোক।’

- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবকে পাকিস্তানে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। উর্দুকে লাখো-কোটি মুসলমানের ভাষা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কেবল উর্দুই হতে পারে।’ অনেক বিতর্কের পর সংশোধনীটি ভোটে বাতিল হয়ে যায়। সংসদীয় দলের আপত্তির কারণে অনেক বাঙালি মুসলমান সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উত্থাপিত সংশোধনীটিকে সমর্থন করতে পারেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
iii) NDTV পত্রিকা।

৪০৯.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ - পুস্তিকাটি সম্পাদনা করেন -
  1.  আবুল মনসুর আহমদ
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’:
-  ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকার নিবন্ধন সমূহের লেখক ছিলেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন,
- অধ্যাপক আবুল কাশেম এবং
- আবুল মনসুর আহমদ।
- ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত পুস্তিকা প্রকাশ করে। 
- এই পুস্তিকায় বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা এবং পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ধরা হয়।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪১০.
প্রথম শহিদ মিনার কবে নির্মিত হয়?
  1. ১৯৫১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৬৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

শহিদ মিনার
• প্রথম শহিদ মিনার:
- নির্মাণ: ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে।
- উদ্যোগ: ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা।
- অবস্থান: বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে।
- প্রথম উদ্বোধন: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউরের পিতা মাহবুবুর রহমান (অনানুষ্ঠানিক)।
- আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২, দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ শহিদ মিনার ভেঙে ফেলে। 

• বর্তমান শহিদ মিনার:
- নির্মাণ: ১৯৬৩ সালে।
- নকশা: হামিদুর রহমান। 
- উদ্বোধন: শহীদ আবুল বরকতের মা, হাসিনা বেগম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৪১১.
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় কবে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে।
- ৭ মে ১৯৫৪ অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস হিসেবে ছুটি ও শহীদ দিবস ঘোষণা করে।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।
- ১৯৬২ সালে সংবিধানে তা বহাল থাকে।
- সংবিধান প্রণয়নের আগে, ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য বিল উত্থাপন করেন।
- উক্ত বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
- এই প্রক্রিয়া বাংলার ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় ও দীর্ঘ সংগ্রামের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৪১২.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটির বাংলা তারিখ ছিল -
  1. ৭ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  2. ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  3. ৯ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  4. ১০ ফাল্গুন, ১৩৫৮
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪১৩.
পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম দাবি উত্থাপন করেন- 
  1. আবুল কাসেম
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্ব প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবী উত্থাপন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৪.
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ
  2. ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ 
  3. ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৪৯ সালের ১১ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালের ১১ মার্চ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালের ১১ মার্চ 
ব্যাখ্যা

• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালে   ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

• ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ 
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৫.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ' এর আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. শামসুল আলম
  2. এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
ব্যাখ্যা

• সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ:
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে তমদ্দুন মজলিশ কর্মী এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যৌথসভায় মজলিশ কর্মী শামসুল আলমকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ’ নামে একটি নতুন কমিটি গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- তমদ্দুন মজলিশের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ১ অক্টোবর প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এ পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন মজলিশ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএসএম নূরুল হক ভূইয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪১৬.
ইউনেস্কোর অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয় কত তারিখ?
  1. ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
  2. ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
  3. ১৮ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
  4. ১৯ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:

- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র - ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪১৭.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. নুরুল আমিন
  4. লিয়াকত আলী খান
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

৪১৮.
বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গণচেতনার সর্বপ্রথম বহিঃপ্রকাশ -
  1. ক) মহান মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. গ) যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি হচ্ছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
- স্বাধীন বংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
- ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক আন্দোলন সুসংহত হয় এবং অগ্রগতি লাভ করে।
- ভাষা আন্দোলনের চেতনাই জনগণের মধ্যে পরবর্তীকালে একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং এর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
- বাঙালি জনগণের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আকাক্সক্ষাকে হাজারগুণে বাড়িয়ে দেয় এ আন্দোলন।
- তাই ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গণচেতনার সর্বপ্রথম বহিঃপ্রকাশ এবং স্বাধিকার আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

- এই রাষ্ট্রের কর্ণধাররা প্রথমই শোষণ ও বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় বাঙালির প্রাণের ভাষা বাংলাকে।
- অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার ৫৪.৬০% বাংলা, ২৮.০৪% পাঞ্জাবি, ৫.৮% সিন্ধি, ৭.১% পশতু, ৭.২% উর্দু এবং বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক।
- এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষির দিক থেকে ৩য় স্থানে। অন্যদিকে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যার ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী। এখানে ৯৮% বাংলা এবং মাত্র ১.১% ছিল উর্দু ভাষী। অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও যুগান্তর।
৪১৯.
ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের কোন রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি তৈরি করে?
  1. সাম্যবাদী রাজনীতি
  2. ধর্মভিত্তিক রাজনীতি
  3. বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  4. সমাজতান্ত্রিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি তৈরি করে।

• ভাষা আন্দোলন:

- বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ১৯৪৮ সালের প্রথমদিকে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এর সূচনা হলেও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- দুই পর্বে বিভক্ত এই আন্দোলন ।
- ১৯৪৮ সালে অনেকটা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- এবং শুধু বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হলেও ১৯৫২ সালের আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- বাঙালি জাতির পরবর্তীকালে সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলনে প্রেরণা আসে ভাষা আন্দোলন থেকে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে,।
- প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

উৎস: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২০.
ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন-
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. ফয়েজ আহমেদ
  3. মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. মাহমুদ হাসান
সঠিক উত্তর:
মোয়াজ্জেম হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোয়াজ্জেম হোসেন
ব্যাখ্যা

- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।
- তাঁর মেয়াদকাল ছিল ২২ অক্টোবর, ১৯৪৮ থেকে ০৮ নভেম্বর, ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
উৎসঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।

৪২১.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কোন দলের সদস্য হিসেবে গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপন করেন?
  1. মুসলিম লীগ
  2. কংগ্রেস
  3. কমিউনিস্ট পার্টি
  4. গণতন্ত্রী দল
সঠিক উত্তর:
কংগ্রেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কংগ্রেস
ব্যাখ্যা

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন। 
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।

৪২২.
কত সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে? 
  1. ২০০০ সাল
  2. ১৯৯৯ সাল
  3. ২০০১ সাল
  4. ২০১০ সাল
সঠিক উত্তর:
২০০০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০০ সাল
ব্যাখ্যা

  ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।
- ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২৩.
তমদ্দুন মজলিশ কবে গঠিত হয়?
  1. ক) ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
  2. খ) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
  3. গ) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
  4. ঘ) ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
খ) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৪২৪.
বাংলা একাডেমি ভবনের পুরাতন নাম কী?
  1. চামেলি হাউজ
  2. রোজ গার্ডেন
  3. বর্ধমান হাউজ
  4. বাংলা হাউজ
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান হাউজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান হাউজ
ব্যাখ্যা
বর্ধমান হাউজ 
- ১৯৫২ সালে বর্ধমান হাউস ছিল পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিনের বাসভবন।
- একুশে ফেব্রুয়ারি বিকেলে সেখান থেকেই নির্দেশ আসে ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের।
- পরবর্তী সময়ে এখানে জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থাপন করা হয় বাংলা ভাষা গবেষণাগার বাংলা একাডেমি।
- ভাষাশহীদদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান।
- বর্ধমান হাউসে দাপ্তরিক কাজ না হলেও বাংলা একাডেমির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি।
- সেখানে স্থাপন করা হয়েছে দুটি জাদুঘর; ভাষা আন্দোলন জাদুঘর ও লেখক জাদুঘর।
- একুশের অন্যতম স্মারক বর্ধমান হাউস।
- পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন হওয়ায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রতিটি অধ্যায়ে এ ভবনটি জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে।
- ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা মিছিল সহকারে এ ভবনে এসে মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের সময় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি পেশ করেন।
- ১৯৪৮ সালের ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বর্ধমান হাউসে প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের নেতারা সাক্ষাৎ করেন।
- সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি এবং ভাষা আন্দোলন কর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদ করা।
- ১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ সম্পাদিত রাষ্ট্রভাষা চুক্তির আগে এখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে তৎকালীন গভর্নর খাজা নাজিমুদ্দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৬ মার্চ চুক্তি বাতিলের দাবিতে বর্ধমান হাউস অভিমুখে মিছিল বের হয়। এদিন পুলিশি নির্যাতনে ছাত্ররা আহত হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল নূরুল আমিন এই ভবনেই বাস করতেন।
- এই ভবন থেকেই গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বর্ধমান হাউস জনতার রোষের মুখে পড়ে।
- রক্তাক্ত একুশে ফেব্রুয়ারির পরপরই বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষাচর্চার কেন্দ্রে পরিণত করার দাবি ওঠে।
- এটি আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার দাবিতে।
- যাতে বলা হয়, 'যুক্তফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী বর্ধমান হাউসের বদলে অপেক্ষাকৃত কম-বিলাসের বাড়িতে বাসস্থান নির্দিষ্ট করিবেন এবং বর্ধমান হাউসকে আপাতত ছাত্রাবাস ও পরে বাংলা ভাষার গবেষণাগারে পরিণত করা হইবে।'
- এ দাবি পূরণ হয় ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর। বর্ধমান হাউসে বাংলা একাডেমির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার।
- গবেষণা-প্রকাশনার মননশীল চর্চার পাশাপাশি বাংলা একাডেমি একুশের চেতনাকে প্রবাহিত রেখেছে। প্রতি ফেব্রুয়ারি মাসে ভাষাশহীদদের স্মৃতিতে আয়োজন করে আসছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

-  বর্ধমান হাউসের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে ভাষা আন্দোলন জাদুঘর।
- ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন জাদুঘর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই জাদুঘরে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, সংবাদপত্র, স্মারকপত্র, ব্যঙ্গচিত্র, চিঠি, প্রচারপত্র, পা ুলিপি, পুস্তক-পুস্তিকার প্রচ্ছদ এবং ভাষাশহীদদের স্মারকচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে।

-  বর্ধমান হাউসের নিচতলায় রয়েছে জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন।
- বর্তমানে ছয়টি কক্ষ নিয়ে জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর পরিচালিত হচ্ছে।

- বর্ধমান হাউসের তৃতীয় তলায় শেষ পর্যায়ের নির্মাণ কাজ চলছে লোকঐতিহ্য জাদুঘরের।
- সেইসঙ্গে তৃতীয় তলায় আরও রয়েছে বাংলা একাডেমির আর্কাইভস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সমকাল পত্রিকা (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)।
৪২৫.
পাকিস্তান গণপরিষদে 'বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি' প্রথম কে উত্থাপন করেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. আবুল কাসেম
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকেই শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
- কিন্তু, মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ঢাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ দেশের ছাত্রসমাজ বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৬.
ভাষা শহিদদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কে?
  1. ক) রফিকউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) আবদুস সালাম
  3. গ) আবদুল জব্বার
  4. ঘ) আবুল বরকত
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল বরকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল বরকত
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন আবুল বরকত। যার ডাক নাম ছিল আবাই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন।
২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
অন্য ভাষা শহিদদের মধ্যে রফিকউদ্দিন আহমেদ ছিলেন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্রপুর কলেজের ছাত্র।
আব্দুস সালাম ছিলেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি।
সূত্র- বাংলাপিডিয়া এবং একুশ থেকে একাত্তর-আহমেদ রফিক।
৪২৭.
'কবর' নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জহির রায়হান
  3. আনিস চৌধুরী
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক - কবর।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
- এটি এক অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- কবর নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৮.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে?
  1. ১২ মার্চ ১৯৪৮
  2. ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫০
  3. ১ জানুয়ারি ১৯৫২
  4. ৩০ জানুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
৩০ জানুয়ারি ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব।
- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪২৯.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. খ) ১১ মার্চ, ১৯৫০
  3. গ) ২ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ঘ) ১ অক্টোবর, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
• কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
• রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
• দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি , বাংলাপিডিয়া। 

৪৩০.
ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয়—
  1. ১৮ জুলাই ১৯৪৭
  2. ১৪ আগস্ট ১৯৪৭
  3. ১৫ আগস্ট ১৯৪৭
  4. ৩ জুন ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
• ভারত বিভাগের পটভূমি ও স্বাধীনতা (১৯৪৭):
- ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালের জুনের মধ্যে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের শেষ ভাইসরয় করে পাঠানো হয়।

- তিনি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সঙ্গে আলোচনা করে ভারত বিভাজনের সিদ্ধান্ত নেন। ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকাতে নেতারা দেশ বিভাগের পক্ষে সম্মত হন। ৩ জুন ১৯৪৭ মাউন্টব্যাটেন বিভাজন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পাকিস্তান গঠনের সিদ্ধান্তে মুসলিম লীগ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।

- ১৫ জুলাই লন্ডনের কমন্স সভায় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সীমানা নির্ধারণের জন্য র‍্যাডক্লিফের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠিত হয়। তিনি ৯ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেন, তবে তা তখনই প্রকাশ করা হয়নি।

- ১৮ জুলাই ১৯৪৭ "ভারত স্বাধীনতা আইন" পাস হয়, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।
- এরপর ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৪৩১.
'Amar bhaiyer rakte rabgano ekushey february ami ki bhulite pari' who is the first composer of the song?
  1. ক) Abdul Ghaffar Chowdhury
  2. খ) Abdul Jabbar
  3. গ) Abdul Latif
  4. ঘ) Altaf Mahmud
সঠিক উত্তর:
গ) Abdul Latif
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Abdul Latif
ব্যাখ্যা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি 
– গানটির রচয়িতা লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী।
– গানটির ১ম সুরকার–আবদুল লতিফ।
– বর্তমান সুরকার– আলতাফ মাহমুদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৩২.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৩
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এর সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সংলনটির প্রথম প্রকাশ মার্চ ১৯৫৩।
- বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীক 'ভাষা আন্দোলন' পরবর্তী সময়ে ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামের এই ঐতিহাসিক সংকলনটি; যা বাংলাদেশ তথা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অসামান্য দলিল।
- এতে ৬টি বিভাগে ২২ জন লেখকের লেখা আছে। বিভাগগুলো হলো - কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছিলো পুথিপত্র প্রকাশনী থেকে।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪৩৩.
কাকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়?
  1. ক) অধ্যাপক নুরুল হক ভূইয়া
  2. খ) আবদুল মতিন
  3. গ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. ঘ) কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী গোলাম মাহবুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব।
- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা (দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’) হলে এর আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা : আহমদ রফিক)
৪৩৪.
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে কত সালে মর্যাদা দেওয়া হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি: 
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।

এছাড়াও,
- বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৫৬ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এই দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৩৫.
ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয় -
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিস ১৯৪৭ সালে আবুল কাসেম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের, (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান)  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তুলে তমদ্দুন মজলিস বাংলা ভাষা আন্দোলন শুরু করে।
 - যদিও এই সংগঠনের প্রতিবাদ লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ভারত এবং পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৭ মাস পরে, ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্যের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা।
- এই ঘোষণা করলে সদ্য জাত রাষ্ট্রে ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে।

[শুধুমাত্র ইতিহাস,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বইতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত  ১৯৪৮ দেওয়া হয়েছে। অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে ১৯৪৭ সালকে সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যদি অপশনে ১৯৪৭ না থাকে তাহলে ১৯৪৮ উত্তর হবে।]

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেনি এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেনি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩৬.
প্রথম তৈরী শহীদ মিনার প্রথম কবে উদ্বোধন করা হয়?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  4. ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ মিনার:

- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- এরপর ঢাকা কলেজেও একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়, এটিও একসময় সরকারের নির্দেশে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৪৩৭.
In 1947, which two languages were designated as official languages of the Pakistan Constituent Assembly?
  1. Bengali and Urdu
  2. English and Bengali
  3. English and Urdu
  4. Arabic and Urdu
সঠিক উত্তর:
English and Urdu
উত্তর
সঠিক উত্তর:
English and Urdu
ব্যাখ্যা

 • গণপরিষদের সরকারি ভাষা: 

-  ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
-  কিন্তু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বাঙালিদের দাবি উপেক্ষা করে উর্দুকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়।
-  যদিও পাকিস্তানের শতকরা মাত্র ৩.২৭ ভাগ লোকের মাতৃভাষা ছিল উর্দু তথাপি পাকিস্তানের মুদ্রা, ডাকটিকেট, মানি অর্ডার ফরম, রেলের টিকেট প্রভৃতিতে কেবল ইংরেজি ও উর্দুভাষা ব্যবহার করা হয়।
-  পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
-  এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়
-  ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৮.
পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে কত সালে?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- ১৯৪৭ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
- এরপর আরবিতে বাংলা শিক্ষা দেয়া শুরু হয়।
- চালু হয় এ ধরনের অনেকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র।
- সেখানে বয়স্ক ছাত্রদের বিনামূল্যে আরবি হরফের বই দেওয়া হতে থাকে।
- পূর্ববাংলার জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানিদের অসাধু উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। ফলে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সৃষ্টি হতে থাকে।
- প্রথমে এগিয়ে আসে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম লীগের 'ভাষা কমিটি'।
- এই কমিটির বক্তব্য ছিল, পূর্ববাংলার মানুষকে অশিক্ষিত বানানোর জন্যই শাসকদের এই ষড়যন্ত্র।
- প্রবল নিন্দা জানায় 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৯.
নিচের ভাষা শহীদদের মধ্যে সবার শেষে শহীদ হন কে ?
  1. আবুল বরকত
  2. আবদুস সালাম
  3. রফিকউদ্দিন আহমেদ
  4. আবদুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
আবদুস সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুস সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করলে্ পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং আবদুল জব্বারসহ আরো অনেকে শহিদ হন। আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ এপ্রিল মারা যান।
সূত্র : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪০.
‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ হিসেবে ধর্মঘট পালিত হয় কবে?
  1. ১১ মার্চ, ১৯৪৮
  2. ১৮ মার্চ, ১৯৪৮
  3. ২১ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ২৩ মার্চ, ১৯৪৮
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ, ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে পরিষদ সদস্যদের ইংরেজি অথবা উর্দুতে বক্তৃতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।
- এ অবস্থায় পূর্ব-পাকিস্তান কংগ্রেস দলের সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষারূপে স্বীকৃতি দানের দাবি জানান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পূর্ব বাংলার ছাত্র-শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীমহল প্রতিবাদ মুখর হয়ে পড়ে।
- মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২ মার্চ পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠন মিলিতভাবে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- ১১ মার্চ, ১৯৪৮ ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ হিসেবে ধর্মঘট পালিত হয়। ভাষার দাবিতে এটাই ছিল প্রথম ধর্মঘট। সেদিন পিকেটিং ও বিক্ষোভে শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মী গ্রেপ্তার হন। 'রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। এসময় পুলিশী আক্রমণে বহু ছাত্র আহত হয় এবং বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১২-১৫ মার্চ ঢাকাসহ সকল জেলায় ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়। পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন সংগ্রাম পরিষদের সাথে একটি ৮ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে তিনি সংগ্রাম পরিষদের অনেকগুলো শর্ত মেনে নিলেও বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষার দাবি মানেন নি।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 

৪৪১.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা কত সাল ছিল?
  1. ১৩৫৯, ৯ ফাল্গুন
  2. ১৩৫৮, ৮ ফাল্গুন
  3. ১৩৭২,৭ ফাল্গুন
  4. ১৩৫৫, ৮ ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
১৩৫৮, ৮ ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৫৮, ৮ ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

• একুশে ফেব্রুয়ারি:
- একুশে ফেব্রুয়ারি  শহীদ দিবস ও  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- এটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের একাধারে মর্মান্তিক ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন।
- ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ শহীদ হন।
- তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ অনেকেই।
- তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪২.
কত সালে বাংলা ভাষাকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
- ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। 
- ভাষা আন্দোলনের ফলে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশ ঘটে। এই আন্দোলন দ্বিজাতি তত্ত্বের ধর্মীয় চেতনার মূলে আঘাত হানে। পাকিস্তান সৃষ্টির সাম্প্রদায়িক ভিত্তি ভেঙ্গে বাঙালিরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে ওঠে।
- এর ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে দলটির শোচনীয়ভাবে পরাজয় ঘটে। এর পর আর কোন নির্বাচনে মুসলিম লীগ জয়ী হয়নি।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস হিসেবে ছুটি ও শহিদ দিবস ঘোষনা করে।
- ১৯৫৩ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি 'শহিদ দিবস' হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি খালি পায়ে হেঁটে শহিদ মিনারে ফুল অর্পণ করে আমরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। 
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস' এর স্বীকৃতি দান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৩.
ভাষা আন্দোলনের সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) খাজা নাজিমুদ্দীন
  2. খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. গ) লিয়াকত আলী খান
  4. ঘ) নূরুল আমীন
সঠিক উত্তর:
ক) খাজা নাজিমুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খাজা নাজিমুদ্দীন
ব্যাখ্যা
খাজা নাজিমুদ্দীন পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৪.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর কে ছিলেন? 
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. নুরুল আমিন
  4. ইসমাইল ইব্রাহিম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ছাত্ররা মিছিল করে।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

৪৪৫.
‘তমদ্দুন মজলিশ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  2. খ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  3. গ) আবুল কাশেম
  4. ঘ) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র:- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৬.
বাংলাভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ কোন তারিখে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৯ মে ১৯৫৪
  2. ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩
  3. ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
৯ মে ১৯৫৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ মে ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৪ সালের ৯ মে পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল পাশ করে।
প্রশ্নে তথ্যগত ভুল ছিলো।
প্রশ্নে যদি বলা হতো জাতীয় পরিষদ কবে স্বীকৃতি দেয় তবে উত্তর - (১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সাল) নেওয়া যেতো।
যেহেতু- প্রশ্নে গণপরিষদ বলা হয়েছে তাই উত্তর - ৯ মে ১৯৫৪ নেওয়া হয়েছে। 

• বাংলা ভাষার স্বীকৃতি:
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ১৯৫৪ সালের ৯ মে পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল পাশ করে।
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
- গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন। কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৭.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কার সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রসভা শুরু হয়?
  1. কাজী গোলাম মাহবুব
  2. আব্দুল জব্বার
  3. রফিকউদ্দিন আহমদ
  4. গাজীউল হক
সঠিক উত্তর:
গাজীউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজীউল হক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ:
⇒ ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দিতে আসেন। তিনি পল্টন ময়দানের জনসভায় বলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।’ ৩ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও একই কথা বলে বারুদে আগুন দিয়েছিলেন।

⇒ ১৯৫২ সালের ২৯ জানুয়ারি তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ জানুয়ারি সব শিক্ষায়তনে প্রতীকী ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি সব শিক্ষায়তনে পূর্ণ হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

⇒ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বার লাইব্রেরি হলে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।

⇒ ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি যখন চলছিল, তখন ২০ ফেব্রুয়ারি ১ মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তাতে সভা, বিক্ষোভ, মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়। সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের নেতারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে ছিলেন। সে রাতে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের বেশির ভাগ নেতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিপক্ষে ভোট দেন। ১১ / ৩ (১) ভোটে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার প্রস্তাব গ্রহীত হয়। এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন অলি আহাদ, আবদুল মতিন ও গোলাম মাওলা।

⇒ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রসভা শুরু হয়।
- এ সভা থেকেই ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে, বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্রজনতা মিছিল করলে পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল জববার ও আবদুস সালাম শহীদ হন।
- তখন থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৪৮.
প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'- এর আহ্বায়ক মনোনীত হন কে?
  1. গোলাম মাহবুব
  2. আবুল কাসেম
  3. নূরুল হক ভূঁইয়া 
  4. জিয়াউল হক
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূঁইয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূঁইয়া 
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন: 
- ১৯৩৭ সাল থেকে ভাষা বিতর্ক শুরু হয়।
- তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক মনোনীত হন নূরুল হক ভূঁইয়া।
- পরবর্তীকালে এ উদ্দেশ্যে আরও কয়েকটি কমিটি গঠিত হয়।
- কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে তমদ্দুন মজলিসের গঠিত প্রথম সংগ্রাম পরিষদটি গুলুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম পরিষদের সাথে আলোচনার পর শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান আশ্বাস দেন যে, মানি অর্ডার, ফরম, ডাকটিকিট ও মুদ্রায় ইংরেজি-উর্দুর পাশাপাশি বাংলায় লেখা হবে।
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ১৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া বক্তৃতায় সুকৌশলে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রদের মধ্যে হতে 'না' 'না' ধ্বনি সম্বলিত প্রতিবাদ ওঠে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৯.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ –পুস্তিকার রচয়িতা নন কে?
  1. ক) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
এই পুস্তিকার নিবন্ধন সমূহের লেখক ছিলেন,
- কাজী মোতাহার হোসেন
- অধ্যাপক আবুল কাশেম এবং
- আবুল মনসুর আহমদ।
পুস্তিকাটি সম্পাদনা করেন অধ্যাপক আবুল কাশেম।
এই পুস্তিকায় বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা এবং পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ধরা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪৫০.
'তমদ্দুন মজলিশ' কোন আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- 'তমদ্দুন মজলিশ' ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- পরবর্তীতে ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিশ' নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫১.
তমুদ্দিন মজিলিস কোন সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫২ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিসের ভূমিকা:
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিস' নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।​
- কর্মসূচি: সভা-সমিতি ও লেখনীর মাধ্যমে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।​
- পুস্তিকা প্রকাশ: ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- যেখানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয়।

→ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের গঠন: 
- তারিখ: ডিসেম্বর ১৯৪৭​;
- আহ্বায়ক: নূরুল হক ভূঁইয়া​।

এছাড়াও,
- ১৯৪৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম পরিষদের সাথে আলোচনার পর শিক্ষামন্ত্রীফজলুর রহমান আশ্বাস দেন;
- মানি অর্ডার, ফরম, ডাকটিকিট ও মুদ্রায় ইংরেজি-উর্দুর পাশাপাশি বাংলায় লেখা হবে।
- কিন্তু পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ১৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া বক্তৃতায় সুকৌশলে;
- উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রদের মধ্যে হতে 'না' 'না' ধ্বনি সম্বলিত প্রতিবাদ ওঠে।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৫২.
নিচের কোনটি একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে রচিত নয়?
  1. ক) মন না মতি
  2. খ) ঘর মন জানালা
  3. গ) আর্তনাদ
  4. ঘ) চিলে কোটার সেপাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিলে কোটার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিলে কোটার সেপাই
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে ভাষা আন্দোলন নিয়েই বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক এবং প্রবন্ধ রচিত হয়েছে।
এর মধ্যে জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন,
দিলারা হাশেমের ঘর মন জানালা,
আনিস সিদ্দিকীর মন না মতি,
শওকত ওসমানের আর্তনাদ উপন্যাস উল্লেখযোগ্য। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত সৃষ্টি চিলে কোটার সেপাই ’৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থানকে কেন্দ্র করে রচিত।
সূত্র : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৩.
ভাষা আন্দোলনের সময় সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. আবুল কাসেম
  2. অধ্যাপক নুরুল হক ভূইয়া
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন: 
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সভা হয়।
 - উক্ত সর্বদলীয় সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।

- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়াও, 
- ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠন করা (দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ) হলে এর আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।


উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ,নবম-দশম শ্রেণী, এবং বাংলাপিডিয়া 

৪৫৪.
ভারত বিভাগের পটভূমিতে সীমানা নির্ধারণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন—
  1. লর্ড কার্জন
  2. উইনস্টন চার্চিল
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
সঠিক উত্তর:
স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
ব্যাখ্যা
• ভারত বিভাগের পটভূমি ও স্বাধীনতা (১৯৪৭)
- ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালের জুনের মধ্যে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের শেষ ভাইসরয় করে পাঠানো হয়।

- তিনি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সঙ্গে আলোচনা করে ভারত বিভাজনের সিদ্ধান্ত নেন। ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকাতে নেতারা দেশ বিভাগের পক্ষে সম্মত হন। ৩ জুন ১৯৪৭ মাউন্টব্যাটেন বিভাজন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পাকিস্তান গঠনের সিদ্ধান্তে মুসলিম লীগ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।

- ১৫ জুলাই লন্ডনের কমন্স সভায় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সীমানা নির্ধারণের জন্য র‍্যাডক্লিফের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠিত হয়। তিনি ৯ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেন, তবে তা তখনই প্রকাশ করা হয়নি।

- ১৮ জুলাই ১৯৪৭ "ভারত স্বাধীনতা আইন" পাস হয়, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৪৫৫.
বাঙালির জাতীয় ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ক) শিক্ষা আন্দোলন
  2. খ) ছয়দফা আন্দোলন
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৬.
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব দেন কে?
  1.  লিয়াকত আলী খান
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আবুল কাসেম
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলন: 
- পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি (১৯৪৮)।
- অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও গণপরিষদের সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব দেন।
- গণপরিষদের অধিবেশনে লিয়াকত আলী খান মন্তব্য করেন যে, যেহেতু পাকিস্তান একটি মুসলিম রাষ্ট্র তাই পাকিস্তানের সরকারি ভাষা মুসলমানের ভাষা হওয়া উচিত।
- লিয়াকত আলী খান আরও যুক্তি দেন যে, যেহেতু পাকিস্তানের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা উর্দু, অতএব উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র সরকারি ভাষা, অন্য কোনো ভাষা নয়।
- গণপরিষদ অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আনীত প্রস্তাব ভোটে দেয়া হলে অগ্রাহ্য হয়।
- সে সময় পূর্ববাংলার মুসলিম লীগ দলীয় বাঙালি মুসলমান সদস্যগণ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন।
- বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি গণপরিষদে অগ্রাহ্য হওয়ায় পূর্ববাংলায় ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৫৭.
বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন কে?
  1. হাসিনা বেগম
  2. হাসিনা খাতুন
  3. হাসিনা আক্তার
  4. হাসিনা আলী
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ মিনার:
- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে।
- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৫৮.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) আলতাফ মাহমুদ
  3. গ) আবদুল গাফফার
  4. ঘ) আবদুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফফার
ব্যাখ্যা
''আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি......''
• গানটির রচয়িতা সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী।
• গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
• বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।
• ঢাকা কলেজের নতুন নতুন ছাত্র ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে গানটি প্রথম গাওয়া হয়। 

তথ্যসূত্র:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫৯.
ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়-
  1. ক) ১৯৫১
  2. খ) ১৯৫২
  3. গ) ১৯৪৭
  4. ঘ) ১৯৪৮
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৭
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিস ১৯৪৭ সালে আবুল কাসেম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের, (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তুলে তমদ্দুন মজলিস বাংলা ভাষা আন্দোলন শুরু করে। যদিও এই সংগঠনের প্রতিবাদ লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

ভারত এবং পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৭ মাস পরে, ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্যের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা।
- এই ঘোষণা করলে সদ্য জাত রাষ্ট্রে ভাষা আন্দোলন প্রকাশ্যরূপ ধারণ করে। 


উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অষ্টম শ্রেণী

৪৬০.
পাকিস্তানের শতকরা কত জনের মাতৃভাষা বাংলা ছিল?
  1. শতকরা ৪৮ ভাগ
  2. শতকরা ৪৬ ভাগ
  3. শতকরা ৫২ ভাগ
  4. শতকরা ৫৬ ভাগ
সঠিক উত্তর:
শতকরা ৫৬ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতকরা ৫৬ ভাগ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র ভাষা বিতর্ক:
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপরই এর রাষ্ট্র ভাষা কি হবে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
- পাকিস্তান ছিল একটি বহুভাষী রাষ্ট্র।
- এর মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ ভাগের মাতৃভাষা ছিল বাংলা।
- পক্ষান্তরে মোট জনসংখ্যার শতকরা মাত্র ৬ ভাগ ছিল উর্দুভাষী।
- এ হিসেবে বাংলা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা।
- আর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা হিসেবে 'বাংলার' রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ ছিল স্বাভাবিক।
- কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং উর্দুভাষী বুদ্ধিজীবীগণ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
- এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণার দাবি উপেক্ষা করা হয়।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি' গ্রন্থের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একুশের প্রথম সংকলন গ্রন্থের নাম: একুশে ফেব্রুয়ারি।

- গ্রন্থটির সম্পাদক: হাসান হাফিজুর রহমান।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্যচর্চার সূচনা: ছাত্রজীবন থেকেই।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- একই বছরে (১৯৫২) তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে, তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।

অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রথম উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' এর রচয়িতা জহির রায়হান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৬২.
'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' গানটির রচয়িতা -
  1. ক) আলতাফ মাহমুদ
  2. খ) আব্দুল লতিফ
  3. গ) গোবিন্দ হালদার
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য

- সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল লতিফ রচনা করেন এবং নিজেই সুর করেন বিখ্যাত সঙ্গীত 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং 'তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'।
- চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী লেখেন তাঁর বিখ্যাত 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'।
- ঢাকায় কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতির মিনার'।
- আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেন 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি পারি'।


ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা কথায় কথায়,
শিকল পরায় আমাদেরই হাতে-পায়ে
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায় ।।......

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৪৬৩.
’রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটির আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. নূরুল হক ভূইয়া
  2. আব্দুল মতিন চৌধুরি
  3. গোলাম মাহবুব
  4. আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূইয়া
ব্যাখ্যা

'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ':
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

 - ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ 
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ'
- ৩১শে জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ' গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৪৬৪.
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দানের বিল উত্থাপন করেন কে?
  1. ক) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। 
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
---------
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
- গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন। কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৫.
কত সালে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত:
- তমদ্দুন মজলিস ১৯৪৭ সালে আবুল কাসেম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের, (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান)  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তুলে তমদ্দুন মজলিস বাংলা ভাষা আন্দোলন শুরু করে।
 - যদিও এই সংগঠনের প্রতিবাদ লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে

- ভারত এবং পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৭ মাস পরে, ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্যের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা।
- এই ঘোষণা করলে সদ্য জাত রাষ্ট্রে ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে।

[শুধুমাত্র ইতিহাস,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বইতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত  ১৯৪৮ দেওয়া হয়েছে। অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে ১৯৪৭ সালকে সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যদি অপশনে ১৯৪৭ না থাকে তাহলে ১৯৪৮ উত্তর হবে।]

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেনি এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেনি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৬৬.
ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থের নাম কী?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. একুশে ফেব্রুয়ারী
  3. বায়ান্নের ভাষা
  4. একুশের গল্প
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সম্পাদনা - “একুশে ফেব্রুয়ারি”।
- এটি ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
- এ বছর তিনি ‘ঢাকা প্রগতি লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৬৭.
প্রথম তৈরি শহিদ মিনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কে?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  3. গ) আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
  4. ঘ) আবুল হাশিম
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ড. বদরুল আলমের ডিজাইনে কলেজের ছাত্ররা বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে প্রথম শহিদ মিনার নির্মান করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি শফিউর রহমানের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে এটির উদ্বোধন করেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক ‘আবুল কালাম শামসুদ্দিন’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন। ঐ দিন বিকালবেলা পুলিশ সে শহিদ মিনার ভেঙ্গে দেয়।
এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া।
৪৬৮.
কত সালে বাংলা ভাষাকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ক) ১৯৫৮
  2. খ) ১৯৫৬
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালে সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হয়।
- গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল পাস করে। 
- পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অনুমোদনের মাধ্যমে এই আন্দোলন তার লক্ষ্য অর্জন করে। 
- জাতীয় পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) এক পর্যায়ে এর সদস্য ফরিদপুরের আদেলউদ্দিন আহমদের (১৯১৩-১৯৮১) দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৬৯.
নিচের কোনটি ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত?
  1. সাপ্তাহিক ইত্তেফাক
  2. সাপ্তাহিক বাংলা
  3. সাপ্তাহিক ধূমকেতু
  4. সাপ্তাহিক সৈনিক
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল- 'সাপ্তাহিক সৈনিক' পত্রিকা। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমুদ্দিন মজলিশ' -এর উদ্যোক্তা গণ এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- সেই অর্থে এটি তমুদ্দিন মজলিসেরও মুখপত্র।
- সাপ্তাহিক সৈনিক -এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। 
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন - শাহেদ আলী। 
- পরে এর সম্পাদক ছিলেন - আবদুল গফুর ও সানাউল্লাহ নুরী।

অন্যদিকে,
- তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে আরো একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো যার নাম - 'মাসিক দ্যুতি'।
- মাসিক দ্যুতি - ভাষা আন্দোলনের স্বপক্ষে কাজ করলেও সে অর্থে এটিকে ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র বলা যায় না।
- এছাড়াও, 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকাও ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার পক্ষে বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশ করতো।
- বাংলা ভাষার পক্ষের আরো কয়েকটি পত্রিকা হচ্ছে - ইনসাফ, মিল্লাত, ইত্তেহাদ, ইত্তেফাক, ঢাকা প্রকাশ, সীমান্ত ইত্যাদি।
- 'মর্নিং নিউজ' উর্দুর পক্ষে নিউজ প্রকাশ করে বাংলা ভাষার তীব্র বিরোধিতা করতো। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ও প্রথম আলো ও কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
৪৭০.
তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র 'সৈনিক' পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ছিলেন কে?
  1. শাহেদ আলী
  2. আবুল কালাম
  3. কামরুদ্দীন আহমদ
  4. আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

উল্লেখ্য: 
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।
- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
৪৭১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. আবদুল মতিন
  2. শামসুল আলম
  3. নূরুল হক ভূঁইয়া
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূঁইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূঁইয়া
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

⇒ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৪৭২.
ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কে?
  1. রফিক উদ্দিন আহমদ
  2. আবুল বোরহান
  3. আব্দুস সালাম
  4. আবুল বরকত
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকত
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন: 
- ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন করাচি থেকে ঢাকায় আসেন।
- তিনি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন যে, প্রদেশের সরকারি কাজকর্মে কোন ভাষা ব্যবহূত হবে তা প্রদেশের জনগণই ঠিক করবে।
- কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে কেবল উর্দু।
- ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের (১৯০৫-৭৪) সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাংশে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রদের সভা হয়।
- ছাত্ররা পাঁচ-সাতজন করে ছোট ছোট দলে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
- পুলেশের গুলিতে  রফিক উদ্দিন আহমদ,  আবদুল জববার,  আবুল বরকত নিহত হয়।
- আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।


উল্লেখ্য, 
- ভাষা আন্দোলন-এ আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রফিক উদ্দিন আহমদকে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
- আবদুস সালাম তৎকালীন ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগের 'পিয়ন' হিসেবেকর্মরত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৭৩.
তমদ্দুন মজলিশ নামক সংগঠন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. আবুল কাশেম
  2. গোলাম মাহবুব
  3. আব্দুর রহমান
  4. আব্দুল হামিদ খান
সঠিক উত্তর:
আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- 'তমদ্দুন মজলিশ' নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাষার প্রশ্নে সোচ্চার হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তারিখে উক্ত সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৭৪.
১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে 'উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা' সম্পর্কে ভাষণ দেন কে?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ:
- ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে 'উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা' সম্পর্কে ভাষণ দেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। 

• ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ১০ দিনের সফরে পূর্ব পাকিস্তানে আসেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনি বেশ কয়েকটি জনসমাবেশে ভাষণ রাখেন। 
- ২১ মার্চ ১৯৪৮ রেসকোর্স ময়দানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর পূর্ব পাকিস্তান সফর উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশাল সমাবেশে জিন্নাহ বলেন, ‘উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হইবে, অন্য কোনো ভাষা নহে। যে কেহ অন্য পথে চালিত হইবে সেই পাকিস্তানের শত্রু’।
- ২৪ মার্চ তারিখে কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ঢাবি’র সমাবর্তনে তিনি পুনরায় ঘোষণা করেন ‘Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan’. জিন্নাহ যখন বলেন, উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা, তখন হলের মধ্যে বহু ছাত্র ‘না,না’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। জিন্নাহ কঠোর ভাষায় তাদেরকে শাসিয়ে দেন, ‘যে কোন অসাংবিধানিক আন্দোলন কঠোর হস্তে দাবিয়ে রাখা হবে’। ২৮শে মার্চ জিন্নাহ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় রেডিওতে তার দেয়া বক্তব্যে তার অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। 

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) মুক্তিযুদ্ধ-ই-আর্কাইভ। 

৪৭৫.
তমুদ্দীন মজলিশ ছিল একটি-
  1. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান 
  2. সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 
  3. সামাজিক প্রতিষ্ঠান 
  4. অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান 
সঠিক উত্তর:
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো সাপ্তাহিক 'সৈনিক পত্রিকা'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।
- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণী।
৪৭৬.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  2. খ) ৩১ মার্চ, ১৯৫১ সালে
  3. গ) ২৭ জানুয়ারি, ১৯৪৯ সালে
  4. ঘ) ২১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 
– কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
– রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়– ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
– দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়-  ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামছুল আলম।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৭.
বাংলা ভাষা প্রথম সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি পায় কত সালে?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার স্বীকৃতি:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন হয়। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা জারি অমান্য করে রাস্তায় নামলে শহীদ হন সালাম, রফিক, সফিক, বরকতসহ জাতির আরও অনেক সূর্য-সন্তানেরা। 
- ৯ মে মতান্তরে ৭ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় তারও দু’বছর পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস করা হয় ১৯৮৭ সালে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪৭৮.
নিচের ভাষা শহীদের মধ্যে সবার শেষে শহীদ হন কে?
  1. ক) আবুল বরকত
  2. খ) রফিকউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আব্দুস সালাম
  4. ঘ) আব্দুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুস সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুস সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করলে এতে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং আব্দুল জব্বার সহ আরো অনেকে শহিদ হন। আব্দুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ই এপ্রিল মারা যান। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৭৯.
'ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. গাজীপুর
  3. জামালপুর
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর:
- 'ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর' ময়মনসিংহে অবস্থিত।

⇒ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার পাঁচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য তিনি স্ত্রী সহ ঢাকায় আসেন।
- ২০ ফেরুয়ারী শাশুড়ীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে আবদুল জব্বার মেডিকেলের ছাত্রদের আবাসস্থল (ছাত্রব্যারাক-এ উঠেন।
- ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ব্যাপক জনসমাবে ঘটে।
- আবদুল জব্বারও সমাবেশে যোগদেন।
- সেসময় ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০০০সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
- বর্তমানে তার নামে একটি জাদুঘর ও শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়।
- ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাধীন ০৬ নং রাওনা ইউনিয়নের “জব্বার নগর” (পাচুয়া) গ্রামে ভাষা শহীদ আঃ জব্বারের নিজ বাড়ীর নিকটে শহীদ জব্বার বেসরকারী রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শহীদ মিনারের পার্শ্বের জমিতে ২০০৭ সালে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মান করা হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৮০.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. খ) ১১ মার্চ, ১৯৫০
  3. গ) ২ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ঘ) ১ অক্টোবর, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
• কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
• রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
• দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি , বাংলাপিডিয়া।
৪৮১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. রাষ্ট্রভাষা বাংলা পরিষদ
  3. রাষ্ট্রভাষা বাংলা কমিটি
  4. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৪৮২.
ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিম উদ্দীন
  2. নুরুল আমিন
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিম উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিম উদ্দীন
ব্যাখ্যা

 • ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা।

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৩.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. প্রফেসর আবুল কাশেম
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এ ঐতিহাসিক পুস্তিকায় সন্নিবেশিত নিবন্ধগুলোতে এদের লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
- তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিও তুলে ধরেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৮৪.
'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি' এর রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' এর রচয়িতা- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৪৮৫.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ২৬ জানুয়ারি ১৯৫২
  2. খ) ২৮ জানুয়ারি ১৯৫২
  3. গ) ২৯ জানুয়ারি ১৯৫২
  4. ঘ) ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব
- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৬.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংকলন গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
-  ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- কর্মজীবনে হাসান হাফিজুর রহমান শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরে চাকরি এমন বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক  বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে  সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান  (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন। 
-  ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানীদের নিয়ন্ত্রিত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করলেও গণচেতনা ও গণদাবির প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।  


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
৪৮৭.
জাতীয় সংসদে বাংলা ভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস হয়েছে কোন সালে?
  1. ১৯৮৪ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আঘাতটাই আসে বাংলা ভাষার ওপর।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, যা অঙ্কুরিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরিপূর্ণতা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতার পরপর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য একাধিক পরিপত্র জারি করা হয়।
- সর্বোপরি ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন সংসদ কর্তৃক পাশ হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হবে।
- এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হবে।’

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৮৮.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. শামসুল হক
  2. গাজীউল হক
  3. আব্দুল মতিন
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
গাজীউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজীউল হক
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক। 
- বক্তব্য রাখেন শামসুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, কাজী গোলাম মাহবুব, খালেক নেওয়াজ ও আবদুল মতিন।
-  সভাপতি ১০ জন করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের নির্দেশ দেন।
- পুলিশ মিছিলকারীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ছাত্ররা মেডিকেল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হন।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত।
- আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববাংলা আইন পরিষদে যোগদানকারী সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার দাবির কথা পৌঁছে দেয়া যেন তাঁরা অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করেন।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
৪৮৯.
কোন ভাষা সৈনিক ১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়?
  1. বরকত
  2. সালাম
  3. রফিক
  4. শফিউর
সঠিক উত্তর:
শফিউর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শফিউর
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন: 
- ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন।
- এর প্রতিবাদে ছাত্র সমাজ ৩০শে জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে।
- আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- ৩১শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে নতুনভাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। 
- ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়।

- ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- কারাবন্দি নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২১শে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনে ছাত্র ও আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা-কর্মীদের ডেকে পরামর্শ দেন।
- ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সহবন্দি মহিউদ্দিন আহমেদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।

- সেখানে মহিউদ্দিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজবন্দিদের মুক্তি ও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করলে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। 
- ২০শে ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
- আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

- ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের পাশে) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
- একপর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন।
- ২২শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশাল শোক র‍্যালি বের হয়। সেখানে পুলিশের হামলায় শফিউর রহমান শহিদ হন।
- শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকায় ২৩শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে এবং শফিউরের পিতাকে দিয়ে ঐ দিনই তা উদ্বোধন করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯০.
কত সালে বাংলাকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি: 
- বাংলাকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি ১৯৫৬ সালে দেয়া হয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহীত হয়, বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এর আগে, ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করে।
- এরপর, ১৯৫৬ সালে জাতীয় পরিষদে বাংলা ও উর্দু উভয়কে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।  

উল্লেখ্য, 
 - বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস করা হয় ১৯৮৭ সালে।  

ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন, এটি ১৯৪৭ সালে শুরু হয়ে ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রস্তাব দিলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন ছিলো এবং তাদের প্রকাশিত পুস্তিকায় আন্দোলনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪৯১.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) ড. মুনীর চৌধুরী
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিত রচিত সাহিত্যকর্ম:

- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সঙ্গীত।
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক।
- জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯২.
বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহিদ মিনার স্থাপিত হয় কোন দেশে?
  1. ইংল্যান্ড
  2. জাপান
  3. রাশিয়া
  4. কোরিয়া
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:
- বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহিদ মিনার স্থাপিত হয় ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে। 
- গ্রেট মেনচেস্টারের ওল্ডহ্যামের ওয়েস্টহুড নেবারহুডে তৈরি হয়েছে এ মিনার।
-  ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর সেখানকার ‘বাংলাদেশি কালচারাল অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন ওল্ডহ্যাম’ সে দেশে শহীদ মিনার নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। 
- তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। 
- জাপান বাংলাদেশ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর বৈশাখি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার এই শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৯৩.
কোন সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি।
৪৯৪.
উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেছিলেন কে?
  1. ক) মাওলানা ভাসানী
  2. খ) নূরুল আলম
  3. গ) ধীরেনদ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) কামাল ফারুক
সঠিক উত্তর:
গ) ধীরেনদ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধীরেনদ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• দত্ত, ধীরেন্দ্রনাথ (১৮৮৬-১৯৭১):
- ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
-  ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা’র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণে তিনি মুক্তি সংঘ নামে একটি সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা গঠন করেন। 
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- আওয়ামীলিগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করেন। 
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংরাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- সরকারী কাগজে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান – ধীরেনদ্রনাথ দত্ত।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৪৯৫.
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহ্বানে ধর্মঘট পালিত হয় কত তারিখে?
  1. ২৯শে ফেব্রুয়ারি
  2. ১১ই মার্চ
  3. ২৬শে ফেব্রুয়ারি
  4. ৯ই মার্চ
সঠিক উত্তর:
১১ই মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ই মার্চ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকেই শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন
- তিনি বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
- কিন্তু, মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করতে থাকে।
- ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ঢাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহ্বানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৯৬.
তমুদ্দিন মজলিস সংগঠনটি কিসের সাথে জড়িত?
  1. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. শাসনতন্ত্র আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি:
- ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয়।
- তৎকালীন পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয়।
- পাকিস্তান নামক এই নতুন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
- সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই আবদুল হক ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- তমুদ্দিন মজলিস সংগঠনটি ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৪৯৭.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. লুৎফর রহমান
  2. হামিদুর রহমান
  3. পাভেল রহমান
  4. আতাউর রহমান
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৪৯৮.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির রচয়িতা কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আবদুল লতিফ
  3. আপেল মাহমুদ
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে। 
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।

৪৯৯.
২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের প্রথম পদক্ষেপটি গ্রহণ করে -
  1. Bangla Academy
  2. Mother Language Lover of the World
  3. Asiatic Society of Bangladesh
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Mother Language Lover of the World
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mother Language Lover of the World
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়:
- আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার-এ বসবাসরত Mother Language Lover of the World নামের একটি বহুভাষী ও বহুজাতিক ভাষাপ্রেমী গ্রুপ ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান-এর কাছে একটি আবেদনপত্র পেশ করেন।
- জাতিসংঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির ২৭ ধারার উপর ভিত্তি করে তারা আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশের অসংখ্য জাতিগোষ্ঠীকে মাতৃভাষা ব্যবহার না করার জন্য, মাতৃভাষা ভুলে যাওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে; বল প্রয়োগ করা হচ্ছে।
- যা 'সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ'-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
- পত্রে তারা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য বাঙালির ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত পটভূমি তুলে ধরেন যা সারাপৃথিবী জুড়ে অনন্য।
- তারা ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন জানান যাতে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী তাদের মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য একটি বিশেষ দিবস পাবে।
- এ আবেদনে বিভিন্ন ভাষাভাষী ১০ জন স্বাক্ষর করেন।
- ইউনেস্কো তথা জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রস্তাবটি মেনে নেয়।
- ২৮টি রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রস্তাবে লিখিতভাবে সমর্থন জানায় এবং Draft Resolution-35 হিসেবে চিহ্নিত করে এক্সিকিউটিভ বোর্ডে প্রেরণ করে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সর্বসম্মতিক্রমে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০০.
নিচের কোন সংগঠন ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ক) পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন
  2. খ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
  3. গ) পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ
  4. ঘ) জাতীয় ছাত্র ফেডারেশন
সঠিক উত্তর:
খ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্র“প), জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের একাংশ (দোলন গ্র“প), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইয়ূব বিরোধী ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে।
- আওয়ামী লীগের ছয় দফা কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ সংবাদ সম্মেলন করে ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। 
- এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যার কারণে এগারো দফা পূর্ব বাংলার আপামর জনসাধারণের সমর্থন লাভ করেছিলো।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।