বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন২,১৫২এই পাতা৪১প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২২ / ২২ · ২,১০১২,১৪১ / ২,১৫২

২,১০১.
নিচের কোনটি অঘোষ ধ্বনি নয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অঘোষ ধ্বনি নয় - । 'জ' হচ্ছে ঘোষ ব্যঞ্জন।

অন্যদিকে,
অঘোষ ধ্বনি - চ, ট এবং থ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,১০২.
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী বাংলা শুদ্ধ স্বরধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৭ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ৯ টি
  4. ঘ) ১১ টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ টি
ব্যাখ্যা
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], উ]; 
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [ঝ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম],[ন],[ঙ] [স্], [শ], [হ্], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]।
এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

• যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলােকে স্বরধ্বনি বলে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর মতে, যে ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ব্যতিরেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পরিস্ফুটভাবে উচ্চারিত হয় এবং যাহাকে আশ্রয় করিয়া অন্য ধ্বনি প্রকাশিত হয় তাহাকে স্বরধ্বনি বলে

• অন্যদিকে যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাইরে বের হওয়ার আগে বাম্প্রত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলােকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শােনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলাে বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। স্বরধ্বনির প্রতীক স্বরবর্ণ। ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক ব্যঞ্জনবর্ণ।
- বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি। তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ। মূল বর্ণগুলাে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণে বিভক্ত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)।
২,১০৩.
ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রা বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রা বর্ণের সংখ্যা - ৭টি

বর্ণ:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ।
- এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- স্বরধ্বনির প্রতীক স্বরবর্ণ।
- ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক ব্যঞ্জনবর্ণ।
- বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি। তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।

• ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রা বর্ণের সংখ্যা - ৭টি
যথা: খ, গ, ণ, থ, ঢ, প, শ।

- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা - ৬টি।
যথা: ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ।

- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা - ২৬টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১০৪.
'ঝ’ - কোন উচ্চারণস্থানভুক্ত ব্যঞ্জন?
  1. দন্ত্য
  2. মূর্ধন্য
  3. তালব্য
  4. ওষ্ঠ্য
সঠিক উত্তর:
তালব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য
ব্যাখ্যা
• 'ঝ' - তালব্য ধ্বনি।
---------------- 
• তালব্য ধ্বনি:
জিভের পাতা উঁচু করে অগ্রতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। 

- স্বরবর্ণের মধ্যে তালব্য বর্ণ হচ্ছে - ই, ঈ।

উল্লেখ্য, 
- ব্যঞ্জণবর্ণে তালব্য ধ্বনি - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,১০৫.
কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ নিম্নের কোনটি?
  1. ক) ল
  2. খ) র
  3. গ) ড়
  4. ঘ) ঢ়
সঠিক উত্তর:
খ) র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) র
ব্যাখ্যা
কম্পিত ব্যঞ্জন: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে। কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।


অন্যদিকে ল = পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি।
                ড় এবং ঢ় = তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,১০৬.
যে অক্ষর ব্যঞ্জনধ্বনিতে শেষ হয়, তাকে কী বলে?
  1. মুক্তাক্ষর
  2. দীর্ঘাক্ষর
  3. স্বরাক্ষর
  4. বদ্ধাক্ষর
সঠিক উত্তর:
বদ্ধাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদ্ধাক্ষর
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বা অর্ধস্বরধ্বনিতে সমাপ্ত অক্ষরকে বদ্ধাক্ষর বলা হয়।
—--------------------------- 
• অক্ষর:
- বাগযন্ত্রের একটি প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনির সমষ্টি উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বলা হয়।
- অক্ষর হলো ধ্বনি বা শব্দাংশের সেই ক্ষুদ্রতম একক, যা একবারের উচ্চারণচেষ্টায় সম্পন্ন হয়।
- অক্ষর প্রধানত দুই প্রকার—
- মুক্তাক্ষর ও
- বদ্ধাক্ষর।

বদ্ধাক্ষর:
- যে অক্ষরের সমাপ্তি ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনিতে ঘটে, তাকে বদ্ধাক্ষর বলা হয়।
- একে ব্যঞ্জনান্ত বা যুগ্মাস্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- যেমন— “বুধ বার দিনরাত হরতাল” বাক্যে (বুধ্‌), (বার্), (দিন্), (রাত), (হর্), (তাল্)—এসবই বদ্ধাক্ষর।
- বদ্ধাক্ষরকে সাধারণত – চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
----------------------------- 
অন্যদিকে, 
মুক্তাক্ষর:
- যে অক্ষরে কেবল একটি বর্ণ থাকে বা যা স্বরধ্বনিতে শেষ হয়, তাকে মুক্তাক্ষর বলা হয়।
- একে অযুগ্ম বা স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- যেমন— “ভালোবাসো সেটা বলনা কেন?” বাক্যে (ভা), (লো), (বা), (সো), (সে), (টা), (ব), (ল), (না), (না), (কে), (ন)—এগুলো সবই মুক্তাক্ষর।
- মুক্তাক্ষরকে U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 
- এ ধরনের অক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে প্রয়োজনে উচ্চারণ দীর্ঘ করা যায়।

উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,১০৭.
বাংলা একাডেমি অনুসারে বাগ্‌যন্ত্র কয়টি?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১২
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ১৬
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি অনুসারে বাগ্‌যন্ত্র ১৪টি। 
যথা:
১। মধ্যচ্ছদা 
২। ফুসফুস
৩। শ্বাসনালি
৪। গলবিল
৫। স্বরযন্ত্র 
৬। ধ্বনিদ্বার ও স্বররন্ধ্র
৭। অধিজিহবা
৮। জিভ 
৯। তালু
১০। আলজিভ
১১। দাঁত
১২। ওষ্ঠ
১৩। দন্তমূল
১৪। চোয়াল

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২,১০৮.
‘ম’ বর্ণ বা ধ্বনির ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) ওষ্ঠ্য বর্ণ
  2. খ) উষ্মধ্বনি
  3. গ) প- বর্গীয় ধ্বনি
  4. ঘ) আনুনাসিক বা নাসিক্য বর্ণ
সঠিক উত্তর:
খ) উষ্মধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উষ্মধ্বনি
ব্যাখ্যা
ঙ ঞ ণ ন ম- এই পাঁচটি বর্ণ এবং ং, ঃ, ঁ যে বর্ণের সঙ্গে লিখিত হয় সে বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস নিঃসৃত বায়ু মুখবিবর ছাড়াও নাসারন্ধ্র দিয়ে বের হয়; অর্থাৎ এগুলোর উচ্চারণে নাসিকার সাহায্য প্রয়োজন হয়। তাই এগুলোকে বলে আনুনাসিক বা নাসিক্য ধ্বনি, আর এগুলোর বর্ণকে বলা হয় আনুনাসিক বা নাসিক্য বর্ণ।
প- বর্গীয় ধ্বনিঃ প, ফ, ব, ভ, ম এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। তাই এদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি এবং প্রতীকগুলোকে ওষ্ঠ্য বর্ণ বলা হয়।
শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
২,১০৯.
'ই' উচ্চারণের সময়ে জিভের অবস্থান-
  1. উচ্চ-সম্মুখ
  2. নিম্ন-সম্মুখ
  3. নিম্ন-পশ্চাৎ
  4. উচ্চ-পশ্চাৎ
সঠিক উত্তর:
উচ্চ-সম্মুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ-সম্মুখ
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

• জিভের উচ্চতা অনুযায়ী,
- উচ্চ = ই, উ।
- উচ্চ-মধ্য = এ, ও।
- নিম্ন-মধ্য = আ্যা, অ।
- নিম্ন = আ।

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী:
- সম্মুখ = ই, এ, আ্যা, 
- মধ্য = আ;
- পশ্চাৎ = উ, ও, অ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,১১০.
‘প ও শ’ কোন ধরনের বর্ণ?
  1. মাত্রাহীন বর্ণ
  2. অর্ধমাত্রা বর্ণ
  3. পূর্ণমাত্রা বর্ণ
  4. নিলীন বর্ণ
সঠিক উত্তর:
অর্ধমাত্রা বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধমাত্রা বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা। 

• বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি। 
• মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ্ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
• অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি ( খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
• পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

 অন্যদিকে,
• অ একটি নিলীন বর্ণ। অ কে নিলীন বর্ণ বলে কারণ অ কোন বর্ণের সাথে যুক্ত হলে তা দেখা যায় না। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১১.
'ড়, ঢ়' কোন ধরণের বর্ণ?
  1. ক) কম্পিত ব্যঞ্জন
  2. খ) নাসিক্য ব্যঞ্জন
  3. গ) তাড়িত ব্যঞ্জন
  4. ঘ) তালব্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
গ) তাড়িত ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাড়িত ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
কম্পিত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: কর,ভার, হার প্রভৃতি শব্দের  কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনি

নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যে সব ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধাপায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জন

তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূ্র্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'বাড়ি, মূঢ়' প্রভৃতি শব্দের 'ড়, ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি

তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন :চাচা, ছাগল, জাল,ঝড়, শসা, প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
২,১১২.
নিচের কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) ক + ষ = ক্ষ
  2. খ) ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
  3. গ) ক্‌ + ক = ক্ক
  4. ঘ) ণ + ক = ঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ণ + ক = ঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ণ + ক = ঙ্ক
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ যুক্ত বর্ণঃ
ক + ষ = ক্ষ
ঞ্‌+চ = ঞ্চ
ক্‌+ক = ক্ক
ঙ + ক = ঙ্ক
ঞ্‌+ছ = ঞ্ছ
ন্‌ + ম = ন্ম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,১১৩.
কোনটি অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণের উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ:
- ত, থ, দ, ধ, ন, ল,

অন্যদিকে,
জিহ্বামূলীয় বর্ণ:
- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ বর্ণ:
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,১১৪.
‘মূঢ়' শব্দের 'ঢ়' কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. কম্পিত ব্যঞ্জন
  2. তাড়িত ব্যঞ্জন
  3. নাসিক্য ব্যঞ্জন
  4. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
তাড়িত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অথার্ৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায় তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

অন্যদিকে:
নাসিক্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
- যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
- লাল শব্দে ল পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,১১৫.
নিচের কোনটি একটি স্বরবর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ এগারটি (অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ) ।
- এরমধ্যে মাত্রাহীন বর্ণ চারটি। যথা- এ, ঐ, ও, ঔ।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ একটি যথা- ঋ।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১১৬.
‘গ্ধ’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. গ্ + ব
  2. গ + ব্ + ঊ
  3. গ + ধ্ + ঊ
  4. গ্ + ধ
সঠিক উত্তর:
গ্ + ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্ + ধ
ব্যাখ্যা
• ‘গ্ধ’ যুক্তবর্ণটি (গ ও ধ) দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। যথা: গ্ + ধ = গ্ধ। 

---------------------
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ন্ড, ম্ফ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ব্ধ (ব্ +ধ),
ক্ত (ক্ + ত),
গু (গ্ + উ)
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
ণ্ড (ণ্ + ড), 
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ),
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,১১৭.
নিচের কোনটিতে পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হয়?
  1. অর্ধ-দ্বিস্বরধ্বনি
  2. দ্বিস্বরধ্বনি
  3. মিশ্রধ্বনি
  4. ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।

যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।
- দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।

২,১১৮.
নিম্নে কোনটি "কম্পিত ব্যঞ্জন" ধ্বনির উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• কম্পিত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে,
তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- ”র” কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- ”হ” উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,১১৯.
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৩৯
  2. খ) ৪১
  3. গ) ৪২
  4. ঘ) ৪৩
সঠিক উত্তর:
খ) ৪১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪১
ব্যাখ্যা
প্রথমত,
- বাংলা ধ্বনির ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হল ব্যাঞ্জনধ্বনিগুলোর সংখ্যা নিরূপণ।
- এই বিষয়ে ধ্বনিতাত্ত্বিকদের মধ্যেও মতভিন্নতা রয়েছে।
- এই মতবিরোধ মূলত ব্যাঞ্জনের ৩টি এবং অর্ধস্বরের চারটি ধ্বনি নিয়ে।

• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে,
বাংলা স্বরধ্বনির সংখ্যা: ৭টি।
বাংলা অর্ধস্বরধ্বনির সংখ্যা: ৪টি।
বাংলা ব্যাঞ্জনধ্বনির সংখ্যা: ৩০টি।
মোট ধ্বনি সংখ্যা: ৪১টি।

আবার, ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই অনুসারে,
বাংলা স্বরধ্বনির সংখ্যা: ৭টি
বাংলা ব্যাঞ্জনধ্বনির সংখ্যা: ৩২টি
মোট ধ্বনি সংখ্যা: ৩৯টি।
এছাড়াও, স্বরধ্বনিগুলোর অনুনাসিক হিসেবে আরও ৭টি ধ্বনি আছে।

উল্লেখ্য, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলায় মোট ৩১টি ব্যাঞ্জনধ্বনি দেখিয়েছেন, সুহাস ও কৃষ্ণা দেখিয়েছেন ২৭টি এবং পবিত্র সরকার ৩০টি ব্যাঞ্জনধ্বনি দেখিয়েছে।
ডঃ হায়াত মামুদের মতে, ব্যাঞ্জনধ্বনি ২৮টি।

সুতরাং, বোর্ড বইয়ের চেয়ে বাংলা একাডেমি বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়াতে আমরা ৪১টিকে সঠিক উত্তর হিসেবে ধরে নিচ্ছি।
২,১২০.
বাংলা স্বরধ্বনিতে মোট কয়টি দীর্ঘস্বর আছে?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
হ্রস্বস্বর:
- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে।
যেমন: অ, ই, উ, ঋ এই (৪টি হ্রস্বস্বর)।

দীর্ঘস্বর: 
- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে।
যেমন: আ,ঈ, উ, এ, ঐ, ও, ঔ এই ৭টি দীর্ঘস্বর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেনি। (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১২১.
কোনটি অনুনাসিক স্বরধ্বনি?
  1. [আ]
  2. [এঁ]
  3. [উ]
  4. [এ]
সঠিক উত্তর:
[এঁ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[এঁ]
ব্যাখ্যা
অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

যেমন:
অনুনাসিক ষ্বরধ্বনি:
- [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

অন্যদিকে,
মৌলিক স্বরধ্বনি:
- [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২,১২২.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'ঢ়' কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  2. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  3. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন, 
ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
⇒ দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
যেমন, 
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

⇒ দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১২৩.
'ধ্বনি' সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
  2. ধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়।
  3. অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাগ্‌ধ্বনি
  4. ধ্বনি দৃশ্যমান
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি দৃশ্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি দৃশ্যমান
ব্যাখ্যা
ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে
- ধ্বনি বলতে সাধারণভাবে আমরা যেকোন আওয়াজকেই বুঝে থাকি।
- ভাষার ধ্বনি হলো বাগ্‌যন্থের সাহায্যে উচ্চারিত এমন কিছু ধ্বনি, যা মনের ভাব প্রকাশের জন্য মানুষ ব্যবহার করে থাকে। 
---------
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, "কোনও ভাষার উচ্চারিত শব্দকে বিশ্লেষণ করলে, আমরা কতগুলি ধ্বনি পাই।"

ধ্বনিতাত্ত্বিক মুহম্মদ আবদুল হাই ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থে লিখেছেন, "অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাগ্‌ধ্বনি।"
---------
মূল কথা হলো,
- অর্থবোধক ধ্বনি সমষ্টিই ভাষার প্রধান উপাদান।
- কিন্তু ধ্বনি দৃশ্যমান নয়, উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়।
- ধ্বনিকে দৃশ্যমান দেওয়ার জন্য বা লিখিত আকারে প্রকাশ করার জন্যে প্রয়োজন হয় এক প্রকার সংকেত বা চিহ্নের। এই সঙ্কেত বা চিহ্নকে বর্ণ বলে।
- ধ্বনি দৃশ্যমান না হলেও বর্ণ দৃশ্যমান হয়ে থাকে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,১২৪.
কোনটি যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে। ঐ, ঔ – এ দুটি দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন।

• ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্‌]।
• একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,১২৫.
কোন শব্দে দন্ত্য ব্যঞ্জনের উপস্থিত আছে?
  1. লাল
  2. নানা
  3. দাদা
  4. সাল
সঠিক উত্তর:
দাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাদা
ব্যাখ্যা
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, , ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, সাল, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১২৬.
'হ্ন' -তে কোন কোন বর্ণ যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) হ্‌ + ণ
  2. খ) হ্‌ + ন
  3. গ) ণ্‌ + হ
  4. ঘ) ন্‌ + হ
সঠিক উত্তর:
খ) হ্‌ + ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হ্‌ + ন
ব্যাখ্যা
'হ্ন' = হ্‌ + ন 
উদাহরণ - চিহ্ন, আহ্নিক, মধ্যাহ্ন। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৭.
তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ আছে কোন শব্দে?
  1. ক) ঘাস
  2. খ) কল
  3. গ) দল
  4. ঘ) জাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাল
ব্যাখ্যা
‘জাল’ শব্দের ‘জ’ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ

তালব্য ব্যঞ্জন : 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়র শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।

চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা, প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
২,১২৮.
নিচের কোনটি স্পর্শধ্বনির প্রকার নয়?
  1. ওষ্ঠ্যব্যঞ্জন
  2. অন্তঃস্থ ধ্বনি
  3. তালব্যব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠ্যব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
অন্তঃস্থ ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তঃস্থ ধ্বনি
ব্যাখ্যা
স্পর্শধ্বনি:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণে জিভ মুখের ভেতরে কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দন্ত, ওষ্ঠ প্রভৃতি কোনো না কোনো স্থান স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়, তাদেরকে স্পর্শধ্বনি বলে। ক থেকে ম পর্যন্ত এই পঁচিশটি ধ্বনিকে স্পর্শধ্বনি বলা হয়। এই স্পর্শধ্বনি পাঁচ রকমের হতে পারে।

যেমন:
- কণ্ঠ্যব্যঞ্জন, তালব্যব্যঞ্জন, মূর্ধন্যব্যঞ্জন, দন্ত্যব্যঞ্জন ও ওষ্ঠ্যব্যঞ্জন

অন্যদিকে,
অন্তঃস্থ ধ্বনি:
- য, য়, র, ল এবং অন্তঃস্থ-ব এই ধ্বনিগুলোর অবস্থান স্পর্শধ্বনি ও উষ্মধ্বনির মাঝামাঝি বলে এদেরকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,১২৯.
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোন গুলো?
  1. ক) ট, ঠ, ড, ঢ
  2. খ) চ, ছ, জ, ঝ
  3. গ) ক, খ, গ, ঘ
  4. ঘ) ত, থ, দ, ধ
সঠিক উত্তর:
ক) ট, ঠ, ড, ঢ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ট, ঠ, ড, ঢ
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
২,১৩০.
অক্ষর কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা

অক্ষরঃ বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- দিন, রাত)

যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

২,১৩১.
নিচের কোন বর্ণগুলো মহাপ্রাণ ধ্বনির উদাহারণ?
  1. ট, ত, প
  2. ড, দ, ব
  3. ট, ড, ড়
  4. খ, ঘ, ছ
সঠিক উত্তর:
খ, ঘ, ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ, ঘ, ছ
ব্যাখ্যা
• মহাপ্রাণ ধ্বনির উদাহারণ - খ, ঘ, ছ

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,১৩২.
গূঢ় শব্দের 'ঢ়'- কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. ঘর্ষণজাত ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. নাসিক্য ধ্বনি
  3. তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা

• তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনি:
তাড়িত ব্যঞ্জন যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন, 
- বাড়ি, মূঢ়, গূঢ় প্রভৃতি শব্দের — ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি,  (২০২১ সংস্করণ)।

২,১৩৩.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩৭টি
  2. ৩০টি
  3. ৩২টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা

•  বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

মৌলিক স্বরধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন:
- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।

- বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩০টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,১৩৪.
বাংলা ভাষায় কতটি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে?
  1. ৭টি
  2. ৩৭টি
  3. ৩০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা, 
স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ্], [ব্], [ভ্], [ত্], [থ্], [খ্], [দ্], [ধ্], [ট্], [ঠ্], [ড্], [ঢ্], [চ্], [ছ্], [জ্], [ঝ্], [ক্], [খ্], [গ্], [ঘ্], [ঙ্], [ম্], [ন্], [স্], [শ], [হ্], [ল্], [র্], [ড়্], [ঢ়্] । এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
২,১৩৫.
কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
অ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১৩৬.
'কঙ্কণ' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ঞ্‌ + ক
  2. ঙ্‌ + ক
  3. ক্‌ + ঞ
  4. ঞ্‌ + ক + ন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + ক
ব্যাখ্যা
• 'কঙ্কণ' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ: ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।

-------------
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না। যুক্তবর্ণ দুই রকম।
যথা-
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ড্ড, ন্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্দ ইত্যাদি। 

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত), ক্ম (ক্ + ম), ক্র (ক্ + র), ক্ষ (ক্ + ষ), ক্ষ্ম (ক্ + ষ্‌ + ম), ক্স (ক্ + স), গু (গ্‌ + ঙ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্‌ + ক), ঙ্গ (ঙ + গ), জ্ঞ (জ্ + ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌ + চ), ঞ্ছ (ঞ্‌ + ছ), ঞ্জ (ঞ্‌ + জ), ট্ট (ট্ + ট), ত্ত (ত্ + ত), ত্থ (ত্ + থ), ত্র (ত্ + র), দ্ধ (দ্‌ + ধ), ন্ধ (ন্‌ + ধ), ব্ধ (ব্‌ + ধ), ভ্র (ভ্‌ + র), ভ্রূ (ভ্‌ + র্ + উ), রু (র + উ), রূ (র + ঊ), শু (শ্‌ + উ), ষ্ণ (ষ + ণ), হু (হ্ + উ), হৃ (হ্ + ঋ), হ্ন (হ + ন), হ্ম (হ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৩৭.
ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে কী বলা হয়?
  1. শব্দ
  2. পদ
  3. বাক্য
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক বা চিহ্নকে - বর্ণ বলে।
- ভাষা লিখে প্রকাশ করার সাংকেতিক চিহ্ন সমূহকে বর্ণ বলে। বর্ণ হলো দৃশ্যগ্রাহ্য রূপ। ধ্বনি হলো শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ।

আরো কিছু তথ্য:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি;
- ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি;
- ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন - বর্ণ;
- ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১৩৮.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. হ্‌  + ঊ = হৃ
  2. হ্ + ন = হ্ন
  3. হ্‌  + উ = হু
  4. হ + ণ = হ্ণ
সঠিক উত্তর:
হ্‌  + ঊ = হৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্‌  + ঊ = হৃ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ- হ্‌  + ঊ = হৃ। 
• শুদ্ধরূপ- হ্‌  + ঋ = হৃ। 

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণগুলো হলো:
ক্ত = (ক্ + ত),
ক্স = (ক্ + স),
ক্ষ = (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম = (ক্ + ষ + ম),
ক্ম  = (ক্ + ম),
গু = (গ্‌ + উ),
গ্ধ = (গ্‌ + ধ),
ঙ্গ = (ঙ্‌ + গ),
জ্ঞ = (জ্‌ + ঞ),
ঞ্চ = (ঞ্‌ + চ),
ঞ্জ = (ঞ্‌ + জ),
ষ্ণ = (ষ্‌ + ণ)
হু = (হ্‌  + উ),
হৃ = (হ্‌  + ঋ),
হ্ন = (হ্ +ন ),
হ্ণ = (হ + ণ),
হ্ম = (হ্‌ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,১৩৯.
যুক্তবর্ণের কোন রূপটি সঠিক নয়?
  1. হ্ + ম = হ্ম
  2. ণ্ + ঢ = ণ্ড
  3. হ্ + ন = হ্ন
  4. হ্ + ঋ = হৃ
সঠিক উত্তর:
ণ্ + ঢ = ণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণ্ + ঢ = ণ্ড
ব্যাখ্যা
ণ্ + ঢ = ণ্ড - রূপটি সঠিক নয়।
- এর সঠিক রূপ - ণ্ + ড = ণ্ড।

অন্যদিকে,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণের প্রয়োগ সঠিক।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,১৪০.
নিচের কোনটি ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন নয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের , ফ, , ভ, ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
- 'স' হচ্ছে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১৪১.
নিচের কোনটি নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. অ্যা
  2. ও 
সঠিক উত্তর:
অ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা
ব্যাখ্যা

• [অ্যা] নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।

অন্যদিকে,
- [ই] উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [উ] উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [এ]  উচ্চ-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [ও]  উচ্চ-মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [অ্যা]  নিম্ন - মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [অ]  নিম্ন - মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [আ]  নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।