বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন২,১৫২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৩ / ২২ · ১,২০১১,৩০০ / ২,১৫২

১,২০১.
কোন দুটি ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন?
  1. ফ, ব
  2. থ, দ
  3. র, ল
  4. ড়, ঢ়
সঠিক উত্তর:
ফ, ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ, ব
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
যেমন:
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২০২.
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
  1. অকিঞ্চন
  2. অকাল্পনিক
  3. অকার্যক্ষম
  4. অকালে
সঠিক উত্তর:
অকার্যক্ষম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকার্যক্ষম
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শব্দগুলো বর্ণানুক্রমিক (অর্থাৎ অ-আ-ই-ঈ-উ-ঊ... এই ক্রমে) সাজানো হয়। বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ,
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ।

দেওয়া চারটি শব্দের প্রথম অক্ষর সবই অ, তাই পরের অক্ষর দেখতে হবে:
অকার্যক্ষম → অ + ক + া + র + ্য + ক + ্ষ + ম। 
অকালে → অ + ক + া + ল + ে। 
অকাল্পনিক → অ + ক + া + ল + ্প + ন + ি + ক। 
অকিঞ্চন → অ + ক + ি + ঞ + ্চ + ন। 

দ্বিতীয় অক্ষর সবারই ক (সমান)। তৃতীয় অক্ষরে (মাত্রা/স্বর সহ):
অকার্যক্ষম → া (কা)
অকালে → া (কা)
অকাল্পনিক → া (কা)
অকিঞ্চন → ি (কি)

বাংলায় স্বরচিহ্নের ক্রম সাধারণত: া > ি > ী > ু > ূ > ৃ > ে > ৈ > ো > ৌ (অর্থাৎ আ-কার আগে আসে ই-কার এর চেয়ে)। সুতরাং অকিঞ্চন (কি) অন্য তিনটি শব্দের পরে বসবে। 

তৃতীয় থেকে চতুর্থ অক্ষরে: র্য / ল / ল্প বাংলা বর্ণক্রমে র আসে ল-এর আগে। তাই অকার্যক্ষম আগে বসবে। তারপর অকালে, অকাল্পনিক ও অকিঞ্চন শব্দগুলো বসবে। 

সুতরাং সঠিক ক্রম হবে: ১. অকার্যক্ষম ২. অকালে ৩. অকাল্পনিক ৪. অকিঞ্চন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২০৩.
'ভ্রূ' যুক্তবর্ণে কোন কোন বর্ণ যুক্ত রয়েছে?
  1. ক) ভ্ + র্
  2. খ) ভ্ + ঋ+ ঊ
  3. গ) ভ্ + র্ + ঊ
  4. ঘ) ভ্ + র্ + উ
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্ + র্ + ঊ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্ + র্ + ঊ
ব্যাখ্যা
'ভ্রূ'  এর সঠিক রূপ হলো ভ্ + র্ + ঊ

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ক্ + ত = ক্ত,
- ক্ + ম = ক্ম,
- ক্ + র = ক্র,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + স = ক্স,
- ঙ্ + ক = ঙ্ক ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।]
১,২০৪.
ঘৃষ্ট ধ্বনি কোনটি?
  1. ণ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ঘৃষ্ট ধ্বনি:
এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের-বাতাস প্রথমে স্পৃষ্ট ধ্বনির মতো মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয় কিন্তু দ্রুত বের না হয়ে কিছুটা বিলম্বে ঘর্ষণ ধ্বনি তৈরি করে বের হয়।

সে-হিসাবে এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য হলো: স্পৃষ্ট + ঘর্ষণজাত = ঘৃষ্ট। ইংরেজি child, jam শব্দের ch, j এ জাতীয় ধ্বনি। বাংলা কাচ, মাছ, কাজ, মাঝ, শব্দের [চ্, ছ্, জ্, ঝ্ ] ঘৃষ্ট ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- শ উষ্ম ধ্বনি।
- ত দন্ত্য ধ্বনি।
- ণ নাসিক্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।

১,২০৫.
'জ' এর উচ্চারণ স্থানগত অবস্থান কী?
  1. দন্তমূলীয়
  2. তালব্য
  3. মূর্ধন্য
  4. কণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
তালব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন, 
- দন্ত্য ব্যঞ্জন, 
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন, 
- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন, 
- তালব্য ব্যঞ্জন, 
- কন্ঠ্য ব্যঞ্জন, 
- কন্ঠনালী ব্যঞ্জন। 

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২০৬.
যেসকল ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণে ফুসফুস থেকে কম বায়ু নির্গত হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
  2. অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
  3. ঘোষ ব্যঞ্জন
  4. অঘোষ ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স ,ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।  
-------------------
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণে সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন- হ, ফ, ভ , থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ।
১,২০৭.
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. ছ, থ, খ
  2. স, ট, ড
  3. জ, শ, ঝ
  4. ঠ, ঢ, ঢ়
সঠিক উত্তর:
স, ট, ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স, ট, ড
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১,২০৮.
তালব্য ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. ল, স 
  2. দ, ধ
  3. ঝ, শ
  4. জ, ঢ় 
সঠিক উত্তর:
ঝ, শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝ, শ
ব্যাখ্যা

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্য ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২০৯.
বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয় কী বোঝাতে?
  1. অনুনাসিকতা
  2. ব্যঞ্জনা
  3. দীর্ঘস্বর
  4. অর্ধস্বর
সঠিক উত্তর:
অনুনাসিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুনাসিকতা
ব্যাখ্যা

• 'অনুনাসিকতা' বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয়।
- বাংলা ভাষায় অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।
- এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়।
- স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
• অনুনাসিক ষ্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।

১,২১০.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নিচের কোনটি তাবল্য বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

 • ঈ বাংলা স্বরবর্ণমালার চতুর্থ বর্ণ। 
- এটি সংস্কৃত দীর্ঘস্বর এবং এর উচ্চারণ-স্থান তালু।

অন্যদিকে,
 • ঔ [ওউ] উচ্চারণ স্থান কন্ঠ ও ওষ্ঠ।
 • ঋ এর উচ্চারণ-স্থান মূর্ধা।
 • অ এর উচ্চারণ-স্থান কন্ঠ।
================

⇒ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
বাকপ্রত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলাে ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
২. দন্ত্য ব্যঞ্জন,
৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
৫. তালব্য ব্যঞ্জন,
৬. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
৭. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

⇒ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দম বা জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ তাবল্য ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ)।

১,২১১.
বাংলা বর্ণমালায় কোন বর্ণকে নিলীন বর্ণ বলা হয়?
  1. উ 
  2. ই 
  3. ও 
  4. অ 
সঠিক উত্তর:
অ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ 
ব্যাখ্যা

নিলীন বর্ণ- অ। 
---------------------- 
• নিলীন বর্ণ:
- বাংলা ভাষায় ‘অ’ বর্ণকে নিলীন বর্ণ বলা হয়।
- কারণ এর কোনো নিজস্ব স্বরচিহ্ন নেই।

- এটি আলাদাভাবে লেখা না হয়ে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে মিশে অন্তর্নিহিত স্বরধ্বনি হিসেবে প্রকাশ পায়।
- যেমন ‘ম’ বর্ণে- ম্‌ + অ ধ্বনি থাকলেও লেখায় ‘অ’-এর কোনো চিহ্ন দেখা যায় না;
- কিন্তু উচ্চারণে তা স্পষ্টভাবে ধ্বনিত হয়।
- এই লুক্কায়িত অবস্থার জন্যই ‘অ’ বর্ণকে নিলীন বা লুক্কায়িত বর্ণ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,২১২.
'ব্রহ্মলোক' শব্দের 'হ্ম' কোন দুটি বর্ণের যুক্তরূপ?
  1. ক্‌ + ম
  2. ক্‌ + ষ
  3. ষ্‌ + ম
  4. হ্‌ + ম
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ম
ব্যাখ্যা
• ‘ব্রহ্মলোক’ শব্দে ব্যবহৃত ‘হ্ম’ যুক্তবর্ণটি 'হ্ ও ম' এই দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।
- হ্ + ম = হ্ম।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ণ্ + ড = ণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২১৩.
"চ, ছ, জ" এই তিনটি ধ্বনির উচ্চারণ স্থান কোথায়?
  1. ওষ্ঠ
  2. জিহ্বামূল
  3. অগ্রতালু
  4. অগ্র দন্তমূল
সঠিক উত্তর:
অগ্রতালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্রতালু
ব্যাখ্যা
• "চ, ছ, জ" এই তিনটি ধ্বনির উচ্চারণ স্থান - অগ্রতালু

অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ বর্ণ:
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়।

অন্যদিকে,
অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ গুলো হলো:
- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।

অন্যদিকে,
জিহ্বামূলীয় বর্ণ:
- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

ওষ্ঠ বর্ণ:
- প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২১৪.
‘অপরাহ্ণ’ শব্দে যুক্তবর্ণের বিশ্লিষ্ট রূপ-
  1. ক) হ্ + ন
  2. খ) হ্ + ণ
  3. গ) হ্ + ম
  4. ঘ) ন্ + ণ
সঠিক উত্তর:
খ) হ্ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হ্ + ণ
ব্যাখ্যা
‘অপরাহ্ণ’ শব্দে যুক্তবর্ণের বিশ্লিষ্ট রূপ হল হ্ + ণ = হ্ণ।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
১,২১৫.
'লবণ' শব্দের 'ল' কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. নাসিক্য ব্যঞ্জন
  2. উষ্ম ব্যঞ্জন
  3. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
  4. কম্পিত ব্যঞ্জন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ল- পার্শিক ব্যঞ্জনধ্বনি। 

পার্শ্বিক ব্যঞ্জন: 
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।

যেমন- 
- 'লবণ' শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২১৬.
ফলা বর্ণ নয় কোনটি?
  1. ল-ফলা
  2. য-ফলা
  3. ত-ফলা
  4. ব-ফলা
সঠিক উত্তর:
ত-ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত-ফলা
ব্যাখ্যা
• ফলা বর্ণ নয়- ত-ফলা।

---------------
• অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা:
ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন:
ন-ফলা,
ব-ফলা,
ম-ফলা,
য-ফলা,
র- ফলা,
ল-ফলা।

• রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।
• বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ। যেমন ভ, দ, ন, ম, য, স ইত্যাদি। এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,২১৭.
উচ্চারণস্থান অনুসারে কোনটি মূর্ধন্য বর্ণ?
  1. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণস্থান অনুসারে - 'ড়' মূর্ধন্য বর্ণ।

উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণের নাম:

কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ:

- অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, , হ।

তালব্য বর্ণ:
- ই, ঈ, চ, ছ, জ, , ঞ, য, য়, শ।

ওষ্ঠ্য বর্ণ:
- উ, উ, প, ফ, ব, ভ,

মূর্ধন্য বর্ণ:
ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২১৮.
উপরের ও নিচের ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোকে কী বলে?
  1. ক) দন্ত্য ধ্বনি
  2. খ) দন্তমূলীয় ধ্বনি
  3. গ) ওষ্ঠ্য ধ্বনি
  4. ঘ) দ্বি-ওষ্ঠ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
গ) ওষ্ঠ্য ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওষ্ঠ্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

উপরের ও নিচের ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোকে ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে এবং এবং প্রতীকগুলোকে ওষ্ঠ্য বর্ণ বলা হয়।
যেমন- প, ফ, ব, ভ, ম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২১৯.
ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ২৬টি
  2. ৩২টি
  3. ১০টি
  4. ২৭টি
সঠিক উত্তর:
২৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬টি
ব্যাখ্যা
মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

অন্যদিকে,
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২২০.
'ড় এবং ঢ়' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনি
  2. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন ধ্বনি
  3. তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনি
  4. নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনি: 
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মৃঢ় প্রভৃতি শব্দের 'ড়', 'ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনি: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- চানাচুর, কর শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ। 

 • পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'লাল' শব্দের 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি।  

 • নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যে সব ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধাপায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২২১.
নিচের কোনটি অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ষ্ট
  2. শ্চ
  3. ব্ধ
  4. ল্ক
সঠিক উত্তর:
ব্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্ধ
ব্যাখ্যা
• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ - ব্ধ (ব্+ধ)।

যুক্তবর্ণ: 
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২২২.
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি কয়টি?
  1. ৩৭টি
  2. ৩০টি
  3. ৩২টি
  4. ২৫টি
সঠিক উত্তর:
৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক ধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], উ]।
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [ঝ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম],[ন],[ঙ] [স্], [শ], [হ্], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]। এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,২২৩.
নিচের কোনগুলো অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ক) ফ, ব
  2. খ) প, ত
  3. গ) ব, ভ
  4. ঘ) ট, ঠ
সঠিক উত্তর:
খ) প, ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প, ত
ব্যাখ্যা
ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনি দ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয়। 
ঘোষধ্বনি যথা- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি।  


অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয়। 
অঘোষ ধ্বনি যথা - প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ ইত্যাদি 

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স ,ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।  

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণে সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন- ফ, ব, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ ইত্যাদি




[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১, ২০১৯ সংস্করণ]
১,২২৪.
ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?
  1. ৮ টি
  2. ৭ টি
  3. ৫ টি
  4. ৪ টি
সঠিক উত্তর:
৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ টি
ব্যাখ্যা
• বর্ণমালা:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,২২৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) ক্‌+র = ক্ত
  2. খ) ঙ+গ = ঞ্জ
  3. গ) জ্‌+ঞ = ঞ্চ
  4. ঘ) গ্‌ + উ = গু
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্‌ + উ = গু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্‌ + উ = গু
ব্যাখ্যা
সঠিক যুক্তবর্ণ হলো- গ্‌ + উ = গু।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:

- ঞ্চ = ঞ+ঝ
- ক্ষ = ক+ষ
- হ্ম = হ+ম
- ষ্ণ = ষ+ণ
- ঞ্চ = ঞ+চ
- ঙ্গ = ঙ+গ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২২৬.
কোনটি ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- অল্পপ্রাণ ধ্বনি : কোনাে কোনাে ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযােজিত হয় না। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি (Unaspirated)। যেমন: ক, গ ইত্যাদি।
- মহাপ্রাণ ধ্বনি : কোনাে কোনাে ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযােজিত হয়। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি (Aspirated)। যেমন:খ, ঘ ইত্যাদি।
- অঘােষ ধ্বনি : কোনাে কোনাে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না। তখন ধ্বনিটির উচ্চারণ গাম্ভীর্যহীন ও মৃদু হয়। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষ ধ্বনি। যেমন- ক, খ ইত্যাদি।
- ঘােষ ধ্বনি : ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হলে ঘােষ ধ্বনি (Voiced) হয়। যেমন- গ, ঘ ইত্যাদি

বাংলা বর্ণমালায়,
- ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি - গ, জ, ড, দ, ব। 
- ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি - ঘ, ঝ, ঢ, ধ, ভ, ।
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হলো - ক, চ, ট, ত, প ৷
- অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি হলো - খ, ছ, ঠ, থ, ফ ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,২২৭.
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির সঙ্গে কোন স্বরধ্বনিটি যোগ করা হয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি হিসাবে ‘অ’ স্বরধ্বনিটি যোগ করে উচ্চারণ করা হয়।
যেমন-
- ক্‌ + অ = ক,
- প্‌ + অ = প,
- ট্‌ + অ = ট ইত্যাদি।
- স্বরধ্বনি সংযুক্ত না হলে অর্থাৎ উচ্চারিত ব্যঞ্জন ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের নিচে হস্‌ বা হল চিহ্ন দিয়ে লিখিত হয়।

স্বরবর্ণ:
- স্বরধ্বনি দ্যোতক লিখিত সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় স্বরবর্ণ।
যেমন অ, আ, ই, ঈ, উ, উ ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনধ্বনি দ্যোতক লিখিত সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় ব্যঞ্জনবর্ণ।
যেমন-ক ইত্যাদি।

বর্ণমালা: যে কোনো ভাষায় ব্যবহৃত লিখিত বর্ণসমষ্টিকে সেই ভাষার বর্ণমালা (Alphabet) বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২২৮.
আনুনাসিক স্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।
- এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়।
- স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]
- অনুনাসিক স্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [আঁ], [ওঁ], [উঁ]। মোট ৭টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,২২৯.
নিম্নে কোনটি ”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ= ফ।

উল্লেখ্য,
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
 যেমন:
- প, , ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• চ, ছ, জ, ঝ, শ- তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির  উদাহরণ।
•  , র, ল, স  দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১,২৩০.
'লাউ' শব্দে 'উ্‌' কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. মৌলিক স্বরধ্বনি
  2. অনুনাসিক স্বরধ্বনি
  3. দ্বিস্বরধ্বনি
  4. অর্ধস্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: ই্‌, উ্‌, এ্‌, ও্‌।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবে,দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন:
- ‘চাই’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।

অন্যদিকে:
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
- লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

মৌলিক স্বরধ্বনি: 
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
- এবং মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলাে উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ
১,২৩১.
চ বর্গীয় বর্ণের উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. তালব্য
  2. কণ্ঠ্য
  3. মূর্ধন্য
  4. দন্ত্য
সঠিক উত্তর:
তালব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য
ব্যাখ্যা
ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি স্পর্শধ্বনি। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।

• উচ্চারণ স্থান- কণ্ঠ্য; ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
• উচ্চারণ স্থান- তালব্য; চ বর্গীয় বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
• উচ্চারণ স্থান- মূর্ধন্য; ট বর্গীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
• উচ্চারণ স্থান- দন্ত্য; ত বর্গীয় বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন।
• উচ্চারণ স্থান- ওষ্ঠ্য; প বর্গীয় বর্ণ: প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২৩২.
ধাতুর শেষের ধ্বনির আগের ধ্বনিকে কী বলে?
  1. টি
  2. ইৎ
  3. অনুবন্ধ
  4. উপধা
সঠিক উত্তর:
উপধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপধা
ব্যাখ্যা
- ধাতুর শেষের ধ্বরি আগের ধ্বনিকে উপধা বলে।
- ধাতুর আদ্যস্বরের পরবর্তী সমুদয় ধ্বনিকে টি বলে।
- প্রত্যরে সঙ্গে বাড়তি কিছু বর্ণ থাকে, কিন্তু প্রত্যয় সাধিত হওয়ার সময় এই বাড়তি বর্ণ লোপ পায়, লোপ পাওয়া বাড়তি বর্ণকে ইৎ বা অনুবন্ধ বলে।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১,২৩৩.
দ্বিস্বরধ্বনি 'ঐ' এর মধ্যে কোনটি অর্ধস্বরধ্বনি?
  1. ক) [ই]
  2. খ) [ও]
  3. গ) [উ]
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) [ই]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) [ই]
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন – 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ
• [আই্‌]: তাই, নাই
• [এই্,]: সেই, নেই
• [আও্‌]: যাও, দাও 
• [আএ্‌]: খায়, যায় 
• [উই্‌]: দুই, রুই ইত্যাদি।
- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে।
যথা- ঐ এবং ঔ। 
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্‌]
- একইভাবে, ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ )।
১,২৩৪.
নিচের কোনটি মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ক) ব
  2. খ) শ
  3. গ) ড
  4. ঘ) ঝ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঝ
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি:
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি ও মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, , ত, দ, স, ট, , ড়, চ, জ, , ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ,, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৩৫.
কোন দুটি অঘোষ ধ্বনি?
  1. থ, স
  2. ধ, ন
  3. ঢ়, জ
  4. ঙ, হ
সঠিক উত্তর:
থ, স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থ, স
ব্যাখ্যা
অঘোষ ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।

যেমন:
- ক, খ, চ, ছ, প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ঘোষ:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।

যেমন:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৩৬.
কোন গুচ্ছটি দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন?
  1. ড, ঢ, ড়
  2. র, ল, স
  3. থ, দ, ধ
  4. ব, ভ, ম
সঠিক উত্তর:
র, ল, স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
র, ল, স
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৩৭.
'ঞ্জ' যুক্তাক্ষরে কোন বর্ণগুলোর সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক) জ্‌ + ঞ
  2. খ) ঞ্‌ + জ
  3. গ) ঞ্‌ + ঝ
  4. ঘ) ঝ + ঞ্‌
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্‌ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্‌ + জ
ব্যাখ্যা

ঞ্জ = ঞ্‌ + জ
ব্যবহারঃ
গঞ্জ, কুঞ্জ, রঞ্জন, রঞ্জনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৩৮.
কোনটি ঘোষ ব্যঞ্জন?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ঘোষ ব্যঞ্জন - ঢ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, , ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৩৯.
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় -
  1. অল্পপ্রাণ ধ্বনি
  2. মহাপ্রাণ ধ্বনি
  3. অঘোষ ধ্বনি
  4. ঘোষ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
মহাপ্রাণ ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাপ্রাণ ধ্বনি
ব্যাখ্যা

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।যেমন - খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি।
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের অল্পতা থাকে থাকে, তাকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। যেমন - ক, গ, চ, জ ইত্যাদি।
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি। যেমন - ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি।
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় , তাকে বলা হয় ঘোষ ধ্বনি। যেমন - গ, ঘ, জ, ঝ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি)

১,২৪০.
অর্ধস্বরধ্বনির অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. [ও]
  2. [উ]
  3. [ই]
  4. [আ]
সঠিক উত্তর:
[আ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[আ]
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি:
[ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

অন্যদিকে,
- [আ] হচ্ছে মৌলিক স্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৪১.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোনটি মূর্ধন্য বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

•উচ্চারণস্থান অনুযায়ী মূর্ধন্য বর্ণ -

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নাম:
যেমন:
কণ্ঠ্য বা জিহবামূলীয় বর্ণ- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
তালব্য বর্ণ - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য।
মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ - ট,, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ়।
দন্ত্য বর্ণ - , থ, দ, ধ, ন, ল, স।
ওষ্ঠ্য বর্ণ - প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,২৪২.
‘পদ্মা সেতু’ বানানে কয়টি অক্ষর আছে?
  1. পাঁচটি
  2. ছয়টি
  3. চারটি
  4. সাতটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

⇒ অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- দিন, রাত)

• 'পদ্মা সেতু’  শব্দে ৪ টি অক্ষর রয়েছে (পদ + মা + সে + তু) 

১,২৪৩.
তালব্য ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনি সাত প্রকার। যথা-

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি: জিভের মূল বা গোড়ালি উঁচু করে কোমল তালুর সামনের বা মাঝের সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ক, খ, গ, ঘ ঙ/ং।

তালব্য ধ্বনি: জিভের পাতা উঁচু করে অর্থতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- চ, ছ, জ, ঝ ঞ, শ।

দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি: সমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি উপর পাটি দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা একটু উল্টো করে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হ তাদের দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ড়, ঢ়।

দন্ত ধ্বনি: উপর পাটি দাঁতের সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের দন্ত ধ্বনি বলে। যেমন- ত, থ, দ, ধ।

ওষ্ঠ্য ধ্বনি: উপরের ঠোঁটের সঙ্গে নিচের ঠোঁট লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- প, ফ, ব, ভ, ম।

দন্তমূলীয় ধ্বনি: উপর পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে। যেমন- ন, য, র, ল, স।

কন্ঠ্য ধ্বনি: স্বরযন্ত্রের ভেতরে যে দুট স্বরতন্ত্রী আছে তাদের সংকোচনের সাহায্যে বায়ুপথ সংকীর্ণ করে, কিন্তু একেবারে বন্ধ না করে যে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাকে কন্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- হ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,২৪৪.
অর্ধমাত্রার বর্ণ নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অর্ধমাত্রার বর্ণ নয়- ঞ। 
- 'ঞ' মাত্রাহীন বর্ণ। 

• বর্ণ প্রকরণ:

ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি -(এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং , ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪৫.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ড়, ঢ় কোন জাতীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. ক) দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  2. খ) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  3. গ) তালব্য ব্যঞ্জন
  4. ঘ) কণ্ঠ ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
খ) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢােল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৪৬.
মাত্রার উপর ভিত্তি করে বর্ণমালার বর্ণসমূহ কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
বর্ণমালার বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ০৪,)।
• অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
• পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্বিবদ্যালয়।
১,২৪৭.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ক্ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম
  2. ঞ্‌ + হ = ঞ্ছ
  3. ঞ্‌ + ষ = ষ্ণ
  4. ক্‌ + ষ = হ্ম
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ-  ক্ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম। 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ,
- ষ্‌ + ণ =  ষ্ণ,
- ক্ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,২৪৮.
চ ছ জ ঝ ঞ- কোন ধ্বনির উদাহরণ?
  1. ক) কণ্ঠ্য ধ্বনি
  2. খ) তালব্য ধ্বনি
  3. গ) মূর্ধন্য ধ্বনি
  4. ঘ) দন্ত্য ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
খ) তালব্য ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তালব্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

ক খ গ ঘ ঙ - কণ্ঠ্য ধ্বনি,
চ ছ জ ঝ ঞ - তালব্য ধ্বনি
ট ঠ ড ঢ ণ - মূর্ধন্য ধ্বনি
ত থ দ ধ ন - দন্ত্য ধ্বনি
প ফ ব ভ ম - ওষ্ঠ্য ধ্বনি
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

১,২৪৯.
নিচের কোনটি অর্ধস্বর নয়?
  1. ক) ই
  2. খ) এ
  3. গ) উ
  4. ঘ) অ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ
ব্যাখ্যা
যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
অর্ধস্বরধ্বনি ৪ টি।
যথা : , , (য়), (সার্কেলের ওপরের চারটি)।

'অ' অর্ধস্বর নয়।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।
১,২৫০.
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী নিচের কোনটি নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা-
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৫১.
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী 'ন' কোন ধরণের ধ্বনি?
  1. মূর্ধন্য
  2. কণ্ঠ্য
  3. তালব্য
  4. দন্তমূলীয়
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয়
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন, 
- দন্ত্য ব্যঞ্জন, 
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন, 
- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন, 
- তালব্য ব্যঞ্জন, 
- কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন, 
- কণ্ঠনালীয় নালী ব্যঞ্জন। 

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৫২.
'ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়' — এই ধ্বনিগুলো কোন শ্রেণির অন্তর্গত?
  1. কণ্ঠ্য
  2. দন্তমূলীয়
  3. ওষ্ঠ্য
  4. মূর্ধন্য
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৫৩.
কারবর্ণ নয় কোনটি?
  1. ঊ-কার
  2. অ-কার
  3. ঔ-কার
  4. ঋ-কার
সঠিক উত্তর:
অ-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ-কার
ব্যাখ্যা
• কারবর্ণ নয়- অ-কার।

-----------------
• কারবর্ণ:

স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোকে কারবর্ণ বলে।
কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হশ্চিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

১০টি কারবর্ণ হলো:
- আ-কার,
- এ-কার,
- ঈ-কার,
- ই-কার,
- উ-কার,
- ঊ-কার,
- ঋ-কার,
- ও-কার,
- ঔ-কার,
- ঐ-কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,২৫৪.
বাংলা ভাষায় মৌলিকধ্বনি কয়টি?
  1. ৩০টি
  2. ২৭টি
  3. ৩৭টি
  4. ২৩টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

মৌলিক স্বরধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন:
- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।

- বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩০টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৫৫.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ণ্ঠ
  2. ক্ত
  3. দ্ম
  4. স্ক
সঠিক উত্তর:
ক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ত
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ন্স, জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ্ল, স্থ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্থ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্ + ত),
- ক্স (ক্ + ম),
- ক্ষ (ক্ + ষ),
- ক্ষ্ম (ক্ + ষ + ম),
- ক্স (ক্ + স),
- গু (গ + উ),
- গ্ধ (গ্‌ + ধ),
- ঙ্গ (ঙ্‌ + গ),
- জ্ঞ (জ্‌ + ঞ),
- ঞ্চ (ঞ্‌ + চ),
- ঞ্জ (ঞ্‌ + জ),
- ষ্ণ (ষ্‌ + ণ)
- হু (হ্ + উ),
- হ্ন (হ্ + ন),
- হ্ম (হ্‌ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
১,২৫৬.
বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: ই্‌, উ্‌, এ্‌, ও্‌।

স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবে, দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন:
• 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্‌ ]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
• একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্‌]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,২৫৭.
কোনটি উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি [], []।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - []।

উল্লেখ্য,
উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,২৫৮.
নিচের কোনটি ঘোষধ্বনি?
  1. ক) ঠ
  2. খ) ত
  3. গ) স
  4. ঘ) ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড
ব্যাখ্যা

ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড, ঢ, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ।

অঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

১,২৫৯.
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. আটটি 
  2. ছয়টি
  3. দশটি 
  4. চারটি 
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
ব্যাখ্যা

অর্ধমাত্রার বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৮টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা সাতটি (৭)।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি।

মাত্রাহীন বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা — ছয়টি (৬)।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি।

পূর্ণমাত্রার বর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ছাব্বিশটি (২৬)।
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬০.
নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনির ব্যবহার রয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. শকট
  2. হাঙর
  3. ঘড়ি
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
হাঙর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙর
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

অন্যদিকে,
• উম্ম ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলোর মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শ্বাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয়। যেমন: শসা, শকট ইত্যাদি। 

• তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'বাড়ি, ঘড়ি, মূঢ়' প্রভৃতি শব্দের 'ড়, ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি। 

• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে। লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,২৬১.
চ-বর্গীয় ধ্বনি কোনটি?
  1. য 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় (ক-ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।
যথা:
ক-বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি। 
চ-বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ) ৫টি তালব্য ধ্বনি। 
ট-বর্গীয় (ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি। 
ত-বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) পাঁচটি দন্ত ধ্বনি। 
প- বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,২৬২.
বর্ণমালায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ২৫টি 
  2. ৭টি 
  3. ৩৭টি 
  4.  ৩০টি
সঠিক উত্তর:
 ৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ৩০টি
ব্যাখ্যা

• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি -রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], উ];
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [খ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [ঝ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম], [ন], [ঙ] [স], [শ], [হ], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 

১,২৬৩.
কোনটি অঘোষ ব্যঞ্জনের দৃষ্টান্ত?
  1. ঢ়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির কম্পমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই। ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘােষ।

⇒ ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

⇒ অঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি, যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১,২৬৪.
বাংলা বর্ণমালায় মোট কয়টি কারবর্ণ রয়েছে?
  1. ১০
  2. ১১
সঠিক উত্তর:
১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১)
১,২৬৫.
কোন শব্দে এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ ঘটেছে?
  1. ক) একটা
  2. খ) এলো
  3. গ) দেশ
  4. ঘ) একটি
সঠিক উত্তর:
ক) একটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একটা
ব্যাখ্যা
• 'একটা'- শব্দে এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ ঘটেছে।

• এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো
কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।

• এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলো [এলো]।
• এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ। 
১,২৬৬.
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৪১টি
  2. খ) ৩৯টি
  3. গ) ৩২টি
  4. ঘ) ৩০টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৩২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩২টি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০ টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- পঞ্চাশটি বর্ণে পূর্ণমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণের সংখ্যা- বত্রিশ। পঞ্চাশটি বর্ণে অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণের সংখ্যা- আট। পঞ্চাশটি বর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা- দশ।
ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণের সংখ্যা ছাব্বিশটি। যথা- ক ঘ চ ছ জ ঝ ট ঠ ড ঢ ত দ ন ফ ব ভ ম য র ল ষ স হ ড় ঢ় য়।
ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণের সংখ্যা সাতটি। যথা- খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ।
ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ছয়টি। যথা- ঙ ঞ ৎ ং ঃ ঁ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।

১,২৬৭.
নিম্নের কোন শব্দে র-ফলার প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) মর্ম
  2. খ) মৃদু
  3. গ) তাম্র
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কার এবং ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে। 
- 'র' ফলা ব্যঞ্জনবর্ণের পরে হলে তা লিখতে হয় নিচে যেমন 'ম্র'।
অন্যদিকে,
'র' ফলা ব্যঞ্জনবর্ণের আগে হলে তা লিখতে হয় উপরে। ব্যঞ্জনটির মাথায় (রেফ্‌) দিয়ে (র্ম)।

- 'মৃদু' শব্দে  ম এর সাথে ঋ-কার যুক্ত হয়েছে (মৃ)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৮.
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. ন, র, ল, স
  2. ত, থ, দ, ধ
  3. চ, ছ, জ, ঝ
  4. প, ফ, ব, ভ
সঠিক উত্তর:
ন, র, ল, স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন, র, ল, স
ব্যাখ্যা
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• তালব্য ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্য ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৬৯.
নিচের কোনটি ধ্বনি পরিবর্তন 'বিপ্রকর্ষ' এর উদাহরণ নয়?
  1. ক) রত্ন > রতন
  2. খ) গ্রাম > গেরাম
  3. গ) মারি > মাইর
  4. ঘ) প্রীতি > পিরীতি
সঠিক উত্তর:
গ) মারি > মাইর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মারি > মাইর
ব্যাখ্যা
মারি > মাইর= অপনিহিতির উদাহরণ।

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি: 
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমন-
- রত্ন > রতন
- গ্রাম > গেরাম
- প্রীতি > পিরীতি 

অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- মারি > মাইর
- আজি > আইজ
- সাধু > সাউধ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৭০.
‘ত্রু’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ত্ + র (ফলা) + উ (কার)
  2. ক্ + র ফলা
  3. ত্ + র (ফলা)
  4. ক্ + র (ফলা) + উ (কার)
সঠিক উত্তর:
ত্ + র (ফলা) + উ (কার)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্ + র (ফলা) + উ (কার)
ব্যাখ্যা
• ত্ + র (ফলা) + উ (কার) = ত্রু।
- ত্রু- বর্ণের সহযোগে গঠিথ শব্দ হলো: ত্রুটি, শত্রু, শত্রুঘ্ন ইত্যাদি।

--------------------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৭১.
সংযুক্ত বর্ণের কোন রূপটি সঠিক?
  1. ক্‌ + ম = হ্ম
  2. ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ষ্‌ + ন = ষ্ণ
  4. হ্‌ + ন = হ্ণ
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
ব্যাখ্যা
• 'ঙ্ক' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে (ঙ্‌ + ক) বর্ণ যোগে।

ঙ্ক - সহযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- পঙ্কজ, শশাঙ্ক ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- হ্‌ + ম = হ্ম।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ক্‌ + ষ = ক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭২.
নিম্ন স্বরধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• 'আ'- নিম্ন স্বরধ্বনির উদাহরণ। 

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)। 
১,২৭৩.
কোনটি নিম্ন স্বরধ্বনি?
  1. অ 



সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি- [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি- [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি- [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি- [আ]।

- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. সংবৃত- [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত- [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত- [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত- [আ]।
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৭৪.
'খায়' শব্দে কোন দ্বিস্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আই্‌
  2. এই্‌
  3. ওই্‌ 
  4. আএ্‌
সঠিক উত্তর:
আএ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আএ্‌
ব্যাখ্যা

• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই। 
[এই্‌]: সেই, নেই। 
[আও্‌]: যাও, দাও। 
[আএ্‌]: খায়, যায়। 
[উই্‌]: দুই, রুই। 
[অএ্‌]: নয়, হয়। 
[ওউ্‌]: মৌ, বউ। 
[ওই্‌]: কৈ, দই। 
[এউ্‌]: কেউ, ঘেউ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২৭৫.
'ত্থ' যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের মিলনে গঠিত?
  1. ট্‌ + ঠ
  2. ত্‌ + থ
  3. থ্‌ + থ
  4. ত্‌ + হ
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ
ব্যাখ্যা
• ‘ত্থ’ যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে (ত্‌ + থ) বর্ণ যোগে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্‌ + ম = হ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৭৬.
উচ্চারণের সময়ে জিভের কোন অবস্থানের ভিত্তিতে স্বরধ্বনি ভাগ করা হয়?
  1. জিভের পশ্চাৎ অবস্থান
  2. জিভের উচ্চতা
  3. জিভের সম্মুখ মধ্য অবস্থান
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
- নিচের ছক থেকে স্বরধ্বনির এই উচ্চারণ-বিভাজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়:


• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি: ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৭৭.
দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 
যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, , ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
- তালব্য ব্যঞ্জন - চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, , শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন - নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের , র, , স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)

১,২৭৮.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা কতটি?
  1. ৬টি
  2. ৩২টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
মাত্রাভেদে বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা — ১০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ হচ্ছে ৮টি।
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।

তাছাড়া,
মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

মাত্রাভেদে স্বরবর্ণ:
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭৯.
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধনি কয়টি?
  1. ক) পাঁচ
  2. খ) ছয়
  3. গ) সাত
  4. ঘ) আট
সঠিক উত্তর:
গ) সাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাত
ব্যাখ্যা

ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা - স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি - ৭টি।
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি - ৩০টি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৮০.
বাংলা বর্ণমালায় কতটি অর্ধমাত্রাযুক্ত বর্ণ রয়েছে? 
  1. ৬টি 
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি 
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

 • বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৮১.
অনুবর্ণ নয় কোনটি?
  1. যুক্তবর্ণ
  2. রেফ
  3. ফলা
  4. বর্ণসংক্ষেপ
সঠিক উত্তর:
যুক্তবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তবর্ণ
ব্যাখ্যা
• অনুবর্ণের অন্তর্ভুক্ত নয় - যুক্তবর্ণ

অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।
 
ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে।
যেমন:
- ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

রেফ:
- র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ:
- যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ। 
যেমন:
- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৮২.
'ভ্রূণ' শব্দে 'ভ্রূ' এর গঠন নিচের কোনটি?
  1. ক) ভ্‌+র+ঊ
  2. খ) ভ্‌+র+উ
  3. গ) ভ্‌+র্‌+ঊ
  4. ঘ) ভ+র্‌+ঊ
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্‌+র্‌+ঊ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্‌+র্‌+ঊ
ব্যাখ্যা
- 'ভ্রূ' হলো অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণের উদাহরণ।
- এটির গঠিত হয়েছে (ভ্‌+র্‌+ঊ ) বর্ণযোগে।

• এছাড়াও আরও কিছু অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণের গঠন নিচে দেওয়া হলো-
- ক্ত (ক্+ত), ক্স (ক্+ম), ক্র (ক্+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক+স),
- গু (গ্+উ), ন্ধ (গ+ধ), $ (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ+ঞ), ঞ্চ (ঞ+চ), (ঞ+ছ),
- ঞ্জ ঞ্+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), থ (ত্+থ), ত্র (ত্+র), ও (ণ্+ড), দ্ধ (দ+ধ),
- ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (বৃ+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্+উ), শু (শৃ+উ),
- ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৮৩.
উচ্চারণের প্রকৃতি অনুযায়ী ‘জ ও ঢ’ কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. তাড়িত ব্যঞ্জন
  2. স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
  3. নাসিক্য ব্যঞ্জন
  4. উষ্ম ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

------------------------------
• তাড়িত ব্যঞ্জনের:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে। বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের 'ড়', 'ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

• কম্পিত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- যেমন- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।

• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ও ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে। লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,২৮৪.
বাংলা ভাষায় কতটি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে?
  1. ৩৯টি 
  2. ৩৫টি 
  3. ৩২টি 
  4. ৩৭টি 
সঠিক উত্তর:
৩৭টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি 
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
১. মৌলিক স্বরধ্বনি।
২. মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি:
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [ঝ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম],[ন],[ঙ] [স্], [শ], [হ্], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

১,২৮৫.
অনুবর্ণ নয় কোনটি?
  1. যুক্তবর্ণ
  2. রেফ
  3. ফলা
  4. বর্ণসংক্ষেপ
সঠিক উত্তর:
যুক্তবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তবর্ণ
ব্যাখ্যা
• অনুবর্ণের অন্তর্ভুক্ত নয় - যুক্তবর্ণ

অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে।
যেমন:
- ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

রেফ:
- র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ:
- যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ।
যেমন:
- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৮৬.
কোন ধ্বনিটি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম থাকে?
  1. ব 
  2. ত 
  3. ক এবং খ উভয়ই 
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ক) ব এবং খ)- ত।
-----------------
• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:

সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- যথা- (খ, ঘ), (ছ, ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৮৭.
বাংলা বর্ণমালায় মৌলিক ধ্বনি কয়টি?
  1. ৩৯টি
  2. ৩২টি
  3. ৩৭টি
  4. ২৫টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালা:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি। মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি এবং মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি। 

• মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ )।
• অর্ধমাত্রা বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
• পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২৮৮.
নিচের কোনটি অন্তঃস্থ বর্ণ?
  1. ক্ষ
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র, ল, ব–এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮৯.
কোন দুটি অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন?
  1. স, ট
  2. ছ, ঝ
  3. ধ, ঠ
  4. ফ, ভ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স, ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স, ট
ব্যাখ্যা
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৯০.
‘প’ এর পরে ‘চ’ এবং ‘স’ এর পরে ‘ত’ এলে চ ও ত এর পরিবর্তে কোন বর্ণটি হয়?
  1. ক) শ
  2. খ) হ
  3. গ) ফ
  4. ঘ) ম
সঠিক উত্তর:
ক) শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ
ব্যাখ্যা
‘প’ এর পরে ‘চ’ এবং ‘স’ এর পরে ‘ত’ এলে চ ও ত এর স্থলে শ হয়।
যেমন-
পাঁচ + শ = পাঁশ্‌শ ;
সাত + শ = সাশ্‌শ ;
পাঁচ + সিকা = পাঁশ্‌শিকা
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯১.
বাগ্‌যন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) দন্তমূল
  2. খ) দাঁত
  3. গ) জিভ
  4. ঘ) মূর্ধা
সঠিক উত্তর:
গ) জিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জিভ
ব্যাখ্যা
ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগযন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগযন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। 

জিভ
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ
- জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৯২.
'ঐ' কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. মৌলিক স্বরধ্বনি
  2. মিলিত স্বরধ্বনি
  3. যৌগিক স্বরধ্বনি
  4. অর্ধস্বরধ্বনি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• যৌগিক স্বরধ্বনি:
- একাধিক স্বরধ্বনি মিলে যে ধ্বনি সৃষ্টি হয় তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট - ২৫ টি।।
- যার মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যেমন:
- ঐ (অ + ই),
- ঔ (অ + উ)।

• বাকি ২৩ টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৯৩.
'শ্মশান' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ নিচের কোনটি?
  1. শ্মশান্‌
  2. শঁশান্‌
  3. শশান্‌
  4. সঁসান্‌
সঠিক উত্তর:
শঁশান্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শঁশান্‌
ব্যাখ্যা

'ম' বর্ণের উচ্চারণ:
- বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শঁশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৯৪.
কোনটিতে ‘অ’ ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণ হয়?
  1. ক) অমল
  2. খ) অনেক
  3. গ) অতুল
  4. ঘ) কত
সঠিক উত্তর:
গ) অতুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অতুল
ব্যাখ্যা

শব্দের 'অ' ধ্বনির দুরকম উচ্চারণ পাওয়া যায় -

সংবৃত বা ও - ধ্বনির মত উচ্চারণ। যথাঃ অধীর (ওধীর), অতুল (ওতুল), মন (মোন)।
বিবৃত বা স্বাভাবিক উচ্চারণ। যেমনঃ অমল, অনেক, কত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১,২৯৫.
বাংলা ভাষায় কারবর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৮
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ১১
সঠিক উত্তর:
গ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় কারবর্ণ হচ্ছে ১০টি।

 • কারবর্ণ
-  স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ: া,্ি,ী.ু,ূ,ৃ,্ে, ৈ,াে,ৌ।
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্চি‌হ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি অ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। (সংস্করণ-২০২১)
১,২৯৬.
পরের ‘ই’ কার ও ‘উ’ কার আগে উচ্চারিত হওয়াকে কী বলে?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অভিশ্রুতি
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

অন্যদিকে,
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন
- শুনিয়া > শুনে।

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন।
যেমন: চক্র > চক্ক, পক্ব > পক্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯৭.
আ-ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) আশা
  2. খ) আকাশ
  3. গ) জ্ঞান
  4. ঘ) আলো
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞান
ব্যাখ্যা
আ-এর স্বাভাবিক এবং সংবৃত উভয় উচ্চারণ পাওয়া যায়৷ স্বাভাবিক উচ্চারণ (আ-এর মত): আশা, আকাশ, আগামী, আলো ইত্যাদি।
সংবৃত উচ্চারণ (অ্যা-এর মত): জ্ঞান (গ্যাঁন্), জ্ঞাত (গ্যাঁতো) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি
১,২৯৮.
'ষ্ণু' - এখানে কী কী বর্ণ আছে?
  1. ষ + ন + উ
  2. ষ + ঞ + উ
  3. ষ + ণ + উ
  4. ষ + গ + উ
সঠিক উত্তর:
ষ + ণ + উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ + ণ + উ
ব্যাখ্যা
• 'ষ্ণু' - এখানে "ষ + ণ + উ" বর্ণ আছে।

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ণ্ + ড = ণ্ড,
- ত + র = ত্র,
- শ্‌ + ঊ = শু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৯৯.
'ঞ্ঝ' এই যুক্তাক্ষরে কয়টি বর্ণ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
'ঞ্ঝ' যুক্তাক্ষরে ২টি বর্ণ রয়েছে।
যথা:
- 'ঞ্ + ঝ'।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ = দ্ + ধ', 
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- ষ্ণ = ষ + ণ,
- ঞ্চ = ঞ্ + চ, 
- ঞ্জ = ঞ্ + জ, 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১,৩০০.
নিচের কোন গুচ্ছটি ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. দ, থ, শ
  2. ড, ন, জ
  3. ল, হ, ত
  4. ক, ঙ, র
সঠিক উত্তর:
ড, ন, জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড, ন, জ
ব্যাখ্যা
• ড, ন, জ - গুচ্ছটি ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 
ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন।
যথা:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।