বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

অন্যান্য নারী লেখকগণ

মোট প্রশ্ন৮০এই পাতা৮০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

অন্যান্য নারী লেখকগণ

PrepBank · পাতা / · ৮০ / ৮০

.
‘জীবনপথে’ কামিনী রায় রচিত একটি-
  1. নাট্যকাব্য
  2. অনুবাদবাক্য
  3. গীতিকাব্য
  4. সনেট সংগ্রহ
সঠিক উত্তর:
সনেট সংগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
• ‘জীবনপথে’ কামিনী রায় রচিত একটি সনেট সংগ্রহ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে।

----------------------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

 তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. মাল্য ও নির্মাল্য
  2. আলো ও ছায়া
  3. অশোকসঙ্গীত
  4. গুঞ্জন
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা রচিত 'রূপজালাল' একটি-
  1. আত্মজীবনী মূলক রচনা
  2. সামাজ সমস্যা মূলক রচনা
  3. নারী অধিকার সংক্রান্ত রচনা
  4. রোমান্সধর্মী রচনা
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী মূলক রচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী মূলক রচনা
ব্যাখ্যা
• 'রূপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসার গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনী মূলক রচনা।
- গ্রন্থটি ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

• নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- নওয়াব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. গজকচ্ছপ
  2. সাতটি তারার ঝিকিমিকি
  3. একাত্তরের দিনগুলি
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
কুসুমকুমারী দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. ঢাকা
  3. পটুয়াখালী 
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা

কুসুমকুমারী দাশ বরিশাল জেলার সন্তান। 

কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জীবনানন্দ দাশের মাতা ছিলেন।
- কুসুমকুমারী দাশ ১৯৪৮ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

সাহিত্যকর্ম:
- তার গদ্যগ্রন্থের নাম ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’।
- শিশুদের জন্য তিনি ‘কবিতা মুকুল’ নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছিলেন।
- তার কবিতা প্রকাশিত হত বিভিন্ন পত্রিকায়, যেমন ‘প্রবাসী’, ‘ব্রহ্মবাদী’, ‘মুকুল’।
- তার বিখ্যাত কবিতার একটি পঙ্ক্তি: “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

.
'স্বর্ণকুমারী দেবী' ও  'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' সম্পর্কে কী ছিলেন? 
  1. ভাই-বোন
  2. চাচা-ভাতিজি
  3. মামা-ভাগনি
  4. চাচাতো ভাই-বোন
সঠিক উত্তর:
ভাই-বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাই-বোন
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের ডায়েরি
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. একাত্তরের দিনগুলি
  4. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা

• একাত্তরের দিনগুলি:
- 'একাত্তরের দিনগুলি' বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।

- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

-----------------
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত। তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
- কর্ম জীবনে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- একাত্তরের দিনগুলি (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ)
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

অন্যদিকে,
- সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'একাত্তরের ডায়েরি'।
- সেলিনা হোসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ 'একাত্তরের ঢাকা'।
- হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'বাংলারকবি মধুসূদন' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

 'বাংলারকবি মধুসূদন' গ্রন্থের রচয়িতা নীলিমা ইব্রাহিম।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলারকবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
'কাহাকে' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সেলিনা হোসেন
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
• 'কাহাকে' উপন্যাস:
- উনিশ শতকের শেষ লগ্নে স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'কাহাকে'।
- "পুরাতনের ছায়া দেখিয়াই হৃদয় নূতনে আকৃষ্ট হইয়াছে, অথবা নূতনে মুগ্ধ হইয়া সহসা পুরাতন লাভ করিয়াছি? কাহাকে ভালোবাসিতে এ কাহাকে ভালোবাসিয়াছি?” এমন এক জিজ্ঞাসায় শেষ হয়েছে 'কাহাকে' উপন্যাসের সমাপ্তি-অনুচ্ছেদটি।
- একুশ শতকে দাঁড়িয়ে ভাবতে হয়তো অবাকই লাগে যে-উনিশ শতক শেষ হবার আগেই, ১৮৯৮ সালে, এক নারী-ঔপন্যাসিকের কলমে লেখা হয়ে গেছে এমন একটি উপন্যাস-ভালোবাসার স্বরূপসন্ধান আর আত্মসচেতন এক অন্বেষণই যার একমাত্র বর্ণনীয় বিষয়।
- অনেকে মনে করে, স্বর্ণকুমারী দেবীর সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ 'কাহাকে'। এ গ্রন্থটি 'The Unfinished Song' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 

-----------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:

- তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ছিলেন।
- তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তাকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক বলা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ,
- মেবাররাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'কাহাকে' উপন্যাস।
১০.
'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা

• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি নাটক।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১.
"সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতা হতে নেওয়া হয়েছে?
  1. মানব কল্যাণ
  2. সুখ
  3. শহীদ স্মরণে
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
সুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখ
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্ব কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।

'সুখ' কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-

সুখ
- কামিনী রায়
"সুখ" "সুখ" করি কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং সুখ, কামিনী রায়।

১২.
'আলো ও ছায়া' - কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. কামিনী রায়
  3. জাহানারা ইমাম
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

'আলো ও ছায়া' - এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩.
'বটতলার উপন্যাস' গ্রন্থের লেখকের নাম কী?
  1. দিলারা হাশেম
  2. রাজিয়া খান
  3. রিজিয়া রহমান
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
রাজিয়া খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজিয়া খান
ব্যাখ্যা
• 'বটতলার উপন্যাস' এর লেখক 'রাজিয়া খান'।  

• রাজিয়া খান: 
- রাজিয়া খান আমিন মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপক ছিলেন।
- অধ্যাপনা করলেও সাহিত্যের অঙ্গনেও তাঁর সমান পদচারণা ছিল।
- সাহিত্যকর্মে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫৮ সালে।
- তাঁর সাড়া জাগানো বই ‘বটতলার উপন্যাস’।



উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'বটতলার উপন্যাস' এবং বিবিসি নিউজ বাংলা।
১৪.
”রূপজালাল” কী ধরনের রচনা?
  1. মনস্তাত্বিক
  2. আত্মজীবনী
  3. রাজনৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ছিলেন- 
  1. কাদম্বরী দেবী
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা 
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিকের নাম- স্বর্ণকুমারী দেবী। 
------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ভারতী-এর সম্পাদনা করেছিলেন প্রায় এক দশক ধরে।
- এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার অগ্রদূত ছিলেন।
- নারীদের সৃজনশীলতা ও সহায়তার জন্য তিনি সখী সমিতি নামক একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।
------------------------ 
অন্যদিকে,
• কাদম্বরী দেবী জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির বধূ ছিলেন এবং তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর অত্যন্ত প্রিয় বৌঠান; তিনি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর স্ত্রী ছিলেন।

• নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন একজন বিশিষ্ট জমিদার, সমাজসেবী, নারীশিক্ষার অগ্রদূত ও সাহিত্যচর্চায় যুক্ত কবি, যিনি সমাজকল্যাণ ও শিক্ষাবিস্তার কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

• চন্দ্রাবতী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি হিসেবে পরিচিত; তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৬.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন?
  1. সন্ধ্যা
  2. সর্বহারা
  3. সাম্যবাদী
  4. সিন্ধু-হিন্দোল
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
শামসুন্নাহার মাহমুদ:
- ১৯০৮ সালে ফেনী (বৃহত্তর নোয়াখালী) জেলার গুথুমা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, লেখক।
- তাঁর লেখায় সমাজ ও সংস্কৃতি-প্রীতির প্রকাশ ঘটেছে।
- তিনি বেগম রোকেয়ার নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অংশীদার হন।
- কলকাতায় থাকাকালে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বহুবার সাক্ষাৎ হয়। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে সাহিত্য চর্চায় উদ্বুদ্ধ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'সিন্ধু-হিন্দোল' (১৯২৭) কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন।
- শামসুন্নাহারের প্রথম লেখা কবিতা প্রকাশিত হয় কিশোরদের 'আঙ্গুর' নামক মাসিক পত্রিকায়।
- আই.এ পড়ার সময় তিনি 'নওরোজ' ও 'আত্মশক্তি' পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'বুলবুল' (১৯৩৩) পত্রিকা হবীবুল্লাহ্ বাহার ও শামসুন্নাহার যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেন।
- ১৯৬৪ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- পুণ্যময়ী (১৯২৫),
- ফুলবাগিচা (১৯৩৫),
- বেগম মহল (১৯৩৬),
- রোকেয়া জীবনী (১৯৩৭),
- শিশুর শিক্ষা (১৯৩৯),
- আমার দেখা তুরষ্ক (১৯৫৫),
- নজরুলকে যেমন দেখেছি (১৯৫৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭.
‘বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ’- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. কায়কোবাদ
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 

• কামিনী রায়:

- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসণ্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
’রূপজালাল’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. সুফিয়া কামাল
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরি ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দু খানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
জাহানারা ইমাম কী নামে খ্যাত?
  1. বাংলার রাণী
  2. শহীদ জননী
  3. মুক্তিযোদ্ধা জননী
  4. জননী সাহসিকা
সঠিক উত্তর:
শহীদ জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ জননী
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০.
কামিনী রায়ের কোন কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লিখে দেন?
  1. অশোকসঙ্গীত
  2. আলো ও ছায়া
  3. জীবনপথে
  4. মাল্য ও নির্মাল্য
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী (১৯৩০) এবং  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সহসভাপতি (১৯৩২-৩৩) ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আলো ও ছায়া' প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ কে ছিলেন?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
• বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- তিনি মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি গঠন করেন।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
-  নবনূর, সওগাত, মোহাম্মাদী, পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হাতো।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

• তার রচিত উপন্যাস:
- পদ্মরাগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২.
’বিন্দু বিসর্গ’ কার রচিত আত্মজীবনী?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বিনোদিনী
  3. জাহানারা ইমাম
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
’বিন্দু বিসর্গ’ নীলিমা রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। 
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন। 
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক রচনার 'আত্মচরিত'।
• জাহানারা ইমাম রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ- একাত্তরের দিনগুলি।
• বিনোদিনী রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ’আমার কথা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৩.
নিচের কোনটি উপন্যাস? 
  1. গড্ডলিকা
  2. নতুন চাঁদ
  3. কন্যাকুমারী
  4. নেমেসিস
সঠিক উত্তর:
কন্যাকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্যাকুমারী
ব্যাখ্যা
• 'কন্যাকুমারী' রাশিদা আখতার রচিত একটি উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ- 'নতুন চাঁদ'।
- 'গড্ডলিকা' রাজশেখর বসু রচিত গল্পগ্রন্থ।
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কন্যাকুমারী' উপন্যাস রাশিদা আখতার।
২৪.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মসাল -
  1. ১৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮৮
  2. ১৯ই ডিসেম্বর, ১৮৯০
  3. ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮৮
  4. ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০
সঠিক উত্তর:
৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০
ব্যাখ্যা

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. নিঃসঙ্গ পাইন
  2. অন্য জীবন
  3. প্রবাসের দিনগুলি
  4. একান্তরের ডায়েরী
সঠিক উত্তর:
একান্তরের ডায়েরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একান্তরের ডায়েরী
ব্যাখ্যা
•  ‍সুফিয়া কামাল রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ- একান্তরের ডায়েরী।

--------------------------
• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৬.
কামিনী রায় রচিত কোন গ্রন্থের ভূমিকা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লেখে দেন?
  1.  মাল্য ও নির্মাল্য
  2. পৌরাণিকী
  3. আলো ও ছায়া
  4. অশোকসঙ্গীত
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা

• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর -বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- একসময় তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন। তাঁর কবিতা সহজ, সরল, মানবিক ও উপদেশমূলক। তাঁর কবিতায় জীবনের মহৎ আদর্শের প্রতি গভীর অনুরাগের পরিচয় আছে।
-সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯২৯) 'জগত্তারিণী পদকে' সম্মানিত হন।
-তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
- তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
-'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য, 
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ এবং চারুপাঠ ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৭.
নীলিমা ইব্রাহিমের গবেষণামূলক রচনার মধ্যে কোনটি রয়েছে?
  1. শরৎ প্রতিভা
  2. বহ্নিবলয়
  3. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  4. বিশ শতকের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
শরৎ প্রতিভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎ প্রতিভা
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়ন
 সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ও বাংলাপিডিয়া।

২৮.
জীবনানন্দ দাশের মাতা কে?
  1. কামিনী দাশ
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কুসুমকুমারী রায়
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের মাতা - কুসুমকুমারী দাশ

কুসুমকুমারী দাশ: 
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
“একাত্তরের দিনগুলি” স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

• জাহানারা ইমামের রচনা - একাত্তরের দিনগুলি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
 - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত আছে এ গ্রন্থে।

• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম  ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উল্লেখ্য
• সুফিয়া কামাল রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - একাত্তরের ডায়েরী।
• সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - একাত্তরের ঢাকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩০.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. বেনু ও বীনা
  2. মাল্য ও নির্মাল্য
  3. আলো ও ছায়া
  4. দীপ ও ধূপ
সঠিক উত্তর:
বেনু ও বীনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনু ও বীনা
ব্যাখ্যা

'বেনু ও বীনা' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।

কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক এবং পেশায় বিচারক ছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।
- কামিনী রায় ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- আলো ও ছায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৮৮৯),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত,
- অম্বা (নাটককাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে,
- পৌরাণিকী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

৩১.
ফয়জুন্নেসাকে "নওয়াব" উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. মহারানী ভিক্টোরিয়া
  2. লর্ড মিন্টো
  3. পঞ্চম জর্জ
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা

নওয়াব ফয়জুন্নেসা:  
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নওয়াব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
-  'বান্ধব', 'ঢাকা প্রকাশ', 'মুসলমান বন্ধু', 'সুধাকর', 'ইসলাম প্রচারক' প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও নওয়াব ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া 'সঙ্গীতসার' ও 'সঙ্গীতলহরী' নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।
- ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।
- ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসাকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩২.
’বিশ শতকের মেয়ে’ উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নীলিমা ইব্রাহিম 
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম 
ব্যাখ্যা

• ‘বিশ শতকের মেয়ে’ নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৩.
’ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক’ প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. গুলবদন বেগম
  3. ড, মুহাম্মদ এনামুল হক
  4. নীলিমা ইব্রাহীম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম :
- তিনি খুলনায় ১১ ই জানুয়ারি ১৯২১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩৪.
'দীপ নির্বাণ' - উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. বেগম রোকেয়া
  4. বেগম ফয়েজুন্নেসা
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

• 'দীপ নির্বাণ' - উপন্যাস এর রচয়িতা স্বর্ণকুমারি দেবী।

• স্বর্ণকুমারি দেবী  ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট কলকাতার জোড়াসাঁকো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো:
উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- বিবাহ উৎসহ,
- দেব কৌতুক।

কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. নির্মাল্য
  2. পৌরাণিকী
  3. গুঞ্জন
  4. অম্বা
সঠিক উত্তর:
অম্বা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্বা
ব্যাখ্যা
- ’ অম্বা’ কামিনী রায় রচিত নাটক।
----------------------------------------------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

•তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে'- পঙক্তিটির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।

কুসুমকুমারী দাশ:
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন? 
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. পূর্ণিমা
  4. সোমপ্রকাশ 
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ভারতী-এর সম্পাদনা করেছিলেন প্রায় এক দশক ধরে।
- এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার অগ্রদূত ছিলেন।
- নারীদের সৃজনশীলতা ও সহায়তার জন্য তিনি সখী সমিতি নামক একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
------------------------ 
অন্যদিকে,
- সাধনা – সম্পাদনা করেছিলেন হরচন্দ্র বসু।
- পূর্ণিমা – সম্পাদনা করেছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- সোমপ্রকাশ – সম্পাদনা করেছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত ’আমি বীরাঙ্গনা বলছি” - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৯.
'হৃদয়ে বাংলাদেশ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. পান্না কায়সার
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সালমা হোসেন
সঠিক উত্তর:
পান্না কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পান্না কায়সার
ব্যাখ্যা
• পান্না কায়সার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাসমালা 'হৃদয়ে বাংলাদেশ' ।
- এই কাহিনি কেবল বালক-কিশোরের বীরত্ব ও বেদনার গল্প নয়, মুক্তিযুদ্ধের জীবনসত্যেরই এ-এক প্রতিচ্ছবি।
- একাত্তরের এই কাহিনির হাত ধরে কিশোর পাঠকেরা পৌঁছে যাবে মুক্তিযুদ্ধের ভেতরে।


উৎস: 'হৃদয়ে বাংলাদেশ' উপন্যাস।
৪০.
স্বর্ণকুমারী দেবীর রচিত ‘মেবার রাজ’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবীর রচিত ‘মেবার রাজ’ একটি উপন্যাস। 

স্বর্ণকুমারী দেবী
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- দীর্ঘ ৩০ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন।
- প্রথম উপন্যাস: দীপনির্বাণ

উল্লেখযোগ্য রচনা:
- উপন্যাস: দীপনির্বাণ, মেবার রাজ, মালতী, বিদ্রোহ, বিচিত্রা, স্বপ্নবাণী, মিলনরাত্রি। 
- কাব্যগ্রন্থ: গাঁথা, কবিতা ও গান। 
- নাটক: বসন্ত উৎসব, দেব কৌতুক। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

৪১.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকা সম্পাদনা করে খ্যাতি লাভ করেন?
  1. সাধনা 
  2. বলাকা 
  3. ভারতী 
  4. বালক 
সঠিক উত্তর:
ভারতী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী 
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে 'সখী সমিতি' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক 'জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে' ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি-
  1. নুরুন্নেসা খাতুন
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. রহিমুন্নেসা
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
রহিমুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহিমুন্নেসা
ব্যাখ্যা
• কবি রহিমুন্নেসা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি রহিমুন্নেসা।
- কবি রহিমুন্নেসা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম মহিলা কবি। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক এই মহিলা কবির (আবির্ভাবকাল) ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ নির্ধারণ করেন। 
- তিনি (১৮শ শতক) বা অন্ত্যমধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর রচিত  লায়লী-মজনু কাব্যে সে সময়কার বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে, 
• নুরুন্নেসা খাতুন (১৮৯৪-১৯৭৫) - প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩.
"ফুলবাগিচা" গ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. শামসুন্নাহার মাহমুদ
  2. বেগম রোকেয়া
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. সুফিয়া কামাল 
সঠিক উত্তর:
শামসুন্নাহার মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুন্নাহার মাহমুদ
ব্যাখ্যা

"ফুলবাগিচা" গ্রন্থটির রচয়িতা হচ্ছে শামসুন্নাহার মাহমুদ। 

শামসুন্নাহার মাহমুদ:
• শামসুন্নাহার মাহমুদ ছিলেন একজন (১৯০৮-১৯৬৪) শিক্ষাবিদ ও লেখক।
• তিনি ডায়েসিমন কলেজ থেকে আই এ (১৯২৮), প্রাইভেটে ডিস্টিংকশনসহ বিএ (১৯৩২) এবং এম এ (১৯৪২) পাস করেন। বি এ পাস করার পর বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে তাঁকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। পরে তিনি বেগম রোকেয়ার নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অংশীদার হন।

• শামসুন্নাহারের প্রথম লেখা কবিতা প্রকাশিত হয় কিশোরদের ‘আঙ্গুর’ নামক মাসিক পত্রিকায়।
• আই.এ পড়ার সময় তিনি নওরোজ ও আত্মশক্তি পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনা করতেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত বুলবুল (১৯৩৩) পত্রিকা হবীবুল্লাহ্ বাহার ও শামসুন্নাহার যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেন। তাঁর লেখায় সমাজ ও সংস্কৃতি-প্রীতির প্রকাশ ঘটেছে।
• কাজী নজরুল তাঁর সিন্ধু-হিন্দোল (১৯২৭) কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন।
• নারী শিক্ষা ও নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ শামসুন্নাহার মাহমুদকে ১৯৮১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সমাজসেবার জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করেন।
• ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার বেগম শামসুন নাহার মাহমুদকে মরণোত্তর, ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদান করা হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- পুণ্যময়ী,
- ফুলবাগিচা,
- বেগম মহল,
- রোকেয়া জীবনী,
- শিশুর শিক্ষা,
- আমার দেখা তুরষ্ক,
- নজরুলকে যেমন দেখেছি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৪.
’সৈনিক বধূ’ গল্পের রচিতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
’সৈনিক বধূ’ গল্পের রচিতা, সুফিয়া কামাল।

• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প- সৈনিক বধূ।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
'প্রবাসের দিনগুলি' বিখ্যাত গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. কামিনী রায়
  3. সেলিনা হোসেন 
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

'প্রবাসের দিনলিপি' গ্রন্থটি রচনা করেছেন জাহানারা ইমাম।
- এই গ্রন্থটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------
• জাহানারা ইমাম:

- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৬.
মুসলমান নারী জাগরণের কবি-
  1. ফজিলাতুন্নেছা
  2. ফয়জুন্নেছা
  3. বেগম রোকেয়া
  4. শামসুন্নাহার
সঠিক উত্তর:
শামসুন্নাহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুন্নাহার
ব্যাখ্যা
• বিতর্কিত প্রশ্ন।
- বেগম রোকেয়াকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়৷
- আর নারী জাগরণের কবি শামসুন্নাহার মাহমুদ।
[কেননা, বেগম রোকেয়ার কোনো কবিতার বই নেই; তাই তাকে ঠিক কবি বলা যাচ্ছে না।]

------------------------
• শামসুন্নাহার মাহমুদ:
• শামসুন্নাহার মাহমুদ ছিলেন একজন (১৯০৮-১৯৬৪) শিক্ষাবিদ ও লেখক।
• তিনি ডায়েসিমন কলেজ থেকে আই এ (১৯২৮), প্রাইভেটে ডিস্টিংকশনসহ বিএ (১৯৩২) এবং এম এ (১৯৪২) পাস করেন। বি এ পাস করার পর বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে তাঁকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। পরে তিনি বেগম রোকেয়ার নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অংশীদার হন।

• শামসুন্নাহারের প্রথম লেখা কবিতা প্রকাশিত হয় কিশোরদের ‘আঙ্গুর’ নামক মাসিক পত্রিকায়।
• আই.এ পড়ার সময় তিনি নওরোজ ও আত্মশক্তি পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনা করতেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত বুলবুল (১৯৩৩) পত্রিকা হবীবুল্লাহ্ বাহার ও শামসুন্নাহার যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেন। তাঁর লেখায় সমাজ ও সংস্কৃতি-প্রীতির প্রকাশ ঘটেছে।
• কাজী নজরুল তাঁর সিন্ধু-হিন্দোল (১৯২৭) কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন।
• নারী শিক্ষা ও নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ শামসুন্নাহার মাহমুদকে ১৯৮১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সমাজসেবার জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করেন।
• ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার বেগম শামসুন নাহার মাহমুদকে মরণোত্তর, ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদান করা হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- পুণ্যময়ী,
- ফুলবাগিচা,
- বেগম মহল,
- রোকেয়া জীবনী,
- শিশুর শিক্ষা,
- আমার দেখা তুরষ্ক,
- নজরুলকে যেমন দেখেছি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭.
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শওকত ওসমান
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• আমি বীরাঙ্গনা বলছি (প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ):
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

--------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৮.
নওয়াব ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকীর্তি কোনটি?
  1. রূপকথা
  2. হিন্দোল
  3. রূপজালাল
  4. রূপ লহরী
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
ব্যাখ্যা

• নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরি ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর ’রূপজালাল’ (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দু খানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯.
'একটি স্নেহের কথা, প্রশমিতে পারে ব্যথা'- পঙক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'একটি স্নেহের কথা প্রশমিতে পারে ব্যথা'- পঙক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 
 
⇒ কামিনী রায়:
• কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
• কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
• তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
• কামিনী রায় এক সময় 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।

এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নির্মাল্য,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অম্বা,
- পৌরাণিকী,
- অশোক সঙ্গীত,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে,
- গুঞ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫০.
নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত কাব্য কোনটি?
  1. প্রভাতসঙ্গীত
  2. সঙ্গীতসার
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. কঙ্কাবতী
সঠিক উত্তর:
সঙ্গীতসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঙ্গীতসার
ব্যাখ্যা
• নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।

- বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

অন্যদিকে, 
• ‘প্রভাতসঙ্গীত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• ‘প্রেম প্রবাহিণী’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
• ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১.
কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আলো ও ছায়া
  2. কুহু ও কেকা 
  3. দীপ ও ধূপ
  4. মাল্য ও নির্মাল্য
সঠিক উত্তর:
কুহু ও কেকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহু ও কেকা 
ব্যাখ্যা

"কুহু ও কেকা" হলো সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। 

কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃত বিষয়ে অনার্সসহ বি.এ. পাস করেন।
- সেই কলেজেই তিনি অধ্যাপনা করতেন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯২৯ সালে ‘জগত্তারিণী’ পদক লাভ করেন।
- কামিনী রায় ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- জীবন পথে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫২.
’রূপজালাল’ গ্রন্থটি কার আত্মজীবনীমূলক রচনা?
  1. নুরুল মোমেন
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. নীলিমা ইব্রাহীম
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা

• গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।

• নওয়াব ফয়জুন্নেসা:

- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরি ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দু খানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩.
প্রথম সনেট রচয়িতা মুসলিম বাঙালী মহিলা কবি কে?
  1. কাজী ফজিলাতুন্নেছা
  2. মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা
  3. বেগম সুফিয়া কামাল
  4. ফেরদৌসি বেগম
সঠিক উত্তর:
মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।

• বাংলা সাহিত্যে প্রথম সনেট রচয়িতা মুসলিম বাঙালি মহিলা কবি হলেন মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।

‘মন ও মৃত্তিকা’ কাব্যের কিছু কিছু কবিতায় এ প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। ‘প্রেম প্রকৃতি ও বিরহের বেদনা বিধুর উপলব্ধি তাঁর সনেট কবিতার উপজীব্য হিসেবে মূর্ত হয়ে উঠেছে। প্রকৃত সনেট বিবেচনায় তাঁর সনেট রচনাগুলোর শৈল্পিক শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয় এবং চৌদ্দমাত্রার চৌদ্দ চরণের আঙ্গিকে কেবল গদ্য কবিতার ঢঙে সনেট রচনায় প্রয়াসও পরিলক্ষিত হয়েছে:
গ্রীষ্মের দহন জ্বালা আষাঢ়ের ছায়ায়
ঘুমের আমেজ আনে শাল তাল পিয়ালের বনে
সিকৃত শ্যামল দুর্ব্বা বায়ু বহে গভীর স্বপনে
ঝরঝর বারিধারা অবিরাম দু’কূল ভাসায়।
[“তৃষ্ণা” ‘মন ও মৃত্তিকা’]

অন্যান্য অপশনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
ক) কাজী ফজিলাতুন্নেছা – প্রথম মুসলিম বাঙালি মহিলা স্নাতক।
গ) বেগম সুফিয়া কামাল – বিখ্যাত কবি, কিন্তু তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ (সাঁঝের মায়া) ১৯৩৮ সালে, এবং তাতে সনেট ছিল না।
ঘ) ফেরদৌসি বেগম – কবি, কিন্তু সনেট রচনায় অগ্রণী নন।

সুতরাং সঠিক উত্তর: মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা রিপোর্ট;লিংক।

৫৪.
রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
  1. খাঁচায়
  2. দ্রৌপদী
  3. আমার যত গ্লানি
  4. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দ্রৌপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রৌপদী
ব্যাখ্যা
'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
- রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।
- ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেন-
১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। আজ শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোে কলকাতা থেকে এর প্রকাশ আমার পক্ষে বড় গৌরবের। আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুট লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

অন্যদিকে, 
• 'খাচায়' রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• 'আমার যত গ্লানি' রশীদ করীম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• 'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫.
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. শহরতলী
  3. কন্যাকুমারী
  4. গায়ত্রী সন্ধ্যা
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা

‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
• গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।
• গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
• সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়।
• দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

সেলিনা হোসেন:

- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- রাজসিংহ।
- মানিক বন্দোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শহরতলী।
- 'কন্যাকুমারী' রাশিদা আখতার রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬.
'বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বদরুদ্দীন ওমর
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

• 'বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা নীলিমা ইব্রাহিম।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলারকবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৭.
১৯ শতকের মহিলা কবির নাম-
  1. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
  2. রহিমুন্নেসা
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নুরুন্নেসা খাতুন
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
ব্যাখ্যা
• ১৯ শতকের মহিলা কবির নাম- নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী। 

অন্যদিকে,
• কবি রহিমুন্নেসা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি রহিমুন্নেসা।
- কবি রহিমুন্নেসা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম মহিলা কবি। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক এই মহিলা কবির (আবির্ভাবকাল) ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ নির্ধারণ করেন। 
- তিনি (১৮শ শতক) বা অন্ত্যমধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর রচিত  লায়লী-মজনু কাব্যে সে সময়কার বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

- বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালে। কিন্তু তিনি সাহিত্য রচনা শুরু করেছেন বিংশ শতাব্দীতে। তিনি ১৯ শতকের কবি নন।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্যচর্চার শুরু ১৯০২ সালে প্রকাশিত ‘পিপাসা’ শিরোনামে মহররমবিষয়ক একটি প্রবন্ধ দিয়ে। আর সাহিত্যচর্চার শেষ হয়েছে ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর রাতে মৃত্যুর আগে অসমাপ্ত লেখা ‘নারীর অধিকার’—প্রবন্ধ দিয়ে।

• নুরুন্নেসা খাতুন (১৮৯৪-১৯৭৫) -
প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।
----------------------
----------------------
নবাব ফয়জুন্নেসা:

- ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক। 
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কার স্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।

- বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি? 
  1. দীপনির্বাণ 
  2. নির্বাণদীপ 
  3. বিচিত্রা 
  4. বিদ্রোহ 
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ 
ব্যাখ্যা
 স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
 
৫৯.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. বকুলপুরের স্বাধীনতা
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

• আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
- যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।

অন্যদিকে, 
• 'নিষিদ্ধ লোবান' মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'জোছনা ও জননীর গল্প'।
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- বকুলপুরের স্বাধীনতা। 

--------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
-  নীলিমা ইব্রাহি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০.
বাংলায় প্রথম অপেরা রচনা করেন -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবীর জন্ম ২৮ আগস্ট, ১৮৫৫ সালে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬)।
- এটি মূলত ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস। দ্বাদশ শতকে দিল্লি ও এর পার্শ্ববর্তী রাজাদের মধ্যে আত্মকলহ গৃহবিবাদ ও পররাজ্য দখলের প্রবণতা থেকে সৃষ্ট অনৈক্য এর বিষয়বস্তু।
- ১৮৭৯ সালে তাঁর রচিত গীতিনাটক 'বসন্ত উৎসব' বাংলায় লিখিত প্রথম অপেরা।
- ৩ জুলাই, ১৯৭২ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
২.বাংলাপিডিয়া।
৬১.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয়-
  1. বিচিত চিন্তা
  2. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  3. স্বদেশ অন্বেষা
  4. বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
কেয়াবন সঞ্চারিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেয়াবন সঞ্চারিণী
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় 'কেয়াবন সঞ্চারিণী'।
- 'কেয়াবন সঞ্চারিণী' নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস।

• আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:

- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৬২.
স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. বলাকা 
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. বঙ্গদর্শন 
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন। 
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ, 
- বিচিত্রা, 
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব, 
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা, 
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৩.
”কেয়া বন সঞ্চারিণী” উপন্যাসের রচিতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ও বাংলাপিডিয়া।
৬৪.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?"- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. কামিনী রায়
  3. কায়কোবাদ
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল কবি জীবনান্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা 'আদর্শ ছেলে'। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

যার প্রথম দুই চরণ-
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া 

৬৫.
’শরৎ প্রতিভা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়ন সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:-
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬৬.
'আমলকির মৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রিজিয়া খান
  2. দিলারা হাশেম
  3. বিপ্রদাশ বড়ুয়া
  4. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
দিলারা হাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিলারা হাশেম
ব্যাখ্যা
• দিলারা হাশেম রচিত ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় তার নারীবাদী উপন্যাস 'আমলকীর মৌ'।

• দিলারা হাশেম:

- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- যা পাঠক ও সমালোচক মহলে বিপুল সমাদর পায়।
- পরবর্তীতে গ্রন্থটি রুশ ও চীনা ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে একই শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- মুরাল,
- শঙ্খ করাত,
- অনুক্ত পদাবলী,
- মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৭.
মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. যাপিত জীবন
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা

 • হাঙর নদী গ্রেনেড:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাসটি
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় ছিল- অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি ১৯৮০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৮৮ সালে ফিলিপস্‌ পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৪ সালে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- যমুনা নদীর মুশায়রা ইত্যাদি।

উৎস: প্রথম আলো, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৮.
’কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বেগম মাহবুবা
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জানাহারা ইমাম
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• ’কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
- পঙ্‌ক্তিটি ’তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার অন্তর্গত।

• তাহারেই পড়ে মনে:

- কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে এবং প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়।
- কবিতার মূল বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পঙ্‌তি সংখ্যা ৩০টি। 
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

সুফিয়া কামাল: 
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। 
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়। 
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 
- সৈনিক বধূ।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে। 

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৯.
'আদর্শ ছেলে' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সুকুমার রায়
  3. জসিম উদ্দিন
  4. কুসুমকুমারী দাস
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাস
ব্যাখ্যা

• কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে।
- তাঁর রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

• কুসুমকুমারী দাশ: 
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল'। 
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।

আদর্শ ছেলে
কুসুমকুমারী দাশ। 

আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ।
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চাই বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখে জল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা 'মানুষ' হলে দেশের কল্যাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও আমার বাংলা বই তৃতীয়-শ্রেণি।

৭০.
'হাঙর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সেলিনা হোসেন
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4.  সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড:
- সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• সেলিনা হোসেন:

- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭১.
’উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নিহারীকা দেবী
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭২.
বেগম সুফিয়া কামাল সম্পাদিত পত্রিকার নাম কোনটি?
  1. কোহিনূর
  2. তত্ত্ববোধিনী 
  3. বেগম
  4. সওগত
সঠিক উত্তর:
বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল: 
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। 
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়। 
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 
- সৈনিক বধূ।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে। 

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল। 

অন্যদিকে,
সওগাত (মাসিক) পত্রিকার সম্পাদক- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন।
তত্ত্ববোধিনী  পত্রিকার সম্পাদক- অক্ষয়কুমার দত্ত।
কোহিনুর পত্রিকার সম্পাদক-  এর সম্পাদক ছিলেন এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৩.
'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলো কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলো কামিনী রায়ের 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত। 

- কামিনী রায়ের “সুখ” কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” (১৮৮৯) থেকে সংকলিত। এই কবিতায় কবি মানুষের জীবনে সুখের প্রকৃত স্বরূপ ও তার অর্জনের পথ নিয়ে গভীর দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ করেছেন।

----------------
কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৭৪.
'যে অরণ্যে আলো নেই' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ 
  2. উপন্যাস 
  3. গল্পগ্রন্থ 
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
নাটক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক 
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'যে অরণ্যে আলো নেই' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।

--------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম হলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো নাম ছিল নীলিমা রায় চৌধুরী।
- তিনি ১৯২১ সালের ১১ জানুয়ারি খুলনার বাগেরহাটে জমিদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাক,
- কেয়াবন সঞ্চারিনী,
- বহ্নিবলয়।

উৎস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৫.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আলো ও ছায়া
  2. গুঞ্জন
  3. জীবন পথে
  4. পৌরাণিক আখ্যায়িকা
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিক আখ্যায়িকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিক আখ্যায়িকা
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় - পৌরাণিক আখ্যায়িকা
- এটি কুসুমকুমারী দাশ রচিত গদ্যগ্রন্থ।

কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক কোনটি?
  1. দীপনির্বাণ
  2. মেবার রাজ
  3. বসন্ত উৎসব
  4. বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক হচ্ছে বসন্ত উৎসব। 

স্বর্ণকুমারী দেবী
- স্বর্ণকুমারী দেবী হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ।
- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন।
- প্রথম উপন্যাস: দীপনির্বাণ
- সেরা গ্রন্থ: কাহাকে (১৮৯৮), ইংরেজিতে অনূদিত: The Unfinished Song। 

উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি। 

কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান। 

নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

৭৭.
”কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী”- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. উদাত্ত পৃথিবী
  2. কেয়ার কাঁটা
  3. তাহারেই পড়ে মনে
  4. মন ও পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
তাহারেই পড়ে মনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহারেই পড়ে মনে
ব্যাখ্যা
• ”তাহারেই পড়ে মনে” কাবিতা।
- এটি সাঝোঁর মায়া কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বেগম সুফিয়া কামাল রচিত কবিতা ।
- কতিাটি প্রকাশিত হয়- ১৯৩৫ সালে।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ”কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী”- পঙ্‌ক্তিটি এই কবিতার অন্তর্গত।

বেগম সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 
- তিনি নিজ চেষ্টায় হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত।
- বাড়িতে উর্দুভাষার চল থাকলেও নিজ উদ্যেগেই তিনি বাংলা ভাষা শিখে নেন।
- ১৯২৩ সালে তিনি রচনা করেন তাঁর প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’, যা বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- মায়া কাজল ,
- মন ও জীবন ,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৭৮.
'একাত্তরের দিনগুলি' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রাবিয়া খাতুন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. আহমদ ছফা
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• একাত্তরের দিনগুলি:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।

- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

উৎস: 'একাত্তরের দিনগুলি' গ্রন্থ।
৭৯.
'পৌরাণিক আখ্যায়িকা' গদ্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. এক পথ দুই বাঁক
  3. রোদ জ্বলা বিকেল
  4. সূর্যাস্তের পর
সঠিক উত্তর:
এক পথ দুই বাঁক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক পথ দুই বাঁক
ব্যাখ্যা
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি উপন্যাস। 

-------------------
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
-বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
-অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।