বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অন্যান্য

মোট প্রশ্ন৫৪০এই পাতা৩৪প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অন্যান্য

PrepBank · পাতা / · ৫০১৫৩৪ / ৫৪০

৫০১.
কন্দ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পারিবারিক দেবতা -
  1. মারাং বুরু
  2. চান্দোবোংগা
  3. বোংগা
  4. ময়মুরুবিব
সঠিক উত্তর:
ময়মুরুবিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মুরুবিব
ব্যাখ্যা
কন্দ:
- এরা বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- তাদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- বর্তমান বসবাস: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া।
- স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত।
- এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় পুত্র সন্তান।
- কন্দরা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় দেবদেবীদের নামকরণ করে।
- ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ তাদের পারিবারিক দেবতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫০২.
ত্রিপুরা জাতি কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. কক্-বরক
  2. ত্রিপুরি
  3. সাঁওথো
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
কক্-বরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কক্-বরক
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু ।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৫০৩.
নিচের কোন জেলায় কন্দ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. বান্দরবান
  2. মৌলভীবাজার
  3. কক্সবাজার
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে বাংলাদেশে আসে এবং রেললাইন নির্মাণের কাজে যোগদান করে। রেললাইন নির্মাণ শেষে এদের একাংশ চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যায়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া চা বাগানে কন্দদের দেখা যায়।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- তাদের সঙ্গে মধ্যভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যেমন ভীল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজ পুরুষ প্রধান। পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি। এগুলো কন্দদের পারিবারিক দেবতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫০৪.
বাঙালি জাতির প্রাথমিক ভিত্তি কোন গোষ্ঠীর উপর গড়ে উঠেছে?
  1. আর্য
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক 
  4. মঙ্গোলিয়ান
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক 
ব্যাখ্যা

অস্ট্রিক গোষ্ঠী: 
- বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- এই জাতি সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন জাতির সংমিশ্রণে গঠিত হয়েছে।
- প্রাচীনকাল থেকে বঙ্গদেশে কালের বিবর্তনে বিভিন্ন জাতি এসেছে, যেমন- অনার্য (অস্ট্রিক), আর্য, মঙ্গল, দ্রাবিড়, পর্তুগিজ, ইংরেজ ইত্যাদি।
- প্রাচীন বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়—
১. প্রাক-আর্য বা অনার্য নৃগোষ্ঠী;
২. আর্য নৃগোষ্ঠী।
- আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীকে আরও চার ভাগে ভাগ করা হয়— নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় এবং ভোটচীনীয়।
- অস্ট্রিক গোষ্ঠী প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৃগোষ্ঠী।
- আনুমানিক ৫–৬ হাজার বছর আগে তারা ইন্দোচীন থেকে আসাম হয়ে বঙ্গদেশে পৌঁছায়।
- বঙ্গদেশে সবচেয়ে প্রথমে বসতি গড়ে তুলেছিল অস্ট্রিক বা অনার্য নৃগোষ্ঠী।
- এবং তখন তাদের সংস্কৃতি, জীবনধারা ও সামাজিক প্রথা অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তার করেছিল।
- বলা হয় যে, বাঙালি জাতির প্রধান অংশ মূলত অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক জাতিকে নিষাদ জাতিও বলা হয়ে থাকে।

উৎস:
১. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি;
২. কালের কন্ঠ পত্রিকা। 

৫০৫.
ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব কোনটি?
  1. সাংগ্রাই
  2. বিজু
  3. বৈসু
  4. সোহরাই
সঠিক উত্তর:
বৈসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈসু
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৫০৬.
কোন নৃগোষ্ঠীর সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা
  3. লুসাই
  4. গারো
সঠিক উত্তর:
গারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
-  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫০৭.
বাংলাদেশের সাঁওতাল জনগোষ্ঠী নিচের কোন জেলায় বসবাস করে?
  1. চাঁদপুর
  2. কুমিল্লা
  3. দিনাজপুর
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• সাঁওতাল:
• সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী  জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা,
- এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- বর্তমানে সাঁওতাল জনসংখা- ১,২৯,০৫৬ জন।
- সাঁওতালদের নিজস্ব উৎসবাদির মধ্যে 'সোহরাই' এবং 'বাহা'।
- তাঁদের সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হলো 'ঝুমুর নাচ'।
- সাঁওতালদের বিবাহ অনুষ্ঠানে আয়োজিত হয় 'দোন' ও 'ঝিকা' নাচ।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৫০৮.
'ত্রিনাথ' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পারিবারিক দেবতা?
  1. খিয়াং
  2. হাজং
  3. কন্দ
  4. তঞ্চঙ্গ্যা
সঠিক উত্তর:
কন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্দ
ব্যাখ্যা
কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে বাংলাদেশে আসে এবং রেললাইন নির্মাণের কাজে যোগদান করে। রেললাইন নির্মাণ শেষে এদের একাংশ চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যায়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া চা বাগানে কন্দদের দেখা যায়।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- তাদের সঙ্গে মধ্যভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যেমন ভীল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজ পুরুষ প্রধান। পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি। এগুলো কন্দদের পারিবারিক দেবতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫০৯.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক?
  1. মারমা
  2. গারো
  3. খাসিয়া
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
মারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারমা
ব্যাখ্যা
মারমাদের বিবাহ ও পরিবার ব্যবস্থা:
- মারমাদের পরিবার ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।
- মারমা পরিবারের প্রধান পিতা হলেও পারিবারিক কাজকর্মে মাতার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
- পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষটি মারমা পরিবারের প্রধান হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
- মারমা পরিবার সাধারণত একক পরিবার।
- পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকারে ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই সমান অধিকার রয়েছে।
- সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে তারা প্রাচীন বার্মিজ প্রথা অনুসরণ করে যাকে 'থামোতাদা' (Thamohada) বলা হয়।
- পুত্র এবং কন্যা যে কেউই পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
- সাধারণত সবচেয়ে প্রিয় সন্তানটিই গৃহের মালিকানা লাভ করে এবং পিতামাতাকে দেখাশোনা করে।
- মারমা সম্প্রদায়ে সাধারণত একবিবাহ ব্যবস্থাই প্রচলিত।
- তবে বহুবিবাহ প্রথা ও দেখা যায়। নারী এবং পুরুষ উভয়েরই বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার রয়েছে।
- তবে এ ব্যাপারে হেডম্যান বা কারবারির বিচারই চূড়ান্ত।
- মারমা সমাজে অন্তর্বিবাহ ও বহির্বিবাহ দুই ধরনের বিবাহ প্রথাই প্রচলিত।
- বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ ও সম্পত্তির মালিকানা ইত্যাদি ক্ষেত্রে মারমারা নারীদেরকে স্বাধীনতা দেয়।

উল্লেখ্য, গারো ও খাসিয়াদের পরিবার ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১০.
নৃ-তাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা কোন জনগোষ্ঠীর লোক?
  1. ককেশীয়
  2. মঙ্গোলীয়
  3. অস্ট্রেলীয়
  4. আর্য
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলীয়
ব্যাখ্যা
চাকমা নৃ-গোষ্ঠী:
- চাকমা সম্প্রদায় দেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাস করে।
- অনুমান করা হয় ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মঙ্গোলীয় জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 
- চাকমারা আদি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। 
- চাকমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক।
- চাকমাদের প্রধান উৎসব বিজু বা বিঝু।
- তাদের প্রধান জীবিকা কৃষি কাজ। জুম চাষের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন খাদ্যশস্য ও রবিশস্য উৎপাদন করে থাকে।

উল্লেখ্য,
- চাকমাদের ভাষার নামও চাকমা। চাকমাদের নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে।
- চাকমাদের গ্রামকে বলে আদাম বা পাড়া।
- চাকমাদের কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা।
- চাকমা গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি।
- চাকমা মৌজার প্রধান হলেন হেডম্যান।
- চাকমা সমাজের প্রধান (বংশানুক্রমিক) চাকমা রাজা।
- চাকমাদের পরিবার পিতৃতান্ত্রিক।
- চাকমা ভাষায় লিখিত প্রথম উপন্যাস ফেবো।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১১.
৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা কত?
  1. ৪৪টি
  2. ৪৬টি
  3. ৪৮টি
  4. ৫০টি
সঠিক উত্তর:
৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০টি
ব্যাখ্যা

[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- কোন এলাকার সবচেয়ে প্রাচীন জনবসতি ও সামাজিক গোষ্ঠী, যাদের সাধারণ জাতীয় অথবা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে।
- বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে চাকমা, গারো, মারমা, ম্রো, খেয়াং, চাক, বম, লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, মনিপুরী ইত্যাদি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২(৬ষ্ঠ জনশুমারি) অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- এর মধ্যে পুরুষ ৪৯.৯৮% ও নারী ৫০.০২%।
- এর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪.৮২% রাজশাহী, ৮.২৮% সিলেট, ৫.৫২% রংপুর ও ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রাঙামাটি জেলায়।
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা।

সূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা, ২০২২।

৫১২.
কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান উৎসব 'সোহরাই'?
  1. সাঁওতাল
  2. মণিপুরী
  3. খাসিয়া
  4. ত্রিপুরা
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়। সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে।
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই। সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য সূর্য।
- সাঁওতাল সমাজ প্রধানত কৃষিনির্ভর। 
- সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই।
- সাঁওতালদের মধ্যে এখনও ১২টি গোত্রবিভাগ রয়েছে।  সাঁওতাল গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।
- সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মাঝে প্রচলিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাঝে অন্যতম হলো ঝুমুর গান ও নাচ। সাধারণত বিয়ের উৎসব ও করম উসবে সাঁওতালরা ঝুমুর গান ও নাচ পরিবেশন করে থাকে।

অন্যদিকে -
- খাসিয়াদের প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসব বৈসু।
- মণিপুরীদের প্রধান উৎসব রাসপূর্ণিমা।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৫১৩.
নিচের কোন জেলায় 'পাংখোয়া' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. ময়মনসিংহ
  2. রাঙামাটি
  3. দিনাজপুর
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
ব্যাখ্যা

পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫১৪.
রাস (Rasa) নৃত্য কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য?
  1. লুসাই
  2. মণিপুরী
  3. মারমা
  4. গারো
সঠিক উত্তর:
মণিপুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণিপুরী
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী। নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাস (Rasa) নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫১৫.
জাতীয় জনসংখ্যা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (NIPORT) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1.  ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
 ১৯৭৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা

NIPORT:
- এর পূর্ণরূপ: National Institute of Population Research and Training.
- ১৯৭৭ সালে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
- নিপোর্ট প্রধান কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ সুবিধা ছাড়াও:
-বিভাগীয় ও জেলা শহরে রয়েছে ১২টি পরিবার কল্যাণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (FWVTI),
- উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে ২০টি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (RTC)।
- ১২টি এফডব্লিউভিটিআই,
- ও ৩১টি মাঠ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (FTC) সংযুক্ত রয়েছে।
- এটি ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।
কার্যক্রম:
- মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি।
- প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা ,গবেষণা ও জরিপ পরিচালনা করা।

উৎস: NIPORT ওয়েবসাইট।

৫১৬.
নৃতাত্ত্বিক বিচারে ওরাওঁ জনগোষ্ঠী কোন জনগোষ্ঠীর উত্তর পুরুষ হিসেবে বিবেচিত?
  1. আদি-অস্ট্রেলীয়
  2. ইন্দো-ইউরোপীয় 
  3. মঙ্গোলয়েড
  4. নেগ্রিটো
সঠিক উত্তর:
আদি-অস্ট্রেলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি-অস্ট্রেলীয়
ব্যাখ্যা

ওরাঁও :
- ওরাওঁ জনগোষ্ঠী নৃতাত্ত্বিক বিচারে আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রেলীয়) জনগোষ্ঠীর উত্তর পুরূষ।

- নৃতত্ত্ববিদগণের মতে একই অম্ফলের মুণ্ডা, মালপাহাডি় ও সাঁওতালদের সঙ্গে ওরাওঁদের ঘনিষ্ঠ জনতাত্ত্বিক সম্পর্ক রযে়ছে।
- ভারতীয় নৃতাত্ত্বিক সোসাইটির মতানুসারে কুরুখ জাতি বা ওঁরাওদের আদিবাস ছিলো কঙ্কন অঞ্চলে যেখান থেকে তারা অভিবাসিত হয়ে উত্তর ভারতে চলে আসে।
- কঙ্কনি ভাষার সাথে কুরুখ ভাষার উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য রয়েছে।
- বাংলাদেশে বর্তমানে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও রাজশাহী জেলা ওরাওঁদের প্রধান বসতিস্থল।
- অনেক আদিবাসী জাতির মতো ওরাওঁ সমাজও সর্বপ্রাণবাদী প্রকৃতি উপাসক।
- তবে তাদের ধর্মবিশ্বাসে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে সর্বশক্তিমান ‘ধরমেশ’ স্বীকৃত।
- এই সর্বশক্তিমানের অবস্থান সূর্যে। তাই ধর্মীয় অনুষ্ঠান অধিকাংশই সূর্যকে ঘিরে উদযাপিত হয়।
- এছাড়া ওরাওঁ সমাজ নানা দেবতায় বিশ্বাসী।
- ঐসব দেবতার প্রতীকী অবস্থান গ্রাম, কৃষিসমপদ, অরণ্য, মহামারী ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে।
- এদের তুষ্টির জন্য রযে়ছে ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা।
- কোন কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে হিন্দুদের পূজার মিল পাওয়া যায়, যেমন হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘ভাদু’ উৎসবের সঙ্গে ওরাওঁদের ‘করম’ উৎসবের মিল অত্যন্ত স্পষ্ট। কদম শাখাকে ঘিরে অনুষ্ঠিত এ উৎসবটি বৃক্ষপূজার নামান্তর।


উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

৫১৭.
রাস উৎসব পালন করে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. চাকমা
  2. মণিপুরী
  3. গারো
  4. রাখাইন
সঠিক উত্তর:
মণিপুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণিপুরী
ব্যাখ্যা

মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: 
- রাস উৎসব পালন করে মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এটি তাদের প্রধান উৎসব,
- এটা সাধারণত শরতের পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়।
- মণিপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- রাস উৎসবের দুটি প্রধান পর্ব রয়েছে।
- একটির নাম রাখালরাস, যা দিনব্যাপী পালন করা হয়, এবং
- অন্যটি মহারাস, যা রাতের বেলায় অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- মণিপুরী জাতির পূর্ব পুরুষরা ছিলেন পাখাংবা নামক একজন প্রাচীন রাজা।
- ৩৩ সালে পাখাংবা সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন।
- মণিপুরী সম্প্রদায় বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করে থাকে, বিশেষ করে মৌলভীবাজার জেলাতে তাদের সংখ্যা বেশি।

অন্যদিকে: 
- চাকমাদের প্রধান উৎসব বিজু।
- রাখাইনদের প্রধান উৎসব জলকেলি।
- গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব ওয়ানগালা।

সূত্র: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।

৫১৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় মনিপুরী উপজাতি বসবাস করে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. জামালপুর
  3. কুষ্টিয়া
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

মণিপুরী: 
- বাংলাদেশে মণিপুরী আদিবাসীরা মূলত সিলেট বিভাগে বসবাস করে থাকে।
- সবচেয়ে বেশি মণিপুরী বসবাস করেন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানায়।
- এছাড়া সিলেট শহর ও শহরতলি, হবিগঞ্জ জেলার চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক এলাকাতেও মণিপুরীদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮১৯-১৮২৫ সালের মণিপুর-বার্মা যুদ্ধের সময় মণিপুর থেকে ব্যাপক হারে জনগণের আগমন ঘটে বাংলাদেশে, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে।
- তারা সিলেটের মীর্জাজাঙ্গালে প্রাসাদ তৈরি করে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৫১৯.
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম কী?
  1. ওয়ানগালা
  2. সাংলান
  3. চাপচারকৃত
  4. বৈসু
সঠিক উত্তর:
বৈসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈসু
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৫২০.
সাঁওতালদের জাতীয় উৎসব নিচের কোনটি?
  1. বাইসু
  2. সোহরাই
  3. বিজু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সোহরাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোহরাই
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫২১.
'মারাংবুরো' কী?
  1. সাঁওতালদের বিবাহপ্রথা
  2. সাঁওতালদের বর্ষবরণ
  3. সাঁওতালদের মন্দিরের নাম
  4. সাঁওতালদের প্রধান গ্রামদেবতা
সঠিক উত্তর:
সাঁওতালদের প্রধান গ্রামদেবতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁওতালদের প্রধান গ্রামদেবতা
ব্যাখ্যা
সাঁওতালদের ধর্ম: 
- সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ প্রধানত হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী।
- সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীরা হিন্দুধর্মের রীতিনীতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে।
- অন্যরা খ্রিস্টান ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।
- সাঁওতালদের প্রধান গ্রামদেবতার নাম 'মারাংবুরো'।
- এই দেবতাকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তাঁর উদ্দেশ্যে সাদা মোরগ ও সাদা ছাগল উৎসর্গ করা হয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদ
  2. ২১নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৫নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধান:

অনুচ্ছেদ ২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি:

রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ  ১৮ক: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫২৩.
নিচের কোন জেলায় 'কন্দ' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. রংপুর
  3. কক্সবাজার
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে বাংলাদেশে আসে এবং রেললাইন নির্মাণের কাজে যোগদান করে। রেললাইন নির্মাণ শেষে এদের একাংশ চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যায়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া চা বাগানে কন্দদের দেখা যায়।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- তাদের সঙ্গে মধ্যভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যেমন ভীল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজ পুরুষ প্রধান। পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫২৪.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. লুসাই
  4. পাংখোয়া
সঠিক উত্তর:
গারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো
ব্যাখ্যা

গারো:
- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
-  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫২৫.
নিচের কোনটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. চাকমা
  2. খাসিয়া
  3. ত্রিপুরা
  4. মারমা
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫২৬.
মারমা জনগণ কোন বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. অস্ট্রিক
  2. মঙ্গোলয়েড
  3. দ্রাবিড়
  4. আর্য
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলয়েড
ব্যাখ্যা

মারমা: 
- মারমা জনগণ মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

- এ বর্ণগোষ্ঠীর মানুষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল, ছোট ও চওড়া নাক, বাদামি চোখ এবং সোজা চুল পরিলক্ষিত হয়।
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠী শারীরিক গঠন ও নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মঙ্গোলয়েড জনগণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, 
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।

৫২৭.
মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. মাঘীপূর্ণিমা
  2. চৈত্রসংক্রান্তি
  3. পৌষ সংক্রান্তি
  4. মহারাসলীলা
সঠিক উত্তর:
মহারাসলীলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারাসলীলা
ব্যাখ্যা

মহা রাসলীলা:
- মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহা রাসলীলা'।
- শারদীয় পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় বলে মহারাসকে মণিপুরীরা পূর্ণিমারাসও বলে থাকে। 

⇒ মণিপুরী:

- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত। 
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো। 

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫২৮.
কোন ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাইরে বসবাস করে?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা
  3. হাজং
  4. মারমা
সঠিক উত্তর:
হাজং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজং
ব্যাখ্যা
হাজং:

- চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাইরে বসবাস করে হাজং।
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- তিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫২৯.
খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কোনটি?
  1. সাংসারেক
  2. সাংলান
  3. বৈসু
  4. চাপচারকৃত
সঠিক উত্তর:
সাংলান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংলান
ব্যাখ্যা
খিয়াং:
- খিয়াং পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃজাতি গোষ্ঠী।আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ‘সাংলান’।
- তারা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেয়। তবে তাদের আদি দেব-দেবীদের পূজা করতেও দেখা যায়।
- বর্তমানে অনেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।।
- পাহাড়ের উপর খোলা জায়গায় এবং ছোট খাল বা ঝর্ণাধারার কাছে এদের গ্রামগুলি গড়ে উঠে।
- এরা ঘরকে বলে ‘ইম’ এবং গ্রামকে বলে ‘নাম’।
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫৩০.
Which is the main religious festival of the Garo community?
  1. Biju
  2. Onegala
  3. Mutsolung
  4. Fagua
  5. Jolkeli
সঠিক উত্তর:
Onegala
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Onegala
ব্যাখ্যা
গারো উপজাতি:
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়। 
- তাছাড়া শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে। 
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 
- গারোদের প্রধান দেবতা 'তাতারা রাবুগা'। 
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান। 
- গারোদের উৎসব 'ওয়ানগালা'। 
- গারোদের ভাষা মান্দি। 
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। 

উল্লেখ্য,
- ফাগুয়া ওরাওঁ সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব।
- মুৎসলোং ম্রো বা মুরংদের প্রধান উৎসব।
- বিজু চাকমাদের বাৎসরিক প্রধান উৎসব।

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
৫৩১.
'ওরাঁও' নৃ-গোষ্ঠী কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. ককবোরক
  2. মুন্ডারি
  3. কুঁড়খ
  4. আচিক খুসিক
সঠিক উত্তর:
কুঁড়খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুঁড়খ
ব্যাখ্যা
ওরাঁও' নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা:

• ওরাওঁ নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের দিকে বাস করে।
• ওরাওঁদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
• ওঁরাও নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা- কুঁড়ুখ ও সাদরি।
• এ ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই।
• ওরাওঁ সমাজে বর্তমানে দুধরনের বিবাহের প্রচলন লক্ষ করা যায়।
- চুক্তিবিবাহ,
- প্রেমঘটিত বিবাহ।
- তবে অধিকাংশ বিবাহ সম্পন্ন হয় চুক্তিবদ্ধ পদ্ধতিতে। 
• মিশনারীদের প্রভাবে ওরাওঁদের মাঝে খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। 

• ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা: ককবোরক 
• মুন্ডা নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা: মুন্ডারি 
• গারো আচিক খুসিক
• সাঁওতাল নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা: মান্দি 

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।  
৫৩২.
'মর থেংগারি’ কোন ভাষায় নির্মিত সিনেমা?
  1. মারমা
  2. মান্দি
  3. চাকমা
  4. সাঁওতাল
সঠিক উত্তর:
চাকমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকমা
ব্যাখ্যা
- চাকমা ভাষায় নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা ‘মাই বাইসাইকেল-মর থেংগারি’।
- সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডে ৯ বছর ধরে আটকে আছে।
- অং রাখাইন পরিচালিত সিনেমাটি নানা কারণে সেন্সর পায়নি।
- এই সিনেমাটি মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হওয়া চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪) দেখানো হয়।
- এছাড়া ‘সাউথ এশিয়ান ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভাল ২০১৫’ তেও চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী হয়। (১০ জানুয়ারি ২০১৫)
- চাকমা ভাষায় থেংগারি শব্দের অর্থ বাইসাইকেল।
- সিনেমার ইংরেজি নাম মাই বাইসাইকেল।
- সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে পাহাড়ঘেড়া এক গ্রামের কমল নামের চাকমা যুবককে ঘিরে। শহরে জীবিকা অর্জনে বিফল হয়ে একটি বাইসাইকেল নিয়ে গ্রামে ফেরত আসেন তিনি। বাইসাইকেলে মানুষ ও মালামাল পরিবহন করে জীবিকার সন্ধান করতে থাকেন তিনি।

উৎস: প্রথম আলো (২৯ ডিসেম্বর ২০২৪) ।
৫৩৩.
নিম্নের কোন জেলায় রাখাইন জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে? 
  1. রংপুর
  2. কুমিল্লা
  3. কক্সবাজার
  4. বাগেরহাট
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

রাখাইন জনগোষ্ঠী:
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম। 
- এরা মগ নামেও পরিচিত।
- আঠারো শতকের শেষে এরা আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।

এছাড়াও
- রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়। 
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
- রাখাইন শব্দটির উৎস পলি ভাষা। 
- ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, ১৭৮৪ সালে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে রাখাইনদের আগমন ঘটে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

৫৩৪.
বাংলাদেশের ত্রিপুরা গোষ্ঠী কোন ধর্মবিশ্বাসের অনুসারী?
  1. খ্রিস্টান ধর্ম
  2. বৌদ্ধ ধর্ম
  3. সনাতন ধর্ম
  4. মুসলমান ধর্ম
সঠিক উত্তর:
সনাতন ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনাতন ধর্ম
ব্যাখ্যা
ত্রিপুরা:
- ত্রিপুরা একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য। ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।

⇒ ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা ককবরক নামে অভিহিত। ককবরক ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল। ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে ককবরক রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।

⇒ ত্রিপুরারা সনাতন ধর্মের অনুসারী। এরা শিব ও কালীপূজা করেন। পাশাপাশি এরা নিজস্ব কিছু দেব-দেবীর উপাসনাও করে। যেমন গ্রামের সব লোকের মঙ্গলের জন্য এরা ‘কের’ পূজা করে।

⇒ ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক। পিতাই পরিবারের প্রধান এবং তার অবর্তমানে জ্যেষ্ঠ পুত্র পরিবারের কর্তা হন। সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ছেলেরা বাবার সম্পত্তি ও মেয়েরা মায়ের সম্পত্তি লাভ করে থাকে।

⇒ ত্রিপুরা জাতির প্রথাগত উৎপাদন পদ্ধতির নাম জুম। জুম চাষের শুরু থেকেই শেষ অবধি সংগীত একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। লোক নৃত্যে ত্রিপুরাদের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যের মধ্যে সিমতুং, কাথারক, সাকচরাই, চুমলাই, কেরপূজা, গোমতী, নাইরাং, হাচুকমা, সিবরাই, জুয়াংফা, সাকাল, গড়িয়া, হজাগিরি, লেবাং, মামিতা, ত্রিপুরেশ্বরী, মাইখুলুম, হাবা, খুমকাম, অনজালা উল্লেখযোগ্য।

⇒ ত্রিপুরীদের রয়েছে বৈচিত্র্যমন্ডিত উৎসব ও পূজা পার্বণ। প্রধান উৎসব ও পূজা হলো: বৈষু, কের, গোমতী, সিবরাই, খাচী, হাকা। প্রধান উৎসবের নাম বৈষু। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।