উত্তর
ব্যাখ্যা
• ভোর (বিশেষণ)
- হিন্দি শব্দ
অর্থ: প্রাতঃকাল, উষা, প্রত্যুষ, প্রভাত।
• ভোর (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
অর্থ: বিভোর, অভিভূত, মুগ্ধ, তন্ময়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৮ / ১২ · ৭০১–৮০০ / ১,১৮০
বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ধুতি একটি হিন্দি শব্দ।
অর্থ:
১) পুরুষদের পরিধেয় সরু পাড়যুক্ত লম্বা কত্রখণ্ড।
২) উৎকোচ; ভেট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
প্রশ্নটি জানতে চায়— বিদেশাগত বাংলা শব্দের মধ্যে কোন শব্দগুচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় (ভাষাগত) উৎসের শব্দ আছে।
প্রশ্নটিতে কিছুটা অসঙ্গতি রয়েছে।
চলুন সংক্ষেপে দেখি—
ক) পোশাক – পছন্দ – হিসাব-
পোশাক → ফারসি;
পছন্দ → ফারসি;
হিসাব → আরবি।
➡️ একই গুচ্ছে ফারসি + আরবি (ভিন্ন জাতীয়)।
• বিদেশাগত বাংলা শব্দের মধ্যে ভিন্ন জাতীয় শব্দগুচ্ছ - আড়ং-রং-মোরগ।
- 'আড়ং' দেশি শব্দ।
- 'রং' সংস্কৃত শব্দ।
- 'মোরগ' ফারসি শব্দ।
তবে, এখানে, 'আড়ং' দেশীয় শব্দ। যা বিদেশাগত শব্দ নয়।
সঠিক উত্তর: ক) পোশাক – পছন্দ – হিসাব।
কারণ—
- তিনটিই বিদেশাগত;
- কিন্তু একই ভাষা থেকে নয়;
- ফারসি ও আরবি—দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দ একসাথে আছে।
অন্যদিকে,
অপশন - ক - পোশাক-পছন্দ-হিসাব।
- 'পোশাক' এবং 'পছন্দ' ফারসি শব্দ।
- 'হিসাব' আরবি শব্দ।
অপশন - গ - আলাদা-লোকসান-জেলা।
- 'আলাদা, লোকসান, এবং জেলা' আরবি শব্দ।
অপশন - ঘ - দোকান-শনাক্ত-নিশান।
- 'দোকান, শনাক্ত, এবং নিশান' ফারসি শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
ফরাসি - কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ৷
ফারসি - চশমা, তোশক, দফতর, দোকান, দৌলত, বান্দা, নালিশ, বেগম, ফেরেশতা, বেহেশত৷
'তারিখ' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ‘কাঁচামাল’ — মিশ্র ভাষার শব্দ।
- এখানে কাঁচা (বাংলা শব্দ) এবং মাল (আরবি শব্দ।
অর্থ: যে সকল উপদান থেকে শিল্পদ্রব্য তৈরি হয়।
অন্যদিকে,
• বাদশাহ (বিশেষণ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
• বনমালা (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
• বনভোজন (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সংস্কৃত শব্দ - ভোজন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- আহার গ্রহণ, ভক্ষণ,
- ভোজ্যদ্রব্য।
অন্যদিকে,
সংস্কৃত 'কৃষ্ণ' থেকে আগত তদ্ভব শব্দ - কানু।
সংস্কৃত 'বধূ' থেকে আগত তদ্ভব শব্দ - বউ।
সংস্কৃত 'কার্য' থেকে আগত তদ্ভব শব্দ - কাজ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ’উজবুক’ শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে গৃহীত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- আহাম্মক, বোকা, নির্বোধ।
• তুর্কি ভাষা থেকে গৃহীত গুরত্বপূর্ণ কিছু শব্দ :
- সওগাত, বাবুর্চি, , বেগম, কাবু, কাঁচি, তোপ, কুর্নিশ, কোর্মা, চাকু, চোগা, তকমা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'আলপিন' শব্দটি 'পর্তুগিজ' ভাষা হতে আগত।
• গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি,
- বালতি ইত্যাদি।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
• 'জয়' শব্দটি সংস্কৃত অল-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে) যোগে গঠিত শব্দ।
• এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়ঃ √জি + অল = জয়।
• এরূপ কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়ঃ
- √ক্ষি + অল = ক্ষয়,
- √ভি + অল = ভয় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• তৎসম শব্দ নয়- চাকা।
- 'চাকা' অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম চক্র থেকে চাকার উৎপত্তি।
-------------------
• তৎসম শব্দ:
যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয় 'তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ তৎ (তার) সম (সমান) তার সমান অর্থ্যাৎ, সংস্কৃতের সমান।
তৎসম শব্দের উদাহরণ:
- হস্ত,
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• "দরবেশ" শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- মুসলমান সাধুপুরুষ।
কিছু ফারসি শব্দ:
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- লাল,
- লুঙ্গি,
- সাদা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• "দরবার" শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- রাজসভা; বিচার-সভা।
- ধনীগৃহের বৈঠকখানা।
• কিছু ফারসি শব্দ:
- আসমান,
- কশিদা,
- কয়েদি,
- কাগজ,
- কাজি,
- কারিগর,
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• আরবি ও ফারসি সহযোগে গঠিত মিশ্রশব্দ- জমাদার।
• জমা (আরবি) + দার (ফারসি) = জমাদার।
- ‘জমাদার’ শব্দের অর্থ: পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কর্মচারীবিশেষ; প্রধান যন্ত্রচালক।
---------------------
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।
অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ‘কসাই’ শব্দটি 'আরবি' ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
কিছু আরবি শব্দ:
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- কসরত,
- খারাবি,
- খারাপ,
- খারিজ,
- তুফান,
- তকদির ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ - তালাক।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- আইনসংগত বিবাহ-বিচ্ছেদ।
অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ হলো:
- গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- ‘পেরেশান’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
- পেরেশান' শব্দের অর্থ: উদ্বগ্ন, চিন্তিত।
ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কিছু সংস্কৃত শব্দ:
সূর্য, চন্দ্র, জল, গৃহ, মৃত্তিকা, রাম, রাবণ, পুত্র, পিতা, জননী, দেব, দেবী, দর্শন, বয়ন, গমন, রাত্রি, দিবা, সৌর্য, কৃতিত্ব, আদিত্য, নারায়ণ, বৃক্ষ, পশু, লতা, নর, নারী, বেদ, বেদান্ত, উপনিষদ।
অন্যদিকে,
--------------
• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: পেট, ডাব, টোপর, ঘাঁটি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'ইস্কাপন' শব্দটি - ওলন্দাজ ভাষা হতে এসেছে।
• ওলন্দাজ ভাষার শব্দ:
- হরতন, ইস্কাপন, রুইতন, টেক্কা, তুরুপ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• ফরাসি ভাষার কয়েকটি শব্দ:
- কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, আঁতেল, কার্তুজ ইত্যাদি।
• পর্তুগিজ ভাষার কয়েকটি শব্দ:
- আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।
• হিন্দি ভাষার কয়েকটি শব্দ:
- পানি, ধোঁকা, সমঝোতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
• 'সবুজ' (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- বিশেষ বর্ণ; হরিৎ।
আরোকিছু আরবি শব্দ:
- কয়েদ,
- খারাবি,
- খারাপ,
- তকদির,
- ফসল, ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে।
- তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।
যেমন -
জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ; যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।
অন্যদিকে,
• দেশি শব্দ -ডাব।
• তৎসম শব্দ - পাত্র, সূর্য।
• তদ্ভব শব্দ- ঘোড়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'রোজনামচা’ শব্দটি - 'ফারসি' ভাষা থেকে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
• রোজনামচা (বিশেষ্য) অর্থ- যে বইতে প্রতিদিনের বিবরণ লেখা হয়; দিনলিপি।
• কিছু ফারসি শব্দ:
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- রোজনামচা,
- লাল,
- লুঙ্গি,
- সাদা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• তুর্কি ভাষার শব্দ -
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।
অন্যদিকে,
• 'বাবুয়ানি' হিন্দি ভাষার শব্দ।
• 'কোফতা' ফারসি ভাষার শব্দ।
• 'কুপন' ফরাসি ভাষার শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'রসিদ' ফারসি ভাষার শব্দ।
• ফারসি ভাষার কিছু শব্দ:
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায, রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ, বান্দা, শাদি, আমদানি, সবজি, রসিদ।
অন্যদিকে,
আরবি ভাষার কিছু শব্দ:
এলাকা, এলাহি, কয়েদ, কসাই, কসরত, খারাবি, খারাপ, খারিজ, খালাস, খাসমহল, খাসলত, তুফান, তকদির ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• "পেনশন" শব্দটি "ফরাসি" ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীকে নিয়োগকর্তার প্রদেয় ভাতা, অবসরভাতা।
কিছু ফরাসি শব্দ:
- এস্টেট,
- কার্নিশ,
- কার্টিজ,
- কার্পেট,
- কুপন,
- ডিপো,
- ফসিল,
- লিস্ট,
- রেস্টুরেন্ট,
- রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ‘জলসা’ আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
---------------------------
• আরবি শব্দ:
- অন্দর, আজগুবি, আদাব, আদালত, আমলা, আমানত, আয়েশ, আসামি, ইজারা, ইঞ্জিল, ইমন, ইমারত, ইশারা, ইশতেহার, উকিল, উজির, ওয়ারিশ, কদর, কলপ কলম, খবর, খাজনা, খালাস, গরিব, জলসা, নকল, নকশা, নিকাহ, ফসল, বকেয়া, ময়দান, মশাল, মসলা, মুনাফা, মুলতবি, লোকসান, সবুর, তকলিফ, দখল, তদারক, মুশকিল, কবুল, মুরিদ, নেয়ামত, মোকার, মামলা, তরজমা, আমানত, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।
-------------------------
অন্যদিকে,
• ওলন্দাজ ভাষা থেকে আগত শব্দ-
- ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন হরতন ইত্যাদি।
• হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় বহু শব্দ এসেছে, যেমন -
- 'জঙ্গল', ‘পালকি’,‘চাটনি’, ‘চামচা', 'হাওয়া', 'দোস্ত', 'পাগল,, 'গুমটি', 'খানা', 'ঝাড়ু, ;জুতা’, ‘জুড়ি’, ‘তরাই’, ‘ঢাকনা’, ‘ঝিলমিল’, ‘ঝিল’, ‘ঝুমকা’, ‘চৌপট’, ‘চৌপল’, ‘চৌতাল’, ‘চাঁটি’, ‘কুঁজড়া; ইত্যাদি।
• তুর্কি শব্দ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু তুর্কি শব্দ হলো:
- কফি, উজবুক, লাশ, কাচি, মুসলেকা, কোর্মা, বাবুর্চি, বাবা, বেগম, খোকা, তালাশ, কুলি, তোপ, খাতুন ইত্যাদি।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• "বরগা" শব্দটি "হিন্দি" ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- ঘরের ছাদ বা চালের নিচে স্থাপিত প্রস্থবরাবর কাঠ যা ছাদকে ধরে রাখে,
- আড়কাঠ, কড়িকাঠ।
কিছু হিন্দি শব্দ:
- কাচারি,
- দুলকি,
- দিলরুবা,
- দাবা,
- দাঙ্গা,
- দহলা,
- দশেরা
- রোকড়,
- লড়াকু,
- লেনদেন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুই প্রকার।
যথা- মৌলিক ও সাধিত শব্দ।
উৎসগত দিক থেকে শব্দ ৪ প্রকার।
যথা- তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ।
(অর্ধ-তৎসম শ্রেণিটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে)
অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার।
যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (নতুন সংস্করণ - ২০২১)।
• 'ডেরা' শব্দটি 'হিন্দি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- মোটা কাপড়ের তৈরি আবাস, কানাত, তাঁবু,
- কুটির, আশ্রয়। ৩ আস্তানা; অস্থায়ী আবাস।
আরো কিছু হিন্দি শব্দ:
- কাচারি,
- দাবা,
- দাঙ্গা,
- রোকড়,
- লড়াকু,
- লেনদেন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• স্ফটিক
উৎস: সংস্কৃত।
অর্থ:স্বচ্ছ বর্ণহীন ও কেলাসিত প্রস্তরবিশেষ, crystal quartz |
অন্যদিকে,
• আঁচল:
উৎস: তদ্ভব (সংস্কৃত 'অঞ্চল' থেকে উৎপন্ন)।
অর্থ: শাড়ির প্রান্ত ভাগ, খুঁট, আঁচর।
• উচ্ছন্ন শব্দটি ভুল।
সঠিক শব্দ: উচ্ছিন্ন(তৎসম)।
• কেষ্টো শব্দটি ভুল।
সঠিক শব্দ: কেষ্ট(তদ্ভব)(সংস্কৃত 'কৃষ্ণ' থেকে উৎপন্ন)।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'বেসুর' বাংলা ভাষার শব্দ।
এরূপ বাংলা ভাষার কিছু শব্দ হলো- বেসুরা, বেসামাল, বেহায়াপনা, চাখা, চাখন, চাটু, চাগা, চাঙড়, চাটি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• 'বেহারা' সংস্কৃত শব্দ।
• 'বেনাম' ফারসি শব্দ।
• 'বেতাল' সংস্কৃত শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ময়দা ফারসি শব্দ।
অন্যদিকে,
- কোর্মা তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
- তারিখ ও শরবতি আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'বেগম' তুর্কি ভাষার শব্দ।
- 'বেগম' শব্দের অর্থ: মুসলমান শাসনকর্তার পত্নী।
• তুর্কি ভাষার আরো কিছু শব্দ:
- কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'চৈতন' শব্দটির উৎপত্তি 'সংস্কৃত / তৎসম' 'চৈতন্য' শব্দ থেকে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- মুণ্ডিত মস্তকে রেখে দেওয়া চুলের গোছা, টিকি।
তৎসম শব্দ:
-যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় সরাসরি এসেছে সেগুলোকে 'তৎসম শব্দ' বলে।
- কিছু তৎসম শব্দ:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- হস্ত,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমনঃ কোল, মুণ্ডা প্রভৃতি) ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত রয়েছে।
এসব শব্দকে দেশি শব্দ বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।
যেমনঃ
কুড়ি (বিশ) - কোলভাষা।
পেট (উদর) - তামিল ভাষা।
চুলা (উনুন) - মুণ্ডারী ভাষা।
- এরূপঃ কুলা, গঞ্জ, চোঙগা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, ইত্যাদি।
অপরদিকে,
- কুচ্ছিত শব্দটি অর্ধ-তৎসম শব্দ।
- ডিপো শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে আগত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।