বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

অস্তিবাচক, নেতিবাচক, বিবৃতিমূলক ও অন্যান্য বাক্য

মোট প্রশ্ন৪১এই পাতা৪০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

অস্তিবাচক, নেতিবাচক, বিবৃতিমূলক ও অন্যান্য বাক্য

PrepBank · পাতা / · ৪০ / ৪১

.
কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. আর তো পথ নেই।
  2. দুর্জনকে দূরে রেখো।
  3. এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
  4. মরতে তো একদিন হবেই।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য- দুর্জনকে দূরে রেখো।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

অন্যদিকে, 
• আর তো পথ নেই।
• এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
• মরতে তো একদিন হবেই।

প্রদত্ত বাক্যগুলো নির্দেশাত্মক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"টাকায় কি সব হয়?" - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. টাকায় কি না হয়।
  2. টাকায় সব হয় না। 
  3. টাকায় কখনো সব হয় না।
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নবোধক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- বাক্যের মূল অর্থ ঠিক রেখে প্রশ্নবাচক বাক্যে কি তুলে দিতে হবে। 
- না, নাই, নি, জানি না, বুঝি না ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
- প্রশ্ববোধক যতিচিহ্ন বাদ দিয়ে দাঁড়ি দিতে হবে।

সে অনুসারে,
"টাকায় কি সব হয়?" - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ - টাকায় সব হয় না।

উৎস : বাংলা একাডেমির প্রমিত ব্যাকরণ; ভাষা শিক্ষা- ডহায়াৎ মামুদ। 

.
'ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
  2. সন্দেহদ্যোতক বাক্য
  3. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য
  4. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় ডাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
- বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক।
- হর্ষ : ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো। হুররে, আমরা জিতেছি।
- ঘৃণা শোক : : ছিঃ ছিঃ। অমন কথা মুখে আনলে কী করে? ছিঃ ছিঃ! তোমার এই কাজ। তুমি এত নীচ।
- ক্রোধ: হায় হায়। কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি। আহা। গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে। এত বড় স্পর্ধা। মুখের ওপর কথা বলে। আমি তোমাকে দেখে নেব।
- ভয় : ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
- আবেগ: বাহ। সুন্দর লিখেছ তো। আদর বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'সদা সত্য কথা বলবে।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'সদা সত্য কথা বলবে।'-  এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। 

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। 
যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।

বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
'তিনি কথা বললেন না।'- বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. তিনি কথা বলতে চাইলেন না।
  2. তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না।
  3. তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন।
  4. তিনি চুপ করে থাকলেন।
ব্যাখ্যা
"তিনি কথা বললেন না।"-এর অস্তিবাচক রূপ হবে: ঘ) তিনি চুপ করে থাকলেন।

মূল বাক্য: তিনি কথা বললেন না।
- এটি একটি নেতিবাচক বাক্য, যা কথা বলার অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

অস্তিবাচক রূপে রূপান্তর করতে হলে:
- নেতিবাচক অর্থকে ইতিবাচক আকারে প্রকাশ করতে হয়।
- কিন্তু মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।

অন্য অপশনগুলো:
ক) "তিনি কথা বলতে চাইলেন না":
এখানে "চাইলেন না" নঞর্থক পদ রয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণ অস্তিবাচক হয়নি।

খ) "তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না":
"পারলেন না" নঞর্থক পদটি অপরিবর্তিত আছে।

গ) "তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন":
এটি মূল অর্থ ("কথা না বলা")-কে প্রচেষ্টা-তে পরিবর্তন করে, যা মূল বাক্যের সরল অর্থ নয়।

সিদ্ধান্ত:
ব্যাকরণের সূত্রানুসারে, "তিনি চুপ করে থাকলেন" হলো সঠিক ও অর্থসংগত অস্তিবাচক রূপান্তর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'তুমি আসলে আমি যাব।'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ইচ্ছাসূচক
  2. কার্যকারণবাচক
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. পারস্পরিকবাচক
ব্যাখ্যা
• 'তুমি আসলে আমি যাব।'- এটি কার্যকারণাত্মক বা কার্যকারণবাচক বাক্য।

কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
- এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন -
→ মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না। 
তুমি আসলে আমি যাব

অন্যদিকে,
ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে।
- একে আজ্ঞাসুচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন -
→ সদা সত্য কথা বলবে।
→ কাছে এসো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন বাক্যটির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. আহা, গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে!
  2. বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।
  3. বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!
  4. সে আজ যাবে!
ব্যাখ্যা
• 'বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!' বাক্যটির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।

• স্বরভঙ্গি তথা বাগ্‌ভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। যথা:
১. সাধারণ বিবৃতিতে: সে আজ যাবে।
২. জিজ্ঞাসায়: সে আজ যাবে?
৩. বিস্ময় প্রকাশ: সে আজ যাবে!
৪. ক্রোধ প্রকাশে: আমি তোমাকে দেখে নেব।
৫. আদর বোঝাতে: বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।
৬. আনন্দ প্রকাশে: বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!
৭. দুঃখ প্রকাশে: আহা, গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে!
৮. বিরক্তি প্রকাশে: আঃ, ভালো লাগছে না, এখন এখান থেকে যাও তো।
৯. ভীতি প্রদর্শনে: যাবি কি না বল?
১০. লজ্জা প্রকাশে: ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে পারলে না।
১১. ধিক্কার দিতে: ছিঃ, তোমার এই কাজ।
১২. ঘৃণা প্রকাশে: তুমি এত নীচ!
১৩. অনুরোধ প্রকাশে: কাজটি করে দাও না ভাই।
১৪. প্রার্থনা: ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।

- ছেদ ও বিরতিসূচক চিহ্নগুলো বাগ্‌ভঙ্গির লিখিত আকার প্রকাশে সাহায্য করে।
- দাঁড়ি, কমা, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময়সূচক চিহ্ন বাক্যের ভাব ও অর্থবোধের জন্য উপকারক।
.
'তিনি কথা বললেন না।'- বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন।
  2. তিনি কথা বলতে চাইলেন না।
  3. তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না।
  4. তিনি চুপ করে থাকলেন।
ব্যাখ্যা

মূল বাক্য: তিনি কথা বললেন না।
- এটি একটি নেতিবাচক বাক্য, যা কথা বলার অস্তিত্ব অস্বীকার করে।
অস্তিবাচক রূপে রূপান্তর করতে হলে:
- নেতিবাচক অর্থকে ইতিবাচক আকারে প্রকাশ করতে হয়।
- কিন্তু মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
- "তিনি কথা বললেন না।" - এর অস্তিবাচক রূপ হবে: ঘ) তিনি চুপ করে থাকলেন।

অন্য অপশনগুলো:
ক) "তিনি কথা বলতে চাইলেন না":
এখানে "চাইলেন না" নঞর্থক পদ রয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণ অস্তিবাচক হয়নি।

খ) "তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না":
"পারলেন না" নঞর্থক পদটি অপরিবর্তিত আছে।

গ) "তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন":
এটি মূল অর্থ ("কথা না বলা")-কে প্রচেষ্টা-তে পরিবর্তন করে, যা মূল বাক্যের সরল অর্থ নয়।

সিদ্ধান্ত:
ব্যাকরণের সূত্রানুসারে, "তিনি চুপ করে থাকলেন।" হলো সঠিক ও অর্থসংগত অস্তিবাচক রূপান্তর।


উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

.
‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’- এটা কোন ধরনের বাক্য?
  1. আবেগসূচক বাক্য
  2. প্রার্থনাসূচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
  4. ইচ্ছাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
•  ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’- এটা 'অনুজ্ঞাসূচক বাক্য'। 
-------------- 
 • অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন-
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
---------------
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়:
• আবেগসূচক বাক্য: 
যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয় আবেগসূচক বাক্য। 
যেমন: 
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড। 
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য। 

বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন :
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন :
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

ইচ্ছাসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যথা
- তােমার মঙ্গল হােক।
- পরীক্ষায় সফল হও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১০.
'তারা তোমাদের ভোলেনি।’ - কোন প্রকার বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘তারা তোমাদের ভোলেনি।’ - বিবৃতিবাচক বাক্য

 • বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
→ সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন -
→ আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
তারা তোমাদের ভোলেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
আবেগসূচক বাক্য কোনটি?
  1. সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
  2. শীতে দরিদ্র মানুষের কী কষ্ট!
  3. এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
  4. যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।
ব্যাখ্যা
• বিস্ময়বোধক বাক্য- শীতে দরিদ্র মানুষের কী কষ্ট!

---------------
• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
• বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক!
• হর্ষ: ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো!
• ঘৃণা: ছিঃ ছিঃ! অমন কথা মুখে আনলে কী করে? 
• শোক: হায় হায়! কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি।
• ক্রোধ: এত বড় স্পর্ধা! মুখের ওপর কথা বলে।
• ভয়: ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
• আবেগ: বাহ! সুন্দর লিখেছ তো। 

অন্যদিকে, 
নির্দেশাত্মক বাক্য:
• সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
• এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
• যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
নিচের কোনটি অস্তিবাচক বাক্য?
  1. এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
  2. এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই। 
  3. কিন্তু বরফ গলিল না।
  4. তোমার এরূপ ব্যবহার উচিত হয়নি।
ব্যাখ্যা

• অস্তিবাচক বাক্য/ হ্যাঁ বাচক বাক্য:
যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
অন্যভাবে, যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।

যেমন:
- তুমি কালকে আসবে।
- এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
- আপনি আমায় অবিশ্বাস করেছেন।

অন্যদিকে,
• নেতিবাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন:
- এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
- কিন্তু বরফ গলিল না।
- তোমার এরূপ ব্যবহার উচিত হয়নি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
  2. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  3. আমাকে একটি কলম দাও।
  4. সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।

যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক ।

উল্লেখ্য,
বিবৃতিমূলক বাক্য - আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। তারা তোমাদের ভোলেনি।
প্রশ্নবোধক বাক্য - তোমার নাম কী? সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
আবেগসূচক বাক্য - কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৪.
'বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ -
  1. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয় না।
  2. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয়।
  3. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না।
  4. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন না হয়ে পারে না।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'
- বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'
- বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
"আমাকে একটি কলম দাও।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. আবেগবাচক বাক্য 
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য 
  3. অক্রিয় বাক্য 
  4. যৌগিক বাক্য 
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: 
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন,
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৬.
'তাঁর মঙ্গল হোক।’- কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. বিস্ময়সূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'তাঁর মঙ্গল হোক।’ - অনুজ্ঞাবাচক বাক্য।

• বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
- সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৭.
নিচের কোনটি বিস্ময়সূচক বাক্য?
  1. সে ঢাকা যাবে না।
  2. তোমার মঙ্গল হোক।
  3. তুমি কি লােকটিকে চিন? 
  4. কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
ব্যাখ্যা
কী সাংঘাতিক ব্যাপার!- বিস্ময়সূচক বাক্য।
------------------------ 
• বিবৃতিমূলক বাক্য: 

এ বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা বর্ণনা নির্দেশ করা হয়। এই ধরনের বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অস্তিবাচক বাক্য ও নেতিবাচক বাক্য।

বিবৃতিমূলক বাক্যের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে-
- সে ঢাকা যাবে না।
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে। 

• যে বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্খা করা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয় তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে।
যেমন- তোমার মঙ্গল হোক।

• যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবােধক বাক্য।
যেমন:
- তোমার আজ কি পরীক্ষা?
- তুমি কি লােকটিকে চিন? 

• যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তাজ্জব ব্যাপার!
- কী সাংঘাতিক ব্যাপার!

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য? 
  1. মহারাজের জয় হোক। 
  2. আমি যদি জন্ম নিতাম কালিদাসের কালে। 
  3. চলো, নাটক দেখে আসি।
  4. আমার বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। 
ব্যাখ্যা

 • অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। 
- একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।

যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

অন্যদিকে,
- আমার বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। ও আমি যদি জন্ম নিতাম কালিদাসের কালে। - ইচ্ছাসূচক বাক্য।
- আমার বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। - নির্দেশাত্মক বাক্য। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা। 

১৯.
"বাড়িটা তারা দখল করেছে" বাক্যটি নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. বাড়িটা তারা দখল করছে না।
  2. বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।
  3. বাড়িটা তারা ছাড়েনি।
  4. বাড়িটা তারা দখল না করেছে।
ব্যাখ্যা
"বাড়িটা তারা দখল করেছে" বাক্যটি নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর -  সঠিক উত্তর: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

• সরল বাক্য:

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

• অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে “মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না” বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে।

অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:
১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মত বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক: হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক: হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক: এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক: এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

অস্তিবাচক: বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না' - বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে? 
  1. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন না 
  2. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন
  3. তিনি জেগে রইলেন কথা না শুনে
  4. তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না” — এটি একটি নেতিবাচক (Negative) বাক্য।
এর অস্তিবাচক (Affirmative) রূপ করতে হলে “না” বাদ দিয়ে অর্থ বজায় রেখে ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করতে হয়।

এখানে,
“ঘুমাতে পারলেন না” = “জেগে রইলেন” (অর্থ একই থাকে)।

অতএব, অস্তিবাচক রূপ হবে — 
“তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।”

অন্যদিকে,
অন্যান্য অপশনগুলোতে নেতিবাচক 'না' শব্দটি রয়েছে; যা নেতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১.
"কী সাংঘাতিক লোক!" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. প্রার্থনাসূচক
  2. কার্যকারণাত্মক
  3. বিস্ময়সূচক
  4. অনুজ্ঞাসূচক
ব্যাখ্যা
• বিস্ময়/আবেগসূচক বাক্য: 
যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বুঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন,
- 'হে সিন্ধু! বন্ধু মোর- মজিনু তব রূপে।
- কী সাংঘাতিক লোক!
- বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
২২.
'মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।' কোন ধরনের বাক্য? 
  1. ইচ্ছাসূচক
  2. কার্যকারণাত্মক
  3. নির্দেশাত্মক  
  4. সন্দেহাত্মক 
ব্যাখ্যা

• 'মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।'- এটি কার্যকারণাত্মক বাক্য।

• কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
- এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন -
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।
- তুমি আসলে আমি যাব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা। 

২৩.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য?
  1. তুমি কী পড়ছো?
  2. সে ফুটবল খেলছে।
  3. আমাকে একটু জল দাও।
  4. আকাশ মেঘলা।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• আমাকে একটু জল দাও।
• বিপদে ধৈর্য ধর।

অন্যদিকে,
• তুমি কী পড়ছো?; সে ফুটবল খেলছে; আকাশ মেঘলা। -  বিবৃতিবাচক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২৪.
'কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. কার্যকারণাত্মক বাক্য
  2. সন্দেহদ্যোতক বাক্য
  3. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
  4. অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন:
- কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না (শর্ত)।
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না। (নিয়ম)।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫.
অনুজ্ঞাবাচক বাক্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !
  2. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  3. আমাকে একটি কলম দাও।
  4. সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে,
• বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
- যেমন: আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
- যেমন: তোমার নাম কী? সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
- যেমন: দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৬.
'এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলে।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ -
  1. এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলে না।
  2. এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলে পারে না।
  3. এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলার উপায় থাকে না।
  4. এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলতে হয়।
ব্যাখ্যা
• 'এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলে।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ - এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলে পারে না

• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'
- এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলে

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'
- এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলে পারে না

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭.
'সদা সত্য কথা বলবে।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিমূলক
  2. প্রশ্নবোধক
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. প্রার্থনাসূচক
ব্যাখ্যা
• 'সদা সত্য কথা বলবে।'-  এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। 

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। 
যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।

অন্যদিকে, 
বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৮.
নির্দেশাত্মক বাক্যের অপর নাম কী?
  1. কার্যকারণাত্মক বাক্য
  2. অনুজ্ঞা বাক্য
  3. প্রার্থনাসূচক বাক্য
  4. বর্ণনাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য:
- যে বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয় তাকে বর্ণনাত্মক বাক্য বলে।
- একে নির্দেশমূলক, নির্দেশসূচক, নির্দেশাত্মক, বিবৃতিমূলক বাক্যও বলা হয়।
- যেমন:
- সূর্য পূর্বদিকে ওঠে।
- সে রোজ এখানে আসে।
- সে এখন আর আবৃত্তি করে না। 
- নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক-এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়;
- সে দুটি হলো -অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য।
- কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯.
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে কী বলে?
  1. প্রশ্নবাচক বাক্য
  2. বিবৃতিবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বাক্য প্রকরণ:
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• বিপদে ধৈর্য ধর।

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০.
"কোথাও শান্তি ছিল না" বাক্যটি অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর -
  1. কোথাও শান্তি ছিল।
  2. সর্বত্র শান্তি ছিল।
  3. সর্বত্র অশান্তি ছিলো।
  4. কোথাও অশান্তি ছিল না।
ব্যাখ্যা
• নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২ 
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্র: ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১.
"ছিঃ তোমার এই কাজ!"- এই বাক্যে কোন ধরনের বাগ্‌ভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে?
  1. লজ্জা
  2. ধিক্কার
  3. ঘৃণা
  4. দুঃখ
ব্যাখ্যা
• "ছিঃ তোমার এই কাজ!"- এই বাক্যে - 'ধিক্কার' অনুভূতি পেয়েছে। 

• আদেশ বাচক বাক্য (Imperative sentence): 
এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
যথা : শিক্ষক মহােদয় শ্রেণিকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে। চুপটি করে বস। উঠে দাঁড়াও। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।
- স্বরভঙ্গি তথা বাগৃভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়।
যথা :
১. সাধারণ বিবৃতিতে: সে আজ যাবে।
২. জিজ্ঞাসায়: সে আজ যাবে?
৩. বিস্ময় প্রকাশে: সে আজ যাবে!
৪. ক্রোধ প্রকাশে: আমি তােমাকে দেখে নেব।
৫. আদর বােঝাতে: বড় শুকিয়ে গেছিস রে।
৬. আনন্দ প্রকাশে: বেশ বেশ, খুব ভালাে হয়েছে।
৭. দুঃখ প্রকাশে: আহা, গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে!
৮. বিরক্তি প্রকাশে: আঃ, ভালাে লাগছে না, এখন এখান থেকে যাও তাে।
৯. ভীতি প্রদর্শনে: যাবি কি না বল?
১০. লজ্জা প্রকাশে: ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে পারলে না।
১১. ধিক্কার দিতে: ছিঃ, তােমার এই কাজ।
১২. ঘৃণা প্রকাশে: তুমি এত নীচ।
১৩. অনুরােধ প্রকাশে: কাজটি করে দাও না ভাই।
১৪. প্রার্থনা: ঈশ্বর তােমার মঙ্গল করুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২.
'সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।' - বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যায় না।
  2. সূর্য কখনো পশ্চিম দিকে অস্ত যায় না।
  3. সূর্য কেবল পশ্চিম দিকে অস্ত যায় না।
  4. সূর্য পশ্চিম ছাড়া অন্যদিকে অস্ত যায় না।
ব্যাখ্যা
'সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।' - বাক্যটির নেতিবাচক রূপ-  'সূর্য পশ্চিম ছাড়া অন্যদিকে অস্ত যায় না।'

• অস্তিবাচক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর: 


• সূত্র: অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-'হ্যাঁ' সূচক বাক্যকে 'না' করতে হলে মূল অর্থ পরিবর্তন না করে বাকা পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
- অস্তিবাচক : 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।'
- নেতিবাচক : 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার যোগ্য নহে।'

• সূত্র: নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়াকে) নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করা হয়।
যেমন:
- অস্তিবাচক: মন নিচুতে নামতে অনিচ্ছুক।
- নেতিবাচক: মন নিচুতে নামতে চায় না।

• সূত্র: প্রয়োজন মতো বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক প্রয়োগ করতে হয়।
যেমন:
- অস্তিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের কি? 
- নেতিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের আপত্তি থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: না'-বাচক ক্রিয়া ও 'না'-বাচক শব্দ মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।
- অস্তিবাচক: ভায়ের উচিত কাজ হয়েছে।
- নেতিবাচক ভায়ের অনুচিত কাজ হয়নি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩.
বিবৃতিমূলক বাক্য কোনটি?
  1. বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।
  2. আমাকে একটি কলম দাও।
  3. আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
  4.  তার মঙ্গল হোক।
ব্যাখ্যা

• বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।

যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য। 
যেমন: 
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড। 
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৪.
আবেগসূচক বাক্য কোনটি?
  1. সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
  2. কী সাংঘাতিক লোক!
  3. এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
  4. যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।
ব্যাখ্যা

• আবেগসূচক বাক্য: কী সাংঘাতিক লোক!

• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
• বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক!
• হর্ষ: ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো!
• ঘৃণা: ছিঃ ছিঃ! অমন কথা মুখে আনলে কী করে? 
• শোক: হায় হায়! কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি।
• ক্রোধ: এত বড় স্পর্ধা! মুখের ওপর কথা বলে।
• ভয়: ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
• আবেগ: বাহ! সুন্দর লিখেছ তো। 

অন্যদিকে, 
নির্দেশাত্মক বাক্য:
• সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
• এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
• যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৫.
'তার মঙ্গল হোক'- কিসের উদাহরণ?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

- 'তার মঙ্গল হোক'- এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্যের উদাহরণ।

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে,
বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন -
- আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তােমাদের ভােলেনি।

প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৩৬.
"মহারাজের জয় হোক।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিমূলক
  2. অনুজ্ঞাসূচক
  3. প্রার্থনাসূচক
  4. আবেগবাচক 
ব্যাখ্যা

•"মহারাজের জয় হোক।"- এটি প্রার্থনাসূচক বাক্য। 

ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৩৭.
নেতিবাচক: “শহিদের মৃত্যু নেই” বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. শহিদদের মৃত্যু নেই।
  2. শহিদেরা অমর।
  3. শহিদেরা বেঁচে আছে।
  4. শহিদের কি মৃত্যু হয়?
ব্যাখ্যা
• নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২ 
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্র: ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮.
”তাঁর মঙ্গল হোক।” কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ বা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে যে বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- আমাকে একটি কলম দাও। (আদেশ/অনুরোধ)।
- তাঁর মঙ্গল হোক। (প্রার্থনা)।

• বাক্যের অন্য প্রকারগুলো হলো:

• বিবৃতিবাচক বাক্য :
যেসব বাক্যে কোনো তথ্য বা ঘটনা সাধারণভাবে বলা হয়, সেগুলো বিবৃতিবাচক বাক্য।
এগুলো দুই রকমের হতে পারে:

• ইতিবাচক: যেমন —
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
নেতিবাচক: যেমন —
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা যখন কারও কাছ থেকে কোনো তথ্য জানতে চায়, তখন প্রশ্নবাচক বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনো আবেগ (আনন্দ, বিস্ময়, দুঃখ, ভয় ইত্যাদি) প্রকাশ করতে যে বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৩৯.
কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. আর তো পথ নেই।
  2. দুর্জনকে দূরে রেখো।
  3. এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
  4. মরতে তো একদিন হবেই।
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য- দুর্জনকে দূরে রেখো।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

অন্যদিকে, 
• আর তো পথ নেই।
• এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
• মরতে তো একদিন হবেই।

প্রদত্ত বাক্যগুলো নির্দেশাত্মক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪০.
'দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।’- কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. বিস্ময়সূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।’- অনুজ্ঞাবাচক বাক্য

বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
- সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।