বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা / ১৪ · ২০১৩০০ / ১,৩১৩

২০১.
কোন বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম আছে?
  1. অন্য কেউ এই কাজ করতে পারবে না।
  2. যারা সৎ তারা সমাজে সম্মানিত।
  3. এরা খুব ভালো ছাত্র। 
  4. তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো।
সঠিক উত্তর:
যারা সৎ তারা সমাজে সম্মানিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা সৎ তারা সমাজে সম্মানিত।
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

• "যারা সৎ তারা সমাজে সম্মানিত।" - বাক্যটিতে 'যারা-তারা' সাপেক্ষ সর্বনাম।

অন্যদিকে,
- 'অন্য কেউ এই কাজ করতে পারবে না।' - অন্যবাচক সর্বনাম।
- 'এরা খুব ভালো ছাত্র।' - সামীপ্যবাচক সর্বনাম।
- 'তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো।' - পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২০২.
বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলা হয়?
  1. ক) বিশেষ্য ও অনুসর্গ
  2. খ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ ও সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২০৩.
'লাল ফিতা দিয়ে বাঁধা কয়েনগুলি সৌভাগ্য বহন করে।' - বাক্যটিতে 'লাল' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের বাক্যটিতে 'লাল' শব্দটি বর্ণবাচক বিশেষণ।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন- নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২০৪.
নিচের কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. কোথাও
  2. যেমন-তেমন
  3. স্বয়ং
  4. নিজেরা নিজেরা
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
ব্যাখ্যা
• সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্য অপশনে,
• আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
• অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কোথাও।
• পারস্পরিক সর্বনাম - নিজেরা নিজেরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২০৫.
নিচের কোনটি অকর্মক ক্রিয়া?
  1. আকাশে চাঁদ দেখি না।
  2. আমি রাতে ভাত খাব না।
  3. সে বই পড়ছে।
  4. ছেলেটা কানে শোনে না।
সঠিক উত্তর:
ছেলেটা কানে শোনে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটা কানে শোনে না।
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
 
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে। 
 
অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
 
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
 
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৬.
অলংকার আবেগ আছে কোন বাক্যে?
  1. উহ্! কী বিপদে পড়া গেল।
  2. দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
  3. আহা! বেচারার এত কষ্ট!
  4. হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।
সঠিক উত্তর:
দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
ব্যাখ্যা

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- দুর! একথা কি বলতে আছে?
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

• তেমনই ভাবে, দুর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে? অলংকার আবেগের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- উহ্! কী বিপদে পড়া গেল।- আতঙ্ক আবেগের উদাহরণ।
- আহা! বেচারার এত কষ্ট!- করুণা আবেগের উদাহরণ।
- হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।- বাক্যটি সম্বোধন আবেগের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২০৭.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. কয়জন
  2. করণীয় 
  3. লাজ
  4. অবজ্ঞেয়
সঠিক উত্তর:
লাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাজ
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• বিশেষ্য পদ - লাজ।

শব্দের অর্থ:
- লজ্জা সরম।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - কয়জন, করণীয়, অবজ্ঞেয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২০৮.
'শয়ন' কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) সাধারণ বিশেষ্য
  3. গ) নামবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) ভাববাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাববাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

• যে বিশেষ্য পদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন: গমন, শয়ন, ভোজন, দর্শন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৯.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. উদ্ধত
  2. গাম্ভীর্য
  3. অজ্ঞাত
  4. পার্থিব
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্য
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - গাম্ভীর্য
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- গম্ভীর ভাব, চপলতার অভাব; অবিকারত্ব, গুরুত্ব; প্রগাঢ়তা, মহিমা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - উদ্ধত, অজ্ঞাত এবং পার্থিব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২১০.
'ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল' - এখানে 'যেন' কী?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
ব্যাখ্যা

- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
- যে, যদি, যেন হলো অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়।
যেমনঃ
- ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল।
- এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হও।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২১১.
'পঠন' কােন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২১২.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) তরল
  2. খ) সরল
  3. গ) ধীরতা
  4. ঘ) মধুর
সঠিক উত্তর:
গ) ধীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধীরতা
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য দ্বারা গুণের নাম বুঝায় তাকে বিশেষণজাত বা গুণবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন : তরলতা, ধীরতা, মধুরতা, দ্রুততা, চালাকি, নষ্টামি, পটুত্ব ইত্যাদি।
পক্ষান্তরে,
তরল, সরল, মধুর হলো বিশেষণ। 

উৎস : বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক ব্যাকরণ।
২১৩.
'পরে একবার এসো'- এখানে 'পরে' কোন ধরনের বিশেষণের উদাহরণ?
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ:
যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেষ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে ।
যেমন:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো। 
-----------------------
বিশেষণীয় বিশেষণ :  
যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা-
ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ : সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ : রকেট অতি দ্রুত চলে।

অব্যয়ের বিশেষণ:
যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে ।
যথা-
ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে ।
যেমন-
দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ -২০১৯)।
২১৪.
'গিজগিজ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গিজগিজ' - অব্যয় পদ।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১৫.
‘টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।’- বাক্যে ‘টিপ টিপ’ কোন ধরনের পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ: 
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৬.
'এখানেই তর্কের শেষ।' বাক্যে 'শেষ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'এখানেই তর্কের শেষ।' বাক্যে 'শেষ' বিশেষ্য পদ ।
- সমাপ্তি, অবসান, সীমা, প্রান্ত(পথের শেষ) ইত্যাদি বুঝাতে শেষ বিশেষ্য হিসেবে বসে।

অন্যদিকে
- সমাপ্ত, বিনষ্ট, বিধ্বস্ত, অবশিষ্ট, অন্তিম বুঝাতে বাক্যে 'শেষ' বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২১৭.
'হিমালয়' - কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।

যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা।
স্থাননাম: বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২১৮.
"সুন্দরবন খুলনা বিভাগে অবস্থিত।" - বাক্যে 'সুন্দরবন' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. সমষ্টিবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. গুণবাচক
  4. সংজ্ঞাবাচক
সঠিক উত্তর:
সংজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- সুন্দরবন, নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো গুণ, অবস্থা ও ভাবের নাম বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: সুখ, দুঃখ, দয়া, বীরত্ব ইত্যাদি।

জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
২১৯.
আমি হিমালয় দেখি নি। এই বাক্যে হিমালয় কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) সংজ্ঞাবাচক
  2. খ) বস্তুবাচক
  3. গ) শ্রেনিবাচক
  4. ঘ) দ্রব্যবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) সংজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
“সুন্দরবন খুলনা জেলায় অবস্থিত। আমি হিমালয় দেখি নি। গরু গৃহপালিত পশু।” এই বাক্যগুলোতে ‘খুলনা, হিমালয়, গরু’ এগুলো নামবাচক বিশেষ্য। হিমালয়, আরব সাগর, মেঘনা এসব ভৌগোলিক সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২২০.
নিচের কোনটি অব্যয়জাত শব্দ দ্বারা গঠিত বিশেষণ?
  1. হঠাৎ বড়লোক
  2. নৈতিক বল
  3. স্বীয় সম্পত্তি
  4. কাঁদকাঁদ চেহারা
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ বড়লোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ বড়লোক
ব্যাখ্যা
বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত: হারানো সম্পত্তি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত: উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক
গ. সর্বনাম জাত: স্বীয় সম্পত্তি, কবেকার কথা।
ঘ. সমাসসিদ্ধ: জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক: কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত: কনকনে শীত, ধিকিধিকি আগুন।
ছ. কৃদন্ত: কৃতী সন্তান, হৃত সম্পত্তি।
জ. তদ্ধিতজাত: নৈতিক বল, মেঠো পথ।
ঝ. উপসর্গযুক্ত: নিখঁত কাজ, নির্জলা মিথ্যে।
ঞ. বিদেশি: নাস্তানাবুদ অবস্থা, দরপত্তনি তালুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২২১.
'বই' কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বস্তু-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।

ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২২২.
কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. কেউ
  2. যে-সে
  3. কোথাও
  4. স্বয়ং
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যে-সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে-সে
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২২৩.
'তারুণ্য' কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. জাতিবাচক বিশেষ্য
  4. ভাববাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। 
তদ্রূপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৪.
‘জন্য’ শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থ্যাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন- এবং, জন্য, আর, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৫.
"সে নিজে অঙ্কটা করছে।" বাক্যে 'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:

- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
- শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

• নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

২২৬.
'রাকিবকে  দিয়ে এ কাজ হবে না।' - এ বাক্যে 'দিয়ে' ধরনের অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ অব্যয় : 
​- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
​- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

​অন্যদিকে,
সমুচ্চয়ী অব্যয়: 

​যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

​অনন্বয়ী অব্যয়: 
​যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন-
ক. উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
খ. স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে : হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
গ. সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।

​উৎস: 

অনুকার অব্যয়: 
​যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা
ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যথা-
- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়। 
- মেঘের গর্জন – গুড় গুড়। 
- বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম। 
- সিংহের গর্জন – গর গর। 

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

২২৭.
'মাটি, চাল, চিনি' কোন ধরনের বিশেষ্যবাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. সমষ্টিবাচক
  2. বস্তুবাচক
  3. ভাববাচক
  4. গুণবাচক
সঠিক উত্তর:
বস্তুবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুবাচক
ব্যাখ্যা

• যে পদে কোন উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
• এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যেমনঃ
- বই,
- খাতা,
- কলম,
- থালা,
- বাটি,
- মাটি,
- চাল,
- চিনি,
- লবণ,
- পানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৮.
'স্বাস্থ্য' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. গুণবাচক বিশেষ্য
  2. ভাববাচক বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২২৯.
আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়। - বাক্যে কোন ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাম ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৩০.
কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. আনন্দ
  2. সরলতা
  3. দীনতা
  4. ভোজন
সঠিক উত্তর:
ভোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোজন
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি । 

অন্যদিকে,
গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৩১.
কোনটি সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ?
  1. নিজেরা নিজেরা 
  2. পরস্পর
  3. যেমন-তেমন
  4. কেউ-কোথাও
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
সর্বনামকে ৯টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যাক্তির নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন: আমি, তুমি, সে ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৩. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।

৪. নির্দেশবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব প্রকাশ করে তাকে নির্দেশবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন: এ, এই, এরা, ইনি ইত্যাদি।

৫. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এই সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগীতা বা নির্ভরশীলতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: সবাই, সকলে, সকলকে ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৩২.
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে কোন ধরনের সর্বনাম ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আত্মবাচক সর্বনাম
  2. খ) পারস্পরিক সর্বনাম
  3. গ) প্রশ্নবাচক সর্বনাম
  4. ঘ) সাপেক্ষ সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
খ) পারস্পরিক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পারস্পরিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।

• পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৩৩.
‘জনতা’ কোন পদ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘জনতা’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

---------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৪.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. শোনা
  2. বহর
  3. দর্শন
  4. উৎকর্ষ
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun):
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা। তদ্রুপ সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun):
যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা- সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

• ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun):
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন।
তদ্রুপ- ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর 'আই' প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৫.
ভাববাচক বিশেষ্য নয় কোনটি? 
  1. ভোজন
  2. দর্শন
  3. শোনা
  4. তারল্য
সঠিক উত্তর:
তারল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারল্য
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন।
তদ্রুপ:
ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• গুণবচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা।
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৬.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কখনো বা দেখা হবে।
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
- নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ - কখনো বা দেখা হবে। 
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৭.
কোন বাক্যে নামপুরুষের ব্যবহার রয়েছে?
  1. আমরা যাচ্ছি।
  2. ওরা কী করে?
  3. তোরা যাসনে।
  4. আপনি আসবেন
সঠিক উত্তর:
ওরা কী করে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কী করে?
ব্যাখ্যা
• ওরা কী করে? - বাক্যে 'ওরা' নামপুরুষ। 
--------------------
উত্তম পুরুষ:
- স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ।
- আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।

মধ্যম পুরুষ:
- প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ।
- তুমি, তোমরা, তোরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি, ওরা, ওদের, ইহারা ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।।
২৩৮.
’মহারাজের ভোজন-পর্ব শেষ হয়েছে।’ এ বাক্যে ’ভোজন’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. অব্যয়
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ভাববাচক বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদ এক নয়।
যেমন:

• ভাববাচক বিশেষ্য   
  =     ক্রিয়াপদ
- কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম।   =  আমি কোটবাড়ি দেখেছি।
- মহারাজের ভোজন-পর্ব শেষ হয়েছে।    =    আমরা খেয়েছি।
- বাবার শয়ন এখনো সম্পন্ন হয় নি। =    বাবা শুয়েছেন।
- খুকুর নাচন দেখে যা। =   খুকু নাচছে।
-  তার বোধহয় ফেরা হবে না। =  সে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২৩৯.
'এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।' - এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. সংকোচক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. সংযোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৪০.
মূর্ত বিশেষ্য কোনটি?
  1. সাহস
  2. সৌন্দর্য
  3. আনন্দ
  4. গোলাপ
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ ইত্যাদি।

২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪১.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরা’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরা’ ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদের দৃষ্টান্ত।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৪২.
“মধুর মিষ্টত্বের গুণ“- বাক্যে মধু কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা। (এখানে মধু গুণবাচক বিশেষ্য)
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য।
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা।
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৩.
‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. বিশেষণ
  2. আবেগ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ পদের দৃষ্টান্ত

⇒ ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৪৪.
আমার যাওয়া হবে না –বাক্যে 'যাওয়া' কী ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) ভাববাচক
  2. খ) জাতিবাচক
  3. গ) সংজ্ঞাবাচক
  4. ঘ) গুণবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাববাচক
ব্যাখ্যা

- আমার যাওয়া হবে না –বাক্যে 'যাওয়া' একটি ভাববাচক/ ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য৷
- যে বিশেষ্য পদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- দর্শন (দেখার কাজ)
- ভোজন (খাওয়ার কাজ)
- শয়ন (শোওয়ার কাজ)
- পঠন (পড়ার কাজ)
- এরূপঃ বসা, চলা, লেখা ইত্যাদি৷

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী ; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৪৫.
বহর, ঝাঁক, জনতা ইত্যাদি কী ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. ব্যক্তিবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. ভাববাচক
  4. সমষ্টিবাচক
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা

• যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য পদ বলে। যেমনঃ
- সভা,
- সমাবেশ,
- জনতা,
- সমিতি,
- সমাজ,
- পঞ্চায়েত,
- ঝাঁক,
- মিছিল,
- বহর,
- দল,
- বাহিনী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৬.
'উদ্ধত' শব্দের বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) উদ্ধত
  2. খ) উদ্ধৃত
  3. গ) ঔদ্ধত্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ঔদ্ধত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঔদ্ধত্য
ব্যাখ্যা

উদ্ধত [উদ্‌ধতো] (বিশেষণ){(তৎসম বা সংস্কৃত ) উৎ+ √হন্+ত(ক্ত)}

১ দুর্বিনীত; ধৃষ্ট; স্পর্ধিত।
২ দুরন্ত; দুর্দান্ত; উগ্র।
৩ গর্বিত; গোঁয়ার।

ঔদ্ধত্য ( বিশেষ্য)
উদ্ধতি (বিশেষ্য)
১ ঔদ্ধত্য; উচ্ছৃঙ্খলতা; ধৃষ্টতা।
২ গর্ব; অহঙ্কার (কতকগুলি নতুন উদ্ধতি, নতুন উত্তেজনা-অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত)।
৩ উন্নতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

২৪৭.
'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!' -বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

♦ অনন্বয়ী অব্যয়:
- অনন্বয়ী অব্যয় হলো এমন একটি অব্যয়, যা বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে ব্যাকরণগতভাবে যুক্ত নয়। এই ধরনের অব্যয় মূলত মনের আবেগ, সম্বোধন বা বিস্ময় প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাক্যের অন্যান্য পদের সঙ্গে এরা কোনো সংযোগ স্থাপন করে না।

- 'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!'- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।

উদাহরণ:
• আবেগ বা বিস্ময় প্রকাশ:
- "বাঃ!" কী সুন্দর দৃশ্য!
- "আহা!" বেচারি খুব কষ্ট পেয়েছে।

• আফসোস প্রকাশ:
- "হায়," আমার কপালে কি এই ছিল?

• সম্বোধন প্রকাশ:
- "ওহে," এদিকে এসো।
- "মা," আমাকে আশীর্বাদ করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৮.
'সৌরভ' কী ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) দ্রব্যবাচক বিশেষ্য
  3. গ) ভাববাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ক) গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনাে একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনাে উপাদানবাচক পদার্থের নাম বােঝায়, তাকে বহ্বাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্ত্র সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা— সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝক, বহর, দল।

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনাে বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বােঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা—মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ–তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ— তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ]
২৪৯.
নিচের কোন শব্দটি বিশেষণ পদ?
  1. নিপুণ
  2. নৈপুণ্য
  3. নিপুণতা
  4. দাক্ষিণ্য
সঠিক উত্তর:
নিপুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপুণ
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - নিপুণ
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- "নিপুণ" শব্দের বিশেষ্য পদ - নিপুণতা। 

শব্দের অর্থ:
- দক্ষ, পটু, বিচক্ষণ।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - নৈপুণ্য, দাক্ষিণ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫০.
কোনটি গুণবাচক বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) তরল পদার্থ
  2. খ) ঠান্ডা পানি
  3. গ) চলন্ত ট্রেন
  4. ঘ) এক টাকা
সঠিক উত্তর:
খ) ঠান্ডা পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঠান্ডা পানি
ব্যাখ্যা
- গুণবাচক বিশেষণ হচ্ছে ঠান্ডা পানি

• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন-
- চালাক ছেলে,
- ঠান্ডা পানি
উপরের উদাহরণগুলোতে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যান্য অপশন:
• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যেমন- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ। এখানে- ‘চলন্ত’ ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক বিশেষণ:
যেমন- এক টাকা, আট দিন। এখানে- ‘এক' ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৫১.
‘দশম শ্রেণি’ - এখানে 'দশম' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. ক্রমবাচক
  4. পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান 'প্রথম', প্রথমা, পহেলা ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

• প্রকারভেদ:
• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), 
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পুরণবাচক শব্দ:
- কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকিটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫২.
‘সোনালি ফসল’ - এখানে ‘সোনালি’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. বিশেষ্যজাত
  3. ক্রিয়াদ্বিত্বজাত
  4. উপাদানবাচক
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যজাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যজাত
ব্যাখ্যা
‘সোনালি ফসল’ - এখানে ‘সোনালি’ বিশেষ্যজাত বিশেষণ।
বিশেষ্যের সঙ্গে প্রত্যয় (তদ্ধিত প্রত্যয়) যোগে এ ধরনের বিশেষণ গঠিত হয়।এদেরকে বিশেষ্যজাত বিশেষণ।
- দেশীয় (দেশ+ঈয়) সম্পদ,
- সোনালি (সোনা+আলি। ফসল,
- মেঘলা (মেঘ+লা) আকাশ।

• অন্যান্য অপশন:
- গুণবাচক: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন-চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
- ক্রিয়াদ্বিত্বজাত বিশেষণ: ক্রিয়াপদের দ্বিত্ব ঘটিয়ে গঠিত হয়। যেমন। যায় যায় অবস্থা, খাই খাই মলন, কাঁদো কাঁদো চেহারা।
- উপাদানবাচক বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পামুদ্রে মূর্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৩.
অপরিবর্তনীয় পদ কোনটি?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয় শব্দ,
- তৎসম অব্যয় শব্দ এবং
- বিদেশি অব্যয় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৪.
"প্রাচুর্য" শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- "প্রাচুর্য" শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।

• 'প্রাচুর্য' (বিশেষ্য)- 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রচুর+য।
অর্থ:
- আধিক্য, বাহুল্য।

উল্লেখ্য,
'প্রচুর' শব্দটি বিশেষণ যার অর্থ - প্রয়োজনানুরূপ; যথেষ্ট; পর্যাপ্ত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৫৫.
তুচ্ছার্থে কোন সর্বনামের পুরুষটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সে
  2. খ) ইনি
  3. গ) মোরা
  4. ঘ) ওদের
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওদের
ব্যাখ্যা
 
ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম পদের ক্ষেত্রে তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা জ্ঞাপক রূপে উত্তম ও মধ্যম পুরুষে ব্যবহার নেই ।
কেবল নাম পুরুষের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার - ইহা, ইহারা, এই, এ, এরা, উহা, উহারা্‌, ও, ওরা, ওদের।

উৎস:  মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৬.
'বৈশাখ' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) স্থাননাম
  2. খ) কালনাম
  3. গ) সৃষ্টিনাম
  4. ঘ) ব্যক্তিনাম
সঠিক উত্তর:
খ) কালনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালনাম
ব্যাখ্যা
- 'বৈশাখ' হচ্ছে কালনাম জাতীয় নাম-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান ৷
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
২৫৭.
নিচের কোনটি নির্দেশক সর্বনাম?
  1. ইনি
  2. কী
  3. কেউ
  4. সবার
সঠিক উত্তর:
ইনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনি
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন-
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি;
- দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
- 'কী'  প্রশ্নবাচক সর্বনাম।
- 'কেউ' অনির্দিষ্ট সর্বনাম।
- 'সবার' সকলবাচক সর্বনাম।

উল্লেখ্য,
সর্বনাম ৯ প্রকার।
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম, 
- আত্মবাচক সর্বনাম, 
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম, 
- নির্দেশক সর্বনাম, 
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম, 
- সকলবাচক সর্বনাম, 
- সাপেক্ষ সর্বনাম, 
- পারস্পরিক সর্বনাম, 
- অন্যবাচক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২৫৮.
'লাজ' শব্দের বিশেষণরূপ কোনটি?
  1. ক) লাজুক
  2. খ) লাজ
  3. গ) লজ্জাবতী
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) লাজুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাজুক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য- লাজ,
বিশেষণ- লাজুক,
বিশেষ্যের বিশেষণ- লজ্জাবতী

Source: Bangla Academy Dictionary
২৫৯.
'ধূর্ত লোক' - এখানে 'ধূর্ত' কোন ধরনের বিশেষণ শব্দ?
  1. গুণবাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. রূপবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর হলো - ক) গুণবাচক।

• 'ধূর্ত লোক' - এখানে 'ধূর্ত' হল একটি গুণবাচক বিশেষণ। এটি 'লোক' শব্দটির একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করছে। 'ধূর্ত' শব্দটি ব্যক্তির চরিত্রের একটি গুণ (কুটিল, চালাক, প্রতারক) নির্দেশ করে।
--------------------
বিভিন্ন প্রকারের বিশেষণ পদ - 

১ . বর্ণবাচক/রূপবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, יל ,, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ' বা ‘লাল’ হলো বর্ণবাচক বিশেষণ ।

২. গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

৩. অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন - চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে ‘চলন্ত’ ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

8. ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এক টাকা, আট দিন – এখানে ‘এক' ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ ৷

৫. পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন – তৃতীয়
প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম’ পূরণবাচক বিশেষণ।
-
৬. পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে ‘আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

৭. উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে' ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

৮. প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – কেমন গান? কতক্ষণ সময়? – এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

৯. নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই’ ও ‘সেই’ নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ৷

১০. ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘খুব ভালো খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' – এসব বাক্যে “খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২৬০.
"কামাল চালাক ছেলে, সে সবাইকে সহজেই বুঝিয়ে ফেলে।" - এখানে 'চালাক' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বর্ণবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন-
"কামাল চালাক ছেলে, সে সবাইকে সহজেই বুঝিয়ে ফেলে।"- 
এখানে,
‘চালাক’ হলো গুণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬১.
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম ____
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) অক্ষর
  3. গ) বর্ণ
  4. ঘ) লগ্নক
সঠিক উত্তর:
ঘ) লগ্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লগ্নক
ব্যাখ্যা

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তাকে পদ বলে।
-পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধারনের
- বিভক্তি 
- নির্দেশক
- বচন
- বলক

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১, পৃষ্ঠাঃ ২৬]

২৬২.
‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’ - বাক্যে কোন ধরনের সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অন্যবাচক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. সকলবাচক সর্বনাম
  4. পারস্পরিক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা,
- যে-সে,
- যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৬৩.
"রাস্তা সংকীর্ণ।" - এখানে 'সংকীর্ণ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
  3. বিশেষণ
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• "রাস্তা সংকীর্ণ।"
এখানে,
"সংকীর্ণ" একটি বিশেষণ (adjective) যা রাস্তা শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ পদ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬৪.
'সে খুব ভালাে একটি খবর দিয়েছে’- বাক্যের 'খুব' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. ভাববাচক বিশেষণ
  3. বিধেয় বিশেষণ
  4. অবস্থাবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'সে খুব ভালাে একটি খবর দিয়েছে’- বাক্যের 'খুব' বিশেষণ — ভাববাচক বিশেষণ।
---------------------- 
• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – 
- 'সে খুব ভালাে একটি খবর দিয়েছে’, 
- ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’, 
এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৫.
'লোকটি দরিদ্র কিন্তু সং' এই বাক্যে 'কিন্তু' হলো-
  1. বিয়োজক অব্যয়
  2. সংযোজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. বিস্ময়াদিসূচক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

সমুচ্চয়ী অব্যয় :
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা- 

সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
- "লোকটি দরিদ্র্য কিন্তু সৎ।" - এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো - সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়: 
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬৬.
"একজন সৎ ব্যক্তি কখনো মিথ্যা কথা বলে না।" - বাক্যে ‘একজন’ কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. আত্মবাচক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, 
- একজন (একজন এসে খবরটা দেয়);
- একজন সৎ ব্যক্তি কখনো মিথ্যা কথা বলে না ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬৭.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. চতুর
  2. প্রণয়ন
  3. দহনীয়
  4. দিগম্বর
সঠিক উত্তর:
প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - প্রণয়ন
-'প্রণয়ন' এর বিশেষণ পদ - প্রণীত।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- রচনা,
- গ্রন্থন; নির্মাণ।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - চতুর, দহনীয় এবং দিগম্বর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৬৮.
কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম। বাক্যে ‘দর্শন’ কোন ধরনের পদ?
  1. ক) ক্রিয়াপদ
  2. খ) ভাববাচক বিশেষ্য
  3. গ) নামবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) ভাববাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
‘কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম’ এবং ‘খুকুর নাচন দেখে যা’ বাক্য দুটিতে ‘দর্শন’ এবং ‘নাচন’ ভাববাচক বিশেষ্য। ‘আমি কোটবাড়ি দেখেছি’ এবং ‘খুকু নাচছে’ এই বাক্য দুটিতে ‘দেখেছি’ এবং ‘নাচছে’ ক্রিয়াপদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৬৯.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. চলন্ত
  2. চলন
  3. চালিত
  4. চঞ্চল
সঠিক উত্তর:
চলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলন
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - চলন
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- গমন; ভ্রমণ।

অন্যদিকে,
- চলন্ত, চালিত এবং চঞ্চল - শব্দগুলো বিশেষণ পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৭০.
'নিশ্চয়ই পারব।' এখানে 'নিশ্চয়ই' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনুকার অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:

উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব।
- না, আমি যাব না।

সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৭১.
'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা’- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. ক) ক্রিয়া-বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়া-বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়া-বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষ্যঃ বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তােলে।
বিশেষণ :  নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়। তার সুন্দর সুন্দর গল্পের বই আছে। 
ক্রিয়া :  কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
ক্রিয়া বিশেষণ :  চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা। ধীরে ধীরে বায়ু বয়। 

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াত মামুদ এবং ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ

২৭২.
কোন বাক্যে দ্বিকর্মক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্বপন লিখছে।
  2. স্বপন চিঠি লিখছে।
  3. শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।
  4. কাঞ্চন বই পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।
মা শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছেন।

অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া - স্বপন চিঠি লিখছে। কাঞ্চন বই পড়ছে।
অকর্মক ক্রিয়া - স্বপন লিখছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৭৩.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. দীর্ঘতা
  2. দীর্ঘ
  3. দীর্ঘক্ষণ
  4. দীর্ঘকাল
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ
ব্যাখ্যা
দীর্ঘ - শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- অধিক,
- লম্বা।

অন্যদিকে,
- দীর্ঘকাল, দীর্ঘক্ষণ, দীর্ঘতা - বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৭৪.
নিচের কোনটি পদের অন্তর্ভুক্ত হবে না?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) যােজক
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ
বাক্যে প্রয়ােগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭৫.
নিচের কোন বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
  2. বিথু গান গায়।
  3. সেতু স্কুলে যায়।
  4. ভালো করে পড়াশোনা করবে।
সঠিক উত্তর:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
ব্যাখ্যা
সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
সেতু স্কুলে যায়।
বিথু গান গায়।
ভালো করে পড়াশোনা করবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৭৬.
"খুব ভালো খরব।" - বাক্যে 'খুব' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. পরিমাণবাচক
  2. নির্দিষ্টতাবাচক
  3. ভাববাচক
  4. অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।

যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৭৭.
নিচের কোনটি সমুচ্চয়ী অব্যয়?
  1. মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! 
  2. উচ্চপদ সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
  3. ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
  4. ঝম ঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
সঠিক উত্তর:
উচ্চপদ সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চপদ সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

অন্যদিকে,
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

২৭৮.
কোনটি জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. হিমালয়
  2. সাগর
  3. বাংলাদেশ
  4. আকাশ
সঠিক উত্তর:
সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগর
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বস্তু-বিশেষ্য - ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
নাম-বিশেষ্য - বাংলাদেশ, হিমালয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৭৯.
‘শ্যামল’ পদের বিশেষ্য কোনটি?
  1. শ্যামলিকা
  2. শামল্য
  3. শ্যামলিমা
  4. শ্যামলী
সঠিক উত্তর:
শ্যামলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্যামলিমা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘শ্যামল’ (বিশেষণ)-  তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

• ‘শ্যামল’ (বিশেষণ) শব্দের বিশেষ্য পদ- 'শ্যামলিমা'
• 'শ্যামলিমা' শব্দের অর্থ- 'শ্যামলতা'। 

অন্যদিকে, 
• শ্যামলী (বিশেষণ) অর্থ- শ্যামবর্ণ গাভী; গরুর নাম।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২৮০.
'তিনটি বছর' - এখানে 'তিনটি' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'তিনটি বছর' - এখানে 'তিনটি' সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:

- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৮১.
'দরিদ্রকে দান করো' - এ বাক্যে ‘দরিদ্র’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণের বিশেষণ
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
- 'দরিদ্রকে দান করো' বাক্যে 'দরিদ্র' (বিশেষ্য) শব্দ। 

• শব্দের অর্থ:
১. নির্ধনতা; দরিদ্র অবস্থা; দরিদ্রতা।
২. অভাব (চিন্তার দারিদ্র্য)।
৩. দৈন্য; দীনতা।

অর্থাৎ, দারিদ্র এবং দারিদ্র্য দুইটাই অভিধানে আছে এবং দুইটাই শুদ্ধ। তবে, আধুনিক অভিধানে কেবল "দারিদ্র্য" রাখা হয়েছে।
আবার কয়েকজন স্কলারের বইতে "" (য ফলা) ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

দরিদ্র শব্দটি বিশেষণ হলেও এখানে বিশেষ্য হিসেবে বসেছে।
কারণ দরিদ্র কাউকে বিশেষিত করেনি, বরং কর্ম হিসেবে বসেছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
২৮২.
'ইট' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বস্তু-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৮৩.
কোনটি যোজকের উদাহরণ?
  1. যেরূপ-সেরূপ
  2. দেখে-শুনে
  3. ভেবে-চিন্তে
  4. এধার-ওধার
সঠিক উত্তর:
যেরূপ-সেরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেরূপ-সেরূপ
ব্যাখ্যা

• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।  

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
দেখে-শুনে, ভেবে-চিন্তে এবং এধার-ওধার ক্রিয়াবিশেষণের দৃষ্টান্ত।


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮৪.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. তাই
  2. অধিকন্তু
  3. আলবত 
  4. কিংবা
সঠিক উত্তর:
আলবত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবত 
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

অন্যদিকে,
সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

২৮৫.
'৩৪তম অনুষ্ঠান।' - এখানে '৩৪তম' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. গুণবাচক
  4. পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বােঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে তৃতীয় ও ৩৪তম পূরণবাচক বিশেষণ

অন্যদিকে,
গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বােঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- আধা কেজি চাল, অনেক লােক – এখানে আধা কেজি’ ও ‘অনেক পরিমাণবাচক বিশেষণ।

ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বােঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এক টাকা, আট দিন – এখানে ‘এক’ ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৮৬.
"যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেবো।"- বাক্যটি কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
• সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

২৮৭.
গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. দুঃখ
  2. গমন
  3. স্বাস্থ্য
  4. যৌবন
সঠিক উত্তর:
গমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গমন
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'গমন' ভাববাচক/ক্রিয়া বিশেষ্যর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৮.
’ফোঁটা ফোঁটা’ কোন পদের দ্বৈত রূপ?
  1. ক্রিয়া
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ফোঁটা (বিশেষ্য পদ),
- এটি তদ্ভব শব্দ।
যার অর্থ: তরল পদাের্থের বিন্দু, তিলক, টিপ, তাসের চিহ্ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘ফোটা’ শব্দটি বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণ ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।
- এটি দেশি শব্দ।
যার অর্থ:
- বিকশিত বা প্রস্ফুটিত হওয়া,
- উদিত হওয়া,
- প্রকাশিত হওয়া,
- উন্মিলিত হওয়া।

• সুতরাং ’ফোঁটা ফোঁটা’ বিশেষ্য পদের দ্বৈত রূপ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮৯.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. ক) হস্তী
  2. খ) কর্তব্য
  3. গ) জলধি
  4. ঘ) পঙ্কজ
সঠিক উত্তর:
ক) হস্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হস্তী
ব্যাখ্যা
• অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌।
যথা-
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ
- যোগরূঢ় শব্দ।

রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।
যেমন: হস্ত + ইন্ = হস্তী, অর্থ- হাত আছে যার;
কিন্তু 'হস্তী' বলতে একটি বিশেষ পশু হাতিকে বােঝায়। 
এরকম : বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ ইত্যাদি।

যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: গৈ+অক = গায়ক, কৃ+তব্য=কর্তব্য।

যোগরূঢ় শব্দ: সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: 'জলধি, পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২৯০.
কোনটি পারস্পরিক সর্বনাম?
  1. পরস্পর
  2. যারা-তারা
  3. যে-সে
  4. যেমন-তেমন
সঠিক উত্তর:
পরস্পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরস্পর
ব্যাখ্যা
পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন – যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯১.
নিচের কোন উদাহরণ ভাববাচক বিশেষণ নির্দেশ করে?
  1. খুব ভালো ছেলে
  2. ঠান্ডা পানি
  3. সবুজ মাঠ
  4. চলন্ত ট্রেন
সঠিক উত্তর:
খুব ভালো ছেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুব ভালো ছেলে
ব্যাখ্যা
• 'খুব ভালো ছেলে' এখানে 'খুব' ভাববাচক বিশেষণ নির্দেশ করছে।

• ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে, 
- 'ঠান্ডা পানি' এখানে 'ঠান্ডা' গুণবাচক বিশেষণ।
- 'সবুজ মাঠ'  এখানে 'সবুজ' বর্ণবাচক বিশেষণ।
- 'চলন্ত ট্রেন' এখানে 'চলন্ত' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৯২.
জাতিবাচক বিশেষ্য নয় কোনটি?
  1. মানুষ
  2. পর্বত
  3. ইংরেজ
  4. জনতা
সঠিক উত্তর:
জনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনতা
ব্যাখ্যা

• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিক,
---------------------
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৯৩.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. বুদ্ধিমান
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. বুদ্ধি
  4. নির্বুদ্ধিতা
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধিমান (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।


অন্যদিকে, 
বুদ্ধিমত্তা, বুদ্ধি ও নির্বুদ্ধিতা বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৯৪.
"কল কল" কোন প্রকার অব্যয়?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুকার অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।

যথা:
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম। 
স্রোতের ধ্বনি – কল কল। 
বাতাসের গতি – শন শন।
শুষ্ক পাতার শব্দ – মর মর। 
নূপুরের আওয়াজ – রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৫.
কোনটি সামীপ্যবাচক সর্বনাম?
  1. ইহারা
  2. ঐসব
  3. সমুদয়
  4. যাহারা
সঠিক উত্তর:
ইহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহারা
ব্যাখ্যা
• সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৬.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. গমন
  2. দর্শন
  3. যৌবন
  4. শয়ন
সঠিক উত্তর:
যৌবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌবন
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা,
- তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য,
- তিক্ত দ্রব্যের গুণ-তিক্ততা ইত্যাদি।

তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দর্শন, গমন ও শয়ন- ভাববাচক/ক্রিয়া বিশেষ্যর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৭.
নিচের কোনটি বিশেষ্য?
  1. লাবণ্য
  2. উৎকৃষ্ট
  3. সুন্দর
  4. একত্র
সঠিক উত্তর:
লাবণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাবণ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'লাবণ্য' - বিশেষ্য শব্দ।

• 'লাবণ্য' শব্দের অর্থ:
- চাকচিক্য;
- সৌন্দর্য;
- কান্তি;
- শ্রী;
- শোভা;
- লাবনি। 
-----------------
অন্যদিকে,
উৎকৃষ্ট' শব্দটি বিশেষণ; যার অর্থ: উত্তম, প্রকৃষ্ট।
সুন্দর - শব্দটি বিশেষণ । 
একত্র - শব্দটি বিশেষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৯৮.
কৃদন্ত বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. জাতীয় সম্পদ
  2. স্বীয় সম্পত্তি
  3. নৈতিক বল
  4. হৃত সম্পত্তি
সঠিক উত্তর:
হৃত সম্পত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
• কৃদন্ত বিশেষণের উদাহরণ - হৃত সম্পত্তি।

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:


ক. ক্রিয়াজাত: হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত: আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনাম জাত: কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি
ঘ. সমাসসিদ্ধ: বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক: হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত: কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।
ছ. কৃদন্ত: কৃতী সন্তান, জানাশোনা লোক, পায়ে-চলা পথ, হৃত সম্পত্তি, অতীত কাল
জ. তদ্ধিতান্ত: জাতীয় সম্পদ, নৈতিক বল, মেঠো পথ।
ঝ. উপসর্গযুক্ত: নিখুঁত কাজ, অপহৃত সম্পদ, নির্জলা মিথ্যে।
ঞ. বিদেশি: নাস্তানাবুদ অবস্থা, লাওয়ারিশ মাল, লাখেরাজ সম্পত্তি, দরপত্তনি তালুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৯.
কোনটি বস্তু-বিশেষ্য?
  1. ফল
  2. পর্বত
  3. ইট
  4. সাগর
সঠিক উত্তর:
ইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইট
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩০০.
‘ভূগোল’ শব্দের বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. ক) ভৌগোলিক
  2. খ) ভূগোলক
  3. গ) ভূগোলিক
  4. ঘ) ভুগোলক
সঠিক উত্তর:
ক) ভৌগোলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভৌগোলিক
ব্যাখ্যা
ভূগোল (বিশেষ্য):
- পৃথিবীর ও তার উপরিস্থ বিভিন্ন দেশের বিবরণ। 
- ভূগোল শব্দটির বিশেষণ পদ - ভৌগোলিক।
- ভৌগোলিক (বিশেষণ) - দেশ সমন্ধীয়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।