বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা ১০ / ১৪ · ৯০১১,০০০ / ১,৩১৩

৯০১.
'আবার' কোন ধরনের অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. বিদেশি
  2. বাংলা
  3. তৎসম
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলা অব্যয় শব্দ:
- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

বিদেশি অব্যয় শব্দ:
যেমন:
- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তৎসম অব্যয় শব্দ:
যেমন:
- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯০২.
'মহারাজের ভোজন পর্ব শেষ হয়েছে।' - বাক্যে 'ভোজন' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. বস্তুবাচক
  2. গুণবাচক
  3. সমষ্টিবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

অন্যদিকে,
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯০৩.
সাদা কাপড় পরলেই মন সাদা হয়না; এখানে 'সাদা' কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) যোজক
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
সাদা কাপড় পরলেই মন সাদা হয়না- এখানে 'সাদা' বিশেষণ পদ।  

বিশেষণ পদ:
- যেসব শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা ও পরিমাণ বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।
- যেমন- সাদা কাপড় পরলেই মন সাদা হয়না- এখানে 'সাদা' বিশেষণ পদ। 
- কারণ কাপড়ের রূপ বর্ণনা করা হয়েছে। 

যোজক: শব্দ, বাক্যাংশ, বা বহু বাক্যকে যে সংযুক্ত করে তাকে যোজক বলে। 

বিশেষ্য পদ: ব্যক্তি, জাতি, বস্তু, স্থান, কাল, সংখ্যা ও গুণের নামকে বিশেষ্য বলে। 
যেমন- কামাল, ঢাকা, বই ইত্যাদি। 

ক্রিয়া বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল,বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। 
যেমন: ধীরে ধীরে বায়ু বয়। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
৯০৪.
'দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।' - বাক্যে 'দুষ্টু' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণ পদ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
[বাক্যে দুষ্টু ও অভিজ্ঞ বিশেসণ পদ]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯০৫.
সম্বন্ধ কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে কোন পদের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. সর্বনাম
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক: যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
- যেমন – ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
              আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
             তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯০৬.
‘রবিবার’ শব্দটি কোন জাতীয় নাম বিশেষ্য?
  1. ক) কালনাম
  2. খ) স্থাননাম
  3. গ) সৃষ্টিনাম
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) কালনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কালনাম
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য,
- জাতি-বিশেষ্য,
- বস্তু-বিশেষ্য,
- সমষ্টি-বিশেষ্য,
- গুণ-বিশেষ্য,
- ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
• ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
• স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
• কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
• সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
৯০৭.
নিচের কোনটি পদান্বয়ী অব্যয়?
  1. শফিককে দিয়ে এ কাজ হবে না।
  2. ঝম ঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
  3. তিনি দরিদ্র কিন্তু সৎ।
  4. মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
সঠিক উত্তর:
শফিককে দিয়ে এ কাজ হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শফিককে দিয়ে এ কাজ হবে না।
ব্যাখ্যা

• 'শফিককে দিয়ে এ কাজ হবে না।' - এখানে 'দিয়ে' পদান্বয়ী অব্যয়।

• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৯০৮.
‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ - এখানে ‘ভেতর’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষণ
  3. অনুসর্গ
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ - এখানে ‘ভেতর’ নাম অনুসর্গ।

⇒ অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে  শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
- ক্রিয়া অনুসর্গ।

⇒ নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ:
ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে যেসব অনুসর্গ এসেছে সেগুলো নামজাত বা বিশেষ্য অনুসর্গ।

নাম অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৯০৯.
বিশেষ্য পদ নয় কোনটি?
  1. বিচিত্র
  2. সামর্থ্য
  3. সামগ্র্য 
  4. নৈষ্কর্ম
সঠিক উত্তর:
বিচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচিত্র
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - বিচিত্র
- এটি বিশেষণ পদ
- 'বিচিত্র' শব্দের বিশেষ্য পদ - বৈচিত্র্য।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- নানা বর্ণবিশিষ্ট, নানারূপে চিত্রিত, নকশাদার।
- মনোরম, মনোহর, সুন্দর, বিস্ময়কর।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - সামর্থ্য, সামগ্র্য, নৈষ্কর্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯১০.
কোন ধরনের বিশেষ্য 'সাধারণ বিশেষ্য' নামে পরিচিত?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. সমষ্টি-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য, সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
- যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।যেমন- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ। কালনাম: সোমবার, বৈশাখ। সৃষ্টিনাম : গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা।
• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯১১.
'সন্তানের প্রতি মাতৃস্নেহ আন্তরিক'। এখানে 'আন্তরিক' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
আন্তরিক, আন্তর (বিশেষণ) - অকপট; অকৃত্রিম; প্রকৃত; ঐকান্তিক।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৯১২.
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে কী ধরনের বাক্য বলে?
  1. ক্রিয়াবর্গ
  2. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  3. বিশেষ্যবর্গ
  4. বিশেষণবর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।
সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৩.
'আমি আজ আলবত যাব।' বাক্যে 'আলবত' কোন ধরনের অব্যয় পদ?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব।
- না, আমি যাব না।

• সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯১৪.
'জনতা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• জনতা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- সাধারণ মানুষ,
- জনসাধারণ।
- অনেক লোকের একত্রসমাবেশ।

--------------------
বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৯১৫.
'দুঃখ' কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. গুণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
- মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা।

তদ্রূপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৬.
'আমি' 'আমরা' এগুলো কোন সর্বনাম পদ?
  1. ক) ব্যতিহারিক
  2. খ) সাকুল্যবাচক
  3. গ) অস্তিবাচক
  4. ঘ) ব্যক্তিবাচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তিবাচক
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম পদ- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম পদ - কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি।
সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম পদ- যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা।
ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ- আমি, তুমি, আমরা, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
৯১৭.
কোন বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ আছে?
  1. পরে একবার এসো।
  2. সামান্য একটু দুধ দাও।
  3. এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
  4. ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।
সঠিক উত্তর:
পরে একবার এসো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরে একবার এসো।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ: 
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

অন্যদিকে,
বিশেষণের বিশেষণ - সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
অব্যয়ের বিশেষণ - ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯১৮.
"সিকি পথ" - এখানে ’সিকি’ কোন বিশেষণের উদাহরণ হবে?
  1. ক্রমবাচক
  2. অংশবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. পরিমাণবাচক
সঠিক উত্তর:
অংশবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশবাচক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ: যে পদ দ্বারা বিশেষ্য, সর্বনাম, ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ বুঝায় তাকে বিশেষণ বলে। 
যেমন: সুন্দর ফুল, তাজা মাছ, রোগা ছেলে, ইত্যাদি।

• অংশবাচক বিশেষণ :
-যে বিশেষণ দ্বারা কোন বিশেষ্যের অংশবিশেষ বুঝায় তাকে অংশবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন:
- অর্ধেক সম্পত্তি,
- ষোল আনা দখল,
- সিকি পথ।

• পরিমাণবাচক বিশেষণ :

-যে বিশেষণ দ্বারা কোন বিশেষ্যের পরিমাণ বুঝায় তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন-
- দশম শ্রেণি,
- সত্তর পৃষ্ঠা,
- প্রথমা কন্যা।

• ক্রমবাচক বিশেষণ :
- যে বিশেষণ দ্বারা কোন বিশেষ্যের ক্রম বুঝায় তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন-
- বিঘাটেক জমি,
- পাঁচ শতাংশ ভূমি,
- হাজার টনী জাহাজ,
- এক কেজি চাল,
- দু কিলোমিটার রাস্তা।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ :
- যে বিশেষণ দ্বারা কোন বিশেষ্যের অবস্থা প্রকাশ পায় তাকে  অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন-
- তাজা মাছ,
- রোগা ছেলে,
- খোঁড়া ছেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
৯১৯.
রূপবাচক বিশেষণ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. রোগা ছেলে। 
  2. কালো মেঘ। 
  3. হাজার লোক। 
  4. ঠাণ্ডা হাওয়া।
সঠিক উত্তর:
কালো মেঘ। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো মেঘ। 
ব্যাখ্যা
• নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
• রূপবাচক: নীল আকাশ, কালো মেঘ। 
• গুণবাচক: দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে।
• সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ টাকা।
• ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা।
• পরিমাণবাচক: পাঁচ শতাংশ ভূমি, দুই কিলোমিটার রাস্তা।
• প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ?, কেমন অবস্থা।
• নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯২০.
কোন বাক্যে ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ আছে?
  1. আমরা খেয়েছি।
  2. খুকু নাচছে।
  3. খুকুর নাচন দেখে যা।
  4. আমি কোটবাড়ি দেখেছি।
সঠিক উত্তর:
খুকুর নাচন দেখে যা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুকুর নাচন দেখে যা।
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

• ভাববাচক বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদ এক নয়।
যেমন:

ভাববাচক বিশেষ্য:
১. কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম।
২. মহারাজের ভোজন-পর্ব শেষ হয়েছে।
৩. বাবার শয়ন এখনো সম্পন্ন হয় নি।
৪. খুকুর নাচন দেখে যা।
৫. তার বোধহয় ফেরা হবে না।

ক্রিয়াপদ:
১. আমি কোটবাড়ি দেখেছি।
২. আমরা খেয়েছি।
৩. বাবা শুয়েছেন।
৪. খুকু নাচছে।
৫. সে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৯২১.
'তিতাস একটি নদীর নাম', বাক্যে 'নদী' কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. জাতি বাচক
  2. নাম বাচক
  3. বস্তু বাচক
  4. সমষ্টি বাচক
সঠিক উত্তর:
জাতি বাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি বাচক
ব্যাখ্যা
⇒ 'তিতাস একটি নদীর নাম।’-  বাক্যে ব্যবহৃত 'নদী' জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য পদ:

কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। 
- বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা-

১. সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য (Proper Noun): যে পদ দ্বারা ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য বলে। যেমন-
• ব্যক্তির নাম: সারা, কনিকা, শিলা, মাসুদ, দেলোয়ার প্রভৃতি।
• ভৌগোলিক অস্থানের নাম: কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঢাকা, আমেরিকা, লন্ডন প্ৰভৃতি। 
• ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি): করতোয়া, মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর প্রভৃতি। 
• গ্রন্থের নাম: কৃষ্ণকুমারী, অগ্নি-বীণা, গীতাঞ্জলি, পথের দাবী, সঞ্চিতা, সঞ্চয়িতা, বিশ্বনবী প্রভৃতি।

২. জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun): যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, পর্বত, নদী, ইংরেজ প্রভৃতি। 

৩. বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য (Material Noun): যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যথা— বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, পানি, লবণ প্রভৃতি। 

৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun): যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা–ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা— সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

৫. ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun): যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ = গমন।
তদ্রুপ : ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি। 
আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর ‘আই’ প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। √ চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

৬. গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun): যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। তদ্রুপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২২.
কোনটি অনির্দিষ্ট সর্বনাম?
  1. পরস্পর
  2. একজন
  3. স্বয়ং
  4. যারা-তারা
সঠিক উত্তর:
একজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একজন
ব্যাখ্যা
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ,
- কোথাও,
- কিছু,
- একজন ইত্যাদি।

অন্যদিকে
সাপেক্ষ সর্বনাম - যারা-তারা।
আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
পারস্পরিক সর্বনাম - পরস্পর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯২৩.
'চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর' বাক্যে 'ক্ষুদ্রতর' কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) ভাববাচক বিশেষ্য
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
ব্যাখ্যা
'চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর' বাক্যে 'ক্ষুদ্রতর' বিশেষণের অতিশায়ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ের তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে। যেমন যমুনা অপেক্ষা পদ্মা দীর্ঘতর নদী, চন্দ্র পৃথিবীর তুলনায় ক্ষুদ্রতর ইত্যাদি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৯২৪.
'হনহন' শব্দটি কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'হনহন' - অব্যয় পদের উদাহরণ।

• 'হনহন' শব্দের অর্থ: 
- দ্রুততার ভাববাচক।
----------------- 
• অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

• বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
• তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
• বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯২৫.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য?
  1. জনতা
  2. মানুষ
  3. ভোজন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোজন
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদের কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ) দেখা, শোনা ইত্যাদি ভাববাচক বিশেষ্য।

অন্যদিকে,
- ‘জনতা’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- ‘মানুষ’ জাতিবাচক বিশেষ্য। 

উল্লেখ্য,
ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৬.
কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. ক) ওরা কি করে?
  2. খ) আপনি আসবেন
  3. গ) আমরা যাচ্ছি
  4. ঘ) তোরা খাসনে
সঠিক উত্তর:
ক) ওরা কি করে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওরা কি করে?
ব্যাখ্যা

পুরুষ তিন প্রকার। যেমন–
উত্তম পুরুষ
মধ্যম পুরুষ
নাম পুরুষ

⇒উত্তম পুরুষ : ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন– আমি, আমরা ইত্যাদি।
⇒মধ্যম পুরুষ : বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন– তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।
⇒নাম পুরুষ : বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে। যেমন– সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)

৯২৭.
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে, তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তা হলো—
  1. উত্তম পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. নাম পুরুষ
  4. কর্তা পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা

• পুরুষ তিন প্রকার। যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯২৮.
নিচের কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. যারা-তারা
  2. কেউ-কোথাও
  3. এই-এরা
  4. সে-তারা
সঠিক উত্তর:
যারা-তারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা-তারা
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ. ও)।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।
৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন- সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৯২৯.
বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. উদ্ধত
  2. অভ্যাস
  3. নাব্য
  4. ভেতো
সঠিক উত্তর:
অভ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভ্যাস
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ - অভ্যাস

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদের উদাহরণ:
- ভেতো,
- নাব্য,
- উদ্ধত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৩০.
'তুমি এতক্ষণ কী করেছ?'- এই বাক্যে 'কী' কোন পদ?
  1. কবিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'তুমি এতক্ষণ করেছ' এই বাক্যে 'কী' প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ

------------------
সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

• প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
যে সর্বনাম দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্ন করা বুঝায় তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে।
এ জাতীয় সর্বনা হলো : কে, কী, কোন, কার, কাকে, কীসে ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ]।
৯৩১.
‘পূণ্যে মতি হোক' বাক্যে ‘পূণ্য' কোন পদরূপে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) বিশেষ্যরূপে
  2. খ) বিশেষণরূপে
  3. গ) বিশেষণের বিশেষণরূপে
  4. ঘ) সর্বনামরূপে
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্যরূপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্যরূপে
ব্যাখ্যা
• বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে‌।
• যেমন- 'পুণ্যে মতি হোক' এখানে 'পুণ্য' শব্দটি বিশেষ্য পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৩২.
"ছিঃ! এমন কাজ কেউ করে!"- বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
-অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

বাক্যে ব্যবহার:
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!'-  এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

এরূপ- "ছিঃ! এমন কাজ কেউ করে!" এখানে 'ছিঃ' অনন্বয়ী অব্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।

৯৩৩.
'গীতাঞ্জলি' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. জাতি-বিশেষ্য
  2. গুণ-বিশেষ্য 
  3. নাম-বিশেষ্য 
  4. বস্তু-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য 
ব্যাখ্যা

নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে:
বস্তু-বিশেষ্য:

- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৯৩৪.
"লোকটি দরিদ্র্য কিন্তু সৎ।" - এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো -
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. সংকোচক অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা
সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা- 

সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
- "লোকটি দরিদ্র্য কিন্তু সৎ।" - এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো - সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়: 
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৩৫.
কোনটি বস্তু-বিশেষ্য?
  1. ইট
  2. সরলতা
  3. ফুল
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
ইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইট
ব্যাখ্যা

বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতি-বিশেষ্য - মানুষ, ফুল।
গুণ-বিশেষ্য - সরলতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৯৩৬.
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি- এখানে 'অসুস্থ ছেলেটি' কোন ধরণের বর্গের অন্তর্গত?
  1. ক) বিশেষ্যবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্যবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্যবর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে। 
নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল- 
বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। 
যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি। 
             আমার ভাই পড়তে বসেছে।  
            রহিম ও করিম বৃষ্টিতে ভিজছে। 

বিশেষণবর্গ: বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ।
যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। 
           ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। 
যেমন - সকাল আটটার সময় সে রওনা হলো।
            তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে  গিয়ে দাড়ালাম। 

ক্রিয়া বর্গ: বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে।
যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। 
            সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৩৭.
বিশেষণ কার দোষ, গুণ, সংখ্যা, পরিমাণ ও অবস্থা ইত্যাদি নির্দেশ করে?
  1. বিশেষণ ও আবেগ
  2. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. বিশেষ্য ও অনুসর্গ
  4. বিশেষ্য ও সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
- যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা।   

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ:
১. বর্ণবাচক:
- রং নির্দেশ করা হয়। যেমন: কালো, নীল, সবুজ, লাল।
২. গুণবাচক:
- গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়। যেমন: চালাক, ঠান্ডা। 
৩. অবস্থাবাচক:
- অবস্থা বোঝায়। যেমন: তাজা, রোগা,  চলন্ত, তরল, কঠিন।   
৪. ক্রমবাচক:
- ক্রমসংখ্যা বোঝায়। যেমন:  এক, আট।
৫. পূরণবাচক:
- পূরণসংখ্যা বোঝায়। যেমন: তৃতীয়, ৩৪তম। 
৬. পরিমাণবাচক:
- পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়। যেমন: আধা, অনেক।
৭. উপাদানবাচক:
- উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে, পাথুরে। 
৮. প্রশ্নবাচক:
-প্রশ্নঝচকতা নির্দেশিত হয়। যেমন: কেমন, কতক্ষণ।
৯. নির্দিষ্টবাচক:
- বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন: এই, সেই। 
১০. ভাববাচক:
-বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে। যেমন: খুব, বেশ।
১১. বিধেয় বিশেষণ:
- বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন: যেমন: পাগল, ঘোলা।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৩৮.
'দক্ষ কারিগর' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. উপাদানবাচক
  2. রূপবাচক
  3. গুণবাচক
  4. অংশবাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
- 'দক্ষ কারিগর'।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম', চৌকস এবং দক্ষ - হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৩৯.
'হিমালয়' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে:
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
 
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।
 
গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৪০.
'তরল পদার্থ' - এখানে 'তরল' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে: 
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।
 
গুণবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।
 
নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৪১.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়?
  1. অধিকন্তু
  2. আলবত
  3. এবং 
  4. কিংবা
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
আলবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবত
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৯৪২.
তুলনা বোঝাতে নিচের যে বাক্যে 'না' ব্যবহৃত হয়েছে-
  1. ক) হয় তুমি যাবে, না হয় আমি।
  2. খ) তার না আছে লোভ, না আছে হিংসা।
  3. গ) আমি না গেলে তুমি যেও।
  4. ঘ) ছেলে তো না, একটা বিচ্ছু ।
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছেলে তো না, একটা বিচ্ছু ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছেলে তো না, একটা বিচ্ছু ।
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'না' অব্যয়ের ব্যবহার-

নিষেধ অর্থে - এখন যেও না।
বিকল্প প্রকাশে - তিনি যাবেন, না হয় আমি যাব। 
আদর প্রকাশে বা অনুরােধে  আর একটি মিষ্টি খাও না খােকা। আর একটা গান গাও না।
সম্ভাবনায় - তিনি না কি ঢাকায় যাবেন।
বিস্ময়ে - কী করেই না দিন কাটাচ্ছ। 
তুলনায় - ছেলে তাে না, যেন একটা হিটলার। (অনুরূপভাবে, ছেলে তো না, একটা বিচ্ছু।)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৪৩.
নিচের কোনটি সর্বনাম পদ?
  1. কি
  2. কী
  3. কেনা
  4. কারণ
সঠিক উত্তর:
কী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কী
ব্যাখ্যা
- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথাঃ
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনামঃ আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনামঃ স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনামঃ
নিকট নির্দেশক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক - ও, ওই, ওরা, উনি।
৪. অনির্দষ্ট সর্বনামঃ কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনামঃ কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনামঃ যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
৭. পারস্পারিক সর্বনামঃ পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
৮. সকল/সাকুল্যবাচক সর্বনামঃ সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
৯. অন্যবাচক সর্বনামঃ অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
৯৪৪.
তুমি তো দেখি প্রায় পাগলের মত দৌড়াচ্ছো। এই বাক্যে ‘প্রায়’ কী?
  1. ক) নাম বিশেষণ
  2. খ) অব্যয় বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
তুমি তো দেখি প্রায় পাগলের মত দৌড়াচ্ছো। এই বাক্যে ‘মতো’ পদান্বয়ী অব্যয়। ‘প্রায়’ অব্যয় বিশেষণ। কারণ ‘প্রায়’ দিয়ে কতটুকু মত তা বুঝানো হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯৪৫.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. জনতা
  2. সরলতা
  3. দয়া
  4. করা
সঠিক উত্তর:
করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করা
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
- যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।  

♠ বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: 
১. নাম-বিশেষ্য:
• হাবিব, সজল, বাংলাদেশ, পদ্মা, বৈশাখ ইত্যাদি।
২. জাতি-বিশেষ্য:
• মানুষ, গরু, ফুল, নদী ইত্যাদি।
৩. বস্তু-বিশেষ্য:
• ইট, লবণ, আকাশ ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
• জনতা, পরিবার, বাহিনী ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য:
• সরলতা, দয়া, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
• ক্রিয়া বা কাজের নাম বুঝায়।
• পঠন, ভোজন,শয়ন, করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।  
৯৪৬.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. বাংলাদেশ
  2. ফল
  3. হাবিব
  4. সরলতা
সঠিক উত্তর:
ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফল
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য: - বাংলাদেশ, হাবিব।
গুণ-বিশেষ্য: - সরলতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৯৪৭.
'সর্বজন' এর বিশেষণ-
  1. সর্বজনীন
  2. সর্বগ্রাহ্য
  3. সার্বিক
  4. সার্বজনীন
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন
ব্যাখ্যা
• 'সর্বজন' শব্দের বিশেষণ — 'সার্বজনীন'।

• 'সর্বজন' - শব্দের অর্থ:
- সকল নরনারী।

অন্যদিকে, 
সর্বজনীন (বিশেষ্য) - সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৪৮.
চাউল, চিনি,পানি এগুলাে কী বাচক বিশেষ্য?
  1. ক) জাতিবাচক
  2. খ) বস্তুবাচক
  3. গ) সমষ্টিবাচক
  4. ঘ) ব্যক্তিবাচক
সঠিক উত্তর:
খ) বস্তুবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বস্তুবাচক
ব্যাখ্যা
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৯৪৯.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. পীড়িত
  2. উজ্জ্বলতা
  3. কুৎসিত
  4. উজ্জ্বল
সঠিক উত্তর:
উজ্জ্বলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উজ্জ্বলতা
ব্যাখ্যা
• 'উজ্জ্বলতা'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- প্রভা, দীপ্তি, নির্মলতা।

অন্যদিকে,
- উজ্জ্বল, কুৎসিত এবং পীড়িত - শব্দগুলো বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৫০.
‘ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন’ -বাক্যে ‘ভালো’ কোন রূপে ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

- ‘আপন ভালো সবাই চায়।’ বাক্যে ‘ভালো’ বিশেষ্য রূপে ব্যবহার করা হয়েছে।
- ‘ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন’। বাক্যে ভালো বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৯৫১.
নিচের কোনটি নাম পুরুষের উদাহারণ?
  1. আমি
  2. আপনি
  3. তিনি
  4.  তুই
সঠিক উত্তর:
তিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি
ব্যাখ্যা

• প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে।
আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি।

• উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

• মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৫২.
'নিশ্চয়ই পারব।' বাক্যে 'নিশ্চয়ই' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব।
- না, আমি যাব না।

• সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৫৩.
‘পাঠানো’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘পাঠানো’ ক্রিয়া-বিশেষ্যের উদাহরণ।

-----------------------
• বিশেষ্য পদ:

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৫৪.
কোন বাক্যে অনন্বয়ী অব্যয়ের ব্যবহার হয়েছে?
  1. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
  2.  ভালো করে খেয়ে নাও।
  3. ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
  4. মাথার উপরে নিল আকাশ।
সঠিক উত্তর:
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৯৫৫.
বিশেষণ পদের উদাহরণ কোনটি?
  1. রাজ্য
  2. রক্তাক্ত
  3. প্রীতি
  4. অভিযান
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

রক্তাক্ত (বিশেষণ): রক্তে মাখা; রক্তরঞ্জিত।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- অভিযান, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ, রক্ত, আসক্তি ও প্রীতি শব্দগুলো বিশেষ্য পদ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
৯৫৬.
'আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।'- প্রদত্ত বাক্যে 'ভারী সুন্দর' কোন ধরনের বর্গ?
  1. ক্রিয়াবর্গ
  2. বিশেষণ বর্গ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. বিশেষ্য বর্গ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ বর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন:
- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর

অন্যদিকে, 
-----------------
• বিশেষ্য বর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন:
- অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।

• ক্রিয়া বিশেষণ-বর্গ:
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন:
- সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।

• ক্রিয়াবর্গ:
বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন:
- সে লিখছে আর হাসছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯৫৭.
'ইস্, ঠাণ্ডা যেন বরফ।' -এই বাক্যে 'যেন' অব্যয়টি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপমা অর্থে
  2. তুলনা অর্থে
  3. অনুমান অর্থে
  4. সতর্কীকরণ অর্থে
সঠিক উত্তর:
তুলনা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলনা অর্থে
ব্যাখ্যা

'যেন' অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার:
- উপমা অর্থে- মুখ যেন পদ্মফুল।
- প্রার্থনা অর্থে- খোদা যেন তোমার মঙ্গল করেন।
- তুলনা অর্থে- ইস্, ঠাণ্ডা যেন বরফ।
- অনুমান অর্থে- লোকটা যেন আমার পরিচিত মনে হলো।
- সতর্কীকরণ অর্থে- সাবধানে চল, যেন পা পিছলে না পড়।
- ব্যঙ্গ প্রকাশ অর্থে- ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯৫৮.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. জনতা
  2. ঝাঁক
  3. মানুষ
  4. বহর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা

- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
- নদী শব্দটি দ্বারা সকল নদী (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র) কে বোঝায়, সুতরাং এখানে নদী শব্দটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৯.
'নহিলে' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়াপদ
  3. অব্যয়
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
------------------
• 'নহিলে' শব্দটি - অব্যয় পদ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম - দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৬০.
কোন বাক্যে সমুচ্চয়ী অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ধন অপেক্ষা মান বড়
  2. তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না
  3. ঢং ঢং ঘণ্টা বাজে
  4. লেখাপড়া কর, নতুবা ফেল করবে
সঠিক উত্তর:
লেখাপড়া কর, নতুবা ফেল করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেখাপড়া কর, নতুবা ফেল করবে
ব্যাখ্যা
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একাধিক পদের বা বাক্যাংশের বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। এই সম্পর্ক সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন যে কোনটিই হতে পারে। একে সম্বন্ধবাচক অব্যয়ও বলে।
যেমন:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- লেখাপড়া কর, নতুবা ফেল করবে।
[এখানে ''কিংবা' ও ‘নতুবা’ সমুচ্চয়ী অব্যয়।]

এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯৬১.
'উৎকর্ষ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

 • বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, বহর, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – মধুরতা, সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯৬২.
'অদ্যাপি' কোণ জাতীয় শব্দ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অদ্যাপি' - অব্যয় জাতীয় শব্দ।
অর্থ:
- এখনও; আজও; একাল পর্যন্ত।

অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, অদ্যাপি, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬৩.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. রূপবান
  2. মঙ্গলকামনা
  3. নিখুঁত
  4. কিংবা
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকামনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকামনা
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - মঙ্গলকামনা
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- কল্যাণকামনা,
- শুভকামনা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - রূপবান, নিখুঁত।
অব্যয় পদ - কিংবা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯৬৪.
‘যথাসময়ে সে হাজির হয়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যথাসময়ে’ কোন ধরনের ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৬৫.
"সময়মতো কাজ শেষ করো, নতুবা সমস্যায় পড়তে হবে।" - এখানে 'নতুবা' শব্দটি-
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বিয়োজক অব্যয়:
'নতুবা' শব্দটি দুটি বাক্যাংশ বা অংশকে সংযুক্ত করে, তবে এটি বিকল্প বা বিরোধী সম্পর্ক প্রকাশ করে। অর্থাৎ, একটি কাজ না করলে আরেকটি ফলাফল ঘটবে—এ ধরনের বিরোধী সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত অব্যয়কে বিয়োজক অব্যয় বলা হয়।
কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি বিয়োজক অব্যয়।

যেমন-
• সময়মতো কাজ শেষ করো, নতুবা সমস্যায় পড়তে হবে।
(অর্থ: কাজ শেষ না করলে সমস্যা হবে)

বিয়োজক অব্যয়ের অন্যান্য উদাহরণ:
• অথবা (তুমি পড়াশোনা করো, অথবা পরীক্ষায় খারাপ করবে।)
• নচেৎ (আমাকে সাহায্য করো, নচেৎ আমি একা পারব না।)
• না হলে (তুমি ওষুধ খাও, না হলে অসুস্থ হয়ে পড়বে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬৬.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।' - বাক্যটিতে 'কোথাও' কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৬৭.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।'- বাক্যে 'কোথাও' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

২. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

৩. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

৪. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- সে এখন যাবে না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই

৫. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৯৬৮.
'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে' এই বাক্যের অব্যয়টির নাম কী?
  1. ক) অনুসর্গ অব্যয়
  2. খ) অনুকার অব্যয়
  3. গ) অনস্বয়ী অব্যয়
  4. ঘ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গ অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গ অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বা পদান্বয়ী অব্যয় বলে।
- যেমন
- ধন অপেক্ষা মান বড় (‘অপেক্ষা’ অনুসর্গ অব্যয়)।
- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না (‘দিয়ে’ অনুসর্গ অব্যয়)।
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে (এখানে 'বিনা' অনুসর্গ অব্যয় )

অনুসর্গ অব্যয় দুই প্রকার।
যথা- বিভক্তিসূচক অব্যয় এবং বিভক্তি রূপে ব্যবহৃত অনুসর্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬৯.
'তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।'- এ বাক্যের 'পুণ্য' কোন পদ?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।’- বাক্যে ‘পুণ্য’ বিশেষণ পদ। 

• বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে৷

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭০.
‘হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী' - বাক্যে ‘কিংবা’ কোন অব্যয়?
  1. বিয়োজক অব্যয়
  2. সংযোজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।
 
সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 
 
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্কর
৯৭১.
সাধু ভাষা থেকে চলিত ভাষায় লিখতে পদ যুগলের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯৭২.
নির্দেশক সর্বনামের পরে টা, টি যুক্ত হলে কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অনির্দিষ্ট
  2. সুনির্দিষ্ট
  3. কখনো অনির্দিষ্ট কখনো সুনির্দিষ্ট
  4. নিরর্থকভাব
সঠিক উত্তর:
সুনির্দিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা

নির্দেশক সর্বনামের পরে টা, টি যুক্ত হলে সুনির্দিষ্ট ভাব প্রকাশ করে।
যেমন :
- ওটি যেন কার তৈরি?
- এটা নয় ওটা আন।
- সেইটিই ছিল আমার প্রিয় কলম।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই (২০১৯ সংস্করণ)

৯৭৩.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য শব্দের উদাহরণ?
  1. জনতা
  2. তিক্ততা
  3. গমন
  4. মধুরতা
সঠিক উত্তর:
গমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গমন
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

অন্যদিকে,
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭৪.
কোন সর্বনামটি নৈকট্য বা দূরুত্ব নির্দেশ করে?
  1. ব্যক্তিবাচক
  2. আত্মবাচক
  3. নির্দেশক
  4. সাপেক্ষ
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক সর্বনাম: 
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরুত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন-
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
- দূর নির্দেশক:  ও, ওই, ওরা, উনি।

• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝাতে আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: 
নিজে (সে নিজে অঙ্কটি করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
যেমন- আমরা, তোমরা, তারা ইত্যাদি।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন - যারা-তারা, যে-সে,যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৭৫.
নিচের কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রামের দিকে এগুচ্ছে।
  2. তার জন্য আর অপেক্ষা করো না।
  3. তুমি আছ বলেই আমার ভরসা।
  4. মাথার উপরে নীল আকাশ।
সঠিক উত্তর:
তুমি আছ বলেই আমার ভরসা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি আছ বলেই আমার ভরসা।
ব্যাখ্যা
• তুমি আছ বলেই আমার ভরসা।- বাক্যে ব্যবহৃত ‘বলে’ শব্দটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ।

⇒ ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া থেকে তৈরি সেগুলো ক্রিয়াজাত অনুসর্গ হিসেবে পরিচিত। ক্রিয়াজাত অনুসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে, বলে ইত্যাদি।

ক্রিয়াজাত কিছু অনুসর্গের প্রয়োগ-উদাহরণ:
• কাপড়গুলো ভালো করে পরিষ্কার করো। 
• লোকটা হাজত থেকে পালিয়ে গেছে।
• মন দিয়ে লেখাপড়া করা উচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৯৭৬.
'স্বয়ং' কোন ধরনের সর্বনামের উদাহরণ?
  1. পুরুষবাচক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. পারস্পরিক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম:
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন-সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম:
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

(তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো-ব্যতিহারিক সর্বনাম।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭৭.
‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ - এখানে 'একুশে' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
  3. উপাদানবাচক
  4. অংশবাচক
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা

• ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ - এখানে 'একুশে' - নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক বিশেষণ।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৯৭৮.
"ওটা টেবিলে রেখে দাও" বাক্যে 'ওটা' সর্বনামটির সাধুরূপ কোনটি?
  1. ক) উহা
  2. খ) ইহা
  3. গ) তাহা
  4. ঘ) ঐগুলি
সঠিক উত্তর:
ক) উহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উহা
ব্যাখ্যা
সাধু ও চলতি ভাষা
সাধু ও চলতি ভাষারীতির প্রধান পার্থক্য নির্ভর করে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের ওপর।
- সাধুরীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়ার পূর্ণ ও দীর্ঘরূপ ব্যবহৃত হয়।
- পক্ষান্তরে চলতি বাংলায় সর্বনাম ও ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বা হ্রস্বরূপ ব্যবহৃত হয়।
- নিচে ওই সাধু ও চলতি রীতিতে এদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী পার্থক্য ঘটে তা দেখানাে হলাে :




উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৯.
কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. মাটি
  2. মিছিল
  3. জনতা
  4. পাখি
সঠিক উত্তর:
পাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখি
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিক, 
------------------
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮০.
'ভিক্ষুকটা যে পিছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!'- এই বাক্যের 'কী'-এর অর্থ-
  1. ভয়
  2. রাগ
  3. বিরক্তি
  4. বিপদ
সঠিক উত্তর:
বিরক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরক্তি
ব্যাখ্যা
• একই অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থের ব্যবহারে,
- 'কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।'-এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে বিরক্তি প্রকাশে।

তেমনি,
'ভিক্ষুকটা যে পিছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!' বাক্যের অব্যয় পদটি (কী) 'বিরক্তি' অর্থ প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৯৮১.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য নয়?
  1. ক) চলন্ত
  2. খ) দর্শন
  3. গ) সৌন্দর্য
  4. ঘ) করবে
সঠিক উত্তর:
গ) সৌন্দর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা

জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনাে একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনাে উপাদানবাচক পদার্থের নাম বােঝায়, তাকে বহ্বাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্ত্র সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা— সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝক, বহর, দল।

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনাে বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বােঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা—মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ–তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ— তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ]

৯৮২.
"যেমন কর্ম তেমন ফল।"- এখানে "যেমন-তেমন" কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  2. পারস্পরিক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. ব্যতিহারিক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৯৮৩.
"কখনাে বা দেখা হবে।" বাক্যে দাগাঙ্কিত অংশটি একটি _____ পদ।
  1. ক) ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) যােজক
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন:
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।

• অনেক সময় বিশেষ্য বিশেষণ শব্দের সঙ্গে- ‘এ’, ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি এবং- ‘ভাবে’, ‘বশত’, ‘মতো’, ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
- ক্রিয়াবিশেষণকে ৫টি ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ধরণবাচক
২. কালবাচক
৩. স্থানবাচক
৪. নেতিবাচক
৫. পদাণু

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, বা’,না’, ‘তাে’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন –
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৮৪.
'শয়ন' কোন জাতীয় বিশেষ্য?
  1. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  2. নাম-বিশেষ্য
  3. সমষ্টি-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন
- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৯৮৫.
'এই যুগে মোবাইল অপরিহার্য' - বাক্যে 'এই' কী জাতীয় বিশেষণ?
  1. বর্ণবাচক
  2. প্রশ্নবাচক
  3. ভাববাচক
  4. নির্দিষ্টতাবাচক
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতাবাচক
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এই দিনে, সেই সময় – এখানে এই’ ও ‘সেই নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।
তেমনি,
- এই যুগে মোবাইল অপরিহার্য।

অন্যদিকে, 
বর্ণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ কবা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে নীল, সবুজ বা ললি’ হলাে বর্ণবাচক বিশেষণ।

প্রশ্নবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – কেমন গান? কতক্ষণ সময়? – এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৯৮৬.
বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বিধেয় বিশেষণ
  2. বর্ণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর। 
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
[ এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।]

---------------------
• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘লােকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘােলা’ – বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘােলা’ বিধেয় বিশেষণ।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ কবা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে নীল, সবুজ বা ললি’ হলাে বর্ণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ। 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৮৭.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য পদ নয়?
  1. ক) স্বাস্থ্য
  2. খ) দর্শন
  3. গ) ভোজন
  4. ঘ) শয়ন
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাস্থ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন:
- ভোজন (খাওয়ার কাজ),
- শয়ন (শোয়ার কাজ),
- দর্শন (দেখার কাজ),
- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ)।
অন্যদিকে,
'স্বাস্থ্য' শব্দটি গুণবাচক বিশেষ্য।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮৮.
'সঞ্চিতা' কোন ধরনের নাম-বিশেষ্য?
  1. কালনাম
  2. ব্যক্তিনাম
  3. সৃষ্টিনাম
  4. স্থাননাম
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন - 
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: বাংলাদেশ, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৮৯.
'ইন্দ্রিয়' এর বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) ইন্ধন
  2. খ) ইন্দ্রানী
  3. গ) ঐন্দ্রিয়
  4. ঘ) ইন্দ্রিয়জ্ঞান
সঠিক উত্তর:
গ) ঐন্দ্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঐন্দ্রিয়
ব্যাখ্যা
'ইন্দ্রিয়' এর বিশেষণ রূপ = ঐন্দ্রিয়   
ঐন্দ্রিয় (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ইন্দ্রিয়+অ  
অর্থ: 
- ইন্দ্রিয় সম্বধীয়। 
- প্রত্যক্ষ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯৯০.
কোনটি উপাদানবাচক নাম বিশেষণ?
  1. সিকি পথ
  2. কালো মেঘ
  3. মেটে কলসি
  4. তাজা মাছ
সঠিক উত্তর:
মেটে কলসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেটে কলসি
ব্যাখ্যা
• উপাদানবাচক নাম বিশেষণ - মেটে কলসি

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৯৯১.
‘কোথাও আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা।’- বাক্যে কোথাও কোন পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• কোথাও আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা।- বাক্যে ব্যবহৃত ‘কোথাও’ শব্দটি অনির্দিষ্ট সর্বনাম পদ।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৯৯২.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. পরিবার
  2. ঝাঁক
  3. ছাগল
  4. বাহিনী
সঠিক উত্তর:
ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাগল
ব্যাখ্যা

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য, সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমষ্টি-বিশেষ্য: 
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৯৯৩.
'সমিতি' শব্দটি কোন ধরনের পদ?
  1. ক) বস্তুবাচক বিশেষ্য
  2. খ) জাতিবাচক বিশেষ্য
  3. গ) শ্রেণিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্যপদ দ্বারা একজাতীয় ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, বহর, শ্রেণী, বাহিনী, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, পাল, মালা, সারি, দল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯৯৪.
"যেমন আচরণ করবে, তেমন ব্যবহার পাবে।"- এ বাক্যে "যেমন-তেমন" কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

তেমনিভাবে,
"যেমন আচরণ করবে, তেমন ব্যবহার পাবে।"- এ বাক্যে "যেমন-তেমন" হলো- সাপেক্ষ সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৯৯৫.
'যারা-তারা' - কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৯৬.
পদ বিবেচনায় শব্দকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
ব্যাখ্যা

পদ বিবেচনায় শব্দ কে ৮ টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক, আবেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

৯৯৭.
বাক্যের কোন পদটি অপরিবর্তনীয়?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. সর্বনাম পদ
  3. অব্যয় পদ
  4. ক্রিয়াপদ
সঠিক উত্তর:
অব্যয় পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয় পদ
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম - দশম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।

৯৯৮.
"স্নিগ্ধ বাতাসে মন জুড়ায়।" - এখানে 'স্নিগ্ধ' কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষ্যের বিশেষণ
  4. বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• "স্নিগ্ধ বাতাসে মন জুড়ায়।" - এখানে 'স্নিগ্ধ' শব্দটি বাতাস (বিশেষ্য)-এর গুণ বোঝাচ্ছে।
তাই, এটি বিশেষ্যের বিশেষণ।
------------------ 
• নাম বিশেষণ: 
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
যথা -

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৯৯.
কোনটি মধ্যম পুরুষ?
  1. আপনি
  2. তারা
  3. আমরা
  4. সে
সঠিক উত্তর:
আপনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপনি
ব্যাখ্যা

• আপনি- মধ্যম পুরুষ। 

​পুরুষ তিন প্রকার। যেমন:
১. উত্তম পুরুষ,
২. মধ্যম পুরুষ,
৩. নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ: ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ: বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন: তুমি, তোমরা, আপনি, তোরা ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ: বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে। যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০০০.
আমি কি যাব? - বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণের দৃষ্টান্ত রয়েছে?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

⇒ পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

⇒ ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
 - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

⇒ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

⇒ স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

⇒ নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।