বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা / ১৪ · ১০০ / ১,৩১৩

.
"পঠন, ভোজন" কোন প্রকার বিশেষ্য পদ?
  1. বস্তুবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. গুণবাচক
  4. ক্রিয়াবাচক
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবাচক
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার।
যথা- 
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা। কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান। সৃষ্টিনাম : গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন,
 পঠন, ভোজন, শয়ন, দর্শন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. ক) সভা
  2. খ) মাহফিল
  3. গ) সমিতি
  4. ঘ) হিমালয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিমালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিমালয়
ব্যাখ্যা
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল। আর হিমালয় সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'খুকুর নাচন দেখে যা।' - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

ভাববাচক বিশেষ্য:
১. কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম।
২. মহারাজের ভোজন-পর্ব শেষ হয়েছে।
৩. বাবার শয়ন এখনো সম্পন্ন হয় নি।
৪. খুকুর নাচন দেখে যা

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
বিশেষ্য থেকে বিশেষণে রূপান্তর এর ক্ষেত্রে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. মন-মানসিক
  2. শিক্ষা- শিক্ষিত
  3. আহার - আহার্য 
  4. কারণ- করণিক
সঠিক উত্তর:
কারণ- করণিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারণ- করণিক
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য থেকে বিশেষণে রূপান্তর এর ক্ষেত্রে - "কারণ- করণিক" অশুদ্ধ। 
- সঠিক বিশেষ্য- বিশেষণ হলো- কারণ- কারণিক।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
‘ফুল ফুটেছে গাছে গাছে।’ বাক্যে ‘ফুল’ কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. জাতি-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. সমষ্টি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘ফুল ফুটেছে গাছে গাছে।’ বাক্যে ‘ফুল’ জাতি বিশেষ্যের উদাহরণ।

⇒ বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

⇒ নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

⇒ জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

⇒ বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

⇒ সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

⇒ গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

⇒ ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'ভাজা মাছ' কোন বিশেষণ?
  1. ক) রূপবাচক
  2. খ) অংশবাচক
  3. গ) অবস্থাবাচক
  4. ঘ) গুণবাচক
সঠিক উত্তর:
গ) অবস্থাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষণের প্রকারভেদ
⇒ বিশেষণ পদকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- নাম বিশেষণ এবং
ভাব বিশেষণ

 ⇒ নাম বিশেষণকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- বিশেষ্যের বিশেষণ এবং
সর্বনামের বিশেষণ।

⇒ ভাব বিশেষণকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়
যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ এবং বাক্যের বিশেষণ।

নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনাে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা-
বিশেষ্যের বিশেষণ : সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালবাসে ?
সর্বনামের বিশেষণ : সে রূপবান ও গুণবান।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ: নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
⇒ রূপবাচক : কালাে মেঘ, নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
⇒ গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া, চৌকস লোেক।
⇒ অবস্থাবাচক : মােটা মেয়ে, রােগা ছেলে, তাজা মাছ (অনুরূপভাবে, ভাজা মাছ) , খোঁড়া পা।
⇒ সংখ্যাবাচক : শ টাকা, হাজার লােক, দশ দশা।
⇒ ক্রমবাচক : পঞ্চাশ পৃষ্ঠা, অষ্টম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা। |
⇒ পরিমাণবাচক : এক কেজি চিনি, তিন কিলােমিটার রাস্তা, বিঘাটেক জমি, দশ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ।
⇒ অংশবাচক : ষােল আনা দখল, সিকি পথ, অর্ধেক সম্পত্তি।
⇒ উপাদানবাচক : কাঠের জানালা, পাথরের মূর্তি, বেলে মাটি, মেটে কলসি।
⇒ প্রশ্নবাচক : কেমন অবস্থা? কতদূর পথ? 
 ⇒ নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক : এই মেয়ে, ষােলই ডিসেম্বর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. জনতা
  2. দর্শন
  3. সৎ
  4. সততা
সঠিক উত্তর:
সৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ - সৎ
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- সত্য, উত্তম, শুভ, সাধু।

অন্যদিকে,
 বিশেষ্য পদ - সততা, দর্শন, জনতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোনটি বিদেশি অব্যয় শব্দ?
  1. যথা
  2. খুব
  3. আর
  4. আবার
সঠিক উত্তর:
খুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুব
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
- বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে- বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশি অব্যয় শব্দ।

১. বাংলা অব্যয় শব্দ: আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

২. তৎসম অব্যয় শব্দ: যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং = ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।

৩. বিদেশি অব্যয় শব্দ: আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
​'কড় কড়' কোন অব্যয়?​
  1. অনুকার
  2. অনুসর্গ
  3. অনস্বয়ী
  4. সমুচ্চয়ী
সঠিক উত্তর:
অনুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার
ব্যাখ্যা
অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।

যথা:
বজ্রের ধ্বনি: কড় কড়,
বৃষ্টির তুমুল শব্দ: ঝম ঝম,
শুষ্ক পাতার শব্দ: মর মর,
বাতাসের গতি: শন শন,
কোকিলের রব: কুহু কুহু,
বৃষ্টি পড়ার শব্দ: টাপুর টুপুর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. হাবিব
  3. ছাগল
  4. বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাগল
ব্যাখ্যা
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - বাংলাদেশ, হাবিব, গীতাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১.
‘মধুর’ এ পদের বিশেষণ রূপটি হল-
  1. মাধুরী
  2. মধুরতা
  3. মধুময়
  4. মধুতা
সঠিক উত্তর:
মধুময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুময়
ব্যাখ্যা
• 'মধুময়'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- মধুপূর্ণ,
- মধুমাখা।

অন্যদিকে,
- 'মাধুরী' বিশেষ্য পদ।
- 'মধুরতা' বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
সভয়ে লোকটি বলল, বাঘ এসেছে। এখানে ‘সভয়ে’ শব্দটি কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্যর বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণের বিশেষণ
  4. ঘ) নাম বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণঃ যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যেমন -
ক্রিয়া সংঘটনের ভাবঃ ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কালঃ পরে একবার এসো।


সভয়ে লোকটি বলল, বাঘ এসেছে। এখানে ‘সভয়ে’ শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি সংস্করণ -২০১৯
১৩.
কোনটি বক্তা পক্ষের সর্বনামের দৃষ্টান্ত?
  1. তুমি
  2. তোমরা
  3. আপনাকে
  4. আমাদের
সঠিক উত্তর:
আমাদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

♦ বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
♦ শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
♦ অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

----------------------------
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
'উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।' এখানে 'উঃ!' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. পদান্বয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে।

যেমন:
মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

এছাড়াও অনন্বয়ী অব্যয়ের কয়েকটি উদাহরণ-
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- হ্যাঁ, আমি যাব না।- স্বীকৃতি জ্ঞাপনে।
- উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।- যন্ত্রণা প্রকাশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
বিশেষ্য পদ নয় কোনটি?
  1. ইচ্ছাময়
  2. ঐচ্ছিক
  3. অনিচ্ছা
  4. ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - ঐচ্ছিক
- এটি বিশেষণ পদ - ঐচ্ছিক।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,ইচ্ছানুযায়ী।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - ইচ্ছাময়, অনিচ্ছা, ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬.
'পাথুরে মূর্তি' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
  2. গুণবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. উপাদানবাচক
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
নিচের কোনটি বিদেশি অব্যয় বাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) ও
  2. খ) আপাতত
  3. গ) বরং
  4. ঘ) শাবাশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শাবাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শাবাশ
ব্যাখ্যা
বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী)
১৮.
'দুঃখ' কোন বিশেষ্য পদ?
  1. গুণবাচক
  2. ভাববাচক
  3. জাতিবাচক
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন-
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
 
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
কোন বাক্যে 'ভালো' বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিজের ভালো সবাই চায়।
  2. তুমি কারো ভালো দেখতে পারো না।
  3. তুমি এখানে কার ভালোটা দেখলে?
  4. ভালো বাসা সবাই চায়।
সঠিক উত্তর:
ভালো বাসা সবাই চায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো বাসা সবাই চায়।
ব্যাখ্যা
• 'ভালো বাসা সবাই চায়।'এই বাক্যে 'ভালো' বিশেষণ হিসেবে বসেছে। 
- এখানে 'ভালো' গুণবাচক বিশেষণ।
- এখানে বাসার গুণ অর্থে 'ভালো' বিশেষণটি বসেছে।

অন্যদিকে,
- তুমি এখানে কার ভালোটা দেখলে?
- তুমি কারো ভালো দেখতে পারো না।
- নিজের ভালো সবাই চায়। 
এই বাক্যগুলোতে 'ভালো' গুণবিশেষ্য হিসেবে বসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২০.
'ধৈর্য' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণ-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

২১.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ছাগল
  2. জনতা
  3. পরিবার
  4. আকাশ
  5. বাহিনী
সঠিক উত্তর:
ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাগল
ব্যাখ্যা
• ‘ছাগল’ জাতি বিশেষ্যের উদাহরণ।

---------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২.
মেঘলা কী ধরনের শব্দ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্যের বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
মেঘলা (বিশেষণ) - মেঘাচ্ছন্ন; মেঘাবৃত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
২৩.
নিচের কোনটি গুনবাচক বিশেষণের উদাহরণ?
  1. কালো মেঘ
  2. চৌকস লোক
  3. নীল আকাশ
  4. ভাজা মাছ
সঠিক উত্তর:
চৌকস লোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌকস লোক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম' ও চৌকস হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪.
নির্দেশক সর্বনাম কোনটি?
  1. পরস্পর
  2. উনি
  3. অপর
  4. যারা-তারা
সঠিক উত্তর:
উনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনি
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি

অন্যদিকে,
• অপর - অন্যবাচক সর্বনাম।
• যারা-তারা - সাপেক্ষ সর্বনাম।
• পরস্পর - পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. পছন্দ
  2. হিসাব
  3. ধূলি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
পছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পছন্দ
ব্যাখ্যা

• পছন্দ (বিশেষণ):
- শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ -
- মনের মতো, মনঃপূত, ইচ্ছানুযায়ী মনোনীত,
- নির্বাচিত,
পছন্দ (বিশেষ্য):
অর্থ -
- নির্বাচন
- মনোনয়ন
- রুচি

হিসাব (বিশেষ্য):
- শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ -
- গণনা, সংখ্যাকরণ
- জমাখরচের বিবরণ
- দর
- কৈফিয়ত
- বিচারবিবেচনা

ধূলি (বিশেষ্য):
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ - 
- শুকনো মাটির সূক্ষ্ম কণা, রেণু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৬.
সাধারণত বিশেষ্য কত প্রকার?
  1. ৪ প্রকার
  2. ৫ প্রকার
  3. ৬ প্রকার
  4. ৭ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৬ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন –
- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন –
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৭.
কোন বাক্যে সমধাতুজ কর্ম রয়েছে?
  1. ক) আর মায়াকান্না কেঁদো না
  2. খ) আমি চোখে দেখি না
  3. গ) মা শিশুকে চাঁদ দেখায়
  4. ঘ) তিনি বলতে লাগলেন
সঠিক উত্তর:
ক) আর মায়াকান্না কেঁদো না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আর মায়াকান্না কেঁদো না
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বলে।
যেমন- আর কত খেলা খেলবে, বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি, আর মায়াকান্না কেঁদো না, ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী।
২৮.
কিসের পরিবর্তে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় না?
  1. বিশেষ্যের পরিবর্তে
  2. বিশেষণের পরিবর্তে
  3. বিশেষ্যপদবন্ধের পরিবর্তে
  4. বাক্যের পরিবর্তে
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের পরিবর্তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের পরিবর্তে
ব্যাখ্যা
সর্বনাম: 
- বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। 
- বিশেষ্যের মতই কারক ও বচন ভেদে তাঁর রূপের পরিবর্তন হয়।
- বিশেষ্য, বিশেষ্যপদবন্ধ, কিংবা বিশেষ্যস্থানীয় বাক্যাংশের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
বিশেষ্যের পরিবর্তে:  ডাক্তার অসুস্থ, তিনি রোগী দেখতে আসবেন না। 

বিশেষ্যপদবন্ধের পরিবর্তে: আমাদের স্কুলের বিতার্কিকরা ঢাকা গেছে। 
                                         তারা টিভি বিতর্কে অংশ নেবে। 

বাক্যের পরিবর্তে:  তুমি কী টের পেয়েছিলে?
                          লোকটা পালিয়ে যাবে, এ আমি আগেই টের পেয়েছিলাম


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২৯.
'মন্দ কথা বলতে নেই।' বাক্যটিতে মন্দ কোন ধরনের পদ?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা

- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
- বাক্যটিতে কথা বিশেষ্য পদ।
- মন্দ কথার দোষ প্রকাশ করেছে।
- তাই বাক্যে মন্দ বিশেষণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০.
জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. বাহিনী
  2. পরিবার
  3. জনতা
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য, সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমষ্টি-বিশেষ্য: 
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩১.
‘পঞ্চায়েত’ শব্দটি কোন পদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) বস্তুবাচক বিশেষ্য
  2. খ) ভাববাচক বিশেষ্য
  3. গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) গুণবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে পদে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি বা প্রাণির সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২.
গুণবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. কবেকার কথা।
  2. নিপুণ কারিগর।
  3. প্রথমা কন্যা।
  4. সবুজ মাঠ।
সঠিক উত্তর:
নিপুণ কারিগর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপুণ কারিগর।
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ছেলেটি চালাক/ চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।
এভাবেই, 'নিপুণ কারিগর' এ কারিগর এর গুণ 'নিপুণ' এর মাধ্যমে গুণবাচক বিশেষণ প্রকাশ পেয়েছে।

অন্যদিকে,
- সর্বনামজাত বিশেষণ - কবেকার কথা বলছ? 
- ক্রমবাচক বিশেষণ - প্রথমা কন্যা।
- রূপবাচক বিশেষণ - সবুজ মাঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩৩.
নিচের কোনগুলি সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. সাগর, পর্বত
  2. আকাশ, বই
  3. মিছিল, পরিবার
  4. আনন্দ,দীনতা
সঠিক উত্তর:
সাগর, পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগর, পর্বত
ব্যাখ্যা
• ‘সাগর, পর্বত’ সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ।

জাতি বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• আকাশ, বই বস্তু-বিশেষ্য এর উদাহরণ।
• আনন্দ, দীনতা গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ।
• মিছিল, পরিবার সমষ্টি - বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)।
৩৪.
‘সামান্য একটু দুধ দাও’—এই বাক্যে ‘সামান্য’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন,
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- অতিশয় মন্দ কথা।
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৫.
‘আর’ এবং ‘আবার’—এই শব্দগুলো কোন শ্রেণির অব্যয়?
  1. বাংলা অব্যয় 
  2. তৎসম অব্যয়
  3. সংস্কৃত অব্যয়
  4. বিদেশি অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা অব্যয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা অব্যয় 
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. মহত্ত্ব
  2. সতীত্ব
  3. সৎ
  4. সৌন্দর্য
সঠিক উত্তর:
সৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ
ব্যাখ্যা
• 'সৎ'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সতিনের সূত্রে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে,
• 'মহত্ত্ব'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- মহতের ভাব,
- উদারতা।

• 'সতীত্ব'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সতী স্ত্রীর ধর্ম।

• 'সৌন্দর্য'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- শোভা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৭.
“সে চুপ ছিল, অথচ সবাই কথা বলছে।” - এখানে 'অথচ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুগামী অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয় 
  4. সংযোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয় 
ব্যাখ্যা

“সে চুপ ছিল, অথচ সবাই কথা বলছে।” - এখানে 'অথচ' সংকোচক অব্যয়।

-----------------
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. মানুষ
  2. মাটি
  3. সভা
  4. পাখি
সঠিক উত্তর:
সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভা
ব্যাখ্যা

• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• জাতিবাচক বিশেষ্য: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
• বস্তুবাচক বিশেষ্য: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯.
কল কল রবে নদী বইছে। এখানে 'কল কল' কোন অব্যয়?
  1. ক) সমুচ্চয়ী
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) অনস্বয়ী
  4. ঘ) অনুকার
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুকার
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যেমন-
স্রোতের ধ্বনি- কল কল,
বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়,
বাতাসের গতি- শন শন,
নূপুরের আওয়াজ- রুম ঝুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় কোনটি?
  1. অধিকন্তু
  2. অথবা
  3. শন শন
  4. যথা-তথা
সঠিক উত্তর:
যথা-তথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা-তথা
ব্যাখ্যা

নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন:
যথা-তথা,
• যখন-তখন,
• যেমন-তেমন,
• যেরূপ-সেরূপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অধিকন্তু - সংযোজক অব্যয়।
- অথবা - বিয়োজক অব্যয়।
- শন শন - অনুকার দ্বিরুক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪১.
কোনটি ক্রমবাচক বিশেষণ? 
  1. আধা
  2. তৃতীয়
  3. আট
  4. ৩৪তম
সঠিক উত্তর:
আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন- তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।
• পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৪২.
নিচের কোনটি নাম পুরুষের উদাহরণ?
  1. ক) তাহারা
  2. খ) আমি
  3. গ) তুমি
  4. ঘ) আপনি
সঠিক উত্তর:
ক) তাহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তাহারা
ব্যাখ্যা
'আমি'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 
 
প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাহারা, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎমামুদ।
৪৩.
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।' এখানে 'মরি মরি' কোন ধরনের অব্যয়? 
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. পদান্বয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

 • অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।

• সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৪.
অব্যয় পদ সম্পর্কে কোন উক্তিটি মিথ্যা?
  1. ক) এটি পরিবর্তন যোগ্য
  2. খ) বাক্যের শোভাবর্ধন করে
  3. গ) একাধিক পদের সংযোগ ঘটায়
  4. ঘ) একাধিক বাক্যের বিয়োগ ঘটায়
সঠিক উত্তর:
ক) এটি পরিবর্তন যোগ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এটি পরিবর্তন যোগ্য
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়য়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয়না তাই অব্যয়। যে পদ অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভাবর্ধন করে, কখনো একাধিক পদ, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায় তাকে অব্যয় পদ বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪৫.
'তাজা মাছ', 'খোঁড়া পা' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. ক) রূপবাচক
  2. খ) গুণবাচক
  3. গ) নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক
  4. ঘ) অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবস্থাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষণের প্রকারভেদ: নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-

⇒ রূপবাচক : কালাে মেঘ, নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
⇒ গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া, চৌকস লোেক।
অবস্থাবাচক : মােটা মেয়ে, রােগা ছেলে, তাজা মাছ, খোঁড়া পা।
⇒ সংখ্যাবাচক : শ টাকা, হাজার লােক, দশ দশা।
⇒ ক্রমবাচক : পঞ্চাশ পৃষ্ঠা, অষ্টম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা। |
⇒ পরিমাণবাচক : এক কেজি চিনি, তিন কিলােমিটার রাস্তা, বিঘাটেক জমি, দশ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ।
⇒ অংশবাচক : ষােল আনা দখল, সিকি পথ, অর্ধেক সম্পত্তি।
⇒ উপাদানবাচক : কাঠের জানালা, পাথরের মূর্তি, বেলে মাটি, মেটে কলসি।
⇒ প্রশ্নবাচক : কেমন অবস্থা? কতদূর পথ? 
⇒ নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক : এই মেয়ে, ষােলই ডিসেম্বর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
'না' শব্দটি?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• না (অব্যয় পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ক্রিয়ার অঘটন বা নিষেধ (এখন যেয়ো না)।
- অভাব (না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি)। 
- অনুরোধ বা অনুজ্ঞা (আমায় করতে দাও না)। আধিক্য (কত না ধন এ জগতে)।
- প্রশ্ন বা সন্দেহ (খাবে না?)।
- বিকল্প (কোনো না কোনো)।
- বিনা (না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে। রবীন্দ্র.)
 
অন্যদিকে,
• না অব্যয় পদ হিসেবে নঞর্থক বাংলা উপসর্গবিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
 
আবার, 
• না বিশেষ্য পদ হিসেবে অঞ্চলিক ভাষায় নৌকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- না নিয়ে গেল বোয়াল-মাছে।
 
তবে ‘না’ শব্দের বহুল ব্যবহার হয় অব্যয় পদ হিসেবেই। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ অব্যয় পদ গ্রহণ করা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৭.
নিচের কোন শব্দটি বিশেষ্য?
  1. চঞ্চল
  2. চতুর
  3. চালাক
  4. চাতুর্য
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
ব্যাখ্যা

• চাতুর্য একটি বিশেষ্য পদ।

বিশেষ্য পদ:
- যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- নীল থেকে সাদা ভালো।
- এখানে 'নীল' এটি বিশেষ্য পদ।

অন্যদিকে,
চঞ্চল, চতুর, চালাক - বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৮.
‘কফির চেয়ে সবুজ চা বেশি উপকারী।’ এই বাক্যে ‘বেশি’ হল-
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. বাক্যের বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা- সামান্য একটু দুধ দাও। রকেট অতি দ্রুত চলে। ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী। 
(বাংলা শব্দে দুটি বস্তুর মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেক, অধিক, বেশি, অল্প, কম, অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয়।)
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
৪৯.
'পছন্দ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক এবং খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'পছন্দ' শব্দটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ উভয়রূপে পাওয়া যায়। 

পছন্দ (বিশেষণ):

- শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ -
- মনের মতো, মনঃপূত, ইচ্ছানুযায়ী মনোনীত,
- নির্বাচিত।

পছন্দ (বিশেষ্য):
অর্থ -
- নির্বাচন,
- মনোনয়ন,
- রুচি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫০.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. উদ্ধত
  2. জাত
  3. গাম্ভীর্য
  4. দাম্ভিক
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্য
ব্যাখ্যা
• 'গাম্ভীর্য' (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গম্ভীর ভাব,
- চপলতার অভাব,
- প্রগাঢ়তা ইত্যাদি।

• গাম্ভীর্য শব্দের বিশেষণ রূপ - গম্ভীর।

অন্যদিকে,
- জাত ও উদ্ধত - বিশেষণ পদ।
- আর ‘দাম্ভিক’ শব্দটি বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫১.
'এই পুকুরের পানি ঘোলা।' - বাক্যটি কোন প্রকার বিশেষণ নির্দেশ করছে?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. বর্ণবাচক বিশেষণ
  4. বিধেয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিধেয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন -
- লোকটা পাগল।
- এই পুকুরের পানি ঘোলা
বাক্য দুটির 'পাগল' ও 'ঘোলা' বিধেয় বিশেষণ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫২.
'ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর' বাক্যে কোন ধরনের আবেগ এর ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) প্রশংসা আবেগ
  2. খ) বিস্ময় আবেগ
  3. গ) সম্বোধন আবেগ
  4. ঘ) অলংকার আবেগ
সঠিক উত্তর:
গ) সম্বোধন আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্বোধন আবেগ
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

⇒ করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৩.
জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত-
  1. ক) সমাজ
  2. খ) পানি
  3. গ) মিছিল
  4. ঘ) পাখি
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাখি
ব্যাখ্যা
যে পদ দ্বারা কোন এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, পাখি, নদী, পর্বত ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৫৪.
'যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।' এখানে 'যত-ততই' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প যোজক
  2. সাপেক্ষ যোজক
  3. সাধারণ যোজক
  4. বিরোধ যোজক
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি

অন্যদিকে,
-------------------
• সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫৫.
'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' - বাক্যে ’বেশ’ কী ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. পূরণবাচক
  3. গুণবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ :
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
- 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

উল্লেখ্য
• বিশেষণ:
- যে শব্দ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, পরিমাণ, রং, সংখ্যা ইত্যাদি বোঝায় বা বর্ণনা করে, তাকে বিশেষণ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৫৬.
নিচের কোন শব্দত্রয় ব্যতিহারিক সর্বনাম?
  1. অন্য, অপর, পর
  2. আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে
  3. সব, সকল, সমুদয়
  4. অন্য, অপর, পর
সঠিক উত্তর:
আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম সমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
১. ব্যাক্তিবাচক বা পুরুষবাচক - আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক - স্বয়ং, খোদ, নিজে, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক - এ, এই, এরা, ইহারা ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক - ঐ, ঐসব ইত্যাদি।
৫. সাকুল্যবাচক - সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক - কে, কি, কী, কোন, কাহার ইত্যাদি।
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক - যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক - অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।
৫৭.
'আমি আজ আলবত যাব।' নিম্নরেখ শব্দটি কোন ধরেনর অব্যয়?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে।

যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

এরূপ শব্দ ব্যবহারে বাক্য-
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৮.
'আমাদের' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সকলবাচক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সর্বনাম
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।

সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
- শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ. ও)।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৫৯.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. মধুর
  2. দর্শন
  3. সুন্দর
  4. তিক্ততা
সঠিক উত্তর:
তিক্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিক্ততা
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য: 
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য - দর্শন।
বিশেষণ পদ - মধুর, সুন্দর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ)।
৬০.
তোমার লেখা ভালো না। বাক্যে 'লেখা' কোন পদ?
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
- লেখা, পড়া, চলা, বলা ইত্যাদি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য।
- উক্ত শব্দগুলো - লেখে, পড়ে, চলে, বলে ইত্যাদি ক্রিয়া থেকে এই শব্দগুলো এসেছে।
- তাছাড়া লেখা একটি কৃদন্ত পদ। লিখ + আ = লেখা
- আর কৃদন্ত পদ বিশেষ্য অথবা বিশেষণ হয়।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬১.
‘দহন’ শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) দাহ্য
  2. খ) দহনকারী
  3. গ) দগ্ধ
  4. ঘ) দাহ্যনীয়
সঠিক উত্তর:
ক) দাহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দাহ্য
ব্যাখ্যা

দহন [দহোন্‌] (বিশেষ্য)
১ দগ্ধকরণ; জ্বালা; পোড়া; দাহ।
২ অগ্নি (বেহান বিকাল যায় দহন সেবনে-কবি কঙ্কণ কুমুন্দরাম চক্রবর্তী)।
৩ ((আলঙ্কারিক)) যন্ত্রণা (হিয়ায় লইতে দহন দ্বিগুণ হয়-চণ্ডীদাস)।

দাহক (বিশেষণ) ; দহনকারী (বিশ্বদহন ক্রোধ)।
দহনক্রিয়া (বিশেষ্য) জ্বলনের কাজ (দহনক্রিয়ার অর্থই হল দ্রুতবেগে অক্সিজেনের সঙ্গে মিলন-শামসুল হক ফজলুর রহমান)।
দাহ্য; দহনীয় (বিশেষণ)  দহনের উপযুক্ত; দহনযোগ্য।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) √দহ্‌+অন(ল্যুট্‌)}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান

৬২.
কোনটি ক্রিয়াজাত বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) বেকার
  2. খ) খাবার পানি
  3. গ) হাসিহাসি মুখ
  4. ঘ) জানাশোনা লোক
সঠিক উত্তর:
খ) খাবার পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খাবার পানি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত বিশেষণের উদাহরণ হলো- খাবার পানি, হারানো সম্পত্তি, অনাগত দিন, ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬৩.
তর, তম, তন প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণ পদের অন্ত ‘অ’ এর উচ্চারণ কীরূপ হয়?
  1. বিবৃত হয়
  2. প্রকৃত হয়
  3. সংবৃত হয়
  4. অপ্রকৃত হয়
সঠিক উত্তর:
সংবৃত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবৃত হয়
ব্যাখ্যা

তর, তম, তন প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণ পদের অন্ত ‘অ’ সংবৃত হয়।
- সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারেই বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের মধ্যে আকর্ষিত রয়েছে। 

অ - ধ্বনির দুই রকম উচ্চারণ।
- বিবৃত বা স্বাভাবিক উচ্চারণ। যেমন : অমল, অনেক, কত।
- সংবৃত বা ও - ধ্বনির মতো উচ্চারণ। যেমন : ওধীর, ওতুল, মোন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি)

৬৪.
’তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন’- এখানে 'করাচ্ছেন' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ’তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন’- এখানে 'করাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।
---------------------------
• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন;
রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬৫.
নিচের কোনটি বিশেষণ?
  1. চাষি
  2. চালাকি 
  3. জ্ঞানী 
  4. মানুষ 
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানী 
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানী (বিশেষণ পদ)। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 


অন্যদিকে, 
• চাষি (বিশেষ্য পদ)। 
অর্থ: ভূমিকর্ষণ যার পেশা, কৃষক।

• চালাকি (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ: চাতুরী, চালবাজি। ২ কৌশল, ফন্দি।

• মানুষজন (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ: অনেক লোক, লোকজন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৬৬.
বিশেষ্য পদ নয় কোনটি?
  1. বীরত্ব
  2. সুখ
  3. তাজা 
  4. গমন
সঠিক উত্তর:
তাজা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজা 
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয়- তাজা। 

• তাজা (বিশেষণ পদ)। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সদ্যপ্রাপ্ত, নতুন (তাজা খবর)।
- টাটকা (তাজা সবজি)।
- জীবন্ত; প্রাণবন্ত, প্রফুল্ল (তাজা প্রাণ)।

--------------------
বিশেষ্যের উদাহরণগুলো হলো:
• নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, অগ্নিবীণা- এই উদাহরণগুলো সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।
• মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী- এই উদাহরণগুলো জাতিবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• বই, খাতা, কলম, লোহা, জল, চিনি- এই উদাহরণগুলো দ্রব্যবাচক বা বস্তুবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• সভা, সমিতি, জনতা, মাহফিল, দল, পাল- এই উদাহরণগুলো সমষ্টিবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে। 
• গমন, দর্শন, ভোজন- এই উদাহরণগুলো ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বা অবস্থাবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।
• তারুণ্য, সৌন্দর্য, বীরত্ব, যৌবন, দুঃখ, সুখ-এই উদাহরণগুলো গুণবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৬৭.
কোনটি বাংলা অব্যয় শব্দ?
  1. ক) মাইরি
  2. খ) আবার
  3. গ) আপাতত
  4. ঘ) খুব
সঠিক উত্তর:
খ) আবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবার
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় (উত্স অনুযায়ী) তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
বাংলা অব্যয় শব্দঃ আর, আবার, ও, হাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দঃ যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশী অব্যয় শব্দঃ আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৬৮.
‘কি’, ‘যে’, ‘বা’ - প্রভৃতি কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯.
কোন শব্দটি বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. আগ্নেয়
  2. লাজুক
  3. উন্নয়ন
  4. চালাক
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• 'উন্নয়ন'- শব্দটি বিশেষ্য। 
- উন্নয়ন এর বিশেষণ পদ- উন্নীত।
-----------------
অন্যদিকে, 
আগ্নেয় - বিশেষণ শব্দ।
লাজুক - বিশেষণ শব্দ।
চালাক - বিশেষণ শব্দ।
---------------
• বিশেষ্য পদ:
- যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- নীল থেকে সাদা ভালো।
- এখানে 'নীল' এটি বিশেষ্য পদ।
 
• বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭০.
'তার হাতের কাজ খুব নিখুঁত'- এখানে 'খুব' কী পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• যে পদ বাক্যের অন্য কোন পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
- অর্থাৎ, বিশেষণ পদ অন্য কোন পদ সম্পর্কে তথ্য বা ধারণা প্রকাশ করে, বা অন্য পদকে বিশেষায়িত করে।
-  বিশেষণ অনেক ধরণের হতে পারে; বিশেষণের বিশেষণ নামেও এক ধরণের বিশেষণ আছে।
- কোন বিশেষণ যদি অন্য একটি বিশেষণকেও বিশেষায়িত করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে।

প্রশ্নোক্ত বাক্যের 'খুব' শব্দটি 'ভাল' শব্দকে বিশেষিত করেছে।
তাই 'খুব' শব্দটি বিশেষণের বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭১.
বুদ্ধিমান-এর বিশেষ্য পদ কি?
  1. বুদ্ধি
  2. বুদ্ধিত্ব
  3. বোদ্ধা
  4. বুদ্ধিজীবী
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি
ব্যাখ্যা
• 'বুদ্ধিমান' শব্দটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটির বিশেষ্য পদ - বুদ্ধি।

অন্যদিকে,
- 'বোদ্ধা' শব্দটি বিশেষণ পদ।
- 'বুদ্ধিজীবী' শব্দটি বিশেষণ পদ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭২.
"বৃষ্টি হচ্ছে, তবুও আমি স্কুলে যাব।" - এখানে 'তবুও' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• "বৃষ্টি হচ্ছে, তবুও আমি স্কুলে যাব।" - এখানে 'তবুও' অব্যয় পদ।

• 'তবুও' বলতে বোঝায় - তথাপি, তা সত্ত্বেও।

• অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

এগুলো হলো - 
• বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
• তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
• বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩.
নিচের কোনটি বিদেশী অব্যয়?
  1. ক) শাবাশ
  2. খ) খুব
  3. গ) বরং
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি। যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং ইত্যাদি তৎসম অব্যয় শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৭৪.
বাক্যের কোন পদটি সর্বদা ধ্রুব?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. সর্বনাম পদ
  3. অব্যয় পদ
  4. ক্রিয়াপদ
সঠিক উত্তর:
অব্যয় পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয় পদ
ব্যাখ্যা

 অব্যয় পদ:
যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম - দশম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।

৭৫.
‘এমনভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পারে’ বাক্যে কী ধরণের অব্যয়ের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) সংযোজন
  2. খ) বিয়োজক
  3. গ) অনুগামী সমুচ্চায়ী
  4. ঘ) সংকোচন
সঠিক উত্তর:
গ) অনুগামী সমুচ্চায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুগামী সমুচ্চায়ী
ব্যাখ্যা
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

যেহেতু প্রশ্নে 'যেন' ব্যবহৃত হয়েছে যা সমুচ্চায়ী অব্যয়।
৭৬.
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. ক) খাতা
  2. খ) মাহফিল
  3. গ) পাখি
  4. ঘ) ঢাকা
সঠিক উত্তর:
খ) মাহফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাহফিল
ব্যাখ্যা
যে পদে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি বা প্রাণির সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৭৭.
'অলস' এর বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. অলসতা
  2. আলস্য
  3. আলসে
  4. আলসেমী
সঠিক উত্তর:
আলস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলস্য
ব্যাখ্যা
• 'অলস' এর বিশেষ্য পদ - আলস্য
 
অন্যদিকে,
- 'আলসে' - বিশেষণ পদ।
- 'আলসেমি' - বিশেষ্য পদ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৮.
কোনটি অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় এর উদাহরণ?
  1. অথচ
  2. যদিও
  3. বরং
  4. সুতরাং
সঠিক উত্তর:
যদিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদিও
ব্যাখ্যা

• অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৭৯.
নিচের কোনটি বিশেষণ নয়?
  1. ক) তুমি কী খাবে?
  2. খ) কবেকার গল্প মারছ!
  3. গ) তদীয় বইয়ের প্রতি আমার কোনো লোভ নেই।
  4. ঘ) স্বীয় উদ্যোগে প্রস্তুতি গ্রহণ করো।
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি কী খাবে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি কী খাবে?
ব্যাখ্যা
প্রশ্নবোধক সর্বনাম: মূলত সর্বনাম। প্রশ্নবোধক সর্বনামে যে প্রশ্ন থাকে তার উত্তর হিসেবে কোনো বিশেষ্যের নাম আসে।
সর্বনামজাত বিশেষণ: সর্বনামের সঙ্গে ‘ঈয়’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে অথবা কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্নবোধক সর্বনাম: শব্দটি দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝাবে, অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের পরিবর্তে বসে।
সর্বনামজাত বিশেষণ: শব্দটি দ্বারা সাধারণত কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত করবে।

প্রশ্নবোধক সর্বনাম: সাধারণত শব্দটির পরে ক্রিয়া থাকে।
সর্বনামজাত বিশেষণ: সাধারণত শব্দটির পরে বিশেষ্য থাকে। 

প্রশ্নবোধক সর্বনাম: 
- ওখানে কে
- তুমি কাকে চাও? 
- কারা পড়ে আসেনি?
- তুমি কোথায় যাবে?
- তুমি কী খাবে?

সর্বনামজাত বিশেষণ: 
- অন্য লোকের দিকে তাকিয়ো না। 
- কত দিন না খেয়ে থাকবে?
- কবেকার কথা বলছ? একটু স্পষ্ট করে বলো।
- তদীয় সম্পত্তিতে আমার কোনো লোভ নেই। 
- স্বীয় উদ্যোগে করিম সাহেব কাজটি করলেন।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৮০.
'সাতজন লোক' – এখানে 'সাত' কোন পদ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. সংখ্যাবাচক বিশেষণ
  3. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক বিশেষণ
  4. উপাদানবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• 'সাতজন লোক' - এখানে 'সাতজন' - সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮১.
গুণ- বিশেষ্য কোনটি?
  1. লবণ
  2. ধৈর্য
  3. জনতা
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
ধৈর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধৈর্য
ব্যাখ্যা

• 'ধৈর্য'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ। 

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮২.
কোনটি নির্দেশক সর্বনাম?
  1. একজন
  2. কিছু
  3. এরা
  4. কোথাও
সঠিক উত্তর:
এরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরা
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।

যেমন:
- নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ সর্বনাম - যেমন- তেমন।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কোথাও, কিছু, একজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৩.
‘সুতরাং’ শব্দটি কী পদ?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। যেমন- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৮৪.
'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!' -বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

• বাক্যে ব্যবহার: 'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

• প্রশ্নে আলোচিত বাক্য- 'তুমি তাে ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’
- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৫.
"খাবার পানি" - এখানে, 'খাবার' কোন ধরনের বিশেষণ পদ?
  1. ক্রিয়াজাত 
  2. অব্যয়জাত  
  3. সর্বনাম জাত 
  4. অনুকার অব্যয়জাত 
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত 
ব্যাখ্যা

• "খাবার পানি" - এখানে, 'খাবার' ক্রিয়াজাত বিশেষণ পদ।

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত - হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত - আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনামজাত - কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ - বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক - হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত - কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৮৬.
‘আড়াই বছর বয়স মাত্র তার’- বাক্যে ‘আড়াই’ শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘আড়াই বছর বয়স মাত্র তার’- বাক্যে ‘আড়াই’ শব্দটি পরিমাণ-মাত্রাবাচক বিশেষণ

বিশেষণ পদ:
বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর পরিমাণ, সংখ্যা, সম্বন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ করে তখন শব্দের অর্থ সীমিত হয়ে যায়।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৭.
'গুরুত্ব' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

 গুণবাচক-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• গুরুত্ব (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- মনোযোগ আকর্ষণের যোগ্যতা।
- মূল্য, তাৎপর্য; ওজন।
- মহত্ত্ব, মাহাত্ম্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮৮.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. একটু ঘুরে আসুন না!
  2. গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।
  3. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  4. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
সঠিক উত্তর:
গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।

অন্যদিকে,
- 'একটু ঘুরে আসুন না!' পদাণু ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।' ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।' স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৯.
ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চলন্ত গাড়ি
  2. খ) নীল আকাশ
  3. গ) দ্রুত চল
  4. ঘ) করুণাময় তুমি
সঠিক উত্তর:
গ) দ্রুত চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্রুত চল
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া বিশেষণ : যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা -
ক. ক্রিয়া সংঘটনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৯০.
'তাৎপর্য' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. বিশেষণ পদ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য পদ
ব্যাখ্যা

• গুণবাচক-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• তাৎপর্য: (বিশেষ্য পদ)
অর্থ:
- গূঢ় অর্থ, মর্মার্থ, ভাবার্থ।
- গুরুত্ব।
-অভিপ্রায়। (বিশেষ্য পদ),

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯১.
নিচের কোনটি বিশেষণ?
  1. অধুনা
  2. অভ্যুত্থান
  3. আকর
  4. আকাল
সঠিক উত্তর:
অধুনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধুনা
ব্যাখ্যা

অপশন বিশ্লেষণ:
ক) অধুনা → বর্তমানে / এখন (ক্রিয়া বিশেষণ)।
খ) অভ্যুত্থান → বিদ্রোহ / আন্দোলন (বিশেষ্য)।
গ) আকর → উৎস / ভাণ্ডার (বিশেষ্য)।
ঘ) আকাল → অন্নাভাব / দুর্ভিক্ষ (বিশেষ্য)।

এদের মধ্যে কোনোটি প্রকৃত বিশেষণ নয়।
রিয়েল জবের পরীক্ষা বিধায়, অপশন বিবেচনায় সবচেয়ে কাছাকাছি উত্তর ক) অধুনা নেওয়া হয়েছে, যদিও এটি বিশেষণ নয়, ক্রিয়া বিশেষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯২.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. ইচ্ছা
  2. অনিচ্ছা
  3. ইচ্ছাময়
  4. ঐচ্ছিক
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - ঐচ্ছিক
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,ইচ্ছানুযায়ী।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - ইচ্ছাময়, অনিচ্ছা, ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯৩.
'পূণ্যে মতি হোক।' বাক্যে 'পূণ্যে' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• 'পূণ্যে মতি হোক।' বাক্যে 'পূণ্যে' বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

- সাধারণত 'পূণ্য' শব্দটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এই বাক্যে 'পূণ্যে' গুণবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
- যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৪.
কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত?
  1. জনতা
  2. মানুষ
  3. সভা
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৫.
নিচের কোনটি কালনাম বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. আকাশ
  2. বৈশাখ
  3. সঞ্চিতা
  4. হিমালয়
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ
ব্যাখ্যা
• কালনাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য- বৈশাখ।
--------------------------------------
• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন
•  ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
• স্থাননাম: ঢাকা,বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
• কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
• সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে,
• স্থাননাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য - হিমালয়,
• সৃষ্টিনাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য - সঞ্চিতা।
• বস্তুবাচক -বিশেষ্য - আকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৯৬.
'সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন'। এখানে 'আপে' অর্থ কি?
  1. ক) আগে
  2. খ) সম্পূর্ন
  3. গ) স্বয়ং
  4. ঘ) পুরোপুরি
সঠিক উত্তর:
গ) স্বয়ং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বয়ং
ব্যাখ্যা
কবি আবদুল হাকিমের বঙ্গবাণী কবিতার একটি লাইন হলো- ‘সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন’। এখানে ‘আপে’ শব্দের অর্থ- স্বয়ং।
৯৭.
‘তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে’- এখানে ‘যে’ কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অনন্বয়ী অব্যয়
  2. খ) অনুসর্গ অব্যয়
  3. গ) অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
৯৮.
কোন পদ দুটির ‘পুরুষ’ নাই?
  1. ক) বিশেষ্য ও ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ ও অব্যয়
  4. ঘ) সব পদেরই পুরুষ রয়েছে
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণ ও অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণ ও অব্যয়
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পুরুষ আছে; অন্যদিকে বিশেষণ ও অব্যয় পদের পুরুষ নাই।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৯.
"শ্রবণ" কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. শ্রেণিবাচক
  2. নামবাচক
  3. ভাববাচক
  4. সমষ্টিবাচক
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১০০.
বাংলায় কোন পদের ক্ষেত্রে পুরুষ হয় না?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বাংলায় — বিশেষণ পদের পুরুষ হয় না।  

সর্বনামের পুরুষ:
'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ার পুরুষ আছে। 
- বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই।

ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথা- 
১। উত্তম পুরুষ- আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি। 
২। মধ্যম পুরুষ- তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনার, আপনাদের ইত্যাদি। 
৩। নাম পুরুষ- সে, তারা, তাহারা, তাদের, তিনি, তাঁকে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।