বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩৭ / ৩৯ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ৩,৮২৯

৩,৬০১.
E-Governance-এর ফলে কোনটি হ্রাস পায়?
  1. দক্ষতা
  2. দুর্নীতি
  3. জবাবদিহিতা
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance ।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৬০২.
প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া কোন ধরণের অধিকার?
  1. সামাজিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. নৈতিক
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার বলতে আমরা সে সব অধিকারকে বুঝি যা নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত।
- সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উদ্ভব।

যেমন:-
→ দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার।
প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া।
→ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণপোষণের অধিকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীত ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৩,৬০৩.
বিশ্বব্যাংক কত সালে "Governance and Development" প্রতিবেদনে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও বিশ্বব্যাংক:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থা, যা আইনের শাসন নিশ্চিত করে এবং দেশের জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৬০৪.
টমাস হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ কোন গ্রন্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
  1. Parables of the East
  2. Moral & Justice
  3. The prince
  4. Leviathan
সঠিক উত্তর:
Leviathan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Leviathan
ব্যাখ্যা
টমাস হবস:
- টমাস হবস একজন ইংরেজ দার্শনিক।
- তিনি তার রাজনৈতিক দর্শনের কারণে বিশ্বব্যাপী খ্যাত।
- ১৬৫১ সালে প্রকাশিত Leviathan গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক দর্শনের গোড়াপত্তন করে।

⇒ হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ: Leviathan গ্রন্থে ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী টমাস হবস সামাজিক চুক্তি মতবাদের ব্যাখ্যা দেন। হবস তাঁর ব্যাখ্যায় মানব চরিত্রের হতাশাবাদী ও স্বার্থপর চিত্র অঙ্কন করেন।
• হবসের মতে, মানুষ জড় পদার্থের বেশি কিছু নয়। স্বার্থপরতা দ্বারা সে পরিচালিত হয়। আকাঙ্ক্ষা ও বিতৃষ্ণা মানুষের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল। মানুষ মাত্রই লোভী এবং আত্মকেন্দ্রিক।
• প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে তার অভিমত, প্রকৃতির রাজ্যে সর্বক্ষণ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করত। প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের জীবন ছিল- নিঃসঙ্গ, হতভাগ্য, জঘন্য, পাশবিক ও সংক্ষিপ্ত। আদিম নৃশংসতা ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে কোন আইন ও ন্যায়বিচার ছিল না। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রকৃতি রাজ্যের মানুষেরা নিজেদের অধিকার পরিত্যাগ করে শাসক কর্তৃপক্ষের কাছে (রাজার কাছে) তা হস্তান্তর করে। চুক্তি হয় জনগণের মধ্যে। রাজা বা শাসক চুক্তির অংশ নয়। যে কারণে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ রাজার বিরুদ্ধে করা যাবে না।

⇒ এভাবে হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। যেখানে রাজা বা শাসকের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা চুক্তির ফলে জনগণের কোন অধিকার থাকে না রাজাকে নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহি করার। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনৈতিহাসিক, অযৌক্তিক এবং সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের নীল নকশা।

উল্লেখ্য, তার প্রকাশিত গ্রন্থাবলী হলো:
- The Media of Europides,
- Decorpore,
- Hoprinc,
- Decive,
- The elements of Laws,
- Leviathan.

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩,৬০৫.
জনগণ ও সরকারের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করে তোলে কোনটি?
  1. ই-গভর্ন্যান্স
  2. আমলাতন্ত্র
  3. স্থানীয় সরকার নির্বাচন
  4. তথ্য কেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্ন্যান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্ন্যান্স
ব্যাখ্যা

ই-গভর্ন্যান্স সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করে তোলে।

ই-গভর্নেন্স:

- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৬০৬.
“ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না” উক্তিটি করেন -
  1. ক) হার্বার্ট স্পেন্সার
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) সি জে ফক্স
  4. ঘ) অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
গ) সি জে ফক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সি জে ফক্স
ব্যাখ্যা
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পরের পরিপূরক।
- যেকোন নৈতিক আদর্শ নাগরিক দ্বারা স্বীকৃত হলে রাষ্ট্র সহজেই সেটাকে আইনে পরিণত করতে পারে।
- আবার রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত হলেও কোন আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে।
- এ প্রসঙ্গে সি জে ফক্স বলেন, “ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না।” 

পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬০৭.
মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে কী থেকে বিরত রাখে?
  1. সততা
  2. দায়িত্ববোধ
  3. সহমর্মিতা
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড তথা মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়। মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও সততার অভাবে সুশাসন ভেঙে পড়ে। মূল্যবোধ শিক্ষা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অন্যায় হ্রাস করে যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। মূল্যবোধ মানুষকে নিয়ম মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে সততা, সততা, ও নৈতিকতার মাধ্যমে দুর্নীতি থেকে দূরে রাখে। এটি ছোটবেলা থেকেই ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ, এবং সামাজিক জবাবদিহিতার চর্চা নিশ্চিত করে, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৬০৮.
সামাজিক মূল্যবোধ পরিবর্তনের কারণ কোনটি?
  1. ক) শিল্পায়ন
  2. খ) শিক্ষা উন্নয়ন
  3. গ) নগরায়ন
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সমাজ পরিবর্তনের সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে। এর অন্যতম কারণ হলো শিক্ষার উন্নয়ন, শিল্পায়ন, নগরায়ন, প্রযুক্তির বিকাশ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬০৯.
রাজনৈতিক দুর্বলতার ফলে বাংলাদেশে কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? 
  1. গণতন্ত্র
  2. আমলাদের কর্তৃত্ববাদ
  3. শক্তিশালী সুশীল সমাজ
  4. সামরিক শাসন
সঠিক উত্তর:
আমলাদের কর্তৃত্ববাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলাদের কর্তৃত্ববাদ
ব্যাখ্যা

আমলাতান্ত্রিকতা ও দুর্বল সুশীল সমাজ: 
- রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশে আমলাদের কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- তাঁরা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী ক্ষমতা ও নীতিমালা প্রয়োগ করছে।
- দেশের সুশীল সমাজ অত্যন্ত দুর্বল।
- তারা অনেক বিষয়ে রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করে সরকারের বিভিন্ন অন্যায় কার্যক্রমের সমালোচনা না করে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- বাংলাদেশের সুশীল সমাজ কার্যত সরকার ও বিরোধী দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
- ফলত সুশীল সমাজ কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬১০.
নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে কী বলে?
  1. শুদ্ধাচার
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধাচার
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে।
- নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
- নৈতিকতার লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান সততা ও নিষ্ঠা।
- নীতির বিপরীত হলো দুর্নীতি।
- নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে শুদ্ধাচার বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৩,৬১১.
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. সামাজিক ন্যায় বিচার
  3. মূল্যবোধ
  4. পরিবার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ন্যায় বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ন্যায় বিচার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজি ন্যায়বিচারের অর্থ ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-নির্ধনের সকলের প্রতি বিচারের মানদন্ড এক ও অভিন্ন।
- আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে।
- গনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি সামাজিক ন্যায়বিচার।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৬১২.
বিশ্বব্যাংকের কোন প্রেসিডেন্ট প্রথম 'Good Governance' শব্দটি ব্যবহার করেন?
  1. Barber Conable
  2. Jim Yong Kim
  3. Eugene Meyer
  4. George Woods
সঠিক উত্তর:
Barber Conable
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Barber Conable
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance। সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

⇒ সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল (Barber Conable) প্রথম সুশাসন শব্দটি ব্যবহার করেন।

উৎস: i) বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 
৩,৬১৩.
“সুশাসন একটি জাতির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে”— কে বলেছেন?
  1. বারবার কোনাবল
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. জেফ্রি স্যাচস
সঠিক উত্তর:
ল্যান্ডেল মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যান্ডেল মিল
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

- মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, সুশাসন বিষয়ক তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস সুশাসনের গুরুত্ব বুঝাতে ''রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক''।
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) বলেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৬১৪.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান কোনটি?
  1. শ্রমের মর্যাদা
  2. রাজনীতি চর্চা
  3. সামাজিক সাম্য 
  4. আইনের অপপ্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
শ্রমের মর্যাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রমের মর্যাদা
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও
পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- আইনের শাসন, নৈতিকতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:  i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬১৫.
সুশাসন নিম্নের কোন ধারণা নির্মাণ করে না?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. নৈতিক
  4. সাংস্কৃতিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।

⇒ এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: 
- রাজনৈতিক সুশাসন,
- সামাজিক সুশাসন,
- অর্থনৈতিক সুশাসন এবং
- সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উল্লেখ্য,
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।
- তৃতীয় বিশ্বে সুশাসনের সমস্যাকে সব সমস্যার মূল কারণ হিসাবে সনাক্ত করেছে দাতারা।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬১৬.
শিক্ষা সম্পর্কে দার্শনিক সক্রেটিসের মতবাদ কোনটি?
  1. শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার
  2. সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হচ্ছে শিক্ষা
  3. শিক্ষা হচ্ছে মানুষের শক্তি ও সামর্থ্যের স্বাভাবিক, প্রগতিশীল ও নিয়মানুগ বর্ধন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ
  4. শিক্ষা হচ্ছে সেই শক্তি, যার দ্বারা সঠিক সময়ে আনন্দ ও বেদনা অনুভূতিবোধ জন্মায়
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার
ব্যাখ্যা
শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন শিক্ষাবিদের মতামত:
- শিক্ষা শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক ও জটিল।
- বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন দেশে শিক্ষাবিদ ও দার্শনিকরা আপন আপন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শিক্ষার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

⇒ সক্রেটিসের মতে,
- "শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার।"

⇒ দার্শনিক প্লেটোর (Plato) মতে,
- শিক্ষা হচ্ছে সেই শক্তি, যার দ্বারা সঠিক সময়ে আনন্দ ও বেদনা অনুভূতিবোধ জন্মায়।
- এটি শিক্ষার্থীর দেহে-মনে সকল সুন্দর ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করে তোলে।

⇒ দার্শনিক এরিস্টটলের (Aristotle) মতে,
- সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হচ্ছে শিক্ষা।
- শিক্ষা দেহ-মনের সুষম এবং পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনের প্রকৃত মাধুর্য ও পরম সত্য উপলব্ধিতে সহায়তা করে।

⇒ হেনরিক পেস্টালৎসীর মতে,
- "শিক্ষা হচ্ছে মানুষের শক্তি ও সামর্থ্যের স্বাভাবিক, প্রগতিশীল ও নিয়মানুগ বর্ধন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ।

মহাত্মা গান্ধী বলেন,
- "শিক্ষা হলো শিশু ও মানুষের দেহ, মন ও আত্মার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গুণগুলোর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ।

রুশো মন্তব্য করেন,
- "আমরা অভাবের মধ্যে অসহায় অবস্থায় জন্মগ্রহণ করি।
- শিক্ষা দ্বারা আমাদের অভাব পূরণ হয়।
- প্রকৃতি, বস্তু ও মানুষের নিকট হতে আমরা শিক্ষা লাভ করি।"

উৎস: মাধ্যমিক শিক্ষা, ব্যাচেলর অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬১৭.
ব্যক্তির কোন আচরণের উপর সামাজিক মূল্যবোধ প্রভাব বিস্তার করে?
  1. ধর্মীয়
  2. ব্যক্তিগত
  3. রাজনৈতিক
  4. সাংস্কৃতিক
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা

⇒ ব্যক্তির ব্যক্তিগত আচরণের উপর সামাজিক মূল্যবোধ প্রভাব বিস্তার করে

সামাজিক মূল্যবোধ:

- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬১৮.
মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হয় কোথায়?
  1. বিদ্যালয়ে
  2. পরিবারে
  3. সমাজে
  4. ধর্মীয় সংগঠনে
সঠিক উত্তর:
পরিবারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবারে
ব্যাখ্যা

পরিবার ও সামাজিক মুল্যবােধ:
- পরিবার হলো মানুষের সেই প্রতিষ্ঠান যেখানে এক বা একাধিক পুরুষ ও মহিলা তাদের সন্তান, পিতা-মাতা এবং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করেন।
- পরিবার তাদের সদস্যদের পারিবারিক আদর্শ, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি শেখায়।
- পরিবার শিশুদের প্রথম শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের জায়গা।
- এখানে তারা মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রাথমিক ধারণা পায় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আচরণ শেখে।
- অর্থাৎ, একজন মানুষের মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রথম বিকাশ ঘটে পরিবারের মধ্যে।
- পরিবারে শিশুদের নৈতিক চেতনা গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে বিদ্যালয়, সমাজ, এবং রাষ্ট্রের মাধ্যমে আরও বিকশিত হয়।

অন্যদিকে,
- বিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মূল্যবোধ শিক্ষার আনুষ্ঠানিক/প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম।
- পরিবার শাশ্বত ও চিরন্তন প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬১৯.
‘আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ‘ - উক্তিটি কার?
  1. টমাস হবস
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. স্যাভিলি
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
ব্যাখ্যা
• আইনের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- আইনের সাধারণ অর্থ হলো নিয়ম-কানুন বা বিধি-বিধান।
- ফার্সি 'আইন' শব্দটির অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law', ইংরেজি Law শব্দটির আভিধানিক উৎপত্তি টিউটনিক মূল শব্দ 'Lag' থেকে।
- Law শব্দের অর্থ ‘স্থির' বা 'অপরিবর্তনীয়' এবং 'সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য'।
- সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো রাষ্ট্রও একটি প্রতিষ্ঠান। সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছাড়া রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
- সমাজজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুস্থ রাষ্ট্রীয় জীবনযাপনের জন্য মানুষকে কিছু কিছু বিধি-নিষেধ ও নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। এসব বিধি-নিষেধ বা নিয়ম-কানুনকে আইন বলে।
সুতরাং আইন হচ্ছে ব্যক্তির আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
========================
• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা:
 → এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason.)।
 → টমাস হবস, জ্যাঁ বোঁদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।
 → টমাস হব্‌স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
 → অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 
 → জন অস্টিন (John Austin) বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।” 

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৬২০.
‘দলীয় সংগঠনবিহীন’- এটি কার বৈশিষ্ট্য?
  1. সংসদ
  2. সরকার
  3. রাজনৈতিক দল
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি, যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে। এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে। নিম্নে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলঃ
১। দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই। এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়। সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য।

২। দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই। এটি নির্দলীয় সংগঠন। এরা শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

৩। নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না। তবে অনেক সময় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অর্থ কিংবা জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়াও কোন কোন দেশে চাপসৃষ্টিকারী কোন কোন গোষ্ঠীকে পছন্দের দলের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে দেখা যায়।

৪। সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

৫। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না। তবে পরোক্ষভাবে রাজনীতিক নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। আর এ যোগাযোগের ভিত্তিতে তারা প্রভাব বিস্তার করে।

৬। সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর এ সমজাতীয় মনোভাবের মূলে রয়েছে তাদের স্বার্থ। কেননা সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন না হলে তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়।

৭। বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ। চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক সরকারি স্বীকৃতিও সাধারণত থাকে না।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬২১.
সার্বজনীন মানবাধিকার গৃহীত হয় কবে?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  2. ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  3. ১৪ মে, ১৯৪৮
  4. ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
সঠিক উত্তর:
১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• মানবাধিকারের ধারণা:
- অধিকারবোধ থেকে মানবাধিকারের উৎপত্তি হয়েছে।
- মানবাধিকার বলতে সেসব আইনগত ও নৈতিক অধিকারকে বোঝায়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সমগ্র বিশ্বের মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার। প্রতিটি মানুষ এ অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ঘোষণাপত্রে মানবাধিকার সংক্রান্ত কতগুলো সাধারণ নীতি রয়েছে। যেমন:
১. সকল মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
২. সকল মানুষ যেকোন প্রকার পার্থক্য, যথা: জাতি, গোত্র, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, মতাদর্শ, জাতীয় ও সামাজিক পরিচিতি, সম্পত্তি, জন্ম বা অন্য কোন মর্যাদা নির্বিশেষে ঘোষণায় উল্লেখিত সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের অধিকারী।
৩. মানবাধিকার সমগ্র বিশ্বের সর্বস্থানে সর্বকালের সকল মানুষের প্রাপ্য।
৪. বিশ্বের যেকোন রাষ্ট্রের নাগরিককে তাঁর দেশের বা আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোন পার্থক্য করা হবে না। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২২.
নিচের কোনটি গণতন্ত্রের গুণ নয়?
  1. ক) গণভোট
  2. খ) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  3. গ) সাম্য ও স্বাধীনতা সংরক্ষণ
  4. ঘ) ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ
সঠিক উত্তর:
ক) গণভোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গণভোট
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক পদ্ধতির একটি হলো গণভোট। গণতন্ত্রের গুণ হলোঃ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা,সাম্য ও স্বাধীনতা সংরক্ষণ, ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ,রাষ্ট্র পরিচালনায় সকলের অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৬২৩.
আইনের অনুশাসন বিষয়ে 'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক হেনরী মেইন
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. জন অস্টিন
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
​- অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো: 
​ক. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান
​খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা, 
​গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।

​- এই শর্ত তিনী মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর হয়েছে।
​- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৬২৪.
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে প্রশাসন _________ নিমজ্জিত হয়।
  1. মূল্যবোধে
  2. ব্যর্থতায়
  3. অনাচারে
  4. দুর্নীতিতে
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতিতে
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি হলো 'নীতি' বহির্ভূত কাজ।
- যেসব কাজ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় বহন এবং সামাজিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সমাজের সংহতি ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে তাকে দুর্নীতি বলে।
- দুর্নীতি রাষ্টীয় তথা জাতীয় জীবনের জন্য অভিশাপ।

⇒ বাংলাদেশে দুর্নীতির প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
- দেশে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সমীক্ষায় বাংলাদেশ পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
- বাংলাদেশের যে ক্ষেত্রে দুর্নীতি অধিক হারে ঘটে থাকে সেগুলো হচ্ছে -
১. রাজনৈতিক;
২. প্রশাসনিক;
৩. সেবা খাত: স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা, পুলিশি সেবা, বিচার বিভাগ, শিক্ষা;
৪. অর্থনৈতিক ক্ষেত্র: উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শুল্ক, কর ও ভ্যাট, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন;
৫. বেসরকারি ও অন্যান্য ক্ষেত্র।

⇔ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনাবদিহিতার অভাব:
- গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে প্রশাসনযন্ত্র দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
- এক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনৈতিক কাজ করা, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসনকে যথেচ্ছা ব্যবহার করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়।
- এতে দেশের বৃহৎ স্বার্থ উপেক্ষিত থাকে। দুর্বল, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২৫.
'The Problem of Philosophy' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. থমাস হবস
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. নিকোলা ম্যাকিয়াভেলী
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- নোবেল পুরস্কার পায় - ১৯৫০ সালে।
▪ 'The Problem of Philosophy' গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।

তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- Power: A New Social Analysis, 
- The Problem of Philosophy, 
- Religion and Science, 
- The Analysis of Mind, 
- Marriage and Morals, 
- Political Ideals, 
- Logic and knowledge.

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৩,৬২৬.
যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে কী ঘটে?
  1. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নত হয়
  2. জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ে
  4. সুশাসন বিঘ্নিত হয়
সঠিক উত্তর:
সুশাসন বিঘ্নিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন বিঘ্নিত হয়
ব্যাখ্যা
যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে সুশাসন বিঘ্নিত হয়।

নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
- গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
- নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- জনগণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করে, জাতিকে উন্নতির দিকে অগ্রসর করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব আবশ্যক।
- জনপ্রিয় নেতা ও যোগ্য নেতৃত্বই গণতন্ত্রের বাহন।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৬২৭.
‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’ — এই উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. অধ্যাপক গার্নার
  4. অধ্যাপক স্পেন্সার 
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা

‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’:
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।

উল্লেখ্য,
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’ (Equality before the law) উক্তিটি ব্রিটিশ আইনবিদ অধ্যাপক এ. ভি. ডাইসি (A.V. Dicey) করেছেন
- তিনি তার "Rule of Law" বা আইনের শাসন নীতির অধীনে এই ধারণাটি প্রবর্তন করেন।
- এটি আইনের সামনে সকলের সমতার কথা বলে
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।

• মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়। ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তি বিরাজ করে।  আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
 ii) Britannica.

৩,৬২৮.
লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জন্য প্রয়োজন -
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সামাজিক উন্নয়নে সুশাসন:
- সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসন অপরিহার্য।
- শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই সুশাসনের ভূমিকা শেষ হয়ে যায় না।
- উন্নয়নের ফলাফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ন্যায্যতার সাথে ভোগ করতে পারাই সুশাসনের লক্ষণ।

⇒ একটি সমাজে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ শ্রেণি পেশার মানুষ থাকে।
- যেমন, বাংলাদেশে রয়েছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ।
- এছাড়াও দেশটিতে আছে নানা জাতিসত্তার মানুষ।
- এখন এ সকল মানুষের কাছে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন না হলে সামাজিক অসন্তোষ বাড়বে।
- শুধু সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন হলেই সুশাসন হবে না।
- যদি সংখ্যালঘু মানুষেরা স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে তার সম্পত্তির অধিকার ভোগ না করতে পারে তাহলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না।
- নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্যও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।
- অনগ্রসর নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা তথা আইন সংস্কার জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৬২৯.
রাজনৈতিক সাম্য কী নিশ্চিত করে?
  1. নাগরিকদের সমান অর্থনৈতিক অধিকার
  2. নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠা
  3. রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে সমান অধিকার
  4. যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বন্টন
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে সমান অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে সমান অধিকার
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
- এটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমানাধিকারের নীতিকে বোঝায়, যেখানে কেউ জন্ম, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, সামাজিক অবস্থান বা অর্থনৈতিক কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না।
- সাম্য একটি সমাজকে ন্যায়বিচার, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেয়।
- আইনের সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সমতার সুযোগ সৃষ্টি করে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

• সাম্যের বিভিন্ন দিক:
স্বাভাবিক সাম্য- জন্মগতভাবে সবাই সমান।
সামাজিক সাম্য- সমাজে যোগ্যতা অনুযায়ী সকলে একই সুযোগ ভোগ করবে।
অর্থনৈতিক সাম্য- যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বন্টন।
নাগরিক সাম্য- ব্যক্তিগত সকল নাগরিকের সমান অধিকার।
রাজনৈতিক সাম্য- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে সমান অধিকার ও মতামত প্রকাশ।
আইনগত সাম্য- আইনের চোখে সকলে সমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩০.
কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতির উপাদান?
  1. আইন
  2. প্রথা
  3. হাতিয়ার 
  4. সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার 
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।
- তবে সাধারন কিছু উপাদান আছে যা সকল দেশে একই রকম। এগুলো হলো: ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

বস্তুগত সংস্কৃতি
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম। 

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি। এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৩১.
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে কোন মতবাদ সবচেয়ে প্রাচীন মতবাদ?
  1. ঐশ্বরিক মতবাদ
  2. বল প্রয়োগ মতবাদ
  3. সামাজিক চুক্তি মতবাদ
  4. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বরিক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বরিক মতবাদ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত মতবাদ: 
- সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ অতীত ইতিহাস, সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাবলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ বা তত্ত্ব ব্যক্ত করেছেন।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতবাদগুলো হচ্ছে:
১। ঐশ্বরিক বা বিধাতার সৃষ্টিমূলক মতবাদ, 
২। বল প্রয়োগ মতবাদ, 
৩। পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, 
৪। মাতৃতান্ত্রিক মতবাদ, 
৫। সামাজিক চুক্তি মতবাদ, 
৬। ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ। 

ঐশ্বরিক বা বিধাতার সৃষ্টিমূলক মতবাদ:
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে ঈশ্বর বা বিধাতার সৃষ্টিমূলক মতবাদই সবচেয়ে প্রাচীন মতবাদ।
- এ মতবাদের মূল কথা হল ঈশ্বর বা বিধাতা রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছেন।
- রাষ্ট্রের রাজা বা শাসক বিধাতার প্রেরিত প্রতিনিধি।
- শাসক বিধাতার নির্দেশেই শাসন কাজ পরিচালনা করে থাকেন।
- তাই শাসকের আদেশ অমান্য করা রাষ্ট্রীয় অপরাধ।
- কেননা তাঁর আদেশ-নির্দেশ স্বয়ং বিধাতার কাছ থেকে প্রাপ্ত।
- শাসকের আদেশ অমান্য করার অর্থ হল বিধাতাকে অমান্য করা।
- রাজা জনগণের প্রতিনিধি নয় বরং ঈশ্বরের প্রতিনিধি।
- রাজা তাঁর কাজকর্মের জন্য জনগণের কাছে নয়, ঈশ্বরের কাছে দায়ী থাকবেন।
- এ মতবাদের সমর্থক ছিলেন মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তাবিদ সেন্ট অগাস্টিন, সেন্ট টমাস এ কুইনাস, ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই, ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস এবং তাঁর পুত্র প্রথম চার্লস।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩২.
কোনটি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে?
  1. ক) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  2. খ) প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা
  3. গ) আইনের শাসনের অনুপস্থিতি
  4. ঘ) শক্তিশালী সামরিক বাহিনী
সঠিক উত্তর:
গ) আইনের শাসনের অনুপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইনের শাসনের অনুপস্থিতি
ব্যাখ্যা
সুশাসনকে বাধাগ্রস্থ করে:
- বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব,
- জবাবদিহিতার অভাব,
- আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা,
- আইনের শাসনের অভাব,
- সরকারের অদক্ষতা,
- দুর্নীতি,
- রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব,
- স্বজনপ্রীতি,
- রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব,
- সংবাদ মাধ্যমের  স্বাধীনতার অভাব, 
- স্থানীয় সরকার কাঠামোর দূর্বলতা,
- দারিদ্র্য ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৬৩৩.
সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসনব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে -
  1. সুসম্পর্ক গড়ে তোলে
  2. আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
  3. শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
– সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসনব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
– এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
– এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩৪.
'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা' উক্তিটি কার?
  1. ক) সক্রেটিস
  2. খ) স্বামী বিবেকানন্দ
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
ব্যাখ্যা
'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা' এটি বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের উক্তি। 'জ্ঞানই পূণ্য' এবং 'নিজেকে জানো' উক্তি দুটি সক্রেটিসের। (সূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৩,৬৩৫.
আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় কোন মূল্যবোধের ওপর?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. পেশাগত মূল্যবোধ
  4. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com

৩,৬৩৬.
সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক কে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. এডিবি
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
• এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনী কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৩৭.
কার মাধ্যমে শূন্যবাদ ধারণাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ফ্রেডেরিখ নীটশে
  3. জ্যাক রুশো
  4. জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
ফ্রেডেরিখ নীটশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রেডেরিখ নীটশে
ব্যাখ্যা
শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।

⇒ শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।
- পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

উৎস: Britannica.
৩,৬৩৮.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ সম্পর্কে সঠিক নয়?
  1. ক) বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক
  2. খ) পরিবর্তনশীল
  3. গ) সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে
  4. ঘ) সারা বিশ্বের সব সমাজে মূল্যবোধ একই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারা বিশ্বের সব সমাজে মূল্যবোধ একই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারা বিশ্বের সব সমাজে মূল্যবোধ একই
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী রীতিনীতি ও মানদণ্ডের সমষ্টি। এসব রীতিনীতি সমাজের বৃহৎ অংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা স্বীকৃত।    

মূল্যবোধের বৈশিষ্ঠ্য:- 
১. মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।
৩. মূল্যবোধ মূলত এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
৪. মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল ও বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
৫. মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৬৩৯.
আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের কথা বলা আছে বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ২৫ নং অনুচ্ছেদে
  2. ২৬ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৩৩ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৩৯ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
২৫ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধান: 
- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের কথা বলা আছে - ২৫ নং অনুচ্ছেদে।
অপরদিকে, 
- মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল - ২৫ নং অনুচ্ছেদ।
- গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ - ৩৩ নং অনুচ্ছেদ।
- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা - ৩৯ নং অনুচ্ছেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩,৬৪০.
সুশাসন নিশ্চিতে ও সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় গড়ে তোলার জন্য সরকার কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল' প্রণয়ন করেছে?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সুশাসন নিশ্চিতে জরুরি সেবার হটলাইন চালু করেছে সরকার।
- তাহলো বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯; দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার ১০৬; সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার ১৬৪৩০; কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন ১৬১২৩; নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ১০৯ ইত্যাদি।

এছাড়াও,
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই
কনভেনশনে।

এছাড়া,
- সর্বোপরি সুশাসন বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা গঠন করা সম্ভব হবে।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। 

৩,৬৪১.
সুশাসনের ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় কীসের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. রাষ্ট্র
  2. প্রশাসন
  3. জনগণ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৪২.
নাগরিকতার ধারণার উদ্ভব হয় কোন দেশে?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) চীন
  3. গ) গ্রিস
  4. ঘ) ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিস
ব্যাখ্যা
প্রায় ২,৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নাগরিকতা ধারণার উদ্ভব হয়।
গ্রিস তখন ছোট ছোট নগরে বিভক্ত ছিলো যা নগর-রাষ্ট্র নামে পরিচিত। এসব নগর-রাষ্ট্রে যারা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতো তাদের নাগরিক বলা হয়। তাদের ভোটাধিকার ছিলো। তবে নারী, বিদেশি ও দাসদাসীরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না।
সময়ের পরিক্রমায় নাগরিক ও নাগরিকতার ধারণা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৬৪৩.
"শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক" প্লেটো কোন গ্রন্থে এ উক্তিটি করেছেন? 
  1. The Republic
  2. Symposium
  3. Allegory of the Cave
  4. Plato: Complete Works
সঠিক উত্তর:
The Republic
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Republic
ব্যাখ্যা

- "শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক" প্লেটো 'The Republic'গ্রন্থে এ উক্তিটি করেছেন। 

প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর "The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে বলেছেন, "শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"
- তার লেখা বিখ্যাত বই Republic যা Plato's Republic নামে পরিচিত।

তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
• Symposium.
• Apologia Socrates.
• Allegory of the Cave.
• The Laws (348 BCE).
• Plato: Complete Works.

উৎস:  ব্রিটানিকা।

৩,৬৪৪.
"শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত।" - উক্তিটি কার?
  1. এফ. আই. গাউড
  2. নিকোলো  ম্যাকিয়াভেলি
  3. রিচার্ড ক্রসম্যান
  4. ডাইসি
সঠিক উত্তর:
নিকোলো  ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলো  ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
নিকোলো  ম্যাকিয়াভেলির মতে , "শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত।"

অন্যদিকে,
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দূর্নীতি পরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক’।
- 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ' (“An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy”) - রিচার্ড ক্রসম্যান। 
- ‘আইনের চোখে সকলে সমান’ - অধ্যাপক ডাইসি।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৪৫.
সুশাসনের উপযোগী সরকার ব্যবস্থা কোনটি?
  1. কর্তৃত্ববাদী সরকার
  2. গণতান্ত্রিক সরকার
  3. সমাজতান্ত্রিক সরকার
  4. একনায়কতান্ত্রিক সরকার
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক সরকার
ব্যাখ্যা
• সুশাসনের উপযোগী সরকার ব্যবস্থা হলো - গণতান্ত্রিক সরকার।

গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা ও সুশাসন:
- গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সুশাসনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী কারণ এটি জনগণের মতামত, অধিকার এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসনের মূল উপাদানগুলো হচ্ছে- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ।
- এই উপাদানসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- গণতন্ত্রে জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করে, যা সুশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- এছাড়া, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে আইনের শাসন অপরিহার্য, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কার্যকর থাকে।
- গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৪৬.
রাষ্ট্রের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) জনসমষ্টি
  2. খ) নির্দিষ্ট ভুখন্ড
  3. গ) সামাজিক ন্যায়বিচার
  4. ঘ) সার্বভৌমত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক ন্যায়বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের উপাদানঃ
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান পাওয়া যায়। যথা-
(ক) জনসমষ্টি (খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (গ) সরকার (ঘ) সার্বভৌমত্ব।

ক. স্থায়ী জনসমষ্টিঃ জনসমষ্টি রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান উপাদান। জনসমষ্টি ছাড়া রাষ্ট্রের কথা ভাবা যায় না। আবার তেমনি জনসমষ্টির জন্যই রাষ্ট্র নামক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটির সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ তার নিজস্ব প্রয়োজনেই রাষ্ট্র গঠন করেছে। জনমানবহীন রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। কোন ভূখণ্ডে নাগরিকগণ স্থায়ীভাবে বসবাস করলে সেই জনসমষ্টিকে নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে।

খ. নির্দিষ্ট ভূখণ্ডঃ রাষ্ট্রের দ্বিতীয় উপাদান নির্দিষ্ট ভূখণ্ড। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বলতে শুধু স্থলভাগকে বোঝায় না। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বলতে নির্দিষ্ট কোন ভৌগোলিক সীমানার স্থলভাগ, নদ-নদী, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সাগর ও মহাসাগরের সীমানা এর উপরিভাগের বায়ুমণ্ডলকে বোঝায়।
ভূখণ্ড ছাড়া রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। যাযাবর জাতি শুধুমাত্র নিদিষ্ট ভূখণ্ডের অভাবে রাষ্ট্র গঠন করতে সমর্থ হয়নি।

গ. সরকারঃ সরকার জনগণের মুখপাত্র। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি সুসংগঠিত সরকার প্রয়োজন যার মাধ্যমে জনগণ এবং রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছা প্রকাশিত ও কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একটি ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে সরকার গঠিত হবে। সরকার গঠিত হয় আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে নিয়ে। তবে সরকারের রূপ বা প্রকৃতি সকল রাষ্ট্রে একরূপ নয়, ফলে বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সরকার দেখা যায়। যেমন : সংসদীয় সরকার, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ইত্যাদি।

ঘ. সার্বভৌমত্ব : রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব। সার্বভৌমত্ব বলতে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়। শুধু স্থায়ী জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং সরকার থাকলে রাষ্ট্র হয় না। এ তিনটি নির্দিষ্ট উপাদানের ভিত্তিতে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ এর আগে আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট গঠন করতে পারিনি। যখন পূর্ববাংলার জনণের পক্ষে ঐতিহাসিকভাবে গণসমর্থনে প্রাপ্ত পরম রাজনৈতিক কর্তৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা তথা সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেন তখন এই চতুর্থ উপাদানের সংযোগে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকার জন্য কোন রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রদেশ রাষ্ট্র নয়। আন্তর্জাতিক সংঘ বা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র নয়। এমনকি জাতিসংঘও রাষ্ট্র নয়।
সার্বভৌম ক্ষমতার দুটি দিক রয়েছে-
১। সার্বভৌম ক্ষমতা রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করে।
২। সার্বভৌম ক্ষমতা দেশকে বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত রাখতে পারে।
উৎসঃ এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৪৭.
‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. অধ্যাপক হাইম
  3. অধ্যাপক স্পেন্সার
  4. অধ্যাপক ডাইসি
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা
আইন: 
- অর্থাৎ মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তি বিরাজ করে।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৩,৬৪৮.
‘Culture’ শব্দের উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ইংরেজি
  2. জার্মানী
  3. ফরাসী
  4. লাতিন 
সঠিক উত্তর:
লাতিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাতিন 
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি 
- সংস্কৃতি প্রত্যয়টি অনিবার্যভাবে বিতর্কিত।
- সংস্কৃতিকে বোঝা হয় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্নভাবে।
- সাধারণভাবে সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি পরিশীলিত চিন্তা; বুচি এবংআচরণ। এর সঙ্গে যুক্ত ক্রমাগত অভ্যাস বা অনুশীলনের দ্বারা অর্জিত মনের উৎকর্ষতা।
- সমাজ ও নৃবিজ্ঞানীরাও একে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করে থাকেন।
- সামাজিক বিজ্ঞানে ব্যবহৃত প্রত্যয়সমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হচ্ছে সংস্কৃতি।
- সমাজ ও সংস্কৃতি একই সাথে যুক্ত বলে এরা অবিচ্ছেদ্য।
- ইংরেজি কালচার শব্দটির উৎপত্তি অতীত কাল সূচক লাতিন ক্রিয়াপদ Colere থেকে যার অর্থ চাষ করা।
- শব্দটির বর্তমান ব্যবহার মধ্যযুগের ফরাসী এবং মধ্য ইংরেজি (১১০০-১৪৫০) থেকে।
- মধ্য ইংরেজিতে Culture শব্দটির অর্থ ছিল কর্ষিত ভূমি খন্ড।
- আধুনিক অর্থে প্রত্যয়টির বিকাশ ঘটে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকে উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধের মধ্যে। এই কালপর্বে সংস্কৃতি চারটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকে।
১. 'মানব হৃদয়ের সাধারণ অবস্থা অথবা অভ্যাস' ধারণাটি যুক্ত ছিল মানুষ সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা অর্জনে সক্ষম এই বিশ্বাসের সাথে।
২. সামগ্রিক কোন সমাজের বৌদ্ধিক এবং নৈতিক উন্নয়নের সাধারণ রূপ।
৩. কোন সমাজের সমগ্র জীবনধারা- তার বড়াত, বৌদ্ধিক এবং অকি রূপ।
৪. সংস্কৃতি হচ্ছে মানব প্রকৃতির আদর্শরূপকে অর্জন করার সচেতন, কঠিন এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টা।

⇒ নৃতাত্ত্বিক বা সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে এ প্রত্যয়টির প্রথম ব্যবহার করেন ১৮৪৩ সালে জার্মানীর গুষ্টাভ খেলম Gustav Khelm। ১৮৭১ সালে নৃবিজ্ঞানী ই.বি টাইলর E.B. Tylor স্বীকৃত নৃতাত্ত্বিক সংজ্ঞাটি প্রদান করেন।

সংজ্ঞা
• নৃবিজ্ঞানী ই.বি. টাইলরের মতে, "Culture is that complex whole which includes knowledge, belief, art, morals, law, custom and other capabilities acquired by man as a member of society."

উৎস: সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৪৯.
'Utilitarianism' নিচের কোনটির উপর গুরুত্বারোপ করে?
  1. ক) আধ্যাত্বিক সুখ
  2. খ) নৈতিক চেতনা
  3. গ) সর্বোচ্চ সুখ
  4. ঘ) স্টয়িক চেতনা
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বোচ্চ সুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বোচ্চ সুখ
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদ (Utilitarianism) এর প্রবক্তা হলেন ব্রিটিশ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম। 
উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
অর্থ্যৎ, সর্বাধিক সংখ্যক লোকের জন্যে সর্বাধিক সংখ্যক সুখই মানুষের নৈতিক আদর্শ। এটি একটি সুখবাদী মতবাদ।
জন স্টুয়ার্ট মিল উপযোগাবাদ মতবাদে সুখের পরিমাণগত পার্থক্যের পাশাপাশি এর গুণগত পার্থক্যের উপর গুরত্বারোপ করেন।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৩,৬৫০.
নৈতিকতা বিষয়টি কীরকম?
  1. অপরিবর্তিত
  2. আপেক্ষিক
  3. অনাপেক্ষিক
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ।
- এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতার সঙ্গে সমাজের সম্পৃক্ততার ফলে সৃষ্ট অন্য একটি পরিস্থিতি হচ্ছে নৈতিক আপেক্ষিকবাদ।
- এর অর্থ হচ্ছে নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় পরিবর্তিত হতে পারে।
- অর্থাৎ নৈতিকতা বিষয়টি আপেক্ষিক।

উল্লেখ্য,
- সমাজে সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতার ফলে তাদের নৈতিক চিন্তা-চেতনাও ভিন্ন হতে বাধ্য।
- এমতাবস্থায় নৈতিকতাকে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য করতে আমরা বাধ্য হই, যদিও মানব জীবনে নৈতিকতার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করলে এই ধরনের অভিধা নৈতিকতার পক্ষে মোটেই মর্যাদাপূর্ণ মনে হয় না।
- এর উত্তরে এই বলা যায় যে, বিভিন্ন সমাজে নৈতিক নীতিতে পার্থক্য থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় এই নীতিগুলো কোন না কোন সর্বজনীন নীতির অংশ হিসেবেই কাজ করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৫১.
আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার পুরোধা নিকোলো ম্যাকিয়াভেলী নিম্নের কোন গ্রন্থের রচয়িতা?
  1. ক) The Prince
  2. খ) The Republic
  3. গ) Eudemian Ethics
  4. ঘ) Utilitarianism
সঠিক উত্তর:
ক) The Prince
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) The Prince
ব্যাখ্যা
আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার পুরোধা নিকোলো ম্যাকিয়াভেলী (১৪৬৯-১৫২৭) ইতালীর ফ্লোরেন্স নগরীর সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনের বিভিন্নঘাত প্রতিঘাতের এক পর্যায়ে তিনি তাঁর যুগান্তকারী পুস্তক ‘দি প্রিন্স’ (১৫৩২) রচনা করেন।
- ‘দি প্রিন্স’ পুস্তকে ম্যাকিয়াভেলীর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বিষয়গুলো বিবৃত হয়েছে।
- রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর আরও পুস্তক রয়েছে, এর মধ্যে ‘ডিসকোর্স’, ‘দি আর্টঅব ওয়ার' অন্যতম।

- ম্যাকিয়াভেলীর রাজনৈতিক চিন্তাধারা তৎকালীন ইতালীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রেনেসাঁ বা নবজাগরণের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। প্রথমত: তৎকালীন অন্তর্দ্বন্দে লিপ্ত দুর্বল এবং খন্ডবিখন্ড ইতালীকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করে ম্যাকিয়াভেলী একত্রিত করার ব্রত নিয়ে একটি শক্তিশালী শাসন ব্যবস্থার অধীনে আনতে চেয়েছিলেন।
দ্বিতীয়ত: রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সন্তান হিসাবে খ্যাত ম্যাকিয়াভেলী রাজনৈতিক বিষয়াদিকে ইহজাগতিক চেতনার দ্বারা পরিচালিত করার মানসে তাকে মধ্যযুগীয় তথা ধর্মীয় ও নৈতিকতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।
- ম্যাকিয়াভেলী ছাড়াও আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামোর চিন্তার ত্বাত্ত্বিক উন্নয়ন ঘটান -  থমাস হব্স, জন লক, জেন বেডিন প্রমুখ।
 
উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, SSHL, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৫২.
ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতে, সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ -
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. দুর্নীতি
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. অস্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ।
- স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।

⇒ 'ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল' মনে করে "সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি।
⇒ জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।
⇒ বাংলাদেশের 'দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, "ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।" যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৫৩.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ শিক্ষার নির্ধারক নয়?
  1. ক) ঐতিহ্য
  2. খ) ইতিহাস
  3. গ) ন্যায়পাল
  4. ঘ) সামাজিক রীতি-নীতি
সঠিক উত্তর:
গ) ন্যায়পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ন্যায়পাল
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষার নির্ধারক সমূহ হলোঃ সামাজিক রীতিনীতি, আইন, ঐতিহ্য, ইতিহাস, প্রথা, বিশ্বাস। ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৬৫৪.
সুশাসনের অভাবে একটি রাষ্ট্রে কী ঘটতে পারে?
  1. দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা
  2. সামাজিক স্থিতিশীলতা
  3. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. টেকসই উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৫৫.
সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. আইনগত সাম্য
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. অর্থনৈতিক সাম্য
সঠিক উত্তর:
সামাজিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক সাম্য
ব্যাখ্যা
• সামাজিক সাম্য (Social Equality):
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশাগত কারণে যখন মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা হয় না তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- সামাজিক সাম্যের মূল কথা হলো সমাজে বসবাসরত সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৫৬.
নিচের কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব?
  1. রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
  2. শিল্প কারখানায় অধিক শ্রমিক নিয়োগ দেয়া
  3. দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা
  4. রাজনৈতিক সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া
সঠিক উত্তর:
রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
ব্যাখ্যা
• নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য: 
- রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের বিবিধ সুযোগ সুবিধা এবং অধিকার দিয়ে থাকে তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকদের কতগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- নাগরিকদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।
- রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখানো নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব।
- তাই নাগরিক হিসেবে রাস্তায় চলাকালে ট্রাফিক আইন অনুসরণ করা প্রত্যেক ব্যক্তির একান্ত কর্তব্য।

• রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখানো নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব।
- কেউ আইন অমান্য করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্বাভাবিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটে।
- তাই সুষ্ঠু জীবনযাপন, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে আইন মেনে চলতে হবে।

• সততা ও সুবিবেচনার সাথে ভোট দেওয়া নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।
- এর ফলে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবে।
- অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ প্রার্থীকে ভোটদানে বিরত থাকা উচিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৬৫৭.
মূল্যবোধ কোন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল হয়?
  1. আচরনের
  2. সহমর্মিতার
  3. নৈতিকতার
  4. সামাজিক রীতিনীতি
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
→ নৈতিক প্রাধান্যমূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল
- নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
→ নির্দিষ্ট ও সাধারণ: কিছু মূল্যবোধ নির্দিষ্ট, যেমন মায়ের প্রতি ভালোবাসা।
- আবার কিছু সাধারণ, যেমন প্রতিবেশীর প্রতি সহযোগিতা।
→ বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে খাদ্যাভ্যাস ও পোশাকের পার্থক্য।
→ আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ স্থান, কাল, ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
- একই বিষয় এক দেশে গ্রহণযোগ্য, অন্য দেশে নাও হতে পারে।
→ সামাজিক মানদণ্ড: সমাজ বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, ও চিন্তাধারার মান মূল্যবোধের মাধ্যমে বোঝা যায়।
- যেমন, কৃষি নির্ভর সমাজের মূল্যবোধ শিল্পসমৃদ্ধ সমাজ থেকে ভিন্ন।
→ পরিবর্তনশীলতা: দীর্ঘদিন ভিন্ন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
→ সম্পর্কের সেতু: একই মূল্যবোধ থাকা অপরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যেও সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।
- যেমন, বিদেশে দুই বাংলাদেশির মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬৫৮.
জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হল -
  1. আইনের শাসন
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হল সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৫৯.
বিশ্বব্যাংকের মতে উন্নয়নশীল দেশসমূহে অনুন্নয়নের মূল কারণ কোনটি?
  1. প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা
  2. শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অনুপস্থিতি
  3. জনসংখ্যার আধিক্য
  4. সুশাসনের অভাব
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অভাব
ব্যাখ্যা
উন্নয়নশীল দেশসমূহে অনুন্নয়নের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের অনুপস্থিতির বিষয়টি উপলব্ধি করে। সংস্থাটির মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার কারণ হলো সুশাসনের অভাব।
বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক তার ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামে একটি রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৬৬০.
একজন ব্যক্তি কোনটি থেকে সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে?
  1. কর্তব্যবোধ
  2. মূল্যবোধের শিক্ষা
  3. আইনের শাসন
  4. কর্মমুখী শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের শিক্ষা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা একটি নৈতিক গুণ যা একজন ব্যক্তি মূল্যবোধের শিক্ষা (Values Education) থেকে অর্জন করে।
- মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ধৈর্য, শ্রদ্ধাবোধ ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতি সহনশীলতা গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধের শিক্ষা নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটায় ।
- রাগ, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা কমিয়ে সহিষ্ণু হওয়ার শিক্ষা দেয়।
- নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধাবোধকে উৎসাহিত করে।

অন্য বিকল্পগুলো:
কর্তব্যবোধ (ক) – এটি দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়, তবে সরাসরি সহনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
আইনের শাসন (গ) – এটি শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, কিন্তু সহনশীলতার শিক্ষা দেয় না।
কর্মমুখী শিক্ষা (ঘ) – এটি পেশাগত দক্ষতা বাড়ায়, তবে নৈতিক গুণাবলি বা সহনশীলতা গড়ে তোলে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৬১.
ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে কোনটির বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. ক) শৃঙ্খলাবোধ
  2. খ) মানবিকতা
  3. গ) সৌজন্যবোধ
  4. ঘ) সহমর্মিতা
সঠিক উত্তর:
গ) সৌজন্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৌজন্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধের উপাদান:
মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। 

- সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক।
৩,৬৬২.
“জাতীয়তাবাদ হলো এক প্রকার মানসিক ঐক্যবোধে উদ্ধুদ্ধ জনসমাজ, যারা নিজেদেরকে বাকি মানব সমাজ হতে পৃথক মনে করে।” –জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে এটি কার ভাষ্য?
  1. এম. ডব্লিউ পামফ্রে
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. হ্যারল্ড লাস্কি
  4. গর্ডন মুর
সঠিক উত্তর:
হ্যারল্ড লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যারল্ড লাস্কি
ব্যাখ্যা
জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি এর ভাষ্য হলো,
“জাতীয়তাবাদ হলো এক প্রকার মানসিক ঐক্যবোধে উদ্ধুদ্ধ জনসমাজ, যারা নিজেদেরকে বাকি মানব সমাজ হতে পৃথক মনে করে।”

জাতীয়তাবাদ হলো কোন জনসমাজের মধ্যকার মানসিক অনুভূতি ও পারস্পরিক বন্ধনের চেতনা। এই চেতনার ফলেই একটি জনসমাজ নিজেদেরকে অভিন্ন সত্ত্বার অধিকারী এবং অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বলে মনে করে।
ভৌগোলিক ঐক্য, বংশগত ঐক্য, ভাষা, ধর্ম, ঐতিহ্য চেতনা, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি জাতীয়তাবাদের উপাদান।

(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩,৬৬৩.
মূল্যবােধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলাে-
  1. নৈতিক প্রাধান্য
  2. বিভিন্নতা
  3. আপেক্ষিকতা
  4. উপরের সবগুলাে
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলাে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ঠ্য:
- সামাজিক মাপকাঠি,
- যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
- নৈতিক প্রাধান্য,
- বিভিন্নতা,
- বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা,
- পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা ইত্যাদি।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন ইত্যাদি

তথ্যসূত্র - উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৩,৬৬৪.
আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভ কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) সামাজিক অধিকার
  2. খ) রাজনৈতিক অধিকার
  3. গ) নৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
অধিকারের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে, সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।

বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভ
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
৩,৬৬৫.
সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।
- সুশাসন সম্পর্কিত প্রদত্ত সংজ্ঞাটি কার?
  1. ক) বিশ্বব্যাংক
  2. খ) আই.এম.এফ
  3. গ) এল.এফ ওয়ার্ড
  4. ঘ) বব জেসফ
সঠিক উত্তর:
ক) বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম 'সুশাসন' ধারনাটি সামনে নিয়ে আসে। বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনে ৪টি স্তম্ভ বা উপাদান। বিশ্বব্যাংক উক্ত সংজ্ঞাটি ১৯৯৪ সালে প্রদান করেন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র) বই।

৩,৬৬৬.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. সরকার গঠন করা
  2. নির্বাচন জয় করা
  3. ক্ষমতা দখল করা
  4. সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
• সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে।
• বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৬৭.
'সম্পত্তি ভোগের অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকার
  2. খ) নৈতিক অধিকার
  3. গ) সামাজিক অধিকার
  4. ঘ) অর্থনৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- সমাজে সুখী ও সুন্দরভাবে বসবাস করার জন্য নাগরিকগণ যেসকল অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে আমরা সামাজিক অধিকার বলি।
- সামাজিক অধিকারগুলো নিম্নরূপ :
- জীবন ধারণের অধিকার,
- ব্যক্তি স্বাধীতার অধিকার,  
- মতামত প্রকাশের অধিকার, 
- সভা-সমিতির অধিকার,  
সম্পত্তি ভোগের অধিকার,  
- ধর্মীয় অধিকার,
- আইনের অধিকার, 
-  চুক্তির অধিকার,  
-স্বাস্থ্য ও শিক্ষা লাভের অধিকার।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৬৮.
আতিথেয়তা কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক
  2. ধর্মীয়
  3. ব্যক্তিগত
  4. সাংস্কৃতিক
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা
আতিথেয়তা হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

সামাজিক মূল্যবোধ:

 যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৬৯.
গণতন্ত্রকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্র কথাটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন বা কর্তৃত্ব। 
- গণতন্ত্রে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- গণতন্ত্রকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
i) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র,
ii) পরোক্ষ গণতন্ত্র।

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র:
- প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র হল বিশুদ্ধ গণতন্ত্র।
- এই গণতন্ত্রে জনগণ সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- এ রকম শাসনব্যবস্থায় জনগণই সরকারী যাবতীয় কাজ নিজেরাই সম্পাদন করে।
- প্রাচীনকালে গ্রীস দেশের নগর রাষ্ট্রগুলিতে এ ধরনের শাসন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল।

পরোক্ষ গণতন্ত্র:
- পরোক্ষ গণতন্ত্র তত্ত্বের দিক থেকে গণতন্ত্র ‘জনগণের শাসন' হলেও বর্তমান সারা বিশ্বের বৃহদায়তন জনবহুল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলিতে সকল জনগণের পক্ষে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
- আর এজন্যই বিশ্বের বৃহদায়তন জনবহুল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলিতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বিকল্পরূপে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিমূলক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- এই ধরনের গণতন্ত্রে জনগণের সকলেই শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে না।
- জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রধিনিধিরাই রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
- এ প্রকার শাসন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কালের জন্য, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাঁদের কাজকর্মের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৬৭০.
ব্যক্তির মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়-
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. সামাজিক স্বাধীনতা 
  4. জাতীয় স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক স্বাধীনতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক স্বাধীনতা 
ব্যাখ্যা

- সামাজিক স্বাধীনতা ব্যাক্তির মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়।
• সামাজিক স্বাধীনতা: 
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন জীবন ধারণের স্বাধীনতা, সম্পত্তি ভোগ করা, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- সামাজিক স্বাধীনতা মানুষকে সুন্দর জীবনের পথ দেখায়।
- তার মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়।

অপরদিকে,
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা:
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- যেমন, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
- এ ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে পেশা ও জীবিকার স্বাধীনতা অন্যতম।
- মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিকল্প নেই।
- তাছাড়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে শ্রেণি-বৈষম্য বেড়ে গিয়ে যেকোন শ্রেণি শোষণ-বঞ্চনার শিকার হতে পারে।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার আইনগত ভিত্তি রয়েছে।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতাও খর্ব হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 

৩,৬৭১.
তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাশ হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইন:
- তথ্য প্রাপ্তি বর্তমানে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বাংলাদেশী নাগরিকদের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার প্রণয়ন করেছে।
- এই আইনের মাধ্যমে তথ্য কমিশন গঠন ও প্রত্যেকটি সরকারি কার্যালয়ে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগদানের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করা হয়।

• তথ্য কমিশনের গঠন:
- তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ১১(১) উপ-ধারার বিধান মতে আইন জারির ৯০ দিনের মধ্যে ১ জুলাই, ২০০৯ তারিখে প্রধান তথ্য কমিশনার ও ২ জন তথ্য কমিশনার, তন্মধ্যে একজন নারী সদস্য সমন্বয়ে তথ্য কমিশন গঠন করা হয়।
- প্রথম প্রধান তথ্য কমিশনার ছিলেন এম আজিজুর রহমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭২.
সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি কোনটি?
  1. সহনশীলতা
  2. যৌক্তিকতা
  3. প্রজ্ঞা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

⇒ সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি সহনশীলতা।

সহনশীলতা:
- একটি বহুমাত্রিক সমাজে বিভিন্ন মতাদর্শ, সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ একত্রে বসবাস করে।
- সহনশীল মানসিকতা ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি করে, যা সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- সহনশীলতা ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানবোধ বৃদ্ধি করে।
- যদি সহনশীলতা না থাকে, তবে সমাজে বিভাজন, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
- সহনশীলতা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পর্কেই নয়, বরং সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার উন্নতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে সহনশীলতা একটি অপরিহার্য উপাদান বা ভিত্তি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৬৭৩.
'কর্তব্যের খাতিরে কর্তব্য' এই উক্তিটি কার?
  1. জন লক
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. এস ই ফাইনার
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের খাতিরে কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,৬৭৪.
সাম্য ও গণতন্ত্র পরস্পর -
  1. নির্ভরশীল
  2. বিপরীত
  3. বিরোধী
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নির্ভরশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য সমাজের জন্য অতীব প্রয়োজন।
- সাম্য অর্থ সমান নয় বরং সমান করার ব্যবস্থাকে সাম্য বলে।
- নানা ধরনের সাম্য বিদ্যমান।
- একটি সভ্য সামাজে সাম্যের উপস্থিতি একান্তভাবে অপরিহার্য।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব নয়।
- আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল একে অপরের সম্পূরক।
- সমাজ ভেদে সাম্য চেতনা আলাদা হয়ে থাকে।
- তবে গণতন্ত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। তাই গণতন্ত্র ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল।

⇒সাম্য ও গণতন্ত্র:
- সাম্য ও গণতন্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- সাম্য না থাকলে গণতন্ত্র অর্থহীন।
- কেননা গণতন্ত্র প্রত্যেকের মতের মূল্যায়ন করে।
- সাম্যের অনুপস্থিতিতে এটা সম্ভব নয়।
- যেখানে শ্রেণিভেদ প্রথা ও জাতিভেদ প্রথা রয়েছে, বংশ ও রক্তের আলাদা মর্যাদা রয়েছে সেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অচল।
- অর্থাৎ সামাজিক সাম্য গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী উফ বলেন, "গণতান্ত্রিক সমাজ বলতে বুঝায় মুক্ত, সমান, সক্রিয় ও সচেতন নাগরিকের এক সমাজ।"
- এরূপ সমাজ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করতে পারে।

• তদ্রূপ যে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট সেখানে জীবিকার্জন নিয়ে মানুষ এত ব্যস্ত হবে যে, রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা করার সময় ও সুযোগ পাবে না।
- আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সুযোগ থাকে বলে জনগণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুযোগ লাভ করে।
- তাই দেখা যায় গণতন্ত্র ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭৫.
কোন ধরনের সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রের নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে?
  1. রাজনৈতিক সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. আইনগত সাম্য
  4. অর্থনৈতিক সাম্য
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

• সাম্যের প্রকারভেদ:

- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যথাঃ
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

• সামাজিক সাম্য: 
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

• রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

• অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৭৬.
’জামিন পাওয়ার অধিকার’ কোন ধরনের স্বাধীনতা? 
  1. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  2. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সামাজিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 
- অধ্যাপক লাস্কি স্বাধীনতার তিনটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা-
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলতে ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বুঝায়।
- ধর্মপালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার একটি উত্তম উদাহরণ।
- তাছাড়া গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা, জামিন পাওয়ার অধিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা- 
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- বস্তুত অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসগৃহ ও চিকিৎসার সুযোগকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে "অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।"

• সামাজিক স্বাধীনতা- 
- সমাজ যে সমস্ত অধিকার সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করে তা উপভোগের ক্ষমতাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- এগুলো সভ্য সমাজ ব্যবস্থার শর্ত। বিবাহ, সম্পত্তি অর্জন, বসতবাটি নির্মাণ, লেখাপড়া শেখা ইত্যাদিকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৭৭.
আধুনিককালে আইনের প্রধানতম উৎস হলো -
  1. প্রথা
  2. সংবিধান 
  3. জনমত 
  4. আইন পরিষদ
সঠিক উত্তর:
আইন পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন পরিষদ
ব্যাখ্যা

আইন পরিষদ:
- আধুনিককালে আইনের প্রধানতম উৎস হচ্ছে আইন পরিষদ।
- আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে।
- আধুনিক রাষ্ট্রীয় আইনের এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে আইন পরিষদ কর্তৃক প্রণীত আইন।
- আইন পরিষদ শুধু নতুন আইন তৈরি করে না, পুরনো আইন সংশোধন করে তা যুগোপযোগী করে তোলে।

অন্যদিকে,
- সংবিধান আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন প্রকৃতপক্ষে জনমতের অভিব্যক্তি।
- প্রথা: প্রথা আইনের একটি সুপ্রাচীন উৎস।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৬৭৮.
সুশাসনের অন্যতম উপাদান 'Rule of Law'-এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. আইনকে রাজনীতির অধীন করে ফেলা
  2. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান
  3. প্রশাসনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  4. রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া
সঠিক উত্তর:
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান
ব্যাখ্যা
সুশাসন (Good Governance):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

⇒ আইনের অনুশাসন (Rule of Law):
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৭৯.
মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষকে _____ অর্জন করতে সহায়তা করে।
  1. ক) জ্ঞান
  2. খ) বাস্তবতা
  3. গ) কর্মদক্ষতা
  4. ঘ) মনুষত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনুষত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনুষত্ব
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষকে মনুষ্যত্বে অর্জন করতে সহায়তা করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, মনুষ্যত্বের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা আর সমস্তই তার অধীন।
- কিন্তু সমাজে এই শিক্ষার খুবই অভাব রয়েছে। তবে একজন সুশিক্ষিত মানুষের ন্যায়টাই তার জীবনের মূল হাতিয়ার।
- বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে আর সুশিক্ষার ব্যাখ্যার সঙ্গে মানুষকে মেলালে সমাজে সুশিক্ষা আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)
৩,৬৮০.
কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে কিন্তু সরকার গঠনে সচেষ্ট নয়?
  1. সাধারণ জনগণ
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. রাজনৈতিক দল
  4. বিরোধী দল 
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
→ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তবুও আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী দলের ভূমিকা অপরিহার্য। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপ সৃষ্টিকারী দলের প্রধান কাজ।
→ মূলত: গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে কাজ করলেও, কোন কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কখনো কখনো বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক বা জাতীয় স্বার্থে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬৮১.
“Principles of Political Economy”- গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. সক্রেটিস
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
• John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “A System of Logic”,
- “Autobiography”,
- “Considerations on Representative Government”,
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”,
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”,
- “On Liberty”,
- “Principles of Political Economy”,
- “The Subjection of Women”,
- “Utilitarianism”,

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩,৬৮২.
কোনটি সুশাসনের অন্যতম উপাদান?
  1. নৈতিকতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. স্বজনপ্রীতি
  4. সৃজনশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন। সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।

সুশাসনের ক্ষেত্রে নৈতিক শাসন বা সৃজনশীলতা আবশ্যক নয়। স্বজনপ্রীতি সুশাসনের অন্তরায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৬৮৩.
'Marriage and Morals' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ম্যাকিয়াভেলি
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮ মে, ১৮৭২ ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ, এবং সমাজ চিন্তাবিদ।
- তাঁর সমাজসচেতন লেখনী এবং কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫০ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

⇒ তার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy,
- The Conquest of Happiness,
- Religion and Science,
- The Principles of Mathematics,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Philosophical Essays,
- Political Ideals,
- Principles of Social Reconstruction,
- The Analysis of Matter and
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

৩,৬৮৪.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. ক) একমুখী
  2. খ) নেতিবাচক
  3. গ) ঘনিষ্ঠ
  4. ঘ) পারস্পরিক বিপরীত
সঠিক উত্তর:
গ) ঘনিষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
-মূল্যবোধ যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তেমনি সুশাসন মূল্যবোধকে লালন করে।
- সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সুশাসনের গুণাবলি প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৬৮৫.
বিনা বিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে কোন ধরনের সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়?
  1. নাগরিক
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. আইনগত
সঠিক উত্তর:
আইনগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত
ব্যাখ্যা
• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮৬.
জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো - 
  1. দারিদ্র বিমোচন
  2. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩,৬৮৭.
কাদের ক্ষেত্রে ‘বিপরীত বৈষম্য' নীতি প্রয়োগ করা হয়?
  1. নারী
  2. শিশু
  3. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা

⇒ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে 'বিপরীত বৈষম্য'-এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়।

♦ 'বিপরীত বৈষম্য':
- সমতার প্রশ্নে "বিপরীত-বৈষম্যের" ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।
- অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে।
- অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয় ।
- বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন।
- বিপরীত বৈষম্য নীতি অনুসারে, সমাজে যেসব জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছে বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের উন্নয়নের জন্য বিশেষ সুবিধা বা কোটা প্রদান করা হয়।
- এটি সংরক্ষণ নীতি বা Affirmative Action হিসেবেও পরিচিত, যা সমাজে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৮৮.
আধুনিক বিশ্ব যে ধরনের মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে সেটি হলো -
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৮৯.
কোনটি নৈতিক মূল্যবোধ?
  1. সহমর্মিতা
  2. ধর্মীয় বিশ্বাস
  3. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অন্যায় থেকে বিরত থাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায় থেকে বিরত থাকা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।

⇒ সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৬৯০.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক উল্লিখিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. ভবিষ্যৎবাণী
  3. স্বচ্ছতা
  4. সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
সঠিক উত্তর:
সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা

- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি। এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)

৩,৬৯১.
নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দটি কোন ভাষা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) গ্রীক
  3. গ) ল্যাটিন
  4. ঘ) ম্যাক্সিকান
সঠিক উত্তর:
গ) ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ল্যাটিন
ব্যাখ্যা

নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৬৯২.
’’রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-২৮(১)
  2. অনুচ্ছেদ-২৮(২)
  3. অনুচ্ছেদ-২৮(৩)
  4. অনুচ্ছেদ- ২৮(৪)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৮(২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৮(২)
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান:
- অনুচ্ছেদ-২৮ :
ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য
- ২৮ (১):  কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
 - ২৮(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
 - ২৮(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।
 - ২৮ (৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩,৬৯৩.
"মানুষ যখন আইন ও নৈতিকতা থেকে দূরে থাকে তখন সে নিকৃষ্টতম জীবে পরিণত হয়।" উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) জন লক
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) জ্যা জ্যাক রুশো
সঠিক উত্তর:
গ) এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
• এরিস্টটল বলেছেন, “মানুষ যখন আইন ও নৈতিকতা থেকে দূরে থাকে, তখন সে নিকৃষ্টতম জীবে পরিণত হয়।”

অন্যদিকে,
• জ্যা জ্যাক রুশোর উক্তি - 'মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সর্বত্রই তাকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।'
• লর্ড ব্রাইস (Lord Bryce) মনে করেন যে, -  'নির্লিপ্ততা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, শাস্তির ভয় এবং যৌক্তিকতার উপলব্ধি'—এই পাঁচটি কারণে মানুষ আইন মেনে চলে ।
• জন লক বলেছেন, -  “যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।” আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। মানুষ তাই আইন মেনে চলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৬৯৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে নিচের কোনটি প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. আইনের শাসন
  3. রাজনৈতিক দল
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি।
- আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না।
- সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৫.
"বস্তুর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে" - এর উপর বিশ্বাস রাখেন কারা?
  1. ক) ভাববাদীরা
  2. খ) বাস্তববাদীরা
  3. গ) সংশয়বাদীরা
  4. ঘ) অজ্ঞেয়বাদীরা
সঠিক উত্তর:
খ) বাস্তববাদীরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাস্তববাদীরা
ব্যাখ্যা
স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, জ্ঞান কী? উত্তরে আমরা বলি, জ্ঞাতার সাথে জ্ঞেয় বস্তুর সম্পর্কই জ্ঞান। 
যে জানে তাকে বলে জ্ঞাতা, আর যে বস্তুকে জানা হয় তাকে বলে জ্ঞেয়। 
এই জ্ঞেয় বস্তুর অস্তিত্ব কি জানার উপর নির্ভরশীল, নাকি এর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে? 
এ প্রশ্নে দার্শনিকদের মধ্যে মতভেদের কারণে দুটি দার্শনিক মতবাদের উদ্ভব হয়েছে : (১) বাস্তববাদ (Realism) ও (২) ভাববাদ (Idealism)। 
 
বাস্তববাদ (Realism )
বাস্তববাদী দার্শনিকদের মতে, বস্তু কোন কারণেই জানার উপর নির্ভরশীল নয়। কেউ বস্তুকে জানুক বা না জানুক তাতে বস্তুর কিছু যায় আসে না; বরং এর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে। বস্তু জ্ঞানের বিষয় হতে পারে, তাই বলে বস্তুর অস্তিত্ব জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল নয়। যেমন আমেরিকা আবিষ্কার হওয়ার আগে কেউ আমেরিকাকে জানত না; তাই বলে তখন আমেরিকা ছিল না, একথা বলা যাবে না। সুতরাং আমেরিকার অস্তিত্ব কোন মানুষের জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল নয় ।
জ্ঞান ছাড়াও বস্তু থাকতে পারে। 
 
উৎস: এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, বিএ/বিএসএস; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬৯৬.
নৈতিকতা সম্পর্কে সক্রেটিস কী বলেছেন?
  1. সৎ গুণই জ্ঞান
  2. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে
  3. শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সৎ গুণই জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ গুণই জ্ঞান
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।

অন্যদিকে -
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidr) মনে করেন, ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৬৯৭.
নিচের কোনটি সামাজিক সমস্যা?
  1. ক) নগরায়ন
  2. খ) কিশোর অপরাধ
  3. গ) ছাত্র রাজনীতি
  4. ঘ) প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা
সঠিক উত্তর:
খ) কিশোর অপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কিশোর অপরাধ
ব্যাখ্যা
অপ্রাপ্তবয়স্ক (৭-১৬ বছর) ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধই হলো কিশোর অপরাধ। এটি আমাদের দেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা।
- এর প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। এছাড়া খেলাধূলা ও চিত্তবিনোদনের অভাব, আদর-যত্নের অভাব, সামাজিকীরণের অনুকূল পরিবেশের অনুপস্থিতি প্রভৃতি কিশোর অপরাধ সংঘটনের জন্যে দায়ী।
অন্যদিকে,
- প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা অর্থনৈতিক সমস্যা। ছাত্র রাজনীতি কোন সমস্যা নয়। তবে অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি রাষ্ট্রের জন্যে সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। নগরায়ন ইতিবাচক সূচক।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৩,৬৯৮.
'Society' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে-
  1. ক) গ্রিক শব্দ থেকে
  2. খ) ল্যাটিন শব্দ থেকে
  3. গ) স্প্যানিশ শব্দ থেকে
  4. ঘ) তুর্কি শব্দ থেকে
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যাটিন শব্দ থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যাটিন শব্দ থেকে
ব্যাখ্যা
- সমাজ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Society'।
- শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Socious' থেকে।

- যার অর্থ সহযোগিতা বা পারস্পরিক বন্ধুত্ব।
- সমাজ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন এবং সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের স্থান।
- মানুষের সংঘবদ্ধ জীবনের সূচনা ঘটে সমাজে।
- মানুষ সমাজেই জন্মগ্রহণ করেন, সমাজেই লালিত-পালিত হয় এবং সমাজেই মৃত্যুবরণ করে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা , এস এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৯.
"পেশা পরিবর্তনের সুযোগ" কোন ধরনের সাম্য?
  1. অর্থনৈতিক সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. সামাজিক সাম্য
  4. ব্যক্তিগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সাম্য:
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরি লাভের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্য।
- সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য অত্যন্ত জরুরি।
- অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
- ফলে মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশও বাধাগ্রস্থ হয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য থাকলে রাষ্ট্র ও দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭০০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ কোনটি?
  1. সাম্য
  2. গণতন্ত্র
  3. আইনের শাসন
  4. জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য:
- গনতন্ত্র,
- অংশগ্রহন প্রক্রিয়া,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।