বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩৫ / ৩৯ · ৩,৪০১৩,৫০০ / ৩,৮২৯

৩,৪০১.
কোনটির নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই?
  1. ক) শিক্ষার
  2. খ) মূল্যবোধের
  3. গ) ন্যায়বিচারের
  4. ঘ) মানবাধিকারের
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্যবোধের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্যবোধের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য
▪ মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
▪ মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চচার্ ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
▪ তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেকবুদ্ধির বহি:প্রকাশই মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০২.
নিচের কোনটি সদ্গুণ নয়?
  1. ক) মিতাচার
  2. খ) কৃতঘ্ন
  3. গ) নিষ্ঠা
  4. ঘ) শালীনতা
সঠিক উত্তর:
খ) কৃতঘ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃতঘ্ন
ব্যাখ্যা
- সদগুণাবলী হলো উত্তম গুণাবলী। এসব গুণাবলী মানুষের মানবিক উৎকর্ষতা সাধন করে থাকে।
বিভিন্ন প্রকার সদগুণাবলীর মধ্যে রয়েছে:
- ক্ষমা, নম্রতা, সাহসিকতা, মিতাচার, উদারতা, শালীনতা, নিষ্ঠা, বন্ধুত্ব প্রভৃতি।
- কৃতঘ্ন সদগুণ নয়।

(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩,৪০৩.
ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স-২০২২ অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ক) ৭২তম
  2. খ) ৯১তম
  3. গ) ১১১তম
  4. ঘ) ১১৯তম
সঠিক উত্তর:
গ) ১১১তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১১তম
ব্যাখ্যা
United Nation Department of Economic & Social Affairs (UNDESA) প্রকাশিত UN E-Government Development Survey-2022 অনুসারে ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১১তম। এলডিসি দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে।
- রিপোর্ট অনুসারে শীর্ষদেশ ডেনমার্ক, দ্বিতীয় ফিনল্যান্ড এবং সর্বনিম্ন (১৯৩তম) দেশ দক্ষিণ সুদান।

(তথ্যসূত্র: UNDESA ওয়েবসাইট)
৩,৪০৪.
মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা
  3. ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার
  4. নৈতিকতা ও সততা তৈরি করা
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ ঘটায়।
- এই শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা সমাজে শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণে নিয়ম ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
- এটি মানুষকে ন্যায় এবং ন্যায়বিচার মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সমাজে সাম্য এবং অধিকার নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্যের বিপরীত হচ্ছে-
- ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার,
- আইন অমান্য করার প্রবণতা, এবং
- সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৩,৪০৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়-
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা
  3. রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করা
  4. ক্ষমতা পুঞ্জিভূত করা
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করণীয়:
- আইন মান্য করা।
- আনুগত্য প্রদর্শন।
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা।
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪০৬.
সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি -
  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. জাতীয় স্বাধীনতা
  4. সামাজিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪০৭.
সুশাসনের ধারণা কী ধরনের হয়ে থাকে? 
  1. দ্বিমাত্রিক
  2. একমাত্রিক
  3. বহুমাত্রিক
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বহুমাত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুমাত্রিক
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক- সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪০৮.
’দাসপ্রথা বন্ধ করা’ কোন ধরনের মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- দাসপ্রথা বন্ধ করা আধুনিক মূল্যবোধ মূল্যবোধের উদাহরণ। 

আধুনিক মূল্যবোধ:

- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল, আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
-  দাসপ্রথা ,বিধবা বিবাহ প্রথা চালু, নারী-পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের সমান সুযোগ, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা" আধুনিক মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক। বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৪০৯.
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত ‘গ্লোবাল দুর্নীতি অনুধাবন সূচক- ২০১৯’ অনুসারে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান-
  1. ক) ১৩ তম
  2. খ) ১৪ তম
  3. গ) ১৫ তম
  4. ঘ) ১৭ তম
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪ তম
ব্যাখ্যা
বার্লিন ভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত গ্লোবাল দুর্নীতি অনুধাবন সূচকে ২০১৯ অনুসারে বাংলাদেশ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে ১৪ তম স্থানে রয়েছে। টিআই'র দুর্নীতির ধারণা সূচকে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ তালিকার এক নম্বরে, মানে শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ছিল৷ ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তৃতীয়, ২০০৭ সালে সপ্তম, ২০০৮ সালে দশম, ২০০৯ সালে ১৩তম, ২০১০ সালে ১২তম, ২০১১ সালে ১৩তম, ২০১২ সালে ১৩তম, ২০১৩ সালে ১৬তম, ২০১৪ সালে ১৪তম, ২০১৫ সালে ১৩তম, ২০১৬ সালে ১৫তম, ২০১৭ সালে ১৭তম এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩তম৷ সূত্র- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ও ডয়েচ ভেল ওয়েবসাইট।
৩,৪১০.
'The Elementary Forms of Religious Life' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. ক) E.B Tylor
  2. খ) Marret
  3. গ) Émile Durkheim
  4. ঘ) J.S. Mill
সঠিক উত্তর:
গ) Émile Durkheim
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Émile Durkheim
ব্যাখ্যা
• এমিল ডুর্খেইম 'The Elementary Forms of Religious Life' গ্রন্থটির রচয়িতা। তিনি এই গ্রন্থে ধর্ম সম্পর্কে তার মতামত ব্যক্ত করেন। 
• E.B Tylor রচিত গ্রন্থ Primitive Culture।
• Marret রচিত গ্রন্থ The threshold of Religion (1914)। 

তথ্যসূত্র:- সমাজবিজ্ঞান প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৩,৪১১.
নিচের নাগরিকের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য নয়?
  1. আনুগত্য প্রদর্শন
  2. নিয়মিত কর প্রদান
  3. আইন মান্য করা
  4. দুঃস্থকে সাহায্য করা
সঠিক উত্তর:
দুঃস্থকে সাহায্য করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃস্থকে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে কতগুলো কর্তব্য পালন করতে হয়।
এগুলো হলো:
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
- আইন মেনে চলা
- নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি।
- এসব পালন না করলে রাষ্ট্র নাগরিককে আইনের মুখোমুখি করতে পারে।
অন্যদিকে,
- দুঃস্থকে সাহায্য করা হলো নৈতিক কর্তব্য যা আইন দ্বারা নির্ধারিত নয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৪১২.
কোনটি একটি সামাজিক কুপ্রথা?
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) যৌতুক
  3. গ) নিরক্ষরতা
  4. ঘ) অপুষ্টি
সঠিক উত্তর:
খ) যৌতুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌতুক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা বা অনাচার হলো যৌতুক প্রথা।
বিয়ের সময় বর বা কনে পক্ষ কর্তৃক বিপরীত পক্ষের নিকট অর্থ বা সম্পদ দাবী ও গ্রহণ করা যৌতুক নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের সর্বত্রই এই প্রথা বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশর আইনে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোই নিষিদ্ধ।
এই প্রথার পেছনে মূল কারণ হলো দারিদ্র্য। এছাড়া অশিক্ষা, অর্থলিপ্সা, আইনের যথার্থ প্রয়োগ না হওয়া প্রভৃতি যৌতুক প্রথার জন্যে দায়ী। যৌতুক প্রথা নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
(সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
৩,৪১৩.
সুশাসনের মূল চাবিকাঠি কোনটি?
  1. গণতান্ত্রিক সরকার
  2. মূল্যবোধ
  3. জবাবদিহিতা
  4. নৈতিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হলো জবাবদিহিতা।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৪১৪.
মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে _________ রাষ্ট্র গঠন হয়।
  1. অস্থিতিশীল
  2. কল্যাণমূলক
  3. দুর্নীতিপরায়ণ
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
কল্যাণমূলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণমূলক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব।
- যখন সমাজে নৈতিকতা, সততা এবং সহানুভূতির মতো মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মানুষ আইন মেনে চলে এবং অপরাধ কমে যায়।
- যা সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এর ফলে রাষ্ট্রের প্রশাসন কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা হয়, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, এবং সমাজে সমতা ও সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে।
- এছাড়া, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এভাবে, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন হয়, যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে, যা সকল সদস্যের মঙ্গল নিশ্চিত করে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪১৫.
নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো-
  1. ক) আইন মেনে চলা
  2. খ) নিয়মিত কর প্রদান করা
  3. গ) আনুগত্য প্রদর্শন
  4. ঘ) রাষ্ট্রীয় সম্পদের সংরক্ষণ
সঠিক উত্তর:
গ) আনুগত্য প্রদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আনুগত্য প্রদর্শন
ব্যাখ্যা
- কর্তব্য হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের পালনীয় কতগুলো দায়িত্ব।
অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি এর মতে,
- “কর্তব্য বলতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গণ কল্যাণের জন্যে কোন কিছু করা বা না করার অধিকারকে বুঝায়।”
- রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো আনুগত্য প্রদর্শন।
অন্যান্য কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মান্য করা
- নিয়মিত কর প্রদান করা
- সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা
- রাষ্ট্রের সেবা করা
- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় না করা
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৪১৬.
আইন নিষ্প্রয়োজন হয় যখন -
  1. শাসক চরিত্রহীন হন
  2. শাসক স্বৈরাচারী হন
  3. শাসক ন্যায়বান হন
  4. শাসক না থাকেন
সঠিক উত্তর:
শাসক ন্যায়বান হন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসক ন্যায়বান হন
ব্যাখ্যা

আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।

⇒ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪১৭.
নিচের কোনটি আইনের বৈশিষ্ট্য? 
  1. গতিশীল
  2. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক
  3. সর্বজনীন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।"
• জন অস্টিন বলেন, "আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ"।
• আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি: 
• আইন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণের মতামত থেকে আইনের কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন-
(১) সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত
(২) সর্বজনীন
(৩) বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি
(৪) বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক
(৫) ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক
(৬) সুস্পষ্ট
(৭) গতিশীল
(৮) দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪১৮.
চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন কোন ধরণের আইন?
  1. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন
  2. প্রশাসনিক আইন
  3. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
  4. আন্তর্জাতিক আইন
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
আইন কত প্রকার তা নির্দিষ্ট নয়। এ সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
অধ্যাপক হল্যান্ড আইনকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করেছেন-
১. ব্যক্তিগত আইন ২. সরকারি আইন ।
মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে আইন দুই প্রকার। ১. জাতীয় আইন ২. আন্তর্জাতিক আইন।
জাতীয় আইনকে তিনি আবার দুইভাগে ভাগ করেছেন- ক. সাংবিধানিক আইন খ. সাধারণ আইন।

আইন সাধারণত তিন প্রকার-
১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন (Public Law)
২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন (Private Law)
৩. আন্তর্জাতিক আইন (International Law)
১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন: রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হলো রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন। রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন আবার নিম্নরূপ-
ক. ফৌজদারি আইন: রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কাজ পরিচালনার জন্য এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়। সমাজে শান্তি বজায় রাখা এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং দণ্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।
খ. প্রশাসনিক আইন: প্রশাসনিক আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা হয় ও সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি বর্গের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন: এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত না হলেও সামাজিকভাবে স্বীকৃত। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যেমন- চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।
৩. আন্তর্জাতিক আইন: এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়, তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪১৯.
মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে কী ঘটে?
  1. সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
  2. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষিত হয়
  3. কর্মসংস্থান হ্রাস পায়
  4. সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে পরিগণিত।
- তাই মূল্যবোধ ‍শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৪২০.
সক্রেটিস সততাকে কীসের সাথে তুলনা করেছিলেন?
  1. প্রবৃত্তি
  2. সাহস
  3. জ্ঞান
  4. মিতব্যয়িতা
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান
ব্যাখ্যা
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে সততা হলো জ্ঞান। তার মতে জ্ঞান মানেই সততা আর অজ্ঞানতাই অসদাচার।
সক্রেটিসের মতে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যায় কাজ করতে পারে না। তাই জ্ঞানই সততার মূলকথা।

(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩,৪২১.
'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল' এর চূড়ান্ত লক্ষ্য কোনটি?
  1. ক) ব্যক্তিমানুষের চরিত্রনিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা
  2. খ) ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা
  3. গ) দুর্নীতি নির্মূল করা
  4. ঘ) সামাজিক অবক্ষয় দূর করা
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যক্তিমানুষের চরিত্রনিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যক্তিমানুষের চরিত্রনিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
- গত ১৮ অক্টোবর ২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা-বৈঠকে 'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল' চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। 
- সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্নীতি নির্মূল ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
- রাষ্ট্র আইনকানুন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে তাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, সমাজ তা প্রতিপালন করে; সেইসঙ্গে সমাজের নীতিচেতনা ও মূল্যবোধও রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হয়। 
- এই সম্পর্কের জটাজালে ব্যক্তিমানুষের নৈতিকতা ও শুদ্ধতার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠা যেমন প্রয়োজন, তেমনি তার যুক্তরূপ প্রতিষ্ঠানগত শুদ্ধাচার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠাও জরুরি। 
- এই কৌশলটির চূড়ান্ত লক্ষ্য ব্যক্তিমানুষের শুদ্ধাচার, অন্য কথায় চরিত্রনিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা; কিন্তু এর হাতিয়ার হিসাবে প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। 
- রাষ্ট্র, বেসরকারি ব্যবসা খাত ও সুশীল সমাজের যেসব প্রতিষ্ঠান শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে প্রতীয়মান হয়, তাদের উন্নয়ন বিবেচনা করা হয়েছে; শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-নীতির উন্নয়ন সাধন, ক্ষেত্রবিশেষে আইন ও পদ্ধতির পরিবর্তন এবং নতুন আইন ও পদ্ধতি প্রবর্তন, লোকবলের দক্ষতার উন্নয়ন, এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কার্যকারিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে এ দলিলটিতে।
 
উৎস: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (National Integrity Strategy of Bangladesh)

৩,৪২২.
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) আইন
  2. খ) সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. গ) সার্বভৌমত্ব
  4. ঘ) সরকারের জনকল্যানমুখিতা
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক ন্যায়বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে বসবাসকারী সকলেরই সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৩,৪২৩.
'The Conquest of Happiness' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. হেগেল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

Conquest of Happiness:
- 'The Conquest of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell)।
- এটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- বিষয়বস্তু: বার্ট্রান্ড রাসেল এই বইতে আধুনিক মানুষের অসুখের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন এবং একটি সুখী জীবনের জন্য যুক্তিভিত্তিক পথ দেখিয়েছেন, যেমন নিজের বাইরের আগ্রহ তৈরি করা এবং নিষ্ক্রিয় আনন্দের বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকা। 

উল্লেখ্য,
- বার্ট্রান্ড রাসেল একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, প্রভূত গ্রন্থ ও প্রবন্ধের রচয়িতা, শান্তিবাদী ‘অ্যাকটিভিস্ট’, গণবক্তা, গণবুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্ব পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বিশ্লেষণী দর্শনের একজন প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর দর্শন, গণিত, যুক্তি, সেট তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানতত্ত্ব ও অধিবিদ্যায় মৌলিক অবদান রেখেছে।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বিশ্ব সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics” (1910),
- Roads to Freedom (1918),
- Human Society in Ethics and Politics,
- Mortal and others,
- Principles of Social Reconstruction (1916),
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- The Analysis of mind,
- The Prospects of Industrial Civilization (1923),
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৩,৪২৪.
'সতীদাহ প্রথা রহিত করা' কোন ধরনের মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

⇒ সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা আধুনিক মূল্যবোধ।

আধুনিক মূল্যবোধ:
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল, আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য:
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক।
- বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৪২৫.
‘Good Governance is the manner in which power is exercised in the management of a country’s economic and social resources for development’ - কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. ক) ডি. কউফম্যান
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
“সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।” - বিশ্বব্যাংক।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৩,৪২৬.
বিশ্ব নৈতিকতা দিবস-
  1. ক) ১০ ডিসেম্বর
  2. খ) ১ জানুয়ারি
  3. গ) ১৫ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ৫ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
খ) ১ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
- ১ জানুয়ারি বিশ্ব নৈতিকতা দিবস‌‌।
- ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।
- ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস।
- ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

উৎসঃ আন্তর্জাতিক দিবস তালিকা।
৩,৪২৭.
অবস্তুগত সংস্কৃতিতে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সাহিত্য
  2. হাতিয়ার
  3. মূল্যবোধ
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার
ব্যাখ্যা

- অবস্তুগত সংস্কৃতিতে অন্তর্ভুক্ত নয়- হাতিয়ার।
- এটি বস্তুগত সংস্কৃতি।

সংস্কৃতি:

- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই। পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- তবে সাধারন কিছু উপাদান আছে যা সকল দেশে একই রকম। এগুলো হলো: ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
• বস্তুগত সংস্কৃতি: 
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।

এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪২৮.
আইন ও স্বাধীনতা সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয়?
  1. ক) আইন স্বাধীনতার অভিভাবক
  2. খ) আইন স্বাধীনতার শর্ত
  3. গ) আইন স্বাধীনতার রক্ষক
  4. ঘ) আইন স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইন স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইন স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে
ব্যাখ্যা
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। তবে আইন স্বাধীনতাকে সংরক্ষণ করে না। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা- নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৩,৪২৯.
দুর্নীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Corruption-এর উৎপত্তি ল্যাটিন কোন শব্দ থেকে?
  1. Corruptus
  2. Corrigo
  3. Curatio
  4. Conducere
সঠিক উত্তর:
Corruptus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Corruptus
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও দুর্নীতি:
- দুর্নীতি (Corruption) শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ Corruptus থেকে।
- এটি মূলত ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনের জন্য বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে প্রদানকৃত ক্ষমতার অপব্যবহারকে বোঝায়।
- ২০০৪ সালে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission, ACC) গঠন করা হয়। 
- এই কমিশন দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (United Nations Convention Against Corruption, UNCAC) এর মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতিমালা প্রচলিত হয়েছে।

- বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন-এর একটি প্রকাশনায় বলা হয়েছে, “ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।”
- সুশাসনের জন্য দুর্নীতি দমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ দুর্নীতি শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা হ্রাস করে।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে সংযুক্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৩,৪৩০.
সাম্যের অর্থ কী?
  1. সমান সুযোগ-সুবিধা
  2. শ্রেণি বিশেষের অধিকার প্রতিষ্ঠা
  3. অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা
  4. বিশেষ সুযোগ-সুবিধার উপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
সমান সুযোগ-সুবিধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমান সুযোগ-সুবিধা
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্যের অর্থ  - সমান সুযোগ-সুবিধা।
- সাম্যের অর্থ সমান। সাধারণ অর্থ্য সাম্য বলতে বোঝায় সব মানুষ সমান।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নীতিগতভাবে স্বীকার করা হয় যে, সকল মানুষ সমান। কিন্তু বাস্তবে দেখায়া যায়, সব মানুষ এক সমান নয়। শারীরিক ও মানসিক গঠন এবং ক্ষমতা ও যোগ্যতার দকে থেকে একজনের সাথে অন্যজনের পার্থক্য রেয়েছে। এজ্যই রাষ্ট্রের কাছ থেকে সকলেই সমান ব্যবহার দাবি করতে পারে না। 
- বার্কার-এর মতে, সম্য কথাটির অর্থ সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার পার্থক্য সৃষ্টি না করা।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪৩১.
ফ্রান্সিস ই. মেরিল (Francis E. Meril) এর মতে সামাজিক মূল্যবোধ কী?
  1. ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য গৃহীত নীতি
  2. শুধুমাত্র পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ
  4. মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য গৃহীত আচরণ সংরক্ষণ
সঠিক উত্তর:
মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য গৃহীত আচরণ সংরক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য গৃহীত আচরণ সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের প্রকারভেদ ও সামাজিক মূল্যবোধ:
সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ চার ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
যথা-ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।
সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে ফ্রান্সিস ই. মেরিল (Francis E. Meril) এর মতে সামাজিক মূল্যবোধ হলো-মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য গৃহীত আচরণ সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]

৩,৪৩২.
উৎপত্তিগত অর্থে 'Nation' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) ল্যাটিন
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) হিব্রু
  4. ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ক) ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
- উৎপত্তিগত দিক থেকে 'জাতি'(Nation) ও 'জাতীয়তা(Nationality)' মুলত এক ও অভিন্ন।
- কেননা 'জাতি' ও 'জাতিয়তা' শব্দ দুটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Natio' এবং 'Natus' থেকে যার অর্থ 'জন্ম'।
- সুতরাং, উৎপত্তিগত বা শাব্দিকভাবে 'জাতি' ও 'জাতীয়তা' বলতে বোঝায় 'একই বাংশোদ্ভূত জনসমষ্টি। 

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৪৩৩.
লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয় কোনটি?
  1. শাস্তির ভয়
  2. দায়বদ্ধতা
  3. নির্লিপ্ততা
  4. সহানুভূতি
সঠিক উত্তর:
দায়বদ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়বদ্ধতা
ব্যাখ্যা
- লর্ড ব্রাইসের মত অনুসারে, দায়বদ্ধতা আইন মান্য করার কারণ নয়। 

আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৩৪.
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনের চতুর্থ স্তম্ভ কোনটি?
  1. আইনি কাঠামো
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. অংশগ্রহণ
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৪৩৫.
নিচের কোনটি সামাজিক নৈতিকতা?
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ আইন নয়, এর বিরোধিতা বেআইনি নয়। এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা। মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধবোধ আছে বলে মানুষ এটা মেনে চলে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র) বই।
৩,৪৩৬.
লর্ড ব্রাইস এর মতে আইন মান্য করার কারণ কোনটি?
  1. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
  2. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
  3. নির্লিপ্ততা
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৩৭.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কী প্রশমিত হয়?
  1. উত্তেজনা
  2. জাতীয় ঐক্য 
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. দায়িত্বশীল আচরণ
সঠিক উত্তর:
উত্তেজনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তেজনা
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৪৩৮.
সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় -
  1. জাতিসংঘ
  2. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. কমনওয়েলথ
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৪৩৯.
বিশ্বব্যাংকের কোন প্রেসিডেন্ট সুশাসন শব্দটি ব্যবহার করেন?
  1. বারবার কোনাবল
  2. জিম ইয়ং কিম
  3. লুইস টি. প্রেস্টন
  4. জর্জ উডস
সঠিক উত্তর:
বারবার কোনাবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বারবার কোনাবল
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের লক্ষ্য জনকল্যাণ ও মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন।
- সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
- সুশাসনের মানদণ্ড জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৪৪০.
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) নিয়ন্ত্রণ গুণ
  2. খ) জনঅংশগ্রহণ
  3. গ) স্বচ্ছতা 
  4. ঘ) জবাবদিহিতা 
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ন্ত্রণ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ন্ত্রণ গুণ
ব্যাখ্যা
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা:- 
১। Accountability - জবাবদিহিতা 
২। Transparency - স্বচ্ছতা 
৩। Combating Corruption - দুর্নীতি দমন 
৪। Stakeholder Participation - জনঅংশগ্রহণ 
৫। Legal  and Judicial  Framework - আইন ও বিচার বিভাগীয় সংস্করণ। 

বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি। যথা-
- বাক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি,
- সরকারের কার্যকারিতা,
- নিয়ন্ত্রণ গুণ,
- আইনের শাসন,
- দুর্নীতি দমন

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট। 
৩,৪৪১.
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল (UNHRC)সুশাসনের কতটি  উপাদান চিহ্নিত করেছে? 
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল বা (UNHRC) সুশাসনের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো:-
- স্বচ্ছতা
- দায়বদ্ধতা
- জবাবদিহিতা
- অংশগ্রহণ এবং
- সংবেদনশীলতা।

উৎস: UNHRC ওয়েবসাইট।

৩,৪৪২.
প্রশাসনিক ভাষায় "সবুজপত্র" বলতে কী বোঝায়?
  1. গোপন চিঠি
  2. আদালতের রায়
  3. জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত নীতিপত্র
  4. আইন প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত নীতিপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত নীতিপত্র
ব্যাখ্যা
সবুজপত্র:
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।
- এর উপর জনসাধারণের মতামত আহবান করে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ইউরোপীয় কমিশনে এ প্রথা অনুসূত হয়।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশ সবুজপত্র প্রকাশ করার যে প্রথা অনুসরণ করে, সে প্রথা বাংলাদেশে নেই। তবে নীতি সংক্রা্ন্ত বিষয় অথবা অন্য কোন জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে ওয়ার্কশপ বা সেমিনারের মাধ্যমে এ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করার রেওয়াজ রয়েছে। এ প্রক্রি্য়ায় দাতাগোষ্ঠীদেরও মতামত গ্রহণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্র, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করা যায়। এ ছাড়া, চিন্তাবিদদের নিয়ে গঠিত বেসরকারি সংস্থাও সংস্কারমূলক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৪৩.
কোনটি সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ
  3. গ) কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো
  4. ঘ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
সঠিক উত্তর:
গ) কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো
ব্যাখ্যা
যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম(উন্মুক্ত)]
৩,৪৪৪.
কোনটি নাগরিকের প্রধান কর্তব্য?
  1. সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করা
  2. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
  3. কর প্রদান করা
  4. রাজনীতি করা
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা সকল নাগরিকের প্রধান কর্তব্য।
- রাষ্টের আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
- রাষ্টের অস্তিত্বের ওপর নাগরিকের অধিকার নির্ভরশীল।
- এজন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য প্রত্যেক নাগরিককে চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
- রাষ্টের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য ব্যক্তির ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিতে হবে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৪৪৫.
ইমানুয়েল কান্টের নীতিবিদ্যার মূলকথা কোনটি?
  1. মুক্তির ইচ্ছা 
  2. শর্তহীন আদেশ
  3. কর্তব্যের জন্য কল্যাণ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শর্তহীন আদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্তহীন আদেশ
ব্যাখ্যা

- ইমানুয়েল কান্টের নীতিবিদ্যার মূলকথা সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

নীতিবিদ্যা:-

- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৪৪৬.
অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ টি
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।
যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪৪৭.
'Organization for Economic Cooperation and Development' (OECD) মতে সুশাসনের নির্দেশক গুলো হল -
  1. নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা
  2. সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা
  3. মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. উপরোক্ত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে জনসাধারণের বিষয়াদি এবং জনসম্পদকে পরিচালনা করবে সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায়।
- সুশাসনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মাত্রা রয়েছে যার মাধ্যমে কোনও দেশের শাসনের অবস্থা নির্ণয় করা যায়।

⇒ বিভিন্ন তাত্ত্বিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্নভাবে সুশাসনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কিছু নির্দেশকের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১। সরকারের বৈধতা;
২। সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা;
৩। নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা এবং,
৪। মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৪৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনটি অপরিহার্য?
  1. মূল্যবোধের চর্চা
  2. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
  3. রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তির সাথে মিল রাখা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের চর্চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের চর্চা
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধ অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন কখনোই সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না।
- মূল্যবোধগুলি এমন নীতি ও আদর্শ যা একটি সমাজের সদস্যদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং এটি শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যখন মৌলিক মূল্যবোধগুলি কার্যকরভাবে অনুসৃত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৪৯.
‘Justice delayed is justice denied’ উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. উইনস্টন চার্চিল
  3. উইলিয়াম গ্লাডস্টোন
  4. মার্টিন লুথার কিং
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম গ্লাডস্টোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম গ্লাডস্টোন
ব্যাখ্যা
“Justice delayed is justice denied” উইলিয়াম গ্লাডস্টোন এর বিখ্যাত উক্তি।
- এই উক্তিটি আইনি ও বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতার ফলে সৃষ্ট সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে বিচার প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব হলে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রকৃতপক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- এটি বোঝায় যে, যদি ন্যায়বিচার প্রদানের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা প্রকৃতপক্ষে অন্যায়েরই শামিল হয়ে যায়।
- কারণ, বিচার পেতে দেরি হলে ভুক্তভোগী সুবিচার থেকে বঞ্চিত হন এবং অন্যায়কারী আরও বেশি সুযোগ পায়।
- এছাড়া, ন্যায়বিচারের বিলম্ব একটি রাষ্ট্রের সুশাসনের দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
- গণতান্ত্রিক সমাজে দ্রুত ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সহায়ক।

উল্লেখ্য,
- উইলিয়াম গ্লাডস্টোন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি চারবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩,৪৫০.
নিচের কোন সংস্থার মতে ‘আইনি কাঠামো’ সুশাসনের একটি স্তম্ভ?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্ব ব্যাংক
  3. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  4. ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব ব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব ব্যাংক
ব্যাখ্যা

⇒ World Bank- এর মতে, ‘আইনি কাঠামো’ সুশাসনের একটি স্তম্ভ।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো,ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৪৫১.
ই-গভর্নেন্সের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে-
  1. এ সংক্রান্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা
  2. এ সংক্রান্ত আইনী সংস্কার করা
  3. এ সংক্রান্ত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
→ ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃষ্টি করা দরকার। 
→ বাংলাদেশের মত দেশে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার বিধান যুক্ত করে, ২০০৯ এর ICT Act
সংশোধন করতে হবে। 
→ ই-গভর্নেন্স সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। 
→ ই-গভর্নেন্স এর সুবিধা দেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে, এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো শহর থেকে
গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে। 
→ ই-গভর্নেন্সের সুফল পেতে হলে নাগরিকদের তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।
→ ই-গর্ভনেন্সের জন্য অত্যাবশ্যক হচ্ছে প্রতিবন্ধকতাহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ। 
→ ই-গভর্নেন্সের সফলতার জন্য প্রয়োজন ইন্টারনেট যোগাযোগের গতি বৃদ্ধি করা।
→ ই-গভর্নেন্স এর মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে, এই প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা একান্ত অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫২.
আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
  1. রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  2. নাগরিকের কল্যাণ সাধন
  3. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
  4. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
নাগরিকের কল্যাণ সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিকের কল্যাণ সাধন
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৫৩.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয় কবে?
  1. ২০০৭ সালের ১ জুন
  2. ২০০৭ সালের ১ আগস্ট
  3. ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর
  4. ২০০৭ সালের ১ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালের ১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালের ১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রীকরণ: 
- প্রাচীনকালে রাজা বা রাজকর্মচারীরাই আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচারকার্য সম্পাদন করতেন।
- আগে শাসনকার্য ও বিচারকার্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হত না। এ ব্যবস্থা স্বৈরাচারের সুযোগ করে দেয়।
- হ্যারল্ড লাস্কির মতানুসারে শাসকের হাতে বিচারের ভার ন্যস্ত থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।
- এ রকম ক্ষেত্রে শাসন বিভাগ সহজেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর শাসন বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫৪.
‘Anarchy’ শব্দের উৎপত্তি গ্রিক শব্দ -
  1. ক) Anarchys
  2. খ) Ancestress
  3. গ) Anarchos
  4. ঘ) Anarkhos
সঠিক উত্তর:
ঘ) Anarkhos
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Anarkhos
ব্যাখ্যা
⇨ নৈরাজ্যবাদের ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ ‘Anarchism। অন্যদিকে, নৈরাজ্য শব্দের ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ ‘Anarchy’ যা গ্রিক শব্দ ‘Anarkhos’ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
⇨ নৈরাজ্যবাদের মূলকথা হচ্ছে, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজন নেই। নৈরাজ্যবাদীদের মতে রাষ্ট্র ও সরকার নিপীড়নের যন্ত্র মাত্র। তারা মনে করেন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে হবে। রাষ্ট্র যখন থাকবে না তখন একটি সংঘ সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। সংঘের কাজ হবে চুক্তি বাস্তবায়ন করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা।
⇨ গডউইন, প্রুধোঁ, প্রিন্স ক্রপটকিন, টলষ্টয় প্রমুখ নৈরাজ্যবাদের সমর্থক। ক্রপটকিনের মতে, “কোন আইন কিংবা কোন সরকার থাকবে না।”   

তথ্যসূত্র:- নীতিবিদ্যা, এস এস এইচ এল,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫৫.
প্লেটো বলেছেন 'শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন ______।
  1. প্রয়োজনীয়
  2. অপ্রয়োজনীয়
  3. নিরর্থক
  4. সহজ
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা

প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।

প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.

৩,৪৫৬.
'Two Treatises of Government' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জন লক
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) ম্যাক্স ওয়েবার
  4. ঘ) ম্যাকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
ক) জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জন লক
ব্যাখ্যা
 জন লক ( John Locke)
- জন লক একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক।
- তিনি ১৬৩২ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাজ্যের সমারসেটের রিংটনে জন্মগ্রহণ করেন।
- জন লক রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত সামাজিক চুক্তির জন্যে বিখ্যাত।
- রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে লেখা জন লকের একটি বিখ্যাত গ্রন্থ Two Treatises of Government
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:- 
- A Letter Concerning Toleration
- An Essay Concerning Human Understanding
- Essays on the Law of Nature
- Some Thoughts Concerning Education

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 
৩,৪৫৭.
নিম্নের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ?
  1. সৌজন্যবোধ
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টূয়ার্ট সি.ডড-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো  সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা  ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন-এর মতে,সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ  প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৪৫৮.
'গণতন্ত্র হচ্ছে সবচেয়ে দরিদ্র, অজ্ঞ ও অকর্মণ্য ব্যক্তির সরকার'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. জন লক 
  2. লাস্কি
  3. হেরোডোটাস
  4. লেকি
সঠিক উত্তর:
লেকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেকি
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র হচ্ছে সবচেয়ে দরিদ্র, অজ্ঞ ও অকর্মণ্য ব্যক্তির সরকার'—উক্তিটি লেকি (Lecky)-এর।

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- গণতন্ত্র বলতে জনগণের হাতে ক্ষমতা রয়েছে এমন সরকারকে বোঝায়।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ। 
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

⇒ প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- ডাইসির (Dicey) মতে, ‘‘গণতন্ত্র হল সরকারের একটি রূপ যেখানে পরিচালনা পরিষদে সমগ্র জাতির একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত।’’
- অধ্যাপক সিলির (Prof. Selley) মতে, “গণতন্ত্র হলাে এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকেরই অংশগ্রহণ রয়েছে।”
- আব্রাহাম লিংকন-এর ভাষ্য মতে, ‘Government of the people, by the people, for the people’ অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’

⇒ আধুনিক গণতন্ত্র হচ্ছে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত গণতন্ত্র সফল হতে পারে না।
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৫৯.
কোন ধরনের মূল্যবোধ স্থান কিংবা সময়ের ব্যবধানে একই থাকে?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
  3. গ) সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ সাধারণত আপেক্ষিক যা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন বা পরিবর্তন হতে পারে। তবে কিছু কিছু মূল্যবোধ স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সর্বত্রই অস্তিত্বশীল ধাকে। এসব মূল্যবোধ সার্বজনীন মূল্যবোধ নামে পরিচিত।
সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা প্রভৃতি সার্বজনীন মূল্যবোধ হিসেবে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৪৬০.
নিচের কোনটি সম্মোহনী নেতৃত্বের উৎকৃষ্ট উদাহরণ?
  1. ক) রিচার্ড নিক্সন
  2. খ) স্লোবেদান মিলোসেবিচ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) জেনারেল সুহার্তো
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
সম্মোহনী নেতা তার বক্তব্য ও কাজ দ্বারা জনগণকে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন। জনগণ এদের সম্মোহনী বা যাদুকরী নেতৃত্বের জন্যে অন্ধ আবেগে তাদের প্রতি আপ্লুত হয়ে উঠেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মহাত্মা গান্ধী প্রমুখ সম্মোহনী নেতৃত্বের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৪৬১.
ইমানুয়েল কান্টকে কোন নৈতিক দর্শনের প্রবর্তক বলা হয়?
  1. ফলমুখী নৈতিকতা
  2. আধ্যাত্মিক নৈতিকতা
  3. কর্তব্যমুখী নৈতিকতা
  4. উপযোগবাদী নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যমুখী নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যমুখী নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

⇒ ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উল্লেখ্য,
- ইমানুয়েল কান্টকে Deontological Ethics বা কর্তব্যমূলক নীতিশাস্ত্র-এর প্রবর্তক বলা হয়।
- এটি যুক্তির ওপর ভিত্তি করে Categorical Imperative বা সর্বজনীন নৈতিক আইন-এর ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এখানে কোনো কাজের নৈতিকতা তার ফলাফলের ওপর নয় বরং সেই কাজের অন্তর্নিহিত কর্তব্যের ওপর নির্ভর করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৩,৪৬২.
নিচের কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতি?
  1. দর্শন
  2. ধ্যান-ধারণা
  3. পোশাক
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
পোশাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোশাক
ব্যাখ্যা

বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে-
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোশাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

অবস্তুগত সংস্কৃতি:

- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৬৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের মধ্যে কোনটি জাগ্রত করে না?
  1. ক) স্বদেশপ্রেম
  2. খ) স্বজাতিপ্রেম
  3. গ) স্বার্থপরতা
  4. ঘ) শৃঙ্খলাবোধ
সঠিক উত্তর:
গ) স্বার্থপরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বার্থপরতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ নাগরিকদেরকে সুশৃঙখল করার মাধ্যমে স্বজাতি ও স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে জাতীয় উন্নয়নে তাদের আগ্রহ সৃষ্টি করে।
৩,৪৬৪.
কোন সংস্থা দেশের উন্নয়নে প্রতিটি স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্বারোপ করেছে?
  1. ক) ইউএনডিপি
  2. খ) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  3. গ) বিশ্বব্যাংক
  4. ঘ) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ১৯৯৬ সাল থেকে সুশাসনের উপর গুরুত্ব প্রদান করে আসছে। সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

(তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ওয়েবসাইট)
৩,৪৬৫.
গনতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি কী?
  1. জন সচেতনা
  2. দলীয়করণ
  3. ক্ষমতার ভারসাম্য
  4. বিরোধী দলকে দমন
সঠিক উত্তর:
জন সচেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন সচেতনা
ব্যাখ্যা

• জন সচেতনা:
- জনগনের সচেতনতাই গনতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি।
- জনগনের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকার সর্বশ্রেষ্ট রক্ষাকবচ।
- জনসচেতনা সুশাসনের ও চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য,
- জনঅংশগ্রহন:  প্রশাসনে জনগনের অংশগ্রহণ ব্যাপক অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
- কার্যকর সংসদ:  জনগণের আশা আকাঙ্খা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে।
- বিরোধী দলকে দমন করে গনতন্ত্র সফল হয় না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৪৬৬.
'Governance for sustainable human development' শীর্ষক কৌশলপত্রে কোন সংস্থা সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে ?
  1. World Bank
  2. UNDP
  3. IMF
  4. ADB
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও UNDP:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP) ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৩,৪৬৭.
মানুষের কোন কিছু করা বা না করার অবাধ অধিকারকে বলা হয়-
  1. স্বাধীনতা
  2. স্বেচ্ছাচারিতা
  3. সাম্য
  4. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচারিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচারিতা
ব্যাখ্যা

- মানুষের কোন কিছু করা বা না করার অবাধ অধিকারকে সাধারণ দৃষ্টিতে স্বাধীনতা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা স্বেচ্ছাচারিতা।
- প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা মানে হলো নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা। অন্যের সমপরিমাণ অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে আইনানুযায়ী ব্যক্তির স্বার্থ ও সুবিধা অর্জনের পরিবেশই হলো স্বাধীনতা।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)

৩,৪৬৮.
সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী মতবাদ কোনটি?
  1. জ্ঞানবাদ
  2. পূর্ণতাবাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. উদারতাবাদ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
ব্যাখ্যা
সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী মতবাদ হলো পূর্ণতাবাদ।
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

⇒  পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৬৯.
কোনটিকে নৈতিকতার রক্ষাকবচ বলা হয়? 
  1. সমাজ 
  2. মূল্যবোধ 
  3. সততা ও নিষ্ঠা
  4. বিবেকের দংশন
সঠিক উত্তর:
বিবেকের দংশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেকের দংশন
ব্যাখ্যা

• নৈতিকতা: 
- রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
-  নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উল্লেখ্য, 
- নৈতিকতার ইংরেজী প্রতিশব্দ Morality.
- নীতবিদ ম্যুর বলেন: শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৪৭০.
‘কর্তব্যমুখী নৈতিকতা’ কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. কর্মের ফলাফল
  2. কর্মের পরিণতি
  3. কর্মের ধরন
  4. ব্যক্তিগত সুখ
সঠিক উত্তর:
কর্মের ধরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মের ধরন
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৭১.
নিম্নের কোনটি সুশীল সমাজের দায়িত্ব?
  1. প্রশাসনিক নিয়োগ
  2. নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা
  3. নীতি নির্ধারণ
  4. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

⇒ সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

উল্লেখ্য,
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica. 

৩,৪৭২.
অ্যারিস্টটল কোন গ্রন্থে 'সদ্গুণ'-এর কথা উল্লেখ করেন?
  1. নিকোমেকিয়ান এথিক্স
  2. আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস
  3. রিপাবলিক
  4. লেভিয়াথান
সঠিক উত্তর:
নিকোমেকিয়ান এথিক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোমেকিয়ান এথিক্স
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকিয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

⇒ প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য,
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭৩.
কাদের মতে মানুষই সবকিছুর পরিমাপক অর্থাৎ নৈতিকতার কোন মানদণ্ড নেই, এটি ব্যক্তি নির্ভর?
  1. ক) ফারাওদের
  2. খ) সাইরেনিকদের
  3. গ) সোফিস্টদের
  4. ঘ) চার্বাকদের
সঠিক উত্তর:
গ) সোফিস্টদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোফিস্টদের
ব্যাখ্যা
জীবনের ভালো-মন্দের নিহিতভাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে সোফিস্টরাই সর্বপ্রথম নৈতিক সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসেন। সোফিস্টদের মতে মানুষই সবকিছুর পরিমাপক অর্থাৎ নৈতিকতার কোন মানদণ্ড নেই, এটি ব্যক্তি নির্ভর৷
[সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহাম্মদ আবদুল বারী]
৩,৪৭৪.
'বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে'- এটি মূল্যবোধের কোন বৈশিষ্ট্য?
  1. সেতুবন্ধন
  2. বিভিন্নতা
  3. নৈর্ব্যক্তিকতা
  4. যোগসূত্র
সঠিক উত্তর:
নৈর্ব্যক্তিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈর্ব্যক্তিকতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে
- মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

অন্যদিকে,
• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪৭৫.
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে -
  1. সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়
  2. আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা হ্রাস পায়
  3. প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়
  4. প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- প্রশাসন ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ হলো ক্ষমতা কেন্দ্রে বা এক জায়গায় কুক্ষিগত না করে স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া। এর ফলে প্রশাসন ব্যবস্থায় গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দৌরাত্ম্য হ্রাস পায়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক।
৩,৪৭৬.
মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে -
  1. অর্থনেতিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ,  সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

• সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৭৭.
সুশাসনের ধারণায় ‘Win Win Game’-এর অর্থ কী?
  1. শুধুমাত্র সরকার সর্বদা জয়ী
  2. শুধুমাত্র জনগণ সর্বদা জয়ী
  3. সরকার ও জনগণ উভয়ই লাভবান
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সরকার ও জনগণ উভয়ই লাভবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার ও জনগণ উভয়ই লাভবান
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ধারণায় 'Win-Win Game' বলতে এমন একটি পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে সরকার ও জনগণ, উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এমনভাবে লাভবান হয় যে কারোরই কোনো ক্ষতি হয় না।
- অর্থাৎ, সবাই বিজয়ী হয়, যা একটি ইতিবাচক ও পারস্পরিক উপকারী ফলাফল

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

৩,৪৭৮.
ক্ষমতায় 'স্বতন্ত্রীকরণ নীতির' প্রবক্তা কে?
  1. টি, এইচ, গ্রীন
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. মন্টেস্কু
  4. হেগেল
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা

ক্ষমতায় 'স্বতন্ত্রীকরণ নীতির' প্রবক্তা মন্টেস্কু।

​ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:

- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন। এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সালে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৭৯.
'জামিন লাভের অধিকার' কোন ধরনের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত?
  1. আইনগত  অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. ব্যক্তিগত অধিকার
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত অধিকার
ব্যাখ্যা

অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।

⇒ ব্যক্তিগত অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিগত অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

অন্যদিকে,
⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৪৮০.
সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) কী?
  1. ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তির স্বপ্ন ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য গৃহীত আচরণ
  3. ব্যক্তির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে গঠিত মূল্যবোধ
  4. সমাজে শিষ্টাচার বজায় রাখার জন্য মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে গঠিত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে গঠিত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধরন:
- সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, মানুষের মধ্যে প্রধানত দুই ধরনের মূল্যবোধ বিদ্যমান।
- একটি হচ্ছে টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) এবং অপরটি ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values) ।

→ টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values):
- এটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গঠিত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, ব্যক্তি তার জীবনে যে চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, সেটিই তার টার্মিনাল মূল্যবোধ।

→ ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values):
- এটি টার্মিনাল মূল্যবোধ অর্জনের জন্য গৃহীত আচরণগত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে নীতিগত ও আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, সেটিই ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ।

→ এছাড়া, সমাজ জীবনে মানুষ চার ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা, নীতি-নৈতিকতা, বিশ্বাস ও আচরণের মাধ্যমে গঠিত মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ: সমাজে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ, যেমন—সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা ও শিষ্টাচার।
- ধর্মীয় মূল্যবোধ: ধর্মীয় অনুশীলন, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থেকে গড়ে ওঠা মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ: কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার উপর ভিত্তি করে গঠিত মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]

৩,৪৮১.
"ব্যক্তিগত মূল্যবোধ" কোন ধরনের মূল্যবোধকে লালন করে? 
  1. স্বাধীনতার মূল্যবোধকে
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধকে
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে
  4. সামাজিক মূল্যবোধকে
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধকে
ব্যাখ্যা
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে সামাজিক মূল্যবোধকে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৮২.
সামাজিক অবক্ষয় বলতে নিম্নের কোনটি বুঝায়?
  1. সামাজিক রীতিনীতির অনুপস্থিতি
  2. মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
  3. অর্থনৈতিক উন্নতির অভাব
  4. মৌলিক শিক্ষার অভাব
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"

⇒ সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৮৩.
আইন ব্যক্তির কী হিসেবে কাজ করে?
  1. পরামর্শক
  2. ভক্ষক
  3. পথ প্রদর্শক
  4. রক্ষক
সঠিক উত্তর:
রক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ষক
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

অন্যদিকে,
- জন লক বলেছেন, 'যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।' আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক, মানুষ তাই আইন মান্য করে। তবে শাস্তির ভয়, উপযোগিতা, আনুগত্য ও চেতনাবোধই আইন মেনে চলার অন্যতম কারণ।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৪৮৪.
"আইনের চোখে সব নাগরিক সমান।"- বাংলাদেশের সংবিধানের কত নম্বর ধারায় এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে?
  1. ধারা ০৭
  2. ধারা ২৭
  3. ধারা ৩৭
  4. ধারা ৪৭
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
→ বাংলাদেশের সংবিধানের 'তৃতীয় অধ্যায়' - এর "মৌলিক অধিকার" অংশের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।
→ অনুচ্ছেদ - ২৭ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
→ সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
→ 27th article-All citizens are equal before the law and are entitled to equal protection of law.

• বাংলাদেশের সংবিধানের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ:
অনুচ্ছেদ ⎯ ১৩: মালিকানার নীতি,
অনুচ্ছেদ ⎯ ২২: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ,
অনুচ্ছেদ - ১৯: সুযোগের সমতা
অনুচ্ছেদ - ২৮: ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য,
অনুচ্ছেদ ⎯ ২৯: সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা। 
অনুচ্ছেদ - ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।
অনুচ্চেদ - ৩৩: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩,৪৮৫.
নিচের কোনটি মানবীয় আচরণের ভালো-মন্দকে নির্দেশ করে?
  1. সংস্কৃতি
  2. মূল্যবোধ
  3. আইন
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ প্রভৃতি পার্থক্যকারী হলো মূল্যবোধ। মূল্যবোধের মাধ্যমে মানবীয় উত্তম গুণাবলি স্পষ্টতা লাভ করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৪৮৬.
বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন -
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  2. আরজ আলী মাতুব্বর
  3. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  4. আবদুল মতীন
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা
আরজ আলী মাতুব্বর:
- বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।

⇒ নব-নৈতিকতা (New Morality) বলতে সমাজে, সংস্কৃতিতে এবং ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের একটি নতুন বা আধুনিক ধারণাকে বোঝানো হয়। এটি ঐতিহ্যবাহী নৈতিকতা বা সমাজে প্রচলিত পুরনো নৈতিক ধারণা থেকে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে এবং সাধারণত সময়ের পরিবর্তনের সাথে সমন্বয় ঘটাতে চায়। নব-নৈতিকতা অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, এবং আধুনিক চিন্তা-ধারণার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়।

⇒ আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

⇒ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্থলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য, ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন।
- তার দার্শনিক চিন্তা-চেতনা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
- জোহাদ বরকতুল্লাহ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বাংলাভাষায় প্রথম যথার্থ দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- তিনি তার দর্শনে আত্মপ্রতিষ্ঠার নামে একটি দার্শনিক ধারার কথা বলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৮৭.
অধ্যাপক হল্যান্ড নিচের কোনটিকে আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করে নি?
  1. প্রথা
  2. ন্যায়বিচার
  3. জনমত
  4. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা
সঠিক উত্তর:
জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত
ব্যাখ্যা
আইনের উৎস:
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইনের উৎস ৬টি:
১. প্রথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

অর্থাৎ, 'জনমত'- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস নয়।

অন্যদিকে,
- ওপেনহাইম এর মতে, আইনের উৎস ৭টি:
১. প্রথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৩,৪৮৮.
সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করে- 
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইউএনডিপি
  4. এডিবি
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উল্লেখ্য, 
• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৪৮৯.
আইনের সর্বাপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস কোনটি?
  1. ধর্ম
  2. প্রথা
  3. ন্যায়বিচার
  4. বিচারকের রায়
সঠিক উত্তর:
প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথা
ব্যাখ্যা
আইন ও প্রথা:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে, সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
- প্রথা বা রীতিনীতি, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা হচ্ছে আইনের উৎসসমূহ।

উল্লেখ্য,
- আইনের একটি সুপ্রাচীন উৎস প্রথা।

- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজে অধিকাংশ জনগণ কর্তৃক সমর্থিত, স্বীকৃত ও পালিত হয়ে আসছে, তাকে প্রথা বলে।
- প্রাচীনকালে কোনো আইনের অস্তিত্ব ছিল না। রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে প্রথার মাধ্যমে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ হতো।
- রাষ্ট্র সৃষ্টির পর যেসব প্রথা রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে সেগুলো আইনে পরিণত হয়।
- যুক্তরাজ্যের অনেক আইন প্রথার উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস:
i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৪৯০.
নেতৃত্ব কোন প্রকারের গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. আদর্শিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা

নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

⇒ উল্লেখ্য:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- জনগণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করে, জাতিকে উন্নতির দিকে অগ্রসর করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব আবশ্যক।
- জনপ্রিয় নেতা ও যোগ্য নেতৃত্বই গণতন্ত্রের বাহন।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৪৯১.
'স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই'- উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. উইড্রো উইলসন
  3. লর্ড অ্যাকটন
  4. আর্নেস্ট বার্কার
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা

→ 'স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই'- উক্তিটি করেছেন - আর্নেস্ট বার্কার ।

→ সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
- একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৯২.
বাংলাদেশ সরকার গৃহীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
  3. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. দক্ষ আমলাতন্ত্র তৈরি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ২০১২ সালের অক্টোবরে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করে।
- এর অধীনে রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্যে অনুসরণীয় কতগুলো কৌশল স্থির করা হয়।
(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট)
৩,৪৯৩.
'আমরা যে সমাজেই বসবাস করি না কেন, আমরা সকলেই ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা করি'। এটি - 
  1. নৈতিক অনুশাসন
  2. রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
  3. আইনের শাসন
  4. আইনের অধ্যাদেশ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
- উপর্যুক্ত মূল্যবোধগুলো ভালো নাগরিক হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪৯৪.
বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় -
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে 'Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক 'শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি স্তম্ভঘোষণা করে।

স্তম্ভ চারটি হলো:
• দায়িত্বশীলতা,
• স্বচ্ছতা,
• আইনি কাঠামো,
• অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪৯৫.
সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. ব্যক্তির অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
  2. একটি মানদন্ড
  3. ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন - 

• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৯৬.
"সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।" - উক্তিটি কার?
  1. ম্যাককরনি
  2. মারটিন মিনোগ
  3. কফি আনান
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
সঠিক উত্তর:
কফি আনান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কফি আনান
ব্যাখ্যা
⇒ সুশাসন:
- কোন রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সহজেই নাগরিকগণ তা অনুধাবন করতে পারে।
- অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, ঐকমত্য, কর্তব্য ও ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতার মত বৈশিষ্ট্যগুলো তখন খুব সহজেই অনুমেয় হয়।
- সুশাসন না থাকলে সমাজে উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয় না। 

⇒  সুশাসনের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- মিশেল ক্যামডেসাস: "রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"
- কফি আনান সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"
- ম্যাককরনি সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৪৯৭.
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. অংশগ্রহনমূলক প্রক্রিয়া
  3. লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি
  4. জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব
সঠিক উত্তর:
লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- সুশাসন মানে এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ ও অধিকার পায়।
- সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যেখানে লিঙ্গ বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।
- সুশাসনে লিঙ্গ, ধর্ম, জাতি বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হয় না।
- লিঙ্গ বৈষম্য থাকলে তা সুশাসনের পরিপন্থী হয়, তাই এটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।

অন্যদিকে:
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া (ক) → জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- আইনের শাসন (খ) → ন্যায়বিচার ও আইনের সমান প্রয়োগ সুশাসনের ভিত্তি।
- জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব (ঘ) → সুশাসনের অন্যতম শর্ত হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৯৮.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) উন্নয়নের বৈধ কাঠামো
  3. গ) স্বচ্ছতা
  4. ঘ) ভবিষ্যৎবাচ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) উন্নয়নের বৈধ কাঠামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উন্নয়নের বৈধ কাঠামো
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন। ব্যাংকটির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎবাচ্যতা (Predictability)। অন্যদিকে উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।
সূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট
৩,৪৯৯.
মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে কোনটির উন্নতি ঘটায়?
  1. শৃঙ্খলাহীনতা
  2. নাগরিক চেতনা
  3. সমাজে অস্থিরতা
  4. ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিপূর্ণতা
সঠিক উত্তর:
নাগরিক চেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিক চেতনা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও চেতনা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে নাগরিক চেতনার উন্নতি ঘটায়।
- এটি মানুষের মধ্যে সঠিক আচরণ, নৈতিকতা, এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি পেলে মানুষ তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সমাজে সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, এবং ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি হয়।
- এর ফলে সমাজে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষা তাই একটি সুশৃঙ্খল ও সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫০০.
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন মিলিতভাবে কোন ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে পালন করে?
  1. অস্থির ও বিশৃঙ্খল সমাজ
  2. সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
  3. স্বৈরতান্ত্রিক ও সংঘাতময় সমাজ
  4. দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজ
সঠিক উত্তর:
সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের সমন্বয় একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে সহায়ক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটায়, যা সমাজে সুশাসনের ভিত্তি রচনা করে।
- সুশাসনের কার্যকারিতা তখনই নিশ্চিত হয়, যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার নীতিগুলো মেনে চলে।
- ফলস্বরূপ, মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সমন্বয় একটি ন্যায়সঙ্গত, সুশৃঙ্খল এবং স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সহায়ক হয়, যেখানে প্রত্যেকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।