বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩০ / ৩৯ · ২,৯০১৩,০০০ / ৩,৮২৯

২,৯০১.
কোন দশক থেকে সুশাসন ধারণাটি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে?
  1. ১৯৬০
  2. ১৯৭০
  3. ১৯৮০
  4. ১৯৯০
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- ১৯৯০-এর দশক থেকেই শাসন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাপী নতুন করে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
- বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের পথে বাঁধা হিসেবে সুশাসনের অভাবকে চিহ্নিত করে।
- শাসনের গুনগত মান যে সব সময় একরকম হবে, তা নয়। সে কারণে প্রাচীন গ্রীসে আজ থেকে ২৬০০ বছর আগে দার্শনিক প্লেটো আদর্শ শাসকের কথা বলেছেন।
- তিনি বলেছেন, আদর্শ শাসক হবেন একজন দার্শনিক রাজা, যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না। কারণ, এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগণকে যে ধরনের ওয়াদা করেন, সে অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না। তিনি ব্যক্তিগত লোভে আসক্ত হয়ে পড়বেন।
- প্লেটোর পর থেকে আধুনিক যুগের দার্শনিকগণও উত্তম শাসনের বিষয়ে ভেবেছেন।
- জন লকের ভাষায়, উত্তম রাষ্ট্র হবে সেই রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্র জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিরাপত্তা দেয়।
- কার্ল মার্কস মনে করেন শ্রমজীবী মানুষের সরকারই উত্তম সরকার। বৃহত্তর অর্থে নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্য ভালোভাবে শাসন পরিচালনার নামই সুশাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯০২.
রাজনৈতিক অধিকার নাগরিকের কোন শ্রেণির অধিকার?
  1. নৈতিক
  2. আইনগত 
  3. রাষ্ট্রীয়
  4. সর্বজনীন
সঠিক উত্তর:
আইনগত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত 
ব্যাখ্যা

অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়। এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়। যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

⇒ অধিকারকে প্রথমে দু'ভাগে ভাগ করা যায়।  যথা:
১. নৈতিক অধিকার ও
২. আইনগত অধিকার।

• আইনগত অধিকার:
- আইনগত অধিকার বলতে ব্যক্তির সে অধিকারকে বোঝায় যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং অনুমোদিত। আইনগত অধিকারের উৎস হচ্ছে রাষ্ট্র। আইনগত অধিকারকে আবার কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন:

রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার। 

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার। 

⇒ সাংস্কৃতিক অধিকার:
- নিজ ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও ধর্মীয় প্রথা-প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী জীবন গঠন ও পরিচালনার অধিকারকে সাংস্কৃতিক অধিকার বলে। অবশ্য বর্তমান যুগে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসনের ফলে কোন কোন জনগোষ্ঠীর সনাতন সংস্কৃতির পরিবর্তন সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। এভাবে অপসংস্কৃতির জন্য হতে পারে আবার সংস্কৃতি সমৃদ্ধও হতে

⇒ ধর্মীয় অধিকার:
- স্বাধীনভাবে ধর্মগ্রহণ, পালন, ধর্ম পরিবর্তন ও নিজ ধর্মের বিকাশে কর্তব্য পালন, অন্য ধর্মের জন্য বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য চাঁদা দিতে বাধ থাকার স্বাধীনতাকে ধর্মীয় অধিকার বলে। ধর্মকে কেন্দ্র করে এক জাতির চাল-চলন ও আচরণ, বিশ্বাস ও জীবন ব্যবস্থা পৃথক হতে পারে। ধর্মীয় অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অধিকার।

⇒ ব্যক্তিক অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯০৩.
নিচের কোন ক্ষেত্রে সুশাসনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. রাজনৈতিক উন্নয়ন
  3. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
  4. সামাজিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- রাজনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ।
- একটি দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি আন্তরিক না হন, তাহলে সে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভবপর হয় না।
- সুশাসনের সাফল্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের আন্তরিকতা ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি মেনে চলার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে।
- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তথা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা এবং জনগণের কল্যাণের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নে তাদের নিজেদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯০৪.
একটি শিশু নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা প্রথম কোথায় পায়?
  1. পরিবারের কাছে
  2. শিক্ষকের কাছে
  3. সমাজের কাছে
  4. রাষ্ট্রের কাছে
সঠিক উত্তর:
পরিবারের কাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবারের কাছে
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯০৫.
'জাতিসংঘ মানবউন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এর বাংলাদেশের অবস্থান কত? [ সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৩৫ তম
  2. ১৩০ তম
  3. ১২৫ তম
  4. ১২৮ তম
সঠিক উত্তর:
১৩০ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০ তম
ব্যাখ্যা

'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫':
- ইউএনডিপি (UNDP) 'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এ বাংলাদেশের
অবস্থান ১৩০ তম।

অন্যদিকে,
- মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান:
- শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৮৯ তম।
- ভারতের অবস্থান ১৩০ তম।
-পাকিস্তানের অবস্থান ১৬৮ তম।
- নেপালের অবস্থান ১৪৫ তম।
- ভূটানের অবস্থান ১২৫ তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২,৯০৬.
মানুষের নৈতিকতাবোধ জাগ্রত ও শাণিত হয় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ক) মূল্যবোধ শিক্ষার ফলে
  2. খ) মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে
  3. গ) মূল্যবোধের চর্চার ফলে
  4. ঘ) ক + গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + গ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও চর্চার ফলেই মানুষের নৈতিকবোধ জাগ্রত ও শাণিত হয়।
২,৯০৭.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রধান প্রবক্তা কে ?
  1. ডাইসি 
  2. এরিস্টটল
  3. হবস
  4. মন্টেস্কু
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা: 
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য মন্টেস্কুকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে− আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে। 

অন্যদিকে,
- মহামতি এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন।
- তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন।
- এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।
- মার্সিলিও অব পাদুয়া ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির জোরালো সমর্থক ছিলেন।
- তিনি রোমান সম্রাটদের যুগে এবং সামন্তবাদী মধ্যযুগে লুপ্ত হওয়া ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণকে পুনর্জীবিত করেন।
- তিনি সরকারের আইন প্রণয়ন ও শাসন কার্যের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রচনা করেন।
- ষোড়শ শতাব্দীতে জীন বদিন সম্রাট কর্তৃক বিচার ক্ষমতা প্রয়োগের বিপদ সম্পর্কে ইঙ্গিত দান করেন এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখার পক্ষে রায় দান করেন।

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

২,৯০৮.
উপযোগবাদের মূল নীতি কোনটি?
  1. ব্যক্তিসুখই সর্বোচ্চ
  2. কর্তব্য পালনই নৈতিকতা
  3. নৈতিকতা আপেক্ষিক
  4. সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ সুখ
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ সুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ সুখ
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,৯০৯.
জীবন ধারণের অধিকার কোন ধরনের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. অর্থনৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. ধর্মীয় অধিকার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকার:
- যে সকল অধিকার সভ্য সমাজে বাস করার জন্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক অধিকার বলে।
- যেমন-জীবন ধারণের অধিকার, সম্পত্তি রক্ষার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি।
- এ অধিকার ছাড়া নাগরিকের সমাজ জীবন চিন্তা করা যায় না।

অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকার বলতে সেই সকল সুযোগ-সুবিধা বোঝায় যা নাগরিকের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে জীবন ধারণের নিশ্চয়তা দেয়।
- অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া নাগরিক জীবন চিন্তা করা যায় না।
- যেমন-কর্মের অধিকার, ন্যায্য মুজুরি পাবার অধিকার, পেশা পছন্দের অধিকার।
- অর্থনৈতিক অধিকার অন্যান্য অধিকারের পূর্বশর্ত।

রাজনৈতিক অধিকার:
- প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার কে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- রাজনৈতিক অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
- তাছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক অধিকার ভোগের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ লাভ করা যায়।
- যেমন-ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার। 
- রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করলে নাগরিকদের মাঝে সচেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১০.
যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে কী বলে?
  1. প্রথা
  2. সংস্কৃতি
  3. নৈতিকতা
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ বিষায়ক কয়েকটি সংজ্ঞা:

- রীতিনীতি: সমাজবদ্ধ মানুষের ব্যবহার ও অনুশীলনের উপর যে অলিখিত সাধারণ ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে রীতিনীতি বলে। 
- প্রথা: যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে প্রথা বা Custom বলে। 
- সংস্কৃতি: একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি জাতিগোষ্ঠীর মুল্যবোধ, আদর্শ, রীতিনীতি, প্রথা, শিল্প, নৈপুন্য ইত্যাদিকে এক কথায় সংস্কৃতি বলা হয়।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- সমাজবিজ্ঞানী আর টি শেফার মতে, "ভালো বা মন্দ, ঠিক বা বেঠিক এবং কাঙ্খিত বা অনাকাঙ্খিত বিষয় সম্পর্কে সমাজের বিদ্যমান ধারণার নাম হলো মূল্যবোধ।"
- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"
- মেরিল এর মতে, ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''
- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯১১.
আত্মসংসম ব্যক্তির কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে?
  1. ক) নৈতিক ভাবাবেগে
  2. খ) বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলনে
  3. গ) নৈতিক অবদমনে
  4. ঘ) নৈতিক প্রগতিতে
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক প্রগতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক প্রগতিতে
ব্যাখ্যা
- আত্মসংযম ব্যক্তির নৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কোন ব্যক্তি যদি আত্মসংযমের মাধ্যমে ষড়রিপুকে দমন করতে না পারে, তাহলে তার নৈতিক প্রগতি ব্যাহত হয়। 
- তাই নৈতিক প্রগতির জন্যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সংযমী হতে হবে।
 
উৎস: সিভিক এডুকেশন -১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯১২.
'Morality' শব্দটির উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. ফারসি
  4. স্প্যানিশ
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ।
- এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতার সঙ্গে সমাজের সম্পৃক্ততার ফলে সৃষ্ট অন্য একটি পরিস্থিতি হচ্ছে নৈতিক আপেক্ষিকবাদ।
- এর অর্থ হচ্ছে নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় পরিবর্তিত হতে পারে।
- অর্থাৎ নৈতিকতা বিষয়টি আপেক্ষিক।

উল্লেখ্য,
- সমাজে সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতার ফলে তাদের নৈতিক চিন্তা-চেতনাও ভিন্ন হতে বাধ্য।
- এমতাবস্থায় নৈতিকতাকে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য করতে আমরা বাধ্য হই, যদিও মানব জীবনে নৈতিকতার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করলে এই ধরনের অভিধা নৈতিকতার পক্ষে মোটেই মর্যাদাপূর্ণ মনে হয় না।
- এর উত্তরে এই বলা যায় যে, বিভিন্ন সমাজে নৈতিক নীতিতে পার্থক্য থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় এই নীতিগুলো কোন না কোন সর্বজনীন নীতির অংশ হিসেবেই কাজ করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৩.
নৈতিকতা ও ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন কে?
  1. ক) হেরাক্লিটাস
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) কিয়ের্কেগার্ড
  4. ঘ) এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
খ) প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
- প্লেটো সর্বপ্রথম নৈতিকতা ও ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। 
- প্লেটো দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে নৈতিকতা ও ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে প্রথম ভেবেছেন।
- তিনি তাঁর 'ইউথাইফ্রো’ শীর্ষক সংলাপে বিষয়টি বর্ণনা করেন। 
- এই সংলাপে আদালত প্রাঙ্গনে সক্রেটিসের সাথে ইউথাইফ্রোর মধ্যকার কথোপকথনে নৈতিকতা ও ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়। 
২,৯১৪.
একজন ব্যক্তি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে পারে না-
  1. অর্থের অভাবে
  2. মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে
  3. প্রযুক্তিগত শিক্ষার অভাবে
  4. উচ্চশিক্ষার অভাবে
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা একজন ব্যক্তির নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা গড়ে তোলে।
- একজন ব্যক্তি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে না পারার প্রধান কারণ হলো মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব।
- যদি কেউ মূল্যবোধ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হতে পারে এবং ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা হারাতে পারে। - ফলে, সে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিকমতো পালন করতে পারে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৫.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কীরুপ সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. ক) নিবিড়
  2. খ) বিপরীত
  3. গ) ধারাবাহিক
  4. ঘ) প্রান্তিক
সঠিক উত্তর:
ক) নিবিড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিবিড়
ব্যাখ্যা
▪ মূল্যবোধ যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তেমনি সুশাসন মূল্যবোধকে লালন করে।
▪ সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সুশাসনের গুণাবলি প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।  
▪ সুশাসন পেতে হলে মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
▪ এজন্যই বলা হয় যে, ব্যক্তিগত, সমাজজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক খুবই নিবিড়।    

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯১৬.
ব্যক্তি স্বাধীনতার উদাহরণ কোনটি?
  1. সম্পত্তি ভোগ করা
  2. পেশা গ্রহণ করা
  3. ভোটদান করা 
  4. ধর্মচর্চা করা
সঠিক উত্তর:
ধর্মচর্চা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মচর্চা করা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 
- স্বাধীনতা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।
- যেমন- ১। ব্যক্তি স্বাধীনতা, ২। সামাজিক স্বাধীনতা, ৩। রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ৪। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও ৫। জাতীয় স্বাধীনতা।

• ব্যক্তি স্বাধীনতা:
- ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে এমন স্বাধীনতাকে বোঝার, যে স্বাধীনতা ভোগ করলে অন্যের কোনো ক্ষতি হয় না।
- যেমন- ধর্মচর্চা করা ও পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করা। এ ধরনের স্বাধীনতা ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব বিষয়। 

• সামাজিক স্বাধীনতা: 
- জীবন রক্ষা, সম্পত্তি ভোগ ও বৈধ পেশা গ্রহণ করা সামাজিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।
- এ ধরনের স্বাধীনতা ভোগের মাধ্যমে নাগরিক জীবন বিকশিত হয়।
- সমাজে বসবাসকারী মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যই সামাজিক স্বাধীনতা প্রয়োজন।
- এই স্বাধীনতা এমনভাবে ভোগ করতে হয় যেন অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না হয়।

 • রাজনৈতিক স্বাধীনতা: 
- ভোটদান, নির্বাচিত হওয়া, বিদেশে অবস্থানকালীন নিরাপত্তা লাভ ইত্যাদি নাগরিকের রাজনৈতিক স্বাধীনতা।
- এসব স্বাধীনতার মাধ্যমে ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় শাসনকাজে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভ করাকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়।
- মূলত আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির জন্য নাগরিকরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে।
- এই স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না।
- সমাজের অন্য শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রয়োজন।

জাতীয় স্বাধীনতা:
- বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং অন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত।
- বাংলাদেশের এই অবস্থানকে জাতীয় স্বাধীনতা বা রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা বলে।
- এই স্বাধীনতার ফলে একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের কর্তৃত্বমুক্ত থাকে। প্রত্যেক স্বাধীন রাষ্ট্র জাতীয় স্বাধীনতা ভোগ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯১৭.
আধ্যাত্মিক সুখবাদ হলো -
  1. ক) স্থূল ও সূক্ষ্ম সুখবাদের সমন্বয়।
  2. খ) আত্মসুখবাদ ও সর্বজনীন সুখবাদের সমন্বয়।
  3. গ) গ্রিক সুখবাদ ও ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সমন্বয়।
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিক সুখবাদ ও ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সমন্বয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিক সুখবাদ ও ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সমন্বয়।
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগে আরববিশ্ব জ্ঞানের চর্চা অব্যাহত রেখেছিল আর দর্শনের ক্ষেত্রে আরব পন্ডিতরা যে গ্রিকদের দ্বারা খুবই প্রভাবিত ছিলেন তা মসুলিম দর্শনের ছাত্রমাত্রই জানেন।
- আরব তথা মুসলিম দার্শনিকদের প্রায় সকলেরই চেষ্টা -ছিল ইসলামের শিক্ষা ও গ্রিক দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। 
- এই সমন্বয় প্রচেষ্টা তাঁদের নৈতিক চিন্তার মধ্যেও দেখা যায়।
- আল্লাহতায়ালা ভাল কাজের জন্য পরকালে পুরস্কার (সুখ) এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তির (দুঃখ) ব্যবস্থা রেখেছেন, ইসলামের এই মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁরা গ্রিক সুখবাদের সমন্বয় সাধন করেন। 
- এই সমন্বয়কে আধ্যাত্মিক সুখবাদ নাম দেয়া যেতে পারে; কেননা  তাঁরা সুখের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা গতানুগতিক কোন সুখ নয়। এর প্রেক্ষিতটি আধ্যাত্মিক।
- মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যে প্রায় সকলের মধ্যেই এই ধরনের চিন্তাধারার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। 
- তবে যিনি প্রথম অত্যন্ত সুসংবদ্ধভাবে এই আধ্যাত্মিক সুখবাদের বর্ণনা দেন তিনি হচ্ছেন আহমদ বিন মোহাম্মদ মিশকাৰী (৯৩৬-১০৩০)। 
- এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গ্রিকদের সুখ বা আনন্দের | প্রতিশব্দ হিসেবে মুসলিম দার্শনিকরা 'সা'আদা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। 
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯১৮.
সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল-
  1. ক) সরকারি আইন
  2. খ) প্রশাসনিক আইন
  3. গ) বেসরকারি আইন
  4. ঘ) আন্তর্জাতিক আইন
সঠিক উত্তর:
ক) সরকারি আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরকারি আইন
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইন মানব সমাজের দর্পণস্বরূপ।
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়ঃ (১) সরকারি আইন (২) বেসরকারি আইন (৩) আন্তর্জাতিক আইন

• সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে। 

• বেসরকারি আইন:
- এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত নয় তবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- এ আইন দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়। যেমন, কোন সংঘের আইন, চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।

• আন্তর্জাতিক আইন:

- আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ ও বজায় রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৯.
দুর্নীতি একটি-
  1. ক) গুণ
  2. খ) প্রথা
  3. গ) আদর্শ
  4. ঘ) ব্যাধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাধি
ব্যাখ্যা
গৃহিত নীতি ও পদ্ধতির লঙ্ঘনই হলো দুর্নীতি। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি যা আমাদের দেশে সুশাসনের প্রধান অন্তরায়। এর বিস্তৃতি সর্বত্র। দুর্নীতি বিস্তৃতির অন্যতম প্রধান কারণ মূল্যবোধের অবক্ষয়।
২,৯২০.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান ও প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. বিদ্যালয়
  2. সহপাঠী
  3. পরিবার
  4. কর্মক্ষেত্র
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

২,৯২১.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় কিসের মাধ্যমে?
  1. সুশাসনের মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যমে
  3. সংস্কৃতির মাধ্যমে
  4. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

২,৯২২.
সততা ও ন্যায়পরায়ণতা কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) নৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) আধ্যাত্নিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক মূল্যবোধ (Social Value) বলতে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, ধ্যানধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংস্থা ইত্যাদির সমষ্টিকে বোঝায়, যা পরোক্ষভাবে মানুষের আচার-আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য

 বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন,ছোটদের প্রতি স্নেহ ভালোবাসা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদিই সামাজিক মূল্যবোধগুলোর বৈশিষ্ট্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২৩.
সুশাসনের জন্য আইনের প্রয়োগ কেমন হওয়া উচিত?
  1. সবার জন্য সমান
  2. ধনী-গরিব ভেদে আলাদা
  3. কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য
  4. কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য
সঠিক উত্তর:
সবার জন্য সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবার জন্য সমান
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
-
সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকার জনগণের সেবা করে, আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং দুর্নীতির কোনো স্থান থাকে না।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ও সুশাসন:

- "সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে" -এই উক্তিটি মূলত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP)।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী  মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২,৯২৪.
সংবিধানে ন্যায়পাল পদ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ-
  1. ক) ৭৫ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ৭৬ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ৭৭ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ৭৮ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৭ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

- পার্লামেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত কমিশনার বা কর্মকর্তাকে ন্যায়পাল বলে।
- তিনি সরকার, মন্ত্রণালয়, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ৭৭ (১) অনুযায়ী সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন।
- ৭৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- ৭৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদের স্থায়ী কমিটি সমূহ।
- ৭৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,৯২৫.
জনকল্যাণমুখী শাসন প্রসঙ্গে দার্শনিক রাজা’র কথা বলেছেন কে?
  1. ক) থমাস হবস
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রীসে প্লেটো সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না। কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২,৯২৬.
‘দেশের উন্নয়নে প্রতিটি স্তরের জন্য সুশাসন আবশ্যক’-কার অভিমত?
  1. ক) আইএমএফের
  2. খ) জাতিসংঘের
  3. গ) ম্যাককরনির
  4. ঘ) মিশেল ক্যামডেসাসের
সঠিক উত্তর:
ক) আইএমএফের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইএমএফের
ব্যাখ্যা
আইএমএফের মতে, ‘দেশের উন্নয়নে প্রতিটি স্তরের জন্য সুশাসন আবশ্যক’। জাতিসংঘের ভাষায়, ‘সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন’। ম্যাককরনির মতে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীলসমাজের, সরকারের সাথে জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়’। UNDP এর মতে,'সুশাসন সকলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।' অন্যদিকে,জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের মতে,''Good governence is perhaps the single most important factor in eradicating proverty and promoting development।'' আইনের শাসন, মানবাধিকার সংরক্ষণ, শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, সব ক্ষেত্রে সমতা, সবার প্রতি ন্যায়পরায়ণতা, জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা ও জাতীয় শুদ্ধাচার সুশাসনের চালিকাশক্তি। সূত্র- নয়াদিগন্ত ও দৈনিক জনতা পত্রিকা।
২,৯২৭.
সুশাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রগুলোর কী নিশ্চিত করতে হবে?
  1. বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভরতা
  2. সংবিধান পরিবর্তন
  3. শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন
  4. শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক
সঠিক উত্তর:
শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র ও সুশাসন:
- আধুনিক বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ কল্যাণমুখী হতে চায়, যেখানে জনগণের কল্যাণ সাধনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে তৎপর থাকতে হয়।
- তবে, অনেক রাষ্ট্রে এটি কেবল কাগজে-কলমেই প্রতীয়মান, বাস্তবে তা সঠিকভাবে কার্যকর হয় না।

⇒ সুশাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য, রাষ্ট্রগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে:
• শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক।
• স্বাধীন বিচার বিভাগ।
• আইনের শাসন।
• নীতির গণতন্ত্রায়ণ।
• মানবাধিকারের নিশ্চয়তা।
• পছন্দ ও মতামত প্রদানের স্বাধীনতা।
• স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,৯২৮.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা কে?
  1. জ্যাঁ বডিন
  2. জন লক
  3. চালর্স মন্টেস্কু
  4. টমাস হবস
সঠিক উত্তর:
চালর্স মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালর্স মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
• ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ধারণা:
→ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ সরকারের সমগ্র কাজকে তিন ভাগে বিভক্ত করা এবং তিনটি স্বতন্ত্র বিভাগের সহায়তায় তা পরিচালনা করা।
→ বিভাগগুলো হচ্ছে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
→ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল কথা হচ্ছে সরকারের এ তিনটি বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি হবে আলাদা ও স্বতন্ত্র।
→ ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা করেন।
মন্টেস্কু ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
→ তিনি বলেন, “যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯২৯.
সভ্য সমাজের মানদণ্ড হিসেবে কোনটি বিবেচিত?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. আইনের শাসন
  3. সামরিক শক্তি
  4. রাজনৈতিক কর্তৃত্ব
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

২,৯৩০.
জাতিসংঘের কোন প্রতিষ্ঠান সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. UNICEF
  2. UNESCO
  3. UNHCR
  4. UNDP
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
• UNDP:
- UNDP এর মতে” একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (UNDP) ১৯৯৭ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেন।

এছাড়াও,
- ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- এগুলো হলো- সমতা ও ন্যায্যতা, সমঅংশীদারিত্ব, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য, কার্যকারিতা ও দক্ষতা এবং কৌশলগত লক্ষ।

উৎস: ইউএনডিপির ওয়েবসাইট ও পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৩১.
"Sociology is the science of society or of social phenomena.”— উক্তিটি করেছেন কে?
  1. এল এফ ওয়ার্ড
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. এরিস্টটল
  4. সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
এল এফ ওয়ার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এল এফ ওয়ার্ড
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে নাগরিকের আচার-আচরণ, রীতি- নীতি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, রাষ্ট্রের শাসন প্রণালীসহ নাগরিকের সামগ্রিক বিষয়াবলি সম্বন্ধে আলোচনা করে।
- তাই পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজবিজ্ঞানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান ।
- সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে এল এফ ওয়ার্ড (L.F. Ward) বলেন, "Sociology is the science of society or of social phenomena.”

অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের ৩টি গুণাবলির উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো: বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম।
-  এরিস্টটলের বিখ্যাত উক্তিগুলো হচ্ছে-
- “মানুষ সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব”।
 “ইতিহাস হচ্ছে অভিজাত শ্রেণীর সমাধিক্ষেত্র”।
- “আইন হলো পক্ষপাতহীন যুক্তি”।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা  এসএসসি প্রোগ্রাম, ও পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৩২.
E-Governance এর উপযোগিতা কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
  2. অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
  3. দ্রুততা আনয়ন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- সরকারি সেবা বা শাসন কার্যক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারই হলো E-Governance বা Electronic Governance. এর মূল লক্ষ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এই পদ্ধতির ফলে জনগণ ঘরে বসেই দ্রুততার সহিত সরকারি সেবা কার্যক্রম পেতে সক্ষম হয়। এটির ফলে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায় যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৯৩৩.
কোনটি অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ?
  1. ক) আইন
  2. খ) প্রথা
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) সংবাদপত্র
সঠিক উত্তর:
ক) আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইন
ব্যাখ্যা
• অধিকারের রক্ষাকবচ:
- বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং সুসভ্য সমাজ জীবনের জন্য অধিকার অত্যাবশ্যক।
- রাষ্ট্রই নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রবর্তন ও তা সংরক্ষণ করে থাকে।
- গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণের শর্তগুলোকে “অধিকারের রক্ষাকবচ" বলে।

এগুলো নিম্নরূপ:

- আইন (Law):
 আইন হচ্ছে অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ।
→ আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের ফলে অধিকার নিশ্চিত হয়।
→ আইন হচ্ছে অধিকার ভোগের আবশ্যকীয় শর্ত বা রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৩৪.
সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায় কোনটি?
  1. সংসদী সরকার ব্যবস্থা
  2. স্বচ্ছতার অভাব
  3. দুর্বল সেনাবাহিনী
  4. এককেন্দ্রিক সরকার
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতার অভাব
ব্যাখ্যা
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৯৩৫.
সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি কী?
  1. দাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা
  2. যথা সময়ে অফিসে আগমন ও অফিস ত্যাগ করা
  3. নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
  4. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশ প্রতিপালন
সঠিক উত্তর:
নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
ব্যাখ্যা
সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি:
- নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি।

অন্যদিকে -
- যথা সময়ে অফিসে আগমন ও অফিস ত্যাগ করা, দাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা ও ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশ প্রতিপালন করা ইত্যাদির মাধ্যমে সততা নিশ্চিত হয় না।

⇒ সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- তাই দেখা যায় নৈতিক আদর্শ অনুসারে ভাল কাজ নির্বাচন ও সম্পাদনের মাধ্যমেই যে অভ্যাস গড়ে উঠে তাই সততা।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৩৬.
'চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা' কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. ব্যক্তিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।

⇒ ব্যক্তিক অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৩৭.
“‘Comparative Politics and Government” - গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) ম্যাকাইভার
  2. খ) হ্যারেল্ড লাসওয়েল
  3. গ) আর্নেস্ট বার্কার
  4. ঘ) অ্যালন বল
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যালন বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যালন বল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক পদ্ধতির ঐক্যবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ রাজনৈতিক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অধ্যাপক অ্যালান বল (Alan Ball) তাঁর ''Comparative Politics and Government'' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “One of the most important functions of political parties is that of uniting, simplifying and stabilising the political process.” রাজনৈতিক দলের কার্যপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র তথা রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংহতি ও স্থায়িত্ব সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
২,৯৩৮.
সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী? 
  1. Governance
  2. Good  Administration
  3. Good Ethics
  4. Good Governance
সঠিক উত্তর:
Good Governance
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Good Governance
ব্যাখ্যা

সৃুশাসন: 
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Good Governance.
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে Kubernao নামক গ্রিক শব্দ থেকে,
- যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়,
- যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৩৯.
‘আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ‘ - উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. স্যাভিলি
  3. জন অস্টিন
  4. টমাস হবস
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
ব্যাখ্যা
• আইনের ধারণা ও সংজ্ঞা:

• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা:
 → এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason.)।
 → টমাস হবস, জ্যাঁ বোঁদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।
 → টমাস হব্‌স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
 → অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 
 → জন অস্টিন (John Austin) বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।” 
 → অধ্যাপক স্যালমন্ড (Prof. Salmond)-এর মতে, “ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।”
 → অধ্যাপক গেটেল (Prof. Gettel) বলেন, "রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।"

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৪০.
কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. বিভিন্নতা
  2. আপেক্ষিকতা
  3. নৈতিক প্রাধান্য
  4. স্থিতিশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা
• 'স্থিতিশীলতা'- মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:

⇒ নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
⇒ নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।
⇒ বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
⇒ আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। 
⇒ সামাজিক মানদন্ড: বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়।
⇒ পরিবর্তনশীলতা: মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
⇒ সম্পর্কের সেতু: অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্টী কীসের ভিত্তিতে পরস্পর আবদ্ধ হন?
  1. রাজনৈতিক ভিত্তিতে
  2. সামাজিক ভিত্তিতে
  3. স্বার্থের ভিত্তিতে
  4. অর্থনৈতিক ভিত্তিতে
সঠিক উত্তর:
স্বার্থের ভিত্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বার্থের ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছেে এমন এক গোষ্ঠী যারা সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা আবদ্ধ, স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা পরস্পর সাথে আবদ্ধ।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলেও অভিহিত করেন।

- আলফ্রেড গ্রজিয়ার মতে, "চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে, এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী; যা সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৯৪২.
প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় কোনটি?
  1. উন্নয়ন
  2. সুশাসন
  3. আইন প্রণয়ন
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় সুশাসন।

জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
 
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৪৩.
২০২৫ সালে জাতিসংঘ মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কত? 
  1. ১৩০ তম
  2. ১৩৫ তম
  3. ১২৫ তম
  4. ১২৭ তম
সঠিক উত্তর:
১৩০ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০ তম
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- সর্বশেষ মে, ২০২৫-এ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) 'Human Development Report 2025' প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে মানব উন্নয়ন সূচকে শীর্ষ দেশ: আইসল্যান্ড, সর্বনিম্নে রয়েছে সিয়েরা লিওন।
- বাংলাদেশের অবস্থান: ১৩০তম।

• মানব উন্নয়ন সূচকে শীর্ষ দেশগুলো:
১. আইসল্যান্ড,
২. নরওয়ে,
৩. সুইজারল্যান্ড,
৪. ডেনমার্ক,
৫. জার্মানি।

উৎস: Human Development Report 2025.

২,৯৪৪.
কোন সংস্থাটি মানব উন্নয়ন সূচক রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে?
  1. UNICEF
  2. IMF
  3. UNDP
  4. UNESCO
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক:
মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index, HDI) রিপোর্ট প্রকাশ করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)।

- ১৯৯০ সাল থেকে UNDP মানব উন্নয়ন সূচক রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে।
- HDI হল একটি পরিমাপের সূচক, যা একটি দেশের মানব উন্নয়নের বিভিন্ন মাত্রার মূল্যায়ন করে।
-এটি মূলত তিনটি প্রধান দিক নিয়ে গঠিত:
১)-জীবনকাল: এটি একটি দেশের নাগরিকদের গড় আয়ু মূল্যায়ন করে।
২)- শিক্ষা: এটি সাক্ষরতার হার এবং শিক্ষার স্তর বিবেচনা করে।
৩)-জীবনযাত্রার মান: এটি মাথাপিছু আয় (GNI per capita) এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
-UNDP প্রতি বছর এই রিপোর্ট প্রকাশ করে, যা বিভিন্ন দেশের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ও তুলনামূলক অবস্থান নির্দেশ করে।
-HDI-র মাধ্যমে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সম্মিলিত চিত্র পাওয়া যায়, যা উন্নয়ন নীতি ও প্রোগ্রাম প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২,৯৪৫.
Legitimacy হলো-
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) বৈধতা
  4. ঘ) ন্যায়পরায়ণতা
সঠিক উত্তর:
গ) বৈধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৈধতা
ব্যাখ্যা
Legitimacy হলো বৈধতা।
Transparency হলো স্বচ্ছতা।
Rule of Law হলো আইনের শাসন।
Morality or honesty হলো ন্যায়পরায়ণতা।
২,৯৪৬.
জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) কোনটির উৎস হিসেবে ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণকে বিবেচনা করেন?
  1. আইন
  2. সংস্কৃতি
  3. নৈতিকতা
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
- হেইটের মতে, ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ—এই তিনটি উপাদান থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।

নৈতিকতা:

- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour.
- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৪৭.
UNDP-এর সুশাসন ফ্রেমওয়ার্কে কোন নীতি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. সমতা
  3. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীল প্রশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীল প্রশাসন
ব্যাখ্যা

UNDP-এর সুশাসন ফ্রেমওয়ার্কে যে নীতি অন্তর্ভুক্ত নয়- দায়িত্বশীল প্রশাসন।

UNDP ও সুশাসন:

- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- এতে বলা হয়েছে- 'কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

⇒ UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২,৯৪৮.
জাতীয়তা গঠনের অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) ভাষাগত ঐক্য
  2. খ) ধর্মীয় ঐক্য
  3. গ) সাংস্কৃতিক ঐক্য
  4. ঘ) মানসিক ঐক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানসিক ঐক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানসিক ঐক্য
ব্যাখ্যা
জাতীয়তা:
⇒ কতকগুলি বাহ্যিক উপাদানের দ্বারা যখন কোন জনগোষ্ঠী নিজদেরকে এক এবং অন্য জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা মনে করে তখন তারা একটি জাতীয়তা গঠন করে।

⇒ জাতীয়তার বাহ্যিক উপাদানগুলো হল—
- অভিন্ন ভাষা,
- সাহিত্য,
- ধর্ম,
- ইতিহাস,
- ঐতিহ্য,
- ভৌগোলিক এলাকা প্রভৃতি।

⇒ তবে উপাদানগুলো জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়। কেননা জাতীয়তা মূলত একটি মানসিক ব্যাপার।
⇒ জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, “মানব জাতির সেই অংশ জাতীয়তা গঠন করেছে বলা যাবে যদি তারা সাধারণ সহানুভূতির দ্বারা পরস্পর আবদ্ধ হয়।”
⇒ ফরাসী চিন্তাবিদ রেনান বলেন, “জাতীয়তা একটি মানসিক সত্তা ও সজীব মানসিকতা।”
⇒ অধ্যাপক লাস্কি বলেন, “জাতীয়তা একটি মানসিকতার ব্যাপার যা তাদেরকে অবশিষ্ট মানবজাতি থেকে পৃথক করে।”

অর্থাৎ আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, জাতীয়তার বাহ্যিক জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয় বরং মানসিক ঐক্যের মাধ্যমেই জাতীয়তা গঠিত হয়।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [বিস্তারিত পড়ুন]
২,৯৪৯.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. এরিস্টটল
  2. ইমানূয়েল কান্ট
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
ইমানূয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানূয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫০.
কোনটি আইনের শাসন বোঝায় না?
  1. ক) আইনকে শ্রদ্ধা
  2. খ) আইন দিয়ে শাসন
  3. গ) আইন ব্যক্তিকেন্দ্রিক
  4. ঘ) আইনের দৃষ্টিতে সাম্য
সঠিক উত্তর:
গ) আইন ব্যক্তিকেন্দ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইন ব্যক্তিকেন্দ্রিক
ব্যাখ্যা
• আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- অর্থাৎ সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগ।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক ও রাষ্ট্র উভয়েরই দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- নাগরিক আইনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে।
- রাষ্ট্র যথাযথ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করবে, সময়মতো বিচার করবে এবং সময়ে সময়ে আইন সংস্কার করবে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫১.
নৈতিক আচরণবিধি এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভিন্ন হয় কেন?
  1. অর্থনৈতিক কারণে
  2. প্রতিষ্ঠানের আকারের কারণে
  3. পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
  4. কর্মী সংখ্যার কারণে
সঠিক উত্তর:
পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
ব্যাখ্যা

নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics):
- নৈতিক আচরণবিধি বলতে বুঝায় মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে।

• নৈতিকতার নিয়ম প্রতিষ্ঠা:
- প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা-কর্মীদের জন্য নৈতিকতার কিছু নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করেও নৈতিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। এটি হলো এমন কতগুলো আচরণের সমষ্টি যা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে। এ প্রসঙ্গে Bartol and Martin বলেন, “নৈতিকতার নিয়ম হলো এক ধরনের দলিল যা প্রতিষ্ঠানের সদস্যদেরকে দিক-নির্দেশনার জন্য তৈরি করা হয় যখন তারা নৈতিকতা সম্পর্কে কোনো বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।
- প্রতিষ্ঠানে এধরনের নীতিমালা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি তা মেনে চলতে বাধ্য হবে। ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর কার্যপরিবেশ বিরাজ করবে।
- এ সকল নিয়মনীতি এক দেশ থেকে অন্য দেশে রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৫২.
প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের নির্বাচনে ভোট দেবার ক্ষমতা কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. আইনগত সাম্য
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. ব্যক্তিগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- অর্থাৎ নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।

- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫৩.
সুশাসনের অভাবে কোন বিষয়টি বৃদ্ধি পায়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. আইনের শাসন
  3. সামাজিক অসন্তোষ
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অসন্তোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অসন্তোষ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫৪.
সামাজিক অধিকার কোনটি?
  1. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  2. কর্মের অধিকার
  3. স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
  4. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
সঠিক উত্তর:
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের অধিকার।
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
৪. সভা-সমিতির অধিকার।
৫. চলাফেরার অধিকার।
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার।
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার।
================
অন্যদিকে - 
- কর্মের অধিকার হচ্ছে - অর্থনৈতিক অধিকার।
- স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার এবং সরকারি চাকরি লাভের অধিকার হচ্ছে - রাজনৈতিক অধিকার। 

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৫৫.
সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে- 
  1. দর্শন
  2. প্রথা 
  3. আইন
  4. নৈতিকতা 
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা

- "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"

আইন: 
- আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিতনিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারাব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২,৯৫৬.
সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি কোনটি?
  1. স্বাধীনতা
  2. সহনশীলতা
  3. প্রতিযোগিতা
  4. জনপ্রিয়তা
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা (Tolerance):
- ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা ও চিন্তাভাবনার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে সহ্য ও সম্মান করার গুণই হল সহনশীলতা।
- সহনশীলতা হলো সামাজিক মূল্যবোধের একটি মৌলিক ও শক্তিশালী ভিত্তি।
- এটি সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভিন্নমত গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করে।
- সহনশীলতা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। গণতন্ত্রে ভিন্নমতকে মূল্য দেওয়া হয়, যা সহনশীলতার মাধ্যমেই সম্ভব।
- সহনশীল ব্যক্তিরা সহিংসতা নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করে, ফলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।
-  সহনশীলতা না থাকলে সাম্প্রদায়িকতা, বিদ্বেষ ও সংঘাত বাড়ে, সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
- সহনশীলতা কেবল একটি চারিত্রিক গুণ নয়, এটি সমাজের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
- তাই, সহনশীলতা-ই সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫৭.
কোন ধরনের গণতন্ত্রে জনগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে?
  1. পরোক্ষ গণতন্ত্র
  2. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
  3. প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।

⇒ গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র,
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

• নাগরিকগণ যখন সরাসরিভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগ করে, নীতি নির্ধারণ করে এবং আইন প্রণয়ন করে তখন তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে। এই শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ একটি সভায় সম্মিলিত হয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করে থাকে। প্রাচীন গ্রীসের নগররাষ্ট্রগুলোতে এই ধরনের প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। আধুনিককালে সুইজারল্যান্ডের চারটি ক্যান্টন প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের ভিত্তিতে শাসিত হয়। বর্তমান যুগে প্রত্যেক গণতন্ত্র কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কেবলমাত্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোতে কার্যকর করা যেতে পারে। আধুনিক রাষ্ট্র বহু জনসংখ্যা অধ্যুষিত জাতি-রাষ্ট্র। এসব রাষ্ট্রে জনসংখ্যা খুব বেশী এবং বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। সেহেতু প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের পরিবর্তে পরোক্ষ গণতন্ত্র চালু করা হয়েছে।

• পরোক্ষ গণতন্ত্র হল জনগণের প্রতিনিধির শাসন। জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন যে, পরোক্ষ গণতন্ত্র হল সেই শাসন ব্যবস্থা যেখানে জনগণ পর্যায়ক্রমিক নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনসাধারণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে না। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণের কল্যাণে জনগণের শাসন কার্য পরিচালনা করেন। আধুনিক যুগ মূলত পরোক্ষ গণতন্ত্রের যুগ।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৫৮.
২০২৫ সালে প্রকাশিত আইনের শাসন সূচকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী দেশ কোনটি?
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. সুইডেন
  3. ডেনমার্ক
  4. ফিনল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
• ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট প্রকাশিত আইনের শাসন সূচক-২০২৫ অনুসারে:
- শীর্ষদেশ : ডেনমার্ক
- দ্বিতীয় : নরওয়ে
- তৃতীয় : ফিনল্যান্ড
- সর্বনিম্ন (১৪৩তম) দেশ : ভেনেজুয়েলা
- বাংলাদেশের অবস্থান : ১২৫তম।

উৎস: আইনের শাসন সূচক-২০২৫, ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট ওয়েবসাইট।

২,৯৫৯.
মূল্যবোধ শিক্ষা একজন নাগরিকের কোন বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলে?
  1. ভোগবাদিতা
  2. প্রতিযোগী মনোভাব
  3. ব্যবসায়িক দক্ষতা
  4. সামাজিক দায়িত্ববোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক দায়িত্ববোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক দায়িত্ববোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ব্যক্তির দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একজন নাগরিকের জীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- একজন নাগরিকের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৬০.
মানুষের চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্য ও ন্যায়
  2. সংস্কৃতি
  3. নীতিশাস্ত্র
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য:
- মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী ধারনা বা আদর্শ বলে-সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূলবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি- সহনশীলতা।
- মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরনের ভিত্তি হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে- সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
- মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- মূল্যবোধ শিক্ষা বিকাশ সাধন করে- ব্যক্তি সত্তার।
- চিরন্তন মূল্যবোধ হলো- সত্য ও ন্যায়।
- মুল্যবোধের চালিকাশক্তি- সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ জাগ্রত করে- নীতিশাস্ত্র।
- সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে- সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৬১.
'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' উক্তিটি করেছেন -
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. অধ্যাপক বার্জেস
  3. টি. এইচ. গ্রিন
  4. সেন্ট অগাস্টিন
সঠিক উত্তর:
টি. এইচ. গ্রিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টি. এইচ. গ্রিন
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- ইংরেজ দার্শনিক টি. এইচ. গ্রিন (T.H. Green), তাই যথার্থই বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' ("Will, not force is the basis of state").
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.

এছাড়াও,
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।
- এটি সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৬২.
দুর্নীতি ও আয়কর ফাঁকি কোন ধরনের অপরাধ?
  1. ফৌজদারি অপরাধ
  2. সংগঠিত অপরাধ
  3. ভদ্রবেশী অপরাধ
  4. আত্মবিনাশ অপরাধ
সঠিক উত্তর:
ভদ্রবেশী অপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভদ্রবেশী অপরাধ
ব্যাখ্যা
অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ।

অপরাধের ধরনসমূহ:
- সমাজে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীরা পাঁচ ধরনের অপরাধের উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে:
ক) কিশোর অপরাধ (Juvenile delinquency),
খ) আত্মবিনাশ অপরাধ (Self-destroyed crime),
গ) ভদ্রবেশী অপরাধ (White-collar crime),
ঘ) সংগঠিত অপরাধ (Organized crime),
ঙ) ফৌজদারি অপরাধ (Criminal crime)।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯৬৩.
নিচের কোনটি অধিকারের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে?
  1. গণতন্ত্র
  2. জনগণের সজাগদৃষ্টি
  3. আইনের শাসন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক অনুমোদিত কতগুলো সুযোগ সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও জীবনের পূর্ণতা বিকাশ লাভ করে। রাষ্ট্রই এসব অধিকার সংরক্ষণ করে।
- অধিকারের মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তির সর্বাঙ্গীন কল্যাণ সাধন করা।
- আইন, আইনের শাসন, গণতন্ত্র, জনগণের সজাগদৃষ্টি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইত্যাদি অধিকারের রক্ষাকবচ।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৯৬৪.
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনটি প্রতিহত করা যায়?
  1. আইনের শাসনের অপব্যবহার
  2. স্বেচ্ছাচারিতা
  3. দুর্নীতি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য,
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯৬৫.
নিম্নের কোন ঘোষণা সুশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. London Plan of Implementation
  2. Paris Plan of Implementation
  3. Cape town Plan of Implementation
  4. Johannesburg Plan of Implementation
সঠিক উত্তর:
Johannesburg Plan of Implementation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Johannesburg Plan of Implementation
ব্যাখ্যা
Johannesburg Plan of Implementation:
- জোহানেসবার্গ প্ল্যান অব ইমপ্লিমেন্টেশন হলো জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা।
- ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন।
- মূলত এই সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।
- বিশ্বের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতীয় প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রধান গোষ্ঠীর নেতারা সহ কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত হয়েছে এই সম্মেলনে।
- খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।

তথ্যসূত্র: UN ওয়েবসাইট।
২,৯৬৬.
সভ্য সমাজকে বিচার করার প্রধান মানদণ্ড কোনটি?
  1. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  2. আইনের শাসন
  3. প্রযুক্তিগত উন্নতি
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

আইন:
- সুশাসনের মূলভিত্তি হলো আইনের শাসন যা সভ্য সমাজকে বিচার করার প্রধান মানদন্ড। 
- আইনের শাসনের অর্থ আইনের চোখে সকলে সমান, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
- আইনের শাসন ব্যতীত সাম্য, স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৬৭.
মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে কোনটির বিকাশ ঘটে?
  1. মূল্যবোধের
  2. স্বাধীতার
  3. নৈতিকতার
  4. আইনের শাসনের
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা: 
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Morality'।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন 'Moralitas' থেকে, যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা: 
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour. 
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৬৮.
সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র কেন সৃষ্টি হয়?
  1. শাসকের ব্যক্তিগত ইচ্ছায়
  2. প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য
  4. অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তির জন্য
সঠিক উত্তর:
অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তির জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তির জন্য
ব্যাখ্যা

⇒ সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনুযায়ী, প্রকৃতির বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে।

রাষ্ট্রের উৎপত্তি:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
-  রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা অতীত ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে কতগুলো মতবাদ প্রদান করেছেন।
- তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
১। ঐশী মতবাদ,
২। বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদ,
৩। সামাজিক চুক্তি মতবাদ ও
৪। ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ।

সামাজিক চুক্তি মতবাদ:
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- সমাজে বসবাসকারী জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের জন্য হয়েছে।
- ব্রিটিশ রাষ্ট্র দার্শনিক টমাস হবস্ ও জন লক এবং ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
- এ মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত। তারা প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলত এবং প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত।
- কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে আইন অমান্য করলে শাস্তি দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না।
- ফলে সামাজিক জীবনে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
- এ অরাজকতাপূর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তার বিনিময়ে নিজেদের উপর শাসন করার জন্য স্থায়ীভাবে শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২,৯৬৯.
জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে-
  1. ক) মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ম্যল্যবোধের শিক্ষা এবং সুশাসিন প্রতিষ্ঠিত হলে তা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে৷ এর ফলে সবাই পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার শিক্ষা লাভ করে।
২,৯৭০.
রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে -
  1. ক) আইনের শাসন
  2. খ) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  3. গ) ভোটদান
  4. ঘ) নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
গ) ভোটদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভোটদান
ব্যাখ্যা
• অংশগ্রহণ:
- পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ।
- বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব।
- অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭১.
নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় -
  1. ক) পরিবর্তিত হতে পারে
  2. খ) পরিবর্তিত হতে পারে না
  3. গ) পরিবর্তন করলে শাস্তি পেতে হয়
  4. ঘ) কিছুদিন পর পর পরিবর্তন হতে পারে
সঠিক উত্তর:
ক) পরিবর্তিত হতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরিবর্তিত হতে পারে
ব্যাখ্যা
• নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় পরিবর্তিত হতে পারে

• নৈতিকতার সঙ্গে সমাজের সম্পৃক্ততার ফলে সৃষ্ট অন্য একটি পরিস্থিতি হচ্ছে নৈতিক আপেক্ষিকবাদ ।
- এর অর্থ হচ্ছে সমাজে সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতার ফলে তাদের নৈতিক চিন্তা-চেতনাও ভিন্ন হতে বাধ্য।
- এমতাবস্থায় নৈতিকতাকে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য করতে আমরা বাধ্য হই, যদিও মানব জীবনে নৈতিকতার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করলে এই ধরনের অভিধা নৈতিকতার পক্ষে মোটেই মর্যাদাপূর্ণ মনে হয় না।
- এর উত্তরে এই বলা যায় যে, বিভিন্ন সমাজে নৈতিক নীতিতে পার্থক্য থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় এই নীতিগুলো কোন না কোন সর্বজনীন নীতির অংশ হিসেবেই কাজ করে।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা নয় কোনটি?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. জনঅংশগ্রহণের অভাব
  3. দারিদ্র্য
  4. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
→ বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
→ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা, 
→ সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা, 
→ আইনের শাসনের অভাব,
→ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
→ রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব,
→ রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
→ স্বজনপ্রীতি,
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
→ জনঅংশগ্রহণের অভাব,
→ দারিদ্র্য,
→ জনসচেতনতার অভাব,
→ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব।
- অপরদিকে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৭৩.
নৈতিক অধিকার কী দ্বারা জাগ্রত হয়?
  1. আইন
  2. রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত
  3. নীতি ও বিবেক
  4. রাষ্ট্রের সংবিধান
সঠিক উত্তর:
নীতি ও বিবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি ও বিবেক
ব্যাখ্যা
• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

• আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।
- সমাজ ও রাষ্ট্রভেদে এ অধিকারের তারতম্য ঘটে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭৪.
বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয় -
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. সহনশীলতা
  3. আইনি কাঠামো
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৯৭৫.
বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা প্রয়োজন কেন?
  1. নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. সুশাসনের জন্য
  3. আইন প্রণয়ন সহজ করা
  4. প্রশাসনিক ব্যয় কমানো
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের জন্য
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: 
- সুশাসনের জন্য বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা প্রয়োজন।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ পুরো কার্যকর হয়নি। 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ: 
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের এই ধারণা প্রাচীনকালের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নিকটও পরিচিত ছিল।
- এরিস্টটল, পলিবিয়াস, সিসেরো প্রমুখ চিন্তাবিদগণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
- মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগেও এই মতবাদের সমর্থন মিলে। মধ্যযুগে মার্সিলিও অব পাদুয়া ও জিন বডিন এবং আধুনিক যুগে হবস, লক প্রভৃতি দার্শনিকগণও এই মতবাদ সমর্থন করেন।
- রাষ্ট্র বিজ্ঞানী মন্টেস্কু সুস্পষ্ট নীতি হিসেবে স্বতন্ত্রীকরণকে সমর্থন করেন।
- কিন্তু পরিপূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বাস্তবে দেখা যায় না। এটি কাম্যও নয়।
- তাই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের সাথে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ ও ভারসাম্যের নীতির কাম্যতা অনেকেই স্বীকার করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭৬.
কে E-Governance-কে ‘স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা’ বলে আখ্যায়িত করেন?
  1. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  2. ইএম হোয়াইট
  3. চন্দ্রবাবু নাইডু
  4. এফআই গ্লাউড
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯৭৭.
বর্তমানে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সকারকে 'দলীয় সরকার' বলা হয় কেন?
  1. নির্বাচন হয় দলীয় ভিত্তিতে
  2. নির্বাচন হয় জনমতের ভিত্তিতে
  3. নির্বাচন হয় মতের ভিত্তিতে
  4. নির্বাচন হয় জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন হয় দলীয় ভিত্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন হয় দলীয় ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
• আধুনিক গণতন্ত্র:
→ আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
→ বর্তমান সময়ের বিশালায়তন রাষ্ট্রগুলোর বিপুল জনগোষ্ঠীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে তাই জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে।
এই নির্বাচনকার্য সম্পন্ন হয় দলীয় ভিত্তিতে। বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারকে তাই ‘দলীয় সরকার' বলা হয়।
→ প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো রাজনৈতিক দল।
→ রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৭৮.
সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে কী হিসেবে কাজ করে?
  1. নিরপেক্ষ দর্শক
  2. মাধ্যম
  3. শত্রু
  4. প্রতিযোগী
সঠিক উত্তর:
মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধ্যম
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

উল্লেখ্য,
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
২,৯৭৯.
'আমলাতন্ত্র' শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Oligarchy
  2. Bureaucracy
  3. Monarchy
  4. Autocracy
সঠিক উত্তর:
Bureaucracy
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bureaucracy
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy, যা ফরাসি শব্দ Bureau (Desk বা টেবিল) এবং গ্রিকশব্দ Kratein (শাসন) থেকে উদ্ভূত।
- আমলাতন্ত্র হল একটি সংস্থা, যা সরকারী বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, বিভিন্ন নীতিনির্ধারক বিভাগ বা ইউনিট নিয়ে গঠিত।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে আমলাতন্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
- টাস্ক স্পেশালাইজেশন,
- নিয়ম এবং প্রয়োজনীয়তা,
- অনুক্রমিক কর্তৃপক্ষ,
- কর্মজীবন অভিযোজন।

উল্লেখ্য:
- Autocracy অর্থ: একনায়কত্ব, যেখানে এক ব্যক্তি সমস্ত শাসনক্ষমতা ধারণ করে এবং অন্যান্যদের কোনো প্রভাব থাকে না।
- Monarchy অর্থ: রাজতন্ত্র, যেখানে শাসনক্ষমতা এক ব্যক্তি, সাধারণত রাজা বা রানী, বা রাজবংশের মাধ্যমে চলে।
- Oligarchy: যেখানে কিছু বিশেষ বা অভিজাত শ্রেণীর লোকদের হাতে শাসনক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, লাইভএমসিকিউ লেকচার।
২,৯৮০.
'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন' করা হয় কবে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন:
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

২,৯৮১.
লর্ড ব্রাইসের মতে, জনমত কী?
  1. রাজনৈতিক দলের নীতি
  2. শুধুমাত্র শিক্ষিত শ্রেণীর মত
  3. সমাজের বিভিন্ন মতের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল
  4. সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি
ব্যাখ্যা
জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।

⇒ লর্ড ব্রাইস বলেন, "জনমত হল সম্প্রদায়ের স্বার্থ-সংশিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি।"

উল্লেখ্য,
- জিনস্ বার্গ বলেন, "জনমত হল সমাজের বিভিন্ন মতের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল।"
- ই.এম. সেইট বলেন, "জনমত বলতে আমরা এই বুঝি যে, এটি হল জনসমষ্টির মত, জনগণেরই মত।"
- এল. ডবিউ, ডুব বলেন, "একই সামাজিক সংগঠনের সভ্য হিসেবে জনগণের মতামতই জনমত।"
- কিম্বল ইয়াং বলেন, "একটি নির্দিষ্ট সময়ে জনগণ যে মতামত পোষণ করে, তাই জনমত।"
- লোয়েল বলেন, "জনমত বলে অভিহিত হওয়ার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিমত হওয়াই যথেষ্ট নয়, আবার সকলের ঐকমত্যেরও প্রয়োজন নেই।"
- জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "কোন সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার উপর জনগণের সংগঠিত অভিমতের নাম জনমত।"
- অস্টিন রেনি বলেন, "জনমত হল সে সকল মতের সমষ্টি যার প্রতি সরকারি কর্মচারীবৃন্দ বা আমলারা খানিকটা সজাগ এবং সরকারি কার্যাবলি নির্ধারণের সময় তারা এর গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৮২.
'Power Elite' নামক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সি, ডব্লিউ মিলস
  2. খ) টমাস হবস
  3. গ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ঘ) মন্টেস্কু
সঠিক উত্তর:
ক) সি, ডব্লিউ মিলস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সি, ডব্লিউ মিলস
ব্যাখ্যা
• সি, ডব্লিউ মিলস তাঁর 'Power Elite' গ্রন্থে বলেন, যারা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণ করে তারাই এলিট।
• এটা অবধারিত যে, কিছুসংখ্যক লোকের দ্বারা অধিকাংশ লোক শাসিত হয়। উল্লেখ্য যে, উন্নত সমাজে রাজনৈতিক এলিটরা ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
• উন্নয়ণশীল দেশে সামরিক ও বেসামরিক আমলারা ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ক্ষমতা এক গোষ্ঠী থেকে অন্য গোষ্ঠীর হাতে হস্তান্তরিত হয়। এটিই ইতিহাসের নিয়ম।

অন্যদিকে, 
• সপ্তদশ শতাব্দীতে টমাস হবস তার বিখ্যাত ‘The Leviathan’ গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিষয়ে আলোচনা করেন।
• বার্ট্রান্ড রাসেলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Power: A New Social Analysis.
• 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,৯৮৩.
গণতন্ত্রের ধারণা প্রথম উৎসারিত হয় -
  1. যুক্তরাষ্ট্রে
  2. গ্রীসে
  3. ইতালিতে
  4. ইংল্যান্ডে
সঠিক উত্তর:
গ্রীসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীসে
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের সূচনা:
- ‘গণতন্ত্র’ পরিভাষাটি ইংরেজি ‘Democracy’ থেকে এসেছে।
- গ্রিক শব্দ Demos অর্থ হলো জনগণ আর Kritos অর্থ শাসনক্ষমতা বা কর্তৃত্ব।
- ব্যুৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। 
- প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক। 
- অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে -
- যুক্তরাজ্যে সংসদীয় বা আধুনিক গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় ১৫ জুন ১২১৫ ম্যাগনাকার্টা (Magna Carta) চুক্তির মাধ্যমে।
- আধুনিক গণতন্ত্রের জনক: জন লক (যুক্তরাজ্য)।

উৎস: i) ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, কালের কন্ঠ।
         ii) History Channel.
২,৯৮৪.
মূল্যবোধ হল -
  1. সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  3. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
  4. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

২,৯৮৫.
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি 'Know Thyself' এর অর্থ কী?
  1. সমাজকে জানো
  2. নিজেকে জানো
  3. সকলকে জানো
  4. অপরকে জানো
সঠিক উত্তর:
নিজেকে জানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজেকে জানো
ব্যাখ্যা

গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৮৬.
নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. ক) অধিকার সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত
  2. খ) অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত
  3. গ) অধিকার ব্যক্তির সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের সহায়ক
  4. ঘ) অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের আশ্রয় নেয়া যায় না
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের আশ্রয় নেয়া যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের আশ্রয় নেয়া যায় না
ব্যাখ্যা
অধিকার হল এমন কতগুলো সুযোগ সুবিধা, যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত এবং যা ব্যক্তির সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের সহায়ক। অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের আশ্রয় নেয়া যায়।
সূত্র- এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন (উন্মুক্ত)।
২,৯৮৭.
'Critique of Pure Reason' বইটির লেখক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি। যথা:
• সৎ ইচ্ছা,
• কর্তব্যের জন্য কর্তব্য,
• শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয় ৷

→ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৮৮.
জিটুসি নিচের কোনটিকে নির্দেশ করে?
  1. সরকারের সাথে সরকারের মিথস্ক্রিয়া
  2. সরকারের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য
  3. সরকারের সাথে কর্মচারিদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া
  4. সরকারের সাথে জনগণের মিথস্ক্রিয়া 
সঠিক উত্তর:
সরকারের সাথে জনগণের মিথস্ক্রিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের সাথে জনগণের মিথস্ক্রিয়া 
ব্যাখ্যা
- জিটুসি (গভর্নমেন্ট টু সিটিজেন) সরকারের সাথে নাগরিক বা ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- এই মডেলের সাহায্যে নাগরিকগণ সরকারের বিভিন্ন সুবিধাদি পেয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) হলো সরকারের সাথে সরকারের বা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া।
জিটুই (গভর্নমেন্ট টু এমপ্লয়ি) সরকারের সাথে সরকারি কর্মচারীদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
জিটুবি হলো সরকারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্ক।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
২,৯৮৯.
মূল্যবোধ কী?
  1. ব্যক্তির আচরণের নিয়ন্ত্রক
  2. আদর্শহীন কাজে সম্পৃক্ততা
  3. রাষ্ট্রের উন্নয়নের পথে বাধা দেওয়া
  4. ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির আচরণের নিয়ন্ত্রক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির আচরণের নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো ব্যক্তির আচরণের নিয়ন্ত্রক।

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো মূল্যবোধ- এনথনি জি ক্যাটান্স।
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড কুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- ফ্রাঙ্কেল এর মতে, ''মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের ধারণ''।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৯০.
মানবাধিকারসমূহ ঘোষিত হয়েছে কোথা থেকে?
  1. ক) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ
  2. খ) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ
  3. গ) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন
  4. ঘ) মানবাধিকার সংরক্ষণ কমিশন
সঠিক উত্তর:
ক) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সর্বজনীন ঘোষণা গৃহীত হয়। যা বিশ্ব মানবাধিকারের সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
• বিশ্ব মানবাধিকারের এ বৈশ্বিক ঘোষণাটি ৩০ টি ধারা বিশিষ্ট।
• বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ১০ ডিসেম্বর।
• মানবাধিকারের উৎস ও সংরক্ষক হলো জাতিসংঘ।
• জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যেই মানবাধিকার প্রযোজ্য।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯৯১.
সুশাসনের ধারণা প্রথম উপস্থাপন করে-
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. ইউনেস্কো
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৯৯২.
সুশাসনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো-
  1. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  4. প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যতা
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আবশ্যক। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যতীত সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন, সুশীল সমাজ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে শক্তিশালী সেনাবাহিনী, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যতা কিংবা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা আবশ্যক নয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৯৯৩.
সুশাসনের মূল চাবিকাঠি কী?
  1. গণতন্ত্র
  2. জবাবদিহিতা
  3. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  4. নাগরিক ক্ষমতায়ণ
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের চাবিকাঠি:
- সুশাসন বলতে বোঝায় একটি কার্যকর, স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক ও জনমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে জনগণের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
- জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা "মূল চাবিকাঠি"।
- এটি নিশ্চিত করে -
⇒ শাসক ও সরকারি কর্মচারীরা তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ,
⇒ কেউ আইন ও দায়িত্বের ঊর্ধ্বে নয়,
⇒ স্বচ্ছতা বজায় থাকে,
⇒ দুর্নীতি কমে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গণতন্ত্র, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ - এসবই সুশাসনের অংশ, তবে জবাবদিহিতা ছাড়া সুশাসন টেকসই হয় না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৯৯৪.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে মূল্যবোধ উৎসারিত
  2. খ) মূল্যবোধ শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।
  3. গ) মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত
  4. ঘ) মূল্যবোধ হলো একপ্রকার নীতি ও মানদণ্ড
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ ন্যায়বোধ, নীতি ও ঔচিত্যবোধ হতে উৎসারিত।
- মূল্যবোধের শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।
- এটি মানুষের বিবেক বোধের সাথে সম্পৃক্ত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
২,৯৯৫.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. পরমতসহিষ্ণুতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর হয়:
- দায়িত্বশীলতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ।
- গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বশীল বলেই সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৯৬.
সকল অন্যায় ও পাপ থেকে মানুষকে দূরে রাখে-
  1. ক) উচ্চ শিক্ষা
  2. খ) নৈতিক শিক্ষা
  3. গ) বিজ্ঞান শিক্ষা
  4. ঘ) কর্মমুখী শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত রাখে। নৈতিক শিক্ষা ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে যা মানুষকে মন্দ পরিহার করে ভালো দিকে ধাবিত করে।(সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহাম্মদ আবদুল বারী)
২,৯৯৭.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীভাবে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে?
  1. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করে
  2. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে
  3. ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে
  4. অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯৯৮.
পূর্ণতাবাদে নৈতিকতার মানদণ্ড কী দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. সম্পদ ও ক্ষমতা
  2. আত্মোপলব্ধি
  3. সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন
সঠিক উত্তর:
আত্মোপলব্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মোপলব্ধি
ব্যাখ্যা

পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে।
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৯৯.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে শুদ্ধচার হচ্ছে -
  1. শুদ্ধভাবে কার্য সম্পাদনের কৌশল
  2. সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  3. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  4. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
সঠিক উত্তর:
সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়।
- এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়।
- ব্যক্তিপর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল দলিলটিতেও শুদ্ধাচারের এই অর্থকেই গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:

স্লোগান : সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়। 
গ্রহণ : ২০১২ সাল।
গ্রহণকারী : মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ (প্রধানমন্ত্রী)। 

রূপকল্প (Vision) :
সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা। 

অভিলক্ষ (Mission) :
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। 

শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ:
(ক) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও
(খ) অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,০০০.
পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের কয়টি দিকের কথা উল্লেখ করেছে?
  1. তিনটি
  2. চারটি 
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
চারটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থা, যা আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

⇒ পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন: 
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।