বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২৪ / ৩৯ · ২,৩০১২,৪০০ / ৩,৮২৯

২,৩০১.
G2C প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. সরকার ও সরকারের মধ্যে
  2. নাগরিক ও নাগরিকের মধ্যে
  3. ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে
  4. সরকার ও নাগরিকের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
সরকার ও নাগরিকের মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার ও নাগরিকের মধ্যে
ব্যাখ্যা
- জিটুসি (গভর্নমেন্ট টু সিটিজেন-G2C) হচ্ছে সরকারের সাথে নাগরিক বা ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে। 
- এই মডেলের সাহায্যে নাগরিকগণ সরকারের বিভিন্ন সুবিধাদি পেয়ে থাকে। 
 
অন্যদিকে, 
- জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট-G2G) হলো সরকারের সাথে সরকারের বা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া। 
- জিটুই (গভর্নমেন্ট টু এমপ্লয়ি-G2E) হলো সরকারের সাথে সরকারি কর্মচারীদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে। 
- জিটুবি (গভর্নমেন্ট টু ব্যবসায়ী-G2B)  হলো সরকারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্ক। 
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩০২.
রাষ্ট্র কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. ভৌগোলিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্রের মাধ্যমে মানুষ নাগরিক জীবন শুরু করে।
- কারণ মানুষ সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব।
- প্রত্যেকটি মানুষ কোন না কোন রাষ্ট্রের সদস্য।
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।
- সভ্যতার বিকাশে মানুষ যত রকম সংঘ গঠন করছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ এবং শক্তিশালী সংঘ হচ্ছে রাষ্ট্র।

এছাড়াও,
- রাষ্ট্র একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান।

⇒ রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে- (১) জনসমষ্টি (২) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (৩) সরকার ও (৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্র, পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩০৩.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক উৎস কোনটি?
  1. পরিবার
  2. খেলার মাঠ
  3. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  4. শিক্ষালয়
সঠিক উত্তর:
শিক্ষালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষালয়
ব্যাখ্যা

পরিবারে মূল্যবোধের ভিত্তি স্থাপিত হলেও, শিক্ষালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো এর প্রাতিষ্ঠানিক উৎস। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা, কর্তব্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো মূল্যবোধের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করে।

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

২,৩০৪.
ইমানুয়েল কান্ট কোন দেশের নীতিবিজ্ঞানী?
  1. জার্মানি
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ফ্রান্স
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান দার্শনিক ও নীতিবিজ্ঞানী।
- তার নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইঃ
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩০৫.
সুশাসনের আবশ্যক-
  1. সংসদীয় ব্যবস্থা
  2. সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
  3. কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা
  4. দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা
সঠিক উত্তর:
সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো দক্ষ ও কার্যকরি শাসন।
- সুশাসনের জন্যে সরকারি খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রভৃতি আবশ্যক।
অন্যদিকে,
- সুশাসনের ক্ষেত্রে সংসদীয় ব্যবস্থা কিংবা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা অত্যাবশ্যক নয়।
- ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা অপেক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ সুশাসনের গতিকে তরান্বিত করে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৩০৬.
আধুনিক গণতন্ত্রের জনক কে?
  1. ক্লিসথেনিস
  2. জ্যাঁ জ্যাক রুশো
  3. থমাস হবস
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্র সার্বভৌমত্ব ক্ষমতা থাকে জনগণের হাতে।
- আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক।
- জন লক ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও আলোকিত যুগের অন্যতম চিন্তাবিদ।
- তিনি ১৬৩২ সালে ২৯ আগস্ট ব্রিস্টলে জন্মগ্রহণ করেন।
- জন লক জ্ঞানতত্ত্বের আলোচনায় পদ্ধতিগত দিক থেকে নতুনভাবে অভিজ্ঞতাবাদের প্রয়োগ করেছেন এবং দার্শনিক চিন্তাধারাতে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
- তার রাজনীতি নিয়ে লিখিত বইগুলো আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
- অসংখ্য দার্শনিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদের উপর তার প্রভাব রয়েছে।

উল্লেখ্য:
- গণতন্ত্রের জনক হচ্ছেন অ্যারিস্টটল।
- ক্লিসথেনিসকে 'এথেনীয় গণতন্ত্রের জনক' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com
২,৩০৭.
কোনটির আইনগত ভিত্তি আছে?
  1. ক) দানশীলতা
  2. খ) এতিমখানার
  3. গ) ধর্মপ্রচার
  4. ঘ) ওয়াকফ্‌
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওয়াকফ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওয়াকফ্‌
ব্যাখ্যা

ওয়াকফ্‌-এর আইনগত ভিত্তি আছে। বাংলাদেশ সরকার ওয়াকফ সম্পত্তির হস্তান্তর এবং উন্নয়ন করার জন্য ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন করে।
বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসন একটি ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসন ভিত্তিক, সামাজিক কল্যাণকর ও সেবামূলক স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। ১৯৩৪ সালের বেঙ্গল ওয়াক্ফ এ্যাক্টের বলে এ সংস্থার সৃষ্টি হয়। ১৯৬২ সালের ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ অনুযায়ী ওয়াকিফের উদ্দেশ্য বাসত্মবায়নসহ ওয়াক্ফ এস্টেটসমূহের তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এ সংস্থার মূল লক্ষ্য। ফলশ্রুতিতে ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ সংশোধনী আইন ২০১৩ এবং ওয়াক্ফ (সম্পত্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন) বিশেষ বিধান আইন ২০১৩ প্রনয়ন করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়

২,৩০৮.
‘স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা‘ কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. নৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties):
- মানুষ শুধু সামাজিক জীবই নয়, সে রাজনৈতিক জীবও।
- রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষের রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্তব্য।

এগুলো হলো—
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা,
→ রাষ্ট্রপ্রণীত আইন মেনে চলা,
→ সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা,
→ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা,
→ প্রয়োজনে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৩০৯.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির ফলে-
  1. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায়
  2. বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়
  3. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  4. উৎপাদন বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়। এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৩১০.
কোন গুণটি না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না?
  1. সহমর্মিতা
  2. কর্তব্যবোধ
  3. সততা
  4. মানবিকতা
সঠিক উত্তর:
মানবিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানবিকতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
• মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো
প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১১.
নিচের কোনটি রাষ্ট্র গঠনের উপাদান নয়? 
  1. জনসমষ্টি
  2. সার্বভৌমত্ব
  3. ভূ-খন্ড
  4. রাজনীতি
সঠিক উত্তর:
রাজনীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনীতি
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের উপাদান: 
- রাষ্ট্রের চারটি উপাদান থাকে। যথা- (১) জনসমষ্টি, (২) ভূ-খন্ড, (৩) সরকার ও (৪) সার্বভৌমত্ব।
১। জনসমষ্টি:
- রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান জনসমষ্টি। জনসমষ্টি ব্যতীত রাষ্ট্র হতে পারে না।
- তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হতে হবে তার কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই।

২। ভূখন্ড:
- রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় উপাদান হল ভূখন্ড।
- জনসমষ্টিকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভূখন্ড আবশ্যক।
- ভূখন্ড বলতে রাষ্ট্রের ভূমি, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, সামুদ্রিক জলসীমা বোঝায়।

৩। সরকার:
- রাষ্ট্রের তৃতীয় উপাদান সরকার। সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার তিন ধরনের কাজ করে। যথা- আইন সংক্রান্ত, শাসন সংক্রান্ত ও বিচার সংক্রান্ত।
- এ তিন ধরনের কাজের জন্য সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ।
- অর্থাৎ সরকার গঠিত হয় এ তিন বিভাগ নিয়ে। তবে বিশ্বের প্রায় সব সরকার ৩টি বিভাগ নিয়ে গঠিত হলেও সরকারের রূপ ও প্রকৃতি এক নয়।

৪। সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩১২.
বিশ্বাস হলো-
  1. ক) প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা
  2. খ) জীবন দর্শন
  3. গ) নৈতিক আচরণ
  4. ঘ) বহির্ঘাত ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন দর্শন
ব্যাখ্যা
- বিশ্বাস হলো জগত ও জীবন সম্পর্কে মানুষের ধারণা। একে জীবন দর্শন হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
- বিশ্বাস হলো মানুষের সাথে অতি প্রাকৃত শক্তির, প্রকৃতির ও মানুষের সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতার ফসল।
(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২,৩১৩.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যম নয়?
  1. পরিবার
  2. সভা
  3. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  4. সমাজ
সঠিক উত্তর:
সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভা
ব্যাখ্যা

সভা মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যম নয়।

​মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের ভিতরের নৈতিক গুণাবলী। 
​- মানুষের আচরণ তার নৈতিক গুণাবলি বা মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়। 
​- মানুষ পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজ থেকে মূল্যবোধের শিক্ষা পায়। 
​- মানুষের নৈতিক জীবন ও নৈতিকতার মূল ভিত্তি হল পরিবার থেকে গড়ে ওঠা মূল্যবোধ। 
​- জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ যে নৈতিক মূল্যবোধ লালন ও অনুসরণ করে তার উৎস হলো পরিবার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৩১৪.
সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায় —
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. দক্ষ শাসন
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ-এর উন্মেষ ঘটায়।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়। 
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।
- সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এ উপাদান অনুপস্থিত সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৩১৫.
স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ হচ্ছে -
  1. গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা
  2. আইন
  3. সংবিধান
  4. মৌলিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
আইন:
- স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ হচ্ছে আইন।
- আইনের মাধ্যমেই মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষিত হয়ে থাকে।
- কোন নাগরিকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ বা বিপন্ন হলে আইন তা রক্ষা করতে অগ্রসর হয়।
- স্বাধীনতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি আইন দ্বারা আরোপিত শান্তির প্রকৃতি ও অনুপাতের উপর বিশেষভাবে নির্ভর করে।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনকে স্বাধীনতার পূর্বশর্ত বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
• গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা: গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতা রক্ষিত হয়ে থাকে।
• সংবিধান: প্রায় সকল দেশের সংবিধান সে দেশের জনগণের স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত সংবিধান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। 
• মৌলিক অধিকার: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো স্বীকৃতি লাভ করে। সাধারণত সংবিধানে এসব মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ থাকে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১৬.
সভ্য সমাজের মানদণ্ড কী?
  1. আইনের শাসন
  2. গণতন্ত্র
  3. সংবিধান
  4. বিচার ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

২,৩১৭.
'Liberalism' শব্দটি ল্যাটিন কোন শব্দ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে?
  1. ক) Liber
  2. খ) Liberty
  3. গ) Liberous
  4. ঘ) Liberation
সঠিক উত্তর:
ক) Liber
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Liber
ব্যাখ্যা
• উদারতাবাদ বা Liberalism শব্দটি ল্যাটিন Liber শব্দ হতে উদ্ধুত।
• Liber শব্দের অর্থ স্বাধীন। 
• শব্দগত অর্থে তাই উদারতাবাদ হচ্ছে স্বাধীনতার মতবাদ।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত্ব; এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৩১৮.
মূল্যবোধ সম্পর্কে নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) সারা বিশ্বের সব সমাজে মূল্যবোধ একই।
  2. খ) মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল নয়।
  3. গ) মূল্যবোধ সমাজে অনৈক্য প্রতিষ্ঠা করে।
  4. ঘ) মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক।
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক।
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ঠ্যঃ
১. মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।
৩. মূল্যবোধ মূলত এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
৪. মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল ও বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
৫. মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক। ইত্যাদি
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
২,৩১৯.
নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. স্কুল
  2. পরিবার
  3. সমাজ 
  4. রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
  ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩২০.
ই-গভর্নেন্স এর উদ্দেশ্য-
  1. ক) সুশাসন নিশ্চিত করা
  2. খ) জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  3. গ) প্রশাসনকে গতিশীল করা
  4. ঘ) সব কয়টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সব কয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সব কয়টি
ব্যাখ্যা
ই- গভার্নেন্স শব্দটি Electronic Governance - এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
ই-গভর্নেন্স এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা। 
অন্যান্য উদ্দেশ্য হলো সরকার পরিচালনা, প্রশাসনকে গতিশীল করা, গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩২১.
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি কোনটি?
  1. সরকারের জনকল্যানমুখিতা
  2. সার্বভৌমত্ব
  3. আইন
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ন্যায়বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:
• সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান।

• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন সুশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও আবশ্যকীয় উপাদান। আইনের শাসন না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

• সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা:
- মূল্যবোধ সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।

• নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত ও বিকশিত করে।

• কর্তব্যবোধ জাগ্রত করে:
- কর্তব্যবোধ মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান। কর্তব্যবোধ না থাকলে সুশাসন ও প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্যই নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধকে নাগরিকের অন্যতম গুণ বলা হয়।

• সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা:
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতাকে মূল্যবোধের যেমন উপাদান মনে করা হয় তেমনি তা সুশাসনের ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান বা বৈশিষ্ট্য মনে করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৩২২.
''অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন”- উক্তিটি কার?
  1. লর্ড এ্যাকটন
  2. আর, এইচ টনি
  3. কোল
  4. জন অস্টিন
সঠিক উত্তর:
কোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোল
ব্যাখ্যা
''অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন”- কোল।

অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়- জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ্যতা অনুযায়ী সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
-  যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ কোল এজন্যই বলেছেন, 'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন'।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩২৩.
‘যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না’। উক্তিটিতে কী প্রকাশ পাচ্ছে?
  1. ক) আইন স্বাধীনতার অভিভাবক
  2. খ) আইন স্বাধীনতার সম্পূরক
  3. গ) আইন স্বাধীনতার রক্ষক
  4. ঘ) আইন স্বাধীনতার শর্ত
সঠিক উত্তর:
গ) আইন স্বাধীনতার রক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইন স্বাধীনতার রক্ষক
ব্যাখ্যা
আইন আছে বলে স্বাধীনতা ভোগ করা যায়। সংবিধানে মৌলিক অধিকারসমূহ লিপিবদ্ধ থাকার কারণে সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ জনগণের স্বাধীনতা হরণ করতে পারে না। স্বাধীনতা লঙ্ঘন হস্তক্ষেপ ও এর বিরুদ্ধে আদালতে সাংবিধানিক ও সাধারণ আইনের মাধ্যমে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা চলে। এজন্যই লক বলেছেন যে ‘যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা’।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩২৪.
'Critique of Judgement'- গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. এরিস্টটল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. প্লেটো
  4. হেগেল
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:-
​ ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
​- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
​- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
​- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

​নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইঃ
​- Groundwork for Metaphysics of Morals.
​- Critique of Pure Reason.
​- Critique of Practical Reason.
​- Critique of Judgement.

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩২৫.
একটি রাষ্ট্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রধান অবদান রাখে কোনটি?
  1. সুশীল সমাজ
  2. গণমাধ্যম
  3. বিচার বিভাগ
  4. সরকার
সঠিক উত্তর:
সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার
ব্যাখ্যা

সরকার ও সুশাসন:
-সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
- যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
- সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

২,৩২৬.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ থেকে আসে?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) আইন
  3. গ) মানবাধিকার
  4. ঘ) সাম্যবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আইন
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ থেকে আসে আইন
- আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি যা রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যানের জন্য অপরিহার্য।  

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩২৭.
মূল্যবোধ শিক্ষা কোন ক্ষেত্রে অপরিহার্য?
  1. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে
  2. ব্যক্তির নীতিবোধ প্রতিষ্ঠায়
  3. ব্যক্তির ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠায়
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলে, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি নীতিবোধ ও ঔচিত্যবোধের ভিত্তি তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ন্যায়পরায়ণভাবে জীবনযাপনে সহায়তা করে।

নীতিবোধ ও ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ শিক্ষা:

১. নীতিবোধ প্রতিষ্ঠা:
- নীতিবোধ হলো সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক গুণাবলি রক্ষার মানসিকতা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে শেখায় এবং ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
- এটি মানুষকে অনৈতিকতা, দুর্নীতি ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করে।

২. ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠা:
- ঔচিত্যবোধ মানে হচ্ছে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয় তা বোঝার ক্ষমতা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ন্যায়ের পথে চলতে সহায়তা করে।
- এটি দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করে, যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য অপরিহার্য।

উল্লেখ্য,
- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য নয়।
- যদিও নৈতিকতা ও সততা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, তবে এটি সরাসরি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৩২৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে কে?
  1. হ্যারি ট্রুম্যান
  2. আর্থার বেণ্টলে
  3. অ্যালেন পটার
  4. এইচ জিগলার
সঠিক উত্তর:
অ্যালেন পটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালেন পটার
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অনেকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure group), স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী (Interest group), লবি (Lobby), মনোভাব কেন্দ্রিক গোষ্ঠী (Attitude group) এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে (Political group) সমার্থক শব্দ। 

→ অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' (Organized group) শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।
→ অ্যালান বলের মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ।”
→ এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।
→ অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, "স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।"
→ সংক্ষেপে বলতে গেলে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে।
 
সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৩২৯.
সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, মানুষের মধ্যে প্রধানত কয় ধরনের মূল্যবোধ বিদ্যমান?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
সঠিক উত্তর:
দুই ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই ধরনের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ধরন:
- মূল্যবোধ হলো এমন নীতি ও মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি কিছু বিশেষ চিন্তা ও অভ্যেসের সমষ্টি, যা সময়ের সঙ্গে স্থায়ী হয়ে ওঠে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজের নিয়ম, প্রথা ও আদর্শ তৈরি করতে সাহায্য করে।
- এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি, যা ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা করে। 

- সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, মানুষের মধ্যে প্রধানত দুই ধরনের মূল্যবোধ বিদ্যমান।
- একটি হচ্ছে টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) এবং অপরটি ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values) ।

→ টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values):
- এটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গঠিত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, ব্যক্তি তার জীবনে যে চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, সেটিই তার টার্মিনাল মূল্যবোধ।

→ ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values):
- এটি টার্মিনাল মূল্যবোধ অর্জনের জন্য গৃহীত আচরণগত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে নীতিগত ও আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, সেটিই ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ।

→ এছাড়া, সমাজ জীবনে মানুষ চার ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা, নীতি-নৈতিকতা, বিশ্বাস ও আচরণের মাধ্যমে গঠিত মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ: সমাজে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ, যেমন—সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা ও শিষ্টাচার।
- ধর্মীয় মূল্যবোধ: ধর্মীয় অনুশীলন, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থেকে গড়ে ওঠা মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ: কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার উপর ভিত্তি করে গঠিত মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
২,৩৩০.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অভিলক্ষ্য কী?
  1. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. সুশাসন মুখর বাংলাদেশ
  3. সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
  4. শিক্ষার মান উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,৩৩১.
মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের মধ্যে কী সৃষ্টি করে?
  1. ক) স্বজাতিবোধ
  2. খ) দেশপ্রেম
  3. গ) সহনশীলতা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇨ মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
⇨ এটি নাগরিকদের মধ্যে স্বজাতিবোধ, দেশপ্রেম, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা প্রভৃতি সৃষ্টি করে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৩২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা কোনটি?
  1. ক) বিকেন্দ্রীকরণ
  2. খ) সুশীল সমাজ
  3. গ) সামরিক হস্তক্ষেপ
  4. ঘ) জন গ্রহণযোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) সামরিক হস্তক্ষেপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামরিক হস্তক্ষেপ
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসনামলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে এবং অকার্যকর করে রাখা হয়। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সুদূরপরাহত হয়ে পড়ে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৩৩.
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র কোন ধাঁচের?
  1. ক) গণতান্ত্রিক
  2. খ) সমাজতান্ত্রিক
  3. গ) উপনিবেশিক
  4. ঘ) উপরের কোনটিই না
সঠিক উত্তর:
গ) উপনিবেশিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপনিবেশিক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র এখনো অনেকটাই উপনিবেশিক আমলের ধাঁচে কাজ করে।
উপনিবেশিক সংস্কৃতির কারণে আমলাতন্ত্রের মধ্যে ‘জনগণের সেবক’ অপেক্ষা ‘জনগণের প্রভু’ সংস্কৃতি বেশি দেখা যায়।
জনপ্রতিনিধিদের অনেকের মধ্যে আবার অমনোযোগিতা অথবা অদক্ষতাজনিত কারণে আমলাদের উপরে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ার মনোভাব দেখা যায়।
এর ফলে জনগণের সাথে জনগণের প্রতিনিধির দূরত্ব তৈরি হয়, যা বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি বড় অন্তরায় হিসাবে বিরাজ করছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৩৩৪.
মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া কী প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. সুশাসন
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. রাজনৈতিক বিভেদ
  4. মানসিক উন্নতি
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৩৩৫.
টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ কোনটি?
  1. আইন
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. নৈতিক ধ্যান ধারণা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৩৬.
গনতন্ত্রের সফলতার মূল শক্তি কী?
  1. জন সচেতনা
  2. দলীয়করণ
  3. ক্ষমতার ভারসাম্য
  4. কার্যকর সংসদ
সঠিক উত্তর:
জন সচেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন সচেতনা
ব্যাখ্যা
• জন সচেতনা: 
- জনগনের সচেতনতাই গনতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি।
- জনগনের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকার সর্বশ্রেষ্ট রক্ষাকবচ।
- জনসচেতনা সুশাসনের ও চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য, 
- জনঅংশগ্রহন:  প্রশাসনে জনগনের অংশগ্রহণ ব্যাপক অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
- কার্যকর সংসদ:  জনগণের আশা আকাঙ্খা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৩৩৭.
'যেখানে আইন থাকেনা, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'- উক্তিটিতে কী প্রকাশ পাচ্ছে?
  1. আইন স্বাধীনতার প্রচারক
  2. আইন স্বাধীনতার সম্পূরক
  3. আইন স্বাধীনতার রক্ষক
  4. আইন স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো - আইনের শাসন।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- 'যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন'- উক্তিটি করেন - এরিস্টটল।
- 'যেখানে আইন থাকেনা, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না' উক্তিটিতে প্রকাশ পাচ্ছে - আইন স্বাধীনতার রক্ষক

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৩৩৮.
'Idealism and Progress' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  2. আরজ আলী মাতুব্বর
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. কার্ল মার্কস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ চন্দ্র দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ চন্দ্র দেব
ব্যাখ্যা
• 'Idealism and Progress' গ্রন্থের রচয়িতা গোবিন্দ চন্দ্র দেব। 

• গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।
- চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য।
- তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।
- তিনি উগ্র ভাববাদ এবং উগ্র জড়বাদ উভয়কেই তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এ দুটি মতবাদই একদেশদর্শী; এদের দ্বারা মানবজীবনের কল্যাণসাধন ও প্রগতি সম্ভব নয়।
- তিনি তাঁর সমন্বয়ী দর্শনে বস্ত্তবাদকে অধ্যাত্মবাদে এবং অধ্যাত্মবাদকে বস্ত্তবাদে রূপান্তরিত করে এরই ভিত্তিতে একটি সার্থক জীবনদর্শন গড়ে তুলেছেন।
- তাঁর মতে, সার্থক দর্শন মাত্রই জীবনদর্শন।
- তিনি তাঁর প্রায় সব গ্রন্থেই এই দার্শনিক তত্ত্বই প্রকাশ করেছেন।

• উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২),
- আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ এ্যাপলিকেশন (১৯৫৮),
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩),
- দি ফিলোসফি অব বিবেকানন্দ অ্যান্ড দি ফিউচার অব ম্যান (১৯৬৩),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- বুদ্ধ: দি হিউম্যানিস্ট (১৯৬৯)।
- দি প্যারাবুলস অব দি ইস্ট (১৯৮৪)।
- মাই আমেরিকান এক্সপিরিয়েন্স (১৯৯৩)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩৯.
আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয় কাকে?
  1. মন্টেস্কু
  2. জন লক
  3. ম্যাক্স ওয়েভার
  4. জন ফিফনার
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েভার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র (Bureaucracy):
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।
- অর্থাৎ জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
-অর্থাৎ আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।

উল্লেখ্য, 
- ম্যাক্স ওয়েবার ছাড়াও অনেক পন্ডিত আমলাতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
- জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪০.
'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. টমাস হবস
  4. জ্যাক রুঁশো
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- নোবেল পুরস্কার পায় - ১৯৫০ সালে।
▪ 'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।
=============================
তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- Power: A New Social Analysis
- The Problem of Philosophy
- Religion and Science
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Political Ideals
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,৩৪১.
নিচের কোনটি জাতিসংঘ উল্লিখিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. কৌশলগত অংশীদারিত্ব
  2. কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা
  3. মতামতের উপর নির্ভরশীলতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত অংশীদারিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত অংশীদারিত্ব
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
- মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা;
- আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২,৩৪২.
'Nazism and War' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. চার্লস ডিকেন্স
  2. রবার্টসন
  3. রিচার্ড ভেসেল
  4. অগবার্ন
সঠিক উত্তর:
রিচার্ড ভেসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিচার্ড ভেসেল
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ নিয়ে কয়েকটি বিখ্যাত বইয়ের নাম হলো:
- 'Nazism and War' গ্রন্থের রচয়িতা রিচার্ড ভেসেল।
- 'Social Change' গ্রন্থের রচয়িতা উইলিয়াম এফ অগবার্ন।
- 'A Christmas Carol' গ্রন্থের রচয়িতা চার্লস ডিকেন্স,
- 'Stoicism and the Art of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা ডোনাল্ড জে রবার্টসন।

২,৩৪৩.
ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে কোনটি বেশি প্রতিষ্ঠা পায়?
  1. সরকারের স্বচ্ছতা
  2. সরকারের জবাবদিহিতা
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
E-Governance:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৪৪.
ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কোন ধরনের আইন প্রয়োগ করা হয়?
  1. সাংবিধানিক আইন
  2. প্রশাসনিক আইন
  3. ফৌজদারি আইন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়:
(১) সরকারি আইন,
(২) বেসরকারি আইন,
(৩) আন্তর্জাতিক আইন।

সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- পার্লামেন্টে আইন প্রণীত হবার কয়েকটি পর্যায় থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।

ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি বজায় রাখা এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়।

⇒ প্রশাসনিক আইন:
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের মানের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

⇒ সাংবিধানিক আইন:
- রাষ্ট্রের ভিত্তি হল সংবিধান।
- এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অন্য যেকোন আইন এ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
- এ আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, বন্টন ও প্রয়োগকারী নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪৫.
নীতিবিদ্যার মূল ধারা কতটি?
  1. পাঁচটি
  2. সাতটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

⇒ নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

নীতিবিদ্যার মূল ধারা চারটি
যথা:
ক) পরানীতিবিদ্যা
খ) ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
গ) বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা এবং
ঘ) মানমূলক নীতিবিদ্যা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৪৬.
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায় কেন?
  1. নিরপেক্ষ তার কারণে
  2. দেশ বিরোধী মনোভাবের কারণে
  3. সামাজিক কারণে
  4. জবাবদিহিতার অভাবে
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতার অভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতার অভাবে
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ইত্যাদির অভাবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
২,৩৪৭.
আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভ কোন ধরনের অধিকার?
  1. অর্থনৈতিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যেমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।

অধিকারের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে যেসব অধিকার আমরা সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।

সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভ
- জীবন রক্ষার অধিকার
- মত প্রকাশের অধিকার
- পরিবার গঠনের অধিকার
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৩৪৮.
সুশাসন বলতে বোঝায়-
  1. ক) সৃজনশীল শাসন
  2. খ) কর্তৃত্ববাদী শাসন
  3. গ) ধর্মীয় শাসন
  4. ঘ) নির্ভুল ও কার্যকরী শাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্ভুল ও কার্যকরী শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্ভুল ও কার্যকরী শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন মানে হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরী শাসন বা উত্তমরূপে শাসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা। স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতমূলকভাবে শাসন না করা। সুশাসনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা কিংবা নৈতিকতা ঐচ্ছিক বিষয়। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
২,৩৪৯.
সুশাসন বলতে বোঝায়-
  1. ক) কঠোর হাতে শাসন
  2. খ) সৃজনশীল শাসন
  3. গ) নৈতিকভাবে শাসন
  4. ঘ) নিরপেক্ষভাবে শাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিরপেক্ষভাবে শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিরপেক্ষভাবে শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন মানে হলো উত্তমরূপে শাসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা। স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতমূলকভাবে শাসন না করা। সুশাসনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা কিংবা নৈতিকতা ঐচ্ছিক বিষয়। (সূত্রঃ বিশ্বব্যাংক)
২,৩৫০.
মূল্যবোধ কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়?
  1. সামাজিকীকরণ
  2. আইনি প্রক্রিয়া
  3. বিচার প্রক্রিয়া
  4. ক্ষমতা প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
সামাজিকীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিকীকরণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারনা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- মূল্যবোধ একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৫১.
'পরিবর্তনশীলতা' নিচের কোনটির বৈশিষ্ট্য?
  1. মূল্যবোধ
  2. গণতন্ত্র
  3. সুশাসন
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

পরিবর্তনশীলতা:
- মূল্যবোধ-এর প্রধানতম বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানে অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৩৫২.
’Human Society in Ethics and Politics’ গ্রন্থের রচিয়তা? 
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. জন লক
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

- ’Human Society in Ethics and Politics, গ্রন্থের রচিয়তা বার্ট্রান্ড রাসেল।

• বার্ট্রান্ড রাসেল: 

- ১৯৫০ সালে সাহিত্য ক্ষেত্রে Nobel Prize লাভ করেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্যাসিফিজমের কারণে ক্যামব্রিজ থেকে পদত্যাগ;
- ১৯১৮ সালে কারাগারে লেখেন Introduction to Mathematical Philosophy.


• বাট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২,৩৫৩.
রাজনৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তি কোনটি?
  1. সামাজিক প্রথা
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক কর্মকান্ড
  4. রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস, মতাদর্শ ও সাংস্কৃতিক চর্চা, যা একটি রাষ্ট্র বা সমাজের রাজনৈতিক নীতিমালাকে প্রভাবিত করে।
- গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, সমতা, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা- এসব রাজনৈতিক মূল্যবোধের অংশ।
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মূলত রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
- রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও নীতি প্রণয়ন সহজ হয়।
- ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে,
সামাজিক প্রথা (ক) – এটি রাজনৈতিক মূল্যবোধকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে মূল ভিত্তি নয়।
নৈতিক মূল্যবোধ (খ) – এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজনৈতিক মূল্যবোধের সরাসরি ভিত্তি নয়।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড (গ) – এটি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, তবে রাজনৈতিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৫৪.
সুবর্ণ মধ্যকের 'Golden Mean' প্রথম ধারণা দেন কে?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. কার্ল মার্কস
  4. মারটিন মিনোগ
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
Golden Mean:
- ‘দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী পন্থাকে অনুসরণ করাই সুবর্ণ মধ্যক বলে’।
- দর্শন জগতের অন্যতম এবং শ্রেষ্ঠতম ধারণাগুলোর একটি সুবর্ণ মধ্যক।
- সুবর্ণ মধ্যকের (Golden Mean) প্রথম ধারণা দেন, গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
- এরিস্টটলীয় দর্শনে- সাহসিকতা একটা মহৎ গুণ, তবে অতিরিক্ত সাহস মানুষকে বেপরোয়া করে তোলে আর একেবারেই সাহস না থাকলে সেটা ভীরুতা হিসেবে বিবেচ্য হয়।
- এইযে ভীরুতা আর দুঃসাহস, এই দুয়ের মাঝামাঝি সাহসটাই এরিস্টটলের দর্শনে golden mean’. সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটির (golden mean) ব্যবহার আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক জীবনেও দেখা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
২,৩৫৫.
নিচের কোনটি জনমতের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) জনকাল্যাণকামী
  2. খ) আইনসভা
  3. গ) যুক্তিভিত্তিক
  4. ঘ) সুনির্দিষ্টতা
সঠিক উত্তর:
খ) আইনসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আইনসভা
ব্যাখ্যা
জনমতের বৈশিষ্ট্য হলোঃ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মতামত, জনকাল্যাণকামী, যুক্তিভিত্তিক, সংখ্যাগরিষ্ঠের মত, জাতীয় সমস্যা ও তার সমাধান ও সুনির্দিষ্টতা।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৫৬.
'দারিদ্র দূরীকরণ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সম্ভবত সুশাসনই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ উপাদান’- কে বলেছেন?
  1. ক) জাতিসংঘ সাবেক মহাসচিব
  2. খ) বিশ্বব্যাংক প্রধান
  3. গ) ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. ঘ) সার্ক 
সঠিক উত্তর:
ক) জাতিসংঘ সাবেক মহাসচিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জাতিসংঘ সাবেক মহাসচিব
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে সুশাসনের বিকাশ নেই।
- এ বিষয়ে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের বক্তব্য স্বরণযোগ্য।
- তিনি বলেন- ‘দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য ‘সম্ভবত সুশাসনই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ উপায়'।
- তবে এই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পূর্বশর্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৫৭.
যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।' উক্তিটি কে বলেছেন?
  1. লর্ড ব্রাইস
  2. টিএইচ গ্রিন
  3. জন লক
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।
- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৩৫৮.
কোনটি মূল্যবোধের উদাহরণ নয়?
  1. ক) স্বাধীনতা 
  2. খ) সাম্য 
  3. গ) ন্যায়নীতি 
  4. ঘ) গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচার-আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড।
- এটি মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- মূল্যবোধ হল আইনের ভিত্তি।
- মূল্যবোধ জাতীয় জীবনের দর্পণস্বরূপ।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ দৃঢ় হয়।
- মূল্যবোধের উদাহরণ হলোঃ স্বাধীনতা, ন্যায়নীতি ও সাম্য প্রভৃতি।

কিন্তু গণতন্ত্র মূল্যবোধের উদাহরণ নয়।
২,৩৫৯.
বাংলাদেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাঁধা কোনটি?
  1. একাধিক রাজনৈতিক দল
  2. এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা
  3. আইনের শাসন
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের ইস্যু:
- সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সুশাসনের ইস্যু হলো দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
- তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

⇒ দুর্নীতি:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৬০.
একজন জনপ্রশাসকের জন্য কোনটি সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়?
  1. কর্মদক্ষতা
  2. ক্ষমতা
  3. জনকল্যাণ
  4. ব্যক্তি স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা

একজন জনপ্রশাসকের জন্য সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়- 'জনকল্যাণ'।

জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ:
- জনপ্রশাসকের মূল লক্ষ্য হলো জনসেবার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ করা।
- একজন জনপ্রশাসক যেসব মৌলিক মূল্যবোধ ধারণ করেন, তা হলো-

⇒ জনকল্যাণ:
- জনপ্রশাসকের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং তাদের জীবনমান উন্নত করা।
- এজন্য জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়।

⇒ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা:
- জনকল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
- জনপ্রশাসককে তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হয় এবং জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা প্রদর্শন করতে হয়।

⇒ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার:
- জনপ্রশাসককে সব সময় নিরপেক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ থাকতে হয়।
- জনগণের প্রতি ন্যায্য আচরণ করা এবং পক্ষপাতিত্ব না করা তার মূল দায়িত্ব।

⇒ কর্মদক্ষতা:
- জনপ্রশাসককে তার কাজ দক্ষতার সাথে করতে হয়, যাতে জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়।
- দক্ষতা জনকল্যাণের একটি অংশ হিসাবে বিবেচিত হয়।

⇔ অন্য মূল্যবোধগুলো (স্বাধীনতা, ক্ষমতা, কর্মদক্ষতা) গুরুত্বপূর্ণ হলেও, জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হিসাবে জনকল্যাণ সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৩৬১.
বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থার মতে, জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম সূচক
  1. ক) সুশীলসমাজ
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) সুশাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুশাসন
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থার মতে, জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম সূচক সুশাসন।
- সুশাসন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করে।
- বহির্বিশ্বে একটি দেশের ভাব মূর্তির মানদণ্ড নির্ধারিত সে দেশের শাসন ব্যবস্থা দ্বারা।
- সুশাসনের প্রভাবে আকৃষ্ট হয়ে বিদেশি বিনিয়োগ।

২,৩৬২.
কিশোর অপরাধের জন্যে প্রধানত দায়ী?
  1. মূল্যবোধের অবক্ষয়
  2. দারিদ্র্য
  3. অশিক্ষা
  4. অপসংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা
- অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধই হলো কিশোর অপরাধ।
- এটি আমাদের দেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা। এর প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য।
- এছাড়া, খেলাধূলা ও চিত্তবিনোদনের অভাব, আদর-যত্নের অভাব, সামাজিকীরণের অনুকূল পরিবেশের অনুপস্থিতি প্রভৃতি কিশোর অপরাধ সংঘটনের জন্যে দায়ী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
২,৩৬৩.
জাতিসংঘ অনুযায়ী সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি? 
  1. কার্যকারীতা ও দক্ষতা
  2. সাম্য
  3. স্বচ্ছতা
  4. কৌশলগত লক্ষ্য
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত লক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত লক্ষ্য
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘ অনুযায়ী সুশাসনের উপাদান নয় কৌশলগত লক্ষ্য।

- জাতিসংঘ  সুশাসনের  ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- অংশীদারত্ব (Participation);
- আইনের শাসন (Rule of Law);
 - স্বচ্ছতা (Transparency);
- সংবেদনশীলতা (Responsiveness);
- জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা (Consensus orientation);
- সাম্য (Equity);
- কার্যকরীতা ও দক্ষতা (Effectiveness and Efficiency);
.-জবাবদিহিতা (Accountability)।

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

২,৩৬৪.
আমলাতন্ত্রের ‘Legal and Rational Model’ সর্বপ্রথম কে উপস্থাপন করেন?
  1. কার্ল মার্কস
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. ফ্রেডরিক টেলর
  4. উড্রো উইলসন
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'। 
- ইংরেজি 'Bureaucracy' শব্দটি এসেছে ফরাসি থেকে। ফরাসি 'Bureau' এবং গ্রিক 'Kratos' শব্দের সমন্বয়ে। 
- 'Bureau' শব্দের অর্থ ডেস্ক বা অফিস এবং 'Kratos' শব্দের অর্থ শাসন বা রাজনৈতিক ক্ষমতা। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'। 
- আক্ষরিক অর্থে আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন। 
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন। 
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন। 
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক। 
- পরিশেষে বলা যায়, আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৬৫.
নিচের কোনটি কর্তব্যের পরিপূরক?
  1. আইন
  2. অধিকার
  3. স্বাধীনতা
  4. দেশসেবা
সঠিক উত্তর:
অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক:
- অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- অধিকার ও কর্তব্যের প্রকৃতি, স্বরূপ এবং পরিধি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এগুলো একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
- কর্তব্যহীন অধিকার বা অধিকারবিহীন কর্তব্যের কথা কল্পনা করা যায় না।
- অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক।
- এরা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

⇒ নাগরিকের যা অধিকার রাষ্ট্রের নিকট তাই কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের যা অধিকার নাগরিকের নিকট তাই কর্তব্য।
- রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার আছে এবং রাষ্ট্র যখন সে অধিকার দাবি করে তখন নাগরিকের চরম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।
- যেমন- রাষ্ট্র যখন বিপদগ্রস্ত হয় তখন নাগরিকদের জীবনের বিনিময়ে হলেও রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে হয়।
- রাজনৈতিক সচেতনতার ফলে নাগরিক কখনও অধিকার ও কর্তব্যকে পৃথক করে দেখতে পারে না।
- অধিকারের মধ্যে কর্তব্য নিহিত থাকে। 

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৬৬.
প্রকৃত শিক্ষাই মানুষকে ____ অর্জনে সহায়তা করে।
  1. ক) মানবিকতা
  2. খ) মনুষ্যত্ব
  3. গ) মানসিকতা
  4. ঘ) জ্ঞান
সঠিক উত্তর:
খ) মনুষ্যত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
প্রাবন্ধিক মোতাহার হোসেন চৌধুরীর একটি বিখ্যাত উক্তি, 'প্রকৃত শিক্ষাই মানুষকে মনুষ্যত্ব অর্জনে সহায়তা করে।'
২,৩৬৭.
কর্মীর কর্মসম্পাদনে কোন উপাদানগুলো প্রবল প্রভাব বিস্তার করে?
  1. ক) আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য
  2. খ) ন্যায়বোধ, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা
  3. গ) নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা ও আত্নসন্তুষ্ঠি
  4. ঘ) মূল্যবোধ, মনোভাব ও কর্মসন্তুষ্টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ, মনোভাব ও কর্মসন্তুষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ, মনোভাব ও কর্মসন্তুষ্টি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ, মনোভাব ও কর্মসন্তুষ্টি - এ তিনটি উপাদান কর্মীর কর্মসম্পাদনে প্রবল প্রভাব বিস্তার করে।
▪ মূল্যবোধ ব্যক্তির এমন কতিপয় ব্যক্তিগত বিশ্বাস, বৈশিষ্ট্য বা মানবিক গুনাবলি যা তার আচরণের মান বা আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়ে
থাকে।
▪ দুই ধরনের মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান। একটি হচ্ছে টার্মিনাল মূল্যবোধ এবং অপরটি ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ।
▪ এছাড়া, সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ চার ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়। যথা - ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধমীর্য় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৬৮.
নৈতিকতা কোন ধরনের বিষয়?
  1. রাজনৈতিক
  2. বাহ্যিক
  3. সামাজিক
  4. ধর্মীয়
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষের সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা একটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার। এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৩৬৯.
প্লেটোর উল্লেখিত প্রধান চারটি সদগুণ হল-
  1. প্রজ্ঞা, সাহস, সততা, ন্যায়
  2. প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
  3. সততা, সাহস, প্রজ্ঞা, ধৈর্য
  4. মিতাচার, ন্যায়, সততা, প্রজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
ব্যাখ্যা

সদগুন: 
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।


উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।


উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৭০.
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিম্নের কোনটি নির্দেশ করে?
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. ক ও খ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৩৭১.
‘E-Governance‘ বাস্তবায়নে প্রধান মাধ্যম কোনটি?
  1. ক) জনগণ
  2. খ) সরকার
  3. গ) তথ্য প্রযুক্তি
  4. ঘ) রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
গ) তথ্য প্রযুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তথ্য প্রযুক্তি
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
- শাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Governance
- সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ - Good Governance
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরুপ - ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স।
- E-Governance এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে - সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- E-Governance এর মূল উপাদান - কম্পিউটার।
- E-Governance এর মূল বাহন - ইন্টারনেট।
- E-Governance বাস্তবায়নে প্রধান মাধ্যম - তথ্য প্রযুক্তি।
- E-Governance-এর স্তম্ভ - ৪ টি।
- E-Governance-মূল কাজ - নাগরিক সেবা বৃদ্ধি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,৩৭২.
ল্যাটিন শব্দ 'Governance'-এর অর্থ কী?
  1. আইন প্রণয়ন
  2. নীতি নির্ধারণ
  3. প্রশাসন
  4. পরিচালনা করা
সঠিক উত্তর:
পরিচালনা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচালনা করা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৭৩.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে নিচের কোনটিকে?
  1. ক) সামাজিক মূল্যবোধকে
  2. খ) গণতান্ত্রিক  মূল্যবোধ
  3. গ) ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. ঘ) স্বাধীনতার মূল্যবোধকে
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক মূল্যবোধকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক মূল্যবোধকে
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ব্যক্তির স্বাধীনতা মূল্যবোধকে লালন করে।
২,৩৭৪.
'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) নোয়াম চমস্কি
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) জেরেমি বেন্থাম
  4. ঘ) রাসেল
সঠিক উত্তর:
গ) জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

- উপযোগবাদ তত্ত্বের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা ইংরেজ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম।
- তিনি ছিলেন একজন আইনতত্ত্ববিদ ও সমাজ সংস্কারক।
- তিনি যুক্তরাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'.
- এই গ্রন্থে তিনি উপযোগবাদ তত্ত্বটি প্রথম ব্যাখ্যা করেন।
- এই মতবাদ অনুযায়ী, 'যা কিছু আনন্দদায়ক তাই ভালো।'

২,৩৭৫.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ গঠনের সহায়ক?
  1. পরিবার
  2. সংস্কৃতি
  3. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

⇒ মূল্যবোধ গড়ে ওঠার পেছনে যেসব সহায়ক কাজ করে তা হলো- পরিবার, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনকানুন, সংবিধান, সংস্কৃতি, নীতিবোধের চর্চা, সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সভাসমিতি সামাজিক ন্যায়-বিচার, আইনের শাসন, সামাজিক অনুষ্ঠান, নাগরিক চেতনা, সামাজিক শিক্ষা ইত্যাদি।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৭৬.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
  2. জনগণের মধ্যে ক্ষমতাবণ্টন করা
  3. জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা
  4. জনগণের কাজের স্বাধীনতা খর্ব করা
সঠিক উত্তর:
জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ - সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না।
- প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

⇒ বিভিন্ন সময়ে বহু রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। 
• ফরাসি চিন্তাবিদ জ্যাঁ বডিন বলেন, "আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে তাঁরা কঠোর আইন প্রণয়ন করে তা নির্দয়ভাবে প্রয়োগ করবেন।" তাঁর কথায় একই সাথে বিচারক এবং আইন প্রণেতা হওয়ার অর্থ হচ্ছে ন্যায়বিচারের সাথে ক্ষমতার অধিকার এবং আইনের প্রতি আনুগত্যের সাথে স্বেচ্ছাচারিতার সংমিশ্রণ।"

• ইংল্যান্ডের বিখ্যাত চিন্তাবিদ জন লক এ প্রসঙ্গে বলেন, "একই ব্যক্তি আইন রচনা এবং তা প্রয়োগ করলে ব্যক্তি স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই তিনি অধিকার রক্ষার স্বার্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ অপরিহার্য বলে মনে করেন।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনিই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা। তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৭৭.
’The Elements of Ethics’ গ্রন্থটি কার রচিত? 
  1. প্লেটো
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জন লক
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- The Analysis of mind,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস:  শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

২,৩৭৮.
অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে, সুনাগরিকের গুণাবলী হলো ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও _____________।
  1. জ্ঞান
  2. বিবেক
  3. আচরণ
  4. নিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
নিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

⇒ সুনাগরিকের গুণাবলি:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে সুনাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- তবে, লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
(১) বুদ্ধি,
(২) আত্মসংযম,
(৩) বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৭৯.
জাতীয় স্বাধীনতাকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. সামাজিক স্বাধীনতার বিকল্প
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতার অংশ
  3. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ভিত্তি
  4. সকল স্বাধীনতার মূলভিত্তি
সঠিক উত্তর:
সকল স্বাধীনতার মূলভিত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল স্বাধীনতার মূলভিত্তি
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

এছাড়া,
• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পৌর স্বাধীনতা: ইচ্ছামতো রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে চলাফেরার অধিকার, নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার প্রভৃতি।
• আইনগত স্বাধীনতা: স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
• সামাজিক স্বাধীনতা: যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।
• রাজনৈতিক স্বাধীনতা: ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: এ ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে পেশা বাছাই ও জীবিকার স্বাধীনতা অন্যতম।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৩৮০.
সকল ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি হচ্ছে -
  1. জাতীয় স্বাধীনতা
  2. পারিবারিক স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সামাজিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
⇒ জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

জাতীয় স্বাধীনতা:
• 'বৈদেশিক শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
• জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
• জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- সমাজে সভ্য-সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি। মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৮১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
  1. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
  2. বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ
  3. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
- রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা।
- সরকারের অদক্ষতা এবং অব্যবস্থাপনা
- আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা।
- আইনের শাসনের অভাব।
- সরকারের জবাবদিহিতার অভাব।
- বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
- দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।
- স্বজনপ্রীতি।
- দারিদ্র্য।
- জনসচেতনতার অভাব।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৩৮২.
রাজনৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তি হচ্ছে-
  1. ক) রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা
  2. খ) পরোপকারিতা
  3. গ) ন্যায়পরায়ণতা
  4. ঘ) সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।
- রাজনৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তি হচ্ছে- রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৮৩.
"সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌছানের ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স” - সংজ্ঞাটি দিয়েছে -
  1. বিশ্ব ব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউনেস্কো
  4. ইউএনডিপি
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স: 
- বিশ্ব ব্যাংক (world Bank) প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, “ই-গভর্নেন্স বলতে সরকারি তথ্য প্রযুক্তি (নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, মোবাইল প্রভৃতি) ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী এবং সরকারের অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের সক্ষমতাকে বোঝায়।" 

- জাতিসংঘ (UN) ২০০৬ সালে প্রদত্ত এক সংজ্ঞায় বলেছে যে, "সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌছানের ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স।”

- আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের ই-গভর্নেন্স আইন-২০০২'-এ বলা হয়েছে যে, "ই-গভর্নেন্স বলতে বোঝায় ওয়েব নির্ভর ইন্টারনেট এবং অন্যান্য তথ্য-প্রযুক্তি। " 

- ইউনেস্কো প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, "সরকার বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব যার অন্তর্ভুক্ত হলো নাগরিকের আইনগত অধিকার ও দায়িত্বের প্রশ্ন। অপরদিকে ই-গভর্নেন্স হলো এসব কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষতা, দ্রুততা ও স্বচ্ছতার সাথে জনগণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনরত অন্যান্য সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৮৪.
স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. সংবিধান 
  2. আইন 
  3. মানবাধিকার
  4. মৌলিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
আইন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন 
ব্যাখ্যা

আইন:
- ইংরেজি Law শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ আইন। 
- আইন হল রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্যে অত্যাবশ্যক কতকগুলো বিধি-বিধানের সমষ্টি যা' রাষ্ট্রের সকলের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ হলো আইন।
- আইনের মাধ্যমেই মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষিত হয়ে থাকে। কোন নাগরিকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ বা বিপন্ন হলে আইন তা রক্ষা করতে অগ্রসর হয়। স্বাধীনতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি আইন দ্বারা আরোপিত শান্তির প্রকৃতি ও অনুপাতের উপর বিশেষভাবে নির্ভর করে। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনকে স্বাধীনতার পূর্বশর্ত বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রের অনুশাসনকে আইন বলে। যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- এরিস্টটলের (Aristotle) মতে, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন।"
- জন অস্টিনের (Austin) মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের (Henry Maine) মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।"
- অধ্যাপক হল্যান্ডের (Holland) মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন (Wilson)-এর মতে, "আইন হল মানুষের স্থায়ী আচার-আচরণ ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা' রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
 
⇒ আইনের বৈশিষ্ট্য:
- আইন হচ্ছে মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কিত বিধান,
- আইন শুধু মানুষের বাহ্যিক আচরণকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে,
- সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ হিসেবে সরকার আইন জারি করে থাকে,
- আইন জারির প্রাথমিক উদ্যোগ সরকার স্বয়ং কিংবা সাধারণ জনগণও নিতে পারে,
- আইন অবশ্য পালনীয়। আইন ভংগ বা অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অন্যদিকে,
• সংবিধান: প্রায় সকল দেশের সংবিধান সে দেশের জনগণের স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত সংবিধান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। 
• মৌলিক অধিকার: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো স্বীকৃতি লাভ করে। সাধারণত সংবিধানে এসব মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ থাকে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৮৫.
ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. স্বচ্ছতা আনয়ন করা
  3. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য:
১. ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
২. সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
৩. প্রশাসনকে গতিশীল করা।
৪. দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌছে দেওয়া।
৫. দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌছানো।
৬. সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া।
৭. প্রশাসনের দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো।
৮. জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি।
৯. ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা।
১০. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
১১. নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
১২ জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।
১৩. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
১৪. তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
১৫. গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা।
১৬. ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা।
১৭. সুশাসন নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৮৬.
জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের -
  1. প্রাণ
  2. নব্য সংস্কৃতি
  3. চালিকাশক্তি
  4. চাবিকাঠি
সঠিক উত্তর:
চাবিকাঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাবিকাঠি
ব্যাখ্যা

জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও
ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৮৭.
'Nihilism' শব্দের প্রতিশব্দ-
  1. ক) উপযোগবাদ
  2. খ) শূন্যবাদ
  3. গ) উদারতাবাদ
  4. ঘ) প্রয়োগবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) শূন্যবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শূন্যবাদ
ব্যাখ্যা

- 'Nihilism' শব্দের প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।
- শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।

২,৩৮৮.
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য কী?
  1. রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি
  2. কর হ্রাস নীতি
  3. কেবলমাত্র ব্যক্তিগত বিনিয়োগে নির্ভরতা
  4. সম্পদের সুষম বণ্টন
সঠিক উত্তর:
সম্পদের সুষম বণ্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পদের সুষম বণ্টন
ব্যাখ্যা
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৮৯.
নিচের কোনটি নৈতিক প্রগতির শর্ত নয়?
  1. বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলন
  2. সাম্প্রদায়িক পরিবেশ
  3. মহৎ ব্যক্তির জীবনী পাঠ
  4. আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক পরিবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক পরিবেশ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তির নৈতিক প্রগতির শর্ত:
→ ব্যক্তির নৈতিক প্রগতি বিকশিত হয়ে থাকে আত্মসংযম, অপরের প্রতি সহানুভুতি, ন্যায় নীতি ইত্যাদির প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে।
→ ব্যক্তির নৈতিক প্রগতির জন্যে কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ:
- বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলন,
- সদগুণের অনুশীলন,
- মহৎ ব্যক্তির জীবনী পাঠ,
- সৎ সংসর্গ,
- আত্মসংযম,
- অনুতাপ,
- সামাজিক পরিবেশ।

তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৯০.
'The Prince' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. থমাস মোর
  2. জন লক
  3. ভলতেয়ার
  4. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান ৷
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও
আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থ:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - Britannica ও পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৩৯১.
রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণতার জন্যে প্রয়োজন?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  3. আইনগত স্বাধীনতা
  4. সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানে হলো যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- রাজনৈতিক, সামাজিক, আইনগত, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আবশ্যক।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৩৯২.
রাষ্ট্র গঠনের কোন উপাদানকে রাষ্ট্রের প্রাণ বলা হয়?
  1. জনসমষ্টি
  2. ভূখন্ড
  3. সরকার
  4. সার্বভৌমত্ব
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

- সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্রের প্রাণ বলা হয়।

সার্বভৌমত্ব:

- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
- সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।
- যেমন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে বাংলাদেশের অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে নি।
- সার্বভৌমত্বের দু’টো দিক রয়েছে। যথা-
- (ক) অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব, যার দ্বারা রাষ্ট্র তার সীমানার মধ্যে যেকোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর অবাধ ও সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী। এ ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
- (খ) বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব - এ ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র বহি:শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে।

 উল্লেখ্য,
- যে সামাজিক সংগঠনের জনসমষ্টি, ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে তাকে রাষ্ট্র বলে।
- রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা-
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূখন্ড,
(৩) সরকার ও
(৪) সার্বভৌমত্ব।
- এ চারটি উপাদানের মধ্যে সার্বভৌমত্ব অন্যতম।
- সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্রের প্রাণ বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

২,৩৯৩.
সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি কোনটি?
  1. ক) যথা সময়ে অফিসে আগমন ও অফিস ত্যাগ করা
  2. খ) ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশ প্রতিপালন
  3. গ) দাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা
  4. ঘ) নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
ব্যাখ্যা
সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি:
- নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি।

অন্যদিকে -
- যথা সময়ে অফিসে আগমন ও অফিস ত্যাগ করা, দাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা ও ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশ প্রতিপালন করা ইত্যাদির মাধ্যমে সততা নিশ্চিত হয় না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৯৪.
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত সবচেয়ে প্রাচীন মতবাদ কোনটি?
  1. ক) বল প্রয়োগ মতবাদ
  2. খ) ঐশ্বরিক মতবাদ
  3. গ) সামাজিক চুক্তি মতবাদ
  4. ঘ) ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) ঐশ্বরিক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঐশ্বরিক মতবাদ
ব্যাখ্যা
ঐশ্বরিক মতবাদ
▪ ঐশ্বরিক মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে সর্বাধিক প্রাচীন মতবাদ।
▪ ঐশ্বরিক মতবাদের মূল কথা হচ্ছে- রাষ্ট্র ঐশ্বরের সৃষ্টি এবং ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই রাষ্ট্র পরিচালিত।
▪ পার্থিব জগতে রাজা হলেন ঈশ্বরের প্রতিনিধি এবং রাজার মাধ্যমেই ঈশ্বরের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়। রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ধর্মদ্রোহিতার শামিল।
▪ এ মতবাদ অনুসারে রাজা তাঁর যাবতীয় কাজের জন্য ঈশ্বরের নিকট দায়ী থাকবেন, প্রজাদের নিকট নয়।
▪ ঐশ্বরিক মতবাদ নির্ভর মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রগুলোকে তাই বলা হয় ধর্মীয় রাষ্ট্র (Theocratic State)। 

অন্যদিকে, 
▪ বল প্রয়োগ মতবাদের তাত্ত্বিক - ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।
▪ সামাজিক চুক্তি মতবাদের তাত্ত্বিক - থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
▪ ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ - আধুনিক, যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৯৫.
ই-গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বাগ্রে কার প্রাধান্য পাবে?
  1. সরকার
  2. প্রশাসন
  3. ব্যবসায়ী শ্রেণি
  4. সাধারণ নাগরিক
সঠিক উত্তর:
সাধারণ নাগরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ নাগরিক
ব্যাখ্যা

E-Governance:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
- ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযোগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য,
- সাধারনত তিনটি স্তরে বা পর্যায়ে এই ই-গর্ভনেন্স সেবা পাওয়া যায়-(১) সরকার ও সেবা গ্রহীতা (ব্যক্তি) (২) সরকার ও ব্যবসা-বাণিজ্য (৩) সরকার থেকে সরকার।
- বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে ঘোষিত ভিশন-২০২১ এর প্রধান লক্ষ্যই হল সরকারি সেবা ও শাসনব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা।
- ই- গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে সাধারণ নাগরিক।
- এটি চার ধরনের কাজ করে যার কেন্দ্রে থাকে নাগরিক সেবা।
- একাজগুলো হচ্ছে ব্যক্তিকে অবগতকরণ, ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্বকরণ, ব্যক্তিকে পরামর্শ প্রদান এবং ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তকরণ।
- ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযোগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৩৯৬.
বাংলাদেশে কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০১৩ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

 জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

২,৩৯৭.
'আত্মসুখবাদ' এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন-
  1. প্লেটো
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টটল
  4. এরিস্টিপাস
সঠিক উত্তর:
এরিস্টিপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টিপাস
ব্যাখ্যা
আত্ম-সুখবাদ:
- সুখবাদ একটি প্রাচীন মতবাদ; প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটল সবাইকে এক অর্থে সুখবাদী বলা যায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে গ্রিকদের মধ্যে সুখবাদী বলতে যাদেরকে আমরা বুঝি তাঁরা হলেন সাইরেনিক সম্প্রদায়ের লোক; আর তাঁরা ছিলেন আত্ম-সুখবাদী।
- এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইরিনের অধিবাসী এরিস্টিপাস, যিনি ছিলেন সক্রেটিসের শিষ্য।
- বলা হয়ে থাকে যে, সক্রেটিসের নৈতিক ভাবনার একটি দিককে নিজের মত বিকশিত করে তিনি তার সুখবাদ প্রবর্তন করেছিলেন।
- অপর আরেকদিক বিকশিত করে দুঃখবাদের প্রবর্তন করেছিলেন সিনিক এন্টিসথেনিস।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
২,৩৯৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় কীভাবে অবদান রাখে?
  1. শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সহায়তা করে
  2. সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করে
  3. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে
  4. শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সহায়তা করে
সঠিক উত্তর:
সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

উল্লেখ্য,
⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৯৯.
কোনটির মাধ্যমে জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়?
  1. ক) গণমাধ্যম
  2. খ) আইনসভা
  3. গ) বিচারবিভাগ
  4. ঘ) জনমত
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনমত
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে বুঝায়।
- তবে প্রকৃত অর্থে জনমত হচ্ছে কল্যাণধর্মী বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক ও সুষ্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- জনমতের মাধ্যমে জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়।

- সভা-সমিতি, সংবাদপত্র, আইন পরিষদ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি জনমত গঠনের বাহন হিসেবে কাজ করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক) 
২,৪০০.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক -
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়। 
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.