বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১৪ / ৩৯ · ১,৩০১১,৪০০ / ৩,৮২৯

১,৩০১.
“Man and citizen” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) টমাস হবস
  2. খ) জ্যা জ্যাক রুঁশো
  3. গ) মন্টেস্কু
  4. ঘ) বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
ক) টমাস হবস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টমাস হবস
ব্যাখ্যা
- Thomas Hobbes, (born April 5, 1588, Westport, Wiltshire, England—died December 4, 1679, Hardwick Hall, Derbyshire), English philosopher, scientist, and historian, best known for his political philosophy.
- Man and Citizen - দার্শনিক থমাস হবসের লেখা একটি বিখ্যাত বই।
তার আরো কয়েকটি বিখ্যাত বই -
- Leviathan
- Behemoth
- De Corpore
- A Dialogue Between a Philosopher and a Student of the Common Laws of England
- Writings on Common Law and Hereditary Right ইত্যাদি।

- ফরাসি দার্শনিক জ্যা জ্যাক রুশোর সবচেয়ে বিখ্যাত বই - The Social Contract.
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।
- Power : A New Social Analysis গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
১,৩০২.
দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায় কোনটি?
  1. জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা
  2. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা
  3. আইনের শাসন নিশ্চিত করা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও দুর্নীতি:
- বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি।
- দুর্নীতি প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে।
- উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কিন্তু দুর্নীতির কারণে সুশাসনের মূল উপাদান-জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

⇒ দুর্নীতি যেভাবে উন্নয়ন ও সুশাসন ব্যাহত করে-
- অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি।
- সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি।
- সুশাসনের অবক্ষয়।
- অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব।
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষতি।

⇒ দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়-
- জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী করা।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
- প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৩০৩.
আধুনিক বিশ্ব কোন মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. ব্যক্তিগত
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

তথ্যসূত্র: এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩০৪.
একজনকে বিনা বিচারে আটক রাখা কোন অধিকারের পরিপন্থী?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. ব্যক্তিগত অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত অধিকার
ব্যাখ্যা
একজনকে বিনা বিচারে আটক রাখা ব্যক্তিগত অধিকারের পরিপন্থী।

অধিকার:

- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।

⇒ ব্যক্তিগত অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

অন্যদিকে,
⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩০৫.
সুশাসন সম্পর্কিত European Economic Community নিম্নের কোনটি প্রকাশ করেছে?
  1. শ্বেতপত্র
  2. নীল পত্র
  3. সবুজ পত্র
  4. লাল পত্র
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও European Economic Community (EEC):
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য। আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

• শ্বেতপত্র: 
- শ্বেতপত্র (White Paper) হলো সরকার বা কোনো সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রামাণ্য দলিল, যা কোনো জটিল সমস্যা, নীতি বা বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে। এটি সাধারণত কোনো নতুন আইন, নীতি বা সংস্কারের পূর্বে জনমত তৈরি বা সঠিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য প্রকাশ করা হয়।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- শ্বেতপত্র রাষ্ট্রের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সুশাসনের মূল উপাদান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: i) European Economic Community ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,৩০৬.
সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে কী সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1.  অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
  2. জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা
  3. পররাষ্ট্রনীতি
  4. মালিকানার নীতি
সঠিক উত্তর:
জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• ১৮ (১) নং দফায় বলা হয়েছে,
- জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
• ১৮ (২) নং দফায় বলা হয়েছে,
- গনিকাবৃত্তি এবং জুয়াখেলা নিরোধের জন্যে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে,
- মালিকানার নীতি সম্পর্কে বলা আছে ১৩ নং অনুচ্ছেদে।
- অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম সম্পর্কে উল্লেখ আছে ২০ নং অনুচ্ছেদে।
- ২৫ নং অনুচ্ছেদে পররাষ্ট্রনীতির কথা সম্পর্কে উল্লেখ। উক্ত অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৩০৭.
রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত অধিকারকে কী বলে?
  1. সাধারণ অধিকার
  2. ব্যক্তিগত অধিকার 
  3. নৈতিক অধিকার
  4. আইনগত অধিকার
সঠিক উত্তর:
আইনগত অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত অধিকার
ব্যাখ্যা
• আইনগত অধিকার:
যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
→ আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
ক. সামাজিক
খ. রাজনৈতিক ও
গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০৮.
দার্শনিক প্রবন্ধ "সৃষ্টি রহস্য" গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. আরজ আলী মাতুববর
  4. সর্দার ফজলুল করিম
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুববর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুববর
ব্যাখ্যা
→ "সৃষ্টি রহস্য" - আরজ আলী মাতুব্বর এর লেখা একটি জনপ্রিয় দার্শনিক প্রবন্ধ।

আরজ আলী মাতুববর:

- আরজ আলী মাতুববর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ। 
- আরজ আলী মূলত বস্ত্তবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। 
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন। 
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। 
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন। 
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩), 
- সৃষ্টি রহস্য (১৯৭৭), 
- অনুমান (১৯৮৩), 
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি। 
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১,৩০৯.
কোনটি মানুষের আচরণের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে? 
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ 
  3. সমাজকর্ম মূল্যবোধ
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১০.
ই-গভর্নেন্স এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা
  2. নির্বাচন
  3. তথ্যের দুষ্প্রাপ্যতা
  4. জবাবহীনতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স এর মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা: 
- ই-গভর্নেন্স এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বচ্ছতা।
- সরকারের সব কার্যক্রম বা সকল পদক্ষেপ জনগণ জানতে ও বুঝতে পারে।
- এরূপ স্বচ্ছতাই জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করে।

স্বচ্ছতা আনয়ন:
- ই-গভর্নেলে স্বচ্ছতার বিষয়টিকে বড় করে দেখা হয়।
- সরকারের প্রশাসনিক সংগঠনগুলোতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা প্রয়োজন।
- সরকার কী কী কাজ করছে, কেন করছে, কী কী মূলনীতির ওপর সরকার সিদ্ধান্ত বা নীতি প্রণয়ন করছে তা জনগণের জানা প্রয়োজন।
- ই-গভনেন্স তা জানতে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩১১.
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি?
  1. দারিদ্র্য
  2. দুর্নীতি
  3. বেকারত্ব
  4. নিরক্ষরতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

• বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সিপিডি।

১,৩১২.
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীদের বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা নিম্নের কোন নীতিটি জড়িত?
  1. ক) সমান বৈষম্য
  2. খ) লিঙ্গ সমতা
  3. গ) বিপরীত বৈষম্য
  4. ঘ) আনুপাতিক সমতা
সঠিক উত্তর:
গ) বিপরীত বৈষম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিপরীত বৈষম্য
ব্যাখ্যা
স্বার্থের সম-বিবেচনার মতবাদ:
নিশ্চয়তা না দিয়েও সমতা-নীতি বাস্তবায়নে কথা বলে। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা তার নিজস্ব ছাঁচে ফেলে বিচার-বিবেচনা করে এসব তত্ত্বের আলোকে সমানাধিকারের প্রশ্নগুলো আলোচনা করতে পারে।
পিছিয়ে পড়াদেরকে এক সারিতে আনার জন্য ‘বিপরীত বৈষম্যের' প্রবর্তন সমতা-নীতির বিরোধী নয়।
সমতার প্রশ্নে “বিপরীত-বৈষম্যের” (reverse discrimination) ধারণাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে। অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়। বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন। আর একেই বলে ‘বিপরীত-বৈষম্যের' নীতি।
 
 একটা উদাহরণ দেয়া যাক। আমাদের সমাজে মেয়েরা শিক্ষা-দীক্ষায়, চাকুরীতে পুরুষদের চেয়ে পেছনে পড়ে আছে। এমতাবস্হায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদেরকে বিশেষ বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং চাকুরীর ক্ষেত্রে তাদের জন্য কোটা প্রথা রয়েছে। এটা সমতা-নীতির স্বার্থেই। অবশ্য অনেকে একে এ নীতির পরিপন্থী বলেও মনে করেন।
ন্যায়ের আলোচনা খুবই প্রাচীন এবং অধিকার, স্বাধীনতা, সমতা সবগুলো ধারণাই এর সঙ্গে জড়িত।
 
উৎসঃ নীতিবিদ্যা বই (SSHL); উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১৩.
রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি হলো-
  1. ক) আইন প্রণয়ন
  2. খ) নিরাপত্তা রক্ষা
  3. গ) রাজস্ব আদায়
  4. ঘ) জনকল্যাণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনকল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কাজ করে থাকে তা হলো রাষ্ট্রের আবশ্যক কাজ। যেমনঃ আইন প্রণয়ন, নিরাপত্তা বিধান, অর্থসংক্রান্ত ইত্যাদি। অন্যদিকে নাগরিকদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যাবলি সমূহ হলো ঐচ্ছিক কাজ। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩১৪.
‘নীতি ও ঔচিত্যবোধ’ কীসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মূল্যবোধের ভিত্তি
  2. নৈতিকতার বৈশিষ্ট্য
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. আইনি বিধান
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের ভিত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের ভিত্তি
ব্যাখ্যা

‘নীতি ও ঔচিত্যবোধ’ মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

• মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।

⇒ নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা এবং
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৩১৫.
কোন ধরনের অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়?
  1. মৌলিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
- নৈতিক অধিকার ও
- আইনগত অধিকার।
- নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। ফলে এই অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায় না।
- তবে নৈতিক অধিকার ব্যক্তির বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত হওয়ায় এই অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিবেকের নিকট দায়বদ্ধতা থেকে যায়।
অন্যদিকে,
- মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রভৃতি হলো আইনগত অধিকার। এসব অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩১৬.
সুশাসন প্রক্রিয়া নির্ভর করে কোনটির উপর?
  1. মানবাধিকার
  2. সরকারের দক্ষতা
  3. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হল সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১৭.
কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. ক) আইন মেনে চলা
  2. খ) পরোপকারিতা
  3. গ) ন্যায়পরায়ণতা
  4. ঘ) শ্রমের মর্যাদা
সঠিক উত্তর:
ক) আইন মেনে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইন মেনে চলা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন, 
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, 
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ন্যায়পরায়ণতা : সার্বজনীর মূল্যবোধ।
- শ্রমের মর্যাদা : সামাজিক মূল্যবোধ। 
- পরোপকারিতা : নৈতিক মূল্যবোধ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।
১,৩১৮.
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. ক) সামাজিক কর্তব্য
  2. খ) নৈতিক কর্তব্য
  3. গ) রাজনৈতিক কর্তব্য
  4. ঘ) অর্থনৈতিক কর্তব্য
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক কর্তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক কর্তব্য
ব্যাখ্যা
ভিক্ষুকে ভিক্ষা দেওয়া, দরিদ্রকে সাহায্য করা,অন্যায়ের বিরূদ্ধে প্রতিবাদ করা, দুর্যোগ মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি নৈতিক কর্তব্য। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩১৯.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্কের ফলে সমাজে কী ধরনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে?
  1. দমনমূলক
  2. একনায়কতান্ত্রিক
  3. প্রতিহিংসামূলক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্ক:
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও চিন্তার নৈতিক দিকনির্দেশনা, যা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- যখন সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব হয় এবং নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়া নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠনে মূল্যবোধের ভূমিকা অপরিসীম।
- মূল্যবোধই একটি জাতিকে তার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সামাজিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- তাই দমনমূলক, একনায়কতান্ত্রিক বা প্রতিহিংসামূলক সংস্কৃতি নয়- বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক সমাজ-সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
 
তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩২০.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ নয়?
  1. শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা
  2. সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
  3. দায়িত্বশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করা
  4. বিরোধী মত প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা প্রদান করা
সঠিক উত্তর:
সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো এমন একগুচ্ছ চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে।

রাজনৈতিক মূল্যবোধের উপাদানসমূহ:
- রাজনৈতিক সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা।
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা।
- রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রদর্শন করা।
- দায়িত্বশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করা।
- ভিন্ন মতের প্রতি সহিষ্ণু মনোভাব বজায় রাখা।
- বিরোধী মত প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা প্রদান করা।
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা না দেয়া।
- নির্বাচনের ফলাফল (জয়-পরাজয়) মেনে নেয়া।
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে তোলা।
- আইনসভার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা।
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ নিশ্চিত করা।
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।

অন্যদিকে,
• নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।

• নৈতিক মূল্যবোধগুলো হচ্ছে:
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
- অন্যায়কে অন্যায় বলা,
- অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
- দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
- বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
- অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২১.
“ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না।”− উক্তিটি কে করেছেন?
  1. জোনাথান হেইট
  2. সি জে ফক্স
  3. জি. ম্যুর
  4. আইভর ব্রাউন
সঠিক উত্তর:
সি জে ফক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সি জে ফক্স
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা সম্পর্কিত বিভিন্ন তত্ত্ব:
→ “নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক
মতবাদ অর্থহীন।”− উক্তিটি করেছেন - আইভর ব্রাউন।
→ “ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না।” উক্তিটি করেছেন - সি জে ফক্স।
→ “শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা”- উক্তিটি করতেছেন  - জি. ম্যুর।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৩২২.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ কোনটিকে নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. নৈতিকতাকে
  2. সাম্যকে
  3. স্বাধীনতাকে
  4. বিশ্বাসকে
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতাকে
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৩.
ওপেনহাইমের মতে, আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি 
  2. ৬টি 
  3. ৪টি 
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা

• আইন ও আইনের উৎস:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্রথা
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৩২৪.
ই-গভর্নেন্সের ফলে কী অর্জিত হয়? 
  1. সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  2. সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
  3. সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• ই-গভর্নেন্স:
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।
• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৩২৫.
সুশাসন সম্পর্কিত "আইনের শাসন সূচক" প্রকাশকারী সংস্থার নাম কী?
  1. Transparency International
  2. World Justice Project
  3. UK Financial Intelligence Unit
  4. International Criminal Court
সঠিক উত্তর:
World Justice Project
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World Justice Project
ব্যাখ্যা
World Justice Project (WJP):
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
- এটি বিশ্বব্যাপী আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসন নিয়ে কাজ করে।
- WJP আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে।
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে ‘WJP Rule of Law Index’ শিরোনামে বাষির্ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

আইনের শাসনের সূচক তৈরির ৮টি বিবেচ্য বিষয়:
১. রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা
২. নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ
৩. জননিরাপত্তা
৪. মৌলিক অধিকার
৫. দুর্নীতি
৬. সরকারি তথ্য প্রকাশ
৭. দেওয়ানি বিচার
৮. ফৌজদারি বিচার

সুশাসন সম্পর্কিত সূচক ও প্রকাশকারী সংস্থা:

→ গণতন্ত্র সূচক: যুক্তরাজ্যের ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (UK Financial Intelligence Unit)।
→ আইনের শাসন সূচক: The World Justice Project (USA).
→ মানব উন্নয়ন সূচক: UNDP (1990).
→ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক: Reporters without Borders.
→ সুখ সূচক: Sustainable Development Solution Network.
→ বৈশ্বিক শান্তি সূচক: Institute of Economic and Peace (Australia).
→ দুর্নীতি সূচক: Transparency International.
→  ই-কমার্স সূচক: UNCTAD.

উল্লেখ্য, 
- International Criminal Court (আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত)
- এটি একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালত, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ যেমন মানবতা বিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করে থাকে।

তথ্যসূত্র: The World Justice Project ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট।
১,৩২৬.
নৈতিকতা সম্পর্কিত কোন উক্তিটি সঠিক নয়?
  1. নৈতিকতা সার্বজনীন এবং ধর্ম নিরপেক্ষ
  2. বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নৈতিকতা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়
  3. নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে না
  4. নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে না
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার বিশেষত্ব :
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- এটি একটি মানসিক বিষয়।
- বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নৈতিকতা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক এবং ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা সার্বজনীন এবং ধর্ম নিরপেক্ষ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩২৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা প্রয়োজন?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. আইনের শাসন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৮.
সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক কে?
  1. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  2. আই, এল, ও
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. জাতিসংঘ
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, 'সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামের রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- সংস্থাটির মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে সুশাসনের অনুপস্থিতি মুখ্যত দায়ী অভাব।

⇒ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৩২৯.
নিচের কোনটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত?
  1. ক) জনসংখ্যা স্ফীতি
  2. খ) বাল্যবিবাহ
  3. গ) কুসংস্কার
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জনসংখ্যা স্ফীতি, নিরক্ষরতা, কুসংস্কার, দারিদ্র্য, যৌতুক প্রথা, বাল্যবিবাহ প্রভৃতি আমাদের দেশে প্রচলিত কতগুলো সামাজিক সমস্যা।
এসব সামাজিক সমস্যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
১,৩৩০.
নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. অংশগ্রহণ
  3. দুর্নীতি
  4. আইনের শাসন 
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

- সুশাসনের উপাদান নয় দুর্নীতি।

সুশাসন:

- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।
-  স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি প্রভৃতি সুশাসনকে ব্যাহত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

১,৩৩১.
মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সামাজিক মর্যাদা
  4. আর্থিক অবস্থা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
- সুশাসনের সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

১,৩৩২.
উদারতাবাদের উদ্দেশ্য কি?
  1. ক) রাষ্ট্রকে সীমাহীন ক্ষমতা প্রদান
  2. খ) রাষ্ট্রকে উৎখাত
  3. গ) রাষ্ট্রের সীমা নির্ধারণ
  4. ঘ) রাষ্ট্রের কার্যাবলী সীমিতকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রের কার্যাবলী সীমিতকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রের কার্যাবলী সীমিতকরণ
ব্যাখ্যা
- উদারতাবাদের সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনীন কোন সংজ্ঞা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ দিতে পারেন নি। 
- সাধারণভাবে উদারতাবাদ বলতে সেই মতবাদকে বুঝায়, যা' ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
- ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপায় বলে মনে করে এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলীকে সীমিত করতে চায়। 
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
-  এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস। 
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত । 
 
উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত্ব, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৩৩.
নৈতিক চেতনা একটি -
  1. ক) সামাজিক ক্রিয়া
  2. খ) ধর্মীয় ক্রিয়া
  3. গ) মানসিক ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রাতিষ্ঠানিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) মানসিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মানসিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
নৈতিক চেতনা হলো এমন এক ধরনের মানসিক ক্রিয়া বা চেতনা যা আমাদের ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলির ন্যায়-অন্যায় বা ভালো-মন্দ বিষয়গুলোকে নির্দেশ করে।
- এই চেতনার দ্বারাই আমরা আমাদের আচরণের নৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারি।

(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,৩৩৪.
শৃঙ্খলাবোধ কীসের ভিত্তি বা উপাদান?
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
২. সামাজিক ন্যায়বিচার
৩. শৃঙ্খলাবোধ
৪. সহনশীলতা
৫. সহমর্মিতা
৬. শ্রমের মর্যাদা
৭. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
৮. আইনের শাসন
৯. নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ
১০. সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা
১১. সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা

শৃঙ্খলাবোধ: 

- সমাজজীবনের অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- বিশ্বে যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত।
- সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয় এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়।
- তাই সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা, সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন।
- শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৩৩৫.
সমাজের মানুষের ভালো-মন্দ আচরণ বিচারের মানদণ্ড কী?
  1.  শিক্ষাগত যোগ্যতা
  2. রাজনৈতিক নেতৃত্ব
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. সুশাসন 
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
• এস সি ডডের ভাষায়: - সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্তরীতি নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।

এছাড়াও,
• এম আর উইলিয়ামস:
- "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: সমাজকল্যান ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৩৬.
নৈতিকতার আলোকে দুর্নীতি হচ্ছে-
  1. ক) ভেজাল
  2. খ) ঘুষ গ্রহণ
  3. গ) নকল
  4. ঘ) নৈতিক অবক্ষয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অবক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অবক্ষয়
ব্যাখ্যা

- দুর্নীতি হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধন বা লাভের নিমিত্তে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার।
- সাধারণত দুর্নীতি বলতে সরকারি আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ঘুষের লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, প্রতারণা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমলাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি বোঝায়।
- নৈতিকতার আলোকে দুর্নীতি হচ্ছে মূল্যবোধ ও‌ নৈতিকতার অবক্ষয়।

১,৩৩৭.
মূল্যবোধ শিক্ষা গ্রহণের প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার
  2. আইন অমান্য করার প্রবণতা
  3. সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ
  4. সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে, মূল্যবোধ শিক্ষা গ্রহণের প্রধান লক্ষ্য "সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ"।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার বিকাশ ঘটায়।
- এই শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা সমাজে শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণে নিয়ম ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে, যা সমাজে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
- এটি মানুষকে ন্যায় এবং ন্যায়বিচার মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সমাজে সাম্য এবং অধিকার নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্যের বিপরীত হচ্ছে:
- ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার,
- আইন অমান্য করার প্রবণতা, এবং
- সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,৩৩৮.
“আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান” কে বলেছেন?
  1. এরিস্টটল
  2. রুশো
  3. আর জি গেটেল
  4. ইনাম্যুয়েল কান্ট
সঠিক উত্তর:
আর জি গেটেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর জি গেটেল
ব্যাখ্যা
• আইন ও নৈতিকতার সুসম্পর্ক:
- আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই উদ্দেশ্য হল সৎ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গঠন।
- আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৎ, যুক্তিসংগত, নিয়মের মাঝে রাখা।
- অন্যদিকে, নৈতিকতারও একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। নীতিবান ব্যক্তি তার কর্মে ও কথায় সবসময় সৎ, সদাচারী, সৌজন্যমূলক ও সৎচিন্তাশীল হয়ে থাকে। এসব গুণ সমাজজীবনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অপরিহার্য।
- সাধারণত সমাজে যেসব বিষয়গুলো আইন বিরোধী, সেগুলো সাধারণত নীতিবিরোধীও হয়। যেমন, প্রতারণা বিষয়টি নীতিবিরোধী আবার তা আইন বিরোধীও।
- বাংলাদেশে কেউ প্রতারণা করলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
- এ ধরনের বিবেচনা থেকে অধ্যাপক আর জি গেটেল বলেন, “আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৯.
কোনটির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়?
  1. দক্ষতা
  2. স্বচ্ছ নীতি
  3. গণতন্ত্র
  4. দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছ নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছ নীতি
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল।
- দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা।
- শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়।
- নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৩৪০.
ইমানুয়েল কান্ট -এর নীতিবিদ্যার মূল কথা নয় কোনটি?
  1. জনস্বার্থ
  2. সৎ ইচ্ছা
  3. কর্তব্যের জন্য কর্তব্য
  4. শর্তহীন আদেশ
সঠিক উত্তর:
জনস্বার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনস্বার্থ
ব্যাখ্যা

- ইমানুয়েল কান্ট -এর নীতিবিদ্যার মূলকথা নয়  "জনস্বার্থ"।

ইমানুয়েল কান্ট:

- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
-তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।
-'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
-Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪১.
নিচের কোনটি মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ?
  1. ক) মানবিকতা
  2. খ) সৌজন্যবোধ
  3. গ) শৃঙ্খলা
  4. ঘ) নীতিবোধ
সঠিক উত্তর:
ক) মানবিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানবিকতা
ব্যাখ্যা
 মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। 

• মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।

• মূল্যবোধের কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল:
• নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

• শৃঙ্খলা:
শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
• সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।
• সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

• মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
• শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে
পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে। 
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন মূল্যবোধ
১,৩৪২.
কোন সংস্থাটি সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. ইউএনডিপি
  3. জাতিসংঘ
  4. এডিবি
সঠিক উত্তর:
ইউএনডিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- সংস্থাটি সুশাসনের ৯টি উপাদানের উল্লেখ করে।
এগুলো হলোঃ
- স্বচ্ছতা
- আইনের শাসন
- সকলের অংশগ্রহণ
- সংবেদনশীলতা
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
- সমতা
- ন্যায্যতা
- জবাবদিহিতা এবং
- কৌশলগত লক্ষ্য।
(তথ্যসূত্রঃ UNDP ওয়েবসাইট)
১,৩৪৩.
সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার নাম _______________।
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. গণতন্ত্র
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সুশাসন (Good Governance) বলা হয়।
- এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকার জনগণের চাহিদা, অধিকার ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর নীতি ও প্রশাসন পরিচালনা করে।
- সুশাসনই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।

সুশাসনের মূল বৈশিষ্ট্য:
- জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা;
- আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা;
- দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা;
- টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে,
- মূল্যবোধ সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি তৈরি করে, তবে এটি সরকার ও জনগণের স্বার্থকে সরাসরি একত্রিত করে না।
- গণতন্ত্র জনগণের শাসনের ব্যবস্থা, তবে এটি সুশাসনের একটি উপাদান মাত্র। গণতান্ত্রিক দেশেও সুশাসন নাও থাকতে পারে।
- নৈতিকতা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, তবে এটি এককভাবে সরকার ও জনগণের স্বার্থ একত্রিত করে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৪৪.
‘Comparative Politics and Government’ নামক গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আর্নেস্ট বার্কার 
  2. অ্যালান বল
  3. হ্যারল্ড লাসওয়েল
  4. ম্যাকাইভার
সঠিক উত্তর:
অ্যালান বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালান বল
ব্যাখ্যা
• অ্যালান বল:
→ রাজনৈতিক পদ্ধতির ঐক্যবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ রাজনৈতিক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
→ অধ্যাপক অ্যালান বল (Alan Ball) তাঁর Comparative Politics and Government নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “One of the most important functions of political parties is that of uniting, simplifying and stabilising the political process” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৫.
Morality শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে কোন ল্যাটিন শব্দ থেকে?
  1. Moralitas
  2. Ethikos
  3. Morale
  4. Valere
সঠিক উত্তর:
Moralitas
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Moralitas
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ।
- এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতার সঙ্গে সমাজের সম্পৃক্ততার ফলে সৃষ্ট অন্য একটি পরিস্থিতি হচ্ছে নৈতিক আপেক্ষিকবাদ।
- এর অর্থ হচ্ছে নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় পরিবর্তিত হতে পারে।
- অর্থাৎ নৈতিকতা বিষয়টি আপেক্ষিক।

উল্লেখ্য,
- সমাজে সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতার ফলে তাদের নৈতিক চিন্তা-চেতনাও ভিন্ন হতে বাধ্য।
- এমতাবস্থায় নৈতিকতাকে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য করতে আমরা বাধ্য হই, যদিও মানব জীবনে নৈতিকতার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করলে এই ধরনের অভিধা নৈতিকতার পক্ষে মোটেই মর্যাদাপূর্ণ মনে হয় না।
- এর উত্তরে এই বলা যায় যে, বিভিন্ন সমাজে নৈতিক নীতিতে পার্থক্য থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় এই নীতিগুলো কোন না কোন সর্বজনীন নীতির অংশ হিসেবেই কাজ করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪৬.
মূল্যবোধের অভাবে কোনটি সম্ভব নয়?
  1. রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
  2. সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা
  3. শিক্ষার প্রসার
  4. সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের অভাবে কোনটি সম্ভব নয়- সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা।

• মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৩৪৭.
দার্শনিক প্লেটো রচিত বিখ্যাত পুস্তকের নাম -
  1. দি প্রিন্স
  2. দি গড ফাদার
  3. দি রিপাবলিক
  4. দি পলিটিক্স
সঠিক উত্তর:
দি রিপাবলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দি রিপাবলিক
ব্যাখ্যা
প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।

⇒ দার্শনিক প্লেটো রচিত বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic ।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।
- ১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'। দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত।

উৎস: i) উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
১,৩৪৮.
দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. UNCTAD
  2. Transparency International
  3. UNDP
  4. The World Justice Project
সঠিক উত্তর:
Transparency International
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Transparency International
ব্যাখ্যা
Transparency International:
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল Corruption Perceptions Index প্রকাশ করে। 
- দুর্নীতির অবসান ঘটানো এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা প্রতিষ্ঠা করা।
- দুর্নীতিকে সংজ্ঞায়িত করা হয় অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যক্তিগত লাভের জন্য।
- ১৪০টি দেশ জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (UNCAC) স্বাক্ষর করেছে।
- ১৫০+ বিশ্ব নেতা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ১৬-এ দুর্নীতি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
- ভিশন: এমন একটি বিশ্ব যেখানে সরকার, রাজনীতি, ব্যবসা, নাগরিক সমাজ এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্নীতিমুক্ত।
- মিশন: সমাজের সকল স্তরে এবং খাতে দুর্নীতি রোধ, স্বচ্ছতা প্রচার, এবং জবাবদিহিতা ও সততার উন্নয়ন।
- বার্লিনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর আন্তর্জাতিক সচিবালয় অবস্থিত।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল একটি বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ, যা মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার জন্য দুর্নীতির অবসানে কাজ করে যাচ্ছে।

মূল কার্যক্রম:
- দুর্নীতি রোধে গবেষণা, প্রচারণা ও অ্যাডভোকেসি।
- দুর্নীতিকে টিকিয়ে রাখতে সহায়ক সিস্টেম ও নেটওয়ার্ক উন্মোচন।
- প্রকাশ্য জীবনে স্বচ্ছতা ও সততার দাবি।

উৎস: Transparency International ওয়েবসাইট।
১,৩৪৯.
মানব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ১২০ তম
  2. ১৩০ তম
  3. ১৩২ তম
  4. ১৩৬ তম
সঠিক উত্তর:
১৩০ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০ তম
ব্যাখ্যা

মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ৬ মে ২০২৫ "Human Development Report 2025: A matter of choice: People and possibilities in the age of A I^ prime prime শিরোনামে "মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন" প্রকাশ করে।
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI (Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
- শীর্ষ দেশ- আইসল্যান্ড।

⇒ মানব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১,৩৫০.
আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করে-
  1. সরকার
  2. নৈতিকতা
  3. গণতন্ত্র
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করে।

গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা: 

- স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- উভয়ের অবস্থান সমান্তরাল। স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র অর্থহীন। আবার গণতন্ত্রই স্বাধীনতার পথ সুগম করে।
- স্বাধীনতার অর্থ অপরের দ্বারা বাধাগ্রস্থ না হয়ে নিজের অধিকার ভোগ করা।
- তদ্রূপ অপরের সমঅধিকারে হস্তক্ষেপ না করাই স্বাধীনতার মূল কথা।
- এজন্য স্বাধীনতা বলতে এমন এক পরিবেশের সংরক্ষণ বুঝায় যেখানে ব্যক্তি তার সর্বোত্তম সত্তা বিকাশের সুযোগ পায়।
-  কারণ গণতন্ত্র এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থনে সরকার গঠিত হয়।
- এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় আইনসিদ্ধভাবে নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এছাড়াও,
- গণতন্ত্র হল নিয়মতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা যেখানে সাংবিধানিকভাবে জনগণের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয় এবং সাংবিধানিক নিশ্চয়তার মাধ্যমে স্বাধীনতা বলবৎকরণের ব্যবস্থা করা হয়।
- গণতন্ত্র আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করে।
- তাই হারানো স্বাধীনতা আদালতের নিরপেক্ষ রায়ে পুনর্বহাল হয়।
- তাছাড়া গণতন্ত্র জনগণের সম্মতিতে রচিত আইনের মাধ্যমে সাম্যভিত্তিক আদর্শ গণতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টি করে স্বাধীনতার ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করতে পারে।
- একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মানুষ জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে পারে।
- সুতরাং স্বাধীনতা যেমন গণতন্ত্রের শর্ত তেমনি গণতন্ত্রই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৫১.
কোনটি সুশাসনের উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো
  2. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  3. জবাবদিহিতা
  4. সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো
ব্যাখ্যা
কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো সুশাসনের উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

• সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৩৫২.
"শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক" উক্তিটি কার?
  1. ক) অ্যারিস্টটল
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) ভলতেয়ার
  4. ঘ) ম্যাকিয়াভেলী
সঠিক উত্তর:
খ) প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
"শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক" এটি গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর উক্তি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩৫৩.
“জনগণ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।” - এ প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করেন কে?
  1. জন অস্টিন
  2. টমাস হবস
  3. রুশো
  4. জেরমী বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
রুশো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুশো
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ
- রাষ্ট্রের আইন জনগণ কেন মান্য করে এ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টমাস হবস, জেরমী বেন্থাম ও জিন অস্টিন মনে করেন, “জনগণ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।”
- অস্টিনের মতে, “আইন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আদেশ বিধায় জনগণ আইন মান্য করে চলে। কেননা জনগণের মধ্যে এ চেতনা জাগে যে, রাষ্ট্র শুধুমাত্র আইন ভঙ্গকারীকে অভিযুক্ত করে না বরং শাস্তি প্রদান করে থাকে।

অপরদিকে
- এরিস্টটল, লক, রুশো, গ্রিণ এ প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করেন।
- তাঁদের মতে, আইনের উপযোগিতার উপলব্ধি হল আইন মান্য করার অপরিহার্য কারণ।
- তাঁদের ধারণা আইন অধিকার রক্ষা করে।
- দুর্বলকে সবলের হাত থেকে রক্ষার জন্য আইনের প্রয়োজন।
- আইনের প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি স্বাভাবিকভাবেই জনসাধারণকে আইন মান্য করতে সহায়তা করে।

উল্লেখ্য,
- আইন মান্য করা সম্পর্কিত উপরোক্ত দু’টি মতাবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন জন হেনরি মেইন।
- তিনি বলেন, শাস্তির ভয়ে এবং আইনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে উভয়বিধ কারণে জনসাধারণ আইন মান্য করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৫৪.
মূল্যবোধের কোন উপাদান অনুপস্থিত থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না?
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়।
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।
- সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হচ্ছে শৃঙ্খলাবোধ।
- শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজ জীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনেরও বৈশিষ্ঠ্য ও প্রয়োজনীয় উপাদান।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এই দুটি উপাদান অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৫৫.
"কর্তব্যের জন্য কর্তব্য" - ধারনাটি প্রবর্তক কে?
  1. হার্বার্ট স্পেন্সার
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জাঁ জ্যাক রুশো
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ইমানুয়েল কান্টকে কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবর্তক বলা হয়।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা' বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৫৬.
কোনটি দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে?
  1. আইন
  2. অংশগ্রহণ
  3. জবাবদিহিতা
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো এক ধরনের মূল্যবোধ যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করে।
- সুশাসন বলতে বুঝায় উত্তমরূপে শাসন বা যথার্থ শাসন।
- সুশাসনের ধারণাটি একটি আধুনিক ধারণা। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক তাদের এক রিপোর্টে সর্বপ্রথম সুশাসন ধারণাটি তুলে ধরে।
- দুর্নীতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করতে সুশাসন সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- কারণ সুশাসনের ফলে একটি সরকার বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে।
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, বাক স্বাধীনতা, আইনের শাসন ইত্যাদি সুশাসনের অন্যতম উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৫৭.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ধর্মের মাধ্যমে
  2. জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে
  3. কর্মের মাধ্যমে
  4. রাজনীতির মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১,৩৫৮.
'সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের মুখপাত্র' উক্তিটি কার?
  1. ক) ইব্রাহিম গার্নার
  2. খ) টিএইচ গ্রিন
  3. গ) হ্যারল্ড লাস্কি
  4. ঘ) এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
গ) হ্যারল্ড লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হ্যারল্ড লাস্কি
ব্যাখ্যা
- 'সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের মুখপাত্র' উক্তিটি হ্যারল্ড লাস্কির।
- 'শক্তি নয় ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' উক্তিটি টিএইচ গ্রিনের।
১,৩৫৯.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত কোনটি?
  1. প্রশাসন
  2. গণমাধ্যম
  3. বিচার বিভাগ
  4. রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৬০.
'ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ'-এই ধারণাটি কার?
  1. গ্রিন
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. শেফার
  4. উইলিয়াম
সঠিক উত্তর:
শেফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেফার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
• মূল্যবোধ সম্পর্কে শেফার বলেন, ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

• মূল্যবোধ সম্পর্কে সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম বলেন "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

• মূল্যবোধ সম্পর্কে ফ্রাঙ্কেল বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

• মূল্যবোধ সম্পর্কে 'সমাজবিজ্ঞানী গ্রিন এর মতে, "মূল্যবোধ হচ্ছে তুলনামূলকভাবে স্থায়ী সচেতনতা যা আবেগের সন্নিকটস্থ অবস্থা, লক্ষ্য, ধারণা অথবা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৩৬১.
সুশাসনের কোন উপাদান সরকারের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. গণতন্ত্র
  4. দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা।
- এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা।
- সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে।
- এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

অন্যদিকে,
• গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৩৬২.
একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো-
  1. জনকল্যাণ
  2. স্বাধীনতা
  3. কর্মদক্ষতা
  4. ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা

জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জনমতের উপর নির্ভরশীল।
- সরকারের উত্থান, পতন, সাফল্য বহুলাংশে জনমতের উপর নির্ভরশীল।
- জনমতকে অগ্রাহ্য করে কোন শাসক দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্রে সদা জাগ্রত জনমত সরকারের স্বেচ্ছাচার রোধ করে গণতন্ত্রের স্বরূপ বজায় রাখে।
- একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো জনকল্যাণ।
- আধুনিক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- জনমতের চাপে সরকার রক্ষণশীল মনোভাব পরিত্যাগ করে।
- সরকার যুগোপযোগী ও প্রগতিশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নও পরিবর্তনে জনমতের প্রভাব অপরিসীম। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৩৬৩.
সংখ্যালঘিষ্ঠের প্রতি সহিষ্ণু আচরণ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
 শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৬৪.
'সমাজের পরিবর্তনশীলতা' কোন মূল্যবোধের সাথে জড়িত?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• আধুনিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক মূল্যবোধ বলতে সমাজের পরিবর্তনশীলতা কে বুঝায়।
- সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিলো, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- 'সমাজের পরিবর্তনশীলতা' আধুনিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
- প্রাচীন অনেক মূল্যবোধ এখন আর নেই। এজন্যই মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৬৫.
E-Governance-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Elected government
  2. Effective government
  3. Electable governance
  4. Electronic governance
সঠিক উত্তর:
Electronic governance
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Electronic governance
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৬৬.
বিকেন্দ্রীকরণ বলতে কী বোঝায়?
  1. সব ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাখা
  2. স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা বণ্টন করা
  3. একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা দ্বারা সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা
  4. প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা বণ্টন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা বণ্টন করা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

⇒ বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৩৬৭.
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়'-উক্তিটি কার?
  1. জন স্মিথ
  2. মেকিয়াভেলি
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. ম্যাককরনী
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে 'সুশাসন' (Good Governance) বলে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৩৬৮.
জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, উপযোগবাদ কোন নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. সর্বোচ্চ আনন্দের নীতি
  2. স্বাধীনতার নীতি
  3. সমতার নীতি
  4. ন্যায়বিচারের নীতি
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ আনন্দের নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ আনন্দের নীতি
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, উপযোগবাদ সর্বোচ্চ আনন্দের নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত।

​উপযোগবাদ:

- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে।
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১,৩৬৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন
  2. ক্ষমতা নেতা ও দলের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করা
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব না দেওয়া
  4. সাম্যে বিশ্বাস না করা
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৩৭০.
'যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিকে' আইন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন কে?
  1. সক্রেটিস
  2. এরিস্টটল
  3. টি এইচ গ্রিন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law’।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও - 
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৭১.
সমাজে যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. অভ্যাস
  2. ধর্মীয় অনুশাসন
  3. সুশাসন
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
= মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৭২.
'রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য সৎ ও অবিকৃত সংবাদ পরিবেশন একান্ত প্রয়োজন'- উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি
  2. ম্যাকিয়াভ্যালি
  3. রুশো
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাস্কি
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য,
⇒ সংবাদপত্র জনমত গঠনের অন্যতম বাহন।
- সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে জনগণ স্থানীয়, দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যাবতীয় তথ্য ও সংবাদ জানতে পারে।
- সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনগণ বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ, দাবি-দাওয়া সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে।
- সংবাদপত্রের গঠনমূলক সমালোচনার ভয়ে সরকার সংযত থাকে।
- এজন্য বলা হয়ে থাকে যে, সংবাদ মাধ্যম যেভাবে বলে, জনমত সেভাবে গড়ে ওঠে।
- তবে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন সুষ্ঠু জনমত গঠনে সহায়ক নয়।
- অধ্যাপক লাস্কি তাই বলেন, "রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য সৎ ও অবিকৃত সংবাদ পরিবেশন একান্ত প্রয়োজন।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৭৩.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. ইমানুয়েল কান্ট
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

​ইমানুয়েল কান্ট:

- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১,৩৭৪.
'Animal Liberation' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. জর্জ অরওয়েল
  2. পিটার সিঙ্গার
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. জ্যাঁ-জ্যাক রুশো
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
ব্যাখ্যা
- 'Animal Liberation' গ্রন্থটি রচনা করেন পিটার সিঙ্গার।

পিটার সিঙ্গার:
- Peter Singer অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।
- আধুনিক Animal Rights আন্দোলনের প্রবর্তক।
- পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যগত উপাদানের ব্যবহার।

তাঁর লেখা কয়েকটি বই:
- The Life You Can Save,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World, 
- The Most Good You Can Do.

সূত্র: ব্রিটানিকা ও পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।
১,৩৭৫.
প্রযুক্তিনির্ভর শাসন বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশাসন
  2. গণতান্ত্রিক শাসন
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্নেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স শব্দটি এসেছে Electronic Government থেকে।
- বাংলায় একে বলা হয় ইলেক্ট্রনিক বা প্রযুক্তিনির্ভর শাসন'।
- এ শাসন বা সরকার পরিচালনায় ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি বা কৌশল প্রয়োগই মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৭৬.
'সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য দক্ষতা যা মানুষ সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জন করে থাকে'-উক্তিটি কার?
  1. স্যামুয়েল কোনিগ
  2. স্পেনসার
  3. ম্যালিনোস্কি
  4. ই.বি টেইলর
সঠিক উত্তর:
ই.বি টেইলর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই.বি টেইলর
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- ইংরেজি Culture শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সংস্কৃতি' যা ল্যাটিন শব্দ 'Cultura' থেকে এসেছে, যাকে এক কথায় কর্ষণ বা চাষ করা বোঝায়।
- অর্থাৎ মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক এবং দৈহিক চাহিদা পূরণের জন্য চর্চার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিষয়বস্তুর নির্যাসই হলো সংস্কৃতি।
- মানুষের আচার-আচরণ, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মেধা, নীতিবোধ ইত্যাদির সমষ্টিই সংস্কৃতি।

• ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী ই.বি টেইলর তাঁর 'Primitive Culture' গ্রন্থে বলেছেন, "সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের সমগ্র জীবন প্রণালী।" তাঁর মতে, সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নৈতিকতা, আইন, রীতিনীতি এবং অন্য যেকোনো দক্ষতা ও অভ্যাসের জটিল সমষ্টি।

• Jones বলেন, "Culture is the sum total of man's creation." অর্থাৎ মানুষ তার চলার পথে জীবিকা নির্বাহের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই সংস্কৃতি।

• ম্যালিনোস্কি তাঁর 'A Scientific Theory of Culture' গ্রন্থে বলেন, "সংস্কৃতি হলো মানুষের আপন কর্মের সৃষ্টি যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য সাধন করে"।

• সমাজবিজ্ঞানী স্পেনসার সংস্কৃতিকে একটি অধি-জৈবিক পরিবেশের সাথে তুলনা করেছেন, এই জৈবিক পরিবেশ বৃক্ষরাজি এবং পশুপাখি দ্বারা গঠিত এবং এটি জৈবিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ভিন্ন। 

• Samuel Koenig তাঁর Sociology গ্রন্থে বলেন: মানুষ তার চারপাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে প্রচেষ্টা চালায় এবং তার জীবনমান বৃদ্ধিতে যত কাজ করে তার সমষ্টিই হলো সংস্কৃতি।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৭.
সুশাসনের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) সুশাসন ধারণার প্রবর্তক বিশ্বব্যাংক
  2. খ) সুশাসন একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা
  3. গ) সুশাসন একটি আধুনিক ধারণা
  4. ঘ) সুশাসন ধারণাটি একমাত্রিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুশাসন ধারণাটি একমাত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুশাসন ধারণাটি একমাত্রিক
ব্যাখ্যা
আধুনিক রাষ্ট্র ও জনপ্রশাসনে সুশাসনের ধারণা একটি নব্য সংযোজিত বিষয়। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনুন্নয়নের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
সুশাসন হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরি শাসন যা একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্জন করতে হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৩৭৮.
জন লক কোন তত্ত্বের প্রবক্তা?
  1. ক) আত্মগত ভাববাদ
  2. খ) বস্তুগত ভাববাদ
  3. গ) গৌষ্ঠিগত ভাববাদ
  4. ঘ) ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ভাববাদ
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মগত ভাববাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মগত ভাববাদ
ব্যাখ্যা
• যে দার্শনিক মতবাদ ভাব, চৈতন্য বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে তাকে ভাববাদ বলে।
• এ মতানুসারে, বাইরের বস্তু প্রকৃত সত্তা নয়, ভাবের প্রতিচ্ছবিমাত্র।
• আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনে ভাববাদের যেসব রূপ দেখা যায় তাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় :
(১) বার্কলির আত্মগত ভাববাদ
(২) হেগেলের বস্তুগত ভাববাদ ও
(৩) কান্টের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা পরিদৃশ্যমান ভাববাদ।

• লকের চিন্তাধারার সূত্র ধরেই গড়ে উঠেছে বার্কলির আত্মগত ভাববাদ। লকের মতে, বস্তুর দুই ধরনের গুণ আছে : (১) প্রাথমিক বা মুখ্য গুণ ও (২) গৌণ গুণ।
• এজন্য লককে আত্মগত ভাববাদের প্রবতকা বলা হয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:- এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, বিএ/বিএসএস; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৯.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) আপেক্ষিকতা
  2. খ) সামাজিক মানদন্ড
  3. গ) নীতিবোধ
  4. ঘ) পরিবর্তনশীলতা
সঠিক উত্তর:
গ) নীতিবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীতিবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
১. নৈতিক প্রাধান্য
২. নির্দিষ্টতা
৩. বিভিন্নতা
৪. আপেক্ষিকতা
৫. সামাজিক মানদন্ড
৬. পরিবর্তনশীলতা
৭. সম্পর্কের সেতু

• মূল্যবোধের উপাদান:
১. নীতিবোধ
২. শৃঙ্খলা
৩. সহমর্মিতা
৪. সৌজন্যবোধ
৫. মানবিকতা
৬. শ্রমের মর্যাদা

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮০.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন কোনটি? 
  1. সমাজের কথা বলা 
  2. প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা দেখা
  3. অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা: 
বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন উদারতাবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন "ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ।
মানুষের মানবিক ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ, এবং পারস্পরিক সম্মতিসহ এমন আরো কয়েকটি গুণের চর্চাই হল উদারতাবাদ, যার সবকটিই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র ব্যর্থ হবার পেছনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবকেই দায়ী করা হয়।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮১.
কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা উল্লেখ করেছে?
  1. শাসন প্রক্রিয়া এবং সুশাসন
  2. শাসন প্রক্রিয়া এবং মানব উন্নয়ন
  3. শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
  4. শাসন প্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে - শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮২.
সুশাসনের ধারণাটি কেমন?
  1. একমাত্রিক
  2. দ্বিমাত্রিক
  3. বহুমাত্রিক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বহুমাত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুমাত্রিক
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
​- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

​এছাড়াও,
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৩৮৩.
দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক শক্তি-
  1. ক) অংশগ্রহণ
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) জবাবদিহিতা
  4. ঘ) মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
- দুর্নীতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করতে সুশাসন সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- কারণ সুশাসনের ফলে একটি সরকার বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে।
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, বাক স্বাধীনতা, আইনের শাসন ইত্যাদি সুশাসনের অন্যতম উপাদান।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৮৪.
সুশাসনকে দ্বিমুখী প্রত্যয় বলে অবহিত করেন-
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) ইনাম্যুয়েল কান্ট
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে প্রথম সুশাসনের ধারণা পাওয়া যায়।
- তিনি একে একটি দ্বিমুখী প্রত্যয় বলে অবহিত করেন, এক পক্ষ জনগণ ও অন্য পক্ষ সরকার।
- এ ব্যবস্থা নাগরিকের নিজ নিজ অধিকার ভোগ করার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
- সুশাসনের মাধ্যমে শাসক ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে সমৃদ্ধি গড়ে তোলা সহজতর হয়।

সূত্র: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধের গুরুত্ব, বাংলাদেশ প্রতিদিন।
১,৩৮৫.
কোনটি জনগণ ও সরকারের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) পুলিশ বাহিনী
  2. খ) রাজনৈতিক দল
  3. গ) আইনসভা
  4. ঘ) স্থানীয় সরকার
সঠিক উত্তর:
খ) রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল সরকার এবং জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৩৮৬.
মূল্যবোধের ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ক) জনকল্যাণ
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) সুশাসন
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নৈতিকতা
- নৈতিকতার শিক্ষাই একজন মানুষের মূল্যবোধকে জাগ্রত করে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,৩৮৭.
'জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।' বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ক) ১৯(৩)
  2. খ) ২৮(২)
  3. গ) ২৮(৪)
  4. ঘ) ২৯(১)
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯(৩)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯(৩)
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের,
- অনুচ্ছেদ ১৯(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
- অনুচ্ছেদ ২৮(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
- অনুচ্ছেদ ২৮(৪) নারী ও শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ণ হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।
- অনুচ্ছেদ ২৯(১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।

১,৩৮৮.
'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড'-উক্তিটি কার?
  1. নিকোলাস রেসার
  2. এম আর উইলিয়াম
  3. স্টুয়ার্ট সি ডড
  4. এম ডি স্টেইন
সঠিক উত্তর:
এম আর উইলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম আর উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।
- গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
- সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
- ’শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে।
- অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে।
- সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
- নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে।
- আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে।
- হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী আর. এম. উইলিয়াম (R. M. William) এর মতে "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড যার আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি পরিচালিত এবং যার মানদণ্ডে সমাজস্থ মানুষের কার্যাবলীর ভালমন্দ বিচার করা হয়।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৯.
নিচের কোনটি দ্বারা নৈতিক অধিকার জাগ্রত হয়?
  1. রাষ্ট্রের সংবিধান
  2. নীতি
  3. রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি
ব্যাখ্যা

♦ অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার। যথা-
• নৈতিক অধিকার ও
• আইনগত অধিকার।

♦ নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

♦ আইনগত অধিকার:
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।
- সমাজ ও রাষ্ট্রভেদে এ অধিকারের তারতম্য ঘটে না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৯০.
'জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীন এবং সমান'-এটি কোন সাম্যকে নির্দেশ করে?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. ব্যক্তিগত সাম্য
  3. স্বাভাবিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
স্বাভাবিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাভাবিক সাম্য
ব্যাখ্যা
স্বাভাবিক সাম্য:
- স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক সাম্যের অর্থ হলো জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীন এবং সমান'।
- জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে কোন পার্থ্যক্য নেই।
- আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণায় স্বাভাবিক সাম্যের তত্ত্ব প্রচারিত হয়।
- কিন্তু জংতভাবে সব মানুষ দৈহিক ও মানসিক দিক থেকে সমান হতে পারেনা।
- এজন্য স্বাভাবিক সাম্যের ধারণা বর্তমানে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৩৯১.
জবাবদিহিতা বলতে বুঝায়?
  1. ক) দায়িত্ব অবহেলা
  2. খ) নিজের মতো করে সব কিছু করা
  3. গ) দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি ও দায়-দায়িত্বের স্বীকারোক্তি
  4. ঘ) দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা
সঠিক উত্তর:
গ) দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি ও দায়-দায়িত্বের স্বীকারোক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি ও দায়-দায়িত্বের স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
জবাবদিহিতা হলো দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি ও দায়-দায়িত্বের স্বীকারোক্তি। এটি সুশাসনের অন্যতম উপাদান। জবাবদিহিতা না থাকলে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধি পায়।
১,৩৯২.
বিশ্বব্যাংক এর মতে সুশাসনের উপাদান কয়টি?
  1. ক) ৬ টি
  2. খ) ৯ টি
  3. গ) ৮ টি
  4. ঘ) ৫ টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ টি
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যাক্তির মতে সুশাসনের উপাদান :
UNDP এর মতে - ৯ টি
জাতিসংঘ (UN) - ৮ টি
IDA - ৪ টি
আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের - ৫ টি
বিশ্ব ব্যাংক (WB) - ৬ টি
কৌটিল্যের ‌- ৪ টি

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,৩৯৩.
একটি জাতির জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সামাজিক সম্পদ
  2. রাজনৈতিক সম্পদ
  3. অর্থনৈতিক সম্পদ
  4. জাতীয় সম্পদ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সম্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সম্পদ
ব্যাখ্যা

একটি জাতির জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রাজনৈতিক সম্পদ।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি: 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৩৯৪.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপদান কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদানের উল্লেখ করেছে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR সুশাসনের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১,৩৯৫.
আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা বলা হয় কাকে? 
  1. ক) নিকোলা ম্যাকিয়াভেলী
  2. খ) মন্টেস্কু
  3. গ) ম্যাক্স ভেবার
  4. ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাক্স ভেবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাক্স ভেবার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা বলা হয় - ম্যাক্স ভেবারকে।

- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারীদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy যার অর্থ দাড়ায় Desk Government.
- প্রখ্যাত জার্মান তাত্ত্বিক ম্যাক্স ভেবার প্রথম আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল হিসেবে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন। যার কারণে তাকে আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
১,৩৯৬.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমকে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. জনমত স্তম্ভ
  2. নিয়ন্ত্রক স্তম্ভ
  3. তৃতীয় স্তম্ভ
  4. চতুর্থ স্তম্ভ
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ স্তম্ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ স্তম্ভ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
- রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক।

অন্যদিকে -
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। স্তম্ভগুলো হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
১,৩৯৭.
তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয় কবে?
  1. ক) ২০০৬ সালে
  2. খ) ২০০৯ সালে
  3. গ) ২০১১ সালে
  4. ঘ) ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
তথ্য অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত সকল সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আবেদনের মাধ্যমে নাগরিকগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেতে পারেন। তাদের এই অধিকার লঙ্ঘিত হলে তারা তথ্য কমিশনের নিকট প্রতিকার চাইতে পারেন।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩৯৮.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় কীসের মাধ্যমে?
  1. শিক্ষার মাধ্যম
  2. সুশাসনের মাধ্যমে
  3. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  4. আইনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যম
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১,৩৯৯.
ব্যাক্তির চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. স্বার্থকতা
  2. সত্য ও ন্যায়
  3. অহমিকা 
  4. অসহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী ধারনা বা আদর্শ বলে-সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূলবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি- সহনশীলতা।
- মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরনের ভিত্তি হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে- সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
- মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- মূল্যবোধ শিক্ষা বিকাশ সাধন করে- ব্যক্তি সত্তার।
- চিরন্তন মূল্যবোধ হলো- সত্য ও ন্যায়।

এছাড়াও,
- মুল্যবোধের চালিকাশক্তি- সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ জাগ্রত করে- নীতিশাস্ত্র।
- সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে- সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪০০.
'Primitive Culture' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) Edward Burnett Tylor
  2. খ) Marret
  3. গ) J.S. Mill
  4. ঘ) Harvard Spenser
সঠিক উত্তর:
ক) Edward Burnett Tylor
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Edward Burnett Tylor
ব্যাখ্যা
• E.B Tylor রচিত গ্রন্থ Primitive Culture.
•ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টাইলর তার Primitive Culture গ্রন্থে সংস্কৃতি প্রসঙ্গে বলেন, “সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের সমগ্র জীবন প্রণালী।”
• তার মতে সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নৈতিকতা, আইন, রীতিনীতি এবং অন্য যেকোন দক্ষতা ও অভ্যাসের জটিল সমষ্টি।
• Marret রচিত গ্রন্থ The threshold of Religion.

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা এবং সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।