বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১১ / ৩৯ · ১,০০১১,১০০ / ৩,৮২৯

১,০০১.
কোন মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ইতিবাচক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সখে-দঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি হচ্ছে উদারতাবাদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।
- এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

উল্লেখ্য,
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। তাই বলা যায়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত।
অন্যদিকে, ইতিবাচক মূল্যবোধ বা সামাজিক মূল্যবোধ দেশ অথবা সমাজ ভেদে ভিন্নরকম। তাই সঠিক উত্তর হিসেবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নেওয়া হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০০২.
উপযোগবাদ (Utilitarianism) তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন-
  1. অগাস্ট কোৎ
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. এমিল ডুর্খেইম
  4. মিশেল ফোকো
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম যুক্তরাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি উপযোগবাদ (Utilitarianism) তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন।
- বেন্থাম তার বিখ্যাত বই "An Introduction to the Principles of Morals and Legislation" (১৭৮৯)-এ
ইউটিলিটির ধারণা তুলে ধরেন।
- ইউটিলিটির নীতি: যে কাজ আনন্দ ও সুখ বৃদ্ধি করে এবং দুঃখ ও ক্ষতি হ্রাস করে, সেটি সঠিক।
- মানুষের দুটি প্রধান চালিকা শক্তি:সুখ ও দুঃখ।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য: "সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ সুখ" নিশ্চিত করা।
- শাস্তি শুধুমাত্র তখনই ব্যবহারযোগ্য, যখন তা আরও বড় ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে।


উল্লেখ্য,
- ১৭৯২ সালে বেন্থামকে ফরাসি নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন ফরাসি দার্শনিক, নীতিশাস্ত্রবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী। 
- এমিল ডুরখেইম, ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী যিনি সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের সাথে অভিজ্ঞতামূলক গবেষণার সমন্বয়ে একটি জোরালো পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন।
- পল-মিশেল ফুকো ছিলেন একজন ফরাসি ইতিহাসবিদ এবং দার্শনিক-যিনি একজন লেখক, সাহিত্য সমালোচক ও রাজনৈতিক কর্মীও ছিলেন

উৎস: Britannica.

১,০০৩.
'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. জন লক
  2. এরিস্টটল
  3. জন অস্টিন
  4. ওপেনহাইম
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

⇒ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটলের মতে, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন।" 
- জন অস্টিনের মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।" -
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০০৪.
“Practical Ethics” - বইয়ের লেখক কে?
  1. ক) Robert Greene
  2. খ) Herbert Spencer
  3. গ) Peter Singer
  4. ঘ) Russ Shafer-Landau
সঠিক উত্তর:
গ) Peter Singer
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Peter Singer
ব্যাখ্যা
Practical Ethics - is an introduction to applied ethics by bioethical philosopher Peter Singer.
- The book has been translated into a number of languages.
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।
- তিনি জৈব-নৈতিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য বিখ্যাত এবং আধুনিক Animal Rights আন্দোলনের প্রবর্তক।

তার লেখা আরো কয়েকটি বই -
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World ইত্যাদি।

Source: ব্রিটানিকা।
১,০০৫.
শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা কোথা থেকে পায়?
  1. বিদ্যালয়
  2. রাষ্ট্র
  3. গণমাধ্যম
  4. পরিবার
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে। নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে। অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০০৬.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ সম্পর্কে সঠিক নয়?
  1. ক) মূল্যবোধ অপরিবর্তনশীল
  2. খ) মূল্যবোধ এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
  3. গ) মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক
  4. ঘ) মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ অপরিবর্তনশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ অপরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী রীতিনীতি ও মানদণ্ডের সমষ্টি। এসব রীতিনীতি সমাজের বৃহৎ অংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা স্বীকৃত।    

মূল্যবোধের বৈশিষ্ঠ্য:- 
১. মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।
৩. মূল্যবোধ মূলত এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
৪. মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল ও বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
৫. মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০০৭.
নিচের কোনটি অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধর্ম
  2. সাহিত্য
  3. হাতিয়ার
  4. রীতিনীতি
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- ইংরেজি Culture শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সংস্কৃতি' যা ল্যাটিন শব্দ 'Cultura' থেকে এসেছে।
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

• বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৮.
আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সততা
  2. সৌজন্যবোধ
  3. শিষ্টাচার
  4. সত্য ও ন্যায়
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, যা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা, সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০০৯.
পৃথিবীর প্রথম শিক্ষা গুরু বলা হয় কাকে?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) রুশো
  4. ঘ) এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
খ) সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম শিক্ষাগুরু বলা হয় সক্রেটিসকে। সক্রেটিসের ভাষায়, 'শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ।'
সক্রেটিসের ছাত্র ছিলেন প্লেটো। প্লেটোর মতে, 'শিশুর নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী দেহ মনের পরিপূর্ণ ও সার্বিক বিকাশ সাধনই হলো শিক্ষা।'
প্লেটোর ছাত্র ছিলেন এরিস্টটল আর এরিস্টটলের ছাত্র ছিলেন আলেকজান্ডার।
১,০১০.
টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) শিক্ষা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) আইন
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন। তাই টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ সুশাসন।
বর্তমানে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে দাতা দেশ ও সংস্থাসমূহ সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে সুশাসনের উপর।
বৈদেশিক সাহায্য বা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সুশাসনের বিকল্প নেই।
দুস্থ, দরিদ্র, অসহায় ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনমানের নিশ্চয়তা বিধান করে সুশাসন।
১,০১১.
ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করতে কোন ধরনের শিক্ষা প্রয়োজন?
  1. ক) পারিবারিক শিক্ষা
  2. খ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. গ) নৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) পারিপার্শ্বিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত রেখে পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করে।
নৈতিক শিক্ষা ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে যা মানুষকে মন্দ পরিহার করে ভালো দিকে ধাবিত করে।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১২.
'নারী ও মানব পাচার' কোন ধরনের অপরাধ?
  1. ফৌজদারি অপরাধ
  2. সংগঠিত অপরাধ
  3. ভদ্রবেশী অপরাধ
  4. আত্মবিনাশ অপরাধ
সঠিক উত্তর:
সংগঠিত অপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংগঠিত অপরাধ
ব্যাখ্যা
অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

• অপরাধের ধরনসমূহ:
- সমাজে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীরা পাঁচ ধরনের অপরাধের উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে:
ক) কিশোর অপরাধ (Juvenile delinquency),
খ) আত্মবিনাশ অপরাধ (Self-destroyed crime),
গ) ভদ্রবেশী অপরাধ (White-collar crime),
ঘ) সংগঠিত অপরাধ (Organized crime),
ঙ) ফৌজদারি অপরাধ (Criminal crime)।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ আত্মবিনাশ অপরাধ:
- কিছু অপরাধ আছে যা অন্যের নয়, অপরাধীরই ক্ষতিসাধন করে।
- অর্থাৎ এ ধরনের অপরাধে ব্যক্তি নিজেই নিজের বিনাশ ত্বরান্বিত করে।
- মাদকাসক্তি, ধূমপান, জুয়াখেলা, পতিতাবৃত্তি, ইত্যাদি আত্মবিনাশ অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০১৩.
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. UNESCO
  2. USAID
  3. UNDP
  4. UNEP
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI ( Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
১,০১৪.
অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কোন আইনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ফৌজদারি আইন
  2. দেওয়ানি আইন 
  3. আন্তর্জাতিক আইন 
  4. সাংবিধানিক আইন 
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি আইন
ব্যাখ্যা
• আইন:
- ফৌজদারি আইন: সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা বিধান এবং অপরাধীকে দণ্ড দেয়ার জন্য প্রণীত আইনকে ফৌজদারি আইন বলে।
এছাড়াও - 
- প্রশাসনিক আইন: ব্যক্তি এবং শাসন কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক নির্ধারণকারী আইনই হচ্ছে শাসন সংক্রান্ত আইন। এই আইন রাষ্ট্রের ভিত্তিস্বরুপ। শাসন সংক্রান্ত আইন শাসন বিভাগের গঠন ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করে এবং ব্যক্তিগত অধিকার ভঙ্গের বেলায় প্রতিকার নির্দেশ করে।
- আন্তর্জাতিক আইন: যে আইনের দ্বারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারিত হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০১৫.
নিচের কোনটি সামাজিক সমস্যা?
  1. ক) নগরায়ন
  2. খ) সামাজিক সংহতি
  3. গ) বিদ্যুৎ সংকট
  4. ঘ) বাল্যবিবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাল্যবিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাল্যবিবাহ
ব্যাখ্যা
- বাল্যবিবাহ আমাদের দেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা। বাল্যবিবাহ হলো অপ্রাপ্তবয়সে সংঘটিত বিবাহ।
- দারিদ্র্য, অশিক্ষা, যৌতুক প্রথা প্রভৃতি এই সমস্যার জন্যে দায়ী।
- বাল্যবিবাহ মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদির জন্যে দায়ী।
- বিদ্যুৎ সংকট একটি অর্থনৈতিক সমস্যা।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
১,০১৬.
‘সুশাসন মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে প্রবর্তন করে।' - সুশাসন সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) কফি আনান
  2. খ) ল্যান্ডেল মিল
  3. গ) ম্যাক করণী
  4. ঘ) ইব্রাহিম গানবারি
সঠিক উত্তর:
ক) কফি আনান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কফি আনান
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বলেছেন, ‘সুশাসন মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে প্রবর্তন করে।'
• ম্যাক করণী  (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।           
• জাতিসংঘের অঞ্চলের বিশেষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম গানবারি বলেন, ‘যে সমস্ত দেশে সুশাসন আছে কেবল সে সমস্ত দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে’।
• ল্যান্ডেল মিল  (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৭.
সরকারের কার্যকারিতা নষ্ট হয়-
  1. ক) দাতা দেশগুলোর সাহায্য না দেওয়ার কারণে
  2. খ) বিরোধীদলের সহিংস আচরণের জন্য
  3. গ) নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতার অভাবে
  4. ঘ) বড় বড় অট্টালিকার অভাবে
সঠিক উত্তর:
গ) নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতার অভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতার অভাবে
ব্যাখ্যা
সরকারের কার্যকারিতা নষ্ট হয় নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতার অভাবে। তাই কোনো দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন প্রশাসনের দক্ষতা, প্রশাসনের নীতি প্রণয়নের দূরদর্শিতা, সম্মোহনী নেতৃত্ব, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি না থাকা ইত্যাদি।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০১৮.
কোন চিন্তাবিদ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ‘Interest Group’ বলেছেন?
  1. এলান পটার
  2. এলান আর বল
  3. অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
  4. এইচ. জিগলার
সঠিক উত্তর:
এইচ. জিগলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ. জিগলার
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
• সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে।
• বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।
- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার Interest group বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০১৯.
কোন ধরনের অধিকারের ক্ষেত্রে সমাজভেদে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়?
  1. অর্থনৈতিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. নৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
এরূপ অধিকারের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, নৈতিক অধিকার ইত্যাদি।
এদের মধ্যে নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। এটি ব্যক্তির বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০২০.
ই-গর্ভনেন্সের বৈশিষ্ঠ্য নয় কোনটি?
  1. ক) আমলাতন্ত্র হ্রাস
  2. খ) মতামত প্রদানের সুযোগ
  3. গ) সেবা পাওয়ার দীর্ঘসূত্রিতা
  4. ঘ) ই-সেবা
সঠিক উত্তর:
গ) সেবা পাওয়ার দীর্ঘসূত্রিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সেবা পাওয়ার দীর্ঘসূত্রিতা
ব্যাখ্যা

ই-গর্ভনেন্সের ধারণা থেকে এটি পরিষ্কার হয়েছে যে বর্তমান যুগে সরকারি সেবাদানের এটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
ই - গর্ভনেন্স মূল কাজ - সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস করা। এবং এটি করতে গিয়ে ই - গর্ভনেন্স এর নিম্নোক্ত বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করা যায় -
১. আমলাতন্ত্র হ্রাস
২. ই-সেবা
৩. আন্তর্জাতিক সেবা
৪. মতামত প্রদানের সুযোগ
৫. অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করা
৬. বৈষম্য হ্রাস ইত্যাদি
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১,০২১.
আত্মগত ভাববাদের প্রবক্তা হলেন -
  1. ক) লক
  2. খ) হিউম
  3. গ) ডেকার্ট
  4. ঘ) বার্কলি
সঠিক উত্তর:
ক) লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লক
ব্যাখ্যা
- যে দার্শনিক মতবাদ ভাব, চৈতন্য বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে তাকে ভাববাদ বলে।
- এ মতানুসারে, বাইরের বস্তু প্রকৃত সত্তা নয়, ভাবের প্রতিচ্ছবিমাত্র।
- আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনে ভাববাদের যেসব রূপ দেখা যায় তাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় :
(১) বার্কলির আত্মগত ভাববাদ
(২) হেগেলের বস্তুগত ভাববাদ ও
(৩) কান্টের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা পরিদৃশ্যমান ভাববাদ।

- লকের চিন্তাধারার সূত্র ধরেই গড়ে উঠেছে বার্কলির আত্মগত ভাববাদ। 
লকের মতে, বস্তুর দুই ধরনের গুণ আছে : (১) প্রাথমিক বা মুখ্য গুণ ও (২) গৌণ গুণ।
- এজন্য লককে আত্মগত ভাববাদের প্রবক্তা বলা হয়ে থাকে।
 
উৎস: এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, বিএ/বিএসএস; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০২২.
দুর্নীতি দমন কমিশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২০০৩ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০০৫ সালে
  4. ২০০৬ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন:
- দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৯ মে দুদক আইন কার্যকরের মাধ্যমে পূর্বেকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়।
- এটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
- কার্যালয়: ঢাকার সেগুনবাগিচা।
- দুদক দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।
- তবে নানা সীমাবদ্ধতা কারণে দুদক দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে না।
- বাংলাদেশের 'দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, "ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।" যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

তথ্যসূত্র - দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৩.
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিন
  2. জে এস মিল
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. উড্রো উইলসন
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি করেছেন - আর্নেস্ট বার্কার।

• সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে। স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

এছাড়াও,
- “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- “আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন অধ্যাপক ডাইসি।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৪.
নিম্নের কোনটি আধুনিক মূল্যবোধ?
  1. সহমর্মিতা
  2. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  3. বাল্যবিবাহ বন্ধ
  4. ধর্মীয় বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
বাল্যবিবাহ বন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাল্যবিবাহ বন্ধ
ব্যাখ্যা
আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক।
- বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না, গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০২৫.
জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, কোনটি সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য?
  1. জাতীয় স্বাধীনতার উন্নয়ন
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  4. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। 

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,০২৬.
সর্বপ্রথম মানব উন্নয়ন সূচকের ধারণা দেন-
  1. ক) কফি আনান
  2. খ) অমর্ত্য সেন
  3. গ) অ্যাডাম স্মিথ
  4. ঘ) বান কি মুন
সঠিক উত্তর:
খ) অমর্ত্য সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অমর্ত্য সেন
ব্যাখ্যা

- মানব উন্নয়ন সূচকের প্রথম ধারণা দেন অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেন।
- জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউএনডিপি (UNDP) মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে।
- মানব উন্নয়ন সূচক-২০২০ এ শীর্ষ দেশ নরওয়ে।
- বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩ তম।

উৎস: ইউএনডিপির ওয়েবসাইট।

১,০২৭.
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কীসের অন্তরায়?
  1. সামাজিক অবক্ষয়ের
  2. মূল্যবোধ অবক্ষয়ের
  3. সুশাসনের
  4. শিক্ষার গুণগতমানের
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের
ব্যাখ্যা

স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

⇒ সুশাসন:
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০২৮.
'সুবর্ণ মধ্যক' ধারণাটির প্রবর্তক-
  1. ক) জেরেমি বেন্থাম
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) ইমানুয়েল কান্ট
  4. ঘ) রবার্টসন
সঠিক উত্তর:
খ) এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
- গোল্ডেন মিন (সুবর্ণ মধ্যক) ধারণাটির প্রবর্তক এরিস্টটল।
- তিনি সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন দুটি চরমপন্থার বা মতবাদের মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে।
- অর্থাৎ সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা। যেমন- একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো সুবর্ণ মধ্যক।
- এটি নীতিবিদ্যার সাথে জড়িত।
১,০২৯.
কোনটি সামাজিক অধিকার নয়?
  1. জীবনের অধিকার
  2. সরকারি পদাধিকার
  3. চলাফেরার অধিকার
  4. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার
সঠিক উত্তর:
সরকারি পদাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি পদাধিকার
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার:
​- যে সকল অধিকার সভ্য সমাজে বাস করার জন্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক অধিকার বলে।  সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
​১. জীবনের অধিকার, 
​২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, 
​৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার, 
​৪. সভা- সমিতির অধিকার, 
​৫. চলাফেরার অধিকার, 
​৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, 
​৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার, 
​৮. আইনের চোখে সমানাধিকার, 
​৯. সম্পত্তির অধিকার, 
​১০. ধর্মের অধিকার, 
​১১. পরিবার গঠনের অধিকার, 
​১২. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার, 
​১৩. শিক্ষার অধিকার ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০৩০.
নিম্নের কার মতে আইনের একমাত্র উৎস হলো 'সার্বভৌমের আদেশ'?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. হ্যারল্ড জে লাস্কি
  4. জে এস মিল
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা: সার্বভৌমের আদেশ।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০৩১.
রাজনৈতিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. ক) সত্যবাদিতা
  2. খ) দেশপ্রেম
  3. গ) শিষ্টাচার
  4. ঘ) দানশীলতা
সঠিক উত্তর:
গ) শিষ্টাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিষ্টাচার
ব্যাখ্যা
যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত  তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে। 
রাজনৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- রাজনৈতিক সততা 
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ 
- রাজনৈতিক সহনশীলতা 
- পরমতসহিষ্ণুতা 
 
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
 
১,০৩২.
জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার নীতিমালা কোনটি?
  1. ক) সংস্কৃতি
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) সংযম
  4. ঘ) আইন
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ জাতীয় দর্শন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
- এটি জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার নীতিমালা বা সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক শক্তি। 
- আধুনিক ধারণা অনুযায়ী মূল্যবোধ হলো কতগুলো জৈব মানসিক সংগঠনের এমন এক সমন্বয় যা পরিবেশের বৃহৎ অংশকে সক্রিয়তার দিক থেকে সমগুণসম্পন্ন করে তোলে এবং ব্যক্তির মধ্যে উপযুক্ত আচরণ সৃষ্টি করে।
- এ সংজ্ঞাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের জৈব মানসিক প্রবণতা যা সাধারণধর্মী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ সৃষ্টি করে তাকে মূল্যবোধ বলা হয়। 
 
উৎস: স্কুল অব এডুকেশন; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৩৩.
কোন ধরনের সমাজ ব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) সমাজতান্ত্রিক
  2. খ) ধনতান্ত্রিক
  3. গ) গণতান্ত্রিক
  4. ঘ) রাজতান্ত্রিক
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
- সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে।
- গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৩৪.
পেশাগত নৈতিকতার উপাদান কোনটি?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. সাম্প্রদায়িকতা
  3. গা বাঁচিয়ে চলা
  4. দায়বদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
দায়বদ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়বদ্ধতা
ব্যাখ্যা

• পেশাগত নৈতিকতার উপাদানগুলোর মধ্যে:
- সততা, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, পেশাগত চেতনা, এবং দায়িত্বশীলতা অন্যতম,
- যা পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং জনসাধারণের আস্থা ও সেবার মান উন্নত করে। 
• পেশাগত নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহ:
- সততা ও স্বচ্ছতা (Integrity and Transparency): পেশাদার কাজে সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা পেশাগত নৈতিকতার একটি মৌলিক দিক। 
- দায়বদ্ধতা (Accountability): নিজের কাজের জন্য জবাবদিহি করা এবং পেশাগত কর্মের ফলাফল বা প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা। 
- পেশাগত চেতনা (Professional Consciousness): নিজের পেশার প্রতি গভীর সচেতনতা এবং এর মান ও মর্যাদা বজায় রাখার অঙ্গীকার। 
- দায়িত্বশীলতা (Responsibility): পেশাগত দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করা এবং পেশার প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে চলা। 
- দক্ষতা ও জ্ঞান (Expertise and Skill): পেশাগত ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান এবং দক্ষতা প্রয়োগ করা, যা জনসাধারণের জন্য উপকারে আসে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩৫.
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়'- উক্তিটি করেছেন -
  1. মিশেল ক্যামডেসাস
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. ম্যাককরনি
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

⇒ ম্যাককরনি: "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

⇒ ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৩৬.
নিচের কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. শাসনপ্রক্রিয়া ও সুশাসন
  2. শাসনপ্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  3. শাসনপ্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
  4. শাসনপ্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন 
সঠিক উত্তর:
শাসনপ্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসনপ্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩৭.
আইন ও সালিশ কেন্দ্র কোন ধরনের সংগঠন?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) অর্থনৈতিক
  3. গ) মানবাধিকার
  4. ঘ) সামাজিক
সঠিক উত্তর:
গ) মানবাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মানবাধিকার
ব্যাখ্যা
•আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসাক) বাংলাদেশ একটি মানবাধিকার এবং আইন সহায়তাকারী বেসরকারি সংগঠন
- ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৯ জন।
- এর মূল লক্ষ্য সমানাধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং লিঙ্গভিত্তিক সমতার ভিত্তিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

উৎস: আসকের ওয়েবসাইট।
১,০৩৮.
নিচের কোনটি 'ই-কমার্স সূচক' প্রকাশ করে?
  1. UNCTAD
  2. SDSN
  3. UNDP
  4. IEP
সঠিক উত্তর:
UNCTAD
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNCTAD
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সূচক:
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে - UNCTAD।
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে The Economist Intelligence Unit.
- আইনের শাসন সূচক  প্রকাশ করে -  The World Justice Project (USA).
- মানব উন্নয়ন সূচক  প্রকাশ করে -  UNDP.
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক  প্রকাশ করে -  Reporters without Borders.
- সুখ সূচক  প্রকাশ করে -  Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক  প্রকাশ করে - Institute of Economic and Peace (IEP) (Australia).
- দূর্নীতি সূচক  প্রকাশ করে -  Transparency International.

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,০৩৯.
'Greatest Happiness Principle’-এই নীতির প্রবক্তা কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. রুশোঁ
  3. সক্রেটিস
  4. জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

• Greatest Happiness Principle:
- জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা।
- পরবর্তীতে John Stuart Mill এই ধারণাকে বিকশিত করেন।
- মূল কথা: মানুষের নৈতিকতা ও আইন এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ (Happiness) নিশ্চিত হয়।
- এই নীতিকে Utilitarianism (উপযোগবাদ) নামেও পরিচিত

- জন স্টুয়ার্ট মিল তার পিতা জেমস মিল ও জেরেমি বেন্থামের "greatest-happiness principle" বা পরম সুখবোধের নীতি সংক্রান্ত ধারণাকে তিনি নিজের মতো বর্ণনা করেন। জেরেমি বেন্থামরা সুখ বা আনন্দকে পরিমাপ করার প্রচেষ্টা করতেন। কিন্তুু তিনি এর বিপরীতে বলেন, মুর্খের সুখবোধের চেয়ে তিনি বরং সক্রেটিসের মতো জ্ঞানীর সুখবোধ অপ্রাপ্তির আকাঙ্খা করেন। অর্থাৎ তিনি বৌদ্ধিকতা বা জ্ঞানার্জন ও নৈতিকতাবোধ বা মরালিটির উপর এবং তার মাধ্যমে সমাজের মঙ্গলের সাধনকে গুরুত্ব প্রদান করেছেন। 

• জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম ছিলেন একজন দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, আইনবিদ, এবং আইন সংস্কারক এবং আধুনিক উপযোগিতাবাদের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন। বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়। বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন। যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

উৎস: Britannica ও নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৪০.
'গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র'-এ উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকাইভার
  2. সি.এফ. স্ট্রং
  3. অধ্যাপক লিন্ডসে
  4. অধ্যাপক সিলি
সঠিক উত্তর:
ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

⇒ ম্যাকাইভারের মতে, "গণতান্ত্রিক শাসনে সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র এবং তারা সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।"
- প্রফেসর সিলী বলেন, "এটি এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে।”
- লর্ড ব্রাইস, 'Modern Democracy' নামক গ্রন্থে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সেই ধরনের শাসন ব্যবস্থা যাতে রাষ্ট্রশাসন আইনত কোন বিশেষ শ্রেণী বা শ্রেণীগুলোর হাতে না থেকে সমাজের নাগরিকদের হাতে থাকে।
- সি. এফ. স্ট্রং সুন্দরভাবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন, "শাসিতগণের সক্রিয় সম্মতির উপর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত তাকে গণতন্ত্র বলে।" 
- অধ্যাপক লিন্ডসে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র সরকারের ন্যায় সমাজেরও একটি তত্ত্ব বটে.
- কার্ল জি ফ্রেডরিখ বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন সংঘটনের জন্য স্বীকৃত একটি প্রধান উপায়।”
- ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার।" 
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"
- স্যার ক্রিপসের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকল বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৪১.
'Principia Ethica' গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. জি. ই. ম্যুর
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
জি. ই. ম্যুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ই. ম্যুর
ব্যাখ্যা
- Principia Ethica গ্রন্থটি রচনা করেন ব্রিটিশ অ্যানালিটিক্যাল ফিলোসফার জর্জ এডওয়ার্ড ম্যুর (George Edward Moore)
- এটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ে নীতিবিদ্যা'র বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে জি.ই. মুর এর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এ গ্রন্থেই জি ই মুর প্রথম পরানীতিবিদ্যা বা Metaethics এর সূত্রপাত
করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
১,০৪২.
সবুজপত্রে সাধারণত কী উল্লেখ করা হয়?
  1. সমস্যা ও তার সমাধানের দিকনির্দেশনা
  2. সরকারি বাজেটের বিস্তারিত
  3. নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তি
সঠিক উত্তর:
সমস্যা ও তার সমাধানের দিকনির্দেশনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমস্যা ও তার সমাধানের দিকনির্দেশনা
ব্যাখ্যা
সবুজপত্রে সাধারণত সমস্যা ও তার সমাধানের দিকনির্দেশনা উল্লেখ করা হয়।

সবুজপত্র:
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।
- এর উপর জনসাধারণের মতামত আহবান করে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ইউরোপীয় কমিশনে এ প্রথা অনুসূত হয়।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশ সবুজপত্র প্রকাশ করার যে প্রথা অনুসরণ করে, সে প্রথা বাংলাদেশে নেই।
- তবে নীতি সংক্রা্ন্ত বিষয় অথবা অন্য কোন জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে ওয়ার্কশপ বা সেমিনারের মাধ্যমে এ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করার রেওয়াজ রয়েছে।
- এ প্রক্রিয়ায় দাতাগোষ্ঠীদেরও মতামত গ্রহণ করা হয়।
- উদাহরণ হিসেবে দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্র, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করা যায়।
- এছাড়া, চিন্তাবিদদের নিয়ে গঠিত বেসরকারি সংস্থাও সংস্কারমূলক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৩.
অধিকার অবাধ হলে -
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে
  2. নৈতিকতা বৃদ্ধি পাবে
  3. স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে
  4. সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে
ব্যাখ্যা
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 

অধিকার:

- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৪৪.
''সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়'', উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল 
  2. জন স্টুয়ার্ট 
  3. ম্যাককরনি 
  4. মেকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনি 
ব্যাখ্যা

• সুশাসন এর সংজ্ঞা:
- মারটিন মিনোগের মতে, "বৃহৎ অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতিপয় উদ্যোগের সমাহার ও একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে আরো বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে তোলে"।
- সুশাসন সম্পর্কে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ম্যাককরনী (MacCorney)। তার মতে সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"
- প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legitimacy), ool (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাক স্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা থাকে তাহলে সে শাসনকে সুশাসন বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০৪৫.
২০১২ সালে প্রণীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের রূপকল্প কী?
  1. সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
  2. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য:
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ,
৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১,০৪৬.
ই-গভর্নেন্স শব্দটি নিচের কোনটির সংক্ষিপ্ত রূপ?
  1. ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
  2. ইলেক্ট্রিক গভর্নেন্স
  3. ইলেক্টেড গভর্নেন্স
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স শব্দটি 'ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স' এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অনলাইনের মাধ্যমে পাবলিক ডেলিভারি ও সেবা জনগণের কাছে সহজলভ্য করা ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য।
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সাধিত হলে ই-গভর্নেন্স এর উদ্ভব ঘটে।
- জাতিসংঘের মতে, "সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেত এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌঁছানোর ব্যাবস্থাই হল ই-গভর্নেন্স"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৪৭.
'সুবর্ণ মধ্যক' ধারণাটির প্রবর্তক -
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. এরিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. রবার্টসন
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
সুবর্ণ মধ্যক:
- গোল্ডেন মিন (সুবর্ণ মধ্যক) ধারণাটির প্রবর্তক এরিস্টটল।
- তিনি সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন দুটি চরমপন্থার বা মতবাদের মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে।
- অর্থাৎ সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা। যেমন- একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো সুবর্ণ মধ্যক।
- এটি নীতিবিদ্যার সাথে জড়িত।

তথ্যসূত্র: 
১,০৪৮.
'বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভ' এটি নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকার
  2. খ) সাংস্কৃতিক অধিকার
  3. গ) অর্থনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক অধিকার সমূহ
১। সরকারি চাকুরি লাভের অধিকার  
২। নির্বাচনের অধিকার
৩। আবেদন করার অধিকার 
৪। স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
৫। বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার 
৬। সরকারের সমালোচনা করার অধিকার।  

সামাজিক অধিকারসমূহ
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার

অর্থনৈতিক অধিকার সমূহ 
১। অবকাশ লাভের অধিকার
২। কর্মের অধিকার
৩। ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার
৪। শ্রমিক সংঘ করার অধিকার প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৪৯.
বাংলাদেশে উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় কোনটি?
  1. নিরক্ষরতা
  2. দুর্নীতি
  3. জবাবদিহিতা
  4. অদক্ষ জনশক্তি
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও দুর্নীতি:
- বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি।
- দুর্নীতি প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে।
- উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কিন্তু দুর্নীতির কারণে সুশাসনের মূল উপাদান- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

• দুর্নীতি যেভাবে উন্নয়ন ও সুশাসন ব্যাহত করে-
- অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি;
- সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি;
- সুশাসনের অবক্ষয়;
- অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব;
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষতি।

• দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়-
- জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা;
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী করা;
- আইনের শাসন নিশ্চিত করা;
- প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো;
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৫০.
কোনটিকে সুশাসনের প্রাণ বলা হয়?
  1. ​স্বচ্ছতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. দক্ষতা
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

​স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০৫১.
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্ত রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছ থেকে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে।"- কার উক্তি?
  1. এইচ, ডি, স্টেইন
  2. স্টুয়ার্ট.সি.ডড
  3. ম্যাকাইভার
  4. এম, আর উইলিয়াম
সঠিক উত্তর:
স্টুয়ার্ট.সি.ডড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টুয়ার্ট.সি.ডড
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হল কতকগুলো নীতি, আদর্শ এবং আচরণবিধি যাকে একটি সমাজের মানুষ ভাল ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করে। 
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ। 

স্টুয়ার্ট.সি.ডড বলেন, 
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্ত রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছ থেকে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে।" 

সমাজবিজ্ঞানী এম, আর উইলিয়াম বলেন,
"মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড যার আদর্শে মানুষের ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল-মন্দের বিচার করা হয়।"
 
এইচ, ডি, স্টেইন বলেন, 
"জনসাধারণ যার সম্বন্ধে আগ্রহশীল, যা তারা কামনা করে, যাকে তারা অত্যাবশ্যক বলে মনে করে, যার প্রতি সকলের অগাধ শ্রদ্ধা আছে এবং যা সম্পাদনের মাধ্যমে তারা আনন্দ উপভোগ করে তাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।" 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৫২.
অর্থনীতিবিদ নজরুল ইসলাম ‘গভর্নেন্স ফর ডেভেলপমেন্ট’ গ্রন্থে সুশাসনের মোট কয়টি সূচক চিহ্নিত করেছেন?
  1. ক) চারটি
  2. খ) পাঁচটি
  3. গ) ছয়টি
  4. ঘ) সাতটি
সঠিক উত্তর:
গ) ছয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছয়টি
ব্যাখ্যা
অর্থনীতিবিদ নজরুল ইসলাম ‘গভর্নেন্স ফর ডেভেলপমেন্ট’ বা ‘উন্নয়নের জন্য সুশাসন’—এই নামে একটি বই লিখেছেন (পলগ্রেভ ম্যাকমিলান, নিউইয়র্ক ২০১৬)। পণ্ডিতদের সূত্র অনুসরণ করে নজরুল ইসলাম সুশাসনের মোট ছয়টি সূচক বা ইন্ডিকেটর চিহ্নিত করেছেন। সেগুলো হলো দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি, সরকারের কার্যকারিতা, নিয়মবিধির প্রায়োগিকতা, আইনের শাসন এবং দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণ।
[সূত্রঃ প্রথম আলো পত্রিকা]
১,০৫৩.
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি কার?
  1. আর্নেস্ট বার্কার
  2. উইড্রো উইলসন
  3. লর্ড অ্যাকটন
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি করেছেন - আর্নেস্ট বার্কার।

• সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে। স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৪.
সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগে সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে তা হলো-
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) অধিকার
  3. গ) কর্তব্য
  4. ঘ) সাম্য
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকার
ব্যাখ্যা
সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগে সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে তা হলো অধিকার। অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। নৈতিক অধিকার ও আইনগত অধিকার। আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অধিকার। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা – নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১,০৫৫.
উৎপত্তিগত অর্থে 'Civitas' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) ল্যাটিন
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) হিব্রু
  4. ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ক) ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
- পৌরনীতি হল সামাজিক ও নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান।
- পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics (সিভিকস্)। 
- Civics শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Civis' এবং 'Civitas' শব্দ থেকে এসেছে। 
- Civis এবং Civitas শব্দের অর্থ যথাক্রমে নাগরিক (Citizen) ও নগররাষ্ট্র (City State)। 
- সুতরাং শব্দগত বা উৎপত্তিগত অর্থে Civics বা পৌরনীতি হল নগর রাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিকদের আচার-আচরণ, রীতিনীতি ও কার্যাবলি সংক্রান্ত বিজ্ঞান। 
- তবে প্রাচীনকালে ভারতবর্ষে এবং গ্রীসে Civics বা পৌরনীতি বলতে নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্যকে বোঝানো হতো।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন বই (উন্মুক্ত)।
১,০৫৬.
'ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি' যে ধরনের অপরাধ -
  1. ফৌজদারি অপরাধ
  2. ভদ্রবেশী অপরাধ
  3. সংগঠিত অপরাধ
  4. কিশোর অপরাধ
সঠিক উত্তর:
ভদ্রবেশী অপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভদ্রবেশী অপরাধ
ব্যাখ্যা
অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়।
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

⇔ অপরাধের ধরনসমূহ:
- সমাজে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীরা পাঁচ ধরনের অপরাধের উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে:
ক) কিশোর অপরাধ (Juvenile delinquency),
খ) আত্মবিনাশ অপরাধ (Self-destroyed crime),
গ) ভদ্রবেশী অপরাধ (White-collar crime),
ঘ) সংগঠিত অপরাধ (Organized crime),
ঙ) ফৌজদারি অপরাধ (Criminal crime)।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ আত্মবিনাশ অপরাধ:
- কিছু অপরাধ আছে যা অন্যের নয়, অপরাধীরই ক্ষতিসাধন করে।
- অর্থাৎ এ ধরনের অপরাধে ব্যক্তি নিজেই নিজের বিনাশ ত্বরান্বিত করে।
- মাদকাসক্তি, ধূমপান, জুয়াখেলা, পতিতাবৃত্তি, ইত্যাদি আত্মবিনাশ অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৫৭.
'Hedonism' বলতে নিচের কোনটি বোঝায়?
  1. পূর্ণতাবাদ
  2. স্বজ্ঞাবাদ
  3. সুখবাদ
  4. আকারবাদ
সঠিক উত্তর:
সুখবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখবাদ
ব্যাখ্যা

সুখবাদ:
- গ্রীক 'hedone' শব্দের অর্থ 'সুখ' (pleasure)।
- কাজেই, যে মতবাদ অনুসারে সুখই জীবনের পরমার্থ, তাকে বলা হয় 'Hedonism' বা 'সুখবাদ'।
- সাধারণত সেইসব প্রত্যক্ষবাদী দার্শনিক (empiricists) সুখবাদের সমর্থক যারা মনে করেন যে, মানুষ মূলত ইন্দ্রিয়াসক্ত এবং ইন্দ্রিয়সেবার মাধ্যমে সুখলাভই তার একমাত্র লক্ষ্য।
- সুখবাদীরা সুখের বিচারে কর্মের নৈতিক বিচার করেন যে কাজ দুঃখের তুলনায় অধিক পরিমাণে সুখ দেয় তা 'ভাল', আর যে কাজ সুখের তুলনায় অধিক পরিমাণে দুঃখ দেয় তা 'মন্দ'।

⇒ আত্মসুখবাদ ও সর্বজনীন সুখবাদ, স্থুল সুখবাদ ও সুক্ষ্ম সুখবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সুখবাদ রয়েছে।

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism): স্বজ্ঞা এমন একটি বৃত্তি যার সাহায্যে আমরা প্রত্যক্ষভাবে বুদ্ধি বা সংবেদনের সাহায্য ছাড়াই কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞানলাভ করতে পারি।
- আকারবাদ (Formalism): নৈতিকতা সামাজিক ব্যাপার হলেও এর মর্যাদার কারণেই এর ভিত্তিটি মানবিক অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে বিশুদ্ধ বুদ্ধিতে প্রোথিত। ঐ উৎস থেকে নিয়ম বা আইনের আকারে এ উৎসারিত হয়।
- পূর্ণতাবাদ (Perfectionism): পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে। একে বুঝতে হলে পূর্ণতা শব্দটির অর্থ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।

উৎস:
i) Sitaram Mahato Memorial College.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৫৮.
"আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি”- উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিন
  2. এরিস্টটল
  3. স্যার হেনরি মেইন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

আইন: 
- আইন ফার্সি শব্দ। ফার্সি ভাষায় আইন শব্দের অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।

• আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
- আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"

উল্লেখ্য,
- আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন।
- তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৫৯.
মূল্যবোধকে অন্য কি নামে আখ্যায়িত করা যায়?
  1. সামাজিক নৈতিকতা
  2. রাজনৈতিক নৈতিকতা
  3. অর্থনৈতিক নৈতিকতা
  4. ধর্মীয় নৈতিকতা 
সঠিক উত্তর:
সামাজিক নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধকে সামাজিক নৈতিকতা নামে আখ্যায়িত করা যায়। 

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- সামাজিক মাপকাঠি, যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন, নৈতিক প্রাধান্য, বিভিন্নতা, আপেক্ষিকতা পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৬০.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৬টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা
- UNDP ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
সংস্থাটির মতে,
- ‘যে শাসনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষিত থাকে, সম্পদ ও অধিকার রক্ষার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়, বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়, মৌলিক পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়, দরিদ্রকে সেবা প্রদান করা হয় এবং সর্বোপরি জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে সুশাসন বলে।’
- সংস্থাটি সুশাসনের ৯টি উপাদানের উল্লেখ করে।
এগুলো হলোঃ
- স্বচ্ছতা
- আইনের শাসন
- সকলের অংশগ্রহণ
- সংবেদনশীলতা
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
- সমতা
- ন্যায্যতা
- জবাবদিহিতা এবং
- কৌশলগত লক্ষ্য।
(তথ্যসূত্রঃ UNDP ওয়েবসাইট)
১,০৬১.
কোনটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে?
  1. ক) সহমর্মিতা
  2. খ) মানবিকতা
  3. গ) শ্রমের মর্যাদা
  4. ঘ) শৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রমের মর্যাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রমের মর্যাদা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।

• শ্রমের মর্যাদা:
→ শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য।
→ এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।
→ এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬২.
সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো -
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. ন্যায়বিচার
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলাবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলাবোধ
ব্যাখ্যা
• শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজজীবনের অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- বিশ্বে যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয় এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়। তাই পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা, সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন। শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,০৬৩.
মূল্যবোধ কী পরীক্ষা করে?
  1. ভালো ও মন্দ
  2. ন্যায় ও অন্যায়
  3. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- যা সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও পরিমন্ডলে বসবাসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ পরীক্ষা করে ভালো ও মন্দের, ন্যায় ও অন্যায়ের, নৈতিকতা ও অনৈতিকতার ইত্যাদি।
- মূল্যবোধ বিষয়টি আপেক্ষিক।
- এটি সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত, পরিবর্তিত ও নির্দিষ্ট হয়ে থাকে।
- নীতিবোধ, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাসহ এর অনেকগুলো উপাদান রয়েছে।
- সুন্দর ও আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৪.
'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা'-জন স্টুয়ার্ট মিল তাঁর কোন গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেন?
  1. On Liberty
  2. Political Ideals
  3. Principles of Political Economy
  4. Moral and others
সঠিক উত্তর:
On Liberty
উত্তর
সঠিক উত্তর:
On Liberty
ব্যাখ্যা
জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

⇒ তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- A System of Logic,
- Autobiography,
- Considerations on Representative Government,
- Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy,
- Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

উল্লেখ্য,
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

উৎস: Britannica.
১,০৬৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত কী?
  1. স্বৈরতন্ত্র
  2. রাজতন্ত্র
  3. গণতন্ত্র
  4. অভিজাততন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো- গনতন্ত্র, অংশগ্রহন প্রক্রিয়া, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- স্বৈরতন্ত্র, রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৬৬.
সংস্কৃতি হলো-
  1. ক) মানুষের বাহ্যিক আচরণ
  2. খ) মানুষের জীবন প্রণালি
  3. গ) মানুষের ব্যক্তিগত চেতনা
  4. ঘ) মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
খ) মানুষের জীবন প্রণালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানুষের জীবন প্রণালি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি হলো মানুষের যাবতীয় কর্মকাণ্ড তথা জীবন প্রণালি।
- মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান ধারণা, বিশ্বাস, ধর্ম, নীতিবোধ প্রভৃতি সংস্কৃতির উপাদান হিসেবে চিহ্নিত। সংস্কৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান : প্রথমপত্র)
১,০৬৭.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকার?
  1. ভোটাধিকার প্রয়োগ
  2. সম্পত্তি লাভের অধিকার
  3. যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার
  4. দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি লাভের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি লাভের অধিকার
ব্যাখ্যা
- যেসব অধিকার আমরা সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে ভোগ করে থাকি তাদের সামাজিক অধিকার বলে।
সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মত প্রকাশের অধিকার
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- ভোটাধিকার প্রয়োগ হলো রাজনৈতিক অধিকার
- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার হলো অর্থনৈতিক অধিকার
- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার হলো নৈতিক অধিকার।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৬৮.
গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য মিলের তিনটি শর্তের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষণের জন্য সদাসতর্ক
  2. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা
  3. আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ
  4. জনগণের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য মিলের তিনটি শর্তের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়-  আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ।

গণতন্ত্রের সাফল্য:

- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

• জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হল:
(ক) গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
(খ) ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
(গ) নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০৬৯.
কোন নৈতিক মানদণ্ডটি সর্বোচ্চ সুখের উপর গুরুত্ব প্রদান করে?
  1. উপযোগবাদ
  2. পরার্থবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. আত্মস্বার্থবাদ
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

অপরদিকে,
- পরার্থবাদ হলো এমন একটি মতবাদ বা দর্শন যেখানে নিজের স্বার্থের চেয়ে অন্যের মঙ্গলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- আত্মস্বার্থ সাধারণত নিজের চাহিদা বা আকাঙক্ষার (স্বার্থ) উপর প্রাধান্য দেওয়াকে বোঝায়।
- শূন্যবাদের ইংরেজি প্রতিশব্দ Nihilism যা ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে এসেছে, যার অর্থ কিছুই না।
- শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।

উৎস: নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১,০৭০.
বাংলাদেশে ন্যায়পাল আইন প্রণীত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৭ সালে
  3. গ) ১৯৮০ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৫ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
- ন্যায়পাল হলো রাষ্ট্র নিযুক্ত কর্মকর্তা যিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করতে পারেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের বিধান রয়েছে।
- সেই বিধান অনুসারে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু এ যাবৎ কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,০৭১.
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন কী ধরনের মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
 শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।
→ বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান।
→ বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রধান না করা।
→ নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়া।
→ আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭২.
‘শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়ােজন, আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর’-এটি কে বলেছেন?
  1. সক্রেটিস
  2. প্লেটো
  3. অ্যারিস্টটল
  4. বেনথাম
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
ব্যাখ্যা
আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।

⇒ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৩.
আমলাতন্ত্রের জনক কাকে বলা হয়?
  1. উড্রো উইলসন
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. হেনরি ফেয়ল
  4. ফ্রেডরিক টেইলর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

১,০৭৪.
নিম্নের কোনটি নিশ্চিত না হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ হয়ে যায়?
  1. গণতন্ত্রের প্রতি উদাসীনতা
  2. দক্ষতা
  3. আইনের শাসন
  4. শিক্ষার মান বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে। বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।

⇒ বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের অন্ত:সার হচ্ছে সুষ্ঠু, বাস্তবায়নযোগ্য নীতি এবং নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি পেশাদারী আমলাতন্ত্র এবং শাসনবিভাগ, যা এর কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হবে। সুশাসনের জন্য আরও প্রয়োজন হচ্ছে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী একটি শক্তিশালী সুশীল সমাজ।
- সর্বোপরি সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং  সমাজের সকল সদস্য আইনের শাসন মেনে চলবে।

এছাড়াও,
⇒ সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়:
- দুর্নীতি প্রতিরোধ: 
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
- এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি
- স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
- নারীর ক্ষমতায়ন
- রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৫.
'জাতিসংঘ' শব্দটি কত সালে প্রথম ব্যবহৃত হয়?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯৪২ সালে
  3. ১৯৪৪ সালে
  4. ১৯৪৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ:
• জাতিসংঘ:  
- ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ গঠিত হয়।
- এর আগে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ৫১টি।
- এর বর্তমান সদস্য ১৯৩টি।
- জাতিসংঘের স্থায়ী পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২ টি (ভ্যাটিকান ও ফিলিস্তিন)।
- জাতিসংঘ সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।

এছাড়াও,
- জাতিসংঘ শব্দটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্ট দ্বারা প্রস্তাবিত, প্রথমবার জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটন, ডিসি-তে ১ জানুয়ারী ১৯৪২ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ।
- ঘোষণাপত্রে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ২৬টি দেশের প্রতিনিধিরা যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য সহযোগিতা করার সংকল্প করেছে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১,০৭৬.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. জবাবদিহিতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. দায়বদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন। সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।
সুশাসনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা কিংবা নৈতিকতা আবশ্যক নয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,০৭৭.
ঋণগ্রস্থ মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে কোন মূল্যবোধ বলা হয়?
  1. আর্থিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।

উল্লেখ্য,
- অন্যায়কে অন্যায় বলা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, - সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,  অসহায় ও ঋণগ্রস্থ মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৭৮.
'আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।' – এই সংজ্ঞাটি কে দিয়েছেন?
  1. থমাস হবস
  2. অ্যারিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জন অস্টিন
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা

আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো - আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন - অ্যারিস্টটল।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন - অ্যারিস্টটল
- ''Law is the passionless reason'' উক্তিটি করেন - অ্যারিস্টটল। 

অন্য দিকে,
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন - জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন - উড্রো উইলসন।
- রাষ্ট সৃষ্টির পূর্বেই আইনের জন্ম হয়েছে এই অভিমত ব্যক্ত করেন - হেনরি মেইন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০৭৯.
নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  2. পরিবার
  3. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  4. উচ্চশিক্ষা
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮০.
নৈতিকতা মানুষের কী ধরনের আচরণ?
  1. ক) আবশ্যিক আচরণ
  2. খ) সামষ্টিক আচরণ
  3. গ) স্বপ্রণোদিত আচরণ
  4. ঘ) প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ
সঠিক উত্তর:
গ) স্বপ্রণোদিত আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বপ্রণোদিত আচরণ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা হলো একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত। নৈতিকতা হলো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বা স্বপ্রণোদিত আচরণ।
মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে নৈতিক আচরণ করে থাকে। নৈতিক মূল্যবোধ বা কর্তব্য আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক মূল্যবোধের উৎপত্তি।
শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Morality. এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
নৈতিকতা মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,০৮১.
নিম্নের কোন ঘোষণা সুশাসনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে?
  1. Paris Plan of Implementation
  2. London Plan of Implementation
  3. Tokyo Plan of Implementation
  4. Johannesburg Plan of Implementation
সঠিক উত্তর:
Johannesburg Plan of Implementation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Johannesburg Plan of Implementation
ব্যাখ্যা
• Johannesburg Plan of Implementation:
→ Johannesburg Plan of Implementation জোহান্সবার্গ ঘোষণা নামে পরিচিত।
→ ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে Johannesburg Plan of Implementationগৃহীত হয়।
এটি সুশাসনের সঙ্গে Sustainable development (টেকসই উন্নয়ন) এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎসঃ জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর ওয়েবসাইট।
১,০৮২.
কোনটি ব্যতীত রাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন টেকসই হওয়া সম্ভব নয়?
  1. মূল্যবোধ
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. ধর্ম 
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

নাগরিক গুণাবলির বিকাশ:
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ নাগরিকের মানসিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে।
- সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া, সময়মত কর পরিশোধ করা।
• সুশাসন প্রতিষ্ঠা: 
- বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।
- সুশাসন ব্যতীত এ রাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন টেকসই হওয়া সম্ভব নয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৮৩.
“গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ” - উক্তিটি কার?
  1. মিলার
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. এরিস্টটল
  4. অধ্যাপক গার্নার
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থহচ্ছে জনগনের শাসন ক্ষমতা।
- আব্রাহাম লিঙ্কনের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণে দ্বারা পরিচালিত,জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।"
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।" 

-গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৪.
নিচের কোনটি একজন আমলার মৌলিক মূল্যবোধ?
  1. কর্মদক্ষতা অর্জন
  2. জনগণের কল্যাণ সাধন
  3. ক্ষমতা প্রদর্শন
  4. জনগণের গণতন্ত্র সুসংহত করা
সঠিক উত্তর:
জনগণের কল্যাণ সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের কল্যাণ সাধন
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তা ই মূল্যবোধ।
- একজন জনপ্রশাসক বা আমলার মৌলিক মূল্যবোধ হলো জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
- এই মূল্যবোধের আলোকেই একজন জনপ্রশাসক বা আমলা তার কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
১,০৮৫.
সামাজিক মূল্যবোধ নয় কোনটি?
  1. ক) সততা
  2. খ) সহনশীলতা
  3. গ) সাম্প্রদায়িকতা
  4. ঘ) ন্যায়পরায়ণতা
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্প্রদায়িকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্প্রদায়িকতা
ব্যাখ্যা
শিষ্টাচার, সততা,ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি হলো সামাজিক মূল্যবোধ। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৮৬.
শ্বেতপত্র কী?
  1. সাদা চিঠি
  2. সরকার কর্তৃক প্রকাশিত দলিল
  3. সাদা পাতা
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত দলিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত দলিল
ব্যাখ্যা
শ্বেতপত্র: 
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে। 
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ:
- চার্চিল হোয়াইট পেপার (১৯২২) এবং একীভূত প্যালেস্টাইনীয় রাজ্য গঠন সংক্রা্ন্ত শ্বেতপত্র (১৯৩৯) উল্লেখ করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতপত্রের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পূর্ণ কর্মসংস্থান (১৯৪৫) এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শ্বেতপত্র (১৯৬৪)।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৭.
CEDAW সনদ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. শিশু অধিকার
  2. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  3. আমলাতান্ত্রিক শিষ্টাচার
  4. নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
সঠিক উত্তর:
নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
ব্যাখ্যা
CEDAW:
CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
- এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট।
১,০৮৮.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ?
  1. পছন্দমত পেশা নির্বাচন
  2. চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার
  3. ভোটাধিকার
  4. সমাবেশ করার অধিকার
সঠিক উত্তর:
ভোটাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোটাধিকার
ব্যাখ্যা
সাম্যের ধারণা:
- সাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বা পরিবেশ বুঝায় যেখানে সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে যথার্থভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়।

সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যথা:
ক. সামাজিক সাম্য: যেমন- বাক স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ, নাগরিক অধিকার চর্চা।
খ. রাজনৈতিক সাম্য: যেমন- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার। 
গ. অর্থনৈতিক সাম্য: যেমন- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ। 
ঘ. আইনগত সাম্য: যেমন- চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সমাবেশ করার অধিকার। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৯.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় কীসের মাধ্যমে?
  1. ধর্মের মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যমে
  3. কর্মের মাধ্যমে
  4. রাজনীতির মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১,০৯০.
সুশাসনের অন্যতম অন্তরায় কী?
  1. শক্তিশালী গণমাধ্যম
  2. নিরপেক্ষ গণমাধ্যম
  3. স্বাধীন সংবাদমাধ্যম
  4. পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
সঠিক উত্তর:
পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- সুশাসন মানে হচ্ছে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং আইনের শাসনভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা।
- এর অন্যতম শর্ত হলো তথ্যের মুক্ত প্রবাহ এবং সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার, যাতে জনগণ সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
- সুশাসনের অন্যতম অন্তরায় হলো পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম।
- কারণ এটি সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য প্রবাহে বিঘ্ন ঘটায় এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ নষ্ট করে।

উল্লেখ্য,
- পক্ষপাতিত্বপূর্ণ গণমাধ্যম নিরপেক্ষভাবে সত্য খবর না দিয়ে বিশেষ ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থে তথ্য পরিবেশন করে।
- জনগণ সঠিক তথ্য না পেলে তারা ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা নিরুৎসাহিত হয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।
- পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মেরুকরণ সৃষ্টি করে, যা সমাজে বিভাজন বাড়ায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করে।
- অন্যদিকে, শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম সুশাসনের সহায়ক, কারণ তারা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং জনগণের সচেতনতা বাড়ায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৯১.
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অপরিহার্য শর্ত কোনটি? 
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
  2. জনগণের অংশগ্রহণ
  3. রাজনৈতিক অঙ্গীকার
  4. ধনী নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য,
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- বর্তমান, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো 'সুশাসন' প্রতিষ্ঠা।
- 'সুশাসন' একদিনে প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।
- সুশাসনের ধারণাও একদিনে গড়ে উঠেনি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০৯২.
সামাজিক অবক্ষয় রোধে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. রাজনৈতিক দল
  4. আইনের শাসন 
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন 
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- অবক্ষয় শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ক্ষয়প্রাপ্তি’।
- সামাজিক মূল্যবোধ তথা সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ধৈর্য, উদারতা, শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, নান্দনিক সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ও অপরাপর নৈতিক গুণাবলি লোপ পাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে বলে সামাজিক অবক্ষয়।

⇒ যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উল্লেখ্য,
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ। সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৯৩.
শিশু তার নৈতিক শিক্ষার হাতেখড়ি পায় কার কাছ থেকে?
  1. শিক্ষকের কাছ থেকে
  2. বন্ধুর কাছ থেকে
  3. পরিবারের কাছ থেকে
  4. ইন্টারনেটের কাছ থেকে
সঠিক উত্তর:
পরিবারের কাছ থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবারের কাছ থেকে
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে
- সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে। শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- সুতরাং ব্যাক্তি তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০৯৪.
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী, কতদিনের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠন করতে হয়?
  1. ৬০ দিন
  2. ৭০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
ব্যাখ্যা
তথ্য অধিকার আইন: 
- তথ্য প্রাপ্তি নাগরিকের অধিকার।
- বাংলাদেশে ২০০৯ সালের  এপ্রিল মাসে প্রণীত তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- সে জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনিবার্য। জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
- এ লক্ষ্যেই তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়েছে।
- এ আইনে আটটি অধ্যায়, ১টি তফসিল ও ৩৭টি ধারা রয়েছে।

- এ আইন প্রণয়নের ৯০ দিনের মধ্যে একটি তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়া হয়।
- এটি একটি সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন সংস্থা।
- এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
- কমিশন গঠন বিষয়ে আইনটির ১২ নং ধারায় বলা হয়েছে যে একজন প্রধান তথ্য কমিশনার এবং ২ জন তথ্য কমিশনার নিয়ে এটি গঠিত হবে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৫.
কোন সংস্থার অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
  3. জাতিসংঘ
  4. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। 

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১,০৯৬.
সততা ও ন্যায়পরায়ণতা কী ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ক) ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
  3. গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক বা পরিবর্তনশীল হলেও সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকার প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ সার্বজনীন। স্থান কিংবা সময়ের ব্যবধানে এসব মূল্যবোধ সব সময়ই অস্তিত্বশীল থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,০৯৭.
কেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন?
  1. গণতন্ত্র চর্চা করার জন্য
  2. ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিতের জন্য
  3. জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিতের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিতের জন্য
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।

⇒ একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৮.
ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি কোনটি?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি। ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ-সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে। পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর। এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে। ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়। প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়। ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ। সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।" ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাস থেকে যে মূল্যবোধ গড়ে ওঠে তাই ধর্মীয় মূল্যবোধ। ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৯.
মূল্যবোধের উপাদান নয় কোনটি?
  1. সাম্প্রদায়িকতা
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. আইনের শাসন
  4. শ্রমের মর্যাদা
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িকতা
ব্যাখ্যা

⇒ সাম্প্রদায়িকতা মূল্যবোধের উপাদান নয়।

 ♦ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

♦ মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা, কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১০০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে কবে 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন' কার্যকর করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই
কনভেনশনে।
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৬) এবং 'রূপকল্প ২০২১' এবং 'পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা ২০১০-২০২১'-এও সমধর্মী কর্মসূচি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া,
- সুশাসন নিশ্চিতে জরুরি সেবার হটলাইন চালু করেছে সরকার।
- তাহলো বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯; দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার ১০৬; সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার ১৬৪৩০; কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন ১৬১২৩; নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ১০৯ ইত্যাদি।
- সর্বোপরি সুশাসন বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা গঠন করা সম্ভব হবে।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।