বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ১০০ / ৩,৮২৯

.
রাজনৈতিক মূ্ল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্যবাদিতা
  2. দেশপ্রেম
  3. পরমতসহিষ্ণুতা
  4. দানশীলতা
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷
রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
→ বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
→ বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
→ নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
→ আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 
.
নৈতিকতা কী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. আইন ও সরকার
  2. রাজনৈতিক দল
  3. বিবেক ও মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক চাহিদা
সঠিক উত্তর:
বিবেক ও মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেক ও মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

​⇒ জোনাথান হেইট -এর মতে, “ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
​- এছাড়াও, নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন- "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি কোনটি?
  1. রাষ্ট্র
  2. সমাজ
  3. সুশাসন
  4. সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
- স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
- বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
- জেরি এবং জেরি বলেন, "সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

« সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।' - এই উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিনের
  2. এরিস্টটলের 
  3. হল্যান্ডের
  4. হেনরি মেইনের
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটলের 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটলের 
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন ফার্সি শব্দ।
- ফার্সি ভাষায় আইন শব্দের অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।

• আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
১. গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের , "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'সুনির্দিষ্ট ভুখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।'- উক্তিটি কার?
  1. এডমন্ড বার্ক
  2. থমাস জেফারসন
  3. অধ্যাপক গার্নার
  4. পিয়েরে ল্যান্ডেল মিলস্
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক গার্নার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক গার্নার
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্র
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের সকল মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে। 
​ প্রতিটি রাষ্ট্রেরই আছে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং জনসংখ্যা। 
​এ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আরও আছে সরকার এবং সার্বভৌমত্ব। 
​মূলত এগুলো ছাড়া কোনো রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

​ অধ্যাপক গার্নার বলেন, 'সুনির্দিষ্ট ভুখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।'
এ সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের চারটি উপাদান পাওয়া যায়। যথা-
- জনসমষ্টি, 
- নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
- সরকার ও 
- সার্বভৌমত্ব।

​​উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণ বলতে কোন ক্রিয়াকে বুঝানো হয়?
  1. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  2. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
  3. ঐচ্ছিক ক্রিয়া ও অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সমান অধিকারকে কী বলা হয়?
  1. নাগরিক সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. আইনগত সাম্য
  4. রাজনৈতিক সাম্য
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

- রাজনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ভোট প্রদান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সরকারি চাকরি লাভের সমান অধিকার। এটি আধুনিক গণতন্ত্রের একটি মূল ভিত্তি।

রাজনৈতিক সাম্য (Political Equality):
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ কী?
  1. ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা
  2. সত্য ও ন্যায়
  3. মায়া ও মমতা
  4. জবাবদিহিতা ও বিশ্বস্ততা
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. স্থানীয় সরকার
  3. এনজিও
  4. পরিবার
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

⇒ শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে কবে 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন' কার্যকর করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই
কনভেনশনে।
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৬) এবং 'রূপকল্প ২০২১' এবং 'পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা ২০১০-২০২১'-এও সমধর্মী কর্মসূচি চিহ্নিত করা হয়েছে।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১১.
আইনের প্রাচীনতম উৎস হচ্ছে ______________।
  1. ধর্ম
  2. প্রথা
  3. সংবিধান
  4. আইন পরিষদ
সঠিক উত্তর:
প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথা
ব্যাখ্যা
আইন এর সংজ্ঞা:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- জন লক- "যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"
- এরিস্টটল- "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, “আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।” 

আইন সম্পর্কিত গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
• প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
• গুরুত্বপূর্ণ উৎস- ধর্ম।
• আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
• আইনের মৌলিক উৎস- সংবিধান।
• স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক- আইন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
“মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।” - সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) ১২ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১০ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১৩ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ১১ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে - “মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।”
সূত্রঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

১৩.
সমাজে নাগরিক চেতনা উন্নত করতে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ধর্মীয় শিক্ষা
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা
  3. পারিবারিক শিক্ষা
  4. স্কুল-কলেজের শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নের অপশন অনুসারে সমাজে নাগরিক চেতনা উন্নত করতে "মূল্যবোধ শিক্ষা" গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

⇒ মূল্যবোধ ও চেতনা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে নাগরিক চেতনার উন্নতি ঘটায়।
- এটি মানুষের মধ্যে সঠিক আচরণ, নৈতিকতা, এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি পেলে মানুষ তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সমাজে সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, এবং ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি হয়।
- এর ফলে সমাজে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষা তাই একটি সুশৃঙ্খল ও সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

- তবে অন্যান্য অপশনগুলোও (ধর্মীয় শিক্ষা, পারিবারিক শিক্ষা, এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষা) নাগরিক চেতনা গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
- কিন্তু মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিক চেতনার মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মূল্যবোধ শিক্ষা ছাড়া অন্য শিক্ষা নাগরিক চেতনা গঠনে তেমন বেশি ভূমিকা রাখতে পারে না,
- অর্থাৎ মূল্যবোধ শিক্ষাই নাগরিক চেতনা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এই জন্য উল্লিখিত প্রশ্নে সঠিক উত্তর (খ)- 'মূল্যবোধ শিক্ষা' নেওয়া হয়েছে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রয়োজন কেনো?
  1. জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়
  2. সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে
  3. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৫.
'সুশাসন ৪টি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' এই অভিমত প্রকাশ করে -
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল'-এই অভিমত প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৬.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ কী?
  1. অসৎ নেতৃত্ব
  2. নৈতিকতার অভাব
  3. অর্থনৈতিক অভাব
  4. আইনের প্রয়ােগের অভাব
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ হল 'নৈতিকতার অভাব'।

⇒ দুর্নীতি ও নৈতিকতা: 
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়, তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

⇒ উল্লেখ্য,
- যদিও অন্যান্য কারণগুলোও দুর্নীতির জন্য দায়ী হতে পারে, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- যদি মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ এবং সততার অভাব থাকে, তবে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- অসৎ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক অভাব ও আইনের প্রয়োগের অভাব দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করে, কিন্তু নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবই প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
'জন স্টুয়ার্ট মিল' নিচের কোন গ্রন্থের লেখক?
  1. The Republic
  2. Leviathan
  3. On Liberty
  4. The Spirit of Laws
সঠিক উত্তর:
On Liberty
উত্তর
সঠিক উত্তর:
On Liberty
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়। 
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ:
- রাজনৈতিক স্বাধীনতা,
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা,
- সামাজিক স্বাধীনতা,
- আইনগত স্বাধীনতা, 
- প্রাকৃতিক স্বাধীনতা,
- জাতীয় স্বাধীনতা,
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

অন্যদিকে -
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো। 
- টমাস হবসের গ্রন্থের নাম Leviathan.
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৮.
E-Governance এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Efficient Governance
  2. Electronic Governance
  3. Eminent Governance
  4. Enhanced Governance
সঠিক উত্তর:
Electronic Governance
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Electronic Governance
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance.
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৯.
সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার সাথে যখন নিজের পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে, তখন তাকে কী বলা হয়?
  1. ক) Conflict of Values
  2. খ) Conflict of Task
  3. গ) Conflict of Interest
  4. ঘ) Conflict of Relationship
সঠিক উত্তর:
গ) Conflict of Interest
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Conflict of Interest
ব্যাখ্যা
Compliance document of University of Central Florida অনুসারে:
Conflict of Interest
A conflict of interest occurs when an individual’s personal interests – family, friendships, financial, or social factors – could compromise his or her judgment, decisions, or actions in the workplace.


Cambridge Dictionary অনুসারে:
Conflict of interest:
 A situation in which someone’s private interests are opposed to that person's responsibilities to other people.

Britannica Dictionary অনুসারে:
Conflict of interest:
 A problem caused by having official responsibilities that involve things that might be helpful or harmful to you.

অর্থাৎ, যখন একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ (যেমন, পরিবার, বন্ধুত্ব, আর্থিক বা সামাজিক কারণসমূহ) কর্মক্ষেত্রে তার বিচার, সিদ্ধান্ত বা ক্রিয়াগুলির সাথে জড়িয়ে যায় তখন তাকে ‘স্বার্থের সংঘাত' (Conflict of Interest) বলে।
এটা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পর্যায়ের স্বার্থ বুঝায়।

২০.
সুশাসনের ধারণা কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রথম উদ্ভাবিত হয়?
  1. বিশ্বব্যাংক 
  2. জাতিসংঘ 
  3. আইএমএফ 
  4. ইউনিসেফ
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক 
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণাটি প্রথম বিশ্বব্যাংক কর্তৃক উদ্ভাবিত হয়।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে। বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত “Governance and Development” (শাসন ও উন্নয়ন) শীর্ষক প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তন ও পরিচিত করানো হয়েছিল, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। 

⇒ সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

⇒ 'সবুজ বিপ্লব' আর 'কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি'র ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে। মোটা দাগে সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল -
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সাংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
কোনটিকে সরকার ও জনগণের Win Win Game বলা হয়?
  1.  জবাবদিহিতা
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4.  সুশাসন
সঠিক উত্তর:
 সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সুশাসন
ব্যাখ্যা

- সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

• সুশাসন:

- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
• 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
• মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও
জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

২২.
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কোনটি সুশাসনের মূলসূত্র হিসেবে কাজ করে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. উদারনীতি
  3. মানবাধিকার
  4. প্রশাসনিক দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও জবাবদিহিতা:
- 'জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ' সুশাসনের একটি মৌলিক উপাদান।
- জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি এবং অপব্যবহার বৃদ্ধি পেতে পারে।
- সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।
- জবাবদিহিতা সুশাসনের মূলসূত্র, কারণ এটি সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখে।

উল্লেখ্য 
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হয় এবং জনগণের কাছে তাদের কার্যক্রমের ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয়।
- জনগণ জানতে পারে যে সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের উদ্দেশ্য এবং ফলাফল কী।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৩.
'সরকার' রাষ্ট্রের কততম উপাদান?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য়
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র বলতে সেই জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় বসবাস করে, যাদের একটি সরকার আছে সর্বোপরি যারা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে সর্বোতভাবে মুক্ত থাকে।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।

রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা:
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূ-খন্ড,
(৩) সরকার ও,
(৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
- এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক কেন্দ্রস্থল কোনটি?
  1. সমাজ
  2. পরিবার
  3. বিদ্যালয়
  4. মসজিদ
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

 নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।

• নৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ সত্যকে সত্য বলা,
→ মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, 
→ অন্যায়কে অন্যায় বলা, 
→ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, 
→ দুঃস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
→ অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৫.
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ডকে কি বলে?
  1. সুশাসন 
  2. মূল্যবোধ 
  3. গণতান্ত্রিকতা
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।

মূল্যবোধের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের বিশেষ করে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart C. Dodd) বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।"
- এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৬.
নৈতিকতা ও সততার দ্বারা পরিচালিত আচরণকে কী বলা হয়?
  1. সামাজিক দায়িত্ব
  2. শুদ্ধাচার
  3. নৈতিক চাপ
  4. ন্যায়নীতি
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধাচার
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধাচার:
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।

উৎস: মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। [লিঙ্ক]
২৭.
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য একান্ত অপরিহার্য-
  1. জনমত
  2. সহনশীলতা
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৮.
কোন ধরণের অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না?
  1. ব্যক্তিগত অধিকারের
  2. সামাজিক অধিকারের
  3. নৈতিক অধিকারের
  4. গণতান্ত্রিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকারের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকারের
ব্যাখ্যা
নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না।
তাই নৈতিক অধিকারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৯.
কোন সংস্থা সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে?
  1. UNEP
  2. UNESCO
  3. USAID
  4. World Bank
সঠিক উত্তর:
World Bank
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World Bank
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে মূল্যবোধ হলো -
  1. সমাজে প্রচলিত নৈতিক নিয়ম
  2. ব্যক্তি বা দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
  3. সামাজিক সংহতির প্রতীক
  4. রাষ্ট্রীয় নীতির ভিত্তি
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি বা দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি বা দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
কোনটি রাজনৈতিক মূ্ল্যবোধ?
  1. দানশীলতা
  2. নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া
  3. দেশপ্রেম
  4. সত্যবাদিতা
সঠিক উত্তর:
নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷
রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
→ বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
→ বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
→ আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 
৩২.
জোনাথান হেইট-এর মতে, কী থেকে নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে?
  1. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি
  2. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং রীতিনীতি
  3. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং আদর্শ
  4. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ
সঠিক উত্তর:
ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।

জোনাথান হেইট (Jonathan Haidr) মনে করেন,
- 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ'- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
৩৩.
মানুষের চিরন্তন মূল্যবোধ- 
  1. অসহিষ্ণুতা
  2. সত্য ও ন্যায়
  3. সার্থকতা
  4. শঠতা
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা, সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৪.
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ? 
  1. শিক্ষার হার কম হওয়া
  2. আইনের শাসনের অভাব
  3. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

• বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সিপিডি।

৩৫.
'A System of Logic' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জ্যাক রুঁশো
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. ডেভিড হিউম
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল 
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

• জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill (1806-1878)]:
- মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill] এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
- জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা।
- আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “Utilitarianism”.
- “A System of Logic”
- “Autobiography”
- “Considerations on Representative Government”
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”
- “On Liberty”
- “Principles of Political Economy”
- “The Subjection of Women”

সূত্র: ব্রিটানিকা।

৩৬.
রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান -
  1. ক) জনসমষ্টি
  2. খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  3. গ) সরকার
  4. ঘ) সার্বভৌমত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্বভৌমত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের মানুষ কোনাে না কোনাে রাষ্ট্রে বসবাস করে। আমাদের এই পৃথিবীতে ছােট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০০ টি রাষ্ট্র আছে।
- অধ্যাপক গার্নার বলেন, ''সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।''
এ সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের চারটি উপাদান পাওয়া যায়।
যথা-
১। জনসমষ্টি,
২। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
৩। সরকার
৪। সার্বভৌমত্ব

- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

উৎসঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি

৩৭.
মূল্যবোধ-
  1. ক) অপরিবর্তনশীল
  2. খ) স্থান-কাল-পাত্র ভেদে অভিন্ন
  3. গ) আপেক্ষিক
  4. ঘ) ধর্মীয় বিধান
সঠিক উত্তর:
গ) আপেক্ষিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আপেক্ষিক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। মূল্যবোধ আপেক্ষিক বিষয়। কেননা সময়ের ব্যবধানে কিংবা স্থানভেদে এটি পরিবর্তনশীল। অর্থাৎ সকল সমাজের মূল্যবোধ এক নয়, সমাজ ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন ভিন্ন হয়। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৩৮.
”সুশাসন” ধারণাটি প্রথম উদ্ভাবন করে-
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. UNDP
  4. IMF
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
• সুশাসন (Good Governance.):
- সুশাসন  অর্থ নির্ভুল, দক্ষ, কার্যকারী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় বিশ্বব্যাংক।
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ”সুশাসন” প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৯.
সুশাসনের জন্যে অপরিহার্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. বহুদলীয় ব্যবস্থা
  2. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  3. বিকেন্দ্রীকরণ
  4. দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:

- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো মূল্যবোধ।

♦ সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বচ্ছতা,
- বৈধতা,
- দায়িত্বশীলতা,
- জবাবদিহিতা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা ,
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,
- সুশীল সমাজ
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪০.
“সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”- এটি কার অভিমত?
  1. জাতিসংঘ
  2. এডিএ
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইউএনডিপি
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ “সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”- এই অভিমত প্রকাশ করে - বিশ্বব্যাংক।
→ “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি করে - UNDP.

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ
  2. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
  3. আইন মেনে চলা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা,
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

৪২.
সততা , ন্যায়পরায়নতা ,সহনশীলতা, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে বলা হয়-
  1. ন্যায়বিচার
  2. শৃঙ্খলা
  3. যোগ্যতা
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজ্যবোধ প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।


• স্টুয়ার্ট সি.ডড-এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন- এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৪৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা নয় কোনটি?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া
  3. দারিদ্র্য
  4. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
সঠিক উত্তর:
জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
→ বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
→ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা, 
→ সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
→ আইনের শাসনের অভাব,
→ রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব,
→ রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
স্বজনপ্রীতি,
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
→ জনঅংশগ্রহণের অভাব,
দারিদ্র্য,

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৪.
নিচের কোনটি সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায়?
  1. ক) শক্তিশালী আমলাতন্ত্র
  2. খ) অনুন্নত অবকাঠামো
  3. গ) বিচারহীনতার সংস্কৃতি
  4. ঘ) প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা
সঠিক উত্তর:
গ) বিচারহীনতার সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিচারহীনতার সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
সুশাসন নিশ্চিতের জন্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ প্রভৃতি আবশ্যক।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৪৫.
মূল্যবোধ মানুষের কীসের একটি বিশেষ মানদন্ড?
  1. ইচ্ছা
  2. প্রথা
  3. বুদ্ধি
  4. মনোভাব
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে, "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

⇒ মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- এটি সম্পূর্ণ বিমূর্ত। তবে দলীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক বিধি-বিধান, আইন, নীতি ইত্যাদিতে সংশ্লিষ্ট মূল্যবোধের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ। এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এম আর উইলিয়ামস বলেছেন যে, "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
নিচের কোনটি নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ?
  1. ক) রাজনৈতিক শিক্ষার প্রসার
  2. খ) জনমত গঠন
  3. গ) নীতি নির্ধারণ
  4. ঘ) পরিকল্পনা প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
গ) নীতি নির্ধারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীতি নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন এবং নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় আলোচ্য বিষয়। সঠিক এবং কার্যকরী নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকগুলো পূর্বশর্তের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অন্যতম।

- নীতি নির্ধারক: নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করা।
- জনস্বার্থের অনুকূল, যুগোপযোগী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণে নেতৃত্বের দক্ষতার সাথে সুশাসনের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। 


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
সংস্কৃতিকে বলা হয় মূল্যবোধের_________।
  1. চালিকাশক্তি
  2. প্রতিষ্ঠান
  3. সোপান
  4. প্রাণ
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
-আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৮.
'জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।' বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা আছে?
  1. ক) ২৯(১)
  2. খ) ২৮(২)
  3. গ) ১৯(৩)
  4. ঘ) ২৮(৪)
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯(৩)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯(৩)
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের,
- অনুচ্ছেদ ১৯(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
- অনুচ্ছেদ ২৮(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
- অনুচ্ছেদ ২৮(৪) নারী ও শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ণ হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।
- অনুচ্ছেদ ২৯(১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।

৪৯.
'সহনশীলতা' কী ধরনের মূল্যবোধকে নির্দেশ করে?
  1. ক) সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  2. খ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. গ) নৈতিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সামজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• যেসব মূল্যবোধ মানুষের গণতান্ত্রিক আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করে তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো পরমতসহিষ্ণুতা বা সহনশীলতা
- সকলের সমঅধিকার, আইনের শাসন প্রভৃতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্ৰেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক। 
৫০.
নিচের কোনটি সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে?
  1. ক) জিটুজি
  2. খ) জিটুবি
  3. গ) জিটুসি
  4. ঘ) জিটুই
সঠিক উত্তর:
ক) জিটুজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিটুজি
ব্যাখ্যা
- জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) হলো সরকারের সাথে সরকারের বা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া।
অন্যদিকে,
- জিটুসি (গভর্নমেন্ট টু সিটিজেন) সরকারের সাথে নাগরিক বা ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- জিটুই (গভর্নমেন্ট টু এমপ্লয়ি) সরকারের সাথে সরকারি কর্মচারীদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- জিটুবি হলো সরকারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্ক।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৫১.
নিচের কোনটির প্রধান বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনশীলতা?
  1. সততা
  2. সদাচার
  3. কর্তব্যবোধ
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
সামজিক মূল্যবোধের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
১. সামাজিক মাপকাঠি,
২.  যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
৩. নৈতিক প্রাধান্য, 
৪. বিভিন্নতা, 
৫. বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা, 
৬. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা। সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়। অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে মূল্যহীন।আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫২.
উপযোগবাদ তত্ত্বের জনক কে?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. ম্যাকিয়াভেলি
  3. হার্বাট স্পেনসার
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন। এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৫৩.
‘শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর’-এটি কে বলেছেন?
  1. সক্রেটিস  
  2. প্লেটো
  3. এরিস্টটল    
  4. বেনথাম
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
ব্যাখ্যা
 প্লেটো :
- শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন।
- প্রজ্ঞা ও মুক্তিই হবে তাদের মূল চালিকাশক্তি।
- এমতাবস্থায় দার্শনিক রাজারা অবিবেচনায় শাসন কার্য পরিচালনা করবেন।
- তাদের পেছনে কোন প্রকার আইনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
- কারণ প্লেটো মনে করতেন 'শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর।'

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪.
'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'- গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. টমাস হবস
  2. জোনাথান হেইট
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'.
- বইটি ১৭৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে জেরেমি বেন্থাম উপযোগ নীতি (Principle of Utility)-কে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- বেন্থাম বলেন, মানুষের দুটি প্রধান চালিকা শক্তি: সুখ ও দুঃখ।
- সব আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত “সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ”।
- বেন্থামের মতে, শাস্তি এক ধরনের অমঙ্গল, কারণ এতে কষ্ট সৃষ্টি হয়।
- তাই শাস্তি শুধু তখনই দেওয়া উচিত, যখন তা বড় কোনো অমঙ্গল থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

উৎস: Britannica.

৫৫.
‘নারী ও শিশু নির্যাতন’ কোন ধরনের সমস্যার উদাহরণ?
  1. অর্থনৈতিক সংকট
  2. সামাজিক অবক্ষয়
  3. পরিবেশগত সমস্যা
  4. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের অভাবজনিত সামাজিক অবক্ষয়:
- সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ ও সুশাসনের অভাব সমাজকে নষ্ট করে দেয়।
- সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে না।
- এতে মানুষের মধ্যে অসততা, অনাচার ও অন্যায়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

সামাজিক অবক্ষয়সমূহ হলো:
অপসংস্কৃতি, যুব সমাজের অবক্ষয়, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্তি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন, আর্থ-সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দরিদ্রতা, খাদ্যে ভেজাল, সহিংসতা ও যুদ্ধমূলক সমস্যা, যুদ্ধ, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা, মৌলবাদ, বর্ণবাদ, রাষ্ট্র কর্তৃক রাষ্ট্র আক্রমণ ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৬.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. রাজনৈতিক সততা
  2. রাজনৈতিক সহনশীলতা
  3. রাজনৈতিক জবাবদিহিতা
  4. প্রশাসনিক দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক দক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক দক্ষতা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত নয় - প্রশাসনিক দক্ষতা।

রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৭.
কোন ধরনের মূল্যবোধ সবসময়ই অস্তিত্বশীল থাকে?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. সার্বজনীন মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক ‍মূল্যবোধ
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ সাধারণত আপেক্ষিক বা পরিবর্তনশীল বিষয়।
- কিন্তু কিছু কিছু মূল্যবোধ স্থান বা সময়ের ব্যবধানে সবসময়ই অস্তিত্বশীল থাকে। এসব মূল্যবোধ সার্বজনীন মূল্যবোধ নামে অভিহিত।
সার্বজনীন মূল্যবোধসমূহ হলো:
- সততা
- ন্যায়পরায়ণতা
- পরোপকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৫৮.
আধুনিক গণতন্ত্রের জনক কে?
  1. পল স্যামুয়েলসন
  2. অ্যারিস্টটল
  3. জন লক
  4. ক্লিসথেনিস
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্র সার্বভৌমত্ব ক্ষমতা থাকে জনগণের হাতে।
- আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক।
- জন লক ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও আলোকিত যুগের অন্যতম চিন্তাবিদ।
- তিনি ১৬৩২ সালে ২৯ আগস্ট ব্রিস্টলে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে জন লকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু।

অন্যদিকে -
- গণতন্ত্রের জনক হচ্ছেন অ্যারিস্টটল।
- ক্লিসথেনিসকে 'এথেনীয় গণতন্ত্রের জনক' বলা হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) Britannica.

৫৯.
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ই-গভর্নেন্সের উদ্যোগ কোনটি?
  1. ই-নথি
  2. ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার
  3. বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধকরণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভর্ন্যান্স:
- সকল প্রকার সরকারি ও বেসরকারি সেবা-প্রদান, 'ব্যাক-অফিস' কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান, লেনদেন এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলেক্ট্রনিক, কম্পিউটিং এবং আইসিটির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে, কম খরচে, সঠিকভাবে এবং সহজে সকল ধরনের কর্মকাণ্ড বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াকে ই-গভর্নেন্স বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায় যে, শাসন ব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি কার্য-প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক্স বা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগই হচ্ছে ই-গভর্নেন্স।
- আর সে কারণেই ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্সও বলা হয়ে থাকে।
- কোনো একটি দেশে সুপ্রশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।
- আর ডিজিটাল গভর্নেন্স প্রচলনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব।
- ফলে নাগরিক-হয়রানি এবং সেবা-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হয়রানির অবসান ঘটে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ বাংলাদেশ সরকারের ই-গভর্নেন্সের বিশেষ কতকগুলো উদ্যোগ এখানে তুলো ধরা হলো:
• ই-নথি:
- ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে নথি নিষ্পত্তি এবং অনলাইন অফিস ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ই-নথি সেবা চালু করেছে।
• সরকারি সার্টিফাইং অথরিটি প্রতিষ্ঠা:
- দেশে ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রবর্তন ও Public Key Infrastructure (PKI)-এর উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালে কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ প্রতিষ্ঠা করেছে।
• জাতীয় পরিচয়পত্রকে ডিজিটালকরণ:
- রাষ্ট্রের হাতে সংরক্ষিত নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র চালু করা হয়েছে।
• সরকারি কর্মচারীদের তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমকে ডিজিটালাইজেশন:
- সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০১৬ সালে সকল সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে চ্যাটিং, অনলাইন অডিও ও ভিডিও কল, ফাইল শেয়ারের ইত্যাদি সুবিধা সহকারে আলাপন নামে একটি ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ চালু করেন।
• ডিসি ও ডিআরএস:
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইনফো-সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে "কনটেইনার ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার" স্থাপন করেছে।
- এর ফলে কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডাটা-সেন্টার যদি নষ্ট/ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই রিকভারি সেন্টার সাহায্য করতে পারে।
• ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক চালুকরণ:
- জাতীয় পর্যায়ে সর্বস্তরের জনগণকে নানান তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে মোবাইল ফোনভিত্তিক (৯৯৯) হেল্পডেস্ক চালু করে যার মাধ্যমে নাগরিক বিনামূল্যে ফোন করে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার স্টেশন নম্বর, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্যসহ জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত নানান তথ্য জানতে পারবেন।
• বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধকরণ:
- বাংলা ভাষাকে সহজীকরণ, বাংলা লিখিত নমুনা (কর্পাস) ও বাংলা ফন্টের মান উন্নয়ন, এবং বিশ্বমানের বাংলা কম্পিউটিং চালু করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে "গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ" নামের এক প্রকল্প চালু করে।
• ডিজিটাল জোন গড়ে তোলা:
- বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মহেশখালীকে একটি "ডিজিটাল আইল্যান্ড" হিসেবে গড়ে তুলবার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে "কনভার্টিং মহেশখালী ইনটু ডিজিটাল আইল্যান্ড" নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয়।
• ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প:
- বিচারিক ব্যবস্থার সকল যোগাযোগ, ফাইলিং, সাক্ষ্য-প্রমাণ রেকর্ডিং ও সংরক্ষণ, মামলার নথি সংরক্ষণ, আদেশ-রায় প্রেরণ ও প্রদর্শন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে ই- জুডিশিয়ারি প্রকল্প হাতে নেয়।
• ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার:
- সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নানান প্রযুক্তিকে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে দেশের বৃহত্তম ও বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম জাতীয় ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
• অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালুকরণ:
- সরকারি দপ্তর এবং আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার প্রতিশ্রুত সেবা, সেবা প্রদান পদ্ধতি এবং সেবা অথবা পণ্যের মান সম্পর্কে যদি জনগণের কোন অসন্তোষ বা মতামত থাকে তবে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে এই অনলাইন ভিত্তিক অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কোনটি?
  1. সুশাসন
  2. সংস্কৃতি 
  3. উন্নয়ন
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬১.
‘Government of the people, by the people, for the people’ কার উক্তি?
  1. স্যার জন সীলি
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. সি এফ স্ট্রং
  4. ম্যাকাইভার
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিংকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিংকন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- গণতন্ত্র বলতে জনগণের হাতে ক্ষমতা রয়েছে এমন সরকারকে বোঝায়।
- গণতন্ত্রের নিখুঁত সংজ্ঞা দিয়েছেন লিংকন।
- আব্রাহাম লিংকন-এর ভাষ্য মতে, ‘Government of the people, by the people, for the people’ অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’

উল্লেখ্য,
- আব্রাহাম লিংকন ছিলেন একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী।
- ১৮৬১ সালে আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেন।
- তিনি আমেরিকার অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
         ii) Britannica.
৬২.
জনমত গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক?
  1. তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ
  2. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক শিক্ষা 
  4. অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা 
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
- জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে গণমাধ্যম, সভা-সমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক।
৬৩.
সুশাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রগুলোর কী নিশ্চিত করতে হবে?
  1. সংবিধান পরিবর্তন
  2. শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন
  3. শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক
  4. বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভরতা
সঠিক উত্তর:
শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র ও সুশাসন:

- আধুনিক বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ কল্যাণমুখী হতে চায়, যেখানে জনগণের কল্যাণ সাধনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে তৎপর থাকতে হয়।
- তবে, অনেক রাষ্ট্রে এটি কেবল কাগজে-কলমেই প্রতীয়মান, বাস্তবে তা সঠিকভাবে কার্যকর হয় না।

⇒ সুশাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য, রাষ্ট্রগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে:

• শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক;
• স্বাধীন বিচার বিভাগ;
• আইনের শাসন;
• নীতির গণতন্ত্রায়ণ;
• মানবাধিকারের নিশ্চয়তা;
• পছন্দ ও মতামত প্রদানের স্বাধীনতা;
• স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৬৪.
লালফিতার দৌরাত্মের ফলে নিম্নের কোনটি ব্যাহত হয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  3. আইন
  4. জনগণের সন্তুষ্টি
সঠিক উত্তর:
দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৫.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' -এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. UN
  2. World Bank
  3. ADB
  4. UNDP
সঠিক উত্তর:
World Bank
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World Bank
ব্যাখ্যা
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' -এই অভিমত প্রকাশ করে World Bank.

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬৬.
জাতিসংঘের মতে সুশাসনের কয়টি উপাদান রয়েছে?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. সাতটি
  4. আটটি
সঠিক উত্তর:
আটটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটটি
ব্যাখ্যা

◉ জাতিসংঘের মতে সুশাসনের ৮টি উপাদান হলো: অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, সহানুভূতিশীলতা, ঐক্যমতাভিত্তিক, ন্যায়বিচার, কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা।

• সুশাসনের উপাদান:
- এডিবির মতে সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের উপাদান ৮টি।
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকের (AFDB) মতে সুশাসনের উপাদান ৫টি।
- UNHCR মতে সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি। 
- আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির (IDA) মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৭.
সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে -
  1. ক) রাষ্ট্র
  2. খ) সরকার
  3. গ) আইনসভা
  4. ঘ) বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬৮.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ১৪ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ১৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ১৬ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়,

- “রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
- (ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
- (খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
- (গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
- (ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷”

অন্যদিকে,
- ১৪ নং অনুচ্ছেদ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ : সুযোগের সমতা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
৬৯.
“নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন।”− উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) আর এম ম্যাকাইভার
  2. খ) জেমস মিল
  3. গ) আইভর ব্রাউন
  4. ঘ) আর জি গেটেল
সঠিক উত্তর:
গ) আইভর ব্রাউন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইভর ব্রাউন
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
• “নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক
মতবাদ অর্থহীন।”− উক্তিটি করেছেন- আইভর ব্রাউন
• এ প্রসঙ্গে সি জে ফক্স বলেন, “ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
কোনটি আইনের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সার্বভৌম কর্তৃত্ব
  2. অন্তর্গত চিন্তার নিয়ন্ত্রক 
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক
  4. পরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
অন্তর্গত চিন্তার নিয়ন্ত্রক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্গত চিন্তার নিয়ন্ত্রক 
ব্যাখ্যা

আইনের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয় - অন্তর্গত চিন্তার নিয়ন্ত্রক।

আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

⇒ আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১.
'সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ' কোন ধরনের মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

» রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
→ শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত ধরনের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উল্লেখ করেছেন?
  1. তিন ধরনের
  2. চার ধরনের
  3. পাঁচ ধরনের
  4. আট ধরনের
সঠিক উত্তর:
চার ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার ধরনের
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত।
এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩.
কোনটি নাগরিকের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না?
  1. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
  2. ধর্ম পালন করা
  3. আইন মান্য করা
  4. নিয়মিত কর প্রদান করা
সঠিক উত্তর:
ধর্ম পালন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম পালন করা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন, আইন মান্য করা, নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের আইনগত কর্তব্য।
অন্যদিকে,
- ধর্ম পালন করা হলো নাগরিকের সামাজিক অধিকার।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
৭৪.
'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে-
  1. আইএমএফ
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউএনডিপি
  4. বিশ্বব্যাংক
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এখানে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। কেননা মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উৎস: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।

৭৫.
“নিকোমেকীয়ান এথিক্স” গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) রাসেল
  4. ঘ) অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘নিকোমেকীয়ান এথিস্' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয় ।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের মূল লক্ষ্য কী?
  1. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা
  2. রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতিসংঘ:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; জবাবদিহিতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; দায়বদ্ধতা; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; স্বচ্ছতা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৭৭.
সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে -
  1. বিরোধী দল
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. সুশীল সমাজ
  4. সংবাদপত্র
সঠিক উত্তর:
সংবাদপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
সংবাদপত্র:
- সংবাদপত্রের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক খবর সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে।
- সরকারি কোন সিদ্ধান্তের ভালো মন্দ জেনে জনগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে পারে।
- সরকার ভালো কাজ করলে সংবাদপত্র জনগণের হয়ে সরকারের প্রশংসা করে, আর জনবিরোধী কার্যক্রম করলে তার প্রতিবাদ করে।
- এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে উঠে।
- এভাবে সংবাদপত্র জনমত গঠন করে জনগণের অধিকার রক্ষা করে থাকে।
- তাই সরকার ও জনগণের মধ্যে সংবাদপত্র আয়নার মতো কাজ করে

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৮.
নৈতিক চেতনা মানুষকে কী সম্পর্কে সচেতন করে?
  1. ধর্মীয় আচার
  2. রাজনৈতিক মতাদর্শ
  3. ঐতিহ্যগত অভ্যাস
  4. আচরণের নৈতিক গুরুত্ব
সঠিক উত্তর:
আচরণের নৈতিক গুরুত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণের নৈতিক গুরুত্ব
ব্যাখ্যা
নৈতিক চেতনা:
- নৈতিক চেতনা একটি মানসিক ক্রিয়া।
- মানুষ যখন তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীর ন্যায়-অন্যায় বোধ, উচিত-অনুচিত বোধ সম্পর্কে সচেতন হয় তখন ধরে নিতে হবে মানুষ নৈতিক চেতনার পরিসরে তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীকে বিবেচনা করছে।
- নৈতিক চেতনা মানুষকে তার আচরণের নৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
-মানুষকে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য বৃঝতে সহায়তা করে। মানুষকে তার কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। 
- নৈতিক চেতনা আমাদেরকে আমাদের কার্যাবলীর ন্যায়বোধ ও অন্যায়বোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
- আমাদের প্রাত্যহিক কর্মকান্ডের নৈতিকতা সম্পর্কীয় এ চেতনা ন্যায় কাজ সম্পন্ন করার ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার জন্যে আমাদের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
'Hedonism' বলতে বোঝায় -
  1. সুখবাদ
  2. আকারবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. স্বজ্ঞাবাদ
সঠিক উত্তর:
সুখবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখবাদ
ব্যাখ্যা
সুখবাদ:
- গ্রীক 'hedone' শব্দের অর্থ 'সুখ' (pleasure)।
- কাজেই, যে মতবাদ অনুসারে সুখই জীবনের পরমার্থ, তাকে বলা হয় 'Hedonism' বা 'সুখবাদ'।
- সাধারণত সেইসব প্রত্যক্ষবাদী দার্শনিক (empiricists) সুখবাদের সমর্থক যারা মনে করেন যে, মানুষ মূলত ইন্দ্রিয়াসক্ত এবং ইন্দ্রিয়সেবার মাধ্যমে সুখলাভই তার একমাত্র লক্ষ্য।
 মানুষের জীবনে সুখই কেবল স্বতঃমূল্যবান, আর সবই পরতঃমূল্যবান।
- আমরা অর্থ, বিত্ত, স্বাস্থ্য ইত্যাদি কামনা করি ঐ সবের জন্য নয়, কামনা করি সুখের আশায়।
- সুখকে কামনা করি কেবল সুখের জনাই।
- সুখবাদীরা সুখের বিচারে কর্মের নৈতিক বিচার করেন যে কাজ দুঃখের তুলনায় অধিক পরিমাণে সুখ দেয় তা 'ভাল', আর যে কাজ সুখের তুলনায় অধিক পরিমাণে দুঃখ দেয় তা 'মন্দ'।

⇒ আত্মসুখবাদ ও সর্বজনীন সুখবাদ, স্থুল সুখবাদ ও সুক্ষ্ম সুখবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সুখবাদ রয়েছে।

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism): স্বজ্ঞা এমন একটি বৃত্তি যার সাহায্যে আমরা প্রত্যক্ষভাবে বুদ্ধি বা সংবেদনের সাহায্য ছাড়াই কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞানলাভ করতে পারি।
- আকারবাদ (IFormalism): নৈতিকতা সামাজিক ব্যাপার হলেও এর মর্যাদার কারণেই এর ভিত্তিটি মানবিক অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে বিশুদ্ধ বুদ্ধিতে প্রোথিত। ঐ উৎস থেকে নিয়ম বা আইনের আকারে এ উৎসারিত হয়।
- পূর্ণতাবাদ (Perfectionism): পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে। একে বুঝতে হলে পূর্ণতা শব্দটির অর্থ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।

উৎস: i) Sitaram Mahato Memorial College.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
E-Governance-এর ফলে কোনটি হ্রাস পায়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. দুর্নীতি
  4. দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- সাধারনত তিনটি স্তরে বা পর্যায়ে এই ই-গর্ভনেন্স সেবা পাওয়া যায়-(১) সরকার ও সেবা গ্রহীতা (ব্যক্তি) (২) সরকার ও ব্যবসা-বাণিজ্য (৩) সরকার থেকে সরকার।
- বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে ঘোষিত ভিশন-২০২১ এর প্রধান লক্ষ্যই হল সরকারি সেবা ও শাসনব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা।
- ই- গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে সাধারণ নাগরিক।
- এটি চার ধরনের কাজ করে যার কেন্দ্রে থাকে নাগরিক সেবা।
- একাজগুলো হচ্ছে ব্যক্তিকে অবগতকরণ, ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্বকরণ, ব্যক্তিকে পরামর্শ প্রদান এবং ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তকরণ।
- ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযোগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮১.
‘সুশাসন’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Good Government
  2. Good Governor
  3. Good Governmental
  4. Good Governance
সঠিক উত্তর:
Good Governance
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Good Governance
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- জাতিসংঘের সংস্থা UNDP সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে সুশাসন।
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮২.
নৈতিকতা ভঙ্গের শাস্তি কী?
  1. সামাজিক আইনে সাজা
  2. কোনো শাস্তি নেই
  3. রাষ্ট্রীয় আইনে সাজা
  4. আন্তর্জাতিক আইনে সাজা
সঠিক উত্তর:
কোনো শাস্তি নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো শাস্তি নেই
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো। এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৩.
চরিত্র গঠনে কোন গুণ অপরিহার্য?
  1. আত্মবিশ্বাস
  2. সাহসিকতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ, যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে এবং এতে মানসিক তৃপ্তি অনুভব করে।
- সত্যকে সত্য বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ দেওয়া নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
- অন্যদিকে, চরিত্র গঠন মানে হলো একজন মানুষের চিন্তা, মনোভাব ও আচরণকে নৈতিকভাবে বিকশিত করা।
- এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য গুণ হলো নৈতিক মূল্যবোধ।
- নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সমাজে শ্রদ্ধেয় এবং বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচিত হন।
- আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা বা সৃজনশীলতা একটি ব্যক্তির সফলতায় ভূমিকা রাখলেও, নৈতিক মূল্যবোধ ছাড়া সে সফলতা দীর্ঘস্থায়ী বা সমাজোপযোগী হয় না।
- চরিত্র গঠনের জন্য আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা বা সৃজনশীলতা সহায়ক হলেও নৈতিক মূল্যবোধই হল সেই মূল ভিত্তি, যার উপর একটি দৃঢ়, সৎ ও গঠনমূলক চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।
৮৪.
সুশাসনের জন্য স্বচ্ছতা প্রয়োজন কেন?
  1. ক) দুর্নীতি রোধ করে
  2. খ) আমলা নির্ভরতা কমায়
  3. গ) আইনের শাসন নিশ্চিত করে
  4. ঘ) ধনী গরিবের বৈষম্য কমে৷
সঠিক উত্তর:
ক) দুর্নীতি রোধ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুর্নীতি রোধ করে
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার স্পষ্ট ও নির্ভুল। শাসন ব্যবস্থার আইন-কানুন, নীতি-সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট,, পরিষ্কার হয়, যদি এর একাধিক অর্থ ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৫.
সুশাসন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কীভাবে?
  1. বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে
  2. বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে
  3. ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধি করে
  4. বিনিয়োগ পরিবেশ অস্থিতিশীল করে
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- সুশাসন বলতে বোঝায়- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, কার্যকর প্রশাসন, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের সমন্বিত রূপ।
- একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো যখন জনকল্যাণে দক্ষভাবে পরিচালিত হয়, তখন তাকে সুশাসনের উদাহরণ বলা হয়।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ অপরিহার্য।
- সুশাসনের ফলে দুর্নীতির পরিমাণ কমে, ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ পরিবেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
- সুশাসনের মাধ্যমে সরকার নীতি পরিবর্তনে স্থিরতা বজায় রাখে।
- সুশাসন অর্থবছরের বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দক্ষ ব্যয় নিশ্চিত করে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৮৬.
“সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের জন্য সর্বোচ্চ আনন্দ” – এই নীতিটি কার সাথে জড়িত?
  1. হিউম
  2. ক্যান্ট
  3. সক্রেটিস
  4. হাটচেসন
সঠিক উত্তর:
হাটচেসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাটচেসন
ব্যাখ্যা
• সর্বজনীন সুখবাদ: 
- সর্বজনীন সুখবাদ আত্মসুখবাদের মতো প্রাচীন দর্শন নয়।
- নিজের সুখের চেয়ে অন্যের সুখের কথা ভাবা—এই নৈতিক ধারণা সম্ভবত ধর্মীয় চিন্তারই এক রূপ, যা পরবর্তীকালে অষ্টাদশ শতকের কিছু ব্রিটিশ দার্শনিককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
- এ ধারার অগ্রগণ্য চিন্তাবিদদের মধ্যে বাটলার, শেফটেসব্যারী এবং বিশেষভাবে হাটচেসন অন্যতম।
- হাটচেসনের প্রতিপাদিত নীতি—"সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের জন্য সর্বোচ্চ আনন্দ"—পরবর্তীকালে সর্বজনীন সুখবাদের একটি কেন্দ্রীয় মতবাদে পরিণত হয়।

- এই নীতিকে ভিত্তি করে জেরেমি বেনথাম, জেমস মিল এবং তাঁর পুত্র জন স্টুয়ার্ট মিল সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উপযোগিতার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন।
- তাদের মধ্যে বিশেষভাবে বেনথাম ও জন স্টুয়ার্ট মিল এই দর্শনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- পরবর্তীকালে হেনরি সিজউইক এ ধারায় যুক্ত হয়ে তাদের চিন্তাকে আরও যুক্তিসংগত ও দার্শনিকভাবে বলিষ্ঠ রূপ দেন।

- এই দার্শনিকরা নিজেদের "উপযোগবাদী" (Utilitarian) হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন।
- তাদের বিশ্বাস ছিল, কোনো কাজ নৈতিক কিনা তা নির্ভর করে সেই কাজ কতখানি মানুষের মধ্যে আনন্দ বা উপকার ছড়িয়ে দিতে সক্ষম তার ওপর। 

উৎস: নীতিবিদ্যা, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭.
নিচের কোনটি আইনের শাসনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে?
  1. শক্তিশালী আমলাতন্ত্র
  2. স্বাধীন বিচার বিভাগ
  3. মুক্ত গণমাধ্যম
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন বিচার বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ একটি দেশের ন্যায়বিচারের মানদণ্ড। স্বাধীন বিচার বিভাগ আইনের শাসনের রক্ষকবচ হিসেবে কাজ করে। এটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা, আইনের শাসন বজায় রাখা, সংবিধানকে সমুন্নত রাখা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি)
৮৮.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. বিশ্বস্ততা
  2. সৃজনশীলতা
  3. নিরপেক্ষতা
  4. জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

সুশাসন:
- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।
- এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।
- আর্থ-রাজনৈতিক অগ্রগতিকে প্রাধান্য দেয়।
- বাংলাদেশে পুঁজিবাদের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটেনি।
- দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হরতাল-অবরোধ রাজনীতির নিত্য সঙ্গী।
- আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতির হার অত্যন্ত উচ্চ।
- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নয়ন হলেও বাংলাদেশে সুশাসনের মাত্রা সন্তোষজনক নয়।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

⇒ সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল-
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং,
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

⊕ সুশাসনের প্রধান উপদান -
১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,
২. অংশগ্রহণ,
৩. আইনের শাসন,
8. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা,
৫. জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা ও বিকেন্দ্রীকরণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৯.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে-
  1. স্বাধীনতার মূল্যবোধকে
  2. সামাজিক মূল্যবোধকে
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধকে
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধকে
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধকে
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে সামাজিক মূল্যবোধকে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

⇒ ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০.
নিচের কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব?
  1. ক) রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
  2. খ) শিল্প কারখানায় অধিক শ্রমিক নিয়োগ দেয়া
  3. গ) দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা
  4. ঘ) রাজনৈতিক সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া
সঠিক উত্তর:
ক) রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের বিবিধ সুযোগ সুবিধা এবং অধিকার দিয়ে থাকে তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকদের কতগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- নাগরিকদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।
- রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখানো নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব।
- তাই নাগরিক হিসেবে রাস্তায় চলাকালে ট্রাফিক আইন অনুসরণ করা প্রত্যেক ব্যক্তির একান্ত কর্তব্য।
৯১.
প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে সুশাসন সম্পর্কে কী বলেছেন?
  1. “শাসনপ্রক্রিয়া আইন নির্ভর হওয়া উচিত।”
  2. “শাসকের নৈতিকতা আইন দ্বারা নির্ধারিত।”
  3. “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।”
  4. “শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন শক্তিশালী।”
সঠিক উত্তর:
“শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।”
উত্তর
সঠিক উত্তর:
“শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।”
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে সুশাসন সম্পর্কে “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।” এই উক্তিটি বলেছেন।

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় 'The Republic' গ্রন্থে।
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বইটি Plato’s Republic নামে পরিচিত।
- তার লেখা অন্যান্য বই:
- Symposium
- Apologia Sokrates
- Allegory of the Cave
- The Laws (348 BCE)
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।  

উল্লেখ্য,
- কোন রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সহজেই নাগরিকগণ তা অনুধাবন করতে পারে।
- অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, ঐকমত্য, কর্তব্য ও ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতার মত বৈশিষ্ট্যগুলো তখন খুব সহজেই অনুমেয় হয়।
- সুশাসন এমন একটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যা সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং আইন অনুসরণ করে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
৯২.
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স ____________ স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৩.
“Politics have no relation to morals.” - কার উক্তি?
  1. ক) Niccolo Machiavelli
  2. খ) Aristotle
  3. গ) Thomas Hobbs
  4. ঘ) Edmund Burke
সঠিক উত্তর:
ক) Niccolo Machiavelli
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Niccolo Machiavelli
ব্যাখ্যা

উল্লেখিত উক্তিটি Modern Political Philosophy - এর জনক Niccolo Machiavelli কর্তৃক প্রদত্ত।
ম্যাকিয়াভ্যালি ইতালির নাগরিক।
তার লেখা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই -
- The Prince,
- The Discourses,
- The Art of War,
- Selected Political Writings,
- On Conspiracies ইত্যাদি।

৯৪.
“প্রিন্সিপিয়া এথিকা” পুস্তকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আর. এম. হেয়ার
  2. খ) মেরী ওয়ারনক
  3. গ) এ. জে. এয়ার
  4. ঘ) জি. ই. ম্যুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জি. ই. ম্যুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জি. ই. ম্যুর
ব্যাখ্যা
• ব্রিটিশ দার্শনিক জি. ই. ম্যূরকে পরানীতিবিদ্যা প্রবর্তক বলা হয়।
- বিগত শতাব্দীর গোড়ার দিকে ১৯০৩ সালে ‘প্রিনসিপিয়া এথিকা' শীর্ষক পুস্তকে তিনি এই ধরনের আলোচনার সূত্রপাত করেন।

• জি. ই. ম্যূর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগ হচ্ছে নৈতিকতা।'
- পরানীতিবিদ্যা মূলত যেসব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে তা হচ্ছে: যথোচিত (Right), শুভ (Good), এসব শব্দের অর্থ কি? নৈতিক অবধারণগুলোর বৈধতা কিভাবে নিরূপিত হবে? এগুলোর কি আদৌ কোন বৈধতা আছে? ইত্যাদি।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫.
দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা কোন বিভাগের কাজ?
  1. ক) বিচার বিভাগ
  2. খ) সুশীল সমাজ
  3. গ) আইন বিভাগ
  4. ঘ) শাসন বিভাগ 
সঠিক উত্তর:
ক) বিচার বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
একটি  রাষ্ট্রকে সামগ্রিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকারের ৩টি বিভাগ থাকে। যথাঃ 
১. আইন বিভাগ, 
২. শাসন বিভাগ ও 
৩. বিচার বিভাগ।

- সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ হচ্ছে প্রশাসন পরিচালনা করা,  আইন প্রণয়ন করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। 
- এগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগের অন্যতম কাজ হচ্ছে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬.
Legitimacy হলো -
  1. ক) আইনের শাসন
  2. খ) বৈধতা
  3. গ) স্বচ্ছতা
  4. ঘ) জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
খ) বৈধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৈধতা
ব্যাখ্যা
- Legitimacy হলো বৈধতা।

অন্যদিকে -
- Transparency হলো স্বচ্ছতা।
- Rule of Law হলো আইনের শাসন।
- Accountability হলো জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৭.
আইন ও নৈতিকতার আলোচ্য বিষয় কী?
  1. রাষ্ট্র
  2. অর্থনীতি
  3. মানুষের আচরণ
  4. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতা:
- আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয়ের আলোচ্য বিষয় মানুষের আচরণ।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিকতা মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধন করাই উভয়ের লক্ষ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৮.
কোন শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতি, প্রথা ও আদর্শের বিকাশ ঘটে?
  1. প্রযুক্তি শিক্ষা
  2. বিজ্ঞান শিক্ষা
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. সুশাসন শিক্ষা 
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৯.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান কয়টি?
  1. ৯টি
  2. ৮টি
  3. ৬টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে। বিশ্ব ব্যাংক ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি। যথা-
১. বাক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা,
২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি,
৩. সরকারের কার্যকারিতা,
৪. নিয়ন্ত্রণ গুণ,
৫. আইনের শাসন,
৬. দুর্নীতি দমন।

১০০.
"গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা” - কথাটি কে বলেছেন?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. আব্রাহাম লিঙ্কন
  3. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  4. জর্জ ওয়াশিংটন 
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিঙ্কন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিঙ্কন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র: 
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা'।
- গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের (Abraham Lincoln) সংজ্ঞা খুবই জনপ্রিয়।
- তার মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।