ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:
- বর্তমানে বাংলাদেশে ৬টি ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ রয়েছে।
- এগুলো হলো: বাউলগান (২০০৮), জামদানি বুননশিল্প (২০১৩), মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬) ও শীতলপাটি বুননশিল্পের (২০১৭), ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ (২০২৩) ও টাঙ্গাইল শাড়ি বয়ন শিল্প (২০২৫)।
⇒ বাউল সংগীত:
- বাউল সংগীত হলো আধ্যাত্ববাদের চেতনাপুষ্ট লোক সংগীতের এক বিশেষ ধারা যা হিন্দু শাস্ত্রের ভক্তিবাদ ও একই সাথে সুফি সংগীত দ্বারা প্রভাবিত।
- ২০০৮ সালে ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র তৃতীয় অধিবেশনে বাংলাদেশের বাউল সংগীতকে Intangible Cultural Heritage of Humanity হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
⇒ ঐতিহ্যবাহী জামদানী বুনন:
- জামদানি হস্তচালিত তাঁতে সুতায় বোনা এক বিশেষ নকশার কাপড় যা অতীতে মসলিন নামে প্রচলিত ছিল। এটি বাংলাদেশের বুননশিল্পের সর্বাপেক্ষা শৈল্পিক নিদর্শন যা অন্যতম সময় সাপেক্ষ ও শ্রমঘন কুটির শিল্প।
- বংলাদেশের সাংস্কৃতিতে জামদানির অপরিসীম ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনেস্কো ২০১৩ সালে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র অষ্টম অধিবেশনে ঐতিহ্যবাহী জামদানি বুনন্ শিল্পকে Intangible Cultural Heritage of Humanity হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
⇒ পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভযাত্রা:
- প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনে মঙ্গলের আহ্বান আর শুচিতার কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয় যা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে পরিচিত।
- বাঙালি ঐতিহ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার অপরিসীম প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো ২০১৬ সালে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র এগারোতম অধিবেশনে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাজাত্রা-কে Intangible Cultural Heritage of Humanity হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
⇒ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বুনন:
- শীতল পাটি হলো ঐতিহ্যবাহী হাতে তৈরি মাদুর যা মুরতা নামের এক বিশেষ ধরণের বেত গাছের চিকন ফালি দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। সাধারণত আসন, বিছানার আবরণ বা নামাজের পাটি হিসেবে বাংলাদেশ সকল জায়গায় শীতল পাটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র আকারে ছড়িয়ে চিটিয়ে থাকলেও এই শিল্পের সাথে জড়িত বৃহৎ জনগোষ্ঠী মূলতঃ বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট জেলার নিন্মাঞ্চলে বসবাস করে।
- বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের শীতলপাটি বুনন শিল্পের ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনেস্কোর ২০১৭ সালে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র বারোতম অধিবেশনে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বুননশিল্পকে Intangible Cultural Heritage হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
⇒ ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’:
- জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’।
- বাংলাদেশের ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ শিল্পের ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনেস্কোর ২০২৩ সালে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র ১৮তম অধিবেশনে ঢাকা শহরের রিকশা ও রিকশাচিত্রকে Intangible Cultural Heritage হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
⇒ টাঙ্গাইল শাড়ি বয়ন শিল্প:
- দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির নন্দনচর্চা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বুননে বিশেষ স্থান দখল করে থাকা টাঙ্গাইলের শাড়ি তার সূক্ষ্ম, দীপ্তিময় নকশা ও অপূর্ব কারুকাজের জন্য বিশ্বে পরিচিত।
- ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ভারতের নয়াদিল্লির লালকেল্লায় এক অধিবেশনে ইউনেসকোর রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটিতে (আইসিএইচ) আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
উৎস: i) বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন।
ii) প্রথম আলো।