• 'আঁধার ঘরের মানিক' বাগ্ধারার অর্থ - অত্যন্ত প্রিয়জন।
অন্যদিকে, - ‘আকাশ কুসুম’ বাগ্ধারার অর্থ - অবাস্তব কল্পনা। - ‘অরণ্যে রোদন’ বাগ্ধারার অর্থ - নিষ্ফল আবেদন৷ - 'অদৃষ্টের পরিহাস' বাগ্ধাার অর্থ - ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৬০২.
'দুস্তর' বলতে কী বোঝায়?
ক
যা পার হওয়া কষ্টসাধ্য
খ
যা দমন করা যায় না
গ
যা দমন করা কষ্টকর
ঘ
কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক
যা পার হওয়া কষ্টসাধ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
যা পার হওয়া কষ্টসাধ্য
ক
ব্যাখ্যা
• 'যা পার হওয়া কষ্টসাধ্য' এর এক কথায় প্রকাশ - দুস্তর।
অন্যদিকে, যা দমন করা যায় না - অদম্য। যা দমন করা কষ্টকর - দুর্দমনীয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৬০৩.
'ঙ'-এর ক্ষেত্রে কোন উচ্চারণটি শুদ্ধ?
ক
উয়ঁ
খ
উঁয়ো
গ
উঁঅ
ঘ
উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর: ঘ
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
উপরের সবগুলোই
ঘ
ব্যাখ্যা
• ঙ [উয়োঁ, উঁয়]: - পঞ্চম ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ক-বর্গের পঞ্চম বর্ণ। - ‘উয়ঁ’, ‘উঁয়ো’ বা ‘উমা’; উঁঅ রূপে উচ্চারিত হয়। - এর উচ্চারণ স্থান নাসিকা। - এটি ঘোষ পশ্চাত্তালুজাত নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনি। - এর উচ্চারণ হুবহু অনুস্বারের মতো।
উৎস: অভিগম্য অভিধান; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৬০৪.
'খপোত' শব্দের অর্থ কী?
ক
ক) খেয়া
খ
খ) বিমান
গ
গ) পতাকা
ঘ
ঘ) পায়রা
সঠিক উত্তর: খ
খ) বিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) বিমান
খ
ব্যাখ্যা
খপোত = (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ অর্থ: আকাশে বায়ুর উপর ভর করে চলে এমন সম-আয়তনের বাতাসের চেয়ে ভারী যন্ত্রচালিত যাত্রী বা পণ্যবাহী পোত, বিমান, উরোজাহাজ, আকাশযান।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯,৬০৫.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ নয়?
ক
ক) তিন
খ
খ) ডুবুরি
গ
গ) পরিচালক
ঘ
ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক
ক) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) তিন
ক
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা: - মৌলিক শব্দ ও - সাধিত শব্দ।
• মৌলিক শব্দ: যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।
• সাধিত শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি। শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৬০৬.
'যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।' কোন ধরনের বাক্য?
ক
জটিল বাক্য
খ
যৌগিক বাক্য
গ
সরল বাক্য
ঘ
বিস্ময়বোধক বাক্য
সঠিক উত্তর: ক
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
জটিল বাক্য
ক
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়। যেমন: - যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। যেমন: - যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য। - যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো। - যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। - যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন। - যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে। - যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৬০৭.
'দেশপলাতক' কোন সমাসের উদাহরণ?
ক
দ্বন্দ্ব সমাস
খ
কর্মধারয় সমাস
গ
তৎপুরুষ সমাস
ঘ
বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর: গ
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
তৎপুরুষ সমাস
গ
ব্যাখ্যা
• দেশপলাতক = দেশ থেকে পলাতক।
• তৎপুরুষ সমাস: - সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। - এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷
• ছাড়া অর্থে ‘অনা’ খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনাচার।
অন্যদিকে, • বিপরীত অর্থে ‘অপ’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অপচয়। • পশ্চাৎ অর্থে ‘অপ’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনুতাপ। • সাম্যকভাব অর্থে ‘অব’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অবগত।
----------------------- • উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ, ২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং ৩. বিদেশি উপসর্গ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। যেমন: - আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। - ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। - উর্দু উপসর্গ: হর। - ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯,৬০৯.
নিচের কোনটি ভাষার চলিত রূপ?
ক
ক) আসিয়াছেন
খ
খ) পারতাম
গ
গ) উহা
ঘ
ঘ) ইহা
সঠিক উত্তর: খ
খ) পারতাম
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) পারতাম
খ
ব্যাখ্যা
- 'পারিতাম' এর চলিত রূপ: 'পারতাম'।
অন্য অপশনে, - 'ইহা' এর চলিত রূপ: 'এ/এটা/এটি'। - 'উহা' এর চলিত রূপ: 'ও/ওটা/ওট'। - 'আসিয়াছেন'- এর চলিত রূপ: 'এসেছেন'।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯,৬১০.
বাক্যের অপরিবর্তনীয় পদ কোনটি?
ক
বিশেষ্য
খ
সর্বনাম পদ
গ
অব্যয় পদ
ঘ
ক্রিয়াপদ
সঠিক উত্তর: গ
অব্যয় পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অব্যয় পদ
গ
ব্যাখ্যা
• অব্যয় পদ: যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।
অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।
• অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম - দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬১১.
'ঈষৎ কম্পিত' এর এক শব্দে প্রকাশ কোনটি?
ক
স্পন্দিত
খ
আধুত
গ
কম্পিত
ঘ
কম্পন
সঠিক উত্তর: খ
আধুত
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
আধুত
খ
ব্যাখ্যা
• "ইষৎ কম্পিত" এর এক কথায় প্রকাশ — 'আধুত'।
অনুরূপ কিছু এক কথায় প্রকাশ: • "ইষৎ রক্তবর্ণ" — 'আরক্ত'। • 'ইষৎ উষ্ণ' - 'কবোষ্ণ'। • ঈষৎ নীলবর্ণ - নীলাভ
উৎস: - বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬১৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
ক
নুপুর
খ
পূর্বাহ্ন
গ
মীমাংসা
ঘ
স্তুপ
সঠিক উত্তর: গ
মীমাংসা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
মীমাংসা
গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'মীমাংসা' - শুদ্ধ বানান।
অন্যদিকে, • 'পূর্বাহ্ন' এর শুদ্ধ বানান - পূর্বাহ্ণ। • 'নুপুর' এর শুদ্ধ বানান - নূপুর। • 'স্তুপ' এর শুদ্ধ বানান - স্তূপ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৬১৪.
'মৌলিক ধাতু'র অপর নাম হিসেবে পরিচিত?
ক
সাধিত ধাতু
খ
নাম ধাতু
গ
স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু
ঘ
যৌগিক ধাতু
সঠিক উত্তর: গ
স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু
গ
ব্যাখ্যা
মৌলিক ধাতু: - যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলো সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়। যেমন: - চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা - ক) বাংলা ধাতু, খ) সংস্কৃত ধাতু ও গ) বিদেশি ধাতু।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬১৫.
‘পাখি’ কোন শ্রেণির শব্দ?
ক
যৌগিক
খ
মৌলিক
গ
রূঢ়ি
ঘ
যোগরূঢ়ি
সঠিক উত্তর: খ
মৌলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
মৌলিক
খ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ: যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন: পা, গােলাপ, নাক, পাখি, ফুল, লাল, ভাত, পথ, চল, গাছ, হাত ইত্যাদি।
• সাধিত শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন: পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
• শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমম: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৬১৬.
নিচের কোন বিপরীত শব্দজোড়া শুদ্ধ নয়?
ক
ক) ঊর্ধ্ব - অধঃ
খ
খ) উত্তর - দক্ষিণ
গ
গ) উত্থান - পতন
ঘ
ঘ) উত্তম - মধ্যম
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) উত্তম - মধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) উত্তম - মধ্যম
ঘ
ব্যাখ্যা
- অশুদ্ধ বিপরীত শব্দজোড়া হলো উত্তম - মধ্যম। - এর শুদ্ধরূপঃ উত্তম - অধম।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৬১৭.
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী 'ওষ্ঠ' ব্যঞ্জনধ্বনি কোন গুলো?
ক
ক) ত থ দ ধ
খ
খ) প ফ ব ভ ম
গ
গ) ট ঠ ড ঢ
ঘ
ঘ) ক খ গ ঘ
সঠিক উত্তর: খ
খ) প ফ ব ভ ম
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) প ফ ব ভ ম
খ
ব্যাখ্যা
নিম্নে উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাজন দেখানো হলোঃ
কোন দ্বিরুক্ত শব্দজুটি আধিক্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক
নরম নরম হাত
খ
পাকা পাকা আম
গ
উড়ু উড়ু মন
ঘ
শীত শীত লাগে
সঠিক উত্তর: খ
পাকা পাকা আম
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
পাকা পাকা আম
খ
ব্যাখ্যা
• আধিক্য অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ ‘পাকা পাকা’ আম।
• দ্বিরুক্ত শব্দ: দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়। যেমন - 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে।' অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।
বিভিন্ন অর্থে শব্দদ্বিত বা অনুকার শব্দের প্রয়োগ: • আধিক্য অর্থে: পাকা পাকা আম, লাল লাল গোলাপ, বস্তা বস্তা সার, রাশি রাশি ধান। • সামান্য অর্থে: কবি কবি ভাব, শীত শীত লাগে, কাদা কাদা মাঠ। • তীব্রতা অর্থে: হিম হিম ঠান্ডা, গরম গরম দুধ, নরম নরম বালিশ। • বহুত্ব অর্থে: কে কে যাবে। • গভীরতা অর্থে: উড়ু উড়ু মন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯); প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯,৬২০.
ক্ষুদ্র অর্থে ‘উপ’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে কোনটিতে?
ক
ক) উপশহর
খ
খ) উপকূল
গ
গ) উপগ্রহ
ঘ
ঘ) উপবন
সঠিক উত্তর: গ
গ) উপগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) উপগ্রহ
গ
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র অর্থে ‘উপ’ উপসর্গ ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হলো: উপগ্রহ, উপনেতা, উপদল, উপসাগর ইত্যাদি। অন্যদিকে উপশহর ও উপবন শব্দে সদৃশ অর্থে ‘উপ’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে। সমীপ্যে অর্থে ‘উপ’ উপসর্গ ব্যবহার হলো উপকূল, উপকণ্ঠ ইত্যাদি। (সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ)
৯,৬২১.
'চাল' ও 'চালনি' -
ক
প্রথমটি তৎসম, দ্বিতীয়টি দেশি শব্দ
খ
প্রথমটি দেশি, দ্বিতীয়টি তৎসম শব্দ
গ
দুটোই তৎসম শব্দ
ঘ
দুটোই দেশি শব্দ
সঠিক উত্তর: গ
দুটোই তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
দুটোই তৎসম শব্দ
গ
ব্যাখ্যা
• 'চাল' ও 'চালনি' - দুটোই তৎসম শব্দ।
• বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার: - উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা: ১. তৎসম, ২. তদ্ভব, ৩. দেশি ও ৪. বিদেশি। - এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
• তৎসম শব্দ: - প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ, চন্দ্র, চাল, চালনি, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি। - সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৬২২.
"মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।" - বাক্যটি জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন -
ক
মাংসভোজী পশু সবসময়ই বলবান হয়ে থাকে।
খ
যেহেতু পশু মাংস খায় এবং সে বলবান।
গ
পশুরা মাংসভোজী এবং তারা অত্যন্ত শক্তিশালী হয়।
ঘ
যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।
সঠিক উত্তর: ঘ
যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।
ঘ
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর: - যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন: সরল বাক্য: মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান। জটিল বাক্য: যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।
সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী। জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৬২৩.
'অচল' শব্দটির সমার্থক শব্দ কোনটি?
ক
সচল
খ
বন্ধ
গ
মেদিনী
ঘ
শৈল
সঠিক উত্তর: ঘ
শৈল
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
শৈল
ঘ
ব্যাখ্যা
পর্বত শব্দটির সমার্থক শব্দ হলো অচল, অদ্রি, গিরি, পাহাড়, ভূধর, শৈল ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৯,৬২৪.
‘Intrusion’ এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
ক
আগন্তুক
খ
অনুপ্রবেশ
গ
অন্তর্দর্শন
ঘ
অভিষেক
সঠিক উত্তর: খ
অনুপ্রবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
অনুপ্রবেশ
খ
ব্যাখ্যা
• ‘Intrusion’ এর বাংলা পরিভাষা: অনুপ্রবেশ।
অন্যদিকে, • ‘Incoming’ এর বাংলা পরিভাষা - আগন্তুক। • ‘Introspection’ এর বাংলা পরিভাষা - অন্তর্দর্শন। • ‘Investiture’ এর বাংলা পরিভাষা - অভিষেক।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৯,৬২৫.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
ক
মূর্চ্ছা
খ
কার্য
গ
কার্তিক
ঘ
ঊর্ধ্ব
সঠিক উত্তর: ক
মূর্চ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
মূর্চ্ছা
ক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, • 'মূর্চ্ছা' বানানটি ভুল। • শুদ্ধ বানান: মূর্ছা
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন: অর্জন, উর্দ্ধ, কর্ম, কার্তিক, কার্য্য, বার্দ্ধক্য, মূর্ছা, সূর্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, কার্তিক, কার্য, বার্ধক্য, মূর্ছা, সূর্য ইত্যাদি হবে।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
৯,৬২৬.
'Archetype' শব্দের অর্থ কি?
ক
ক) আদিরূপ
খ
খ) স্থপতি
গ
গ) স্থাপত্যকলা
ঘ
ঘ) ধাতব বর্ণ
সঠিক উত্তর: ক
ক) আদিরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) আদিরূপ
ক
ব্যাখ্যা
Archetype- আদিরূপ, Amplitude – বিস্তার, Amplification – পরিবর্ধন, Abstract – বিমূর্ত। উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং শীকর বাংলা প্রশ্ন পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৬২৭.
‘উপনয়’ শব্দের অর্থ কী?
ক
আগমন
খ
উপহার
গ
জলযোগ
ঘ
পুরস্কার
সঠিক উত্তর: ক
আগমন
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
আগমন
ক
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়: বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে। - অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬২৮.
নিচের কোনটি সমার্থক শব্দ নয়?
ক
গোলাগুলি
খ
লেনদেন
গ
সাজসজ্জা
ঘ
ছাইভস্ম
সঠিক উত্তর: খ
লেনদেন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
লেনদেন
খ
ব্যাখ্যা
সমার্থক শব্দ বলতে বোঝায়—একটি শব্দের সাথে অর্থে মিল রয়েছে এমন শব্দের যুগল।
অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
ক) গোলাগুলি: ‘গুলিবিনিময়’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি দুটি সমার্থক শব্দের মিলিত রূপ (গোলা + গুলি)।
খ) লেনদেন: ('লেন' = গ্রহণ এবং 'দেন' = প্রদান - উভয়ই লেনদেন/আদান-প্রদান অর্থে)। দুটি শব্দের অর্থ বিপরীত। তাই এটি সমার্থক শব্দ নয়।
গ) সাজসজ্জা: ‘সাজ’ ও ‘সজ্জা’ দুটিই অলংকরণ বা সৌন্দর্যবর্ধক অর্থে ব্যবহৃত সমার্থক শব্দ।
ঘ) ছাইভস্ম: 'ছাই' এবং 'ভস্ম' উভয়ই পোড়া ছাই অর্থ বোঝায়।
তাই সঠিক উত্তর: খ) লেনদেন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৬২৯.
"শুনিয়া > শুনে" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
ক
ব্যঞ্জন বিকৃতি
খ
অভিশ্রুতি
গ
বিপ্রকর্ষ
ঘ
ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর: খ
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
অভিশ্রুতি
খ
ব্যাখ্যা
• অভিশ্রুতি: বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। যেমন: - শুনিয়া > শুনে, - বলিয়া > বলে, - হাটুয়া > হাউটা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• নিত্য সমাস: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়। যেমন: - অন্য কাল = কালান্তর; - অন্য গৃহ = গৃহান্তর; - অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর; - ঈষৎ ঘোলা = ঘোলাটে; - কেবল চড়া = চড়ামাত্র; - এক জন = জনৈক; - কেবল তা = তন্মাত্র; - কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র; - সারা দিন = দিনভর; - অন্য দেশারা = দেশান্তর; - অন্য দ্বীপ = দ্বীপান্তর; - অন্য ভাষা = ভাষান্তর।
- সমস্তপদের শেষে 'অন্তর' থাকলে ব্যাসবাক্যে 'অন্য' হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ। - সমস্তপদের শেষে 'মাত্র/খানা' থাকলে ব্যাসবাক্যে 'কেবল' হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৯,৬৩৪.
উচ্চারণের সময় মুখ বিবর উন্মুক্ত থাকে বলে আ-কে কী ধ্বনি বলে?
ক
ক) সম্মুখ স্বরধ্বনি
খ
খ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
গ
গ) উচ্চসম্মুখ স্বরধ্বনি
ঘ
ঘ) বিবৃত স্বরধ্বনি
ঙ
ঙ) সংবৃত স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বিবৃত স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বিবৃত স্বরধ্বনি
ঘ
ব্যাখ্যা
আ- ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সাধারণত শায়িত অবস্থায় থাকে এবং কণ্ঠের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং মুখের সম্মুখ ও পশ্চাৎ অংশের মাঝামাঝি বা কেন্দ্রস্থানীয় অংশে অবস্থিত বলে আ-কে কেন্দ্রীয় নিম্নাবস্থিত স্বরধ্বনি এবং বিবৃত স্বরধ্বনিও বলা হয়। বাংলায় আ- ধ্বনির উচ্চারণ অনেকটা ইংরেজি শব্দ ‘a’ এর মত।
৯,৬৩৫.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য বসে?
ক
ক) প্রয়াণ
খ
খ) প্রমাণ
গ
গ) বণ্টন
ঘ
ঘ) অণু
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) অণু
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) অণু
ঘ
ব্যাখ্যা
অণু শব্দে স্বভাবতই 'ণ' বসে।
- এমন কতকগুলো শব্দ আছে, যেগুলোকে ফেলা যায় না, সেগুলো হল স্বতঃসিদ্ধ, মনে রাখবার জন্য টাই এ জাতীয় শব্দগুলোকে মুখস্থ করে বা, লিখে লিখে অভ্যাস করে আয়ত্তে আনতে হয়। যেমন- অণু, কল্যাণ ইত্যাদি। - ণ-ত্ব বিধান : তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।
- ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- ১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি। ২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি। ৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি। ৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি। ৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি।
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৯,৬৩৬.
‘তুমিই ঢাকা যাবে।’- বাক্যটিকে ভাববাচ্যে পরিণত করলে কোনটি হবে?
ক
তোমার ঢাকা যাওয়া হবে।
খ
তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
গ
তোমার ঢাকা যেতে হবে।
ঘ
তোমাকেই ঢাকা যাওয়া লাগবে।
সঠিক উত্তর: খ
তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
খ
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়। যেমন- • কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না। • ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।
• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে। • ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
• কর্তৃবাচ্য: তুমি এখন এলে? • ভাববাচ্য: তোমার এখন আসা হলো?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬৩৭.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ নয় কোনটি?
ক
বালতি
খ
বারান্দা
গ
বোতল
ঘ
বোতাম
সঠিক উত্তর: খ
বারান্দা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
বারান্দা
খ
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ নয়- বারান্দা। - 'বারান্দা' ফারসি ভাষার শব্দ।
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো: আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তুরুপ, তোয়ালে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৬৩৮.
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিরুত্ব শব্দের উদাহরণ কোনটি?
ক
ভালো ভালো
খ
কত কত
গ
ঘুম ঘুম
ঘ
চোখে চোখে
সঠিক উত্তর: ঘ
চোখে চোখে
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
চোখে চোখে
ঘ
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: - পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। - পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। - যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: - কথায় কথায় (বাড়া), - মজার মজার (কথা), - ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), - চোখে চোখে (রাখা), - মনে মনে (হাসা), - সুরে সুরে (বলা), - পথে পথে (হাঁটা)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৬৩৯.
'পরিভাষা' শব্দের অর্থ কী?
ক
ব্যঞ্জনাত্মক
খ
রক্ষণাত্মক
গ
বিশিষ্টার্থবোধক শব্দ
ঘ
সম্মানার্থক
সঠিক উত্তর: গ
বিশিষ্টার্থবোধক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
বিশিষ্টার্থবোধক শব্দ
গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, পরিভাষা শব্দের অর্থ: - বিশিষ্টার্থবোধক শব্দ; - বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত শব্দ বা পদ; - সংজ্ঞাবিশেষ। ----------------- কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ: 'Ethics এর বাংলা পরিভাষা- 'নীতিবিদ্যা'। Good manners এর বাংলা পরিভাষা- 'সদাচার'। Constitution শব্দের বাংলা পারিভাষা - সংবিধান। Constituency শব্দের বাংলা পারিভাষা - নির্বাচনী এলাকা/ নির্বাচকমণ্ডলী। Manifesto শব্দের বাংলা পারিভাষা - ইশতেহার। Manuscript শব্দের বাংলা পারিভাষা - পাণ্ডুলিপি। ‘Edition’ শব্দের বাংলা পারিভাষা - সংস্করণ। ‘Memorandum’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - স্মারকলিপি। Gazette শব্দের বাংলা পারিভাষা - ঘোষণাপত্র। Invoice শব্দের বাংলা পারিভাষা - চালান, প্রেরিতক-সূচি। Armour- এর বাংলা পরিভাষা - বর্ম। Constipation- শব্দের বাংলা পরিভাষা- কোষ্ঠকাঠিন্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা, Accessible Dictionary.বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
৯,৬৪০.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
ক
উপর্যুক্ত
খ
সর্বাঙ্গীণ
গ
স্বত্ত্ব
ঘ
চূর্ণবিচূর্ণ
সঠিক উত্তর: গ
স্বত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
স্বত্ত্ব
গ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - স্বত্ত্ব। - এর শুদ্ধ বানান - স্বত্ব। - এটি একটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ: - বিষয়সম্পত্তি ব্যবসায় প্রভৃতিতে অধিকার বা মালিকানা (গ্রন্থস্বত্ব)।
• ণত্ব বিধান: - বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। - তাই বাংলা, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না৷। - কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মুর্ধ্ন্য- ণ এবং দন্ত্য- ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলা অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। - তৎসম শব্দের বানানে ‘ণ’ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম: ১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি। ২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি। ৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি। ৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। ৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ। ৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।
যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়: - আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি। - সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬৪৩.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল এর উদাহরণ কোনটি?
ক
আমরা ঢাকা যাব।
খ
আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
গ
ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
ঘ
তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
সঠিক উত্তর: ক
আমরা ঢাকা যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
আমরা ঢাকা যাব।
ক
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: - সাধারণ ভবিষ্যৎ - ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং - অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।
সাধারণ ভবিষ্যৎ: ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন: - আমরা ঢাকা যাব। - দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
ঘটমান ভবিষ্যৎ: যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন: - আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব। - এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ: যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন: - তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো। - ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৬৪৪.
উচ্চারণ স্থানের নামানুসারে, ট- বর্গের বর্ণগুলো কী নামে পরিচিত?
ক
কণ্ঠ বর্ণ
খ
মূর্ধন্য বর্ণ
গ
তালব্য বর্ণ
ঘ
দন্ত্য বর্ণ
সঠিক উত্তর: খ
মূর্ধন্য বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
মূর্ধন্য বর্ণ
খ
ব্যাখ্যা
বর্গীয় ধ্বনি: - ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণস্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছ বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে। - প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় বর্গীয় ধ্বনি। - বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়। যেমন-
বাস্তব হলো বিশেষণ পদ যার বিশেষ্য রূপ হলো বস্তু। অন্যদিকে মোহ, বিষাদ এবং লাজ হলো বিশেষ্য পদ যাদের বিশেষণ হলো যথাক্রমে মুগ্ধ/মূঢ়, বিষণ্ন এবং লাজুক। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৯,৬৪৯.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
ক
ত্র্যহস্পর্শ
খ
তীক্ষ্ণতা
গ
কনিনীকা
ঘ
মুহূর্ত
সঠিক উত্তর: গ
কনিনীকা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
কনিনীকা
গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, - কনিনীকা বানানটি অশুদ্ধ। - 'কনিনীকা' এর সঠিক বানান: 'কনীনিকা'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৬৫২.
'কিশমিশ' শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
ক
ক) আরবি
খ
খ) ফারসি
গ
গ) ফরাসি
ঘ
ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর: খ
খ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) ফারসি
খ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, কিশমিশ (বিশেষ্য) - ফারসি শব্দ। অর্থ: - বীজশূণ্য ছোটো শুকনো আঙ্গুর।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৬৫৩.
“বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়”। বাক্যে ‘বাঘে-মহিষে’ কোন কর্তা?
ক
ক) মুখ্যকর্তা
খ
খ) প্রযোজক কর্তা
গ
গ) ব্যতিহার কর্তা
ঘ
ঘ) ভাববাচ্যের কর্তা
সঠিক উত্তর: গ
গ) ব্যতিহার কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) ব্যতিহার কর্তা
গ
ব্যাখ্যা
ব্যতিহার কর্তা : কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে। যেমন: রাজায়-রাজায় লড়াই, বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়। মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে সে মুখ্য কর্তা। যেমন: ছেলেরা ফুটবল খেলছে। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৯,৬৫৪.
'ক্ষিতীশ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
ক
ক্ষিতী + ঈশ
খ
ক্ষিতি + ঈশ
গ
ক্ষিত + ঈশ
ঘ
ক্ষিতী + ইশ
সঠিক উত্তর: খ
ক্ষিতি + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ক্ষিতি + ঈশ
খ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম: প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
• সূত্র: ই + ই = ঈ: - অতি + ইত = অতীত, - অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট, - প্রতি + ইতি = প্রতীতি, - অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।
ঘটমান অতীত: যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে। যেমন - - আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
অন্যদিকে সাধারণ অতীত: অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে। যেমন - - তারা সেখানে বেড়াতে গেল। পুরাঘটিত অতীত: অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। যেমন - - বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।
নিত্য অতীত: অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়। যেমন - - খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৬৫৬.
'ঘটনাটা শুনে রাখ'- এখানে 'শুনে রাখ' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
ক
ক) প্রযোজক ক্রিয়া
খ
খ) মিশ্র ক্রিয়া
গ
গ) যৌগিক ক্রিয়া
ঘ
ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: গ
গ) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) যৌগিক ক্রিয়া
গ
ব্যাখ্যা
'ঘটনাটা শুনে রাখ'- এখানে 'শুনে রাখ'- যৌগিক ক্রিয়া উদাহরণ।
যৌগিক ক্রিয়া: একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন: তাগিদ দেয়া অর্থে- ঘটনাটা শুনে রাখ, কার্যসমাপ্তি অর্থে- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে। যেমন: 'মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন'- বাক্যটিতে 'করাচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা। মিশ্র ক্রিয়া: - বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে। যেমন– বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৯,৬৫৭.
এক কথায় প্রকাশ করুন: 'কর দান করে যে' -
ক
করদ
খ
প্রজা
গ
অধীন
ঘ
আশ্রিত
সঠিক উত্তর: ক
করদ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
করদ
ক
ব্যাখ্যা
• 'কর দান করে যে' এর এক কথায় প্রকাশ - করদ।
• গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ: - 'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- ঈপ্সা, - 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- জিগীষা, - 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বুভুক্ষা, - 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- লিপ্সা, - 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- দিদৃক্ষা, - 'মুক্তি লাভে/পেতে ইচ্ছুক এর এক কথায় প্রকাশ- মুমুক্ষা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান।
৯,৬৫৮.
কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ?
ক
হাফিজ চিঠি লিখছে।
খ
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
গ
হাসিব স্কুলে যায়।
ঘ
সাইরেন বেজে উঠল।
সঠিক উত্তর: খ
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
খ
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া: - যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন: মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। সাপুড়ে সাপ খেলায়। মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
অন্যদিকে, - 'বিরক্ত' শব্দের বিপরীত শব্দ - অনুরক্ত। - 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - বিনীত। - 'উদ্যত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হচ্ছে - বিরত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৬০.
'কুম্ভীলক' শব্দের অর্থ-
ক
কুমিরের অশ্রু
খ
যে মাটির জিনিস বানায়
গ
যে অন্যের লেখা নিজের বলে চালায়
ঘ
কুমিরের ছানা
সঠিক উত্তর: গ
যে অন্যের লেখা নিজের বলে চালায়
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
যে অন্যের লেখা নিজের বলে চালায়
গ
ব্যাখ্যা
• কুম্ভিলক (বিশেষ্য পদ): - এটি প্রাকৃত শব্দ। অর্থ: যে ব্যক্তি অন্যের রচনার ভাব বা ভাষা নিজের নামে চালায়।
• অন্যের রচনা থেকে চুরি করা বা অন্যের ভাব, শব্দ ইত্যাদি গ্রহণ করে নিজের বলে ব্যবহার করাকে বলা হয় কুম্ভিলকবৃত্তি (plagiarism)।
• প্লেজিয়ারিজম (plagiarism): ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত কোন আর্টিকেল বা গবেষণা সম্পূর্ণ অনুলিপি করা কিংবা ওয়েব হতে প্রাপ্ত কোন ধারণা প্রকৃত সূত্র উল্লেখ না করে ব্যবহার করাকে বলা হয় প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism). অর্থাৎ অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করাকে প্লেজিয়ারিজম বলে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯,৬৬১.
'প্রধান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
ক
প্রধান + অন
খ
প্র + √ধা + অন
গ
√প্র + ধান
ঘ
√প্র + ধান + অ
সঠিক উত্তর: খ
প্র + √ধা + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
প্র + √ধা + অন
খ
ব্যাখ্যা
• প্রধান - - সংস্কৃত শব্দ। - প্রকৃতি ও প্রত্যয় - প্র + √ধা + অন।
‘ঘোড়া’ শব্দের সমার্থক শব্দ: - অশ্ব, ঘোটক, হয়, বাজী, তুরঙ্গ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৬৬৩.
'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ -
ক
বিরক্ত
খ
বিনয়
গ
বিনীত
ঘ
বিরত
সঠিক উত্তর: গ
বিনীত
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
বিনীত
গ
ব্যাখ্যা
• 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিনীত।
অন্যদিকে, 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত। 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরত। 'ঔদ্ধত্য' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিনয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৬৬৪.
নিচের কোন অনুসর্গটি বিভক্তিরূপেও ব্যবহৃত হয়?
ক
বিহনে
খ
ভিতর
গ
অপেক্ষা
ঘ
পক্ষে
সঠিক উত্তর: গ
অপেক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অপেক্ষা
গ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ: বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে। [অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]
বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে এগুলো হলো: প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।
[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯,৬৬৫.
'Like priest, like pupil’ এর যথার্থ অনুবাদ কোনটি?
ক
যত গর্জে তত বর্ষে না।
খ
যেমন কুকুর তেমন মুগুর।
গ
যেমন কাজ তেমন ফল।
ঘ
যেমন গুরু তেমন চেলা।
সঠিক উত্তর: ঘ
যেমন গুরু তেমন চেলা।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
যেমন গুরু তেমন চেলা।
ঘ
ব্যাখ্যা
'Like priest, like pupil’ এর যথার্থ অনুবাদ :যেমন গুরু তেমন চেলা। --------------- অন্যদিকে, • Empty vessels sound much. এর বাংলা অনুবাদ: যত গর্জে তত বর্ষে না। •As you sow so you reap. এর বাংলা অনুবাদ: যেমন কাজ তেমন ফল।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৬৬.
বাংলা লিপির প্রমাণ সর্বপ্রথম কোথায় পাওয়া যায়?
ক
জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর হস্তলিখিত পুথিতে
খ
পাল রাজাদের সময় বাংলাদেশের তাম্রশাসনে
গ
আদিত্য সেনের শাসনকালে
ঘ
৯ম শতাব্দীর নারায়ণ পালের সময়
সঠিক উত্তর: ক
জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর হস্তলিখিত পুথিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর হস্তলিখিত পুথিতে
ক
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি: - বাংলা লিপির উদ্ভব মূলত ব্রাহ্মী লিপি থেকে। - ব্রাহ্মী লিপির তিনটি প্রধান রূপ রয়েছে—সারদা, নাগর ও কুটিল। - বাংলায় লিপির প্রাথমিক নমুনা দেখা যায় জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠের ৬ষ্ঠ শতাব্দীর একটি হস্তলিখিত পুথিতে। - ৭ম শতাব্দীতে আদিত্য সেনের শাসনকালে লিপির প্রমাণ পাওয়া যায়। - পরে পালবংশের শাসনামলে লিপিটি ক্রমবিকাশ ঘটে। - এবং ৯ম শতাব্দীতে বাংলাদেশে পালবংশীয় রাজা নারায়ণ পালের তাম্রশাসনে বাংলা লিপি সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে। - আজকের বাংলা লিপি সেই ধারার পরবর্তী বিবর্তিত রূপ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৬৭.
'বিরানব্বই' কোন সমাস?
ক
নিত্য সমাস
খ
কর্মধারয় সমাস
গ
বহুব্রীহি সমাস
ঘ
দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর: ক
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
নিত্য সমাস
ক
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস: - যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। - তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়। যেমন: - অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, - কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র, - অন্য গৃহ = গৃহান্তর, - তুমি আমি ও সে = আমরা, - দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
অন্যদিকে: দ্বন্দ্ব সমাস: - যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। - দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে। যেমন: - ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
বহুব্রীহি সমাস: - যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: - বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, - লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।
কর্মধারয় সমাস: - যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। - শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। - কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৯,৬৬৮.
নিচের কোনটি সমাসের মূল উদ্দেশ্য নির্দেশ করে?
ক
বাক্যের অর্থ পরিবর্তন করা
খ
বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করা
গ
বাক্যের ছন্দ রক্ষা করা
ঘ
ধ্বনি বা বর্ণের মিলন ঘটানো
সঠিক উত্তর: খ
বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করা
খ
ব্যাখ্যা
• সমাস: - শব্দ গঠনের অন্যতম উপায় সমাস। - বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সমাসের সৃষ্টি। - সমাসের অর্থ—সংক্ষেপণ, মিলন, একপদীকরণ।
- সমাস শব্দটি ‘সম’ (একত্র, মিলিত) + ‘আস’ (যোগ করা, সংযুক্ত হওয়া) থেকে উদ্ভূত। - সমাস হলো দুই বা ততোধিক পদ একত্রিত হয়ে একটি নতুন, সংক্ষিপ্ত ও একপদী পদ গঠন করার প্রক্রিয়া। - সমাস পদের মিলন ঘটায় আর সন্ধি ধ্বনি বা বর্ণের মিলন ঘটায়। - এটি বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, যা ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও সুশৃঙ্খল করে। - যেমন, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
- সমাসের জ্ঞান/ অংশ/ প্রতীতি (উপাদান) সাধারণত পাঁচ ধরনের: - সমস্যমান পদ, পূর্বপদ, পরপদ (উত্তরপদ), সমস্ত পদ এবং ব্যাসবাক্য। - এই উপাদানগুলো একত্রিত হয়ে একটি সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করে, যা ভাষার সংক্ষিপ্ততা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
• সমস্যমান পদ: - সমাস গঠনের জন্য যে পদগুলো ব্যবহার হয়, যেমন রাজা এবং পুত্র ('রাজপুত্র' সমাসে)।
• পূর্বপদ: - সমাসের প্রথম অংশ বা প্রথম সমস্যমান পদ, যেমন রাজ ('রাজপুত্র' এ)।
• পরপদ / উত্তরপদ: - সমাসের দ্বিতীয় বা শেষ অংশ, যেমন পুত্র ('রাজপুত্র' এ)।
• সমস্ত পদ: - সমাস সম্পূর্ণ হওয়ার পর গঠিত পদ, যেমন রাজপুত্র।
• ব্যাসবাক্য: - সমস্যমান পদগুলোর সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত বাক্যাংশ, যেমন রাজার পুত্র।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৯,৬৬৯.
'কাঙাল' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দে পরিবর্তিত হবে?
ক
ক) ঈ
খ
খ) ঈনি
গ
গ) ইনি
ঘ
ঘ) ইনী
সঠিক উত্তর: গ
গ) ইনি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) ইনি
গ
ব্যাখ্যা
• 'কাঙাল' শব্দটি 'ইনি' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দে পরিবর্তিত হবে।
• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখানো হলো: - আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা - ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি৷ - ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি। - ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী। - ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী। - নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি। - বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী। - মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্ৰীমতী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৬৭০.
কোনটি ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ?
ক
ধাইমা > দাইমা
খ
বড়দাদা > বড়দা
গ
নকশা > নশকা
ঘ
শাক > শাগ
সঠিক উত্তর: খ
বড়দাদা > বড়দা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
বড়দাদা > বড়দা
খ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনচ্যুতি: - পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমন: - বড়দাদা > বড়দা; - বউদিদি > বউদি ইত্যাদি।
অন্যদিকে, ব্যঞ্জনবিকৃতি: শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে। যেমন: - শাক > শাগ, - কবাট > কপাট, - ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
ধ্বনি বিপর্যয়: উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে। যেমন: - নকশা > নশকা, - রিক্সা > রিস্কা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬৭১.
সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন্ পদে বেশি দেখা যায়?
ক
ক) বিশেষণ ও ক্রিয়া
খ
খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
গ
গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
ঘ
ঘ) বিশেষ্য ও ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: গ
গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
গ
ব্যাখ্যা
সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য হয় ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে। তবে অন্যান্য পদেও পার্থক্য হয়।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৯,৬৭২.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
ক
অতিশয় দুঃখিত হলাম।
খ
হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
গ
সে তাকে দেখে চমৎকার হয়েছে।
ঘ
নিন্দক ব্যক্তি সকল দেশেই আছে।
সঠিক উত্তর: খ
হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
খ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
বহুব্রীহি সমাসের পরপদে মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে 'ক' যুক্ত হয়। যেমন- - বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক, - নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, - নাই পুত্র যার = অপুত্রক, - স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৬৭৬.
'শুক্রবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' - এখানে 'শুক্রবার' কোন কারক?
ক
কর্ম
খ
অধিকরণ
গ
করণ
ঘ
অপাদান
সঠিক উত্তর: ঘ
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
অপাদান
ঘ
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক: - যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন: - বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। - গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। - জাত: জমি থেকে ফসল পাই। - বিরত: পাপে বিরত হও। - দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে। - রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও। - আরম্ভ: শুক্রবার থেকে পরীক্ষা শুরু। - ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৬৭৭.
পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সভামঞ্চ পরিস্কার থাকা জরুরী; কারণ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাতে উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখিত শব্দ দুটির -
ক
দুটিই অশুদ্ধ
খ
দুটোই শুদ্ধ
গ
প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
ঘ
দ্বিতীয়টি শুদ্ধ, প্রথমটি অশুদ্ধ
সঠিক উত্তর: ক
দুটিই অশুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
দুটিই অশুদ্ধ
ক
ব্যাখ্যা
পুরষ্কার ও পরিস্কার - শব্দ দুটিই অশুদ্ধ। শব্দ দুটির শুদ্ধরূপ - পুরস্কার ও পরিষ্কার।
র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' হয়। যেমন - পরিষ্কার। কিন্তু, অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়। যেমন - পুরস্কার।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই (২০১৯) ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
"থেকে থেকে ছেলেটি কাঁদছে।" - বাক্যটিতে দ্বিরুক্তি শব্দটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
ক
আধিক্য
খ
সতর্কতা
গ
ভাবের প্রগাঢ়তা
ঘ
কালের বিস্তার
সঠিক উত্তর: ঘ
কালের বিস্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
কালের বিস্তার
ঘ
ব্যাখ্যা
• "থেকে থেকে ছেলেটি কাঁদছে।" - উক্ত বাক্যে "থেকে থেকে" দ্বিরুক্তি দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে ক্রিয়াটি কালের বিস্তার বা ধারাবাহিক সময়ের মধ্যে ঘটছে। অর্থাৎ, ছেলেটি একবারে নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ক্রমান্বয়ে কাঁদছে।
সুতরাং সঠিক উত্তর: ঘ) কালের বিস্তার। ---------------- • বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ: - ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা), - ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা), - থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার), - ভালো ভালো আম নিয়ে এসো।(আধিক্য)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬৮০.
'ভুঁইফোঁড়' বাগ্ধারার অর্থ কোনটি?
ক
নির্বোধ
খ
অরাজকতা
গ
হঠাৎ আবির্ভূত
ঘ
দীর্ঘসূত্রতা
সঠিক উত্তর: গ
হঠাৎ আবির্ভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
হঠাৎ আবির্ভূত
গ
ব্যাখ্যা
• 'ভুঁইফোড়' বাগ্ধারার অর্থ - হঠাৎ আবির্ভূত।
অন্যদিকে: মগের মুল্লুক - অরাজকতা। বুদ্ধির ঢেঁকি - নির্বোধ। আঠার মাসে বছর - দীর্ঘসূত্রতা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৮১.
নদী + অম্বু = কি হবে?
ক
ক) নদাম্বু
খ
খ) নদীম্বু
গ
গ) নদ্যম্বু
ঘ
ঘ) নদ্যাম্বু
সঠিক উত্তর: গ
গ) নদ্যম্বু
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) নদ্যম্বু
গ
ব্যাখ্যা
ই-কার কিংবা ঈ-কার এর পরে ই ও ঈ ভিন্ন অন্য কোন স্বর থাকলে ই বা ঈ এর স্থানে ‘য’ বা য-ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লিখা হয়। যেমন- অতি + অন্ত = অত্যন্ত ইতি + আদি = ইত্যাদি প্রতি + এক = প্রত্যেক নদী + অম্বু = নদ্যম্বু সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৬৮২.
শুদ্ধ বানান -
ক
ভূতুড়ে
খ
ঘনীভুত
গ
পুঞ্জীভুত
ঘ
ভূতপুর্ব
সঠিক উত্তর: ক
ভূতুড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ভূতুড়ে
ক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ভূতুড়ে।
নিয়ম: • 'অদ্ভুত' শব্দটি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ভূত বানানে ঊ-কার হবে।
যেমন: - উদ্ভূত, - ভূতপূর্ব, - পুঞ্জীভূত, - ঘনীভূত ইত্যাদি।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ১৯-সংস্করণ)।
৯,৬৮৪.
প্রাতিপদিককে বলা হয় -
ক
ক্রিয়া প্রকৃতি
খ
ক্রিয়াবিভক্তি
গ
নাম প্রকৃতি
ঘ
নাম শব্দ
সঠিক উত্তর: গ
নাম প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
নাম প্রকৃতি
গ
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়: - শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়। - বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়। - ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। - প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি। - তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। - বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়। গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬৮৫.
'ই' ধ্বনি উচ্চারণে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন হয়?
ক
সংবৃত
খ
অর্ধ-সংবৃত
গ
বিবৃত
ঘ
অর্ধ-বিবৃত
সঠিক উত্তর: ক
সংবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
সংবৃত
ক
ব্যাখ্যা
• ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনি কে ৪ ভাগ করা হয়। স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। যথা- - সংবৃত [ই], [উ]; - অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও]; - অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ]; - বিবৃত: [আ]।
উল্লেখ্য, - সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খােলে; - বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খােলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৬৮৬.
"মিতালি" কোন ধরনের শব্দ?
ক
যোগরূঢ়
খ
যৌগিক
গ
রূঢ় বা রূঢ়ি
ঘ
মৌলিক
সঠিক উত্তর: খ
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
যৌগিক
খ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ: যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: - মিতালি = মিতা + আলি; যার অর্থ - সখ্য, বন্ধুত্ব, বন্ধুতা। - গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে। - কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত। - মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত। - দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি। - চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৬৮৭.
‘মহাজ্ঞান’ এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
ক
মহান যে জ্ঞান
খ
মহা হে জ্ঞান
গ
মহৎ হে জ্ঞান
ঘ
মহতী যে জ্ঞান
সঠিক উত্তর: গ
মহৎ হে জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
মহৎ হে জ্ঞান
গ
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস: যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস। যেমন: - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম; - যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট; - যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা; - ঋষি যে কবি = ঋষিকবি ইত্যাদি।
⇒ বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, ‘মহৎ’ ও ‘মহান’ স্থানে ‘মহা হয়। যেমন: - মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান; [মূল পরীক্ষায় সম্ভবত টাইপিং এর ভুলের কারণে মহৎ হে জ্ঞান লেখা হয়েছে।] - মহান যে নবী =মহানবী।
অপশনে প্রদত্ত ব্যাসবাক্য গুলোর মধ্যে কাছাকাছি উত্তর হিসেবে ‘মহৎ হে জ্ঞান’ ব্যাসবাক্যটি উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হলো। কারণ ‘মহান’ শব্দটি মহান ব্যক্তি, মহান আদর্শ ও মহান দায়িত্ব বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। সুতরাং মহান যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য নয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৬৮৮.
নিচের কোনটিতে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে?
ক
ক) নকশা > নশকা
খ
খ) জন্ম > জম্ম
গ
গ) শরীর > শরীল
ঘ
ঘ) ধোবা > ধোপা
সঠিক উত্তর: ক
ক) নকশা > নশকা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) নকশা > নশকা
ক
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'নকশা > নশকা' এর ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে।
• ধ্বনি বিপর্যয়: উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে। তলোয়ার > তরোয়াল নকশা > নশকা রিক্সা > রিস্কা লাফ > ফাল তুলতুলা > লুতলুতা এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট ইত্যাদি।
অন্য অপশনগুলো:
• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। শরীর > শরীল লাল > নাল লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।
• সমীভবন: উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন। জন্ম > জম্ম দুর্গা > দুগগা রাজ্য > রাজ্জ স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।
• ব্যঞ্জনবিকৃতি শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে। ধোবা > ধোপা শাক > শাগ কবাট > কপাট ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর)।
৯,৬৮৯.
সাধু রীতিতে কোন ধরনের শব্দের ব্যবহার অধিক দেখা যায়?
ক
তৎসম শব্দ
খ
বিদেশি শব্দ
গ
তদ্ভব শব্দ
ঘ
খাঁটি বাংলা
সঠিক উত্তর: ক
তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
তৎসম শব্দ
ক
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য: (ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। (খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল। (গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী। (ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয় পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬৯০.
অন্ত্যস্বর লোপ পেয়েছে কোন উদাহরণে?
ক
উদ্ধার > উধার > ধার
খ
অলাবু> লাবু > লাউ
গ
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
ঘ
সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর: গ
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
গ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ। যেমন- বসতি > বস্তি, জানালা > জান্লা ইত্যাদি।
• আদি স্বরলোপ: প্রথম স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরলোপ বলে। যেমন: - অলাবু> লাবু > লাউ, - উদ্ধার > উধার > ধার।
• মধ্যস্বর লোপ: শব্দের মধ্যে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বর লোপ বলে। যেমন: - অগুরু > অগ্র, - সুবর্ণ > স্বর্ণ।
• অন্ত্যস্বর লোপ: শব্দের শেষে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে। যেমন: - আশা > আশ, - আজি > আজ, - চারি > চার, - সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯,৬৯১.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
ক
আমাকে এখন যেতে হবে।
খ
চোরটা ধরা পড়েছে।
গ
ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
ঘ
শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
সঠিক উত্তর: ক
আমাকে এখন যেতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
আমাকে এখন যেতে হবে।
ক
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য: - যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: - আমার খাওায়া হলো না। - আমাকে এখন যেতে হবে। - তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না। - কোথায় থাকা হয়।
অন্যদিকে, কর্তৃবাচ্য - ছাত্ররা অঙ্ক করছে। শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। কর্মবাচ্য - চোরটা ধরা পড়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬৯২.
'সীমাবদ্ধ জ্ঞান' - অর্থে কোন বাগ্ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
ক
কেউকেটা
খ
গোমূর্খ
গ
কূপমণ্ডুক
ঘ
কংস-মামা
সঠিক উত্তর: গ
কূপমণ্ডুক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
কূপমণ্ডুক
গ
ব্যাখ্যা
• 'কূপমণ্ডুক' বাগ্ধারার অর্থ - সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
অন্যদিকে, কেউকেটা - বিশিষ্ট ব্যক্তি। গোমূর্খ - অতি মূর্খ। কংস-মামা - নির্মম আত্মীয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৬৯৩.
কোন শব্দে বিশেষ অর্থে উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
ক
উপকূল
খ
উপভোগ
গ
উপগ্রহ
ঘ
উপশহর
সঠিক উত্তর: খ
উপভোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
উপভোগ
খ
ব্যাখ্যা
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। যেমন, উপকূল- উপ + কূল; এখানে 'উপ' একটি উপসর্গ। এখানে, 'উপ' তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।
• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার - সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ। সদৃশ অর্থে - উপদ্বীপ, উপবন। ক্ষুদ্র অর্থে - উপশহর, উপসাগর, উপনেতা। বিশেষ অর্থে - উপনয়ন, উপভোগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৯,৬৯৪.
'পাখির ডাক' - এর এক কথায় প্রকাশ কী?
ক
হ্রেষা
খ
কূজন
গ
বৃংহিত
ঘ
টঙ্কার
সঠিক উত্তর: খ
কূজন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
কূজন
খ
ব্যাখ্যা
• 'পাখির ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ - কূজন।
অন্যদিকে, - 'ধনুকের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ - টঙ্কার। - ‘ঘোড়ার ডাক’ এর এক কথায় প্রকাশ - হ্রেষা। - ‘হাতির গর্জন’ এর এক কথায় প্রকাশ - বৃংহিত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৯৫.
কোন বাক্যটির ক্রিয়া অকর্মক?
ক
নাছরিন খেলা করছে।
খ
শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
গ
বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।
ঘ
মেয়েটি হাসে।
সঠিক উত্তর: ঘ
মেয়েটি হাসে।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
মেয়েটি হাসে।
ঘ
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া: - যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। - অকর্মক ক্রিয়ার ক্রিয়া পদটিকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর পাওয়া না। যেমন: - মেয়েটি হাসে। এখানে, 'কী হাসে' বা 'কাকে হাসে' প্রশ্ন করলে কোন উত্তর হয় না। কাজেই 'হাসে' ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
অন্যদিকে, সকর্মক ক্রিয়া: - বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন - - নাছরিন খেলা করছে। এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।
দ্বিকর্মক ক্রিয়া: - বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: - শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। - বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৬৯৬.
কোনটি জটিল বাক্যের উদাহরণ?
ক
ক) ছেলেটির অল্প বয়স; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
খ
খ) কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
গ
গ) সে ঘর ঝাড়ু দিলো, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
ঘ
ঘ) যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
ঘ
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য: যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। যেমন, -যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। -যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। -যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
৯,৬৯৭.
‘Prefix’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
ক
উপসর্গ
খ
কারক
গ
উক্তি
ঘ
বিভক্তি
সঠিক উত্তর: ক
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
উপসর্গ
ক
ব্যাখ্যা
• ‘Prepositional prefix / prefix’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উপসর্গ।
অন্যদিকে, • ‘Utterance’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উক্তি/বচন। • ‘Case Suffix’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - বিভক্তি। • ‘Case’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - কারক।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি (দ্বিতীয় খণ্ড)।
৯,৬৯৮.
'আকস্মিক' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো-
ক
আকস্মাৎ + ইক
খ
অকস্মাৎ + ইক
গ
অকসমি + ইক
ঘ
আকস + মিক
সঠিক উত্তর: খ
অকস্মাৎ + ইক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
অকস্মাৎ + ইক
খ
ব্যাখ্যা
আকস্মিক একটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ। এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো- অকস্মাৎ + ইক 'আকস্মিক' শব্দের অর্থ- ১.হঠাৎ ঘটেছে বা ঘটে এমন, অতর্কিত , অকস্মাৎ, অপ্রত্যাশিত ২. অকারণ, অহেতুক
উৎস : বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
৯,৬৯৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
ক
শিরশ্ছেদ
খ
সরস্বতী
গ
মুহুর্মুহু
ঘ
নূন্যতম
সঠিক উত্তর: ঘ
নূন্যতম
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
নূন্যতম
ঘ
ব্যাখ্যা
- নূন্যতম শব্দের শুদ্ধরূপ হবে : ন্যূনতম। - শিরশ্ছেদ, সরস্বতী ও মুহুর্মুহু বানানগুলো শুদ্ধ। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৭০০.
"এ বিষয়ে তোমার মত কী?" - এ বাক্যে 'মত' কোন পদ?
ক
বিশেষ্য
খ
বিশেষণ
গ
ক্রিয়া
ঘ
ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য
ক
ব্যাখ্যা
• "এ বিষয়ে তোমার মত কী?" - এ বাক্যে 'মত' বিশেষ্য পদ।
বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে৷
বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক । বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।
বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি । বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।
বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন । বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।