PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ
বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ
PrepBank · পাতা ৭৮ / ৩৫৪ · ৭,৭০১–৭,৮০০ / ৩৫,৭১৩
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
যেমন-
- কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত।
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা, অর্থ- যিনি বাবুর ভাব নিয়ে চলেন।
- পিতা + হীন = পিতৃহীন, অর্থ- যার পিতা নেই।
- এরূপ আরও শব্দের উদাহরণ হলাে- গুণবান, পাঠক, মিতালি, ভাড়াটে, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক,
- এরূপ শব্দ হলাে গুণবান, পাঠক, মিতালি, ভাড়াটে, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক, চরণ, পক্ষী ইত্যাদি।
রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ : সন্দেশ, জ্যাঠামি ,প্রবীণ, অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।
যােগরূঢ় শব্দ : জলদ, পঙ্কজ, মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরােজ ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২০ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• পরাশ্রয়ী বর্ণ:
যেসব বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এবং বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়, সে বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
• বাংলা বর্ণমালায় তিনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ রয়েছে।
যথা- ং, ঃ ও ঁ।
-এই বর্ণ গুলোর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র বর্ণের মতো কার বা ফলা গ্রহন করতে পারে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক
- আবেগ
বাক্যে প্রয়ােগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• সূত্র:
- অ- কারের পরস্থিত র্-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + গত= অন্তর্গত,
- অহঃ + অহ= অহরহ,
- পুনঃ + উক্ত= পুনরুক্ত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'পর্ণ' শব্দের অর্থ - গাছের পাতা; তাম্বুল; পান; ডানা।
অন্যদিকে,
'কুঞ্জর' শব্দের অর্থ - হাতি, করী।
'চূড়া' শব্দের অর্থ - শীর্ষদেশ, শিখর।
'খগ' শব্দের অর্থ - পাখি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- আরবি শব্দ।
অর্থ: অদ্ভুত, বিস্মিত, বিস্ময়।
অন্যদিকে:
• আসমান (ফারসি শব্দ)।
অর্থ: আকাশ।
• কাজি (ফারসি শব্দ)।
অর্থ: মুসলমান বিবাহের নিবন্ধক; পদবিবিশেষ; বিচারক।
• খোয়াব (ফারসি শব্দ)।
অর্থ: নিদ্রিত অবস্থায় মানুষের অনুভূতি ভাবাবেগ চিত্রকল্প প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় হলো:
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
• ইষ্ণু-প্রত্যয়:
- √ চল্ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু;
এরূপ-
- ক্ষয়িষ্ণু,
- বর্ধিষ্ণু।
• বর-প্রত্যয়:
- √ঈশ্ + বর = ঈশ্বর;
- √ভাস্ + বর = ভাস্বর।
• র-প্রত্যয়:
- √নম্ + র = নম্র।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'কোকিল' এর সমার্থক শব্দ:
অন্যপুষ্ট, কলকণ্ঠ, পরপুষ্ট, বসন্তদূত, মধুসখা, মধুস্বর, কাকপুষ্ট, পরভূত।
অন্যদিকে,
• 'বিধু' অর্থ- চন্দ্র; শশাঙ্ক; শশধর।
• 'ইন্দু' অর্থ- চন্দ্র।
• 'মহি' অর্থ- পৃথিবী, ধরণি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন :
সমস্তপদ -- ব্যাসবাক্য
আমরা -- তুমি, আমি ও সে
বিরানব্বই -- দুই ও নব্বই
জনৈক -- এক জন
মাথাপিছু -- প্রতিমাথা
দিনভর -- সারা দিন
পূজার্থ -- পূজার নিমিত্ত
কালসাপ -- কাল তুল্য সাপ
দর্শনমাত্র -- কেবল দর্শন
লোকান্তর -- অন্য লোক
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• গুরুত্বপুর্ণ কিছু বিপরীতার্থক শব্দ হলো:
'জনবহুল' এর বিপরীত শব্দ হচ্ছে জনবিরল।
'জেতা' এর বিপরীত শব্দ হচ্ছে হারা/ ঠকা।
'জরিমানা' এর বিপরীত শব্দ হচ্ছে বকশিশ।
'জোয়ার' এর বিপরীত শব্দ হচ্ছে ভাটা।
'জঙ্গম' এর বিপরীত শব্দ হচ্ছে স্থাবর।
'জলদি' এর বিপরীত শব্দ হচ্ছে আস্তে।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
উত্তর
ব্যাখ্যা
শরীর - দেহ, কায়া, কলেবর, তনু, বপু৷
সূর্য - সবিতা, রবি, ভানু, প্রভাকর, দিবাকর, দিবাবসু, দিনকর, দিনপতি৷
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- গুণ + বতুপ্ = গুণবান
- দয়া + বতুপ্ = দয়াবান
- শ্রী + মতুপ্ = শ্রীমান
- বুদ্ধি + মতুপ্ = বুদ্ধিমান
[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯ ]
উত্তর
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান গুলো হচ্ছে -ব্যভিচার, ব্যাপন, ব্যারাম, ব্যামো।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- আর লাভের আশা নেই বলে বাড়ি ফিরতে হলো।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
অন্যদিকে,
- পানিতে নাম তবে, সাঁতার শিখতে পারবে।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- লোকটির সবই আছে, কিন্তু সুখী নয়।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- যেহেতু নির্বাচন হয়েছে, সেহেতু গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।- এটি একটি জটিল বাক্য।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
- এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন -
→ মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।
→ তুমি আসলে আমি যাব।
অন্যদিকে,
• ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।
• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে।
- একে আজ্ঞাসুচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন -
→ সদা সত্য কথা বলবে।
→ কাছে এসো।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
'মন হরণ করে যা' = মনোহর
'মধু পান করে যে' = মধুপ।
'মধুর গন্ধযুক্ত' = সুগন্ধি
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি; কেন্তম ও শতম।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলাের আদিম উৎস অনার্য ভাষা।
- আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়।
- বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অর্থ:
- নিজ ইচ্ছানুযায়ী আচরণ।
- উচ্ছৃঙ্খলতা।
অশুদ্ধ বানান গুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: স্বৈরাচারী।
অর্থ:
- নিজ ইচ্ছানুযায়ী আচরণ কারী।
- উচ্ছৃঙ্খল।
• শুদ্ধ বানান: স্বৈরতন্ত্র।
অর্থ:
- একনায়কের ইচ্ছা অনুযায়ী শাসিত রাষ্ট্রব্যবস্থা।
- একনায়কতন্ত্র।
• শুদ্ধ বানান: স্বৈরশাসক।
অর্থ:
- একনায়কত্ব।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।
যেমন:
→ কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ,
→ সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস,
→ কিম্ + তু = কিন্তু,
→ সম্ + ধি = সন্ধি,
→ সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ,
→ সম্ + ন্যাস = সন্ন্যাস।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন-
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিকসা্ > রিস্কা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির অপরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লাঙ্গল > নাঙ্গল,
- আরমারি > আলমারি,
- জরুরি > জরুলি ইত্যাদি।
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অর্থ - চারটি রাস্তার সংযোগস্থল/চৌমাথা।
এখানে 'বাংলা' চৌ শব্দের সাথে ফারসি রাস্তা শব্দের মিশ্রণ ঘটেছে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর - বাংলা + ফারসি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• স্বরভঙ্গি তথা বাগ্ভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। যথা:
১. সাধারণ বিবৃতিতে: সে আজ যাবে।
২. জিজ্ঞাসায়: সে আজ যাবে?
৩. বিস্ময় প্রকাশ: সে আজ যাবে!
৪. ক্রোধ প্রকাশে: আমি তোমাকে দেখে নেব।
৫. আদর বোঝাতে: বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।
৬. আনন্দ প্রকাশে: বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!
৭. দুঃখ প্রকাশে: আহা, গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে!
৮. বিরক্তি প্রকাশে: আঃ, ভালো লাগছে না, এখন এখান থেকে যাও তো।
৯. ভীতি প্রদর্শনে: যাবি কি না বল?
১০. লজ্জা প্রকাশে: ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে পারলে না।
১১. ধিক্কার দিতে: ছিঃ, তোমার এই কাজ।
১২. ঘৃণা প্রকাশে: তুমি এত নীচ!
১৩. অনুরোধ প্রকাশে: কাজটি করে দাও না ভাই।
১৪. প্রার্থনা: ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।
- ছেদ ও বিরতিসূচক চিহ্নগুলো বাগ্ভঙ্গির লিখিত আকার প্রকাশে সাহায্য করে।
- দাঁড়ি, কমা, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময়সূচক চিহ্ন বাক্যের ভাব ও অর্থবোধের জন্য উপকারক।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সঠিক বাক্যটি হবে 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়'
ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের তিনটি গুন থাকা আবশ্যক।
⇒ আকাঙক্ষা:- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙক্ষা বলে।
যেমন- চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে। এ বাক্যে শ্রোতার আকাঙ্ক্ষা নিবৃত হয়েছে বলে এটি বাক্য হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
⇒ আসত্তি:- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ বিন্যাসই হলো আসত্তি।
যেমন- কাল বিতরণী হবে স্কুলে পুরষ্কার আমাদের অনুষ্ঠিত- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ সঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্হিত ভাব যথাযথভাবে প্রকাশ পায় নি। তাই এটি বাক্য হয় নি। মনোভাব প্রকাশের জন্য পদগুলোকে এভাবে সাজাতে হবে- কাল আমাদের স্কুলে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।
⇒ যোগ্যতা:- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। অর্থাৎ বাক্যের পদগুলোর শব্দগত এবং অর্থগত মিল থাকার নামই হচ্ছে যোগ্যতা।
যেমন- যদি বলা হয়- মাছেরা আকাশে উড়ে তাহলে বাক্য তার যোগ্যতা হারাবে কারন বাস্তবতার সাথে বাক্যের মিল নেই।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
--------------------
• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে তাদের প্রান্তিক বিরামচিহ্ন বলে।
- দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ছাড়া অন্যান্য স্থানে বসে তাদের বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন বলা হয়।
যেমন- কমা, কোলন, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি।
• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলো হলো:
দাঁড়ি (।), কমা (,), সেমিকোলন (i), প্রশ্নচিহ্ন (?), বিস্ময়চিহ্ন (!), হাইফেন (-), ড্যাশ (−), কোলন (:), বিন্দু (.), ত্রিবিন্দু (...), উদ্ধারচিহ্ন (' - ', ""), বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]), বিকল্পচিহ্ন (/)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
খণ্ডপ্রলয় - ক্ষুদ্র প্রলয়।
নুড়ি - ক্ষুদ্র প্রস্তরখণ্ড।
টাট্টু - ক্ষুদ্রকায় ঘোড়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এর শুদ্ধ বানান - কনকাঞ্জলি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- মাঙ্গলিক ক্রিয়াকর্মে অঞ্জলিপূর্ণ স্বর্ণ প্রদানের সংস্কার।
অন্যদিকে,
- ওষুধ, উচ্ছ্বাস এবং পরিষেবা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
- তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।
- অনুরূপভাবে 'যদিও' শব্দে ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু:
তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন:
অঙ্ক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।
এরূপ- ঘৃষ, পঠ্, বন্ধ্, বুধ্, র্ক্ষ, শ্রু, স্থা।
অন্যদিকে,
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বাংলা ধাতু বা খাঁটি বাংলা ধাতু বলে।
যেমন:
আঁক্ + আ = আঁকা: কী সব আঁকাআঁকি করছ?
দেখ্ + আ = দেখা: জাদুঘর আমার কয়েকবার দেখা।
কর্ + অ = কর: তুমি কী কর?
হাস্ + ই = হাসি: তোমার হাসিটি খুব সুন্দর।
এরূপ- কাঁদ্, কিন্, খা, গড়্, ঘষ্, ধর্, পড়, বাঁধ্, বুঝ্, রাখ্, শুন্, থাক্।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।
অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যান্য অপশরে শুদ্ধ বিপরীতার্থক শব্দ হলো:
• ‘ঈদৃশ’ শব্দের বিপরীত শব্দ - তাদৃশ।
• 'জঙ্গম' শব্দের বিপরীত শব্দ - স্থাবর।
• 'উদ্যত' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিরত।
আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ হলো:
'ভীরু' - নির্ভীক।
'ঐহিক’ - পারত্রিক।
'ঢালু' - সমান।
‘আকস্মিক' - চিরন্তন।
'উদ্ধত' - বিনীত।
ঐহলৌকিক/ইহলৌকিক - পারলৌকিক।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অশ্ব বা ঘোড়ার সমার্থক শব্দ 'তুরগ'
'অগ্নি' শব্দের কিছু সমার্থক শব্দ হলো
- হিমারাতি
- অনল
- বহ্নি
- পাবক
- বায়ুসখা
- পিঙ্গল
- সপ্তাংশু
- হুতাশন
- শিখিন
- শুচি
- সর্বভুক
[উৎস:ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ]
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'দূষণীয়' শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: উচ্ছ্বাসিত
শুদ্ধ: উচ্ছ্বসিত
অশুদ্ধ: পরিসেবা
শুদ্ধ: পরিষেবা
অশুদ্ধ: ভদ্রছিত
শুদ্ধ: ভদ্রোচিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা একাক্ষর যুক্ত শব্দে 'ও' কার দীর্ঘ হয়।
- যেমনঃ গো, জোর, রোগ ইত্যাদি। অন্যত্র সাধারণত হ্রস্ব হয়।
- ও এর উচ্চারণ ইংরেজিতে বোট শব্দের (oa) এর মত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি)
উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
Ancillary - সহায়ক;
Annexure - ক্রোড়পত্র;
Collision - সংঘর্ষ।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পানসি' ফরাসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
• 'পানসি' শব্দের অর্থ:
- এক প্রকার ছই-ঢাকা ছোট নৌকা; ছোটো হালকা সরু নৌকা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। সাধারণত লেখ্য ভাষার প্রতিটি বর্ণ কথ্য ভাষার একটি ধ্বনিমূল নির্দেশ করে। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।
• ধ্বনিমূল ও ধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:
প্রত্যেক ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনিগুলো বিচার করলে কতকগুলো ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য ধ্বনি-একক পাওয়া যায়। এদের বলা হয় ধ্বনিমূল (Phoneme) বা মৌলিক ধ্বনি। ভাষার ধ্বনিমূলগুলোকে প্রধানত দুটো ভাগে ভাগ করা যায়; যথা-১. স্বরধ্বনি, ২. ব্যঞ্জনধ্বনি। বাংলা স্বরধ্বনির লিখিত রূপকে বলে স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত রূপকে বলে ব্যঞ্জনবর্ণ। বাংলা স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণগুলোকে একত্রে বলে বাংলা বর্ণমালা।
• স্বরবর্ণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ। মোট ১১টি।
• ব্যঞ্জনবর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ত, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ং, ৎ, ঃ, ঁ। মোট ৩৯টি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
সেতু স্কুলে যায়।
বিথু গান গায়।
ভালো করে পড়াশোনা করবে।
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে
এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
একাধিকবার একই একক গণনা করলে যে সমষ্টি পাওয়া যায়, তা-ই পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা।
যেমন— সপ্তাহ বলতে আমরা সাত দিনের সমষ্টি বুঝিয়ে থাকি। সপ্ত (সাত) অহ (দিনক্ষণ) = সপ্তাহ।
এখানে দিন একটি একক। এরূপ—সাতটি দিন বা সাতটি একক মিলে হয়েছে সপ্তাহ।
পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা বা আধিক্য বাচক ‘সংখ্যা শব্দ:
এক এককের চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) = চৌথা, সিকি বা পােয়া।
এক এককের তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) = তেহাই।
এক এককের দুই ভাগের এক ভাগ (১/২) = অর্ধ বা আধ।
এক এককের আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) = আট ভাগের এক বা এক অষ্টমাংশ।
তেমনি এক পঞ্চমাংশ (১/৫), এক দশমাংশ (১/১০) ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি অনুসারে,
গুণিতক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের -
- পূর্ণগুণিত শব্দ : এক এক্কে এক, দুই দুগুণে চার ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ : চৌথাই, সিকি , পোয়া, তেহাই, অর্ধ ইত্যাদি।
- ন্যূনতা নির্দেশক শব্দ : পৌনে চার, পৌনে সাত ইত্যাদি।
- আধিক্য নির্দেশক শব্দ : 'আড়াই' 'দেড়', 'সওয়া', 'সাড়ে' ইত্যাদি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নিবারণ করা কষ্টসাধ্য এমন।
- দুর্বার।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ:
• 'শিহরন'
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- রোমাঞ্চ।
• 'ত্রিনয়ন'
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- যার তিনটি চোখ আছে।
• 'আকাঙ্ক্ষা'
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- ইচ্ছা, বাসনা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'Dirge/ Elegy' শব্দের বাংলা পারিভাষিক- শোক গাথা, শোক গীতি।
অন্যদিকে,
'Folksong' অর্থ - লোকগীতি।
'Lyric poetry' অর্থ - গীতিকাব্য।
'Musical drama' অর্থ - গীতিনাট্য।
উৎস: অভিগম্য অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।
- অনাথা: ‘অনাথ’ শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ।
- যেহেতু বাক্যে একজন নারীকে নির্দেশ করা হয়েছে, তাই স্ত্রীবাচক শব্দ ‘অনাথা’ ব্যবহার করা হলো।
- ‘অনাথিনী’ ব্যাকরণগতভাবে ভুল বা অপ্রচলিত।
অন্যদিকে,
• দুর্বলবশত অনাথিনী বসে পড়ল: এখানে ‘দুর্বলবশত’ এবং ‘অনাথিনী’ উভয়ই ভুল।
• দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল: এখানে ‘অনাথিনী’ ভুল।
- এবং বাংলা ভাষার বর্তমান রীতি অনুযায়ী শব্দের শেষে ‘ঃ’ ব্যবহার হয় না, তাই ‘দুর্বলতাবশতঃ’ অশুদ্ধ।
• দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল: এখানে ‘দুর্বলবশত’ ভুল।
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যশুদ্ধি:
• অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নেই।
• অশুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
• অশুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে:
- 'পথ' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিপথ।
- 'দুষ্ট' শব্দের বিপরীত শব্দ - শিষ্ট।
- 'পণ্ড' শব্দের বিপরীত শব্দ - সফল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
অন্যদিকে:
অশুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলদে ফুল দেখছ।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
অশুদ্ধ বাক্য: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ বাক্য: দশচক্রে ভগবান ভূত।
অশুদ্ধ বাক্য: শহীদ মিনারে শ্রন্ধাঞ্জলী অপর্ণ করব।
শুদ্ধ বাক্য: শহিদ মিনারে শ্রন্ধাঞ্জলি অপর্ণ করব।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ:
- ভারত ও পাকিস্তানে ব্যবহৃত ফারসি ও আরবি ভাষার মিশ্রনজাত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবিশেষ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের: বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।
বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলােকে সলগ্নক পদ এবং যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলােকে অলগ্নক পদ বলে।
ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’- এই বাক্যের ‘ছেলেরা ও ‘খেলে' সলগ্নক পদ আর 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
অনুরূপ ভাবে, 'সে জীবন যুদ্ধে একজন পরাজিত সৈনিক' বাক্যে 'জীবন' 'একজন' 'পরাজিত' 'সৈনিক' = অলগ্নক পদ
এবং 'যুদ্ধে' = সলগ্নক পদ।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত অপশনগুলোতে সঠিক বাক্যটি হলোঃ আমি বড় অপমানিত হইয়াছি।
- 'বুনো কচু, বাঘা তেঁতুল।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ 'বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল।
- 'ভাত ছড়ালে শালিখের অভাব হয় না।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না।
- 'সব মাছগুলোর দাম কত?' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ
মাছগুলোর দাম কত? অথবা সব মাছের দাম কত?
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।
• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
'লা' উপসর্গযোগে গঠিত আরো কিছু শব্দ:
- লাজওয়াব,
- লাখেরাজ,
- লাওয়ারিশ,
- লাপাত্তা।
আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ নয়- নগদ।
- 'নগদ' আরবি ভাষার শব্দ।
• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
কিছু দেশি শব্দ:
ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল,, ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই,, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎস: নবম-দশম শ্রেনি, বাংলা ব্যাকরণ ( ২০২১ সংস্করণ )
উত্তর
ব্যাখ্যা
তদ্ভব শব্দগুলোঃ
'আখি' 'আজ' করেছে 'কাজ',
'মৌ' পরেছে 'বিয়ে' র 'সাজ'।
'বৌমা' এনেছে 'মাছ' 'ভাত'।
'মাথা' য় 'হাত' ''কান' এ 'দাত',
'চাঁদ' 'সই' করা 'তদ্ভব' এর 'কাজ'।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
আটাশে, ষোলোই, উনিশে- তারিখবাচক শব্দ।
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।
- এগুলো আবার সংক্ষিপ্তরূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন - প্রথমা, দ্বিতীয়া, অষ্টমী, দশমী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, ষোড়শী ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
কারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন –
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে ।
যেমন –
লাল বা নীল কলমটা আনো ৷
চা না-হয় কফি খান।
বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ৷
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই, কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গ:
• বি + ভুঁই = বিভুঁই ('বি' উপসর্গটি 'ভিন্ন' অর্থে ব্যবহৃত)।
• বি + জ্ঞান = বিজ্ঞান ('বি' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত)।
• বি + বর্ণ = বিবর্ণ ('বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত)।
• বি + চরণ = বিচরণ ('বি' উপসর্গটি 'গতি' অর্থে ব্যবহৃত)।
• বি + কার = বিকার ('বি' উপসর্গটি 'অপ্রকৃতস্থ' অর্থে ব্যবহৃত)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- অকিঞ্চন (বিশেষণ) যার অর্থ - কিছুই নেই এমন; নিঃস্ব; দরিদ্র; তুচ্ছ; নগণ্য।
অন্যদিকে,
• ‘যার সর্বস্ব হারিয়ে গেছে’ এক কথায় বলে - সর্বহারা, হৃতসর্বস্ব।
- হৃতসর্বস্ব (বিশেষণ) যার অর্থ - যাবতীয় ধনসম্পদ লুট হয়ে গেছে এমন; নিঃস্ব।
- ‘যার কোন উপায় নেই’ এক কথায় বলে - নিরুপায়।
- ‘যার অন্য উপায় নেই’ এক কথায় বলে - অনন্যোপায়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- তবে যাওয়া হোক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
---------------------
অন্যদিকে,
• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
------------------
• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
• কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।
- একদিন তো মরবই।
- তা বিশেষ ক্ষতি করে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'Humanities' - এর বাংলা পরিভাষা - মানবিক বিদ্যা।
এছাড়া,
Humanity - মানবতা।
Humanitarian - মানবপ্রেমী।
Human - মানব।
উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
যেমন:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন,
- চার পা বিশিষ্ট প্রাণী = চতুষ্পদ,
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,
- সমান তীর্থ যাদের = সতীর্থ,
- সমান উদর যার = সহোদর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫টি। এর মধ্যে মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যথাঃ (অ+ই) ঐ, (অ+উ) ঔ।
বাকি ২৩ টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'বাতায়ন' :
- অর্থ: জানালা, গবাক্ষ
- এটি একটি তৎসম শব্দ (সংস্কৃত থেকে আগত)।
- প্রতিশব্দ: জানালা, গবাক্ষ, খিড়কি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- গণ - দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
- বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
- মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- 'হস্তিদাম' এর শুদ্ধ বচনবোধক শব্দ - হস্তিযূথ।
- 'কুসুমাবলি' এর শুদ্ধ বচনবোধক শব্দ - কুসুমদাম।
- ‘তরঙ্গ’ এর শুদ্ধ বচনবোধক শব্দ - তরঙ্গমালা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎ+লাস = উল্লাস ( এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)
বাক্+দান = বাগ্দান ( এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)
তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে ( এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন)
শম্+কা = শঙ্কা ( এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)
ষষ্+থ = ষষ্ঠ ( এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- কোথাও পথ পেলাম না বলে তোমার কাছে এসেছি।
• জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই:
জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো।
অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই।
[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]
• কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
- ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
সূত্র: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
'সাপ' শব্দের সমার্থক:
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ, পিল।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: শিয়াল।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ:
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা ৯টি। আধুনিককালে অনেকে ১০টি বলেও উল্লেখ করেছেন। আমরা যেহেতু আধুনিক যুগের মানুষ তাই সেহেতু আধুনিক মতকেই স্বীকার করবো।
- ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন। একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেন্তুম (Centum)।
- কেন্তুম ও শতম এ বিভাজন হয়েছিলো মূলত কণ্ঠবর্ণের উচ্চারণ বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করে। এ বিভাজনের ফলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর ভেতর একটি ভৌগোলিক বিভাজনও হয়।
- অ্যাসকোলির ধারণা- কেন্তুম গোষ্ঠীর ভাষাগুলো সব পশ্চিমের আর শতম গোষ্ঠির ভাষাগুলো সব পূর্বের।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
উৎস: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা (বাংলা ভাষার ইতিহাস), রেজাউল ইসলাম।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (০ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বাছ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্ বা ঠ থাকলে ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।
যেমন:
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর,
- ইতঃ + তত = ইতস্তত,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
কপাল এর সমার্থক শব্দ বিধিলিপি, দৈব, ভাগ্য, ললাট, অলীক, অদৃষ্ট, নিয়তি, ভাল।
কিরণ এর সমার্থক শব্দ আলো।
কপোল শব্দের সমার্থক শব্দ গাল।
উদক এর সমার্থক শব্দ পানি।
উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তরঙ্গ, কল্লোল, ঊর্মি, বীচি, হিল্লোল, লহরী।
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি, বারীন্দ্র, অর্ণব, পারাবার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- জল পড়ে পাতা নড়ে।
অনুরূপ,
- পতাকাটি উড়ছে। - বাক্যে উড়ার কাজ পতাকা নিজেই করছে। সুতরাং কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বীতা।
- শুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ।
- প্রতিযোগিতা।
অন্যদিকে,
- ঝঞ্ঝাট, ঊর্মি এবং সুধী - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাক্য: বিষয়ের উপর টিকা ভাষ্য থাকলে পরীক্ষার্থীরা উপকৃত হয়।
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- ‘ঊনপাঁজরে’ বাগধারাটির অর্থ = অপদার্থ।
- ‘ঊনপঞ্চাশ বায়ু’ বাগধারাটির অর্থ = পাগলামি।
- ‘উলুখাগড়া’ বাগধারাটির অর্থ = গুরুত্বহীন লোক।
- ‘আঠারো মাসে বছর’ বাগধারাটির অর্থ = দীর্ঘসূত্রিতা।
- ‘অকাল বোধন’ বাগধারাটির অর্থ = অসময়ে আবির্ভাব।
- ‘ইতর বিশেষ’ বাগধারাটির অর্থ = পার্থক্য।
- ‘আঁটকুড়ো’ বাগধারাটির অর্থ = নিঃসন্তান।
- 'খয়ের খাঁ' বাগধারাটির অর্থ - তোষামোদকারী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।
অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন বিকৃতি - কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা।
অভিশ্রতি - গাছুয়া > গাউছা > গেছো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্ এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন-
যুগ্ম এর উচ্চারণ: জুগ্মো,
গুল্ম এর উচ্চারণ: গুল্মো,
• যুগ্ম (জুগ্মো):
- [স. √যুজ্+ম]
- বিশেষণ পদ।
অর্থ-
- যুগল, জোড়া,
- দুই দিয়ে বিভাজ্য, জোড়,
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- 'রক্তলাল' এর সঠিক ব্যাসবাক্য - রক্তের ন্যায় লাল।
উপমান কর্মধারয় সমাস:
উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে।
যেমন-
তুষারশীতল = তুষার ন্যায় শীতল;
রক্তলাল = রক্তের ন্যায় লাল।
উৎস: ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
• অল্প - অধিক।
• উৎকর্ষ - অপকর্ষ।
• ঐহিক - পারত্রিক।
• ঐশ্বর্য - দারিদ্র্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
পশ্চাৎ' অর্থে 'অনু' - অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুকরণ।
'পৌনঃপুনিকতা' অর্থে - অনুক্ষন, অনুশীলন।
'সঙ্গে' অর্থে - অনুকূল, অনুকম্পা।
'সাদৃশ' অর্থে 'অনু' - অনুবাদ, অনুকার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- গদ্যরচনার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারাংশ, আর কাব্যভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাবকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারমর্ম।
• সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম হলো:
ক. প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
খ. অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
গ. প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
ঘ. সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
ত. সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
চ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।
ছ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।
জ. সারাংশ লিখনে একাধিক অনুচ্ছেদ থাকা অপ্রয়োজনীয়.
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
• একই বংশে জাত ব্যক্তি - জ্ঞাতি।
• অবগত - অবহিত।
• জ্ঞাতা - পণ্ডিত; জ্ঞানী।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• দেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ = অকাজ।(অ-উপসর্গ)
- বাকি শব্দগুলো তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ। (অব,পরি, উৎ, অনু)
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা-
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি:
যথা-
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি,২০২৫ সালের সংস্করণ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।
- কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অর্হণ - পূজা।
• অর্হন - জৈন সন্ন্যাসী।
• অর্ঘ - দাম।
• অর্ঘ্য - পূজার উপকরণ।
• আত্ম - স্বীয়।
• আত্ত - প্রাপ্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
শরীর - দেহ, কায়া, কলেবর, তনু, বপু৷
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
উত্তর
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা: আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাঁকে অনুজ্ঞা বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
যেমন
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে 'ভ্রমর' উপমান এবং 'কেশ' উপমেয়। 'কৃষ্ণত্ব' হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
বন + ওষধি = বনৌষধি
মহা + ওষধি = মহৌষধি
পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
মহা + ঔষধ = মহৌষধ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• দাম গ্রিক শব্দ।
অর্থ: মূল্য, দর, মর্যাদা, গুরুত্ব।
অন্যদিকে,
- লুঙ্গি - ফারসি শব্দ।
- তুফান - আরবি শব্দ।
- কুপন - ফরাসি শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি বিশেষণ পদ।
- এর প্রকৃতি প্রত্যয়: কিম্ + কর্তব্য + বিমূঢ়।
এর অর্থ:
- কর্তব্য নিরূপণে অক্ষম।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- নৃপতি,
- নরপতি,
- নৃপ,
- ক্ষিতিপ,
- ভূপতি,
- ভূপাল,
- রাজ্যের অধীশ্বর।
অন্যদিকে,
উষাপতি - সূর্য এর সমার্থক শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাগধারা:
- 'গোমূর্খ' বাগধারাটির অর্থ - অতিমূর্খ।
- 'ঘটিরাম' বাগধারাটির অর্থ - অকেজো।
- 'খোদার খাসি' বাগধারাটির অর্থ - ভাবনাচিন্তাহীন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
'আন' এই প্রত্যয়টি ণিজন্ত ক্রিয়া বোঝাতে বা ণিজন্ত ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বোঝাতে 'আনো' হয়।
যেমন:
- √জানা + আনো = জানানো।
এরকম-
করানো, শোয়ানো, পড়ানো, ওঠানো ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
• √দয়্ + আলু = দয়ালু,
• √বৃধ + ইষ্ণু = বর্ধিষ্ণু,
• √বদ্ + ইন্ = বাদিন্।
- বিশেষণ হিসেবে প্রয়োগ: জানানো খবর, পড়ানো গল্প, ওঠানো জিনিস ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন:
• স্বর+ঈর = স্বৈর
• গো+অক্ষ = গবাক্ষ
• প্র+ঊঢ় = প্রৌঢ়
• গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র
অন্যদিকে,
দ্রষ্টা, বৃষ্টি ও ষড়যন্ত্র ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসারে গঠিত।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি. ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।