উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন-
"কামাল চালাক ছেলে, সে সবাইকে সহজেই বুঝিয়ে ফেলে।"-
এখানে,
‘চালাক’ হলো গুণবাচক বিশেষণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭৫ / ৩৫৪ · ৭,৪০১–৭,৫০০ / ৩৫,৭১৩
- ঢেউ’ শব্দের প্রতিশব্দ বীচি, লহরী, উর্মি।
- অম্বর এর সমার্থক শব্দ আকাশ, নভঃ, ব্যোম, শূন্যলোক, আসমান, দ্যুলোক, শূন্য।
- অরবিন্দ এর সমার্থক শব্দ পদ্ম ,কমল, উৎপল, সরোজ, পঙ্কজ, নলিন, শতদল, রাজীব, কোকনদ, কুবলয়, পুণ্ডরীক, অরবিন্দ, ইন্দীবর, পুষ্কর, তামরস, মৃণাল, সরসিজ, কুমুদ।
উৎস : ভাষা শিক্ষা বই (হায়াৎ মামুদ)
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তাকে পদ বলে।
-পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধারনের
- বিভক্তি
- নির্দেশক
- বচন
- বলক
[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১, পৃষ্ঠাঃ ২৬]
• 'Hygiene' এর বাংলা পরিভাষা:
– স্বাস্থ্যবিজ্ঞান;
- স্বাস্থ্যবিধি;
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Diplomacy - কূটনীতি,
- Embargo- নিষেধাজ্ঞা,
- Principle- নীতি,
- Oath- শপথ,
- Hygiene- স্বাস্থ্যবিধি,
- Nutrition- পুষ্টি,
- Republic- প্রজাতন্ত্র।
উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
• বইকে পড়া = বইপড়া, এটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- দ্বিতীয়া বিভক্তির চিহ্ন কে, রে।
যেমন: গাকে ঢাকা = গা-ঢাকা, বইকে পড়া = বই-পড়া ইত্যাদি।
এ-রকম: আত্মরক্ষা, আত্মহত্যা, কাপড়-কাচা, গুনটানা, জাতিগত, দর্পচূর্ণ, দুঃখপ্রাপ্ত, নারী-নির্যাতন, পদত্যাগ, চুক্তি-সম্পাদন, বৃত্তিপ্রাপ্ত, বুকজুড়ানো, দেশত্যাগ, প্রাণনাশ, ফুলতোলা, বর্ণনাতীত, বিপদাপন্ন, ব্যক্তিগত, হস্তগত, রেখাপাত, মর্মগত, মজ্জাগত ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• 'গোঁফ খেজুরে' বাগ্ধারার অর্থ - খুব অলস।
অন্যদিকে,
- চশমখোর - বেহায়া।
- ছা-পোষা - অত্যন্ত গরিব।
- জগাখিচুড়ি - বিশৃঙ্খল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• "রাস্তা সংকীর্ণ।"
এখানে,
"সংকীর্ণ" একটি বিশেষণ (adjective) যা রাস্তা শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ পদ নেই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
শুদ্ধ বানান- পিপীলিকা।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
এরূপ কিছু সগুদ্ধ বানান হলো- সমীচীন, আইনজীবী, শারীরিক, শিরশ্ছেদ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• "৩১ তারিখ থেকে পরীক্ষা শুরু।" এই বাক্যে '৩১ তারিখ' অপাদান কারক।
- এখানে ৩১ তারিখ থেকে পরীক্ষা আরম্ভ বুঝাচ্ছে তাই এটি অপাদান কারক।
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।
প্রশ্ন: সঠিক সমার্থক শব্দ জোড়া কোনটি?
সমাধান:
বিহগ, দ্বিজ = পাখি এর সমার্থক শব্দ।
কিন্তু,
'মৃগ' = 'হরিণ' এর সমর্থক
'মৃগাঙ্ক' = 'চাঁদ' এর সমর্থক
'অরুণ' = 'সূর্য' এর সমার্থক শব্দ।
'পাষাণ' = 'পাহাড়' এর সমার্থক শব্দ।
'লহর' = 'ঊর্মি' এর সমার্থক শব্দ।
'গজ' = 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।
সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।
ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
• 'Amplitude' এর বাংলা পরিভাষা - বিস্তার।
অন্যদিকে,
Communique - ইশতেহার।
Avocation - পেশা / বৃত্তি।
Delinquency - দুষ্ক্রিয়তা।
উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
• 'সুবহ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - দুর্বহ।
অন্যদিকে,
- 'সুলভ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - দুর্লভ।
- 'সদ্ভাব' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরোধ।
- 'সরব' এর বিপরীতার্থক শব্দ - নীরব।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।
যেমন:
- গ্রাম > গেরাম।
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।
• তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
• 'Facsimile' এর বাংলা পরিভাষা - প্রতিরূপ।
অন্যদিকে,
Faction - উপদল।
Fiction - কথাসাহিত্য।
Fraction - ভগ্নাংশ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।
যেমন:
১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। (সহগামীতা অর্থে),
২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। (সমসূত্রে অর্থে),
৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না। (তুলনায় অর্থে),
৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। (বিরুদ্ধগামীতা অর্থে)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'বিরানব্বই' পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নয়।
- এটি ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
- যেমন: ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো)।
- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে।
- এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যেমন 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'দ্বি', 'দু', এবং 'দো'। 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং 'তে'।
অন্যদিকে,
- উনিশতম - সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।
- আড়াই - ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।
- তেহাই - ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
উপপদ তৎপুরুষ সমাসঃ উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে-সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : অগ্রে গমন করে যে = অগ্রগামী। এখানে ‘গামী’র স্বতন্ত্র প্রয়ােগ নেই। অগ্রে গামী বললে চলবে না, ব্যাসবাক্য হবে ‘অগ্রে গমন করে যে'।
এরূপ,
ধামা ধরে যে = ধামাধরা;
ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
জাদু করে যে = জাদুকর,
ছা পােষে যে = ছাপােষা,
পাড়া বেড়ায় যে = পাড়াবেড়ানি
ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
• সঠিক উত্তর - সবগুলোই। অপশনে সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।
অশুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।
অশুদ্ধ বাক্য: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
নির্দেশক: যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। যেমন: -টা , -টি, -খানা, -খানি, - জন, -টুকু।
- টুকু
- টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ: -টু বা -টুক।
যেমন: সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।
-টা, -টি:
বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, -টি নির্দেশক বসে।
এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে । যেমন: বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।
-খানা, -খানি:
বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -খানা, -খানি নির্দেশক বসে। যেমন: ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি। যেসব ক্ষেত্রে -টা বা -টি বসে, সেসব ক্ষেত্রে -খানা বা -খানি বসতে পারে। যেমন: বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেছি।
- বিশেষণ রূপে: রোগী বুঝি যায় যায়। তোমার নেই নেই ভাব আর গেলো না।
- স্বলপকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কিভাবে?
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
- দেব + ঋষি = দেবর্ষি,
- মহা + ঋষি = মহর্ষি।
এরূপ – অধমর্ণ, উত্তমর্ণ, সপ্তর্ষি, রাজর্ষি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - পুনরুজ্জীবন।
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: নতুন জীবনলাভ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ হলো 'জজ সাহেব'।
• কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
- যেমন:
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
- যিনি মাস্টার তিনিই সাহেব = মাস্টার সাহেব।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
ক) ঘরমুখো হলো প্ৰত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
• প্ৰত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি৷ যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ)।
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)।
- ঘরমুখো (মুখ+ও) - ঘরের দিকে মুখ যার।
গ) মধুমাখা হলো তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ।
ঘ) নরপশু হলো নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি।
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি:
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক ধরনের বহুব্রীহি সমাস যা কোনো সাধারণ ব্যাকরণগত নিয়মের অধীনে থাকে না এবং এর
ব্যাসবাক্য বা বিশ্লেষণ স্বাভাবিক নিয়মে হয় না। এগুলি বিশেষ বা ব্যতিক্রমী প্রয়োগ
- উদাহরণ:
- নরপশু = নরাকারের পশু যে।
- দ্বীপ = দু দিকে অপ (জল) যার।
- অন্তরীপ = অন্তর্গত অপ (জল) যার।
- জীবস্মৃত = জীবিত থেকেও যে মৃত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
- 'কুজ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ: কুহেলিকা, কুয়াশা।
- সন্ধিবিচ্ছেদ: কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।
• আরো কিছু শব্দার্থ:
- ‘অঙ্গনা’ শব্দের অর্থ - অঙ্গসৌষ্ঠববিশিষ্ট নারী, সুন্দর নারী।
- ‘ললনা’ শব্দের অর্থ - নারী, কান্তা, পত্নী।
- 'আফতাব' শব্দের অর্থ - সূর্য।
- 'বিবর' শব্দের অর্থ - গহ্বর।
- চূড়া' শব্দের অর্থ - শীর্ষদেশ, শিখর।
- পর্ণ শব্দের অর্থ - গাছের পাতা; তাম্বুল; পান; ডানা ইত্যাদি।
- পর্ণমোচী শব্দের অর্থ - পত্রঝরা; পত্রমোচী।
- 'সলিল' শব্দের অর্থ - 'জল'।
- 'খগ' শব্দের অর্থ - পাখি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
অধিকরণ কারকের প্রকারভেদ
অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা-
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।
কালাধিকরণঃ
যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে। উদাহরণ-
শরতে শাপলা ফোটে।
সকালে সে চলে যাবে।
প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ।
ভাবাধিকরণঃ
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে 'ভাবে সপ্তমী' বলা হয়। যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
হাসিতে মুক্তা ঝরে।
জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ।
আধারাধিকরণঃ
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:- ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।
১. ঐকদেশিকঃ
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
সামীপ্য(নৈকট্য) অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (ঘাটের কাছে)
'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে। (দুয়ারের কাছে)
রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।
২. অভিব্যাপকঃ
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)
৩. বৈষয়িকঃ
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন-
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
সমুচ্চয়ী অব্যয় :
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা-
সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
- "লোকটি দরিদ্র্য কিন্তু সৎ।" - এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো - সংকোচক অব্যয়।
অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়।
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।
সংযোজক অব্যয়:
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।