বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৭৩ / ৩৫৪ · ৭,২০১৭,৩০০ / ৩৫,৭১৩

৭,২০১.
'কাঁচামিঠা' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. কাঁচা ও মিঠা
  2. কাঁচার মিঠা
  3. যা কাঁচা তাই মিঠা
  4. কাঁচা মিঠা
সঠিক উত্তর:
যা কাঁচা তাই মিঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা কাঁচা তাই মিঠা
ব্যাখ্যা
• "কাঁচামিঠা" শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য হলো— "যা কাঁচা, তাই মিঠা (মধুর)"।

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে,
• 'কাঁচা অথচ মিঠা'- 'কাঁচামিঠা'- কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ দেওয়া আছে। 

----------------------- 
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
রক্ত যে কমল = রক্তকমল।
কাঁচা অথচ মিঠা/ যা কাঁচা, তাই মিঠা = কাঁচামিঠা। 
যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২০২.
‘দ্যুলোক’ - এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দিগ্ + লোক
  2. দি + লোক
  3. দিব্‌ + লোক
  4. দুঃ + লোক
সঠিক উত্তর:
দিব্‌ + লোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিব্‌ + লোক
ব্যাখ্যা

- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসরণ করে না। এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।
- দ্যুলোক নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
- এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো- দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।

এছাড়াও আরো কয়েকটি নিপাতনে সিন্ধ ব্যাঞ্জনসন্ধির উদাহরণ- 
ষট্‌ + দশ = ষোড়শ;
পর্‌ + পর = পরস্পর;
গো + পদ = গোস্পদ।

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২০৩.
'ক্রোধানল' - কোন কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. রূপক
  2. উপমিত
  3. উপমান
  4. মধ্যপদলোপী
সঠিক উত্তর:
রূপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক
ব্যাখ্যা

রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা ‘ই’ যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।

যেমন:
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি= মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,২০৪.
'কুমড়া > কুমড়ো' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদি স্বরাগম
  2. পরাগত সমীভবন
  3. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্ত্য সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
প্রগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী স্বরের পরিবর্তন তথা পূর্ববর্তী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা।
যথা- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো ইত্যাদি।

• পূর্ববর্তী উচ্চাবস্থিত ই-স্বরের প্রভাবে পরবর্তী নিম্নাবস্থিত আ-স্বর উচ্চ-মধ্যাবস্থিত এ-স্বরে পরিণত হয়। 
সূত্র: (ই→ আ> এ):
- মিথ্যা > মিথ্যে,
- মিঠা > মিঠে,
- ফিতা > ফিতে,
- বিলাত > বিলেত,
- ছিলাম > ছিলেম ইত্যাদি।

• পূর্ববর্তী উচ্চাবস্থিত উ (ক্ষেত্র বিশেষে উ)-স্বরের প্রভাবে নিম্নাবস্থিত আ-স্বর উচ্চ-মধ্যাবস্থিত ও-স্বরে পরিণত হয়। 
সূত্র: (উ→ আ > ও):
- খুড়া > খুড়ো,
- জুতা > জুতো,
- বুড়া > বুড়ো,
- রূপা > রুপো,
- পূজা > পুজো,
- কুমড়া > কুমড়ো,
- ফুটা > ফুটো,
- ফুলা > ফুলো ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২০৫.
'বিপিন' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ফুল 
  2. বন
  3. পাখি
  4. পর্বত 
সঠিক উত্তর:
বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন
ব্যাখ্যা



• 'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,২০৬.
'দুই ভাইয়ের মধ্যে কোন কথা নেই'। এখানে 'কথা' শব্দটি কোন অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে?
  1. ক) গল্প
  2. খ) তর্ক
  3. গ) অসৎভাব
  4. ঘ) পরামর্শ
সঠিক উত্তর:
গ) অসৎভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অসৎভাব
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কতকগুলো বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া-জাতীয় পদ রয়েছে যেগুলো বাক্যে বিশিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং একই শব্দ ভিন্ন ভিন্ন বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। এ জাতীয় বাক্যের পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এক একটা শব্দের অর্থ নির্ণীত হয়ে থাকে।

যেমন: 'কথা' শব্দের অর্থ মনের ভাব প্রকাশ করা,  কোন কিছু বলা।
কিন্তু, "দুই ভাইয়ের মধ্যে কোন কথা নেই।" এ বাক্যে 'কথা' শব্দটি মনোমালিন্য বা অসৎভাব বোঝাতে প্রয়োগ হয়েছে।

তেমনিভাবে, 'গা' শব্দের আর্থ দেহ, শরীর। কিন্তু,
কাজে গা লাগা- এ বাক্যে গা শব্দটি 'মনোযোগ' অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২০৭.
'পাইলট' কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষাতে এসেছে?
  1. ফারসি
  2. ইংরেজি
  3. ফরাসি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
ব্যাখ্যা
• ‘পাইলট’ শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে আগত।

• ফরাসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:

কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, পাউডার, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তুর্কি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

• ইংরেজি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এফিডেভিট, এপ্রিল, এমডি, এয়ারপোর্ট, কনফারেন্স, কফিন, কমিটি, ক্যাবিন, ডজন, ডলফিন, তার্পিন।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২০৮.
"বাহাদুর" কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. তুর্কি
  3. পাঞ্জাবি
  4. সংস্কৃত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা
"বাহাদুর" 'তুর্কি' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া খেতাববিশেষ,
- কৃতী, বীর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২০৯.
'হাড়হদ্দ' বাগধারা দিয়ে বোঝায় -
  1. ক) স্পর্ধা
  2. খ) অকৃত্রিম
  3. গ) নাড়ীনক্ষত্র
  4. ঘ) দৃঢ়তা
সঠিক উত্তর:
গ) নাড়ীনক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাড়ীনক্ষত্র
ব্যাখ্যা

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
• হাড়হদ্দ - সবকিছু
• সপ্তকান্ড রামায়ণ - বৃহৎ বিষয়
• ঢাকঢাক গুড় গুড় - লুকোচুরি
• দিবাস্বপ্ন - অলীক কল্পনা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

৭,২১০.
নিচের কোনগুলো দন্তমূলীয় ধ্বনি?
  1. ক) ত, দ
  2. খ) চ, ঞ
  3. গ) ন, ল
  4. ঘ) ড, ণ
সঠিক উত্তর:
গ) ন, ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ন, ল
ব্যাখ্যা
উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনি সাত প্রকার। যথা-

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি: জিভের মূল বা গোড়ালি উঁচু করে কোমল তালুর সামনের বা মাঝের সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ক, খ, গ, ঘ ঙ/ং।

তালব্য ধ্বনি
: জিভের পাতা উঁচু করে অর্থতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন - চ, ছ, জ, ঝ ঞ, শ।

দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি: সমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি উপর পাটি দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা একটু উল্টো করে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হ তাদের দন্তমূলায়
মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ট ঠ ড ঢ ণ ড় ঢ়।

দন্ত ধ্বনি: উপর পাটি দাঁতের সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের দন্ত ধ্বনি বলে। যেমন- ত, থ, দ, ধ।

ওষ্ঠ্য ধ্বনি:
উপরের ঠোঁটের সঙ্গে নিচের ঠোঁট লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন— প, ফ, ব, ভ, ম।

দন্তমূলীয় ধ্বনি
: উপর পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে। যেমন - , য, র, , স।

কন্ঠ্য ধ্বনি:
স্বরযন্ত্রের ভেতরে যে দুট স্বরতন্ত্রী আছে তাদের সংকোচনের সাহায্যে বায়ুপথ সংকীর্ণ করে, কিন্তু একেবারে বন্ধ না করে যে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাকে কন্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- হ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭,২১১.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. পুঙ্খানুপুঙ্খ
  2. প্রনয়িণী
  3. রীতিনীতি
  4. অনুকূল
সঠিক উত্তর:
প্রনয়িণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রনয়িণী
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - প্রনয়িণী
- শুদ্ধ বানান - প্রণয়িনী।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অনুরক্ত ব্যক্তি।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বানানগুলো - অনুকূল, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং রীতিনীতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,২১২.
Q 3-5 শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন:
  1. দেদিপ্যমান
  2. দেদিপ্যমাণ
  3. দেদীপ্যমাণ
  4. দেদীপ্যমান
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
ব্যাখ্যা
• দেদীপ্যমান বানানটি শুদ্ধ।

• দেদীপ্যমান (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
-  অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন;
- অতিশয় দীপ্তিশীল;
- জাজ্বল্যমান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২১৩.
'ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা' - এ বাক্যে 'অঙ্ক' কোন কারক?
  1. ক) অধিকরণ
  2. খ) করণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) অপাদান
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধার কে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ বলে। ক্রিয়াকে 'কোথায়, কখন, কী বিষয়' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক। ‘ছেলেটি কোন বিষয়ে কাঁচা?’ জিজ্ঞেস করা গেলে তাই অঙ্ক অধিকরণ কারক। সূত্র: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
৭,২১৪.
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত নয় কোনটি?
  1. √পড়ু + অ = পড়
  2. √পট্ + অ = পাঠ
  3. √ঝাঁক্ + আনি = ঝাঁকানি
  4. √চল্ + অ = চল
সঠিক উত্তর:
√পট্ + অ = পাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√পট্ + অ = পাঠ
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:
অ:
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল,
- √পড়ু + অ = পড়

আনি:
- √জ্বাল্ + আনি = জ্বালানি, 
- √ঝাঁক্ + আনি = ঝাঁকানি,
- √নিডু + আনি = নিড়ানি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন - √পট্ + অ = পাঠ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৭,২১৫.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. Orthography - বাক্যতত্ত্ব
  2. Plural - বচন
  3. Intonation - বানানতত্ত্ব
  4. Clause - কাব্যকল্প
সঠিক উত্তর:
Clause - কাব্যকল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Clause - কাব্যকল্প
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ পারিভাষিক শব্দ: 
• ‘Clause’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - কাব্যকল্প।

অন্যান্য পারিভাষিক শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ:
• ‘Orthography’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - বানানতত্ত্ব।
• ‘Plural' শব্দের পারিভাষিক শব্দ - বহুবচন।
• ‘Intonation’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - বাক্যসুর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
৭,২১৬.
যে স্বামীর স্ত্রী প্রবাসে থাকে তাকে কী বলে?
  1. প্রোষিতপত্নীক
  2. প্রোষিতভর্তৃকা
  3. প্রবাসিনী
  4.  প্রোষিতা
সঠিক উত্তর:
প্রোষিতপত্নীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোষিতপত্নীক
ব্যাখ্যা

যে স্বামীর স্ত্রী প্রবাসে থাকে তাকে বলে প্রোষিতপত্নীক।

উল্লেখ্য,
- প্রোষিত অর্থ:বিদেশগত, প্রবাসী। স্ত্রী. প্রোষিতা/প্রোশিতা।।
- প্রোষিতপত্নী অর্থ: যে ব্যক্তির পত্নী প্রবাসে থাকে।
- প্রোষিতভর্তৃকা অর্থ: যে নারীর স্বামী প্রবাসে থাকে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,২১৭.
'বিরাগী' শব্দের অর্থ হলো-
  1. উদাসীন
  2. প্রতিকূল
  3. রাগহীন
  4. অনুরাগ
সঠিক উত্তর:
উদাসীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদাসীন
ব্যাখ্যা
• বিরাগী (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- উদাসীন;
- আসক্তিহীন;
- নিঃস্পৃহ।

•  অনুরাগী এর বিপরীত শব্দ বিরাগী।

উৎস: বাংলা একাডেমি,আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২১৮.
‘দশম শ্রেণি’ - এখানে 'দশম' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. ক্রমবাচক
  4. পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান 'প্রথম', প্রথমা, পহেলা ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

• প্রকারভেদ:
• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), 
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পুরণবাচক শব্দ:
- কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকিটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২১৯.
‘তিল’ কী ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দ দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:

⇒ মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

⇒ সাধিত শব্দ:
একাধিক শব্দের সমাম হয়ে কিংবা ধাতু ও শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যোগ হয়ে যে শব্দ তৈরি হয় তা-ই সাধিত শব্দ। যেমন: গরমিল, ডুবুরি, চলন্ত, প্রশাসন, ফিসফিস, ধুমাধুম, নীলকাশ, সংসদ, সদস্য, পরিচালক, সম্পাদকীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ)।
৭,২২০.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
• বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• মাত্রাভেদে বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ হচ্ছে ৮টি।

• মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)। 

• মাত্রাভেদে স্বরবর্ণ:
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি (ঋ)।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২২১.
'অরণ্য - অরণ্যানী' স্ত্রীবাচক শব্দ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বৃহৎ
  2. খ) কঠিন
  3. গ) ক্ষুদ্র
  4. ঘ) জমানো
সঠিক উত্তর:
ক) বৃহৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বৃহৎ
ব্যাখ্যা
• আনী প্রত্যয় যোগে কখনো কখনো পুরুষবাচক থেকে স্ত্রীবাচকে রূপান্তর করলে অর্থের পার্থক্য ঘটে।
যেমন :
- অরণ্য - অরণ্যানী (বৃহৎ অর্থে)
- হিম- হিমানী (জমানো অর্থে)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৭,২২২.
‘বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. বিটপী
  2. দ্রুম
  3. বনানী
  4. পাদপ
সঠিক উত্তর:
বনানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনানী
ব্যাখ্যা
• ‘বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় - বনানী।

'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, তরু, বিটপী, মহীরুহ।

অন্যদিকে,
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২২৩.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. গণ্যনীয়
  2. বিবাদমান
  3. ঐক্যমত
  4. ঐকতান
সঠিক উত্তর:
ঐকতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐকতান
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি. আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধবানান = ঐকতান।

অন্যদিকে,
• বাকি শব্দগুলো প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত অশুদ্ধ।

- ”গণ্যনীয়” শব্দের শুদ্ধরূপ = গণনীয়।
- ”বিবাদমান” শব্দের শুদ্ধরূপ = বিবদমান।
- ”ঐক্যমত” শব্দের শুদ্ধরূপ = ঐকমত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২২৪.
মানী পক্ষের বহুবচন নির্দেশ করতে কোন প্রত্যয় ব্যবহার করা হয় না?
  1. গণ
  2. বৃন্দ
  3. বর্গ
  4. কুল 
সঠিক উত্তর:
কুল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুল 
ব্যাখ্যা

মানী পক্ষের বহুবচন নির্দেশ করতে কুল লগ্নক ব্যবহার করা হয় না। 

মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে, 
- গণ, 
- বৃন্দ, 
- মণ্ডলী, 
- বর্গ, ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।

প্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্র কুল ব্যবহৃত হয়,
কুল : জীবকুল, অলিকুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৭,২২৫.
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্যে এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. অর্থসংগতি
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা, তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
'আমি গিয়ে দেখলাম'- এতে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয় না। যখন বলা হয়- 'আমি গিয়ে দেখলাম তারা চলে গেছে।' এখন এটি একটি বাক্য হলো। কেননা, এ কথা বলার পরে আর কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা থাকে না

অন্যদিকে,
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন – কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন - কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলনের নাম যোগ্যতা।
যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
- এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৭,২২৬.
‘পুনরুক্ত’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুনঃ + রুক্ত
  2. পুনঃ + উক্ত
  3. পুনঃ + ঊক্ত
  4. পুনঃ + উত্ত
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম:
অ- কারের পরস্থিত র্‌-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + গত= অন্তর্গত,
- অহঃ + অহ= অহরহ,
- পুনঃ + উক্ত= পুনরুক্ত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২২৭.
নিচের কোনটি সমানাধিকার বহুব্রীহি?
  1. একগুঁয়ে
  2. গোঁফখেজুরে
  3. চিরুনদাঁতি
  4. হাতেখড়ি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
একগুঁয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একগুঁয়ে
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন - বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি। 
ক. পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে। 
যেমন – এক গো যার = একগুঁয়ে, লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে। 

খ. পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনাে কখনাে ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়। যেমন - গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

গ. যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লােপ পায়, তাকে পদলােপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন - চিরুনির মতাে দাঁত যার = চিরুনদাঁতি, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। 

ঘ. পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনাে অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। যেমন – হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

 ঙ. যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। যেমন - গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, কানে খাটো যে = কানেখাটো।

চ. যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন – চার ভুজ যে | ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ, সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ ( ২০২১ সংস্করণ )
৭,২২৮.
নিচের কোনটি খাঁটি বাংলা শব্দের উদাহরণ?
  1. ডাগর
  2. হাত
  3. কুলা
  4. গোসল
সঠিক উত্তর:
হাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত
ব্যাখ্যা

• তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)। এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়। 
যেমন: 
- সংস্কৃত-হস্ত, প্রাকৃত-হথ, তদ্ভব-হাত
- সংস্কৃত-চর্মকার, প্রাকৃত-চৰ্ম্মআর, তদ্ভব-চামার ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দের কিছু উদাহরণ হলো-  হাত, পা, মাথ্য, কান ইত্যাদি। 

আবার, বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে-
• সংস্কৃত শব্দ 'হস্ত' থেকে 'হাত' অর্ধ-তৎসম শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।  

[প্রশ্নটি বোর্ড বই অনুসারে করা হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) এর বই অনুসারে অপশন (খ) হাত উত্তর গ্রহণ করা হয়েছে।] 

অন্যদিকে,
-------------------- 
• 'ডাগর': 
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- 'দীর্ঘ' সংস্কৃত শব্দ থেকে 'ডাগর' অর্ধ-তৎসম শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে- 'ডাগর' দেশি শব্দ। 

• কুলা:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) অনুসারে এটি একটি দেশি শব্দ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- সংস্কৃত শব্দ 'কুল্য' থেকে অর্ধ-তৎসম শব্দ কুলার উৎপত্তি হয়েছে। 

• গোসল:
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- গোসল (বিশেষ্য পদ)। এটি আরবি ভাষার শব্দ।
উল্লেখ্য, নাওয়া (ক্রিয়া বিশেষ্য ও বিশেষ্য উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলা ভাষার শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,২২৯.
‘সোনালি ফসল’ - এখানে ‘সোনালি’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. বিশেষ্যজাত
  3. ক্রিয়াদ্বিত্বজাত
  4. উপাদানবাচক
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যজাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যজাত
ব্যাখ্যা
‘সোনালি ফসল’ - এখানে ‘সোনালি’ বিশেষ্যজাত বিশেষণ।
বিশেষ্যের সঙ্গে প্রত্যয় (তদ্ধিত প্রত্যয়) যোগে এ ধরনের বিশেষণ গঠিত হয়।এদেরকে বিশেষ্যজাত বিশেষণ।
- দেশীয় (দেশ+ঈয়) সম্পদ,
- সোনালি (সোনা+আলি। ফসল,
- মেঘলা (মেঘ+লা) আকাশ।

• অন্যান্য অপশন:
- গুণবাচক: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন-চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
- ক্রিয়াদ্বিত্বজাত বিশেষণ: ক্রিয়াপদের দ্বিত্ব ঘটিয়ে গঠিত হয়। যেমন। যায় যায় অবস্থা, খাই খাই মলন, কাঁদো কাঁদো চেহারা।
- উপাদানবাচক বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পামুদ্রে মূর্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২৩০.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  2. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
  3. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) যথাসময়ে সে হাজির হয়। 

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয় তা নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৭,২৩১.
অপরিবর্তনীয় পদ কোনটি?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয় শব্দ,
- তৎসম অব্যয় শব্দ এবং
- বিদেশি অব্যয় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৩২.
‘চক্ষুলজ্জা থাকা’ অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. চোখে চোখে রাখা
  2. চোখে ধুলো দেওয়া
  3. চোখে পড়া
  4. চোখের চামড়া
সঠিক উত্তর:
চোখের চামড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের চামড়া
ব্যাখ্যা
• ‘চোখের চামড়া’ বাগ্‌ধারার অর্থ - চক্ষুলজ্জা থাকা।

• আরো কিছু বাগ্‌ধারা:
- ‘চোখ পাকানো’ বাগ্‌ধারার অর্থ - ক্রোধ দেখানো।
- ‘চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো’ বাগ্‌ধারার অর্থ - বিশেষ‍ভাবে ইঙ্গিত করা।
- ‘চোখে চোখে রাখা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - সতর্ক নজরদারি।
- ‘চোখে ধুলো দেওয়া’ বাগ্‌ধারার অর্থ - ফাঁকি দেওয়া।
- ‘চোখে পড়া’ বাগ্‌ধারার অর্থ - সুনজরে পড়া।
- ‘চোখে সরষে ফুল দেখা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - হতবুদ্ধি হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৩৩.
'গূঢ়' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মুক্ত
  2. যুক্ত
  3. ব্যক্ত
  4. ব্যাপ্ত
সঠিক উত্তর:
ব্যক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্ত
ব্যাখ্যা
• 'গূঢ়' অর্থ - গুপ্ত; লুক্কায়িত; অপ্রকাশিত (গূঢ় অভিসন্ধি)। 
• 'ব্যক্ত' অর্থ - প্রকাশ পেয়েছে এমন; প্রকাশিত।

• সুতরাং, 'গূঢ়' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - ব্যক্ত। 

অন্যদিকে, 
• 'ব্যাপ্ত' অর্থ-  প্রসারিত; বিস্তৃত।
• 'যুক্ত' অর্থ- সংযোজিত; সংলগ্ন; একত্র; মিলিত (যুক্তপাণি)।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৭,২৩৪.
"সজোর" শব্দের উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সঙ্গে
  2. সম্মুখ
  3. সম্যক
  4. উৎকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
সঙ্গে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঙ্গে
ব্যাখ্যা

• 'স' বাংলা উপসর্গের ব্যবহার:
- 'সঙ্গে' অর্থে -  সরাজ, সরব, সঠিক, সজোর, সপাট।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৭,২৩৫.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) চন্দ্রমুখ
  2. খ) চাঁদমুখ
  3. গ) মুখচন্দ্র
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রমুখ’, ‘চাঁদমুখ’, ‘মুখচন্দ্র’
‘চন্দ্র’ সংস্কৃত শব্দ। এর তদ্ভব রূপ হলো ‘চাঁদ’। সুতরাং যা ‘চন্দ্রমুখ’ তা-ই ‘চাঁদমুখ’।  
মুনীর চৌধুরী ও অন্যান্য রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ গ্রন্থের ৬৩ পৃষ্ঠায় ‘চন্দ্রমুখ’ শব্দটিকে উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ড. হায়াৎ মামুদ ‘উচ্চতর স্বনির্ভর বিশুদ্ধ ভাষা-শিক্ষা’ গ্রন্থের (একুশতম সংস্করণ, মে ২০১৯) ৩৩৯ পৃষ্ঠায় ‘চাঁদমুখ’ ও ‘মুখচন্দ্র’ উভয়কে উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন। 

নবম-দশম শ্রেণির জন্য বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ গ্রন্থে ‘চন্দ্রমুখ’ শব্দকে উপমিত কর্মধারয় সমাসে রেখেছে।

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ’ গ্রন্থে ‘মুখচন্দ্র’ ও ‘চাঁদমুখ’ উভয়কে উপমিত কর্মধারয় হিসেবে দেখিয়েছে। কিন্তু ‘চাঁদমুখ’কে আবার রূপক কর্মধারয় সমাসেও রেখেছেন।

ড. সৌমিত্র শেখর যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন যে, ‘চন্দ্রমুখ’ রূপক কর্মধারয় সমাস এবং ‘মুখচন্দ্র’ উপমিত কর্মধারয়। তিনি লিখেছেন, ‘চাঁদমুখ/চন্দ্রমুখ’ রূপক কর্মধারয় এবং ‘মুখচন্দ্র’ উপমিত কর্মধারয় সমাস। ‘চন্দ্রমুখ’-এ চন্দ্র বা চাঁদের সৌন্দর্যের (অবস্তু) সঙ্গে মুখের (বস্তু) সৌন্দর্যের অভেদ কল্পনা করা হয়েছে। চাঁদের আকারের সঙ্গে (অবশ্য চাঁদের আকার পৃথিবী থেকে কাস্তে, অর্ধবৃত্ত, গোল ইত্যাদি নানারূপ দেখা যায়) তুলনা করা হয়নি।

অন্যদিকে ‘মুখচন্দ্র’ বলতে ‘মুখ চন্দ্রের ন্যায়’ সুন্দর বোঝায়। এখানে চন্দ্র সৌন্দর্যের (বিশেষ্য) প্রতীক। গোল বা কাস্তের আকৃতি এখানে বোঝানো হচ্ছে না। অনেক গ্রন্থে ‘মুখচন্দ্র = মুখ চন্দ্রের ন্যায়’  ‘চাঁদমুখ = চাঁদের ন্যায় মুখ’ লিখে উভয়ই উপমিত কর্মধারয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে (দ্রষ্টব্য : হরলাল রায় : ‘উচ্চতর ব্যাকরণ ও ভাষা’)। কিন্তু এ দুটো তো এক হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে জগদীশ ঘোষ রচিত ‘আধুনিক বাংলা ব্যাকরণে’ (১৯৪০) সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, ‘চন্দ্রমুখ’ রূপক কর্মধারয় সমাস।
(বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, পৃষ্ঠা : ৮৪, এপ্রিল, ২০১৮)

সিদ্ধান্ত : মুখচন্দ্র এলে কোনো চিন্তা ছাড়াই উপমিত কর্মধারয় দিবেন। আর চন্দ্রমুখ/চাঁদমুখ এলেও উপমিত কর্মধারয় দিবেন, যদি উপমিত না থাকে তবে রূপক দিবেন।
এককথায় চাঁদ ও মুখের তুলনা এলেই উপমিত কর্মধারয় দিবেন। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৭,২৩৬.
"ছাগলে কী না খায়।" - বাক্যে "ছাগল' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৭,২৩৭.
'পদ্ম' ও 'পুষ্প' এর সমার্থক শব্দ কোনগুলো ?
  1. ক) অরবিন্দ, প্রসুন
  2. খ) কমল, শিতাংশু
  3. গ) নলিনী, শশধর
  4. ঘ) ফুল, কামিনী
সঠিক উত্তর:
ক) অরবিন্দ, প্রসুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অরবিন্দ, প্রসুন
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্ম’ এর সমার্থক শব্দ: কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।
• ‘পুষ্প’ এর সমার্থক শব্দ: ফুল, কুসুম, প্রসূন

অন্যদিকে,
'কামিনী' শব্দের সমার্থক শব্দ গুলো হলো: নারী, অবলা, রমণী, মহিলা, স্ত্রীলোক ইত্যাদি।
‘চন্দ্র’ এর অন্য সমর্থক শব্দগুলো হল: চাঁদ, সুধাংশু, সুধাকর, শশাঙ্ক, শশধর, শশী, হিমাংশু, শীতাংশু, সুধানিধি ইত্যাদি।

[অতএব কাছাকাছি উত্তর হিসেবে অপশন ‘ক’ গ্রহণ করা হলো।]

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২৩৮.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কাপড়চোপড়
  2. অচিন্ত্যনীয়
  3. তদনুসারে
  4. অঙ্গীকার
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্যনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্যনীয়
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'অচিন্ত্যনীয়'

- শব্দটির শুদ্ধরূপ - 'অচিন্তনীয়'
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- অভাবনীয়, চিন্তার অতীত।

অন্যদিকে,
- অঙ্গীকার, তদনুসারে এবং কাপড়চোপড় - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৩৯.
'গুনাহ' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. গুজরাটি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
•  ফারসি শব্দ:

(১) ধর্মসংক্রান্ত শব্দ:
খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা ইত্যাদি।
(২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ:
কারখানা, চশমা, জবানবন্দি,  তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা,ত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৪০.
‘দুর্যোগ’ কোন সন্ধি-সাধিত শব্দের উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যাঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ।

⇒ অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৪১.
'কণ্ঠৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কণ্ঠ + ওষধি
  2. কণ্ঠ + ঔষধি
  3. কণ্ঠ + ওষধ
  4. কণ্ঠঃ + ওষধি
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ + ওষধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ + ওষধি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।

অ+ ও = ঔ:
- বন+ ওষধি = বনৌষধি,
- কণ্ঠ + ওষধি = কণ্ঠৌষধি।

অ + ঔ= ঔ:
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
- চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ, এসএইচসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,২৪২.
"দিনের আলো ও সন্ধ্যার আলোর মিলন" - এর এক কথায় কী বলে?
  1. প্রদোষ
  2. অপরাহ্ন
  3. গোধূলি
  4. সায়াহ্ন
সঠিক উত্তর:
গোধূলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোধূলি
ব্যাখ্যা
• "দিনের আলো ও সন্ধ্যার আলোর মিলন" - এর এক কথায় - 'গোধুলি'।

• গোধুলি: (বিশেষ্য)- 

অর্থ: 
- সন্ধ্যাবেলা;
- সায়ংকাল;
- সূর্যাস্ত কাল;
- যখন গরুর পাল ধূলি উড়াইয়া গৃহে ফেরে (গোধূলির লাল রং তখন আকাশে)।

অন্যদিকে,
• প্রত্যুষ (বিশেষ্য)
অর্থ: 
- ভোর; প্রভাত।

• প্রদোষ (বিশেষ্য)
অর্থ: 
- রাত্রি।
- সন্ধ্যা; সায়ংকাল।

• অপরাহ্ন (বিশেষ্য)
অর্থ: 
- বিকাল;
- মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাল।

সূত্র: বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিগম্য অভিধান ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৪৩.
"যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য। 

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,২৪৪.
বাংলা বর্ণমালায় কোন স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই?
  1. ক) অ
  2. খ) আ
  3. গ) উ
  4. ঘ) ঔ
সঠিক উত্তর:
ক) অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায় 'অ'-এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ বা কার নেই।
- স্বরবর্ণ যখন নিরপেক্ষ বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ কোনাে বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় না, তখন এর পূর্ণরূপ লেখা হয়।
- একে বলা হয় প্রাথমিক বা পূর্ণরূপ।
- যেমন- অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
- এই রূপ শব্দের আদি, মধ্য বা অন্ত যে-কোনাে অবস্থানে বসতে পারে। 
- স্বরধ্বনি যখন ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হয়, তখন সে স্বরধ্বনিটির বর্ণ সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়।
- স্বরবর্ণের এ সংক্ষিপ্ত রূপকে কার বলে। 
- স্বরবর্ণের কারবর্ণ ১০ টি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,২৪৫.
‘Anomaly’ - এর পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) টীকা
  2. খ) বার্ষিক
  3. গ) ক্রোড়পত্র
  4. ঘ) ব্যত্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যত্যয়
ব্যাখ্যা
‘Anomaly’ - এর পরিভাষা - ব্যত্যয়।

অন্যান্য অপশন:
Annotation = টীকা।
Annual = বার্ষিক বা বাৎসরিক।
Annex = ক্রোড়পত্র

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৭,২৪৬.
'ইনাম' শব্দের অর্থ-
  1. নামহীন
  2. কিংবদন্তি
  3. বখশিশ
  4. প্রশস্ত
সঠিক উত্তর:
বখশিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বখশিশ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ইনাম' শব্দের অর্থ- 'বখশিশ'। 

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ:
 অক্ষিব- সামুদ্রিক লবণ,
অকিঞ্চন- নিঃস,
অনিল- বাতাস,
অনূক- মূত্রস্থলী,
অনূপ- জলাশয়,
অনর্ঘ- অতি দামি,
ইনাম- পুরস্কার। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৪৭.
'Autonomous' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. সাম্রাজ্যবাদ
  2. ফ্যাসিবাদ
  3. স্বৈরতন্ত্র
  4. স্বায়ত্তশাসিত
সঠিক উত্তর:
স্বায়ত্তশাসিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বায়ত্তশাসিত
ব্যাখ্যা
• 'Autonomous' এর বাংলা পারিভাষিক - স্বায়ত্তশাসিত। 

অন্যদিকে, 
• 'Fascism' অর্থ - ফ্যাসিবাদ।
• Imperialism - সাম্রাজ্যবাদ
• Autocracy' অর্থ - স্বৈরতন্ত্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।
৭,২৪৮.
‘Essay' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. মহাকাব্য
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. প্রহসন
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘Essay' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - প্রবন্ধ।

অন্যদিকে,
• ‘Novel' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উপন্যাস।
• ‘Farce' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - প্রহসন।
• ‘Epic' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - মহাকাব্য।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৭,২৪৯.
"প্রাচুর্য" শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- "প্রাচুর্য" শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।

• 'প্রাচুর্য' (বিশেষ্য)- 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রচুর+য।
অর্থ:
- আধিক্য, বাহুল্য।

উল্লেখ্য,
'প্রচুর' শব্দটি বিশেষণ যার অর্থ - প্রয়োজনানুরূপ; যথেষ্ট; পর্যাপ্ত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,২৫০.
'Alleged' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - 
  1. অনুগত্য
  2. অভিযোগ
  3. অভিযুক্ত
  4. অভিযোগ করা
সঠিক উত্তর:
অভিযুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিযুক্ত
ব্যাখ্যা

• 'Alleged' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- অভিযুক্ত।  

অন্যদিকে, 
• 'Allegiance' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- অনুগত্য।  
• 'Allegation' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ-  অভিযোগ। 
• 'Allege' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- অভিযোগ করা। 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

৭,২৫১.
কোনটি 'ইনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. ক) মায়াবিনী
  2. খ) গৃহিণী
  3. গ) সুকেশিনী
  4. ঘ) তরুনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) তরুনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তরুনী
ব্যাখ্যা
তরুনী - ইনী প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয়।

- এটি ঈ- প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ।
তরুণ - তরুণী
হরিণ - হরিনী
নর্তক - নর্তকী

ইনী-প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:

মায়াবী - মায়াবিনী
সুকেশ - সুকেশিনী
গৃহী - গৃহিণী

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭,২৫২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অশরীরি
  2. নিরহঙ্কার
  3. পুঙ্খানুপুঙ্ক
  4. চূর্ণবিচূর্ণ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চূর্ণবিচূর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চূর্ণবিচূর্ণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - চূর্ণবিচূর্ণ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- সম্পূর্ণ চূর্ণিত,
- সম্পূর্ণ বিনষ্ট।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ:
- অশরীরী, নিরহংকার এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,২৫৩.
'অধমর্ণ' শব্দের অর্থ কী?
  1. আধ মরা
  2. অভিশপ্ত
  3. নিচু ব্যক্তি
  4. ঋণী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঋণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'অধমর্ণ' শব্দের অর্থ দেনাদার, ঋণগ্রহীতা, ঋণী।
- ব্যুৎপত্তি: অধম + ঋণ।
- 'অধমর্ণ' শব্দের বিপরীত শব্দ -উত্তমর্ণ বা মহাজন।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ:
- সালতি - ছোট ডিঙ্গি নৌকা, 
- প্রদোষ - সন্ধ্যা, 
- আহব - যুদ্ধ, 
- সওগাত - উপহার, 
- হোমাগ্নি - আগুন,
- বামেতর - ডান,
- সায়র - দিঘি,
- পার্বণ - উৎসব,
- লেফাফা - মোড়ক,
- আদিখ্যেতা - ন্যাকামি,
- চয়ন - সম্ভার,
- অর্ঘ - মূল্য ,
- অর্ঘ্য- পূজার উপকরণ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৫৪.
নিচের কোন জোড়াটি ভুল? 
  1. গুরু – লঘু
  2. গলগ্রহ - প্রতিপাল্য
  3. গৃহীত – বর্জিত
  4. গরিমা – গৃহী
সঠিক উত্তর:
গরিমা – গৃহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরিমা – গৃহী
ব্যাখ্যা

গরিমা – গৃহী এই জোড়াটি ভুল।
সঠিক উত্তর হবে গরিমা - লঘিমা। 

কিছু বিপরীতার্থক শব্দের উদাহরণ-
এঁড়ে - বকনা। 
কৃষ্ণ - শুক্ল। 
গলগ্রহ - প্রতিপাল্য। 
গৃহীত - বর্জিত। 
গুরু - লঘু। 
গরিমা - লঘিমা। 
অন্ধ - চক্ষুষ্মান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৭,২৫৫.
‘Dyarchy’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. দ্বৈত শাসন
  2. রঞ্জনবিদ্যা
  3. সুখাধিকার
  4. বিকীর্ণ
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন
ব্যাখ্যা
• ‘Dyarchy’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ দ্বৈত শাসন। 

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ: 
- Manuscript - পাণ্ডুলিপি, 
- Gazette - ঘোষণাপত্র, 
- Apprentice - শিক্ষানবিশ, 
- Invoice - চালান, প্রেরিতক-সূচি, 
- Manifesto - ইশতেহার। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২৫৬.
ক্রিয়ার মূল অংশকে কী বলা হয়?
  1. ক) প্রাতিপদিক
  2. খ) নামপদ
  3. গ) নাম-প্রকৃতি
  4. ঘ) ক্রিয়া-প্রকৃতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া-প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া-প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলা হয়। একে ক্রিয়া-প্রকৃতিও বলা হয়৷
অপরদিকে বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৭,২৫৭.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. তুলো
  2. জুতা
  3. শুষ্ক
  4. মস্তক
সঠিক উত্তর:
তুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলো
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

আসিয়া - এসে।
মস্তক - মাথা
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭,২৫৮.
"দ্রুতগামী" এটি কোন তৎপুরুষের উদাহরণ?
  1. উপপদ
  2. চতুর্থী
  3. তৃতীয়া
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
উপপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।  কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর, 
- জল দেয় যে = জলদ, 
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৫৯.
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) তেপায়া
  2. খ) দেখাদেখি
  3. গ) জীবন্মৃত
  4. ঘ) দোটানা
সঠিক উত্তর:
ঘ) দোটানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দোটানা
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয়যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস।
যেমন -
- ঊন পাঁজর যার= ঊনপাঁজরে। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা (চোখ + আ)।
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ + ও)
এরকম,
- নি-খরচে, দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৬০.
‘চিরসুখী' - এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. চির দিনের জন্য সুখী
  2. চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
  3. চিরকাল সুখী
  4. চিরদিনের সুখী
সঠিক উত্তর:
চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী।
এরকম: গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ - ২০১৯)।
৭,২৬১.
'রঞ্জন' শব্দে ব্যবহৃত যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ন্‌ + ঞ
  2. ণ্‌ + ঞ
  3. ঞ্‌ + জ
  4. ন্‌ + জ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ
ব্যাখ্যা

• ‘রঞ্জন’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ: 'ঞ+জ'। 
ঞ + জ = ঞ্জ,
যেমন- রঞ্জন, গঞ্জ, কুঞ্জ ইত্যাদি।
----------------------
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না।
- যুক্তবর্ণ দুই রকম।
যথা- স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্দ ইত্যাদি। 

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্‌+স), গু (গ্‌+উ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্‌+ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌+চ), ঞ্ছ (ঞ্‌+ছ), ঞ্জ (ঞ্‌+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), খ (ত্+থ), ত্র (ত্+ত্র), দ্ধ (দ্‌+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্‌+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।
--------------------- 
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ক্ + র = ক্র
ক্ + ষ = ক্ষ
ক্ + স = ক্স
গ্ + উ = গু
গ্ + ধ = গ্ধ
ঙ্ + ক = ঙ্ক
ঙ্ + গ = ঙ্গ
ঞ্ + জ = ঞ্জ
ঞ্ + চ = ঞ্চ
ঞ্ + ছ = ঞ্ছ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৬২.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) ফেল কড়ি মাখ তেল
  2. খ) আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর
  3. গ) অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন
  4. ঘ) যেমন বুনো ওল তেমন বাঘা তেঁতুল
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন
ব্যাখ্যা
• 'অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন' বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
- এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে 'কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন'।
- প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তনকে অশুদ্ধ বলে গণ্য করা হয়।

- ফেল কড়ি মাখ তেল।
- আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর।
- যেমন বুনো ওল তেমন বাঘা তেঁতুল।
উল্লেখিত অপশনগুলো সঠিক বা শুদ্ধ নিয়মে গঠিত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭,২৬৩.
শুদ্ধ বানান -
  1. জ্বরাজীর্ণ
  2. কুটনীতি
  3. আইনজীবি
  4. অগ্নিমান্দ্য
সঠিক উত্তর:
অগ্নিমান্দ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিমান্দ্য
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - অগ্নিমান্দ্য

অন্যদিকে,
আইনজীবি – আইনজীবী, 
কুটনীতি – কূটনীতি, 
জ্বরাজীর্ণ – জরাজীর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৬৪.
কোনটি বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) প্রতিষেধক
  2. খ) সুষমা
  3. গ) অগ্নিষাৎ
  4. ঘ) অভিষেক
সঠিক উত্তর:
গ) অগ্নিষাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অগ্নিষাৎ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে কখনো ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
৭,২৬৫.
ব্যাকরণের কাজ কী?
  1. ক) ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  2. খ) ভালো বক্তা তৈরি করা
  3. গ) নতুন ভাষা তৈরি করা
  4. ঘ) দ্রুত পড়া ও লেখা শেখানো
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের সংজ্ঞার্থ:
ব্যাকরণ হলাে ভাষা ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বিধির সমষ্টি যা ভাষার ধ্বনি ব্যবস্থা, শব্দ তথা রূপের গঠন, বাক্যিক বিন্যাস এবং বাগর্থকে বর্ণনা করে। ব্যাকরণকে অনুশাসনমূলক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার রীতি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত থাকলেও আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ব্যাকরণ মূলত বর্ণনামূলক।
অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট ভাষার ক্ষেত্রে প্রযােজ্য কোনাে বিধি কেন প্রাসঙ্গিক তার বর্ণনামূলক ব্যাখ্যা প্রদান করাই ওই ভাষার ব্যাকরণের লক্ষ্য। সুতরাং, বাংলা ভাষার ব্যাকরণের মুখ্য উদ্দেশ্য হলাে : এই ভাষার ধ্বনিব্যবস্থা কীরূপ তা বর্ণনা করা, বাংলা ভাষার রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যসমূহ শনাক্ত করা, বাংলা বাক্য বিন্যাসের কৌশল ও প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা এবং সর্বোপরি ধ্বনি রূপ ও বাক্যের বাগর্থসংগতি নির্ধারণ করা।

সুতরাং বলা চলে যে, ব্যাকরণের মূল কাজ হলাে ভাষার সংগঠন বিশ্লেষণ। ব্যাকরণ শব্দটির ব্যুৎপত্তি বিবেচনা করলেও এই উদ্দেশ্যই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেননা, ব্যাকরণ’ শব্দটির মূল অর্থ হলাে বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।
শব্দটির গঠন হলাে : বিআ+কৃ+অন। ব্যাকরণ অধ্যয়নের মধ্য দিয়ে যে বিষয়সমূহ আয়ত্ত করা যায় তা হলাে :

ক) ভাষার ধ্বনি, রূপ, বাক্য এবং বাগর্থের গঠন-প্রকৃতি সম্পর্কে শেখা;
খ) উল্লিখিত সকল উপাদানের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারা;
গ) ভাষার প্রমিত ব্যবহারের সামর্থ্য অর্জন করা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,২৬৬.
'আকাশ ও পৃথিবীর অন্তারালোকে' এক কথায় প্রকাশ করলে কী হয়?
  1. রোদসী
  2. ক্রন্দসী
  3. অতলস্পর্শী
  4. যুগপৎ
সঠিক উত্তর:
রোদসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোদসী
ব্যাখ্যা
'আকাশ ও পৃথিবীর অন্তারালোকে' এক কথায় প্রকাশ হবে - রোদসী।

অন্যদিকে,
• 'আকাশ ও পৃথিবী বা স্বর্গ বা মর্ত্য' - ক্রন্দসী।
• 'তল স্পর্শ করা যায় না যার' - অতলস্পর্শী।
• 'একই সময়ে' - যুগপৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৭,২৬৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কূপমন্ডূক
  2. কূপমণ্ডূক
  3. কুপমণ্ডূক
  4. কুপমন্ডূক
সঠিক উত্তর:
কূপমণ্ডূক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কূপমণ্ডূক
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - কূপমণ্ডূক।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- সীমাবদ্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,২৬৮.
"কেতাদুরস্থ" এর বাগ্‌ধারা কী?
  1. পরিপাটি
  2. সম্পূর্ণভাবে
  3. কাণ্ডজ্ঞানহীন
  4. দীর্ঘসূত্রিতা
সঠিক উত্তর:
পরিপাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপাটি
ব্যাখ্যা

• "কেতাদুরস্থ" বাগধারাটির অর্থ - পরিপাটি।

অন্যদিকে,
- 'অক্ষরে অক্ষরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সম্পূর্ণভাবে।
- 'আঠারো মাসে বছর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দীর্ঘসূত্রিতা।
-  তালকানা বাগধারার অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা।

৭,২৬৯.
নিচের কোনটি বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ নয়?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসক্তি
  4. ঘ) আসত্তি
সঠিক উত্তর:
গ) আসক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আসক্তি
ব্যাখ্যা
বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি। এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা। এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা। বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি। বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,২৭০.
‘গরুর শকট’ শব্দটির কি দোষ দেখা যায়?
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) দ্বিত্বজনিত ভুল
  4. ঘ) বাচ্যজনিত দোষ
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ। অর্থাৎ তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন-
অশুদ্ধ- গরুর শকট (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধ- গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি)

অশুদ্ধ- মড়াদাহ (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধ- শবদাহ (তৎসম + তৎসম)
শুদ্ধ- মড়াপোড়া (দেশি + দেশি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,২৭১.
কোনটি অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বলিয়া > বলে
  2. বড়দাদা > বড়দা
  3. শহরিয়া > শহুরে
  4. ফলাহার > ফলার
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

অন্যদিকে,
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তন - শহরিয়া > শহইর‍্যা > শহুরে, বলিয়া > বলে।
ব্যঞ্জনচ্যুতি ধ্বনি পরিবর্তন - বড়দাদা > বড়দা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৭২.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. অনুচর
  2. দুর্নাম
  3. হিমালয়
  4. নিরব
সঠিক উত্তর:
হিমালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমালয়
ব্যাখ্যা
• হিমালয় - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- 'হিমালয়' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় : হিম  + আলয়।
- যেখানে দুটি শব্দ ই আলাদা অর্থ প্রকাশ করে।
- কিন্তু, এখানে 'হিম' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।

অন্যদিকে,
- 'অনুচর' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'অনু'  যোগে গঠিত।
- 'দুর্নাম' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘দুর’ যোগে গঠিত।
- 'নিরব' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'নির’ যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৭৩.
কোন দুটি ঘোষ ব্যঞ্জনধবনির উদাহরণ?
  1. ছ, শ
  2. স, ট
  3. জ, ঝ
  4. ফ, ত
সঠিক উত্তর:
জ, ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ, ঝ
ব্যাখ্যা

ঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

৭,২৭৪.
"তালাচাবি" দ্বিরুক্ত শব্দটি কীভাবে গঠিত?
  1. সমার্থক শব্দযোগে
  2. বিপরীতার্থক শব্দযোগে
  3. ধ্বন্যাত্মক শব্দযোগে
  4. ভিন্নার্থক শব্দযোগে
সঠিক উত্তর:
ভিন্নার্থক শব্দযোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিন্নার্থক শব্দযোগে
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• তালাচাবি হচ্ছে ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৭,২৭৫.
‘Secretary’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. সচিব 
  2. ব্যবস্থাপক
  3. উদযান
  4. মহাব্যবস্থাপক
সঠিক উত্তর:
সচিব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সচিব 
ব্যাখ্যা

‘Secretary’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে সচিব। 

পারিভাষিক শব্দ:
পারিভাষিক শব্দ হলো বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দ। এই শব্দগুলো মূলত আধুনিক সময়ে ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ:
- অম্লজান – oxygen,
- উদযান – hydrogen,
- নথি – file,
- প্রশিক্ষণ – training,
- ব্যবস্থাপক – manager,
- বেতার – radio,
- মহাব্যবস্থাপক – general manager,
- সচিব – secretary,
- স্নাতক – graduate,
- স্নাতকোত্তর – post graduate,
- সমাপ্তি – final,
- সাময়িকী – periodical,
- সমীকরণ – equation। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৭,২৭৬.
নিচের কোন গুচ্ছটি অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ত, স, ট
  2. ড়, শ, ক
  3. ফ, র, ল
  4. গ, ছ, শ
সঠিক উত্তর:
ত, স, ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত, স, ট
ব্যাখ্যা
• ত, স, ট - গুচ্ছটি অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি।

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:

- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন:
- ঘোষ ও
- অঘোষ ব্যঞ্জন।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,২৭৭.
'সন্ধি' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. বিনয়
  2. বিরতি
  3. বিভাজন
  4. বিবাদ
সঠিক উত্তর:
বিবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাদ
ব্যাখ্যা
• সন্ধি মানে মিত্রতা বা মিলন; বিবাদ মানে - দ্বন্দ্ব বা অমিল।
তাই, সন্ধি এর বিপরীত শব্দ - বিবাদ।

আরও কিছু বিপরীত শব্দ নিম্নরূপ:
- 'ঔদ্ধত্য' - বিনয়; 
- ঘাতক - পালক;
- ঘাত - প্রতিঘাত;
- দুষ্টূ - শিষ্ট;
- দুর্মতি - সুমতি; 
- বাউণ্ডূলে - সংসারী; 
- গূঢ় - ব্যক্ত;
- প্রফুল্ল - বিমর্ষ; 
- জ্বলন - নির্বাপন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৭৮.
ক্রিয়ার যে অংশকে বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে কী বলে?
  1. ক্রিয়ামূল
  2. মৌলিক শব্দ
  3. ক্রিয়া বিভক্তি
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ামূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ামূল
ব্যাখ্যা
- ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

• ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:
• ধাতু বা ক্রিয়ামূল: 
- ক্রিয়ার যে অংশকে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে ক্রিয়ামূল বা ধাতু বলে।

• ক্রিয়া বিভক্তি।

যেমন
'করে' একটি ক্রিয়াপদ।
এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ +এ;
এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি।

সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'। অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
৭,২৭৯.
নিম্নে কোনটি ”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। 
- প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- ট,  ড়,  মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
-  ’ধ’ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৭,২৮০.
'যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।'- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য 
  3. সরল বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। 
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,২৮১.
সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
  2. তৎসম শব্দবহুল।
  3. সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে। 
  4. বক্তৃতা ও আলাপ-আলোচনার উপযোগী। 
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতা ও আলাপ-আলোচনার উপযোগী। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতা ও আলাপ-আলোচনার উপযোগী। 
ব্যাখ্যা

• সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য নয়- বক্তৃতা ও আলাপ-আলোচনার উপযোগী। 

সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

------------------
• চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৭,২৮২.
‘পুষ্পসৌরভ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ক) তৎপুরষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎপুরষ
ব্যাখ্যা
'পুষ্পসৌরভ'- ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

• পুষ্পের সৌরভ =পুষ্পসৌরভ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

আরও কিছু উদাহরণ:
• ছাগীর দুগ্ধ - ছাগদুগ্ধ
• গৃহের কর্তা - গৃহকর্তা
• অশ্বের পদ - অশ্বপদ
• চায়ের বাগান = চাবাগান
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট

এছাড়াও, জনগণ, ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, বিড়ালছানা ইত্যাদি।

সুত্রঃ ভাষা শিক্ষা, ডঃ হায়াৎ মামুদ।
৭,২৮৩.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বুদ্ধিমান
  2. বিপন্মুক্তি
  3. প্রয়োজনীয়তা
  4. শুধু
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
ব্যাখ্যা
• 'প্রয়োজনীয়তা' সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
- শুধু,
- বিপন্মুক্তি,
- বুদ্ধিমান।
শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৮৪.
তুচ্ছার্থে কোন সর্বনামের পুরুষটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সে
  2. খ) ইনি
  3. গ) মোরা
  4. ঘ) ওদের
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওদের
ব্যাখ্যা
 
ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম পদের ক্ষেত্রে তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা জ্ঞাপক রূপে উত্তম ও মধ্যম পুরুষে ব্যবহার নেই ।
কেবল নাম পুরুষের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার - ইহা, ইহারা, এই, এ, এরা, উহা, উহারা্‌, ও, ওরা, ওদের।

উৎস:  মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,২৮৫.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. দোষ দেওয়া
  3. বুঝে নেওয়া
  4. কথা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বুঝে নেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৭,২৮৬.
'মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে' বাক্যে 'বৃষ্টি' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তা কারকে সপ্তমী
  2. কর্ম কারকে শূন্য
  3. কর্তা কারকে শূন্য
  4. করণ কারকে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারকে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

• কর্তৃকারকের প্রকারভেদ:
কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:

১. মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে সে মুখ্য কর্তা।
যেমন:
- ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
- মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।

২. প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

৩. প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়। ওপরের বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।
তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

৪. ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
- রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৭,২৮৭.
‘তেলেভাজা’ কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  3. সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
- চোখের বালি = চোখের বালি।
- সোনার তরী = সোনার তরী।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- চিনির বলদ = চিনির বলদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৮৮.
‘সূর্যোদয়’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. সূর্য + দয়
  2. সূর্যো + দয়
  3. সূর্য + উদয়
  4. সৌর + উদয়
সঠিক উত্তর:
সূর্য + উদয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য + উদয়
ব্যাখ্যা
• 'সূর্যোদয়' শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে — সূর্য + উদয়।
- 'সূর্যোদয়' শব্দটি স্বরসন্ধি এর উদাহরণ।

• সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে ।

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়।
মহা+ঋষি = মহর্ষি।
শীত+ঋত = শীতার্ত।
জন+এক = জনৈক।
বন+ওষধি = বনৌষধি।
প্রতি+এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,২৮৯.
‘সেমাই’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) পাঞ্জাবি
  3. গ) গুজরাটি
  4. ঘ) গ্রিক
  5. ঙ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রিক
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় গ্রিক ভাষার শব্দগুলো হলো দাম, কমা, সুড়ং, ইউনানি, সেমাই ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৯০.
‘ঢেউ’ এর সমর্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. লহর
  2. পারাবার
  3. কল্লোল
  4. দোলা
সঠিক উত্তর:
পারাবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারাবার
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ঢেউ’ এর সমর্থক শব্দ:
তরঙ্গ, কল্লোল, ঊর্মি, হিল্লোল, লহরী, বীচি, জোয়ার, মহাতরঙ্গ, মহোর্মি, বীচিমালা, লহর, তরঙ্গহিল্লোল, দোলা, তরঙ্গভঙ্গ, ঊর্মিলহরী, তরঙ্গমালা, তরঙ্গলহরী ইত্যাদি। 

তাছাড়া, 
• সমুদ্র শব্দের সমার্থক শব্দ:
সাগর, রত্নাকর, জলধি, সিন্ধুই, বারিধি, বারীশ, উদধি, অর্ণব, অম্বুধি, তোয়নিধি, বারীশ, পয়োধি, পারাবার, জলনিধি, নীলাম্বু, পাথার, পয়োনিধি, জলধর, অম্বুনিধি, বারীন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২৯১.
'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. গুজব
  2. পক্ষপাতদুষ্ট
  3. নির্লজ্জ
  4. অমিতব্যয়ী
সঠিক উত্তর:
অমিতব্যয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিতব্যয়ী
ব্যাখ্যা

• 'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারার অর্থ - অমিতব্যয়ী। 

অন্যদিকে, 
• 'উড়ো কথা' অর্থ - গুজব। 
• 'একচোখা' অর্থ - পক্ষপাতদুষ্ট। 
• 'কানকাটা' অর্থ - নির্লজ্জ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,২৯২.
নিচের কোনটি ‘নতুন’- এর প্রতিশব্দ?
  1. ক) পর্জন্য
  2. খ) বলাহক
  3. গ) আনকোরা
  4. ঘ) তোয়দ
সঠিক উত্তর:
গ) আনকোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আনকোরা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'আনকোরা' হচ্ছে নতুন এর প্রতিশব্দ।

• 'নতুন' শব্দের প্রতিশব্দ:
- নবীন, আধুনিক, আনকোরা, অধুনা, অর্বাচীন।

• 'মেঘ' শব্দের প্রতিশব্দ:
- ঘন, বারিদ, জলধর, অম্বুদ, পয়োধর, নীরদ, জলদ, জীমূত, তোয়দ, পর্জন্য, পয়োদ, বলাহক, তোয়ধর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২৯৩.
'কুবেরের ভাণ্ডার' বাগধারার অর্থ কী?
  1. ক) অকর্মণ্য লোক
  2. খ) অফুরন্ত ঐশ্বর্য
  3. গ) নগদ উপার্জন
  4. ঘ) ছোটখাটো থালাবাটি
সঠিক উত্তর:
খ) অফুরন্ত ঐশ্বর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অফুরন্ত ঐশ্বর্য
ব্যাখ্যা
• 'কুবেরের ভাণ্ডার' বাগধারার অর্থ- অফুরন্ত ঐশ্বর্য।
বাক্য গঠন: ঘরে কি কুবেরের ভাণ্ডার রয়েছে, যে সারাজীবন বসে খাবে।

অন্যান্য অপশন এর বাগধারা ও অর্থ:

• কুমড়ো কাটা বট ঠাকুর (অকর্মণ্য লোক): পিকনিকে তোমাকে নিব না, তুমি তো একটি কুমড়ো কাটা বটঠাকুর।
• কাঁচা পয়সা (নগদ উপার্জন): কাঁচা পয়সা থাকতেই সঞ্চয় করা উচিৎ।
• কুঁচো বাসন (ছোটখাটো থালাবাটি): হাঁড়ি কলসি তুমি নাও, কুঁচো বাসনগুলো আমি বয়ে নিয়ে যেতে পারব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৯৪.
'স্বৈরিণী' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) স্ব + ঈরিনি
  2. খ) স্ব + ইরিণী
  3. গ) স্ব + ঈরিণী
  4. ঘ) স্ব + ইরিনি
সঠিক উত্তর:
গ) স্ব + ঈরিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্ব + ঈরিণী
ব্যাখ্যা
স্বৈরিণী = স্ব + ঈরিণী  
- এটি নিপাতন-সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ। 

কোন নিয়ম অনুসারে সন্ধি না হয়ে স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির যখন পরিবর্তন ঘটে তখন সেইরূপ সন্ধিকে নিপাতন-সিদ্ধ সন্ধি বলে।
কুল + অটা = কুলটা
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন
স্ব + ঈর = স্বৈর।
সীমন্ + অন্ত = সীমন্ত
বিম্ব + ওষ্ঠ = বিম্বোষ্ঠ
অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,২৯৫.
'স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব, 
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।
 
• ধ্বনিতত্ত্ব: 
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।
 
• রূপতত্ত্ব: 
শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।
 
• বাক্যতত্ত্ব: 
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্ত্বের আকোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।
 
• অর্থতত্ত্ব: 
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,২৯৬.
বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ গঠিত হয় না কোন উপায়ে?
  1. ক) সমাস
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) লিঙ্গ পরিবর্তন
  4. ঘ) সকল উপায়েই হয়
সঠিক উত্তর:
গ) লিঙ্গ পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লিঙ্গ পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

বাংলা শব্দ গঠনের কয়েকটি উপায় হলাে সন্ধির মাধ্যমে, সমাসের মাধ্যমে, বহুবচনের মাধ্যমে, উপসর্গ যােগে, প্রত্যয় সহযােগে ইত্যাদি।
লিঙ্গ পরিবর্তন এর মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,২৯৭.
তৎসম উপসর্গ কয়টি?
  1. ১৯
  2. ২০
  3. ২১
  4. ২২
সঠিক উত্তর:
২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উল্লেখ্য,
• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭,২৯৮.
বাংলা ভাষায় যতি চিহ্নের প্রচলন করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্নের প্রচলন করেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্ন প্রচলন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক ও বলা হয়।
- বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য বা কবিতা কোথাও যতিচিহ্ন ব্যবহার হতো না।
- শুধু পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়িজ্ঞাপক চিহ্নটি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৯৯.
পুরুষকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় কোনটি?
  1. কল্যাণীয়েষু
  2. শ্রদ্ধাভাজনেষু
  3. কল্যাণীয়াসু
  4. সুচরিতেষু
সঠিক উত্তর:
কল্যাণীয়াসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণীয়াসু
ব্যাখ্যা
শ্রদ্ধাভাজন, স্নেহভাজন পুরুষ ও বন্ধুদের লিখিত পত্রের সম্বোধন:
- শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, সুচরিতেষু, প্রীতিভাজন ইত্যাদি।

শ্রদ্ধাভাজন, স্নেহভাজন নারীদের লিখিত পত্রের সম্বোধন:
- শ্রদ্ধাভাজনাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, কল্যাণীয়াসু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৩০০.
'বৈশাখ' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) স্থাননাম
  2. খ) কালনাম
  3. গ) সৃষ্টিনাম
  4. ঘ) ব্যক্তিনাম
সঠিক উত্তর:
খ) কালনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালনাম
ব্যাখ্যা
- 'বৈশাখ' হচ্ছে কালনাম জাতীয় নাম-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান ৷
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।