বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা / ৩৫৪ · ৩০১৪০০ / ৩৫,৭১৩

৩০১.
'নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার' এক কথায় বলে- 
  1. অস্থায়ী
  2. ক্ষণস্থায়ী
  3. নশ্বর
  4. অবিনশ্বর
সঠিক উত্তর:
নশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নশ্বর
ব্যাখ্যা

• 'নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার' এক কথায় বলে- নশ্বর।

অন্যদিকে, 
- 'যা স্থায়ী নয়' এক কথায় বলে-  অস্থায়ী।
- 'ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী' এক কথায় বলে-  ক্ষণস্থায়ী। 
- 'নষ্ট হয় না' এক কথায় বলে-  অবিনশ্বর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০২.
শুদ্ধ বানানগুচ্ছ কোনটি?
  1. মহত্ত, মহিয়সী, পক্ব
  2. মরুদ্যান, ভষ্ম, উচ্ছাস
  3. সমীচীন, সংস্রব, সত্তা
  4. অপরাহ্ন, সস্ত্রীক, পূণ্য
সঠিক উত্তর:
সমীচীন, সংস্রব, সত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীচীন, সংস্রব, সত্তা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সমীচীন, সংস্রব, সত্তা' - বানানগুলো শুদ্ধ।

• শব্দার্থ:
- ‘সমীচীন’ অর্থ: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম, যথার্থ, উচিত।
- 'সংস্রব' অর্থ: সম্পর্ক; সম্বন্ধ; ছোঁয়াচ (নেতাদের সংস্রব)।
- 'সত্তা' অর্থ: নিত্যতা; অস্তিত্ব (অর্থ থাকা সত্ত্বেও অভাবগ্রস্ত)।

বাকি অপশনগুলোর মধ্যে বানান ভুল রয়েছে:

অন্যান্য অপশনের শুদ্ধ বানান:

ক) মহত্ত - মহত্ত্ব , মহিয়সী - মহীয়সী, পক্ব। 
খ) মরুদ্যান - মরূদ্যান, ভষ্ম - ভস্ম, উচ্ছাস - উচ্ছ্বাস।
ঘ) অপরাহ্ন - অপরাহ্ণ, সস্ত্রীক, পূণ্য - পুণ্য। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩০৩.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) পরি + কার = পরিষ্কার
  2. খ) বিপদ + জাল = বিপজ্জাল
  3. গ) সু + অল্প = স্বল্প
  4. ঘ) ভাব + উক = ভাবুক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাব + উক = ভাবুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাব + উক = ভাবুক
ব্যাখ্যা
ভাব + উক = ভাবুক এটি সঠিক নয়। এর শুদ্ধরূপ হলো- ভৌ + উক = ভাবুক। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩০৪.
‘পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে। 

অন্যদিকে, 
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
-  সে যে অপরাধ করেছে,
• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০৫.
'লবণ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোন সূত্রানুসারে হয়?
  1. এ + অ
  2. ঐ + অ
  3. ও + অ
  4. ঔ + অ
সঠিক উত্তর:
ও + অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও + অ
ব্যাখ্যা
এ, ঐ, ও, ঐ - কারের প এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয়, এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়। 
যেমন- 
ও + অ = অব্‌ + আ ; লো + অন= লবণ, পো+অন= পবন
এ + অ = এয়্‌ + অ; নে+ অন= নয়ন। 
ঐ + অ = আয়্‌ + অ; নৈ+ অক= নায়ক।
ও + অ = আব্‌+ অ; গো+ আদি = গবাদি
ঔ + অ = আব্‌+আ; পৌ + অক = পাবক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৬.
Put out the lamp - এর সঠিক বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. ক) প্রদীপটি জালাও
  2. খ) প্রদীপটি নিভাও
  3. গ) প্রদীপটি রাখ
  4. ঘ) প্রদীপটি বাইরে রাখ
  5. ঙ) কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
খ) প্রদীপটি নিভাও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রদীপটি নিভাও
ব্যাখ্যা
Put out the lamp বাক্যটির সঠিক বঙ্গানুবাদ হলো প্রদীপটি নিভাও। (বিগত প্রশ্ন)
৩০৭.
অধিকরণ কারকে সাধারণত কোন বিভক্তি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) শূন্য
  2. খ) ২য়া
  3. গ) ৬ষ্ঠ
  4. ঘ) ৭মী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘সে’, ‘-তে’ ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
-  ‘এ’, ‘য়’, ‘সে’, ‘-তে’ সপ্তমী বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত।
যেমন –
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৮.
'সকলেই এক দলের' কোন প্রবাদের অর্থ প্রকাশ করে?
  1. নাকের বদলে নরুন।
  2. বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া।
  3. শকুনের চোখ ভাগাড়ের দিকে।
  4. লোম বাছতে কম্বল উজাড়।
সঠিক উত্তর:
লোম বাছতে কম্বল উজাড়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোম বাছতে কম্বল উজাড়।
ব্যাখ্যা
• 'লোম বাছতে কম্বল উজাড়' প্রবাদটির অর্থ হচ্ছে - সকলেই এক দলের।

অন্যদিকে, 
- 'নাকের বদলে নরুন' প্রবাদটির অর্থ হচ্ছে - মারাত্মক ক্ষতির বদলে তুচ্ছ ক্ষতিপূরণ।
- 'বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া' প্রবাদটির অর্থ হচ্ছে 'হঠাৎ অপ্রত্যাশিত সৌভাগ্য লাভ'।
- 'শকুনের চোখ ভাগাড়ের দিকে' প্রবাদটির অর্থ হচ্ছে- নীচ লোকের নজর নীচ স্বার্থের দিকে থাকে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩০৯.
'ক্রিয়া' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষও রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩১০.
‘Customs’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. শুল্ক
  2. সামাজিক রীতিনীতি
  3. আইন
  4. শুল্ক বিভাগ
সঠিক উত্তর:
শুল্ক বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুল্ক বিভাগ
ব্যাখ্যা
• ‘Customs’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - শুল্ক বিভাগ।

অন্যদিকে,
- ‘Custom' শব্দের পারিভাষিক শব্দ - প্রথা, অভ্যাস, সামাজিক রীতিনীতি।
- ‘Act’ এর পারিভাষিক শব্দ - আইন।
- ‘Duty’ এর পারিভাষিক শব্দ - শুল্ক।

উৎস: প্রসাশসিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৩১১.
ক্রিয়া সংঘটনের সময়কে কী বলে?
  1. কাল
  2. কারক
  3. ক্রিয়া
  4. বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাল
ব্যাখ্যা
কাল ও ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সংঘটনের সময়কে কাল বলে।
১. আমরা বই পড়ি। 'পড়া' ক্রিয়াটি এখন অর্থাৎ বর্তমানে সংঘটিত হচ্ছে।
২. কাল তুমি শহরে গিয়েছিলে। 'যাওয়া' ক্রিয়াটি পূর্বে অর্থাৎ অতীতে সম্পন্ন হয়েছে।
৩. আগামীকাল স্কুল বন্ধ থাকবে। 'বন্ধ থাকা' কাজটি পরে বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হবে।
- সুতরাং, ক্রিয়া বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হওয়ার সময় নির্দেশই ক্রিয়ার কাল।
- এ হিসেবে ক্রিয়ার কাল প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
১. বর্তমান কাল,
২. অতীত কাল এবং
৩. ভবিষ্যৎ কাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১২.
উপসর্গবিহীন শব্দ কোনটি?
  1. প্রভাব
  2. বিনিদ্র
  3. সুলভ
  4. আতিশয্য
সঠিক উত্তর:
আতিশয্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতিশয্য
ব্যাখ্যা
• 'আতিশয্য' - শব্দটিতে কোনো ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি।

অন্যদিকে, 
• 'প্রভাব' → এখানে তৎসম "প্র-" উপসর্গ রয়েছে।
• 'বিনিদ্র' → এখানে তৎসম "বি-" উপসর্গ রয়েছে।
• 'সুলভ' → এখানে তৎসম "সু-" উপসর্গ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৩.
নিচের কোন শব্দটি প্রমিত বানানে ভুল?
  1. রূপালি
  2. হেঁয়ালি
  3. মিতালী
  4. বর্ণালি
সঠিক উত্তর:
মিতালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিতালী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুসারে শুদ্ধ - রূপালি, হেঁয়ালি, বর্ণালি।
- 'মিতালী' শব্দটির শুদ্ধ বানান — 'মিতালি'। 

- '-আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন: সোনালী হবে না, হবে সোনালি; মিতালী হবে না, হবে মিতালি

অনুরূপভাবে,
- বর্ণালি, খেয়ালি, রূপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৪.
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যে সব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে বলে-
  1. ক) যোজক
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) সংযোজক
  4. ঘ) বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
ক) যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যোজক
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যে সব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। 
- যেমন: এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, তবে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১৫.
'চাঁদের ন্যায় মুখ' = চাঁদমুখ কোন প্রকার কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) রূপক
  2. খ) উপমিত
  3. গ) উপমান
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী
সঠিক উত্তর:
খ) উপমিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপমিত
ব্যাখ্যা
'চাঁদমুখ' এর ব্যাসবাক্য হলো = চাঁদের ন্যায় মুখ
এটি একটি উপমিত কর্মধারয় সমাস। 

• যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১৬.
নিচের কোনটির সন্ধি বিচ্ছেদ সঠিক নয়?
  1. তিরঃ+ধান = তিরোধান
  2. অধঃ+পতন = অধপতন
  3. বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
  4. পুরঃ+কার = পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
অধঃ+পতন = অধপতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধঃ+পতন = অধপতন
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
১. বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ+পতন = অধঃপতন, বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
২. বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়: মনঃ+যোগ = মনোযোগ, তিরঃ+ধান = তিরোধান, তপঃ+বন = তপোবন 
৩. বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার, পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ 
৪. বিসর্গ শ/ষ্/স্ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর, পুরঃ+কার = পুরস্কার
৫. কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রোগ = নীরোগ।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
৩১৭.
আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. হাঙ্গামা
  2. সমঝোতা
  3. জিন্দা
  4. খারাপ
সঠিক উত্তর:
খারাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খারাপ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'খারাপ শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত।

- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ- মন্দ, দুষ্ট।

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
- আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক,আসর, আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত, তারিখ, হালুয়া. দাওয়াত, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• হিন্দি শব্দ: সমঝোতা।
• ফারসি শব্দ: জিন্দা, হাঙ্গামা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩১৮.
ভাষার মূল উপকরণ -
  1. ক) বাক্য
  2. খ) শব্দ
  3. গ) অর্থ
  4. ঘ) বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ক) বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাক্য
ব্যাখ্যা
- ভাষার মূল উপকরণ হচ্ছে বাক্য

এছাড়াও,
ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
ভাষার ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি।
ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও নবম দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩১৯.
কোন বাক্যে 'ভালো' বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিজের ভালো সবাই চায়।
  2. তুমি কারো ভালো দেখতে পারো না।
  3. তুমি এখানে কার ভালোটা দেখলে?
  4. ভালো বাসা সবাই চায়।
সঠিক উত্তর:
ভালো বাসা সবাই চায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো বাসা সবাই চায়।
ব্যাখ্যা
• 'ভালো বাসা সবাই চায়।'এই বাক্যে 'ভালো' বিশেষণ হিসেবে বসেছে। 
- এখানে 'ভালো' গুণবাচক বিশেষণ।
- এখানে বাসার গুণ অর্থে 'ভালো' বিশেষণটি বসেছে।

অন্যদিকে,
- তুমি এখানে কার ভালোটা দেখলে?
- তুমি কারো ভালো দেখতে পারো না।
- নিজের ভালো সবাই চায়। 
এই বাক্যগুলোতে 'ভালো' গুণবিশেষ্য হিসেবে বসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩২০.
"উচ্ছৃঙ্খল" শব্দটি কোন উপায় গঠিত হয়েছে?
  1. সমাস
  2. উপসর্গ
  3. বিভক্তি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাস
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল,
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৩২১.
'উত্থান' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পাতাল
  2. অনাগত
  3. অবতরণ
  4. পতন
সঠিক উত্তর:
পতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পতন
ব্যাখ্যা
• 'উত্থান' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- পতন।

অন্যদিকে, 
আকাশ - পাতাল। 
আগত - অনাগত। 
উত্তরণ - অবতরন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২২.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়?
  1. মস্যাধার
  2. অন্যান্য
  3. মার্তণ্ড
  4. কুলটা
সঠিক উত্তর:
মস্যাধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস্যাধার
ব্যাখ্যা
'মস্যাধার'- নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়। 
মস্যাধার শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো 'মসী+আধার=মস্যাধার'।

'মস্যাধার' শব্দটির সন্ধির নিয়ম
ই-কার বা ঈ-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। 
[ ঈ + আ = য্‌ + আ]
যেমন,
মসী+আধার=মস্যাধার।

 • নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি 
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র 
গো+অক্ষ = গবাক্ষ
প্র+এষণ = প্রেষণ
কুল+অটা = কুলটা
পর+পর = পরস্পর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৩.
'ধৈর্য' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণ-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৩২৪.
'অন্য লোক' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. যুগান্তর
  2. লোকান্তর
  3. জন্মান্তর
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
লোকান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকান্তর
ব্যাখ্যা
• 'অন্য লোক' এর এক কথায় প্রকাশ - লোকান্তর

অন্যদিকে,
অন্য যুগ - যুগান্তর।
অন্য জন্ম - জন্মান্তর।
অন্য কাল - কালান্তর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৫.
'অ, আ' ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক-এর পর ষ-এর প্রয়োগ হলে তা কী হয়?
  1. 'স' হয়
  2. বিকৃত হয়
  3. অবিকৃত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অবিকৃত থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিকৃত থাকে
ব্যাখ্যা

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে ষ-এর প্রয়োগ হলে তা - 'ষ' ই হয়; অর্থ্যাৎ তা অবিকৃত থাকে।
যেমন,
— ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন,
— অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩২৬.
‘পরপুষ্ট’ শব্দের অর্থ কী?
  1. অশ্ব
  2. কোকিল
  3. ময়ূর
  4. কবুতর
সঠিক উত্তর:
কোকিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোকিল
ব্যাখ্যা
• ‘পরপুষ্ট’ শব্দের অর্থ - কোকিল।

• কোকিল শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ:
 কলকন্ঠ, পরপুষ্ট, বসন্তদূত, মধুসখা, মধুস্বর, কাকপুষ্ট,পরভৃত।

অন্যান্য অপশনগুলো:
• ‘অশ্ব’ এর সমার্থক শব্দ: বাজী, বাহ, ঘোড়া, ঘোটক, তুরঙ্গম, তুরগ, হ্রেষী, বামী।
• ‘কবুতর’ এর সমার্থক শব্দ: কপোত, পায়রা, পারাবত, নোটন।
• 'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ: কলাপী, কেকী, শিখী, শিখণ্ডী, বর্হী, বর্হিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৭.
'পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে।'- এখানে 'ক্লাসে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে।যেমন: ছেলেরা মাঠে খেলে। ছাত্রীরা পাঠাগারে পড়ে। বাক্যে যে পদে ক্রিয়ার আধারকে বোঝায় তাকে বলে অধিকরণ কারক।

ক্রিয়াপদ ধরে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে-এসব প্রশ্ন করলে তার উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন:
- পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে।
[কোথায় পড়ে? ক্লাসে অর্থাৎ ক্লাসের মধ্যে। তাই ক্লাসে অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।]

- তারা সকালে পড়ে।
[কখন পড়ে? সকালে। 'সকালে' অধিকরণ কারক।]

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- শফিক চাটগাঁ থাকে।
- তুমি এখন বাড়ি যেতে পার।

• তৃতীয়া বিভক্তি:
- পথ দিয়ে চল।
- বড় রাস্তা দিয়ে যেও।

• পঞ্চমী বিভক্তি:
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- আহারে রুচি নেই।
- এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৮.
নিচের কোনটি অপিনিহিতির উদাহরণ?
  1. জন্ম > জম্ম
  2. আজি > আইজ
  3. ডেস্ক > ডেক্স
  4. অলাবু > লাবু > লাউ
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা

- আজি > আইজ অপিনিহিতির উদাহরণ।

অপিনিহিতি:
- অপিনিহিতি ঘটে তখন, যখন শব্দে থাকা ‘ই-কার’ বা ‘উ-কার’ তার মূল অবস্থানের আগে উচ্চারিত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ:
• সত্য → সইত্য,
• চারি → চাইর,
• রাখিয়া → রাইখ্যা।
- এখানে ‘ই’ বা ‘উ’ ধ্বনির অগ্রসরণ লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে,
• জন্ম → জম্ম - সমীভবন এর উদাহরণ।
- সমীভবন – শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমান হয়ে যায়।
- উদাহরণ: কাদনা → কান্না।

• ডেস্ক → ডেক্স - ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ।
- ধ্বনি বিপর্যয় – শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন।
- উদাহরণ: পিশাচ → পিচাশ,
- বাক্স → বাসক,
- লাফ → ফাল,
- রিক্সা → রিসকা,
- লোকসান → লোসকান।

• অলাবু → লাবু → লাউ - আদিস্বরলোপ এর উদাহরণ।

উল্লেখ্য, 
- আদিস্বরলোপ সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ এর প্রকার।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ - যা মূলত দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, মধ্য বা অন্ত্যবর্তী স্বরধ্বনি বাদ দেওয়া।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ ৩ প্রকার :
আদিস্বরলোপ :  উদ্ধার → উধার → ধার।
• মধ্যবর লোপ : অগুরু → অণু, সুবর্ণ → স্বর্ণ।
• অন্ত্যস্বর লোপ :
- আশা → আশ,
- আজি → আজ,
- চারি → চার। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।

৩২৯.
'কল্লোল' শব্দটির অর্থ কী?
  1. ক) পাল
  2. খ) ঢেউ
  3. গ) চিবুক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ঢেউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঢেউ
ব্যাখ্যা
কল্লোল শব্দের সমার্থক শব্দ হলো - ঢেউ।
• ঢেউ শব্দের সমার্থক শব্দ - ঊর্মি, বীচি, কল্লোল, হিল্লোল, জোয়ার, মহাতরঙ্গ, মহোর্মি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৩০.
"জেলমুক্ত" - কোন তৎপুরুষ সমাস সাধিত?
  1. দ্বিতীয়া 
  2. তৃতীয়া 
  3. পঞ্চমী 
  4. অলুক 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী 
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক,
- সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট,
- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
- জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত,
- জেল থেকে খালাস = জেলখালাস,
- পণ হতে মুক্তি = পণমুক্তি,
- আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া,
- পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৩১.
’যা নিবারণ করা কষ্টকর’ এক কথায় কী বলা হয়?
  1. দুর্দমনীয়
  2. দুর্নিবার
  3. অনিবার্য 
  4. অদম্য
সঠিক উত্তর:
দুর্নিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নিবার
ব্যাখ্যা

’যা নিবারণ করা কষ্টকর’ এক কথায় বলা হয়- দুর্নিবার।

অন্যদিকে,
- ’যা দমন করা কষ্টকর’ এক কথায় বলা হয়- দুর্দমনীয়।
- 'যা নিবারণ করা যায় না' এক কথায় বলা হয়- অনিবার্য
- ’যা দমন করা যায় না’ এক কথায় বলা হয়- অদম্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

৩৩২.
ব্যাতিহারিক সর্বনাম কোনগুলো চিহ্ণিত করুন:
  1. ক) স্বয়ং, খোদ, আপনি
  2. খ) এ, ইহারা, ইনি -
  3. গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
  4. ঘ) এ, ইহারা, ইনি
সঠিক উত্তর:
গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে -

-  স্বয়ং, খোদ, আপনি- আত্মবাচক সর্বনাম
-  এ, ইহারা, ইনি - সমীপ্যবাচক সর্বনাম
নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর - ব্যতিহারিক সর্বনাম
-  সব, সকল, তাবৎ - সাকুল্যবাচক সর্বনাম পদ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৩.
'পুষ্প'- শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. পুষ্পচয়
  2. পুষ্পরাশি
  3. পুষ্পনিচয়
  4. উপরের সবকটি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উটর: ঘ) উপরের সবকটি।
------------
বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন -
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

বহুবচনের প্রয়োগ বৈশিষ্ট্য:
(ক) বিশেষ্য শব্দের একবচনের ব্যবহারেও অনেক সময় বহুবচন বোঝানো হয়।
যেমন -
- সিংহ বনে থাকে (একবচন ও বহুবচন দু-ই বোঝায়)।
- পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয় (বহুবচন)।
- বাজারে লোক জমেছে (বহুবচন)।
- বাগানে ফুল ফুটেছে (বহুবচন)।

‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
• গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৩৪.
‘দুর্দিনের সূত্রপাত” অর্থে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. তুষের আগুন
  2. কলির সন্ধ্যা
  3. রাবণের চিতা
  4. কুল কাঠের আগুন
সঠিক উত্তর:
কলির সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলির সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• ‘কলির সন্ধ্যা’ বাগধারার অর্থ - দুর্দিনের সূত্রপাত।

 অন্যদিকে, 
- ‘রাবণের চিতা’ বাগধারাটির অর্থ - চির অশান্তি।
- ‘তুষের আগুন’ বাগধারাটির অর্থ - দীর্ঘস্থায়ী ও দুঃসহ যন্ত্রণা।
- ‘কুল কাঠের আগুন’ বাগধারাটির অর্থ - দীর্ঘস্থায়ী মনঃকষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৫.
'পাণিগ্রহণ' কথাটি যা গ্রহণ থেকে এসেছে-
  1. মালা
  2. ফুল
  3. বীণা
  4. হাত
সঠিক উত্তর:
হাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত
ব্যাখ্যা
• 'বিবাহ' শব্দের সমার্থক শব্দ=  পরিনয়, পাণিগ্রহণ, পাণিপীড়ন, নিকাহ্‌, শাদী।

• উল্লেখ্য, 'পাণি' শব্দের প্রতিশব্দ হচ্ছে - 'হাত'। যেহেতু বরের হাতে কনেকে সোপর্দ করা হয়, সেহেতু বিবাহকে পাণিগ্রহণ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. আকৃষ্ট 
  2. আকৃস্ট
  3. আকৃষ্ঠ
  4. অকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
আকৃষ্ট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকৃষ্ট 
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- আকৃষ্ট।

• আকৃষ্ট (বিশেষণ):

- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়=আ + √কৃষ + ত।
অর্থ- 
- আকর্ষণ করা হয়েছে এমন;
- প্রলুব্ধ;
- মুগ্ধ।

তথ্যসূত্র: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমী।
৩৩৭.
নিচের কোন শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. অধীনস্থ
  2. শ্রেষ্ঠতর
  3. সারল্যতা
  4. সৌন্দর্য
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা

সৌন্দর্য শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ।
- অধীনস্থ শব্দে শুদ্ধরূপ অধীন
- শ্রেষ্ঠতর শব্দের শুদ্ধরূপ শ্রেষ্ঠ
- সারল্যতা শব্দের শুদ্ধরূপ সারল্য/সরলতা
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৩৩৮.
মৃত্যু শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অন্ত
  2. খ) নিধন
  3. গ) স্বর্গলাভ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
মৃত্যু শব্দের সমার্থক শব্দ - নাশ, নিধন, স্বর্গলাভ, অন্ত, ইন্তেকাল, বিনাশ, মরণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩৩৯.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৪০.
'বিরক্ত' - এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ভক্ত
  2. আরক্ত
  3. অনুরক্ত
  4. অনুমোদিত
সঠিক উত্তর:
অনুরক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরক্ত
ব্যাখ্যা

• ‘বিরক্ত‘ - এর বিপরীতার্থক শব্দ = অনুরক্ত।

উল্লেখ্য,
• 'অনুরক্ত' - অর্থ- আসক্ত।
• 'আরক্ত' - ঈষৎ রক্তবর্ণ।

• কিছু বিপরীতার্থক শব্দযুগল সমূহ- 
- 'হলাহল' -'সুধা/ অমৃত'।
- 'হর্ষ/হরিষ' - 'বিষাদ'।
- 'প্রসন্ন' - 'বিষণ্ণ'।
- 'সন্নিকৃষ্ট' - 'বিপ্রকৃষ্ট'।
- 'সন্ধি' - 'বিগ্রহ/বিবাদ'।
• ‘অনুমোদিত‘ - অননুমোদিত। 
• 'আবশ্যক‘ - অনাবশ্যক
• 'অনুমেয়‘ - অননুমেয়
• 'মতৈক্য‘- মতানৈক্য 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৪১.
আলোয় আঁধার দূর হয় - বাক্যে ‘আলোয়’ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. সম্প্রদান
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ
ব্যাখ্যা
• আলোয় আঁধার দূর হয় - বাক্যে ‘আলোয়’ শব্দটি করণ কারকের উদাহরণ।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

আলোয় আঁধার দূর হয় - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আলোয়' (উপায় - আলো), তাই এটি করণ কারক।
আলোয় আঁধার দূর হয় - করণে সপ্তমী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪২.
'সুহৃদ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. যোগরূঢ়
  4. রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ: 
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।
যেমন-
- পঙ্কজ ( যা পঙ্কে বা কাদায় জন্মে); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- পদ্ম। 
- মহাযাত্রা ( মহাসমারোহে যাত্রা); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- 'মৃত্যু' 
- রাজপুত ( রাজার পুত); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ জাতি বিশেষ।
- সুহৃদ (সুন্দর হৃদয় যার); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ - বন্ধু, সখা।
- জলধি (জল ধারণ কর এমন); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ 'সমুদ্র' ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৪৩.
"জনের মুখ হতে শ্রুত যা - জনশ্রুতি" কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, 
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক, 
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪৪.
'বেঁচে থাকার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. জগুপ্সা
  2. জিগমিষা
  3. জিগীষা
  4. জিজীবিষা
সঠিক উত্তর:
জিজীবিষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিজীবিষা
ব্যাখ্যা
• 'বেঁচে থাকার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিজীবিষা

অন্যদিকে,
- 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগীষা।
- 'গমন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগমিষা।
- 'নিন্দা করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জগুপ্সা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৫.
‘ত্রিশঙ্কু অবস্থা’ বাগধারার অর্থ-
  1. উভয় সংকট
  2. দুরবস্থা
  3. অর্থের অভাব
  4. দুসময়
সঠিক উত্তর:
উভয় সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয় সংকট
ব্যাখ্যা
• ‘ত্রিশঙ্কু অবস্থা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - মধ্যাবস্থা / উভয়সংকট

এরকম সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত বাগধারাগুলো হলো:
• ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ বাগ্‌ধারার অর্থ - উভয়সংকট।
• ‘শাঁখের করাত’ বাগ্‌ধারার অর্থ - উভয়সংকট।
• ‘দুই নৌকায় পা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - উভয়সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৬.
"যথা ধর্ম তথা জয়।" - বাক্যে কোন ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কারণবাচক যোজক
  2. বিরোধমূলক যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বিকল্প যোজক
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
যথা ধর্ম তথা জয়।
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
-------------------- 
কারণ যোজক: 
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন –
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। 
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে ।
যেমন – 
লাল বা নীল কলমটা আনো ৷
চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ৷
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৩৪৭.
সংবাদ পত্রে প্রকাশের জন্য নিখোঁজ সংবাদ কোন ধরণের পত্র?
  1. ক) বিজ্ঞপ্তি
  2. খ) অভিযোগপত্র
  3. গ) চুক্তিপত্র
  4. ঘ) প্রতিবেদন
সঠিক উত্তর:
ক) বিজ্ঞপ্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিজ্ঞপ্তি
ব্যাখ্যা
বিজ্ঞাপন - (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ  
অর্থ:
- বিশেষভাবে জ্ঞাপন বা নিবেদন,
- কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা পরিষেবা সম্পর্কে সংবাদপত্র বা অন্য কোন মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচার; ইশতেহার।

প্রতিবেদন - প্রতিবেদন হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য ভিত্তিক বর্ণনা।
চুক্তিপত্র - অংশিদারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তির বিষয়বস্তু যে দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে, তাকে চুক্তিপত্র বলে
অভিযোগপত্র - অভিযোগ লেখা থাকে যে পত্রে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৪৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মহিষী
  2. পরাণ
  3. ক্ষনপ্রভা
  4. সুবর্ন
সঠিক উত্তর:
মহিষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিষী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মহিষী' - বানান শুদ্ধ। 

• 'মহিষী' এর সমার্থক শব্দ :
- রাজ্ঞী, রাজপত্নী, বেগম ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ শব্দ--শুদ্ধ শব্দ:
• পরাণ - পরান, 
• ক্ষনপ্রভা - ক্ষণপ্রভা,
• সুবর্ন - সুবর্ণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৯.
’লাঠির ঘায়ে সাপটি মারা পড়ল।’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃ কারকে ষষ্ঠী
  2. খ) কর্ম কারকে ষষ্ঠী
  3. গ) করণ কারকে ষষ্ঠী
  4. ঘ) অপাদান কারকে ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
গ) করণ কারকে ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করণ কারকে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
লাইভ পরীক্ষার প্রশ্নে 'নিম্নরেখ' না থাকার কারণে প্রশ্নটির উত্তর তুলে দেয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: ’লাঠির ঘায়ে সাপটি মারা পড়ল।’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ব্যাখ্যা:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 
- এখানে লাঠি দ্বারা কাজ সম্পন্ন হয়েছে বিধায় এটি করণ করণ কারক।
- এবং 'র', 'এর' হচ্ছে ষষ্ঠি বিভক্তি। 

তাই সঠিক উত্তর - গ) করণ কারকে ষষ্ঠী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১
৩৫০.
‘অসাধ্য’ শব্দটির ব্যাসবাক্য কি?
  1. ক) সাধ্যের বাইরে
  2. খ) ন সাধ্য
  3. গ) সাধ্য নয়
  4. ঘ) অসম্ভব সাধ্য
সঠিক উত্তর:
খ) ন সাধ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ন সাধ্য
ব্যাখ্যা
‘অসাধ্য’ শব্দটির ব্যাসবাক্য ন সাধ্য। এটা নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। [সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৩৫১.
'তস্কর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. লস্কর
  2. প্রসারণ
  3. নির্লোভ
  4. সাধু
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
- 'তস্কর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হচ্ছে- সাধু।

• আরো কিছু বিপরীতার্থক শব্দ- 
- 'আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীত শব্দ = প্রসারণ।
- 'সংহত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = বিভক্ত।
- 'প্রসারিত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = সংকুচিত।
- 'সংযত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = অসংযত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫২.
কম্পনজাত ধ্বনি কোনটি?
  1. ক) র
  2. খ) ড়
  3. গ) ঢ়
  4. ঘ) ঞ
সঠিক উত্তর:
ক) র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) র
ব্যাখ্যা

‘র’ একটি কম্পনজাত ধ্বনি। উচ্চারণের সময় কম্পন সৃষ্টি হয় বলে এমন নামকরণ করা হয়েছে।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৩৫৩.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. দিগন্ত
  2. পরিচ্ছদ
  3. পদ্ধতি
  4. গবেষণা
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। যেমনঃ
- গো + এষণা = গবেষণা।
• স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ব্যঞ্জন সন্ধি হয়। যেমনঃ
- দিগন্ত = দিক্ + অন্ত,
- পরিচ্ছদ = পরি্ +ছদ,
- পদ্ধতি = পদ্ + হতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫৪.
'উড়নপেকে' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. কুটিল বুদ্ধি
  2. অপব্যয়ী
  3. অকালপক্ব
  4. বলবান
সঠিক উত্তর:
অপব্যয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপব্যয়ী
ব্যাখ্যা

• 'উড়নপেকে' বাগ্‌ধারার অর্থ- অপব্যয়ী। 

অন্যদিকে, 
• 'ইস্কুপের প্যাচ' অর্থ - কুটিল বুদ্ধি। 
• 'ইঁচড়ে পাকা' অর্থ - অকালপক্ব। 
• 'উর্জস্থল' অর্থ - বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৫৫.
এক কথায় প্রকাশ করুন: 'পাওয়ার ইচ্ছা'
  1. জিগীষা
  2. লিপ্সা
  3. দিদৃক্ষা
  4. বিবক্ষা
  5. ঈপ্সা
সঠিক উত্তর:
ঈপ্সা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈপ্সা
ব্যাখ্যা
• 'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় - ঈপ্সা।

এরূপ আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ-
- 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগীষা।
- 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - লিপ্সা।
- 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - দিদৃক্ষা।
- 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৬.
কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) কুল+অটা= কুলটা
  2. খ) গো+অক্ষ= গবাক্ষ
  3. গ) শুদ্ধ+ওদন= শুদ্ধোদন
  4. ঘ) অন্য+অন্য= অন্যান্য
  5. ঙ) প্রতি+এক= প্রত্যেক
সঠিক উত্তর:
ঙ) প্রতি+এক= প্রত্যেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) প্রতি+এক= প্রত্যেক
ব্যাখ্যা
প্রথম চারটি অপশন নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি। প্রতি+এক=প্রত্যেক এটি ই/ঈ কার ভিন্ন অন্য স্বর ধ্বনি থাকলে ই/ঈ কার স্থলে য বা য ফলা হয়, নিয়মে গঠিত স্বরসন্ধি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৫৭.
'পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ।' - বাক্যটিতে 'পুরাতনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।
- পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ। (অপাদানে ৭মী)।

অন্যদিকে:
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৮.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. সধবা
  2. শিল্পী
  3. সৎমা
  4. সতীন
সঠিক উত্তর:
শিল্পী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিল্পী
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- শিল্পী।
- শিল্পী  -মহিলা বা নারী শিল্পী। 
 
• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই। যেমন- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে। 
• কতগুলো পুরুষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন- কবি- মহিলা কবি, ডাক্তার-মহিলা ডাক্তার, সভ্য-মহিলা সভ্য, কর্মী-মহিলা কর্মী, শিল্পী-মহিলা বা নারী শিল্পী, সৈন্য-নারী / মহিলা সৈন্য, পুলিশ - মহিলা পুলিশ ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৩৫৯.
কোন শব্দে মূর্ধন্য-ণ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. ঝরণা
  2. ঘর্ষণ
  3. দূষণ
  4. ক্ষৌণি
সঠিক উত্তর:
ঝরণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝরণা
ব্যাখ্যা
• 'ঝরণা' শব্দে মূর্ধন্য-ণ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।

নিয়ম:

- বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- এখারে র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
- ষ: ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
- ক্ষ: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ন, ক্ষৌণি ইত্যাদি।

মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, পরান, রানি, সোনা।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬০.
'ষড়ানন' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) ষট + নন
  2. খ) ষড় + আনন
  3. গ) ষট্ + আনন
  4. ঘ) ষড় + নন
সঠিক উত্তর:
গ) ষট্ + আনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষট্ + আনন
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নে সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে ষট্ + আনন = ষড়ানন।

• ক্, চ্, ট্, ত্, প্ এর পর স্বরধ্বনি থাকলে এর পর যথাক্রমে- গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্, বসে।

যেমন-
- ষট্+আনন = ষড়ানন
- তৎ+অবধি = তদবধি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. পণ্য
  2. প্রতিচী
  3. তৃণজীবী
  4. কৃতিত্ব
সঠিক উত্তর:
প্রতিচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিচী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানানরূপ — প্রতীচী।

• প্রতীচী — (বিশেষ্য): 
 — সংস্কৃত শব্দ।
 — প্রকৃতি প্রত্যয়  [প্রত্যচ্+ঈ]।
অর্থ : পশ্চিম দিক, পশ্চিম দিকে অবস্থিত দেশসমূহ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৬২.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ছাগল
  2. জনতা
  3. পরিবার
  4. আকাশ
  5. বাহিনী
সঠিক উত্তর:
ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাগল
ব্যাখ্যা
• ‘ছাগল’ জাতি বিশেষ্যের উদাহরণ।

---------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬৩.
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সরোজ
  2. কুমুদ
  3. দামিনী
  4. অরবিন্দ
সঠিক উত্তর:
দামিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দামিনী
ব্যাখ্যা
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা, শম্পা।

অন্যদিকে,
• 'পদ্ম' শব্দের কিছু প্রতিশব্দ:
শতদল, উৎপল, নলিনী, অরবিন্দ, পঙ্কজ, সরোজ, কমল, কুবলয়, তামরস, কোকনদ, কুমুদ, পুণ্ডরীক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩৬৪.
'পড়ন' শব্দটি কোন শ্রেণির ধাতু হতে গঠিত?
  1. বাংলা ধাতু
  2. বিদেশি ধাতু
  3. সংস্কৃত ধাতু
  4. দেশি ধাতু
সঠিক উত্তর:
বাংলা ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ধাতু
ব্যাখ্যা
• 'পড়ন' শব্দটি বাংলা ধাতু হতে গঠিত।

• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।

বাংলা ধাতু ⇒ সাধিত পদ
গড়্‌ ⇒ গড়া, গড়ন।
দেখ্‌ ⇒ দেখা, দেখন।
পড় ⇒ পড়া, পড়ন
রাখ্‌ ⇒ রাখা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৫.
মেঘলা কী ধরনের শব্দ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্যের বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
মেঘলা (বিশেষণ) - মেঘাচ্ছন্ন; মেঘাবৃত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩৬৬.
‘আপণ’ শব্দের অর্থ কোনটি শুদ্ধ?
  1. দোকান
  2. বাজার
  3. দালাল
  4. নিজ
সঠিক উত্তর:
দোকান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোকান
ব্যাখ্যা
• আপণ(বিশেষ্য)
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

অর্থ: 
- দোকান; ক্রয়-বিক্রয়ের স্থান; বিপণি। 
- হাট।

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও অভিগম্য অভিধান।
৩৬৭.
'টেকসই' শব্দের 'সই' কোন প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• 'টেকসই' শব্দের 'সই' - বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
 
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
 
• বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
 
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
• বাজ (দক্ষ অর্থে)- কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ। 
• বন্দি (বন্দ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
সই: (মতো অর্থে) - জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই। 
 
দ্রষ্টব্য: 'টিপসই' ও 'নামসই' শব্দ দুটোর 'সই' প্রত্যয় নয়। এটি 'সহি' (অর্থ-স্বাক্ষর) শব্দ থেকে উৎপন্ন।
-----------------
বিশেষ তথ্য:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৮.
নিচের কোনটি গুনবাচক বিশেষণের উদাহরণ?
  1. কালো মেঘ
  2. চৌকস লোক
  3. নীল আকাশ
  4. ভাজা মাছ
সঠিক উত্তর:
চৌকস লোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌকস লোক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম' ও চৌকস হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬৯.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. সুরে সুরে
  2. অল্পসল্প
  3. দমাদম
  4. ঘুম ঘুম
সঠিক উত্তর:
অল্পসল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পসল্প
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

আবার, 
দমাদম - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

৩৭০.
'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. একটি
  2. এলো
  3. খেলা
  4. দেশ
সঠিক উত্তর:
খেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেলা
ব্যাখ্যা

এ এর উচ্চারণ:
- এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম:
- [এ] এবং
- [অ্যা]।
- সাধারণ উচ্চারণ [এ],
- কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।

উল্লেখ্য,
- এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [এক্টি], দেশ [দেশ], এলো [এলো]।
- এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা], মেলা[ম্যালা]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৬ সংস্করণ)।

৩৭১.
কোনটি ভিন্নার্থক শব্দ?
  1. ক) নৃপতি
  2. খ) নগেন্দ্র
  3. গ) ভূপতি
  4. ঘ) নরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
খ) নগেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নগেন্দ্র
ব্যাখ্যা
নগেন্দ্র (বিশেষ্য): নগ, নগপতি, নগরাজ, নগাধিপ, নগাধিরাজ, পর্বতশ্রেষ্ঠ; সর্বোচ্চ পর্বত; হিমালয়।
নৃপতি (বিশেষ্য) - নৃপ, ভূপতি; নরপতি; রাজা; বাদশাহ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩৭২.
নিচের কোন শব্দে উত্তম অর্থে ‘সু’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সুগম
  2. খ) সুলভ
  3. গ) সুনিপুণ
  4. ঘ) সুকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
উত্তম অর্থে ‘সু’ উপসর্গের ব্যবহার হলো: সুকণ্ঠ, সুকৌশল, সুশীল, সুনীল, সুবাস, সুপ্রিয় ইত্যাদি। সুগম ও সুলভ শব্দে সহজ অর্থে ‘সু’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে। সুনিপুণ শব্দে আধিক্য অর্থে ‘সু’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ)
৩৭৩.
'খয়ের খাঁ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. চাটুকার
  2. বিত্তশালী
  3. কর্মবিমুখ
  4. বন্ধুত্ব
সঠিক উত্তর:
চাটুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাটুকার
ব্যাখ্যা
• 'খয়ের খাঁ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ চাটুকার বা তোষামুদকারী।
উদাহরণ: খয়ের খাঁ থেকে একটু সাবধান থেকো।

• অন্যান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- মণিকাঞ্চন যোগ (উপযুক্ত মিলন): যেমন বর তেমন কনে এ যেন মণিকাঞ্চন যোগ।
- লেফাফা দুরস্ত (বাইরে পরিপাটি): লোকটি লেফাফা দুরস্ত হলে কী হবে, আসলে মূর্খ।
- ভিজে বিড়াল (কপট ব্যক্তি): সাবধান, আমাদের চারদিকে ভিজে বিড়ালের অভাব নেই।
- বর্ণচোরা (ভণ্ড): বর্ণচোরা লোকেরা খুব সহজেই অন্যদের বিপদে ফেলে।
- দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু): সুযোগসন্ধানীরা সব সময়ে দুধের মাছির মতো ক্ষমতার আশপাশে ঘোরে।
- তাসের ঘর (স্বল্পস্থায়ী): বাবার চাকরি যাওয়ায় মায়ের সব স্বপ্ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল।
- ঠোঁট কাটা (বেহায়া): আজকাল ঠোঁটকাটা লোকের অভাব নেই।
- কানকাটা (নির্লজ্জ): তার মতো কানকাটা লোক এমন মিষ্টি গালিতে অপমান বোধ করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩৭৪.
বাংলা ভাষায় কয়টি খাঁটি বাংলা উপসর্গ আছে? 
  1. উনিশ
  2. কুড়ি
  3. একুশ
  4. বাইশ
সঠিক উত্তর:
একুশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশ
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. কুজ্জটিকা
  2. কুজ্জ্বটীকা
  3. কুজ্ঝটিকা
  4. কুজ্ঝাটিকা
সঠিক উত্তর:
কুজ্ঝটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুজ্ঝটিকা
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- 'কুজ্ঝটিকা'।

- 'কুজ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ: কুহেলিকা, কুয়াশা।
- সন্ধিবিচ্ছেদ: কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।

• কিছু শুদ্ধ বানান:
- উর্ধ্ব- ঊর্ধ্ব, 
- পিঁপীলীকা- পিপীলিকা, 
- কোষ্ঠকাটিন্য- কোষ্ঠকাঠিন্য। 
- আমাবশ্যা - অমাবস্যা, 
- অত্যাধিক - অত্যধিক, 
- কটুক্তি - কটূক্তি, 
- ভূল - ভুল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৩৭৬.
বিদেশি শব্দ নয় কোনটি?
  1. গঞ্জ
  2. চেয়ার
  3. রেস্তোরাঁ
  4. সাদা
সঠিক উত্তর:
গঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঞ্জ
ব্যাখ্যা
• 'গঞ্জ' দেশি শব্দ
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এর সমার্থক শব্দ: ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থান, হাট, গোলা।

অন্যদিকে:
- চেয়ার ইংরেজি শব্দ।
- রেস্তোরাঁ ফরাসি শব্দ।
- সাদা ফারসি শব্দ।

উৎস:
১) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা বাংলা অভিধান।
২) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৭৭.
প্রত্যয় কিসের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে?
  1. ক) বর্ণ
  2. খ) নামপ্রকৃতি
  3. গ) ধ্বনি
  4. ঘ) বর্গ
সঠিক উত্তর:
খ) নামপ্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নামপ্রকৃতি
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে। শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি।
- প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি।
- ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়। নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।

নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৭৮.
নারীকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কোনটি?
  1. ক) কল্যাণীয়েষু
  2. খ) সুচরিতেষু
  3. গ) শ্রদ্ধাস্পদাসু
  4. ঘ) প্রীতিভাজনেষু
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রদ্ধাস্পদাসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রদ্ধাস্পদাসু
ব্যাখ্যা
নারীকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় শ্রদ্ধাস্পদাসু। অন্যদিকে কল্যাণীয়েষু এবং প্রীতিভাজনেষু ব্যবহৃত হয় যথাক্রমে বয়ঃকনিষ্ঠ ছেলে ও বন্ধুকে (পুরুষ) সম্বোধনের ক্ষেত্রে। শ্রদ্ধাভাজনকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় সুচরিতেষু। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ: নবম-দশম শ্রেণী)
৩৭৯.
‘খাতক' শব্দটির বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. প্রসারণ
  2. চেতন
  3. মহাজন
  4. উত্তমর্ণ
সঠিক উত্তর:
মহাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাজন
ব্যাখ্যা
‘খাতক' শব্দটির বিপরীত শব্দ- 'মহাজন'

তাছাড়া,
সংকোচন শব্দটির বিপরীত শব্দ- 'প্রসারণ'
অচেতন শব্দটির বিপরীত শব্দ- 'চেতন'
অধমর্ণ শব্দটির বিপরীত শব্দ- 'উত্তমর্ণ'

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৮০.
"১ বলার দ্বিগুণ সময়" থামতে হয় কোন যতিচিহ্নে?
  1. প্রশ্নবোধক
  2. সম্বোধন চিহ্ন
  3. ড্যাস
  4. কোলন ড্যাস
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়
- সেমিকোলনের বিরতিকাল  - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।

• যেসকল যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড':

যেমন:
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- ড্যাস - এক সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮১.
'Debenture' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. আমানত
  2. জমা-খরচ
  3. ঋণপত্র
  4. বন্ধক
সঠিক উত্তর:
ঋণপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণপত্র
ব্যাখ্যা
• 'Debenture' এর বাংলা পরিভাষা — 'ঋণপত্র'।

অন্য অপশনের পারিভাষিক অর্থ: 
• 'Deposits' - আমানত, 
• 'Debit and credit' - জমা-খরচ, 
• 'Mortgage' - বন্ধক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩৮২.
'অন্য কোনো উপায় নেই এমন' এক কথায় কী বলে- 
  1. অন্যউপায়
  2. অনন্যোপায়
  3. অনন্যপায়
  4. নিরূপায়
সঠিক উত্তর:
অনন্যোপায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্যোপায়
ব্যাখ্যা
• 'অন্য কোনো উপায় নেই এমন' এক কথায় বলে- নিরুপায়, অনন্যসহায়, অনন্যোপায়। 

অন্যদিকে, 
নিরূপায়, অনন্যপায় ও অন্যউপায়  শব্দের বানানগুলো অশুদ্ধ। 

কাছাকাছি অর্থের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ হলো:
• যা কষ্টে জয় করা যায় – দুর্জয়।
• যা কষ্টে লাভ করা যায় – দুর্লভ।

• যা বার বার দুলছে – দোদুল্যমান।
• যা দীপ্তি পাচ্ছে – দেদীপ্যমান।

• যা দমন করা কষ্টকর – দুর্দমনীয়।
• যা নিবারণ করা কষ্টকর – দুর্নিবার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৮৩.
'ছক্কা পাঞ্জা করা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. বড় বড় কথা বলা
  2. অলীক কথা বলা
  3. বেশি কথা বলা
  4. অস্থির থাকা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বড় বড় কথা বলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড় বড় কথা বলা
ব্যাখ্যা

• 'ছক্কা পাঞ্জা করা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ বড় বড় কথা বলা।

কিছু  গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
 ‘বকধার্মিক’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- অসাধু যখন সাধুর ভান করে।
• ‘বিড়াল তপস্বী’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- ভণ্ড লোক।
• ‘মণিকাঞ্চন যোগ’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- উপযুক্ত মিলন।
• ‘সোনায় সোহাগা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- সুন্দর মিল।
• ‘অন্ধের যষ্টি’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ-অপরিহার্য অবলম্বন। 
• ‘অন্ধের নড়ি’দ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- একমাত্র অবলম্বন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮৪.
'বীপ্সা' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. ক) অনুধাবন
  2. খ) অনুগমন
  3. গ) প্রত্যুত্তর
  4. ঘ) অনুক্ষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা
⇒ অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে।
যেমন:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন,
- পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি) : প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৩৮৫.
'সেমিকোলন' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ -
  1. এক বলতে যে সময় লাগে
  2. থামার প্রয়োজন নেই
  3. এক সেকেন্ড
  4. এক বলার দ্বিগুণ সময়
সঠিক উত্তর:
এক বলার দ্বিগুণ সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন:
সেমিকোলনের স্থানে কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাড়িঁর চেয়ে কম থামতে হয়। বাক্যের ভেতরে শুধু থামার জন্য কমা-সেমিকোলন ব্যবহার করা হয় না। অর্থ প্রকাশেও কমা ও সেমিকোলন ভূমিকা পালন করে।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
------------------
• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• 'কোলন ড্যাস' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ - ১ সেকেন্ড।

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮৬.
দোষী ছাত্রটিকে জরিমানা করা হয়েছে।- এখানে ‘ছাত্রটিকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় দ্বিতীয়া
  2. খ) করণে দ্বিতীয়া
  3. গ) অধিকরণে দ্বিতীয়া
  4. ঘ) কর্মকারকে দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মকারকে দ্বিতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মকারকে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
দোষী ছাত্রটিকে জরিমানা করা হয়েছে।- এখানে ‘ছেলেটিকে’ কর্মকারকে দ্বিতীয় বিভক্ত।

কর্মকারক: কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
- আমাকে এক খানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মূখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।(গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট প্রয়ােগ)।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৭.
‘লাখেরাজ’ শব্দের আরবি ‘লা’ উপসর্গটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সাধারণ
  2. বিশেষ
  3. অভাব
  4. না
সঠিক উত্তর:
না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
না
ব্যাখ্যা

উপসর্গঃ শব্দ বা ধাতুর পূর্বে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন,সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটিয়ে থাকে।
এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ।
উপসর্গ ৩ প্রকার।
সংস্কৃত
বাংলা
বিদেশি
বিদেশি উপসর্গঃ আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি - এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ধকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
এর সঙ্গে কিছু বিদেশী উপসর্গও রয়েছে।
আরবি উপসর্গ- আম্‌,খাস, লা, গর্‌।

লা
অর্থদ্যোতকতা - না।
উদাহরণ - লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা ইত্যাদি।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি

৩৮৮.
'হঠাৎ অপ্রত্যাশিত সৌভাগ্য লাভ' দ্বারা নিচের কোন প্রবাদের অর্থ বোঝায়?
  1. ক) নাকের বদলে নরুন।
  2. খ) বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া।
  3. গ) লোম বাছতে কম্বল উজাড়।
  4. ঘ) শকুনের চোখ ভাগাড়ের দিকে।
সঠিক উত্তর:
খ) বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া।
ব্যাখ্যা
- বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া প্রবাদটির অর্থ হচ্ছে 'হঠাৎ অপ্রত্যাশিত সৌভাগ্য লাভ'

• অন্যান্য অপশন:
'নাকের বদলে নরুন' প্রবাদটির অর্থ হচ্ছে - মারাত্মক ক্ষতির বদলে তুচ্ছ ক্ষতিপূরণ।
'লোম বাছতে কম্বল উজাড়' প্রবাদটির অর্থ হচ্ছে - সকলেই এক দলের। 
'শকুনের চোখ ভাগাড়ের দিকে' প্রবাদটির অর্থ হচ্ছে- নীচ লোকের নজর নীচ স্বার্থের দিকে থাকে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩৮৯.
'জ্ঞাত' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় নিচের কোনটি?
  1. ক) √জ্ঞা + ত
  2. খ) জ্ঞা + ক্ত
  3. গ) √জ্ঞা + ক্ত
  4. ঘ) জ্ঞা + ত
সঠিক উত্তর:
ক) √জ্ঞা + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) √জ্ঞা + ত
ব্যাখ্যা
জ্ঞাত (বিশেষণ):
অর্থ -
১. জানা গেছে বা জেনেছে এমন, অবগত (জ্ঞাত থাকা)
২. বিদিত, প্রকাশিত (জ্ঞাত বিষয়)

- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
- এর প্রকৃতি প্রত্যয় - √জ্ঞা + ত

তথ্যসূত্র:- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯০.
"তপোবন" শব্দটি কোন সন্ধিতে গঠিত?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধি:
- অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে, অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।

যেমন:
- ততঃ + অধিক= ততোধিক,
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ,
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান।

৩৯১.
কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. গামলা
  2. ডেরা
  3. চাকু
  4. কোর্মা
সঠিক উত্তর:
গামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামলা
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ শব্দ - গামলা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মাটি বা ধাতুর তৈরি অর্ধগোলক-আকৃতির বড়ো পাত্র।

অন্যদিকে,
তুর্কি শব্দ - চাকু, কোর্মা।
হিন্দি শব্দ - ডেরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯২.
'দূতী' ও 'দ্যুতি' শব্দজোড়ের অর্থ -
  1. অন্ধকার, নারী সংবাদবাহক।
  2. নারী সংবাদবাহক, আলো।
  3. তারা, নক্ষত্র।
  4. প্রদীপ, নারী সংবাদবাহক।
সঠিক উত্তর:
নারী সংবাদবাহক, আলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারী সংবাদবাহক, আলো।
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে শব্দজোড় উচ্চারণে এক হলেও বানান ও অর্থে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

- 'দূতী' অর্থ হচ্ছে - নারী সংবাদবাহক।
- 'দ্যুতি' অর্থ হচ্ছে - আলো

• উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি শব্দজোড় ও অর্থ:
দারা - স্ত্রী।
দ্বারা - দিয়ে।

দার - স্ত্রী।
দ্বার - দরজা।

তরণী - নৌকা।
তরুণী – যুবতী।

তারা – নক্ষত্র।
নিতি – রোজ।

পিন – আলপিন।
পীন – স্থূল।

দন্ত – দাঁত।
দন্ত্য – দাঁত বিষয়ক।

দিন – দিবস।
দীন – দরিদ্র।

দীপ – প্রদীপ।
দ্বীপ – জলবেষ্টিত ভূখণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩৯৩.
'বলিয়া > বলে' - এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিচ্যুতি
  2. অভিশ্রুতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯৪.
অন্বেষণ—এর সন্ধি বিচ্ছেদ নির্ণয় করুন৷
  1. ক) অন্ব + এষন
  2. খ) অন্ব + এষণ
  3. গ) অনু + এষন
  4. ঘ) অনু + এষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনু + এষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনু + এষণ
ব্যাখ্যা
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।

যেমন - উ + ঈ = ব + ঈ (তনু + ঈ = তন্বী)

উ + এ = ব + এ (অনু + এষণ = অন্বেষণ)
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।
৩৯৫.
নির্দেশক সর্বনাম কোনটি?
  1. পরস্পর
  2. উনি
  3. অপর
  4. যারা-তারা
সঠিক উত্তর:
উনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনি
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি

অন্যদিকে,
• অপর - অন্যবাচক সর্বনাম।
• যারা-তারা - সাপেক্ষ সর্বনাম।
• পরস্পর - পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯৬.
”পূজা অঙ্কে কাঁচা।” বাক্যটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. সম্বন্ধ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
 যেমন:
- পূজা অঙ্কে কাঁচা।
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালে সংস্করণ)।

৩৯৭.
"ঋ, ট, ঠ, ড" বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. মূর্ধা
  2. জিহ্বামূল
  3. দন্তমূল
  4. তালু
সঠিক উত্তর:
মূর্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধা
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান মূর্ধা বা তালুর অগ্রভাগ, তাদের মূর্ধন্যধ্বনি বলে। 
- ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ মূর্ধন্যধ্বনি।
 
অন্যদিকে,
কণ্ঠ্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠনালির উপরিভাগ বা জিহ্বামূল, তাদের কণ্ঠ্যধ্বনি বলে। 
- অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ কণ্ঠ্যধ্বনি।
 
তালব্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান তালু, তাদের তালব্যধ্বনি বলে। 
- ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য়, শ তালব্যধ্বনি।

দন্ত্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান দন্তমূল, তাদের দন্ত্যধ্বনি বলে। 
- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স দন্ত্যধ্বনি।
 
উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩৯৮.
"মুগ্ধ" শব্দের প্রকৃতি ও প্রতায় কোনটি?
  1. মুগ্ + ত
  2. মুগ + অন
  3. মুদ্ধ + শূন্য
  4. মুহ্‌ + ক্ত 
সঠিক উত্তর:
মুহ্‌ + ক্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহ্‌ + ক্ত 
ব্যাখ্যা

• মুগ্ধ (বিশেষণ) , 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।  
- সঠিক পকৃতি প্রত্যয় - √মুহ্‌ + ক্ত/ত। 
অর্থ- 
- মোহগ্রস্থ, বশীভূত,
- বিহ্বল, বিভোর,
- মূঢ়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৯৯.
যৌগিক বাক্যের অন্যতম গুণ কী?
  1. একটি জটিল ও একটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
  2. একটি সংযুক্ত ও একটি বিযুক্ত বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
  3. দুটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
  4.  দুটি মিশ্র বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
সঠিক উত্তর:
দুটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
ব্যাখ্যা
• একটি যৌগিক বাক্যের অন্যতম গুণ হচ্ছে- দুটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন।

• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
অন্যভাবে, দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪০০.
কোনটি লগ্নক নয়?
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. উপসর্গ
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• লগ্নক:
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
---------------------- 
অন্যদিকে,
উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।