বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ২৭ / ৩৫৪ · ২,৬০১২,৭০০ / ৩৫,৭১৩

২,৬০১.
‘ষ্ণ’ যুক্তবর্ণে কী কী বর্ণ আছে? 
  1. ক্‌ + ষ 
  2. ষ্‌ + ণ
  3. হ্‌ + ণ
  4. হ্‌ + ম
সঠিক উত্তর:
ষ্‌ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্‌ + ণ
ব্যাখ্যা

• গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি যুক্তবর্ণ:
ক্‌ + ষ = ক্ষ
ষ্‌ + ণ = ষ্ণ
হ্‌ + ণ = হ্ণ
হ্‌ + ম = হ্ম 

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।

২,৬০২.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. পটাপট
  2. এলো মেলো
  3. ঝমঝম
  4. হাতে হাতে
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।

যেমন:
- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
- ‘এলো মেলো’ অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
- ঝমঝম ও পটাপট ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬০৩.
কোন ভাষারীতিতে তৎসম শব্দের ব্যবহার বেশি?
  1. সাধু ভাষারীতি
  2. প্রমিত ভাষারীতি
  3. আঞ্চলিক ভাষারীতি
  4. মান্য ভাষারীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -২০২১ সংস্করণ)।

২,৬০৪.
কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. আণবিক
  2. দোলনা
  3. দৈনিক
  4. বাঘা
সঠিক উত্তর:
দোলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলনা
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা,
→ দিন + ইক = দৈনিক,
→ দুল্ + অনা = দোলনা,
→ অণু + ইক = আণবিক, 

→ কৃ + তব্য = কর্তব্য।

- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে,
'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক', আণবিক হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।

উপরের উদাহরণে,
'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬০৫.
কোন পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দজোড় অশুদ্ধ?
  1. কাঙাল- কাঙালিনি
  2. যোগী- যোগিনী
  3. কোকিল- কোকিলারা
  4. ঠাকুর- ঠাকুরানি
সঠিক উত্তর:
কোকিল- কোকিলারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোকিল- কোকিলারা
ব্যাখ্যা

• 'কোকিল' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ 'কোকিলা'। 'কোকিলারা' - সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ নয়।

অন্যদিকে,
- 'কাঙাল' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- কাঙালিনি।
-  'যোগী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- 'যোগিনী'।
- 'ঠাকুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- 'ঠাকুরানি'।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬০৬.
'অকালে সব এক হয়ে গেল।'- বাক্যে 'অকালে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- অকালে সব এক হয়ে গেল।

[প্রদত্ত বাক্যকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অকালে'। সুতরাং 'অকালে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৬০৭.
কোনটি অপপ্রয়োগজনিত ভুল শব্দ?
  1. নিরপরাধ
  2. অর্ধরাত্র
  3. নিরভিমানী
  4. নীরোগ
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অপপ্রয়োগজনিত শব্দের শুদ্ধরূপ হলো-
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
• নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
• অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
• নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
• নির্দোষী ----- নির্দোষ
• পিতাহারা ------ পিতৃহারা
• অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
• নিরভিমানী ---- নিরভিমান
• দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
• নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬০৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সমুজ্যল
  2. সমুজ্বল
  3. সমুজ্জ্বল
  4. সমুজ্জল
সঠিক উত্তর:
সমুজ্জ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'সমুজ্জ্বল'
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ 
- বিশেষভাবে উজ্জ্বল;
- প্রভা ও দীপ্তিযুক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬০৯.
সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার নেই কোনটিতে?
  1. ১মা
  2. ১লা
  3. ১০মী
  4. ১৬শী
সঠিক উত্তর:
১লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১লা
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
যেমন - ‘এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম', ‘প্রথমা’, ‘পহেলা' ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়:
১. সাধারণ পূরণবাচক।
২. তারিখ পূরণবাচক।
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়।
যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন - প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তারিখ পূরণবাচক - পহেলা বা পয়লা (১লা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬১০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. পোষিতভর্তৃকা
  2. প্রোষীতভতৃকা
  3. প্রোশিতভর্তৃকা
  4. প্রোষিতভর্তৃকা
সঠিক উত্তর:
প্রোষিতভর্তৃকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোষিতভর্তৃকা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'প্রোষিতভর্তৃকা'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: প্রোষিত + ভতৃ + কন্‌ + আ।
এর অর্থ:
- যে নারীর স্বামী প্রবাসে থাকে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬১১.
'যুক্তবর্ণ' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন দুটি বর্ণ যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ত্‌ + ত
  2. খ) ক্‌ + ত
  3. গ) ত্‌ + ক
  4. ঘ) ত্ত + ক
সঠিক উত্তর:
খ) ক্‌ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্‌ + ত
ব্যাখ্যা
'যুক্তবর্ণ' শব্দের যুক্তবর্ণ = ক্ত 
ক্ত = ক্‌ + ত

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
২,৬১২.
'ক্ষ্ম' যুক্তাক্ষরটিতে আছে -
  1. হ + ম +ণ
  2. ক + ষ + ম
  3. ক + ষ + ণ
  4. ক + ষ + ন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক + ষ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + ষ + ম
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষ্ম'- এই যুক্তব্যঞ্জনে 'ক্‌ + ষ্‌ + ম' বর্ণ আছে। 

'ক্ষ্ম'- এই যুক্তব্যঞ্জন সহযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- লক্ষ্মী,
- লক্ষ্মণ। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ন্ + ম = ন্ম,
- হ্ + ণ = হ্ণ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- ত্ + থ = ত্থ,
- ন্ + ন = ন্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬১৩.
কোনগুলো মহাপ্রাণ ঘােষ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. ভ, ধ, ঘ
  2. দ, ড, জ
  3. ঝ, গ, হ
  4. ব, দ, জ,
সঠিক উত্তর:
ভ, ধ, ঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ, ধ, ঘ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।
 
• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।
 
• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।
 
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।
 
• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
২,৬১৪.
ছাত্ররা বলল, "কী মজা! আজ আমাদের ছুটি হবে।” বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি হলো- 
  1. ছাত্ররা আনন্দে বলল যে আজ তাদের ছুটি হবে।
  2. ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে আজ আমাদের ছুটি হবে।
  3. ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
  4. ছাত্ররা বিস্ময়ে বলল, "আজ তাদের ছুটি হবে"।
সঠিক উত্তর:
ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
ব্যাখ্যা

• ছাত্ররা বলল, "কী মজা! আজ আমাদের ছুটি হবে।” বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি হলো- 
- ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উক্তি:
- বাংলা ব্যাকরণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উক্তি এর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো উক্তি কিভাবে প্রকাশ করা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
• প্রত্যক্ষ উক্তি:
 “কী মজা! আজ আমাদের ছুটি হবে।” – এখানে ছাত্ররা নিজের মতো করে আনন্দ প্রকাশ করেছে এবং ‘আজ’ শব্দ ব্যবহার করে বর্তমান সময় নির্দেশ করেছে।
- এখানে মূল উক্তির ‘আনন্দ’ ভাবটি ‘কী মজা!’ দ্বারা প্রকাশ পেয়েছে, যা পরোক্ষ উক্তিতে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়েছে।
পরোক্ষ উক্তি:
 ছাত্ররা আনন্দে বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
- এখানে বক্তার কথা অন্য ভাষায় পুনর্গঠন করা হয়েছে। 
- ‘আজ’ শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ‘সেদিন’ হয়েছে, এবং ‘কী মজা!’–এর মতো আবেগসূচক শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করার নিয়মগুলো হলো:
 ১. বর্ণনামূলক ক্রিয়ার পরিবর্তন: ‘বলল’ শব্দের পরিবর্তে আবেগ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়, যেমন—‘আনন্দে বলল’, ‘দুঃখ করে বলল’, ‘বিস্ময়ে বলল’।
 ২. উদ্ধৃতি চিহ্ন ও যোজক: উদ্ধৃতি চিহ্ন তুলে ‘যে’ বা ‘যাতে’ যোগ করতে হয়।
 ৩. আবেগসূচক শব্দ অপসারণ: ‘আহা!’, ‘ওহ!’ ইত্যাদি শব্দ বাদ দিতে হয়।
 ৪. বিশেষণ ও ক্রিয়ার পরিবর্তন: ‘কী’ বা ‘কেমন’ দিয়ে শুরু হওয়া বাক্যকে ‘খুব’ বা ‘বেশি’ দিয়ে পুনর্গঠন করা যায়।
 ৫. সর্বনাম ও কালের পরিবর্তন: প্রথম পুরুষের সর্বনাম দ্বিতীয় বা তৃতীয় পুরুষে পরিবর্তিত হয়, এবং বর্তমান কাল অতীত কালে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬১৫.
বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. ভর
  2. অপি
  3. উপ
  4. দুর
সঠিক উত্তর:
ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ - ভর।

বাংলা উপসর্গ:

বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬১৬.
নিচের কোনটি বিদেশি শব্দ?
  1. ক) কান
  2. খ) কাজ
  3. গ) কাঁচি
  4. ঘ) কলম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কলম
ব্যাখ্যা
'কলম' আরবি ভাষার শব্দ।
১ কোনো শক্ত দণ্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরি লেখনী; ঝরনাকলম।
২ নলখাগড়া পালক প্রভৃতির অগ্রভাগ ত্যারচা করে কেটে তৈরি লেখনী।

'কাঁচি' দেশি শব্দ।
১. কাঁচি শব্দের শব্দ কম ওজন বিশিষ্ঠ
২. ঠাসবুনন সম্পন্ন

(আবার 'কাঁচি' তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ। যার অর্থ - কাগজ বা কাপড় কাটার যন্ত্র বিশেষ)

কাজ / কাজ/ [স. কার্য >]
১. কর্ম, কার্য (কাজ করা )।
২. দরকার (রোজ গিয়ে কাজ নেই)।
৩. কৃত বিষয় (এটা নিশ্চয় ওর কাজ)।
৪. কর্তব্য (তোমার কাজ পড়াশোনা করা)।
৫. উদ্দেশ্য সিদ্ধি (ওষুধে কাজ হয়েছে)।
৬. কারুকার্য (রঙের কাজ)।
৭. সাধ্য (এ কাজ ওর আয়ত্তের বাইরে)।
৮. ব্যবহারযোগ্যতা (এটা কোনো কাজের নয়)।

কান [স. কর্ণ >] বি.
১ মানুষ ও অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রবণ এবং ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক মাথার দুইপাশে অবস্থিত স্থূল খাড়া বহিঃস্থ অঙ্গবিশেষ, কর্ণ, শ্রবণেন্দ্রিয়।
২ সেতার তানপুরা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রের সুরবাঁধার জন্য তার জড়ানো গোলাকার চাবি বিশেষ।

[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান]
২,৬১৭.
কৃষ্টি শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়-
  1. কৃ্ষ্ + তি
  2. কৃষ্ + টি
  3. কৃ + ইষ্টি
  4. কৃষ্ + ইষ্টি
সঠিক উত্তর:
কৃ্ষ্ + তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃ্ষ্ + তি
ব্যাখ্যা

• কৃষ্টি (বিশেষ্য) ১ হালচাষ; কর্ষণ; কৃষিকার্য।
২ সংস্কৃতি।
{(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) √কৃষ্‌+ত(ক্তি)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান 

• কৃষ্টি এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কৃষ্ + তি।
- ষ-এর পরে ত্ বা থ্ থাকলে, যথাক্রমে ত্ ও থ্ এর স্থানে ট ও ঠ হয়।
- এরূপ - বৃষ্টি - বৃষ্‌ + তি, ষষ্ঠ - ষষ্‌ + থ। 

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণীর ব্যাকরণ বোর্ড বই।

২,৬১৮.
‘চুল’ এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) সুধাংশু
  2. খ) শ্রুতি
  3. গ) মৃগাঙ্ক
  4. ঘ) কুন্তল
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুন্তল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুন্তল
ব্যাখ্যা
 যেসব শব্দের অর্থ অভিন্ন বা প্রায় সমান, সেসব শব্দকে প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ বলে।
 • “চুল” এর সমর্থক শব্দ: কেশ, অলক, চিকুর, কুন্তল, কবরী।

গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক শব্দ:
- চাঁদ : চন্দ্র, শশী, শশাঙ্ক, সুধাকর, ইন্দু, সোম, শশধর, বিধু, নিশাকর, সুধাংশু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।
- কুল: বংশ, গোত্র, গোষ্ঠী, জাত, বর্ণ।
- কান্না: কর্ণ, শ্রবণ, শ্রুতি, শ্রবণেন্দ্রিয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬১৯.
নিচের কোন শব্দটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পানি
  2. নদী
  3. সমিতি
  4. মিছিল
সঠিক উত্তর:
নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী
ব্যাখ্যা
• জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ- 'নদী'। 

জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন-
- মানুষ,
- নদী, 
- গরু,
- পাখি,
- গাছ,
- পর্বত,
- ইংরেজ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মিছিল, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬২০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অনির্বচ্যনীয়
  2. অনির্বাচ্যনীয়
  3. অনির্বচনীয়
  4. অনির্বাচনীয়
সঠিক উত্তর:
অনির্বচনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্বচনীয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- অনির্বচনীয়। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- বর্ণনাতীত, অবর্ণনীয়।  /অনিরবচোনিয়া।।

• এর স্ত্রীবাচক শব্দ- অনির্বচনীয়া। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২,৬২১.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত হয়েছে?
  1. রোষ
  2. আষাঢ়
  3. পৌষ
  4. কৃষক
সঠিক উত্তর:
কৃষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষক
ব্যাখ্যা
• 'কৃষক' শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।

সূত্র: 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৬২২.
'বেসাতি' শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. নির্জীব
  2. দোকানদারি
  3. দীর্ঘায়ু
  4. অরণ্যে বসবাস
সঠিক উত্তর:
দোকানদারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোকানদারি
ব্যাখ্যা
• 'বেসাতি' শব্দের অর্থ - দোকানদারি

অন্যদিকে,
- 'জীবস্মৃত' শব্দের অর্থ - নির্জীব, মনমরা।
- 'চিরজীবী' শব্দের অর্থ - দীর্ঘায়ু, অমর।
- 'বনবাস' শব্দের অর্থ - অরণ্যে বসবাস।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬২৩.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ক) দেওয়াল
  2. খ) আকুল
  3. গ) চাবুক
  4. ঘ) আড়ং
সঠিক উত্তর:
ঘ) আড়ং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আড়ং
ব্যাখ্যা
আড়ং (বিশেষ্য পদ) 
- দেশি শব্দ 
অর্থ- 
- হাট, গঞ্জ, ক্রয় বিক্রয়ের প্রধান স্থান।
- মেলা 
- কারখানা, গোলাঘর

দেওয়াল = ফারসি
আকুল =সংস্কৃত 
চাবুক = ফারসি 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৬২৪.
কোনটি ঈ- প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. গুণবতী
  2. নারী
  3. যোগিনী
  4. বিজয়িনী
সঠিক উত্তর:
নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারী
ব্যাখ্যা
ঈ প্রত্যয়:
- কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।

অন্যদিকে,
ইনী- প্রত্যয়:
- জয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।

বতী প্রত্যয়:
- গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
২,৬২৫.
নিচের কোনটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) চালাক
  2. খ) হাজার
  3. গ) গণিত
  4. ঘ) বালিশ
সঠিক উত্তর:
গ) গণিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গণিত
ব্যাখ্যা
গণিত 'সংস্কৃত ভাষা' থেকে আগত শব্দ। 
 
অর্থ:
গণনা করা হয়েছে এমন, সংখ্যাত, গোনাগাথা; গণনার দ্বারা স্থিরীকৃত। 
 
অপরদিকে,
চালাক, হাজার, বালিশ হলো ফারসি শব্দ। 
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
২,৬২৬.
বাক্যে সম্বোধনের পর কোন বিরাম চিহ্ন বসবে?
  1. দাঁড়ি
  2. ড্যাশ
  3. কোলন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• বাক্যে সম্বোধনের পর কমা বসে।
যেমন:
- সেতু, পড়তে বসো।
- বিথু, খাবে এসো।
------------------
• কমা (,)
বাক্যে অল্প বিরতি বোঝাতে কমা বসে।

• নানা প্রয়োজনে বাক্যে কমাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:

- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে।
যেমন:
-  সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

- একই ধরনের একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশকে আলাদা করতে কমা বসে।
যেমন:
- শ্রেষ্ঠা ক্লাসে ঢুকল, বই রাখল, তারপর বেরিয়ে গেল।
- আমাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ খুবই আনন্দের দিন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই।
২,৬২৭.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. ভর
  2. দুর
  3. অভি
  4. কম
সঠিক উত্তর:
কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম
ব্যাখ্যা
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে, 
দুর, অভি- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ। 
ভর- খাঁটি বাংলা উপসর্গ

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৬২৮.
শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে বলে-
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. মিশ্র শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
- অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬২৯.
বাংলা ব্যাকরণে বাচ্য মূলত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা

• বাচ্য:
বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
বাচ্য তিন প্রকার:
- কর্তাবাচ্য,
- কর্মবাচ্য ও
- ভাববাচ্য।

১. কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
- ঝরনা ছবি আঁকে।

২. কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন-
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

৩. ভাববাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
- আমার যাওয়া হলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

২,৬৩০.
কোনটির স্ত্রীলিঙ্গ ভিন্ন শব্দ?
  1. ক) বিদ্বান
  2. খ) গায়ক
  3. গ) কোকিল
  4. ঘ) দাদা
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্বান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্বান
ব্যাখ্যা
- অপশনে প্রদত্ত শব্দ গুলোর মধ্যে 'বিদ্বান' এর স্ত্রীবাচক শব্দটি বিশেষ নিয়মে সাধিত হয়েছে।

• বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ-
(ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়। যেমন— নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী।
(খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়। যথা : সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান- - গরিয়সী।
(গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ : খান-খানম, মরদ-জেনানা, মালেক-মালেকা, মুহতারিম- মুহতারিমা, সুলতান- সুলতানা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৩১.
‘কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।’ - এ বাক্যে ‘কি’ অব্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. জিজ্ঞাসায়
  2. বিরক্তি প্রকাশে
  3. সাকুল্য অর্থে
  4. বিড়ম্বনা প্রকাশে
সঠিক উত্তর:
সাকুল্য অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাকুল্য অর্থে
ব্যাখ্যা

• ‘কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।’ - এ বাক্যে ‘কি’ অব্যয়টি সাকুল্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

"কি/কী" অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার:
- জিজ্ঞাসায়: তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
- বিরক্তি প্রকাশে: কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
- সাকুল্য অর্থে: কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।
- বিড়ম্বনা প্রকাশে: তোমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২,৬৩২.
'আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।' বাক্যের ক্রিয়া কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• 'আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।' বাক্যটি  নিত্যবৃত্ত অতীত কাল নির্দেশ করছে।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন-
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

• নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
- কামনা প্রকাশে- আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
- অসম্ভব কল্পনায় -  'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
- সম্ভাবনা প্রকাশে - তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৬৩৩.
অন্তর্হতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ধাইমা > দাইমা
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. লাঙ্গল > নাঙ্গল
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুন > ফাগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• স্বরসঙ্গতি: একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
শরীর > শরীল,
লাল > নাল,
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে
যেমন:
শাক > শাগ;
ধোবা > ধোপা;
কবাট > কপাট;
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৩৪.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. ঝিলমিল
  2. লুটিফুটি
  3. এলোমেলো
  4. কবি কবি
সঠিক উত্তর:
কবি কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি কবি
ব্যাখ্যা

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন: ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঝমঝম, টসটস।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, লুটিফুটিঝিলিমিলি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৬৩৫.
'যার আগমনের কোন তিথি নেই' তাকে বলা হয় :
  1. ক) তীর্থযাত্রী
  2. খ) আগন্তুক
  3. গ) অতিথি
  4. ঘ) তিথিহীন
সঠিক উত্তর:
গ) অতিথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অতিথি
ব্যাখ্যা
'যার আগমনের কোন তিথি নেই' এর এক কথায়- 'অতিথি

আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ- 
যার কোন উপায় নাই এর এক কথায়- নিরুপায়
যার অন্য উপায় নাই এর এক কথায়- অনন্যোপায়
যা আঘাত পায়নি এর এক কথায়- অনাহত
যার কোন অবলম্বন নাই এর এক কথায়- নিরবলম্বন
যার কোন উপায় নাই এর এক কথায়- নিরুপায়
যার অন্য উপায় নাই এর এক কথায়- অনন্যোপায়
যা আঘাত পায়নি এর এক কথায়- অনাহত
যার আগমনের কোনো তিথি নেই এর এক কথায়- অতিথি
যার কোন অবলম্বন নাই এর এক কথায়- নিরবলম্বন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান। 
২,৬৩৬.
'সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালবাসে?' এখানে 'সুস্থ সবল' কোন পদ?
  1. সর্বনামের বিশেষণ
  2. বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. অব্যয়ের বিশেষণ
  4. বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:  
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।

• নাম বিশেষণ: 
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা -

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২,৬৩৭.
‘মাথা ঝিমঝিম্ করছে‘ -বাক্য়টি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) নাম ধাতুর ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) নিজন্ত ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ মাথা ঝিমঝিম্ করছে‘ - বাক্যটি মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ।
- কারণ এখানে ধ্বন্যাত্মক অব্যয় ( ঝিমঝিম্ )  + ধাতু ( কর্ ‘) যুক্ত হয়ে মিশ্র ক্রিয়া গঠিত হয়েছে।
•মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
- যেমন–
- বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
- বিশেষণের (পরে) : তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
- ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের (পরে) : মাথা ঝিমঝিম্ করছে।
• যৌগিক ক্রিয়া-একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
• নিজন্ত ক্রিয়া-- কর্তার যে ক্রিয়া অন্যকে দিয়ে করানো হয়, তাকে প্রযোজক বা নিজন্ত ক্রিয়া বলে।
- যেমন—মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২,৬৩৮.
"তোমার নেই নেই ভাব গেল না।" - এখানে দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ 'নেই নেই' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. আধিক্য
  3. সামান্যতা
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দ:

বিশেষণ রূপে: এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব গেল না। 
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো। 
ক্রিয়া বিশেষণ: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৬৩৯.
'উচ্ছেদ' শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ নিচের কোনটি?
  1. ক) উচ + ছেদ
  2. খ) উচ্‌ + ছেদ
  3. গ) উৎ + ছেদ
  4. ঘ) উত্‌ + ছেদ
সঠিক উত্তর:
গ) উৎ + ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উৎ + ছেদ
ব্যাখ্যা

ত্‌ কিংবা দ্‌ এর পরে চ কিংবা ছ থাকলে ত্‌ বা দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়।
যেমনঃ
উৎ + চারণ = উচ্চারণ
চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র
উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ
তদ্‌ + ছবি = তচ্ছবি 


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৪০.
নিচের কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ নয়?
  1. বাস্‌ক
  2. রিস্‌কা
  3. পিচাশ
  4. শরীল
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
শরীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরীল
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
- যেমন:
• বাক্‌স > বাস্‌ক;
• রিক্‌সা > রিস্‌কা;
• পিশাচ > পিচাশ;
• লাফ > ফাল

অন্যদিকে,
বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্নের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৬৪১.
'তরঙ্গ' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. তরঙ্গমালা
  2. তরঙ্গদল
  3. তরঙ্গদাম
  4. তরঙ্গরাশি
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গমালা
ব্যাখ্যা

• ‘তরঙ্গ’ শব্দের বহুবচন- 'তরঙ্গমালা'। 

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
• আবলি- পুস্তকাবলি।
• গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
• দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
• নিকর- কমলনিকর।
• পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
• মালা- পর্বতমালা, তরঙ্গমালা। 
• রাজি- তারকারাজি।
• রাশি- বালিরাশি।
• নিচয়- কুসুমনিচয়। 

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৪২.
‘তদ্ভব’ শব্দের অর্থ হলো:-
  1. ক) সংস্কৃতের সমান
  2. খ) সংস্কৃত নয়
  3. গ) সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত
  4. ঘ) বিদেশী শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত
ব্যাখ্যা
• তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।

- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)।
- যেমন - সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হথ, তদ্ভব - হাত। সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি।
- একইভাবে সংস্কৃত 'চন্দ্র' শব্দ থেকে 'চাঁদ' শব্দটি উৎপন্ন হয়েছে।
- এই তদ্ভব শব্দগুলােকে খাটি বাংলা শব্দও বলা হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৪৩.
‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি ______বাক্য।
  1. অস্তিবাচক বাক্য
  2. নেতিবাচক বাক্য
  3. সমবাচক বাক্য
  4. কোনটাই নয়
সঠিক উত্তর:
অস্তিবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্তিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
- প্রশ্ন: ‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি ______বাক্য। 

• অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
- যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।

যেমন:
- তুমি কালকে আসবে।
- প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে।
- আমি প্রত্যদিন সকালে হাটি।
- ছাত্ররা নিয়মিত লেখাপড়া করে।
- ভালো লোক ভালো কাজের পরামর্শ দেন।
২,৬৪৪.
‘তারা তোমাদের ভোলেনি’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাবাচক
  4. আবেগবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
বিবৃতিবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

'তারা তোমাদের ভোলেনি' বিবৃতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়।
বিবৃতিবাচক বাক্য- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৪৫.
"শুক্রবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকে"- বাক্যে 'বিদ্যালয়' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. অধিকরনে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
ব্যাখ্যা

• বাক্যটিতে 'বিদ্যালয়' শব্দটি কর্তায় শূন্য বিভক্তি, কারণ বিদ্যালয় নিজেই বন্ধ থাকার কাজটি করছে, তাই এটি কর্তা। এই কর্তাকে কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা বলা হয়।  স্থান নিজেই যদি কাজটি করে তবে স্থানটি কর্তাকারক।

ব্যাখ্যা: 
কর্তৃকারক: কর্তা বা উদ্দেশ্য যা কাজ করে বা যার সম্পর্কে কিছু বলা হয়, তাকে কর্তৃকারক বলে। এখানে, 'বিদ্যালয়' নিজেই বন্ধ থাকার কাজটি করছে, তাই এটি কর্তা।
শূন্য বিভক্তি: কোনো বিভক্তি চিহ্ন না থাকলে তাকে শূন্য বিভক্তি বলে। 'বিদ্যালয়' শব্দের সাথে কোনো বিভক্তি চিহ্ন যুক্ত নেই, তাই এটি শূন্য বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৪৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) প্ৰসংশা
  2. খ) পরাধিন
  3. গ) রপ্তানী
  4. ঘ) দুঃশীল
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুঃশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুঃশীল
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনগুলোর মধ্যে দুঃশীল বানানটি সঠিক।

• অন্য অপশনগুলোর শুদ্ধ বানান হলো-
- প্রশংসা।
- পরাধীন।
- রপ্তানি।
২,৬৪৭.
‘ফসল’ শব্দটি কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. আরবি
  2. তুর্কি
  3. ফরাসি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• ‘ফসল’
- আরবি শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ ও তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রবল ঝড়।

• কিছু আরবি শব্দ:
- ইবাদত,
- ইনসান,
- এতিম,
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- খারাবি,
- খারাপ,
- খারিজ,
- তকদির,
- ফসল,
- মজলুম,
- মুসাফির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬৪৮.
প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
  2. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
  3. ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
  4. এক মাঘে শীত যায় না।
সঠিক উত্তর:
দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
ব্যাখ্যা

বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি:
সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন:
অশুদ্ধ: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছ।
শুদ্ধ: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।

অশুদ্ধ: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
শুদ্ধ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অশুদ্ধ: এক অগ্রহায়ণে শীত যায় না।
শুদ্ধ: এক মাঘে শীত যায় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৪৯.
Agenda এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. হলফনামা
  2. আলোচ্যসূচি
  3. কার্যক্রম
  4. খ ও গ উভয়েই
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়েই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়েই
ব্যাখ্যা
Agenda এর পারিভাষিক শব্দ - কার্যক্রম, আলোচ্যসূচি। Affidavit এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - হলফনামা।
উৎসঃ অভিগম্য অভিধান
২,৬৫০.
'মাথায়পাগড়ি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
• অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়। যথাঃ
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা।
• এরূপ- হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, হাতে-বেড়ি, গায়ে-পড়া, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৫১.
তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. হাইফেন
  2. কোলন
  3. কমা
  4. কোলন ড্যাস
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• কমা:
কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।

কমার ব্যবহারগুলো হলো-
• শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।
যেমন:
- আমি বললাম, "আমি ভালো আছি।"

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে 'কমা' বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৬৫২.
'অনুতাপ' শব্দে অনু কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ক) অতি ক্ষুদ্র
  2. খ) ক্ষুদ্র
  3. গ) পশ্চাৎ
  4. ঘ) পরবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) পশ্চাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎপ্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২,৬৫৩.
'শিশুটি খুব কান্না করছে।' এ বাক্যে 'শিশু' শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. উভয় লিঙ্গ
  3. ক্লীবলিঙ্গ
  4. স্ত্রীলিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
উভয় লিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'শিশুটি খুব কান্না করছে।' এ বাক্যে 'শিশু' শব্দটি উভয় লিঙ্গ। 

----------------
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলো -
১. পুংলিঙ্গ,
২. স্ত্রীলিঙ্গ,
৩. ক্লীবলিঙ্গ ও
৪. উভয়লিঙ্গ।

• পুংলিঙ্গ:
যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
যেমন: কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি।

• স্ত্রীলিঙ্গ:
যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
যেমন: কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

• ক্লীবলিঙ্গ:
যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
যেমন: গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

• উভয় লিঙ্গ:
যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
যেমন: শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৬৫৪.
‘Full moon’ এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. অমাবস্যা
  2. পূর্ণিমা
  3. মৌসুমী বায়ু
  4. চাঁদ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণিমা
ব্যাখ্যা
‘Full moon’ এর বাংলা পরিভাষা: পূর্ণিমা

অন্যদিকে, 
• ‘New moon’ এর বাংলা পরিভাষা - অমাবস্যা।
• ‘Monsoon’ এর বাংলা পরিভাষা - মৌসুমী বায়ু।
• ‘Moon’ এর বাংলা পরিভাষা - চাঁদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
২,৬৫৫.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) আনারস
  2. খ) সূর্য
  3. গ) বাদশাহ
  4. ঘ) হরতাল
সঠিক উত্তর:
খ) সূর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সূর্য
ব্যাখ্যা
'সূর্য'- তৎসম শব্দ।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
'সূর্য' তৎসম শব্দ,
সূর্য শব্দের অর্থ- 
- সৌরজগতের কেন্দ্রীয় নক্ষত্র-যাকে কেন্দ্র করে গ্রহসমূহ আবর্তিত হয়।

তাছাড়া,
'আনারস'- পর্তুগিজ শব্দ।
'বাদশাহ'- ফারসি শব্দ। 
'হরতাল'- গুজরাটি শব্দ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান। 

২,৬৫৬.
‘খ্রিষ্টাব্দ’ শব্দটিতে নিচের কোন দুটি ভাষার মিশ্রণ রয়েছে?
  1. ইংরেজি + বাংলা
  2. ইংরেজি + সংস্কৃত
  3. ইংরেজি + তদ্ভব
  4. ইংরেজি + ফারসি
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মিশ্র শব্দ:
- রাজা-বাদশা (তৎসম + ফারসি),
- হাট-বাজার (বাংলা + ফারসি),
- হেড-মৌলভি (ইংরেজি + ফারসি),
- হেড-পণ্ডিত (ইংরেজি + তৎসম),
- খ্রিষ্টাব্দ (ইংরেজি + তৎসম),
- ডাক্তার-খানা (ইংরেজি + ফারসি),
- পকেটমার (ইংরেজি + বাংলা),
- চৌহদ্দি (বাংলা + ফারসি) ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
'চৌহদ্দি' শব্দটি নবম-দশম শ্রেণির ২০১৯ সংস্করণে ফারসি + আরবি ভাষার শব্দ দ্বারা গঠিত বলা হলে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, তা বাংলা + ফারসি ভাষার শব্দ দ্বারা গঠিত মিশ্র শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ও  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।

২,৬৫৭.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু কোনটি?
  1. ভিজ
  2. গম্
  3. ঠেল
  4. ডাক
সঠিক উত্তর:
গম্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গম্
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন- কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ভিজ, ঠেল, ডাক বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৬৫৮.
'কাদম্বিনী' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. পর্বত
  2. বাতাস
  3. মেঘমালা
  4. সাগর
সঠিক উত্তর:
মেঘমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘমালা
ব্যাখ্যা
• 'কাদম্বিনী' এর প্রতিশব্দ- 'মেঘমালা'। 

• 'মেঘ' শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- কাদম্বিনী,
- অম্বুধর, 
- বারিদ,
- জীমূত,
- অভ্র,
- জলধর,
- জলদ,
- পয়োধর,
- তোয়দ,
- পয়োদ,
- নীরদ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'পর্বত' শব্দের প্রতিশব্দ- হল: পাহাড়, অচল, গিরি, ভূভৃৎ, ভূধর ইত্যাদি। 
• 'সমুদ্র' এর প্রতিশব্দ: সাগর, সিন্ধু, বারিধি, জলধি, অর্ণব, পারাবার, বারীশ, উদধি, পয়োনিধি ইত্যাদি।
• বাতাস' এর প্রতিশব্দ: বায়ু, সমীরণ, সমীর, বাত,মরুৎ, গন্ধবহ ইত্যাদি।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২,৬৫৯.
'কর্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. কম্‌
  2. কহ্‌
  3. কাঁদ্‌
  4. তুল্‌
সঠিক উত্তর:
কম্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্‌
ব্যাখ্যা
• 'কর্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কম্‌

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ উঠ্‌ - আদিগণ,
→ কর্‌ - আদিগণ,
→ কহ্‌ - আদিগণ,
→ কাট্‌ - আদিগণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'কহ্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কহ্‌।
• 'কাট্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কাঁদ্‌।
• 'উঠ্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - তুল্‌।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৬০.
নাটক বা গল্প-উপন্যাসের সংলাপের আগে কোন বিরাম-চিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ড্যাশ
  2. খ) হাইফেন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) উদ্ধৃতিচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ক) ড্যাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ড্যাশ
ব্যাখ্যা
নাটক বা গল্প উপন্যাসের সংলাপের আগে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হ গীত না তর মাথা।  
- অপরাধ স্বীকার করলে? ইত্যাদি।

আরো কিছু ক্ষেত্রে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়:

• বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে।
• কোন কথার দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে।
• স্থান বা কালগত ব্যবধান নির্দেশ করতে।
• উদ্ধৃতি চিহ্নের পরিবর্তে ড্যাশ-চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
• অভিধানে শব্দ ও তার অর্থের মাঝখানে ড্যাশ বসে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৬১.
কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত?
  1. হিত্তিক ও তুখারিক
  2. তামিল ও দ্রাবিড়
  3. আর্য ও অনার্য
  4. মাগধী ও গৌড়ী
সঠিক উত্তর:
হিত্তিক ও তুখারিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিত্তিক ও তুখারিক
ব্যাখ্যা
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ:
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা - ৯টি। আধুনিককালে অনেকে ১০টি বলেও উল্লেখ করেছেন।
আমরা যেহেতু আধুনিক যুগের মানুষ তাই সেহেতু আধুনিক মতকেই স্বীকার করবো।

ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেন্তম (Centum)।
- কেন্তম ও শতম এ বিভাজন হয়েছিলো মূলত কণ্ঠবর্ণের উচ্চারণ বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করে।
- এ বিভাজনের ফলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠির অন্তর্ভূক্ত ভাষাগুলোর ভেতর একটি ভৌগোলিক বিভাজনও হয়।
- অ্যাসকোলির ধারণা - কেন্তম গোষ্ঠীর ভাষাগুলো সব পশ্চিমের আর শতম গোষ্ঠির ভাষাগুলো সব পূর্বের।

• বর্তমানকালে হিত্তি বা হিত্তিক (Hittic) ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর দশম শাখা হিসেবে পরিচিত।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, এশিয়া মাইনরে প্রায় দেড় হাজার খ্রিস্টপূর্বে হিত্তি (হিত্তিক) ভাষা প্রচলিত ছিল। এবং তোখারিক (তুখারিক) ভাষা মধ্য এশিয়ায় খ্রিস্টীয় অষ্টম শতক পর্যন্ত জীবিত ছিল।

• কোনো কোনো পণ্ডিত হিত্তিকে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষার সমগোত্রীয় এবং সমান স্তরের ভাষা বলে অভিহিত করেছেন। ড. সুকুমার সেন এ মতকে সমর্থন করে হিত্তির মূল ভাষার নাম 'ইন্দো-হিট্টীয়' বলে উল্লেখ করেছেন। হিত্তি এবং তোখারীয় ভাষা আবিষ্কারের পর ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা বিভাগের কিছুটা পরিবর্তন ঘটলেও প্রাথমিক দুটি বিভাগ (কেন্তুম্ ও শতম্) অস্বীকার করা যায় না। আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিকগণ কেন্তুম এবং শতম্ এ দুটি বিভাগকে স্বীকার করেই ভাষার বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে নিয়োজিত হয়েছেন। সুতরাং হিত্তি এবং তুখারীয় ভাষা আবিষ্কারের পরেও কেন্তুম ও শতমের নামকরণের গুরুত্ব ও সার্থকতা রয়েছে।



উৎস: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা (বাংলা ভাষার ইতিহাস), রেজাউল ইসলাম।
২,৬৬২.
'গুণবান' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গুণমতী
  2. গুণী
  3. গুণয়সী
  4. গুণবতী
সঠিক উত্তর:
গুণবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবতী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মানু, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতী, ঈয়সী হয়।
যথা:
• গুণবান - গুণবতী। 
• গরীয়ান - গরীয়সী।
• মহৎ - মহতী। 
• সৎ - সতী। 
• রূপবান - রূপবতী। 
• শ্রীমান - শ্রীমতী। 
• বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬৬৩.
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. সঙ্ঘ
  2. উচ্চয়
  3. মণ্ডল
  4. সমূহ
সঠিক উত্তর:
উচ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চয়
ব্যাখ্যা
• ‘উচ্চয়’ বহুবচন লগ্নকটি অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
উচ্চয় - শিলোচ্চয়, পুষ্পোচ্চয়।

• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

অন্যদিকে,
• উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- চয়,
- সমূহ,
- দল,
- নিচয়,
- পুঞ্জ,
- মণ্ডল,
- মণ্ডলী।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৬৪.
প্রকৃতি কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতি দুই প্রকার।
যথা:
(ক) ক্রিয়া-প্রকৃতি বা ধাতু, 
(খ) নাম-প্রকৃতি বা সংজ্ঞা-প্রকৃতি।

ক্রিয়া-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি অবস্থান, গতি বা অন্য কোনো প্রকারের ক্রিয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলে।
যেমন: চল্, √পড়, রাখ, দৃশ্, √ক্ প্রভৃতি ক্রিয়া-প্রকৃতি।

নাম-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি কোনো দ্রব্য, জাতি, গুণ বা কোনো পদার্থকে বোঝায়, তাকে নাম-প্রকৃতি বলে।
যেমন: মা, চাঁদ, গাছ, প্রভৃতি নাম-প্রকৃতি।
- হাতল = হাত (নাম-প্রকৃতি) + অল (প্রত্যয়)]

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৬৬৫.
'আত্মীয়' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. আত্‌তিয়ো
  2. আত্‌তীয়ো
  3. আত্‌তিঁয়ো
  4. আত্‌তীঁয়ো
সঠিক উত্তর:
আত্‌তিঁয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্‌তিঁয়ো
ব্যাখ্যা

'ম' বর্ণের উচ্চারণ:
- বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৬৬৬.
‘লক্ষ্মণ’ শব্দে যুক্তবর্ণ হিসেবে কী কী আছে?
  1. ক) ক + ষ + ম
  2. খ) ষ + ণ + ম
  3. গ) হ + ণ + ষ
  4. ঘ) হ + ম + ণ
সঠিক উত্তর:
ক) ক + ষ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক + ষ + ম
ব্যাখ্যা

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’। 
২,৬৬৭.
"ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।" - এ বাক্যে 'ঝির ঝির' কোন অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. ভাবের গভীরতা
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. স্বল্পকাল স্থায়ী
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
• 'ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।' - বাক্যটি অব্যয়ের দ্বিরক্তি যা 'ধ্বনিব্যঞ্জনা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৬৮.
'দক্ষিণ হস্ত' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অনিষ্টকারী
  2. প্রধান সহযোগী
  3. ব্যয়কুণ্ঠ
  4. পক্ষপাতদুষ্ট
সঠিক উত্তর:
প্রধান সহযোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধান সহযোগী
ব্যাখ্যা
• 'দক্ষিণ হস্ত' বাগ্‌ধারার অর্থ - প্রধান সহযোগী।
- বাক্য: করিম তো তোমার দক্ষিণ হস্ত।

অন্যদিকে, 
• 'বিষবৃক্ষ' বাগ্‌ধারার অর্থ - অনিষ্টকারী। 
• 'হাতভারী' বাগ্‌ধারার অর্থ - ব্যয়কুণ্ঠ। 
• 'একচোখা' বাগ্‌ধারার অর্থ - পক্ষপাতদুষ্ট। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৬৯.
'Manual’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. সারগ্রন্থ
  2. চালান
  3. পাণ্ডুলিপি
  4. ইশতেহার
সঠিক উত্তর:
সারগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'Manual’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - সারগ্রন্থ।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষিক শব্দ:
- Manifesto শব্দের বাংলা পরিভাষা - ইশতেহার।
- Manuscript শব্দের বাংলা পরিভাষা - পাণ্ডুলিপি।
- ‘Edition’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - সংস্করণ।
- Gazette শব্দের বাংলা পরিভাষা - ঘোষণাপত্র।
- Invoice শব্দের বাংলা পরিভাষা - চালান, প্রেরিতক-সূচি।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।

২,৬৭০.
'যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।' এটি একটি ___ বাক্য।
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. কঠিন
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
যে-সে, যারা- তারা, যিনি- তিনি, যাঁরা - তাঁরা, যা- তা, প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি - তবে, যদিও-তবু যেহেতু- সেহেতু, যত- তত, যেটুকু - সেটুকু, যেমন - তেমন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। 
যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। 
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
২,৬৭১.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) পদ্মাসন
  2. খ) কমলমুখ
  3. গ) বিষাদ-সিন্ধু
  4. ঘ) জ্ঞানবৃক্ষ
  5. ঙ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাসন
ব্যাখ্যা

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
এ সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
যেমনঃ
বাহুলতা = বাহু লতার ন্যায়।
এখানে বাহু ও লতা দুটো বিশেষ্য পদ।
চন্দ্রমুখ = চন্দ্রের ন্যায় মুখ।
পদ্মাসন = আসন পদ্মের ন্যায়।
পুরুষসিংহ = পুরুষ সিংহের ন্যায়।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
কমল রূপ মুখ = কমলমুখ, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ এগুলো রূপক কর্মধারয় সমাস।
তুষারশুভ্র রুপক কর্মধারয় সমাস নয়। এটি উপমান কর্মধারয় সমাস যার ব্যাসবাক্যঃ তুষারের ন্যায় শুভ্র।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

২,৬৭২.
'গরম পানি' - এখানে 'গরম' কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ভাববাচক
  2. গুণবাচক
  3. উপাদানবাচক
  4. অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম' ও চৌকস হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৭৩.
কোন শব্দটি অপত্নীবাচক?
  1. চাচি
  2. বোন
  3. দাদি
  4. জেলেনি
সঠিক উত্তর:
বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোন
ব্যাখ্যা
• 'বোন' - অপত্নীবাচক শব্দ। 

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের।
যথা -  
- পত্নীবাচক, 
- অপত্নীবাচক।

পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

• অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, ভাই- বোন, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৭৪.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. রূপবান
  2. মেঘলা
  3. গাম্ভীর্য
  4. উদ্ধত
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্য
ব্যাখ্যা

• 'গাম্ভীর্য' (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গম্ভীর ভাব,
- চপলতার অভাব,
- প্রগাঢ়তা ইত্যাদি।

• গাম্ভীর্য শব্দের বিশেষণ রূপ - গম্ভীর।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - রূপবান, নিখুঁত।
• বিশেষণ পদ - মেঘলা।
• 'উদ্ধত' - হলো বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬৭৫.
হংস > হাঁস, কঙ্কণ > কাঁকন কিসের উদাহরণ?
  1. ক) অসমীকরণ
  2. খ) নাসিক্যভবন
  3. গ) বর্ণদ্বিতা
  4. ঘ) অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
খ) নাসিক্যভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাসিক্যভবন
ব্যাখ্যা
অনুনাসিক বা নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি ঙ (ং), ঞ, ণ, ন, ম লোপ পাওয়ার ফলে পূর্ববর্তী স্বরধনি সানুনাসিক হলে, পরিবর্তনজনিত এই প্রক্রিয়ার নাম নাসিক্যভবন।
যেমনঃ ভণ্ড > ভাঁড়, গুম্ফ > গোঁফ, পঙ্ক > পাঁক, হংস > হাঁস, কঙ্কণ > কাঁকন ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
২,৬৭৬.
'বারো সতেরো' বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. অপব্যয়
  2. খুঁটিনাটি
  3. বিশৃঙ্খল
  4. সামান্য সঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
খুঁটিনাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুঁটিনাটি
ব্যাখ্যা
• 'বারো সতেরো' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - খুঁটিনাটি

অন্যদিকে,
• 'নয়-ছয়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপব্যয়।
• 'হ য ব র ল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - বিশৃঙ্খল।
• 'লোটাকম্বল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সামান্য সঙ্গতি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
• 'পায়াভারি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অহংকার।
• 'দুধের মাছি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সুসময়ে বন্ধু।
• 'ঠোঁট কাটা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - স্পষ্টভাষী।
• 'গোঁয়ার গোবিন্দ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭৭.
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জন ধ্বনি লোপ পেলে কোন ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অন্তর্হতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা

অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জন ধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন -
ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি: বিপর্যস্ত স্বরধ্বনির পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন - 
মাছুয়া > মেছো, শুনিয়া > শুনে ইত্যাদি।
ব্যঞ্জনচ্যুতি: পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে একটি লোপ পায় এবং এই লোপ পাওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বলে।
যেমন -
বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।
বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটি পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন -
শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৬৭৮.
বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. হঠাৎ হঠাৎ
  2. উড়ু উড়ু
  3. ভালো ভালো
  4. মনে মনে
সঠিক উত্তর:
মনে মনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনে মনে
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব - মনে মনে

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৭৯.
'ঋণ দেয় যে' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. ঋষিতুল্য
  2. উত্তমর্ণ
  3. ঋষিকল্প
  4. অধমর্ণ
সঠিক উত্তর:
উত্তমর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তমর্ণ
ব্যাখ্যা
• 'ঋণ দেয় যে' এর এক কথায় প্রকাশ - উত্তমর্ণ

অন্যদিকে,
- 'ঋষির ন্যায়' এর এক কথায় প্রকাশ - ঋষিকল্প।
- 'ঋণ নেয় যে' এর এক কথায় প্রকাশ - অধমর্ণ।
- 'ঋষির তুল্য' এর এক কথায় প্রকাশ - ঋষিতুল্য।

উৎস: ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৮০.
'বুড়ো বেঁচে আছে অক্ষয় বট হয়ে।' - এখানে 'অক্ষয় বট' কী অর্থে ব্যবহার হয়েছে?
  1. অকেজো লোক
  2. সামান্য লোক
  3. প্রাচীন ব্যক্তি
  4. শেষ শয্যা
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন ব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• 'বুড়ো বেঁচে আছে অক্ষয় বট হয়ে।' - এখানে 'অক্ষয় বট' প্রাচীন ব্যক্তি অর্থে ব্যবহার হয়েছে।
• 'অক্ষয় বট' বাগধারাটির অর্থ - প্রাচীন ব্যক্তি।

অন্যদিকে,
- 'আদাড়ের হাঁড়ি' বাগধারাটির অর্থ - সামান্য লোক।
- 'আমড়া কাঠের ঢেঁকি' বাগধারাটির অর্থ - অকেজো লোক।
- 'অনন্তশয্যা' বাগধারাটির অর্থ - শেষ শয্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮১.
"উল্লঙ্ঘন" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উত্ + লঙ্গন
  2. উদ্ + লঙ্ঘন
  3. উল্ + লঙ্ঘন
  4. উৎ + লঙ্ঘন
সঠিক উত্তর:
উৎ + লঙ্ঘন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + লঙ্ঘন
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• ত্ ও দ এর পর ল্ থাকলে ত্ ও দ্‌-এর স্থলে ল উচ্চারিত হয়।

যেমন:
- উৎ + লাস = উল্লাস। 
- উৎ + লঙ্ঘন = উল্লঙ্ঘন,
- উৎ + লেখ = উল্লেখ,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৮২.
কোন সন্ধির উদাহরণটি সঠিক নয়?
  1. ক) নাত + জামাই = নাজ্জামাই
  2. খ) বদ + জাত = বজ্জাত
  3. গ) হাত + ছানি = হাছানি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) হাত + ছানি = হাছানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাত + ছানি = হাছানি
ব্যাখ্যা
চ বর্গীয় ধ্বনির আগে যদি ত বর্গীয় ধ্বনি আসে তাহলে, ত বর্গীয় ধ্বনি লোপ হয় এবং চ বর্গীয় ধ্বনীর দ্বিত্ব হয়৷ যেমনঃ নাত + জামাই = নাজ্জামাই, বদ + জাত = বজ্জাত, হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,৬৮৩.
'আহ্বান' শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. আহোভান
  2. আও্‌বান
  3. আউ্‌ভান
  4. আও্‌ভান
সঠিক উত্তর:
আও্‌ভান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আও্‌ভান
ব্যাখ্যা
• বানান: আহ্বান।
- সঠিক উচ্চারণ: আও্‌ভান
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: আ + √হ্বে + অন।
- অর্থ: নিমন্ত্রণ, আমন্ত্রণ; সম্বোধন, ডাক।

 অভিসম্বন্ধ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬৮৪.
“রান্না” -এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) রান + না
  2. খ) রাঁদ + না
  3. গ) রান্ন + আ
  4. ঘ) রাঁধ্‌ + না
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাঁধ্‌ + না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাঁধ্‌ + না
ব্যাখ্যা
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌/ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমনঃ উৎ + নতি = উন্নতি; ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি; রাধ্‌ + না = রান্না; মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২,৬৮৫.
'গ্রহণ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. ক) জুগুপ্সা
  2. খ) জিগীষা
  3. গ) জিঘৃক্ষা
  4. ঘ) দিদৃক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) জিঘৃক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জিঘৃক্ষা
ব্যাখ্যা
'গ্রহণ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'জিঘৃক্ষা'।

তাছাড়া, 
'গোপন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'জুগুপ্সা'
'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'জিগীষা'
'দেখার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'দিদৃক্ষা'

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৬৮৬.
'গ্রন্থি' ও 'গ্রন্থী' শব্দজোড়ের অর্থ কোনগুলো?
  1. গাট ও গণক
  2. গণক ও গাট
  3. বন্ধন ও গ্রন্থকার
  4. গ্রন্থকার ও বন্ধন
সঠিক উত্তর:
বন্ধন ও গ্রন্থকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্ধন ও গ্রন্থকার
ব্যাখ্যা
• 'গ্রন্থি' ও 'গ্রন্থী' শব্দজোড়ের অর্থ - বন্ধন ও গ্রন্থকার

শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
গ্রন্থি - বন্ধন
গ্রন্থী - গ্রন্থকার
→ গাথা - কাহিনি।
→ গাঁথা - গ্রন্থন।
→ ছাঁদ - আকৃতি।
→ ছাদ - চাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮৭.
'অনুরোধ করা' অর্থে ধরা'র রীতিসিদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) ম্যাও ধরা
  2. খ) হাতে-পায়ে ধরা
  3. গ) গলা ধরা
  4. ঘ) গোঁ ধরা
সঠিক উত্তর:
খ) হাতে-পায়ে ধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাতে-পায়ে ধরা
ব্যাখ্যা
ম্যাও ধরা - দায়িত্ব নেওয়া৷
হাতে-পায়ে ধরা - অনুরোধ করা৷
গলা ধরা - কণ্ঠ রুদ্ধ হওয়া৷
গোঁ ধরা - একগুয়েমি করা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
২,৬৮৮.
‘বিদ্যুৎ’ শব্দটির সমার্থক শব্দ –
  1. প্রভাকর
  2. সুধাকর
  3.  দামিনী
  4. দ্রুম
সঠিক উত্তর:
 দামিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 দামিনী
ব্যাখ্যা

 • 'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা।

অন্যদিকে,
- 'সুধাকর' এর সমার্থক শব্দ: চাঁদ।
- 'প্রভাকর' এর সমার্থক শব্দ: সূর্য।
- ' দ্রুম' এর সমার্থক শব্দ: বৃক্ষ।

উৎস:  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬৮৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) সঙকীর্নমনা
  2. খ) সংকির্ণমনা
  3. গ) সংকীর্নমনা
  4. ঘ) সংকীর্ণমনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংকীর্ণমনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংকীর্ণমনা
ব্যাখ্যা
সংকীর্ণমনা  (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সংকীর্ণ+মনস্‌
অর্থ: সংকীর্ণচিত্ত 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৬৯০.
'উন বর্ষে দুনো শীত' প্রবাদটির অর্থ কী?
  1. ক) অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ
  2. খ) অভিজ্ঞতা দিয়ে চেনা
  3. গ) স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ
  4. ঘ) অল্প বর্ষায় বেশি শীত
সঠিক উত্তর:
ঘ) অল্প বর্ষায় বেশি শীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অল্প বর্ষায় বেশি শীত
ব্যাখ্যা
'উন বর্ষে দুনো শীত' প্রবাদটির অর্থ = অল্প বর্ষায় বেশি শীত 

অন্যদিকে, 
উনা ভাতে দুনা বল - স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ 
কত ধানে কত চাল - অভিজ্ঞতা দিয়ে চেনা
কানাছেলের নাম পদ্মলোচন - অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মাহমুদ। 
২,৬৯১.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. আবশ্যক ব্যায়ে কার্পন্যতা উচিত নয়।
  2. অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
  3. আকণ্ঠ পর্যন্ত খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
  4. তার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ডাক্তার।
সঠিক উত্তর:
তার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ডাক্তার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ডাক্তার।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য- তার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ডাক্তার।

অশুদ্ধ বাক্য- আবশ্যক ব্যায়ে কার্পন্যতা উচিত নয়।
শুদ্ধ বাক্য- আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য উচিত নয়।

অশুদ্ধ বাক্য- আকণ্ঠ পর্যন্ত খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
শুদ্ধ বাক্য- আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।

অশুদ্ধ বাক্য- অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
শুদ্ধ বাক্য- অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৯২.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. ভ্রমরকৃষ্ণকেশ
  2. চন্দ্রমুখ
  3. সাহিত্যসভা
  4. সিংহপুরুষ
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসভা
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

অন্যদিকে, 
-------------------
• উপমান কর্মধারয়:
উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
[এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।]

যথা- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

• উপমিত কর্মধারয়: 
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।
যেমন-
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৬৯৩.
শুদ্ধ বাক্যটি চিহ্নিত করুন -
  1. শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?
  2. অশ্রুজলে তার বুক ভেসে গেল।
  3. তারা একত্রে গমন করলো।
  4. এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
সঠিক উত্তর:
এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
ব্যাখ্যা
এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না। - বাক্যটি শুদ্ধ।

অশুদ্ধ বাক্যেগুলোর শুদ্ধ রূপ - 
- শুধু এই কটা টাকা দিলে?
- অশ্রুতে তার বুক ভেসে গেল। 
- তারা একত্র গমন করলো

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২,৬৯৪.
কোন শব্দটি চলিত ভাষায় ব্যবহৃত হয়?
  1. তুলা
  2. বংশী
  3. কিছুক্ষণ
  4. বৃহৎ
সঠিক উত্তর:
কিছুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিছুক্ষণ
ব্যাখ্যা
'কিছুক্ষণ' - চলিত ভাষায় ব্যবহৃত একটি শব্দ, যার অর্থ 'স্বল্প সময়'। 
- এর সাধুরূপ: কিয়ৎক্ষণ।

অন্য অপশন:
তুলা: সাধু ভাষায় 'তুলা' ব্যবহৃত হয়, তবে চলিত ভাষায় 'তুলে' বলা হয়।
বংশী: সাধু ভাষায় 'বংশী' ব্যবহৃত হয়, তবে চলিত ভাষায় 'বাঁশি' বলা হয়।
বৃহৎ: সাধু ভাষায় 'বৃহৎ' ব্যবহৃত হয়, তবে চলিত ভাষায় 'বড়ো' বলা হয়।

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯৫.
Q1 to 6: নিচের শব্দগুলোর প্রতিশব্দ নির্ণয় করুন।
১. মেঘ: 
  1. অটবি
  2. পাথার
  3. বারিদ
  4. সলিল
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বারিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বারিদ
ব্যাখ্যা

• "মেঘ" শব্দের প্রতিশব্দ - বারিদ।

'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।

অন্যদিকে,
‘অটবি’ শব্দের অর্থ - বন, অরণ্য, বৃক্ষ, বিটপী।
'পাথার' শব্দের অর্থ - বিস্তীর্ণ জলরাশি, সমুদ্র (অকূলপাথার)।
'সলিল' শব্দের অর্থ - পানি, বারি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬৯৬.
“সাপের পাঁচ পা দেখা” প্রবাদটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অবিশ্বাস্য ব্যাপার
  2. খ) অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি
  3. গ) অসম্ভব ব্যাপার
  4. ঘ) অহঙ্কারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহঙ্কারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহঙ্কারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা
ব্যাখ্যা
“সাপের পাঁচ পা দেখা” প্রবাদটির অর্থ - অহঙ্কারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা।

অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য প্রবাদ-প্রবচন অর্থ হচ্ছে:
“ব্যাঙের আবার সর্দি”  অর্থ - অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
“মেঘ না চাইতে জল”  অর্থ - অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি।
“ভূতের মুখে রাম নাম” প্রবাদটির অর্থ - অসম্ভব ব্যাপার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৯৭.
'করিকরভ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) হরিণ শাবক
  2. খ) হস্তি শাবক
  3. গ) সিংহ শাবক
  4. ঘ) মৃগ শাবক
সঠিক উত্তর:
খ) হস্তি শাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হস্তি শাবক
ব্যাখ্যা
করিকরভ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = করী+করভ
অর্থ: হস্তি  শাবক 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৬৯৮.
‘পাপ থেকে পুণ্য পৃথক’- বাক্যে ‘পাপ থেকে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
[অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
• পঞ্চমী বা  ‘হতে, থেকে’ বিভক্তি: পাপ থেকে পুণ্য পৃথক।
• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯৯.
'অন্য উপায় নেই' এক কথায় বলে-
  1. আদ্যন্ত
  2. অগত্যা
  3. অগতি
  4. অনাদি
সঠিক উত্তর:
অগত্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগত্যা
ব্যাখ্যা
• 'অন্য উপায় নেই' এক কথায় বলে - অগত্যা। 

অন্যদিকে, 
• 'আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত' এক কথায় বলে - আদ্যন্ত। 
• 'অবলম্বনহীন ব্যক্তি' এক কথায় বলে - অগতি। 
• 'আদি নেই যার' এক কথায় বলে - অনাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৭০০.
'মোগল' শব্দটি কোন ভাষা হতে এসেছে?
  1. ফারসি
  2. তুর্কি
  3. হিন্দি
  4. গুজরাটি
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা

'মোগল' শব্দটি 'তুর্কি' ভাষা হতে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মঙ্গোলিয়া থেকে বাবরের নেতৃত্বে ভারতে আগত সাম্রাজ্য স্থাপন-কারী জাতিবিশেষ।
- মঙ্গোলিয়ার অধিবাসী।

কিছু তুর্কি শব্দ:
- কলগি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।