বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ২৩ / ৩৫৪ · ২,২০১২,৩০০ / ৩৫,৭১৩

২,২০১.
বাংলা তারিখ বাচক শব্দের কতটি হিন্দি নিয়মে হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তারিখবাচক শব্দগুলির মধ্যে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত (পয়লা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা) হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

২,২০২.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. এটা হচ্ছে ষোড়শ বার্ষিক সাধারণ সভা।
  2. শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
  3. আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
  4. এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
সঠিক উত্তর:
এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
• শুদ্ধ: এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: এটা হচ্ছে ষোড়শ বার্ষিক সাধারণ সভা।
শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২০৩.
'সংশ্লিষ্ট' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. টেকো
  2. ধেনো
  3. নেয়ে
  4. মেঠো
সঠিক উত্তর:
মেঠো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঠো
ব্যাখ্যা
• 'সংশ্লিষ্ট' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ: মাঠ → মেঠো

অন্যদিকে,
টাক → টেকো = যুক্ত অর্থে।
ধান → ধেনো = জাত অর্থে।
না → নেয়ে = নৈপুণ্য অর্থে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২,২০৪.
"পটের বিবি" বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. দলপতি
  2. ব্যাপক চুরি
  3. সুসজ্জিত
  4. অহংকার
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুসজ্জিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুসজ্জিত
ব্যাখ্যা
• 'পটের বিবি' বাগ্‌ধারার অর্থ - সুসজ্জিত।
বাক্য গঠন: পটের বিবি হয়ে এ সংসারে টিকে থাকতে পারবো না, সংসারের দায়িত্ব নিতে হবে।

অন্যদিকে,
- 'পালের গোদা' বাগ্‌ধারার অর্থ - দলপতি।
- 'পুকুর চুরি' বাগ্‌ধারার অর্থ - ব্যাপক চুরি।
- 'পায়াভারি' বাগ্‌ধারার অর্থ - অহংকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২০৫.
“ত্বরার সঙ্গে বর্তমান”-এর এক কথায় প্রকাশিত রূপ কোনটি? 
  1. পন্নগ 
  2. সত্বর
  3. তুরগ 
  4. তাদৃশ 
সঠিক উত্তর:
সত্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্বর
ব্যাখ্যা

“ত্বরা” মানে দ্রুততা এবং “বর্তমান” মানে এই মুহূর্তে।
- একত্র করলে এটি সত্বর অর্থাৎ তৎক্ষণাৎ বা অবিলম্বে বোঝায়।
-------------------
অন্যদিকে,
- পায়ে হেঁটে যে গমন করে না = পন্নগ।
- ত্বরায় গমন করে যে = তুরগ,
- তোমার মত = ত্বাদৃশ,

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কোথায় প্রকাশ:
জানা উচিত = জ্ঞেয়
ত্বরার সঙ্গে বর্তমান = সত্বর,
তরল অথচ গাঢ় = সান্দ্র,
তোপের ধ্বনি = গুড়ুম,
তস্করের কাজ  =তাস্কর্য,
তার মত = তাদৃশ,
তনুর ভাব = তনিমা,
থেমে থেমে চলার যে ভঙ্গি = ঠমক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২০৬.
‘যা পান করার যোগ্য' এর বাক্য সংকোচন কোনটি? 
  1. চোষ্য
  2. পেয়
  3. চর্ব্য
  4. লেহ্য
সঠিক উত্তর:
পেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেয়
ব্যাখ্যা
• ‘যা পান করার যোগ্য' এর বাক্য সংকোচন - পেয়। 

• অন্যদিকে: 
- যা চুষে খাবার যোগ্য = চোষ্য, 
- যা চিবিয়ে খাবার যোগ্য = চর্ব্য,
- যা চেটে খাবার যোগ্য = লেহ্য। 

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ হলো:  
- যা উপলব্ধি করা যাচ্ছে = উপলভ্যমান, 
- যা ক্রয় করার যোগ্য = ক্রেয়, 
- যা বিক্রয় করার যোগ্য = বিক্রেয়, 
- যা জল দেয় = জলদ (মেঘ), 
- যা ক্রমশ বর্ধিত হচ্ছে = বর্ধিষ্ণু, 
- যা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে = ক্ষীয়মাণ, 
- যা ক্রমশ বিস্তীর্ণ হচ্ছে = ক্রমবিস্তার্যমান, 
- যা মুছে ফেলা যায় না = দুর্মোচ্য, 
- যা সহজে জানা যায় না = দুয়ে, 
- পুনঃ পুনঃ দীপ্তি পাচ্ছে = দেদীপ্যমান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,২০৭.
নিচের কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. যেমন বুনো কচুঁ তেমনি বাঘা তেতুঁল।
  2. শ্রাবণের তর্জনগর্জন।
  3. চোরের দশ দিন পুলিশের এক দিন।
  4. উনো ভাতে দুনো বল, ভরা ভাতে রসাতল।
সঠিক উত্তর:
উনো ভাতে দুনো বল, ভরা ভাতে রসাতল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনো ভাতে দুনো বল, ভরা ভাতে রসাতল।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ: উনো ভাতে দুনো বল, ভরা ভাতে রসাতল।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: অল্প বা পরিমাণমতো আহার স্বাস্থ্যকর।

অশুদ্ধ প্রবাদগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেতুঁল।
• আসারের তর্জনগর্জন।
• চোরের দশ দিন গৃহস্থের এক দিন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২০৮.
'Galaxy' শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?
  1. ক) তারাপুঞ্জ
  2. খ) ছায়াপথ
  3. গ) গ্রহাণু
  4. ঘ) নীহারিকা
সঠিক উত্তর:
খ) ছায়াপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছায়াপথ
ব্যাখ্যা
'Galaxy' - শব্দের বাংলা পরিভাষা - ছায়াপথ।

এছাড়া,
Asteroid - গ্রহাণু।
Nebula - নীহারিকা।
Stars - তারাপুঞ্জ।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
২,২০৯.
নদীতে মাছ আছে’ কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. ক) কর্তায় সপ্তমী
  2. খ) অধিকরণে সপ্তমী
  3. গ) কর্মে তৃতীয়া
  4. ঘ) অধিকরণে তৃতীয়া
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। এ কারকে সপ্তমী অর্থ্যাৎ ‘এ’, ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
কতিপয় অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণঃ
- তিলে তৈল আছে,
- নদীতে মাছ আছে,
- বনে বাঘ আছে,
- আকাশে চাঁদ উঠেছে,
- সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

২,২১০.
'জলধি’ কোন শ্রেণিভুক্ত শব্দ?
  1. ক) রূঢ়ি
  2. খ) যোগরূঢ়
  3. গ) মৌলিক
  4. ঘ) যৌগিক
সঠিক উত্তর:
খ) যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯।
২,২১১.
‘পরাজয়ের’ - এ শব্দটিতে কোনটি উপসর্গ?
  1. জয়
  2. পরা
  3. এর
  4. জয়ের
সঠিক উত্তর:
পরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরা
ব্যাখ্যা
• ‘পরাজয়ের’ - এ শব্দটিতে 'পরা' উপসর্গ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

'পরা' উপসর্গের বিভিন্ন ব্যবহার:
- আতিশয্য অর্থে: পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ।
- বিপরীত অর্থে: পরাজয়, পরাভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২১২.
‘সুতরাং’ শব্দটি কী পদ?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। যেমন- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,২১৩.
‘মণ্ডলী’ লগ্নক যোগে সঠিক বহুবচন শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. কবিমণ্ডলী
  2. সুধীমণ্ডলী
  3. মন্ত্রীমণ্ডলী
  4. জনমণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
সুধীমণ্ডলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীমণ্ডলী
ব্যাখ্যা

• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। 

যেমন:
• গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ, জনগণ, কবিগণ।
• বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
• মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
• বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

২,২১৪.
প্রমিত বানান কোনটি?
  1. ভ্রান্তিবশতঃ
  2. উষসী
  3. মনযোগ
  4. জ্যোতীশাস্ত্র
সঠিক উত্তর:
উষসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষসী
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বানান - উষসী।

বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়মাবলী অনুসারে:

ক) উষশী → ভুল। প্রমিত: উষসী।
গ) জ্যোতীশাস্ত্র → ভুল। প্রমিত: জ্যোতিঃশাস্ত্র।
খ) ভ্রান্তিবশতঃ → ভুল। প্রমিত: ভ্রান্তিবশত।
গ) মনযোগ → ভুল। প্রমিত: মনোযোগ।

তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২১৫.
'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!' -বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

• বাক্যে ব্যবহার: 'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

• প্রশ্নে আলোচিত বাক্য- 'তুমি তাে ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’
- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২১৬.
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি
  2. খ) অক্ষির অগোচরে = পরোক্ষ
  3. গ) হাতে চালানো পাখা = হাতপাখা
  4. ঘ) ঋণ থেকে মুক্ত = ঋণমুক্ত
সঠিক উত্তর:
ক) কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি
ব্যাখ্যা
- যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২১৭.
বর্গের কোন বর্ণসমূহের ধ্বনি অল্পপ্রাণধ্বনি?
  1. দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ণ
  2. প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ
  3. দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
  4. প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ
সঠিক উত্তর:
প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ
ব্যাখ্যা
• বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণধ্বনি,
• দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণধ্বনি,
• পঞ্চম বর্গ নাসিক্যধ্বনি।
• আবার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘােষ,
• তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘােষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২১৮.
'যার অন্য উপায় নেই' এর এককথায় প্রকাশ -
  1. সর্বংসহা
  2. প্রত্যুদ্‌গমন
  3. নিরুপায়
  4. অনন্যোপায়
সঠিক উত্তর:
অনন্যোপায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্যোপায়
ব্যাখ্যা
• 'যার অন্য উপায় নেই' এর এককথায় প্রকাশ - অনন্যোপায়

অন্যদিকে,
'যার কোনো উপায় নেই' এর এককথায় প্রকাশ - নিরুপায়।
'সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা' এর এককথায় প্রকাশ - প্রত্যুদ্‌গমন।
'যে সকল অত্যাচারই সয়ে যায়' এর এককথায় প্রকাশ - সর্বংসহা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,২১৯.
'গরজ বড় বালাই' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. সুযোগ থাকতে কষ্ট
  2. প্রয়োজনে গুরুত্ব
  3. বাহ্যিক সভ্য
  4. অতিরিক্ত মায়াকান্না
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনে গুরুত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনে গুরুত্ব
ব্যাখ্যা
• 'গরজ বড় বালাই' বাগ্‌ধারার অর্থ - প্রয়োজনে গুরুত্ব। 

অন্যদিকে,
- 'কাপুড়ে বাবু' বাগ্‌ধারার অর্থ - বাহ্যিক সভ্য।
- 'চোখে সাঁতার পানি' বাগ্‌ধারার অর্থ - অতিরিক্ত মায়াকান্না।
- 'ঘর থাকতে বাবুই ভেজা' বাগ্‌ধারার অর্থ - সুযোগ থাকতে কষ্ট।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,২২০.
"বারীশ" দিয়ে কোনটিকে নির্দেশ করে?
  1. সূর্য
  2. চাঁদ
  3. পর্বত
  4. সমুদ্র
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র
ব্যাখ্যা

• "বারীশ" শব্দটি দিয়ে 'সমুদ্র' কে নির্দেশ করা হয়। কারণ, 'সমুদ্র' এর প্রতিশব্দ - 'বারীশ'।
---------------
• 'সমুদ্র' এর কিছু প্রতিশব্দ:
- সাগর, সিন্ধু, বারিধি, জলধি, অর্ণব, পারাবার, বারীশ, উদধি, পয়োনিধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'সূর্য' এর প্রতিশব্দ -
- রবি, সবিতা, আদিত্য, দিবাকর, দিনমনি, দিননাথ, দিবাবসু, অর্ক, ভানু, তপন, ভাস্কর, মার্তণ্ড, অংশু, প্রভাকর, কিরণমালী, অরুণ, মিহির,  দিনপতি ইত্যাদি।

• 'চাঁদ' এর প্রতিশব্দ-
- চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু ইত্যাদি। 

• 'পর্বত' শব্দের প্রতিশব্দ:
- হল: পাহাড়, অচল, গিরি, ভূভৃৎ, ভূধর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।

২,২২১.
'Ballot' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ভোটবক্স 
  2. ভোট 
  3. ভোটপত্র 
  4. ভোটাধিকার 
সঠিক উত্তর:
ভোট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোট 
ব্যাখ্যা

• 'Ballot' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ভোট। 
 
অন্যদিকে, 
• 'Ballot box' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- ভোটবক্স।  
• 'Ballot paper' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- ভোটপত্র। 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

২,২২২.
"একলা শশী জাগিলে আকাশে বাতায়ন খুলে দিয়ো।" - এখানে 'বাতায়ন' শব্দের অর্থ কী?
  1. দরজা 
  2. পথ 
  3. জানালা
  4. মন 
সঠিক উত্তর:
জানালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানালা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) জানালা।

ব্যাখ্যা: "একলা শশী জাগিলে আকাশে বাতায়ন খুলে দিয়ো" - এই কাব্যিক বাক্যে 'বাতায়ন' শব্দের অর্থ জানালা।

• 'বাতায়ন' শব্দ বিশ্লেষণ:
- বাতায়ন = জানালা, গবাক্ষ
- এটি একটি তৎসম শব্দ (সংস্কৃত থেকে আগত)।
- প্রতিশব্দ: জানালা, গবাক্ষ, খিড়কি।

কাব্যিক প্রসঙ্গ:
- "শশী" = চাঁদ;
- "একলা শশী জাগিলে আকাশে" = আকাশে একা চাঁদ উঠলে।
- "বাতায়ন খুলে দিয়ো" = জানালা খুলে দাও।

কবিতার ভাব: চাঁদ উঠলে জানালা খুলে দিয়ে চাঁদের আলো ঘরে আসতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২,২২৩.
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনি কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ্], [ব্], [ভ্], [ত্], [থ্‌], [দ্‌], [ধ্‌], [ট্‌], [ঠ্‌], [ড্‌], [ঢ্‌], [চ্], [ছ্‌], [জ্‌], [ঝ্‌], [ক্‌], [খ্], [গ্], [ঘ্‌], [ম্], [ন্‌], [ঙ্‌], [স্], [শ্‌], [হ্], [ল্], [র্‌], [ড্‌], [ঢ্‌] ।
এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২২৪.
'জনম তব কোন মহাকূলে?' - 'মহাকূলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'জনম তব কোন মহাকূলে?' - 'মহাকূলে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
(খ) তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
(গ) পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
(ঘ) সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- জনম তব কোন মহাকূলে?

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'জনম তব কোন মহাকূলে?' - এখানে 'জনম কোথায়?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'মহাকূলে'। তাই 'মহাকূলে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২২৫.
তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। - এই সূত্র অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. বর্ষা
  2. সৃষ্টি
  3. কৃষক
  4. রোষ
সঠিক উত্তর:
বর্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষা
ব্যাখ্যা
- তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন
- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

অন্যদিকে,
• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২২৬.
অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ—
  1. সরল
  2. মৃত্যু
  3. গরল
  4. ক্ষয়
সঠিক উত্তর:
গরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরল
ব্যাখ্যা

• 'অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - গরল / বিষাক্ত।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
'তিক্ত' - মধুর।
'অবিরল' - বিরল।
'কুটিল' - সরল।
'জীবিত' - মৃত।
'হর্ষ' - বিষাদ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২২৭.
"বুরুশ" - কোন ভাষার শব্দ থেকে আগত?
  1. পর্তুগিজ
  2. তুর্কি
  3. ইংরেজি
  4. ফরাসি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা

• "বুরুশ" ইংরেজি ভাষার শব্দ থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ছবি আঁকা বা রং লাগানোর জন্য ব্যবহৃত পশুলোম বা কৃত্রিম আঁশের সরঞ্জামবিশেষ, তুলি।

আরো কিছু ইংরেজি শব্দ:
- অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, টেলিপ্রিন্টার, টেনিস, সিল্ক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২২৮.
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) সৎ-সতী
  2. খ) মহৎ-মহতী
  3. গ) গুণবান-গুণবতী
  4. ঘ) গায়ক-গায়িকা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গায়ক-গায়িকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গায়ক-গায়িকা
ব্যাখ্যা
সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী শব্দগুলো হলো বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ। গায়ক-গায়িকা হলো 'ইকা প্রত্যয়' যোগে গঠিত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,২২৯.
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার কোনটি?
  1. ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?
  2. দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
  3. এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
  4. ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
সঠিক উত্তর:
দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
 
বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- তোমার নেই নেই ভাব গেলো না।
 
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
 
ক্রিয়া বিশেষণ:
- দেখে দেখে যেও।
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?
 
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৩০.
'হাড়হদ্দ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. লুকোচুরি
  2. অলীক কল্পনা
  3. শুরুতেই ভুল
  4. নাড়িনক্ষত্র
সঠিক উত্তর:
নাড়িনক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাড়িনক্ষত্র
ব্যাখ্যা
• হাড়হদ্দ বাগ্‌ধারাটির অর্থ -- সবকিছু/নাড়িনক্ষত্র।

অন্যদিকে,
ঢাকঢাক গুড় গুড় - লুকোচুরি
• গোড়ায় গলদ - শুরুতেই ভুল;
• দিবাস্বপ্ন - অলীক কল্পনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৩১.
"সমাজে বিভিন্ন ছাঁদের মানুষের প্রয়োজন আছে।"- এ বাক্যে ‘ছাঁদ’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আচ্ছাদন
  2. গঠন
  3. উপরিভাগ
  4. চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঠন
ব্যাখ্যা

• "সমাজে বিভিন্ন ছাঁদের মানুষের প্রয়োজন আছে।"- এ বাক্যে ‘ছাঁদ’ গঠন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ।

প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ -
ছাঁদ -  ধরন; গঠন; আকৃতি।
ছাদ - আচ্ছাদন।

• প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ:
- উদার = মহৎ,
- উদারা = সংগীতের নিম্ন সপ্তকের সুর,
- উধার = কর্জ,
- ক্রোড় - কোল, 
- ক্রোর - কোটি,
- ক্রূর - নিষ্ঠুর।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা।

২,২৩২.
'চুরুট' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তৎসম 
  2. মারাঠি
  3. তামিল
  4. তৎসম
সঠিক উত্তর:
তামিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামিল
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চুরুট' — তামিল ভাষার শব্দ।

• 'চুরুট' শব্দের অর্থ:
- ধূমপানের জন্য তৈরি শুকনো তামাকপাতায় মোড়া তামাকচূর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২৩৩.
পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. গুদাম
  2. কামরা
  3. কার্নিশ
  4. জানালা
সঠিক উত্তর:
কার্নিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্নিশ
ব্যাখ্যা
• কার্নিশ ফরাসি ভাষা থেক আগত শব্দ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু ফরাসি শব্দ হলো:
কার্ট্রিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
আনারস, কামরা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তোয়ালে, পাউরুটি, পাদ্রি, পেয়ারা, বালতি, বোতল, বোতাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৩৪.
'অভ্র' শব্দের অর্থ কী?
  1. মেঘ 
  2. সাদা 
  3. বরফ 
  4. শীতল 
সঠিক উত্তর:
মেঘ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘ 
ব্যাখ্যা

• 'অভ্র' সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- বিদ্যুৎ ও তাপ অস্তরক এবং প্রসাধন সামগ্রীরূপে ব্যবহৃত সোডিয়াম পটাশিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেটের মিশ্রণ জাত উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ খনিজ পদার্থ। 
- মেঘ।
- আকাশ।

• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলদ, বারিদ, নীরদ,ঘন, অভ্র, পয়োদ, পয়োধর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৩৫.
‘চৌ-হদ্দি’- মিশ্র শব্দটি কোন দুটি ভাষা থেকে আগত শব্দের মিশ্রনে গঠিত?
  1. ক) বাংলা+ফারসি
  2. খ) তৎসম+আরবি
  3. গ) ফারসি+আরবি
  4. ঘ) তুর্কি+ফারসি
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি+আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি+আরবি
ব্যাখ্যা

চৌ-হদ্দি শব্দটি ফারসি+আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দের মিশ্রণে সৃষ্ট বাংলা শব্দ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

২,২৩৬.
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
  1. ড়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি -

ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, , ট, ড, ড়, চ, , শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, , ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৩৭.
‘আধমরা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। দ্বিতীয়া বিভক্তির চিহ্ন কে, রে।
যেমন:
- গাকে ঢাকা = গা-ঢাকা,
- বইকে পড়া = বই-পড়া ইত্যাদি।

- এ-রকম: আত্মরক্ষা, আত্মহত্যা, কাপড়-কাচা, গুনটানা, জাতিগত, দুঃখপ্রাপ্ত, নারী-নির্যাতন, পদত্যাগ, চুক্তি-সম্পাদন, বৃত্তিপ্রাপ্ত, বুকজুড়ানো, দেশত্যাগ, প্রাণনাশ, ফুলতোলা, বর্ণনাতীত, বিপদাপন্ন, ব্যক্তিগত, হস্তগত, রেখাপাত, মর্মগত, মজ্জাগত ইত্যাদি।

• ব্যাপ্তি অর্থে কালবাচক পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হয়।
যেমন:
- চিরকাল ধরে সুখ = চিরসুখ,
- ক্ষণকাল ধরে স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী ইত্যাদি।

- এ-রকম: চিরকুমারী, চিরকৃতজ্ঞ, চিরদুঃখী, চিরবঞ্চিত, চিরবসন্ত, চিরশত্রু, চিরস্থায়ী, চিরস্মরণীয়, দীর্ঘস্থায়ী ইত্যাদি।

• পূর্বপদটি বিশেষণের বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণ হলে পরবর্তী কৃদন্ত পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হয়।
যেমন:
- অর্ধরূপে সিদ্ধ = অর্ধসিদ্ধ,
- আধভাবে মরা = আধমরা ইত্যাদি।

------------------------------
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৩৮.
নিচের কোনটি মৌলিক ধাতু?
  1. বলা
  2. হারা 
  3. দেখা
  4. পড়
সঠিক উত্তর:
পড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পড়
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

অন্যদিকে, 
• সাধিত ধাতু:
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম - শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে। যেমন দেখ্ + আ = দেখা, পড় + আ = পড়া, বল + আ = বলা। সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' দেখায়)।

এরূপ-শোনায়, বসায়, হারা ইত্যাদি।

- গঠনরীতি ও অর্থের দিক থেকে সাধিত ধাতু তিন শ্রেণিতে বিভক্ত: ক. নাম ধাতু, খ. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতু, (গ) কর্মবাচ্যের ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ - সংস্করণ)।
২,২৩৯.
বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
ড্যাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড্যাশ
ব্যাখ্যা
• ড্যাশ (_):
প্রথমেই ড্যাশ (_) আর হাইফেন (-) চিহ্নের তফাতটা মনে রাখা জরুরি। হাইফেনের চেয়ে ড্যাশ বেশি লম্বা, দুটি হাইফেন পাশাপাশি জোড়া লাগালে ড্যাশ হয়ে যায়।

ড্যাশ চিহ্ন প্রধানত বাক্যের মধ্যে এবং নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়: 
১. কোনো কথার দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে: আমার একমাত্র সম্মল_আপনাদের তরুণদের প্রতি আমার অপরিসীম ভালোবাসা, প্রাণের টান। 

২. বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে:
ক. "বেহাই, আমি তো কিছু বলিতে পারি না। একবার তাহলে বাড়ির মধ্যে_"
খ. বাবা গর্জিয়া উঠিলেন, "বটে রে_"

৩. গল্পে উপন্যাসে প্রসঙ্গের পরিবর্তন বা ব্যাখ্যায়:
ক. শিশির_না, এ নামটা আর ব্যবহার করা চলিল না।
খ. অ্যাঁ_এ হইল কী? কলি কি সত্যই উল্টাইতে বসিল?

৪. নাটক বা গল্প উপন্যাসে সংলাপের আগে: _হ গীত না তর মাথা। _অপরাধ স্বীকার করলে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৪০.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত।
  2. খ) শ্মশান ঘাট কোথায়?
  3. গ) এর একটা ব্যবস্থা কর।
  4. ঘ) শশীভূষণ কি আসে নাই?
সঠিক উত্তর:
ঘ) শশীভূষণ কি আসে নাই?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শশীভূষণ কি আসে নাই?
ব্যাখ্যা
'শশীভূষণ কি আসে নাই?' বাক্যটিতে 'শশীভূষণ' বানানটি ভুল। এর শুদ্ধরূপ হবে- শশিভূষণ কি আসে নাই?
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৪১.
'Look before you leap'-এর সঠিক অনুবাদ কোনটি?
  1. লাফ দেওয়ার আগে তাকাও।
  2. ভাবিয়া করিও কাজ।
  3. দেখে তারপর লাফ দাও।
  4. আকাশকুসুম ভাবিও না।
সঠিক উত্তর:
ভাবিয়া করিও কাজ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবিয়া করিও কাজ।
ব্যাখ্যা
• 'Look before you leap'-এর সঠিক অনুবাদ: ভাবিয়া করিও কাজ।
------------------ 
এরকম আরও কিছু প্রবাদ:
- Leave no stone unturned: কোনো কাজ করার জন্য সকল প্রকার প্রচেষ্টা নেওয়া।
- Let it alone! Let well alone: যে অবস্থায় আছে তাই ভালো / হস্তক্ষেপ করলে খারাপ হতে পারে।
- Let sleeping dogs lie: কাদা ঘেঁটো না / স্বেচ্ছায় নিজেকে বিপদে বা ঝামেলায় না-জড়ানো।
- Live and let live: সহিষ্ণু হও।
- Build castles in the air : আকাশকুসুম রচনা করা বা অলীক কল্পনা করা। 
- Many a little makes a mickle. – দশের লাঠি একের বোঝা।
- Might is right. – জোর যার মুল্লুক তার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,২৪২.
Anatomy শব্দের অর্থ-
  1. সাদৃশ্য
  2. স্নায়ুতন্ত্র
  3. শারীরবিদ্যা
  4. অঙ্গ-সঞ্চালন
সঠিক উত্তর:
শারীরবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শারীরবিদ্যা
ব্যাখ্যা
• ‘Anatomy’ শব্দের অর্থ - অঙ্গব্যবচ্ছেদ-বিদ্যা, শারীরবিদ্যা।

এরূপকিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিতক শব্দ হলো:
• ‘Cold War’ - অর্থ স্নায়ুযুদ্ধ।
• ‘Xanthic’ অর্থ - হলদেটে বা পীতবর্ণ(বিশেষণ)।
• ‘Warship’ অর্থ - রণতরী।
• ‘Virile’ অর্থ - কাপুরুষোচিত।
• ‘Monogram’ -  শব্দের অর্থ অভিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
২,২৪৩.
চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয় -
  1. সাধু ভাষা
  2. প্রমিত ভাষা
  3. আঞ্চলিক ভাষা
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
প্রমিত ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত ভাষা
ব্যাখ্যা
- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একুশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,২৪৪.
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ কোনটি?
  1. দাঁত
  2. ফুসফুস
  3. জিভ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বাগ্‌যন্ত্র: 
ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত।

বাগ্‌যন্ত্রের অংশসমূহ হলো:
১. ফুসফুস,
২. শ্বাসনালি,
৩. স্বরযন্ত্র,
৪. জিভ,
৫. আলজিভ,
৬. তালু,
৭. মূর্ধা,
৮. দন্তমূল,
৯. ওষ্ঠ,
১০. নাসিকা
১১. দাঁত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,২৪৫.
নিচের কোনটি অভাব অর্থে উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) হাঘরে
  2. খ) বিফল
  3. গ) নিদয়
  4. ঘ) কদর্য
সঠিক উত্তর:
ক) হাঘরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাঘরে
ব্যাখ্যা
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। অনেক সময় শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে। উপসর্গের নিজের কোন অর্থ নেই কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয়- উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।
- অভাব অর্থ বোঝাতে উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - হা + ঘরে = হাঘরে
- হা উপসর্গ যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ হলো: হাপিত্যেশ, হাভাতে, হাকপাল, হাহুতাশ।

⇒ ভিন্নতা (নেই বা নিন্দনয়ি অর্থে) ‘হা’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - বিফল
⇒ নাই বা নেতি অর্থে ‘নি’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - নিদয়
⇒ নিন্দিত অর্থে ‘কদ্’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - কদর্য

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৪৬.
কোনটি বিদেশি ধাতু?
  1. টুট্
  2. হস্
  3. খাদ্‌
  4. শ্রু
সঠিক উত্তর:
টুট্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুট্
ব্যাখ্যা
বিদেশি ধাতু:
- তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।

যেমন:
- খাট্, আঁট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।

যেমন:
- অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৪৭.
ডাক্তার ডাক। বাক্যে 'ডাক্তার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. অপাদানে সপ্তমী
  3. কর্মে শূন্য 
  4. করণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য 
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম। 
- যেমন: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে। 

• কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার: 

প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি-
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। 
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম।
- নজরুল পড়লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।

২,২৪৮.
নিচের কোনটি 'হস্তী' শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. ক) কেশরী
  2. খ) তিমির
  3. গ) দ্বিরদ
  4. ঘ) তমঃ
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিরদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিরদ
ব্যাখ্যা
হস্তী - হাতি, গজ, নাগ, মাতঙ্গ, দ্বিপ, দ্বিরদ।
সিংহ - পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ, মৃগপতি, হরি।
অন্ধকার - আধাঁর, তিমির, তমঃ।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২,২৪৯.
'সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ' কোন প্রকার সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) দ্বিগু সমাস
  4. ঘ) তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস সংজ্ঞা:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে। বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫০.
'নমস্কার' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নমঃ + কার
  2. নম + কার
  3. নমসঃ + কার
  4. নবঃ + কার
সঠিক উত্তর:
নমঃ + কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নমঃ + কার
ব্যাখ্যা

• 'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নমঃ + কার। এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

সন্ধির নিয়ম:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
 
যেমন: 
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৫১.
'যখন মেঘ করে তখন বৃষ্টি হয়।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অপ্রধান খণ্ডবাক্য 
  2. সরল বাক্য 
  3. জটিল বাক্য 
  4. যৌগিক বাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যখন মেঘ করে তখন বৃষ্টি হয়।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।

উৎস: ভাষ-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৫২.
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পয়োধি
  2. নীলাম্বু
  3. জলধি
  4. মার্তণ্ড
সঠিক উত্তর:
মার্তণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্তণ্ড
ব্যাখ্যা
• 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, বারিধি,  জলধি, অকূল, নীলাম্বু, পয়োধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• ‘সূর্য’ শব্দের সমার্থক শব্দ = মার্তণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৫৩.
'ষ্ণ' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণ দিয়ে গঠিত?
  1. ষ্‌ + ণ
  2. ঞ্‌ + ষ
  3. ষ্‌ + ঞ
  4. ণ্‌ + ষ
সঠিক উত্তর:
ষ্‌ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্‌ + ণ
ব্যাখ্যা

• 'ষ্ণ' যুক্তবর্ণে 'ষ্ + ণ' দুটি বর্ণ আছে।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু, 
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,২৫৪.
নিচের কোন বাক্যে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ছেলেরা মাঠে খেলছে।
  2. তারা বই পড়ছে।
  3. গাছগুলো কাটা হয়েছে।
  4. শিক্ষক পড়াচ্ছেন।
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক পড়াচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক পড়াচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন। 
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
- তারা গেল।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
- তারা বই পড়ছে।
- গাছগুলো কাটা হয়েছে।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ বাস করে।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
২,২৫৫.
"খাবার পানি" - এখানে, 'খাবার' কোন ধরনের বিশেষণ পদ?
  1. ক্রিয়াজাত 
  2. অব্যয়জাত  
  3. সর্বনাম জাত 
  4. অনুকার অব্যয়জাত 
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত 
ব্যাখ্যা

• "খাবার পানি" - এখানে, 'খাবার' ক্রিয়াজাত বিশেষণ পদ।

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত - হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত - আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনামজাত - কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ - বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক - হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত - কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২,২৫৬.
নিচের কোনটি ঐকদেশিক অধিকরণ কারকের উদাহরণ?
  1. বনে বাঘ আছে।
  2. তিলে তৈল আছে।
  3. কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ।
  4. নদীতে পানি আছে।
সঠিক উত্তর:
বনে বাঘ আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনে বাঘ আছে।
ব্যাখ্যা
যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদন হয় তাকে বলে অধিকরণ কারক।
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।


আধারাধিকরণ:
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : - ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

১. ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

২. অভিব্যাপক:
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)
কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ। (কলসের সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে আছে) 

৩. বৈষয়িক:
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন-
সফিক অঙ্কে কাঁচা।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়। 

কালাধিকরণ:
যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে। উদাহরণ-
ছেলেবেলায় আমি খুব দুষ্টু ছিলাম। 
শরতে শাপলা ফোটে।
সকালে সে চলে যাবে।
প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ।

ভাবাধিকরণ:
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়। যেমন-
রাতটা দু:খে কাটলো।
সে ফুর্তিতে আছে। 



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৫৭.
যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩২টি
  2. ৭টি
  3. ২৫টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫টি
ব্যাখ্যা
যৌগিক স্বরধ্বনি:
- পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরুপে উচ্চারিত হয়। এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলে।
- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ২৫টি
বাংলা ভাষার দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির প্রতীক ২ টি: যথা: ঔ, ঐ।

উল্লেখ্য,
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,২৫৮.
'বনে বাঘ আছে।'- এখানে 'বনে' কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

যেমন: 
- বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,  নবম দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,২৫৯.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ন্যক্কারজনক
  2. ত্বাদৃশ
  3. বিদ্যুতায়ন
  4. ঝান্ডা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুতায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুতায়ন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বিদ্যুতায়ন'- শব্দটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধরূপ: বিদ্যুদায়ন।

• 'বিদ্যুদায়ন' এর অশুদ্ধ প্রচলিত রূপ 'বিদ্যুতায়ন'।

উল্লেখ্য,
বিদ্যুৎ + আয়ন = বিদ্যুদায়ন। তাই, বিদ্যুতায়ন বা বিদ্যুতায়িত বললে ভুল হবে।

অন্যদিকে,
ন্যক্কারজনক, ত্বাদৃশ, ঝান্ডা - শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৬০.
'Book Keeper' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. দপ্তরি
  2. গ্রন্থাগারিক
  3. খাতক
  4. হিসাব রক্ষক
সঠিক উত্তর:
হিসাব রক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিসাব রক্ষক
ব্যাখ্যা

• 'Book Keeper' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- হিসাব রক্ষক।

অন্যদিকে,
• 'Book binder' অর্থ- দপ্তরি।
• 'Librarian' অর্থ - গ্রন্থাগারিক।
• 'Borrower' অর্থ- খাতক, ঋণগ্রহীতা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৬১.
'অরুণ' শব্দের অর্থ কী?
  1. রঙিন 
  2. কিরণ
  3. লাল রং 
  4. সূর্য 
সঠিক উত্তর:
সূর্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য 
ব্যাখ্যা



• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ: অর্ক, রবি, আফতাব, আদিত্য, মিহির, অরুণ

অন্যদিকে,
• 'কিরণ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
ময়ূখ, কর, প্রভা, দীপ্তি, জ্যোতি, অংশু, রশ্মি, আলো, আলোক, বিভা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৬২.
'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় -
  1. অনল
  2. বহ্নি
  3. পাবক
  4. সবিতা
সঠিক উত্তর:
সবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবিতা
ব্যাখ্যা

'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, কৃশানু, শিখাবৎ, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, শুচি, পিঙল, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখ, অনিলসখ, জগন্নু, সর্বভুক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৬৩.
'Verified' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রামাণীকৃত
  2. সহযোজিত
  3. সংলগ্ন
  4. প্রতিপাদিত
সঠিক উত্তর:
প্রতিপাদিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিপাদিত
ব্যাখ্যা
• 'Verified' শব্দের বাংলা পরিভাষা - প্রতিপাদিত

অন্যদিকে:
- 'Attached' শব্দের বাংলা পরিভাষা - সংলগ্ন।
- 'Co-opted' শব্দের বাংলা পরিভাষা - সহযোজিত।
- 'Authenticated' শব্দের বাংলা পরিভাষা - প্রামাণীকৃত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
২,২৬৪.
'রিকশা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. জাপানি
  2. চীনা
  3. স্প্যানিশ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জাপানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপানি
ব্যাখ্যা
• ‘রিকশা’ শব্দটি জাপানি ভাষা থেকে আগত।

• রিকশা (বিশেষ্য পদ),
- জাপানি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ:
- মানুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়কযান। 
- ইংরেজিতে - rickshaw.

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৬৫.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কাল?
  1. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
  2. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
  3. কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
  4. বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
সঠিক উত্তর:
কাজটি কি তুমি করেছিলে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজটি কি তুমি করেছিলে?
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,২৬৬.
তৎসম শব্দ নয় কোনটি?
  1. পূর্ব
  2. পরিচিত
  3. কাহিনি
  4. কৃষিজীবী
সঠিক উত্তর:
কাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহিনি
ব্যাখ্যা
• কাহিনি,
- বিশেষ্য পদ।
- এটি হিন্দি শব্দ।
  অর্থ:
- বৃত্তান্ত ও বিবরণ।

অন্যদিকে,
• পূর্ব,
- বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত/তৎসম শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পূর্ব্‌ + অ।
 অর্থ:
- দিগন্তরেখার যে দিকে সূর্য উদিত হয়।

• পরিচিত,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত/তৎসম শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: পরি + √চি + ত।
 অর্থ:
- পরিচয় জানা আছে এমন।
- জ্ঞাত। 
- অভ্যস্ত।

• কৃষিজীবী,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত/তৎসম শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কৃষি + √জীব্‌ + ইন্‌।
অর্থ: কষিকর্ম দ্বারা জীবিকা নির্বাহকারী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৬৭.
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. নাসিকা
  2. আলজিভ
  3. দন্তমূল
  4. অন্ত্রমূল
সঠিক উত্তর:
অন্ত্রমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ত্রমূল
ব্যাখ্যা
• বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয়- অন্ত্রমূল। 

⇒ বাগ্‌যন্ত্র: ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত।
- বাগ্‌যন্ত্রের অংশ সমূহ:
১. ফুসফুস; 
২. শ্বাসনালি;
৩. স্বরযন্ত্র;
৪. জিভ;
৫. আলজিভ;
৬. তালু;
৭. মূর্ধা;
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত);
৯. ওষ্ঠ;
১০. নাসিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৬৮.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ক) পশু + অধম = পশ্বধম
  2. খ) পশু + অধম = পশ্বাধম
  3. গ) মন + অন্তর = মন্বন্তর
  4. ঘ) মনু + অন্তর = মনন্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পশু + অধম = পশ্বধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পশু + অধম = পশ্বধম
ব্যাখ্যা

'উ' বা 'ঊ' ধ্বনির সঙ্গে অন্য স্বরধ্বনি মিললে উ বা ঊ–র জায়গায় ব–ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন বানানে আগের ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়৷
যেমন-
উ + অ = ব্ + অ = ব:

- অনু + অয় = অন্বয়
- পশু + অধম = পশ্বধম
- মনু + অন্তর = মন্বন্তর
- সু + অচ্ছ = স্বচ্ছ
- সু + অল্প = স্বল্প

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৬৯.
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' - এই বাক্যে 'সাধনায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৭০.
তৎপুরুষ সমাস কত প্রকার?
  1. ক) ৯ প্রকার
  2. খ) ৬ প্রকার
  3. গ) ৮ প্রকার
  4. ঘ) ১১ প্রকার
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ প্রকার
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকার।
যথা:
১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: দুঃকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ। যেমন: গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ। যেমন: বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ। যেমন: রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ। যেমন: দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ। যেমন: ন কাতর = অকাতর।
৮. উপপদ তৎপুরুষ। যেমন: জলে চরে যা = জলচর।
৯. অলুক তৎপুরুষ। যেমন: গায়ে পড়া = গায়েপড়া।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৭১.
'মিনতি' শব্দটি যে শব্দযোগে তৈরি হয়েছে-
  1. ক) সংস্কৃত ও আরবি
  2. খ) আরবি ও ফারসি
  3. গ) সংস্কৃত ও পর্তুগিজ
  4. ঘ) দেশীয় ও পর্তুগীজ
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত ও আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত ও আরবি
ব্যাখ্যা
আরবি ‘মিন্নত' ও বাংলায় ‘নতি' এর অনুকরণে নিষ্পন্ন শব্দ ‘মিনতি'।
- এর অর্থ = বিনীত প্রার্থনা, আবেদন, অনুরোধ। 

উৎস:  বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭২.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. গো + পদ = গোষ্পদ।
  2. বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
  3. মনষ্‌ + ঈষা = মনীষা।
  4. পরি + কৃত = পরিষ্কৃত।
সঠিক উত্তর:
পরি + কৃত = পরিষ্কৃত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরি + কৃত = পরিষ্কৃত।
ব্যাখ্যা

বিশেষ নিয়মে সাধিত কিছু সন্ধি আছেঃ
সম্‌ + কার = সংস্কার
সম, + কৃত = সংস্কৃত
এরূপ - সংস্কৃতি, পরিষ্কৃত ইত্যাদি।
ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোন কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না, অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার মানে নিপাতনে সিদ্ধ।
গো + পদ = গোষ্পদ।
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
মনষ্‌ + ঈষা = মনীষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি)

২,২৭৩.
নিচের কোন শব্দটি কেবল স্ত্রীবাচক নির্দেশ করে?
  1. ধাত্রী
  2. অরক্ষণীয়া
  3. গোয়ালিনি
  4. ঢাকী
সঠিক উত্তর:
অরক্ষণীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে। 

যেমন:
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ধাতা - ধাত্রী।
গোয়ালা - গোয়ালিনি।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - ঢাকী।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ, অষ্টম শ্রেণি।

২,২৭৪.
'এবারের সংগ্রাম দেশগড়ার সংগ্রাম' বাক্যে 'দেশগড়ার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী
  2. করণ কারকে ৬ষ্ঠী
  3. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী
  4. কর্তা কারকে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
→ সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।
→ এবারের সংগ্রাম দেশগড়ার সংগ্রাম। কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী।

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
→ আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭৫.
‘আড়াই বছর বয়স মাত্র তার’- বাক্যে ‘আড়াই’ শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘আড়াই বছর বয়স মাত্র তার’- বাক্যে ‘আড়াই’ শব্দটি পরিমাণ-মাত্রাবাচক বিশেষণ

বিশেষণ পদ:
বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর পরিমাণ, সংখ্যা, সম্বন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ করে তখন শব্দের অর্থ সীমিত হয়ে যায়।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৭৬.
'পুনঃপুন' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. পুনপ্‌পুনো
  2. পুনপুনো
  3. পুনোপুনো
  4. পুনোপ্‌পুনো
সঠিক উত্তর:
পুনোপ্‌পুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনোপ্‌পুনো
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'পুনঃপুন' এর সঠিক উচ্চারণ 'পুনোপ্‌পুনো'।

অর্থ:

- বারবার,
- উপর্যুপরি;
- মুহুর্মুহু।



উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২৭৭.
‘পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।’- বাক্যে ‘পাতায়’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

• বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান: আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

• ‘পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।’- বাক্যকে (কোথায় পড়ে?) দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় ‘পাতায়’। সুতরাং ‘পাতায়’ অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭৮.
নিচের কোনটি Deed শব্দের যথার্থ বাংলা পরিভাষা?
  1. ক) মৃত
  2. খ) শপথ
  3. গ) শ্বেতপত্র
  4. ঘ) দলিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) দলিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দলিল
ব্যাখ্যা
Deed অর্থ দলিল
- Dead অর্থ মৃত
- Oath অর্থ শপথ
- Whitepaper অর্থ শ্বেতপত্র।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি: ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি ডিকশনারি)
২,২৭৯.
সাপ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) অহি
  2. খ) শিখী
  3. গ) উরগ
  4. ঘ) ফণী
সঠিক উত্তর:
খ) শিখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শিখী
ব্যাখ্যা
সাপ শব্দের সমার্থক শব্দ হলো সর্প, অহি, নাগ, ফণী, উরগ, আশীবিষ, ভুজঙ্গ ইত্যাদি। অন্যদিকে শিখী অর্থ ময়ূর, শিখণ্ডী, কলাপী, বর্হী ইত্যাদি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
২,২৮০.
'জাগরূক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ জাগ্‌ + রূক 
  2. √ জাগ্‌ + উক
  3. √ জাগৃ + ঊক 
  4. √ জাগর + উক
সঠিক উত্তর:
√ জাগৃ + ঊক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ জাগৃ + ঊক 
ব্যাখ্যা
জাগরূক (বিশেষণ): 
- (তৎসম বা সংস্কৃত) শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: √জাগৃ + ঊক।

'জাগরূক' শব্দের অর্থ:
১. জাগ্রত; জাগরণশীল; সজাগ।
২. সাবধান; সতর্ক; হুঁশিয়ার।
৩. অবিস্মৃত বা জাজ্বল্যমান বা স্পষ্টরূপে অঙ্কিত (তোমার স্মৃতি আমার হৃদয়ে জাগরূক আছে)।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
২,২৮১.
'গুরুত্ব' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

 গুণবাচক-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• গুরুত্ব (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- মনোযোগ আকর্ষণের যোগ্যতা।
- মূল্য, তাৎপর্য; ওজন।
- মহত্ত্ব, মাহাত্ম্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২৮২.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ল্ট
  2. ল্ফ
  3. ন্ধ
  4.  ষ্ট 
সঠিক উত্তর:
ন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্ধ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ, ষ্ট ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ + ধ), ন্ধ (ন্‌ + ধ), ব্ধ (ব্‌ + ধ), ভ্র (ভ্‌ + র ), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

২,২৮৩.
'তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন' - বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. অধীন বাক্য
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।

• যৌগিক বাক্য:
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৮৪.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সমূল
  2. সুবুদ্ধিমান
  3. অদ্যাপি
  4. কদাপি
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা

• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - সুবুদ্ধিমান
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান।

অন্যদিকে,
- সমূল,
- অদ্যাপি এবং 
- কদাপি।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৮৫.
‘নেই’ শব্দের মধ্যে কোন দুটি স্বরধ্বনি আছে?
  1. ঐ + ই্
  2. অ + ই্
  3. এ + ই্
  4. ও + ই্
সঠিক উত্তর:
এ + ই্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ + ই্
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্]: তাই, নাই।
[এই্]: সেই, নেই।
[আও্]: যাও, দাও।
[আএ্]: খায়, যায়।
[উই্]: দুই, রুই।
[অএ্]: নয়, হয়।
[ওউ্]: মৌ, বউ।
[ওই্]: কৈ, দই।
[এউ্]: কেউ, ঘেউ।

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৮৬.
বাগ্‌ধারা নির্ণয় করুন: "ধোপদুরস্ত"
  1. বাবুয়ানি
  2. তোষামুদে
  3. তুচ্ছ জ্ঞান করা
  4. সর্বস্বান্ত হওয়া
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানি
ব্যাখ্যা
'ধোপদুরস্ত' বাগ্‌ধারার অর্থ - বাবুয়ানি

অন্যদিকে,
- 'ধামাধরা' বাগ্‌ধারার অর্থ - তোষামুদে।
- 'নকড়া ছকড়া করা' বাগ্‌ধারার অর্থ - তুচ্ছ জ্ঞান করা।
- 'পথে বসা' বাগ্‌ধারার অর্থ - সর্বস্বান্ত হওয়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৮৭.
‘ৎ’ একটি-
  1. কারবর্ণ
  2. ফলাবর্ণ
  3. নিলীন বর্ণ
  4. বর্ণসংক্ষেপ
সঠিক উত্তর:
বর্ণসংক্ষেপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণসংক্ষেপ
ব্যাখ্যা
• অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ, ও বর্ণসংক্ষেপ।
 
• ফলা:
ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে। 
যেমন: ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

• রেফ:
'র'-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

• বর্ণসংক্ষেপ:
যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ। 
যেমন: ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত। 
 
অন্যদিকে, 
• কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোর নাম কারবর্ণ: া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ো, ৌ।
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্‌চিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

 অ একটি নিলীন বর্ণ। অ কে নিলীন বর্ণ বলে কারণ অ কোন বর্ণের সাথে যুক্ত হলে তা দেখা যায় না। অর্থাৎ, অ স্বরবর্ণের কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৮৮.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. কলে ছাঁটা 
  2. গোলাভরা
  3. গাছপাকা
  4. গ্রামছাড়া
সঠিক উত্তর:
কলে ছাঁটা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলে ছাঁটা 
ব্যাখ্যা
অলুক তৎপুরুষ সমাস : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন :
গায়ে পড়া = গায়ে পড়া।
ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা 
কলে ছাঁটা = কলে ছাঁটা 
কলের গান=  কলের গান
গরুর গাড়ি =গরুর গাড়ি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণ, ২০১৯ এবং ২০২১সংস্করণ ]
২,২৮৯.
'বৃহৎ' অর্থে কোন প্রত্যয়জাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বেতো
  2. খ) ডিঙা
  3. গ) বাঘা
  4. ঘ) টেকো
সঠিক উত্তর:
খ) ডিঙা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডিঙা
ব্যাখ্যা
'বৃহৎ' অর্থে ব্যবহৃত প্রত্যয়জাত শব্দ = 'ডিঙা'।

প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,২৯০.
'Hand-bill' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রচারপত্র
  2. তথ্যপুস্তিকা
  3. লিখিত বিবরণ
  4. জ্ঞাপন পত্র
সঠিক উত্তর:
প্রচারপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রচারপত্র
ব্যাখ্যা
• 'Hand-bill' বাংলা পরিভাষা - প্রচারপত্র।

অন্যদিকে, 
• 'Hand-book' অর্থ - তথ্যপুস্তিকা।
• 'Hand out' অর্থ - জ্ঞাপন পত্র।
• 'Bill' অর্থ - দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় বা পেশাগত সেবার বিনিময়ে ধার্য টাকার লিখিত বিবরণ। 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
২,২৯১.
বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের কোন নিয়মটি শুদ্ধরূপে নেই?
  1. ক) তৎসম শব্দের বানান অবিকৃত থাকবে।
  2. খ) শব্দের শেষে বিসর্গ থাকবে না।
  3. গ) রেফ এর পরে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে।
  4. ঘ) সন্ধির ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম স্থানে অনুস্বার লেখা যাবে।
সঠিক উত্তর:
গ) রেফ এর পরে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেফ এর পরে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে।
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি প্রণীত নিয়ম অনুযায়ী রেফ এর পরে সাধারণত ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হয় না।
যেমন: অর্চনা, অর্জন, অর্থ।
তাই অপশন গ সঠিক উত্তর।

তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা বানান-ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৯২.
'Infectious' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) সংক্রামক
  2. খ) সংক্রামক রোগ
  3. গ) সংক্রমণ
  4. ঘ) আহত
সঠিক উত্তর:
ক) সংক্রামক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংক্রামক
ব্যাখ্যা
'Infectious' শব্দের বাংলা পরিভাষা - 'সংক্রামক' 
'Infection' শব্দের বাংলা পরিভাষা-'সংক্রমণ' 
'Infectious disease' শব্দের বাংলা পরিভাষা -  'সংক্রামক রোগ' 
'injured' শব্দের বাংলা পরিভাষা - ' আহত' 

[উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা]
২,২৯৩.
’অর্ঘ’
  1. ক) পূজার উপকরণ
  2. খ) মূল্য
  3. গ) হাতি
  4. ঘ) ঘোড়া
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্য
ব্যাখ্যা
• অর্ঘ [অর্‌ঘো] (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [√অর্ঘ্+অ]
অর্থ: মূল্য (মহার্ঘ),

• অর্ঘ্য [ওর্‌ঘো] (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √অর্ঘ্+য 
- পূজার উপকরণ
; মান্য অতিথিকে বরণের জন্য মালা চন্দন উত্তরীয় প্রভৃতি উপচার।
- (বিশেষণ) পূজনীয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৯৪.
খ্রিস্টাব্দ কোন ধরনের শব্দের সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ?
  1. ক) গ্রিক+তৎসম
  2. খ) ইংরেজি+তৎসম
  3. গ) ততসম+ফারসি
  4. ঘ) ইংরেজি+আরবি
সঠিক উত্তর:
খ) ইংরেজি+তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইংরেজি+তৎসম
ব্যাখ্যা
কয়েকটি মিশ্র শব্দঃ খ্রিস্টাব্দ, হেড-পণ্ডিত = ইংরেজি+তৎসম। ডাক্তার-খানা, হেড-মৌলভি = ইংরেজি + ফারসি। চৌ-হদ্দি = ফারসি+আরবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,২৯৫.
কোন বানানটি সঠিক -
  1. বাঙালী
  2. চৈতালি
  3. অটবী
  4. মিতালী
সঠিক উত্তর:
চৈতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতালি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'চৈতালি'
- বিশেষ্য পদ।
- বাংলা ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- চৈত্র মাসের রবিশস্য।
- বস্তের হাওয়া।
 
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ -
• শুদ্ধ বানান - 'বাঙালি'
- বিশেষ্য পদ।
- বাংলা ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- বাংলাভাষী।
 
• শুদ্ধ বানান - 'অটবি'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বন, অরণ্য।
 
• শুদ্ধ বানান - 'মিতালি'
- বিশেষ্য পদ।
- বাংলা ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সখ্য, বন্ধুত্ব।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৯৬.
‘ষোলকলা' অর্থ-
  1. একটাকা
  2. সম্পূর্ণ
  3. সুন্দর কলা
  4. খোলটি কলা
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ
ব্যাখ্যা
• ষোলোকলা (ক্রিয়াবিশেষণ পদ),
- বাংলা + সংস্কৃত; ষোলো (বাংলা শব্দ) এবং কলা (সংস্কৃত শব্দ)।
অর্থ:
- সম্পূর্ণভাবে;
- পুরোপুরি।

বাক্য: বাপের স্বভাব একেবারে ষোলকলায় পেয়েছে -শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৯৭.
‘নীলপদ্ম’ কোন সমাস?
  1.  দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

অন্যদিকে,
• সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

• যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: ধানের ক্ষেত = ধানখেত, ‍ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৯৮.
বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার কোন গুণ হারায়?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসক্তি
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।

• বাগধারা ভাষার মূল্যবান সম্পদ। এর মধ্যদিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়। যেমন— ‘অরণ্যে রোদন'-কে যদি ‘অরণ্যে ক্রন্দন' বলা হয়, তবে তা যোগ্যতা হারায় । কেননা এটি মুখে মুখে এত প্রচলিত যে, তার পরিবর্তন সহজেই ধরা পড়ে যায়। অনুরূপভাবে— ‘রথ দেখা ও আম বেচা’, ‘উলুবনে ছাই ছড়ানো”, “ডুবে ডুবে পানি খাওয়া' ইত্যাদি।

সঠিক রূপ হলো :
'রথ দেখা ও কলা বেচা’, ‘উলুবনে মুক্তা হুড়ানো', ‘ডুবে ডুবে জল খাওয়া' ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,২৯৯.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. লটারি
  2. ভুতুড়ি
  3. স্বরসতী
  4. পিশাচ
সঠিক উত্তর:
স্বরসতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসতী
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'স্বরসতী'
এর শুদ্ধরূপ - 'সরস্বতী'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- বিদ্যা ও কলার দেবী,
- বাণী, প্রাচীন নদীবিশেষ।

অন্যদিকে,
- পিশাচ, ভুতুড়ি লটারি - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩০০.
বেকার, বেয়াদব, বেহায়া ইত্যাদি শব্দে কোন উপসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বেকার, বেয়াদব, বেহায়া ইত্যাদি শব্দে ফারসি উপসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে।

ফারসি উপসর্গ
প্রত্যেক অর্থে ফি-বছর, ফি হপ্তা, ফি- রােজ, ফি- সব।
না - না অর্থে - নামঞ্জুর, নারাজ, নাচার।
ব - সাথে অর্থে - বনাম, বকলম, বমাল। 
কম - অল্প অর্থে - কমবখত, কমআক্কেল, কমজোর।
বে - না অর্থে - বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া, বেঠিক।
বর - মন্দ অর্থে - বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
খারাপ অর্থে বদমাশ, বদহাল, বদমেজাজ, বদরাগী, বজ্জাত।
নিম - অর্ধেক অর্থে - নিমরাজি, নিমমােল্লা।
দর - অধীন অর্থে - দরপাট্টা, দরখাস্ত, দরপাওনা, দরদালান।
কার - কাজ অর্থে - কারচুপি, কারবার, কারসাজি, কারদানি, কারখানা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।