বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৬২ / ৩৫৪ · ১৬,১০১১৬,২০০ / ৩৫,৭১৩

১৬,১০১.
'তোমার নাম কী?'-এখানে 'কী' কোন প্রকারের পদ?
  1. প্রশ্নবাচক
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
যেমন:
- সুন্দর ফুল। 
- বাজে কথা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে? [প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৬,১০২.
অশুদ্ধ বানান -
  1. ঠাণ্ডা
  2. লুণ্ঠন
  3. প্রচণ্ড
  4. কণ্টক
সঠিক উত্তর:
ঠাণ্ডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠাণ্ডা
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - ঠাণ্ডা
- এর শুদ্ধ বানান - ঠান্ডা।

মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
- ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।

- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়।
যেমন:
- কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।

- কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে।
যেমন:
গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,১০৩.
'তাসের ঘর' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. ভীষণ শত্রুতা
  2. ক্ষণস্থায়ী
  3. অর্থের কুপ্রভাব
  4. কঠিন পরিক্ষা
সঠিক উত্তর:
ক্ষণস্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষণস্থায়ী
ব্যাখ্যা
• 'তাসের ঘর' বাগ্‌ধারার অর্থ - ক্ষণস্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী ঘর।

অন্যদিকে,
অহিনকুল সম্পর্ক - ভীষণ শত্রুতা।
অগ্নিপরীক্ষা - কঠিন পরিক্ষা।
তামার বিষ - অর্থের কুপ্রভাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১০৪.
অর্থ বিবেচনায় 'গায়ক' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. রূঢ়ি
  3. যোগরূঢ়
  4. যৌগিক
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,১০৫.
'দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১০৬.
‘ছাগল দিয়ে ধান চাষ হয় না’- বাক্যে ‘ছাগল দিয়ে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা’ তৃতীয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া’ তৃতীয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

• অতএব ‘ছাগল দিয়ে ধান চাষ হয় না’- বাক্যটিকে কার দ্বারা বা মাধ্যম দিয়ে প্রশ্নে করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছাগল’। তাই ‘ছাগল দিয়ে’ করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,১০৭.
বাংলা ভাষার প্রাচীন নমুনা পাওয়া যায়-
  1. ক) মহাভারতে
  2. খ) মঙ্গলকাব্যে
  3. গ) চর্যাপদে
  4. ঘ) বৈষ্ণব পদাবলিতে
সঠিক উত্তর:
গ) চর্যাপদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চর্যাপদে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। 
- ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষা ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। 
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। 
- যেসব বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয়→ ইন্দো-ইরানীয়→ ভারতীয় আর্য→ প্রাকৃত→ বাংলা।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। 
- বাংলাভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
১৬,১০৮.
পদ বিবেচনায় শব্দকে মোট কতভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ছয়
  2. সাত
  3. আট
  4. নয়
সঠিক উত্তর:
আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট
ব্যাখ্যা

শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণি ভাগ করে বর্ণনা করা যায়।
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
8. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়াবিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬,১০৯.
কবুতরের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. মন্দ
  2. ললাট
  3. পারাবত
  4. লহন
সঠিক উত্তর:
পারাবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারাবত
ব্যাখ্যা
• 'কবুতর' এর সমার্থক শব্দ: কপোত, পায়রা, পারাবত, নোটন।

অন্যদিকে: 
• ‘ভাগ্য' এর সমার্থক শব্দ: বরাত, ভাল, ললাট, অদৃষ্ট, ভাগ্য, নিয়তি, নসিব।
• 'মন্দ' এর সমার্থক শব্দ: খারাপ, অশুভ, অসৎ, দুষ্ট।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১১০.
নিচের কোনটি মিশ্র ভাষার শব্দ?
  1. কাঁচামাল
  2. কাঁচাপাকা
  3. কাঁচামিঠা
  4. কাঁচকলা
সঠিক উত্তর:
কাঁচামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁচামাল
ব্যাখ্যা
• ‘কাঁচামাল’ মিশ্র ভাষার শব্দ।
- এখানে কাঁচা (বাংলা শব্দ) এবং মাল (আরবি শব্দ।
অর্থ: যে সকল উপদান থেকে  শিল্পদ্রব্য তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
• কাঁচাপাকা (বিশেষণ),
- এটি বাংলা ভাষার শব্দ।

• কাঁচকলা (বিশেষ্য),
- বাংলা ভাষার শব্দ।

• কাঁচামিঠা (বিশেষণ),
- এটি বাংলা ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১১১.
’অতীন্দ্রিয়’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতী + ইন্দ্রিয়
  2. অতি + ইন্দ্রিয়
  3. অতি + ঈন্দ্রিয়
  4. অতি + ইন্দ্রীয়
সঠিক উত্তর:
অতি + ইন্দ্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি + ইন্দ্রিয়
ব্যাখ্যা

’অতীন্দ্রিয়’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = অতি + ইন্দ্রিয় =(অতীন্দ্রিয়)।
- এটি একটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
- অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা;
- মরু + উদ্যান মরূদ্যান;
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- মহা + ঋষি = মহর্ষি;
- শীত + ঋত = শীতার্ত;
- জন + এক  = জনৈক;
- বন + ওষধি বনৌষধি;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,১১২.
নিচের কোনটি অল্প প্রাণ ধ্বনি?
  1. ক) ভ
  2. খ) ঠ
  3. গ) ফ
  4. ঘ) চ
সঠিক উত্তর:
ঘ) চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চ
ব্যাখ্যা
চ অল্পপ্রাণ ধ্বনি। যেসব ধ্বনি উচ্চারণে জোরে নিঃশ্বাস সংযোজিত হয় তাদের মহাপ্রাণ এবং যাদের জোরে নিঃশ্বাস সংযোজিত হয় না তাদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে। ১ম ও ৩য় বর্গের ধ্বনি সমূহ অল্পপ্রাণ ধ্বনি এবং ২য় ও ৪র্থ বর্গের ধ্বনিসমূহ হলো মহাপ্রাণ ধ্বনি। তাই তৃতীয় বর্গের ধ্বনি সমূহ হলো ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
১৬,১১৩.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) সাত + শ = সাশশ
  2. খ) সুধা + ওদন = শুদ্ধোধন
  3. গ) যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
  4. ঘ) অণু + এষণ = অন্বেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) সুধা + ওদন = শুদ্ধোধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুধা + ওদন = শুদ্ধোধন
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোধন; এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী।

অন্যান্য অপশনের সন্ধিবিচ্ছেদগুলো সঠিক নয়।

১৬,১১৪.
সময় তার দেখা মেলা ভার। বাক্যটিতে 'সময়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় শূন্য
  2. খ) অপাদানে শূন্য
  3. গ) করণে শূন্য
  4. ঘ) অধিকরণে শূন্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকরণে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• এ সময় তার দেখা মেলা ভার। বাক্যে 'সময়' হচ্ছে অধিকরণে শূন্য বিভক্তি।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- এ সময় তার দেখা মেলা ভার।
- কাজে মন দাও।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
১৬,১১৫.
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কোন কারক পাওয়া যায়?
  1. কর্তা
  2. অপাদান
  3. কর্ম
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম
ব্যাখ্যা

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৬,১১৬.
মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি? 
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা

ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: মৌলিক স্বরধ্বনি ও মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি।

​মৌলিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি:
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [ঝ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম],[ন],[ঙ] [স্], [শ], [হ্], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১৬,১১৭.
বাক্যে 'সেমিকোলন' থাকলে কতক্ষন থামতে হয়?
  1. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক সেকেন্ড
  3. ১ বলতে যে সময় লাগে
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
১ বলার দ্বিগুণ সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।

সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে থামার পরিমাণ:
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

গুরুত্বপূর্ণ যতি বা ছেদচিহ্ন:
- সেমিকোলন এর সময়কাল এক বলার দ্বিগুন সময়।
- কমা'র বিরতিকাল ১(এক) বলতে যে সময় লাগে।
- হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন, উদ্ধরণ চিহ্ন, ব্রাকেট(বন্ধনী চিহ্ন) থামার প্রয়োজন নাই।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন, কোলন এবং ড্যাস এর বিরতিকাল কাল ১ সেকেন্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১৬,১১৮.
'অখণ্ড্য' শব্দটি দ্বারা কী বোঝায়?
  1. অবিভাজ্য
  2. অখণ্ডনীয়
  3. যা খণ্ডন করা যায় না
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

- 'অখণ্ড্য'  শব্দের অর্থ - যা খণ্ডন করা যায় না।
- অন্যান্য প্রতিশব্দ: অবিভাজ্য, অখণ্ডনীয়।

অন্যদিকে,
- অখণ্ড শব্দের অর্থ - সমগ্র, যা খণ্ডিত নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১১৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) মধুপর্ণি
  2. খ) সমিচীন
  3. গ) নির্ধন
  4. ঘ) পাণিনী
সঠিক উত্তর:
গ) নির্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্ধন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ‘নির্ধন’ 

অন্যান্য বানানগুলোর অশুদ্ধ ও শুদ্ধ রূপ দেয়া হলো:
• অশুদ্ধ - সমিচীন
• শুদ্ধ - সমীচীন (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সম্য্ চ+ঈন্
অর্থ:- সংগত, উপযুক্ত, উওম, যথার্থ, সত্য, উচিত।

• অশুদ্ধ - পণিনী
• শুদ্ধ - পাণিনি (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = পাণিন্+অ
অর্থ:- খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের সংস্কৃত ব্যাকরণপ্রণেতা।

• অশুদ্ধ- মধুপর্ণি
• শুদ্ধ- মধুপর্ণী
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- মধু+√পা+ইন্
অর্থ: নীলীবৃক্ষ, গুলঞ্চলতা, গাম্ভারী, গামার। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১২০.
'অনুগমন' শব্দের ব্যাসবাক্য নিচের কোনটি?
  1. ক) গমনের পশ্চাৎ
  2. খ) গমনের অগ্র
  3. গ) অনুরূপ গমন
  4. ঘ) পরস্পর গমন
সঠিক উত্তর:
ক) গমনের পশ্চাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গমনের পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
পশ্চাৎ (অনু) অর্থে :
অনুগমন= পশ্চাৎ গমন
অনুধাবন = পশ্চাৎ ধাবন
অনুসরণ = পশ্চাৎ সরণ
অনুতাপ = পশ্চাৎ তাপ

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৬,১২১.
'খোঁজাখুঁজি' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. দ্বিত্ব শব্দদ্বারা 
  3. বিভক্তির সাহায্যে
  4. প্রত্যয়যোগে
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব শব্দদ্বারা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব শব্দদ্বারা 
ব্যাখ্যা

• 'খোঁজাখুঁজি' শব্দটি দ্বিত্ব শব্দের সাহায্যে গঠিত হয়েছে।

--------------
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৬,১২২.
উৎস বিবেচনায় 'অধ্যাদেশ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তদ্ভব শব্দ
  2. বাংলা শব্দ
  3. তৎসম শব্দ
  4. দেশি শব্দ
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৬,১২৩.
শব্দ বা পদকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:

- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ

বাক্যে প্রয়ােগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। যেমন, যখন বলা হয় লাল থেকে নীল ভালাে, তখন লাল’ এটি বিশেষ্য পদ। কিন্তু যখন বলা হয়: আমি একটি লাল ফুল তুলেছি – তখন। ‘লাল’ বিশেষণ পদ। 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬,১২৪.
কোন কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

অন্যদিকে:
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১২৫.
ডিগ্রি বা পদবি লেখার সময় কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. দাঁড়ি
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
⇒ কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
৫) কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
৭) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
8) ডিগ্রি পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,১২৬.
নিম্নের কোন বাক্যে ‘অহংকার’ অর্থে গরম শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।
  2. খ) দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
  3. গ) তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
  4. ঘ) সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
সঠিক উত্তর:
খ) দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া জাতীয় এই পদগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: গরম শব্দটি বাক্যে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রকাশ পেতে পারে।

- উষ্ণ - এক কাপ খুব গরম চা দাও। 
- গ্রীষ্ণ - বৈশাখ জৈষ্ঠ গরমকাল। 
- চড়া - সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
- উগ্র - তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
- অহংকার - দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
- শীত নিবারক - শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি অষ্টম শ্রেণি।
১৬,১২৭.
নিচের কোনটিতে স্বভাবতই ণ হয়নি?
  1. পণ্য
  2. কল্যাণ
  3. বণিক
  4. কর্ণ
সঠিক উত্তর:
কর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত শব্দে রেফের পরে 'ণ' হয়।
এই নিয়মে কর্ণ বানানে ণ হয়েছে।
অপশনের অন্যান্যগুলোতে স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬,১২৮.
"কামারনী" কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. আনী
  2. ইনী
  3. নী
সঠিক উত্তর:
নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নী
ব্যাখ্যা

নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ:

যেমন:
কামার - কামারনী
→ জেলে - জেলেনী,
→ কুমার - কুমারনী,
→ ধোপা - ধোপানী,
→ মজুর - মজুরনী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৬,১২৯.
'কৃপণ' অর্থে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপোসি ছারপোকা
  2. হাত-ভারি
  3. অন্ধের যষ্টি
  4. উড়নপেকে
সঠিক উত্তর:
হাত-ভারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত-ভারি
ব্যাখ্যা
• 'কৃপণ' অর্থে হাত-ভারি বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

• অন্যদিকে, 
- ‘উপোসি ছারপোকা’ বাগধারার অর্থ - অভাবগ্রস্ত লোক।
- 'অন্ধের যষ্টি' বাগধারাটির অর্থ- একমাত্র অবলম্বন। 
- 'উড়নপেকে' বাগধারার অর্থ - অপব্যয়ী।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
-  ‘উজলপাঁজল’ বাগধারার অর্থ - উথালপাথাল।
- ‘উলুখাগড়া’ বাগধারার অর্থ - গুরুত্বহীন লোক। 
- 'আঁধার ঘরের মানিক' বাগধারটির অর্থ অত্যন্ত প্রিয়জন।
- 'ইঁচড়ে পাকা' বাগধারাটির অর্থ- অকালপক্ব।
- অমাবস্যার চাঁদ বাগধারার অর্থ- দুর্লভ বস্তু বা বিরল বস্তু।
- আকাশ কুসুম বাগধারার অর্থ- অবাস্তব কল্পনা।
- আষাঢ়ে গল্প বাগধারার অর্থ- আজগুবি কাহিনি।
- 'অগ্নি পরীক্ষা' বাগধারাটির অর্থ-  কঠিন পরীক্ষা।
- 'অদৃষ্টের পরিহাস' বাগধারাটির অর্থ- ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
১৬,১৩০.
আরবি উপসর্গ কোনটি?
  1. আমদরবার
  2. কমজোড়
  3. হেডপণ্ডিত
  4. অজমূর্খ
সঠিক উত্তর:
আমদরবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমদরবার
ব্যাখ্যা
• আরবি উপসর্গ ‘আম’ যোগে গঠিত শব্দ- আমদরবার।

অন্যদিকে,
খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘অজ’ যোগে গঠিত শব্দ- অজমূর্খ।
ফারসি উপসর্গ ‘কম’ যোগে গঠিত শব্দ- কমজোড়।
ইংরেজি উপসর্গ ‘হেড’ যোগে গঠিত শব্দ- হেডপণ্ডিত।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,১৩১.
দুটি বিশেষণ পদে গঠিত কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. কাঁচকলা
  2. দুঃশাসন
  3. মহাত্মা
  4. চালাকচতুর
  5. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
চালাকচতুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালাকচতুর
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।
যেমন:
ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী,
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে কিছু
উদাহরণ:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য):
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

(বিশেষণ+ বিশেষণ):
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচামিঠে)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৩২.
নিচের কোনটি সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ যুগল?
  1. খাতক - দেনাদার
  2. স্বকীয় - বিকৃত
  3. সচেষ্ট - নিশ্চেষ্ট
  4. উৎকর্ষ - উপকর্ষ
সঠিক উত্তর:
সচেষ্ট - নিশ্চেষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সচেষ্ট - নিশ্চেষ্ট
ব্যাখ্যা

সচেষ্ট - নিশ্চেষ্ট শব্দযুগলটি সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল।

প্রশ্নের অন্যান্য অপশনগুলোর সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগলঃ

খাতক - মহাজন
স্বকীয় - পরকীয়
উৎকর্ষ - অপকর্ষ

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

১৬,১৩৩.
নিচের কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. অথবা
  2. সুতরাং
  3. বরাবর
  4. তবে
সঠিক উত্তর:
বরাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরাবর
ব্যাখ্যা
• ‘বরাবর’ অনুসর্গের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
অথবা, সুতরাং ও তবে যোজকের উদাহরণ।

-----------------
• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১৬,১৩৪.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - এখানে 'চোর' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,১৩৫.
বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপিকে বলা হয়-
  1. কুটিল লিপি
  2. বাংলা লিপি
  3. অহমিয়া লিপি
  4. বোড়ো লিপি
সঠিক উত্তর:
বাংলা লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা লিপি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপিকে বাংলা লিপি বলা হয়।
• বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• প্রায় আড়াই বছর আগে উপমহদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে রেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

১৬,১৩৬.
‘ইতর’ এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. অভদ্র
  2. মিথ্যা
  3. উত্তম
  4. ভদ্র
সঠিক উত্তর:
ভদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভদ্র
ব্যাখ্যা
• ‘ইতর’ এর বিপরীত শব্দ - ভদ্র।
অন্যদিকে, ইতর এর সমার্থ শব্দ হচ্ছে অভদ্র।

তাছাড়া, 
'সত্য' এর বিপরীত শব্দ- 'মিথ্যা'
'উত্তম' এর বিপরীত শব্দ- 'অধম' 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৩৭.
কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে-এখানে ভালোভাবে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে-এখানে ভালোভাবে ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন: কি: আমি কি যাব? 
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন !

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,১৩৮.
'হর' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
উর্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্দু
ব্যাখ্যা
• উর্দু / হিন্দি উপসর্গ (হর):
'হর' উপসর্গযোগে প্রত্যেক অর্থে গঠিত শব্দ - হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা। 

অন্যদিকে, 
• বাংলা উপসর্গ: বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• আরবি উপসর্গ: আম্, খাস, লা, গর্ ইত্যাদি। 

• তৎসম উপসর্গ: তৎসম উপসর্গ বিশটি। যথা- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৬,১৩৯.
"হাতে না মারিয়া ভাতে মারিব।" - বাক্যে 'হাতে' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• "হাতে না মারিয়া ভাতে মারিব।" - বাক্যে 'হাতে' শব্দটি করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)। 
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় সাধনা)। 

• বাক্যটি - "হাতে না মারিয়া ভাতে মারিব।": 
"কীসের দ্বারা বা কী উপায়ে" প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন - ‘হাতে না মারিয়া ভাতে মারিব।’ - এই বাক্যে কিসের দ্বারা বা কী উপায়ে মারিব প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘হাতে’।
এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি ‘এ’ যুক্ত হয়েছে। 

সুতরাং,
এখানে বাক্যে 'হাতে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,১৪০.
'তাঁর টাকা আছে কিন্তু তিনি দান করেন না' - কোন শ্রেণীর বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) কোনটিই নয়
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্যঃ সম্পূর্ণ পৃথক ও নিরপেক্ষ একাধিক খণ্ডবাক্য সংযোজক অব্যয়ের সাহায্যে যুক্ত হয়ে পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
'তাঁর টাকা আছে'  + কিন্তু + 'তিনি দান করেন না'।  এখানে 'কিন্তু' সংযোজক অব্যয়টি দুটি স্বাধীন বাক্যকে সংযুক্ত করেছে।

উৎস-  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,১৪১.
'প্রসন্ন' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. নিন্দিত
  2. বিষণ্ণ
  3. বিগ্রহ
  4. হর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষণ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষণ্ণ
ব্যাখ্যা
• 'প্রসন্ন' এর বিপরীত শব্দ - বিষণ্ণ

অন্যদিকে,
- 'নন্দিত' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ - নিন্দিত।
- 'হর্ষ/হরিষ' এর বিপরীত শব্দ - বিষাদ।
- 'সন্ধি' এর বিপরীত শব্দ - বিগ্রহ/বিবাদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৪২.
"ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।" - নিম্নরেখ অব্যয়টি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উচ্ছ্বাস
  2. সম্মতি
  3. সম্বোধন
  4. নিরাশা
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,১৪৩.
'Coeducation' শব্দের পরিভাষা কোনটি? 
  1. গণশিক্ষা
  2. সহশিক্ষা
  3. শিক্ষাতত্ত্ব
  4. শিক্ষানীতি
সঠিক উত্তর:
সহশিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহশিক্ষা
ব্যাখ্যা

• 'Coeducation' শব্দের পরিভাষা- ছেলেমেয়েদের একত্র শিক্ষা; সহশিক্ষা। 
- Cambridge Dictionary অনুযায়ী Coeducation (সহশিক্ষা) হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা না করে একই স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠানে একসাথে পড়ানো হয়।
- এই পদ্ধতিকে coeducational বা সংক্ষেপে co-ed বলা হয়।
------------------------- 
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Fiction – কথাসাহিত্য;
- Register – নিবন্ধক; 
- Ad-hoc – অনানুষ্ঠানিক / অস্থায়ী; 
- Executive – কার্যানির্বাহী; 
- Keynote – মূলভাব; 
- Archetype – আদিরূপ; 
- Constituency – নির্বাচনী এলাকা; 
- Up-to-date – হালনাগাদ; 
- Circular – পরিপত্র; 
- Educationist – শিক্ষাবিদ; 
- Consultant – উপদেষ্টা; 
- Affidavit – হলফনামা; 
- Unprecedented – অভূতপূর্ব; 
- Bugger – জঘন্য ব্যক্তি; 
- Apprentice – শিক্ষানবিশ; 
- Phonetics – ধ্বনিবিজ্ঞান; 
- Plebiscite – গণভোট; 
- Pledge – বন্দক; 
- Orion – কালপুরুষ; 
- Hostage – জিম্মি; 
- Honorary – অবৈতনিক; 
- Distorted – বিকৃত। 
------------------------------------------
অন্যদিকে, 
- Pedagogy – শিক্ষাতত্ত্ব।
- Education policy – শিক্ষানীতি; 
- Mass Education – গণশিক্ষা

উৎস:
Cambridge Dictionary [লিঙ্ক];
বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

১৬,১৪৪.
‘স্বন’ শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) শব্দ
  2. খ) বছর
  3. গ) স্মরন
  4. ঘ) সন্তান
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ
ব্যাখ্যা

স্বন - শব্দ

সন - বছর

উৎসঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্র নবম দশম শ্রেনি।
১৬,১৪৫.
কোনটি নাসিক্য ধ্বনি?
  1. ক) জ
  2. খ) ম
  3. গ) ল
  4. ঘ) প
সঠিক উত্তর:
খ) ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম
ব্যাখ্যা

ঙ, ঞ, ণ, ন, ম- এই পাঁচটি বর্ণ এবং ং, ঃ, ঁ যে বর্ণের সঙ্গে লিখিত হয় সে বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস নিঃসৃত বায়ু মুখবিবর ছাড়াও নাসারন্ধ্র দিয়ে বের হয়; অর্থাৎ এগুলোর উচ্চারণে নাসিকার সাহায্য প্রয়োজন হয়। তাই এগুলোকে বলে আনুনাসিক বা নাসিক্য ধ্বনি, আর এগুলোর বর্ণকে বলা হয় আনুনাসিক বা নাসিক্য বর্ণ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬,১৪৬.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. দুর্বলবশত অনাথিনী বসে পড়ল
  2. দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল
  3. দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল
  4. দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল
সঠিক উত্তর:
দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।
• 'অনাথা' শব্দটি 'অনাথ' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ।

অন্যদিকে,
• বর্তমান বাংলা ভাষা রীতি অনুসারে শব্দের শেষে 'ঃ' বসে না। সুতরাং দুর্বলতাবশতঃ বানানটি অশুদ্ধ।
• অন্যান্য বাক্যগুলোতে 'দুর্বলবশত' এবং 'অনাথিনী' শব্দের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যশুদ্ধি:
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নেই।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১৪৭.
নদীর  মাছ সুস্বাদু’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন্ কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ষষ্ঠী
  2. কর্মে ষষ্ঠী
  3. অপাদানে ষষ্ঠী
  4. অধিকরণে ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক: 
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- নদীর মাছ সুস্বাদু। (অধিকরণে ষষ্ঠী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,১৪৮.
'গরহাজির' শব্দে গর উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অল্প অর্থে
  2. খ) অভাব অর্থে
  3. গ) বিকৃত অর্থে
  4. ঘ) বিপরীত অর্থে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিপরীত অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিপরীত অর্থে
ব্যাখ্যা
- 'গরহাজির' শব্দটির বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'গরহাজির' শব্দটির বিপরীত শব্দ 'হাজির'।

• গরহাজির, গরহাজীর (বিশেষ্য)
- অর্থ উপস্থিতির অভাব; অনুপস্থিত
- যেমন: কোন ছাত্র কয়দিন হাজির গরহাজির হল।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নতুন সংস্করণ) নবম ও দশম শ্রেণি।
১৬,১৪৯.
'অক্ষি পত্রের লোম' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. অপাঙ্গ
  2. অক্ষিপক্ষ্ম
  3. কামাক্ষী
  4. পুণ্ডরীকাক্ষ
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
অক্ষিপক্ষ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষিপক্ষ্ম
ব্যাখ্যা
• 'অক্ষি পত্রের লোম' এর এক কথায় প্রকাশ - অক্ষিপক্ষ্ম

অন্যদিকে,
- 'চোখের কোণ' এর এক কথায় প্রকাশ - অপাঙ্গ।
- 'অক্ষিতে কাম যার' এর এক কথায় প্রকাশ - কামাক্ষী।
- 'পদ্মের ন্যায় অক্ষি বা চোখ' এর এক কথায় প্রকাশ - পুণ্ডরীকাক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৫০.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. গম্ভীরতা
  2. গাম্ভীর্য
  3. গাম্ভীর্যতা
  4. চাপল্য
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

অন্যদিকে,
- 'চাপল্য' শব্দটি শুদ্ধ প্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৫১.
অর্থতত্ত্বের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত বিষয় কোনটি?
  1. ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান
  2. সমাস
  3. প্রতিশব্দ
  4. সন্ধি
সঠিক উত্তর:
প্রতিশব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিশব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

অন্যদিকে, 
----------------
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় হলো- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি। 
• রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় হলো- সমাস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৬,১৫২.
'Detenu' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. কোষাধক্ষ্য
  2. রাজবন্দী
  3. পরিকল্পক
  4. বংশধর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দী
ব্যাখ্যা

• 'Detenu' এর বাংলা পরিভাষা — 'রাজবন্দী'।

অন্যদিকে,
• Designer- পরিকল্পক,
• Treasurer - কোষাধক্ষ্য।
• Descendant- বংশধর।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।

১৬,১৫৩.
জিভের উচ্চতা অনুযায়ী 'ই' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. উচ্চ স্বরধ্বনি
  2. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি
  3. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
  4. নিম্ন স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
উচ্চ স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
 উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
 
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।
 
আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি: ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতিউচ্চ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,১৫৪.
‘বৈভব’ শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) বিত্ত
  2. খ) বিকাল
  3. গ) নিস্তেজ
  4. ঘ) মন্ড
সঠিক উত্তর:
ক) বিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিত্ত
ব্যাখ্যা
বৈভব (বিশেষ্য) ঐশ্বর্য; ধন; সম্পদ (‘দিল্লীশ্বরের সেই অতুল বৈভব, বিপুল প্রতাপ আজ স্তিমিতপ্রায়’)।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
১৬,১৫৫.
'এলাহি কান্ড' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বিশৃঙ্খলা
  2. সৌভাগ্যের বিষয়
  3. অসম্ভব বস্তু
  4. বিরাট আয়োজন
সঠিক উত্তর:
বিরাট আয়োজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরাট আয়োজন
ব্যাখ্যা
• 'এলাহি কান্ড' বাগ্‌ধারার অর্থ- বিরাট আয়োজন। 

অন্যদিকে, 
- 'এলোপাতাড়ি' অর্থ- বিশৃঙ্খলা। 
- 'একাদশে বৃহস্পতি' অর্থ- সৌভাগ্যের বিষয়। 
- 'কাঁঠালের আমসত্ত্ব' অর্থ- অসম্ভব বস্তু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
১৬,১৫৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নূন্যতম
  2. তিতিক্ষা
  3. শারিরীক
  4. শিরোচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
তিতিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতিক্ষা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান:
- তিতিক্ষা (বিশেষ্য).
- এর অর্থ: সহনশীলতা, সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, অপরাধ মার্জনা, ক্ষমার ভাব।

অপশনের অন্যান্য শব্দগুলোর শুদ্ধ বানান হলো: 
• শারীরিক (বিশেষণ)।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = শরীর+ইক।
- অর্থ: শরীর বিষয়ক। 

• শিরশ্ছেদ (বিশেষ্য)।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (শিরস্‌+ছেদ), 
অর্থ: মাথা কেটে ছিন্নকরণ। 

• ন্যূনতম (বিশেষণ)।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = (ন্যূন+তমট),
অর্থ: সর্বনিম্ন, অল্পতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১৫৭.
কোনটি বিপরীতার্থক শব্দ নয়?
  1. ক) কল্পনা -বাস্তব
  2. খ) ক্ষীয়মান -বর্ধমান
  3. গ) চুনোপুঁটি -রুই কাতলা
  4. ঘ) গুপ্ত – মৌর্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুপ্ত – মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুপ্ত – মৌর্য
ব্যাখ্যা
গুপ্ত ও মৌর্য হল বাংলার প্রাচীন দুইটি শাসক গোষ্ঠীর নাম।
সুতরাং, এই দুটি বিপরীতার্থক শব্দ নয়।
১৬,১৫৮.
'চারু' শব্দটির সমার্থক শব্দ-
  1. তনয়
  2. চিত্র
  3. অভিলাষ
  4. মনোরম
সঠিক উত্তর:
মনোরম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোরম
ব্যাখ্যা
• 'চারু' এর সমার্থক শব্দ - মনোরম। 
- 'চারু' শব্দের অর্থ- সুন্দর, মনোরম।

• ‘সুন্দর’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মনোরম, মনোহর, রম্য, কমনয়ি, ললিত, রমণীয়, অপরূপা, কমনীয়, অনুপম, কান্তিমান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬,১৫৯.
নিচের কোনগুলো উষ্মধ্বনি?
  1. ত, ঝ, শ
  2. প, ম, হ
  3. জ, থ, ষ
  4. শ, ষ, হ
সঠিক উত্তর:
শ, ষ, হ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ, ষ, হ
ব্যাখ্যা
উষ্মধ্বনি:
- শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলােকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
- শ ষ স - এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘােষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘােষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- প, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।
- ত, থ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬,১৬০.
কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) মানব
  2. খ) বাজনা
  3. গ) দোকানদার
  4. ঘ) বেঙাচি
সঠিক উত্তর:
ক) মানব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানব
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'মানব'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• 'মানব'  (বিশেষ্য)- (মনু+অ), 
শব্দের অর্থ- মানুষ; মনুষ্য; আদমি; নৃ; নর।

অন্য অপশনগুলোতে,
• 'বাজনা'- (সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ) এর অর্থ- 'বাদ্যযন্ত্র, বাদ্যধ্বনি। 

• 'দোকানদার'- (ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ)।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১৬১.
'যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) মিশ্র বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

“যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম”- এটি জটিল বাক্য।

- যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-- - তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন – যে ছেলেটি এখানে এসেছিল সে আমার ভাই ।

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন – তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন ।

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।

১৬,১৬২.
সঠিক বানান কোনটি?
  1. ক) ডাস্টবিন
  2. খ) গীতাঞ্জলী
  3. গ) দীপান্বীতা
  4. ঘ) পূনঃপূন
সঠিক উত্তর:
ক) ডাস্টবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডাস্টবিন
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- 
গীতাঞ্জলি (গিতান্‌জোলি)

[স. গীত+অঞ্জলি] 
বিশেষ্য
- সংগীতাঞ্জলি
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থবিশেষ

দীপান্বিতা (দিপান্‌নিতা) 
[স. দীপান্বিত+আ(টাপ্‌)]
বিশেষ্য
- দেওয়ালি, দীপালি।
- দেওয়ালির রাত্রি

পুনঃপুন (পুনোপ্‌পুনো)
[স. পুনঃ+পুনঃ]
অব্যয়, ক্রিয়াবিশেষণ
- বারবার, উপর্যুপরি
- মুহুর্মুহু। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৬,১৬৩.
'চারু' এর সমার্থক শব্দ কী?
  1. মনোহর
  2. অকল্পনীয়
  3. অভিলাষ
  4. অতুল্য
সঠিক উত্তর:
মনোহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোহর
ব্যাখ্যা
• 'চারু' এর সমার্থক শব্দ - মনোহর।

‘সুন্দর’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মনোরম, মনোহর, রম্য, কমনয়ি, ললিত, রমণীয়, অপরূপা, কমনীয়, অনুপম, কান্তিমান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'অভিলাষ' শব্দের অর্থ - ইচ্ছা, বাসনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১৬৪.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. খ) আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
  3. গ) পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
উপরের সবগুলোই সঠিক ।

• “তিনি সস্ত্রীক ধাকায় থাকেন” বাক্যটির অশুদ্ধ বাক্য - “তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন” 
• “আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত” বাক্যটির অশুদ্ধ বাক্য - “আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত”
• “পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান” বাক্যটির অশুদ্ধ বাক্য - “পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে  ঘূর্ণায়মান”

বাক্যগুলো যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল হয়েছে ।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৬৫.
'দ্বিপ' অর্থ কি?
  1. আলো
  2. হাতি
  3. জলবেষ্টিত স্থান
  4. বাতি
সঠিক উত্তর:
হাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতি
ব্যাখ্যা
• 'দ্বিপ'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ
শব্দের অর্থ - হাতি

অন্যদিকে,
- 'আলো' শব্দের অর্থ - প্রভা, কিরণ, দীপ্তি, কর, অংশু, রশ্মি, জ্যোতি।
- 'লন্ঠন' শব্দের অর্থ - বাতি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৬,১৬৬.
'একের পরিবর্তে অপরের সই'-কে এক কথায় কী বলে?
  1. ক) বিকল্প
  2. খ) বকলম
  3. গ) বুকনি
  4. ঘ) দ্বৈরথ
সঠিক উত্তর:
খ) বকলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বকলম
ব্যাখ্যা
একের পরিবর্তে অপরের সই = বকলম 
এক ভাষার মধ্যে অন্য ভাষার প্রয়োগ = বুকনি 
একের পরিবর্তে অনেক = বিকল্প 
দুরথীর যুদ্ধ = দ্বৈরথ 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৬৭.
'সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।'- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমানকাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

• পুরাঘটিত বর্তমানের বিশেষ প্রয়োগ-

অতীত সময় বোঝাতে: 
- দশ বছর হলো তার বাবা মারা গেছেন।
- গত মাসে তাকে ঢাকায় দেখেছি।

ভবিষ্যৎ সময় বোঝাতে:
- সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
- সে আগামীকাল কানাডা যাচ্ছে, আর ফিরছে না।

অনুমতি গ্রহণ: যাচ্ছি তাহলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৬৮.
নিচের কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. পনেরো
  2. দোসরা
  3. দ্বি
সঠিক উত্তর:
দোসরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোসরা
ব্যাখ্যা

• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক ও
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দ্বি, পনেরো, ৭ ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।

১৬,১৬৯.
মহেশ্বর - এর সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) মহা + ইশ্বর
  2. খ) মহা + ঈশ্বর
  3. গ) মহৎ + ঈশ্বর
  4. ঘ) মহান + ঈশ্বর
সঠিক উত্তর:
খ) মহা + ঈশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহা + ঈশ্বর
ব্যাখ্যা

ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী একটি তৎসম স্বরসন্ধি৷ যা 'আ + ঈ = এ' নিয়মে গঠিত হয়েছে৷
এরূপ:
- মহা + ঈশ্বর = মহেশ্বর
- রমা + ঈশ = রমেশ
- মহা + ঈশ = মহেশ

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

১৬,১৭০.
'প্রাতরাশ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাত + আশ
  2. প্রাতঃ + রাশ
  3. প্রাতঃ + আশ
  4. প্রাতর্‌ + আশ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + আশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + আশ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্, পুনর্, প্রাতর্) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ র হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা,
- অন্তঃ + ইত = অন্তরিত,
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ,
- পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার,
- অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়,
- অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ,
- অন্তঃ + ঈপ = অন্তরীপ,
- পুনঃ+ উত্থান = পুনরুত্থান,
- পুনঃ + উক্তি = পুনরুক্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৭১.
কোনটি বিস্ময় আবেগের ভাব প্রকাশ করে?
  1. বাহ্‌
  2. আরে!
  3. উহ্‌
  4. বেশ
সঠিক উত্তর:
আরে!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরে!
ব্যাখ্যা

আবেগ:
- মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

অন্যদিকে,
• বেশ - সিদ্ধান্ত আবেগ।
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৬,১৭২.
'Deputation' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. প্রতিনিধি
  2. প্রেষণ
  3. আদালতের সাক্ষী
  4. জনশূন্য করা
সঠিক উত্তর:
প্রেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেষণ
ব্যাখ্যা

• 'Deputation' এর বাংলা পরিভাষা - প্রেষণ

অন্যদিকে, 
Deputationist - প্রতিনিধি। 
Deponent - আদালতের সাক্ষী।
Depopulate - জনশূন্য করা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

১৬,১৭৩.
'১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।'-  বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত 
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. ঘটমান অতীত
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা

• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ।
যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল,
২. ঘটমান বর্তমান কাল,
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল ও
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।

• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে। যেমন: তৃণা স্কুলে যায়।
সাধারন বর্তমানে দুটি রূপ পাওয়া যায়। যথা:

১. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া সাধারণভাবে নিত্য বা সব সময় ঘটে অর্থাৎ ক্রিয়া সংঘটনের স্বাভাবিকতা বা অভ্রস্ততা বোঝালে সাধারন বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সকালে সূর্য উঠে।
- আমি প্রত্যহ সকালে চা খাই।

২. ঐতিহাসিক বর্তমান কাল:
ঐতিহাসিক বর্তমান কাল অতীত অর্থে বর্তমান। অতীত কালের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় অনেক ক্ষেত্রে নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ বা ব্যবহার হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্য দেবের জন্ম হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,১৭৪.
‘প্রবল’ শব্দের ‘প্র’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. খ্যাতি
  2. ধারা-পরম্পরা
  3. আধিক্য
  4. সম্যক
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা
• আধিক্য অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচার, প্রবল, প্রসার, প্রগাঢ় শব্দে

অন্যদিকে,
• প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচলন, প্রস্ফুটিত শব্দে।
• খ্যাতি অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রতাপ, প্রসিদ্ধ, প্রভাব শব্দে।
• ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রশাখা, প্রপৌত্র শব্দে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,১৭৫.
'পানি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) তৎসম শব্দ
  2. খ) তদ্ভব শব্দ
  3. গ) ফারসি শব্দ
  4. ঘ) হিন্দি শব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিন্দি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিন্দি শব্দ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'পানি'- তৎসম বা সংস্কৃত পানীয় শব্দ থেকে এসেছে। 
- 'পানি' হিন্দি ভাষার শব্দ। 

'পানি' এর সমার্থক শব্দ: জল, বারি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১৭৬.
‘শশাঙ্ক’ শব্দের ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. ক) শশের অঙ্ক
  2. খ) অঙ্কের শশ
  3. গ) অঙ্কে শশ যার
  4. ঘ) শশ অঙ্কে যার
সঠিক উত্তর:
ঘ) শশ অঙ্কে যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শশ অঙ্কে যার
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- শশাঙ্ক একটি বহুব্রীহি সমাস।
- যার ব্যাসবাক্য হলো - শশ অঙ্ক যার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৭৭.
কোনটি তুর্কি শব্দ?
  1. কারখানা
  2. নগদ
  3. কাচারি 
  4. তোপ
সঠিক উত্তর:
তোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোপ
ব্যাখ্যা

• তুর্কি শব্দ - তোপ
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- গোলা ছোড়া যায় এমন আগ্নেয়াস্ত্র,
- কামান।

অন্যদিকে,
- 'কারখানা' ফারসি শব্দ।
- 'নগদ' আরবি শব্দ।
- 'কাচারি' হিন্দি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,১৭৮.
কোন শব্দে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরপরাধী
  2. অহর্নিশি
  3. নির্দোষ
  4. দিবারাত্রি
সঠিক উত্তর:
নির্দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দোষ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রয়োগ - নির্দোষ। 

সমাস-ঘটিত কিছু অশুদ্ধি শব্দের শুদ্ধরূপ:
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
- নিরপরাধী = নিরপরাধ।
- অহর্নিশি = অহর্নিশ।
- নিরহঙ্কারী = নিরহঙ্কার।
- নির্দোষী = নির্দোষ।
- পিতাহারা = পিতৃহারা।
- অর্ধরাত্রি = অর্ধরাত্র।
- নিরভিমানী = নিরভিমান।
- দিবারাত্রি = দিবারাত্র।
- নীরোগী = নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,১৭৯.
নিচের কোনটি শুদ্ধ শব্দ?
  1. ক) হ'ল
  2. খ) দু'টি
  3. গ) তা'র
  4. ঘ) চট
সঠিক উত্তর:
ঘ) চট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চট
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমীর প্রমিত বানান নিয়ম অনুযায়ী শব্দের ঊর্ধ্বকমা ও হস্-চিহ্ন যথাযথ বর্জন করা হবে। তাই হ'ল - হল, দু'টি- দুটি এবং তা'র- তার হবে।
১৬,১৮০.
"ভাস্কর" কোন ধরণের সন্ধি?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ 
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা

'ভাস্কর' এর সন্ধি বিচ্ছেদ- ভাঃ + কর।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

বিসর্গ সন্ধির নিয়ম-
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অবা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।

যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ,বাচস্পতি, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)

১৬,১৮১.
‘যে অন্ধ তাকে আলো দাও’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে অন্ধ, তাকে আলো দাও।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৬,১৮২.
অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. অধীন
  2. দরিদ্রতা
  3. দিবারাত্রি
  4. নিরপরাধ
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
ব্যাখ্যা
• 'দিবারাত্রি', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: দিবারাত্র। 

অন্যদিকে,
বাকি শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৮৩.
‘আনন্দ’ এর সমার্থক শব্দ নয়-
  1. শ্রান্তি
  2. হর্ষ
  3. পরিতোষ
  4. প্রমোদ
সঠিক উত্তর:
শ্রান্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রান্তি
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দ'-এর সমার্থক শব্দ- উচ্ছ্বাস, উল্লাস, স্ফুরণ।  

• 'আনন্দ'-এর সমার্থক শব্দ নয়- 'শ্রান্তি'।
- 'শ্রান্তি' শব্দের অর্থ- বিরাম, পরিশ্রমজনিত অবসাদ, নিবৃত্তি।  

• 'আনন্দ'-এর আরো কিছু সমার্থক শব্দ:  
খুশি, আমোদ, মজা, পুলক, হর্ষ, আহ্লাদ, স্ফূর্তি, সন্তোষ, পরিতোষ, প্রমোদ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১৮৪.
সংস্কৃত উপসর্গ কোনটি?
  1. অজ
  2. অধি
  3. আড়
  4. আব
সঠিক উত্তর:
অধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬,১৮৫.
'পয়স্বিনী' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. গঙ্গা
  2. পাখি
  3. গরু
  4. পদ্ম
সঠিক উত্তর:
গরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরু
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর - গরু

• ‘পয়স্বিনী’ শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- ধেনু, গো, গাভি।

অন্যদিকে,
• ‘গঙ্গা’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- সুরধুনী, ভাগীরথী, জাহ্নবী, জহ্নুকন্যা।

• ‘পাখি’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- পক্ষী, বিহগ, বিহঙ্গ, খগ, খেচর, গরুড়, বিহঙ্গম, শকুন্ত, দ্বিজ, অণ্ডজ, পতত্রী৷

• ‘পদ্ম’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- শতদল, উৎপল, নলিনী, অরবিন্দ, সরসিজ, পঙ্কজ, সরোজ, কমল, কুবলয়, তামরস, সরোরুহ, কোকনদ, ইন্দীবর, কুমুদ, পুণ্ডরীক, রাজীব, পুষ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৮৬.
"করোনার প্রতিসেধক টীকা আবিস্কার মানবজাতির জন্য স্বস্তিকর।" - বাক্যটিতে কয়টি বানানে ভুল রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যটি হবে:
"করোনার প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার মানবজাতির জন্য স্বস্তিকর।"

অপশনের ভুল শব্দগুলোর শুদ্ধ বানান:
• "প্রতিসেধক" এর শুদ্ধ বানান → "প্রতিষেধক"; 
• "টীকা" এর শুদ্ধ বানান → "টিকা"; 
• "আবিস্কার" এর শুদ্ধ বানান → "আবিষ্কার"।

সঠিক উত্তর: ৩টি বানানে ভুল রয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১৮৭.
কোন বিরামচিহ্নে বিরাম নিতে হয় না?
  1. ড্যাশ
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন এর ক্ষেত্রে বিরাম নিতে হয় না বা থামার প্রয়োজন নেই। 

• বিরাম চিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,১৮৮.
ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয় - এই সূত্র অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. রুক্সিণী
  2. ব্যাকরণ
  3. কৃপণ
  4. ব্রাহ্মণ
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

• ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ, ব্যাকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ঋ, র, ষ - এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ,ং এবং ক - বর্গীয় ও প - বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্‌, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ণ,) এরূপ- রুক্সিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,১৮৯.
নিচের কোনটিতে স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে?
  1. আপণ
  2. নিক্বণ
  3. গণিকা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই হয়-

চাণক্য, মাণিক্য, গণ ,বাণিজ্য, লবণ , মণ ,
বেণু ,বীণা , কঙ্কণ , কণিকা ,
কল্যাণ , শোণিত , মণি,
স্বাণু ,গুণ , পুণ্য , বেণী ,
ফণী , অণু , বিপণি , গণিকা,
আপণ , লাবণ্য ,বাণী , নিপুণ ,
ভণিতা ,পাণি , গৌণ , কোণ ,
ভাণ ,পণ , শাণ ,চিক্কণ , নিক্কণ , তৃণ , গণনা। প্রভৃতি।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬,১৯০.
নিম্নের কোন শব্দজোড় সমার্থক নয়?
  1. ক) দেহ = কলেবর
  2. খ) পদ্ম = কুবলয়
  3. গ) বধূ = ভার্যা
  4. ঘ) যুদ্ধ = ক্ষিতিপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুদ্ধ = ক্ষিতিপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুদ্ধ = ক্ষিতিপ
ব্যাখ্যা
ক্ষিতিপ শব্দের অর্থ রাজা। 
⇒ রাজা শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ = নৃপেন্দ্র, নৃপতি, নরেশ, ভূপতি, ভূপ, নরপতি, ভূপাল, মহীপাল, দণ্ডধর, রাজ্যপাল, নরপাল, দণ্ডপাল, নরেন্দ্র, প্রজাধিপ,  ক্ষিতিপতি, নৃপ, মহীনাথ, মহীন্দ্র, মহীপ, ক্ষিতীশ, বাদশা, সম্রাট। 

⇒ যুদ্ধ এর সমার্থক শব্দ = সংগ্রাম, সমর, আহব, বিগ্রহ, রণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৬,১৯১.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. গোলাপী
  2. দেশি
  3. ভাইয়ে
  4. গোলাপ
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
  যেমন:
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
 যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,১৯২.
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সমন্বয় প্রধানভাবে প্রকাশিত হয় তাকে কোন বাচ্য বলে?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কোনটিই না
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সমন্বয় প্রধানভাবে প্রকাশিত হয় তাকে কর্মবাচ্য বলে।

• কর্মবাচ্য :
- কর্মপদ প্রধান রূপে প্রকাশিত হলে তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- এ ধরনের বাক্যে ক্রিয়াপদ কর্তা অনুযায়ী না হয়ে কর্মপদ অনুযায়ী হয় এবং কর্মপদের অনুসারী হয়।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তায়- তৃতীয়া বিভক্তি হয়।
- কর্মে- শূণ্য বিভক্তি হয়। 
• যেমন-
- শিকারি কর্তৃক বাঘটি নিহত হয়েছে।
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১৬,১৯৩.
ণ-ত্ব বিধি অনুসারে কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ঝরণা
  2. দুর্ণিবার
  3. অপরাহ্ণ
  4. প্রনয়
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধি অনুসারে 'অপরাহ্ণ' শব্দটি সঠিক।

• কারণ:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ। ইত্যাদি

অন্যদিকে,
- বিদেশি শব্দে 'ণ' বসে না।'ঝরনা' বিদেশি শব্দ তাই এখানে 'ন' হবে।
- 'দুর্ণিবার' এর শুদ্ধ বানান দুর্নিবার। 'দুর্নিবার' সমাসবদ্ধ শব্দ তাই 'ন' হবে।
- 'প্রনয়' এর শুদ্ধ বানান 'প্রণয়'। ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬,১৯৪.
'ঞ' কোন বর্গীয় ধ্বনি?
  1. ত-বর্গীয়
  2. ক-বর্গীয়
  3. প-বর্গীয়
  4. চ-বর্গীয়
সঠিক উত্তর:
চ-বর্গীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ-বর্গীয়
ব্যাখ্যা
• চ-বর্গীয় ধ্বনি:
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

অন্যদিকে, 
---------------
• প-বর্গীয় ধ্বনি:
প, ফ, ব, ভ, ম- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

• ক-বর্গীয় ধ্বনি:
ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি:
ত, থ, দ, ধ, ন- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৬,১৯৫.
কোন শব্দটি ভুল?
  1. ক) মরূদ্যান
  2. খ) সত্তা
  3. গ) অঞ্জলি
  4. ঘ) পরিপক্ক
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরিপক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরিপক্ক
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান- পরিপক্ব
১৬,১৯৬.
কোন শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত?
  1. আলামত
  2. গোলাপ
  3. সওগাত
  4. চামেলি
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ, গোলাপ।
অর্থ: 
- ঘন পাপড়িযুক্ত সুগন্ধ ফুল।

অন্যদিকে,
- ”চামেলি” একটি বাংলা শব্দ।
- ”সওগাত” একটি তুর্কি শব্দ।
- ”আলামত” একটি আরবি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১৯৭.
'এখন যেয়ো না' এখানে 'না' শব্দটি কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'এখন যেয়ো না' এখানে 'না' শব্দটি 'অব্যয়' পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

না (অব্যয় পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ক্রিয়ার অঘটন বা নিষেধ (এখন যেয়ো না)।
- অভাব (না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি)। 
- অনুরোধ বা অনুজ্ঞা (আমায় করতে দাও না)। আধিক্য (কত না ধন এ জগতে)।
- প্রশ্ন বা সন্দেহ (খাবে না?)।
- বিকল্প (কোনো না কোনো)।
- বিনা (না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে। রবীন্দ্র.)
 
অন্যদিকে,
• না অব্যয় পদ হিসেবে নঞর্থক বাংলা উপসর্গবিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
 
আবার, 
• না বিশেষ্য পদ হিসেবে অঞ্চলিক ভাষায় নৌকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- না নিয়ে গেল বোয়াল-মাছে।
 
তবে ‘না’ শব্দের বহুল ব্যবহার হয় অব্যয় পদ হিসেবেই। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ অব্যয় পদ গ্রহণ করা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,১৯৮.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. উদয় হওয়া
  2. সরে দাঁড়ানো
  3. ঠনঠন করা
  4. রাজি হওয়া
সঠিক উত্তর:
সরে দাঁড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
 • সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, রাজি হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,১৯৯.
‘উত্তরণ’ এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. অবতরণ
  2. আবাহন
  3. আরোহণ
  4. চিরন্তন
সঠিক উত্তর:
অবতরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবতরণ
ব্যাখ্যা
• ‘উত্তরণ’ এর বিপরীত শব্দ - অবতরণ

অন্যদিকে,
• ‘আবাহন’ এর বিপরীত শব্দ - বিসর্জন।
• ‘আরোহণ’ এর বিপরীত শব্দ - অবতরণ।
• 'চিরন্তন’ এর বিপরীত শব্দ - আকস্মিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,২০০.
'সাদৃশ্যতা' শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গজনিত
  2. বানানজনিত
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. অশুদ্ধ নয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
• 'সাদৃশ্যতা'- প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'সাদৃশ্য'। 

 তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ: 
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।