উত্তর
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা
- কারবালার যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শোকগাথা,
- মহরমে গীত শোকগাথা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৫৬ / ৩৫৪ · ১৫,৫০১–১৫,৬০০ / ৩৫,৭১৩
উদ্যম (বিশেষ্য):
- উৎসাহ; প্রচেষ্টা, পরিশ্রম, অধ্যবসায়।
বিহনে: ছাড়া, অভাবে।
মনোরথ: মনের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, মনোবাঞ্ছা।
'উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ'।
বাক্যের অর্থ: অধ্যবসায় ছাড়া কার মনোবাসনা পূর্ণ হয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।
• সমানাধিকার বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- এক গো যার = একগুঁয়ে,
- লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।
অন্যদিকে,
• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন: গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।
• পদলোপী বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদতি,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।
• ব্যতিহার বহুব্রীহি: পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন:
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত হলো- ঐক্যমত।
এর সঠিক রূপ হলোঃ ঐকমত্য বা ঐক্যমত্য - (বিশেষ্য) একমত; মতের অভিন্নতা; মতের মিল বা ঐক্য।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি বিশেষ নিয়ম-
১) দুইটি বিশেষণ একই বিশেষ্য বোঝালে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। এখানে পরবর্তী বিশেষ্যটি অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে এটি দ্বন্দ্ব সমাস হবে না।
২) দুইটি বিশেষ্য একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে সেটিও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব। যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি।
৩) কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা। এখানে ‘মোছা’ কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪) পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে তা পুরুষবাচক হয়ে যাবে। যেমন, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
৫) বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে মহা হয়। মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
৬) পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’, ‘কৎ’ হয়। যেমন, কু যে অর্থ = কদর্থ।
৭) পরপদে ‘রাজা’ থাকলে ‘রাজ’ হয়। যেমন, মহান যে রাজা = মহারাজ।
৮) বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষ্য আগে এসে বিশেষণ পরে চলে যায়। যেমন, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• ‘বিপ্রকৃষ্ট’ মানে- দূরবর্তী।
- এর বিপরীত শব্দ - সন্নিকৃষ্ট, নিকটবর্তী, কাছাকাছি, সন্নিকট বা অতি নিকটস্থ।
-------------------
অন্যদিকে,
- হর্ষ/হরিষ - বিষাদ।
- সন্ধি - বিগ্রহ।
- চপল - গম্ভীর।
- অনিষ্ঠ - মঙ্গল।
------------------
• কিছু বিপরীতার্থক শব্দ-
- উত্তরায়ণ - দক্ষিণায়ন;
- আকুঞ্চন - প্রসারণ;
- অলীক - সত্য;
- উত্তমর্ণ - অধমর্ণ;
- উপচয় - অপচয়;
- উত্তরণ - অবতরণ;
- উপচিকীর্ষা - অপচিকীর্ষা;
- অধিত্যকা - উপত্যকা;
- অনুগ্রহ - নিগ্রহ;
- অনুরক্ত - বিরক্ত;
- সন্নিকৃষ্ট - বিপ্রকৃষ্ট;
- অবমানিত - সম্মানিত;
- প্রসন্ন - বিষণ্ণ;
- সরল - গরল, কুটিল, জটিল;
- অমৃত - গরল;
- আবিষ্কার - অজ্ঞাত বস্তু;
- আবির্ভাব - তিরোভাব;
- জঙ্গম - স্থাবর;
- নশ্বর - অবিনশ্বর;
- সুন্দর - কুৎসিত;
- আপদ - সম্পদ;
- নির্মল - পঙ্কিল, মলিন;
- প্রসারণ - সংকোচন।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থ্যাৎ কোন শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়।
কোন বাক্যে এরকম করা হলে তাতে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটে।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে, ক ও ঘ - সঠিক বাক্য। কোন অশুদ্ধি ঘটে নি।
- অপশন খ) তে বিশেষ্য পদের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে।
এর সঠিক রূপঃ অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতুহল ভালো নয়।
- অপশন গ) তে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ হবেঃ অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।
- উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কমদারোয় সমাস বলে।
- এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে।
- প্রত্যক্ষ কোন বস্তুর সঙ্গে পরোক্ষ কোন বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলে বলা হয় উপমেয় ,
আর যার সঙ্গে তুলনা করাকি হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
- উপমান ও উপমেয় এর একটি সাধারণ ধর্ম থাকে।
- তুষার ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র
- কাজলের মত কালো = কাজলকালো
- শশকের মত ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- মিশির মত কালো = মিশির কালো
- এরকমঃ
- অগ্নিশর্মা,
- অরুণরাঙা
- সিঁদুররাঙা
- বরফসাদা
- বজ্রকঠিন
[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
- প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
- উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
- যেমন: ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।এখানে 'ভ্রমর' উপমান এবং 'কেশ' উপমেয়।
- কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।
- সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- যথা: তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।
অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয়:
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।
যেমন -
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• দুটি বিশেষণ পদে গঠিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ: চালাকচতুর।
-------------------
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।
যেমন:
ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী,
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে কিছু উদাহরণ:
• (বিশেষণ+ বিশেষ্য):
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।
• (বিশেষণ+ বিশেষণ):
যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচামিঠে)।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• স্বরসন্ধির নিয়মে:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনি সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম ও-ধ্বনি বা ঔ-ধ্বনির যোগে ঔ- ধ্বনি হয়। বানানে তা ঔ- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
• নিয়ম: অ + ও = ঔ:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- জল + ওকা = জলৌকা,
- জল+ ওঘ = জলৌঘ।
• নিয়ম: আ + ও = ঔ:
- মহা + ওষধি = মহৌষধি,
- গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ।
• নিয়ম: অ + ঔ = ঔ;
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
- চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য,
- দিব্য + ঔষধ= দিব্যৌষধ।
• নিয়ম: আ + ঔ = ঔ:
- মহা + ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য,
- মহা + ঔদার্য = মহৌদার্য,
- মহা + ঔদাস্য = মহৌদাস্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুই প্রকার।
যথা- মৌলিক ও সাধিত শব্দ।
উৎসগত দিক থেকে শব্দ ৪ প্রকার।
যথা- তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ।
অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার।
যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (নতুন সংস্করণ)।
• 'ধৈর্য'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ।
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
Phonology - ধ্বনিতত্ত্ব
Morphology - শব্দতত্ত্ব/রূপতত্ত্ব
Syntax - বাক্যতত্ত্ব/পদক্রম
Semantics - অর্থতত্ত্ব
শুদ্ধ বানান - হীনম্মন্যতা।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
পক্ষঃ
- সহায়; অবলম্বন।
- সহায়কবর্গ; সাহায্যকারী; সেনাদল; রাজশক্তি।
আসামির পক্ষে উকিল কে? -এখানে ‘পক্ষে' সহায় অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
• ফ্যাসিস্ট (বিশেষণ পদ),
- শব্দটি ইতালিয়ান ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
- স্বৈরশাসক।
ইংরেজি শব্দ- Fascist.
অন্যদিকে,
--------------
• ফ্ল্যাগশিপ (বিশেষ্য পদ),
- শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
- নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল বা অধিনায়ককে বহনকারী নির্দিষ্ট নৌযান।
ইংরেজি শব্দ- flagship.
• ফ্লাইওভার (বিশেষ্য পদ),
- শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
অন্য কোনো সড়ক বা রেলপথ অতিক্রমণের উদ্দেশ্যে তার ওপর দিয়ে উঁচু করে নির্মিত উড়াল সড়ক, উড়ালসেত্ব।
ইংরেজি শব্দ- flyover.
• ফ্যাক্ট্রি (বিশেষ্য পদ),
- শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত-করণের কারখানা।
ইংরেজি শব্দ- factory.
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
এরূপ- বনে বনে ফুল ফুঠেছে। বাক্যে 'ফুল' শব্দটিতে বহুবচন লগ্নক ব্যবহৃত না হয়েও বনে বনে অনেক ফুল ফুটেছে বোঝাচ্ছে। সুতরাং বাক্যে ফুল বহুবচন শব্দ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সম্মুখ স্বরধ্বনি:
- সম্মুখ স্বরধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন:
- [ই], [এ], [অ্যা] সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
মধ্য স্বরধ্বনি:
- মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি:
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
অনুসর্গের ব্যবহার:
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন, (এখানে, 'নীন' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে)
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলােকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
যেমন -
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
[পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]
তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ।
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি।
- তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।
- দেশি শব্দের উদাহরণ- পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।
তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
সন্ধির নিয়ম:
- অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্, পুনর্, প্রাতর্) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ র হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ,
- পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার,
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা,
- অন্তঃ + ইত = অন্তরিত ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অপেক্ষমান'- অশুদ্ধ বানান।
এর শুদ্ধ বানান- 'অপেক্ষমাণ'।
অন্যদিকে,
শুদ্ধ বানানগুলো হলো: নির্নিমেষ; পরিপোষণ; ত্রিনয়ন।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।