বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৫০ / ৩৫৪ · ১৪,৯০১১৫,০০০ / ৩৫,৭১৩

১৪,৯০১.
বাংলা বর্ণমালায় কতটি স্বরবর্ণ আছে?
  1. ক) ৭টি
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ৯টি
  4. ঘ) ১০টি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ মোট ১১টি। তার মধ্যে পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৬টি, অর্ধমাত্রার বর্ণ ১টি এবং মাত্রাহীন ৪টি বর্ণ রয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৯০২.
'দুর্যোগ' শব্দটি গঠিত হয়েছে- 
  1. সন্ধি দ্বারা
  2. প্রত্যয় দ্বারা
  3. বিভক্তি দ্বারা
  4. সমাস  দ্বারা
সঠিক উত্তর:
সন্ধি দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি দ্বারা
ব্যাখ্যা

• 'দুর্যোগ' একটি সন্ধি সাধিত শব্দ। 

• দুর্যোগ (বিশেষ্য পদ),
- সন্ধি বিচ্ছেদ: দুঃ + যোগ। 
​অর্থ: 
​- ঝড় ঝঞ্ঝা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয়। 
​- দুঃসময়, দুর্দিন।
​- কল্পিত দুষ্টগ্রহের যোগ।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।যেমন:
দুঃ + যোগ = দুর্যোগ,
নিঃ + আকার = নিরাকার,
আবিঃ + ভাব = আবির্ভাব,
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,৯০৩.
'বিশেষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিরল 
  2. সামান্য
  3. বিরত 
  4. সাম্য 
সঠিক উত্তর:
সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য
ব্যাখ্যা
'বিশেষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - 'সামান্য' 
'বহুল' এর বিপরীতার্থক শব্দ  - 'বিরল' 
'নিরত' এর বিপরীতার্থক শব্দ  - 'বিরত' 
'বৈষম্য' এর বিপরীতার্থক শব্দ  - 'সাম্য' 

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা , ড.হায়াৎ মামুদ ]
১৪,৯০৪.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) বন + ওষধি = বনৌষধি
  2. খ) মহা + ঔষধ = মহৌষধ
  3. গ) পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
  4. ঘ) চিত্ত + ওদার্য = চিত্তৌদার্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিত্ত + ওদার্য = চিত্তৌদার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিত্ত + ওদার্য = চিত্তৌদার্য
ব্যাখ্যা

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
বন + ওষধি = বনৌষধি,
মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
মহা + ওষধি = মহৌষধি,
পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
বন + ঔষধ = বনৌষধ,
চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৯০৫.
সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত ভাষারীতি কোনটি?
  1. আঞ্চলিক রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  4. সাধুরীতি
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

অন্যদিকে,
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,৯০৬.
"কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি"- লোপ পেয়ে কোন ধরনের সমাস হয়?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন- 
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি।

----------------------------
অন্যদিকে,
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,৯০৭.
'দৈবাৎ' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অন্ধকার
  2. অবকাশ
  3. অকস্মাৎ
  4. পর্যাপ্ত
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অকস্মাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকস্মাৎ
ব্যাখ্যা
• 'দৈবাৎ' এর সমার্থক শব্দ — 'অকস্মাৎ'।

• 'দৈবাৎ' এর আরো কিছু সমার্থক শব্দ:
- আচমকা, হঠাৎ, সহসা, অতর্কিত।

অন্যদিকে,
• 'অন্ধকার' এর সমার্থক শব্দ — তিমির, আঁধার।
• 'অবকাশ' এর সমার্থক শব্দ — সময়, ফুরসত, অবসর। 
• 'পর্যাপ্ত' এর সমার্থক শব্দ — অনেক, প্রচুর, অধিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৯০৮.
কোন ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে?
  1. চলিত রীতি
  2. উপভাষা
  3. আঞ্চলিক রীতি
  4. সাধু রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
- সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৪,৯০৯.
"গাছ থেকে পাতা পড়ে" বাক্যে 'গাছ থেকে' কোন ধরনের কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্মকারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• "গাছ থেকে পাতা পড়ে" বাক্যে 'গাছ থেকে' - অপাদান কারক।
- কারণ, এটি ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করছে (গাছ থেকে পাতা পড়ে), অর্থাৎ কোন একটি নির্দিষ্ট স্থান বা উৎস থেকে কিছু বিচ্যুত হচ্ছে।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪,৯১০.
'অধিবর্ষ' শব্দে 'অধি' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎকৃষ্ট অর্থে
  2. আধিপত্য অর্থে 
  3. ব্যাপ্তি অর্থে
  4. অতিরিক্ত অর্থে 
সঠিক উত্তর:
অতিরিক্ত অর্থে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিরিক্ত অর্থে 
ব্যাখ্যা

• 'অধিবর্ষ' শব্দে 'অধি' উপসর্গটি অতিরিক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
--------------------------
• উপসর্গ:
- উপসর্গ’ শব্দের মূল অর্থ হলো ‘উপসৃষ্ট’।
- এর প্রধান কাজ হলো মূল শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজস্ব অর্থ নেই, তবে এটি মূল শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

- উপসর্গ ৩ প্রকার:
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ,
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
• বিদেশি উপসর্গ।
-------------------------------------------
- 'অধি' তৎসম বা  সংস্কৃত উপসর্গের উদাহরণ। 

• তৎসম উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

- অধি উপসর্গ:
- অধি উপসর্গটি অতিরিক্ত অর্থে, ব্যাপ্তি অর্থে, আধিপত্য অর্থে ব্যবহার করা হয়।
- তবে অধিবর্ষ শব্দে অধি উপসর্গটি অতিরিক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- অতিরিক্ত অর্থে ব্যবহৃত অধি উপসর্গটির কিছু উদাহরণ- অধিকর্ম, অধিহার। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;  
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,৯১১.
'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার ঘটেছে কোন শব্দে ?
  1. নিবারণ
  2. নিবৃত্তি
  3. নিষ্কলুষ
  4. নিদাঘ
সঠিক উত্তর:
নিবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।
-----------------
আ, সু, বি, নি- এ চারটি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় উপসর্গের মধ্যে পাওয়া যায়। বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
যেমন-
• আকাঠা, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ। সুতরাং এই শব্দসমূহের আ, সু, বি, নি হলাে বাংলা উপসর্গ।
• আবার আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। এখানের আ, সু, বি, নি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৯১২.
শুদ্ধ বানান -
  1. চুষ্য
  2. জাজ্জ্বল্যমান
  3. পূণ্য
  4. অপরাহ্ণ
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: অপরাহ্ণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বানান - চুষ্য

শুদ্ধ বানান: চূষ্য, চোষ্য।
অর্থ: যা চোষা যায়।

• অশুদ্ধ বানান - 'জাজ্জ্বল্যমান'।
- এর শুদ্ধ বানান - 'জাজ্বল্যমান'।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- অতিশয় উজ্জ্বল।

• অশুদ্ধ বানান - পূণ্য।
- এর শুদ্ধ বানান - পুণ্য।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- সৎকর্মের ফল,
- সওয়াব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,৯১৩.
বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. পটুত্ব
  2. চৌকশ 
  3. পাথুরে
  4. খোঁড়া
সঠিক উত্তর:
পটুত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটুত্ব
ব্যাখ্যা

• বিশেষণজাত (গুণবাচক) বিশেষ্য: 
বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্যকারী অন্ত্যপ্রত্যয় যোগ করে এ ধরনের বিশেষ্য গঠিত হয়।
যেমন: ধীর+তা = ধীরতা; এরকম- দ্রুততা, চালাকি, পটুত্ব, শৌখিনতা, নষ্টামি ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• গুণবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন: চৌকশ লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• উপাদানবাচক বিশেষণ:  বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৪,৯১৪.
বিকারজাত শব্দযোগে দ্বিরুক্তির উদাহরণ হলো -
  1. ক) ধন-দৌলত
  2. খ) নিভূনিভু
  3. গ) ডাকা-ডাকি
  4. ঘ) ভাসা ভাসা
সঠিক উত্তর:
গ) ডাকা-ডাকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডাকা-ডাকি
ব্যাখ্যা

শব্দের দ্বিরুক্তি :

ক) একই শব্দ দুবার ব্যবহৃত হয় এবং শব্দ দুটি অবিকৃত থাকে। এরকম- নিভু নিভু, ভাসা ভাসা 
খ) একই শব্দের সঙ্গে সমার্থক আর একটি শব্দ যােগ করে ব্যবহৃত হয়। এরকম- ধন-দৌলত, হাঁড়িপাতিল, খেলা-ধুলা, ঢাকঢোল, রাস্তাঘাট, লালন-পালন, বলা-কওয়া, খোঁজ-খবর ইত্যাদি।
গ) দ্বিরুক্ত শব্দ জোড়ার দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন অর্থাৎ বিকার (পরিবর্তনে জাত) জাত। এরকম- মিটমাট, ফিটফাট, বকা-ঝকা, ডাকা-ডাকি, বই-টই, তােড়-জোড়, গল্প-সল্প, রকম-সকম ইত্যাদি।


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৯১৫.
উৎসের বিচারে নিচের কোন শ্রেণিটিকে শব্দের আগন্তুক উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) তদ্ভব
  3. গ) অর্ধতৎসম
  4. ঘ) দেশি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশি
ব্যাখ্যা

উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি।
এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

১৪,৯১৬.
সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের -
  1. ক) অর্থ পরিবর্তিত হয়
  2. খ) অর্থের অবনতি ঘটে
  3. গ) সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
  4. ঘ) সৌন্দর্য হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
গ) সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
•  সমার্থক শব্দ ব্যবহারে অর্থের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। 

• সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে- শব্দ ভান্ডার সমৃদ্ধ হয় এবং অর্থের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
⇒ সমজাতীয় অর্থ প্রকাশক শব্দকে সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ বলে। বাংলা ভাষায় শব্দভান্ডারে এমন অনেক শব্দ আছে যা অন্য একটি শব্দের প্রতিশব্দ অর্থাৎ অন্য একটি শব্দের অনুরূপ বা একই অর্থ বা নম-অর্থ প্রকাশ করে। এরূপ সমান অর্থজ্ঞাপক ভিন্ন শব্দই সমার্থক শব্দ।

• বাংলা ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় সমার্থবোধক শব্দ বা প্রতিশব্দের অর্থ হলো বহু অর্থপ্রদানকারী শব্দ, যা স্থান ও কালভেদে শব্দের মৌলিক অর্থ ঠিক রেখে বিভিন্ন রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন:
আকাশ: অম্বর, গগন, শূন্য।
নদী: প্রবাহিনী, তটিনী, তরঙ্গিনী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৪,৯১৭.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তাকে এখান থেকে যেতে হবে।
  2. আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
  3. কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
  4. তিনি আরোগ্য হয়েছেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি আরোগ্য হয়েছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি আরোগ্য হয়েছেন।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: তিনি আরোগ্য হয়েছেন।
শুদ্ধ: তিনি আরোগ্য লাভ করেছেন।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
শুদ্ধ: তাকে এখান থেকে যেতে হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৯১৮.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ইহার আবশ্যক নাই।
  2. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  3. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  4. সূর্যের উদয় হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
সূর্যের উদয় হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যের উদয় হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: সূর্যের উদয় হয়েছে

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ বাক্য: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ বাক্য: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৯১৯.
'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. ক) বুভুক্ষা
  2. খ) দিদৃক্ষা
  3. গ) বিবক্ষা
  4. ঘ) বিবিক্ষা
সঠিক উত্তর:
ক) বুভুক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বুভুক্ষা
ব্যাখ্যা
• 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বুভুক্ষা।

আরো কিছু এক কথায় প্রকাশ:  

- 'পান করার যোগ্য নয়' এর এক কথায় প্রকাশ - অপেয়,
- 'পুরাকালের বিষয় যিনি জানেন' এর এক কথায় প্রকাশ - পুরাতাত্ত্বিক,
- 'পড়ার উপযুক্ত' এর এক কথায় প্রকাশ - পঠিতব্য,
- 'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - ঈপ্সা,
- 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগীষা,
- 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - লিপ্সা,
- 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - দিদৃক্ষা,
- 'প্রবেশ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবিক্ষা,
- 'বলার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা,
- 'মুক্তি লাভে/পেতে ইচ্ছুক এর এক কথায় প্রকাশ - মুমুক্ষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৯২০.
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরিত করলে কর্মে কোন বিভক্তি হয়?
  1. প্রথমা
  2. দ্বিতীয়া
  3. তৃতীয়া
  4. ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
- নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
(১) কর্তায় তৃতীয়া,
(২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং
(৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।
- কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।
কর্তৃবাচ্য ⇒ ♦ কর্মবাচ্য
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। ⇒ (ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। ⇒ (খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) মুবারক পুস্তক পাঠ করছে। ⇒ (গ) মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯২১.
নিচের যে শব্দটিকে শাব্দিক অপপ্রয়ােগ বলে বিবেচনা করা যায়-
  1. ক) হােথায়
  2. খ) অশ্রুজল
  3. গ) অম্বরতল
  4. ঘ) অন্ধআবেগ
সঠিক উত্তর:
খ) অশ্রুজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অশ্রুজল
ব্যাখ্যা
অশ্রু - চোখের পানি; নয়ন জল
তাই ‘অশ্রুজল’ চোখের পানি অথবা কান্না অর্থে ব্যবহার করলে অপপ্রয়োগ হবে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অশ্রু/চোখের জল।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১৪,৯২২.
'রাজর্ষি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. রাজ্‌ + ঋষি
  2. রাজা + রিষি
  3. রাজ + ঋষি
  4. রাজা + ঋষি
সঠিক উত্তর:
রাজা + ঋষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা + ঋষি
ব্যাখ্যা

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমনঃ
- রাজা + ঋষি = রাজর্ষি,
- মহা + ঋষি = মহর্ষি,
- উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ,
- অধম + ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
রাজর্ষি = রাজন্‌ + ঋষি

১৪,৯২৩.
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. সমাস
  2. উপসর্গ
  3. সন্ধি
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
ব্যাখ্যা

• রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয়- সন্ধি। 

• রূপতত্ত্ব:

রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া। উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

অন্যদিকে,
----------------
• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনাও এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১৪,৯২৪.
'ঊর্মি' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মনোজ
  2. মন্মথ
  3. মহোর্মি 
  4. মনসিজ
সঠিক উত্তর:
মহোর্মি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহোর্মি 
ব্যাখ্যা
• 'ঊর্মি' শব্দের সমার্থক শব্দ- 'মহোর্মি'। 

• ‘ঢেউ’ এর আরো কিছু সমর্থক শব্দ:
- তরঙ্গ, বীচি, কল্লোল, ঊর্মি, হিল্লোল, লহরী, বীচি, জোয়ার, মহাতরঙ্গ, মহোর্মি, বীচিমালা, লহর, তরঙ্গহিল্লোল, দোলা, তরঙ্গভঙ্গ, ঊর্মিলহরী, তরঙ্গমালা, তরঙ্গলহরী ইত্যাদি। 

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমার্থক শব্দ:
- 'অর্ক' শব্দের সমার্থক শব্দ- সূর্য, তপন, আদিত্য, দিবাকর, ভাস্কর, ভানু, মার্তণ্ড, রবি, সবিতা ইত্যাদি।
- 'তিমির' শব্দের সমার্থক শব্দ- অন্ধকার, আঁধার, তমসা ইত্যাদি।
- 'অম্বর' শব্দের সমার্থক শব্দ- আকাশ, গগন, নভঃ, ব্যোম ইত্যাদি।
- কুঞ্জর সমার্থক শব্দ- হস্তী- হাতি, গজ, নাগ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, বারণ, দন্তী, দ্বিপ, দ্বিরদ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ এবং ২০১৮ সংস্করণ)।
১৪,৯২৫.
'ষোল আনা দখল'-এ 'ষোল আনা' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) রূপবাচক বিশেষণ
  2. খ) অংশবাচক বিশেষণ
  3. গ) উপাদানবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) অবস্থাবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) অংশবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অংশবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ :
ক. রূপবাচক : নীল আকাশ, কালো মেঘ;
খ. গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক : তাজা মাছ, রোগা ছেলে;
ঘ. সংখ্যাবাচক : হাজার লোক, দশ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক : দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা;
চ. পরিমাণবাচক : পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক : অর্ধেক সম্পত্তি, সিকি পথ;
জ. উপাদানবাচক : বেলে মাটি, মেটে কলসি।
ঝ. প্রশ্নবাচক : কতদূর পথ, কেমন অবস্থা;
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক : এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
১৪,৯২৬.
নিচের কোনটি ধ্বনি পরিবর্তন 'অন্তর্হতি' এর উদাহরণ?
  1. ক) কবাট > কপাট
  2. খ) ফাল্গুন > ফাগুন
  3. গ) শরীর > শরীল
  4. ঘ) জন্ম > জম্ম
সঠিক উত্তর:
খ) ফাল্গুন > ফাগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা
'অন্তর্হতি' এর উদাহরণ

অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাদিয়া > আলাদা ইত্যাদি। 

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণঃ- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- লাল > নাল, শরীর > শরীল ইত্যাদি। 

সমীভবন:
দুটো ধ্বনির একে অপরের প্রভাবে অল্প বিস্তর সমতা লাভ করাকে বলে সমীভবন।
উদাহরণঃ- জন্ম > জম্ম, তৎহিত > তদ্ধিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৯২৭.
বাংলা ভাষায় কতগুলো অর্ধ-স্বরধ্বনি রয়েছে-
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি: 
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন –
‘চাই’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি। 
একইভাবে ‘লাউ’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,৯২৮.
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি কয়টি?
  1. ২৬টি
  2. ৩০টি
  3. ৩২টি
  4. ৩৭টি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি
ব্যাখ্যা

 • মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি।

• বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ্], [], [ভ্], [ত্], [থ্], [দ], [ধ], [ট্‌], [ঠ], [ড্‌], [ট্‌], [চ্], [ছ], [জ], ঝা, [ক্], [খ্], [গ], [ঘ], [ম্], [], [], [স], [শ], [হ্], [ল্], [র্], [ড় ], [ঢ় ]।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪,৯২৯.
আইনের কোনো ধারায় এক বা একাধিক উপধারা কিংবা শর্ত থাকলে তা পৃথককরণের জন্য কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. কোলন
  2. বন্ধনি 
  3. হাইফেন 
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• সেমিকোলন:
সেমিকোলনের স্থানে কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাড়িঁর চেয়ে কম থামতে হয়। বাক্যের ভেতরে শুধু থামার জন্য কমা-সেমিকোলন ব্যবহার করা হয় না। অর্থ প্রকাশেও কমা ও সেমিকোলন ভূমিকা পালন করে। 

• সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- আইনের কোনো ধারায় এক বা একাধিক উপধারা কিংবা শর্ত থাকলে তা পৃথককরণের জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- ধরা যাক, সংবিধানের ৩৬ নং ধারা নিম্নোক্ত উপধারা (১) বয়স ১৮ বছর হতে হবে; (২) প্রকৃতিস্থ হতে হবে।

উৎস: ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৯৩০.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. দুহিতা, পুত্রিকা, তনয়া 
  2. প্রসূন,মণীবক, কুসুম
  3. সলিল, অপ্, নীর
  4. কোয়েল, পিক, মধুভৃৎ
সঠিক উত্তর:
কোয়েল, পিক, মধুভৃৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়েল, পিক, মধুভৃৎ
ব্যাখ্যা
'কন্যা' এর সমার্থক শব্দঃ দুহিতা, পুত্রিকা, তনয়া 
'পুষ্প' এর সমার্থক শব্দঃ প্রসূন,মণীবক, কুসুম।
'পানি' এর সমার্থক শব্দঃ সলিল, অপ্, নীর।
'কোকিলের' সমার্থক শব্দঃ কোয়েল, পিক, পরভৃত।
'মধুভৃৎ'  মৌমাছি এর সমার্থক শব্দ।

[উৎস:ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
১৪,৯৩১.
'ধর্মে মতি যার = ধর্মমতি' কোন প্রকার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ
  2. ব্যাধিকরণ
  3. ব্যতিহার
  4. মধ্যপদলোপী
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস: বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি। এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়। বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত। বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস। যেমন- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল। এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

⇒ ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস: বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনােটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
           কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
          পাপে মতি যার = পাপমতি,
          পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,
          ধর্মে মতি যার = ধর্মমতি,
           নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ,
         দুষ্টু মতি যার = দুষ্টমতি,
          নদী মাত যার = নদীমাতৃক,
          ধর্মে প্রাণ আছে যার = ধর্মপ্রাণ,
          ধামা ধরে যে = ধামাধরা,
          পা চাটে যে = পা-চাটা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,৯৩২.
ব্যাকরণিক শব্দ কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণগত চরিত্র ও ভূমিকা অনুযায়ী বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে যে কয়ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, তাকে ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি বলে।
ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণিকে আট ভাগে ভাগ করা যায়।
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম  
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. যোজক
৭. অনুসর্গ
৮. আবেগ শব্দ

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৪,৯৩৩.
'একচোখা' শব্দটি কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. নিত্য
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস: 
- ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখ। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা/একচোখো। 

এরকম- ক্ষুরধার, গজানন, মৃগনয়না, মীনাক্ষী, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)

১৪,৯৩৪.
'আমাকে এখন যেতে হবে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৩৫.
শাক শব্দটি কোন ভাষার?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) তুকি
  5. ঙ) দেশি
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
শাক শব্দটি সংস্কৃত ভাষার। এরূপ আরো ভবন, নক্ষত্র, সূর্য, গৃহিণী শব্দগুলোও সংস্কৃত। সবজি, দফতর, খোদা প্রভৃতি ফারসি শব্দ। মহকুমা, বাকি, গায়েব, উকিল আরবি শব্দ। কুলা, ঢেঁকি, চোঙ্গা টোপর প্রভৃতি দেশি শব্দ। বাবা, খোকা, দারোগা তু্র্কি ভাষার শব্দ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৪,৯৩৬.
নিচের কোনটিতে সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ভালো করে খেয়ে নাও।
  2. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  3. আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
  4. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
সঠিক উত্তর:
আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকেতৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৪,৯৩৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নিস্পন্ন
  2. বাচস্পতি
  3. নিষ্প্রভ
  4. নমস্কার
সঠিক উত্তর:
নিস্পন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিস্পন্ন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: নিস্পন্ন।

• নিষ্পন্ন (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নিষ্পাদন করা হয়েছে এমন;
- মীমাংসিত;
- জাত।

------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৩৮.
কোনটি বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি?
  1. কুটিল লিপি
  2. খরোষ্ঠী লিপি
  3. বাংলা লিপি
  4. ব্রাহ্মী লিপি
সঠিক উত্তর:
বাংলা লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা লিপি
ব্যাখ্যা

বাংলা লিপি:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম - বাংলা লিপি।
- বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি – স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪,৯৩৯.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস? 
  1. করপল্লব 
  2. বদ্বীপ 
  3. ক্ষুধানল 
  4. বিরানব্বই
সঠিক উত্তর:
বিরানব্বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরানব্বই
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বরানুগত যাত্রী = বরযাত্রী;
- বি (দ্বি) অধিক নব্বই =  বিরানব্বই;
- মমতা মিশ্রিত রস = মমতারস;
- মৌ (মধু) আশ্রিত মাছি =  মৌমাছি;
- রক্ত বর্ণের কমল = রক্তকমল। 

অন্যদিকে, 
• কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব; উপমিত কর্মধারয় সমাস।  
• ব-এর মতো  দ্বীপ = বদ্বীপ; উপমিত কর্মধারয় সমাস। 
• ক্ষুধা রূপ অনল = ক্ষুধানল; রূপক কর্মধারয় সমাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৯৪০.
স্বাধীন-এর সন্ধি বিচ্ছেদ কি?
  1. স্বা + ধীন
  2. স্বা + অধীন
  3. স্ব + অধীন
  4. সা + অধীন
সঠিক উত্তর:
স্ব + অধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব + অধীন
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদেরপ্রথম
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
অ + অ = আ,
নব + অন্ন = নবান্ন।
স্ব + অধীন = স্বাধীন।
এরূপ-
হিমাচল, হিতাহিত, প্রাণাধিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
১৪,৯৪১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. গলধকরন
  2. গলাধকরণ
  3. গলাধঃকরণ
  4. গলধঃকরণ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গলাধঃকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গলাধঃকরণ
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বানান হলো: গলাধঃকরণ।

• গলাধঃকরণ :
উচ্চারণ – [গলাধোক্‌করোন্‌] (বিশেষ্য)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) গল+অধঃ+ √কৃ+অন(ল্যুট্‌)}।

• 'গলাধঃকরণ' শব্দের অর্থ :
১ গিলে ফেলা; গেলা।
২ ভক্ষণ; গ্রাস (প্রত্যেক কদর্য এবং প্রত্যেক কালকূটকে গলাধঃকরণ করিয়া ফেলিল -মাওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁ)।
৩ পান।
৪ পরিপাক; হজম।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৪,৯৪২.
গঠন বিবেচনায় 'পাখি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. সাধিত শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ।

অন্যদিকে,
- অর্থানুসারে শব্দ তিন প্রকার।
যথা:
(ক) যৌগিক শব্দ,
(খ) রূঢ়ি শব্দ এবং
(গ) যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৪,৯৪৩.
শুদ্ধ বানান -
  1. কৃচ্ছ্র্যসাধন
  2. কৃচ্ছসাধন
  3. কৃচ্ছ্বসাধন
  4. কৃচ্ছ্রসাধন
সঠিক উত্তর:
কৃচ্ছ্রসাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃচ্ছ্রসাধন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - কৃচ্ছ্রসাধন
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,৯৪৪.
'আগুন’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি
  1. উদ্ভাস
  2. পাবক
  3. রেশন
  4. দীপ্তি
সঠিক উত্তর:
পাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাবক
ব্যাখ্যা

'আগুন’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অগ্নি, অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, শিখা, হোমাগ্নি, কৃশানু, সর্বশুচি, সপ্তাংশু, বিভাবসু।

অন্যদিকে,
'কিরণ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- প্রভা, আলো, বিভা, দীপ্তি, কর, অংশু, রশ্মি, জ্যোতি, আলোক,, ময়ূখ, ভাতি, রেশন, রশ্মী, কিরণ, নুর, উদ্ভাস, ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৯৪৫.
কবুতরের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পারাবত
  2. নোটন
  3. কপোত
  4. কলাপী
  5. পায়রা
সঠিক উত্তর:
কলাপী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলাপী
ব্যাখ্যা
• কবুতরের সমার্থক শব্দ:
- কপোত,
- নোটন,
- পায়রা,
- পারাবত।

অন্যদিকে, 
ময়ূরের সমার্থক শব্দ:
- কলাপী, শিখী, শিখণ্ডী, বর্হী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা অভিধান।
১৪,৯৪৬.
এয়ো শব্দটি কোন শব্দের উদাহরণ?
  1. সংস্কৃত
  2. প্রাকৃত
  3. বাংলা
  4. তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
ব্যাখ্যা

• ‘এয়ো’ শব্দটির অর্থ:
- সধবা রমণী, সধবা।

• ‘এয়ো’ শব্দটি বাংলা ভাষার তদ্ভব শব্দ।
এটি তৎসম 'অবিধবা' থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় 'এয়ো' হয়েছে।

অতএব, সঠিক উত্তর — ঘ) তদ্ভব।

উৎস : অভিগম্য অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৯৪৭.
”উৎপীড়ন”শব্দে ’উৎ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. অতিশয্য
  2. প্রস্তুতি
  3. ঊর্ধ্বমুখিতা
  4. উপকর্ষ
সঠিক উত্তর:
অতিশয্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিশয্য
ব্যাখ্যা

• ‘উৎপীড়ন’ শব্দে ’উৎ’ উপসর্গটি ’অতিশয্য’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। 

- ’উৎ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’অতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’উপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

১৪,৯৪৮.
নির্দেশক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ওরা খেলায় অংশ নেয় নি।
  2. খ) সে নিজে অঙ্কটিা করছে।
  3. গ) কজন এসে খবরটা দেয়।
  4. ঘ) নিজেরা নিজেরা কাজটি সম্পন্ন করেছে।
সঠিক উত্তর:
ক) ওরা খেলায় অংশ নেয় নি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওরা খেলায় অংশ নেয় নি।
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম বলে।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিচু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয, তাকেঅনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি দ্বারা অনির্দিষ্টতা নির্দেশ করা হয়্।
যেমন: একজন এসে খবরটা দেয়।

নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
 যেমন:
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি;
- দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। আত্মবাচক নির্দেশক: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।
যেমন: সে নিজে অঙ্কটিা করছে।

পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪,৯৪৯.
“ষ্ণ” যুক্তবর্ণকে ভাঙ্গলে কোন কোন বর্ণ পাওয়া যায়?
  1. ক) ষ+ম
  2. খ) ষ্‌+ন
  3. গ) ষ্‌+ণ
  4. ঘ) ষ্‌+হ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ষ্‌+ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষ্‌+ণ
ব্যাখ্যা

ক্ষ = ক্‌+ষ
হ্ম = হ্‌+ম
জ্ঞ = জ্‌+ঞ
ষ্ণ = ষ্‌+ণ

১৪,৯৫০.
স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে?
  1. একাক্ষর
  2. যুক্তাক্ষর
  3. বদ্ধাক্ষর
  4. মুক্তাক্ষর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
ব্যাখ্যা
• মুক্তাক্ষর:
- যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে।
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে।
- একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন:
'ভালোবাসা ভালো না ।এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (ভা) (লো) (না) এই সবগুলোই (৭টি) মুক্তাক্ষর।

• বদ্ধাক্ষর:
- ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
- বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে।
যেমন: 'কাল দিনরাত হরতাল। [এখানে (কাল) (দিন) (রাত) (হর) (তাল্) এই সবগুলোই (৫টি) বদ্ধাক্ষর।]
বদ্ধাক্ষর (-) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৫১.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. পঙ্কজ
  2. হস্তী
  3. গায়ক
  4. বাঁশি
সঠিক উত্তর:
গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ক
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - হস্তী, বাঁশি।
যোগরূঢ় শব্দ - পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৪,৯৫২.
‘সন্ধি’ শব্দের অর্থ কী?
  1. সংযোজন
  2. মিলন
  3. পরিবর্তন
  4. সন্নিহিত
সঠিক উত্তর:
মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিলন
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
- সন্ধি শব্দের অর্থ ‘মিলন’। সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির অন্যান্য কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- ধ্বনি-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
- শব্দের আকার ছোট করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৯৫৩.
গঠনগত দিক বাক্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
(বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।)

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(;), কোলন(:), ড্যাশ(-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: 
- রহিম রাতে ভাত খাই আর রহিমা খায় রুটি।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪,৯৫৪.
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয় তাকে বলা হয়-
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশের ব্যবহৃত হয় তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমনঃ
• 'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।'
- বাক্যটি 'তো' এর সাথে অন্য কোনো পদের মিল নেই।
• এটি ছাড়াও বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে।
• তাই 'তো' এখানে অনন্বয়ী অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪,৯৫৫.
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশক বর্ণ রয়েছে কয়টি ?
  1. ক) ৯
  2. খ) ১০
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ১২
সঠিক উত্তর:
খ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবর্ণ
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে। যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ০।


উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,৯৫৬.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. হিমালয়
  2. ফুল
  3. লবণ
  4. ইট
সঠিক উত্তর:
ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বস্তু-বিশেষ্য - ইট, লবণ।
নাম-বিশেষ্য - হিমালয়

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৪,৯৫৭.
'সৎপাত্রে কন্যা দান কর।' - বাক্যে 'সৎপাত্রে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. সম্প্রদান
  3. অপাদান
  4. করণ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৫৮.
'সে এখানে এসেই বসে পড়ল' -এ বাক্যটির যৌগিক রূপ কি হবে?
  1. ক) সে এখানে এসে বসলো।
  2. খ) সে এখানে এসে বসে পড়ল।
  3. গ) সে এখানে এসে বসেছে।
  4. ঘ) সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য: দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমনঃ
সরল বাক্যঃ তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিকবাক্যঃ তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

'সে এখানে এসেই বসে পড়ল' -এ বাক্যটির যৌগিক রুপ  'সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪,৯৫৯.
‘তিন’ কী ধরনের শব্দ?
  1. সাধিত
  2. রূঢ়ি
  3. যৌগিক
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
মৌলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন -
- গোলাপ,
- নাক,
- লাল,
- তিন।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
- নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
- ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
- চলন্ত (চল্ + অন্ত),
- প্রশাসন (প্র + শাসন),
- গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৬০.
'আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ'- বাক্যে 'পাঠেতে' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে তৃতীয়া
  2. করণ কারকে পঞ্চমী
  3. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
  4. অপাদান কারকে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ’আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ' - বাক্যে ''পাঠে'' শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

------------------ 
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

• বাক্যটি ’আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ': 
- এই বাক্যে ক্রিয়া সম্পাদন হয় (পাঠে মন দিতে বলা হয়েছে) ‘পাঠ’ আধারকে কেন্দ্র করে।
- এবং এর সাথে যুক্ত হয়েছে সপ্তমী (তে) বিভক্তি।
- তাই, বাক্যটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি -৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
১৪,৯৬১.
উষ্মধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ক) স
  2. খ) শ
  3. গ) ষ
  4. ঘ) কোনটি নয়?
সঠিক উত্তর:
গ) ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষ
ব্যাখ্যা
উষ্মধ্বনি/উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্মধ্বনি/উষ্ম ব্যঞ্জন  বলে।
- এগুলোকে শিস্‌ ধ্বনিও বলা হয়।

বাংলায় উষ্ম ধ্বনিমূল তিনটি।
যথা - স্‌, শ্‌ ও হ্‌।
এগুলোর ক্ষেত্রে অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণভেদ প্রযোজ্য নয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড), বাংলা একাডেমি।
১৪,৯৬২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানানের দৃষ্টান্ত?
  1. পরিস্কার
  2. পরিষ্করণ
  3. গভর্ণর
  4. নাভী
সঠিক উত্তর:
পরিষ্করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিষ্করণ
ব্যাখ্যা
• ‘পরিষ্করণ’ শব্দটির বানান শুদ্ধ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এর প্রকৃতি- প্রত্যয় = পরি + √কৃ+অন, 
- এর অর্থ - পরিশোধন।

অন্যদিকে: 
• নাভী শব্দের সঠিক বানান - নাভি।
• গভর্ণর শব্দের সঠিক বানান - গভর্নর।
• পরিস্কার শব্দের সঠিক বানান - পরিষ্কার।

উৎস : বাংলা বানান অভিধান- বাংলা একাডেমি।
১৪,৯৬৩.
'পগারপার' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ভণ্ড
  2. পলায়ন করা
  3. দীর্ঘজীবী
  4. কদাচিৎ
সঠিক উত্তর:
পলায়ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলায়ন করা
ব্যাখ্যা
• 'পগারপার' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - 'পলায়ন করা'।

অন্যদিকে,
‘বকধার্মিক’ অর্থ - ভণ্ড।
• ‘কাকভূষণ্ডী’ অর্থ - দীর্ঘজীবী।
• 'কালে ভদ্রে' অর্থ - কদাচিৎ। 

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান;
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
- ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,৯৬৪.
কোন গুচ্ছটি মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. (দ, স)
  2. (প, ব)
  3. (থ, ধ)
  4. (জ, শ)
সঠিক উত্তর:
(থ, ধ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(থ, ধ)
ব্যাখ্যা
• '(থ, ধ)' - মহাপ্রাণ ধ্বনি।

• মহাপ্রাণ ধ্বনি: 
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- যথা- (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি। 

• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৬৫.
নিম্নলিখিত কোনটি ‘তোয়ধি’ শব্দের সমার্থক নয়?
  1. অম্বুধি 
  2. অর্ণব
  3. পূষণ
  4. বারীন্দ্র 
সঠিক উত্তর:
পূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূষণ
ব্যাখ্যা

‘তোয়ধি’ শব্দের সমার্থক নয় ‘পূষণ’।
- ‘পূষণ’ হলো সূর্যের সমার্থক।
------------------------------------------
• ' পূষণ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
সূর্য, রবি, সবিতা, দিবাকর, দিনমনি, দিননাথ, দিবাবসু, অর্ক ,ভানু, তপন, আদিত্যভাস্কর, মার্তণ্ড, অংশু, প্রভাকর, কিরণমালী, অরুণ, মিহির, পূষণ, সূর, মিত্র, দিনপতি, আফতাব।
-----------------------
অন্যদিকে,
• ‘তোয়ধি’ হলো সাগরের সমার্থক।
- সাগর এর আরও কিছু সমার্থক শব্দ:
- সমুদ্র, সিন্ধু, অর্ণব, জলধি, জলনিধি, বারিধি, পারাবার, রত্নাকর, বরুণ, দরিয়া, পারাবার, বারীন্দ্র, পাথার, বারীশ, পয়োনিধি, তোয়ধি, বারিনিধি, অম্বুধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১৪,৯৬৬.
জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ড বাক্যের পর বসে-
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খন্ড বাক্যের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গতকাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পরিচিত।

কমার আরো কিছু ব্যবহার:
• বাক্যে সমজাতীয় একাধিক পদ থাকলে কমা ব্যবহৃত হয়। 
যথা:
- সালাম, বরকত, রফিক- নাম না জানা আরো অনেকে শহিদ হয়েছেন ভাষা আন্দোলনে। 

• পরস্পর সম্বন্ধসূচক একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। 
যেমন:
- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প। 

• সমজাতীয় একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে কমা ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
বসতে দিলে শুতে চায়, শুতে দিলে ঘুমাতে চায়। 

বাক্যের প্রারম্ভে সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- শুভ, এদিকে এসো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৯৬৭.
নিচের কোন শব্দটি অপপ্রয়োগ?
  1. মহিমামণ্ডিত
  2. মাতৃজাতি
  3. যুবরাজ
  4. দিবারাত্র
সঠিক উত্তর:
মহিমামণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিমামণ্ডিত
ব্যাখ্যা

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন:
নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
পিতাহারা - পিতৃহারা;
যুবরাজা - যুবরাজ;
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত;
রাজাগণ - রাজগণ;
মাতাজাতি - মাতৃজাতি;
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী - নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৯৬৮.
কোন বাক্যে ঘটনা অতীতের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান?
  1. আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
  2. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
  3. কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
  4. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)

অন্যদিকে,
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল ভবিষ্যৎ)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৯৬৯.
কোনটি সঠিক শুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. জ + ঞ্ = ঞ্জ
  2. ঞ্ + ছ = ঞ্ছ
  3. ঞ্‌ + ছ = ঞ্চ
  4. হ্ + ষ = হ্ম
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + ছ = ঞ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + ছ = ঞ্ছ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - ঞ্ + ছ = ঞ্ছ

অন্যদিকে,
- ঞ্ + জ = ঞ্জ,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,  
- হ্ + ম = হ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

১৪,৯৭০.
'সূর্যোদয়' শব্দটি সন্ধি বিচ্ছেদর কোন নিয়মে গঠিত?
  1. অ + উ = ও 
  2. আ + উ = ও 
  3. অ + আ = ও 
  4. অ + অ = ও 
সঠিক উত্তর:
অ + উ = ও 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ + উ = ও 
ব্যাখ্যা
 স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত সন্ধি:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
সূত্র- অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৯৭১.
'সিংহাসন' - কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন,
- আয়কর = আয়ের উপর কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৯৭২.
'অহর্নিশ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহ + নিশ
  2. অহঃ + নিশ
  3. অহ + নিশা
  4. অহঃ + নিশা
সঠিক উত্তর:
অহঃ + নিশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহঃ + নিশা
ব্যাখ্যা
• 'অহর্নিশ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - অহঃ + নিশা

বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৭৩.
পদের দ্বিরুক্তি ঘটে কোথায়?
  1. ক) বলা -কওয়া নেই, সে চলে এলো।
  2. খ) ভালো ভালো ফল এনেছ।
  3. গ) গাছে বড় বড় বরই হয়েছে।
  4. ঘ) আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে।
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি:
দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন: দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগলো।
আবার, দ্বিতীয় পদের আংশিক পরিবর্তনও ঘটে, কিন্তু পদ বিভক্তি অবিকৃত থাকে।
যেমন - চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে। 

অপশনে উল্লেখিত বাকিগুলো শব্দের দ্বিরুক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৭৪.
”দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য”। এটি একটি:
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্রিত বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যটি একটি সরল বাক্য। 

সরল বাক্য:

- যে বাক্যে একটি কর্তা এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
- উক্ত বাক্যে একটি কর্তা এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া আছে তাই এটি একটি সরল বাক্য।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
-  জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 
 
 তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। 
 
১৪,৯৭৫.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি নয়?
  1. ক) গবাক্ষ
  2. খ) কুলটা
  3. গ) মার্তণ্ড
  4. ঘ) আশ্চর্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) আশ্চর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আশ্চর্য
ব্যাখ্যা

• কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণঃ
- কুলটা,
- গবাক্ষ,
- প্রৌঢ়,
- অন্যান্য,
- মার্তণ্ড ও
- শুদ্ধোধন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

১৪,৯৭৬.
একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে কোন চিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. কোলন
  4. কোলন ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
- সেমিকোলনচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।
যেমন:

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

৩. যেসব অব্যয় বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে, তাদের আগে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই ভালো ফল করবে।
- ছেলেটি মেধাবী; কিন্তু ভারি অলস।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,৯৭৭.
’সৌভাগ্য’ শব্দটির সঠিক প্রকৃত ও প্রত্যয় নির্ণয় করুন-
  1. সুবগ + ষ্ণ্য
  2. সুভগ + ষ্ণ্য
  3. সুভগ + ষ্ণ
  4. সুভোগ + ষ্ণ্য
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
সুভগ + ষ্ণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুভগ + ষ্ণ্য
ব্যাখ্যা

• ’সৌভাগ্য’ শব্দটির সঠিক প্রকৃত ও প্রত্যয় = সুভগ + ষ্ণ্য।

• দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা-
• পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
• সুভগ + ষ্ণ্য =  সৌভাগ্য।
• পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
• সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় :
- ষ্ণ, ফি, ষ্ণ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।

১৪,৯৭৮.
“জনাব মাহবুব খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।।” - এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন -
পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন -
আমরা তিন ভাইবােন।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন -
জনাব মাহবুব খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
১৪,৯৭৯.
'ষ্ণ' যুক্তবর্ণটির বর্ণ দুটি হলো-
  1. ক + ষ
  2. হ + ম
  3. জ + ঞ
  4. ষ + ণ
সঠিক উত্তর:
ষ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ + ণ
ব্যাখ্যা

• ষ্ণ = ষ + ণ, যেমন- কৃষ্ণ, কৃষ্ণচূড়া, তৃষ্ণা, উষ্ণ ইত্যাদি।
• ক্ষ = ক + ষ,
• হ্ম = হ + ম,
• জ্ঞ = জ + ঞ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪,৯৮০.
"মন্দকে মন্দ বলতে হবে" বাক্যে দুইটি "মন্দ" শব্দ যথাক্রমে -
  1. বিশেষণ, বিশেষ্য
  2. বিশেষ্য, বিশেষণ
  3. বিশেষণ, বিশেষণ
  4. উভয়ই বিশেষ্য
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য, বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য, বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• "মন্দকে মন্দ বলতে হবে" বাক্যে দুইটি "মন্দ" শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, এবং তাদের পদভিত্তিক বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:

• প্রথম "মন্দ" শব্দটি বিশেষ্য, যা দ্বারা কোনও নিন্দনীয় বা খারাপ ব্যক্তি বা বস্তু বোঝানো হয়েছে।
• দ্বিতীয় "মন্দ" শব্দটি বিশেষণ, যা প্রথম "মন্দ" বা খারাপ জিনিসের গুণ বা অবস্থা নির্দেশ করছে।

তাই বলা যায়- 
প্রথম "মন্দ" বিশেষ্য এবং দ্বিতীয় "মন্দ" বিশেষণ।

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৮১.
'গবেষণা' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) গাে + এষণা
  2. খ) গব + এষণা
  3. গ) গাে + ষণা
  4. ঘ) গ + বেষণা
সঠিক উত্তর:
ক) গাে + এষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গাে + এষণা
ব্যাখ্যা
শব্দের শুরুতে অব্ উচ্চরণ থাকলে ও-কার হয়।
যেমন :
- গবেষণা = গো + এষণা
- লবণ = লো + অন
- পবন = পো + অন
- পবিত্র = পো + ইত্র

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪,৯৮২.
ফারসি শব্দটি চিহ্নিত করুন।
  1. কেয়ামত
  2. গোসল
  3. হারাম
  4. দরবার
সঠিক উত্তর:
দরবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দরবার
ব্যাখ্যা

ফারসি শব্দ : বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলােকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

(১) ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : খােদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রােজা ইত্যাদি।
(২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ : কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তােশক, দফতর, দরবার,
দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
(৩) বিবিধ শব্দ : আদমি, আমদানি, জানােয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

কেয়ামত, গোসল এবং হারাম আরবি ভাষার শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি অভিধান

১৪,৯৮৩.
’Postage' শব্দটির পারিভাষিক শব্দ কোনটি ? 
  1. ডাকঘর
  2.  ডাকসংক্রান্ত
  3.  ডাকহরকরা
  4.  ডাকমাশুল
সঠিক উত্তর:
 ডাকমাশুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ডাকমাশুল
ব্যাখ্যা

’Postage' শব্দটির পারিভাষিক শব্দ  ডাকমাশুল।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারিভাষিক শব্দ:
• নথি-file;
• প্রশিক্ষণ-training;
• ব্যবস্থাপক- manager;
• বেতার-radio;
• মহাব্যবস্থাপক - general manager;
• সচিব - secretary;
• স্নাতক- graduate;
• স্নাতকোত্তর - post graduate;
• সাময়িকী - periodical;
• সমীকরণ- equation ইত্যাদি।

উৎস : প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

১৪,৯৮৪.
নিচের কোন শব্দে ‘বহুল’ এর প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. ব্যয়বহুল
  2. কর্মবহুল
  3. বহুলপ্রয়োগ
  4. বিলাসবহুল
সঠিক উত্তর:
বহুলপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুলপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
• বহুল শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে - বহুলপ্রয়োগ শব্দে।
• শুদ্ধ প্রয়োগ - বহুল প্রয়োগ।

‘বহুল’ শব্দ ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো:
- বহুল প্রয়োগ,
- বহুল পরিমাণ,
- ব্যয়বহুল,
- বিলাসবহুল,
- কর্মবহুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৯৮৫.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী 'মধ্য স্বরধ্বনি' কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বরধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন: [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৪,৯৮৬.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. পঞ্চায়েত
  2. মানুষ
  3. কলম
  4. পর্বত
সঠিক উত্তর:
পঞ্চায়েত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চায়েত
ব্যাখ্যা

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ।
বস্তুবাচক বিশেষ্য - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,৯৮৭.
নিম্নে বর্ণিত কোনটি ভাষার গুণ নয়?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
আসক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসক্তি
ব্যাখ্যা
বাক্য:
- যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।
- কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিই বাক্য নয়।
- বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা অন্বয় থাকা আবশ্যক।
- এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ দ্বারা মিলিতভাবে একটি অখণ্ড ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তবেই তা বাক্য হবে।

• ভাষার বিচারে বাক্যের গুণ তিনটি।
যেমন-
 - আকাঙ্ক্ষা;
 - আসত্তি ;
- যোগ্যতা;

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

• আসত্তি:
মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

• যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , ৯ম-১০ম শ্রেণি,  ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৪,৯৮৮.
"বইটি পড়া হয়েছে।" - বাক্যটির ভাববাচ্যে রূপান্তর কোনটি?
  1. বইটি সে পড়েছে।
  2. বইটি পড়া হোক।
  3. বইটি পড়।
  4. বইটি তার দ্বারা পড়া হোক।
সঠিক উত্তর:
বইটি পড়া হোক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বইটি পড়া হোক।
ব্যাখ্যা
• "বইটি পড়া হয়েছে।" - এর ভাববাচ্য রূপ হচ্ছে — "বইটি পড়া হোক।"

• কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম: 
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়।
যেমন:
কর্তাবাচ্য: বইটি পড়া হয়েছে।
ভাববাচ্য: বইটি পড়া হোক।

কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,৯৮৯.
নিচের কোনটি অভিব্যাপক আধারাধিকরণের উদাহরণ?
  1. বনে বাঘ আছে।
  2. পুকুরে মাছ আছে।
  3. আকাশে চাঁদ উঠেছে।
  4. তিলে তৈল আছে।
সঠিক উত্তর:
তিলে তৈল আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলে তৈল আছে।
ব্যাখ্যা
অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

অন্যদিকে,
ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৯০.
'অতিরিক্তের অতিরিক্ত' অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন কোনটি?
  1. কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ
  2. চাল না চুলো, ঢেঁকী না কুলো
  3. বোঝার উপর, শাকের আঁটি
  4. সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
সঠিক উত্তর:
বোঝার উপর, শাকের আঁটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোঝার উপর, শাকের আঁটি
ব্যাখ্যা
• 'অতিরিক্তের অতিরিক্ত' অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন - বোঝার উপর, শাকের আঁটি

 অন্যদিকে,
• 'কারও সুদিন, কারও খারাপ দিন' অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন - কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ
• 'অত্যন্ত গরীব' অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন - চাল না চুলো, ঢেঁকী না কুলো।
• 'উভয়কূল রক্ষা' অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন - সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৪,৯৯১.
নিচের কোনটি 'নৃপতি' শব্দের সঠিক সমার্থক শব্দ?
  1. ক) কামিনী
  2. খ) রমণী
  3. গ) নৃপ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) নৃপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৃপ
ব্যাখ্যা
রাজা - শাসক, নৃপতি, নরপতি, নৃপ, ভূপাল, মহীপতি, সম্রাট, বাদশাহ।
নারী - রমণী, স্ত্রীলােক, স্ত্রী, মহিলা, বামা, কামিনী, ভামিনী, ললনা।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১৪,৯৯২.
বিদেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) আমমোক্তার
  2. খ) কদর্য
  3. গ) নিখুঁত
  4. ঘ) উনপাঁজুরে
সঠিক উত্তর:
ক) আমমোক্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমমোক্তার
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
- বাংলা উপসর্গ,
- তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

আমমোক্তার = আরবি 'আম' উপসর্গযোগে গঠিত। 
আমমোক্তার শব্দে  'আম' উপসর্গটি 'সাধারণ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
কদর্য, নিখুঁত ও উনপাঁজুরে = বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৯৩.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. তাকে স্নেহশিষ দিও।
  2. তাকে স্নেহাশিস দিও।
  3. তাকে স্নেহশীষ দিও।
  4. তাকে স্নেহাশীষ দিও।
সঠিক উত্তর:
তাকে স্নেহাশিস দিও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাকে স্নেহাশিস দিও।
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি বানানজনিত অশুদ্ধ।
বাক্যে অশুদ্ধ বানান হচ্ছে - স্নেহশিষ, স্নেহশীষ, স্নেহাশীষ।
এই শব্দের শুদ্ধ বানান - স্নেহাশিস

শুদ্ধ বাক্য: তাকে স্নেহাশিস দিও

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,৯৯৪.
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রার বর্ণ কয়টি?
  1. ৩২
  2. ২৬
  3. ৩৯
  4. ৫০
সঠিক উত্তর:
৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২
ব্যাখ্যা
•মাত্রাভেদে বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ হচ্ছে ৮টি।

• মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

• মাত্রাভেদে স্বরবর্ণ
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,৯৯৫.
'বাঙ্গালি' উপভাষা কোন অঞ্চলের?
  1. ক) বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের
  2. খ) বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চলের
  3. গ) বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলের
  4. ঘ) বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলের
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি উপভাষার নাম: 
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল),
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল),
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল),
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ),
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৯৯৬.
কোনটি সমাস সাধিত শব্দ?
  1. মানব
  2. ভাদরিয়া
  3. বাঁদরামি
  4. জনশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
জনশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনশ্রুতি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বাঁদর + আমি = বাঁদরামি, তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া, তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- মনু + ষ্ণ = মানব তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৯৯৭.
কোনটি সঠিক?
  1. পুস্তকপুঞ্জ
  2. কবিতাপুঞ্জ
  3. মেঘপুঞ্জ
  4. তারকাপুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
মেঘপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৯৯৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ষ্‌ + ন= ষ্ণ
  2. ঙ্ +ক = ঙ্ক
  3. হ্‌ + ম =ক্ষ
  4. জ্‌ + ঞ = ঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঙ্ +ক = ঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্ +ক = ঙ্ক
ব্যাখ্যা
সঠিক যুক্তবর্ণ হলো: ঙ্ +ক = ঙ্ক

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ঙ্ +ক = ঙ্ক
- ক্, + র = ক্র
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক্‌ + ষ,
- হ্ম = হ্‌ + ম,
- জ্ঞ = জ্‌ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ্‌ + ণ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
১৪,৯৯৯.
'অপদার্থ ব্যক্তিদের মিলন' অর্থ বোঝায় কোন বাগধারাটি দিয়ে?
  1. ক) হরি ঘোষের গোয়াল
  2. খ) তালকানা
  3. গ) হুকো-নাপিত বন্ধ করা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) হরি ঘোষের গোয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হরি ঘোষের গোয়াল
ব্যাখ্যা
হরি ঘোষের গোয়াল -- বহু অপদার্থ ব্যক্তির সমাবেশ
হ য ব র ল -- বিশৃঙ্খল
হাড় হাভাতে -- হতভাগ্য
হুকো-নাপিত বন্ধ করা -- সমাজচ্যুত করা
তালকানা -- কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০০০.
‘জলের রেখা, খলের পিরিতি’ প্রবাদটির অর্থ কী?
  1. ক) নিরপেক্ষ
  2. খ) ক্ষণস্থায়ী
  3. গ) ক্ষতি হওয়া
  4. ঘ) নির্বাক হয়ে থাকা
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষণস্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষণস্থায়ী
ব্যাখ্যা
• ‘জলের রেখা, খলের পিরিতি’ প্রবাদটির অর্থ - ক্ষণস্থায়ী।

কাছাকাছি একই অর্থে ব্যবহৃত কিছু প্রবাদ বা বাগধারা হলো:
- তাসের ঘর অর্থ - ক্ষণস্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী ঘর।
- তালপাতার সেপাই অর্থ - ক্ষণজীবী।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।