উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'রাত' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রাত্রি, রজনী, নিশি, নিশা, নিশীথ, নিশীথিনী, যামিনী, শর্বরী, বিভাবরী।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৫ / ৩৫৪ · ১,৪০১–১,৫০০ / ৩৫,৭১৩
• 'এসপার ওসপার' বাগ্ধারার অর্থ- মীমাংসা।
বাক্য: চুপ করে থেকে লাভ কী, এসপার ওসপার একটা করে ফেল।
অন্যদিকে,
• 'একচোখা' বাগ্ধারার অর্থ- পক্ষপাতিত্ব, পক্ষপাতদুষ্ট।
• 'এলোপাতাড়ি' বাগ্ধারার অর্থ- বিশৃঙ্খলা।
• 'অহিনকুল সম্বন্ধ' বাগ্ধারার অর্থ- ভীষণ শত্রুতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলো অর্থগত ও ভাবগত দিক থেকে মিলে গেলে সে বাক্য যোগ্যতা সম্পন্ন হবে। যেমন- বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি হয়। পাখিরা আকাশে উড়ে। এ বাক্য দুটি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে অর্থ প্রকাশে কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ বাক্য দুটিতে ভাবগত ও অর্থগত
সমন্বয় রয়েছে।
- কিন্তু যদি বলা হয়, বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। তাহলে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ বাস্তবতার সঙ্গে বাক্য দুটির কোনো মিল নেই। বাক্যের অর্থ ও বাস্তবতার সাথে মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলন বন্ধন থাকতে হবে।
অন্যদিকে,
• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।
• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - 'সমীচীন'।
অন্যদিকে,
- বাকি অপশন গুলর শুদ্ধ বানান: বিভীষিকা, কৃষিজীবী এবং সমীচীন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব বিদেশি প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো -
চি (তবলচি),
আনা (গরিবানা),
আনি (বাবুয়ানি),
ওয়ান (গাড়োয়ান),
খানা (ছাপাখানা),
গর (কারিগর),
দার (চৌকিদার),
বাজ (চালবাজ),
সই (মানানসই) ইত্যাদি৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
- 'Capitalism' শব্দের পরিভাষা- পুঁজিবাদ।
- 'Rationalism' শব্দের পরিভাষা- যুক্তিবাদ।
- 'Nationalism' শব্দের পরিভাষা- জাতীয়তাবাদ।
- 'Imperialism' শব্দের পরিভাষা- সাম্রাজ্যবাদী।
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
- কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, স্টিমার, বেহেস্ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন।
অন্যদিকে,
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন,
- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন -
শরীর > শরীল,
লাল > নাল,
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন-
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।
স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অর্ধস্বরধ্বনি নয়- আ।
• অর্ধস্বরধ্বনি:
বাংলা ভাষায় যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না তাদেরকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চার টি যথা: [ই্], [উ্], [এ্], এবং [ও্]।
উল্লেখ্য,
• মৌলিক স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বর বলে। বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি। যথা: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।
• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।
• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• উল্লেখিত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে- শিক্ষক বললেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব ।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
• ‘অশ্ব’ এর সমার্থক/প্রতিশব্দ শব্দ:
- বাজী, ঘোড়া, ঘোটক, তুরঙ্গম, তুরগ, বামী।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সুর - দেবতা; অমর, সূর্য, সূত্র (একই সুরে গ্রথিত), জ্ঞানী।
তাই দেবতা শব্দের সমার্থক শব্দ হলো ‘সুর’।
বিভূতি- ঈশ্বরের ঐশ্বর্য; ভগবানের শক্তি। বিভূতি ভূষণ - হিন্দুদেবতা শিব।
সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
• ন্ধ - অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট ইত্যাদি।
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্ + ণ) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
বাংলা ভাষা ও ভাষা পরিবার:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
- সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয়- ভারতীয় আর্য- প্ৰাকৃত- বাংলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
শব্দদ্বিত্ব:
অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার-
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধনাত্মক দ্বিত্ব,
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।
• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। যেমন:
- অঙ্ক-টঙ্ক;
- আম-টাম,
- কেক-টেক;
- ঘর-টর;
- গরু-টরু;
- ছাগল- টাগল;
- আড়াআড়ি,
- খোজাখুজি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ।
- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
- যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• 'যায়' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [এ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আএ্] তৈরি হয়েছে।
-----------------
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।
দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্]: তাই, নাই।
[এই্]: সেই, নেই।
[আও্]: যাও, দাও।
[আএ্]: খায়, যায়।
[উই্]: দুই, রুই।
[অএ্]: নয়, হয়।
[ওউ্]: মৌ, বউ।
[ওই্]: কৈ, দই।
[এউ্]: কেউ, ঘেউ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।
বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
- 'খাদ্য' শব্দটি সংস্কৃত ধাতু হতে গঠিত। খাদ্ + অ =খাদ্য এখানে 'খাদ্' সংস্কৃত ধাতু।
• সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদটি বিশেষণ হয়।
যেমন -
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
এরূপ,
হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, গায়ে-পড়া, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• 'অর্বাচীন' শব্দের অর্থ - হালের; নবীন; আধুনিক; অপ্রবীণ।
- 'অর্বাচীন' শব্দের সমার্থগক শব্দ - আধুনিক।
- সুতারাং, 'অর্বাচীন - আধুনিক' বিপরীত শব্দটি ঠিক নয়।
অন্যদিকে,
'অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - গরল।
'তস্কর' এর সঠিক বিপরীত শব্দ - সাধু।
'কৃশ' এর সঠিক বিপরীত শব্দ - স্থূল।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ‘পাতিহাঁস' শব্দে ‘পাতি’ উপসর্গটি ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
-----------------------------------------
• ‘উপসর্গ’:
- উপসর্গ’ শব্দের মূল অর্থ হলো ‘উপসৃষ্ট’।
- এর প্রধান কাজ হলো মূল শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজস্ব অর্থ নেই, তবে এটি মূল শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘পাতিহাঁস’ শব্দে হাঁস শব্দের সাথে ‘পাতি’ উপসর্গ ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'পাতি'- উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ-
- পাতিশিয়াল;
- পাতিলেবু;
- পাতকুয়ো;
- পাতিকাক।
-------------------------------------------
উল্লেখ্য,
- উপসর্গ ৩ প্রকার:
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
- উদাহরণ: অবহেলা এর ‘অব’ = তৎসম উপসর্গ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব ২১টি উপসর্গ আছে:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- উদাহরন:
- আনমনা এর ‘আন’ = দেশি উপসর্গ।
- নিখুঁত এর ‘নি’ = দেশী উপসর্গ।
• বিদেশি উপসর্গ:
- বিদেশি উপসর্গগুলো মূলত ফারসি, আরবি, উর্দু-হিন্দি, এবং ইংরেজি ভাষা থেকে এসেছে।
- পাশাপাশি কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে।
- আরবি: আম, খাস, লা, গর, বাজে, খয়ের।
- ফারসি: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু: হর।
- ইংরেজি: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
-----------------------------
অন্যদিকে,
• 'আড়' উপসর্গযোগে গঠিত 'বিশিষ্ট' অর্থে ব্যবহৃত কিছু শব্দ- আড়কোলা; আড়গড়া; আড়কাঠি।
• 'সা' উপসর্গযোগে গঠিত 'উৎকৃষ্ট' অর্থে ব্যবহৃত কিছু শব্দ- সাজিরা; সাজোয়ান।
• 'আন' উপসর্গযোগে গঠিত 'না' অর্থে ব্যবহৃত শব্দ- আনকোরা।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• পুরাঘটিত বর্তমান:
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম --এই ৫টি বর্ণ উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী নাসিক্য ধ্বনি/বর্ণ
এবং এগুলো উচ্চারন রীতি অনুযায়ী ঘোষ বর্ণ/ধ্বনি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে:
ফ, ভ - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।
ল, স - দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন।
ত, ধ - দন্ত্য ব্যঞ্জন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• ভাষা পরিবারের সদস্য নয়- অস্ট্রো-দ্রাবিড়ীয়।
-------------------
• ভাষা পরিবার ও বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান
উৎস:বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।
• 'চায়ের বাগান' = চাবাগান ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
• পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
চায়ের বাগান = চাবাগান;
রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
এছাড়াও, ছাত্রসমাজ , দেশসেবা, দিল্লিশ্বর, বিড়ালছানা ইত্যাদি।
সুত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
আলোর দ্বারা অন্ধকার দূর হওয়া বোঝাচ্ছে। এখানে আলো একটি সহায়ক উপায় বা উপকরণ।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,
- জন ও মানব = জনমানব,
- টীকা ও ভাষ্য = টীকাভাষ্য ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- পথের রাজা = রাজপথ,
- মনকে পাওয়া = মনপাওয়া ইত্যাদি।
• দ্বিগু সমাস:
- সমাহার বা সমষ্টি বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয় ৷
যেমন:
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- ত্রি লোকের সমাহার = ত্রিলোক।
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন,
- আয়কর = আয়ের উপর কর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
যেমন:
→ গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
→ বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
→ মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
→ বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ফিনিক' শব্দের অর্থ:
- উজ্জ্বলতা; প্রভা।
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ:
- 'করা' শব্দের অর্থ - কৃত।
- 'কটি' শব্দের অর্থ - কোমর।
- 'করী' শব্দের অর্থ - হাতি।
- আভরণ শব্দের অর্থ - অলঙ্কার,
- আভাষ শব্দের অর্থ - ভূমিকা বা আলাপ।
- ‘সওগাত’ শব্দের অর্থ - উপঢৌকন; উপহার।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
অন্যদিকে,
-------------------
• সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।
• বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।
• বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
• কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর - ঘ) নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়
বোকার ফসল পোকায় খায় প্রবাদের অর্থ হচ্ছে নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যান্য প্রবাদ প্রবচন ও এর অর্থ-
- বুকের মাঝে ঢেকির পাড় (অন্তর্বেদনা): কথাটা শুনেই ভাই আমার কেমন যেন বুকের মাঝে টেকির পাড় পড়তে শুরু করেছে।
- বেল পাকলে কাকের কী (আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া): বড়লোকের রাজসূয় যজ্ঞে গরিবের বাঁ আসে যায়-বেল পাকলে কাকের কী?
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (বুড়ো বয়সে অপকর্ম করা): অথর্ব বুড়োটার আবার বিয়ের সাধ জেগেছে-একেই বলে বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চাহিদা'
- বাংলা শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অন্যদিকে,
• 'কসাই' হচ্ছে আরবি শব্দ।
• 'তোশক' ফারসি শব্দ।
• 'গৃহিণী' সংস্কৃত শব্দ।
উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক ব্যাকরণ পুরাতন সংস্করণ অনুসারে 'চাহিদা' পাঞ্জাবি শব্দ।
তবে,
শব্দের উৎসের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অধিক গ্রহণযোগ্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।