উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'জবরজং' বাগ্ধারার অর্থ - জমকালো কিন্তু বেমানান।
অন্যদিকে,
জগদ্দল পাথর - গুরুভার।
টুপ ভুজঙ্গ - নেশাগ্রস্ত।
জোর-কপাল - সুপ্রসন্ন ভাগ্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৪১ / ৩৫৪ · ১৪,০০১–১৪,১০০ / ৩৫,৭১৩
• 'জবরজং' বাগ্ধারার অর্থ - জমকালো কিন্তু বেমানান।
অন্যদিকে,
জগদ্দল পাথর - গুরুভার।
টুপ ভুজঙ্গ - নেশাগ্রস্ত।
জোর-কপাল - সুপ্রসন্ন ভাগ্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'উপকারীর অপকার করে যে' তাকে এক কথায় বলে- কৃতঘ্ন।
অনদিকে,
- উপকারীর উপকার যে স্বীকার করে – কৃতজ্ঞ।
- উপকারীর উপকার যে স্বীকার করে না – অকৃতজ্ঞ।
• আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- আল্লাহ্ অস্তিত্বে বিশ্বাস নেই যার – নাস্তিক।
- ইতিহাস রচনা করেন যিনি -ঐতিহাসিক।
- ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ যিনি – ইতিহাসবেত্তা।
- ইন্দ্রিয়কে জয় করেছে যে - জিতেন্দ্রিয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ - সংস্কারণ)।
• 'জনতা' (বিশেষ্য পদ):
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সাধারণ মানুষ,
- জনসাধারণ।
- অনেক লোকের একত্রসমাবেশ।
--------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প+অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ + অ + ণ)। এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন-
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।
৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• ক, খ - অঘোষ ধ্বনি।
-------------------
• অঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।
• ঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।
উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
• অশুদ্ধ বানান - প্রনয়িণী।
- শুদ্ধ বানান - প্রণয়িনী।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- অনুরক্ত ব্যক্তি।
অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান - কূপমণ্ডূক।
• শুদ্ধ বানান - হীনম্মন্যতা।
• শুদ্ধ বানান - ভদ্রোচিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• স্বরসঙ্গতি (Vowel Hermony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে, এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি।
যেমন:
- ইচ্ছা > ইচ্ছে,
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মূলা > মূলো।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ ডাকের নিমিত্তে ঘর = ডাকঘর৷
দেশপ্রীতি = দেশের জন্য প্রীতি৷
বিয়ের জন্য পাগল - বিয়েপাগল,
গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি,
বিদ্যার জন্য আলয় - বিদ্যালয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
কয়েকটি বিদেশি তদ্ধিত প্রতয়ঃ
ওয়ান>আন (হিন্দি) : গাড়ি - গাড়োয়ান; দার - দারোয়ান।
গর>কর (ফারসি) : কারিগর, বাজিকর, সওদাগর।
বন্দি (বন্দ - ফারসি) : জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
সই (মতো অর্থে) : জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।
উল্লেখ্য, 'টিপসই' ও 'নামসই' - শব্দ দুটির 'সই' প্রত্যয় নয়।
এটি 'সহি' শব্দ থেকে উৎপন্ন। এর অর্থ - স্বাক্ষর
উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।
• 'ষট্পদ' শব্দের অর্থ - ভ্রমর, ছারপোকা, উকুন।
অন্যদিকে,
'বানর' শব্দের অর্থ - বাঁদর, শাখামৃগ, মর্কট।
'ময়ূর' শব্দের অর্থ - কলাপী, কেকা, কেকী, শিখী, শিখণ্ডী।
'কচ্ছপ' শব্দের অর্থ - কাছিম, কৃর্ম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা উপসর্গ নয়- প্র।
- প্র তৎসম উপসর্গ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
- যেমন: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
অন্যদিকে,
• তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
উৎস:
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।
• সঠিক উত্তর — গ) ধাতু + প্রত্যয়।
'কথিত' শব্দের গঠন বিশ্লেষণ:
— কথ্ = ধাতু (√ কথ্ = বলা);
— ইত = প্রত্যয় (কৃত প্রত্যয়);
— কথ্ + ইত = কথিত।
ব্যাখ্যা:
'কথিত' শব্দটি 'কথ্' ধাতুর সাথে 'ইত' কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। এর অর্থ 'যা বলা হয়েছে' বা 'উক্ত'।
অনুরূপ উদাহরণ:
— লিখ্ + ইত = লিখিত (যা লেখা হয়েছে)।
— পঠ্ + ইত = পঠিত (যা পড়া হয়েছে)।
— শুোন্ + ইত = শ্রুত > শোনিত (যা শোনা হয়েছে)।
— রক্ষ্ + ইত = রক্ষিত (যা রক্ষা হয়েছে)।
উল্লেখ্য,
'ইত' প্রত্যয়টি ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে কৃদন্ত পদ গঠন করে এবং সাধারণত অতীত কালের ভাব বা সম্পন্ন কাজ বোঝায়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি -(এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং , ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• কর্তা > কত্তা।
(র্ ধ্বনি পরবর্তী ত ধ্বনির প্রভাবে লোপ পেয়ে ত্ত হয়েছে)
• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হলে তাকে পরাগত সমীভবন বলে। যেমন-
কাদনা > কান্না,
কর্ম > কৰ্ম্ম,
কর্তা > কত্তা,
করতে > কত্তে।
অন্যদিকে,
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যাঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা;
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
অঙ্ক-টঙ্ক, অল্পসল্প, কেক-টেক, কচর-মচর, চাকর-বাকর, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, আগড়ম-বাগড়ম, এলোমেলো, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।
অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন:
আড়াআড়ি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, ধারধোর ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
----------------
চকচক, থকথকে, ভটভট, ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• অভিশ্রুতির উদাহরণ নয়- ফলাহার > ফলার।
- ফলাহার > ফলার অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
-------------------
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
করিয়া > কইর্যা > করে;
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে;
গাছুয়া > গাউছা > গেছো;
মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
-----------------
• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• 'Apprentice' শব্দের সঠিক বাংলা পরিভাষা- শিক্ষানবিশ।
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- 'Mass Education’ - গণশিক্ষা।
- ‘Phonetics’ - ধ্বনিবিজ্ঞান।
- ‘Plebiscite’ - গণভোট।
- ‘Pledge’ - বন্দক।
- ‘Orion’ - কালপুরুষ।
- ‘Hostage’ - জিম্মি।
- ‘Honorary’ - অবৈতনিক।
- ‘Distorted’ - বিকৃত।
উৎস : প্রশাসনিক পরিভাষা , বাংলা একাডেমি।
• অন্তঃস্থ ধ্বনি:
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র, ল, ব-এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।
অন্যদিকে,
• উষ্মধ্বনি: যে ব্যঞ্জনের উচ্চারণে বাতাস মুখবিবরে কোথাও বাধা না পেয়ে কেবল ঘর্ষণপ্রাপ্ত হয় এবং শিশধ্বনির সৃষ্টি করে, সেটি উষ্মধ্বনি। যেমন- আশীষ, শিশি, শিশু ইত্যাদি। শিশ দেয়ার সঙ্গে এর সাদৃশ্য রয়েছে বলে একে শিশধ্বনিও বলা হয়।
শ, ষ, স তিনটি উম্ম বর্ণ।
• হ: হ-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনিটি কণ্ঠনালীতে উৎপন্ন মূল উষ্ম ঘোষধ্বনি। এ উষ্মধ্বনিটি উচ্চারণের সময় উন্মুক্ত কণ্ঠের মধ্য দিয়ে বাতাস জোরে নির্গত হয়। যেমন হাত, মহা, পহেলা ইত্যাদি।
• তাড়নজাত ধ্বনি: ড় ও ঢ়-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি জিহ্বার অগ্রভাগের তলদেশ দ্বারা অর্থাৎ উল্টো পিঠের দ্বারা ওপরের দত্তমূলে দ্রুত আঘাত বা তাড়না করে উচ্চারিত হয়। এদের বলা হয় তাড়নজাত ধ্বনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।
• 'আ-' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
- মৃত-মৃতা,
- বিবাহিত-বিবাহিতা,
- মাননীয়-মাননীয়া,
- বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
- প্রিয়-প্রিয়া,
- প্রথম-প্রথমা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
ইকা-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
বালক-বালিকা,
নায়ক-নায়িকা,
গায়ক- গায়িকা,
সেবক-সেবিকা,
অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
অনুকার অব্যয়:
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
যথা:
বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়।
বৃষ্টির তুমুল শব্দ- ঝম ঝম।
স্রোতের ধ্বনি- কল কল।
বাতাসের গতি- শন শন।
শুষ্ক পাতার শব্দ- মর মর।
নূপুরের আওয়াজ- রুম ঝুম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
• 'নাইবা তুমি এলে।' বাক্যে 'তুমি' কর্তৃকারক।
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা – কর্তৃকারক)
মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)
কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার:
1. মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে।
উদাহরণ: ছেলেরা ফুটবল খেলছে। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।
2. প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়।
উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
3. প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
উদাহরণ: রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।
4. ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে।
উদাহরণ: বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়। রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
পূর্বেই শেষ হয়ে যাওয়া কোনো ক্রিয়ার ফল যদি এখনো বর্তমান থাকে তবে তাকে পুরাঘটিত বর্তমান বলে। যেমন, বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম। এ বার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
- সঠিক উত্তর - অসংগতি।
অসঙ্গতি অলঙ্কার:
- কার্য এবং কারণের ঘটনাস্থান যদি ভিন্ন হয় অর্থাৎ একস্থানে কারণ ঘটেছে এবং অপর স্থানে তার ফল দেখা যাচ্ছে, তখন তাক অসঙ্গতি অলঙ্কার বলে।
যেমন:
- 'হৃদয় মাঝে মেঘ উদয় করি, নয়নের মাঝে ঝড়িল বারি’
( আকাশ মেঘে কালো হয়েছে, জল ঝরছে নয়ন হতে)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
• -কে, -রে বিভক্তি:
⇒ বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত-কে এবং-রে বিভক্তি বসে।
- ক্রিয়াকে 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে শব্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বিভক্তি যুক্ত হয়।
- যেমন : শিশুকে, দরিদ্রকে, আমাকে, আমারে ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• -এ, -তে, -য়, -য়ে বিভক্তি
⇒ সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে-এ, -তে,-য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়।
- কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।
• -র, -এর,-য়ের বিভক্তি
- বাক্যের মধ্যে পরবর্তীশব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে-র, -এর এবং-য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়।
- সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে-র বিভক্তি বসে।
- যেমন: রাজার, প্রজার,।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
- মহা + ওষধি = মহৌষধি,
- বন + ঔষধ = বনৌষধ,
- জল + ওঘ = জলৌঘ,
- গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'অপ' তৎসম উপসর্গ। বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার-
- বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ।
- বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর - ক) ব্যাঙের আবার সর্দি
ব্যাঙের আবার সর্দি প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ হচ্ছে - অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
অপশনের অন্যান্য প্রবাদ প্রবচন ও এর অর্থ:
- 'আগুন পোহাতে ধোঁয়ায় কষ্ট' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - কষ্টের মধ্য দিয়েই ফল লাভ।
- 'মরা হাতি লাখ টাকা' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - প্রকৃত গুণিজন দুর্দশায় পড়লেও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।
- 'ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - আকস্মিকভাবে বড় বিষয় সম্পন্নের চেষ্টা।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।
ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
অন্যদিকে,
রূপবাচক বিশেষণ: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
অবস্থাবাচক বিশেষণ: চলন্ত ট্রেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• বাংলা 'রাম' উপসর্গ যোগে বড় বা উৎকৃষ্ট অর্থে গঠিত শব্দ: রামছাগল, রামশিঙা, রামবোকা, রামদা।
------------------
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• বিদেশি উপসর্গ: বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- মগজ > মজগ,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ - সংযত।
উল্লেখ্য,
'উদ্ধত' শব্দের অর্থ - ধৃষ্ট, দুর্বিনীত, স্পর্ধিত, গর্বিত, দুরন্ত, উগ্র, গোঁয়ার।
'বিনীত' শব্দের অর্থ - বিনয়যুক্ত (বিনীত অনুরোধ), সংযত (বিনীত কণ্ঠ)।
অন্যদিকে,
'উদ্যত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিরত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• পাগলে কি না বলে। বাক্যে পাগলে কর্তায় ৭মী।
• কর্তা কারক:
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে।
বাক্যের উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তিযুক্ত হয় না।
যেমন -
- অনেক গুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিলো।
- আমাকে যেতে হবে
- রাজা প্রজা পালন করে
অন্যদিকে,
- বনে বাঘ থাকে। - অধিকরণ শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
- গুরুজনে কর নতি - সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।
- অন্ধজনে দেহ আলো - সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮সংস্করণ)।
‘কোকিল’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কাকপুষ্ট, পরপুষ্ট, কলকণ্ঠ, পিক, বসন্তদূত, অন্যপুষ্ট, মধুস্বর, মধুসখা।
অন্যদিকে,
- 'তুরগ' শব্দের অর্থ - ঘোড়া বা অশ্ব।
- 'সর্বভুক' শব্দের অর্থ - খাওয়ার ব্যাপারে বাছবিচার মানে না এমন, কোনোকিছু অবশিষ্ট না রেখে সবটুকু খায় এমন।
- 'চিকুর' শব্দের অর্থ - চুল, কেশ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্ বা ঠ্ থাকলে ষ্; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।
যেমন:
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ইতঃ + তত = ইতস্তত,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালা হলো বাংলা ভাষা লেখার জন্য ব্যবহৃত ৫০টি অক্ষরের সুবিন্যস্ত সমষ্টি।
- বাংলা বর্ণমালার গঠন অনুযায়ী, স্বরবর্ণগুলো হলো: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
- ব্যঞ্জনবর্ণগুলো ক থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বর্ণ বলতে বোঝায় ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন।
- স্বরবর্ণ হলো স্বরধ্বনি প্রকাশক চিহ্ন।
- আর ব্যঞ্জনবর্ণ হলো ব্যঞ্জনধ্বনি প্রকাশক চিহ্ন।
- কোনো ভাষায় ব্যবহৃত সব লিখিত বর্ণসমষ্টিকেই বর্ণমালা বলা হয়।
- বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে বর্ণমালা একটি।
- এই বর্ণমালায় ৩২টি পূর্ণমাত্রা, ৮টি অর্ধমাত্রা এবং ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে।
- মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি বর্ণের মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ ৩২টির মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ ৮টির মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- বাংলা বর্ণমালা একটি সিলেবিক লিপি, যা বিশ্বের প্রধান লিখন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত।
- এই বর্ণমালায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি—অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
- বাংলা ভাষায় মোট ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- তবে এদের মধ্যে শুধুমাত্র দুটি (ঐ এবং ঔ) লিখিত রূপে পাওয়া যায়।
- বাকি ২৩টি যৌগিক স্বর কেবল উচ্চারণে ব্যবহৃত হয় এবং এদের কোনো নির্দিষ্ট লিখিত বর্ণ নেই।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।