বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৪১ / ৩৫৪ · ১৪,০০১১৪,১০০ / ৩৫,৭১৩

১৪,০০১.
"জমকালো কিন্তু বেমানান" - অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. জগদ্দল পাথর
  2. টুপ ভুজঙ্গ
  3. জবরজং
  4. জোর-কপাল
সঠিক উত্তর:
জবরজং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবরজং
ব্যাখ্যা

• 'জবরজং' বাগ্‌ধারার অর্থ - জমকালো কিন্তু বেমানান।

অন্যদিকে,
জগদ্দল পাথর - গুরুভার। 
টুপ ভুজঙ্গ - নেশাগ্রস্ত। 
জোর-কপাল - সুপ্রসন্ন ভাগ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,০০২.
'উপকারীর অপকার করে যে' তাকে এক কথায় কী বলে?
  1. কৃতজ্ঞ
  2. অকৃতজ্ঞ
  3. কৃতঘ্ন
  4. অকৃতঘ্ন
সঠিক উত্তর:
কৃতঘ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃতঘ্ন
ব্যাখ্যা

'উপকারীর অপকার করে যে' তাকে এক কথায় বলে- কৃতঘ্ন।

অনদিকে,
- উপকারীর উপকার যে স্বীকার করে – কৃতজ্ঞ।
- উপকারীর উপকার যে স্বীকার করে না – অকৃতজ্ঞ।

• আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- আল্লাহ্ অস্তিত্বে বিশ্বাস নেই যার – নাস্তিক।
- ইতিহাস রচনা করেন যিনি -ঐতিহাসিক।
- ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ যিনি – ইতিহাসবেত্তা।
- ইন্দ্রিয়কে জয় করেছে যে - জিতেন্দ্রিয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ - সংস্কারণ)।

১৪,০০৩.
'জনতা' - শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ 
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• 'জনতা' (বিশেষ্য পদ):
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- সাধারণ মানুষ,
- জনসাধারণ।
- অনেক লোকের একত্রসমাবেশ।

--------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,০০৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) সত্তা
  2. খ) সত্ত্ব
  3. গ) সত্ত্বা
  4. ঘ) স্বত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দটির শুদ্ধরূপ হলো : স্বত্ব। 
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৪,০০৫.
স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ব্যাকরণ
  2. বর্ণনা
  3. পণ্য
  4. ভাষণ
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
পণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পণ্য
ব্যাখ্যা

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প+অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ + অ + ণ)। এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন- 
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪,০০৬.
তালব্যধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
তালব্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান তালু, তাদের তালব্যধ্বনি বলে।
যেমন:
- ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য়, শ তালব্যধ্বনি।

অন্যদিকে, 
• ওষ্ঠ্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান ওষ্ঠ, তাদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।
যেমন:
- উ, , প, ফ, ব, , ম ওষ্ঠ্যধ্বনি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৪,০০৭.
নিচের কোনগুলো অঘোষ ব্যাঞ্জনের উদাহরণ-
  1. ঙ, হ
  2. ভ, ম
  3. ক, খ
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
ক, খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক, খ
ব্যাখ্যা

• ক, খ - অঘোষ ধ্বনি।
-------------------
• অঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

• ঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

১৪,০০৮.
'আকাশ' শব্দটি কোন ধরণের বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বস্তু-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য: 
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
- যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। 

♣ বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: 
১. নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। 
- যেমন: হাবিব, সজল, বাংলাদেশ, পদ্মা, বৈশাখ ইত্যাদি।

২. জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
- যেমন: মানুষ, গরু, ফুল, নদী ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
 
- যেমন: ইট, লবণ, আকাশ ইত্যাদি।   

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।  
- যেমন: জনতা, পরিবার, বাহিনী ইত্যাদি।  

৫. গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। 
- যেমন: সরলতা, দয়া, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।   

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যেমন: ক্রিয়া বা কাজের নাম বুঝায়। পঠন, ভোজন,শয়ন, করা ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৪,০০৯.
'পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।' ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. ঐতিহািসক বর্তমান কাল
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ:
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।

অন্যদিকে,
------------------
• সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমানকাল:
সাধারণভাবে এবং সচরাচর যখন কোনো ক্রিয়ার ব্যাপার ঘটে, তার কালকে সাধারণত নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায় (স্বাভাবিকতা)।
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই (অভ্যস্ততা)।

• ঐতিহাসিক বর্তমানকাল: অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। [করেন ক্রয়ার বর্তমান কাল নির্দেশ করছে।]

• ঘটমান অতীতকাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন।
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০১০.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. প্রনয়িণী
  2. ভদ্রোচিত
  3. হীনম্মন্যতা
  4. কূপমণ্ডূক
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রনয়িণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রনয়িণী
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - প্রনয়িণী
- শুদ্ধ বানান - প্রণয়িনী।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অনুরক্ত ব্যক্তি।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান - কূপমণ্ডূক।
• শুদ্ধ বানান - হীনম্মন্যতা।
• শুদ্ধ বানান - ভদ্রোচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,০১১.
'ইচ্ছা> ইচ্ছে' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. অপিনিহিতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. সমীভবন
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি (Vowel Hermony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে, এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি।
যেমন:
- ইচ্ছা > ইচ্ছে,
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মূলা > মূলো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪,০১২.
'ইত্যাদি' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• ইতি হতে আদি = ইত্যাদি; এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
- স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো।
- জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত।
- স্নাতক থেকে উত্তর = স্নাতকোত্তর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪,০১৩.
‘ডাকঘর’ কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ ডাকের নিমিত্তে ঘর = ডাকঘর৷
দেশপ্রীতি = দেশের জন্য প্রীতি৷
বিয়ের জন্য পাগল - বিয়েপাগল,
গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি,
বিদ্যার জন্য আলয় - বিদ্যালয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১৪,০১৪.
কোনটি বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়ান্ত শব্দ নয়?
  1. ক) টেকসই
  2. খ) জবানবন্দি
  3. গ) মানানসই
  4. ঘ) নামসই
সঠিক উত্তর:
ঘ) নামসই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নামসই
ব্যাখ্যা

কয়েকটি বিদেশি তদ্ধিত প্রতয়ঃ

ওয়ান>আন (হিন্দি) : গাড়ি - গাড়োয়ান; দার - দারোয়ান।
গর>কর (ফারসি) : কারিগর, বাজিকর, সওদাগর।
বন্দি (বন্দ - ফারসি) : জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
সই (মতো অর্থে) : জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।

উল্লেখ্য, 'টিপসই' ও 'নামসই' - শব্দ দুটির 'সই' প্রত্যয় নয়।
এটি 'সহি' শব্দ থেকে উৎপন্ন। এর অর্থ - স্বাক্ষর

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১৪,০১৫.
“হরতন” শব্দটি-
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ওলন্দাজ
  4. ঘ) পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
গ) ওলন্দাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা


উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৪,০১৬.
'ষট্‌পদ' শব্দের অর্থ কী?
  1. কাছিম
  2. ময়ূর
  3. শাখামৃগ
  4. ভ্রমর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমর
ব্যাখ্যা

• 'ষট্‌পদ' শব্দের অর্থ - ভ্রমর, ছারপোকা, উকুন।

অন্যদিকে,
'বানর' শব্দের অর্থ - বাঁদর, শাখামৃগ, মর্কট।
'ময়ূর' শব্দের অর্থ - কলাপী, কেকা, কেকী, শিখী, শিখণ্ডী।
'কচ্ছপ' শব্দের অর্থ - কাছিম, কৃর্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,০১৭.
'হঠাৎ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• হঠাৎ, 
- হিন্দি ভাষার শব্দ।  
- অর্থ অনুসারে অব্যয় ও ক্রিয়াবিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
অর্থ:
- সহসা,
- অকস্মাৎ।

• অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন:
হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, অদ্যাপি, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,০১৮.
বাংলা উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. অজ
  2. প্র
  3. ইতি
  4. অঘা
সঠিক উত্তর:
প্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্র
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ নয়- প্র।
- প্র তৎসম উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
- যেমন: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
• তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস:
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,০১৯.
'বিরানব্বই' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৪,০২০.
'কথিত' শব্দটির গঠন কোনটি?
  1. উপসর্গ + মূল শব্দ
  2. উপসর্গ + ধাতু + প্রত্যয়
  3. ধাতু + প্রত্যয়
  4. দুটি শব্দের সন্ধি
সঠিক উত্তর:
ধাতু + প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু + প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর — গ) ধাতু + প্রত্যয়।

'কথিত' শব্দের গঠন বিশ্লেষণ:
— কথ্ = ধাতু (√ কথ্ = বলা);
— ইত = প্রত্যয় (কৃত প্রত্যয়);
— কথ্ + ইত = কথিত।

ব্যাখ্যা:
'কথিত' শব্দটি 'কথ্' ধাতুর সাথে 'ইত' কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। এর অর্থ 'যা বলা হয়েছে' বা 'উক্ত'।

অনুরূপ উদাহরণ:
— লিখ্ + ইত = লিখিত (যা লেখা হয়েছে)।
— পঠ্ + ইত = পঠিত (যা পড়া হয়েছে)।
— শুোন্ + ইত = শ্রুত > শোনিত (যা শোনা হয়েছে)।
— রক্ষ্‌ + ইত = রক্ষিত (যা রক্ষা হয়েছে)।

উল্লেখ্য, 
'ইত' প্রত্যয়টি ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে কৃদন্ত পদ গঠন করে এবং সাধারণত অতীত কালের ভাব বা সম্পন্ন কাজ বোঝায়।
 
 উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,০২১.
ঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি -

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যেমন - ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, , ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যেমন - প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,০২২.
নিচের কোনটি তৎসম উপসর্গ নয়?
  1. অপ
  2. অনু
  3. উপ
  4. ঊন
সঠিক উত্তর:
ঊন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊন
ব্যাখ্যা
• ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়সূচক শব্দাংশের নাম হচ্ছে উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস:
১। প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১৪,০২৩.
'যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।'- বাক্যটি সরল বাক্যের রূপান্তর কী হবে?
  1. ছেলেটির বয়স অল্প ও বুদ্ধিমান
  2. ছেলেটির বয়স অল্প এবং বেশ বুদ্ধিমান। 
  3. ছেলেটির বয়স অল্প, তথাপি বেশ বুদ্ধিমান। 
  4. ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
সঠিক উত্তর:
ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
যথা:
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
সরল বাক্য: নির্বোধরা/বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
 
মিশ্র বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
সরল বাক্য: আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।
 
মিশ্র বাক্য: যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয়।
সরল বাক্য: সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।

জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।
সরল বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০২৪.
‘চিকুর’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) কুন্তল
  2. খ) বিদ্যুৎ
  3. গ) কবরী
  4. ঘ) অলিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলিক
ব্যাখ্যা
‘চিকুর’ শব্দের সমার্থক শব্দ- কেশ, কুন্তল, অলক, কবরী, চুল, কেশপাশ, কেশদাম, বিজলি, বিদ্যুৎ, তড়িৎ।
‘কপাল’ এর সমার্থক শব্দ- অলিক, ভাল, ভাগ্য, ললাট, নিয়তি, অদৃষ্ট, দৈব।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং অভিগম্য অভিধান]
১৪,০২৫.
'একাঙ্কিকা' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক্ষুদ্রার্থে
  2. বৃহদার্থে
  3. ব্যাঙ্গার্থে
  4. সমার্থে
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
ব্যাখ্যা
• 'একাঙ্কিকা' ক্ষুদ্রার্থে স্ত্রীবাচক শব্দ।

স্ত্রীলিঙ্গান্তর করলে ক্ষুদ্রার্থ প্রকাশ পায়, এমন কয়েকটি শব্দ:
• একাঙ্ক - একাঙ্কিকা,
• নাটক-নাটিকা,
• মালা - মালিকা,
• গীত - গীতিকা,
• পুস্তক - পুস্তিকা,
• ঘট- ঘটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০২৬.
অর্ধমাত্রার স্বরবর্ণ কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি -(এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং , ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪,০২৭.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ-
  1. দাম
  2. গুচ্ছ
  3. রাজি
  4. সমূহ
সঠিক উত্তর:
সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- কুল - কবিকূল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রাজি, দাম, গুচ্ছ অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪,০২৮.
গঠন অনুসারে অনুসর্গ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
গঠন অনুসারে অনুসর্গের শ্রেণিবিভাগ:
গঠনের দিক থেকে অনুসর্গ দু প্রকার:
ক. বিভক্তিহীন অনুসর্গ ও
খ. বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ।

বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
- কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন।
যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।

বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
- এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ'-এ' বিভক্তিযুক্ত।
যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, জন্য, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।
- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনো কোনো ফারসি অনুসর্গ'-এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০২৯.
নিচের কোনটি পরাগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. চক্র > চক্ক
  2. পাকা > পাক্কা
  3. কর্তা > কত্তা
  4. লগ্ন > লগ্গ
সঠিক উত্তর:
কর্তা > কত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা > কত্তা
ব্যাখ্যা

• কর্তা > কত্তা। 
(র্ ধ্বনি পরবর্তী ত ধ্বনির প্রভাবে লোপ পেয়ে ত্ত হয়েছে)

• পরাগত সমীভবন:

পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হলে তাকে পরাগত সমীভবন বলে। যেমন-
কাদনা > কান্না,
কর্ম > কৰ্ম্ম,
কর্তা > কত্তা,
করতে > কত্তে।  

অন্যদিকে,
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যাঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা;
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৪,০৩০.
‘দুটো পাখি দেখছি’- বাক্যে ‘পাখি’ কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্ম কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

• সাধারণত পশুপাখি বা সচেতন পদার্থের ক্ষেত্রে কর্মে শূন্য বিভক্তি হয়:
- দুটো পাখি দেখছি।
- সে ভাত খেয়েছে।
- দাঁত মাজো।

অন্যদিকে,
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে। 

• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। 

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
১৪,০৩১.
বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ ছিল-
  1. ব্রজবুলি
  2. সংস্কৃত
  3. দেশি
  4. অর্ধতৎসম
সঠিক উত্তর:
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি
ব্যাখ্যা
• বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দকে দেশি শব্দ বলা হয়।

• দেশি শব্দ:
বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়। অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।

কিছু দেশি শব্দের উদাহরণ:
পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------------
• তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। আবার সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

• অর্ধতৎসম:
যে সমস্ত তৎসম শব্দ অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় প্রবেশের পর লোকমুখে কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত বা বিকৃত হয়েছে সেই সমস্ত শব্দগুলিকে অর্ধতৎসম শব্দ বলে । 
যেমন:
- কৃষ্ণ>কেষ্ট;
- ঘৃনা >ঘেন্না। 

• ব্রজবুলি:
ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক। তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন। এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন।

ভাষায় শব্দ পরিবর্তনের কয়েকটি দৃষ্টান্ত হলো: মাস > মাহ, লাবণ্য > লাবনি, দুস্তর > দুতর, দৃষ্টি > দিঠি, মেঘ > মেহ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,০৩২.
ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই কোন পুরুষের হয়?
  1. নাম পুরুষ
  2. কাল পুরুষ
  3. মধ্যম পুরুষ
  4. উত্তম পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
যে বাক্যে কর্ম থাকে না, ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি হয়ে থাকে।
যেমন
আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) বাড়ি যাওয়া হলাে না (নাম পুরুষের ক্রিয়া)।

২. কখনাে কখনাে ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্মের দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন
গ) কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূলক্রিয়ার সঙ্গে সহযােগী ক্রিয়ার সংযােগ ও বিভিন্ন অর্থে বাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন—
এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা অনুচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,০৩৩.
'-ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ -
  1. ধোপানি
  2. কুমারনী
  3. জেলেনী
  4. তরুণী
সঠিক উত্তর:
তরুণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরুণী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
→ ছাত্র-ছাত্রী, 
তরুণ-তরুণী
→ দাস-দাসী, 
→ নর-নারী, 
→ পাত্র-পাত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- নী/নি-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ - জেলে-জেলেনী, কুমার-কুমারনী, ধোপা-ধোপানি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,০৩৪.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. চকচক
  2. থকথকে
  3. লুচিফুচি
  4. ভটভট
সঠিক উত্তর:
লুচিফুচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুচিফুচি
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
অঙ্ক-টঙ্ক, অল্পসল্প, কেক-টেক, কচর-মচর, চাকর-বাকর, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, আগড়ম-বাগড়ম, এলোমেলো, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন:
আড়াআড়ি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, ধারধোর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
---------------- 
 চকচক, থকথকে, ভটভট, ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪,০৩৫.
বাগ্‌ধারা নির্ণয় করুন: 'ছকড়া নকড়া'
  1. চক্ষুশূল
  2. কুটিলতা
  3. নষ্ট করা
  4. সস্তা দর
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সস্তা দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সস্তা দর
ব্যাখ্যা
• 'ছকড়া নকড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ - সস্তা দর

অন্যদিকে,
ছিনিমিনি খেলা - নষ্ট করা।
চোখের বালি - চক্ষুশূল।
জিলাপির প্যাঁচ - কুটিলতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,০৩৬.
অভিশ্রুতির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. মাছুয়া > মেছো
  2. করিয়া > করে
  3. ফলাহার > ফলার
  4. দেখিয়া > দেখে
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতির উদাহরণ নয়-  ফলাহার > ফলার। 
- ফলাহার > ফলার অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 

-------------------
• অভিশ্রুতি:

বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
করিয়া > কইর‍্যা > করে;
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে;
গাছুয়া > গাউছা > গেছো;
মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,০৩৭.
শুদ্ধ বাক্য চিহ্নিত করুন-
  1. তাহার জীবন সংশয়াপূর্ণ।
  2. বিদ্বান ব্যক্তিগণ অনেক সময় অবহেলিত হন।
  3. দারিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্যা।
  4. বিরাট গরু ও ছাগলের হাট।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান ব্যক্তিগণ অনেক সময় অবহেলিত হন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান ব্যক্তিগণ অনেক সময় অবহেলিত হন।
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্বান ব্যক্তিগণ অনেক সময় অবহেলিত হন।' - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: তাহার জীবন সংশয়াপূর্ণ।
- শুদ্ধ বাক্য: তাহার জীবন সংশয়ভরা।

- অশুদ্ধ বাক্য:দারিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্যা।  
- শুদ্ধ বাক্য:দরিদ্রতা/দারিদ্র্য আমাদের প্রধান সমস্যা।  

- অশুদ্ধ বাক্য:বিরাট গরু ও ছাগলের হাট।  
- শুদ্ধ বাক্য: গরু ও ছাগলের বিরাট হাট।  

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৩৮.
'ক্ষুৎকাতর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি ?
  1. ক্ষুধা + কাতর
  2. ক্ষুধ + কাতর
  3. ক্ষুৎ + কাতর
  4. ক্ষুদ্‌ + কাতর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ + কাতর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ + কাতর
ব্যাখ্যা
'ক্ষুৎকাতর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ক্ষুধ + কাতর।
দ, ধ এর পর ক, প, স থাকলে দ, ধ এর স্থানে ৎ হয় 
যেমন - ক্ষুৎকাতর = ক্ষুধ + কাতর
অনুরূপভাবে,
- ক্ষুধ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা 
- হৃদ + স্পন্দন = হৃৎস্পন্দন

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,০৩৯.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় ?
  1. ক) বিধবা
  2. খ) অরক্ষণীয়া
  3. গ) ঢাকী
  4. ঘ) সধবা
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকী
ব্যাখ্যা
'ঢাকী'- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়।  
'ঢাকী'- নিত্য পুরুষবাচক শব্দ। 

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি। 

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেনি।
১৪,০৪০.
'Apprentice' শব্দের সঠিক বাংলা পরিভাষা কোনটি? 
  1. সুভাষণ 
  2. উত্তেজক 
  3. শিক্ষানবিশ
  4. প্রসংশা 
সঠিক উত্তর:
শিক্ষানবিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষানবিশ
ব্যাখ্যা

• 'Apprentice' শব্দের সঠিক বাংলা পরিভাষা- শিক্ষানবিশ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
-  'Mass Education’ - গণশিক্ষা।
- ‘Phonetics’ - ধ্বনিবিজ্ঞান।
- ‘Plebiscite’ - গণভোট।
- ‘Pledge’ - বন্দক।
- ‘Orion’ - কালপুরুষ।
- ‘Hostage’ - জিম্মি।
- ‘Honorary’ - অবৈতনিক।
- ‘Distorted’ - বিকৃত।

উৎস : প্রশাসনিক পরিভাষা , বাংলা একাডেমি।

১৪,০৪১.
নিচের কোনটি অন্তঃস্থ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অন্তঃস্থ ধ্বনি: 
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র, ল, ব-এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

অন্যদিকে, 
• উষ্মধ্বনি: যে ব্যঞ্জনের উচ্চারণে বাতাস মুখবিবরে কোথাও বাধা না পেয়ে কেবল ঘর্ষণপ্রাপ্ত হয় এবং শিশধ্বনির সৃষ্টি করে, সেটি উষ্মধ্বনি। যেমন- আশীষ, শিশি, শিশু ইত্যাদি। শিশ দেয়ার সঙ্গে এর সাদৃশ্য রয়েছে বলে একে শিশধ্বনিও বলা হয়।
শ, ষ, স তিনটি উম্ম বর্ণ।

হ: হ-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনিটি কণ্ঠনালীতে উৎপন্ন মূল উষ্ম ঘোষধ্বনি। এ উষ্মধ্বনিটি উচ্চারণের সময় উন্মুক্ত কণ্ঠের মধ্য দিয়ে বাতাস জোরে নির্গত হয়। যেমন হাত, মহা, পহেলা ইত্যাদি।

• তাড়নজাত ধ্বনি: ড় ও ঢ়-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি জিহ্বার অগ্রভাগের তলদেশ দ্বারা অর্থাৎ উল্টো পিঠের দ্বারা ওপরের দত্তমূলে দ্রুত আঘাত বা তাড়না করে উচ্চারিত হয়। এদের বলা হয় তাড়নজাত ধ্বনি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।

১৪,০৪২.
'আ-' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. নায়িকা
  2. মাননীয়া
  3. অধ্যাপিকা
  4. সেবিকা
সঠিক উত্তর:
মাননীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাননীয়া
ব্যাখ্যা

• 'আ-' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
- মৃত-মৃতা,
- বিবাহিত-বিবাহিতা,
- মাননীয়-মাননীয়া,
- বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
- প্রিয়-প্রিয়া,
- প্রথম-প্রথমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ইকা-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
বালক-বালিকা,
নায়ক-নায়িকা,
গায়ক- গায়িকা,
সেবক-সেবিকা,
অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

১৪,০৪৩.
"ঝড় শুরু হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।"- কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান 
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. সাধারণ বর্তমান 
  4. সাধারণ অতীত 
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম। 
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪,০৪৪.
হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি
- কবিতার চরণদ্বয় কোন ছন্দে রচিত?
  1. ক) স্বরবৃত্ত ছন্দে
  2. খ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  3. গ) মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
ব্যাখ্যা
হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি- কবিতার চরণদ্বয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে বদ্ধস্বর কখনো একমাত্রা এবং কখনো দুই মাত্রা বহন করে। অর্থাৎ পর্বে মাত্রা গণনা রীতি কোথাও স্বরবৃত্তের আবার কোথাও মাত্রাবৃত্তের মতো বাহিত হয়। বদ্ধস্বর যদি শব্দের প্রথমে বা মাঝে থাকে তবে তা  একমাত্রা সুরের তরঙ্গ সৃষ্টি করে। মন্থর বা ধীর লয় বা গতির এ ছন্দ সাধারণত দু্ পর্বের হয় এবং ৬, ৮ ও ১০ মাত্রার পর্বই এ ছন্দে বেশি দেখা যায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা। কবিতাটির অংশ বিশেষ-
হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি

মাত্রা বিশ্লেষণ:
হে বঙ্ গ ভান্ ডারে কব / বি বি ধ র তন / = ৮+৬ = ১৪
তা স বে অ বোধ আ মি / অ ব হে লা ক রি / = ৮+৬ = ১৪

কবিতাটিতে যুক্তাক্ষরে একমাএা করে আছে। বদ্ধক্ষার শব্দের শুরুতেও আছে আবার শব্দের শেষেও আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০৪৫.
'রুম ঝুম' কোন ধরনের অব্যয়? 
  1. সম্মুচ্চয়ী
  2. অনুকার
  3. অনন্বয়ী
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
অনুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার
ব্যাখ্যা

অনুকার অব্যয়:
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
যথা:
বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়।
বৃষ্টির তুমুল শব্দ- ঝম ঝম।
স্রোতের ধ্বনি- কল কল।
বাতাসের গতি- শন শন।
শুষ্ক পাতার শব্দ- মর মর।
নূপুরের আওয়াজ- রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,০৪৬.
'কৌপ' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) পাপ
  2. খ) দুষ্কর্ম
  3. গ) কূপের জল
  4. ঘ) গুহ্যদেশ
সঠিক উত্তর:
গ) কূপের জল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কূপের জল
ব্যাখ্যা
• 'কৌপ' (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [কূপ +অ ]
অর্থ: কূপসম্বন্ধীয়,  কূপের জল

অন্যদিকে,
কৌপীন অর্থ - দুষ্কর্ম, গুহ্যদেশ, পাপ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৪,০৪৭.
আমরা = তুমি, আমি ও সে - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) একশেষ দ্বন্দ্ব
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব
  3. গ) নিত্য
  4. ঘ) প্রাদি
সঠিক উত্তর:
গ) নিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিত্য
ব্যাখ্যা
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না কিংবা তা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য লাগে তাকে নিত্য সমাস বলে। ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা ব্যাকাংশ যোগ করে এগুলোর অর্থ বিশ্লেষণ করতে হয়।
যেমন :
- আমরা = তুমি, আমি ও সে,
- বিরানব্বই = দুই ও নব্বই,
- জনৈক = এক জন,
- মাথাপিছু = প্রতিমাথা
- দিনভর = সারা দিন
- পূজার্থ = পূজার নিমিত্ত

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৪,০৪৮.
'আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।' বাক্যের যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. যেহেতু আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
  2. আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
  3. আমি বহু কষ্ট করেছি বলে শিক্ষা লাভ করেছি।
  4. যেহেতু আমি বহু কষ্ট করেছি, সেজন্য শিক্ষা লাভ করেছি।
সঠিক উত্তর:
আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
 সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-

• সূত্র: বাক্যের পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
সরল: সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।
যৌগিক: সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।

সরল: আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
যৌগিক: আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।

• সূত্র: সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) দ্বারা স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়।
যেমন:
সরল: গুহাটা হইতে বাহির হইয়া আসিয়া ধড়ে প্রাণ আসিল।
যৌগিক: গুহাটা হইতে বাহির হইলাম, তবেই ধড়ে প্রাণ আসিল।

• সূত্র: সরল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা অন্য একটি স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যও গঠিত হয়।
যেমন:
সরল: ঝুরি নেমে গড়ে ওঠা গুঁড়িই এখন রয়েছে।
যৌগিক: ঝুরি নেমে গুঁড়ি গড়ে উঠেছে, আর তা-ই এখন রয়েছে।

• সূত্র: প্রয়োজনে সরল বাক্যের অন্য শব্দসমষ্টির দ্বারা কিংবা বাক্যাংশকে প্রসারিত করে এক বা একাধিক স্বনির্ভর খণ্ডবাক্য গঠিত হতে পারে।
যেমন:
সরল: আমি বর ছিলাম বলে বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
যৌগিক: আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।

• সূত্র: খণ্ডবাক্যগুলো ব্যতিরেকাত্মক, প্রাতিপাক্ষিক, সংযোজক, বিয়োজক প্রভৃতি যে কোনো অব্যয় যারা যুক্ত করে যৌগিক বাক্য গঠন করা।
যেমন:
সরল: তুমি চলে গেলে তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?
যৌগিক: তুমি চলে যাবে, কিন্তু তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০৪৯.
"প্রাদি সমাস" কীভাবে গঠিত হয়?
  1. কেবল কৃৎ প্রত্যয় সহযোগে
  2. সংখ্যাবাচক শব্দ সহযোগে
  3. অব্যয় এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের মিলনে
  4. বিশেষ্য এবং বিশেষণ সহযোগে
সঠিক উত্তর:
অব্যয় এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের মিলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয় এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের মিলনে
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস: 
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন, 
প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,০৫০.
'অষ্টধাতু' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  2. প্রাদি সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী,
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি
- অষ্ট ধাতুর সমাহার = অষ্টধাতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০৫১.
'উৎপাদন' শব্দের 'উৎ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অপকর্ষ
  2. আতিশয্য
  3. প্রস্তুতি
  4. ঊর্ধ্বমুখিতা
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে  'উৎ' উপসর্গটির ব্যবহার: 
- ঊর্ধ্বমুখিতা অর্থে  - উন্নতি, উত্তোলন ।
- আতিশয্য অর্থে - উত্তপ্ত, উৎফুল্ল ।
- প্রস্তুতি অর্থে - উৎপাদন, উচ্চারণ ।
- অপকর্ষ অর্থে - উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,০৫২.
'করিয়া > করে' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. অভিশ্রতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।

যেমন:
করিয়া > কইর‌্যা > করে,
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,০৫৩.
কোনটি শব্দটি অপপ্রয়োগ জনিত ভুল নয়?
  1. ক) অশ্রুসজল
  2. খ) অধীনস্থ
  3. গ) একত্র
  4. ঘ) স্বস্ত্রীক
সঠিক উত্তর:
গ) একত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একত্র
ব্যাখ্যা
- একত্রিত শব্দের সঠিক রূপ হবে একত্র।

অন্যদিকে,
- স্বস্ত্রীক সঠিক রূপ হবে সস্ত্রীক
- অশ্রুসজল শব্দের সঠিক রূপ হবে অশ্রু অথবা জল অথবা চোখের জল।
- অধীনস্থ শব্দের সঠিক রূপ হবে অধীন।

উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
১৪,০৫৪.
'নাইবা তুমি এলে।' বাক্যে 'তুমি' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্তৃকারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• 'নাইবা তুমি এলে।' বাক্যে 'তুমি' কর্তৃকারক।

• কর্তৃকারক:

- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
  খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা – কর্তৃকারক)
  মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)

কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার:
1. মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে।
  উদাহরণ: ছেলেরা ফুটবল খেলছে। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।
2. প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়।
  উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
3. প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
  উদাহরণ: রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।
4. ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে।
  উদাহরণ: বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়। রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৪,০৫৫.
''এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি'' - বাক্যের ক্রিয়াটি কোন কালের?
  1. ক) সাধারণ বর্তমান
  2. খ) সাধারণ অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

পূর্বেই শেষ হয়ে যাওয়া কোনো ক্রিয়ার ফল যদি এখনো বর্তমান থাকে তবে তাকে পুরাঘটিত বর্তমান বলে। যেমন, বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম। এ বার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১৪,০৫৬.
'তালাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. আয়াস
  2. প্রগাঢ়
  3. অন্বেষণ
  4. অগাধ
সঠিক উত্তর:
অন্বেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্বেষণ
ব্যাখ্যা
'খোঁজ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সন্ধান, অন্বেষণ, অনুসন্ধান, খোঁজা, তালাশ।

অন্যদিকে,
'কষ্ট' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- যন্ত্রণা, দুঃখ, ক্লেশ, আয়াস, পরিশ্রম, মেহনত।

'গভীর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অগাধ, অতল, গহন, প্রগাঢ়, নিবিড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,০৫৭.
Sabotage শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) উদ্ধার
  2. খ) কূটঘাতক
  3. গ) অন্তর্ঘাত
  4. ঘ) পবিত্রতা
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তর্ঘাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তর্ঘাত
ব্যাখ্যা
Sabotage শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ - অন্তর্ঘাত, কূটঘাত, অন্তর্ঘাতী কার্য, কূটঘাতী কাজ।  

Sanctity = পবিত্রতা
Salvation = উদ্ধার
Saboteur = কূটঘাতক 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১৪,০৫৮.
"প্রাদুর্ভাব" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাদু + ভাব
  2. প্রাধুঃ +ভাব
  3. প্রাদুর + ভাব
  4. প্রাদুঃ + ভাব
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরের সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে স্বরধ্বনি, বর্গের ৩য় / ৪র্থ / ৫ম ধ্বনি অথবা য, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ স্থলে র হয়।
যেমন:
→ নিঃ + অবধি = নিরবধি, 
→ নিঃ + গত = নির্গত, 
→ নিঃ + বাক্ = নির্বাক, 
→ আবিঃ + ভাব = আবির্ভাব, 
→ দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা, 
→ দুঃ + গতি = দুর্গতি, 
প্রাদুঃ + ভাব = প্রাদুর্ভাব
→ দুঃ + যোগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,০৫৯.
গঠনরীতি অনুযায়ী 'প্রগতি' ____ নিস্পন্ন শব্দ।
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) সন্ধি
  4. ঘ) সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাস
ব্যাখ্যা
গঠনরীতি অনুযায়ী 'প্রগতি' সমাস নিস্পন্ন শব্দ।
প্রাদি সমাস: প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস। 
প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন, 
প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

প্রাদি সমাসে-
‘প্র’থাকলে ‘প্রকৃষ্ট’ হবে। যেমন: প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত।
‘পরি’ থাকলে ‘চতুর্দিকে’ হবে। যেমন: পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ।
‘অনু’ থাকলে ‘পশ্চাত’ হবে। যেমন: অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১৪,০৬০.
‘বড়দা সক্কাল বেলা তক্ক করার জন্য বউদিকে মাল্ল’- এই বাক্যে কয়টি শব্দে ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৬ টি
  4. ৭ টি
সঠিক উত্তর:
৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ টি
ব্যাখ্যা
• উল্লেখ্য বাক্যে ৫টি শব্দের ধ্বনি পরিবর্তন হয়েছে। ধ্বনি পরিবর্তন গুলো হলো:

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সম উচ্চারণের দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়।
যেমন :
- বউদিদি > বউদি।
- বড়দাদা > বড়দা।

• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন: কখনো কখনো জোর দেওয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় ।
যেমন:
- সকাল > সক্কাল।

• র - কার লোপ: আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।
যেমন:
- তর্ক > তক্ক।
- মারল  > মাল্ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,০৬১.
'হৃদয় মাঝে মেঘ উদয় করি, নয়নের মাঝে ঝড়িল বারি', এখানে কী ধরনের অলংকারের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. বিষম
  2. বিরোধাভ্যাস
  3. অসংগতি
  4. বিভাবনা
সঠিক উত্তর:
অসংগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসংগতি
ব্যাখ্যা

- সঠিক উত্তর - অসংগতি।

অসঙ্গতি অলঙ্কার:
-  কার্য এবং কারণের ঘটনাস্থান যদি ভিন্ন হয় অর্থাৎ একস্থানে কারণ ঘটেছে এবং অপর স্থানে তার ফল দেখা যাচ্ছে, তখন তাক অসঙ্গতি অলঙ্কার বলে।
যেমন: 
- 'হৃদয় মাঝে মেঘ উদয় করি, নয়নের মাঝে ঝড়িল বারি’ 
( আকাশ মেঘে কালো হয়েছে, জল ঝরছে নয়ন হতে)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,০৬২.
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোনটি?
  1.  ভ



সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব,
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, , ধ।
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ,
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৪,০৬৩.
"সাতাশ হত যদি একশ সাতাশ" বাক্যটি কোন ধরনের অতীত কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
• "সাতাশ হত যদি একশ সাতাশ" বাক্যটি নিত্যবৃত্ত অতীত কাল নির্দেশ করছে।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

অন্যদিকে,
• সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন: আগুন নিভে গেল।

• ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন: আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন: সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪,০৬৪.
'কন্যা > কইন্যা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অপিনিহিতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অন্ত্যস্বরাগম
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• 'কন্যা> কইন্যা' এ য- ফলার অন্তর্নিহিতি ই-ধ্বনির অপিনিহিতি।

• অপিনিহিতি (Apenthesis):

- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
- যেমন আজি >আইজ, সাধু >সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি >চাইর, মারি >মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
- যেমন: গ্রাম > গেরাম, ধর্ম > ধরম, প্রীতি > পিরীতি। 

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:

- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
- যেমন: বসতি >বস্তি, জানালা> জানলা ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন দিশ্ >দিশা, পোখত্> পোক্ত, বেঞ্চ >বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪,০৬৫.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি
  2. লতা + আনো = লতানো
  3. পো + আত = পোয়াত
  4. পল্লব + ইত = পল্লবিত
সঠিক উত্তর:
পল্লব + ইত = পল্লবিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লব + ইত = পল্লবিত
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পল্লব + ইত = পল্লবিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

----------------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই।
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০৬৬.
বাক্যে গৌণ কর্মের সঙ্গে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়?
  1. -র
  2. -এ 
  3. -কে
  4. -তে
সঠিক উত্তর:
-কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-কে
ব্যাখ্যা

• -কে, -রে বিভক্তি:
⇒ বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত-কে এবং-রে বিভক্তি বসে।
- ক্রিয়াকে 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে শব্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বিভক্তি যুক্ত হয়।
- যেমন : শিশুকে, দরিদ্রকে, আমাকে, আমারে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• -এ, -তে, -য়, -য়ে বিভক্তি
⇒ সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে-এ, -তে,-য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়।
- কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।

• -র, -এর,-য়ের বিভক্তি
- বাক্যের মধ্যে পরবর্তীশব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে-র, -এর এবং-য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়।
- সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে-র বিভক্তি বসে।
- যেমন: রাজার, প্রজার,।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১৪,০৬৭.
'ফল্গু' কি?
  1. ফাল্গুন
  2. একটি নদীর নাম
  3. নদীর প্রবল স্রোত
  4. জমজ নক্ষত্র বিশেষ
সঠিক উত্তর:
একটি নদীর নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
• ফল্গু (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ভারতের গয়ার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত অন্তঃসলিলা নদী;
- আবির, ফাগ;
- অসার,
- তুচ্ছ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,০৬৮.
'প্রকৃষ্ট' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. উত্তম
  2. প্রশস্ত
  3. স্তাবক
  4. নিকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'প্রকৃষ্ট' এর বিপরীতার্থক শব্দ - নিকৃষ্ট

উল্লেখ্য,
- 'প্রকৃষ্ট' শব্দের অর্থ - উত্তম, প্রশস্ত, শ্রেষ্ট।

অন্যদিকে,
- 'নিন্দুক' এর বিপরীতার্থক শব্দ - স্তাবক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,০৬৯.
'জলৌঘ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. জল + ঔঘ 
  2. জল + লৌঘ
  3. জল + ওঘ
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
জল + ওঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জল + ওঘ
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
- মহা + ওষধি = মহৌষধি,
- বন  + ঔষধ = বনৌষধ,
- জল + ওঘ = জলৌঘ,
- গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,০৭০.
'অপসৃষ্টি' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্থানান্তর অর্থে
  2. বিপরীত অর্থে
  3. নিকৃষ্ট অর্থে
  4. অভাব অর্থে
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্ট অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্ট অর্থে
ব্যাখ্যা

• 'অপ' তৎসম উপসর্গ। বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার-
- বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ। 
- নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ।
- বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪,০৭১.
'সদিচ্ছা' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সধ্‌ + ইচ্ছা
  2. সত + ইচ্ছা
  3. সদ্‌ + ইচ্ছা
  4. সৎ + ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
সৎ + ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ + ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনে + স্বরে নিয়মে গঠিত ব্যঞ্জন সন্ধির নয়ম:
পূর্বপদের শেষে বর্গের প্রথম ব্যঞ্জন (ক্‌ /চ্‌ / ট্ / ত্ [ৎ] /প্‌ ) থাকলে, এবং পরপদের প্রথমটি স্বরধ্বনি হলে ব্যঞ্জনধ্বনিটি ওই বর্গের তৃতীয় ধ্বনিতে অর্থাৎ ক স্থানে গ্‌, চ্ স্থানে জ্‌ , ট্‌ স্থানে ড্ [ডু], ত্ স্থানে দু, প্‌ স্থানে ব্‌  হয়। পরপদের স্বরধ্বনি বর্গের তৃতীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর,
- প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- অচ্ + অন্ত = অজন্ত, 
- ষট্ + অঙ্গ = ষড়ঙ্গ,
- ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু,
- ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- সৎ + অর্থক = সদর্থক,
- সৎ + ইচ্ছা = সদিচ্ছা,
- মৃৎ + অঙ্গ = মৃদঙ্গ,
- শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০৭২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) নৈঝিত
  2. খ) নৈখত
  3. গ) নৈর্ঋত
  4. ঘ) নৈহৃত
সঠিক উত্তর:
গ) নৈর্ঋত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৈর্ঋত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - নৈর্ঋত (বিশেষ্য) 
 'নৈর্ঋত' তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
 'নৈর্ঋত' শব্দের অর্থ: 
১  দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের মধ্যবর্তী কোণ। 
২ রাক্ষস বিশেষ  

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
 
১৪,০৭৩.
"সারঙ্গ" শব্দটি কোন সন্ধিতে গঠিত?
  1. স্বর
  2. নিপাতনে সিদ্ধ
  3. ব্যঞ্জন
  4. বিসর্গ
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,০৭৪.
নিচের কোনটি 'পাথার' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়?
  1. ক) অর্ণব
  2. খ) জলধি
  3. গ) তটিনী
  4. ঘ) পয়োধি
সঠিক উত্তর:
গ) তটিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তটিনী
ব্যাখ্যা
• 'পাথার' শব্দের সমার্থক শব্দ: 'অর্ণব, জলধি, পয়োধি'।   
• 'তটিনী'- নদী শব্দের সমার্থক শব্দ।    

• সমুদ্র শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- অর্ণব,
- জলধি,
- উদধি,
- পয়োধি,
-পয়োনিধি,
- তোয়ধি,
- পারাবার,
- সাগর,
- সিন্ধু,
- বারিধি,
- বারীশ,
- রত্নাকর,
- ইরাবান।  

'তটিনী' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
-  নদী
- গাঙ 
- প্রবাহিনী
- নির্ঝরিনী 
- স্রোতস্বিনী,
- স্রোতস্বতী,
- শৈবলিনী,
- সরিৎ 
- প্রবাহিণী,
- তরঙ্গিণী
- মন্দাকিনী
- কল্লোলিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ। 
১৪,০৭৫.
নিচের কোন বাক্যটি ভুল নয়?
  1. ক) সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে
  2. খ) তোমাকে দেখে আশ্চর্য হয়েছি
  3. গ) সত্য প্রমাণ হোক
  4. ঘ) সূর্য উদিত হয়েছে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্য উদিত হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্য উদিত হয়েছে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া যদি হয়েছে, হয়েছি, হবে, হচ্ছে, হলাম এরূপ হয় তবে ক্রিয়াগুলোর আগে বিশেষণ হবে।
অর্থাৎ এই ক্রিয়াগুলোর আগের শব্দটির সাথে ‘ইত’ যুক্ত হবে।
এখানে, ঘ) সূর্য উদিত হয়েছে - বাক্যটি শুদ্ধ।
বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ :
- সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে
- সত্য প্রমাণিত হয়েছে
- তোমাকে দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়েছি

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১৪,০৭৬.
'অবিশ্বাস্য ব্যাপার' অর্থে ব্যবহৃত প্রবাদ প্রবচন কোনটি? 
  1. ব্যাঙের আবার সর্দি
  2. আগুন পোহাতে ধোঁয়ায় কষ্ট
  3. মরা হাতি লাখ টাকা
  4. ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙের আবার সর্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙের আবার সর্দি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) ব্যাঙের আবার সর্দি
ব্যাঙের আবার সর্দি প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ হচ্ছে - অবিশ্বাস্য ব্যাপার। 

অপশনের অন্যান্য প্রবাদ প্রবচন ও এর অর্থ:
- 'আগুন পোহাতে ধোঁয়ায় কষ্ট' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - কষ্টের মধ্য দিয়েই ফল লাভ।
- 'মরা হাতি লাখ টাকা' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - প্রকৃত গুণিজন দুর্দশায় পড়লেও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। 
- 'ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - আকস্মিকভাবে বড় বিষয় সম্পন্নের চেষ্টা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৪,০৭৭.
'স্বর' শব্দের অর্থ কী?
  1. সুর
  2. কথিত
  3. সব
  4. তির
সঠিক উত্তর:
সুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুর
ব্যাখ্যা
• 'স্বর' শব্দের অর্থ - সুর

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অবিহিত - অন্যায়।
• অভিহিত - কথিত।
• শর - তির।
• শকল - আঁশ।
• সকল - সব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,০৭৮.
কোনটি ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ?
  1.  চলন্ত ট্রেনে উঠা বারণ।
  2. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  3. সবুজ মাঠে বাচ্চারা খেলছে।
  4. নীল আকাশের নিচে বসে আছি।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা

 ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

অন্যদিকে,
রূপবাচক বিশেষণ: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
অবস্থাবাচক বিশেষণ: চলন্ত ট্রেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪,০৭৯.
পুরাঘটিত বর্তমানকালের বিশেষ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. দুই আর দুয়ে চার হয়।
  2. কাল হরতাল হয় কিনা দেখা যাক।
  3. দেখ কী করতে পারি।
  4. সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমানের বিশেষ প্রয়োগ:
• অতীত সময় বোঝাতে:
- দশ বছর হলো তার বাবা মারা গেছেন।
- গত মাসে তাকে ঢাকায় দেখেছি।

• ভবিষ্যৎ সময় বোঝাতে:
- সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
- সে আগামীকাল কানাডা যাচ্ছে, আর ফিরছে না।

• অনুমতি গ্রহণ: যাচ্ছি তাহলে।

অন্যদিকে, 
----------------
সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
• চিরন্তন সত্য প্রকাশে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল হয়। যেমন- দুই আর দুয়ে চার হয়।
• বক্তাপক্ষ অনুজ্ঞায়: দেখ কী করতে পারি।
• অনুমতি প্রার্থনায়: এবার তবে আসি।
• অব্যবহিত ভবিষ্যৎ বোঝাতে: কাল হরতাল হয় কিনা দেখা যাক। ওষুধটা কোথায় পাওয়া যায় তা ভালো করে জেনে আসবি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০৮০.
'পল্লবী' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) কন্যা
  2. খ) কামিনী
  3. গ) গাছ
  4. ঘ) নদী
সঠিক উত্তর:
গ) গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গাছ
ব্যাখ্যা
• 'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ: গাছ, তরু, দ্রুম, সাথী, পাদপ, মহীরুহ, উদ্ভিদ, অটবি, বিটপী, পর্ণী, গাছপালা, পল্লবী।

• নারী শব্দের সমার্থক শব্দ: দারা, ধনি, রমণী, কামিনী, মহিলা, স্ত্রী, অবলা, স্ত্রীলোক, অঙ্গনা, ভাসিনী, ললনা, কান্তা, পত্নী এবং সীমন্তনী।

• কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ: দুহিতা, আত্মজা, তনয়া, সুতা, নন্দিনী, মেয়ে,দুলালী, আত্মসম্ভবা, পুত্রিকা, ঝিউরি, দুলালি, ঝি ইত্যাদি।

• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ: নদ, নদনদী, তটিনী, প্রবাহিণী, তরঙ্গিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, নির্ঝরণী, গাঙ, সরিৎ, সমুদ্রকান্তা, সমুদ্রদয়িতা, স্রোতবহা, মন্দাকিনী, স্রোতোবহ, কল্লোলিনী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,০৮১.
'রামবোকা' শব্দে 'রাম' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দিত 
  2. নিকৃষ্ট 
  3. ক্ষুদ্র 
  4. বড়
সঠিক উত্তর:
বড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়
ব্যাখ্যা

• বাংলা 'রাম' উপসর্গ যোগে বড় বা উৎকৃষ্ট অর্থে গঠিত শব্দ: রামছাগল, রামশিঙা, রামবোকা, রামদা।

------------------
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ: বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,০৮২.
'Ear-cluster' শব্দের পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. শ্রুতি-যুক্তব্যঞ্জন
  2. শ্রুতিকটুতা
  3. শ্ৰুতিমাধুর্য
  4. শ্রুতিগত
সঠিক উত্তর:
শ্রুতি-যুক্তব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রুতি-যুক্তব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• 'Ear-cluster' এর পারিভাষিক শব্দ - শ্রুতি-যুক্তব্যঞ্জন।

অন্যদিকে,
- 'Euphony' এর পারিভাষিক শব্দ - শ্ৰুতিমাধুর্য।
- 'Auditory' এর পারিভাষিক শব্দ - শ্রুতিগত।
- 'Cacophony' এর পারিভাষিক শব্দ - শ্রুতিকটুতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
১৪,০৮৩.
অঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
  1. ক) খ
  2. খ) জ
  3. গ) ড
  4. ঘ) ট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ট
ব্যাখ্যা
অঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ঢ, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।
সুতরাং, 'ট' অঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,০৮৪.
‘সব কিছু সহ্য করে এমন’ এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. সর্বসহা
  2. সহিষ্ণু
  3. স্বয়ংবরা
  4. সর্বংসহা
সঠিক উত্তর:
সর্বংসহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বংসহা
ব্যাখ্যা
• 'যে সমস্তই সহ্য করে' এর বাক্য সংকোচন - সর্বংসহা।

অন্যদিকে,
- 'যে সহ্য করতে পারে' এর বাক্য সংকোচন - সহিষ্ণু।
- ‘যে নারী নিজে বরবরণ করে নেয়’ এর বাক্য সংকোচন - স্বয়ংবরা।

• আরো কয়েকটি বাক্য সংকোচন হলো:
- উপকারীর উপকার যে স্বীকার করে না - অকৃতজ্ঞ।
- উপকারীর উপকার স্বীকার করে যে - কৃতজ্ঞ।
- 'লাভ করা ইচ্ছা' এর বাক্য সংকোচন - লিপ্সা
- 'যে বা যা হবে' এর বাক্য সংকোচন - ভাবী
- 'যা ভাবা হয়নি'এর বাক্য সংকোচন - অভাবিত
- যে নারী সূর্যকে দেখে না - অসূর্যম্পশ্যা।
- যে নারীর হাসি কুটিলতাবর্জিত - শুচিস্মিতা।
- যে নারীর হাসি সুন্দর - সুস্মিতা।
- যে নারী আনন্দ দান করে - বিনোদিনী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৮৫.
'মগজ > মজগ' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জন বিচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- মগজ > মজগ,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪,০৮৬.
'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ কী?
  1. দুর্বিনীত
  2. স্পর্ধিত
  3. সংযত
  4. বিরত
সঠিক উত্তর:
সংযত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযত
ব্যাখ্যা

• 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ - সংযত

উল্লেখ্য,
'উদ্ধত' শব্দের অর্থ - ধৃষ্ট, দুর্বিনীত, স্পর্ধিত, গর্বিত, দুরন্ত, উগ্র, গোঁয়ার।
'বিনীত' শব্দের অর্থ - বিনয়যুক্ত (বিনীত অনুরোধ), সংযত (বিনীত কণ্ঠ)।

অন্যদিকে,
'উদ্যত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিরত

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,০৮৭.
শুধু মানুষের বেলায় ব্যবহৃত নির্দেশক কোনটি?
  1. খানা
  2. জন
  3. টি
  4. খানি
সঠিক উত্তর:
জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন
ব্যাখ্যা
• '-জন' নির্দেশক:
শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন-বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।

সংখ্যার সঙ্গেও-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন-একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।

অধিক সংখ্যার বেলায় 'জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে। যেমন- পাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• -টা, -টি:
বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: টো ও-টে। যেমন-
বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

• -খানা, -খানি:
বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, খানি নির্দেশক বসে। যেমন-ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।
যেসব ক্ষেত্রে-টা বাটি বসে, সেসব ক্ষেত্রেখানা বা-খানি বসতে পারে। যেমন, বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,০৮৮.
‘চিনিপাতা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

- বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে, 

- সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 

- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ,
যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, 
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,০৮৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অদ্যবধি
  2. অত্যাধিক
  3. অতিথী
  4. অচিন্তনীয়
সঠিক উত্তর:
অচিন্তনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিন্তনীয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অচিন্তনীয়,
- বিশেষণ পদ,
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- অভাবনীয়,
- চিন্তার অতীত। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অতিথী – অতিথি। 
• অত্যাধিক – অত্যধিক। 
• অদ্যবধি – অদ্যাবধি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,০৯০.
'রাজপুত্র' কোন সমাস?
  1. ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্বপদের শেষের বিভক্তি লোপ পায়, এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন, রাজার পুত্র- রাজপুত্র।
১৪,০৯১.
কোন বাক্যে কর্তায় 'এ' বিভক্তির উদাহরণ রয়েছে? 
  1. পাগলে কি না বলে।
  2. বনে বাঘ থাকে।
  3. গুরুজনে কর নতি।
  4. অন্ধজনে দেহ আলো।
সঠিক উত্তর:
পাগলে কি না বলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাগলে কি না বলে।
ব্যাখ্যা

পাগলে কি না বলে। বাক্যে পাগলে কর্তায় ৭মী।

• কর্তা কারক:

ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে।
বাক্যের উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তিযুক্ত হয় না।
যেমন -
- অনেক গুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিলো।
- আমাকে যেতে হবে
- রাজা প্রজা পালন করে

অন্যদিকে,
- বনে বাঘ থাকে। - অধিকরণ শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
- গুরুজনে কর নতি - সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।
- অন্ধজনে দেহ আলো - সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮সংস্করণ)।

১৪,০৯২.
কারণ যোজকের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চা না-হয় কফি খান।
  2. খ) বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
  3. গ) যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
  4. ঘ) যদি রোদ উঠে, তবে রওনা দিব।
সঠিক উত্তর:
খ) বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

যোজকের প্রকারভেদ:
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৪,০৯৩.
'হাটুয়া > হাউটা' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. অন্তর্হিত
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,০৯৪.
'কোকিল' এর প্রতিশব্দ কী?
  1. পিক
  2. তুরগ
  3. সর্বভুক
  4. চিকুর
সঠিক উত্তর:
পিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিক
ব্যাখ্যা

কোকিল’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কাকপুষ্ট, পরপুষ্ট, কলকণ্ঠ, পিক, বসন্তদূত, অন্যপুষ্ট, মধুস্বর, মধুসখা।

অন্যদিকে,
- 'তুরগ' শব্দের অর্থ - ঘোড়া বা অশ্ব।
- 'সর্বভুক' শব্দের অর্থ - খাওয়ার ব্যাপারে বাছবিচার মানে না এমন, কোনোকিছু অবশিষ্ট না রেখে সবটুকু খায় এমন।
- 'চিকুর' শব্দের অর্থ - চুল, কেশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,০৯৫.
'ইতস্তত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ইত + স্তত
  2. ইতঃ + তত
  3. ইতঃ + স্তত
  4. ইতঃ + সৎ
সঠিক উত্তর:
ইতঃ + তত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতঃ + তত
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ইতঃ + তত = ইতস্তত,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,০৯৬.
বাংলা ভাষায় কয়টি বর্ণমালা রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫০টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালা হলো বাংলা ভাষা লেখার জন্য ব্যবহৃত ৫০টি অক্ষরের সুবিন্যস্ত সমষ্টি।
- বাংলা বর্ণমালার গঠন অনুযায়ী, স্বরবর্ণগুলো হলো: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
- ব্যঞ্জনবর্ণগুলো ক থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত বিস্তৃত।

- বর্ণ বলতে বোঝায় ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন। 
- স্বরবর্ণ হলো স্বরধ্বনি প্রকাশক চিহ্ন। 
- আর ব্যঞ্জনবর্ণ হলো ব্যঞ্জনধ্বনি প্রকাশক চিহ্ন।
- কোনো ভাষায় ব্যবহৃত সব লিখিত বর্ণসমষ্টিকেই বর্ণমালা বলা হয়। 
- বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে বর্ণমালা একটি।

- এই বর্ণমালায় ৩২টি পূর্ণমাত্রা, ৮টি অর্ধমাত্রা এবং ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে।
- মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি বর্ণের মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ ৩২টির মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ ৮টির মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

- বাংলা বর্ণমালা একটি সিলেবিক লিপি, যা বিশ্বের প্রধান লিখন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত।
- এই বর্ণমালায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি—অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
- বাংলা ভাষায় মোট ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- তবে এদের মধ্যে শুধুমাত্র দুটি (ঐ এবং ঔ) লিখিত রূপে পাওয়া যায়।
- বাকি ২৩টি যৌগিক স্বর কেবল উচ্চারণে ব্যবহৃত হয় এবং এদের কোনো নির্দিষ্ট লিখিত বর্ণ নেই।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪,০৯৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অহংকার
  2. অহঙ্কার
  3. অহঞ্ঝার
  4. ক ও খ দুটিই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ দুটিই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ দুটিই
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'অহংকার, অহঙ্কার'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: অহম্ + √কৃ + অ।
 অর্থ: 
- অহমিকা; গর্ব।
- আত্মচেতনা; অহংজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও অভিগম্য অভিধান। 
১৪,০৯৮.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. নিরপরাধি
  2. নিরপরাধ
  3. নিরোপরাধী
  4. নিরপরাধী
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - নিরপরাধ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অপরাধ করেনি এমন, নির্দোষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,০৯৯.
‘সুন্দর’ কোন লিঙ্গের দৃষ্টান্ত?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গ:
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
লিঙ্গ চার প্রকার। যথা :
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,১০০.
তৎপুরুষ সমাস কত প্রকারের হয়ে থাকে?
  1. ক) এগারো
  2. খ) বারো
  3. গ) নয়
  4. ঘ) তেরো
সঠিক উত্তর:
গ) নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নয়
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকারের হয়ে থাকে। 

- যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ ঘি দ্বারা ভাজা = ঘিভাজা, মন দ্বারা গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, মেঘ হতে মুক্ত = মেঘমুক্ত, ঘর হতে ছাড়া = ঘরছাড়া ইত্যাদি।

- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার। যথা:
১) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস,
২) তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস,
৩) চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস,
৪) পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস,
৫) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস,
৬) সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস,
৭) নঞ্ তৎপুরুষ সমাস,
৮) উপপদ তৎপুরুষ সমাস এবং
৯) অলুক তৎপুরুষ সমাস।

১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস : না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৮. উপপদ তৎপুরুষ সমাস : যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৯. অলুক তৎপুরুষ সমাস : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।