বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৩২ / ৩৫৪ · ১৩,১০১১৩,২০০ / ৩৫,৭১৩

১৩,১০১.
‘ছয় মাস অন্তর’ এক কথায় কী বলে?
  1. ছান্দসিক
  2. ষাণ্মাসিক
  3. ষষ্টিক
  4. ষষ্ঠাংশ
  5. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
ষাণ্মাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষাণ্মাসিক
ব্যাখ্যা
• ‘ছয় মাস অন্তর’ এক কথায় বলে- ষান্মাসিক।

অন্যদিকে,
• ‘ছন্দে নিপুন যিনি’ এক কথায় - ছান্দসিক।
• ‘৬০ দিনে পাকে এমন (ধান)’ এক কথায় - ষষ্টিক।
• ‘চয় ভাগের এক ভাগ’ এক কথায় - ষষ্ঠাংশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,১০২.
'পাউরুটি' শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফারসি
  2. ফরাসি
  3. তুর্কি
  4. ইতালিয়ান
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়
- 'পাউরুটি' শব্দটি 'পর্তুগিজ' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি,
- বালতি ইত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

১৩,১০৩.
নিচের কোনটি পদাশ্রিত নির্দেশক নয়?
  1. -জন
  2. -তম
  3. -খানা
  4. -টি
সঠিক উত্তর:
-তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-তম
ব্যাখ্যা

-তম পদাশ্রিত নির্দেশক নয়।

• নির্দেশক:

যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

• -টা, -টি:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে।
- এর দুটি রূপান্তর:-টো ও -টে।
যেমন-
- বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা ইত্যাদি।

• -খানা, -খানি:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, খানি নির্দেশক বসে।
যেমন-
- ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।

• -জন:
- শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন-
- বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন ইত্যাদি।

-টুকু:
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়।
- এর রূপভেদ:-টু বা-টুক।
যেমন-
সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, , একটু, আধটু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।

১৩,১০৪.
'গড্ডলিকা প্রবাহ' বাগ্‌ধারার অর্থ - 
  1. দৃঢ় সংকল্প
  2. তৎক্ষণাৎ
  3. অন্ধ অনুকরণ
  4. পলায়ন করা
সঠিক উত্তর:
অন্ধ অনুকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধ অনুকরণ
ব্যাখ্যা

• 'গড্ডলিকা প্রবাহ' বাগ্‌ধারার অর্থ - অন্ধ অনুকরণ

অন্যদিকে,
কোমর বাঁধা - দৃঢ় সংকল্প।
গরম গরম - তৎক্ষণাৎ।
গা ঢাকা দেওয়া - পলায়ন করা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১৩,১০৫.
‘তোলা হাঁড়ি’ বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. গম্ভীর
  2. মূর্খ
  3. অকর্মণ্য
  4. নাছোড়বান্দা
  5. পেটুক মানুষ
সঠিক উত্তর:
গম্ভীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গম্ভীর
ব্যাখ্যা
• ‘তোলা হাঁড়ি’ বাগ্‌ধারা অর্থ - গম্ভীর।

অন্যদিকে,
• ‘নাড়াবুনে’ অর্থ - মূর্খ।
• ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ অর্থ - অকর্মণ্য।
• ‘চিনে জোঁক’ অর্থ - নাছোড়বান্দা।
• ‘খুদে রাক্ষস’ অর্থ - পেটুক মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১০৬.
'আকুঞ্চন' এর বিপরীত শব্দ কি?
  1. নিকুঞ্চন
  2. বিকুঞ্চন
  3. প্রসারণ
  4. নিঃসরণ
সঠিক উত্তর:
প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রসারণ
ব্যাখ্যা

• 'আকুঞ্চন' এর বিপরীত শব্দ প্রসারণ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:

- 'গ্রহণ' শব্দের বিপরীত শব্দ - বর্জন। 
- 'গ্রাহ্য' শব্দের বিপরীত শব্দ - অগ্রাহ্য।
- 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত 
- 'অনুমেয়' এর বিপরীত শব্দ - অননুমেয় 
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত 
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত 
- 'দরদি' এর বিপরীত শব্দ - নির্দয় 
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ - বিনীত 
- 'উগ্র' এর বিপরীত শব্দ - মৃদু / সৌম্য 
- 'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ - বিনয় 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।

১৩,১০৭.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. উষ্ণ
  2. রুক্মিণী
  3. ভাষণ
  4. ক্রন্দণ
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দণ
ব্যাখ্যা
⇒ ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন:পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ‘ন’ কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,১০৮.
'এখন গোল্লায় যাও।' বাক্যেটিতে ক্রিয়াপদটি-
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. মিশ্র ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. নামধাতু
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন-
• আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
• এখন গোল্লায় যাও।
• তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
• মাথা ঝিম্ ঝিম্ করছে।
• ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,১০৯.
বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়ে ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা থাকে?
  1. বাক্যতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. ধ্বনিতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,১১০.
'নিকুঞ্জ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) পাখির বাসা
  2. খ) জঙ্গল
  3. গ) বাগান
  4. ঘ) খড়ের ঘর
সঠিক উত্তর:
গ) বাগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাগান
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
নিকুঞ্জ (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: নি +√গুন্‌জ্‌+অ (ঘঞ্‌)।
অর্থ:
- বাগান,
- বনে বা উদ্যানে লতাদি দ্বারা আবৃত যায়গা,
- লতাগৃহ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,১১১.
'বাঘা' শব্দে 'আ' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ব্যতীত বাকি প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
বাঘ + আ = বাঘা;
ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা,
ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন -
অণু + ইক = আণবিক,
পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন :
√ নাচ্ + অন = নাচন;
√ ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১১২.
'তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - বাক্যে 'মধু' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- তবু যেন তা মধুতে মাখা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,১১৩.
'হাতি'  শব্দের সমার্থক শব্দ - 
  1. বারণ
  2. তুরঙ্গ
  3. বাজী
  4. অশ্ব
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বারণ
ব্যাখ্যা

'হাতি'  শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ, পিল।

অন্যদিকে,
‘ঘোড়া’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অশ্ব, ঘোটক, হয়, বাজী, তুরঙ্গ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,১১৪.
সর্বনামের অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে এবং তাঁকে দেখতে আসা ডাক্তারকে শাসিয়েছে।
  2. খ) তিনি চান, তারা তাদের পছন্দমতো পেশা বেছে নিক।
  3. গ) অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
  4. ঘ) সবকটি।
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ব্যাখ্যা
‘অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি’- বাক্যটিতে সর্বনামের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
 বাক্যটির শুদ্ধ প্রয়োগ: টেলিফোনে যোগাযোগ করেও অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি।

অন্য বাক্যগুলি শুদ্ধ প্রয়োগ। এদের অশুদ্ধ রূপ: 

অশুদ্ধ: দুষ্কৃতকারীরা তিনি ও তাঁকে দেখতে আসা ডাক্তারকে শাসিয়েছে।
শুদ্ধ: দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে এবং তাঁকে দেখতে আসা ডাক্তারকে শাসিয়েছে।

অশুদ্ধ: তিনি চান, তারা তার পছন্দমতো পেশা বেছে নিক।
শুদ্ধ: তিনি চান, তারা তাদের পছন্দমতো পেশা বেছে নিক।

উৎস : উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১১৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. সমীহীত
  2. সমীহিত
  3. সমিহিত
  4. সমিহীত
সঠিক উত্তর:
সমীহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীহিত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: সমীহিত। 
- বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- চেষ্টিত।
- অভীষ্ট, ঈপ্সিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৩,১১৬.
নিচের কোন শব্দটি বিশেষণ?
  1. জগৎ
  2. উন্নয়ন
  3. সৌন্দর্য
  4. জাগতিক
সঠিক উত্তর:
জাগতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাগতিক
ব্যাখ্যা
• জগৎ (বিশেষ্য,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী, সমাজ।
- জগৎ শব্দের বিশেষণ: জাগতিক।

• 'উন্নয়ন'- শব্দটি বিশেষ্য। 
- উন্নয়ন এর বিশেষণ পদ- উন্নীত।

• সৌন্দর্য (বিশেষ্য):
অর্থ -
১ রূপ; মনোহর রূপমাধুরী (দৈহিক সৌন্দর্য)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৩,১১৭.
'বেল পাকলে কাকের কী' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ কী?
  1. অন্তর্বেদনা
  2. দীর্ঘসূত্রতা
  3. আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া
  4. বুড়ো বয়সে অপকর্ম করা
সঠিক উত্তর:
আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া
ব্যাখ্যা

• 'বেল পাকলে কাকের কী' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া

অন্যদিকে,
বুকের মাঝে ঢেকির পাড় - অন্তর্বেদনা।
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ - বুড়ো বয়সে অপকর্ম করা।
আঠারো মাসে বছর - দীর্ঘসূত্রতা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৩,১১৮.
'জ্ঞানী লোক সকলের সম্মান পান।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. যৌগিক
  3. সরল
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যথা:
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। এখানে 'জ্ঞানী লোক' উদ্দেশ্য এবং 'সকলের শ্রদ্ধার পাত্র' বিধেয়।

এইরূপ
- জ্ঞানী লোক সকলের সম্মান পান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,১১৯.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. ক) ইন্দ্রজালিক
  2. খ) ঐন্দ্রজালিক
  3. গ) ঈন্দ্রজালিক
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
গ) ঈন্দ্রজালিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈন্দ্রজালিক
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান গুলো হচ্ছে - ইন্দ্রজালিক, ঐন্দ্রজালিক।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১৩,১২০.
'কদ্‌বেল' কোন উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) বিদেশী
  2. খ) তৎসম
  3. গ) বাংলা
  4. ঘ) তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- শব্দ বা ধাতুর পূর্বে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন,সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটিয়ে থাকে।
- এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ।

বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী উপসর্গ ৩ প্রকার: 
- সংস্কৃত
- বাংলা
- বিদেশী 

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
- বাংলা উপসর্গ বাংলা শব্দ বা ধাতুর পূর্বে বসে।

কদ্‌ 
অর্থদ্যোতকতা - নিন্দিত
উদাহরণ - কদ্‌বেল, কদর্য, কদাকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৩,১২১.
'অদ্রি' শব্দটির সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) সোম
  2. খ) মেদিনী
  3. গ) অচল
  4. ঘ) ভানু
সঠিক উত্তর:
গ) অচল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অচল
ব্যাখ্যা
পর্বত শব্দটির সমার্থক শব্দ হলো অচল, অদ্রি, গিরি, পাহাড়, ভূধর, শৈল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৩,১২২.
"হররোজ" - শব্দের উপসর্গ 'হর' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অধীন
  2. প্রত্যেক
  3. মধ্যস্থ
  4. আধা
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেক
ব্যাখ্যা

• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ - 'হর'। 
- 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
উদাহরণ:
- হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা। 
---------------
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উর্দু-হিন্দি উপসর্গ - 'হর'। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম) : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,১২৩.
নিচের কোন শব্দটিতে উপসর্গ রয়েছে?
  1. সুন্দর
  2. অয়ন
  3. অজানা
  4. নমুনা
সঠিক উত্তর:
অজানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজানা
ব্যাখ্যা
অজানা→ উপসর্গযুক্ত শব্দ
এখানে, 
অজানা → শব্দটিতে "অ" একটি উপসর্গ (অভাব অর্থে ব্যবহৃত) + "জানা" (মূল শব্দ)।

অন্যদিকে, 
সুন্দর → এখানে কোনো উপসর্গ নেই।
অয়ন → "অয়ন" একটি স্বতন্ত্র শব্দ, এতে উপসর্গ নেই।
নমুনা → এটি একটি স্বতন্ত্র শব্দ, এখানে কোনো উপসর্গ নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১২৪.
নিচের কোনটি  'অশ্ব' এর সমার্থক শব্দ নয়? 
  1. বাজী 
  2. সৈয়দ 
  3. তুরঙ্গ 
  4. টাঙন 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সৈয়দ ঘোড়ার সমার্থক শব্দ নয়।
• সৈয়দ অর্থ- পদবিবিশেষ।

‘ঘোড়া’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অশ্ব, ঘোড়া,  ঘোটক,  হয়,  বাহ, বাজী, তুরঙ্গ, মরুদ্রথ, বামী, টাঙন  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৩,১২৫.
কোনটি অন্তঃস্থ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• অন্তঃস্থ ধ্বনি:
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র, ল, ব- এই ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

অন্যদিকে, 
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ। 
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৩,১২৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. জলচ্ছাস
  2. জলোচ্ছাস
  3. জলোচ্ছ্বাস
  4. জলোচ্চাস
সঠিক উত্তর:
জলোচ্ছ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সঠিক বানান হলো - জলোচ্ছ্বাস।


উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,১২৭.
কোনটি অনুকার অব্যয়?
  1. ক) কড় কড়
  2. খ) মর মর
  3. গ) ঝম ঝম
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে। যথা- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়, বৃষ্টির তুমুল শব্দ- ঝম ঝম, শুষ্ক পাতার শব্দ- মর মর, বাতাসের গতি-, শন শন, কোকিলের রব- কুহু কুহু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১২৮.
'প্রসন্ন' এর বিপরীত শব্দ -
  1. বিবাদ
  2. বিষাদ
  3. বিষণ্ণ
  4. নিন্দিত
সঠিক উত্তর:
বিষণ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষণ্ণ
ব্যাখ্যা
• 'প্রসন্ন' এর বিপরীত শব্দ - বিষণ্ণ

অন্যদিকে,
- 'নন্দিত' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ - নিন্দিত।
- 'হর্ষ/হরিষ' এর বিপরীত শব্দ - বিষাদ।
- 'সন্ধি' এর বিপরীত শব্দ - বিগ্রহ/বিবাদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১২৯.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. প্রৌঢ়
  2. গবেষণা
  3. শুদ্ধোদন
  4. মার্তণ্ড
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ নয়- গবেষণা। 
 
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
স্বরবর্ণ পরে থাকলে এ-কাজের স্থানে অয়, ঐ কারের স্থানে আয়, ও-কারের স্থানে অব এবং ঔ-কারের স্থানে আব হয়।
যেমন:
- পৌ + অক = পাবক;
- গো + এষণা = গবেষণা। 

--------------
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন :
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়);
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়);
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়);
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড;
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,১৩০.
"শিরে সংক্রান্তি" বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. একমাত্র সম্পদ
  2. সামনেই বিপদ
  3. অনিষ্টকর আত্মীয়
  4. সামান্য সংগতি
সঠিক উত্তর:
সামনেই বিপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামনেই বিপদ
ব্যাখ্যা

• "শিরে সংক্রান্তি" বাগ্‌ধারার অর্থ - সামনেই বিপদ

অন্যদিকে,
সবেধন নীলমণি - একমাত্র সম্পদ।
শকুনি মামা - অনিষ্টকর আত্মীয়।
লোটাকম্বল - সামান্য সংগতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৩১.
'Lease' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. জামানত
  2. পাট্টা
  3. আমানত
  4. বন্ধক
সঠিক উত্তর:
পাট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাট্টা
ব্যাখ্যা
• 'Lease' এর বাংলা পরিভাষা — ইজারা, পাট্টা।

আরো কয়েকটি বাংলা পরিভাষা:
• 'Incumbent' এর বাংলা পরিভাষা: 'পদধারী'।
• 'Assailant'- এর বাংলা পরিভাষা 'আক্রমণকারী', 
• 'Evaluation'- এর বাংলা পরিভাষা: 'মূল্যায়ন', 
• 'Arsenal'- এর বাংলা পরিভাষা: 'অস্ত্রাগার'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৩,১৩২.
ভাষার প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করে-
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. ব্যাকরণ
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা ব্যাকরণের কাজ।

অন্যদিকে, 
---------------
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।

• রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

• বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়। এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)। 

১৩,১৩৩.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) সপ্তমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
'বিয়েপাগলা' চতুর্থী তৎপুরুষ এর উদাহরণ।

যে সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পর পূর্বপদে বিদ্যমান দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতু্র্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী প্রভৃতি বিভক্তি লোপ পায় এবং সমস্তপদে পরপদের অর্থ প্রাধান্য লাভ করে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যেমন - কলাকে বেচা = কলাবেচা।

বিভক্তি, বিভক্তি লোপ, বিভক্তি-আলোপ ও প্রকৃতি অনুসারে তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার:

- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
- তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
- চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
- পঞ্চমী  তৎপুরুষ সমাস
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
- সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
- নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
- উপপদ  তৎপুরুষ সমাস
 -অলুক  তৎপুরুষ সমাস

পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি অর্থ্যাৎ 'কে রে' প্রভৃতি বিভক্তিচিহ্ন লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
- অন্নের জন্য চিন্তা = অন্নচিন্তা,
- মুক্তির জন্য যুদ্ধ = মুক্তিযুদ্ধ।
- বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগলা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
১৩,১৩৪.
নিচের কোন শব্দটি অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ ছিলো?
  1. গ্রহ
  2. ঘােড়া
  3. চাউল
  4. চাঁপা
সঠিক উত্তর:
চাউল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাউল
ব্যাখ্যা
• অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ যা দেশি শব্দ নামে পরিচিত এমন শব্দটি- চাউল। 
----------------- 
• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। 
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি।
- তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।
- দেশী শব্দের উদাহরণ-
পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঘােড়া- তদ্ভব শব্দ। 
গ্রহ, চাঁপা- তৎসম শব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,১৩৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. তীক্ষ্মদৃষ্টি
  2. তিলোওমা
  3. তিরষ্কৃত
  4. তিতীর্ষু
সঠিক উত্তর:
তিতীর্ষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতীর্ষু
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: তিতীর্ষু,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পার হতে উচ্ছুক, তরণেচ্ছু।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• অশুদ্ধ: তীক্ষ্মদৃষ্টি।
• শুদ্ধ বানান: তীক্ষ্ণদৃষ্টি (বিশেষণ পদ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সতর্ক দৃষ্টিসম্পন্ন।

• অশুদ্ধ: তিলোওমা।
• শুদ্ধ বানান: তিলোত্তমা (বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ উভয়ই)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পরমা সুন্দরী।

• অশুদ্ধ: তিরষ্কৃত।
• শুদ্ধ বানান: তিরস্কৃত (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: অবজ্ঞাত, নিন্দিত, র্ভৎসনা করা হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,১৩৬.
"যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।" - যৌগিক বাক্যের রূপান্তর কোনটি?
  1. তুমি গেলে তার দেখা পাবে।
  2. তুমি গিয়ে তার দেখা পেতে পার।
  3. সেখানে তুমি গেলে, তার দেখা পাবে।
  4. তুমি যাবে এবং তার দেখা পাবে।
সঠিক উত্তর:
তুমি যাবে এবং তার দেখা পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি যাবে এবং তার দেখা পাবে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
 
• "যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।" — এটি একটি জটিল বাক্য, কারণ এখানে "যদি–তবে" সাপেক্ষ যোজক ব্যবহার হয়েছে।

এখন একে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে দুটি স্বাধীন বাক্য ব্যবহার করতে হবে এবং যৌগিক যোজক (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা, না হলে, তাই, তাহলে ইত্যাদি) ব্যবহার করতে হবে।

যৌগিক রূপান্তর হতে পারে এইরকম:
- তুমি যাবে এবং তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,১৩৭.
সংযুক্ত বর্ণের কোন রূপটি সঠিক নয়?
  1. ক্‌ + ষ = ক্ষ
  2. ন্‌ + ড = ণ্ড
  3. ষ্‌ + ণ = ষ্ণ
  4. হ্‌ + ণ = হ্ণ
সঠিক উত্তর:
ন্‌ + ড = ণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্‌ + ড = ণ্ড
ব্যাখ্যা
• সংযুক্ত বর্ণের 'ন্‌ + ড = ণ্ড' রূপটি সঠিক নয়।
- ‘ণ্ড’ যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে (ণ্‌ + ড) বর্ণ যোগে।

ণ্ড - সহযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- গণ্ডগোল, পাণ্ডব, ভণ্ড ইত্যাদি।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- ক্‌ + ষ = ক্ষ,
- হ্‌ + ম = হ্ম,
- ঙ্‌ + ক্‌ + ষ = ঙ্ক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৩৮.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) পদ্ম : শতদল
  2. খ) বৃক্ষ : দ্রুম
  3. গ) আলো : ময়ূখ
  4. ঘ) সমুদ্র : জলদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমুদ্র : জলদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমুদ্র : জলদ
ব্যাখ্যা
সমুদ্র শব্দের প্রতিশব্দ - অর্ণব, জলধি, জলনিধি, পারাবার, বারিধি, রত্নাকর, সাগর, সিন্ধু। অন্যদিকে জলদ শব্দের অর্থ মেঘ। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
১৩,১৩৯.
নিচের কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) পদান্বয়
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) পদান্বয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদান্বয়
ব্যাখ্যা
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকে।
যথা - আকাঙ্খা, আসত্তি ও যোগ্যতা

- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য একপদের পর অন্যপদ শোনার যে আগ্রহ জাগে, তাকে বলা হয় আকাঙ্খা।

- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খলভাবে পদবিন্যাসকেই বলা হয় আসত্তি।
মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যের পদগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে অর্থ প্রকাশে বাধার সৃষ্টি না করে।

- বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।

[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
১৩,১৪০.
'ক্ষুৎপিপাসা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে 'দ্বন্দ্ব' শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- আলো ও ছায়া = আলোছায়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১৪১.
পূর্বপদে (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে কোন তৎপুরুষ সমাস বলে?
  1. পঞ্চমী 
  2. দ্বিতীয়া
  3. তৃতীয়া
  4. চতুর্থী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

 অন্যদিকে,
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,১৪২.
নিচের কোনটি 'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক নয়?
  1. ক্ষিতি
  2. মর্ত্য
  3. ধরণী
  4. অচল
সঠিক উত্তর:
অচল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচল
ব্যাখ্যা
'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জগৎ, ভুবন, সংসার, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, বসুন্ধরা, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভূ, ভূমণ্ডল, মর্ত্য, বসুধা, অবনী, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি

অন্যদিকে,
'পাহাড়' এর সমার্থক শব্দ:
- পর্বত, ভূধর, অচল, অদ্রি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,১৪৩.
“আশীবিষ”-এর অর্থ কী?
  1. ক) ভুজঙ্গ
  2. খ) মার্তন্ড
  3. গ) হুতাশন
  4. ঘ) মাতঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ক) ভুজঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভুজঙ্গ
ব্যাখ্যা
সাপ এর সমার্থক শব্দ - সর্প, ফণী, ভুজঙ্গ, অহি, পন্নগ, নাগ, উরগ, আশীবিষ, ভুজঙ্গম, ফণাধর, বিষধর, বায়ুভুক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,১৪৪.
'শুকনা' এর চলিতরূপ কোনটি?
  1. শুষ্ক
  2. শুকানো
  3. শুকনো
  4. শুকনা
সঠিক উত্তর:
শুকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকনো
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষারীতি:
- বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি, অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
- বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি: একটি চলিত রীতি, অপরটি সাধু রীতি।

• সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
- সাধু ⇒ চলিত
- মস্তক ⇒ মাথা;
- জুতা ⇒ জুতো;
- তুলা ⇒ তুলো;
- শুষ্ক / শুকনা ⇒ শুকনো;
- বন্য ⇒ বুনো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,১৪৫.
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. পাঁচ
  2. চার
  3. তিন
  4. দুই
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।

বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনাে কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,১৪৬.
নিচের কোনটি ব্যতিহারিক সর্বনাম?
  1. ক) আপসে
  2. খ) স্বয়ং
  3. গ) ওরা
  4. ঘ) সকল
সঠিক উত্তর:
ক) আপসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আপসে
ব্যাখ্যা
ব্যাতিহারিক সর্বনাম - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি। খোদ, স্বয়ং আত্মবাচক সর্বনাম। সব, সকল - সাকুল্যবাচক সর্বনাম। আমি, আমরা, তুমি, ওরা, তারা ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৩,১৪৭.
অপোগণ্ড' শব্দের অর্থ-
  1. অযোগ্য
  2. অল্পবয়স্ক
  3. অপদার্থ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান অনুসারে, 
'অপোগণ্ড' (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ- 
- অপদার্থ,
- অল্পবয়স্ক;
- নাবালক, 
- অযোগ্য ইত্যাদি। 

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ:
• চয়ন- সংকলন,
• শশাঙ্ক- চাঁদ,
• পেটোয়া- অনুগত,
• হরিৎ- সবুজ,
• রাতুল- লাল,
• অয়ন- পথ,
• ইত্তেফাক- সম্প্রীতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৪৮.
'তামার বিষ'- বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অর্থের কু-প্রভাব
  2. মুখে মধু অন্তরে বিষ
  3. দেখতে সুন্দর কিন্তু অকর্মা
  4. জ্ঞানহীনের বৃথা আস্ফালন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অর্থের কু-প্রভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থের কু-প্রভাব
ব্যাখ্যা

• 'তামার বিষ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- অর্থের কুপ্রভাব
উদাহরণ - তোমাকে তামার বিষে পেয়েছে বলে মানুষকে মানুষ বলে মনে কর না। 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- তালপাতার সেপাই - রুণ/ছিপছিপে।
- তীর্থের কাক - সাগ্রহে প্রতীক্ষাকারী।
- তালকানা - কান্ডজ্ঞানহীন।
- তাসের ঘর - ক্ষণস্থায়ী।
- তালগোল পাকানো - জটপাকানো।
- তিলেতিলে - ধীরে ধীরে।
- তুর্কি-নাচন - হুলুস্থুল অবস্থা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৪৯.
‘নিশপিশ করা’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অরুচি হওয়া
  2. খ) উসখুস করা
  3. গ) ধ্বংস করা
  4. ঘ) সংশোধন করা
সঠিক উত্তর:
খ) উসখুস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উসখুস করা
ব্যাখ্যা

’নিশপিশ করা’ বাগধারাটি উসখুস করা অর্থে ব্যবহৃত হয়।
তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মাহমুদ

১৩,১৫০.
বাংলা উচ্চারণে ‘এ’ ধ্বনির কয় প্রকার উচ্চারণ আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা

- বাংলা উচ্চারণে ‘এ’ ধ্বনির ২ প্রকার উচ্চারণ রয়েছে।
যথা- এ এবং এ্যা।
- উদাহরণঃ একটি > একটি; এক > এ্যাক' ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৩,১৫১.
নিচের কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়?
  1. দাঁড়ি চিহ্ন
  2. কোলন
  3. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  4. বিষ্ময় চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• ‘কোলন’ প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়।

- বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন।
- এগুলো হলো: দাঁড়ি চিহ্ন, প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং বিস্ময় চিহ্ন।
- এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

দাঁড়ি (।):
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
 যেমন:
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

প্রশ্নচিহ্ন (?):
- সাধারণত কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে প্রশ্নচিহ্ন বসে।
 যেমন:
- তারা কখন এসেছে?
- বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কী?

বিস্ময়চিহ্ন (!):
- সাধারণত বিস্ময়, দুঃখ, আনন্দ ইত্যাদি প্রকাশের জন্য বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- মানে কী! সে আর চাকরি করবে না!
- তার গানের কণ্ঠ দারুণ!

অন্যদিকে, 
কোলন (:):
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য ।
- সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,১৫২.
'প্রত্যেক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোন সূত্রযোগে গঠিত?
  1. ক) অ/আ+অন্য স্বর
  2. খ) এ+অন্য স্বর
  3. গ) ই/ঈ+অন্য স্বর
  4. ঘ) এ+অন্য স্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ই/ঈ+অন্য স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ই/ঈ+অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
ই/ঈ + অন্য স্বর = য্‌ + স্বর 
যেমন, প্রতি+এক = প্রত্যেক 

ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়। 
অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
ইতি + আদি = ইত্যাদি,
প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,১৫৩.
"আ" প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. অরণ্যানী
  2. চাকরানি
  3. ঠাকুরানি
  4. মাননীয়া
সঠিক উত্তর:
মাননীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাননীয়া
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ প্রিয়-প্রিয়া,
→ প্রবীণ-প্রবীণা,
→ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
মাননীয়-মাননীয়া,
→ শিষ্য-শিষ্যা,
→ সরল-সরলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
শব্দের শেষে '-আনি'/ 'আনী' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- চাকর-চাকরানি, 
- ঠাকুর- ঠাকুরানি, 
- অরণ্য- অরণ্যানী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,১৫৪.
'অজমূর্খ' শব্দের 'অজ' কোন জাতের উপসর্গ?
  1. তৎসম 
  2. আরবি
  3. খাঁটি বাংলা
  4. ফারসি
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা

• 'অজ' খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে 'নিতান্ত (মন্দ)' অর্থে গঠিত শব্দ - অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর। 

----------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩,১৫৫.
নিচের কোন শব্দের ধ্বনি পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে?
  1. জন্ম >জম্ম
  2. কবাট >কপাট
  3. শরীর > শরীল
  4. পাকা > পাক্কা
সঠিক উত্তর:
শরীর > শরীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরীর > শরীল
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন (Dissimilation):
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমীভবন (Assimilation):

- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে।এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম >জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:

- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট >কপাট, ধোবা >ধোপা, ধাইমা >দাইমা ইত্যাদি।

• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন (Long Consonant) বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন: পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩,১৫৬.
'সপ্তর্ষি' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী,
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি,
- সপ্ত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১৫৭.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজলকালো
  2. সিংহপুরুষ
  3. চন্দ্রমুখ
  4. পদ্মআঁখি
সঠিক উত্তর:
কাজলকালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলকালো
ব্যাখ্যা
• 'কাজলের মতো কালো' = 'কাজলকালো' উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
---------------------------- 
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন - 
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৩,১৫৮.
কোনটি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. যথাসময়ে
  2. কোথাও
  3. যে
  4. সামনে
সঠিক উত্তর:
যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।

যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - কোথাও, সামনে।
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - যথাসময়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,১৫৯.
‘নীল যে আকাশ = নীলাকাশ’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস: 
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে অম্বর = নীলাম্বর।
- নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- রক্ত যে কমল = রক্তকমল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।  
১৩,১৬০.
'ইচ্ছুক' শব্দটিতে কোন প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে?
  1. ইক
  2. অক
  3. আক
  4. উক
সঠিক উত্তর:
উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উক
ব্যাখ্যা
• ‘ইচ্ছুক' শব্দটিতে 'উক' প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে।
 
• 'ইচ্ছুক' শব্দটিতে 'উক' প্রত্যয়টি কর্মসম্পাদনকারী বা কর্মসম্পাদনের প্রকৃতি বোঝাতে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।

এমন আরো কিছু শব্দ:
মিথ্যুক= মিথ্যা+ উক;
পেটুক= পেট+ উক;
মিশুক= মিশ+ উক;
লাজুক= লাজ+ উক ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১৬১.
কোন শব্দটির অর্থ 'প্রবল আগ্রহী'?
  1. উদ্‌গ্রীব
  2. চঞ্চল
  3. অস্থির
  4. অপলক
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উদ্‌গ্রীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্‌গ্রীব
ব্যাখ্যা
• 'উদ্‌গ্রীব' শব্দের অর্থ - অত্যন্ত আগ্রহান্বিত, ব্যগ্র, ব্যাকুল, উৎকণ্ঠিত।

অন্যদিকে,
- 'চঞ্চল' শব্দের অর্থ - অস্থির, ছটফটে, চপল, অশান্ত।
- 'অপলক' শব্দের অর্থ - পলকহীন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩,১৬২.
'ঢিপি' কী ধরনের শব্দ?
  1. ক) দেশী
  2. খ) বিদেশী
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) প্রাকৃত
সঠিক উত্তর:
ক) দেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দেশী
ব্যাখ্যা

দেশি শব্দ:
- আর্য জাতি বাংলা দেশে আসার আগে দ্রাবিড়, অস্ট্রিক প্রভৃতি যে-সব প্রাক্-আর্য জাতি এদেশে বসবাস করত তাদের ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় রয়ে গেছে। সে-সব শব্দরাজিই ‘দেশি' শব্দ। অর্থাৎ সংস্কৃতের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য, বাংলা দেশের আদিম অধিবাসীদের ভাষার শব্দাবলিকে ‘দেশি শব্দ’ বলা হয়।
যেমন : কুড়ি (কোল ভাষা), পেট (তামিল ভাষা) , চুলা (মুণ্ডারি ভাষা)।
এরকম- খুঁটি , ঝিঙে, চিংড়ি, চাল, ট্যাংরা, ডিঙা, ঢিল , ঢিপি, ঝাটা, মুড়ি, মুড়কি, চেঁকি, ঢােল, ঝােল, ডাহা, ডাঙা, বঁটি, কামড়, দোয়েল, ফিঙে, খাঁচা, খড়, কুলা, গাড়ি, ঘােড়া, ঘােমটা, আঁকা, ধামা, বােঝা, চোঙ্গা, চাঙ, টোপর, ডাব ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,১৬৩.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) অহঃ + নিশ = অহর্নিশ
  2. খ) নি + কর = নিষ্কর
  3. গ) প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়
  4. ঘ) সন্ + চয় = সঞ্চয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়
ব্যাখ্যা
প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। অহর্নিশ = অহঃ + নিশা, নিষ্কর = নিঃ + কর, সঞ্চয় = সম্ + চয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৩,১৬৪.
'নয় ছয়' বাগ্‌ধারার সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. ব্যর্থতা
  2. অলসতা
  3. অপচয় বা বিশৃঙ্খলা
  4. দুষ্টুমি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অপচয় বা বিশৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপচয় বা বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
• 'নয় ছয়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপচয় বা বিশৃঙ্খলা। 
বাক্য গঠন: সে বাড়ি বিক্রির টাকাগুলো নয় ছয় করে ফেলল।

আরো কয়েকটি বাগ্‌ধারা:
- 'তালপাতার সেপাই' বাগ্‌ধারার অর্থ - ছিপছিপে।
- 'নয়-ছয়' বাগ্‌ধারার অর্থ - অপব্যবহার।
- 'টাকার গরম' বাগ্‌ধারার অর্থ - বিত্তের অহংকার।
- 'আকাশের চাঁদ' বাগ্‌ধারার অর্থ - দুর্লভ বস্তু।
- 'উড়নপেকে' বাগ্‌ধারার অর্থ - অপব্যয়ী।
- ‘নয় ছয়’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অপব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৬৫.
সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম-
  1. সমাস
  2. সন্ধি
  3. প্রকৃতি
  4. কারক
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
ব্যাখ্যা

• সন্ধি:
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি
যেমন
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- হিম + আলয়  = হিমালয়।

• সন্ধির উদ্দেশ্য:
- সন্ধির উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণে সহজপ্রবণতা এবং
-  ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। যেমন- 'আশা' ও

- 'অতীত' উচ্চারণে যে আয়াস প্রয়োজন, 'আশাতীত' তার চেয়ে অল্প আয়াসে উচ্চারিত হয়।
- সেরূপ 'হিম আলয়' বলতে যেরূপ শোনা যায়, 'হিমালয়' তার চেয়ে সহজে উচ্চারিত এবং শ্রুতিমধুর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩,১৬৬.
সমাহার বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে কী সমাস বলে?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী,
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১৬৭.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. দ্যুলোক
  2. গবাক্ষ
  3. কুলটা
  4. স্বৈর 
সঠিক উত্তর:
দ্যুলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্যুলোক
ব্যাখ্যা

দ্যুলোক = দিব্‌ + লোক- নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি হলো সেই ধরনের ব্যঞ্জনসন্ধি যা সাধারণ ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসরণ করে না।
- এগুলি বিশেষ নিয়ম বা ব্যতিক্রম অনুসারে গঠিত হয়।
- সাধারণত এই ধরনের সন্ধি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ থেকে আসে এবং এগুলির জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।

• কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ:
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি;
- ষোড়শ = ষট্ + দশ;
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি;
- পহরিশ্চন্দ্র = হরি + চন্দ্র;
- তস্কর = তৎ + কর;
- আশ্চর্য = আ + চর্য;
- আস্পদ = আ + পদ;
- বিশ্বামিত্র = বিশ্ব+ মিত্র;
- গোষ্পদ = গো + পদ;
- দ্যুলোক = দিব্‌ + লোক;
- পশ্চার্ধ = পশ্চাৎ + অর্ধ;
- দ্যুমণি = দিক্ + মণি;
- একাদশ = এক + দশ;
- ব্রাগেশ্বরী = বাক্ + ঈশ্বরী।

অন্যদিকে, 
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ, কুলটা = কুল + অটা, স্বৈর = স্ব +ঈর- নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,১৬৮.
'বাড়ছে যা' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. বিবমিষা
  2. বর্ধমান
  3. বৈদিক
  4. বিবক্ষা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
ব্যাখ্যা
• 'বাড়ছে যা' এর এক কথায় প্রকাশ - বাড়ন্ত, বর্ধমান

অন্যদিকে,
বেদ সম্বন্ধীয় - বৈদিক।
বলবার ইচ্ছা - বিবক্ষা।
বমন করার ইচ্ছা - বিবমিষা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১৬৯.
‘যশস্বী’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. যশঃ + বি
  2. যশো + বিন্
  3. যশঃ + বিন্
  4. যশো + বী
সঠিক উত্তর:
যশঃ + বিন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশঃ + বিন্
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন্ = তেজস্বী;
- যশঃ + বিন্ = যশস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,১৭০.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দের উদাহরণ নয়?
  1. রাজপুত
  2. মহাযাত্রা
  3. প্রবীণ
  4. জলধি
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
ব্যাখ্যা

যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
কতগুলো রূঢ়ি শব্দ হচ্ছে - হস্তী, গবেষণা, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।
প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যাক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
যোগরূঢ় শব্দ: সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি ইত্যাদি।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী

১৩,১৭১.
'আবলি’ লগ্নক যোগে বহুবচনের সঠিক উদাহরণ কোনটি?
  1. শৈবালাবলি
  2. দর্শকাবলি
  3. পুস্তকাবলি
  4. শিক্ষকাবলি
সঠিক উত্তর:
পুস্তকাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুস্তকাবলি
ব্যাখ্যা
• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ। 
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বহুবচনবোধক শব্দ:
● শৈবালাবলি - শৈবালদাম,
● দর্শকাবলি - দর্শকবৃন্দ,
● শিক্ষকাবলি - শিক্ষকমণ্ডলী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,১৭২.
রুধির- শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সন্ধ্যা
  2. কিরণ
  3. সূর্য
  4. রক্ত
সঠিক উত্তর:
রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ত
ব্যাখ্যা
• রুধির (সংস্কৃত শব্দ)। 
- উচ্চারণ- রুধির্। 
- ব্যুৎপত্তি- √রুধ্ + ইর। 
অর্থ:
- রক্ত। 
- শোণিত।
- রক্তবর্ণ।
- কুমকুম।

• "রক্ত" সমার্থক শব্দ: শোণিত, বুধির, রাঙা, রক্তিম, লাল, রঞ্জিত, আসক্ত, অনুরক্ত, আবির।

অন্যদিকে, 
-----------------
• "কিরণ" সমার্থক শব্দ:
কর, প্রভা, দীপ্তি, জ্যোতি, অংশু, রশ্মি, আলোকচ্ছটা, বিভা, ভাতি।

• "সন্ধ্যা" অর্থ:
দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণ, রাত্রির আরম্ভ, সাঁঝ (সন্ধ্যাবেলা), যুগসন্ধি, যুগের অবসান (কলির সন্ধ্যা), সকাল দুপুর ও সাঁঝের উপাসনা (ত্রিসন্ধ্যা), বেলা, পুষ্পবিশেষ (সন্ধ্যামণি)। 

• "সূর্য" সমার্থক শব্দ:
রবি, তপন, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, ভাস্কর, দিনেশ, কিরণমালী, দিনমণি, দিনপতি, ভানু, আদিত্য, মার্তণ্ড, অংশুমালী, দিননাথ, উষাপতি, চিত্রভানু, দিনকর, দিবাবসু, বিভাবসু, বিভাকর। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ হামুদ।
১৩,১৭৩.
''সত্য বই মিথ্যা বলবো না''- বাক্যে ‘বই’ শব্দটি কী হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অনুসর্গ 
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা
• ''সত্য বই মিথ্যা বলবো না''- বাক্যে ‘বই’ শব্দটি 'অনুসর্গ' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
---------------- 
• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কীত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার:
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য। - 'নিমিত্তে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে। - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নিমেষ মাঝেই সব শেষ। - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,১৭৪.
তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. ক) জ্যোছনা
  2. খ) ছেরাদ্দ
  3. গ) কুচ্ছিত
  4. ঘ) গৃহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৃহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৃহিনী
ব্যাখ্যা

গৃহিণী বাদে বাকিগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

১৩,১৭৫.
'অন্ধকারে থাকা' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. না জানার ভান করা
  2. আন্দাজে কাজ করা
  3. কিছু না জানা
  4. হতবুদ্ধি হওয়া
সঠিক উত্তর:
কিছু না জানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিছু না জানা
ব্যাখ্যা

• 'অন্ধকারে থাকা' বাগ্‌ধারার অর্থ - কিছু না জানা।
 
অন্যদিকে, 
• 'আকাশ থেকে পড়া' অর্থ- না জানার ভান করা।  
• অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়া/মারা অর্থ- আন্দাজে কাজ করা। 
• 'আক্কেল গুড়ুম' অর্থ- হতবুদ্ধি হওয়া। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,১৭৬.
ভিন্নার্থক বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. খয়ের খাঁ
  2. গোঁফ খেজুরে
  3. ঢাকের কাঠি
  4. ধামাধরা
সঠিক উত্তর:
গোঁফ খেজুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোঁফ খেজুরে
ব্যাখ্যা
• ‘গোঁফ খেজুরে’ বাগ্‌ধারার অর্থ- অত্যন্ত অলস।

অন্যদিকে, 
ঢাকের কাঠি - তোষামুদে।
ধামাধরা - তোষামুদে/চাটুকারিতা।
খয়ের খাঁ - তোষামোদকারী।
তেল মাখানো - তোষামোদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১৭৭.
'ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।' বাক্যে 'ফেরদৌসী কর্তৃক' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় তৃতীয়া
  2. কর্তায় শূন্য
  3. কর্তায় ষষ্ঠী
  4. কর্তায় দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
কর্তায় তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
ক) প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।

খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

গ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ঘ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৩,১৭৮.
‘রাত্রি’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. শর্বরী
  2. ত্রিযামা
  3. তারকিনী
  4. তমসা
সঠিক উত্তর:
তমসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমসা
ব্যাখ্যা
• ‘রাত্রি’ শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো:
নিশি, নিশা, নিশীথ, রাত্তির, রাত, রাতি, রজনী, যমিনী, ক্ষণদা, যামবতী, যামী, নিশীতিনী, নিশুতি, ত্রিযামা, নক্ত, ক্ষপা, তামসী, তারকিনী, অন্ধিকা, শর্বরী, বিভবরী।

অন্যদিকে,
• ‘অন্ধকার’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
তিমির, তম, নাভাক, আঁধারি, তম্রিস, তমস, তমসা, তমিস্রা, শর্বর, আলোকহীনতা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৭৯.
`পাঁচ সেরের সমাহার' এক কথায় প্রকাশ কি হবে?
  1. ক) পরিমেয়
  2. খ) পশুরী
  3. গ) পাঁচমিশালী
  4. ঘ) পঞ্চবটি
সঠিক উত্তর:
খ) পশুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পশুরী
ব্যাখ্যা
পাঁচ সেরের সমাহার- পশুরী। 

আরো কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- 'প্রবেশ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বিবিক্ষা,
- 'বলার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা,
- 'বমন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবমিষা
- 'বাস করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবৎসা
- 'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- ঈপ্সা,
- 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- জিগীষা,
- 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বুভুক্ষা,
- 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- লিপ্সা,
- 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- দিদৃক্ষা,
- 'মুক্তি লাভে/পেতে ইচ্ছুক এর এক কথায় প্রকাশ- মুমুক্ষা।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান।।
১৩,১৮০.
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. চ, ছ, জ
  2. প, ফ, ব
  3. র, ল, স
  4. থ, দ, ধ
সঠিক উত্তর:
প, ফ, ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প, ফ, ব
ব্যাখ্যা

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
তালব্য ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্ত্য ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৩,১৮১.
একই বাক্য রচনায় তৎসম ও দেশি ভাষারীতির মিশ্রণকে বলে-
  1. গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. দ্বিত্বজনিত দোষ
  3. বাচ্যজনিত দোষ
  4. বাহুল্যতার দোষ
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন- অশুদ্ধঃ গরুর শকট (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধঃ গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি)
অশুদ্ধঃ মড়াদাহ (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধঃ শবদাহ (তৎসম + তৎসম)
শুদ্ধঃ মড়াপোড়া (দেশি + দেশি)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৮২.
'মৃতবৎসা' শব্দটি অর্থ কি?
  1. ক) যে নারীর সন্তান জন্মে মারা যায়
  2. খ) যে নারী মৃত সন্তান জন্ম দেয়
  3. গ) যে নারী সন্তান জন্ম দিয়ে মারা যায়
  4. ঘ) যে নারীর কোনদিন সন্তান হয়নি
সঠিক উত্তর:
ক) যে নারীর সন্তান জন্মে মারা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যে নারীর সন্তান জন্মে মারা যায়
ব্যাখ্যা

নারী বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন:

যে নারীর স্বামীও নেই সন্তানও নেই - অবীরা।
যে নারী শিশু সন্তানসহ বিধবা - বালপুত্রিকা।
যে নারীর সন্তান বাঁচে না - মৃতবৎসা।
যে নারীর একটি মাত্র সন্তান - কাকবন্ধ্যা।
যে নারীর স্বামী বিদেশ থাকে - প্রোষিতভর্তৃকা।
যে নারীর সন্তান হয় না - বন্ধ্যা।


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,১৮৩.
অপিনিহিতির উদাহরণ নয় কোনটি? 
  1. চারি > চাইর
  2. মারি > মাইর
  3. আজি > আজ
  4. বাক্য > বাইক্য
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
ব্যাখ্যা

• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
--------------------
অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope):
আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। (স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,১৮৪.
 'শিকড়' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? 
  1. দেশি শব্দ 
  2. সংস্কৃত শব্দ
  3. ফারসি শব্দ 
  4. আরবি শব্দ 
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ 
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'শিকড়' দেশি শব্দ।
- 'শিকড়' অর্থ: গাছের মূল।

• কিছু দেশি শব্দ:
ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, , ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, , ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,১৮৫.
'মিষ্টি মিষ্টি কথা' - বাক্যে দ্বিরুক্তি শব্দ কী বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে?
  1. অল্পতা বোঝাতে
  2. বাহুল্য বোঝাতে
  3. গুণ বোঝাতে
  4. বহুবচন বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
গুণ বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা
একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার পর শব্দ দুটো অবিকৃত থেকে গেলে তাকে শব্দের দ্বিরুক্তি বলে। 
- একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে- 

- অল্পতা বোঝাতে - জ্বরজ্বর , কবিকবি, হাসি হাসি মুখ ইত্যাদি। 
- বাহুল্য বোঝাতে - বস্তা বস্তা চাল, ঝুড়ি ঝুড়ি আম ইত্যাদি। 
- তাড়াতাড়ি বোঝাতে - সকাল সকাল আসবে, হাতে হাতে ফল পাওয়া ইত্যাদি। 
- ধারাবাহিকত বোঝাতে - দিন দিন ভালো হওয়া, বছর বছর পাস করা  ইত্যাদি। 
- বহুবচন বোঝাতে - লাল লাল ফুল, ছোট ছোট ঘর ইত্যাদি। 
- গুণ বোঝাতে - গরম গরম ভাত, মিষ্টি মিষ্টি কথা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৩,১৮৬.
'কলমবাজ' - শব্দের 'বাজ' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• 'কলমবাজ' শব্দের 'বাজ' - বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

----------------
• তদ্ধিত প্রত্যয়:

- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।

• বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
বাজ (দক্ষ অর্থে)- কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ। 
• বন্দি (বন্দ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
• সই: (মতো অর্থে) - জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।

দ্রষ্টব্য: 'টিপসই' ও 'নামসই' শব্দ দুটোর 'সই' প্রত্যয় নয়। এটি 'সহি' (অর্থ-স্বাক্ষর) শব্দ থেকে উৎপন্ন।
-----------------
বিশেষ তথ্য:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,১৮৭.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. দম্পতি
  2. আনত
  3. বেআক্কেল
  4. ক্ষুৎপিপাসা
সঠিক উত্তর:
আনত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনত
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ।

অন্যদিকে,
- জায়া ও পতি = দম্পতি; ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা; দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত।
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল; নঞ্ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩,১৮৮.
‘পানি’ শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?
  1. নীর
  2. সলিল
  3. জলধি
  4. উদক
সঠিক উত্তর:
জলধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলধি
ব্যাখ্যা

জলধি ‘পানি’ শব্দের সমার্থক নয়।
- এটি সাগরের সমার্থক শব্দ। 

• 'পানি' - এর সমার্থক শব্দ: জল, নীর, উদক, সলিল, পানি, অপ, প্রানদ, তোয়, জীবন ইত্যাদি। 
অন্যদিকে,
• সাগর- এর সমার্থক শব্দ জলধি, অর্ণব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।          

১৩,১৮৯.
নিচের কোন বাক্যে অলংকার আবেগের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।
  2. খ) আহা! বেচারার এত কষ্ট!
  3. গ) উহ্‌, কী বিপদে পড়া গেল।
  4. ঘ) দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
সঠিক উত্তর:
ঘ) দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
ব্যাখ্যা
• "দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?" বাক্যটিতে 'দূর' অলংকার আবেগে'র প্রয়োগ ঘটেছে।

• মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যে সব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
- অলংকার আবেগে এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্যতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
- এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি  ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্য অলংকার আবেগ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: যাকগে, ওসব কথা থাক।
অন্যদিকে, 
হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন = সম্বোধন আবেগ। 
আহা! বেচারার এত কষ্ট = করূণা আবেগ।
উহ্‌, কী বিপদে পড়া গেল = আতঙ্ক আবেগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,১৯০.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) চন্দ্রমুখ
  2. খ) গোলাপ
  3. গ) লাল
  4. ঘ) চাঁদ
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্রমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্রমুখ
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায় । 
- এটি উপমিত কর্মধারয় সমাস সাধিত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,১৯১.
ফলা বর্ণ নয় কোনটি?
  1. য-ফলা
  2. ম-ফলা
  3. য়-ফলা
  4. ল-ফলা
সঠিক উত্তর:
য়-ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়-ফলা
ব্যাখ্যা
• ফলা বর্ণ নয়- য়-ফলা। 

• ফলা বর্ণ:

ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা ব্যাকরণে ফলা বর্ণের সংখ্যা ৬টি। 
যেমন-
• ন-ফলা,
• ব-ফলা,
• ম-ফলা,
• য-ফলা,
• র- ফলা,
• ল-ফলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,১৯২.
নিচের কোনটি বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয়?
  1. সংস্কৃত
  2. অহমিয়া
  3. প্রাকৃত
  4. দ্রাবিড়ীয়
সঠিক উত্তর:
অহমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহমিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো  বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,১৯৩.
নিচের কোনটি 'ষড়ানন' শব্দের সন্ধিবিচ্ছদ?
  1. ক) ষড় + আনন
  2. খ) ষটা + আনন
  3. গ) ষড + আনন
  4. ঘ) ছয় + আনন
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ড়্), দ্, ব্ হয়।পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।যথাঃ দিক + অন্ত = দিগন্ত, ষট্ + আনন = ষড়ানন, সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,১৯৪.
'মধুমাখা' - কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা ৷

- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
- যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন, 
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩,১৯৫.
বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ ব্যকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব
- রূপতত্ত্ব 
- বাক্যতত্ত্ব
- অর্থতত্ত্ব

⇒ ধ্বনিতত্ত্ব - ধ্বনিতত্ত্বেরআলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

⇒ রূপতত্ত্ব- শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন - বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

⇒ বাক্যতত্ত্ব - বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

⇒ অর্থতত্ত্ব - ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে।
বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,১৯৬.
কোনটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. মুদিখানা
  2. ঘুষখোর
  3. গোলক
  4. নজরানা
সঠিক উত্তর:
গোলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলক
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অক:
- ঢোল + অক = ঢোলক,
- নোল + অক = নোলক,
- গোল + অক = গোলক।

অন্যদিকে,
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন: নজর + আনা = নজরানা, ঘুষ + খোর = ঘুষখোর, মুদি + খানা = মুদিখানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৩,১৯৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিসুতি
  2. নিসুতী
  3. নিশুতী
  4. নিষুতি
সঠিক উত্তর:
নিষুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষুতি
ব্যাখ্যা

• নিষুতি বানানটি শুদ্ধ।
• এর অর্থ হচ্ছে গভীর রাত বা গভীর রাতের নিদ্রা।
• নিশুতি (গভীর রাত) বানানটিও সঠিক।
উৎসঃ‌ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।

১৩,১৯৮.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অসীম
  2. খ) তেলেভাজা
  3. গ) মুখচন্দ্র
  4. ঘ) ঘর-বাড়ি
সঠিক উত্তর:
খ) তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
'তেলেভাজা'- তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

তৎপুরুষ সমাস
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ
• কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন –
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,১৯৯.
'মাধ্যমিক' এর প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) মাধ্য + ষ্ণিক
  2. খ) মাধ্য + মিক
  3. গ) মধ্যম + ষ্ণিক
  4. ঘ) মাধ্যমিক + অ
সঠিক উত্তর:
গ) মধ্যম + ষ্ণিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মধ্যম + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'মাধ্যমিক' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'মধ্যম + ইক' 

মাধ্যমিক (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধ্যম + ইক 
অর্থ: 
- মধ্যবর্তী, 
- মধ্যস্থ
- মধ্যম সম্পর্কিত

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩,২০০.
নিচের কোন বিপরীতার্থক শব্দজোড়া অশুদ্ধ?
  1. চতুর - নির্বোধ
  2. তামসিক - রাজসিক
  3. জড় - অজড়
  4. অগ্র - পশ্চাৎ
সঠিক উত্তর:
জড় - অজড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড় - অজড়
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর: গ) জড় - অজড়।

ব্যাখ্যা:
‘জড়’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ ‘চেতন’, ‘অজড়’ নয়।

সঠিক বিপরীতার্থক জোড়াগুলো:
• চতুর - নির্বোধ;
• তামসিক - রাজসিক;
• অগ্র - পশ্চাৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।