উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
• ‘ছন্দে নিপুন যিনি’ এক কথায় - ছান্দসিক।
• ‘৬০ দিনে পাকে এমন (ধান)’ এক কথায় - ষষ্টিক।
• ‘চয় ভাগের এক ভাগ’ এক কথায় - ষষ্ঠাংশ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৩২ / ৩৫৪ · ১৩,১০১–১৩,২০০ / ৩৫,৭১৩
• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়।
- 'পাউরুটি' শব্দটি 'পর্তুগিজ' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি,
- বালতি ইত্যাদি।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
-তম পদাশ্রিত নির্দেশক নয়।
• নির্দেশক:
যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু।
• -টা, -টি:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে।
- এর দুটি রূপান্তর:-টো ও -টে।
যেমন-
- বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা ইত্যাদি।
• -খানা, -খানি:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, খানি নির্দেশক বসে।
যেমন-
- ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।
• -জন:
- শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন-
- বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন ইত্যাদি।
• -টুকু:
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়।
- এর রূপভেদ:-টু বা-টুক।
যেমন-
সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, , একটু, আধটু।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
• 'গড্ডলিকা প্রবাহ' বাগ্ধারার অর্থ - অন্ধ অনুকরণ।
অন্যদিকে,
কোমর বাঁধা - দৃঢ় সংকল্প।
গরম গরম - তৎক্ষণাৎ।
গা ঢাকা দেওয়া - পলায়ন করা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
• 'আকুঞ্চন' এর বিপরীত শব্দ প্রসারণ।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'গ্রহণ' শব্দের বিপরীত শব্দ - বর্জন।
- 'গ্রাহ্য' শব্দের বিপরীত শব্দ - অগ্রাহ্য।
- 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত
- 'অনুমেয়' এর বিপরীত শব্দ - অননুমেয়
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরত
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত
- 'দরদি' এর বিপরীত শব্দ - নির্দয়
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ - বিনীত
- 'উগ্র' এর বিপরীত শব্দ - মৃদু / সৌম্য
- 'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ - বিনয়
উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
• বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন-
• আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
• এখন গোল্লায় যাও।
• তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
• মাথা ঝিম্ ঝিম্ করছে।
• ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- তবু যেন তা মধুতে মাখা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ, পিল।
অন্যদিকে,
‘ঘোড়া’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অশ্ব, ঘোটক, হয়, বাজী, তুরঙ্গ।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান: সমীহিত।
- বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- চেষ্টিত।
- অভীষ্ট, ঈপ্সিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'বেল পাকলে কাকের কী' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া।
অন্যদিকে,
বুকের মাঝে ঢেকির পাড় - অন্তর্বেদনা।
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ - বুড়ো বয়সে অপকর্ম করা।
আঠারো মাসে বছর - দীর্ঘসূত্রতা।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ - 'হর'।
- 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ:
- হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা।
---------------
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উর্দু-হিন্দি উপসর্গ - 'হর'।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম) : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সৈয়দ ঘোড়ার সমার্থক শব্দ নয়।
• সৈয়দ অর্থ- পদবিবিশেষ।
‘ঘোড়া’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অশ্ব, ঘোড়া, ঘোটক, হয়, বাহ, বাজী, তুরঙ্গ, মরুদ্রথ, বামী, টাঙন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সঠিক বানান হলো - জলোচ্ছ্বাস।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• "শিরে সংক্রান্তি" বাগ্ধারার অর্থ - সামনেই বিপদ।
অন্যদিকে,
সবেধন নীলমণি - একমাত্র সম্পদ।
শকুনি মামা - অনিষ্টকর আত্মীয়।
লোটাকম্বল - সামান্য সংগতি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা ব্যাকরণের কাজ।
অন্যদিকে,
---------------
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
• রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
• বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়। এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷
অন্যদিকে,
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা ভাষারীতি:
- বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি, অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
- বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি: একটি চলিত রীতি, অপরটি সাধু রীতি।
• সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
- সাধু ⇒ চলিত
- মস্তক ⇒ মাথা;
- জুতা ⇒ জুতো;
- তুলা ⇒ তুলো;
- শুষ্ক / শুকনা ⇒ শুকনো;
- বন্য ⇒ বুনো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'তামার বিষ' বাগ্ধারাটির অর্থ- অর্থের কুপ্রভাব
উদাহরণ - তোমাকে তামার বিষে পেয়েছে বলে মানুষকে মানুষ বলে মনে কর না।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্ধারা:
- তালপাতার সেপাই - রুণ/ছিপছিপে।
- তীর্থের কাক - সাগ্রহে প্রতীক্ষাকারী।
- তালকানা - কান্ডজ্ঞানহীন।
- তাসের ঘর - ক্ষণস্থায়ী।
- তালগোল পাকানো - জটপাকানো।
- তিলেতিলে - ধীরে ধীরে।
- তুর্কি-নাচন - হুলুস্থুল অবস্থা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
’নিশপিশ করা’ বাগধারাটি উসখুস করা অর্থে ব্যবহৃত হয়।
তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মাহমুদ
- বাংলা উচ্চারণে ‘এ’ ধ্বনির ২ প্রকার উচ্চারণ রয়েছে।
যথা- এ এবং এ্যা।
- উদাহরণঃ একটি > একটি; এক > এ্যাক' ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• 'অজ' খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে 'নিতান্ত (মন্দ)' অর্থে গঠিত শব্দ - অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর।
----------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
দেশি শব্দ:
- আর্য জাতি বাংলা দেশে আসার আগে দ্রাবিড়, অস্ট্রিক প্রভৃতি যে-সব প্রাক্-আর্য জাতি এদেশে বসবাস করত তাদের ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় রয়ে গেছে। সে-সব শব্দরাজিই ‘দেশি' শব্দ। অর্থাৎ সংস্কৃতের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য, বাংলা দেশের আদিম অধিবাসীদের ভাষার শব্দাবলিকে ‘দেশি শব্দ’ বলা হয়।
যেমন : কুড়ি (কোল ভাষা), পেট (তামিল ভাষা) , চুলা (মুণ্ডারি ভাষা)।
এরকম- খুঁটি , ঝিঙে, চিংড়ি, চাল, ট্যাংরা, ডিঙা, ঢিল , ঢিপি, ঝাটা, মুড়ি, মুড়কি, চেঁকি, ঢােল, ঝােল, ডাহা, ডাঙা, বঁটি, কামড়, দোয়েল, ফিঙে, খাঁচা, খড়, কুলা, গাড়ি, ঘােড়া, ঘােমটা, আঁকা, ধামা, বােঝা, চোঙ্গা, চাঙ, টোপর, ডাব ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সন্ধি:
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি।
যেমন
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- হিম + আলয় = হিমালয়।
• সন্ধির উদ্দেশ্য:
- সন্ধির উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণে সহজপ্রবণতা এবং
- ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। যেমন- 'আশা' ও
- 'অতীত' উচ্চারণে যে আয়াস প্রয়োজন, 'আশাতীত' তার চেয়ে অল্প আয়াসে উচ্চারিত হয়।
- সেরূপ 'হিম আলয়' বলতে যেরূপ শোনা যায়, 'হিমালয়' তার চেয়ে সহজে উচ্চারিত এবং শ্রুতিমধুর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• দ্যুলোক = দিব্ + লোক- নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি হলো সেই ধরনের ব্যঞ্জনসন্ধি যা সাধারণ ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসরণ করে না।
- এগুলি বিশেষ নিয়ম বা ব্যতিক্রম অনুসারে গঠিত হয়।
- সাধারণত এই ধরনের সন্ধি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ থেকে আসে এবং এগুলির জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।
• কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ:
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি;
- ষোড়শ = ষট্ + দশ;
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি;
- পহরিশ্চন্দ্র = হরি + চন্দ্র;
- তস্কর = তৎ + কর;
- আশ্চর্য = আ + চর্য;
- আস্পদ = আ + পদ;
- বিশ্বামিত্র = বিশ্ব+ মিত্র;
- গোষ্পদ = গো + পদ;
- দ্যুলোক = দিব্ + লোক;
- পশ্চার্ধ = পশ্চাৎ + অর্ধ;
- দ্যুমণি = দিক্ + মণি;
- একাদশ = এক + দশ;
- ব্রাগেশ্বরী = বাক্ + ঈশ্বরী।
অন্যদিকে,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ, কুলটা = কুল + অটা, স্বৈর = স্ব +ঈর- নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
কতগুলো রূঢ়ি শব্দ হচ্ছে - হস্তী, গবেষণা, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।
প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যাক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
যোগরূঢ় শব্দ: সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি ইত্যাদি।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
গৃহিণী বাদে বাকিগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)
• 'অন্ধকারে থাকা' বাগ্ধারার অর্থ - কিছু না জানা।
অন্যদিকে,
• 'আকাশ থেকে পড়া' অর্থ- না জানার ভান করা।
• অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়া/মারা অর্থ- আন্দাজে কাজ করা।
• 'আক্কেল গুড়ুম' অর্থ- হতবুদ্ধি হওয়া।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
তালব্য ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্ত্য ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
নারী বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন:
যে নারীর স্বামীও নেই সন্তানও নেই - অবীরা।
যে নারী শিশু সন্তানসহ বিধবা - বালপুত্রিকা।
যে নারীর সন্তান বাঁচে না - মৃতবৎসা।
যে নারীর একটি মাত্র সন্তান - কাকবন্ধ্যা।
যে নারীর স্বামী বিদেশ থাকে - প্রোষিতভর্তৃকা।
যে নারীর সন্তান হয় না - বন্ধ্যা।
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
--------------------
অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope):
আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। (স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'কলমবাজ' শব্দের 'বাজ' - বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
----------------
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
• বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
• বাজ (দক্ষ অর্থে)- কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ।
• বন্দি (বন্দ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
• সই: (মতো অর্থে) - জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।
দ্রষ্টব্য: 'টিপসই' ও 'নামসই' শব্দ দুটোর 'সই' প্রত্যয় নয়। এটি 'সহি' (অর্থ-স্বাক্ষর) শব্দ থেকে উৎপন্ন।
-----------------
বিশেষ তথ্য:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
জলধি ‘পানি’ শব্দের সমার্থক নয়।
- এটি সাগরের সমার্থক শব্দ।
• 'পানি' - এর সমার্থক শব্দ: জল, নীর, উদক, সলিল, পানি, অপ, প্রানদ, তোয়, জীবন ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• সাগর- এর সমার্থক শব্দ জলধি, অর্ণব।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• নিষুতি বানানটি শুদ্ধ।
• এর অর্থ হচ্ছে গভীর রাত বা গভীর রাতের নিদ্রা।
• নিশুতি (গভীর রাত) বানানটিও সঠিক।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।