বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১২২ / ৩৫৪ · ১২,১০১১২,২০০ / ৩৫,৭১৩

১২,১০১.
কোনটি নাম ধাতুযোগে গঠিত শব্দ?
  1. পড়াচ্ছেন
  2. করায়
  3. ঘুমাচ্ছেন
  4. হারিয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘুমাচ্ছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘুমাচ্ছেন
ব্যাখ্যা
নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পরে আ-প্রত্যয়যোগে গঠিত ধাতুকে নাম ধাতু বলে।

যেমন:
ঘুম্ + আ = ঘুমা: বাবা ঘুমাচ্ছেন
ধমক্ + আ = ধমকা: আমাকে যতই ধমকাও, আমি এ কাজ করব না।
হাত্ + আ = হাতা: অন্যের পকেট হাতানো আমার স্বভাব নয়।

অন্যদিকে,
প্রযোজক ধাতুযোগে গঠিত শব্দ - করায়, পড়াচ্ছেন।
কর্মবাচ্যের ধাতুযোগে গঠিত শব্দ - হারিয়ে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১২,১০২.
“পরিশ্রমে সাফল্য আসে” অর্থে কোন প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সবুরে মেওয়া ফলে
  2. রতনে রতন চেনে
  3. মরা হাতি লাখ টাকা
  4. যতনে রতন মেলে
সঠিক উত্তর:
যতনে রতন মেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতনে রতন মেলে
ব্যাখ্যা
• “যতনে রতন মেলে” প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ - পরিশ্রমে সাফল্য আসে।

অন্যান্য প্রবাদ-প্রবচনের অর্থ হলো:
• "রতনে রতন চেনে" - গুণীই গুণীর কদর বোঝে।
• "মরা হাতি লাখ টাকা" - প্রকৃত গুণিজন দুর্দশাই পড়লেও মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকে।
• "সবুরে মেওয়া ফলে" - ধৈর্যে সফলতা আসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,১০৩.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নম্র
  2. ভাস্বর
  3. গোয়ালা
  4. ঘরানা
সঠিক উত্তর:
ঘরানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরানা
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আনা’ যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- গরিব + আনা = গরিবানা;
- ঘর + আনা = ঘরানা;
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা;
- বিবি + আনা = বিবিআনা।

অন্যদিকে,
• কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ- √ ভাস্ + বর = ভাস্বর;  √ নম্ + র = নম্র।
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় ‘আলা’ যোগে গঠিত শব্দ: √গো + আলা = গোয়ালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,১০৪.
'বইটি হারিয়ে ফেলেছি।' বাক্যে 'হারিয়ে' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. কর্মবাচ্যের
  2. নাম ধাতু
  3. প্রযোজক ধাতু
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যের
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্যের ধাতু:
- বাক্যে কর্তার চেয়ে কর্মের সাথে যখন ক্রিয়ার সম্পর্ক প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সে ক্রিয়াকে কর্মবাচ্যের ক্রিয়া বলে। কর্মবাচ্যের ক্রিয়ার মূলকে কর্মবাচ্যের ধাতু বলে। মৌলিক ধাতুর সাথে আ-প্রত্যয়যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু গঠিত হয়।

যেমন:
→ কর্ + আ = করা: আমি তোমাকে অঙ্কটি করতে বলেছি।
→ হার্ + আ = হারা: বইটি হারিয়ে ফেলেছি।
→ খা + ওয়া = খাওয়া: তোমার খাওয়া হলে আমাকে বলো।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১২,১০৫.
"ফানুস" - শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. পর্তুগিজ
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

• "ফানুস" শব্দটি 'আরবি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- আকাশে উড়তে পারে এমন হাইড্রোজেন গ্যাস ভরে ফোলানো বেলুন। 
- তপ্ত বাতাসের সাহায্যে আকাশে ওড়ে এমন বেলুন।

কিছু আরবি শব্দ:
- কয়েদ,
- কসাই,
- খারাবি,
- খারাপ,
- তকদির,
- ফসল, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,১০৬.
'কিম্ভূতকিমাকার' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অসম্ভব বস্তু
  2. অদ্ভুত ও কুৎসিত
  3. অসম্ভব কল্পনা
  4. অপদার্থ লোক
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত ও কুৎসিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত ও কুৎসিত
ব্যাখ্যা

• 'কিম্ভূতকিমাকার' বাগ্‌ধারার অর্থ - অদ্ভুত ও কুৎসিত।

অন্যদিকে,
• 'কায়েতের ঘরের ঢেঁকি' অর্থ  - অপদার্থ লোক।
• 'কাঠালের আমসত্ব' অর্থ - অসম্ভব বস্তু।
• 'আকাশ কুসুম' অর্থ - অসম্ভব কল্পনা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১০৭.
'জয়ধ্বনি' - শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. জয়দ্‌ধ্বোনি
  2. জয়োদ্‌ধোনি
  3. যয়োদ্‌ধোনি
  4. যয়োদ্‌ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
জয়োদ্‌ধোনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়োদ্‌ধোনি
ব্যাখ্যা

• 'জয়ধ্বনি' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ - জয়োদ্‌ধোনি
- শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- জয়োল্লাসের ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,১০৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্থায়িত্ত
  2. স্থয়ীত্ব
  3. স্থায়িত্ব
  4. স্থায়ীত্ব
সঠিক উত্তর:
স্থায়িত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থায়িত্ব
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - স্থায়িত্ব
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: স্থিতিশীলতা, স্থায়ী অবস্থা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১০৯.
কোনটি সম্প্রকর্ষ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. শরীর > শরীল
  2. আটমেসে > আটাসে
  3. করিয়া > করে
  4. গাছুয়া > গেছো
সঠিক উত্তর:
আটমেসে > আটাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটমেসে > আটাসে
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্‌ লা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিষমীভবন: শরীর > শরীল। 
অভিশ্রতি: করিয়া > কইর‌্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২,১১০.
'সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।' - বাক্যটির সরল রূপ কী হবে?
  1. সে মোটা ও তার গায়ে শক্তি নেই।
  2. সে মোটা, তবে তার গায়ে শক্তি নেই।
  3. সে শারীরিকভাবে ভারী হলেও শক্তিহীন।
  4. মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,১১১.
নিচের কোনটি বিদেশি ধাতু?
  1. টান্
  2. কাট্
  3. খাদ্
  4. কথ্
সঠিক উত্তর:
টান্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টান্
ব্যাখ্যা

• 'টান্‌' বিদেশি ধাতু। 

-----------------
• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: আঁট, খাট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, ঠেল্।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২,১১২.
‘পটল তোলা’ এই বাগধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. পটল গাছ হতে পটল তোলা
  2. পরীক্ষায় ফেল করা
  3. মারা যাওয়া
  4. পটল খাওয়া
সঠিক উত্তর:
মারা যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারা যাওয়া
ব্যাখ্যা
• ‘পটল তোলা’ বাগ্‌ধারাটির সঠিক অর্থ - মারা যাওয়া

এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- অক্কা পাওয়া = মারা যাওয়া।
- গঙ্গা পাওয়া = মারা যাওয়া।
- পঞ্চত্ব প্রাপ্ত = মারা যাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১২,১১৩.
'তরঙ্গনিকর' শব্দের 'নিকর' শব্দের অর্থ কী?
  1. সমূহ 
  2. রাশি 
  3. সাকুল্য 
  4. উপরের সবকটি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'তরঙ্গনিকর' শব্দের 'নিকর' শব্দের অর্থ - সমূহ; রাশি; সাকুল্য।




উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,১১৪.
নিচের কোনটি ‘ণ’ - এর ব্যবহারের নিয়মানুযায়ী গঠিত শব্দ?
  1. ক) নিপুণ
  2. খ) ভাষণ
  3. গ) কল্যাণ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষণ
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান অনুসারে,
ঋ, র, ষ -- এই তিন বর্ণের পরে 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, ঘৃণা, ঘূর্ণন, মরণ, ব্যাকরণ, কৃষ্ণ, বিষ্ণু, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, নিপুণ ও কল্যাণ - শব্দ দুটিতে স্বভাবতই 'ণ' - ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১২,১১৫.
‘বামা’ শব্দের অর্থ -
  1. ক) পাখি
  2. খ) পিতা
  3. গ) ঘন
  4. ঘ) নারী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নারী
ব্যাখ্যা

বামা শব্দের অর্থ হলো নারী।
- বামা শব্দের সমার্থক শব্দ গুলো হল: নারী, স্ত্রীজাতি, বনিতা, ভামিনী, কান্ত, পত্নী, রামা, ললনা, মহিলা, কামিনী।
- পাখি শব্দের সমার্থক শব্দ সমূহ: বিহগ, বিহঙ্গ, বিহঙ্গম, শকুন্ত, খগ, দ্বিজ ,অণ্ডজ, খেচর, পক্ষী, পতগ, পত্রী, পক্ষধর ।
- পিতা এর সমার্থক শব্দ গুলো: জনক, বাপ, তাত, বাবা, জন্মদাতা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

১২,১১৬.
'নিষ্ণাত' শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. ক) সমস্যা
  2. খ) কুশীলব
  3. গ) বিচক্ষণ
  4. ঘ) নির্গত
সঠিক উত্তর:
গ) বিচক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিচক্ষণ
ব্যাখ্যা
'নিষ্ণাত' শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ। 
'নিষ্ণাত' শব্দের অর্থ - কুশল, নিপুণ, অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান 
১২,১১৭.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?  
  1. সুষুপ্ত
  2. অনুষঙ্গ
  3. প্রতিষেধক
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

এখানে, সবগুলো বানানই শুদ্ধ।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন,
- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

১২,১১৮.
'নেত্র' - এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ নে + ত্র
  2. √ নী + ত্র
  3. √ নেত্‌ + র
  4. √ নী + তা 
সঠিক উত্তর:
√ নী + ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ নী + ত্র
ব্যাখ্যা

• 'নেত্র' শব্দটি কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ। 

• নেত্র (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ নী + ত্র।
অর্থ: চোখ, নয়ন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

১২,১১৯.
প্রত্যয়ের কোন নিয়মটি সঠিক?
  1. ক) নীল + মা
  2. খ) নীল + ইমন
  3. গ) নী + ইলিমা
  4. ঘ) নিলী + ইমা
সঠিক উত্তর:
খ) নীল + ইমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীল + ইমন
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে, শব্দের শেষে ইমা থাকলে ইমন হবে। 

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয়
মহিমা = মহৎ + ইমন    
নীলিমা = নীল + ইমন
লঘিমা = লঘু + ইমন
রক্তিমা = রক্ত + ইমন
দ্রাঘিমা = দীর্ঘ + ইমন
গরিমা = গুরু + ইমন

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১২,১২০.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. বেহেড
  2. অনুক্ষণ
  3. পণ্ডিতমূৰ্থ
  4. প্রবচন
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- দিন দিন = প্রতিদিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

অন্যদিকে,
- নঞ্‌ বহুব্রীহি - বে (নাই) হেড যার = বেহেড।
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ।
- প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,১২১.
'সর্বোচ্চ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সর্ব + উচ্চ
  2. সর্বো + ঊচ্চ
  3. সর্বো + উচ্চ
  4. সর্ব + ঊচ্চ
সঠিক উত্তর:
সর্ব + উচ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্ব + উচ্চ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত সন্ধি:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,১২২.
সৃষ্টি - প্রলয় বিপরীতার্থক শব্দজোড়টি তৈরি হয়েছে-
  1. ক) নতুন শব্দ যোগে
  2. খ) পৃথক শব্দ যোগে
  3. গ) বিদেশি শব্দ যােগে
  4. ঘ) অর্থ আংশিক পাল্টে
সঠিক উত্তর:
খ) পৃথক শব্দ যোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পৃথক শব্দ যোগে
ব্যাখ্যা
সৃষ্টি এবং প্রলয় - এই দুটি শব্দ পুরোপুরি পৃথক শব্দ থেকে তৈরি হয়েছে।
'সৃষ্টি' শব্দ থেকে শব্দ তৈরির কোনো প্রক্রিয়া অবলম্বন না করে সম্পূর্ণ নতুন একটি শব্দ হিসাবে 'প্রলয়' বিপরীতার্থক অর্থ প্রকাশ করছে।

সৃষ্টি (বিশেষ্য): নতুন কোনো পদার্থের উৎপাদন/নির্মাণ/জগৎ/শিল্প/স্বভাব/রচনা।
প্রলয় (বিশেষ্য): বিনাশ/বিপদ/বিরাট ওলট-পালট; তুমুল ঝগড়া।
১২,১২৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ণ
  2. তীক্নদৃষ্টি
  3. তিরস্কার
  4. তিতীর্ষু
সঠিক উত্তর:
তীক্নদৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তীক্নদৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: তীক্নদৃষ্টি।
• শুদ্ধ বানান: তীক্ষ্ণদৃষ্টি (বিশেষণ পদ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সতর্ক দৃষ্টিসম্পন্ন।

অন্যদিকে, শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
• শুদ্ধ বানান- অপরাহ্ণ,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় - [অপর+অহ্ণ]
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।

• শুদ্ধ বানান: তিরস্কার (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

• শুদ্ধ বানান: তিতীর্ষু,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পার হতে উচ্ছুক, তরণেচ্ছু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১২৪.
'ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে।' - এখানে 'ঘরেতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
- মন আমার নাচেরে আজিকে
- খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
- ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
- ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে। অধিকরণে সপ্তমী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১২,১২৫.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. তিন প্রকার
  2. চার প্রকার
  3. ছয় প্রকার
  4. আট প্রকার
সঠিক উত্তর:
আট প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট প্রকার
ব্যাখ্যা

• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।

• পদ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।

১২,১২৬.
'বন্ধন' শব্দের সঠিক অক্ষর বিন্যাস কোনটি?
  1. ব + ন্ + ধ + ন্
  2. বন্ + ধন্
  3. ব + ন্ধ + ন
  4. বান্ + ধন্
সঠিক উত্তর:
বন্ + ধন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্ + ধন্
ব্যাখ্যা
• বন্ধন (বিশেষ্য পদ)।
- তৎসম বা সংস্কৃত।
- প্রকৃত-প্রত্যয় - √বন্ধ্‌ + অন,
- এর সঠিক উচ্চারণ - বন্‌ + ধোন্।
অর্থ:
- বাঁধন,
- আবেষ্টন,
- নির্মাণ,
- নিয়ন্ত্রণ।

অতএব, কাছাকাছি অক্ষর বিন্যাস হিসেবে সঠিক উত্তর অপশন (খ) বন্‌ + ধোন্।

অন্যদিকে,
(ব + ন + ধ + ন) এগুলো অক্ষর নয় এক একটি বর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১২৭.
"বাগ্‌দান" এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোন নিয়মে পড়ে?
  1. স্বর + ব্যঞ্জন
  2. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + স্বর
  4. বিসর্গ + ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন:
ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন:
- চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)।
- বিপদ্‌+জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)।
- উৎ+লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)।
- বাক্‌+দান = বাগদান (এখানে ঘােষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
- তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে (এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন)।
- শম্+কা = শঙ্কা (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)।
- সম্+চয় = সঞ্চয় (এখানে তালব্যধ্বনি চ-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঞ)।
- সম্+তাপ = সন্তাপ (এখানে দন্ত্যধ্বনি ত-এর প্রভাবে ম হয়েছে ন)।
- সম্+মান = সম্মান (এখানে ওষ্ঠ্যধ্বনি ম-এর প্রভাবে ম অপরিবর্তিত রয়েছে)।
- ষষ্‌+থ = ষষ্ঠ (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,১২৮.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস?
  1. চৌচালা
  2. দশগজি
  3. পাঁচকম
  4. তেপায়া
সঠিক উত্তর:
পাঁচকম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচকম
ব্যাখ্যা

• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
- এক দ্বারা উন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়। যথা-  দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি, চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা। এরূপ-চারহাতি, তেপায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২,১২৯.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. পরিস্কার
  2. পুরস্কার
  3. তিরস্কার
  4. সংস্কার
সঠিক উত্তর:
পরিস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিস্কার
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: পরিস্কার।

• শুদ্ধরূপ- পরিষ্কার (বিশেষণ),
- সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = (পরি + √কৃ +অ));
অর্থ: পরিচ্ছন্ন, সরল, সহজবোধ্য, স্পষ্ট।

অপশনে উল্লিখিত পুরস্কার, তিরস্কার ও সংস্কার শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১৩০.
নিচের কোন অনুসর্গগুলো বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না?
  1. ক) দ্বারা, দিয়া
  2. খ) কর্তৃক, হইতে
  3. গ) চেয়ে, অপেক্ষা
  4. ঘ) প্রতি, বিনে
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতি, বিনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতি, বিনে
ব্যাখ্যা

দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে- প্রভৃতি অনুসর্গগুলো বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১২,১৩১.
'সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।' - উদাহরণটি কোন বর্তমান কালের?
  1. সাধারণ
  2. ঘটমান
  3. নিত্যবৃত্ত
  4. পুরাঘটিত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ক. স্থায়ী সত্য প্রকাশে : চার আর তিনে সাত হয়; সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।
খ. ঐতিহাসিক বর্তমান : বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
গ. কাব্যের ভনিতায় : কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুন্যবান।
ঘ. অনিশ্চয়তা প্রকাশে : কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২,১৩২.
উৎসমূল অনুযায়ী ‘দাপট’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. তুর্কি
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• দাপট - হিন্দি শব্দ।

কিছু হিন্দি শব্দ:
- কাচারি,
- দুলকি,
- দিলরুবা,
- দাবা,
- দাঙ্গা,
- দহলা,
- দশেরা
- রোকড়,
- লড়াকু,
- লেনদেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১৩৩.
'প্রত্যয়' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) শব্দতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
খ) শব্দতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শব্দতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
'প্রত্যয়' ব্যাকরণের 'শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব' অংশের আলোচ্য বিষয়।

রূপতত্ত্ব
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, প্রত্যয়, শব্দগঠন, পদপরিচয়, ক্রিয়া, লিঙ্গ, পুরুষ, বচন ইত্যাদি  রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগ্ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

ধ্বনিতত্ত্ব
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
১২,১৩৪.
'বাত্যা' শব্দের অর্থ কী?
  1. জল
  2. ঝড়
  3. নদী
  4. মেঘ
সঠিক উত্তর:
ঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝড়
ব্যাখ্যা
• 'বাত্যা' শব্দের অর্থ - ঝড়, প্রবল বায়ুপ্রবাহ, তুফান।

অন্যদিকে,
- 'নদী' শব্দের অর্থ - তটিনী, তরঙ্গিণী, গাঙ।
- 'মেঘ' শব্দের অর্থ - বারিদ, নীরদ, জীমূত।
- 'জল' শব্দের অর্থ - তোয়, উদক, বারি, সলিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১৩৫.
'যা চিন্তা করা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. অচিন্তনীয়
  2. অচিন্তা
  3. অচিন্ত্য
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
'যা চিন্তা করা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ - অচিন্তনীয়  / অচিন্ত্য

আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- ক্ষমা করার ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ - তিতিক্ষা।
- 'ক্ষমার যোগ্য' এর বাক্য সংকোচন - ক্ষমার্হ।
- গোপন করার ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ - জুগুপ্সা।
- মনোগত ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ - ঈপ্সিত।
- লাভ করা ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ - লিপ্সা।
- কটিদেশ থেকে পদতল পর্যন্ত অংশ এক কথায় প্রকাশ - অধঃকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,১৩৬.
‘ম’ এবং 'ভ' কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  2. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
যেমন:
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২,১৩৭.
'ধনের দেবতা' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. কুশীলব
  2. কুবের
  3. ধ্যানী
  4. ধীরগামী
সঠিক উত্তর:
কুবের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুবের
ব্যাখ্যা
• 'ধনের দেবতা' এর এক কথায় প্রকাশ - কুবের

অন্যদিকে,
- 'ধ্যান করেন যিনি' এর এক কথায় প্রকাশ - ধ্যানী।
- 'ধীরে যে গমন করে' এর এক কথায় প্রকাশ - ধীরগামী।
- 'নাটকের পাত্রপাত্রী' এর এক কথায় প্রকাশ - কুশীলব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১৩৮.
‘সন্ধি’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. নিগ্রহ
  2. সম্মিলন
  3. সংযোগ
  4. বিগ্রহ
সঠিক উত্তর:
বিগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিগ্রহ
ব্যাখ্যা

• ‘সন্ধি’ মানে সংযোগ বা মিলন।
- এর বিপরীত অর্থ হলো ‘বিগ্রহ’।
- ‘বিগ্রহ’ মানে বিচ্ছেদ বা আলাদা থাকা।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দসমূহ:
- কৃপণ ↔ বদান্য;
- কৃশ ↔ স্থুল;
- কৃষ্ণ ↔ শুভ্র, শুক্ল, গৌর, সাদা, ধবল;
- কেন্দ্রীকরণ ↔ বিকেন্দ্রীকরণ;
- কোমল ↔ কঠিন, কর্কশ;
- গাম্ভীর্য ↔ চাপল্য, রম্য, দুরন্তপনা;
- গৃহী ↔ সন্ন্যাসী;
- চিরন্তন ↔ ক্ষণকালীন;
- সচল ↔ নিশ্চল;
- সচেতন ↔ অচেতন;
- সচেষ্ট ↔ নিশ্চেষ্ট;
- সজাগ ↔ নিদ্রিত।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৩৯.
যুক্তবর্ণের কোন গঠনটি শুদ্ধ?
  1. হ্ + ঊ = হু
  2. হ্‌ + ণ = হ্ণ
  3. হ্ + ষ = হ্ম
  4. হ্ + র = হৃ
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ণ = হ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ণ = হ্ণ
ব্যাখ্যা
• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- হ্ + ঋ = হৃ,  
- হ্ + ম = হ্ম,  
- হ্ + উ = হু,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ, 
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১২,১৪০.
'Annexe' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. নির্ঘণ্ট
  2. ক্রোড়পত্র
  3. টীকা
  4. পরিশিষ্ট
সঠিক উত্তর:
ক্রোড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোড়পত্র
ব্যাখ্যা
• 'Annexe' এর বাংলা পরিভাষা — ক্রোড়পত্র।

অন্যদিকে, 
• Index - নির্ঘণ্ট, সূচিপত্র,
• Annotation - টীকা,
• Appendix - পরিশিষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১২,১৪১.
নিচের কোনটি লগ্নক নয়?
  1. এর
  2. লাম
  3. টি
  4. উপ
সঠিক উত্তর:
উপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপ
ব্যাখ্যা

• 'উপ' লগ্নন নয়। এটি একটি  উপসর্গ।

• লগ্নক:

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

• বিভক্তি:

- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫ সংস্করণ)

১২,১৪২.
'জগদ্দল পাথর' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. বিশিষ্ট ব্যক্তি
  2. গুরুভার
  3. বিচক্ষণ ব্যক্তি
  4. জমকালো কিন্তু বেমানান
সঠিক উত্তর:
গুরুভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুভার
ব্যাখ্যা
• 'জগদ্দল পাথর' বাগ্‌ধারার অর্থ- গুরুভার। 

অন্যদিকে, 
• 'কেউকেটা' অর্থ - বিশিষ্ট ব্যক্তি।
• 'ভূষণ্ডির কাক' অর্থ - দীর্ঘকালের অভিজ্ঞ ব্যক্তি/বিচক্ষণ ব্যক্তি।
• 'জবরজং' অর্থ - জমকালো কিন্তু বেমানান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,১৪৩.
ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পোষাক
  2. মাষ্টার
  3. চক্ষুষ্মান
  4. ষ্টেশন
সঠিক উত্তর:
চক্ষুষ্মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চক্ষুষ্মান
ব্যাখ্যা

• ’ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়।
যেমন - ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট. স্টেশন, ইত্যাদি।

• ’ষ’ ব্যবহারের অন্যসব নিয়ম:

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে ‘র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ ইত্যাদি।

• র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ‘ষ’ হয়।
যথা: পরিষ্কার।
- কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়।
যথা: পুরস্কার।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন -ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২,১৪৪.
একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে কী বলে?
  1. ক) দ্বিযুক্ত শব্দ
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক শব্দ
  3. গ) প্রচলিত শব্দ
  4. ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। 

- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা। 
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়। 

সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,১৪৫.
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. চ, ছ, জ, ঝ, শ
  2. প, ফ, ব, ভ, ম
  3. ন, র, ল, স
  4. ত, থ, দ, ধ
সঠিক উত্তর:
প, ফ, ব, ভ, ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প, ফ, ব, ভ, ম
ব্যাখ্যা

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• তালব্য ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্য ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১২,১৪৬.
'টুপটাপ' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক  দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
কুট কুট, খক খক, সাঁই-সাঁই, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ, টুপটাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১২,১৪৭.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ?
  1. ক) অজানা
  2. খ) দোতলা
  3. গ) আশীবিষ
  4. ঘ) কানাকানি
সঠিক উত্তর:
ঘ) কানাকানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কানাকানি
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমনঃ
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
১২,১৪৮.
অনুসর্গের উদাহরণ কোনটি?
  1. পরস্পর 
  2. প্রতি
  3. বাজে 
  4. কম 
সঠিক উত্তর:
প্রতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি
ব্যাখ্যা

• 'প্রতি' অনুসর্গের উদাহরণ। 

• অনুসর্গ:

যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]

• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

অন্যদিকে,
- বাজে ও কম উপসর্গের উদাহরণ।
- পরস্পর সর্বনাম পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২,১৪৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) দুরবিন
  2. খ) রানি
  3. গ) পরিবহণ
  4. ঘ) সায়াহ্ণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সায়াহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সায়াহ্ণ
ব্যাখ্যা
সায়াহ্ন শব্দে ন হয়। 

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান
১২,১৫০.
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ অনুযায়ী কী যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠন করতে হয়?
  1. কেবল ধাতু
  2. উপসর্গ
  3. কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
- যে পদের দ্বারা কোনো কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে৷

ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ অনুযায়ী কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠন করতে হয়।
- ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোন মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না৷
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,১৫১.
’যুগ্ম’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. জুগ্‌মো
  2. যুগন্‌
  3. যোগম্‌
  4. যুগুনো
সঠিক উত্তর:
জুগ্‌মো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুগ্‌মো
ব্যাখ্যা
ম বর্ণের উচ্চারণ:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,
  যেমন:
- শ্মশান [শঁশান্],
- স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়,
যেমন:
- আত্মীয় [আতিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্- এর উচ্চারণ বজায় থাকে,
যেমন:
- যুগ্ম [জুগ্‌মো],
- জন্ম [জমো],
- গুল্ম [গুমো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১২,১৫২.
'মস্যাধার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. মস + আধার
  2. মসা + আধার
  3. মসি + আধার
  4. মসী + আধার
সঠিক উত্তর:
মসী + আধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মসী + আধার
ব্যাখ্যা
• 'মস্যাধার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - মসী + আধার

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য(্য) ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
- ই + অ = য্ + অ; অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
- ই + আ = য্ + আ; ইতি + আদি = ইত্যাদি। 
- ই + উ = য্‌ + উ; অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
- ই + উ = য্‌ + উ; প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
- ঈ + আ = য্ + আ; মসী + আধার = মস্যাধার
- ই + এ = য্ + এ; প্রতি + এক = প্রত্যেক।
- ঈ + অ = য্ + অ; নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

এরূপ - প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, আদ্যন্ত, যদ্যপি, অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,১৫৩.
গাছে উঠতে পটু যে- এক কথায় কী বলে?
  1. ক) গাছো
  2. খ) গাছি
  3. গ) গেছো
  4. ঘ) আরোহী
সঠিক উত্তর:
গ) গেছো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গেছো
ব্যাখ্যা
গাছে উঠতে পটু যে- এক কথায় বলে = গেছো

গেছো (বিশেষণ) 
- বাংলা শব্দ 
অর্থ:
- গাছসংক্রান্ত 
- গাছে গাছে থাকে এমন, 
- গাছে চড়তে ভালোবাসে এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

গাছসংক্রান্ত কিছু এক কথায় প্রকাশ - 
ফল পাকলে যে গাছ মরে যায়- ওষধি।
যে গাছে ফল ধরে, কিন্তু ফুল ধরে না- বনস্পতি।
যে গাছ অন্য কোন কাজে লাগে না- আগাছা।
যে গাছ অন্য গাছকে আশ্রয় করে বাঁচে- পরগাছা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,১৫৪.
'তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল 
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জটিল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল 
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২,১৫৫.
'বাঁশি বাজে ঐ দূরে।' যে বাচ্যের উদাহরণ-
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. যৌগিকবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ দূরে।

[এখানে কর্তা নেই। বাঁশি নিজেই কর্তার মতো বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা বাজার কাজ সম্পন্ন করছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,১৫৬.
Budget শব্দের মূল অর্থ?
  1. ক) মূলধন
  2. খ) বণ্টন
  3. গ) মুনাফা
  4. ঘ) থলে
সঠিক উত্তর:
ঘ) থলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) থলে
ব্যাখ্যা
Budget শব্দের অর্থ:
• Noun: আয়ব্যয়ক; থলি বস্তু
•  Verb: আয়ব্যয়ক রচনা করা।
১২,১৫৭.
কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) অর্থদ্যোতকতা
  2. খ) ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি
  3. গ) মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত ধ্বনি
  4. ঘ) জনসমাজে ব্যবহার যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি
ব্যাখ্যা
ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়- ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি।

• ভাষা হলো ভাবের উৎস, ভাবের উচ্চারণ, মনের ভাব প্রকাশের উৎস/মাধ্যম/বাহন, মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত বাক্ সংকেত।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,১৫৮.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. ক) কারখানা
  2. খ) চশমা
  3. গ) তারিখ
  4. ঘ) আমদানি
সঠিক উত্তর:
গ) তারিখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তারিখ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'তারিখ' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে।

• তারিখ (বিশেষ্য):
- আরবি শব্দ 
- অর্থ: মাসের দিক নির্দেশক সংখ্যা, তিথি। 

• অন্য অপশনগুলো:
- চশমা = ফারসি।
- কারখানা = ফারসি।
- আমদানি = ফারসি।

বাংলা একাডেমি অনুসারে,
তারিখ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।
তবে, নবম-দশম শ্রেণির ২০১৯ সংস্করণে তারিখ ফারসি শব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি অধিক গ্রহণযোগ্য। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২,১৫৯.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই-
  1. ক) আসক্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আকাঙ্ক্ষা
  4. ঘ) আসত্তি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আসত্তি
ব্যাখ্যা

- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,১৬০.
'বর্ণচোরা' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• 'বর্ণচোরা'= বর্ণ চুরি করে যে - উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।
• এরূপ সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১২,১৬১.
নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - [আ]।
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,১৬২.
নিচের কোন শব্দে মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনি রয়েছে?​
  1. টাকা
  2. চাচা
  3. তালা
  4. কাচা​
সঠিক উত্তর:
টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাকা
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।

যেমন:
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,১৬৩.
'পুস্তক' শব্দের বহুবচনে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গুচ্ছ
  2. আবলি 
  3. সমূহ
  4. দাম
সঠিক উত্তর:
আবলি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবলি 
ব্যাখ্যা
• 'পুস্তক' শব্দের বহুবচন- 'পুস্তকাবলি'। 

• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়। 

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১২,১৬৪.
‘কুজ্ঝটিকা' - শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কুৎ + ঝটিকা
  2. কুৎ + জটিকা
  3. কুৎ +ঝটকা
  4. কুজ + ঝটিকা
সঠিক উত্তর:
কুৎ + ঝটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুৎ + ঝটিকা
ব্যাখ্যা
• ত্ ও দ্‌-এরপর জ্ ও খ্ থাকলে ত্ ও দ্‌-এর স্থানে জ্ হয়।

যেমন:
- সৎ + জন = সজ্জন।
- বিপদ + জাল = বিপজ্জাল ।
- কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২,১৬৫.
কোনটি বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ক) হাট-বাজার
  2. খ) মা-বাপ
  3. গ) ছেলে-বুড়ো
  4. ঘ) বুক-পিঠ
সঠিক উত্তর:
গ) ছেলে-বুড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছেলে-বুড়ো
ব্যাখ্যা
বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো ছেলে-বুড়ো।
এছাড়া,
হাট-বাজার - সমার্থক শব্দযোগে গঠিত,
মা-বাপ - মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত,
বুক-পিঠ - অঙ্গবাচক শব্দযোগে গঠিত,
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণী]
১২,১৬৬.
'Amendment' এর বাংলা পারিভাষা কোনটি?
  1. সংশোধনী
  2. গণভোট
  3. সংযুক্তি
  4. তদবির
সঠিক উত্তর:
সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• 'Amendment' এর বাংলা পারিভাষা - সংশোধনী।

অন্যদিকে,
- Referendum - গণভোট।
- Amalgamation - সংযুক্তি।
- Lobbying - তদবির।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

১২,১৬৭.
"ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল।" - এখানে অব্যয় পদটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তুলনায় 
  2. অনুমান প্রকাশে 
  3. ব্যঙ্গ প্রকাশে
  4. নির্দেশ অর্থে 
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ প্রকাশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ প্রকাশে
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদ:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহারের সময় যে পদের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যেমন- এবং, ও, আর, কার্যত, যেন, বরং।
সুতরাং,
'ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল'- এখানে 'যেন' একটি অব্যয় পদ।
- এই বাক্যে 'যেন' অব্যয় পদটি - ব্যঙ্গ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিঙ্গাসা।

১২,১৬৮.
‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ২য়া
  2. কর্মে ২য়া
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
• ‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক। 
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি।
তিলে তৈল হয়।
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

• ‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কি থেকে মুক্তা পাওয়া যায় না' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ঝিনুকে' (ঝিনুক থেকে)। তাই, 'ঝিনুকে' অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৬৯.
লগ্নক নয় কোনটি?
  1. বিভক্তি
  2. বচন
  3. বাচ্য
  4. নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
বাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচ্য
ব্যাখ্যা
• 'বাচ্য' - লগ্নক নয়।

• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,১৭০.
সংশপ্তক শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) বর্ণনাতীত
  2. খ) আরক্ত
  3. গ) নির্ভীক
  4. ঘ) পরাভব
সঠিক উত্তর:
গ) নির্ভীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্ভীক
ব্যাখ্যা
সংশপ্তক (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সংসপ্ত+ক 
অর্থ:
- যুদ্ধে জয়লাভ বা মৃত্যু এমন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সৈনিক।
- মহাভারতোক্ত শ্রীকৃষ্ণের নারায়ণী সেনা। 
- নির্ভীক। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
১২,১৭১.
'তোয়াজ' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. নিকৃষ্ট
  2. অবজ্ঞা
  3. খাতির
  4. স্তাবক
সঠিক উত্তর:
অবজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• 'তোয়াজ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - অবজ্ঞা

উল্লেখ্য,
'তোয়াজ' শব্দের অর্থ - স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তোষণ, মনোরঞ্জন, খাতির, যত্ন।
'তাচ্ছিল্য' শব্দের অর্থ - তুচ্ছজ্ঞান, হেয়জ্ঞান, অবজ্ঞা, অনাদর, অশ্রদ্ধা।

অন্যদিকে,
প্রকৃষ্ট - নিকৃষ্ট।
নিন্দুক - স্তাবক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১৭২.
‘ঘ্যণ' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ না কোনটি?
  1. পরিহার্য
  2. বাচ্য
  3. ভোজ্য
  4. গ্রাহী
সঠিক উত্তর:
গ্রাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাহী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে ‘য (য-ফলা)’ থাকলে ‘ঘ্যণ’ হবে। ঘ্যণ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত কৃৎ-প্রত্যয়ঃ √ধৃ + ঘ্যণ = ধার্য; √কৃ + ঘ্যণ = কার্য। এরূপ - পরিহার্য, বাচ্য, ভোজ্য, যোগ্য হাস্য ইত্যাদি। শব্দের শেষে ‘ঈ’ থাকলে ‘ণিন’ হবে। যেমন - গ্রাহী, পায়ী, আত্মঘাতী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
১২,১৭৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) এষণ
  2. খ) এরুপ
  3. গ) এক্ষণ
  4. ঘ) এজেন্সি
সঠিক উত্তর:
খ) এরুপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এরুপ
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান - এরুপ।
- এর শুদ্ধ বানান - এরূপ।
এরূপ ( বিশেষ্য, বিশেষণ, ক্রিয়া বিশেষণ, সর্বনাম)
- বাংলা শব্দ।
অর্থ:
- এরকম
- এই প্রকার

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২,১৭৪.
নিম্নের কোনটি 'ঋক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. ঋদ্ধ
  2. শাস্ত্রজ্ঞ
  3. নক্ষত্র
  4. কর্ম
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
ঋক্ষ:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: ভল্লুক, ভালুক; নক্ষত্র; শোনাক বৃক্ষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১৭৫.
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,১৭৬.
সঠিক বিপরীত শব্দজোড় নয়-
  1. ক) উপচয় - অপচয়
  2. খ) আকার - সাকার
  3. গ) স্থাবর - জঙ্গম
  4. ঘ) আর্দ্র্র - শুষ্ক
সঠিক উত্তর:
খ) আকার - সাকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকার - সাকার
ব্যাখ্যা
আকার - সাকার সমার্থক শব্দজোড়। আকার/সাকার এর বিপরীত শব্দ হলো নিরাকার। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১২,১৭৭.
'ঘটি' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বিপরীতার্থে
  2. বৃহদার্থে
  3. ক্ষুদ্রার্থে
  4. সমার্থে
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্রার্থে স্ত্রীবাচক শব্দ - ঘটি

স্ত্রীলিঙ্গান্তর করলে ক্ষুদ্রার্থ প্রকাশ পায়, এমন কয়েকটি শব্দ:
• একাঙ্ক - একাঙ্কিকা,
 • নাটক-নাটিকা,
• মালা - মালিকা,
• গীত - গীতিকা,
• পুস্তক - পুস্তিকা,
• ঘট- ঘটি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৭৮.
"মসনদ" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. সংস্কৃত
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

• "মসনদ" শব্দটি 'আরবি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- সিংহাসন,
- রাজাসন।

আরো কিছু আরবি শব্দ:
- ইবাদত,
- ইনসান,
- এতিম,
- এলাকা,
- মুসাফির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,১৭৯.
'নদী' এর সমার্থক শব্দ—
  1. তটিনী
  2. গিরি
  3. অম্বর
  4. তোয়
সঠিক উত্তর:
তটিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তটিনী
ব্যাখ্যা

• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- নদ,
- নদনদী,
- গাঙ,
- স্রোতস্বিনী,
- তটিনী,
- স্রোতস্বতী,
- শৈবলিনী,
- সরিৎ,
- প্রবাহিণী,
- নির্ঝরণী,
- তরঙ্গিণী
- মন্দাকিনী
- কল্লোলিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'গিরি' - পাহাড় এর সমার্থক শব্দ।
• 'অম্বর' - আকাশ এর সমার্থক শব্দ।
• 'তোয়' - পানি এর সমার্থক শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,১৮০.
মালিক অর্থে 'ই' তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ব্যাপারি
  2. জমিদারি
  3. মোক্তারি
  4. সরকারি
সঠিক উত্তর:
জমিদারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিদারি
ব্যাখ্যা
• ই/ঈ -বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ভাব অর্থে: বাহাদুর + ই = বাহাদুরি, উমেদার - উমেদারি।
- বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ডাক্তার - ডাক্তারি, মোক্তার - মোক্তারি, পোদ্দার - পোদ্দারি, ব্যাপার - ব্যাপারি, চাষ - চাষি।
- মালিক অর্থে: জমিদার - জমিদারি, দোকান - দোকানি।
- জাত, আগত বা সম্বন্ধ বোঝাতে: ভাগলপুর- ভাগলপুরি, মাদ্রাজ - মাদ্রাজি, রেশম - রেশমি, সরকার - সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১২,১৮১.
'সওগাত' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. তুর্কি 
  2. ফারসি 
  3. আরবি
  4. উর্দু 
সঠিক উত্তর:
তুর্কি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি 
ব্যাখ্যা

সওগাত। 
- তুর্কি ভাষার শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- উপহার,
- ভেট।

• তুর্কি ভাষার আরোকিছু শব্দ হলো- কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, বেগম, বাবা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,১৮২.
“সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়”- বাক্যে ‘সাধনায়’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- চেষ্টায় সব হয়।
- সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়।
[বাক্যটিকে কী উপায়ে সিদ্ধি লাভ হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সাধনায়’। সুতরাং ‘সাধনায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]


• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৮৩.
'বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।' কর্মবাচ্যে রূপান্তর করুন-
  1. সকলের আদরে বিদ্বান অভিভূত।
  2. সকলেই বিদ্বানকে আদর করে থাকে।
  3. বিদ্বানকে সবাই খুব আদর করেন।
  4. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে:
(১) কর্তায় তৃতীয়া (২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং (৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

কর্তৃবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
(গ) মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।

কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১২,১৮৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) আশক্তি
  2. খ) আষক্তি
  3. গ) আসক্তী
  4. ঘ) আসক্তি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আসক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আসক্তি
ব্যাখ্যা
আসক্তি (বিশেষ্য) - গভীর অনুরাগ; লিপ্সা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১২,১৮৫.
‘পুণ্যে মতি হোক।’- এখানে ‘পুণ্য’ কী রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
  5. ঙ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। এখানে ‘পুণ্য’ নাম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে, ‘তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক’- এখানে ‘পুণ্য’ বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।
১২,১৮৬.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. বাঁশি 
  2. হস্তী 
  3. তৈল 
  4. হাত
সঠিক উত্তর:
হাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত
ব্যাখ্যা

গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার। যথা:
• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, ভাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন:
- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
রূঢ়ি শব্দ - তৈল, বাঁশি, হস্তী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

১২,১৮৭.
'অক্ষির সমীপে' এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. প্রত্যক্ষ
  2. নিরপেক্ষ
  3. পরোক্ষ
  4. সমক্ষ
সঠিক উত্তর:
সমক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমক্ষ
ব্যাখ্যা
• ‘অক্ষির সমীপে’এর বাক্য সংকোচন হবে - সমক্ষ।

অন্যদিকে,
• অক্ষির অভিমুখে - প্রত্যক্ষ।
• অক্ষির অগোচরে - পরোক্ষ।
• পক্ষপাতদুষ্ট নয় এমন - নিরপেক্ষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৮৮.
নিচের কোনটি একবচনের উদাহরণ?
  1. তারা গেল।
  2. মানুষ মরণশীল।
  3. ডাক্তার রুগী দেখছেন।
  4. লোকে বলে।
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার রুগী দেখছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার রুগী দেখছেন।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন। 
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ বাস করে।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,১৮৯.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. শয়ন
  2. শোনা
  3. তারুণ্য
  4. শ্রবণ
সঠিক উত্তর:
তারুণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারুণ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য: 
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা: মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ)।
১২,১৯০.
'Amendment' এর বাংলা পারিভাষা -
  1. সংশোধনী
  2. গণভোট
  3. উপনাম
  4. তদবির
সঠিক উত্তর:
সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• 'Amendment' এর বাংলা পারিভাষা - সংশোধনী

অন্যদিকে,
Referendum - গণভোট।
Sub-title - উপনাম।
Lobbying - তদবির।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

১২,১৯১.
যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?
  1. কলম
  2. মলম
  3. বাঁশি
  4. শাখামৃগ
সঠিক উত্তর:
শাখামৃগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাখামৃগ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

• তেমনিভাবে, শাখার ন্যায় মৃগ = শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু ‘বানর’কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই ‘শাখামৃগ’ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘মলম’ ও ‘কলম’ আরবি শব্দ এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থ একই। সুতরাং, অর্থগতভাবে ‘মলম’ ও ‘কলম’ যৌগিক শব্দ।

--------------------
• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা ‘মিতালি’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘মিতার ভাব, বন্ধুত্ব’ (মিতা শব্দের পরে ‘ভাব’ অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আলি’ যোগে ‘মিতালি’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ ‘মিতালি’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে ‘মিতালি’ বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,১৯২.
সমার্থক শব্দ নির্ণয় করুন: 'চাঁদ'
  1. সবিতা
  2. মার্তণ্ড
  3. সোম
  4. তপন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোম
ব্যাখ্যা

'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।

অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২,১৯৩.
'তেহাই' কোন প্রকার সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক) পূর্ণগুণিতক সংখ্যা শব্দ
  2. খ) তারিখবাচক সংখ্যা শব্দ
  3. গ) ভগ্নাংশ সংখ্যা শব্দ
  4. ঘ) পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা ও আধিক্যবাচক শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) ভগ্নাংশ সংখ্যা শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভগ্নাংশ সংখ্যা শব্দ
ব্যাখ্যা
সংখ্যাশব্দ
সংখ্যা হচ্ছে গণনা ও পরিমাপ সংক্রান্ত ধারনা।  
সংখ্যাবাচক বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ- 
- পূর্ণসংখ্যাবাচক ও 
- ক্রমবাচক।
আরও রয়েছে - তারিখবাচক সংখ্যাশব্দ
                     - গুণিতক সংখ্যাশব্দ

গুণিতক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়ে থাকে। 
- পূর্ণগুণিতক সংখ্যাশব্দ
- ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
- পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা ও আধিক্যবাচক শব্দ

ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
পূর্ণসংখ্যার অংশবাচক শব্দকে ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ বলে। 
- পূর্ণসংখ্যার অংশ বোঝাতে বাংলায় নিম্নলিখিত শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়। 
- চার ভাগের এক ভাগ = চৌথাই, সিকি, পোয়া
- তিন ভাগের এক ভাগ = তেহাই 
- দুই ভাগের এক ভাগ = অর্ধ, আধা, আধ, অর্ধেক, আধেক 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ(প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
১২,১৯৪.
'দুর্দিন' শব্দে 'দুর্‌' উপসর্গটি কোন অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে?
  1. মন্দ
  2. অধিক
  3. অল্প
  4. পুরোপুরি
সঠিক উত্তর:
মন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দ
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ। 
উদাহরণ -
- দুঃশাসন = দুঃ + শাসন,   'মন্দ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
- দুর্মূল্য = দুর্‌ + মূল্য,  'অধিক' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
- দুষ্প্রাপ্য = দুস্‌ + প্রাপ্য   'অল্প' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
- দুর্দিন = দুর্‌ + দিন 'মন্দ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১২,১৯৫.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পাগলামি
  2. বিবিয়ানা
  3. ফনিল
  4. কণ্টকিত
সঠিক উত্তর:
পাগলামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাগলামি
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।

যেমন:
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ভরা + অট = ভরাট;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: - কণ্টক + ইত = কণ্টকিত; ফেন + ইল্ = ফনিল। 
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ -  বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,১৯৬.
শব্দের অর্থ নির্ণয় করুন: কুহেলী
  1. কুয়াশা
  2. রাত্রি
  3. ঢেউ
  4. চাদর
সঠিক উত্তর:
কুয়াশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুয়াশা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান: কুহেলি।
- কুহেলী বানানটি প্রচলিত অশুদ্ধ।
- কুহেলি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কুয়াশা,
- নীহার,
- কুজ্ঝটিকা,
- নভোরজ ইত্যাদি।
১২,১৯৭.
'Deed' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ-
  1. চুক্তি
  2. আমানত
  3. দলিল
  4. ঋণ
সঠিক উত্তর:
দলিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দলিল
ব্যাখ্যা
• 'Deed' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- দলিল।

• গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পারিভাষিক শব্দ:
- Aboriginal - আদিবাসী, 
- Amplitude - বিস্তার,
- Amplification - পরিবর্ধন,
- Attested - প্রত্যায়িত,
- Blocade - অবরোধ,
- Bribe - উৎকোচ,
- Civil society - সুশীল সমাজ,
- Climax - মহামুহুর্ত,
- Executive - নির্বাহী,
- Excise duty - আবগারী শুল্ক,
- Epicurism - ভোগবাদ,
- Housing - আবাসন,
- Horizontal - অনুভূমিক,
- Hierarchy - আধিপত্য পরস্পরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৯৮.
"কসাই, কসরত" কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. উর্দু
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

• "কসাই, কসরত" - 'আরবি' ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। 

আরবি ভাষার আরো কিছু শব্দ হলো:
- এলাকা, এলাহি, কয়েদ, কসাই, কসরত, খারাবি, খারাপ, খারিজ, খাসমহল, খাসলত, তুফান, তকদির, ময়না, মুমিন, মুনিব, মুনশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,১৯৯.
কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. সদা + এব = সদৈব
  2. পদ্‌ + অঞ্চলি = পতঞ্চলি
  3. মত + ঐক্য = মতৈক্য
  4. তথা + এবচ = তথৈবচ
সঠিক উত্তর:
পদ্‌ + অঞ্চলি = পতঞ্চলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্‌ + অঞ্চলি = পতঞ্চলি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - পদ্‌ + অঞ্চলি = পতঞ্চলি
এর শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - পতৎ + অঞ্চলি = পতঞ্চলি।

সন্ধির নিয়ম:

• অ-কার কিংবা অ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কারের থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়, ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- জন + এক = জনৈক,
- সদা + এব = সদৈব,
- মত + ঐক্য = মতৈক্য,
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য,
- তথা + এবচ = তথৈবচ,
- ষট্‌ + আনন = ষড়ানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ব্যকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ )।
১২,২০০.
"পর্বতের মুষিক প্রসব" প্রবচনটির অর্থ -
  1. বিপুল উদ্যোগে তুচ্ছ অর্জন
  2. বহু প্রত্যাশিত অর্জন
  3. বিরাট আয়োজন
  4. গুরুতর বিষয় খুঁজে পাওয়া
  5. বিশাল উৎসব আয়োজন
সঠিক উত্তর:
বিপুল উদ্যোগে তুচ্ছ অর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপুল উদ্যোগে তুচ্ছ অর্জন
ব্যাখ্যা

পর্বতের মুষিক প্রসব প্রবচনটির অর্থ হলো বিরাট সম্ভাবনা থাকার পরও অতি সামান্য ফললাভ বা বিপুল উদ্যোগে তুচ্ছ অর্জন।