বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১১০ / ৩৫৪ · ১০,৯০১১১,০০০ / ৩৫,৭১৩

১০,৯০১.
'কাজলকালো' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. কাজলের ন্যায় কালো
  2. কাজল ও কালো
  3. কাজল রূপ কালো
  4. কালো ও কাজল
সঠিক উত্তর:
কাজলের ন্যায় কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলের ন্যায় কালো
ব্যাখ্যা

• 'কাজলকালো'- উপমান কর্মধারয় সমাস। এর সঠিক ব্যাসবাক্য: কাজলের ন্যায় কালো

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
 
যেমন:
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,৯০২.
'ক্ষ্ম্য' যুক্তবর্ণটির বিশ্লিষ্টরূপ কোনটি?
  1. ক + খ + ম + য
  2. ক + ষ + ম + য
  3. ক + ষ + ম + ব
  4. ক + স + ম + য
সঠিক উত্তর:
ক + ষ + ম + য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + ষ + ম + য
ব্যাখ্যা

‘ক্ষ্ম্য’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ- ক + ষ + ম + য। 
------------------------
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ক্য = ঙ + ক + য; যেমন: অঙ্ক্য।
- ঙ্ক্ষ = ঙ + ক + ষ; যেমন: আকাঙ্ক্ষা।
- ঙ্খ = ঙ + খ; যেমন: শঙ্খ।
- ঙ্খ্য = ঙ + খ + য; যেমন: সাঙ্খ্যমান।
- ঙ্গ = ঙ + গ; যেমন: অঙ্গ, সঙ্গী।
- ঙ্গ্য = ঙ + গ + য; যেমন: ব্যঙ্গ্যার্থ। 
- ক্ব = ক + ব; যেমন: পক্ব। 
- ক্ম = ক + ম; যেমন: রুক্মিণী।
- ক্ক = ক + ক; যেমন: আক্কেল, টেক্কা, ধাক্কা। 
- ক্ট্র = ক + ট + র; যেমন: অক্ট্রয়।
- ক্ত = ক + ত; যেমন: রক্ত, শক্ত।
- ঙ্ক = ঙ + ক; যেমন: অঙ্ক, টঙ্কা, শশাঙ্ক।
- ঙ্‌ক্ত = ঙ + ক + ত; যেমন: পঙ্‌ক্তি।
- ক্য = ক + য; যেমন: বাক্য।
- ক্র = ক + র; যেমন: চক্র, বক্র।
- ক্ল = ক + ল; যেমন: ক্লান্তি।
- ঙ্ক্ষ = ঙ + ক + ষ; যেমন: আকাঙ্ক্ষা।
- ঙ্খ = ঙ + খ; যেমন: শঙ্খ।
- ঙ্খ্য = ঙ + খ + য; যেমন: সাঙ্খ্যমান।
- ঙ্গ = ঙ + গ; যেমন: অঙ্গ, সঙ্গী।
- ঙ্গ্য = ঙ + গ + য; যেমন: ব্যঙ্গ্যার্থ, ব্যঙ্গ্যোক্তি।
- ক্ষ = ক + ষ; যেমন: পক্ষ, ভক্ষক, অপেক্ষা।
- ক্ষ্ণ = ক + ষ + ণ; যেমন: তীক্ষ্ণ।
- ক্ষ্ব = ক + ষ + ব; যেমন: ইক্ষ্বাকু।
- ক্ষ্ম = ক + ষ + ম; যেমন: লক্ষ্মী। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 

১০,৯০৩.
'সে ঘুমাচ্ছে' বাক্যে 'ঘুমা' কোন ধাতু?
  1. প্রযোজক ধাতু
  2. কর্মবাচ্যের ধাতু
  3. নাম ধাতু
  4. কর্তৃবাচ্যের ধাতু
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাম ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম ধাতু
ব্যাখ্যা

নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পর ‘আ’ প্রত্যয়যোগে যে সব ধাতু গঠিত হয়, তা-ই নামধাতু।

যেমন:
- সে ঘুমাচ্ছে।
[বাক্যে ঘুম থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা’ হয়েছে।]

অন্যদিকে,
প্রযোজক ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
যেমন:
- কর্‌ + আ = করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)।
বাক্য: সে নিজে চুরি করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।

কর্মবাচ্যের ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যরে ধাতু সাধিত হয়।
- এটি বাক্যমধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
যেমন:
- হার্‌ + আ = হারা;
বাক্য: যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটায় চোর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,৯০৪.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন: 'উত্তমর্ণ
  1. উত্তম+অর্ণ
  2. উত্তম+উন
  3. উত্তম+ঋণ
  4. উত্তম+আন
সঠিক উত্তর:
উত্তম+ঋণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তম+ঋণ
ব্যাখ্যা
• ‘উত্তমর্ণ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে - উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ।

• প্রথম পদের শেষে অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনি এবং পরের পদের প্রথমে ঋ-ধ্বনি থাকলে দুয়ের সন্ধিতে আর্ হয়। বানানে অ আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যৃক্ত হয় এবং র্-ধ্বনি রেফ হয়ে পরের ব্যঞ্জনের ওপরে বসে। 

• [অ+ঋ = অর্] - দেব+ঋষি = দেবর্ষি, উত্তম+ঋণ = উত্তমর্ণ, সপ্ত+ঋষি = সপ্তর্ষি, অধম+ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।
• [আ+ঋ = অর্] - রাজা+ঋষি = রাজর্ষি, মহা+ঋষি = মহর্ষি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৯০৫.
পুরুষবাচক 'কুহকী' - এর স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ কোনটি?
  1. কুহুকিনী
  2. কুহকিনী
  3. কুহকীনী
  4. কুহুকীনি
সঠিক উত্তর:
কুহকিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহকিনী
ব্যাখ্যা

• পুরুষবাচক 'কুহুক' - এর স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ- কুহকিনী।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্গান্তর:
• ঠাকুর - ঠাকুরন/ ঠাকরুন/ ঠাকুরানী।
• হুজুর - হুজুরাইন।
• মৎস্য - মৎসী।
• মনুষ্য - মনুষী।
• বিধাতা - বিধাত্রী।
• মদ্দা ঘোড়া - মাদি ঘোড়া।
• শুক - শারি।
• দুলহা - দুলাইন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৯০৬.
'কেতাদুরস্ত' বাগ্‌ধারাটির অর্থ — 
  1. দুর্লভ বস্তু 
  2. পরিপাটি
  3. নেশাগ্রস্ত
  4. অনভিজ্ঞ
সঠিক উত্তর:
পরিপাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপাটি
ব্যাখ্যা

• 'কেতাদুরস্ত' বাগ্‌ধারাটির অর্থ — পরিপাটি। 
বাক্য গঠন: চালচলন আর পোশাকে সে খুবই কেতাদুরস্ত লোক।

অন্যদিকে, 
• "টুপ ভুজঙ্গ"- বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নেশাগ্রস্ত।
• 'আকাশের চাঁদ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দুর্লভ বস্তু।
• ‘কেবলা হাকিম’ বাগধারার অর্থ - অনভিজ্ঞ।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা হলো:
• ’চুলোয় যাওয়া’ - নষ্ট হওয়া।
• ’গুড়ে বালি’ - আশায় নৈরাশ্য।
• ’গোড়ায় গলদ’ - শুরুতেই ভুল।
• ’কৈ মাছের জান’ - যা সহজে মরে না।
• ’তিলকে তাল করা’ - ছোটকে বড় করা।
• 'অকাল কুষ্মাণ্ড' - অপদার্থ।
• 'অক্ষরে অক্ষরে' - সম্পূর্নভাবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০,৯০৭.
নিচের কোন শব্দটির অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অর্ধরাত্রী
  2. অহর্নিশ
  3. নীরোগ
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
অর্ধরাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধরাত্রী
ব্যাখ্যা
- 'অর্ধরাত্রী' - শব্দটি অপপ্রয়োগ। 
- এটি সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - অর্ধরাত্র। 

অন্যদিকে, 
- নীরোগ, অহর্নিশ ও নির্দোষ শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৯০৮.
এক কথায় প্রকাশ করুন' স্বর্গ ও মর্ত্য'-
  1. ক্রন্দসী 
  2. রোদশি
  3. স্বর্গলোক
  4. স্বর্গার্ত্য
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দসী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দসী 
ব্যাখ্যা

'স্বর্গ ও মর্ত্য' এর এক কথায় প্রকাশ হবে - ক্রন্দসী।



অন্যদিকে,
- স্বর্গলোক - দেবলোক, স্বর্গ।
- রোদসী অর্থ: পৃথিবী ও স্বর্গ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯০৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত অমিত্রাক্ষর ছন্দ বাংলা কোন ছন্দের নব-রূপ?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. বর্ণবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।

অক্ষরবৃত্ত:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯১০.
'উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।' - বাক্যে 'উঃ!' কী ধরনের অব্যয়?
  1. অনন্বয়ী
  2. সমুচ্চয়ী
  3. অনুসর্গ
  4. অনুকার
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

কিছু অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ হলো:
•  ‘হ্যাঁ’ আমি যাব না (স্বীকৃতি জ্ঞাপনে)।
•  উঃ!’ পায়ে বড্ড লেগেছে (যন্ত্রণা প্রকাশে)।
• ‘ওগো’ আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে' (সম্বোধন অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৯১১.
'বর্ষীয়ান' এর প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বৃদ্ধ +ঈয়স
  2. খ) বর্ষ + ইয়ান
  3. গ) বর্ষ + ইয়ন
  4. ঘ) বৃদ্ধ + ইয়স
সঠিক উত্তর:
ক) বৃদ্ধ +ঈয়স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বৃদ্ধ +ঈয়স
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বর্ষীয়ান' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'বৃদ্ধ +ঈয়স'। 

• 'বর্ষীয়ান' এর অর্থ- প্রবীণ ও অভিজ্ঞ।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০,৯১২.
'সারঙ্গ' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. বিসর্গ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৯১৩.
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে কী শব্দ বলে?
  1. ক্রিয়া
  2. অনুসর্গ
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
- যেমন: "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
- দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
- সর্বনাম মোট নয় প্রকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১০,৯১৪.
জাতি বাচক বিশেষ্যের উদহারণ কোনটি?
  1. সৌরভ
  2. বই
  3. গাছ
  4. সমিতি
সঠিক উত্তর:
গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছ
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনাে একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনাে উপাদানবাচক পদার্থের নাম বােঝায়, তাকে বহ্বাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্ত্র সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা— সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল,  বহর, দল।

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনাে বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বােঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা—মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ–তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ— তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ]
 
১০,৯১৫.
'অগ্নি' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. মিহির
  2. দিবাকর
  3. পাবক
  4. সবিতা
সঠিক উত্তর:
পাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাবক
ব্যাখ্যা
'অগ্নি' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, বিশ্বপা, সর্বশুচি, হিমারাতি, বায়ুসখ, অনিলসখ, জগন্নু, সর্বভুক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সবিতা, আদিত্য, দিনমণি, রবি, অরুণ, দিবাকর, বিভাবসু, মিহির, মার্তণ্ড, ভানু, বিভাকর, অর্ক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯১৬.
কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) চতুরঙ্গ
  2. খ) কলাভবন
  3. গ) উদ্বেল
  4. ঘ) পাণ্ডুলিপি
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাণ্ডুলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
পাণ্ডু (চলনসই) যে লিপি = পাণ্ডুলিপি হলো কর্মধারয় সমাস। এরূপঃ আগে ধোয়া পরো মোছা = ধোয়ামোছা। মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি। চলৎ যে চিত্র = চলচ্চিত্র ইত্যাদি। বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের যে সমাস তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে পর পদের অর্থই প্রদান থাকে। চতুরঙ্গ = চার অঙ্গের সমাহার হলো দিগু সমাস। কলাভবন = কলার ভবন হলো ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। উদ্বেল = বেলাকে অতিক্রান্ত হলো অব্যয়ীভাব সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১০,৯১৭.
কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উড়ন্ত
  2. চোরাই
  3. ঝলক
  4. মিশাল
সঠিক উত্তর:
চোরাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোরাই
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- চোর + আই = চোরাই।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ:

• আ-কারান্ত প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতুর পরে 'আন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'আনো' হয়।
যেমন:
√জানা + আন = জানানো।
এরূপ- শোনানো, ভাসানো ইত্যাদি।

• আও-প্রত্যয়: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে 'আও' প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
√পাকড় + আও = পাকড়াও;
√চড্ + আও = চড়াও।

• 'অনি' (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√বাঁধ + অনি = ব্যাঁধনি;
√চির + অনি = চিরনি।

• 'অন্ত' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
√ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

• 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√মুড় + অক = মোড়ক;
√ঝিল্ + অক = ঝলক

• আল-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
√মাত্ + আল = মাতাল;
√মিশ্ + আল = মিশাল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১০,৯১৮.
'বহু বিষয়ে জ্ঞানবিশিষ্ট' এক কথায় কী বলে?
  1. বহুজ্ঞ
  2. বহুগুণান্বিত
  3. বহুদর্শি
  4. বহুগুণধারী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বহুজ্ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুজ্ঞ
ব্যাখ্যা
• 'বহু বিষয়ে জ্ঞানবিশিষ্ট' এক কথায় বলে - বহুজ্ঞ।

অন্যদিকে, 
• নানা গুণসম্পন্ন - বহুগুণান্বিত।
• নানাবিধ গুণের অধিকারী - বহুগুণধারী।

• অপশন 'গ' এ উল্লেখিত 'বহুদর্শি' বানানটি অশুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯১৯.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. আলাপচারী
  2. আলাপনীয়
  3. আলাপচারীতা
  4. আলাপিত
সঠিক উত্তর:
আলাপচারীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাপচারীতা
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ- আলাপচারীতা। 

• শুদ্ধ রূপ- আলাপচারিতা। 
- এটি বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
আলাপ-আলোচনা, কথোপকথন।

অন্যদিকে, 
• আলাপচারী, আলাপনীয় ও আলাপিত বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯২০.
‘পুত্র’ শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. আত্মজা
  2. তনয়
  3. তপন
  4. সৈকত
সঠিক উত্তর:
তনয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তনয়
ব্যাখ্যা
• ‘পুত্র’ শব্দের প্রতিশব্দ - তনয়

• 'পুত্র’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- ছেলে, আত্মজ, নন্দন, দুলাল, সুত, তনয়, খোকা, কুমার।

অন্যদিকে,
• ‘কন্যা’ শব্দের প্রতিশব্দ - আত্মজা।
• ‘সূর্য’ শব্দের প্রতিশব্দ - তপন।
• 'কূল’ শব্দের প্রতিশব্দ - সৈকত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,৯২১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অংশণীয়
  2. অংশিদারী
  3. অংকুর
  4. অংশী
সঠিক উত্তর:
অংশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অংশী (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অংশ আছে এমন;
- অংশবিশিষ্ট।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• অংশীদারি (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ: সম্পত্তি বা ব্যবসায় যার অংশ আছে।

• অংশনীয় (বিশেষণ পদ)।
অর্থ: ভাগ করা যায় এমন; বিভাজ্য।

• অঙ্কুর (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ: বীজ থেকে যা প্রথম উদ্গত হয়; উন্মেষ, প্রকাশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯২২.
'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মাের প্রার্থনা।' - এখানে 'আমারে' কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন:
- সে রােজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করাে।

- কাব্যভাষায় কর্মকারকে ‘রে বিভক্তি হয়।
যেমন –
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মাের প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১০,৯২৩.
'তাল পাতার সেপাই' বাগধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অতিশয় দুর্বল
  2. ছোটো মন
  3. মোসাহেব
  4. একমাত্র সম্বল
সঠিক উত্তর:
অতিশয় দুর্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিশয় দুর্বল
ব্যাখ্যা
- তাল পাতার সেপাই - অতিশয় দুর্বল। 

• আরো কিছু গুরুতপূর্ণ বাগধারা:  
- 'চক্ষুদান করা' বাগধারাটির অর্থ - 'চুরি করা'। 
- চোখের পর্দা' বাগধারাটির অর্থ - লজ্জা। 
- 'চক্ষু চড়ক গাছ' বাগধারাটির অর্থ - বিস্ময়ে চোখ বড় হয়ে যাওয়া।
- 'চোখ কপালে তুলা' বাগধারাটির অর্থ - বিস্মিত হওয়া। 
- 'চোখের বালি' বাগধারাটির অর্থ - চক্ষুশূল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮)।
১০,৯২৪.
নিচের কোনটি সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ?
  1. ক) দিক + আন্ত = দিগন্ত
  2. খ) দিগ + অন্ত = দিগন্ত
  3. গ) দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত
  4. ঘ) দিগ + আন্ত = দিগন্ত
সঠিক উত্তর:
গ) দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত
ব্যাখ্যা
- দিগন্ত শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ 'দিক্‌+অন্ত = দিগন্ত'।

- সন্নিহিত দুইটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি:
- যেমন: আশা + অতীত = আশাতীত;

গুরুত্বপূর্ণ কিছু সন্ধি;
- সুপ + অন্ত = সুবন্ত;
- ষট্‌ + আনন = ষড়ানন;
- অনু + এষণ = অন্বেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১০,৯২৫.
'অভিপ্রেত' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. অপ্রত্যাশিত
  2. উনভিপ্রেত
  3. বাঞ্ছিত
  4. অহিংস
সঠিক উত্তর:
অপ্রত্যাশিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রত্যাশিত
ব্যাখ্যা

• 'অভিপ্রেত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - অপ্রত্যাশিত

উল্লেখ্য,
"অভিপ্রেত" শব্দের অর্থ - অভিলষিত, বাঞ্ছিত, উদ্দিষ্ট।
"অনভিপ্রেত" শব্দের অর্থ - বাঞ্ছিত নয় এমন; অপ্রত্যাশিত

অন্যদিকে,
অহিংস - সহিংস।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯২৬.
'সওদাগর' - কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'সওদাগর' (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি ফারসি ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- ব্যবসায়ী; হরিৎ।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরো কতিপয় ফারসি শব্দ:
- বেহেশত,
- দোজখ,
- ফেরেশতা,
- নামাজ,
- খোদা,
- গুনাহ,
- পয়গম্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯২৭.
কোনটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. নবান্ন
  2. বেহিসাবি
  3. অকালপক্ব
  4. আয়কর
সঠিক উত্তর:
বেহিসাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহিসাবি
ব্যাখ্যা
⇒ বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে ‘বহুব্রীহি’ সমাস বলে।
যেমন:
- দশ হাত যার = দশহাতি; এখানে দশহাতি বলতে দশ হাত বিশিষ্ট কাউকে বোঝায় না। বরং ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন দেবীকে বোঝায়।

⇒ নঞ্ বহুব্রীহি:
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নেই হিসাব যার = বেহিসাবি;
- নয় সামাল যে = বেসামাল;
- নেই দোষ যার = নির্দোষ;
- নেই হিংসা যার = অহিংস;
- নেই যার হায়া = বেহায়া;
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল।

অন্যদিকে,
- নব যে অন্ন = নবান্ন।
- আয়ের ওপর কর আয়কর। ( কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।)
- অকালে পক্ব = অকালপক্ব। (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।)

উৎস ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০,৯২৮.
'তাজমহল' শব্দটির কোন দুটি বিদেশি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. আরবি + ফারসি
  2. ফারসি + আরবি
  3. আরবি + আরবি
  4. ফারসি + ফারসি
সঠিক উত্তর:
আরবি + ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি + ফারসি
ব্যাখ্যা
কয়েকটি মিশ্র শব্দ:
তাজমহল = তাজ + মহল (আরবি + ফারসি)।
চৌহদ্দি = চৌ + হদ্দি (বাংলা + ফারসি)
হেড-পন্ডিত = হেড + পন্ডিত (ইংরেজি + তৎসম)

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯২৯.
নিম্নের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) পরিত্যাজ্য
  2. খ) আলস্যতা
  3. গ) অদ্যবধি
  4. ঘ) মাধুর্যতা
সঠিক উত্তর:
ক) পরিত্যাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরিত্যাজ্য
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = পরিত্যাজ্য 

অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- 
• আলস্য/অলসতা 
আলস্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অলস+য
অর্থ: অলসতা , কুঁড়েমি, জড়তা, শ্রমবিমুখ।

• অদ্যাবধি (অব্যয়, ক্রিয়াবিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ  
- প্রকৃতি প্রত্যয় =অদ্য + অবধি 
অর্থ: আজ পর্যন্ত, এখন থেকে। 

• মাধুর্য/মধুরতা
মাধুর্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধুর+য
অর্থ: মধুরতা, মনোহারিতা, সৌন্দর্য, লাবণ্য।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০,৯৩০.
'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?' - এই বাক্যে 'হের' কোন ধাতু?
  1. অজ্ঞাতমূল ধাতু
  2. প্রযোজক ধাতু
  3. কর্মবাচ্যের ধাতু
  4. সংযোগমূলক ধাতু
সঠিক উত্তর:
অজ্ঞাতমূল ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজ্ঞাতমূল ধাতু
ব্যাখ্যা
অজ্ঞাতমূল ধাতু:
- কতগুলো ক্রিয়ামূল বা ধাতু রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন।
- এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।
যেমন:
- হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?
- উপরোক্ত বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায়নি।
- তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

অন্যদিকে,
সংযোগমূলক ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয় তাই সংযোগমূলোক ধাতু।
- যোগ(বিশেষ্য) + কর্‌(ধাতু) = 'যোগ কর'(সংযোগমূলোক ধাতু।
বাক্য:
- তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ করো।

কর্মবাচ্যের ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যরে ধাতু সাধিত হয়।
- এটি বাক্যমধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
যেমন:
- হার্‌ + আ = হারা;
বাক্য: যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটায় চোর।

প্রযোজক ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
যেমন:
- কর্‌ + আ = করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)।
বাক্য: সে নিজে চুরি করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৯৩১.
শুদ্ধ বানান -
  1. চর্ব্যচূষ্য
  2. গন্যমান্য
  3. কিনাঙ্ক
  4. উচ্ছাস
সঠিক উত্তর:
চর্ব্যচূষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্ব্যচূষ্য
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে

• শুদ্ধ বানান - চর্ব্যচূষ্য।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- চিবিয়ে বা চুষে খেতে হয় এমন,
- বিবিধ সুস্বাদু খাদ্যবস্তু।

অন্যদিকে,
উচ্ছাস – উচ্ছ্বাস। 
কিনাঙ্ক – কিণাঙ্ক। 
গন্যমান্য – গণ্যমান্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯৩২.
"Copyright" এর যথাযথ পরিভাষা কোনটি?
  1. মালিকানা
  2. সারগ্রন্থ
  3. মেধাস্বত্ব
  4. লেখস্বত্ব
সঠিক উত্তর:
লেখস্বত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেখস্বত্ব
ব্যাখ্যা
• "Copyright" এর যথাযথ পরিভাষা: 'লেখস্বত্ব'। 
-------------------------
অন্যদিকে,
• 'Ownership' শব্দের বাংলা পরিভাষা - 'মালিকানা'।
• 'Intellectual property' শব্দের বাংলা পরিভাষা - "মেধাস্বত্ব"।
• 'Manual’ শব্দের বাংলা পারিভাষা - 'সারগ্রন্থ'।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৯৩৩.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ ?
  1. ক) সিংহাসন
  2. খ) ভাই-বোন
  3. গ) কানাকানি
  4. ঘ) গাছপাকা
সঠিক উত্তর:
খ) ভাই-বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাই-বোন
ব্যাখ্যা

উল্লেখ্য, ভাই-বোন একটি মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎসঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বোর্ড বই।
১০,৯৩৪.
‘প্রখরতা’ এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. নম্র
  2. স্নিগ্ধতা
  3. পূর্ণ
  4. শ্লেথ
সঠিক উত্তর:
স্নিগ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নিগ্ধতা
ব্যাখ্যা
• ‘প্রখরতা’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - স্নিগ্ধতা

অন্যদিকে,
- ‘ত্বরিত’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - শ্লেথ।
- ‘রিক্ত’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - পূর্ণ।
- ‘ধৃষ্ট’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - নম্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ১৯ সংস্করণ)।
১০,৯৩৫.
ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ নয় কোনটি?
  1. কলম
  2. সাদা
  3. চশমা
  4. কাজি
সঠিক উত্তর:
কলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলম
ব্যাখ্যা
• কলম (বিশেষ্য পদ),
- আরবি শব্দ। 

অন্যদিকে, 
ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯৩৬.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  2. খ) হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।
  3. গ) আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।
  4. ঘ) বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
খ) হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।
ব্যাখ্যা
'হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।'- বাক্যটি প্রবাদ- প্রবচনের বিকৃতিজনিত কারণে অশুদ্ধ। 
বাক্যটির শুদ্ধরূপ: 'হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছে।' 

• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা যাবে না।
পরিবর্তন করলে তা ভুল হবে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড.  হায়াৎ মামুদ।
১০,৯৩৭.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাস?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।
এরূপ-ছাত্রাবাস, ডাকমাশুল, চোষকাগজ, শিশুমঙ্গল, মুসাফিরখানা, হজ্বযাত্রা, মাল গুদাম, রান্নাঘর, মাপকাঠি, বালিকা-বিদ্যালয়, পাগলাগারদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০,৯৩৮.
কোনটি সন্ধিগঠিত নির্ভুল শব্দ?
  1. দূঃ + নীতি = দূর্নীতি
  2. দূর + নীতি = দূর্ণীতি
  3. দুর + ণীতি = দূর্ণীতি
  4. দুঃ + নীতি = দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
দুঃ + নীতি = দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + নীতি = দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা,
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ,
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা,
- দুঃ + আশা = দুরাশা,
- দুঃ + নীতি = দুর্নীতি,
- দুঃ + উক্তি = দুরুক্তি,
- দুঃ + উচ্চার্য = দুরুচ্চার্য,
- দুঃ + উহ = দুরূহ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৯৩৯.
কোনটি একবচন  ও বহুবচন উভয়ই বোঝায়?
  1. ক) অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার
  2. খ) পোকা আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়
  3. গ) সিংহ বনে থাকে
  4. ঘ) কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
গ) সিংহ বনে থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিংহ বনে থাকে
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য শব্দের একবচনের ব্যবহারেও অনেক সময় বহুবচন বোঝানো হয়। যেমন : 
সিংহ বনে থাকে (একবচন  ও বহুবচন উভয়ই বোঝায়)।
পোকা আক্রমণে ফসল নষ্ট হয় (বহুবচন)।
হাটে লোক জমা হয়েছে (একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝায় )

উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র , এস এস সি প্রোগ্রাম ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১০,৯৪০.
কোন শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত?
  1. চোগা
  2. উজবুক
  3. ইস্তিরি 
  4. কুর্নিশ
সঠিক উত্তর:
ইস্তিরি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্তিরি 
ব্যাখ্যা
ইস্তিরি  - শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- কাপড় মসৃণ করার জন্য ব্যবহৃত ধাতুনির্মিত সরঞ্জামবিশেষ।
- ধোয়া বা কোঁচকানো জামাকাপড় মসৃণ করার কাজ।

অন্যদিকে,
তুর্কি শব্দ - কুর্নিশ, উজবুক, চোগা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯৪১.
সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গটি নিচের কোন শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপকূল
  2. উপবন
  3. উপগ্রহ
  4. উপনয়ন
সঠিক উত্তর:
উপবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপবন
ব্যাখ্যা

• 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে -  উপদ্বীপ, উপবন। 
- ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে - উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ। 

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০,৯৪২.
'আভাষ' - অর্থ কী?
  1. ক) বাসস্থান
  2. খ) ইঙ্গিত
  3. গ) আলাপ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) আলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলাপ
ব্যাখ্যা
আভাষ শব্দের অর্থ হলো আলাপ বা ভূমিকা। অন্যদিকে আবাস অর্থ বাসস্থান এবং আভাস অর্থ ইঙ্গিত। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১০,৯৪৩.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কোন ধরনের শব্দের পরিবর্তন হয়?
  1. ক) কালবাচক
  2. খ) স্থানবাচক
  3. গ) ভাববাচক
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরােক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,৯৪৪.
'হিসাবনিকাশ' বোঝাতে নিচের কোন বাগধারার প্রয়োগ হয়?
  1. ক) খতিয়ে দেখা
  2. খ) হাতভাড়ি
  3. গ) গাছপাথর
  4. ঘ) হাড়হদ্দ
সঠিক উত্তর:
গ) গাছপাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গাছপাথর
ব্যাখ্যা

গাছপাথর - হিসেবনিকেশ।
যেমনঃ আমরা সেকেলে, আমাদের বয়সের কি কোনো গাছপাথর আছে!

হাতভাড়ি - ব্যয়কুন্ঠ
হাড়হদ্দ - সবকিছু।
খতিয়ে দেখা - বিবেচনা করা।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ

১০,৯৪৫.
‘পর্যন্ত’ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. ক) সম্পূর্ণ
  2. খ) যথারীতি
  3. গ) আমূল
  4. ঘ) পরাজয়
সঠিক উত্তর:
গ) আমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমূল
ব্যাখ্যা
পর্যন্ত অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হচ্ছে: মূল পর্যন্ত = অমূল

• অব্যয়ীভাব সমাস:

‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে।
যেমন:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি) : প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

অন্যদিকে,
- দূরবর্তী অর্থে: জয় থেকে দূর = পরাজয়।
- অনতিক্রম্যতা অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি।
- পূর্ণ বা সমগ্র অর্থে: সম্পূর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৯৪৬.
'ভর্ৎসনা' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. লাঞ্ছনা
  2. গরল
  3. প্রশংসা
  4. তিরস্কার
সঠিক উত্তর:
প্রশংসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশংসা
ব্যাখ্যা

• 'ভর্ৎসনা' এর বিপরীতার্থক শব্দ - প্রশংসা

উল্লেখ্য,
'গঞ্জনা' শব্দের অর্থ - তিরস্কার, খোঁটা, ভর্ৎসনা; কটূক্তি; লাঞ্ছনা
'প্রশংসা' শব্দের অর্থ - স্তুতি, গুণকীর্তন, সাধুবাদ; সুখ্যাতি।

অন্যদিকে, 
অমৃত - গরল। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯৪৭.
নিচের কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়া আছে?
  1. ক) বাবা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
  2. খ) বাবা ছেলের জন্য বই এনেছেন।
  3. গ) শিক্ষক ছাত্রদের বেতাচ্ছেন। 
  4. ঘ) মা শিশুকে গান শোনাচ্ছেন।
সঠিক উত্তর:
ক) বাবা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাবা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া একজনের (কর্তার) প্রযোজনায় বা চালনায় অন্যের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয় তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। 
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। 
সাপুড়ে সাপ খেলায়

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১০,৯৪৮.
নিচে শুদ্ধ বানানগুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) দূষণীয়, দূরদর্শিতা, দুরবিন
  2. খ) দুরবস্থা, দুর্গ, দুরুহ
  3. গ) দুর্দান্ত, দুর্গম, দুষ্য
  4. ঘ) দুর্বিষহ, দুর্গা, দুতালি
সঠিক উত্তর:
ক) দূষণীয়, দূরদর্শিতা, দুরবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দূষণীয়, দূরদর্শিতা, দুরবিন
ব্যাখ্যা
অপশন ক - এর সবগুলো বানান শুদ্ধ।

অপশন খ) - এর দুরুহ বানান অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - দুরূহ
অপশন গ) - এর দুষ্য বানান অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - দূষ্য
অপশন ঘ) - এর দুতালি বানান অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - দূতালি

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান
১০,৯৪৯.
​তারিখ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. আড়াই
  2. চতুর্দশ
  3. ত্রিশে
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
ত্রিশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিশে
ব্যাখ্যা

• ​তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
​ যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

-------------------------
পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ তিন প্রকার। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম)।

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম)...নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০,৯৫০.
‘খাওয়াইয়াছিল’ সাধু ক্রিয়াপদের চলিত রূপ-
  1. খাইছিল
  2. খাচ্ছিল
  3. খেয়েছিল
  4. খাইয়েছিল
সঠিক উত্তর:
খাইয়েছিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাইয়েছিল
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী। 
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

• চলিত রীতি: 
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী ।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

• সাধু - চলিত
মস্তক - মাথা, 
জুতা - জুতো, 
তুলা - তুলো, 
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো, 
খাওয়াইয়াছিল - খাইয়েছিল। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৮)। 
১০,৯৫১.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি শুদ্ধ?
  1. ভাঙ্গা 
  2. রঙ্গিন
  3. পালং
  4. সঙ 
সঠিক উত্তর:
পালং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালং
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: পালং।
- এটি অর্ধ-তৎসম শব্দ। 

-----------------
• বানানের নিয়ম:

- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন :
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।

- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯৫২.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. তাঁর শুশ্রুষা ও সান্তনায় আমি শক্তি ও উৎসাহ পেলাম।
  2. তাঁর শুশ্রূষা ও সান্তনায় আমি শক্তি ও উৎসাহ পেলাম।
  3. তাঁর শুশ্রূষা ও সান্ত্বনায় আমি শক্তি ও উৎসাহ পেলাম।
  4. তাঁর শুশ্রুষা ও সান্ত্বনায় আমি শক্তি ও উৎসাহ পেলাম।
সঠিক উত্তর:
তাঁর শুশ্রূষা ও সান্ত্বনায় আমি শক্তি ও উৎসাহ পেলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর শুশ্রূষা ও সান্ত্বনায় আমি শক্তি ও উৎসাহ পেলাম।
ব্যাখ্যা
• সঠিক বাক্যটি হবে:
"তাঁর শুশ্রূষা ও সান্ত্বনায় আমি শক্তি ও উৎসাহ পেলাম।"

কারণ,
"শুশ্রুষা" শব্দের শুদ্ধ রূপ — "শুশ্রূষা",
এবং "সান্তনা" শব্দের শুদ্ধ রূপ — "সান্ত্বনা"।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯৫৩.
'গান করা' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়। করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা; কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা; হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া; দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া; ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা; পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া; খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া; মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১০,৯৫৪.
'ঊনকোটি চৌষট্টি' এ বাগধারার অর্থ হলো 
  1. নয় ছয়
  2. পাগলামি
  3. অপব্যয়ী
  4. প্রায় সম্পূর্ণ
সঠিক উত্তর:
প্রায় সম্পূর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় সম্পূর্ণ
ব্যাখ্যা

 • 'ঊনকোটি চৌষট্টি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - প্রায় সম্পূর্ণ।

অন্যদিকে,
• 'ঊনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপদার্থ।
• 'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - উচ্ছৃঙ্খল।
• 'ঊনপঞ্চাশ বায়ু' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - পাগলামি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৯৫৫.
'ফরিয়াদি' এর বিপরীত শব্দ-
  1. বাদী
  2. সন্ন্যাসী
  3. ডানপন্থী
  4. আসামি
সঠিক উত্তর:
আসামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসামি
ব্যাখ্যা

• 'ফরিয়াদি' এর বিপরীত শব্দ - আসামি।
এখানে, ফরিয়াদি অর্থ - অভিযোগকারী।

অন্যদিকে,
• 'বামপন্থী' এর বিপরীত শব্দ- ডানপন্থী।
• 'গৃহী' এর বিপরীত শব্দ - সন্ন্যাসী।
• 'বাদী' এর বিপরীত শব্দ - বিবাদী।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯৫৬.
কোনটি শূণ্য প্রত্যয়ের শব্দ?
  1. ক) হত
  2. খ) ভয়
  3. গ) জয়
  4. ঘ) ঘুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘুর
ব্যাখ্যা

ঘুর শব্দটির সাথে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়নি। বরং এটি মূলধাতু। তাই সঠিক উত্তর ঘুর।
‘হন’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √হন্ + ক্ত
‘জয়’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √জি + অল
‘ভয়’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √ভী + অল
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী

১০,৯৫৭.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. প্রভাব
  2. দুর্নাম
  3. বিধৃত
  4. হিমালয়
সঠিক উত্তর:
হিমালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমালয়
ব্যাখ্যা
• হিমালয় - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- 'হিমালয়' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় : হিম  + আলয়।
- যেখানে দুটি শব্দ ই আলাদা অর্থ প্রকাশ করে।
- কিন্তু, এখানে 'হিম' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।

অন্যদিকে,
- 'প্রভাব' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'প্র'  যোগে গঠিত।
- 'দুর্নাম' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘দুর’ যোগে গঠিত।
- 'বিধৃত' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'বি’ যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৯৫৮.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে শুদ্ধ শব্দ-
  1. পূর্বাহ্ন
  2. সায়াহ্ণ
  3. অপরাহ্ণ
  4. মধ্যাহ্ণ
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
ব্যাখ্যা
• অপরাহ্ণ - ণ-ত্ব বিধান অনুসারে শুদ্ধ শব্দ।

• সূত্র:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ)।

অন্যদিকে,
- পূর্বাহ্ন এর শুদ্ধ বানান পূর্বাহ্ণ।
- সায়াহ্ণ এর শুদ্ধ বানান সায়াহ্ন।
- মধ্যাহ্ণ এর শুদ্ধ বানান মধ্যাহ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০,৯৫৯.
যোজকের শ্রেণি বিভাগ নয় কোনটি?
  1. ক) বিকল্প যোজক
  2. খ) বিরোধ যোজক
  3. গ) কারক যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
সঠিক উত্তর:
গ) কারক যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কারক যোজক
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

বৈশিষ্ট অনুযায়ী যোজককে পাঁচ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়:
১.সাধারণ যোজক
২. বিকল্প যোজক
৩. বিরোধ যোজক
৪. কারণ যোজক 
৫. সাপেক্ষ যোজক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,৯৬০.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
  2. তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
  3. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  4. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।

​যেমন
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত - আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
সাধারন অতীত - তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
নিত্য অতীত - তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০,৯৬১.
সন্ধির নিয়মানুসারে ঈ +অ = ?
  1. ক) য্‌ + অ
  2. খ) য্‌ +আ
  3. গ) আ + য্‌
  4. ঘ) অ + য্‌
সঠিক উত্তর:
ক) য্‌ + অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) য্‌ + অ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়মানুসারে ঈ +অ = য্‌ + অ 
উদাহরণ: নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
আবার,
ঈ + আ = য্‌ + আ
ঈ + ই = ঈ
ঈ + ঈ = ঈ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৯৬২.
"টিটু নাচে।" - বাক্যটি কোন বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।
- টিটু নাচে।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
( ৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৯৬৩.
কোনটি আরবি শব্দ?
  1. লেনদেন
  2. বাবুর্চি
  3. মজলুম
  4. দরদি
সঠিক উত্তর:
মজলুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজলুম
ব্যাখ্যা
• আরবি শব্দ - মজলুম

অন্যদিকে,
ফারসি শব্দ - দরদি।
তুর্কি শব্দ - বাবুর্চি।
হিন্দি শব্দ - লেনদেন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯৬৪.
Licence শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) প্রত্যয়নপত্র
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) সম্মতিপত্র
  4. ঘ) অনুমতিপত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুমতিপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুমতিপত্র
ব্যাখ্যা
 Licence  কোনো কাজ করার অনুমতিপত্র; (সাধারণত নিয়ন্ত্রিত পণ্য) উৎপাদন বা বিক্রির অনুমতি; লাইসেন্স
১০,৯৬৫.
বাংলা বর্ণমালায় দীর্ঘস্বর স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ের তারতম্য অনুসারে স্বরধ্বনিগুলােকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।
যেমন:
- হ্রস্বস্বর ও
- দীর্ঘস্বর।

• হ্রস্বস্বর:
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে।
যেমন: অ, ই, উ, ঋ এই ৪টি হ্রস্বস্বর।

• দীর্ঘস্বর:
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে।
যেমন: আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ এই ৭টি দীর্ঘস্বর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
১০,৯৬৬.
'অনাথ'-এর স্ত্রীলিঙ্গ কী?
  1. অনাথীনি
  2. অনাথিনী
  3. অনাথি
  4. নাথবতী
সঠিক উত্তর:
অনাথিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাথিনী
ব্যাখ্যা
• অনাথ  এর স্ত্রীলিঙ্গ: অনাথা, অনাথিনী।
----------------- 
• অনাথিনী শব্দের অর্থ: নিরাশ্রয়া; সহায়হীনা।

উল্লেখ্য,
অনাথিনী শব্দটি অপপ্রয়োগ। অপশনে 'অনাথা' না থাকায় উৎস অনযায়ী 'অনাথিনী' সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে।  
-------------------
• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্গান্তর:
ঠাকুর - ঠাকুরন/ ঠাকরুন/ ঠাকুরানী।
হুজুর - হুজুরাইন।
মৎস্য - মৎসী।
মনুষ্য - মনুষী।
মানুষ - মানুষী।
গো - গবী।
বিধাতা - বিধাত্রী।
মদ্দা ঘোড়া - মাদি ঘোড়া।
শুক - শারি।
দুলহা - দুলাইন।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৬৭.
'আলকাতরা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তুর্কি 
  2. ওলন্দাজ
  3. পর্তুগিজ 
  4. ফরাসি 
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ 
ব্যাখ্যা

আলকাতরা.
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
- এটি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
বায়ুশূন্য বা অল্প পরিমাণ অক্সিজেনপূর্ণ পাত্রে উচ্চ তাপ-মাত্রায় পাথুরে কয়লা পাতন করে প্রাপ্ত কালো ও ঘন দাহ্য তরল পদার্থ। 

ইংরেজি শব্দ- tar, coaltar।

কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- আচার,
- আলকাতরা,
- আলপিন,
- চাবি,
- আলমারি,
- বেহালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯৬৮.
যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ নিম্নের কোনটি?
  1. ক) ছেলেরা মাঠে খেলছে।
  2. খ) মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে।
  3. গ) তোমার সাঁতার কাটা শেখা উচিত।
  4. ঘ) এগিয়ে চলতে হবে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) এগিয়ে চলতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এগিয়ে চলতে হবে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
'এগিয়ে চলতে হবে' তাই যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

ছেলেরা মাঠে খেলছে = সরল ক্রিয়া
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে = প্রযোজক ক্রিয়া 
তোমার  সাঁতার কাটা শেখা উচিত = সংযোগ ক্রিয়া 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১০,৯৬৯.
'চারি > চাইর' - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) স্বরসঙ্গতি
  2. খ) মধ্য স্বরাগম
  3. গ) অপিনিহিতি
  4. ঘ) সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
গ) অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। অপিনিহিতি তার মধ্যে অন্যতম।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
আজি > আইজ,
সাধু > সাউধ,
রাখিয়া » রাইখ্যা,
বাক্য > বাইক্য,
সত্য > সইত্য,
চারি > চাইর,
মারি > মাইর,
রাতি > রাইত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৯৭০.
অভিধানের বর্ণানুক্রমে কোনটি আগে বসবে?
  1. জনতন্ত্র
  2. জনতা
  3. জনগোষ্ঠী
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
জনগোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে আগে বসবে - জনগোষ্ঠী শব্দটি।

• জনগোষ্ঠী (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: জনসমাজ। 

অন্যান্য অপশন গুলোর ক্ষেত্রে বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে আগে বসবে-
• জনতন্ত্র (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: জনসাধারণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন-ব্যবস্থা, গণতন্ত্র।

• জনতা (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সাধারণ মানুষ, জনসাধারণ, অনেক লোকের একত্রসমাবেশ।

• জননী (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: মাতা, মা, আম্মা, জন্মদাত্রী, গর্ভধারিণী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯৭১.
'বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান:
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১০,৯৭২.
নিচের কোনটি বিদেশী অব্যয় শব্দ?
  1. ক) সদা
  2. খ) সুতরাং
  3. গ) বহুত
  4. ঘ) দৈবাৎ
সঠিক উত্তর:
গ) বহুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহুত
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় (উত্স অনুযায়ী) তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
বাংলা অব্যয় শব্দঃ আর, আবার, ও, হাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দঃ যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশী অব্যয় শব্দঃ আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১০,৯৭৩.
'মাথা খাওয়া' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. কুপরামর্শ দান
  2. জব্দ করা
  3. নষ্ট করা
  4. সর্বস্বান্ত হওয়া
সঠিক উত্তর:
নষ্ট করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্ট করা
ব্যাখ্যা

• 'মাথা খাওয়া' বাগ্‌ধারার অর্থ- নষ্ট করা। 

অন্যদিকে, 
• 'ঘোল খাওয়ানো' অর্থ- জব্দ করা। 
• 'কান ভারী করা' অর্থ- কুপরামর্শ দান।
• 'পথে বসা' অর্থ- সর্বস্বান্ত হওয়া। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ। 

১০,৯৭৪.
নিম্নের কোনটি শব্দগঠন প্রক্রিয়া নয়?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) সমাস
  4. ঘ) প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
ক) সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সন্ধি
ব্যাখ্যা
 বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
এগুলাে হলাে :
- উপসর্গ যােগে,
- প্রত্যয় যােগে এবং
- যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

• মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়।
- সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়।
- অর্থাৎ, একটি শব্দ গঠনের পর যদি দেখা যায় যে, ওই শব্দে এমন কতগুলাে ধ্বনি পাশাপাশি বসেছে যাদের এক ধ্বনিতে পরিণত করা সম্ভব তাহলে সেখানে সন্ধি ঘটতে পারে।
- কিন্তু এটি যে বাধ্যতামূলক কোনাে বিষয়, তা কিন্তু নয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৯৭৫.
'প্রাচ্য এর বিপরীত শব্দ- 
  1. অপ্রাচ্য
  2. রদ
  3. স্ততি
  4. প্রতীচ্য
সঠিক উত্তর:
প্রতীচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতীচ্য
ব্যাখ্যা

• 'প্রাচ্য এর বিপরীত শব্দ- প্রতীচ্য।

• 'প্রাচ্য' শব্দের অর্থ:
১. পূর্বদিকস্থ।
২. পূর্বদেশীয়।
৩. ইউরোপের পূর্বদিকস্থ দেশসমূহ

• 'প্রতীচী' শব্দের অর্থ:
১. পশ্চিম দিক।
২. পশ্চিম দিকে অবস্থিত দেশসমূহ।

• অন্যদিকে,
• 'রদ' এর বিপরীত শব্দ- চালু। 
- 'অগ্র' এর বিপরীত শব্দ -পেছনে।
- 'বামপন্থী' এর বিপরীত শব্দ-ডানপন্থী।
- 'পদস্থ' এর বিপরীত শব্দ- নিম্নস্থ।
- 'বাড়তি' এর বিপরীত শব্দ - কমতি।
- 'নিন্দা' এর বিপরীত শব্দ- স্ততি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০,৯৭৬.
'কুষ্মাণ্ড' শব্দের অর্থ কী? 
  1. নির্বোধ 
  2. কুমড়ো 
  3. কুৎসিত 
  4. অক্লান্ত ব্যক্তি 
সঠিক উত্তর:
কুমড়ো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমড়ো 
ব্যাখ্যা



• কুষ্মাণ্ড (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- জরায়ু, গর্ভাশয়।
- কুমড়া, কুমড়ো। 

উল্লেখ্য, 
• 'অকালকুষ্মাণ্ড' বান্ধারার অর্থ - অপদার্থ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৯৭৭.
'পূজক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পূজ্‌ + অক
  2. √পুজ্‌ + নক
  3. √পূজ্‌ + ওক
  4. √পুজ্‌ + ণক
সঠিক উত্তর:
√পূজ্‌ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√পূজ্‌ + অক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'পূজক' এর শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় হচ্ছে:
- √পূজ্‌ + অক।
- এটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

-------------------------
• 'পূজক' (বিশেষণ পদ),
-এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পূজ্‌ + অক।
অর্থ:
- আরাধক,
- উপাসক,
- অর্চক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯৭৮.
'অংশু' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সূর্য
  2. চন্দ্র
  3. আলো
  4. আগুন
সঠিক উত্তর:
আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো
ব্যাখ্যা
• অংশু,
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- কিরণ;
- আলো;
- রশ্মি।

'আলো' শব্দের সমার্থক শব্দ:
আলোক, রশ্মি, কিরণ, অংশু, কর, দীপ্তি, প্রভা, জ্যোতি, উদ্ভাস, আভা, বিভা, ময়ূখ, দ্যুতি, ভাতি, ঔজ্জ্বল্য, জেল্লা, জৌলুস, প্রদীপ্তি, চাকচক্য, রেশন, নূর। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।
১০,৯৭৯.
বাংলা  নী-প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বাঘিনী
  2. মেথরানী
  3. ভাগনী
  4. কামারনী
সঠিক উত্তর:
কামারনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামারনী
ব্যাখ্যা

• বাংলা  নী-প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কামার-কামারনী,
- জেলে-জেলেনী,
- কুমার-কুমারনী,
- ধোপা-ধোপানী,
- মজুর-মজুরনী। 

-------------------
বাংলা স্ত্রী প্রত্যয়:
পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে কতগুলো প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। এগুলো হলো : ঈ, নি, নী, আনী, ইনী, ন। 
• ঈ-প্রত্যয় : বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, ভাগনা/ভাগনে—ভাগনী। 
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে ঈ থাকলে স্ত্রীবাচক শব্দে নী হয় এবং আগের ঈ, ই হয়। যেমন: ভিখারি- ভিখারিনী, অভিসারী-অভিসারিণী। 
• আনী-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
• ইনী-প্রত্যয় : কাঙাল - কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি। 
• উন-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকরুন / ঠাকুরানী।
• আইন-প্রত্যয় : নতুন নতুন প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখা যায়। যেমন : ঠাকুর-ঠাকুরাইন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০,৯৮০.
'পঙ্কজ' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক 
  3. রূঢ় 
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদেরকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।

উদাহরণ:
- পঙ্কজ = পঙ্কে জন্মে যা (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
- শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে।
- কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

- একই ভাবে রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, তুরঙ্গম প্রভৃতি যোগরূঢ় শব্দ ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১০,৯৮১.
মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ না নিচের কোনটি?
  1. গ্রাম > গেরাম
  2. ভ্রূ > ভুরু
  3. মুলা > মুলো
  4. রত্ন > রতন
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলো
ব্যাখ্যা
মুলা > মুলো স্বরসঙ্গতির উদাহরণ। রত্ন > রতন, স্বপ্ন > স্বপন, ফিল্ম > ফিলিম, গ্রাম > গেরাম, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১০,৯৮২.
দহরম মহরম এর বিপরীত অর্থবিশিষ্ট বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. ক) আট কপালে
  2. খ) নারদের ঢেকি
  3. গ) আদায় কাঁচকলায়
  4. ঘ) দফা নিকেশ
সঠিক উত্তর:
গ) আদায় কাঁচকলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আদায় কাঁচকলায়
ব্যাখ্যা
দহরম মহরম = অন্তরঙ্গতা 
আদায় কাঁচকলায় = শত্রুভাবাপন্ন 
তাই এরা বিপরীত অর্থবিশিষ্ট বাগ্‌ধারা

আট কপালে = হতভাগ্য 
নারদের ঢেকি = বিবাদের বিষয় 
দফা নিকেশ = সমূহ সর্বনাশ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৮৩.
‘শিল’ ও ‘শীল’ - শব্দজোড়ের মধ্যে মিল কোথায়?
  1. অর্থে
  2. উচ্চারণে
  3. বানানে
  4. শব্দশ্রেণিতে
সঠিক উত্তর:
উচ্চারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চারণে
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

- কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• শকল - আঁশ।
• সকল - সব।
• সন - বছর।
• স্বন - শব্দ।
• শিল - পাথর।
• শীল - চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,৯৮৪.
পদের লগ্নক কত ধরনের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 
- লগ্নক চার ধরনের।
যথা - 
 
বিভক্তি: 
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
নির্দেশক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ। 
 
বচন: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ। 
 
বলক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০,৯৮৫.
'হরকরা' কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. দেশি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'হরকরা' ফারসি ভাষা থেকে আগত।



• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯৮৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিষ্প্রভ
  2. নিষ্তব্ধ
  3. নিষ্পন্দ
  4. পুরষ্কার
সঠিক উত্তর:
নিষ্প্রভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্প্রভ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান: নিষ্প্রভ। 
অর্থ: প্রভাহীন, অনুজ্জ্বল। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
- পুরস্কার,
- নিস্পন্দ,
- নিস্তব্ধ। 

-------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে,
ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
(স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১০,৯৮৭.
"চোখ পাকানো" বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. ভূমিকা না রাখা
  2. রাগ দেখানো
  3. বিশৃঙ্খল
  4. বিত্তের অহংকার
সঠিক উত্তর:
রাগ দেখানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাগ দেখানো
ব্যাখ্যা
• 'চোখ পাকানো" বাগধারাটির অর্থ - 'রাগ দেখানো'

অন্য অপশনের বাগ্‌ধারার অর্থ:
• 'চোখ বুঁজে থাকা' - 'ভূমিকা না রাখা'।
• 'জগাখিচুড়ি' বাগধারাটির অর্থ - বিশৃঙ্খল। 
• ‘টাকার গরম' বাগধারাটির অর্থ - বিত্তের অহংকার ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০,৯৮৮.
'কার্পণ্যতা' বানানটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বাহুল্যজনিত
  4. বিভক্তিজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
• 'সৌহার্দতা'-  'অপপ্রয়োগ'। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'সৌহার্দ'। 
এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।
 
• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০,৯৮৯.
'সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।' কোন বাচ্য? 
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্ম বাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়। যেমন-
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০,৯৯০.
নিচের কোনটি সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ?
  1. খাট্
  2. খাদ্
  3. ফির্
  4. কহ্
সঠিক উত্তর:
খাদ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ-খাদ্।

• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট্, চেঁচ্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, ভিজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৯৯১.
শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. শতক
  2. শ্রান্তি
  3. শ্রম 
  4. শ্রাবণ
সঠিক উত্তর:
শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতক
ব্যাখ্যা

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- স কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, আবার কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
যেমন:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা], শতক [শতোক্]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা], শ্রান্তি [স্রান্‌তি], শ্রম [স্রোম্‌], শ্রাবণ [স্রাবোন্]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষোলো [শোলো]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারোন), সামান্য [শামান্নো] সার্বিক [শার্‌বিক্]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৯৯২.
'টানাটানি' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বাংলা ধাতু
  2. বিদেশি ধাতু
  3. সংস্কৃত ধাতু
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি ধাতু
ব্যাখ্যা
বিদেশাগত ধাতু:
- বিদেশি ভাষা থেকে আগত যেসব ধাতু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিদেশাগত ধাতু বা বিদেশি ধাতু বলে।
যেমন:
খাট্ + বে = খাটবে যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে।
বিগডু + আনো: তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই।
টান্ + আ: আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না, আমি যাব না।
জম্ + আট = জমাট অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১০,৯৯৩.
‘দ্বৈপায়ন’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দীপ + আয়ন
  2. দ্বীপ + অয়ন
  3. দ্বিপ + আয়ন
  4. দ্বীপ + আয়ন
সঠিক উত্তর:
দ্বীপ + আয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বীপ + আয়ন
ব্যাখ্যা
আয়ন (<ফক্):
ক) বংশধর অর্থে: বাৎস্য+আয়ন=বাৎস্যায়ন, বদর+আয়ন=বাদরায়ণ, (‘রামায়ণ' এই ‘আয়ন' প্রত্যয়যোগে সিদ্ধ নয়। রাম অয়ন যার এই অর্থে রামায়ণ)।

খ) এই স্থানে জাত অর্থে: দ্বীপ+আয়ন = দ্বৈপায়ন।
এই ‘আয়ন’-এর সঙ্গে কৃদন্ত আয়+অন=আয়নের পার্থক্য লক্ষণীয়। দুষ্কৃতায়ন, বনায়ন, দুর্বৃত্তায়ন, বিশ্বায়ন প্রভৃতি শব্দ 'আয়ন’ যোগে গঠিত নয়।
- দ্বৈপায়ন শব্দটি মূলত প্রত্যয় সাধিত শব্দ যার প্রকৃতি প্রত্যয়  দ্বীপ+আয়ন।

এটি সন্ধি সাধিত নয়। ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় এ প্রশ্নটি আসার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এসে থাকে। এটি পরীক্ষায় আসলে দ্বীপ+আয়ন = দ্বৈপায়ন উত্তর করবেন। 
১০,৯৯৪.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  2. অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
  3. তারা বাড়ি যাচ্ছে।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• উপরিউক্ত সবগুলো বাক্য শুদ্ধ।

শুদ্ধ বাক্য: তারা বাড়ি যাচ্ছে।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০,৯৯৫.
দ্বন্দ্ব সমাস কোন পদের প্রাধান্য থাকে?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয়পদ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উভয়পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়পদ
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।  
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা। 

অন্যদিকে: 
- দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।
- বহুব্রীহি সমাসে কোন পদেরই প্রাধান্য পায় না। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৯৯৬.
'স্বায়ত্তশাসন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শায়ত্‌তোশাশোন্‌
  2. শায়ত্‌তোশাসোন্‌
  3. সায়ত্‌তোশাশোন্‌
  4. সায়ত্‌তোশাসোন্‌
সঠিক উত্তর:
শায়ত্‌তোশাশোন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়ত্‌তোশাশোন্‌
ব্যাখ্যা
• বানান: স্বায়ত্তশাসন।
- সঠিক উচ্চারণ: শায়ত্‌তোশাশোন্‌
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: স্বায়ত্ত + শাসন।
- অর্থ: স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৯৯৭.
‘দাড়ি (।)’ বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ-
  1. ক) পাদচ্ছেদ
  2. খ) অর্ধচ্ছেদ
  3. গ) পূর্ণচ্ছেদ
  4. ঘ) দৃষ্টান্তচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ণচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ণচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
ব্যবহৃত বিরাম-চিহ্ন দাড়ি (।)-এর বাংলা অর্থ - পূর্ণচ্ছেদ

কিছু বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ:
কমা - পাদচ্ছেদ
সেমিকোলন - অর্ধচ্ছেদ
কোলন - দৃষ্টান্তচ্ছেদ
কোলন ড্যাস - ছেদ বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৯৯৮.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে?
  1. তারা বাড়ি যাবে।
  2. বৃষ্টি আসে আসুক।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. অন্যায় কাজ করো না।
সঠিক উত্তর:
অন্যায় কাজ করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায় কাজ করো না।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

⇒ নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।

খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়:
- আপনি কি আসবেন?
- সে কি গিয়েছিল?

⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

⇒ সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

⇒ আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৯৯৯.
“তুমি, তোমরা, আপনি” – কোন পুরুষের উদাহরণ?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. নাম পুরুষ
  4. প্রথম পুরুষ
সঠিক উত্তর:
মধ্যম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যম পুরুষ
ব্যাখ্যা

• পুরুষ তিন প্রকার।
যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১,০০০.
'শুভ্র' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. দুর্গন্ধ
  2. অস্বস্তি
  3. কৃষ্ণ
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা

• 'শুভ্র' শব্দের অর্থ: সাদা, শ্বেত।
​• কৃষ্ণ শব্দের অর্থ: কালো।
• ​শুভ্র এর বিপরীত শব্দ  কৃষ্ণ।


​গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীতার্থক শব্দ:
- ‘হর্ষ’ শব্দের বিপরীত শব্দ - বিষাদ।
- ‘সচেষ্ট’ শব্দের বিপরীত শব্দ - নিচেষ্ট।
- ‘আকুঞ্চন’ শব্দের বিপরীত শব্দ - প্রসারণ।
- ‘আবির্ভাব’ শব্দের বিপরীত শব্দ - তিরোভাব।
- ‘অনন্ত’ শব্দের বিপরীত শব্দ - সান্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।