বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১০৩ / ৩৫৪ · ১০,২০১১০,৩০০ / ৩৫,৭১৩

১০,২০১.
'একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।' - বাক্যটিতে 'না' কোন প্রকার ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।' - বাক্যটিতে 'না' পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- বা: কখনো বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে
- তো: মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,২০২.
’বড়র পিরিতি বালির বাঁধ’ প্রবচনটির অর্থ-
  1. অপ্রত্যাশিত
  2. সামান্য
  3. ক্ষণস্থায়ী
  4. অসম্ভব
সঠিক উত্তর:
ক্ষণস্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষণস্থায়ী
ব্যাখ্যা
• ’বড়র পিরিতি বালির বাঁধ’ প্রবাদ- প্রবচনটির অর্থ- ক্ষণস্থায়ী।
যেমন: বলেছিলাম তোমাকে বড়লোকের মেয়ের সাথে সম্পর্কে না জড়াতে, এখন বোঝ; কথায় বলে বড়র পিরিতি বালির বাঁধ।

অন্যদিকে,
• ’মেঘ না চাইতে জল’ প্রবাদ- প্রবচনটির অর্থ- অপ্রত্যাশিত।
• ’ভূতের মুখে রাম নাম’ প্রবাদ- প্রবচনটির অর্থ- অসম্ভব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২০৩.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) পাণিনি
  2. খ) মধুপর্ণি
  3. গ) সমীচীন
  4. ঘ) নির্ধন
সঠিক উত্তর:
খ) মধুপর্ণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধুপর্ণি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ- মধুপর্ণি
• শুদ্ধ- মধুপর্ণী
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [মধু+√পা+ইন্]
অর্থ: নীলীবৃক্ষ, গুলঞ্চলতা, গাম্ভারী, গামার। 

অন্যদিকে,
নির্ধন, সমীচীন ও পাণিনি শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,২০৪.
সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে উদাহরণ ও উদ্ধৃতি কী করতে হবে?
  1. পরিবর্তন করতে হবে
  2. গ্রহণ করতে হবে
  3. অবিকল লিখতে হবে
  4. পুরোপুরি বাদ দিতে হবে
সঠিক উত্তর:
পুরোপুরি বাদ দিতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরোপুরি বাদ দিতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম হলো:
ক. প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
খ. অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
গ. প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
ঘ. সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
ত. সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
চ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।
ছ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,২০৫.
‘আনন্দ’ -এর সমার্থক শব্দ নয়-
  1. উচ্ছ্বাস
  2. উল্লাস
  3. স্ফুরণ
  4. শ্রান্তি
সঠিক উত্তর:
শ্রান্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রান্তি
ব্যাখ্যা
'আনন্দ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- খুশি, আমোদ, মজা, পুলক, হর্ষ, আহ্লাদ, স্ফূর্তি, সন্তোষ, পরিতোষ, প্রমোদ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস।

অন্যদিকে: 
- 'শ্রান্তি' শব্দের অর্থ 'ক্লান্তি'।

উৎস:
১) ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১০,২০৬.
কোনটি অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. শব্দজোড়
  3. কারক বিশ্লেষণ
  4. যতিচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
শব্দজোড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দজোড়
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় -  যতিচিহ্ন, কারক বিশ্লেষণ।
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - ক্রিয়া বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১০,২০৭.
নিচের কোনটি মহাপ্রাণ ধ্বনির উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• 'হ' - মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
• স, ত, ড - অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

• মহাপ্রাণ ধ্বনি: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যথা:
- (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি। 

• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,২০৮.
নাসিক্য বর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৭
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
ক) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫
ব্যাখ্যা
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম - এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস তাড়িত বাতাস বের হয়ে বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকী বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১০,২০৯.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. বৈশাখ
  2. ছাগল
  3. ইত্তেফাক
  4. গীতাঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাগল
ব্যাখ্যা
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - বৈশাখ, ইত্তেফাক, গীতাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০,২১০.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন - 'তৎকাল'
  1. তত্‌ + কাল
  2. তদ্‌ + কাল
  3. তৎ্‌ + কাল
  4. তধ্‌ + কাল
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + কাল
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর - তদ্‌ + কাল

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে,
দ্ ও ধ্‌ এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, থ, ফ থাকলে দ্ ও ধ্‌ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়।
যেমন -
- দ্‌ > ত্  ⇒  তদ্‌ + কাল = তৎকাল
- ধ্‌ > ত্  ⇒  ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

এরূপ - হৃৎকম্প, তৎপর, তত্ত্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২১১.
যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে কী বলে?
  1. দীর্ঘস্বর
  2. দ্বিস্বরধ্বনি
  3. অর্ধস্বরধ্বনি
  4. পূর্ণস্বর
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি:
[ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

অন্যদিকে,
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
- লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।
- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে।
যথা:
- ঐ এবং ঔ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০,২১২.
নিচের কোনটি গুজরাটি শব্দ?
  1. সমুদ্র
  2. জানালা
  3. হরতাল
  4. রেস্তোরাঁ
সঠিক উত্তর:
হরতাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরতাল
ব্যাখ্যা
• হরতাল (বিশেষ্য):
শব্দটির উৎসমূল - গুজরাটি।
অর্থ -
- প্রতিবাদ বা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আহূত ধর্মঘট। 
- দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে শ্রমিক সংগঠনের আহূত ধর্মঘট। 
- বন্‌ধ। 

অন্যদিকে,
• 'সমুদ্র'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
• 'জানালা'- পর্তুগিজ শব্দ। 
• 'রেস্তোরাঁ'- ফরাসি শব্দ। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১০,২১৩.
'কর্ম কর, অনুরূপ ফল পাবে।'-গঠন অনুসারে এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. কার্যকারণাত্মক
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
'কর্ম কর, অনুরূপ ফল পাবে।'-গঠন অনুসারে এটি যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা ( , ), সেমিকোলন ( ; ), কোলন ( : ), ড্যাশ ( - ) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
১০,২১৪.
নিচের কোনটি নামক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
  2. সাঁতার কাটা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।
  3. তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন
  4. ছেলেরা মাঠে খেলছে
সঠিক উত্তর:
জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
ব্যাখ্যা

• নামক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। যেমন: বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়; বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে-আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না; 
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া: একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• প্রযোজক ক্রিয়া: কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

• সংযোগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়। করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা; কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা; হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া; দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া; ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা; পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া; খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া; মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১০,২১৫.
“কেউ-কোথাও” কোন ধরনের সর্বনাম পদের উদাহরণ?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. পারস্পরিক সর্বনাম
  3. সাকুল্যবাচক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  5. সাপেক্ষ সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি। 

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২১৬.
বাংলা ব্যাকরণে 'বাক্যের বর্গ' এর নাম হয় -
  1. বাক্য অনুযায়ী
  2. পদ অনুযায়ী 
  3. ধ্বনি অনুযায়ী
  4. ভাষা অনুযায়ী
সঠিক উত্তর:
পদ অনুযায়ী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ অনুযায়ী 
ব্যাখ্যা

বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গ হলো ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কীত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক।
মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
যেমন,
মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সমানে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।

• কোনো একটি বর্গ বাক্যের মধ্যে যে পদের মতো আচরণ করে, সেই পদের নাম অনুযায়ী বর্গের নাম হয়।
উদাহরন অনুযায়ী 'মালা ও মায়া' ও 'স্কুল-বাসে' হলো বিশেষ্যবর্গ; 'বাড়ির সামনে থাকা' হলো বিশেষণবর্গ, 'খুব সকালে' ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ এবং 'উঠে পড়লো' হলো ক্রিয়াবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০,২১৭.
ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয় কোথায়?
  1. ব্যাকরণে
  2. বাক্যতত্ত্বে
  3. অর্থতত্ত্বে
  4. রূপতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণে
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ব্যাকরণের কাজ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। 
- যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। 
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়।
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- বইটির নাম 'এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,২১৮.
‘আলোয় আঁধার কাটে' এই বাক্যে আলোয় কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে
  2. খ) অপাদানে সপ্তমী
  3. গ) করণে সপ্তমী
  4. ঘ) কর্তায় সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
গ) করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
⇒ করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
- আবার, এ, য়, তে বা সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটে। 

যেমন - “আলোয় আঁধার কাটে।” - এই বাক্যে কিসের দ্বারা বা কী উপায়ে আঁধার কাটে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘আলোয়’।
এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি ‘য়’ যুক্ত হয়েছে।

অতএব, “আলোয় আঁধার কাটে।”-  এই বাক্যে ‘আলোয়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,২১৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্বায়ত্বশাসন
  2. স্বায়ত্তসাশন
  3. স্বায়ত্ত্বশাসন
  4. স্বায়ত্তশাসন
সঠিক উত্তর:
স্বায়ত্তশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'স্বায়ত্তশাসন'।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।



- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: স্বায়ত্ত + শাসন।
এর অর্থ: 
- স্বশাসিত রাষ্ট্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,২২০.
"দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক" - কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. চতুর্থী
  2. দ্বিতীয়া
  3. তৃতীয়া
  4. ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
- বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭প্রকার।

যথা:
প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক
চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে।
পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,২২১.
‘দর্শনীয়’ শব্দটির মূল ধাতু বা প্রকৃতি কোনটি?
  1. দর্শন
  2. দৃশ্
  3. দর্শ
  4. দ্রশ্য
সঠিক উত্তর:
দৃশ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃশ্
ব্যাখ্যা

• ‘দর্শনীয়’ শব্দটির মূল ধাতু বা প্রকৃতি - দৃশ্
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।

প্রকৃতি- প্রত্যয়:

- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √ দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,২২২.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ‘ফ’ কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. দন্ত স্পৃষ্ট
  3. তালু স্পৃষ্ট
  4. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
⇒ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১০,২২৩.
'সফেদ' শব্দের অর্থ কী?
  1. পদ্ম
  2. সাদা
  3. ফল
  4. ফুল
সঠিক উত্তর:
সাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সফেদ' শব্দের অর্থ - সাদা।

• আরো কয়েকটি শব্দার্থ:
সফেন- মাড়যুক্ত,
সবক - পঠন,
ভুজ -হাত,
ভুজঙ্গ- সাপ,
কুসুম -ফুল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,২২৪.
'বাঁচোয়া' শব্দটি কোন ধরনের প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বাংলা তদ্ধিত-প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত-প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-ওয়া': বিশেষণ শব্দ গঠন করে। যেমন:
- √বাঁচ্ + ওয়া = বাঁচোয়া,
- √লাগ্ + ওয়া = লাগোয়া ইত্যাদি।

------------------
এরূপ কিছু বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় হলো:
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-উক' প্রসারে-উকা: কর্তৃবাচ্যে করতে 'অভ্যস্ত' অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √মিশ্ + উক্ = মিশুক,
- √খা + উকা  = খাউকা > খেকো ইত্যাদি।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-উয়া > –ও': কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- √খা + উয়া = খাউয়া, 
- √পড় + উয়া = পড়ুয়া,
- √উড় + উয়া = উড়ুয়া > উড়ো ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২২৫.
'লোকমুখে তোমার বিয়ের কথা শুনেছি।' এখানে 'লোকমুখে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃ কারক ৭মী
  2. কর্ম কারক ৭মী
  3. অধিকরণ কারক ৭মী
  4. অপাদান কারক ৭মী
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক ৭মী
ব্যাখ্যা

'লোকমুখে তোমার বিয়ের কথা শুনেছি।' এখানে 'লোকমুখে' অপাদান কারক ৭মী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:

- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
→ লোকমুখে শুনেছি।
→ তিলে তৈল হয়।
→ বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,২২৬.
ধ্বন্যাত্মক দিরুক্ত শব্দ নয় কোনটি?
  1. খিল্ খিল্
  2. সুরে সুরে
  3. ঝম্ ঝম্
  4. ভেউ ভেউ
সঠিক উত্তর:
সুরে সুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরে সুরে
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দিরুক্ত শব্দ নয়- সুরে সুরে।

• খিল্ খিল্, ঝম্ ঝম্, ভেউ ভেউ ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ।

---------------------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
- কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, ফুসুর ফুসুর, ধুপ ধুপ, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপর, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। এ ধরনের কোনো কোনো ধ্বন্যাত্মক শব্দে প্রথম অংশের পরে আ-এর বিধান ঘটার ফলে আর-এক ধরনের অব্যাহত ব্যাপ্তির অর্থ সূচিত হয়।

যেমন: খপাখপ, টাপুর-টুপুর, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

অন্যদিকে,
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
১০,২২৭.
যার গুন আছে, সে বিনয়ী হয়- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা

• 'যার গুন আছে, সে বিনয়ী হয়'-এটি একটি জটিল বাক্য। 

বাক্যের বিশ্লেষণ:
সাধারণ রূপে বাক্যটি দুটি অংশে বিভক্ত-
যার গুন আছে → শর্তসূচক অংশ (subordinate clause)। 
সে বিনয়ী হয় → মূল বাক্য (main clause)। 

• যেহেতু এখানে প্রধান বাক্য এবং উপবাক্য একত্রে আছে, তাই এটি জটিল বাক্য (Complex Sentence)।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।

----------------
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সালের সংস্করণ)।

১০,২২৮.
শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বিরামচিহ্ন বসে?
  1. ক) সেমিকোলন
  2. খ) বিন্দু
  3. গ) কমা
  4. ঘ) কোলন
সঠিক উত্তর:
খ) বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিন্দু
ব্যাখ্যা

শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিন্দু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমনঃ
তিনি পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেছেন।
রাজু এবার এস.এস.সি পাস করেছে।
উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১০,২২৯.
'হাসান বই পড়ছে।'—বাক্যটিতে 'পড়ছে' ক্রিয়াটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বর্তমান কাল
  2. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  3. ভবিষ্যৎ কাল
  4. ঘটমান বর্তমান কাল
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা

ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়,

যথা:
- হাসান বই পড়ছে।
- তাহিয়া গান গাইছে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০,২৩০.
মধ্যগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. মুলা > মুলো
  2. আখো > আখুয়া > এখো
  3. বিলাতি > বিলিতি
  4. মোজা > মুজো
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• ‘বিলাতি > বিলিতি’ পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ।
---------------------
স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন - দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো;
- শিকা > শিকে;
- তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো;
- দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন: মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে- উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২৩১.
'ফিল্ম > ফিলিম' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরভক্তি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ, ইত্যাদি।

ই - প্রীতি >পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক> তুরুক, ইত্যাদি।

এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ >সেরেফ ইত্যাদি।

ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ> মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০,২৩২.
তৎপুরুষ সমাস কোন সমাসের বিপরীত?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বিগু
  4. অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস: 
- পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ঠ্য:
- তৎপুরুষ সমাস অভ্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত;
- তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান;
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপে তৎপুরুষ সমাস হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১০,২৩৩.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. গালিচা
  2. দোয়াত
  3. আয়া
  4. কাচারি
সঠিক উত্তর:
আয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়া
ব্যাখ্যা
• 'আয়া'
- পর্তুগিজ শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- দাই, ধাত্রী।
- শিশুর পরিচারিকা, ঝি।

অন্যদিকে,
- 'গালিচা' ফারসি ভাষার শব্দ। 
- 'দোয়াত' আরবি ভাষার শব্দ।
- 'কাচারি' হিন্দি ভাষার শব্দ।

পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ:
- আনারস, কামরা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তোয়ালে, পাউরুটি, পাদ্রি, পেয়ারা, বালতি, বোতল, বোতাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,২৩৪.
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে স্বরগত অল্প-বিস্তর পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনকে বলা হয় -
  1. ক) অভিশ্রুতি
  2. খ) অপশ্রুতি
  3. গ) সম্প্রসারণ
  4. ঘ) বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
খ) অপশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপশ্রুতি
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে স্বরগত অল্প-বিস্তর পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনকে অপশ্রুতি বলে।
অপশ্রুতি তিনভাবে প্রকাশ পায়। যথা: গুণ, বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৩৫.
'প্রতীচী' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ম্লান
  2. প্রাচ্য
  3. মিলন
  4. ত্যাগ
সঠিক উত্তর:
প্রাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচ্য
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'প্রতীচী' শব্দের বিপরীত শব্দ - প্রাচ্য।

• 'প্রাচ্য' শব্দের অর্থ:
১. পূর্বদিকস্থ।
২. পূর্বদেশীয়।
৩. ইউরোপের পূর্বদিকস্থ দেশসমূহ

• 'প্রতীচী' শব্দের অর্থ:
১. পশ্চিম দিক।
২. পশ্চিম দিকে অবস্থিত দেশসমূহ।

অন্যদিকে,
• 'ম্লান' শব্দের বিপরীত শব্দগুলো হলো- উজ্জ্বল, প্রফুল্ল, স্পষ্ট এবং সজীব।  
• 'মিলন' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - বিচ্ছেদ বা বিরহ।  
• 'ত্যাগ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হলো - ভোগ বা গ্রহণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,২৩৬.
'সন্ন্যাস' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ -
  1. সৎ + ন্যাস
  2. সম্ + ন্যাস
  3. সমঃ + ন্যাস
  4. সনো + ন্যাস
সঠিক উত্তর:
সম্ + ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + ন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'সন্ন্যাস' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - সম্ + ন্যাস।

• ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।

যেমন:
- সম্ + ধি = সন্ধি,
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ,
- সম্ + ন্যাস = সন্ন্যাস,
- সম্ + প্রীতি = সম্প্রীতি ইত্যাদি।
এরূপ – কিম্ভুত, সন্দর্শন, কিন্নর, সম্মান, সন্ধান, সন্ন্যাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০,২৩৭.
'প্রতিশব্দ' - ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা - 

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,২৩৮.
'Ledger' এর বাংলা পরিভাষা-
  1. অস্ত্রাগার
  2. খতিয়ান
  3. অলস
  4. ব্যঙ্গচিত্র
সঠিক উত্তর:
খতিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খতিয়ান
ব্যাখ্যা
- 'Ledger' এর বাংলা পরিভাষা - খতিয়ান।

অন্যান্য অপশন:
Lazy এর বাংলা পরিভাষা- অলস।
'Cartoon' এর বাংলা পরিভাষা - ব্যঙ্গচিত্র।
Magazine এর বাংলা পরিভাষা- অস্ত্রাগার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১০,২৩৯.
'গৃহিত' শব্দটির বিপরীত শব্দ-
  1. ক) প্রতিপাল্য
  2. খ) বর্জিত
  3. গ) অগ্রাহ্য
  4. ঘ) বর্জনীয়
সঠিক উত্তর:
খ) বর্জিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বর্জিত
ব্যাখ্যা
'গৃহিত' শব্দটির বিপরীত শব্দ- বর্জিত।

তাছাড়া, 
গলগ্রহ  শব্দটির বিপরীত শব্দ- প্রতিপাল্য 
গ্রাহ্য  শব্দটির বিপরীত শব্দ- অগ্রাহ্য 
গ্রহনীয়  শব্দটির বিপরীত শব্দ- বর্জনীয় 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
'গ্রহণ' শব্দের বিপরীত শব্দ - বর্জন। 
'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত 
'অনুমেয়' এর বিপরীত শব্দ - অননুমেয় 
'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত 
'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত 
'দরদি' এর বিপরীত শব্দ - নির্দয় 
'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ - বিনীত 
'উগ্র' এর বিপরীত শব্দ - মৃদু / সৌম্য 
'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ - বিনয় 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২৪০.
'যোদ্ধা' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ যুধ্‌ + তৃচ
  2. √ যুধ্‌ + আ
  3. √ জিত + ধা
  4. √যুদ্ধ্‌ + তৃচ
সঠিক উত্তর:
√ যুধ্‌ + তৃচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ যুধ্‌ + তৃচ
ব্যাখ্যা

• 'যোদ্ধা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √ যুধ্‌ + তৃচ।
- এটি তৃচ প্রত্যয়ের একটি বিশেষ নিয়ম।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
তৃচ্‌-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে):
- প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন -
→ √দা + তৃচ্ = √দা + তৃ = √দা + তা = দাতা,
→ মা + তৃচ্ = মাতা,
→ √ক্রী + তৃচ্‌ = ক্রেতা।
বিশেষ নিয়মে: √যুধ্‌ + তৃচ = √যুধ্‌ + তা = যোদ্ধা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১০,২৪১.
নিচের কোনটি বর্ণ বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. ধাইমা > দাইমা 
  2. রিকসা্‌ > রিস্‌কা
  3. বউদিদি > বউদি
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
সঠিক উত্তর:
রিকসা্‌ > রিস্‌কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিকসা্‌ > রিস্‌কা
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয় বা বর্ণ বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা,
- তলোয়ার > তরোয়াল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতি: 
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
 যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি: 
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন- ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

১০,২৪২.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. ঠুকঠুক
  2. অল্পস্বল্প
  3. গুনগুন
  4. হাতে হাতে
সঠিক উত্তর:
অল্পস্বল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পস্বল্প
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - ঠুকঠুক, গুনগুন।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - হাতে হাতে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১০,২৪৩.
'মৃন্ময়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মৃন + ময়
  2. মৃত + ময়
  3. মৃৎ + ময়
  4. মৃণ + ময়
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২৪৪.
নিচের বাক্যগুলোতে কোনটি দ্বিকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সে বই পড়ছে।
  2. খ) তিনি বই দিলেন।
  3. গ) শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
  4. ঘ) সে ঘুৃমায়।
সঠিক উত্তর:
গ) শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
ব্যাখ্যা

বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
- 'শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন' এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্যকর্ম ( বই ) 
- আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ( শিক্ষক )

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

১০,২৪৫.
"বিষয়টা জেনে রাখো।" - এ বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. প্রযোজক
  2. মিশ্র
  3. যৌগিক
  4. সরল 
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• "বিষয়টা জেনে রাখো।"- এখানে 'জেনে রাখো'- যৌগিক ক্রিয়া।

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- তাগিদ দেয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,২৪৬.
'Despatch' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. মূল্যহ্রাস
  2. দাতা
  3. অর্থপ্রদান
  4. প্রেরণ করা
সঠিক উত্তর:
প্রেরণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেরণ করা
ব্যাখ্যা
• 'Despatch' এর বাংলা পরিভাষা - প্রেরণ করা।

অন্যদিকে,
- 'Devaluation' এর বাংলা পরিভাষা - মূল্যহ্রাস।
- 'Disbursement' এর বাংলা পরিভাষা - ব্যয়ন/ অর্থপ্রদান।
- 'Donor' এর বাংলা পরিভাষা - দাতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১০,২৪৭.
একই শব্দ বারবার ব্যবহৃত হলে তাকে বলে- 
  1. দ্বিরুক্ত শব্দ
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

একই শব্দ বারবার ব্যবহৃত হলে তাকে - দ্বিরুক্ত শব্দ, পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব, এবং বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত - তিনটি নামেই ডাকা হয়।
----------------
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন:
ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঝমঝম, টসটস।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, লুটিফুটি, ঝিলিমিলি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১০,২৪৮.
নিচের কোনটি 'ত' বর্গীয় বর্ণ?
  1. ক) ধ
  2. খ) ণ
  3. গ) ফ
  4. ঘ) ভ
সঠিক উত্তর:
ক) ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০ টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি ও
- ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বৰ্গীয় বৰ্ণ বলে। যথা:

- ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
- চ বৰ্গীয় বর্ণ : চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
- ট বর্গীয় বর্ণ ট, ঠ, ড, ঢ,
- ত বৰ্গীয় বর্ণ : ত, থ, দ, , ন৷
- প বর্গীয় বর্ণ : প, , ব, , ম৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২৪৯.
'লাওয়ারিশ' শব্দে 'লা' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• 'লাওয়ারিশ' শব্দের 'লা' একটি আরবি উপসর্গ।
- 'লাওয়ারিশ' শব্দের 'লা' উপসর্গটি 'নাই' অর্থ প্রকাশ করেছে।

'লা' উপসর্গ দিয়ে 'নাই' অর্থে কিছু গঠিত শব্দ:
- লাজওয়াব,
- লাখেরাজ,
- লাওয়ারিশ,
- লাপাত্তা।

• নিম্নরূপ আরোকিছু আরবি উপসর্গ দেওয়া হলো: আম, খাস, লা, বাজে, গর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২৫০.
কোন শব্দটির বানান অশুদ্ধ?
  1. বাষ্পীয়
  2. পীড়াপিড়ী
  3. সময়োপযোগী
  4. জিগীষা
সঠিক উত্তর:
পীড়াপিড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পীড়াপিড়ী
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - পীড়াপিড়ী
- শব্দটির শুদ্ধ বানান - পীড়াপীড়ি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- বারবার অনুরোধ উপরোধ বা চাপ প্রয়োগ।

অন্যদিকে,
- বাষ্পীয়, সময়োপযোগী এবং জিগীষা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

১০,২৫১.
নিরর্থক অপব্যয় প্রকাশ করে কোনটি?
  1. মশা মারতে কামান দাগা
  2. ভষ্মে ঘি ঢালা
  3. অধিক সন্ন্যাসিতে গাজন নষ্ট
  4. গরু মেরে জুতা দান
সঠিক উত্তর:
ভষ্মে ঘি ঢালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভষ্মে ঘি ঢালা
ব্যাখ্যা
• ‘ভস্মে ঘি ঢালা’ প্রবচনটির অর্থ - নিরর্থক অপব্যয়।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবাদ-প্রবচন এর অর্থ:
- ‘অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’ প্রবাদ-প্রবচনের অর্থ - অতিরিক্ত লোকের খবরদারিতে কাজ পণ্ড।
- ‘গরু মেরে জুতা দান‘ প্রবাদ-প্রবচনের অর্থ - গুরুতর ক্ষতি করে কিঞ্চিৎ সাহায্য দান। 
- ‘মশা মারতে কামান দাগা’ প্রবাদ-প্রবচনের অর্থ - সামান্য ব্যাপারে বৃহৎ আয়োজন।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড.হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০,২৫২.
'বৃক্ষ' উৎস বিবেচনায় কোন ধরনের শব্দ?
  1. তদ্ভব শব্দ
  2. তৎসম শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. মিশ্র শব্দ
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-

উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১০,২৫৩.
'তৎ+হিত >তদ্ধিত' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্যোন্য সমীভবন
  2. প্রগত সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- তৎ+জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ+হিত >তদ্ধিত,
- উৎ+মুখ > উন্মুখ।

অন্যদিকে:
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন: চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৫৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. প্রণয়ণ
  2. প্রণয়ন
  3. প্রনয়ণ
  4. প্রনয়ন
সঠিক উত্তর:
প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - প্রণয়ন
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: রচনা, গ্রন্থন; নির্মাণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,২৫৫.
'প্রস্থিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অপ্রস্থিত
  2. অপ্রস্তুত
  3. বর্জন
  4. প্রবিষ্ট
সঠিক উত্তর:
প্রবিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবিষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'প্রস্থিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - প্রবিষ্ট।

উল্লেখ্য,
'প্রবিষ্ট' শব্দের অর্থ - প্রবেশ করেছে এমন।
'প্রস্থিত' শব্দের অর্থ - প্রস্থান করেছে এমন, চলে গেছে এমন, গত।

অন্যদিকে,
গ্রহণ - বর্জন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২৫৬.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. শরীর > শরীল
  2. লাল > নাল
  3. লালাট > নালাট
  4. ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
ধাইমা > দাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন-
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা, 
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লালাট>নালাট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,২৫৭.
নিচের কোন ক্ষেত্রে সন্ধি করা অনুচিত?
  1. বাংলা শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত শব্দের সন্ধি করা অনুচিত
  2. সমাসবদ্ধ পদে সন্ধি করা অনুচিত
  3. ধাতুর সঙ্গে প্রযুক্ত উপসর্গে সন্ধি করা অনুচিত।
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য :
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

• সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয় :
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।
- খাটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করা যায় না। এতে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়। 
- সমাসবদ্ধ শব্দে সন্ধি করা যায় না।
- ক্রিয়ারমূল বা ধাতুর সঙ্গে সন্ধি করা অনুচিত।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ

১০,২৫৮.
'শশব্যস্ত' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

অন্যদিকে, 
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 যেমন: 
- ভাইবোন,
- তালমাতাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
১০,২৫৯.
‘শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা।’ বাক্যে ‘সহিত’ অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সহগামিতা
  2. তুলনায়
  3. বিরুদ্ধগামিতা
  4. সমসূত্রে
সঠিক উত্তর:
সমসূত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমসূত্রে
ব্যাখ্যা
• এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।
যেমন:
১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। (সহগামীতা অর্থে),
. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। (সমসূত্রে অর্থে),
৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না। (তুলনায় অর্থে),
৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। (বিরুদ্ধগামীতা অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২৬০.
কোন দুটি মূর্ধন্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ঝ, শ
  2. ল, স
  3. ছ, জ
  4. ঢ, ড়
সঠিক উত্তর:
ঢ, ড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢ, ড়
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
তালব্য ব্যঞ্জন - চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন - নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১০,২৬১.
নিচের কোনটি ফারসি প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দ নয়?
  1. ক) হিন্দুস্তান
  2. খ) খাঁজাখোর
  3. গ) ছাপাখানা
  4. ঘ) দয়াবান
সঠিক উত্তর:
ঘ) দয়াবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দয়াবান
ব্যাখ্যা
ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো হলো: 
স্তান, খানা, খোর, বাজ, গর, বন্দি, তর, সই, গিরি, চি, দারি, নবিশ।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১০,২৬২.
কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধোবা > ধোপা
  2. ফাল্গুন > ফাগুন
  3. বউদিদি > বউদি
  4. বড় দাদা > বড়দা
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্তর্হতি - ফাল্গুন > ফাগুন।
ব্যঞ্জনচ্যুতি - বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২৬৩.
'ফপর দালালি' - এ বাগধারাটির অর্থ কোনটি?
  1. ক) ঠোঁটকাটা
  2. খ) কাজ্ঞানহীন
  3. গ) গায়ে পড়ে মাতব্বরী
  4. ঘ) ধনের অহংকার
সঠিক উত্তর:
গ) গায়ে পড়ে মাতব্বরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গায়ে পড়ে মাতব্বরী
ব্যাখ্যা
'ফপর দালালি/ফোঁপর দালালি'' - এ বাগধারাটির অর্থ =  অযাচিত মাতব্বরি করা। 

 'ঠোঁটকাটা' অর্থ = স্পষ্টভাষী বা স্পষ্টবাদী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২৬৪.
'জরৎ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? 
  1. জড়তা
  2. জরতী
  3. জরা
  4. জরাতা 
সঠিক উত্তর:
জরতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরতী
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'জরৎ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ— জরতী।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,২৬৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) জীর্ণদশা
  2. খ) জীর্নবসন
  3. গ) জীর্নবস্ত্র
  4. ঘ) জীর্ণসংষ্কার
সঠিক উত্তর:
ক) জীর্ণদশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জীর্ণদশা
ব্যাখ্যা
‘জীর্ণদশা’ শব্দটি সঠিক।

 • বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘জীর্ণদশা’ শব্দের অর্থ- জরাগ্রস্থ ও ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থা। 

 অন্যগুলোর শুদ্ধ বানান -
⇒ জীর্নবসন - জীর্ণবসন।
⇒ জীর্নবস্ত্র - জীর্ণবস্ত্র।
⇒ জীর্ণসংষ্কার - জীর্ণসংস্কার।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১০,২৬৬.
'পর্বত' শব্দের প্রতিশব্দ শব্দ কোনটি?
  1. মহী
  2. উর্বী
  3. ক্ষিতি
  4. ভূধর
সঠিক উত্তর:
ভূধর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূধর
ব্যাখ্যা


• 'পর্বত' শব্দের প্রতিশব্দ শব্দ:

গিরি, শৈল, পাহাড়, ভূধর, নগ, অচল, শৃঙ্গধর, অগ, ক্ষিতিধর, পৃথিবীধর, পৃথ্বীধর।

অন্যদিকে,
• 'পৃথিবী' শব্দের প্রতিশব্দ শব্দ:
ধরা, ধরণি, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, বসুধা, ভূ, ভূমণ্ডল, অবনি, ক্ষিতি, মহী, বসুমতী, মেদিনী, জগৎ, মর্ত্যলোক, ব্রহ্মাণ্ড, বিশ্ব, অখিল, ভুবন, ভূমি, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভুবন, ভূলোক, উর্বী

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,২৬৭.
"নেত্র" শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. লোচন
  2. নিলয়
  3. নিবাস
  4. আগার
সঠিক উত্তর:
লোচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোচন
ব্যাখ্যা
‘চোখ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- চক্ষু, নয়ন, আঁখি, অক্ষি, নেত্র, লোচন

অন্যদিকে,
'ঘর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- নিলয়, আলয়, ভবন, নিবাস, নিকেতন, আগার, বাড়ি, আবাস, বাটি, গেহ, নিকেত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,২৬৮.
এটা কূট প্রশ্ন, উত্তর দেওয়া কঠিন। বাক্যে ‘কূট’ শব্দের সঠিক অর্থ কি?
  1. কুটিল
  2. জটিল
  3. কপট
  4. পর্বতশৃংগ
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা

কূট - শব্দটি বিভিন্ন বাক্যে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমনঃ
কুটিল অর্থ - তার কূট বুদ্ধির সঙ্গে পারবে কেন?
জটিল অর্থে - এটা কূট প্রশ্ন, উত্তর দেওয়া কঠিন।
কপট/জাল অর্থে - কূট সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে সে এসে ধরা পড়েছে।
পর্বতশৃংগ - পর্বতকূটে আরোহন করা দুরূহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।

১০,২৬৯.
নিচের কোনটি স্বরভক্তির উদাহরণ?
  1. তুর্ক > তুরুক
  2. আজি > আইজ
  3. জানালা > জান্লা‌
  4. সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
তুর্ক > তুরুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্ক > তুরুক
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ = মধ্য স্বরালোপ।
- আজি > আইজ = অপিনিহিতি।
- জানালা > জান্লা‌ = সম্প্রকর্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০,২৭০.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. সৌজন্নতা
  2. সৌজন্যতা
  3. সৌজনতা
  4. সৌজন্য
সঠিক উত্তর:
সৌজন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌজন্য
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সৌজন্য।

• সৌজন্য (বিশেষ্য পদ),
-এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সুজনের ভাব বা আচরণ,
- সদাচরণ,
- ভদ্রতা,
- শিষ্টাচার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,২৭১.
সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. ক) যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  2. খ) মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।
  3. গ) তাড়াতাড়ি কাজ করো।
  4. ঘ) আমরা রোজ সকালে হাঁটতে যেতাম।
সঠিক উত্তর:
ক) যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
ব্যাখ্যা
যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম- সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ ঘটেছে।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ।

সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল- ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।
- যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম- ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,২৭২.
কোনটি ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বিশিষ্ট বাক্য?
  1. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  2. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  3. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ব্যাখ্যা
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে - একটি ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। 
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
• উদাহরণ
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
• উদাহরণ
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
• উদাহরণ
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:

- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
• উদাহরণ
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২৭৩.
কোনটি অপিনিহিতির উদাহরণ?
  1. সইত্য
  2. আটাসে
  3. কিলিপ
  4. আজ
সঠিক উত্তর:
সইত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সইত্য
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য

অন্যদিকে,
অন্ত্যস্বর লোপ - আজি > আজ।
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি - ক্লিপ > কিলিপ।
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ - আটমেসে ˃ আটাসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২৭৪.
কোনটি উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।
উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
১০,২৭৫.
বাক্যে ব্যবহৃত একই ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মকে বলে-
  1. অকর্মক ক্রিয়া
  2. সমধাতুজ ক্রিয়া
  3. মিশ্র ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বাক্যে ব্যবহৃত একই ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মকে সমধাতুজ ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গো বাপু।
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে? ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১০,২৭৬.
‘বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর’ বাক্যটির শুদ্ধরূপ কোনটি?
  1. ক) বিদ্যমান মূর্খ অপেক্ষা শেষ্ঠ
  2. খ) বিদ্বান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর
  3. গ) বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
  4. ঘ) বিদ্বান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'বিদ্বান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।' বাক্যটির শুদ্ধ রূপ হবে- বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

মূর্খ বানানটি ভুল আছে।
এছাড়া,
শ্রেষ্ঠ (বিশেষণ) - অতি উৎকৃষ্ট; উত্তম; প্রধানতম; সর্বপ্রধান।
শ্রেষ্ঠতর (অশুদ্ধ) (বিশেষণ) - উত্তমতর; উৎকৃষ্টতর।

[শ্রেষ্ঠতর (অশুদ্ধ) - এটার কারণ হচ্ছে 'শ্রেষ্ঠ' এর সঙ্গে 'তর' এর ব্যবহার বাহুল্য হয়ে যাবে। শ্রেষ্ঠ নিজেই অতিশয়ার্থবাচক (superlative).]

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মমুদ।
১০,২৭৭.
তৎসম শব্দের ব্যবহার কোথায় বেশি?
  1. আঞ্চলিক রীতিতে
  2. চলিত রীতিতে
  3. সাধু রীতিতে
  4. মিশ্র রীতিতে
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতিতে
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়। 
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
১০,২৭৮.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. সন্ধ্যাপ্রদীপ
  2. সিংহপুরুষ
  3. সংবাদপত্র
  4. সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
সিংহপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিংহপুরুষ
ব্যাখ্যা

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- চাঁদের মতো মুখ/চাঁদের ন্যায় মুখ = চাঁদমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।

অন্যদিকে, 
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
মমতা মিশ্রিত রস = মতারস;
মৌ (মধু) আশ্রিত মাছি = মৌমাছি; 
রক্ত বর্ণের কমল = রক্তকমল;
সন্ধ্যা বেলায় জ্বালানো প্রদীপ = সন্ধ্যাপ্রদীপ;
সংবাদ যুক্ত পত্র = সংবাদপত্র;
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২-সংস্করণ)।

১০,২৭৯.
‘থ’ এর উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. মূর্ধন্য
  2. কণ্ঠ্য
  3. তাবল্য
  4. দন্ত্য
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
ব্যাখ্যা
• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 
অন্যদিকে,
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 
• তাবল্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তাবল্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তাবল্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,২৮০.
মনে পড়ে সেই ছোটবেলার স্কুল পলায়ন- বাক্যটিতে 'স্কুল' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
খ) অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- মনে পড়ে সেই ছোটবেলার স্কুল পলায়ন = অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- বাঘকে ভয় পায় না কে? = অপাদান কারকে দ্বিতীয় বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,২৮১.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. বুদ্ধিমান
  2. বিপন্মুক্তি
  3. আরক্তিম
  4. সর্বশ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
আরক্তিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরক্তিম
ব্যাখ্যা
• 'আরক্তিম' সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ -আরক্ত/রক্তিম।

অন্যদিকে,
- সর্বশ্রেষ্ঠ,
- বিপন্মুক্তি,
- বুদ্ধিমান।
শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,২৮২.
'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. জুগমোঁ
  2. যুগ্‌নো
  3. জুগ্‌মো
  4. জুগ্‌নো
সঠিক উত্তর:
জুগ্‌মো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুগ্‌মো
ব্যাখ্যা
• 'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ- জুগ্‌মো। 

কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্‌ এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন-
যুগ্ম এর উচ্চারণ: জুগ্‌মো,
গুল্ম এর উচ্চারণ: গুল্‌মো।

• যুগ্ম (জুগ্‌মো): 
- [স. √যুজ্‌+ম]
- বিশেষণ পদ।
অর্থ-
- যুগল, জোড়া, 
- দুই দিয়ে বিভাজ্য, জোড়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০,২৮৩.
একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে কয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
সাধারণত একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে ছয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে। যথা:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ।
২. স্থান ও তারিখ।
৩. সম্বোধন ও সম্ভাষণ।
৪. চিঠির বক্তব্য।
৫. লেখকের স্বাক্ষর, বিদায় সম্ভাষণ।
৬. শিরোনাম- প্রেরক ও প্রাপকের নাম ঠিকানা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২৮৪.
'ত্রিদিব' শব্দের অর্থ কী?
  1. স্বর্গ
  2. স্বর্ণ
  3. স্বামী
  4. সিংহ
সঠিক উত্তর:
স্বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্গ
ব্যাখ্যা

• 'ত্রিদিব' শব্দের অর্থ - স্বর্গ, অমরাবতী, দেবলোক, আকাশ।

অন্যদিকে,
'স্বর্ণ' শব্দের অর্থ - সোনা, সুবর্ণ, কাঞ্চন, হেম, হির। 
'স্বামী' শব্দের অর্থ - নাথ, কান্ত, দয়িত, পতি। 
'সিংহ' শব্দের অর্থ - কেশরী, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ, মৃগপতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,২৮৫.
নিচের কোন শব্দে 'ণ' এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. ঘণ্টা
  2. বীণা
  3. পণ্য
  4. হর্ণ
সঠিক উত্তর:
হর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর্ণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে। 

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম: 
১। ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য হয়। 
যেমন— ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি। 

২। ঋ, র, ষ—এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। 
যেমন—ঋণ, তৃণ, বর্ণ, কারণ, ভীষণ ইত্যাদি। 

৩। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। 
যেমন- বাণিজ্য, লবণ, বীণা, কল্যাণ, পুণ্য, নিপুণ, গণনা, পণ্য ইত্যাদি। 

৪। বিদেশি শব্দে ‘ণ’ হয় না। 
যেমন - হর্ন, ইস্টার্ন ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২৮৬.
‘দাম’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. পর্তুগিজ
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা
• দাম:
- গ্রিক শব্দ।
অর্থ: মূল্য, দর, মর্যাদা, গুরুত্ব।

• বাংলা ভাষায় গ্রিক ভাষার শব্দগুলো হলো - দাম, ইউনানি।

আরো কয়েকটি শব্দ:
• লুঙ্গি, দারোগা - ফারসি শব্দ।
• তুফান, আমানত - আরবি শব্দ।
• কুপন, রেস্তোরাঁ - ফরাসি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
১০,২৮৭.
সংস্কৃত ধাতু কোনটি?
  1. জান্‌
  2. গঠ্‌
  3. কাঁদ্‌
  4. কাট্‌
সঠিক উত্তর:
গঠ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঠ্‌
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু - গঠ্‌।
 
• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।
 
বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ্‌, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।
 
সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন - কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, খাদ্‌ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২৮৮.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ক) আত্মজা
  2. খ) উজান
  3. গ) কৃষক
  4. ঘ) ঐচ্ছিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঐচ্ছিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা
আত্মজা, উজান, কৃষক- শব্দগুলো কৃৎ প্রত্যয় সাধিত। 
অন্যদিকে, ঐচ্ছিক শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত। 

ঐচ্ছিক= ইচ্ছা+ উক; এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
আত্মজা= আত্মন্‌ +√জন্‌ +আ; এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
উজান= √উজা+ আনো; এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
কৃষক= √কৃষ্+ অক; এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২৮৯.
মৌলিকতা অনুযায়ী স্বরধ্বনি কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা
মৌলিকতা অনুযায়ী, স্বরধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

• মৌলিক স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বর বলে। বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি। যেমন- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ। বাংলা বর্ণমালায় 'অ্যা' ধ্বনিজ্ঞাপক কোনো বর্ণ নেই।

• দ্বিস্বরধ্বনি:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বিস্বর নামে পরিচিত। অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়। দ্বিস্বরে দুটি স্বর থাকে একটি পূর্ণ, আর একটি অপূর্ণ। বাংলায় পরের স্বরটিই সাধারণত অর্ধ হয়। বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে। বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে ঐ এবং ঔ। উদাহরণ: কৈ, বৌ। অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,২৯০.
"দুস্থ" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুস্ + থ
  2. দুঃ + থ
  3. দুর + স্থ
  4. দুঃ + স্থ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুঃ + থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + থ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- বিসর্গের পরে চ/ছ থাকলে বিসর্গের স্থলে শ; ট/ঠ থাকলে য এবং ত/থ থাকলে স হয়।

যেমন:
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ, 
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র, 
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর, 
- নিঃ + তেজ = নিস্তেজ, 
- দুঃ + থ = দুস্থ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১০,২৯১.
'হাতাহাতি' কোন সমাস?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
  3. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস:
ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বুঝাতে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস। এ সমাসে পূর্বপদে আ এবং পরপদে ই যুক্ত হয়।
যেমন-
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি,
- চুলে চুলে যে লড়াই = চুলাচুলি ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে, 
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন-
- হত হয়েছে যার শ্রী = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ, 
- পীত অম্বর যার = পীতাম্বর,
- নীল বসন যার = নীলবসনা (স্ত্রী),
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী,
- পুণ্য আত্মা যার = পুণ্যাত্মা,
- হত ভাগ্য যার = হতভাগ্য,
- গৌর অঙ্গ যার = গৌরাঙ্গ ইত্যাদি।

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার= আশীবিষ। 
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্ত পদে লোপ পায়, তবে তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- বিড়ালের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী।
- হাতে খড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,২৯২.
কোন কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হয়?
  1. রূপক
  2. উপমান
  3. মধ্যপদলোপী
  4. উপমেয়
সঠিক উত্তর:
রূপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক
ব্যাখ্যা

রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।

যেমন-
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি- মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,২৯৩.
"মনঃ + কষ্ট"- এর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. মনোকষ্ট
  2. মনকষ্ট
  3. মনোঃকষ্ট
  4. মনঃকষ্ট
সঠিক উত্তর:
মনঃকষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃকষ্ট
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) মনঃ + কষ্ট

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না। যেমন-
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
শিরঃ + পীড়া – শিরঃপীড়া।

আবার,
যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্থ কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে অথবা লোপ পায়। যেমন-
নিঃ + স্তব্ধ = নিঃস্তব্ধ কিংবা নিস্তব্ধ।
দুঃস্থ = দুঃস্থ কিংবা দুস্থ।
নিঃ+ স্পন্দ = নিঃস্পন্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১০,২৯৪.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. চোর + আই = চোরাই
  2. থাল + আ = থালা
  3. পেট + উক = পেটুক
  4. কুসুম + ইত = কুসুমিত
সঠিক উত্তর:
কুসুম + ইত = কুসুমিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুম + ইত = কুসুমিত
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: থাল + আ = থালা, চোর + আই = চোরাই।
• পেট + উক = পেটুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,২৯৫.
ভাষার চরিত রূপ কোনটি?
  1. এই
  2. উহা
  3. তাহাদের
  4. ওদের
সঠিক উত্তর:
ওদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওদের
ব্যাখ্যা
• 'উহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে - ওদের

অন্যদিকে,
- 'উহা' চলিত রূপ হচ্ছে - ও।
- 'তাহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে - তাদের।
- 'এই' চলিত রূপ হচ্ছে - এ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,২৯৬.
‘এপিটাফ’ শব্দের অর্থ-
  1. ক) শোক কবিতা
  2. খ) গীতিকা
  3. গ) সমাধি-লিপি
  4. ঘ) মানপত্র
সঠিক উত্তর:
গ) সমাধি-লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমাধি-লিপি
ব্যাখ্যা
• Epitaph এর বাংলা পরিভাষা - সমাধি-লিপি/ সমাধিস্তম্ভ-লিপি/ সমাধিফলক।
অর্থ: মৃত ব্যক্তিদের সমাধি সৌধে বা কবরস্থানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা থাকে তাকেই সমাধি-লিপি বলে।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান; অক্সফোর্ড ডিকশনারি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১০,২৯৭.
'সর্বজন' শব্দের বিশেষণ কোনটি?
  1. সার্বজনীয়
  2. সর্বজনীনতা
  3. সার্বজনীন
  4. সর্বজনীয়
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন
ব্যাখ্যা
• 'সর্বজন' শব্দের বিশেষণ — 'সার্বজনীন'।

• 'সর্বজন' - শব্দের অর্থ:
- সকল নরনারী।

অন্যদিকে, 
সর্বজনীন (বিশেষ্য) - সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,২৯৮.
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গের উদাহরণ রয়েছে কোন বাক্যটিতে?
  1. অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
  2. ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ
  3. তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।
  4. সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো
সঠিক উত্তর:
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।
ব্যাখ্যা
• "তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।"- বাক্যটিতে 'দশ নম্বর প্লাটফর্মে' ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ। 
--------------------- 

বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।
সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,২৯৯.
'ঘোড়া মাংস খায়।' - বাক্যটি অশুদ্ধ কেন?
  1. আসত্তির অভাব
  2. আকাঙ্ক্ষার অভাব 
  3. যোগ্যতার অভাব
  4. পদবিন্যাসে ত্রুটি থাকা
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতার অভাব
ব্যাখ্যা

• বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি।
এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।

- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।

- 'ঘোড়া মাংস খায়।' - বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ, এখানে বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
- "ঘোড়া মাংস খায়।" বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ - ঘোড়া সাধারণত মাংস খায় না ।
• শুদ্ধ বাক্য হবে: ঘোড়া ঘাস খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,৩০০.
স্বরধ্বনির অর্ধ-বিবৃত উচ্চারণ ঘটেছে [আ] উচ্চারণে।
  1. ক) [আ]
  2. খ) [অ্যা]
  3. গ) [ই]
  4. ঘ) [এ]
সঠিক উত্তর:
খ) [অ্যা]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) [অ্যা]
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির অর্ধ-বিবৃত উচ্চারণ ঘটেছে [অ্যা] উচ্চারণে। 

স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কম খেলে;
বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।