ব্যাখ্যা
”প্রাচ্য” শব্দের বিপরীত শব্দ- প্রতীচ্য।
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
”প্রাচ্য” শব্দের অর্থ- পূর্বদিকস্থ, পূর্বদেশীয়।
”প্রতীচ্য” শব্দের অর্থ- পশ্চিম দিকস্থ, পশ্চিমদেশীয়, পাশ্চাত্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭০ / ৩৫৪ · ৬,৯০১–৭,০০০ / ৩৫,৭১৩
”প্রাচ্য” শব্দের বিপরীত শব্দ- প্রতীচ্য।
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
”প্রাচ্য” শব্দের অর্থ- পূর্বদিকস্থ, পূর্বদেশীয়।
”প্রতীচ্য” শব্দের অর্থ- পশ্চিম দিকস্থ, পশ্চিমদেশীয়, পাশ্চাত্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বিচ্যুত :
- গাছ থেকে আম পড়ে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
গৃহীত :
- সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- দুধ থেকে দই হয়।
আরম্ভ : রবিবার থেকে পরিক্ষা শুরু।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
• 'নিস্বন' শব্দের অর্থ - শব্দ, নিনাদ, ধ্বনি, আওয়াজ।
অন্যদিকে,
'বায়ু' শব্দের অর্থ - বাতাস, মলয়, সমীরণ, পবন, দেহমধ্যস্থ পঞ্চবায়ু।
'পদ্ম' শব্দের অর্থ - পঙ্কজ, রাজীব, উৎপল, কমল, কুমুদ।
'আকাশ' শব্দের অর্থ - গগন, অন্তরীক্ষ, অম্বর, ব্যোম; শূন্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
বাংলা ব্যাকরণের ধারা অনুযায়ী তৎসম শব্দে ‘ণ’ ব্যবহারের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। নিচে তা বিশ্লেষণসহ দেওয়া হলো:
• ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে:
- তৎসম শব্দে সব সময় ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: ঘণ্টা, কাণ্ড, মণ্ডল ইত্যাদি
• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
• ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক, কফণি, বণিক, চিক্কণ, তূণ, ভণিতা, আপণ, বিপণি, লবণ্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
পদাশ্রিত নির্দেশক:
- কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
- বাংলা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The' এর স্থানীয়।
- বচন ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়।
• টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক যা একবচনে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে,
- কোনো সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• যে শব্দ দ্বারা সংখ্যার ক্রম বা অবস্থান বোঝায় সেগুলোকে ক্রমবাচক শব্দ বলে। যেমনঃ
- প্রথম,
- দ্বিতীয়,
- তৃতীয়, .........
- শততম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
’টুপ ভুজঙ্গ’ বাগ্ধারাটির অর্থ - নেশাগ্রস্ত।
অন্যদিকে,
’ডুমুরের ফল’ বাগ্ধারাটির অর্থ - অদৃশ্য বস্তু।
’টইটুম্বুর’ বাগ্ধারাটির অর্থ - ভরপুর।
’তালকানা’ বাগ্ধারাটির অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ্ধারা হলো:
• ’চুলোয় যাওয়া’ বাগ্ধারাটির অর্থ - নষ্ট হওয়া।
• ’গুড়ে বালি’ বাগ্ধারাটির অর্থ - আশায় নৈরাশ্য।
• ’গোড়ায় গলদ’ বাগ্ধারাটির অর্থ - শুরুতেই ভুল।
• ’কৈয় মাছের জান’ বাগ্ধারাটির অর্থ - যা সহজে মরে না।
• ’পুটি মাছের প্রাণ’ বাগ্ধারাটির অর্থ - ছোটো মন।
• ’তিলকে তাল করা’ বাগ্ধারাটির অর্থ - ছোটকে বড় করা।
• 'অকাল কুষ্মাণ্ড' বাগ্ধারাটির অর্থ - অপদার্থ।
• 'অক্ষরে অক্ষরে' বাগ্ধারাটির অর্থ - সম্পূর্নভাবে।
• 'আঠারো মাসে বছর' বাগ্ধারাটির অর্থ - দীর্ঘসূত্রিতা।
• 'আকাশের চাঁদ' বাগ্ধারাটির অর্থ - দুর্লভ বস্তু।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'নৈষ্ঠিক' শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয়।
• নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয় বলতে এমন প্রত্যয়কে বোঝায় যেগুলো সাধারণ তদ্ধিত প্রত্যয়ের নিয়মে হওয়ার কথা নয়, কিন্তু নিপাতনের বিশেষ ব্যতিক্রমী ব্যবহারের কারণে সিদ্ধ হয়ে গেছে।
প্রদত্ত অপশনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখি-
ক) নৈষ্ঠিক।
মূল শব্দ: নিষ্ঠা।
প্রত্যয়: -ইক।
সাধারণ নিয়মে “নিষ্ঠা” থেকে তদ্ধিত হলে “নৈষ্ঠ” হয়, কিন্তু এখানে “নৈষ্ঠিক” শব্দটি পাওয়া যায়। এটি নিয়মবহির্ভূত বলে নিপাতনে সিদ্ধ।
---------------------
খ) শৈশব।
মূল শব্দ: শিশু।
প্রত্যয়: ষ্ণ/অ।
শিশু + ষ্ণ = শৈশব; এটি সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক তদ্ধিতান্ত শব্দ। নিপাতনে সিদ্ধ নয়।
গ) সাহিত্যিক।
মূল শব্দ: সাহিত্য।
প্রত্যয়: -ইক।
সাহিত্য + ইক = সাহিত্যিক → এটিও সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক তদ্ধিতান্ত শব্দ।
ঘ) ঢাকাই।
মূল শব্দ: ঢাকা।
প্রত্যয়: -আই।
'আই' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত শব্দ- ঢাকা + আই = ঢাকাই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'ডাল-ভাত' - ভিন্নার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্ত হয়েছে।
----------------
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
- যেমন- 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে।' অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।
• ভিন্নার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্ত শব্দ:
- ডালভাত,
- তালাচাবি,
- পথঘাট,
- অলিগলি।
• সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি:
- চালচলন,
- রীতিনীতি,
- বনজঙ্গল,
- ধনদৌলত।
• বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্ত শব্দ:
- ভাল - মন্দ।
- আমীর - ফকির।
- ধনী - গরীব।
- লেন দেন।
- দেনা - পাওনা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• ‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ পদের দৃষ্টান্ত
⇒ ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।
ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জগৎ, ভুবন, সংসার, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, বসুন্ধরা, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভূ, ভূমণ্ডল, মর্ত্য, বসুধা, অবনী, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি।
অন্যদিকে,
‘ফুল’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- পুষ্প, প্রসূন, কুসুম, মঞ্জরি, রঙ্গন, পুষ্পক।
'গিরি' শব্দের সমার্থক শব্দ: পর্বত, পাহাড়।
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
নদ, নদনদী, তটিনী, প্রবাহিণী, তরঙ্গিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, নির্ঝরণী, গাঙ, সরিৎ, সমুদ্রকান্তা, সমুদ্রদয়িতা, স্রোতবহা, মন্দাকিনী, স্রোতোবহ, কল্লোলিনী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে। তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।
উৎস : প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।
বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।
অন্যদিকে,
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন: চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।
অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।
অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ দিয়ে কোন সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন- ‘এক’ সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম’, ‘প্রথমা’, ‘পহেলা’ ইত্যাদি।
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরণের হয়:
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ.....দ্বাদশ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড় আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ: একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
- যেমন- ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলে।
যেমন -
হাত, পা, কান, দাঁত, ঘোড়া, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেনি।
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো,
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- বিষয়টি ভালো শোনায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
ক্ষয়মান - এরকম কোন শব্দ বাংলা একাডেমী অভিধানে নেই।
পাশপাশি, বাংলা একাডেমী অনুসারে - বিলীয়মান [বিলিয়োমান্] (বিশেষণ) ১ বিলীন হয়ে যাচ্ছে এমন।
এবং, বিলুপ্ত - বিলীন।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
• উপভাষা:
- বাংলা ভাষার আঞ্চলিক কথ্য রীতির পার্থক্য সহজেই অঞ্চল ভেদে বুঝা যায়। আঞ্চলিক ভেদে ভাষার এই ভিন্নতা উপভাষা নামে পরিচিত।
- সেই হিসেবে 'বাঙ্গালি' উপভাষা বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে যেসকল জেলা রয়েছে,সেই সব অঞ্চলের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
• কয়েকটি উপভাষার নাম :
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল),
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল),
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল),
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ),
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যেমন:
সৎ-সতী,
মহৎ-মহতী,
গুণবান-গুণবতী,
রূপবান-রূপবতী,
শ্রীমান-শ্রীমতী,
বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী,
গরীয়ান-গরীয়সী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + ম = ক্ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
নিরীহ (বিশেষণ):
[নিঃ+ঈহ]
নেই ঈহ যার = নিরীহ [বহুব্রীহি সমাস]।
'নিরীহ' শব্দের অন্যান্য অর্থঃ
নিঃস্পৃহ; নির্লোভ; শান্ত; গোবেচারা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
• আষাঢ় - মাসের নাম।
• আসার - ১ প্রবল বৃষ্টিপাত (ধারাসার)। ২ জলকণা; জলস্রাব।
কিছু সমোচ্চারিত শব্দ:
- কপাল -ললাট
- কপোল- গাল, গণ্ডদেশ
- খড় - বিচালি
- খর - তীব্র
- গোঁড়া -অন্ধভক্ত
- গোড়া -মূলঅংশ
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
'আমমোক্তার' শব্দে ব্যবহৃত 'আম' আরবি উপসর্গ।
• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
- আমার যাওয়া হবে না –বাক্যে 'যাওয়া' একটি ভাববাচক/ ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য৷
- যে বিশেষ্য পদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- দর্শন (দেখার কাজ)
- ভোজন (খাওয়ার কাজ)
- শয়ন (শোওয়ার কাজ)
- পঠন (পড়ার কাজ)
- এরূপঃ বসা, চলা, লেখা ইত্যাদি৷
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী ; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বিংশতম বলতে কোনো পূরণবাচক শব্দ নেই।
• সঠিক পূরণবাচক শব্দ বিশতম বা বিংশতিতম।
• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- যথা: উনিশতম বা উনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম), উনপঞ্চাশতম বা উনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম), আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম), নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম), নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
• বিশেষণ পদ পূর্বে এবং বিশেষ্য পদ পরে হলে হয় সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- কু যে আচার - কদাচার,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- অধম যে নর = নরাধম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• কিছু বিসর্গ সন্ধির উদাহরণঃ
- অহঃ + অহ = অহরহ,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় - ণক:
- ণক-প্রত্যয়ে 'ণ' ইৎ 'অক' থাকে। যেমন:
- পট্ + ণক = পট্ + অক = পাঠক।
- মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।
যেমন:
- √নী + ণক = (নৈ + অক-প্রথম স্বরের বৃদ্ধি) নায়ক,
- √গৈ + ণক = গায়ক,
- √লিখ্ + ণক = লেখক ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- অন,
- ওয়া ও
- আই বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• 'আ'- নিম্ন স্বরধ্বনির উদাহরণ।
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।
• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।