ব্যাখ্যা
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭ / ৩৫৪ · ৬০১–৭০০ / ৩৫,৭১৩
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
অশুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।
শুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• বাঞ্ছা:
- ইচ্ছা,
- আকাঙ্ক্ষা,
- অভিলাষ,
- সাধ।
অন্যদিকে,
- বিষাদ - দুঃখ; বিষণতা।
- উপহাস - বিদ্রুপ, ঠাট্টা, পরিহাস, কৌতুক।
- কর্জ - ঋণ, ধার, হাওলাত।
উৎস: বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সরল বাক্য:
- সরল বাক্য সেই বাক্য, যার মধ্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
- যেমন- সে ভাত খেয়ে কলেজে গেল।
- অনেক সময় সরল বাক্যে ক্রিয়া উপস্থিত না থেকেও অর্থ প্রকাশ সম্ভব।
- যেমন- আমরা চার বন্ধু।
- এছাড়া, একাধিক ক্রিয়া থাকলেও বাক্যটি সরল থাকতে পারে।
- যেমন- সে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে হাঁটতে পার্কে গেল।
- মূলত, সরল বাক্যে একটি প্রধান ক্রিয়া বা সমাপিকা ক্রিয়া থাকলেই এটি সরল বাক্য হিসেবে গণ্য হয়।
• জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীনে এক বা একাধিক অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলা হয়।
- এসব খণ্ডবাক্য সাধারণত সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজকের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।
- যেমন— যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক ব্যবহার করে প্রধান ও আশ্রিত খণ্ডবাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- “দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য"- সরল বাক্যটির জটিল রূপ- যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
- ব্যাখ্যা:
- সরল বাক্য “দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য”-কে জটিল বাক্যে রূপান্তর করার সময় মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
- সূত্র অনুযায়ী:
• সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার:
- সরল বাক্যের “দুর্জন লোক” অংশটি যে দিয়ে শুরু করে আশ্রিত খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা হয়েছে → “যে লোক দুর্জন”।
• খণ্ডবাক্য নির্ধারণ:
- আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে লোক দুর্জন;
- প্রধান খণ্ডবাক্য: সে পরিত্যাজ্য।
• কমা ব্যবহার:
- আশ্রিত খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসিয়ে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
- ফলত, “যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।” বাক্যটি একটি জটিল বাক্য, যেখানে একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য এবং একটি প্রধান খণ্ডবাক্য আছে, এবং অর্থ মূল বাক্যের মতই রক্ষা করা হয়েছে।
-------------------
অন্যদিকে,
• দুর্জন লোককে পরিত্যাগ করা উচিত-
- এটি একটি সরল বাক্য, কোনো আশ্রিত খণ্ডবাক্য নেই।
• দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য-
- এটি ও একটি সরল বাক্য, শুধু মূল ভাব প্রকাশ করেছে, আশ্রিত খণ্ডবাক্য নেই।
• দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাগ করতে হবে-
- এটি একটি সরল বাক্য, যার মধ্যে কোনো আশ্রিত বা প্রধান খণ্ডবাক্য নেই।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
- রূপায়ন শব্দের বানান ভুল। এর সঠিক বানান হবে রূপায়ণ।
- ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি, হ, য়, ব, ং, ক-বর্গীয় এবং প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে পরবর্তী দন্ত ন মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- অভ্যন্তরীণ, পসারিণী, অগ্রহায়ণ, রূপায়ণ, প্রণয়ন, কৃপণ, গৃহিণী, নিরীক্ষণ, ক্ষণজীবী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য, সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
• 'নৈসর্গিক' অর্থ- প্রাকৃতিক, নিসর্গজাত।
• 'নৈসর্গিক' এর বিপরীতার্থক শব্দ - কৃত্রিম।
অন্যদিকে,
• 'ঐহিক' এর বিপরীতার্থক শব্দ - পারত্রিক।
• 'ঐহলৌকিক' অর্থ- ইহলোকবিষয়ক, ইহলোকের।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, শিখা, হোমাগ্নি, কৃশানু।
অন্যদিকে,
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সবিতা, আদিত্য, দিনমণি, রবি, অরুণ, দিবাকর, বিভাবসু, মিহির, মার্তণ্ড, ভানু, বিভাকর, অর্ক ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• 'আদাড়ের হাঁড়ি' বাগ্ধারার অর্থ - তুচ্ছ / অনাদৃত ব্যক্তি।
অন্যদিকে,
আঠারো আনা - বাড়াবাড়ি / সম্ভাবনা।
আক্কেল গুড়ুম - হতবুদ্ধি / স্তম্ভিত।
আকাট মূর্খ - নিরেট বোকা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বাক্য- পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
অশুদ্ধ বাক্যগুলোর সুদ্ধরূপ হলো-
• অশুদ্ধ : শুধুমাত্র সেই পারবে এ কাজটি করতে।
• শুদ্ধ: শুধু সেই পারবে এ কাজটি করতে।
• অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
• শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
• অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
• শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'অঘাচণ্ডী' শব্দে "অঘা" উপসর্গটি 'বোকা' অর্থে ব্যবহৃত হয়। 'অঘা' একটি বাংলা উপসর্গ।
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা-
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
- ভাষা ব্যবহারকারী অর্থে ভাষীই যথার্থ ও যথেষ্ট। ভাষাভাষী প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- ফলশ্রুতি শব্দটির আভিধানিক অর্থ পুণ্যকর্ম করলে যে ফল হয় তার বিবরণ বা তা শুনা। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজে যে অর্থে ফলশ্রুতি লেখা হচ্ছে তা ভুল। তার বদলে ফল, ফলাফল, পরিণতি ব্যবহার শুদ্ধ।
- অশ্রুজল চোখের জল অর্থে ব্যবহার অশুদ্ধ। অশ্রু অর্থই চোখের জল।
- জন্মবার্ষিক শব্দই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে স্ত্রী প্রত্যয় যোগ বহুল প্রচলিত হলেও অশুদ্ধ।
• বানানের নিয়ম:
রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'দৈন্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: দৈন্য, দীনতা।
বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। - ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।
অন্যদিকে,
- অলসতা,
- একতা,
- কৃপণতা।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- তিলে তৈল আছে। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন। (অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি)
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি)
এরূপ-
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
[বাক্যেকে কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পাঠে'। সুতরাং 'পাঠে' অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• বিসর্গ সন্ধিের নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।
সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- অধঃ + গতি = অধোগতি,
- মনঃ + গত = মনোগত,
- বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ,
- সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
- ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ,
- শিরঃ + দেশ = শিরোদেশ,
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- শিরঃ + ধার্য = শিরোধার্য,
- মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন,
- মনঃ + নীত = মনোনীত,
- অধঃ + বদন = অধোবদন,
- সরঃ + বর = সরোবর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায়দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন: এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল।
অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে,
- যেমন
- আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি।
অন্যদিকে,
• ধ্বন্যাত্মকদ্বিত্ব এর উদাহরণ= জ্বলজ্বল, ঝমঝম,।
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব এর উদাহরণ= ,ঝাঁকে ঝাঁকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
শুদ্ধ বানান- পাতিলেবু।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি বাংলা শব্দ।
অর্থ:
- সবুজ হলুদাভ
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপগুলো হলো-
• শিরশ্ছেদ (বিশেষ্য):
অর্থ: দেহ থেকে মাথা ছিন্নকরণ।
• দরিদ্রতা (বিশেষ্য):
অর্থ: অসচ্ছলতা, নির্ধনতা ইত্যাদি।
'দারিদ্র্য' শব্দটি বিশেষ্য পদ তাই এর সাথে 'তা' প্রত্যয় যোগ করা সঠিক নয়। কারণ পূর্বেই দারিদ্র্য (দারিদ্র্য = দরিদ্র + য) শব্দটির সাথে একটি প্রত্যয় যোগ করা হয়েছে।
• সমীচীন (বিশেষণ):
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল,
লাল > নাল,
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।
অন্য অপশনগুলো:
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন-
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।
স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• চলিত ভাষার শব্দ- শুকনো।
সাধু - চলিত ভাষার শব্দ:
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো;
তাঁহারা/উহারা - তাঁরা/ওঁরা;
তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে;
তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর;
করিবার - করবার/করার;
পাইয়াছিলেন - পেয়েছিলেন;
হইলেন - হলেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত- নদী।
• বিশেষ্য:
- যে শব্দ দ্বারা ব্যক্তি, প্রাণী, বস্তু, স্থান, ধারণা বা গুণের নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য বলা হয়;
- যেমন: নদী, বই, বাংলাদেশ, সততা ইত্যাদি।
- বিশেষ্য পদের মাধ্যমে কোনো নামকে চিহ্নিত করা হয়- যেমন কলম, বই, আকাশ, সাগর, ফুল, ফল।
- এই নাম আবার ব্যবহার, অর্থ ও ধারণার ওপর ভিত্তি করে কয়েক ভাগে বিভক্ত।
• বিশেষ্যের ছয়টি প্রধান শ্রেণি:
১. নামবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, স্থান বা কোনো প্রসিদ্ধ গ্রন্থের নাম বোঝানো হয় তাকে নামবাচক বিশেষ্য বলে।
- এটিকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যও বলা হয়।
- উদাহরণ:
∗ ব্যক্তি: কামাল, রবীন্দ্রনাথ, রহিম;
∗ স্থান: ঢাকা, মক্কা, নেপাল, বাংলাদেশ, ইত্যাদি।
২. জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে শব্দ কোনো একজাতীয় প্রাণী, বস্তু বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
- উদাহরণ: মানুষ, ঘোড়া, গরু, নদী, পর্বত, ইংরেজ।
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য উপাদান বা দ্রব্যের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- এ ধরনের বস্তুর পরিমাণ বোঝানো যায়, গণনা করা যায় না।
- উদাহরণ: পানি, দুধ, চিনি, লবণ, মধু, চাল।
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে শব্দ একদল ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুকে সমষ্টিগতভাবে বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- উদাহরণ: জনতা, সমাজ, সভা, সমিতি, দল, ঝাঁক, কাফেলা, সমাজ, মিছিল।
৫. ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য কোনো কাজ বা ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
- উদাহরণ: দর্শন (দেখা), ভোজন (খাওয়া), শয়ন (শোয়া), শ্রবণ (শোনা)।
৬. গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য কোনো বস্তুর গুণ, দোষ, বৈশিষ্ট্য বা মানসিক অবস্থা বোঝায় তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে।
- উদাহরণ: সৌন্দর্য, সততা, বীর্য, সুখ, দুঃখ, তরলতার তারল্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন,
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- অতিশয় মন্দ কথা।
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
'অনু' তৎসম উপসর্গ। অনু' তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত কিছু শব্দ-
• পশ্চাৎ অর্থে- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
• সাদৃশ্য অর্থে- অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
• পৌনঃপুন অর্থে- অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
• সঙ্গে অর্থে- অনুকূল, অনুকম্পা।
------------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• বিদেশি উপসর্গ: বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
অশ্রুতপূর্ব = যা পূর্বে শোনা যায় নি।
শ্রুতিধর = যে শুনেই মনে রাখতে পারে।
শ্বাপদসংকুল = যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।
তারিখবাচক শব্দ:
- বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে যে সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে তারিখবাচক শব্দ বলে।
- যেমন-পয়লা বৈশাখ, বাইশে শ্রাবণ ইত্যাদি।
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি শব্দ বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।
উল্লেখ্য,
- পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার। যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• বাংলার একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী 'সোনালী' শব্দটির বানান ভুল।
-------------------
• ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের বানান:
• আলি প্রত্যয়:
- কোনো মূল শব্দের সঙ্গে ‘আলি’ যুক্ত হলে তা ই-কারে লেখা হয়।
- যেমন—
- স্বর্ণ+আলি = স্বর্ণালি,
- সোনা+আলি = সোনালি,
- রূপা+আলি = রূপালি,
- বর্ণ+আলি = বর্ণালি।
-----------------------------
অন্যদিকে,
- 'বলি', ‘আবলি’ ও ‘অঞ্জলি’- প্রত্যয়যুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে ও সর্বদা ই-কার বসে।
• বলি, আবলি প্রত্যয়:
- মূল শব্দের সঙ্গে 'বলি', ‘আবলি’ যুক্ত হলে তা ই-কারে লেখা হয়।
- যেমন—
- কবিতা + বলি = কবিতাবলি,
- রচনা + বলি = রচনাবলি,
- শব্দ + আবলি = শব্দাবলি,
- তথ্য + আবলি = তথ্যাবলি,
- কার্য + আবলি = কার্যাবলি।
• অঞ্জলি প্রত্যয়:
- মূল শব্দের সঙ্গে ‘অঞ্জলি’ যুক্ত হলে তা ই-কারে লেখা হয়।
- যেমন—
- গীতা + অঞ্জলি = গীতাঞ্জলি,
- পুষ্প + অঞ্জলি = পুষ্পাঞ্জলি,
- শ্রদ্ধা + অঞ্জলি = শ্রদ্ধাঞ্জলি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান: জগদ্ব্যাপী।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- পৃথিবীর সর্বত্র পরিব্যাপ্ত,
- বিশ্বময়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে:
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
অন্যদিকে,
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
• আ- প্রত্যয়যোগ সাধারণ অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ হচ্ছে - [মলিন - মলিনা]।
অন্যদিকে,
‘ইকা’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ হচ্ছে:
- গায়ক-গায়িকা,
- সেবক-সেবিকা,
- নায়ক-নায়িকা,
- বালক-বালিকা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।