বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৬৪ / ৩৫৪ · ৬,৩০১৬,৪০০ / ৩৫,৭১৩

৬,৩০১.
'বেসাত' শব্দের অর্থ:
  1. চুলের মাঝের রেখা
  2. তামাক-বিশেষ
  3. ব্যবসায়ের পণ্যসামগ্রী
  4. জল ছেঁচবার পাত্র
  5. চেতনা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
বেসাত (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ: ব্যবসায়ের পণ্যসামগ্রী। 

এছাড়াও– 
• বেসাতি, বেসাতী (বিশেষ্য) - 
- এটি আরবি শব্দ বসাত থেকে  বাংলা ভাষায় এসেছে।

বাংলা অর্থ:
১ ব্যবসায়ে; কেনাবেচা; দোকানদারি (মিছার বেসাতি করি ভবের নদিতে ফিরিছে কতই ভাগ্যবানের তরী-জসীমউদ্‌দীন)। 
২ দোকানদার; পসারি; বেনে; ফেরিওয়ালা। 
৩ খরিদ; ক্রয়। 
৪ বিক্রয়। 
৫ পণ্য। 

অন্যদিকে,
'সিঁথি' শব্দের অর্থ- চুলের মাঝের রেখা,
'সুর্তি' শব্দের অর্থ- তামাক-বিশেষ,
'সেঁউতি' শব্দের অর্থ- জল ছেঁচবার পাত্র,
'হুঁশ' শব্দের অর্থ- চেতনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩০২.
'বুভুক্ষা' এর সম্প্রসারিত রূপ কোনটি?
  1. বলবার ইচ্ছা
  2. বলা হয়েছে যা
  3. ভোজন করার ইচ্ছা
  4. বলা হবে যা
ব্যাখ্যা

• 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বুভুক্ষা।

অন্যদিকে,
• 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা।
• 'বলা হয়েছে যা' এর এক কথায় প্রকাশ - উক্ত।
• 'বলা হবে যা' এর এক কথায় প্রকাশ - বক্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩০৩.
কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
গোলাপ নামের ফুল= গোলাপফুল।

• দ্বন্দ্ব সমাস- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন-
'সোনা-রূপা' সমস্ত পদের ব্যাসবাক্য সোনা ও রূপা। 

• বহুব্রীহি সমাস- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন,
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।

• পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন : উপকূল = কূলের সমীপে, প্রতিদিন = দিন দিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩০৪.
সরল বাক্যে রূপান্তর করুন।
'যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে'।
  1. ক) খারাপ ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে
  2. খ) ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে
  3. গ) তারা ভালো ছেলে এবং শিক্ষকের আদেশ পালন করে
  4. ঘ) যারাই ভালো ছেলে, তারাই শিক্ষকের আদেশ পালন করে
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
তাই 'যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে' বাক্যটির সঠিক সরল বাক্য হলো- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩০৫.
ক্রমবাচক সংখ্যাবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) দ্বিতীয়, তৃতীয়
  2. খ) দুই, তিন
  3. গ) সাড়ে, পোয়া
  4. ঘ) দোসরা, তেসরা
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা - 
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয় তৃতীয় ইত্যাদি।
পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৩০৬.
'দৃশ্যটি কী দারুণ!' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. আদেশাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা

• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

---------------------
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• দয়া করে আমার একটা কাজ করে দিন।
• তার মঙ্গল হােক।
• সৎপথে তার মতি হোক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
 সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,৩০৭.
'আড়াই', 'দেড়', 'সাড়ে' - কোন ধরনের শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. পূর্ণগুণিতক সংখ্যাশব্দ
  2. ন্যূনতা নির্দেশক সংখ্যাশব্দ
  3. ন্যূনতা ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
  4. আধিক্য নির্দেশক সংখ্যাশব্দ 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

সংখ্যাবাচক বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ - 
- পূর্ণসংখ্যাবাচক বিশেষণ;
- ক্রমবাচক বিশেষণ;
- তারিখ সংখ্যাশব্দ;
- গুণিতক সংখ্যাশব্দ।

গুণিতক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের - 
- পূর্ণগুণিত শব্দ : এক এক্কে এক, দুই দুগুণে চার ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ : চৌথাই, সিকি , পোয়া, তেহাই, অর্ধ ইত্যাদি।
- ন্যূনতা নির্দেশক শব্দ : পৌনে চার, পৌনে সাত ইত্যাদি। 
- আধিক্য নির্দেশক শব্দ : 'আড়াই' 'দেড়', 'সওয়া', 'সাড়ে' ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬,৩০৮.
কোন শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. কোষ
  2. ঊষা
  3. ষ্টিমার
  4. কলুষ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - ষ্টিমার।
- শুদ্ধ বানান - স্টিমার।

অন্যদিকে,
- কলুষ, ঊষা ও কোষ শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

'ষ' ব্যবহারের নয়িম:
- বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, বেহেস্ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন; আপস, জিনিস, মসলা, সন, সাদা, সাল (বৎসর), স্মার্ট, হিসাব; স্টল, স্টাইল, স্টিমার, স্ট্রিট, স্টুডিয়ো, স্টেশন, স্টোর। ইসলাম, তসলিম, মুসলমান, মুসলিম, সালাত, সালাম; এশা, শাওয়াল (হিজরি মাস), শাবান (হিজরি মাস)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩০৯.
‘উন্নয়ন’ - এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উৎ + অয়ন
  2. উন্ + নয়ন
  3. উন্ন + য়ন
  4. উৎ + নয়ন
ব্যাখ্যা

• 'উন্নয়ন’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: উৎ + নয়ন = উন্নয়ন।

এরূপ কিছু শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- উৎ + নত = উন্নত;
- উৎ + নীত = উন্নীত;
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩১০.
‘ই’ - উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. বিবৃত
  2. সংবৃত
  3. অর্ধ-সংবৃত
  4. অর্ধ-বিবৃত
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:

- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে।
• বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৩১১.
'সদাশয়' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সদা + আশয়
  2. সদ + আশয়
  3. সৎ + আশয়
  4. সদা + শয়
ব্যাখ্যা

• 'সদাশয়' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'সৎ + আশয়'।
----------------
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
বন + পতি = বনস্পতি,
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোস্পদ,
পর + পর = পরস্পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
এক + দশ = একাদশ,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৬,৩১২.
নিচের কোনটি তৎসম উপসর্গের অন্তর্ভুক্ত নয়, কিন্তু খাঁটি বাংলা উপসর্গের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সু
  2. বি
  3. নি
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গের অন্তর্ভুক্ত - স।
• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, , সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে ।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩১৩.
'যে ভবিষ্যতের চিন্তা করে না' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. অবিমৃষ্যকারী
  2. অবিমৃশ্যকারী
  3. অপরিণামদর্শী
  4. ভবিতব্য
ব্যাখ্যা
• 'যে ভবিষ্যতের চিন্তা করে না' এর এক কথায় প্রকাশ - অপরিণামদর্শী

অন্যদিকে,
যা ভবিষ্যতে ঘটবে - ভবিতব্য।
অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা করে কাজ করে না - অবিমৃশ্যকারী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩১৪.
দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে কোন সমাস হয়?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. অব্যয়ীভাব
  4. দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
• নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
• কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
যেমন:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে।
যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।

২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তিকে বোঝালে।
যেমন – যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩১৫.
স্বভাবতই 'মূর্ধন্য-ষ' ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. সুষমা
  2. ষড়ঋতু
  3. ঋষি
  4. চিকীর্ষা
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক,মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৩১৬.
‘সংকীর্ণ’ এর বিপরীত শব্দ কী?
  1. বিস্তারিত
  2. বৃহৎ
  3. প্রশস্ত
  4. বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• 'সংকীর্ণ' - এর বিপরীত শব্দ - প্রশস্ত।

অন্যদিকে,
বিস্তারিত - সংক্ষিপ্ত,
• 'বৃহৎ' - ক্ষুদ্র,
• 'হ্রাস' - 'বৃদ্ধি'। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
• 'অনুরক্ত' - বিরক্ত, 
• 'অনুমেয়' - অননুমেয়, 
• 'নিয়ত' -  বিরত,
• 'প্রবিষ্ট' - প্রস্থিত,
• 'দরদি' -নির্দয়।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩১৭.
'অলুক বহুব্রীহি' সমাস নয় কোনটি? 
  1. গায়ে হলুদ
  2. হাতেখড়ি
  3. হাতেকাটা 
  4. মুখেভাত
ব্যাখ্যা

'অলুক বহুব্রীহি' সমাস নয়- হাতে কাটা। 
- হাতে কাটা অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

---------------------------------
• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- মুখে ভাত দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখেভাত,
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে-হলুদ।
- হাতে খড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। 

• অলুক বহুব্রীহি সমাসের কিছু উদাহরণ-
- কথায় পটু, মাথায় ছাতা, চশমা-নাকে, মুখে-মধু,পায়ে-বেড়ি ইত্যাদি।

----------------------------
• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায়না তাই অলুক তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- চিনির বলদ = চিনির বলদ,
- তেলে ভাজা = তেলে ভাজা,
- ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা ইত্যাদি। 

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬,৩১৮.
'দর্শনীয়' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দৃশ্ + অনীয়
  2. √দর্শ + অনীয়
  3. √দর্শন + নীয় 
  4. √দৃশ্ + নীয়
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয়-অনীয় (অনীয়র): যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কৃ+ অনীয় = করণীয়,
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
- ✓ পালি + অনীয় = পালনীয়,
- √বৃ + অনীয় = বরণীয়।

এরূপ- মাননীয়, পূজনীয়, পানীয়, গ্রহণীয়, রমণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩১৯.
কোনটি সঠিক বাক্য?
  1. উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
  2. নদীর জল হ্র্যস হয়েছে।
  3. তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
  4. তিনি আরোগ্য হইয়াছেন।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 
শুদ্ধ: উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

অন্যদিকে:
অশুদ্ধ: নদীর জল হ্র্যস হয়েছে।
শুদ্ধ: নদীর জল হ্রাস পেয়েছে৷

অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
শুদ্ধ:  তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।

অশুদ্ধ: তিনি আরোগ্য হইয়াছেন।
শুদ্ধ: তিনি আরোগ্য লাভ করলেন।

উৎস:
১) ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩২০.
17-32: Choose the correct answer
১৭) কোন প্রখ্যাত পণ্ডিত ইংরেজিতে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন?
  1. ক) ব্রাসি হালহেড
  2. খ) পি আচার্য
  3. গ) পি জে হার্টজ
  4. ঘ) ডব্লিউ প্রেস
ব্যাখ্যা
- ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পুর্জগিজ vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পুর্তগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন, কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।
- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন নাথায়িল ব্রাসি হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়। এই বইয়ের নাম ছিল A Grammar of the Bengal Language (1778)।
- আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন রাজা রামমোহন রায়। এই বইয়ের নাম ছিল ‘গোড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ (নতুন)
৬,৩২১.
’অন্ধকার হয়ে এসেছে- বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল’-কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

• যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত যোজক/অব্যয়গুলো হলো : এবং, ও, আর, অথবা, বা,কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি ।
 কমা (,), সেমিকোলন (:), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে ।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে- বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬,৩২২.
'রেস্তোরাঁ' শব্দটি কোন ভাষা হতে এসেছে?
  1. ক) পর্তুগিজ
  2. খ) ওলন্দাজ
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
- 'রেস্তোরাঁ' শব্দটি ফরাসি ভাষা হতে এসেছে।

• ফরাসি ভাষার কয়েকটি শব্দ:
- কুপন
- ডিপো
- রেস্তোরাঁ
- আঁতেল
- কার্তুজ ইত্যাদি।

• পর্তুগিজ ভাষার শব্দ:
- আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।

• ওলন্দাজ ভাষার শব্দ:
- হরতন, ইস্কাপন, রুইতন, টেক্কা, তুরুপ ইত্যাদি।

• হিন্দি ভাষার শব্দ :
- পানি, ধোলাই, লাগাতার, সমঝোতা, হালুয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৬,৩২৩.
কোন শব্দে ব-ফলার উচ্চারণ নেই?
  1. অশ্ব
  2. পক্ব
  3. বিশ্বাস
  4. স্বাধীন
ব্যাখ্যা
'স্বাধীন' শব্দে ব-ফলার উচ্চারণ নেই।

ব:
 'ব' বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ব]। তবে ফলা হিসেবে এই বর্ণের উচ্চারণে স্বাতন্ত্র্য আছে।

শব্দের আদিতে ব-ফলার উচ্চারণ হয় না
যেমন - 
- ত্বক [তক্],
- শ্বশুর [শোশুর্],
- স্বাধীন [শাধিন্]।

• শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে সেই ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়।
যেমন - 
- অশ্ব [অশ্শো‌],
- বিশ্বাস [বিশ্শা‌শ্],
- পক্ব [পক্‌কো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৩২৪.
কোনটি হ্রস্বস্বর?
  1. ঊ 
  2. এ 
  3. ই 
  4. ঔ 
ব্যাখ্যা

• হ্রস্বস্বর (৪টি): অ, ই, উ, ঋ।
• দীর্ঘস্বর (৭টি): আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।

• ‘ই’ বাংলা স্বরবর্ণমালার তৃতীয় বর্ণ। 
- সংস্কৃতে এটি হ্রস্বস্বর।
- এর উচ্চারণস্থান তালু। 
- এটি ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হলে ‘w’ বা ই-কার রূপ প্রাপ্ত হয়; যথা ক+ই=কি; ছ+ই=ছি ইত্যাদি। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান।

৬,৩২৫.
'কূপমণ্ডূক' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. সীমাবদ্ধ জ্ঞানসম্পন্ন
  2. পরিপাটি
  3. নিরুদ্বিগ্ন
  4. অদ্ভুত ও কুৎসিত
ব্যাখ্যা
• 'কূপমণ্ডূক' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সীমাবদ্ধ জ্ঞানসম্পন্ন

অন্যদিকে,
- 'কিম্ভূতকিমাকার' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অদ্ভুত ও কুৎসিত।
- 'কেতাদুরস্ত' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - পরিপাটি।
- 'খাতির জমা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নিরুদ্বিগ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩২৬.
‘মুখ থেকে ভ্রষ্ট’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত।
- মুখ থেকে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩২৭.
অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট ব্যাঞ্জনবর্ণ নয় কোনটি?
ব্যাখ্যা
⇒ অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট ব্যাঞ্জনবর্ণ নয় ‘ঝ’।

• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা। 

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি। 
- মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ্ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি ( খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩২৮.
'Intelligence' এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. গুপ্তবার্তা
  2. জ্ঞানী
  3. জ্ঞানগর্ব বাণী
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

• Intelligence এর পারভাষিক শব্দ - গুপ্তবার্তা।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Intellectualism- বুদ্ধিবাদ।
- Disclosed - উদ্‌ঘাটিত।
- Aphorism - জ্ঞানগর্ব বাণী
- Intelligence Branch - গুপ্তবার্তা বিভাগ।
- Forecast - পূর্বাভাস
- Table - তালিকা,
- Tender - দরপত্র,
- Quoted - উদ্ধৃত,
- Racial - জাতীয়,
- Publish - প্রকাশ করা।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

৬,৩২৯.
‘অবমূল্যায়ন’ ও ‘অবদান’ শব্দ দুটিতে ‘অব’ উপসর্গটি সম্পর্কে কোন মন্তব্যটি ঠিক?
  1. শব্দ দুটিতে উপসর্গটি মোটামুটি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে
  2. শব্দ দুটিতে উপসর্গটি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে
  3. দুটি শব্দে উপসর্গটির অর্থ দুই রকম
  4. দুটি শব্দে উপসর্গটির অর্থ আপাত-বিচারে ভিন্ন হলেও আসলে এক
ব্যাখ্যা
• ‘অবমূল্যায়ন’ শব্দে ‘অব’ তৎসম উপসর্গটি ‘হীনতা’ অর্থে এবং ‘অবদান’ শব্দে ‘অব’ তৎসম উপসর্গটি ‘উৎকর্ষ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• সুতরাং, দুটি শব্দে উপসর্গটির অর্থ দুই রকম।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩৩০.
‘মৃগনয়ন’ কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
নয়ন মৃগের নয় = মৃগনয়ন - উপমিত কর্মধারয়
মৃগনয়না = মৃগের নয়নের ন্যায় নয়ন যার - উপমাত্মক/পদলোপী বহুব্রীহি

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৩১.
'সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,৩৩২.
নিচের কোনটি 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. বিজুরি
  2. চপলা
  3. প্রভঞ্জন
  4. কান্তার
ব্যাখ্যা
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন

অন্যদিকে:
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।

'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৩৩৩.
কোনটি করণ কারকের উদাহরণ?
  1. চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
  2. আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।
  3. আমরা রোজ স্কুলে যাই।
  4. জমি থেকে ফসল পাই।
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা”, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে

অন্যদিকে,
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
যেমন:
- আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আমরা রোজ স্কুলে যাই।

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৩৩৪.
শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. ক) অনাথা
  2. খ) অনাথিনী
  3. গ) অনাথীনি
  4. ঘ) অনাথী
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ শব্দ = অনাথা 

অনাথ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ = অনাথা 

অনাথ (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ন+নাথ 
অর্থ: পিতামাতাহীন, এতিম; অসহায় 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৩৩৫.
'তিনি এ বাড়িতে থাকতেন।'______ বাক্যটিকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করলে কী হবে?
  1. তিনি অন্য বাড়িতে থাকতেন।
  2. তিনি থাকতেন, তবে অন্য বাড়িতে।
  3. তিনি থাকতেন, তবে এ বাড়িতে।
  4. এ সেই বাড়ি যেটিতে তিনি থাকতেন।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

তেমনিভাবে, 
সরল বাক্য: 'তিনি এ বাড়িতে থাকতেন।' 
জটিল বাক্য: এ সেই বাড়ি যেটিতে তিনি থাকতেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৩৬.
বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  2. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. গাছটি মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
• শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ : দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

অশুদ্ধ : গাছটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
শুদ্ধ: গাছটি সমূল/মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৩৭.
'জোর-কপাল' বাগধারাটির অর্থ কি?
  1. হতভাগ্য
  2. সুপ্রসন্ন ভাগ্য
  3. বিপদে দিশেহারা
  4. সর্বস্বান্ত
ব্যাখ্যা
'জোর-কপাল' বাগধারাটির অর্থ সুপ্রসন্ন ভাগ্য। 
উদাহরণ: এম এ পাশ করে বেরোতেই চাকরি, তোমার তো দেখছি জোর-কপাল। 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারাঃ
কূপমুন্ডক - সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
ডাকাবুকো - নির্ভীক।
কাকভূষণ্ডী - দীর্ঘজীবী।
পায়া ভারি - অহঙ্কার।
কানকাটা - বেহায়া।
বকধার্মিক - ভণ্ড।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৩৮.
'Affidavit' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. হলফনামা
  2. সত্যায়িত
  3. পরিপত্র
  4. লেখপ্রমাণ
ব্যাখ্যা

• 'Affidavit' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - হলফনামা। 

অন্যদিকে,
• 'Circular' এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ - পরিপত্র, বৃওাকার, চক্র।
• ‘Attested’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - সত্যায়িত।
• 'Deed' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ -  দলিল; লেখপ্রমাণ।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান। 

৬,৩৩৯.
‘গরমিল’ শব্দে ব্যবহৃত 'গর' কোন বিদেশি উপসর্গ? 
  1. আরবি
  2. হিন্দি
  3. ইংরেজি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
আরবি উপসর্গ:
আম্ (সাধারণ অর্থে) - আমদরবার, আমমোক্তার
খাস (বিশেষ অর্থে)- খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা খাসদরবার
লা (না অর্থে) - লাজওয়াব, লাখেরাজ লাওয়ারিশ, লাপাত্তা
গর্ (অভাব অর্থে) - গরমিল, গরহাজির, গররাজি

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৬,৩৪০.
‘অনুক্ষণ’ শব্দে ‘অনু’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্যক
  2. খ) পশ্চাৎ
  3. গ) সাদৃশ্য
  4. ঘ) পৌনঃপুন
ব্যাখ্যা
‘অনু’ উপসর্গটি একটি সংস্কৃত উপসর্গ যা পশ্চাৎ, সাদৃশ্য, সঙ্গে ও পৌনঃপুন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ‘অনুক্ষণ’ শব্দে ‘অনু’ উপসর্গটি পৌনঃপুন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এরূপ আরো শব্দ হলো: অনুদিন ও অনুশীলন।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৩৪১.
'অনীক' শব্দের অর্থ -
  1. সূর্য
  2. সমুদ্র
  3. যুদ্ধক্ষেত্র
  4. সৈনিক
ব্যাখ্যা
• ‘অনীক’ শব্দের অর্থ - সৈনিক বা সেনাবাহিনী।

• অনীক (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √অন্‌+ঈক
অর্থ: 
- যুদ্ধ।
- সেনাবাহিনী।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৩৪২.
নিচের কোনটি অন্তঃস্থ ধ্বনি?
  1. ক) ড়
  2. খ) য
  3. গ) ঢ়
  4. ঘ) স
ব্যাখ্যা
য, ব, র, ল বর্ণগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বা অন্তঃস্থ বর্ণ বলে। ড় ও ঢ় হচ্ছে তাড়নজাত ধ্বনি। শ,ষ,স,হ হচ্ছে উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৪৩.
’পাতিকাক' শব্দে ’পাতি’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক্ষুদ্র
  2. বিপরীত
  3. শূন্য
  4. অল্প
ব্যাখ্যা
’পাতিকাক' শব্দে ’পাতি’ উপসর্গটি  ‘ক্ষুদ্র বা ছোট’ অর্থে ব্যবহার হয়।
---------------------------------------
- পাতি’ উপসর্গটি  ‘ক্ষুদ্র বা ছোট’ অর্থে ব্যবহার হয় এমন আরো শব্দ হলো:  
- পাতিহাঁস,
- পাতিশিয়াল,
- পাতিলেবু,
- পাতকুয়ো ইত্যাদি

উল্লেখ্য,
- পাতি একটি বাংলা উপসর্গ।
- বাংলা উপসর্গ মোট ২০ ‍টি।
-  বাংলা উপসর্গ:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৬,৩৪৪.
'বাচস্পতি' কোন ধরনের সন্ধি?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ
  4. বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা

• 'বাচস্পতি' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - বাচঃ + পতি ।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।
এরূপ পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,৩৪৫.
'কাচারি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. হিন্দি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফারসি
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা

• 'কাচারি' 'হিন্দি' ভাষার শব্দ।
​- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

​শব্দের অর্থ:
​- বিচারালয়, আদালত।
​- দপ্তর, কার্যালয়।

​​কিছু হিন্দি শব্দ:
- দুলকি,
- দাবা,
- দাঙ্গা,
- দহলা,
- দশেরা
- রোকড়,
- লড়াকু,
- লেনদেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৩৪৬.
তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দ নয়-
  1. উজবুক
  2. কার্তুজ
  3. সওগাত
  4. কোর্মা
ব্যাখ্যা

• তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- বাবা,
- উজবুক,
- কাঁচি,
- কাবু,
- কুর্নিশ,
- কুলি (মজুর),
- কোর্মা,
- খাতুন,
- চকমক,
- তালাশ,
- তােপ,
- বন্দুক,
- বাবুর্চি,
- বেগম,
- মুচলেকা,
- লাশ,
- সওগাত,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ ইত্যাদি।

• ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- কুপন,
- ডিপো,
- রেস্তোরাঁ,
- আঁতেল,
- কার্তুজ,
- ওলন্দাজ,
- দিনেমার,
- কাফে,
- আঁতাত,
- বুর্জোয়া,
- রেনেসাঁস ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

 
৬,৩৪৭.
'নিখুঁত' শব্দের 'নি' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'নিখুঁত' শব্দের 'নি' - বাংলা উপসর্গ
- 'নিখুঁত' শব্দের 'নি' নাই / নেতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

নাই / নেতি অর্থে ব্যবহৃত আরো কিছু শব্দ:
- নিখোঁজ,
- নিলাজ,
- নিভাঁজ,
- নিরেট।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩৪৮.
সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য বা গুণ কয়টি?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকে- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৬,৩৪৯.
নিচের কোনটি  ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
  2. বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
  3. এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
  4. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য: 
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন- আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না;
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

অন্যদিকে,
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১-সংস্করণ)।

৬,৩৫০.
কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, তাকে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ বলে?
  1. পদাণু
  2. কালবাচক
  3. স্থানবাচক
  4. ধরনবাচক
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৩৫১.
'অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।' - বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমান:
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৩৫২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ইত্যাকার
  2. বারম্বার
  3. তরান্বিত
  4. ঐক্যমত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'ইত্যাকার'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- এই প্রকার,
- এইরূপ।

অন্যদিকে,
→ ঐক্যমত – ঐকমত্য, 
→ তরান্বিত – ত্বরান্বিত, 
→ বারম্বার – বারংবার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৫৩.
“Laws does not and can not cover all grounds of morality.” - বিখ্যাত এই উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) আর. এম ম্যাকাইভার
  2. খ) ই এম হোয়াইট
  3. গ) জন অস্টিন
  4. ঘ) মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
• শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়।
আর. এম ম্যাকাইভার এ জন্যই বলেছেন - “Laws does not and can not cover all grounds of morality.”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,৩৫৪.
লগ্নক কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 
- লগ্নক চার ধরনের।
যথা - 
 
বিভক্তি: 
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
নির্দেশক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ। 
 
বচন: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ। 
 
বলক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৩৫৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. তার জ্যৈষ্ঠ পুত্র এবং কনিষ্ট কন্যা বিদেশ গিয়েছে।
  2. বিষয়টির বিষদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
  3. রাষ্ট্রপ্রধানগণ আপাতত ঐক্যমত্যে পৌঁছলেন।
  4. বিবদমান দু'টি দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ব্যাখ্যা
• "বিবদমান দু'টি দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।" - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বাক্য:
• তার জ্যৈষ্ঠ পুত্র এবং কনিষ্ট কন্যা বিদেশ গিয়েছে। - তার জ্যেষ্ঠপুত্র এবং কনিষ্ঠা কন্যা বিদেশ গিয়েছে।
• বিষয়টির বিষদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। - বিষয়টির বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
• রাষ্ট্রপ্রধানগণ আপাতত ঐক্যমত্যে পৌঁছলেন। - রাষ্ট্রপ্রধানগণ আপাতত ঐকমত্যে পৌঁছলেন।

উৎস: ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৫৬.
বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. উপগ্রহ
  2. নিবৃত্তি
  3. পাতিহাঁস
  4. দরপত্তনী
ব্যাখ্যা
• 'দরপত্তনী' শব্দের 'দর' ফারসি উপসর্গ। 
- নিবৃত্তি, উপস্রহ হলো তৎসম উপসর্গ। 
- পাতিহাঁস হলো বাংলা উপসর্গ।  

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩৫৭.
উচ্চারণ স্থান অনুসারে 'র' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. কণ্ঠ্য
  2. তালব্য
  3. দন্তমূলীয়
  4. মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৩৫৮.
কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে?
  1. ক) স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) সায়ত্তশাসন
  3. গ) সায়ত্ত্বশাসন
  4. ঘ) স্বায়ত্ত্বশাসন
ব্যাখ্যা
স্বায়ত্তশাসন (বিশেষ্য):
অর্থ - স্বজাতীয়দের দ্বারা পরিচালিত শাসন; স্বদেশবাসী কর্তৃক রাজ্যশাসন; স্বশাসন।
(স্বায়ত্ত + শাসন)

তথ্যসূত্র:- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৫৯.
নিচের কোনটি অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি?
ব্যাখ্যা
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৬,৩৬০.
অনুসর্গের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে।
  2. খ) অনুসর্গ সম্পর্কিত শব্দটির বামদিকে একটু তফাতে বসে।
  3. গ) অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ নেই।
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দের বৈশিষ্ট্য
১. অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে। 
২. অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ আছে।
৩. অনুসর্গ সম্পর্কিত শব্দটির ডানদিকে একটু তফাতে বসে।
৪. অনুসর্গ সাধারণত শব্দের পরে বসলেও কখনাে কখনাে পূর্বেও বসে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৬১.
সঠিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঐক্যমত
  2. খ) নিরপরাধী
  3. গ) প্রীতিভাজনেষু 
  4. ঘ) বীভিষণ 
ব্যাখ্যা
ঐক্যমত প্রত্যয় ঘটিত অশুদ্ধ বানান।
শুদ্ধ - ঐকমত্য।

নিরপরাধী সমাস ঘটিত অশুদ্ধ বানান।
শুদ্ধ - নিরপরাধ 

বিভীষণ (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- রাবণের কনিষ্ঠ ভ্রাতা। 
- ঘরের শত্রু। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৩৬২.
'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'- এখানে 'খাওয়াচ্ছেন' কোন ধরনের ক্রিয়াপদের উদাহরণ?
  1. ক) ণিজন্ত
  2. খ) সমাপিকা
  3. গ) অসমাপিকা
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'।

• বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০০১৯ সংস্করণ।
৬,৩৬৩.
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে কী বলে?
  1. ঘটমান বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান: 
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। 

যেমন: 
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন। 
- এবার মা খেতে ডেকেছেন। 
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৬,৩৬৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. পিপীলীকা
  2. বুদ্ধিজীবি
  3. অন্তঃস্বত্তা
  4. অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনে শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে অগ্ন্যাশয়।
- পিপীলীকা শব্দের শুদ্ধ বানান পিপীলিকা।
- বুদ্ধিজীবি শব্দের শুদ্ধ বানান বুদ্ধিজীবী।
- অন্তঃসত্তা শব্দের শুদ্ধ বানান অন্তঃসত্ত্বা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৬,৩৬৫.
'বরখাস্ত' শব্দের 'বর্‌' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. দেশি উপসর্গ
  4. বিদেশি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'বরখাস্ত' শব্দের 'বর্‌' বিদেশি উপসর্গ
- এটি ফারসি উপসর্গ।

ফারসি উপসর্গের প্রয়োগ:
১) কার (কাজ) - কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
২) দর (মধ্যস্থ, অধীন) - দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
৩) না (না) - নাচার, নারাজ, নামঞ্জুর, নাখোশ, নালায়েক।
৪) নিম্‌ (আধা) - নিমরাজি, নিমখুন।
৫) ফি (প্রতি) - ফি-রোজ, ফি-হপ্তা, ফি-বছর, ফি-সন, ফি-মাস।
৬) বদ্‌ (মন্দ) - বদমেজাজ, বদরাগী, বদমাশ, বদহজম, বদনাম।
৭) বে (না) - বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার।
৮) বর্‌ (বাইরে, মধ্যে) - বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
৯) ব্‌ (সহিত) - বমাল, বনাম, বকলম।
১০) কম্‌ (স্বল্প) - কমজোর, কমবখত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩৬৬.
'নিমরাজি' শব্দে 'নিম' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. তৎসম
  2. হিন্দি
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
- 'নিমরাজি'
- এটি একটি ফারসি উপসর্গ।
- শব্দটিতে ‘নিম উপসর্গটি আধা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিদেশি উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশি উপসর্গ বলা হয়।

- নিম্নরূপ কিছু ফারসি উপসর্গের উদাহরণ দেওয়া হলো:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, কম ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৬৭.
কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না?
  1. নির্দেশক
  2. প্রত্যয়
  3. বিভক্তি
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে যুক্ত হয়না - উপসর্গ।

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ ।

অন্যদিকে,
প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
‘লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা ‘টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বিভক্তি: 
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- 'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৩৬৮.
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কী বলে?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩৬৯.
'বচন' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. বাক্য প্রকরণ
  3. পদক্রম
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, প্রত্যয়, শব্দগঠন, পদপরিচয়, ক্রিয়া, লিঙ্গ, পুরুষ, বচন ইত্যাদি রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৩৭০.
পুরুষবাচক 'কুহকী' - এর সুনির্দিষ্ট স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?  
  1. কুহুকিনী
  2. কুহকিনী
  3. কুহকীনী
  4. কুহুকীনি
ব্যাখ্যা

পুরুষবাচক 'কুহকী' শব্দের সুনির্দিষ্ট স্ত্রীবাচক শব্দ  -'কুহকিনী'।

এখানে,
কুহক - মায়া, ছলনা, ইন্দ্রজাল।
কুহকী- মায়াবী, জাদুকর।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন:
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি। 

নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন:
- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২) ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩৭১.
অভাব অর্থে ব্যবহৃত উপসর্গ কোনটি?
  1. ক) হাভাত
  2. খ) হাঘরে
  3. গ) হাপিত্যেশ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সবগুলো অপশন সঠিক।
- অভাব অর্থে ব্যবহৃত খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘হা’ যোগে গঠিত শব্দ - হাভাত, হাঘরে, হাপিত্যেশ

• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে ৷

 • বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে ।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৭২.
'গৃহী' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. প্রবাসী
  2. পরবাসী
  3. সন্ন্যাসী
  4. গৃহহীন
ব্যাখ্যা

• 'গৃহী' শব্দের বিপরীত শব্দ - সন্ন্যাসী।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
উত্তম - অধম,
উত্তমর্ণ - অধমর্ণ,
উত্তরণ - অবতরন,
উত্তরায়ণ - দক্ষিণায়ন,
উত্তাপ - শৈত্য,
উত্তীর্ণ - অনুত্তীর্ণ,
কৃষ্ণাঙ্গ - শ্বেতাঙ্গ,
উত্থান - পতন,
কৃশ - স্কুল,
কৃপণ - বদান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩৭৩.
কোন বাক্যটি দ্বারা অনুরোধ বুঝায়?
  1. তুই বাড়ি যা
  2. ক্ষমা করা ঘোর অপরাধ
  3. কাল একবার এসো
  4. দূর হও
ব্যাখ্যা
স্বরভঙ্গি তথা বাভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্নপ্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়।
যথা:
১. সাধারণ বিবৃতিতে: সে আজ যাবে।
২. জিজ্ঞাসায়: সে আজ যাবে?
৩. বিস্ময় প্রকাশে: সে আজ যাবে!
৪. ক্রোধ প্রকাশে: আমি তোমাকে দেখে নেব।
৫. আদর বোঝাতে: বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।
৬. আনন্দ প্রকাশে: বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে।

একই ভাবে,
অনুরোধ বোঝাতে: কাল একবার এসো, কাল একবার আসতে পারবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩৭৪.
উপসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
  2. খ) শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
  3. গ) নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় না।
  4. ঘ) শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে।
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে -
• উপসর্গের ক্ষেত্রে ঠিক নয় - নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় না। 
উপসর্গ: 
- এটি অব্যয়সূচক শব্দাংশকে বোঝায় যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- এর নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই।
- উপসর্গ অন্য শব্দের আগে যুক্ত হলে এদের অর্থদ্যোতকতা বা নতুন শব্দ সৃজনের ক্ষমতা থাকে ৷

এছাড়া উপসর্গের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে - 
- উপসর্গের ফলে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
- শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয় ৷
- শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
- শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে।
- শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

সোর্স: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৭৫.
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা -
  1. ক) ১ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৬ টি
ব্যাখ্যা

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৮টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা ৩৯টি।
- বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের সংখ্যা ১১টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ছাব্বিশটি (২৬)।
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা সাতটি (৭)।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ছয়টি (৬)।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি।

৬,৩৭৬.
'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. তোয়
  2. বারিধি
  3. পয়োধি
  4. সিন্ধু
ব্যাখ্যা
• তোয় (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- উদক,
- জল,
- পানি।

'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অম্বু, জল, নীর, সলিল, অপ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলধি, সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৭৭.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
  3. তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হলাম।
  4. সকল ছাত্ররা উপস্থিত আছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ

অন্যান্য অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
- তার সৌজন্যে মুগ্ধ হলাম।
- সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৭৮.
‘দশমণি’ কোন নমাস?
  1. ক) অন্ত্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
অন্ত্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস: যে বহুব্রীহি সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষপদ লোপ পেয়ে যায় তাকে অন্ত্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলা হয়।
যেমন:
- দশ মণ পরিমাণ যা = দশমণি।
- সত্তর বছর বয়স যার = সত্তরবছুরে।

অন্যদিকে,
মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস: ব্যাসবাক্যের মধ্যের পদ লােপ পেয়ে যে সমাস হয় তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই।
- ঘি মিশ্রিত ভাত = ঘি ভাত।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ ‘এ, য়, তে, এত’ প্রভৃতি বিভক্তিচিহ্ন লোপ পেয়ে যে সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- অশ্বের পদ = অশ্বপদ।
- অর্ধেক পথ = অর্ধপথ।

বিপরীতার্থক বা বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসের পরপদটি পুর্বপদের বৈরী অর্থ প্রদান করে , তাকে বিপরীতার্থক বা বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব বলে ।
যেমন:
- দা - কুমড়া,
- দেশ - বিদেশ,
- আকাশ - পাতাল ইত্যাদি ।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
৬,৩৭৯.
'Adjournment’ এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. স্থগিতকরণ
  2. সংযুক্তকরণ
  3. স্থগিতাবস্থা
  4. বিভক্তকরণ
ব্যাখ্যা
• Adjournment এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ - স্থগিতকরণ।

অন্যদিকে,
- স্থগিতাবস্থা - Abeyance।
- সংযুক্তিকরণ - 'Annexation' অথবা Attachment।
- বিভক্তকরণ - Division, Partition, or Fragmentation।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি ও অক্সফোর্ড ডিকশনারি।
৬,৩৮০.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ নয়? 
  1. অতিথি
  2. তৈল
  3. গায়ক 
  4. প্রবীণ
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন-
"অতিথি = √ অত্‌ + ইথি" বলতে 'মেহমানকে' বুঝায়।
কিন্তু ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অনুসারে বোঝায়- যার তিথি নেই। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বোঝাচ্ছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ।

এরূপ- 
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ);
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ);
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ);
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন,
-গায়ক = গৈ + ণক ( অক) অর্থ গান করে যে।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৩৮১.
'স্তুতি' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ভক্তি
  2. খ) প্রশংসা
  3. গ) নিন্দা
  4. ঘ) পূজা
ব্যাখ্যা
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ: 

সুষম - অসম
স্থির চঞ্চল
স্তুতি - নিন্দা
শায়িত - উত্থিত
শাসক - শাসিত 
শর্বরী - দিবস
শৈত্য - উত্তাপ 
শঠ - সাধু
শুচি - অশুচি 
শীঘ্র - বিলম্ব 
সার্থক- নিরর্থক

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৮২.
“ধরি মাছ না ছুঁই পানি” - এটি কি?
  1. ক) খনার বচন
  2. খ) প্রবাদ বাক্য
  3. গ) কবিতার চরণ
  4. ঘ) বাগধারা
ব্যাখ্যা
ধরি মাছ না ছুঁই পানি (বিশেষ্য) - গা বাঁচিয়ে উদ্দেশ্য সিদ্ধ করা; কৌশলে কার্যোদ্ধার।
এটি একটি বাগধারা
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান
৬,৩৮৩.
'পাগলামি' শব্দটি কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
আমি / আম / আমো /মি- যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:

- ইতর + আমি = ইতরামি,
- পাগল + আমি = পাগলামি,
- চোর + আমি = চোরামি,
- বাঁদর + আমি = বাঁদরামি,
- ফাজিল + আমো = ফাজলামো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৮৪.
সঠিক বানানটি চিহ্নিত করুন-
  1. ক) গণনীয়
  2. খ) গণণীয়
  3. গ) গণণিয়
  4. ঘ) গননীয়
ব্যাখ্যা
গণনীয়  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √গণ্‌+অনীয় 
অর্থ:
- গণনা করার উপযুক্ত। 
- গণনা করতে হবে এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৩৮৫.
"যেহেতু বৃষ্টি পড়ছিল, তাই আমরা বাইরে যাইনি।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. আশ্রিত খণ্ড
ব্যাখ্যা
• "যেহেতু বৃষ্টি পড়ছিল, তাই আমরা বাইরে যাইনি।" - বাক্যটি  জটিল বাক্য।

জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে ।
যেমন –

- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৩৮৬.
নিচের কোনটি অলুক বহুব্রীহি সয়ামসের উদাহরণ?
  1. ক) গায়ে পড়া
  2. খ) বীণাপাণি
  3. গ) কানাকানি
  4. ঘ) একচোখা
ব্যাখ্যা
গায়ে পড়া - অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

অলুক বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তির লোপ হয়না তাই অলুক বহুব্রীহি সমাস।
যেমন: গায়ে এসে পড়ে যে= গায়ে পড়া। 

অন্য অপশন,
- বীণাপাণি= বীণা পাণিতে যার; ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
- কানাকানি= কানে কানে যে কথা; ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
- 'একচোখা'= একদিকে চোখ যার; মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৬,৩৮৭.
'স্বাস্থ্য' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. গুণবাচক বিশেষ্য
  2. ভাববাচক বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬,৩৮৮.
'A Grammar of the Bengalee Language' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  4. উইলিয়াম কেরি 
ব্যাখ্যা

• ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। উইলিয়াম কেরির ইংরেজি ভাষায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ 'A Grammar of the Bengalee Language' (১৮০১)। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন।

- ১৮০১ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম কেরি-এর A Grammar of the Bengalee Language বাংলা ভাষার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণ, যা ইংরেজি ভাষারীতি অনুসরণ করে রচিত হয়েছিল এবং এটি ছিল বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম ব্যাকরণগুলোর মধ্যে একটি। 

- এর পূর্বে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ১৭৭৮ সালে A Grammar of the Bengal Language রচনা করেন, যা ছিল বাংলা হরফ ব্যবহৃত সর্বপ্রথম ব্যাকরণ। 

-----------------------
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

• এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।

• রামমোহন রায় প্রথমে ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৮৯.
'ক্ষমার যোগ্য'- এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. ক) ক্ষমাপ্রদ
  2. খ) তিতিক্ষু 
  3. গ) তিতিক্ষা 
  4. ঘ) ক্ষমার্হ
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষমার যোগ্য'এক কথায় প্রকাশ - ক্ষমার্হ
 
• আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ- 
- ক্ষমা করতে ইচ্ছুক এক কথায় প্রকাশ = তিতিক্ষু।
- ক্ষমা করার ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ = তিতিক্ষা। 
- গোপন করার ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ = জুগুপ্সা।
- মনোগত ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ = ঈপ্সিত।
- লাভ করা ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ = লিপ্সা।
- কটিদেশ থেকে পদতল পর্যন্ত অংশ এক কথায় প্রকাশ = অধঃকায়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৯০.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. দরিদ্রতা
  2. উপযোগিতা
  3. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  4. উর্দ্ধ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: উর্দ্ধ।

• শুদ্ধ বানান: ঊর্ধ্ব। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- উপরের দিক;
- উপরিভাগ;
- উচ্চতা।

• দরিদ্রতা, উপযোগিতা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৯১.
উপসর্গ শব্দের অর্থের কোনটি ঘটায় না?
  1. ক) সমার্থক
  2. খ) সংকোচন
  3. গ) অর্থ পরিবর্তন
  4. ঘ) অর্থের প্রসার
ব্যাখ্যা
উপসর্গের বৈশিষ্ট্য- 
১. উপসর্গের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
২. এরা নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরি করে।
৩. উপসর্গগুলাে বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪. উপসর্গগলাে অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন, অর্থের প্রসার ঘটায়।
৫. এগুলাে নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৯২.
নিচের কোন বিরামচিহ্নকে পদ সংযোগ চিহ্ন বলে?
  1. সেমিকোলন
  2. ড্যাস
  3. কোলন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
হাইফেন:
- হাইফেন হচ্ছে শব্দ বা পদ সংযোগ চিহ্ন।
- হাইফেন সব সময় বসে দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে।
- হাইফেন দ্বারা সংযুক্ত শব্দ পড়ার ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের কোন প্রয়োজন নেই।
যেমন-
সোনা-রূপা-মণি-মুক্তা কোন কিছুতেই আমার লোভ নেই।
[এই বাক্যে সোনা, রূপা, মণি, মুক্তা পড়ার সময় বিরতির কোন প্রয়োজন নেই]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৯৩.
'খড়্‌গ' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. খবর
  2. তরবারি
  3. অপবাদ
  4. অচল
ব্যাখ্যা
• 'খড়্‌গ' (বিশেষ্য) এর প্রতিশব্দ/ সমার্থক শব্দ:
- অসি;
- কৃপাণ;
- তরবারি।

সূত্র: অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৩৯৪.
'বাগধারা' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,৩৯৫.
নিচের কোন শব্দটি সমাসবদ্ধ নয়?
  1. গাছপাকা
  2. বিদ্যালয়
  3. সিংহাসন
  4. দিলদরিয়া
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্যালয়' শব্দটি সমাসবদ্ধ শব্দ নয়। এটি সন্ধিবদ্ধ শব্দ (বিদ্যা + আলয়)।
-----------------
অপশন বিশ্লেষণ:

ক) গাছপাকা-
গাছে পাকা (যা) = কর্মধারয় সমাস
এটি সমাসবদ্ধ শব্দ।

খ) বিদ্যালয়-
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এটি সমাসবদ্ধ শব্দ নয়। সন্ধিবদ্ধ শব্দ।

গ) সিংহাসন-
- সিংহ চিহ্নিত আসন = কর্মধারয় সমাস (উপমান কর্মধারয়)।
- এটি সমাসবদ্ধ শব্দ।

ঘ) দিলদরিয়া-
- এটি ফারসি শব্দ।
অর্থ: উদার হৃদয়ের, দানশীল।
দিলদরিয়া (দরিয়ার মতাে দিল যার); কর্মধারয় সমাস (উপমিত কর্মধারয়)।
- এটি সমাসবদ্ধ শব্দ।

সঠিক উত্তর: ঘ) বিদ্যালয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৩৯৬.
‘সাহিত্য বিশারদ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. গ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. ঘ) সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ
গাছে পাকা - গাছপাকা,
দিবায় নিদ্রা - দিবানিদ্রা,
অকালে মৃত্যু - অকালমৃত্য,
সাহিত্যে বিশারদ - সাহিত্য বিশারদ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৬,৩৯৭.
'বাগানে ফুল ফুটেছে।' বাক্যে 'বাগানে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক 
  2. সম্বন্ধ কারক
  3. অপাদান কারক 
  4. কর্ম কারক 
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

এরূপ,
- বাগানে ফুল ফুটেছে। 
['বাগানে’ শব্দটি কোথায় ফুল ফুটেছে- সেই স্থান বা অবস্থান বোঝাচ্ছে। “যেখানে ক্রিয়া সংঘটিত হয়” সেই স্থানের নির্দেশক পদকে অধিকরণ কারক বলে। সুতরাং 'বাগানে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৯৮.
‘নরাধম’ শব্দটি কোন সন্ধি যোগে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) বিসর্গসন্ধি
  2. খ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  3. গ) ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. ঘ) স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।  
যেমন:
অ + আ = আ;  বিদ্যা+আলায় = বিদ্যালয়।
অ + আ = আ;  হিম+আলয় = হিমালয়।
আ + অ = আ;  যথা+অর্থ = যথার্থ।
অ + অ = আ;  নর+অধম = নরাধম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৯৯.
'হজরত মুহম্মদ (স) ছিলেন একজন আদর্শ মানব' বাক্যটি নিম্নোক্ত একটি শ্রেণির-
  1. মিশ্র
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. সরল
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

তেমনিভাবে,
- হজরত মুহম্মদ (স) ছিলেন একজন আদর্শ মানব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪০০.
‘ধপাধপ, টপাটপ’ শব্দগুলোতে কোন ধরনের ধ্বনির পরিবর্তন ঘটেছে?  
  1. আদি স্বরাগম
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. অপিনিহিতি
  4. অসমীকরণ
ব্যাখ্যা
ধ্বনির পরিবর্তন: 
অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
- যেমন: 
ধপ + ধপ > ধপাধপ, 
টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
♠ আদি স্বরাগম:
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম।
- যেমন: 
• স্কুল > ইস্কুল, 
• স্টেশন > ইস্টিশন। 
• এরূপ – আস্তাবল, আস্পর্ধা। 

♠ অন্ত্যস্বরাগম:  
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
- যেমন: 
• দিশ > দিশা, 
• পোখত্ > পোক্ত, 
• বেঞ্চ > বেঞ্চি, 
• সত্য > সত্যি ইত্যাদি।  

♠ অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
- যেমন: 
• আজি > আইজ,
• সাধু > সাউধ,
• রাখিয়া > রাইখ্যা,
• বাক্য > বাইক্য,
• সত্য > সইত্য,
• চারি > চাইর,
• মারি > মাইর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।