বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৪৪ / ৩৫৪ · ৪,৩০১৪,৪০০ / ৩৫,৭১৩

৪,৩০১.
বাংলা ভাষায় যতিচিহ্ন কয়টি?
  1. ৯টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,
- বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্ন ১৩ টি।  

⇒ সেগুলো হলো:
- দাঁড়ি (।),
- কমা (,),
- সেমিকোলন (i),
- প্রশ্নচিহ্ন (?),
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- হাইফেন (-),
- ড্যাশ (—),
- কোলন (:),
- বিন্দু (.),
- ত্রিবিন্দু (...),
- উদ্ধারচিহ্ন ('- -"),
- বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]),
- বিকল্পচিহ্ন (/)।

তবে, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)- এ ত্রিবিন্দু (...) কে যতিচিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
- তাই এতে যতিচিহ্ন ১২ টি উল্লেখ আছে।

⇒ কিন্তু বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হল: 

ক, অন্ত্যযতি, 
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।) 

খ. অভ্যন্তর যতি, 
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;) 
৭. হাইফেন (-) 
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:) 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি, 
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...) 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})) 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

[উল্লিখিত অপশনে ১৬, ১৩ কোনটিই নেই বিধায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে ১২টি উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হলো যদিও বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে  ১৬টি অধিক গ্রহণযোগ্য  এবং রিয়েল চাকরির পরীক্ষায় অপশনে ১৬টি থাকলে এটিই  উত্তর করতে হবে ]। 
৪,৩০২.
‘ঘরমুখো’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
 যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও),
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি—খরচে (খরচ+এ)।
- এরকম: দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
নিত্য সমাস: 
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- শব্দের শেষে ‘মাত্র’ ‘অন্তর’ যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়।
যেমন:
- গৃহান্তর,
- গ্রামান্তর।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:

- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মৌ-সঞ্চয়কারী মাছি = মৌমাছি,
- আত্মলিখিত জীবনী = আত্মজীবনী।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ,
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২)  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩০৩.
কোথা হতে বা কি থেকে প্রশ্ন করলে উত্তরে কোন কারক পাওয়া যায়?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

- এই বনে বাঘের ভয় নেই।
[বাক্যে বাঘের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং 'বাঘের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩০৪.
"চালকুমড়া" কোন সমাস?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩০৫.
"বীরবৌলি" বলতে কী বোঝায়?
  1. যে পুরুষ বিয়ে করেনি
  2. পুরুষের কর্ণভূষণ
  3. যে পুরুষ স্ত্রীর বশীভূত
  4. যে পুরুষের স্ত্রী বিদেশে থাকে
ব্যাখ্যা

• 'পুরুষের কর্ণভূষণ' এর এক কথায় প্রকাশ - বীরবৌলি

অন্যদিকে,
যে পুরুষ বিয়ে করেনি - অকৃতদার।
যে পুরুষ স্ত্রীর বশীভূত - স্ত্রৈণ।
যে পুরুষের স্ত্রী বিদেশে থাকে - প্রোষিতভার্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩০৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) দিবারাত্রী
  2. খ) দিবারাত্র
  3. গ) দিবসরাত্রী
  4. ঘ) দীবারাত্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'দিবারাত্র'- সঠিক বানান। 

'দিবারাত্র' (ক্রিয়া বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'দিবা + রাত্র।
শব্দের অর্থ:
- দিনরাত,
- সর্বক্ষণ,
- সারাদিন। 

উৎস: বাংলা একাডেম, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩০৭.
অধিকরণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না
  2. খ) জমি থেকে ফসল পাই
  3. গ) ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়
  4. ঘ) বাবা বাড়িতে আছেন
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক: যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
বাবা বাড়িতে আছেন
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

• অপাদান কারক: যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। 
যেমন-
জমি থেকে ফসল পাই।
কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।

• করণ কারক: যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

• সম্বন্ধ কারক: যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক সির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে শব্দের সাথে র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। 

 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩০৮.
কোনটি শ্রোতা পক্ষের সর্বনামের দৃষ্টান্ত?
  1. আপনি
  2. তিনি
  3. আমাদের
  4. ওদের
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

----------------------------
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩০৯.
'সংযতবাক' অর্থে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. বাগ্মী
  2. স্পষ্টভাষী
  3. প্রবঞ্চক
  4. মিতভাষী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'সংযতবাক' একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটির অর্থ: স্বল্পভাষী, মিতভাষী।

অন্যদিকে,
• 'বাগ্মী' শব্দের অর্থ: বানিপুণ, বাকপটু, সুবক্তা।
• 'স্পষ্টভাষী' শব্দের অর্থ: স্পষ্টবক্তা।
• 'প্রবঞ্চক' শব্দের অর্থ: প্রতারক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩১০.
কোনটি অনুকার শব্দদ্বিত্ব?
  1. মজার মজার 
  2. খকখক
  3. গুনগুন
  4. বুদ্ধিশুদ্ধি
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - মজার মজার ।
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - খকখক, গুনগুন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৪,৩১১.
কোনটি প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. খোশমেজাজ
  2. কোলাকুলি
  3. বোঁটাখসা
  4. দোমনা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পরে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে সমাস তৈরি হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- এক দিকে চোখ যার = একচোখ + আ = একচোখা,
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখ + ও = ঘরমুখো,
- দুই দিকে যার মন = দো + মন + আ = দোমনা ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য সংগঠিত হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক প্রকাশ করলে তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, পূর্বপদ বিশেষণ না হয়ে অন্যপদ হলে তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বীণা পাণিতে যার= বীণাপাণি।
[এখানে বীণা (বাদ্যযন্ত্র) বা পাণি (হাত) উভয়ই বিশেষ্যপদ।]
 
এরূপ- আশীবিষ, কথাসর্বস্ব, বোঁটাখসা, পাতাছেঁড়া।
 
• ব্যতিহার বহুব্রীহি:
একই জাতীয় বিশেষ্যপদ পরপর বসে একই কাজের একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া বোঝালে তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি;
[হাত শব্দের পুনঃ ব্যবহার করে একটি কর্মপ্রক্রিয়াকে উপস্থাপন করা হয়েছে।]
 
তেমনই- কোলাকুলি, চোখাচোখি, ফাটাফাটি, টানাটানি, বকাবকি, হাসাহাসি, লাঠালাঠি, গালাগালি, চুলাচুলি, কানাকানি ইত্যাদি।
 
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সুন্দর হৃদয় যার = সুহৃদ;
- সু বুদ্ধি যার = সুবুদ্ধি;
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ ইত্যাদি।
 
[এখানে সুন্দর ও ‘সু’ পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য। উভয়ে মিলে এই সমাস গঠিত হয়েছে বলেই একে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৩১২.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. দুঃখ
  2. স্বাস্থ্য
  3. সুখ
  4. ভােজন
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।

তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩১৩.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. তেজঃ + বিন = তেজস্বী
  2. নীল + ইমন = নীলিমা
  3. পেট + উক = পেটুক
  4. সর্বজন + নীন = সর্বজনীন
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই।
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পল্লব + ইত = পল্লবিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩১৪.
'বউভাত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাই ও বোন = ভাইবোন,
-তাল ও তমাল = তালতমাল ইত্যাদি।

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ-প্রাধান্য থাকবে এবং পূর্বপদটি পরপদের বিশেষণের মত কাজ করবে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
নীল যে কমল = নীলকমল, এখানে পূর্বপদ নীল হচ্ছে পরপদ কমলের বিশেষণ এবং 'নীলকমল' শব্দে কমলেরই অর্থপ্রাধান্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২-সংস্করণ)।

৪,৩১৫.
নিচের কোনটি অঘোষ ধ্বনি নয়?
  1. ক) হ
  2. খ) ছ
  3. গ) শ্‌
  4. ঘ) থ
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত প্রশ্নের শ, থ, ছ তিনটিই অঘোষ ধ্বনি।

• হ্‌ - অঘোষ ধ্বনি নয়।

• যে ধ্বনি উচ্চারনের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না তাকে অঘোষ এবং স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হলে তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে।
প্রশ্নেল্লিখিত শ, থ, ছ উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না তাই এগুলো অঘোষ ধ্বনি।

- পক্ষান্তরে হ উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় এবং আওয়াজ গুরুগম্ভীর হয় তাই এটি ঘোষ ধ্বনি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৩১৬.
কোন ছন্দকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার ছন্দ:
১. স্বরবৃত্ত ছন্দকে লৌকিক ছন্দ বলে। রবীন্দ্রনাথ এটিকে 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন।
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ বলে।
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান বলে।
৪. পয়ার ছন্দে অন্তমিল থাকে।
৫. অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৪,৩১৭.
'শীতার্ত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শিত + অর্ত
  2. শিত + ঋত
  3. শীত + আর্ত
  4. শীত + ঋত
ব্যাখ্যা
- 'শীতার্ত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে - 'শীত + ঋত'।
- এটি একটি স্বরসন্ধি (তৎসম শব্দের)।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।
যেমন:
- অ + ঋ = আর, শীত + ঋত = শীতার্ত।
- আ + ঋ = আর, তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩১৮.
অর্থানুসারে শব্দ কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: পড়্+উয়া = পড়ুয়া; ঢাকা+আই=ঢাকাই, কৃ+তব্য=কর্তব্য।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ। হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি।
কিন্তু পঙ্কজ বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩১৯.
"যে পরিশ্রম করে সেই সুখ লাভ করে।" - বাক্যের "সেই সুখ লাভ করে" কোন ধরনের খণ্ডবাক্য?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
  2. বিশেষ্যস্থানীয় খণ্ডবাক্য
  3. বিশেষণস্থানীয় খণ্ডবাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে। (অধীন খণ্ডবাক্যটি 'সে-ই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।

অন্যদিকে,
বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।

ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৩২০.
'পূর্বকাল সম্পর্কিত' এক কথায় কী বলে?
  1. ভূতপূর্ব
  2. মৃতকল্প
  3. পুনর্জন্ম
  4. প্রাক্তন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'পূর্বকাল সম্পর্কিত' এক কথায় বলে - প্রাক্তন।

অন্যদিকে, 
------------------
• 'পূর্বে ছিল, এখন নেই' এক কথায় বলে - ভূতপূর্ব। 
• 'প্রায় মৃত' এক কথায় বলে - মৃতকল্প।
• 'পুনরায় জীবনপ্রান্ত' এক কথায় বলে - পুনর্জন্ম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩২১.
'ঘোলাটে' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর;
- অন্য দেশ = দেশান্তর;
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র;
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র;
- এক জন = জনৈক;
- প্রতি মাথা = মাথাপিছু;
- ঈষৎ ঘোলা = ঘোলাটে;
- কেবল বলা = বলামাত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,৩২২.
'সচ্চিন্তা' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স + চিন্তা
  2. সৎ + চিন্তা
  3. সচ্‌ + চিন্তা
  4. সদ্‌ + চিন্তা
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
- ত্‌ ও দ্‌ এর পর চ্‌ ও ছ্‌-  থাকলে ত্‌ ও দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়। 
যেমন:
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ ,
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া ,
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয় ,
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩২৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. আকাঙক্ষা
  2. ভাগিরথী
  3. অমাবস্যা
  4. দুরাকাঙক্ষা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'ভাগিরথী'
- এর শুদ্ধরূপ - 'ভাগীরথী'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- গঙ্গানদীর অন্য নাম।

অন্যদিকে,
- দুরাকাঙক্ষা, আকাঙক্ষা এবং অমাবস্যা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩২৪.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ -
  1. ঘর-টর
  2. কুট কুট
  3. খক খক
  4. ফটাফট
ব্যাখ্যা
• 'ঘর-টর' - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 

অন্যদিকে, 
কুট কুট, খক খক, ফটাফট - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৪,৩২৫.
‘সচিত্র’ কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) দ্বন্দ্ব
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) নিত্য
ব্যাখ্যা
সহার্থক নামে আরেক প্রকার বহুব্রীহি সমাস পাওয়া যায়। সহার্থক পূর্বপদের সঙ্গে বিশেষ্য পরপদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে সহার্থক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন :
সমস্তপদ    --  ব্যাসবাক্য 
সশিষ্য  --  শিষ্যের সহিত বর্তমান
সকর্দম  --  কর্দমের সহিত বর্তমান
সবান্ধব  --  বান্ধবের সহিত বর্তমান    
সক্রিয়  --  ক্রিয়ার সহিত বর্তমান
সজল  --  জলের সহিত বর্তমান    
সজ্ঞান  --  জ্ঞানের সহিত বর্তমান

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
৪,৩২৬.
বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. আমি অপমান হয়েছি।
  2. অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
  3. অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
  4. খুব দুঃখ পেলাম। 
ব্যাখ্যা
• বাচ্যজনিত ভুল:
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
যেমন:
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো- 
- অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
- অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
- খুব দুঃখ পেলাম। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩২৭.
'কমলাক্ষ' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

• 'কমলের মতো অক্ষি যার = কমলাক্ষ' মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
- পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাস ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত কোনো পদকে লোপ করে বা গ্রহণ না করেই তৈরি হয়।
- বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দের স্থলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের মতো অক্ষি যার- কমলাক্ষ।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ। এরূপ ঊর্ণনাভ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪,৩২৮.
কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. ধরে
  2. করে
  3. হর
  4. অবধি
ব্যাখ্যা

• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ 'হর'।

অনুসর্গ: 

- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩২৯.
'Capitalised' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. পুঁজীভূত করা
  2. পুঁজীকরণ
  3. পুঁজীকৃত
  4. পুঁজি
ব্যাখ্যা

• 'Capitalised' বাংলা পারিভাষিক শব্দ- পুঁজীকৃত। 

অন্যদিকে, 
• 'Capitalise' বাংলা পারিভাষিক শব্দ- পুঁজীভূত করা। 
• 'Capitalisation' বাংলা পারিভাষিক শব্দ- পুঁজীকরণ।। 
• 'Capital' বাংলা পারিভাষিক শব্দ- মূলধন, রাজধানী, পুঁজি।  

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি। 

৪,৩৩০.
'সুখবর' শব্দের 'সু' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. ইংরেজি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'সুখবর' শব্দের 'সু' উত্তম অর্থে- বাংলা উপসর্গ। 

• উত্তম অর্থে 'সু' উপসর্গযুক্ত কিছু শব্দ:
- সুনজর, সুখবর, সুদিন, সুনাম, সুকাজ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গঃ হর।
- ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৩১.
‘রেনেসাঁস’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) ইতালীয়
  4. ঘ) জার্মান
ব্যাখ্যা

ফরাসি :
আতাঁত, কার্তুজ, কুপন, কোলাজ, দেতাঁত, কু (coup), ব্যালে, মাদাম, রেস্তোরাঁ, রেনেসাঁস

জার্মান :
কিন্ডার-গার্টেন, নাট্সি‌, ব্লিট্‌স্‌ক্রিগ, রাইখ্‌স্টাগ্‌।

ইতালীয় :
অপেরা, আউন্স, পাপারাৎসি, পিৎসা, পিয়ানাে, লাসানিয়া, ফাসিস্ত, সােনাটা, পিৎসিকাতাে, স্টাকাটো, সােপ্রানো।

ইংরেজি বিশেষ্য এবং বাংলা 'সহায়ক' ক্রিয়া যােগে যুক্তক্রিয়া :
গােল করা, বল করা, ব্যাট করা, পাস দেওয়া, থ্রো করা, সাপ্লাই দেওয়া, রিজাইন করা, অর্ডার করা/দেওয়া, হিট করা ইত্যাদি।

পোর্তুগিজ :
আতা, আনারস, আলকাতরা, আলমারি, ইস্ত্রি, ইস্পাত, কাজু, কামরা, ক্যানেস্তারা, গরাদ, গামলা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, কিজেল, তোয়ালে, পিপে, পিরিচ, পেরেক, দিতে, বালতি, বােতাম, বর্গা, বােতল, মিস্ত্রি, শায়া, সাগু, সাবান ইত্যাদি।

রুশ :
বলশেভিক, ভােদকা, সােভিয়েত, স্পুটনিক, পেরেস্ত্রোইকা, গ্লাস্নোস্ত্‌, কমরেড।

ওলন্দাজ :
ইশকাপন, ইস্ক্রুপ, তুরুপ, রুইতন, হরতন।

সূত্র: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ।

৪,৩৩২.
‘ক্ষমা করার ইচ্ছা’ এককথায় বলে -
  1. চিক্ষমিষা
  2. জিগমিষা
  3. তিতীর্ষা
  4. হিতৈষা
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষমা করার ইচ্ছা’ এককথায় বলে - চিক্ষমিষা

অন্যদিকে, 
• ‘গমন করার ইচ্ছা’ এককথায় বলে - জিগমিষা।
• 'ত্রাণ লাভ করার ইচ্ছা’ এককথায় বলে - তিতীর্ষা।
• ‘হিত করার ইচ্ছা’ এককথায় বলে - হিতৈষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৩৩.
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা -
  1. রূঢ়ি ও যোগরূঢ়
  2. যৌগিক ও সাধিত
  3. মৌলিক ও সাধিত
  4. মৌলিক ও যৌগিক
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৩৪.
'ময়ূর' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. বিপিন
  2. শিখরী
  3. কলাপী
  4. পাদপ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'কলাপী' শব্দের অর্থ: ময়ূর।

- স্ত্রীলিঙ্গ: কলাপিনী/কলাপিনি।

•'ময়ূর'- এর  সমার্থক শব্দ:
- কলাপী,
- কেকী,
- শিখা,
- শিখণ্ডী,
- বর্তী,
- বর্হিণ। 

অন্যদিকে,
- বৃক্ষ শব্দের সমার্থক শব্দ: গাছ, পাদপ, দ্রুম, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।
- বন এর সমার্থক শব্দ: অরণ্য, কানন, বিপিন, অটবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩৩৫.
'যা সহজে জানা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. দুষ্প্রাপ্য
  2. দুষ্কর
  3. দুর্জ্ঞেয়
  4. দুর্লঙ্ঘ্য
ব্যাখ্যা
• 'যা সহজে জানা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ - দুর্জ্ঞেয়

অন্যদিকে,
- 'যা সহজে করা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ - দুষ্কর।
- 'যা সহজে লঙ্ঘন করা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ - দুর্লঙ্ঘ্য।
- 'যা সহজে পাওয়া যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ - দুষ্প্রাপ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৩৬.
ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্‌ স্থানে কী লেখা যাবে?
  1. (ষ)
  2. (ঃ)
  3. (ণ)
  4. (ং)
ব্যাখ্যা
• ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) লেখা যাবে।
যেমন:
- অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।
- বিকল্পে ঙ্‌ লেখা যাবে। ক্ষ-এর পূর্বে সর্বত্র ঙ্‌ হবে।

যেমন:
- আকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৩৭.
'তেজস্বিনী' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ইনী
  2. নী
  3. বিনী
  4. আনী
ব্যাখ্যা

• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
 
যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৩৩৮.
'Ceramics' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. শীলপত্র
  2. খড়িমাটি
  3. মৃৎশিল্প 
  4. চীনামাটি
ব্যাখ্যা
• 'Ceramics' এর বাংলা পরিভাষা- মৃৎশিল্প।

অন্যদিকে,
Character certificate- শীলপত্র।
Chalk- খড়িমাটি।
China clay- চীনামাটি।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা। 
৪,৩৩৯.
"কচু বনের কালাচাঁদ" - বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. চক্ষুশূল
  2. অপদার্থ
  3. ভণ্ড
  4. আশায় নৈরাশ্য
ব্যাখ্যা
• 'কচুবনের কালাচাঁদ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- 'অপদার্থ'।  
বাক্য গঠন: আরিফের মতো কচুবনের কালাচাঁদ আর একজনও নেই।  

অন্যদিকে, 
• 'চোখের বালি' বাগধারার অর্থ- 'চক্ষুশূল'।
• 'তুলসী বনের বাঘ' বাগধারাটির অর্থ - ভণ্ড।
• 'গুড়ে বালি' বাগধারার অর্থ- 'আশায় নৈরাশ্য'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৪০.
'দর্শন' শব্দের ধাতুমূল কোনটি?
  1. দৃষ
  2. দৃর্শ
  3. দৃ
  4. দৃশ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

কিছু সংস্কৃত শব্দ ও তা দ্বারা সাধিত শব্দ:
ক্রন্দ্ - ক্রন্দন।
ক্রী - ক্রয়, ক্রীত।
খাদ - খাদ্য, খাদক।
গঠ - গঠিত।
ঘৃষ - ঘর্ষণ।
দৃশ - দৃশ্য, দর্শন।
পঠ - পঠন, পাঠ্য, পঠিত।
ধূ - ধৃত, ধার।
বৃক্ষ - রক্ষণ, রক্ষিত, রক্ষী।
শ্রু - শ্রবণ, শ্রুত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৩৪১.
‘সৃষ্টির কথা ভাবে যারা আগে সংহারে করে ভয়’- এখানে ‘সংহার’ শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) বিন্যাস
  2. খ) বিপদ
  3. গ) নিধন
  4. ঘ) স্থাপন
ব্যাখ্যা
• সংহার (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [সম্+√হৃ+অ]
অর্থ: বধ, নিধন, ধ্বংস, অবসান, প্রত্যাহার, সংকোচন, সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৪২.
রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, কিন্তু এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।” নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, কিন্তু এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: তাকে বল।
রে বিভক্তি :'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)।

উল্লেখ্য,
• কর্মকারক
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

• কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম। যেমন-
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে। এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৪৩.
কর্মপ্রবচনীয় কী?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) ক্রিয়া বিভক্তি
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয় তাদেরকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৪,৩৪৪.
‘সুরুজ’ কোন শব্দ?
  1. ক) তৎসম,
  2. খ) অর্ধতৎসম
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) দেশি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কিছু তৎসম শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয় তাকে অর্ধতৎসম শব্দ বলে। যেমনঃ কেষ্ট,গিন্নি, চন্দর, জ্যোছনা, নেমত্নন্ন, বোষ্টম, মোচ্ছব, সুরুজ, ছেরাদ্দ ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৪৫.
নিচের কোনটি পত্নীবাচক শব্দ?
  1. ননদ
  2. নেত্রী
  3. খুকি
  4. তেজস্বিনী
ব্যাখ্যা

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক,
- অপত্নীবাচক। 

• পত্নীবাচক: স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

• অপত্নীবাচক: স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৪৬.
‘ব্যাঙের সর্দি’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. ভণ্ড লোক
  2. অপদার্থ
  3. অকেজো
  4. অসম্ভব ব্যাপার
ব্যাখ্যা
• ‘ব্যাঙের সর্দি’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অসম্ভব ব্যাপার।

অন্যদিকে,
• ‘বিড়াল তপস্বী’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - ভণ্ড লোক।
• ‘অকাল কুষ্মাণ্ড’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপদার্থ, অকেজো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৪৭.
’ঊর্ণনাভ’ শব্দটি দিয়ে নিচের কোনটি বুঝায়?
  1. ক) তেলাপোকা
  2. খ) মাকড়সা
  3. গ) পিঁপড়া
  4. ঘ) মাছি
ব্যাখ্যা
• ঊর্ণনাভ, ঊর্ণনাভি ( বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়= [√ঊর্ণ+অহমিয়া(অচ্) ]=[ঊর্ণ+নাভি; বহুব্রহী সমাস]
অর্থ: মাকড়সা ( ঊর্ণনাভ জাল বুনে চলে- আহসান হাবীব)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৪৮.
'পাটক্ষেত' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• পাটক্ষেত = পাটের ক্ষেত; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

• তৎপুরুষ সমাস:

পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
-  পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা: চায়ের বাগান = চাবাগান, রাজার পুত্র = রাজপুত্র, খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
অনুরূপভাবে- ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, দিল্লীশ্বর, বাঁদরনাচ, পাটক্ষেত, ছবিঘর, ঘোড়দৌড়, শ্বশুরবাড়ি,
বিড়ালছানা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৩৪৯.
কোনটি পূরণবাচক শব্দ?
  1. ক) এক
  2. খ) একক
  3. গ) প্রথম
  4. ঘ) পহেলা
ব্যাখ্যা
একই সারি, দল বা শ্রেণীতে অবস্থিত কোন ব্যক্তি বা বস্তুত সংখ্যার ক্রম বা প্ররযায় বোঝাতে ক্রম বা পূরণবাচক সংখ্যা ব্যবহৃত হয়।
ক্রম বা পূরণ বাচক শব্দগুলো হলো - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়… ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
৪,৩৫০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ কৌমুদী:
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।
• ড. সুকুমার সেন - 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।
• বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান - আহমদ শরীফ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৫১.
'তোমাকে হাঁটতে হবে।' বাক্যটির কর্তৃবাচ্যে রূপ কোনটি?
  1. এবার হাঁটতে হবে। 
  2. তোমাকে হাঁটা লাগবে।  
  3. তুমি হাঁটা লাগবে। 
  4. তুমি হাঁটবে।
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য:
নিয়ম: ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে-
(১) কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং (২) ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।
যেমন-
ভাববাচ্য - কর্তৃবাচ্য:
(ক) তোমাকে হাঁটতে হবে। - (ক) তুমি হাঁটবে।
(খ) এবার একটি গান করা হোক। - (খ) এবার (তুমি) একটি গান কর।
(গ) তার যেন আসা হয়। - (গ) সে যেন আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৪,৩৫২.
নিচের কোনটি সঠিক প্রয়োগ?
  1. ক) সুজনতা
  2. খ) ঘূর্ণীয়মান
  3. গ) প্রসারতা
  4. ঘ) কেবলমাত্র
ব্যাখ্যা
- শব্দের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে 'সুজনতা' শব্দে। 

অন্যান্য শব্দের সঠিক প্রয়োগ -
- কেবল/মাত্র
- প্রসার
- ঘূর্ণায়মান

সূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৫৩.
'তামসিক' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. নৈসর্গিক
  2. রাজসিক
  3. পারত্রিক
  4. ঐহলৌকিক
ব্যাখ্যা
• 'তামসিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - রাজসিক।

অন্যদিকে, 
• 'নৈসর্গিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - কৃত্রিম/অনৈসর্গিক।
• 'ঐহিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - পারত্রিক।
• 'ঐহলৌকিক/ ইহলৌকিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - পরলোক/পরলৌকিক। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৫৪.
‘এক যে ছিল রাজা!’- এ বাক্যে ‘যে’ কোন ধরনের অব্যয়?
  1. বাক্যালংকার
  2. সংশয়বাচক
  3. সম্মতিসূচক
  4. ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয়
ব্যাখ্যা

• ‘এক যে ছিল রাজা!’- বাক্যে ‘যে’ বাক্যালংকার অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বাক্যে ব্যবহৃত ‘যে’ অব্যয়টি প্রদত্ত বাক্যের মনোভাবকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

⇒ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যে গুণ দ্বারা ভাষার শক্তি বর্ধন ও সৌন্দর্য সম্পাদন হয় তাকে অলংকার বলে।”

==============
⇒ সমুচ্চয়ী অব্যয়:

যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- 'লেখাপড়া কর নতুবা ফেল করবে' বাক্যের ‘নতুবা' সমুচ্চয়ী অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার। যথা:
• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৫৫.
বাংলা সাধু ভাষায় কোন শব্দের বেশি প্রাধান্য রয়েছে?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. মৈথিলি
  4. অহমিয়া
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি রয়েছে বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে,
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
৪,৩৫৬.
কোনটি নাম ধাতু?
  1. পড়
  2. দেখ
  3. ধমকা
  4. থাক
ব্যাখ্যা
• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
যেমন:
- সে ঘুমাচ্ছে।
['ঘুম' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'।]

যেমন:
- আমাকে ধমকিও না।
['ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'।] 

অন্যদিকে, 
পড়, দেখ ও থাক মৌলিক বাংলা ধাতু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,৩৫৭.
'অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. তিক্ত
  2. হর্ষ
  3. বিষাদ
  4. গরল
ব্যাখ্যা
• 'অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ- গরল।

অন্যদিকে, 
•তিক্ত - মধুর।
• হর্ষ - বিষাদ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৫৮.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) হাতে ব্যথা পেয়েছি।
  2. খ) যার লাঠি, তার মাটি।
  3. গ) হস্তীটি অত্যন্ত স্থূল।
  4. ঘ) বুনো কচু, বাঘা তেঁতুল।
ব্যাখ্যা
'বুনো কচু, বাঘা তেঁতুল।' বাক্যটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধরূপ হবে- 'বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৫৯.
'আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিকুঞ্চন
  2. প্রসারণ
  3. নিষ্পেষণ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

• 'আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিকুঞ্চন, প্রসারণ।

 আরো কিছু বিপরীতার্থক শব্দ:
- ‘ডাগর’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - ম্লান।
- ‘তীব্র’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - লঘু।
- ‘তেজ’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - নিস্তেজ।
- ‘ত্বরা’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিলম্ব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩৬০.
কোনটি কন্যার সমার্থ নয়?
  1. ক) আত্মজা
  2. খ) স্বজা
  3. গ) সুতা
  4. ঘ) অংশু
ব্যাখ্যা
কন্যা শব্দের সমার্থক শব্দ- দুহিতা, আত্মজা, তনয়া, সুতা, নন্দিনী, মেয়ে,দুলালী, স্বজা।
অংশু শব্দের সমার্থক শব্দ হলো ময়ূখ, কিরণ, প্রভা, দীপ্তি, জ্যোতি, আলো, বিভা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৩৬১.
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) কৃৎ + তি = কৃষ্টি
  2. খ) কৃশ + তি = কৃষ্টি
  3. গ) কৃষ + ক্তি = কৃষ্টি
  4. ঘ) কৃষ্ + তি = কৃষ্টি
ব্যাখ্যা

ষ্-এর পরে ত্ বা থ্ থাকলে, যথাক্রমে ত্ ও থ্ স্থানে ট ও ঠ হয়৷
যেমন- কৃষ্ + তি = কৃষ্টি, ষষ্ + থ্ = ষষ্ঠ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৪,৩৬২.
'আলোছায়া' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• 'আলোছায়া' = 'আলো ও ছায়া' দ্বন্দ্ব সমাস।

• দ্বন্দ্ব সমাস:

- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
-এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
যেমন- মাতা ও পিতা মাতাপিতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৩৬৩.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ঢাকাই
  2. সেলাই
  3. ঘেরাও
  4. পাকড়াও
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঢাকা + আই = ঢাকাই

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - √সিল্ + আই = সেলাই।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - √ঘির্ + আও = ঘেরাও।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - √পাকড়্‌ + আও = পাকড়াও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৬৪.
'একদিন পাপের ফল ফলবে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে শূন্য
  2. খ) অধিকরণে ২য়া
  3. গ) অধিকরণে ৩য়া
  4. ঘ) অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

'একদিন পাপের ফল ফলবে' - বাক্যে 'একদিন' বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
কিন্তু এতে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। তাই বাক্যটি = অধিকরণে শূন্য প্রকাশ করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৬৫.
'কুনজর' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. তৎসম উপসর্গ 
  2. বাংলা উপসর্গ 
  3. ফারসি উপসর্গ 
  4. আরবি উপসর্গ 
ব্যাখ্যা

'কুনজর' শব্দটি 'বাংলা' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'কু' উপসর্যোগে গঠিত আরো কিছু শব্দ: কুঅভ্যাস, কুকথা, কুসঙ্গ, কুনজর, কুকাম।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৪,৩৬৬.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. তিনি আরোগ্য লাভ করেছেন।
  2. এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
  3. চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।
  4. কালীদাস বিখ্যাত কবি।
  5. ক ও ঘ 
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ: কালীদাস বিখ্যাত কবি। 
শুদ্ধ: কালিদাস বিখ্যাত কবি।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো- 
অশুদ্ধ: তিনি আরোগ্য হয়েছেন।
শুদ্ধ: তিনি আরোগ্য লাভ করেছেন। 

অশুদ্ধ: সাবধান পূর্বক চলবে।
শুদ্ধ: সাবধানে চলবে। 

অশুদ্ধ:চোরে চোৱে চাচাতো ভাই।
শুদ্ধ: চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।
 
অশুদ্ধ: এখানে প্রবেশ নিষেধ।
শুদ্ধ: এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩৬৭.
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় - 
  1. চপলা
  2. অশনি
  3. তড়িৎ
  4. অনিল
ব্যাখ্যা

'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা

অন্যদিকে,
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,৩৬৮.
প্রত্যক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে কোন যতিচিহ্ন দিয়ে উক্তিকে আবদ্ধ করা হয়?
  1. কমা
  2. ড্যাশ
  3. সেমিকোলন
  4. উদ্ধরণ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধরণচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

• বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
• উক্তি দুই প্রকার:
- প্রত্যক্ষ উক্তি ও
- পরোক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- রফিক হেসে বললো, “আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪,৩৬৯.
'মায়া জানে না যে' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. যুধিষ্ঠির
  2. নৈয়ায়িক
  3. ঋত্বিক
  4. অমায়িক
ব্যাখ্যা
• 'মায়া জানে না যে' এর এক কথায় প্রকাশ: অমায়িক। 

অন্য অপশনের এক কথায় প্রকাশ:

• ঋতুতে ঋতুতে যজ্ঞ করেন যিনি-ঋত্বিক।
• যুদ্ধে স্থির থাকেন যিনি- যুধিষ্ঠির।
• ন্যায় শাস্ত্র জানেন যিনি- নৈয়ায়িক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৭০.
কোনটি বিদেশি উপসর্গের উদাহরণ নয়?
  1. উপ
  2. ফুল
  3. হাফ
  4. সাব
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ

অন্যদিকে,
সংস্কৃত বাংলা উপসর্গ - উপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৭১.
'দিগন্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. দিগ + অন্ত
  2. দিগঃ + অন্ত
  3. দিক্‌ + অন্ত
  4. দিগ + অত
ব্যাখ্যা

• 'দিগন্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ - "দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত"।

- গুরুত্বপূর্ণ কিছু সন্ধি:
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- সুপ + অন্ত = সুবন্ত
- ষট্‌ + আনন = ষড়ানন
- অনু + এষণ = অন্বেষণ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৭২.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজলকালো
  2. বকধার্মিক
  3. ভ্রমরকৃষ্ণকেশ
  4. বাহুলতা
ব্যাখ্যা

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- সোনার মতো মুখ = সোনামুখ,
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।

এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
যেমন:
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।

এরূপ-
করকমল, করপল্লব, অধরপল্লব, চরণকমল, চরণণয়, চাঁদবদন, চাঁদমুখ, নয়নপল্প, মুখগল্প, হাঁড়িমুখ ইত্যাদি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

------------------------
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণ কেশ। 
[এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।]

- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- তুষারের ন্যায় পুত্র = তুষারপুত্র,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

এরূপ-
অগ্নিশর্মা, অরুণরাঙা, কচুকাটা, কদমহাট, কাচভঙ্গুর, কুসুমকোমল, কাজলকালো, গোবেচারা, শৈলোন্নত, দুখখবল, ধনুকবাঁকা, নিমতেতো, প্রস্তরকঠিন, ফুটিফাটা, রক্তিমূর্থ, বকধার্মিক, বিড়ালভপমী, বরফসাদা, বজ্রকঠিন, লৌহকঠিন, শিশির-রিপ, সিদুররাঙা ইত্যাদি উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও  সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩৭৩.
'তুমি যা বলেছিলে, সবই খেটে গেছে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল 
  2. জটিল 
  3. যৌগিক 
  4. আশ্রিত 
ব্যাখ্যা

জটিল বা মিশ্র বাক্য: 
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়,তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন :
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।

জটিল বাক্যে- ক. বিশেষ্য স্থানীয়, খ. বিশেষণ স্থানীয়, গ. ক্রিয়াবিশেষণ ও বিশেষণীয় বিশেষণস্থানীয় জাতিক বাক্য বসে।
ক. বিশেষ্য স্থানীয় (খণ্ডবাক্য) আশ্রিতবাক্য যেমন:
- সে যে উপস্থিত, তা সবাই দেখেছে।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।
- তুমি যা বলেছিলে, সবই খেটে গেছে।
[এখানে মোটা অক্ষরের বাক্যগুলো প্রধান বাক্যের 'বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত বাক্য'।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩৭৪.
কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নীলাম্বর
  2. খ) নরাধম
  3. গ) ঋণমুক্ত
  4. ঘ) দম্পতি
ব্যাখ্যা
নরাধম = অধম যে নর; কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। 
অন্যদিকে, 
নীলাম্বর = নীল অম্বর যার - বহুব্রীহি 
ঋণমুক্ত = ঋণ থেকে মুক্ত - পঞ্চমী তৎপুরুষ 
জায়া ও পতি = দম্পতি - দ্বন্দ্ব সমাস 

• কর্মধারয় সমাস
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে যে’ যােজক থাকে, যেমন –
 
খাস যে জমি = খাসজমি
চিত যে সঁতার = চিতসাঁতার
ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ
কনক যে চাঁপা = কনকচাপা
টাক যে মাথা = টাকমাথা
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর
যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৭৫.
'নাটকের পাত্রপাত্রী' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে? 
  1. উৎপীল
  2. কুশীলব
  3. কুলীন
  4. সানীন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ​নাটকের পাত্রপাত্রী - কুশীলব।



• ​কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- ​যা মর্ম স্পর্শ করে – মর্মস্পর্শী।
- যা বলার যোগ্য নয় – অকথ্য।
- যা অতি দীর্ঘ নয় – নাতিদীর্ঘ।
- যার বংশ পরিচয় এবং স্বভাব কেউই জানে না – অজ্ঞাতকুলশীল ৷
- যার প্রকৃত বর্ণ ধরা যায় না – বর্ণচোরা।

​উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩৭৬.
'উচ্ছেদ' - এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্‌ + ছেদ
  2. উঃ + ছেদ
  3. উৎ + চ্ছেদ
  4. উৎ + ছেদ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়মানুসারে,
• ত্ ও দ্‌-এর পর চ্ ও ছ্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ স্থানে চ্ হয়।

যেমন-
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া।
এরূপ – উচ্চারণ, শরচ্চন্দ্র, সচ্চরিত্র, তচ্ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৩৭৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ছদ্মবেশীনি
  2. ছদ্মবেশিনী
  3. ছদ্মবেশিনি
  4. ছদ্দবেশিনী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- ছদ্মবেশিনী। 
- এটি বিশেষণ পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ। 

• ছদ্মবেশী শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ- ছদ্মবেশিনী। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৭৮.
'মিথ্যারে করো না উপাসনা।' বাক্যে 'মিথ্যারে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।

- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে-'কে' বিভক্তি হয়।

উল্লেখ্য,
• ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্মকারক।
যেমন:
- মিথ্যারে করো না উপাসনা।
- পাহাড় নড়ায় সাধ্য কার?

এরূপ-
- 'মিথ্যারে করো না উপাসনা।'
[বাক্যকে 'কী/কাকে উপাসনা করো না?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মিথ্যারে'। সুতরাং, 'মিথ্যারে' কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৭৯.
'শকল' শব্দের অর্থ- 
  1. জলকণা 
  2. মাছের আঁশ
  3. শিকল
  4. সমূহ
ব্যাখ্যা
• শকল (বিশেষ্য): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ শক্‌ + অল। 

• শকল শব্দের অর্থ: 
- খণ্ড, অংশ।
- মাছের আঁশ।
- মাছ সরীসৃপ এবং অন্য কোনো কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর বহিঃস্ত্বকের ক্ষুদ্র ও অর্ধস্বচ্ছ শক্ত আবরণ, আঁশ, আঁশটে, শল্ক। 
- চন্দ্রকলা, বিন্দু। 
---------------------
• আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ:
- 'শীকর' শব্দের অর্থ: বাতাসে ভাসমান জলকনা, জলবিন্দু।
- 'সাক্ষর' শব্দের অর্থ- 'অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন'।
- আবার, 'স্বাক্ষর' শব্দের অর্থ- 'দস্তখত'।
- 'সুরভি' শব্দের অর্থ- 'সুভাস'।
- 'সন' শব্দের অর্থ- 'বৎসর'।
- 'দীনেশ' শব্দের অর্থ - 'দরিদ্রের আশ্রয় বা সহায়। ঈশ্বর, সৃষ্টিকর্তা'।
- 'দিনেশ' শব্দের অর্থ - 'সূর্য, দিবাকর'।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৩৮০.
"উপরোক্ত বিষয়টি নিয়ে প্রতিদন্দ্বীতা করার সময় তার উচ্ছ্বল আচরণ একান্নভোগী পরিবারে সমস্যা সৃষ্টি করল।" - এ বাক্যে কয়টি ভুল বানান রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• "উপরোক্ত বিষয়টি নিয়ে প্রতিদন্দ্বীতা করার সময় তার উচ্ছ্বল আচরণ একান্নভোগী পরিবারে সমস্যা সৃষ্টি করল।"
- উল্লিখিত বাক্যে মোট ৪টি ভুল বানান রয়েছে।

সেগুলো হলো - 
উপরোক্ত, প্রতিদন্দ্বীতা, উচ্ছ্বল, একান্নভোগী।

ভুল বানানগুলোর শুদ্ধরূপ:
• উপরোক্ত → উপর্যুক্ত, 
• প্রতিদন্দ্বীতা → প্রতিদ্বন্দ্বিতা, 
• উচ্ছ্বল → উচ্ছল,
• একান্নভোগী → একান্নবর্তী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৮১.
'নেই এমন' অর্থ প্রকাশ করছে কোন উপসর্গ যুক্ত শব্দটি?
  1. ক) নিখাদ
  2. খ) নালায়েক
  3. গ) নিদারুণ
  4. ঘ) নাহক
ব্যাখ্যা
- নি+খাদ = নিখাদ, যা 'নেই এমন' অর্থ প্রকাশ করছে।

অন্যান্য অপশন:
- ন+লায়েক = নালায়েক, অপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে।
- না+হক = নাহক, নেতি অর্থ প্রকাশ করছে।
- নি+দারুণ = নিদারুণ, যা অতিশয় অর্থ প্রকাশ করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৪,৩৮২.
নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. ক) নিঃ + রব = নিরব
  2. খ) নিঃ + রস = নিরস
  3. গ) নিঃ + রােগ = নিরােগ
  4. ঘ) নিঃ + আকার = নিরাকার
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধি
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন
বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার
কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৮৩.
‘আইনজীবী' শব্দটি কোন দুয়ের যোগফল?
  1. ক) তৎসম+ফারসি
  2. খ) আরবি+তৎসম
  3. গ) তদ্ভব+তৎসম
  4. ঘ) তৎসম+আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
আইন (বিশেষ্য) 
- ফারসি শব্দ। 
অর্থ: 
- দেশের সকল অধিবাসী মেনে চলতে ভাধ্য এমন রাষ্ট্রীয় বিধান। 
- নিয়ম, বিধি, কানুন।

জীবী (বিশেষণ)
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
- √জীব্‌+ইন্‌(ণিনি)

অর্থ:
- জীবন বা জীবনী শক্তিবিশিষ্ট (ক্ষীণজীবী)। 
- জীবিকাবিশিষ্ট বা জীবিকাধারী (বৃত্তিজীবী, পেশাজীবী, দীর্ঘজীবী, বুদ্ধিজীবী, ক্ষণজীবী, আইনজীবী) কোনো গুনকে পুঁজি করে কিংবা কোনো কাজকে আয়ের উৎস করে জীবন ধারণ করে যে সে-ই জীবী। 

সঠিক উত্তর: ফারসি + তৎসম
কিন্তু অপশনে ফারসি + তৎসম না থাকায় অপশন অনুসারে ক) তৎসম + ফারসি সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৮৪.
'লোকটা পাগল' এখানে 'পাগল' কোন বিশেষণ?
  1. বিধেয় বিশেষণ
  2. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিধেয় বিশেষণ:
- বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন- 'লোকটা পাগল' বা 'এই পুকুরের পানি ঘোলা' বাক্য দুটির 'পাগল' ও 'ঘোলা' বিধেয় বিশেষণ।

 অন্যদিকে,
- গুণবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।যেমন- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।
- অবস্থাবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
- ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন- 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪,৩৮৫.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. কৌতুহল
  2. অচিন্ত্যনীয়
  3. ধরণি
  4. মনোকষ্ট
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = ধরণি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
- পৃথিবী, ধরা।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = কৌতুহল;
• শুদ্ধ = কৌতূহল;

• অশুদ্ধ = অচিন্ত্যনীয়;
• শুদ্ধ = অচিন্তনীয়;

• অশুদ্ধ = মনোকষ্ট;
• শুদ্ধ = মনঃকষ্ট;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৮৬.
'তালপাতার সেপাই' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. ছিপছিপে
  2. কাণ্ডজ্ঞানহীন
  3. নেশাগ্রস্ত
  4. অপদার্থ
ব্যাখ্যা

• 'তালপাতার সেপাই' অর্থ- রুগ্‌ণ/ছিপছিপে।

অন্যদিকে,
'তালকানা' অর্থ- কাণ্ডজ্ঞানহীন।
'টুপ ভুজঙ্গ' অর্থ- নেশাগ্রস্ত।
'অকালকুষ্মাণ্ড' অর্থ- অপদার্থ/অকেজো লোক। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩৮৭.
কোনটির অর্থ পক্ক অর্থে প্রকাশ পায়?
  1. ক) পাকা বাড়ি
  2. খ) পাকা রং
  3. গ) পাকা কাজ
  4. ঘ) পাকা আম
ব্যাখ্যা
• পক্ক অর্থে পাকা আম শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৮ম শ্রেণী। 
৪,৩৮৮.
আশীবিষ কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. ঘ) সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ কোনটিই বিশেষণ নয়, তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। কথাসর্বস্ব, ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা, বোঁটাখোসা ইত্যাদি হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪,৩৮৯.
'ঝিনুক' কোন ভাষা হতে আগত শব্দ?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. ফারসি
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ঝিনুক'- দেশি শব্দ। 

• 'ঝিনুক' এর অর্থ:
- খাদ্য ও মুক্তা আহরণের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় এমন দুই ভাগে বিভক্ত কালচে সাদা প্রভৃতি রঙের শক্ত খোলসাবৃত কোমল দেহবিশিষ্ট মলাস্ক পর্বের অমেরুদণ্ডী জলজ প্রাণী।
- শুক্তি;
- শামুক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪,৩৯০.
গঠন বিবেচনায় 'গোলাপ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. সাধিত শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ- 
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ।

অন্যদিকে,
-------------
- অর্থানুসারে শব্দ তিন প্রকার।
যথা:
(ক) যৌগিক শব্দ,
(খ) রূঢ়ি শব্দ এবং
(গ) যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪,৩৯১.
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে কী দোষ ঘটে?
  1. ক) দ্বিত্বজনিত দোষ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
ব্যাখ্যা

• প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে।যেমনঃ
• দেশের সব আলেমগণ এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
- 'আলেমগণ' বহু বচন বাচক শব্দ। এর সাথে 'সব' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে।
- বাক্য টির শুদ্ধরূপ হবেঃ দেশের আলেমগণ এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
- অথবা দেশের সব আলেম এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৩৯২.
অনুসর্গ সাধারণত কোথায় বসে?
  1. বাক্যের শেষে
  2. শব্দের পূর্বে
  3. শব্দের পরে
  4. শব্দের মধ্যে 
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বিনা, তরে, দ্বারা, দিয়ে, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ ইত্যাদি।

অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১) সাধারণ অনুসর্গ ও
২) ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

• সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি;
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৩৯৩.
'ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে।' - বাক্যে 'ঘরে ঘরে' কীসের দ্বিরুক্তি?
  1. ধ্বন্যাত্মকের
  2. পদের
  3. অব্যয়ের
  4. শব্দের
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি:
- দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন:
- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে।
- দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল।
- মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।

- দ্বিতীয় পদের আংশিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু পদ-বিভক্তি অবিকৃত থাকে।
যেমন-
- চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে।
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৯৪.
'বাগ্‌ধারা' বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. বাক্যতত্ত্বে
  2. ধ্বনিতত্ত্বে
  3. অর্থতত্ত্বে
  4. রূপতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

 • 'বাগ্‌ধারা' আলোচিত হয় - অর্থতত্ত্বে।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. ধ্বনিতত্ত্ব,
২. রূপতত্ত্ব,
৩. বাক্যতত্ত্ব ও
৪. অর্থতত্ত্ব।

• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৪,৩৯৫.
নিচের কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়াবিভক্তি?
  1. -আতে (করাতে)
  2. -আন (করান)
  3. -আলে (করালে)
  4. -ইয়ে (করিয়ে)
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিভক্তি:
- ক্রিয়ার দুইটি অংশ: প্রথম অংশ ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং দ্বিতীয় অংশ ক্রিয়াবিভক্তি।
- ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলোকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে। যেমন -
• পড়ছি (পড়্‌ + ছি) ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বোঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা বক্তা পক্ষের এবং এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।

• পড়বেন (পড়্‌ + বেন) ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বোঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা শ্রোতা পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।

• পড়ছিল (পড়্‌ + ছিল) ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বোঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা অন্য পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।

উপরের উদাহরণগুলোতে '-ছি', '-বেন', '-ছিল'- এগুলো হলো ক্রিয়াবিভক্তি।

প্রযোজক ক্রিয়ার সাথে যুক্ত ক্রিয়াবিভক্তি:
- সাধারণ বর্তমান: -আন (করান)।
- ভূত অসমাপিকা: -ইয়ে (করিয়ে)।
- ভাবী অসমাপিকা: -আতে (করাতে)।
- শর্ত অসমাপিকা: -আলে (করালে)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৯৬.
'মনীষা' এর বিপরীতার্থক শব্দ-
  1. নির্বোধ
  2. চাপল্য
  3. অসংযত
  4. কুটিল
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
​• 'মনীষা' এর বিপরীতার্থক শব্দ- 'নির্বোধ'। 

- 'মনীষা' শব্দের অর্থ- প্রজ্ঞা; তীক্ষ্ণবুদ্ধি; প্রতিভা।
- 'নির্বোধ' শব্দের অর্থ- বোধহীন; অজ্ঞান; মূর্খ; ‍বুদ্ধিশূন্য।

অন্যদিকে,
- 'সরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - কুটিল/জটিল/বক্র।
- 'সংযত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অসংযত।
- ‘গাম্ভীর্য’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - চাপল্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩৯৭.
অনুবাদ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• অনুবাদ: 
- অনুবাদের অর্থ- ভাষান্তরকরণ। 
- অনুবাদ হলো কোনো বক্তব্য বা রচনাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায়  রূপান্তরিত করা। 
- রচনার বক্তব্য বিষয়ের পরিবর্তন না করে ভাষাগত পরিবর্তনই অনুবাদ বা তর্জমা বলে বিবেচিত। 
- অনুবাদে পারদর্শিতা মূলত অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।

অনুবাদ কাজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
- আক্ষরিক অনুবাদ,  
- ভাবানুবাদ।  
---------------------- 
• আক্ষরিক অনুবাদ:
মূল ভাষার প্রতিটি শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করে যে  অনুবাদ করা হয় তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা হয়। যেমন:`Many men many mind'  এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায় ‘অনেক মানুষ অনেক মন’ তাহলে তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা যেতে পারে।

• ভাবানুবাদ:
যে অনুবাদের মাধ্যমে মূল ভাষার স্থিত মূল ভাব অক্ষুন্ন রেখে নিজের ভাষার বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হয়, এবং মূল ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ, বাক্যগঠন ইত্যাদিকে উপেক্ষা করে অপর ভাষার মূলভাবকে তুলে ধরা হয় বা অনুবাদ করা হয় তাকে ভাবানুবাদ বলে। যেমন: ‘Many men many mind' এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায় ‘নানা মুনির নানা মত’ তাহলে তাকে ভাবানুবাদ বলা হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৯৮.
নিচের কোনটিতে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. নিরভিমান
  2. অদ্যবধি
  3. অহর্নিশ
  4. নির্দোষ
ব্যাখ্যা
• 'অদ্যবধি' - শব্দটিতে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ- অদ্যাবধি।

অন্যদিকে,
নিরভিমান; অহর্নিশ; নির্দোষ - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৯৯.
‘ঢেউ’ এর সমর্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. মহোর্মি
  2. তরঙ্গমালা
  3. বীচি
  4. তরঙ্গিণী
ব্যাখ্যা
• ‘ঢেউ’ এর সমর্থক শব্দ:
তরঙ্গ, কল্লোল, ঊর্মি, হিল্লোল, লহরি, বীচি, জোয়ার, মহাতরঙ্গ, মহোর্মি, বীচিমালা, লহর, তরঙ্গহিল্লোল, দোলা, তরঙ্গভঙ্গ, ঊর্মিলহরী, তরঙ্গমালা, তরঙ্গলহরী ইত্যাদি। 

•'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো:
নদ, নদনদী, স্রোতস্বিনী, তটিনী, স্রোতস্বতী, তরঙ্গিণী, শৈবলিনী, সরিৎ, প্রবাহিণী, মন্দাকিনী, কল্লোলিনী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪০০.
'বাদশাহ' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) তুর্কি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) তৎসম
ব্যাখ্যা
'বাদশাহ'- 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত শব্দ।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
বাদশাহ (বিশেষ্য) অর্থ: মুসলমান সুলতান বা সম্রাট।

'ফারসি' ভাষা থেকে আগত শব্দ কিছু শব্দ: 
ধর্মসংক্রান্ত শব্দ: খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা ইত্যাদি।
প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ: কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
বিবিধ শব্দ: আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী, বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।