বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৩৪ / ৩৫৪ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ৩৫,৭১৩

৩,৩০১.
'ধূর্ত' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মূর্খ
  2. সাধু
  3. মলিন
  4. ভণ্ড
ব্যাখ্যা
• 'ধূর্ত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সাধু

অন্যদিকে,
- 'নির্মল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মলিন।
- 'পণ্ডিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মূর্খ।
- 'ভণ্ড' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩০২.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) দাপট
  2. খ) কপট
  3. গ) পাঠক
  4. ঘ) মিশুক
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - দাপট।

অপশনের বাকি শব্দ গুলো -কপট, পাঠক, মিশুক হচ্ছে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩০৩.
'ওলন্দাজ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. পর্তুগিজ
  3. ইংরেজি
  4. ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা
• 'ওলন্দাজ' 
- ফরাসি শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।

অন্যদিকে,
ওলন্দাজ ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
- ইস্কাপন, টেক্‌কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন ইত্যাদি।

ইংরেজি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
- কলেজ, নোট, মাস্টার, লাইব্রেরি ইত্যাদি।

পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ হলো:
- আলপিন, বালতি, আনারস, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩০৪.
'ডুগডুগ' কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. যৌগিক দ্বিত্ব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক শব্দের দ্বিত্ব:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ ধরনের দ্বিত্বে ধ্বনিটির পুনরাবৃত্তি বা প্রলম্বন ঘটে। কখনো-বা বহুত্বের অর্থ যোগ করে। বক্তার প্রকাশ-প্রবণতা অনুসারে এক বা বহুবার পুনরাবৃত্ত হতে পারে।
যেমন-

- সাঁ করে তিরটা ছুটে গেল। সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে গেল। সাঁ সাঁ সাঁ সাঁ করে তির ছুটে যাচ্ছে।

ধ্বন্যাত্মক একক শব্দের দ্বিত্বের উদাহরণ:
ইস্-ইস্, উহ্‌-উহ্, কুট কুট, কোঁৎ কোঁৎ, কুটুস-কুটুস, খুটখুট, খুটুর খুটুর, ঘেউ ঘেউ, ছি-ছি, ছ্যা-ছ্যা, ছ্যাঁক-ছ্যাঁক, ঠুকঠুক, ঠকর ঠকর, ডুগডুগ, দুমদুম, দুপদুপ, ধূপধুপ, ধুপুর-ধুপুর, ফোঁস্-ফোঁস্, ভোঁস্-ভোঁস্, শোঁ-শোঁ, শাঁ-শাঁ, সাঁই-সাঁই, হুশ-হুশ, হুম্-হুম্, হিস্-হিস্।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩০৫.
'রাজীব', 'অরবিন্দ' - শব্দ দুটির মূল একার্থবোধক শব্দ কোনটি?
  1. মেঘ
  2. পদ্ম
  3. চাঁদ
  4. সাগর
ব্যাখ্যা

পদ্ম - অরবিন্দ, কমল, পঙ্কজ, উৎপল, শতদল, রাজীব, পুণ্ডরীক।
মেঘ - জলদ, জলধর, বারিদ, অভ্র, নীরদ, পয়োদ, পয়োধর, কাদম্বিনী, নীরধর৷
চাঁদ - চন্দ্র, সুধাকর, সোম, বিধু, শশধর, শশী।
সাগর - জলধি, বরুণ, পাথার, অর্ণব, সমুদ্র, দরিয়া, পারাবার, পয়োধি, সিন্ধু।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৩,৩০৬.
'মহীয়ান' শব্দের বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. মহীয়শী
  2. মহিয়সি
  3. মহিয়সী
  4. মহীয়সী
ব্যাখ্যা
• 'মহীয়সী' শব্দটির বানান শুদ্ধ।
- এটি 'মহীয়ান' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ।

• 'মহীয়ান' শব্দের অর্থ - অতি মহান, মহত্তর।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩০৭.
'হাতি' শব্দের 'হ' কোন ধরনের ধ্বনির উদাহরণ?
  1. ক) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  2. খ) তালব্য ব্যঞ্জন
  3. গ) কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
  4. ঘ) দন্ত ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ

তাছাড়া, 
'ট'- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন।
'ছ'- তালব্য ব্যঞ্জন। 
'ত'- দন্ত ব্যঞ্জন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৩,৩০৮.
ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত বাংলা ব্যাকরণ কোনটি?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ মঞ্জরী
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. বাঙ্গলা ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত বাংলা ব্যাকরণ- ব্যাকরণ মঞ্জরী।

অন্যদিকে,
• রাজা রামমোহন রচিত বাংলা ব্যাকরণ- গৌড়ীয় ব্যাকরণ
• ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা ব্যাকরণ- ব্যাকরণ কৌমুদী।
• ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত বাংলা ব্যাকরণ- বাঙ্গলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩০৯.
ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কমা
  2. কোলন 
  3. হাইফেন 
  4. সেমিকোলন 
ব্যাখ্যা

• কমা ( , ):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- "কমা" চিহ্নের বিরতিকাল ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- কমা- এর অপর নাম হচ্ছে পাদচ্ছেদ।

কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
৫) কোনো বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
৭) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
৮) ডিগ্রি পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩১০.
'কাঙ্গি' শব্দের অর্থ কী?
  1. কাটবার অস্ত্র
  2. কাঠের তৈরি চিরুনি
  3. হাতের শক্ত চামড়া বা কড়া
  4. উপকরণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'কাঙ্গি' শব্দের অর্থ — 'কাঠের তৈরি চিরুনি'।

আরো কিছু শব্দার্থ:
• কাটারি- কাটবার অস্ত্র, 
• কিণাঙ্ক- হাতের শক্ত চামড়া বা কড়া,
• উপাদান- উপকরণ,
• ওম- উষ্ণতা,
• অভ্র- মেঘ,
• অনটন- দারিদ্র্য,
• অরুণ- সূর্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩১১.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মিশুক
  2. ঈশ্বর
  3. দিশারু
  4. হিংস্র
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• '-আবু' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন:
যে করে- এই অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- দুধ + আরু = দুধারু,
- দিশা + আরু = দিশারু,
- বাক্ + আরু = বাগারু (বাচাল),
- খোঁজ + আরু = খোঁজারু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• '-উক' বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- √মিশ্ + উক্ = মিশুক। 
• '-বর' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- √ঈশ্ + বর = ঈশ্বর। 
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- '-র' হিস্ +র = হিংস্র। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩১২.
নিচের কোন বানানগুচ্ছটি ভুল?
  1. সূচী, শূচি
  2. শূর, সূর
  3. শপ্ত, সপ্ত
  4. বানি, বাণী
ব্যাখ্যা

• সূচী বানান ভুল।
• সঠিক বানান - সূচি।
• শূচি বানান ভুল।

• সঠিক বানান - শুচি।

অন্যদিকে,
- বানি - অলংকারাদি তৈরির পারিশ্রমিক বা মজুরি।
- বাণী - ১. শব্দ; ভাষা; উক্তি; ভাষণ। ২. সরস্বতীদেবী (বাণীবন্দনা)। ৩. উপদেশমূলক উক্তি।
- শপ্ত -  অভিশাপ দেওয়া হয়েছে এমন, শাপগ্রস্ত।
- সপ্ত -  ৭,সংখ্যা। বিণ, ৭সংখ্যক (সপ্তর্ষি)।
- শূর - বীর, শৌর্যবান; সাহসী।
- সূর-  ১. সূর্য। ২. যোদ্ধা।
- শুচি - ১.পবিত্র; নির্মল, শুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন। ২. নির্দোষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৩১৩.
'ভিক্ষুককে দান কর।' - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
  2. সে ভিক্ষা চায় এবং তাকে দান কর।
  3. সে ভিক্ষা চায়, সুতরাং তাকে দান কর।
  4. সে ভিক্ষা চায় বিধায় তাকে দান কর।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য: 
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। 

যেমন:
সরল বাক্য: ভিক্ষুককে দান কর।
জটিল বাক্য: যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো। 
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩১৪.
'ক্ষুদ্র অর্থে' 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) উপবন
  2. খ) উপনেতা
  3. গ) উপভোগ
  4. ঘ) উপকূল
ব্যাখ্যা
• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার-
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ। 
সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন। 
ক্ষুদ্র অর্থে = উপস্রহ, উপসাগর, উপনেতা। 
বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩১৫.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. চিকচিক
  2. টোপর
  3. পেট
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা:
- চিকচিক, পেট, ডাব, টোপর, ঠেক, ডিঙা, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৩১৬.
'ঘোড়াকে চাবুক মার'- বাক্যে 'চাবুক' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন-
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কান্তে দিয়ে ধান কাটছে।

এরূপ-
- ঘোড়াকে চাবুক মার। 
[বাক্যকে ঘোড়াকে কি দিয়ে / দ্বারা মার প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় 'চাবুক'। সুতরাং চাবুক করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।] 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩,৩১৭.
বিশেষ্য পদ- 
  1. অজ্ঞাত
  2. লাজ
  3. জীবন্ত
  4. অবজ্ঞেয়
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• বিশেষ্য পদ - লাজ।
শব্দের অর্থ:
- লজ্জা সরম।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - অজ্ঞাত, জীবন্ত, অবজ্ঞেয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৩১৮.
তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ডাকু
  2. কলু
  3. ঝাড়ু
  4. উড়ু
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত 'উ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো:
- ঢাল + উ = ঢালু;
- কল + উ = কলু।

অন্যদিকে,
• 'উ' কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- √ডাক্ + উ = ডাকু;
- √ঝাড় + উ = ঝাড়ু;
- √উড় + উ = উড়ু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩১৯.
'ঝিনুক থেকে মুক্ত মেলে'- এখানে 'ঝিনুক' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) অধিকরণ কারক
  4. ঘ) কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যে ঝিনুক থেকে মুক্তা উৎপন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই তা অপাদান কারক।
এতে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, তাই এটি অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,৩২০.
নিচের কোনটি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস নয়?
  1. ক) তেতলা
  2. খ) দোতলা
  3. গ) পাঁচহাতি
  4. ঘ) একাদশ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে সংখ্যাবাচক শব্দ বসলে সর্বদা দ্বিগু সমাস হয় না। যদি পূর্বপদে সংখ্যাবাচক শব্দ বসে এবং পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ প্রধান না হয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা কোনো বিশেষ অর্থ বোঝায় তবে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলে।
যেমন :
- তেপায়া = তিন পা বিশিষ্ট যা
- একতারা = এক তার যে যন্ত্রের
- সেতার = সে (তিন) তার বিশিষ্ট যা
- দশমণি = দশ মণ পরিমাণ যা
- দুমুখো = দুই দিকে মুখ যার
- পাঁচহাতি = পাঁচ হাত পরিমাণ যা
- পঞ্চভুজ = পাঁচ ভুজ (বাহু) যার
- দশগজি = দশ গজ পরিমাণ যা

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩,৩২১.
আকাঙক্ষা ভাব প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে।
  2. বৃষ্টি আসে আসুক।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. তারা বাড়ি যাবে।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব:
সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? 

• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়। যেমন:
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব:
একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন:
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩২২.
'সহোদয়' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল,
- সহ উদয় যার = সহোদয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩২৩.
'তাম্বূলিক' শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?
  1. তামসিক
  2. বারুই
  3. পান-ব্যবসায়ী
  4. পর্ণকার
ব্যাখ্যা

• তাম্বূলিক’ শব্দের সমার্থক নয় –‘তামসিক’; 
কারণ ‘তামসিক’ অর্থ : ঘন অন্ধকারপূর্ণ বা অন্ধকারাচ্ছন্ন।

অন্যদিকে,
• তাম্বূলিক’ বলতে বোঝায় পান-ব্যবসায়ী।
• ‘বারুই’ হলো সেই সমস্ত লোক, যারা পান চাষ ও বিক্রি উভয় কাজই করে।
• ‘পর্ণকার’ শব্দও পান বিক্রেতা বা পান ব্যবসায়ী অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• অতএব, ‘তাম্বূলিক’ শব্দের সমার্থক →পান ব্যবসায়ী, বারুই ও পর্ণকার।

উৎস: 
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৩২৪.
বাংলা ও তৎসম উপসর্গের মধ্যে পাওয়া যায়-
  1. ক) আ, সু, বি, নির
  2. খ) বি, নি, আ, সু
  3. গ) আ, সু, নির, অধি,
  4. ঘ) অপ, স, বি, নি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩২৫.
কোন শতকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে?
  1. উনিশ
  2. বিশ
  3. সতেরো
  4. আঠারো
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩২৬.
'কেবলা হাকিম' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. বিশিষ্ট ব্যক্তি
  2. নির্বোধ বিচারক
  3. অনভিজ্ঞ
  4. ব্যক্তিত্বহীন মানুষ
ব্যাখ্যা
•'কেবলা হাকিম' বাগ্‌ধারাটির অর্থ অনভিজ্ঞ।

অন্যদিকে,
- কেষ্টুবেষ্টু - বিশিষ্ট ব্যক্তি ।
- ঘটিরাম - নির্বোধ বিচারক।
- কাঠের পুতুল - ব্যক্তিত্বহীন মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩,৩২৭.
'Waste not, want not' - এর অনুবাদ কোনটি?
  1. অপচয় রোধ জরুরী।
  2. অপচয় করোনা অভাবও হবেনা।
  3. অপচয়কারী অভাবে পড়ে।
  4. অপচয় অভাবের মূল কারন।
ব্যাখ্যা
• Waste not, want not এর অনুবাদ :অপচয় করোনা অভাব ও হবেনা।
-----------------
• এছাড়াও আরও কিছু প্রবাদবাক্যের বাংলা অনুবাদ-
- To break a butterfly on a wheel.- মশা মারতে কামান দাগা।
- To err is human.- মানুষ মাত্রই মতিভ্রম হয়। "মুনিনাঞ্চ মতিভ্রম"।
- To kill two birds with one stone. -এক ঢিলে দুই পাখি মারা।
- To make a mountain of a molehill. - তিলকে তাল বানানো।
- To put the cart before the horse. - ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়া / নিয়মের বাইরে কাজ করা।
- To the pure all things are pure. - আপনি ভাল তো জগৎ ভাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩২৮.
কোনটি দিগু সমাস?
  1. দশগজি
  2. চৌচালা
  3. সেতার
  4. পঞ্চবঢী
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
 যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- দশগজি, চৌচালা, এবং সেতার সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩২৯.
যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) পরোক্ষ
  2. খ) প্রত্যক্ষ
  3. গ) উপমেয়
  4. ঘ) সাধারণ ধর্ম
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে দোষ-গুণ বা বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য বা তুলনা করা হয় তাকে উপমামূলক কর্মধারয় সমাস বলে। উপমামূলক কর্মধারয় সমাস বুঝতে হলে নিচের শব্দগুলো সাথে পরিচিত হতে হবে :

উপমান : যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তাকে উপমান বা পরোক্ষ বলে।
উপমেয় : যাকে তুলনা করা হয় তাকে উপমেয় বা প্রত্যক্ষ বলে।
সাধারণ ধর্ম : পূর্বপদ ও পরপদের একই গুণ বা ধর্মকে সাধারণ ধর্ম বলে।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ
৩,৩৩০.
"উল্লাস" এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1.  উল + লাস
  2. ঊৎ + লাস 
  3. উ + লাস
  4. উৎ + লাস
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন্‌' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্‌' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।

যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৩১.
পত্রের মূল অংশ কোনটি?
  1. শিরোনাম
  2. পত্রগর্ভ
  3. সম্বোধন
  4. প্রেরককের ঠিকানা
ব্যাখ্যা
- পত্রের মূল অংশ হলো 'শিরোনাম'।
শিরোনাম: 
একটি পত্রের বাইরের অংশের উপর যেটা থাকে তাকে বলা হয় শিরোনাম ।
সাধারণত একটি ব্যক্তিগত পত্রতে ছয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে।
যথা:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ।
২. স্থান ও তারিখ ।
৩. সম্বোধন ও সম্ভাষণ।
৪. চিঠির বক্তব্য।
৫. লেখকের স্বাক্ষর, বিদায় সম্ভাষণ।
৬. শিরোনাম- প্রেরক ও প্রাপকের নাম ঠিকানা।

উৎস:
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,৩৩২.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. ক) পঞ্চায়েত
  2. খ) চিরন্তন
  3. গ) সে
  4. ঘ) এবং
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পঞ্চায়েত (বিশেষ্য)
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: গ্রামোন্নয়নের লক্ষ্যে পাঁচ বা ততোধিক নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা গঠিত সভা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৩৩.
'Annexation' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. সংযোজন
  2. অভিশংসন
  3. প্রতিনিধিত্ব
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
• 'Annexation' এর ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ 'সংযোজন'।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Evidence- প্রমাণ। 
- Hearing- শুনানি। 
- Impeachment- অভিশংসন। 
- Jurisdiction- বিচারব্যবস্থা। 
- Litigation- মামলা-মোকদ্দমা। 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৩,৩৩৪.
'পাখি' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) বিহগ
  2. খ) খেচর
  3. গ) পঙ্কজ
  4. ঘ) দ্বিজ
ব্যাখ্যা
'পাখি' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- পঙ্কজ।
- 'পঙ্কজ' হলো 'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ। 

• পাখি শব্দের সমার্থক শব্দ - বিহগ, শকুন্ত, খগ, পতগ, চিড়িয়া, খেচর, বিহঙ্গ, দ্বিজ, অন্ডজ, পত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩৩৫.
প্রশ্ন নং ১ - ৬: শব্দের সঠিক বানান নির্ণয় করুনঃ
  1. সমীরন
  2. সমিরণ
  3. সমিরন
  4. সমীরণ
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: সমীরণ,
- বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় - (সম্ + √ঈর্ + অন),
অর্থ: বায়ু, বাতাস, পবন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৩৬.
ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালাকে ভাগ করা হয় কয় ভাগে?
  1. ক) ২ ভাগে
  2. খ) ৩ ভাগে
  3. গ) ৪ ভাগে
  4. ঘ) ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ।
- এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

• ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- স্বরধ্বনির প্রতীক স্বরবর্ণ।
- ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক ব্যঞ্জনবর্ণ।

• বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
• তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩৩৭.
'হাড়হদ্দ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. বৃহৎ বিষয়
  2. সবকিছু
  3. লুকোচুরি
  4. আশায় নৈরাশ্য
ব্যাখ্যা

• 'হাড়হদ্দ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- সবকিছু।

অন্যদিকে,
• গুড়ে বালি - আশায় নৈরাশ্য।
• সপ্তকান্ড রামায়ণ - বৃহৎ বিষয়।
• ঢাকঢাক গুড় গুড় - লুকোচুরি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৩৮.
‘হিরণ’ শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. সাদা
  2. সুন্দর
  3. শ্যামল
  4. সুবর্ণ
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর - সুবর্ণ

• 'সুবর্ণ' শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ: স্বর্ণ, সোনা, কাঞ্চন, কনক, হিরণ্য, হেম।

অন্যদিকে,
- ‘সাদা’ শব্দের প্রতিশব্দ: সিত, শ্বেত, শুক্ল, সফেদ, শুভ্র, অরঞ্জিত, ধবল, নির্মল, শুচি।
- ‘সুন্দর’ শব্দের প্রতিশব্দ: মনোরম, মনোহর, শোভন, সুদৃশ্য, চারু, রমণীয়, রম্য।
- ‘শ্যামল’ শব্দের প্রতিশব্দ: শ্যাম, অসিত, কালো, কৃষ্ণবর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৩৯.
'হৃ' যুক্তবর্ণটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. হ্ + ন
  2. হ্ + ণ
  3. হ্ + র
  4. হ্ + ঋ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে - হ্ + ঋ = হৃ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ঞ্চ = ঞ্ + চ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

৩,৩৪০.
ভাষায় সর্বনাম ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি ?
  1. ক) বিশেষণের পরিবর্তে ব্যবহার করা
  2. খ) বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি দূর করা
  3. গ) বিশেষ্যের অভাব দূর করা
  4. ঘ) ভাষা শব্দ সম্পদ বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম: 
- সর্বনাম বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। 
- সর্বনাম অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ্য, বিশেষ্যগুচ্ছ কিংবা বিশেষ্যস্থানীয় ব্যাক্যাংশের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন,
বিশেষ্যের পরিবর্তে: ডাক্তার অসুস্থ, তিনি রোগী দেখতে আসবেন না। 
এখানে বিশেষ্য: ডাক্তার, আর সর্বনাম: তিনি। 

সূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৩,৩৪১.
'অন্তরীপ' এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) অন্তর্গত রীপু যার
  2. খ) অন্তর্নীহিত রীপু
  3. গ) অন্তর্গত অপ যার
  4. ঘ) অন্তঃস্থ অপ যায়
ব্যাখ্যা
'অন্তরীপ' এর ব্যাসবাক্য = অন্তর্গত অপ(জল) যার।

• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস: যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৪২.
'ষ' ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিম্নের কোন শব্দে?
  1. ক) মাষ্টার
  2. খ) পোষাক
  3. গ) ষোড়শ
  4. ঘ) পোষ্ট
ব্যাখ্যা
'ষ' ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটে ষোড়শ শব্দে। 
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 

'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী- 
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 

- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' এবং 'পোষাক' এর সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার ও পোশাক।  
- পোস্ট, মাস্টার ইংরেজি শব্দ ও পোশাক ফারসি ভাষার শব্দ,।
 তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৩,৩৪৩.
'আলকাতরা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফারসি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফরাসি
  4. গুজরাট
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু পর্তুগিজ ভাষার শব্দ হলো- বোতাম, আলপিন, পাউরুটি, ইংরেজ, সাবান, পাদ্রি, আলকাতরা, বারান্দা, পেয়ারা, বোতাম, আলমারি, গির্জা, চাবি, আনারস, ইস্পাত, আচার, পিস্তল, গুদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৪৪.
'Lease' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. বন্ধক
  2. আমানত
  3. ইজারা
  4. জামানত
ব্যাখ্যা
• 'Lease' এর বাংলা পরিভাষা - ইজারা।

অন্যদিকে, 
• 'Mortgage' এর পারিভাষিক শব্দ - বন্ধক।
• 'Deposit' এর পারিভাষিক শব্দ - আমানত।
• 'Security' এর পারিভাষিক শব্দ - জামানত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,৩৪৫.
'মানুষ হও'। বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. উপদেশ
  2. আদেশ
  3. অনুরোধ
  4. অনুনয়
ব্যাখ্যা
• উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - মানুষ হও।

অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৪৬.
'যদি বৃষ্টি হয়, তবে বাহিরে যাব না'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) হ্যাঁ-বাচক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি 'জটিল বাক্যের' উদাহরণ।
জটিল বাক্য: 

- এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে।
- গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন,
» সরল বাক্য,
» জটিল বাক্য,
» যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।

»সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

»সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
• সরল বাক্য - আমার দেখাবে আমার সত্য। জটিল বাক্য - যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।

»সরল বাক্য - সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।
• জটিল বাক্য - যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০.২২ সংস্করণ) ।
৩,৩৪৭.
'Grasp all, lose all' এর সঠিক বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. এক হাতে তালি বাজেনা।
  2. আলস্যই দারিদ্র্যের মূল।
  3. অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। 
  4. অভ্যাসই স্বভাবে দাঁড়ায়।
ব্যাখ্যা
• 'Grasp all, lose all' অর্থ - অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।

অন্যদিকে, 
• Habit is second nature - অভ্যাসই স্বভাবে দাঁড়ায়।
• Indolence is the mother of poverty - আলস্যই দারিদ্র্যের মূল।
•  It takes two to make a quarrel - এক হাতে তালি বাজেনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৪৮.
'মৃন্ময়' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মৃৎ + ময়
  2. মৃত + ময়
  3. মৃদ্‌ + ময়
  4. মৃন্‌ + ময়
ব্যাখ্যা
আগে 'ৎবা দ্' এবং পরে 'ন্ / ম্' থাকলে 'ৎ' বা 'দ্' স্থানে ন্ হয় এবং পরের ''- এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়।
কিন্তু ৎ / দ্ - এর পর 'ল্' থাকলে ৎ / দ্ এর সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং 'ল্' পরের '' এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।


ৎ + ন্ = ন্ন               উৎ + নতি = উন্নতি , জগৎ + নাথ = জগন্নাথ
দ্ + ন্ = ন্ন               তদ্ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত ,তদ্ + নিষ্ঠ = তন্নিষ্ঠ
ধ্ + ন্ = ন্ন               ক্ষুধ্ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি।
ৎ + ম্ = ন্ম              মৃৎ + ময় = মৃন্ময় , সৎ + মার্গ = সন্মার্গ
দ্ + ম্ = ন্ম              তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র, তদ্ + মধ্য = তন্মধ্যে
ৎ্ + ল্ = ল্ল               উৎ + লাস = উল্লাস, উৎ + লিখিত = উল্লিখিত
দ্ + ল্ = ল্ল               তদ্ + লিখিত = তল্লিখিত

 [উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।]
৩,৩৪৯.
কোনটি দ্বিগু সমাস?
  1. শান্তশিষ্ট
  2. নীলপদ্ম
  3. নবরত্ন
  4. ছাত্রসমাজ
ব্যাখ্যা

• দ্বিগু সমাস:
যে-সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বােঝায় তাকে ‘দ্বিগু সমাস' বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য হয়।
যেমন :
সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ, নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ, যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৫০.
'কাঁচকলা' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কাঁচ + কলা
  2. কাচা + কলা
  3. কাঁচা + কলা
  4. কাঁচঃ + কলা
ব্যাখ্যা
• 'কাঁচকলা' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'কাঁচা + কলা'। 
------------------ 
• সন্ধির নিয়ম: 
- স্বরধ্বনির পরে ব্যঞ্জনধ্বনি এলে স্বরধ্বনিটি লুপ্ত হয়। 
যেমন,
নাতি + বৌ = নাতবৌ,
ঘোড়া + দৌড় = ঘোড়দৌড় ইত্যাদি।
-----------------------
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: 
• বন + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোস্পদ,
• পর + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক + দশ = একাদশ,
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৫১.
শুদ্ধ বানান -
  1. প্রনয়ীনী
  2. প্রণয়িনি
  3. প্রনয়িনী
  4. প্রণয়িনী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - প্রণয়িনী
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অনুরক্ত ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৫২.
'কেষ্টা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে কী অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. জাত
  2. সদৃশ
  3. বৃহদার্থ
  4. অবজ্ঞা
ব্যাখ্যা
আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৫৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. চক্ষুষ্মান
  2. নির্নিমেষ
  3. ফণী
  4. গভর্ণর
ব্যাখ্যা
• এখানে 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'। 

প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন - অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৫৪.
'অনামুখো' শব্দে 'অনা' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভাব
  2. অশুভ
  3. অস্পষ্টতা
  4. নিন্দিত
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। 
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'অনা' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
'অভাব' অর্থে -  অনাবৃষ্টি, অনাদর। 
'ছাড়া' অর্থে - অনাছিষ্টি, অনাচার। 
'অশুভ' অর্থে - অনামুখো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৫৫.
নিম্নের কোনটি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) গায়ক
  2. খ) প্রভাত
  3. গ) বাবুয়ানা
  4. ঘ) রাজপুত
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এমন উপসর্গ ও প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দকে রূঢ়ি শব্দ বলে। 

রূঢ়ি শব্দের কয়েকটি উদাহরণ- 

মূল শব্দ                                ব্যুৎপত্তিগত অর্থ                                         ব্যবহারিক অর্থ

হস্তী                                    হাত আছে যার                                       একটি বিশেষ প্রানী, হাতি 
গবেষণা                                গরু খোঁজা                                         ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা 
বাঁশি                                   বাঁশি দিয়ে তৈরি                                         বাঁশ দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র 
প্রভাত                            প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত                                     সকাল বেলা 


উৎস:
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৫৬.
'ললিত' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. তনয়া
  2. সুতা
  3. কান্তিমান
  4. দুলালি
ব্যাখ্যা
• 'ললিত' শব্দের সমার্থক শব্দ - কান্তিমান।

‘সুন্দর’ শব্দের সমার্থক শব্দ:

- মনোরম, মনোহর, রম্য, কমনয়ি, ললিত, রমণীয়, অপরূপা, কমনীয়, অনুপম, কান্তিমান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- দুহিতা, আত্মজা, তনয়া, সুতা, নন্দিনী, মেয়ে, দুলালী, আত্মসম্ভবা, পুত্রিকা, ঝিউরি, দুলালি, ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৩৫৭.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চৌকিদার
  2. পঙ্কিল
  3. কারিগর
  4. বাবুয়ানি
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। এখানে কতগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ দেয়া হলো।

ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
- ঊর্মি + ইল্ = ঊর্মিল,
- ফেন + ইল্ = ফেনিল।

অন্যদিকে, 
---------------
কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
আনা (গরিবানা),
আনি (বাবুয়ানি),
ওয়ান (গাড়োয়ান),
খানা (ছাপাখানা),
গর (কারিগর),
বাজ (চালবাজ),
দার (চৌকিদার),
সই (মানানসই) ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৫৮.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্য কয় ভাগে বিভক্ত? 
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
ব্যাখ্যা

• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন: 
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩,৩৫৯.
‘বেকার’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নঞ তৎপুরুষ
  2. নঞ বহুব্রীহি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
  4. অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

কোন নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায় না, অথচ বহুব্রীহি সমাস বলে গণ্য।
যেমনঃ বাহায়া = হায়া নাই যার।
বেকার = বে কার যার।
বেপোরোয়া = নাই পরোয়া যার।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৩৬০.
নিচের কোনটি 'গ্রীষ্ম' এর সঠিক উচ্চারণ?
  1. গ্রিশ্‌মো
  2. গ্রিষশোঁ
  3. গ্রিসশো
  4. গ্রিশ্‌শোঁ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গ্রীষ্ম' এর সঠিক উচ্চারণ- 'গ্রিশ্‌শোঁ'।

• 'গ্রীষ্ম' বলতে বোঝায়- ঋতুবিশেষ, গরমকাল। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৩৬১.
নিচের কোনটি দ্বিস্বরধ্বনি?
  1. ই্‌
  2. ক ও গ
ব্যাখ্যা
- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।

দ্বিস্বরধ্বনি:

- পূর্ণস্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
- লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।

- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]।
- একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

অন্যদিকে,
- 'ই্‌' হচ্ছে অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৩৬২.
ধ্রুপদি ভাষা কোনটি?
  1. অহমিয়া
  2. ওড়িয়া
  3. পালি
  4. মণিপুরি
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ।
- শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে। মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৬৩.
'শ্রদ্ধা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. শ্রৎ+√ধা + অ + আ
  2. শ্রৎ+√ধা + আ
  3. শ্র+√ধা + আ
  4. শ্রু+√ধা + আ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
অ(অঙ্‌) + স্ত্রী প্রত্যয় (আ) যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো-

- শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা,
- √ব্যথ্‌ + অ + আ = ব্যথা,
- √কৃপ্‌ + অ + আ = কৃপা,
- সম্‌ + √জ্ঞা + অ + আ = সংজ্ঞা,

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৬৪.
'ঔদার্য' শব্দটির বিপরীত শব্দ -
  1. বিনয়
  2. অবনতি
  3. কার্পণ্য
  4. মহানুভবতা
ব্যাখ্যা
'ঔদার্য' শব্দটির বিপরীত শব্দ - কার্পণ্য

উল্লেখ্য,
'ঔদার্য' শব্দের অর্থ - উদারতা, মহানুভবতা; বিনয়, অকৃপণতা।
'পতন; শব্দের অর্থ - অবনতি; বিচ্যুতি, অধোগতি, খলন।

অন্যদিকে,
বিনয় - দাম্ভিকতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৬৫.
নিচের কোনটি বহুবচন বাচক শব্দ নয়?
  1. ক) গ্রাম
  2. খ) কুল
  3. গ) সভা
  4. ঘ) মঙ্গল
ব্যাখ্যা
গ্রাম, কুল, সভা ইত্যাদি বহুবচন বাচক শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩,৩৬৬.
'বিপরীত শব্দ' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচিত হয়?
  1. শব্দতত্ত্বে 
  2. বাক্যতত্ত্বে 
  3. অর্থতত্ত্বে
  4. ধ্বনিতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

'বিপরীত শব্দ' ব্যাকরণের অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়:
- ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে অন্তত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১। ধ্বনিতত্ত্ব।
২। রূপতত্ত্ব।
৩। বাক্যতত্ত্ব ও
৪। অর্থতত্ত্ব।

• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩,৩৬৭.
'ধৃষ্ট' - এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পণ্ড
  2. শ্লথ
  3. বিলম্ব
  4. নম্র
ব্যাখ্যা

• 'ধৃষ্ট' - এর বিপরীতার্থক শব্দ - নম্র / বিনয়ী।

অন্য অপশনের বিপরীতার্থক শব্দ:
• 'সফল' - পণ্ড।
• ‘শ্লথ’ - ত্বরিত।
• ‘আশু’ - বিলম্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৬৮.
"অবিরাম কলহ" - অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. জবরজং
  2. ছাগল টাঙানো
  3. ছিনিমিনি খেলা
  4. ছুঁচোর কেত্তন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'ছুঁচোর কেত্তন' বাগ্‌ধারার অর্থ - অবিরাম কলহ

অন্যদিকে,
ছাগল টাঙানো - লম্বা জায়গা নেওয়া।
জবরজং - এলোমেলো।
ছিনিমিনি খেলা - নষ্ট করা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৬৯.
'উক্তি ও বাচ্য' নিয়ে ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব 
  4. রূপতত্ত্ব  
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৭০.
‘কানাকড়ি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয়
  4. দ্বিগু
ব্যাখ্যা

কানাকড়ি = কানা যে কড়ি । এটি একটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মধারয় সমাসঃ
নবান্ন = নব যে অন্ন।
আগ্নেয়গিরি = আগ্নেয় যে গিরি।
ক্রীতদাস = ক্রীত যে দাস।
প্রাণচঞ্চল = চঞ্চল যে প্রাণ।
হেডমাস্টার = হেড যে মাস্টার।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৭১.
'বিষবৃক্ষ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
  3. গ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। এখানে নীল রংটিকে প্রাধান্য না দিয়ে পদ্মটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

রূপক কর্মধারয়

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
বিষবৃক্ষ = বিষ রূপ বৃক্ষ;
- এটি রূপক কর্মধারয় সমাস।
বিষবৃক্ষ বলতে বিশেষ ধরণের বৃক্ষকে বোঝায় যার ফল বিষময়। এখানে, বিষবৃক্ষ দ্বারা প্রথম অংশ 'বিষ'কে বোঝানো হচ্ছে না, পরের অংশ 'বৃক্ষ'কে বোঝাচ্ছে। অর্থ্যাৎ, পরপদের প্রাধান্য পাচ্ছে।

এরূপ:
জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ;
প্রান রূপ বায়ু = প্রাণবায়ু;
কাল রূপ রাত্রি = কালরাত্রি;
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি ইত্যাদি।

উৎস: ড. হায়াৎ মামুদ রচিত ভাষা শিক্ষা বই ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৭২.
'মূর্ধন্য-ণ' ব্যবহৃত হয় কোন শব্দের বানানে?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. দেশি
  4. তদ্ভব
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।

- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ৩ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৭৩.
ভাষা পরিবারের সদস্য নয় কোনটি?
  1. সেমীয়-হেমীয়
  2. দ্রাবিড়ীয়
  3. ইন্দো-তিব্বতীয়
  4. অস্ট্রো-এশীয়
ব্যাখ্যা
• 'ইন্দো-তিব্বতীয়' ভাষা পরিবারের সদস্য নয়। 

• বাংলা ভাষা ও ভাষা পরিবার:

- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
- এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।

সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত বাংলা।

• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।
৩,৩৭৪.
নিচের কোনটি উষ্ম ধ্বনি?
  1. ক) স
  2. খ) শ
  3. গ) হ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

উষ্ম ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৩,৩৭৫.
“যথাসময়ে সবাই উপস্থিত হয়েছে।”- বাক্যে ‘যথাসময়ে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• “যথাসময়ে সবাই উপস্থিত হয়েছে”- বাক্যে ‘যথাসময়ে’ কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ।

--------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।


ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩৭৬.
'পটল' ও 'পটোল' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. অধ্যায় ও সবজিবিশেষ
  2. সবজিবিশেষ ও অধ্যায়
  3. মরা ও সবজিবিশেষ
  4. সবজিবিশেষ ও মরা
ব্যাখ্যা
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অনিষ্ট - ক্ষতি।
• অনিষ্ঠ - নিষ্ঠাহীন।
• অর্ঘ - দাম।
• অর্ঘ্য - পূজার উপকরণ।
• পটল - অধ্যায়
• পটোল - সবজিবিশেষ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩৭৭.
'অগ্র-পশ্চাৎ ক্রম অনুযায়ী' এক কথায় কী বলে?
  1. অবিবেচক
  2. অনুসারী
  3. আনুপূর্বিক
  4. আনুপাতিক
ব্যাখ্যা

• 'অগ্র-পশ্চাৎ ক্রম অনুযায়ী' এক কথায় বলে - আনুপূর্বিক।

অন্যদিকে, 
• অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে কাজ করে যে - অবিবেচক।
• অনুসরণ করে যে - অনুসারী।
• অনুপাত অনুসারে বিচারিত - আনুপাতিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৭৮.
'লাফ প্রদান করিল' - এটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. যোগ্যতার অভাব
  2. বাহুল্য দোষ
  3. দুর্বোধ্য
  4. গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা

• 'লাফ প্রদান করিল' এটি গুরুচণ্ডালী দোষে অশুদ্ধ
- এর শুদ্ধ রূপ - লম্ফ প্রদান করিল / লাফ দিল।

গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।

যেমন:
- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৭৯.
‘পটল তোলা’ -এর সমার্থক বাগধারা কোনটি?
  1. তালকানা
  2. ডুব মারা
  3. ভরাডুবি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'পটল তোলা' বাগ্‌ধারার অর্থ - মারা যাওয়া

অন্যদিকে,
- ‘তালকানা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।
- 'ডুব মারা' বাগ্‌ধারার অর্থ - অদৃশ্য হওয়া।
- 'ভরাডুবি' বাগ্‌ধারার অর্থ - সর্বনাশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৮০.
যে মেয়ের বিয়ে হয়নি-এর বাক্যসংকোচন কোনটি?
  1. মৃতবৎসা
  2. কৃতদার
  3. অনুজা
  4. অনূঢ়া
ব্যাখ্যা
যে মেয়ের বিয়ে হয়নি-এর বাক্য সংকোচন: 'অনূঢ়া'

তাছাড়া, 
' যে পুরুষ বিয়ে করেছে' এর বাক্য সংকোচন- 'কৃতদার' 
যে নারীর সন্তান বাঁচে না - মৃতবৎসা।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন
• 'যে নারীর নতুন বিয়ে হয়েছে' = নবোঢ়া।
• 'যে নারীর বিয়ে হয়েছে' = ঊঢ়া। 
•'যে নারীর স্বামী ও পুত্র মৃত' = অবীরা।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।।
৩,৩৮১.
"কথোপকথন" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কথা + পকথন
  2. কথাঃ + উপকথন
  3. কথাঃ + পকথন
  4. কথা + ঊপকথন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ/আ, উ/ঊ ধ্বনির সন্ধি -অ/আ + উ/ঊ = ও ( ো):

যেমন:
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়, 
- চল + ঊর্মি = চলোর্মি, 
- কথা + উপকথন = কথোপকথন
- মহা + উর্মি = মহোর্মি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৩৮২.
'গৌরাঙ্গ' কোন সমাস?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস: পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
- গৌর অঙ্গ যার = গৌরাঙ্গ, 
- হত হয়েছে যার শ্রী = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ, 
- পীত অম্বর যার = পীতাম্বর,
- নীল বসন যার = নীলবসনা (স্ত্রী),
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী,
- পুণ্য আত্মা যার = পুণ্যাত্মা,
- হত ভাগ্য যার = হতভাগ্য ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৮৩.
'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ- 
  1. কলাপী
  2. কেশরী
  3. ভুজগ
  4. উরগ
ব্যাখ্যা

'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কলাপী , কেকী , শিখী , শিখণ্ডী , বর্হী , বর্হিণ।

অন্যদিকে,
'সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ।

'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৮৪.
কোন শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ?
  1. কলুষ
  2. ষ্টাইল
  3. ষ্মার্ট
  4. ষ্ট্রিট
ব্যাখ্যা
• 'কলুষ' শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

'ষ' ব্যবহারের নয়িম:
- বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, বেহেস্ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন; আপস, জিনিস, মসলা, সন, সাদা, সাল (বৎসর), স্মার্ট, হিসাব; স্টল, স্টাইল, স্টিমার, স্ট্রিট, স্টুডিয়ো, স্টেশন, স্টোর। ইসলাম, তসলিম, মুসলমান, মুসলিম, সালাত, সালাম; এশা, শাওয়াল (হিজরি মাস), শাবান (হিজরি মাস)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৮৫.
বাংলা বানানে ঙ/ং এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) সন্ধিতে ( তৎসম শব্দে) প্রথম শব্দের শেষে ম্‌ থাকলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ং (অনুস্বার) হবে।
  2. খ) উপর্যুক্ত নিয়মে সন্ধিজাত না হলে ক-বর্গের পূর্বে ম ং (অনুস্বার) হবে।
  3. গ) প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দের শেষে ং (অনুস্বার) হয়।
  4. ঘ) অনুস্বারযুক্ত শব্দে বিভক্তি বা প্রত্যয় বা স্বরবর্ণ যুক্ত হলে ং এর স্থলে ঙ হয়।
ব্যাখ্যা

বাংলা বানানে ঙ/ং এর ব্যবহার:
- সন্ধিতে ( তৎসম শব্দে) প্রথম শব্দের শেষে ম্‌ থাকলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ং (অনুস্বার) হবে। যেমন: অহংকার (অহম্‌+কার), কিংকর, কিংবদন্তি, ঝংকার, ভয়ংকর ইত্যাদি। 
- উপর্যুক্ত নিয়মে সন্ধিজাত না হলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ঙ (উয়ো) হবে। যেমন: আকাঙ্খা, অঙ্কুর, অঙ্গ, ইঙ্গিত, কঙ্কাল, পঙ্কজ ইত্যাদি। 
- প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দের শেষে ং (অনুস্বার) হয়। যেমন: আড়ং, ইদানীং, এবং, ঠ্যাং, পালং ইত্যাদি। 
- অনুস্বারযুক্ত শব্দে বিভক্তি বা প্রত্যয় বা স্বরবর্ণ যুক্ত হলে ং এর স্থলে ঙ হয়। যেমন: আড়ঙে, টঙে, ঢঙে, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত অষ্টম শ্রেণি।

৩,৩৮৬.
‘Belle Letter' শব্দের পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. শোককবিতা
  2. ব্যঙ্গরচনা
  3. রম্যরচনা
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা
• ‘Belle Letter' শব্দের পারিভাষিক শব্দ - রম্যরচনা।

অন্যদিকে,
‘Elegy’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - শোককবিতা।
‘Satire’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - ব্যঙ্গরচনা।
‘Frace’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং অভিগম্য অভিধান।
৩,৩৮৭.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. আমি এখন ভীষণ ব্যাস্ত।
  2. তুমি নির্দোষী নও।
  3. তার দুরাবস্থা দেখলে দুঃখ হয়।
  4. সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করবে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করবে

অন্যান্য অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত।
- তুমি নির্দোষ নও।
- তার দুরবস্থা দেখলে দুঃখ হয়।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৮৮.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' -এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. ধ্বনিব্যঞ্জনা বোঝাতে
  2. বিশেষণ বোঝাতে
  3. পৌনঃপৌনিকতা বোঝাতে
  4. ভাবের গভীরতা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ: 
- যা দুইবার বলা হয়েছে এমন শব্দকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। 
- ‘দ্বি+উক্ত’ = দ্বিরুক্ত। 
- দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার। 
যথা - 
১। শব্দের দ্বিরুক্তি, 
২। পদের দ্বিরুক্তি এবং 
৩। অনুকার দ্বিরুক্তি। 

কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ: 
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: 
• সবাই হায় হায় করতে লাগল। 
• ছি ছি, তুমি এত খারাপ! 

- ধ্বনিব্যঞ্জনা বোঝাতে: 
• ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। 
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। 

- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: 
• বার বার সে কামান গর্জে উঠল। 

- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: 
• ভয়ে গা ছম ছম করছে। 
• ফোঁড়াটা টন টন করছে। 

- বিশেষণ বোঝাতে: 
• পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৮৯.
নিচের কোন দুটি বাংলা ভাষার লৈখিক রূপ?
  1. আঞ্চলিক রীতি ও প্রমিত রীতি
  2. উপ রীতি ও প্রমিত রীতি
  3. চলিত রীতি ও সাধু রীতি
  4. মৌলিক রীতি ও যৌগিক রীতি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষারও দুটি রূপ:
- একটি বলার ভাষা বা মৌখিক রূপ,
- অপরটি লেখার ভাষা বা লৈখিক রূপ।

• ভাষার মৌখিক রূপের আবার দুটো রীতি রয়েছে,
যথা:
- আঞ্চলিক রীতি ও
- প্রমিত রীতি।

• অপর দিকে লৈখিক রূপেরও দুটো আলাদা রীতি আছে,
যেমন:
- চলিত রীতি ও সাধু রীতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৩,৩৯০.
'উৎকর্ষতা' শব্দটি অশুদ্ধ কেন?
  1. ক) ষ-ত্ব বিধানজনিত
  2. খ) প্রত্যয়জনিত
  3. গ) উপসর্গজনিত
  4. ঘ) সন্ধিজনিত
ব্যাখ্যা
উৎকর্ষ একটি বিশেষ্য পদ। যার বিশেষণ হলাে উৎকৃষ্টতা যা দ্বারা বস্তুর, ভাবের বা রুচির উৎকর্ষ বুঝায়।
সুতারাং, উৎকর্ষতা - এখানে প্রত্যয় জনিত অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ রূপ হবে - উৎকর্ষ অথবা উৎকৃষ্টতা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৯১.
'Compensation' শব্দটির পরিভাষা হলো-
  1. ক) সমাজতন্ত্র
  2. খ) খেসারত
  3. গ) প্রতিযোগিতা
  4. ঘ) তুলনামুলক
ব্যাখ্যা
তুলনামুলক - Comparative; প্রতিযোগিতা - Competition; খেসারত - Compensation; সমাজতন্ত্র- Socialism।
৩,৩৯২.
'ছ্যাঁক-ছ্যাঁক' কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. যৌগিক দ্বিত্ব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক শব্দের দ্বিত্ব:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ ধরনের দ্বিত্বে ধ্বনিটির পুনরাবৃত্তি বা প্রলম্বন ঘটে। কখনো-বা বহুত্বের অর্থ যোগ করে। বক্তার প্রকাশ-প্রবণতা অনুসারে এক বা বহুবার পুনরাবৃত্ত হতে পারে।
যেমন-

- সাঁ করে তিরটা ছুটে গেল। সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে গেল। সাঁ সাঁ সাঁ সাঁ করে তির ছুটে যাচ্ছে।

ধ্বন্যাত্মক একক শব্দের দ্বিত্বের উদাহরণ:
ইস্-ইস্, উহ্‌-উহ্, কুট কুট, কোঁৎ কোঁৎ, কুটুস-কুটুস, খুটখুট, খুটুর খুটুর, ঘেউ ঘেউ, ছি-ছি, ছ্যা-ছ্যা, ছ্যাঁক-ছ্যাঁক, ঠুকঠুক, ঠকর ঠকর, ডুগডুগ, দুমদুম, দুপদুপ, ধূপধুপ, ধুপুর-ধুপুর, ফোঁস্-ফোঁস্, ভোঁস্-ভোঁস্, শোঁ-শোঁ, শাঁ-শাঁ, সাঁই-সাঁই, হুশ-হুশ, হুম্-হুম্, হিস্-হিস্।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৯৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. উপকারীতা
  2. উপযোগীতা
  3. কুমারীত্ব
  4. অলস্যতা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- কুমারীত্ব।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- অবিবাহিতা অবস্থা।

অন্যদিকে,
- ”উপকারীতা” শব্দের শুদ্ধরূপ= উপকারিতা।
- ”উপযোগীতা” শব্দের শুদ্ধরূপ= উপযোগিতা
- ”অলস্যতা” শব্দের শুদ্ধরূপ= অলসতা।

উল্লেখ্য,
কোন শব্দের শেষে যদি ঈ-কার থাকে, ঐ শব্দের শেষে যদি ”তা” প্রত্যয় যোগ করা হয় তাহলে ঈ-কার পরিবর্তে ই-কার হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৯৪.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. অহর্নিশ
  2. অর্ধরাত্র
  3. নির্দোষী
  4. নীরোগ
ব্যাখ্যা

• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'নির্দোষী' শব্দে। 
শুদ্ধ প্রয়োগ: নির্দোষ।

কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ = শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৯৫.
‘অপকার' শব্দের ‘অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?
  1. বিকৃত অর্থে
  2. অভাব অর্থে
  3. নিকৃষ্ট অর্থে
  4. বিপরীত অর্থে
ব্যাখ্যা
- 'অপ' একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
- অপকার শব্দে 'বিপরীত' অর্থে অপ’ এর ব্যবহার হয়েছে।
এরূপ,
- অপকার,
- অপচয়,
- অপবাদ ইত্যাদি।

নিকৃষ্ট অর্থে : অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ
স্থানান্তর অর্থে  : অপসারণ, অপহরণ, অপনােদন
বিকৃত অর্থে : অপমৃত্যু

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ ]
৩,৩৯৬.
'ঞ্চ' কোন দুটি বর্ণ নিয়ে গঠিত হয়েছে?
  1. ঞ্‌ + ছ
  2. ণ্‌ + চ
  3. ঞ্ + জ
  4. ঞ + চ্‌
ব্যাখ্যা

'ঞ্চ' যুক্তাক্ষরে ২টি বর্ণ রয়েছে।
যথা:
- ঞ্চ = ঞ্ + চ'।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ = দ্ + ধ', 
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- ষ্ণ = ষ + ণ,
- ঞ্চ = ঞ্ + চ, 
- ঞ্জ = ঞ্ + জ, 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৩,৩৯৭.
ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্তি শব্দ কোনটি?
  1. ক) আসা - যাওয়া
  2. খ) ছোট - বড়
  3. গ) তালাচাবি
  4. ঘ) চালচলন
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

তালাচাবি হচ্ছে ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৩,৩৯৮.
বাংলায় কার বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৬টি 
  2. ৮টি 
  3. ১০টি 
  4. ১১টি 
ব্যাখ্যা

• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে।
• বাংলায় কার বর্ণের সংখ্যা- ১০টি। 
যেমন: আ - কার, ই - কার, ঈ - কার, উ - কার, ঊ - কার, ঋ - কার, এ - কার, ঐ - কার, ও - কার, ঔ - কার। 

- এরমধ্যে 'অ' স্বরবর্ণের কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই । তাই 'অ' একটি নিলীন বর্ণ।

উল্লেখ্য, 
- ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মোট ফলা আছে মোট ৬টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)। 

৩,৩৯৯.
প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. সুচরিত্র
  2. বিপর্যয়
  3. অধিষ্ঠান
  4. লাজুক
ব্যাখ্যা
শব্দের পরে প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:
আই: ঢাকাই, নিমাই, জগাই, মিঠাই।
উক: ভাবুক, মিশুক, মিথ্যুক, লাজুক
ইক: সাহিত্যিক, বৈদিক, দৈনিক, মাসিক।
অন: কাঁদন, বাঁধন, ভাঙন, জ্বলন।

অন্যদিকে,
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - সুচরিত্র, বিপর্যয়, অধিষ্ঠান।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪০০.
'আজকে নগদ কালকে ধার' -এখানে 'আজকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ২য়া
  2. অধিকরণে ২য়া
  3. কর্মে ২য়া
  4. করণে২য়া
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

এরূপ-
- আজকে নগদ কালকে ধার।
[বাক্যকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আজকে'। বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে এবং এতে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। সুতরাং 'আজকে' অধিকরণ কারকে ২য়া বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।