ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তারিখবাচক শব্দগুলির মধ্যে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত (পয়লা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা) হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২৩ / ৩৫৪ · ২,২০১–২,৩০০ / ৩৫,৭১৩
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তারিখবাচক শব্দগুলির মধ্যে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত (পয়লা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা) হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
• “ত্বরা” মানে দ্রুততা এবং “বর্তমান” মানে এই মুহূর্তে।
- একত্র করলে এটি সত্বর অর্থাৎ তৎক্ষণাৎ বা অবিলম্বে বোঝায়।
-------------------
অন্যদিকে,
- পায়ে হেঁটে যে গমন করে না = পন্নগ।
- ত্বরায় গমন করে যে = তুরগ,
- তোমার মত = ত্বাদৃশ,
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কোথায় প্রকাশ:
জানা উচিত = জ্ঞেয়
ত্বরার সঙ্গে বর্তমান = সত্বর,
তরল অথচ গাঢ় = সান্দ্র,
তোপের ধ্বনি = গুড়ুম,
তস্করের কাজ =তাস্কর্য,
তার মত = তাদৃশ,
তনুর ভাব = তনিমা,
থেমে থেমে চলার যে ভঙ্গি = ঠমক।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। এ কারকে সপ্তমী অর্থ্যাৎ ‘এ’, ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
কতিপয় অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণঃ
- তিলে তৈল আছে,
- নদীতে মাছ আছে,
- বনে বাঘ আছে,
- আকাশে চাঁদ উঠেছে,
- সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
• গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ, জনগণ, কবিগণ।
• বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
• মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
• বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
• প্রমিত বানান - উষসী।
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়মাবলী অনুসারে:
ক) উষশী → ভুল। প্রমিত: উষসী।
গ) জ্যোতীশাস্ত্র → ভুল। প্রমিত: জ্যোতিঃশাস্ত্র।
খ) ভ্রান্তিবশতঃ → ভুল। প্রমিত: ভ্রান্তিবশত।
গ) মনযোগ → ভুল। প্রমিত: মনোযোগ।
তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।
• বাক্যে ব্যবহার: 'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।
• প্রশ্নে আলোচিত বাক্য- 'তুমি তাে ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’
- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• "বারীশ" শব্দটি দিয়ে 'সমুদ্র' কে নির্দেশ করা হয়। কারণ, 'সমুদ্র' এর প্রতিশব্দ - 'বারীশ'।
---------------
• 'সমুদ্র' এর কিছু প্রতিশব্দ:
- সাগর, সিন্ধু, বারিধি, জলধি, অর্ণব, পারাবার, বারীশ, উদধি, পয়োনিধি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• 'সূর্য' এর প্রতিশব্দ -
- রবি, সবিতা, আদিত্য, দিবাকর, দিনমনি, দিননাথ, দিবাবসু, অর্ক, ভানু, তপন, ভাস্কর, মার্তণ্ড, অংশু, প্রভাকর, কিরণমালী, অরুণ, মিহির, দিনপতি ইত্যাদি।
• 'চাঁদ' এর প্রতিশব্দ-
- চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু ইত্যাদি।
• 'পর্বত' শব্দের প্রতিশব্দ:
- হল: পাহাড়, অচল, গিরি, ভূভৃৎ, ভূধর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
• 'Ballot' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ভোট।
অন্যদিকে,
• 'Ballot box' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- ভোটবক্স।
• 'Ballot paper' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- ভোটপত্র।
উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
সঠিক উত্তর - গ) জানালা।
ব্যাখ্যা: "একলা শশী জাগিলে আকাশে বাতায়ন খুলে দিয়ো" - এই কাব্যিক বাক্যে 'বাতায়ন' শব্দের অর্থ জানালা।
• 'বাতায়ন' শব্দ বিশ্লেষণ:
- বাতায়ন = জানালা, গবাক্ষ
- এটি একটি তৎসম শব্দ (সংস্কৃত থেকে আগত)।
- প্রতিশব্দ: জানালা, গবাক্ষ, খিড়কি।
কাব্যিক প্রসঙ্গ:
- "শশী" = চাঁদ;
- "একলা শশী জাগিলে আকাশে" = আকাশে একা চাঁদ উঠলে।
- "বাতায়ন খুলে দিয়ো" = জানালা খুলে দাও।
কবিতার ভাব: চাঁদ উঠলে জানালা খুলে দিয়ে চাঁদের আলো ঘরে আসতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - গরল / বিষাক্ত।
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
'তিক্ত' - মধুর।
'অবিরল' - বিরল।
'কুটিল' - সরল।
'জীবিত' - মৃত।
'হর্ষ' - বিষাদ।
উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• "বুরুশ" ইংরেজি ভাষার শব্দ থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- ছবি আঁকা বা রং লাগানোর জন্য ব্যবহৃত পশুলোম বা কৃত্রিম আঁশের সরঞ্জামবিশেষ, তুলি।
আরো কিছু ইংরেজি শব্দ:
- অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, টেলিপ্রিন্টার, টেনিস, সিল্ক ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• "সমাজে বিভিন্ন ছাঁদের মানুষের প্রয়োজন আছে।"- এ বাক্যে ‘ছাঁদ’ গঠন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ।
প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ -
ছাঁদ - ধরন; গঠন; আকৃতি।
ছাদ - আচ্ছাদন।
• প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ:
- উদার = মহৎ,
- উদারা = সংগীতের নিম্ন সপ্তকের সুর,
- উধার = কর্জ,
- ক্রোড় - কোল,
- ক্রোর - কোটি,
- ক্রূর - নিষ্ঠুর।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চুরুট' — তামিল ভাষার শব্দ।
• 'চুরুট' শব্দের অর্থ:
- ধূমপানের জন্য তৈরি শুকনো তামাকপাতায় মোড়া তামাকচূর্ণ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'অভ্র' সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বিদ্যুৎ ও তাপ অস্তরক এবং প্রসাধন সামগ্রীরূপে ব্যবহৃত সোডিয়াম পটাশিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেটের মিশ্রণ জাত উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ খনিজ পদার্থ।
- মেঘ।
- আকাশ।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলদ, বারিদ, নীরদ,ঘন, অভ্র, পয়োদ, পয়োধর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
চৌ-হদ্দি শব্দটি ফারসি+আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দের মিশ্রণে সৃষ্ট বাংলা শব্দ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
- যেমন: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
• কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি-
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও।
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম।
- নজরুল পড়লাম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
• 'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নমঃ + কার। এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।
সন্ধির নিয়ম:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'ষ্ণ' যুক্তবর্ণে 'ষ্ + ণ' দুটি বর্ণ আছে।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• "খাবার পানি" - এখানে, 'খাবার' ক্রিয়াজাত বিশেষণ পদ।
বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত - হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত - আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনামজাত - কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ - বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক - হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত - কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'Book Keeper' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- হিসাব রক্ষক।
অন্যদিকে,
• 'Book binder' অর্থ- দপ্তরি।
• 'Librarian' অর্থ - গ্রন্থাগারিক।
• 'Borrower' অর্থ- খাতক, ঋণগ্রহীতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ: অর্ক, রবি, আফতাব, আদিত্য, মিহির, অরুণ।
অন্যদিকে,
• 'কিরণ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
ময়ূখ, কর, প্রভা, দীপ্তি, জ্যোতি, অংশু, রশ্মি, আলো, আলোক, বিভা প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, কৃশানু, শিখাবৎ, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, শুচি, পিঙল, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখ, অনিলসখ, জগন্নু, সর্বভুক ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
'উ' বা 'ঊ' ধ্বনির সঙ্গে অন্য স্বরধ্বনি মিললে উ বা ঊ–র জায়গায় ব–ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন বানানে আগের ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়৷
যেমন-
উ + অ = ব্ + অ = ব:
- অনু + অয় = অন্বয়
- পশু + অধম = পশ্বধম
- মনু + অন্তর = মন্বন্তর
- সু + অচ্ছ = স্বচ্ছ
- সু + অল্প = স্বল্প
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকার।
যথা:
১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: দুঃকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ। যেমন: গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ। যেমন: বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ। যেমন: রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ। যেমন: দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ। যেমন: ন কাতর = অকাতর।
৮. উপপদ তৎপুরুষ। যেমন: জলে চরে যা = জলচর।
৯. অলুক তৎপুরুষ। যেমন: গায়ে পড়া = গায়েপড়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বিশেষ নিয়মে সাধিত কিছু সন্ধি আছেঃ
সম্ + কার = সংস্কার
সম, + কৃত = সংস্কৃত
এরূপ - সংস্কৃতি, পরিষ্কৃত ইত্যাদি।
ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোন কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না, অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার মানে নিপাতনে সিদ্ধ।
গো + পদ = গোষ্পদ।
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
মনষ্ + ঈষা = মনীষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি)
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন:
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
ধাতা - ধাত্রী।
গোয়ালা - গোয়ালিনি।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - ঢাকী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ, অষ্টম শ্রেণি।
বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'পুনঃপুন' এর সঠিক উচ্চারণ 'পুনোপ্পুনো'।
অর্থ:
- বারবার,
- উপর্যুপরি;
- মুহুর্মুহু।
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।
গুণবাচক-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
• গুরুত্ব (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- মনোযোগ আকর্ষণের যোগ্যতা।
- মূল্য, তাৎপর্য; ওজন।
- মহত্ত্ব, মাহাত্ম্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ, ষ্ট ইত্যাদি।
• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ + ধ), ন্ধ (ন্ + ধ), ব্ধ (ব্ + ধ), ভ্র (ভ্ + র ), ষ্ণ (ষ্ + ণ) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - সুবুদ্ধিমান।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান।
অন্যদিকে,
- সমূল,
- অদ্যাপি এবং
- কদাপি।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমি প্রণীত নিয়ম অনুযায়ী রেফ এর পরে সাধারণত ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হয় না।
যেমন: অর্চনা, অর্জন, অর্থ।
তাই অপশন গ সঠিক উত্তর।
তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা বানান-ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম-দশম শ্রেণি।
• কর্মধারয় সমাস:
• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।
• যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: ধানের ক্ষেত = ধানখেত, ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।
• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।