ব্যাখ্যা
অর্থ :
- নৈশ যুদ্ধ (রাত্রিকালীন যুদ্ধ )।
- মহাভারতের একটি যুদ্ধবিশেষ।
রাত্রিকালীন যুদ্ধ - সৌপ্তিক
দিনের সায় (অবসান) ভাগ - সায়াহ্ন
রাত্রির তিনভাগ একত্রে - ত্রিযামা
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৫৩ / ৩৫৪ · ১৫,২০১–১৫,৩০০ / ৩৫,৭১৩
অগ্নি- অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, কৃশানু, শিখাবত, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, শুচি, পিঙল, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখ, অনিলসখ, জগন্নু ইত্যাদি।
আলো - আলোক, বিভা, কিরণ, দীপ্তি, প্রভা, জ্যোতি, ময়ূখ, রওশন, নুর, আভা৷
সোর্সঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
“গরল” এর মানে হলো- বিষাক্ত বা অমঙ্গলকর জিনিস।
- এর বিপরীত শব্দ- অমৃত'।
- “অমৃত” মানে হলো পবিত্র, অমল, বা চিরঞ্জীবনদায়ক।
---------------------
অন্যদিকে,
- অম্ল - মধুর।
-----------------
- কিছু বিপরীতার্থক শব্দযুগল:
অর্পণ - গ্রহণ,
অর্বাচীন - প্রাচীন,
অলীক - সত্য,
অসীম - সসীম,
অস্তগামী - উদীয়মান,
অহিংস - সহিংস,
আকর্ষণ - বিকর্ষণ,
আকস্মিক - চিরন্তন,
আবশ্যিক - ঐচ্ছিক,
আকুঞ্চন - প্রসারণ,
আগমন - প্রস্থান/নির্গমন,
দুর্বোধ্য - জটিল,
ঈদৃশ - তাদৃশ,
ঈমান - বেইমান,
ঈর্ষা - প্রীতি,
ঈশান - নৈঋত,
ঈষৎ - অধিক,
উক্ত - অনুক্ত,
উগ্র - সৌম্য/নম্র,
উচাটন - প্রশান্ত।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'ইনকিলাব' শব্দের অর্থ বিদ্রোহ; বিপ্লব; আন্দোলন।
- 'ইনকিলাব' বিশেষ্য।
- 'ইনকিলাব' আরবি শব্দ।
- 'ইনকিলাব' এর ইংরেজি Revolution, Uprising.
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ব্যতীত বাকি প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব;
- লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'কাগজ'- 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত শব্দ।
• 'কাগজ' শব্দের অর্থ:
- লেখা আঁকা বা ছাপার কাজে ব্যবহৃত বাঁশ তুলা প্রভৃতির মণ্ড থেকে তৈরি পাতলা পত্রবিশেষ।
• 'ফারসি' ভাষার কিছু শব্দ:
- রপ্তানি,
- খোদা,
- নামাজ,
- রোজা,
- চশমা,
- তোশক,
- দোকান,
- কারখানা,
- আমদানি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
'ইত' প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দঃ
কুসুম+ইত = কুসুমিত
তরঙ্গ+ইত = তরঙ্গিত
কণ্টক+ইত = কণ্টকিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি - হ।
• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
যেমন,
- 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।
অন্যদিকে,
'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অম্বু, জল, নীর, সলিল, অপ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'সুস্বাস্থ্য' শব্দটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ শব্দ: স্বাস্থ্য।
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
শুদ্ধ:অদ্যাপি/অদ্যও
অশুদ্ধ:অদ্যাপিও
শুদ্ধ:অশ্রু
অশুদ্ধ:অশ্রুজল
শুদ্ধ:আয়ত্ত/অধীন
অশুদ্ধ: আয়ত্তাধীন
শুদ্ধ: আরক্ত/রক্তিম
অশুদ্ধ:আরক্তিম
শুদ্ধ:কেবল/মাত্র
অশুদ্ধ:কেবলমাত্র
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ম্যালেরিয়া' ইতালিয়ান শব্দ।
• 'ম্যালেরিয়া' অর্থ:
মানবদেহে অ্যানোফিলিস মশাবাহিত জীবাণু সংক্রমণের ফলে পালা করে আসে এমন জ্বর।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে:
আগে ধ্, ভ্ কিংবা হ্ থাকলে এবং পরে ত থাকলে সন্ধিতে (ধ্ + ত) স্থলে দ্ধ, (ভ্ + ত) স্থলে ব্ধ এবং (হ্ + ত) স্থলে গ্ধ হয়।
যেমন:
- বুধ্ + ত = বুদ্ধ,
- লভ্ + ত = লব্ধ,
- বিমুহ্ + ত = বিমুগ্ধ,
- দুহ্ + ত = দুগ্ধ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- তরু + ছায়া = তরুচ্ছায়া।
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।
• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + অর্থক = সদর্থক;
- অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা ভাষাভাষীদের ভূখণ্ডে অনেক আদিকাল থেকে যারা বাস করতো, সেইসব আদিবাসীদের ভাষার যে সব শব্দ বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সে সব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। এই আদিবাসীদের মধ্যে আছে- কোল, মুণ্ডা, ভীম, ইত্যাদি। যেমন,
কুড়ি (বিশ)- কোলভাষা,
পেট (উদর)- তামিল ভাষা,
চুলা (উনুন)- মুণ্ডারী ভাষা।
এছাড়াও কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
• সংস্করণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শুদ্ধ উচ্চারণ- [শংশ্করোন্]।
অর্থ:
- সংশোধন, পরিমার্জন।
- গ্রন্থের একদফায় মুদ্রিত ও প্রকাশিত প্রস্থ।
- বিশেষ উদ্দেশ্যে মুদ্রণ ও প্রকাশন (সুলভ সংস্করণ)।
ইংরেজি পারিভাষিক- Edition.
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'যা পূর্বে ছিল এখন নেই' এর এক কথায় প্রকাশ - ভূতপূর্ব।
অন্যদিকে,
- 'যা পূর্বে দেখা যায় নি এমন' এক কথায় প্রকাশ - অদৃষ্টপূর্ব।
- 'পূর্বে ঘটেনি এমন' এক কথায় প্রকাশ - অভূতপূর্ব।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু এককথায় প্রকাশ:
'যা পূর্বে শোনা যায় নি' এক কথায় প্রকাশ - অশ্রুতপূর্ব।
'যা অধ্যয়ন করা হয়েছে' এক কথায় প্রকাশ - অধীত।
'যা বলা হয় নি' এক কথায় প্রকাশ - অনুক্ত।
'যা বলার যোগ্য নয়' এক কথায় প্রকাশ অকথ্য।
'যা কখনো নষ্ট হয় না' এক কথায় প্রকাশ - অবিনশ্বর।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'ভূত' শব্দের অর্থ - অতীত।
সুতরাং, এর বিপরীত শব্দ - ভবিষ্যৎ।
আরও কিছু বিপরীত শব্দের উদাহরণ-
- রুষ্ট - তুষ্ট;
- উদ্ধত - বিনীত;
- লিপ্ত - নির্লিপ্ত;
- লগ্ন - চ্যুত;
- মরমি - নিষ্ঠুর;
- লেশ - যথেষ্ঠ;
- হৃদ্যতা - কপটতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২০ সংস্করণ)।
- কুজ্ঝটিকা = কুৎ + ঝটিকা (ব্যঞ্জনসন্ধি)
- হিতোপদেশ = হিত + উপদেশ (স্বরসন্ধি)
- তন্বী = তনু + ঈ (স্বরসন্ধি)
- নিরাকার = নিঃ + আকার (বিসর্গ সন্ধি)
উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়-উক (ঊক):
- স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নির্দেশক বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কম্ + উক = কামুক;
- √ভূ + উক = ভাবুক (ভূ > ভৌ + উক = ভাবুক, বৃদ্ধি উ > ঔ)
- √জাগৃ + ঊক = জাগরূক ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রধান্য থাকে এবং তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয় (বিপরীতার্থক শব্দযোগে), মা ও বাপ = মা-বাপ (মিলনার্থক শব্দযোগে), দা-কুমড়া (বিরোধার্থক শব্দযোগে) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী৷
• মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল সাধারণত ছন্দের শুরুতে থাকে।
• মুক্তাক্ষর:
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে।
- একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল হলো ছন্দের সেই অংশ যা বাক্যের মূল ছন্দের বাইরে থাকে।
- এটি সাধারণত বাক্যের শুরুতে অবস্থান করে।
- মুক্তদল ছন্দের মূল অংশের (বদ্ধাক্ষরের) আগে আসে।
- মুক্তাক্ষরের মাত্রা সাধারণত এক মাত্রা।
- মুক্তাক্ষর হলো ছন্দের সূচনাকারী একমাত্রা।
- এটি ছন্দের বাকি অংশের সঙ্গে মিলিয়ে বাক্যের গতি ও ছন্দ নির্ধারণে সহায়তা করে।
- যখন মূল বদ্ধাক্ষর (ছন্দের প্রধান অংশ) শুরু হয়, তখন মুক্তাক্ষরের উপস্থিতি বাকি ছন্দের জন্য প্রারম্ভিক তাল ও সমন্বয় তৈরি করে।
- ফলে পুরো বাক্যের ছন্দ এবং গতি সুষম ও স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়।
- মুক্তাক্ষর অংশের ব্যবহার- ছন্দকে স্বতন্ত্র ও প্রাথমিক রূপ প্রদান করে, যাতে মূল ছন্দের প্রবাহ সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ, “কবির কণ্ঠে হে বন্ধু বাজে সুর”–এখানে "হে বন্ধু" অংশটি শুরুতে মুক্তদল হিসেবে বসে, যা বাক্যের বাকি ছন্দকে সুন্দরভাবে সূচনা দেয়।
উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
• ক্ত-প্রত্যয়:
- ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।
ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র/সহায়ক উপকরণকে করণ কারক বলা হয়।
এখানে ‘ইট–পাথর’ দিয়ে দালান তৈরি হয় বলে তা করণ কারক।
এর সাথে ‘এর’ বিভক্তি থাকায় এটি করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
জাতিতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর প্রতিটির কোনো না কোনো শাখার আগমন ঘটেছে বাংলায়। নরগোষ্ঠীগুলি হলো নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়।
- মনে করা হয় যে, বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি।
[সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্], শৃগাল [সৃগাল্]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ] উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
• 'যা সহজে পার হওয়া যায় না - দুস্তর।
• কিছু গুরুত্বপুর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- যা কষ্টে নিবারণ করা যায় - দুর্নিবার।
- যা দমন করা কষ্টকর - দুর্দমনীয়।
- যা সহজে পাওয়া যায় না - দুষ্প্রাপ্য।
- যা সহ্য করা যায় না - দুর্বিষহ।
- যা সহজে দমন কর যায় না - দুর্দম।
- যাহাতে সহজে গমন করা যায় না - দুর্গম।
- যা মুছে ফেলা যায় না - দুর্মোচ্য।
- যা কষ্টে জয় করা যায় - দুর্জয়।
- যা সহজে মরে না - দুর্মর।
- যা কষ্টে অর্জন করা যায় - কষ্টার্জিত।
- যা কষ্টে লাভ করা যায় - দুর্লভ।
- যা সহজে অতিক্রম করা যায় না - দুরতিক্রম্য।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ‘অগ্নি’ এর প্রতিশব্দ:
- অনল,
- পাবক,
- আগুন,
- বিশ্বপা,
- সর্বভুক,
- পাবক,
- কৃশানু,
- জগন্নু প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
• অন্ধকার এর প্রতিশব্দ: আঁধার, আঁধারি, তিমির, তমিস্র, তম, শর্বর, নভাক প্রভৃতি।
• আলো এর সমার্থক শব্দ - প্রভা, জ্যোতি, আভা, ভাতি, অংশু,জেল্লা, জৌলুস।
• ‘সূর্য’ শব্দের প্রতিশব্দ: রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান- বিন্যস্ত।
-------------------------
• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:
স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।
উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।
• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।
উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বিরামচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট ও ঠিকভাবে প্রকাশ করতে বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- মুখের কথা লিখিত রূপে উপস্থাপন করার সময় কম-বেশি থামা বা বিরতি বোঝাতে এবং বক্তব্যকে পরিষ্কার করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
- বিরামচিহ্নকে কখনও যতিচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
- বাক্যের মধ্যে অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিরামচিহ্ন দুই ভাগে ভাগ করা যায়—
১. প্রান্তিক বিরামচিহ্ন;
২. বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।
• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- এ ধরনের চিহ্ন সাধারণত বাক্যের শেষে বসে।
- যেমন—দাঁড়ি (।), প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?), বিস্ময়বোধক চিহ্ন (!)।
• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের মাঝে বা বাক্যের অন্যান্য স্থানে বসে।
- যেমন—কমা (,), কোলন (:), সেমিকোলন (;), ড্যাশ (—), হাইফেন (-) ইত্যাদি।
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের গঠন ও অর্থের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
• কিছু বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হচ্ছেঃ
- কাঁদন,
- দোলন,
- ভাসানো,
- ডুবন্ত,
- উড়ন্ত,
- মোড়ক,
- ঝলক,
- শুনানি,
- ডুবুরী,
- ঘাটতি,
- কান্না,
- রান্না ইত্যাদি।
• অপরদিকে, শ্রবণ হচ্ছে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
যেমন- √শ্রু + অনট্ = শ্রবণ।
• তাড়নজাত ধ্বনি - ড়।
• জিভের ডগার উল্টো পিঠ দিয়ে দাঁতের গোড়ায় দ্রুত আঘাত করে যে ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়, তাদের তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি বা তাড়নজাত ধ্বনি বলা হয়। ড়, ঢ়- দুটি তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি বা তাড়নজাত ধ্বনি।
- 'র' কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনি।
- 'স' উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি।
- 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
'করণ' হলো সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ৷ এর প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো √কৃ + অন = করণ৷
অন–প্রত্যয় যোগে আরো কিছু সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ হলো-
- √নী + অন = নয়ন
- √স্থা + অন = স্থান
- √শ্রু + অন = শ্রবণ
- √দৃশ্ + অন = দর্শন
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য - বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ। উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
সরল বাক্য - দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'ত্বরান্বিত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ ত্বরা + অন্বিত।
সূত্র:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির যোগে আ-ধ্বনি হয়।
- বানানে তা আ-কার রূপে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
- নব + অন্ন = নবান্ন,
- স্ব+ অধীন = স্বাধীন,
- সর্বস্ব + অন্ত = সর্বস্বান্ত,
- সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত,
- সিংহ + আসন = সিংহাসন,
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ,
- হত + আশ = হতাশ,
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ,
- আশা + অতীত = আশাতীত,
- যথা + অযথ = যথাযথ,
- ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত।
- মহা + আশয় = মহাশয়,
- কারা + আগার = কারাগার,
- ব্যথা + আতুর = ব্যথাতুর।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ হচ্ছে 'এতক্ষণ আমি বই পড়েছি।'
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
অন্যদিকে,
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে =সাধারণ বর্তমান।
- আমাদের কাজের পরিকল্পনা চলছে। = ঘটমান বর্তমান।
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো = অনুজ্ঞা বর্তমান।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি।
- এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত।
- বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস।
যেমন- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল।
এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = বৈদগ্ধ্য।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- রসিকতা, রসবোধ, দক্ষতা।
অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = কর্ণেল;
• শুদ্ধ = কর্নেল;
• অশুদ্ধ = স্বয়ম্বর;
• শুদ্ধ = স্বয়ংবর;
• অশুদ্ধ = বৈচিত্র;
• শুদ্ধ = বৈচিত্র্য;
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'কৃশ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - স্থূল।
অন্যদিকে,
- 'সুন্দর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অসুন্দর।
- 'চঞ্চল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - স্থির।
- ‘ত্বরা’ শব্দের বিপরীতার্থ শব্দ - বিলম্ব।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পরে আ-প্রত্যয়যোগে গঠিত ধাতুকে নাম ধাতু বলে।
যেমন:
→ ঘুম্ + আ = ঘুমা: বাবা ঘুমাচ্ছেন। (এখানে, ঘুম্ - নাম ধাতু)
→ ধমক্ + আ = ধমকা: আমাকে যতই ধমকাও, আমি এ কাজ করব না।
→ হাত্ + আ = হাতা: অন্যের পকেট হাতানো আমার স্বভাব নয়।
প্রযোজক ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) আ-প্রত্যয়যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু বলে। যেমন:
→ পড়ু + আ = পড়া: শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন।
→ কর্ + আ = করা: সে নিজে করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।
→ খেল্ + আ = খেলা: 'হা ডু ডু' আমাদের জাতীয় খেলা।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্ত শব্দ টাকা-পয়সা।
অন্যদিকে, ধনী-গরিব, লেন-দেন, দেনা-পাওনা বিপরিতার্থক দ্বিরুক্ত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
যেসব ব্যাঞ্জনধ্বনির উচ্চারণে জিভ মুখের ভেতরে কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দন্ত, ওষ্ঠ প্রভৃতি কোনো না কোনো স্থানে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়, তাদেরকে স্পর্শব্যঞ্জন বা স্পৃষ্ট ব্যাঞ্জন ধ্বনি বলে৷
ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি বর্ণকে স্পর্শব্যঞ্জন বা স্পৃষ্ট ব্যাঞ্জন ধ্বনি বলে৷
যথা- ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম।
য, র, ল, ব হলো অন্তঃস্থ ধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
মাতৃভাষা:
- মানুষ জন্মের পর সাধারণত প্রথমে তার মায়ের কাছে প্রতিপালিত হয়, তারই কথা শেখে। তাই জন্মলগ্ন থেকে স্বাভাবিকভাবে মানুষ নিজের মায়ের কাছে যে-ভাষাটি শিক্ষা পায়, তাকেই তার 'মাতৃভাষা' বলে। এটি একটি ধারণার প্রকাশমাত্র। তাই যে শিশুর মা তার জন্ম-মুহূর্তেই মৃত্যুবরণ করে, সেই শিশু যখন বড় হয়, সে পিতা বা অন্য কোনো অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে বড় হলেও তার মুখের সাধারণ ভাষাকে 'মাতৃভাষা'ই বলে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জন্মের পর মায়ের কোলে এবং মায়ের বাংলা বোলে বড় হয়। বাঙালি মায়ের এই বুলি বাংলা। তাই বাঙালি জাতির মাতৃভাষা বাংলা।
অপশন বিশ্লেষণ:
• মানুষ জন্মের পর সাধারণত প্রথমে তার মায়ের কাছে প্রতিপালিত হয়, তারই কথা শেখে। তাই জন্মলগ্ন থেকে স্বাভাবিকভাবে মানুষ নিজের মায়ের কাছে যে-ভাষাটি শিক্ষা পায়, তাকেই তার 'মাতৃভাষা' বলে। শিশু জন্মের পর পরিবেশ থেকে যে প্রথম ভাষা রপ্ত করে, তাকে মাতৃভাষা (Mother tongue) বা প্রথম ভাষা (First language) বলা হয়।
• "আঞ্চলিক ভাষা" বলতে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার ভাষা বোঝায়, যা শিশুর প্রথম ভাষা হতে পারে আবার নাও হতে পারে।
• যেহেতু মাতৃভাষা এবং প্রথম ভাষা প্রায় সমার্থক, এবং প্রশ্নে একটি সঠিক উত্তর চাইলে সাধারণত "মাতৃভাষা" বা "প্রথম ভাষা" গ্রহণযোগ্য।
• তবে এখানে অপশন খ) উপরের সবগুলো সঠিক দেওয়া আছে। তাই, উত্তর হিসেবে- অপশন খ) নেওয়া হলো। কিন্তু লক্ষ্য করুন, "প্রথম ভাষা"ও সঠিক, তবে বাংলা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে "মাতৃভাষা"ই প্রমিত।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; ষষ্ট শ্রেণি।