বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১১৭ / ৩৫৪ · ১১,৬০১১১,৭০০ / ৩৫,৭১৩

১১,৬০১.
'দারক' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) দারিত
  2. খ) দুহিতা
  3. গ) দাহিত
  4. ঘ) দায়িক
ব্যাখ্যা
'দারক' শব্দের বিপরীত শব্দ = দুহিতা

কতিপয় বিপরীতার্থক শব্দ- 
ঝটিতি - বিলম্ব
ডগমগ - মনমরা
দুষ্কৃতি - সুকৃতি
দারক - দুহিতা 
তাপ - শৈত্য 
ঝুনা - কাঁচা/কচি
দস্যূ - ঋষি

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১১,৬০২.
'সৃষ্টি' এর বিপরীত শব্দ-
  1. ব্যষ্টি
  2. নিরত
  3. সংশয়
  4. প্রলয়
ব্যাখ্যা
• 'সৃষ্টি' এর বিপরীত শব্দ- 'প্রলয়'। 

অন্যদিকে, 
- 'ব্যষ্টি' শব্দের বিপরীত শব্দ সমষ্টি।
- প্রত্যয় এর বিপরীত শব্দ- 'সংশয়'। 
- 'বিরত' এর বিপরীত শব্দ- 'নিরত'।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১১,৬০৩.
‘শুদ্ধোদন’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শুদ্ধ + অদন
  2. শুদ্ধ + উদন
  3. শুদ্ধ + ঔদন
  4. শুদ্ধ + ওদন
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬০৪.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম কী?
  1. History of Bengali Language and Literature
  2. Origin and Development of Bengali Language
  3. A Grammar of the Bengali Language
  4. A Grammar of the Bengal Language
ব্যাখ্যা
• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০):
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা  ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও  বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও  অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত  A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে হ্যালহেড এটি রচনা করেন।
- ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে  খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল।

কয়েকটি ব্যাকরণ গ্রন্থ:
• Manuel da Assumpção - 'Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes' (১৭৪৩)
• ব্রাসি হ্যালহেড - ' A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮)।
• উইলিয়াম কেরি - 'A Grammar of the Bengali Language' (১৮০১)
• দীনেশচন্দ্র সেন - History of Bengali Language and Literature 
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় - Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৬০৫.
“শ্রদ্ধা” শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) শ্রৎ + √ধা + অ + আ
  2. খ) শ্রুৎ + √ধা + আ
  3. গ) শ্র + √ধা + আ
  4. ঘ) শ্রু + √ধা + আ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ঃ
অ(অঙ্‌) + স্ত্রী প্রত্যয় যোগ -
শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা
√ব্যথ্‌ + অ + আ = ব্যথা
√কৃপ্‌ + অ + আ = কৃপা
সম্‌ + √জ্ঞা + অ + আ = সংজ্ঞা

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

বাংলা একাডেমী অভিধান থেকেঃ

শ্রদ্ধা (বিশেষ্য):
১. বিশেষ সম্মান; ভক্তি।
২. আস্থা; বিশ্বাস; নির্ভরতা।
৩. নিষ্ঠা; সশ্রদ্ধ ভক্তি।
৪. স্পৃহা; রুচি; আগ্রহ (খেতে শ্রদ্ধা না হওয়া)।
(তৎসম বা সংস্কৃত) শ্রৎ+√ধা+অ(অচ্‌)+আ(টাপ্‌)

১১,৬০৬.
'কুটুম্ব ˃ কুটুম' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রতি
  2. স্বরলোপ
  3. বিষমীভবন
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে,
- কুটুম্ব ˃ কুটুম,
- জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৬০৭.
'ইতিকথা' বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. ক) ইতিহাস
  2. খ) উপকথা
  3. গ) কাহিনী
  4. ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
ইতিকথা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ইতি+কথা
অর্থ: 
- পূর্বকথা
- কল্পকাহিনি
- (বাংলায়) ইতিহাস

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১১,৬০৮.
‘ধৃষ্ট’ এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. মক্ত
  2. নিরীহ
  3. দুষ্ট
  4. বিনয়ী
ব্যাখ্যা
• 'ধৃষ্ট' এর সঠিক বিপরীত শব্দ - বিনয়ী, নম্র।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ- বিনীত। 
- 'সৌম্য' এর বিপরীত শব্দ- করাল।
- 'ভীরু' এর বিপরীত শব্দ- নির্ভীক।
- 'মহাজান' এর বিপরীত শব্দ- খাতক।
- 'ভাটি' এর বিপরীত শব্দ- উজান।
- 'বিষ' এর বিপরীত শব্দ- অমৃত।
- 'সিক্ত' এর বিপরীত শব্দ- শুষ্ক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।
১১,৬০৯.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  2. অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
  3. অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

• বাক্যে বহুবচন ব্যবহারের নিয়ম:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৬১০.
‘বিজ্ঞান’ শব্দের বি উপসর্গ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ
  2. খ) অভাব
  3. গ) সাধারণ
  4. ঘ) গতি
ব্যাখ্যা
খেলার মাঠ অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

অলুক তৎপুরুষ:
অলুক শব্দের অর্থ অলোপ বা লোপ না পাওয়া। পুর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
খেলার মাঠ = খেলারমাঠ।

গণপতি - পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
চিড়িয়াখানা - চতুর্থী তৎপুরুষ।
ধীরগতি - উপপদ তৎপুরুষ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১১,৬১১.
Cashier শব্দের পারিভাষিক অর্থ কী?
  1. ক) কোষাধ্যক্ষ
  2. খ) হিসাব রক্ষক
  3. গ) খাজাঞ্চী
  4. ঘ) নগদ সরকার
ব্যাখ্যা
Cashier শব্দের পারিভাষিক অর্থ = খাজাঞ্চী। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান
১১,৬১২.
'সমভিব্যাহারে' শব্দটির অর্থ কী?
  1. একযোগে
  2. সমভাবনায়
  3. সমান ব্যবহারে
  4. একাগ্রতায়
ব্যাখ্যা

• 'সমভিব্যাহারে' (ক্রিয়াবিশেষণ পদ),
শব্দটির অর্থ: 
 - সঙ্গে,
- সংঘবদ্ধ হয়ে।

উল্লেখ্য,
• ‘একযোগে’ শব্দের অর্থ;
- একত্রে,
- একসঙ্গে,
- সম্মিলিতভাবে,
- যুগপৎ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,৬১৩.
নিচের কোনটি মূর্ধন্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।

যেমন:
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৬১৪.
নিচের কোনটি সংস্কৃত শব্দ?
  1. আদেশ
  2. মাঠ
  3. খড়
  4. সবজি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'আদেশ' সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।

অন্যদিকে,
- 'মাঠ' ও 'খড়' দেশি শব্দ।
- 'সবজি' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

কিছু সংস্কৃত শব্দ:
সূর্য, চন্দ্র, জল, গৃহ, মৃত্তিকা, রাম, রাবণ, পুত্র, মাতা, পিতা, জননী, দেব, দেবী, দর্শন, বয়ন, গমন, রাত্রি, দিবা, সৌর্য, বীর্য, কৃতিত্ব, আদিত্য, নারায়ণ, বৃক্ষ, পশু, লতা, নর, নারী, বেদ, বেদান্ত, উপনিষদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬১৫.
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে কী বলে?
  1. ক) ধাতু
  2. খ) প্রাতিপাদিক
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক: বিভক্তিহীন নামশব্দকে প্রাতিপদিক বলে। নামপদের যেই অংশকে আর বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, তাই প্রাতিপদিক।
যেমন: হাত, বই, কলম ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• ধাতু: ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: 'করে' একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে।কর্‌ + এ।কর্‌ হলো ধাতু এবং এ বিভক্তি।

• উপসর্গ: যেসব অব্যয় বা শব্দাংশ অন্য শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে।
যেমন: ‘কাজ’ একটি শব্দ এর আগে ‘অ’ অব্যায়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’। এখানে ‘অ’ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়: শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন: বাঘ + আ = বাঘা; দিন + ইক = দৈনিক; দুল্ + অনা = দোলনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৬১৬.
কারবর্ণ নয় কোনটি?
  1. ঋ-কার
  2. ত্ত-কার
  3. ঐ-কার
  4. ঊ -কার
ব্যাখ্যা
• কারবর্ণ নয়- ত্ত।
- ত্ত এটি যুক্তবর্ণ: ত্‌ + ত  = ত্ত। 

• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপ বা কার:

অ-ভিন্ন স্বরবর্ণগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত হলে পূর্ণরূপের বদলে সংক্ষিপ্ত রূপ পরিগ্রহ করে। স্বরবর্ণের এ ধরনের সংক্ষিপ্তরূপকে 'কারবর্ণ' বলে।

স্বরবর্ণের 'কার'-চিহ্ন ১০টি। যথা:
• আ-কার (া): মা, বাবা, ঢাকা।
• ঋ-কার (ৃ): কৃষক, তৃণ, পৃথিবী।
• ই-কার (ি) কিনি, চিনি, মিনি।
• এ-কার (ে): চেয়ার, টেবিল, মেয়ে।
• ঈ-কার (ী): শশী, সীমানা, রীতি।
• ঐ-কার (ৈ): তৈরি, বৈরী, হৈচৈ।
• উ-কার(ু): কুকুর, পুকুর, দুপুর।
• ও-কার (াে): খোকা, পোকা, বোকা।
• ঊ -কার (ূ): ভূত, মূল্য, সূচি।
• ঔ-কার (ৗে): নৌকা, মৌসুমি, পৌষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৬১৭.
নিচের কোনটিতে সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম প্রযোজ্য নয়?
  1. দিগন্ত
  2. অজন্ত
  3. অত্যন্ত
  4. ণিজন্ত
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের ই-ধ্বনি বা ঈ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথমে অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে, ই/ঈ-র জায়গায় য-ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- বি + অবস্থা = ব্যবস্থা,
- অধি + অক্ষ = অধ্যক্ষ
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত ইত্যাদি।

-----------------------
• সংস্কৃত বাঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে বর্গের |প্রথম ব্যঞ্জন (-ক/চ/ট/ত্[ৎ]/প ) থাকলে, এবং পরপদের স্বরধ্বনি হলে প্রথমটি ব্যঞ্জনধ্বনিটি ওই বর্গের তৃতীয়
ধ্বনিতে অর্থাৎ ক স্থানে গ্‌, চ্ স্থানে জ্, ট্‌ স্থানে ড্ [ড়্‌] , ত্ স্থানে দ্‌, প্‌ স্থানে ব্‌ হয়। রপদের স্বরধ্বনি বর্গের তৃতীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাক্ + আড়ম্বর =  বাগাড়ম্বর, 
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত,
- প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত,
- ণিচ্‌ + অন্ত = ণিজন্ত,
- অচ্ + অন্ত = অজন্ত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ। 

১১,৬১৮.
‘ষড়যন্ত্র’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ষর্ + যন্ত্র
  2. ষড়্ + যন্ত্র
  3. ষরট্ + যন্ত্র
  4. ষট্ + যন্ত্র
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোন বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ) ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র), কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে, প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যেমন:
- বাক্‌ + দান = বাগদান,
- দিক্‌ + বিজয় = দিগ্বিজয়,
- ষট্‌ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৬১৯.
’এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’ - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  2. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  3. নিত্য ভবিষ্যৎ
  4. ঘটমান ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

’এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’-  বাক্যটি ঘটমান ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ।

• ভবিষ্যৎ কাল
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।

⇒ ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১১,৬২০.
'Draughtsman' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. দানগ্রাহক
  2. দাতা
  3. কালিওয়ালা
  4. নকশাকার
ব্যাখ্যা
• 'Draughtsman' এর বাংলা পরিভাষা — নকশাকার।

অন্যদিকে, 
• Donee - দানগ্রাহক,
• Donor - দাতা,
• Inkman - কালিওয়ালা।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১১,৬২১.
‘প্রতিধ্বনি’ শব্দে ‘প্রতি’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সদৃশ
  2. ব্যাপ্তি
  3. বিপরীত
  4. গতি
ব্যাখ্যা
• সদৃশ অর্থে ‘প্রতি’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- প্রতিধ্বনি।

---------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৬২২.
‘যুদ্ধে স্থির থাকেন যিনি’ এক কথায় বলে-
  1. ধুরন্ধর
  2. অরিন্দম
  3. যুধিষ্ঠির
  4. পরঞ্জয়
ব্যাখ্যা
• ‘যুদ্ধে স্থির থাকেন যিনি’ এক কথায় বলে - যুধিষ্ঠির।

 অন্যদিকে,
• ‘অরিকে দমন করেন যিনি’ এক কথায় বলে - অরিন্দম।
• ‘ধুর (তীক্ষ্ণ বুদ্ধি) ধারণ করে যে’ এক কথায় বলে - ধুরন্ধর।
• ‘শত্রুকে জয় করেন যিনি’ এক কথায় বলে - পরঞ্জয় বা শত্রুজিৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬২৩.
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক। 
  2. তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
  3. গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
  4. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৬২৪.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. গাঙ
  2. বাঙালি
  3. রাং
  4. রঙের
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - গাঙ
- এর শুদ্ধরূপ: গাং।

• বানানের নিয়ম:
- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন :
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের

- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬২৫.
'বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।' - বাক্যেটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2.  কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১,৬২৬.
তৎসম শব্দের উদাহরণ-
  1. ক) পৃথিবী
  2. খ) ডাব
  3. গ) ঘোড়া
  4. ঘ) নাক
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বির্বতিত যে সব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরুপ সেসব শব্দকে তৎসম শব্দ বলে।
যেমন: পৃথিবী, আকাশ, বৃক্ষ, গ্রহ।

অন্যদিকে---
ডাব, ছুলা, কুলা, টোপর, ঢেকিঁ প্রভৃতি দেশি শব্দ।
ঘোড়া, সাপ, হাত, পা, নাক, কান প্রভৃতি তদ্ভব শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৬২৭.
‘নরপশু’ এর ব্যাসবাক্য কি হবে?
  1. ক) নর ও পশু
  2. খ) যে নর সেই পশু
  3. গ) নরাকারের পশু যে
  4. ঘ) পশু যে নর
ব্যাখ্যা
‘নরপশু’ এর ব্যাসবাক্য নরাকারের পশু যে। এটি নিপাতনে সিদ্ধ (কোন নিয়মের অধীন নয়) বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১১,৬২৮.
‘যা বলা হচ্ছে’ এক কথায় বলে?
  1. বক্ষ্যমাণ
  2. অনুক্ত
  3. বক্তব্য
  4. উক্ত
ব্যাখ্যা
• ‘যা বলা হচ্ছে’ এক কথায় বলে - বক্ষ্যমাণ।

এমন আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ হলো:
- ‘যা বলা হয়েছে’ এক কথায় বলে - উক্ত।
- ‘যা বলা হবে’ এক কথায় বলে - বক্তব্য।
- 'যা বলা হয় নি' এর এক কথায় প্রকাশ - অনুক্ত।
- ‘যা প্রকাশ করা হয়নি’ এক কথায় বলে - অব্যক্ত।
- ‘যা পূর্বে শোনা যায় নি’ এক কথায় বলে - অশ্রুতপূর্ব।
- 'যা বলার যোগ্য নয়' এক কথায় বলে - অকথ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৬২৯.
‘ঠক বাছতে গাঁ উজাড়’ প্রবাদটির অর্থ কী?
  1. ভালো মানুষের অভাব
  2. চোর ধরতে গিয়ে গ্রামে আগুন দেওয়া
  3. টাকায় সব হয়
  4. অভাবে স্বভাব নষ্ট
ব্যাখ্যা
'ঠক বাছতে গাঁ উজাড়' - প্রবাদটির অর্থ হলো- 'ভালো মানুষের অভাব'।  

• আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রবাদ- প্রবচন: 
- 'ধর্মের কল বাতাসে নাড়ে’ প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = গোপন অন্যায়ের আকস্মিক প্রকাশ। 
- 'লঘু পাপে গুরু দণ্ড' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = অপরাধের তুলনায় অধিক সাজা।  
- 'গরিবের ঘোড়া রোগ' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। 
১১,৬৩০.
‘উপোসি ছারপোকা’ বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. গুরুত্বহীন লোক
  2. উথালপাথাল
  3. অভাবগ্রস্ত লোক
  4. অপব্যয়ী
ব্যাখ্যা
• ‘উপোসি ছারপোকা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অভাবগ্রস্ত লোক

অন্যদিকে,
- ‘উজলপাঁজল’ বাগ্‌ধারার অর্থ - উথালপাথাল।
- ‘উলুখাগড়া’ বাগ্‌ধারার অর্থ - গুরুত্বহীন লোক।
- 'উড়নপেকে' বাগ্‌ধারার অর্থ - অপব্যয়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৩১.
নিচের কোনটি ফরাসি শব্দ?
  1. মুক্তা
  2. সপ্তাহ
  3. কুপন
  4. গুদাম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- 'কুপন'- ফরাসি শব্দ।
 
• 'কুপন' শব্দের অর্থ:
- রসিদের যে অংশের বিনিময়ে কিছু দাবি করা যায়।
- রসিদ।

অন্যদিকে, 
মুক্তা, সপ্তাহ- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
গুদাম - পর্তুগিজ শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬৩২.
'সন্ধি' এর বিপরীত শব্দ - 
  1. বিগ্রহ
  2. কপটতা
  3. বিবাদ
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

• 'সন্ধি' এর বিপরীত শব্দ - বিবাদ, বিগ্রহ।

অন্যদিকে,
- 'হৃদ্যতা' এর বিপরীত শব্দ- 'কপটতা',

আরো কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'হাজির' এর বিপরীত শব্দ- 'গরহাজির',
- 'সরস' এর বিপরীত শব্দ- 'নীরস',
- 'মুক্ত' এর বিপরীত শব্দ- 'আবদ্ধ',
- 'মুখ্য' এর বিপরীত শব্দ- 'গৌণ'।

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৬৩৩.
'পোয়া বারো' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. অত্যধিক সুবিধে
  2. প্রতিবন্ধক
  3. অহঙ্কার
  4. ভণ্ড
ব্যাখ্যা
• 'পোয়া বারো' বাগ্‌ধারার অর্থ - অত্যধিক সুবিধে

অন্যদিকে,
পায়া ভারী - অহঙ্কার।
পথের কাঁটা - প্রতিবন্ধক।
বকধার্মিক - ভণ্ড।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৬৩৪.
'বল্লভ' কোন শব্দের প্রতিশব্দ?
  1. পুরুষ
  2. স্বামী
  3. শরীর
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
• 'বল্লভ' শব্দের প্রতিশব্দ - স্বামী।
 
'স্বামী' শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- পতি, কান্ত, নাথ, দয়িত।
 
অন্যদিকে,
'শরীর' শব্দের প্রতিশব্দ:
- দেহ, কলেবর, কায়া, তনু।

'মানুষ' শব্দের প্রতিশব্দ:
- মানব, মনুষ্য, নৃ।

'পুরুষ' শব্দের প্রতিশব্দ:
- নর, আত্মা, পমেশ্বর।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬৩৫.
‘অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা’ অর্থে কোন প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়?
  1. এক কাঠি সরেস
  2. গরিবের ঘোড়া রোগ
  3. এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো
  4. ঠেলা দিয়ে গঙ্গায় ফেলা
ব্যাখ্যা
• 'গরিবের ঘোড়া রোগ' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা।

অন্যদিকে,
• 'এক কাঠি সরেস' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - তুলনায় বেশি খারাপ।
• 'এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো’ প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - এক মতের শরিক হওয়া।
• 'ঠেলা দিয়ে গঙ্গায় ফেলা' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - অবহেলা করা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৬৩৬.
বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

• অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই], [উ], [এ] এবং [ও]। স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন-
- 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫)।

১১,৬৩৭.
ইচ্ছাসূচক বাক্য কোনটি?
  1. ক) তােমার মঙ্গল হােক।
  2. খ) হুররে, আমরা জিতেছি!
  3. গ) আমি প্রত্যদিন সকালে হাঁটি।
  4. ঘ) এখান থেকে বিদায় হও।
ব্যাখ্যা
ইচ্ছাসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যথা
- তােমার মঙ্গল হােক।
- পরীক্ষায় সফল হও।

অন্যদিকে, 
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য - এখান থেকে বিদায় হও।
অস্তিবাচক বাক্য - আমি প্রত্যদিন সকালে হাঁটি।
বিস্ময়সূচক বাক্য - হুররে, আমরা জিতেছি!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৬৩৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অহঃরহ
  2. অংশিদার
  3. সম্ভব্য
  4. সম্ভাবনীয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: সম্ভাবনীয় (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- ঘটতে পারে এমন,
- করা সম্ভব এমন,
- সম্ভাবনাযুক্ত।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• অহরহ (ক্রিয়া বিশেষণ),
অর্থ:
- সর্বদা, 
- নিত্য,
- প্রত্যহ,
- প্রতিনিয়ত।

• অংশীদার (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- সম্পতি বা ব্যবসায়ে যার অংশ আছে।

• সম্ভাব্য (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ঘটা সম্ভব এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬৩৯.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কাষ্ঠ
  2. পাষাণ
  3. ওষ্ঠ
  4. উৎকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১,৬৪০.
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি' এটি একটি _______ বাক্য।
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’- এটি একটি জটিল বাক্য।
=================
সাপেক্ষ সর্বনামের বা সাপেক্ষ যোজক ছাড়াও নিম্নের উপায়ে জটিল বাক্য হতে পারে। এই জায়গা অনেক অনেক এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই অবশ্যই ভালো করে বুঝে নিতে হবে।  

শর্টকাট : সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ + সরল বাক্য = জটিল বাক্য

'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। - এই উদাহরণটি অনেক বইয়ে সরল বাক্য বা যৌগিক বাক্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। চলুন সরল বাক্যের শর্তগুলো মনে করি।

সরল বাক্যে অবশ্যই একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। আর যৌগিক বাক্যে অবশ্যই অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে শুধু কমা থাকবে এবং বাক্যগুলো একটা আরেকটার ওপর নির্ভর করবে না, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হবে। 

এবার ওপরের বাক্যটিকে ভেঙে লিখি। 
মা ছিল না - বলে - কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।

‘মা ছিল না।’ এটি একটি সরল বাক্য এবং এখানে সমাপিকা ক্রিয়া (ছিল) আছে। 
‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।’ এটিও একটি সরল বাক্য এবং এখানেও সমাপিকা ক্রিয়া (দেয়নি) আছে।   
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া আছে এবং একাধিক সরল বাক্য পাওয়া গেছে। সুতরাং এটি সরল বাক্য নয়। 

এবার দেখি এটি যৌগিক বাক্য কি না। যৌগিক বাক্যের মূল কথা হলো দুটি সরল বা জটিল বাক্য বাক্য অব্যয় দ্বারা সংযোগ থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে কমা থাকবে। যোৗগিক বাক্যের সরল বাক্যগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে, অর্থাৎ একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে না। 

‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের অন্তর্গত ‘মা ছিল না’ এবং ‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের মাঝে কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় নেই এবং বাক্য দুটি স্বাধীন নয়, একটি অন্যটির ওপর নির্ভর করছে, এখানে অব্যয়ের পরিবর্তে ‘বলে’ নামক অনুসর্গ আছে, তাই এটি যৌগিক বাক্যের শর্ত পূরণ করতে পারে না। 

এবার তবে জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই। জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত  হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো। 

অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই। 

[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]

 > কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
 - ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
 - তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
 
সূত্র: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
১১,৬৪১.
'হাতের তৃতীয় আঙুল' এক কথায় কী বলে?
  1. মধ্যমা
  2. কনিষ্ঠা
  3. তর্জনী
  4. অনামিকা
ব্যাখ্যা

• 'হাতের তৃতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - মধ্যমা।

অন্যদিকে, 
• 'হাতের পঞ্চম আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ -  কনিষ্ঠা।
• 'হাতের দ্বিতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - তর্জনী।
• 'হাতের চতুর্থ আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - অনামিকা। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
•  হাতের কব্জি থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত - পাণি।
• হাতের কনুই থেকে কজি পর্যন্ত অংশ - প্রকোষ্ঠ।
• হাতের তালু - করতল।
• হাতের প্রথম আঙুল - অঙ্গুষ্ঠ।
• হাতের কব্জি - মণিবন্ধ। 
• হাতের কব্জি থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত - পাণি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৬৪২.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জনদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1.  চক্র > চক্ক
  2. পাকা > পাক্কা
  3. পদ্ম > পদ্দ
  4. লগ্ন > লগ্গ
ব্যাখ্যা

• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৬৪৩.
নিচের কোনটি সঠিক বিপরীত শব্দজোড়?
  1. ক) গৃহী – সন্ন্যাসী
  2. খ) আবাহন – বরণ
  3. গ) লম্বা - ঢ্যাঙ্গা
  4. ঘ) কুশ্রী – বিশ্রী
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশন সমূহের মধ্যে যথার্থ বিপরীত শব্দ হলো গৃহী – সন্ন্যাসী। অন্যদিকে আবাহন-বরণ, লম্বা-ঢ্যাঙ্গা এবং কুশ্রী-বিশ্রী হলো পরস্পর সমার্থক শব্দ যাদের যথার্থ বিপরীত শব্দ হলো যথাক্রমে বিসর্জন, বামন এবং শ্রী।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন)
১১,৬৪৪.
সৎ পাত্রে কন্যা দাও- ‘সৎ পাত্রে’ পদটিতে কোন কারকে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) সম্প্রদানে পঞ্চমী
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) সম্প্রদানে সপ্তমী
  4. ঘ) অপাদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
ক. চতুর্থী বা কে বিভক্তি : ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্ব ত্যাগ করে না দিলে কর্ম কারক হবে। যেমন: ধোপাকে কাপড় দাও।)
খ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : সৎ পাত্রে কন্যা দান কর। মৃতজনে দেহ প্রাণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

১১,৬৪৫.
অণুতে গঠিত হিমালয়। এখানে ‘অণুতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্তায় ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- অণুতে গঠিত হিমালয়। করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৪৬.
"প্রেষণ" - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রৈ + এষণ
  2. প্রো + এষণ
  3. প্রৌ + এষণ
  4. প্র + এষণ
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১,৬৪৭.
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বলে?
  1. নির্দেশক
  2. বচন
  3. বলক
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

• বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১১,৬৪৮.
কোনটি পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. মোজা > মুজো
  2. মুলা > মুলো
  3. আখো > আখুয়া > এখো
  4. বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে, এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি। প্রধানত চারটি পদ্ধতিতে স্বরসঙ্গতি হয়ে থাকে।

যথা:
• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো, মিথ্যা > মিথ্যে, পুত্র > পুত্তুর।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদিস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: মোজা > মুজো, ধোঁকা > ধুঁকো, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৬৪৯.
‘কথা দেওয়া’- এখানে ‘দেওয়া’ কোন ধরনের ক্রিয়া পদের উদাহরণ?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. সরল ক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম। যথা:

• সরল ক্রিয়া:
একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
[এখানে ‘লিখছে’ ও ‘খেলছে’ এগুলো সরল ক্রিয়া।]

• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বাজারে সবজির দাম কমছে না; (বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে হয় কমা)।
-  জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়; (ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো)।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
• করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা।
• কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা।
• হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
• দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া ইত্যাদি।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১১,৬৫০.
কোনটি ভুল বাক্য নয়?
  1. অধিক সন্যাসীতে গযন নষ্ট।
  2. দীনতা সবসময় ভালো নয়।
  3. উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
  4. রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'দৈন্য/দীনতা সবসময় ভালো নয়।'-  এটি একটি শুদ্ধ বাক্য।

অন্যান্য অপশন,

অশুদ্ধ বাক্য-- শুদ্ধ বাক্য:
অধিক সন্যাসীতে গযন নষ্ট- অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট। 
উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়- উপরিউক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 
রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য- রচনাটির উৎকর্ষ/উৎকৃষ্টতা অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৬৫১.
'সিতাংশু' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মেঘ 
  2. ঝরনা 
  3. চাঁদ
  4. জ্যোৎস্না 
ব্যাখ্যা



'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ:
চন্দ্র, শশী, শশাঙ্ক, সুধাকর, ইন্দু, সোম, শশধর, বিধু, নিশাকর, সুধাংশু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,৬৫২.
'দধি' কী ধরনের শব্দ?
  1. ক) বিদেশি
  2. খ) তদ্ভব শব্দ
  3. গ) দেশি
  4. ঘ) তৎসম
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দটি হলো: দধি 
দধি =√দধ্‌+ই
দধি হলো ঈষদুষ্ণ দুধের সঙ্গে এককোষী জীবাণু মিশিয়ে স্থির অবস্থায় রেখে দেয়ার ফলে জমাটবাঁধা থকথকে টক স্বাদ খাদ্য বস্তু , দই। 

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
১১,৬৫৩.
ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে কী গঠিত হয়?
  1. অর্থ
  2. শব্দ
  3. ভাষা
  4. বাক্য
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তার মনের মধ্যে সব সময়ই নানা বুদ্ধি বা ভাবের আনাগোনা চলে। সেই বুদ্ধি বা ভাব ইশারায়, নানা অঙ্গভঙ্গি করে, ছবি ও নাচের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে।
- সাধারণ কথায় 'ভাষা' বলতে বোঝায়, মানুষের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা অর্থপূর্ণ কতকগুলো আওয়াজ বা ধ্বনির সমষ্টি। এই অর্থপূর্ণ ধ্বনিই হলো ভাষার প্রাণ।
- ধ্বনির সৃষ্টি হয় বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে। মানুষের গলনালি, দাঁত, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, নাক ইত্যাদির সহযোগ হলো বাগ্যন্ত্র।
- ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে গঠিত হয় শব্দ। আর একাধিক শব্দের সমন্বয়ে অর্থের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় বাক্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১১,৬৫৪.
উৎস বিবেচনায় বাংলাভাষার শব্দভাণ্ডারকে কত ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৬ ভাগে
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার(৪) শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।

- তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
- যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

- তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

- দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

- বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১১,৬৫৫.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়?
  1. অনেক 
  2. পক্ষ 
  3. অনাথ  
  4. কথা 
ব্যাখ্যা

'পক্ষ ' শব্দটিতে 'অ' বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়।

• স্বরবর্ণ অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৬৫৬.
'জানালার কাচ ভাঙল'। কোন বাচ্যের উদহারণ? 
  1. ক) কর্তৃবাচ্য 
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
- 'জানালার কাচ ভাঙল' কর্ম-কর্তৃবাচ্য বাচ্যের উদহারণ

• যে বাক্যে কর্মকারক কর্তার মতো প্রতীয়মান হয় অথার্ৎ ক্রিয়ার কর্ম কর্তার মনোযোগ ব্যতীত সম্পাদিত হয়, তাকে কর্ম-কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন : 
এসিটা চালো হলো।
জানালার কাচ ভাঙল।
আজ সারারাত রাস্তায় আলো জ্বলেনি। 
কোথায় যেন বাঁশি বাজছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১১,৬৫৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মরূদ্যান
  2. উদীচি
  3. ধুর্ত
  4. শ্বাশত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মরূদ্যান ' - শুদ্ধ বানান।

• 'মরূদ্যান' শব্দের অর্থ: 
- মরুভূমিতে অবস্থিত জল ও বৃক্ষাদিপূর্ণ স্থান। 

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• উদীচি - উদীচী,
• ধুর্ত - ধূর্ত, 
• শ্বাশত - শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬৫৮.
নিচের কোনটি হিন্দি শব্দ?
  1. হস্ত
  2. জানালা
  3. তাস
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
তাস- হিন্দি শব্দ।

• 'তাস' শব্দের অর্থ:
- খেলার জন্য ব্যবহৃত চিত্রিত মোটা কাগজের চৌকো খণ্ডবিশেষ।

অন্যদিকে,
হস্ত, সমুদ্র - তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
জানালা (বিশেষ্য)- পর্তুগিজ শব্দ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬৫৯.
"সঞ্চয়" শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

উত্তর: ব্যঞ্জনসন্ধি।
- ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।

যেমন:
- ম্ + চ্ = ঞ + চ → সম্ + চয় = সঞ্চয়।
- ম্ + ক = ঙ + ক্ → শম্ + কা =  শঙ্কা।
- ম্ + ত্ = ন + ত  → সম্ + তাপ = সন্তাপ।
- এরূপ – কিম্ভুত, সন্দর্শন, কিন্নর, সম্মান, সন্ধান, সন্ন্যাস ইত্যাদি।

• বিশেষ দ্রষ্টব্য: আধুনিক বাংলায় ম্-এর পর কণ্ঠ্য-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ স্থানে প্রায়ই ঙ না হয়ে অনুস্বার হয়।
- যেমন- সম্ + গত= সংগত, অহম্ + কার = অহংকার, সম্+খ্যা = সংখ্যা।
- এরূপ - সংকীর্ণ, সংগীত, সংগঠন, সংঘাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১,৬৬০.
'মহৌৎসুক্য' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহা + ঊৎসুক্য
  2. মহা + ঔৎসুক্য
  3. মহা + ওৎসুক্য
  4. মহা + উৎসুক্য
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম ও-ধ্বনি বা ঔ-ধ্বনির যোগে ঔ-ধ্বনি হয়। বানানে তা ঔ-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:

• সূত্র: আ + ঔ = ঔ:
মহা + ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য,
মহা + ঔদার্য = মহৌদার্য,
মহা + ঔদাস্য = মহৌদাস্য ইত্যাদি।

• সূত্র: অ + ঔ = ঔ:
পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য,
দিব্য + ঔষধ = দিব্যৌষধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৬৬১.
“চিরসুখ"- শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস 
ব্যাখ্যা

“চিরসুখ" - শব্দটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত।
------------------
• তৎপুরুষ সমাস:
- তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি হারিয়ে যায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
- এটি দ্বিতীয় থেকে সপ্তম বিভক্তি পর্যন্ত যেকোনো বিভক্তি লোপের মাধ্যমে গঠিত হতে পারে।
- বিভক্তি অনুযায়ী তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদের নামকরণ করা হয়। 

- তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকারের-
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ, 
- তৃতীয়া তৎপুরুষ,
- চতুর্থী তৎপুরুষ, 
- পঞ্চমী তৎপুরুষ, 
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ,
- সপ্তমী তৎপুরুষ,
- নঞ তৎপুরুষ (না-বাচক),
- উপপদ তৎপুরুষ,
- অলুক তৎপুরুষ (বিভক্তি লোপ পায় না)। 
----------------------------
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়; 
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।

- উদাহরণ:
- 'চিরকাল ধরে সুখ' → 'চিরসুখ'; (ব্যাপ্তি অর্থে কালবাচক পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়)।
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
- 'আত্মকে রক্ষা' → 'আত্মরক্ষা'; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।

- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের আরও কিছু উদাহরণ:
- সাহায্যপ্রাপ্ত = সাহায্যকে প্রাপ্ত, 
- দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী - দীর্ঘস্থায়ী, 
- শরনিক্ষেপ = শরকে নিক্ষেপ,
- ছেলে-ভুলানো = ছেলেকে ভুলানো,
- সাহায্যপ্রাপ্ত = সাহায্যকে প্রাপ্ত,
- গা-ঢাকা = গা-কে ঢাকা,
- তিমিরবিদায়ী = তিমিরকে বিদায়ী,
- দেশভঙ্গ = দেশকে ভঙ্গ,
- বইপড়া = বইকে পড়া,
- দেশত্যাগ = দেশকে ত্যাগ
- দুঃখপ্রাপ্ত = দুঃখকে প্রাপ্ত,
- আমকুড়ানো = আমকে কুড়ানো,
- রথচালান = রথকে চালান,
- দেশবিভাগ = দেশকে বিভাগ,
- বিস্ময়াপন্ন = বিস্ময়কে আপন্ন,
- পুত্রলাভ = পুত্রকে লাভ,
- দুঃখাতীত = দুঃখকে অতীত,
- শরণাগত = শরণকে আগত,
- পরলোকগত = পরলোকে গত,
- চরণাশ্রিত = চরণকে আশ্রিত,
- স্বর্গপ্রাপ্ত = স্বর্গকে প্রাপ্ত। 

টেকনিক:
- পূর্বপদে 'চির' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
- পরপদে 'স্থায়ী' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
- পরপদে 'প্রাপ্ত', 'পন্ন', 'গত', 'আশ্রিত', 'অতীত' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
------------------------------ 
অন্যদিকে,

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ:
- নদী মাতা যার = নদীমাতৃক,
- বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব,
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নীল বসন যার = নীলবসনা। 

• নিত্য সমাস:  
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে- ‘অন্য’ বা ‘কেবল' শব্দটি বসে।
- যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর।
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র।

- আবার, নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে অনেক সময় ‘তুল্য’ শব্দটি থাকে।
- যেমন- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ।
- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- কালসাপ, আমরা, গ্রামান্তর, বিরানব্বই, উপায়ান্তর, দিগন্তর, ধর্মান্তর, লোকান্তর, দেখামাত্র, নামমাত্র ইত্যাদি। 

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- নীল চোখ একটি সাধারন কর্মধারয় সমাস।
- এখানে নীল একটি বিশেষণ এবং চোখ একটি বিশেষ্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১১,৬৬২.
কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস?
  1. শোকাতীত
  2. মধুমাখা
  3. জেলমুক্ত
  4. গৃহকর্তা
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
• ছাগীর দুগ্ধ - ছাগদুগ্ধ;
• গৃহের কর্তা - গৃহকর্তা;
• অশ্বের পদ - অশ্বপদ;
• চায়ের বাগান = চাবাগান;
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

এরূপ- জনগণ, ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, বিড়ালছানা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শোককে অতীত = শোকাতীত; ২য় তৎপুরুষ সমাস। 
• জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত; পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। 
• মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা; ৩য় তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৬৬৩.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ কোন ভাষায় রচিত?
  1. ইংরেজি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফারসি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• ম্যানোএল দা আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পর্তুগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
- কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন এন বি (নাথানিয়েল ব্রাসি) হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়।
- এটিই ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)।

• আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়।
- এই বইয়ের নাম ছিল ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৬৬৪.
'আ' উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. অর্ধ-সংবৃত
  2. সংবৃত 
  3. অর্ধ-বিবৃত
  4. বিবৃত
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই), [উ);
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ ]।

উল্লেখ্য,
• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১১,৬৬৫.
কোনগুলো সাকুল্যবাচক সর্বনাম?
  1. এরা, ইহারা, ইনি
  2. যে, যিনি, যারা
  3. সব, সকল, তাবৎ
  4. স্বয়ং, খোদ, আপনি
ব্যাখ্যা
• সাকুল্যবাচক সর্বনাম - সব, সকল, তাবৎ।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৬৬৬.
'শান্তি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? 
  1. √শাম্‌+ক্তি
  2. √শম্+ক্তি
  3. √শ্রু+ক্তি
  4. √শ্যাম্‌+ক্তি
ব্যাখ্যা

• √শম্+ক্তি = শান্তি 

বিশেষ নিয়মে সাধিত কৃৎ প্রত্যয় :
- ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়।
যথা-
- √মন্+ক্তি = মতি,
- √রম্+ক্তি = রতি।
কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন
- √শ্রম্+ক্তি=শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম > ন হয়),
- √শম্+ক্তি = শান্তি।
নিপাতনে সিদ্ধ:
- √গৈ + ক্তি = গীতি,
- √সিধ + ক্তি = সিদ্ধি,
- √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
- √শিক্ + ক্তি = শক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১১,৬৬৭.
"নিষ্ঠাবান কর্মীরা সময়মতো অফিসে আসে।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: 
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
- নিষ্ঠাবান কর্মীরা সময়মতো অফিসে আসে।
• 'রক্ষকই ভক্ষক' বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকায় বাক্যটি একটি সরল বাক্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৬৬৮.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে কোন ধরনের ক্রিয়া গঠন করে?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. নামক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন: 
• রাজীব খেলছে;
• বৃষ্টি হতে পারে।

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার।
যথা, 
১. সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে।  

২. প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:
তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। 

৩. নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আলো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। 
যেমন:
চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)।  

৪. সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা। 

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যৌগিক ক্রিয়া গঠন করে।   
যেমন:
উঠে পড়া, বেঁধে দেওয়া, বলে ফেলা, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১১,৬৬৯.
মহাপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
ব্যাখ্যা
• 'ঢ' - মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
ব, দ, প - অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: 
- অল্পপ্রাণ। 
- মহাপ্রাণ ৷
 
• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।
 
• মহাপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্ৰাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৬৭০.
শুদ্ধ বানানটি নির্ণয় করুন।
  1. ক) শ্রদ্ধাস্পদেষু
  2. খ) শ্রদ্ধাস্পদেসু
  3. গ) নিক্বন
  4. ঘ) নিক্বোন
ব্যাখ্যা

শ্রদ্ধাস্পদেষু (বিশেষণ) - শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের আরম্ভে পাঠ।
নিক্বণ (বিশেষ্য) - নিনাদ; ঝঙ্কার; ধ্বনি; মিষ্টি আওয়াজ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

১১,৬৭১.
'রাজপথ' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. রাজা ও পথ
  2. রাজার পথ
  3. পথের রাজা
  4. রাজা নির্মিত পথ
ব্যাখ্যা

- ব্যাসবাক্যে 'রাজা' শব্দ পরে থাকলে সমস্তপদে তা আগে আসে।
যেমন
- পথের রাজা = রাজপথ,
- হাঁসের রাজা = রাজহাঁস।

উল্লেখ্য,
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১১,৬৭২.
“কবি কবি ভাব, ছন্দের অভাব”- ‘কবি কবি’ কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভাল অর্থে
  2. ভাবের অর্থে
  3. পুনরাবৃত্তি অর্থে
  4. উপহাস অর্থে
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এর বই অনুসারে,
সামান্য বা ঈষৎ অর্থে:
- কবি কবি ভাব।
- শীত শীত লাগে।
- কাদা কাদা মাঠ।

বই অনুসারে ‘কবি কবি ভাব’ বাক্যটি সামান্য অর্থ প্রকাশ করে। তবে প্রশ্নে উল্লেখি বাক্য অনুসারে ‘কবি কবি ভাব’ উপহাস অর্থ প্রকাশ করছে। তাই সঠিক উত্তর উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ গ্রহণ করা হলো।
১১,৬৭৩.
‘কান্না’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সদন
  2. লোচন
  3. রোদন
  4. গহন
ব্যাখ্যা
• ‘কান্না’ শব্দের প্রতিশব্দ - রোদন

‘কান্না’ শব্দের আরো কিছু সমার্থক শব্দ:
- ক্রন্দন, কাঁদা, অশ্রুপাত।

অন্যদিকে,
• ‘গহন’ শব্দের সমার্থক শব্দ - গভীর।
• ‘লোচন’ শব্দের সমার্থক শব্দ - চোখ।
• ‘সদন’ শব্দের প্রতিশব্দ - বাড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৬৭৪.
কোন শব্দটি আরবি ভাষা হতে এসেছে?
  1. খসড়া
  2. চানা
  3. তালাশ
  4. খোকা
ব্যাখ্যা
• 'খসড়া'
- শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- রচনা বা শিল্পকর্মের প্রাথমিক ছক, নকশা।

অন্যদিকে,
- 'চানা' সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- 'খোকা' এবং 'তালাশ' তুর্কি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬৭৫.
বাংলা বর্ণমালায় পরাশ্রয়ী বর্ণ সংখ্যা কত?
ব্যাখ্যা

• পরাশ্রয়ী বর্ণ:
যেসব বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এবং বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়, সে বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।

• বাংলা বর্ণমালায় তিনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ রয়েছে।
যথা-  ং, ঃ, ঁ।

- এই বর্ণ গুলোর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র বর্ণের মতো কার বা ফলা গ্রহন করতে পারে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

১১,৬৭৬.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) প্রতি +ঊষ = প্রত্যূষ
  2. খ) ইতি + আদি = ইত্যাদি
  3. গ) নদী + অম্বু = নদ্যম্বু
  4. ঘ) মনো + রম = মনোরম
ব্যাখ্যা
• অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন-
- সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত
- মনঃ + রম = মনোরম
- তিরঃ + ধান = তিরোধান
- মনঃ + হর = মনোহর
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৬৭৭.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) পেট
  2. খ) চুলা
  3. গ) বধূ
  4. ঘ) ডাহা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম শব্দ গুলো হলো -
বৈষ্ণব, কুৎসিত, চন্দ্র, ভবন, ধর্ম, মনুষ্য, পাত্র, নক্ষত্র, ক্ষুধা, সূর্য, পদ্ম, ক্ষমা, অন্ন, নিমন্ত্রণ, চন্দ্র, জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, স্বামী, পুত্র, খাদ্য, অস্তি, অদ্য, অর্ধ, ইন্দ্রাগার, উপাধ্যায়, ঊষ্ণাপন, করোতি, কথয়তি, কার্য, গৃহ, চক্র, চর্মকার, বধূ, ভক্ত, মিথ্যা, লবণ, হস্ত, স্তম্ভ ইত্যাদি।
কিছু দেশি শব্দ— কুড়ি, পেট, চুলা, ঝাঁটা, ঝোল, ডিঙা, ডিঙি, কুলা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, ঢেউ, ঢিল, ডাহা, গঞ্জ, চোঙ্গা, ঢেউ, আলু, ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৭৮.
'অলি' শব্দের প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. মৌমাছি
  2. মধুপ
  3. গুঞ্জন
  4. শিলীমুখ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• গুঞ্জন- 'অলি' এর প্রতিশব্দ নয়।
• গুঞ্জন অর্থ - গুনগুন ধ্বনি; ঝংকার। 

• 'অলি' এর প্রতিশব্দ:

- মধুকর,
- মৌমাছি,
- মধুপ,
- শিলীমুখ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১১,৬৭৯.
'জাত' অর্থে কোন শব্দটি ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) মাটি
  2. খ) জমিদার
  3. গ) টাক
  4. ঘ) ঢাকাই
ব্যাখ্যা
- 'ঢাকাই' শব্দটি জাত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

- অনেক সময় প্রত্যয় যোগ করলে অর্থ বদলে যায়।
যেমন:
• অবজ্ঞা অর্থে: চোর→ চোরা।
• সদৃশ অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
• আগত অর্থে: দখিন→ দখিনা।
• উপকরণ অর্থে মাটি→ মেটে।
• মালিক অর্থে জমিদার→ জমিদারি।
• যুক্ত অর্থে টাক→ টেকো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৬৮০.
'হৃ' যুক্তবর্ণে কোন দুটি বর্ণ যুক্ত হয়েছে?
  1. র + হ
  2. ঋ্ + হ
  3. হ + ন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'হ্ + ঋ' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে - হৃ।
তাই, সঠিক উত্তর হবে- অপশন (ঘ): কোনটিই নয়।

• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয় ।
- যুক্ত হওয়া বর্ণ গুলোকে দেখে কখনো সহজে  চেনা যায়, কখনো যায় না।
- যুক্তবর্ণ দুই রকমের হয়,
-স্বচ্ছ,
- অস্বচ্ছ।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ: 
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১,৬৮১.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) আবেদনকারি
  2. খ) আভিরপল্লী
  3. গ) আবেষ্টনী
  4. ঘ) আবেস্টিত
ব্যাখ্যা
বাংলা বানান অভিধান -বাংলা একাডেমি অনুসারে, 
আবেষ্টনী বানানটি শুদ্ধ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: আবেশটন+ঈ
বিশেষ্য অর্থে- বেষ্টনী, পরিবেশ, প্রতিবেশ। 

এছাড়া,
আবেদনকারি এর সঠিক বানান - আবেদনকারী।
আভিরপল্লী এর সঠিক বানান - আভীরপল্লি।
আবেস্টিত এর সঠিক বানান - আবেষ্টিত।

উৎস:  বাংলা বানান অভিধান -বাংলা একাডেমি।
১১,৬৮২.
"মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য 
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য 
  4. মিশ্র বাক্য 
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন( ;), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- আঁখি রাতে রুটি খায় আর মোহন খায় ভাত।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১১,৬৮৩.
উষ্মবর্ণ বলা হয় কোন বর্ণগুচ্ছকে?
  1. প, ফ, ব, ভ
  2. ত, থ, দ, ধ
  3. শ, ষ, স, হ
  4. চ, ছ, জ, ঝ
ব্যাখ্যা
উষ্মধ্বনি:
- শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলােকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
- শ ষ স - এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘােষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘােষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।
- ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৬৮৪.
'প্রচ্ছন্ন' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ব্যক্ত
  2. আগমন
  3. আরম্ভ
  4. বিষণ্ন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

•'প্রচ্ছন্ন' শব্দের অর্থ:

১. আবৃক্ত, ঢাকা।
২. অব্যক্ত।
৩. লুক্কায়িত।

• 'প্রচ্ছন্ন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - ব্যক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬৮৫.
"বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• "বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।' - বাক্য়ের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বইয়ের মধ্যে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।  
 
উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৬৮৬.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  2. বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
  3. অপমানিত হবার ভয় নেই।
  4. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।

অন্যদিকে,
→ অপমানিত হবার ভয় নেই।
→ বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
→ অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
উপরিউক্ত বাক্যগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৬৮৭.
’পোঁ-ধরা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. সর্বস্বান্ত হওয়া
  2. কথার মাঝে বিদ্রুপ করা
  3. মোসাহেবী করা
  4. নষ্ট করা
ব্যাখ্যা

- ’পোঁ-ধরা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- মোসাহেবী করা।

অন্যদিকে,
- ’মাথা খাওয়া’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ-  নষ্ট করা।
- ’সর্বস্বান্ত হওয়া’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ-  পথে বসা।
- ’ফোড়ন কাটা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ-  কথার মাঝে বিদ্রুপ করা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৬৮৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. তুখোর
  2. প্রবহন
  3. দিকগজ
  4. স্বতঃপ্রবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'স্বতঃপ্রবৃত্ত' - বানানটি শুদ্ধ।

শব্দের অর্থ: 
- স্বেচ্ছায় প্রবৃত্ত; স্বতঃস্ফূর্ত।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• তুখোর - তুখোড়;
• প্রবহন - প্রবহণ;
• দিকগজ - দিগ্‌গজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৬৮৯.
"তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

• যোজকের প্রকারভেদ:
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

- সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না।

- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৬৯০.
গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?
  1. শবমড়া
  2. শবদাহ
  3. শবপোড়া
  4. মড়াদাহ
ব্যাখ্যা
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।

- 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপােড়া' প্রভৃতির স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির প্রয়ােগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।

- সুতরাং গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ শবদাহ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৬৯১.
নিচের কোনটি অনুসর্গ?
  1. ক) অনু
  2. খ) খাস
  3. গ) পরি
  4. ঘ) বিনা
ব্যাখ্যা
অনু, পরি সংস্কৃত উপসর্গ, খাস আরবি উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলো- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি। অপরদিকে আম আরবি উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৬৯২.
'উক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়-
  1. √উক্‌ + তি
  2. √উচ্ + ক্তি
  3. √বচ্ + ক্তি
  4. √বপ্‌ + ক্তি
ব্যাখ্যা

 'উক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √বচ্ + ক্তি।

• 'ক্তি'-প্রত্যয় ('ক' ইৎ 'তি' থাকে):
• বিশেষ নিয়ম:
- 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন-
- √বচ্+ক্তি = উক্তি,
- √মুচ্+ক্তি = মুক্তি,
- √ভজ্+ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১১,৬৯৩.
'অতিথিসৎকার' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র
- অতিথির সৎকার = অতিথিসৎকার ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৯৪.
‘উর্মি’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) লহরী
  2. খ) প্রভা
  3. গ) তরঙ্গিনী
  4. ঘ) আভা
ব্যাখ্যা

‘উর্মি’ শব্দের সমার্থক শব্দ - লহরী, ঢেউ, বীচি, তরঙ্গ, কল্লোল ইত্যাদি।
প্রভা শব্দের সমার্থক শব্দ - আভা, দীপ্তি, কিরণ, আলোক ইত্যাদি।
তরঙ্গিনী শব্দের সমার্থক শব্দ - নদী, স্রোতস্বিনী, তটিনী, প্রবাহিনী, শৈবালিনী ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৬৯৫.
অভ্যন্তর যতিচিহ্ন কোনটি?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. প্রশ্নচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:

• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।)

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;)
৭. হাইফেন (-)
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:)
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...)
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]}))
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।
১১,৬৯৬.
কোন শব্দটি তৎসম উপসর্গ দিয়ে গঠিত
  1. সজ্ঞান
  2. উৎফুল্ল
  3. পাতকুয়া
  4. হাহুতাশ
ব্যাখ্যা
• "উৎ' একটি তৎসম উপসর্গ।
- 'উৎ' উপসর্গ দিয়ে গঠিত শব্দ:
- উৎসব, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপাদন, উচ্চারণ, উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে,
- 'হাহুতাশ' শব্দে 'হা' একটি বাংলা উপসর্গ।
- 'পাতকুয়া' শব্দে 'পাতি ' একটি বাংলা উপসর্গ।
- 'সজ্ঞান' শব্দে 'স' একটি বাংলা উপসর্গ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১১,৬৯৭.
'শতাব্দী' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রাদি সমাস 
  2. দ্বিগু সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস 
  4. তৎপুরুষ সমাস 
ব্যাখ্যা

• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

এরূপ- অষ্টধাতু, চতুর্ভুজ, চতুরঙ্গ, ত্রিমোহিনী, তেরনদী, পঞ্চভূত, সাতসমুদ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১,৬৯৮.
নিচের কোনটিতে অ-ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণ হয়েছে?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) প্রভাত
  3. গ) প্রতিভা
  4. ঘ) প্রণাম
ব্যাখ্যা
অ-ধ্বনির স্বাভাবিক উচ্চারণ হলো বিবৃত উচ্চারণ। এরূপ উচ্চারণে চোয়াল বেশি ফাঁক হলেও সে তুলনায় ঠোট তত গোল বা বাঁকা হয় না। যেমনঃ কলম, অটল, গঠিত, কথা, অমানিশা, প্রণাম, প্রত্যয়, প্রভাত প্রভৃতি।
অ-ধ্বনি যখন ও-ধ্বনির মতো উচ্চারিত হয় তখন তাকে সংবৃত উচ্চারণ বলে। এরূপ উচ্চারণে চোয়ালের ফাঁক কম ও ঠোঁট গোলাকৃত হয়ে ‘ও’- এর মতো উচ্চারিত হয়। যেমনঃ অতি (ওতি), প্রতিভা (প্রোতিভা), করুণ (কোরুণ), যাবতীয় (যাবতীয়ো)।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
১১,৬৯৯.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কি বলে?
  1. প্রত্যয়
  2. পদ
  3. বিভক্তি
  4. শব্দ
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১১,৭০০.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. গরমিল
  2. গোলাপ
  3. নাক
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - গরমিল

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।