বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১১ / ৩৫৪ · ১,০০১১,১০০ / ৩৫,৭১৩

১,০০১.
'বালির বাঁধ' -এর সমার্থক বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. ক) ননীর পুতুল
  2. খ) অন্ধের নড়ি
  3. গ) তাসের ঘর
  4. ঘ) ভূতের বেগার
ব্যাখ্যা
বালির বাঁধ, তাসের ঘর 'ক্ষণস্থায়ী বস্তু' অর্থে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারা।

অন্যদিকে,
ননীর পুতুল -শ্রমবিমুখ।
অন্ধের নড়ি - একমাত্র অবলম্বন।
ভূতের বেগার - অযথা শ্রম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০০২.
কোনটি বাগযন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সচল অঙ্গ?
  1. ক) তালু
  2. খ) জিভ
  3. গ) মূর্ধা
  4. ঘ) আলজিভ
ব্যাখ্যা
- বাগযন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সচল অঙ্গ 'জিভ'

• জিভ
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ।
- জিভের উচ্চতা, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

• প্রদত্ত প্রশ্নের অন্যান্য অপশন:
• আলজিভ
- মুখগহ্বরের কোমল তালুর পিছনে ঝুলন্ত মাংসপিণ্ডের নাম আলজিভ।
- ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় ।

• তালু
- মুখবিবরের ছাদকে বলা হয় তালু।
- তালুর দুটি অংশ - কোমল তালু ও শক্ত তালু।
- অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণে কোমল তালু নিচে নামে।
- কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারিত হয়।
- দন্তমূলের শুরু থেকে কোমল তালু পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে বলা হয় শক্ততালু।

• মূর্ধা
- শক্ত তালু ও উপরের পাটির দাঁতের মধ্যবর্তী উত্তল মূর্ধা বলে।
- কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ মূর্ধাকে স্পর্শ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১,০০৩.
"আশীবিষ" এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. আশীর রূপ বিষ
  2. আশীর বিষ
  3. বিষেতে আশি যার
  4. আশীতে বিষ যার
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১,০০৪.
'সংহার' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. সম্‌ + হর
  2. সন্‌ + হার
  3. সং + হার
  4. সম্‌ + হার
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন:
- সম্‌ + সার = সংসার,
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ,
- সম্‌ + যম = সংযম,
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০৫.
কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) নাচন
  2. খ) কেষ্টা
  3. গ) স্থান
  4. ঘ) শুনানি
ব্যাখ্যা
• শব্দে সঙ্গে যে সব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।

আ- প্রত্যয়:
ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
খ) বৃহদার্থে: ডিঙ্গি + আ = ডিঙ্গা।
গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
ঘ) সমষ্টি অর্থে : বিশ + আ = বিশা বাইশ + আ = বাইশা।
ঙ স্বার্থে : জট + আ = জটা চোখ + আ = চোখা চাক + আ = চাকা।
চ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির + আ = হাজিরা চাষ + আ = চাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯সংস্করণ।
১,০০৬.
পূর্ববর্তী ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনিটির পরিবর্তন ঘটলে, তাকে কী বলে?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

• প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যদিকে,
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।

যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,০০৭.
‘গ্রাম > গেরাম’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অসমীকরণ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।

ই:
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ:
- মুক্তা > মুকুতা,
- তুর্ক > তুরুক,
- ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি। 

এ:
- গ্রাম > গেরাম,
- প্ৰেক > পেরেক,
- স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

ও:
- শ্লোক > শােলােক,
- মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০০৮.
কোনটি অনুনাসিক স্বরধ্বনি?
  1. [অ্যাঁ]
  2. [আ]
  3. [উ্‌]
  4.  [অ্যা
ব্যাখ্যা

অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

অন্যদিকে,
মৌলিক স্বরধ্বনি - [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
দ্বিস্বরধ্বনি - [ই্‌] এবং [উ্‌]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

১,০০৯.
রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ হলো -
  1. হস্তী
  2. দৌহিত্র
  3. রাজপুত
  4. পঙ্কজ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
- যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

যৌগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০১০.
Manuscript এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. পাণ্ডুলিপি
  2. ইশতেহার
  3. সারগ্রন্থ
  4. ঘোষণাপত্র
ব্যাখ্যা
• Manuscript এর বাংলা পরিভাষা 'পান্ডুলিপি'। 

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:

- Agenda - আলোচ্যসূচি।
- Constitution - সংবিধান।
- Constituency - নির্বাচনী এলাকা/ নির্বাচকমণ্ডলী।
- Manifesto - ইশতেহার।
- Manuscript - পান্ডুলিপি।
- Edition- সংস্করণ।
- Manual - সারগ্রন্থ।
- Gazette - ঘোষণাপত্র।
- Invoice - চালান, প্রেরিতক-সূচি।
- Constipation- কোষ্ঠকাঠিন্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০১১.
'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অতি
  2. পক্ষ
  3. অদ্য
  4. অনাথ
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।

'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ:
- অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।

'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ:
- অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০১২.
কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ?
  1. একক
  2. একত্রিত
  3. ঐক্য
  4. একত্র
ব্যাখ্যা
• 'একত্রিত'-  অপ্রয়োগের উদাহরণ। 

•  'একত্রিত' শব্দটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে 'একত্র'।

উল্লেখ্য,
বাংলা একাডেমি 'একত্রিত' শব্দকে বাংলা শব্দ হিসেবে গণ্যকরে শুদ্ধ দেখিয়েছে। তবে, শব্দটি ব্যাকরণসম্মত নয়। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ। 
 
 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- অধীনস্ত, আবশ্যকীয়, স্বত্ত্ব, সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
একক, একত্র, ঐক্য, - শব্দগুলো শুদ্ধ প্রয়োগ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,০১৩.
'প্রান্তর' শব্দের অক্ষর বিন্যাস কোনটি?
  1. প্র + আন + তর্‌
  2. প্রা + ন + ত + র
  3. প্রান্‌ + তর্‌
  4. প্রান্ত + অর্‌
ব্যাখ্যা
প্রান্তর:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অক্ষর বিন্যাস: প্রান্‌ + তর্‌
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: প্র + অন্তর।
- অর্থ: মাঠ; জনবসতিহীন বিস্তৃত ভূমি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,০১৪.
'নিদাঘ' শব্দের অর্থ কী?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. কলঙ্কহীন
  3. অন্তিমকাল
  4. পড়ন্ত সূর্য
ব্যাখ্যা

বাংলা একডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

- 'নিদাঘ' শব্দের অর্থ: গ্রীষ্মকাল।
- ব্যুৎপত্তি: নি+√দহ+ অ।
'নিদাঘ' অর্থ:
২) উত্তাপ।
৩) উষ্মা।
৪) ঘাম।

উৎস: বাংলা একডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,০১৫.
"উদ্বন্ধন" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্ + বন্ধন
  2. উধ্‌ + বন্ধন
  3. উৎ + বন্ধন
  4. উদ্ঃ + বন্ধন
ব্যাখ্যা
→ ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনাে বর্গের অঘােষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনাে বর্গের ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘােষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘােষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘােষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘােষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘােষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘােষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।

যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র, 
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন, 
- উৎ + যােগ = উদ্যোগ, 
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
- তৎ + রূপ = তদ্রূপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০১৬.
"মন আমার নাচেরে আজিকে।" - বাক্যে "আজিকে" কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে স্থানে, যে কালে বা যে বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে ক্রিয়ার আধার বলে। ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
 
যেমন:
অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: মন আমার নাচেরে আজিকে
তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
সপ্তমী বিভক্তি: বনে বাঘ থাকে।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০১৭.
'সন্ন্যাস' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্‌ + ন্ন্যাস
  2. সন্‌ + ন্যাস
  3. সমঃ + ন্যাস
  4. সম্‌ + ন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'সন্ন্যাস' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'সম্‌ + ন্যাস'।
- এটি একটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধির নিয়ম: 
- ম্‌ এর পর যে কোন বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্‌ ধ্বনি টি সেই বর্গের নাসক্য ধ্বনি হয়। 
যেমন- 
শম্‌ + কা = শঙ্কা,
সম্‌ + ন্যাস = সন্ন্যাস,
সম্‌ + তাপ = সন্তাপ (ম্‌ + ত্‌ = ন্‌ + ত্‌)। 
সম্‌ + চয় = সঞ্চয় ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০১৮.
‘রাত্রিকালীন যুদ্ধ’ এক কথায় বলে-
  1. ত্রিযামা
  2. সৌপ্তিক
  3. যুধিষ্ঠির
  4. ঐন্দ্রজালিক
ব্যাখ্যা
• ‘রাত্রিকালীন যুদ্ধ’ এক কথায় বলে - সৌপ্তিক।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
- ‘রাত্রির প্রথম ভাগ’ এক কথায় বলে -পূর্বরাত্র।
- ‘রাত্রির মধ্যভাগ’ এক কথায় বলে - মহানিশা। 
- ‘রাত্রির তিনভাগ একত্রে' এক কথায় বলে - ত্রিযামা। 
- ‘রাত্রির শেষভাগ' এর এক কথায় প্রকাশ - পররাত্র।  
- ‘ঘোর অন্ধকার রাত্রি’ এক কথায় বলে - তমিস্রা।
- ‘যিনি যুদ্ধে স্থির থাকে’  এর এক কথায় প্রকাশ - যুধিষ্ঠির।
- ‘অন্ধকার রাত্রি’ এক কথায় বলে - তামসী।
- 'ইন্দ্রজাল (জাদু) বিদ্যায় পারদর্শী' এক কথায় প্রকাশ - ঐন্দ্রজালিক।
- ‘কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি’ এক কথায় বলে - অমাবস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০১৯.
'ক্ষুন্নিবৃত্তি' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1.  ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
  2.  ক্ষুধা + নিবৃত্তি
  3. ক্ষুৎ + নিবৃত্তি
  4. ক্ষুদ্+ নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০২০.
তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. দাতা
  2. দোষী
  3. বড়াই
  4. লেখক
ব্যাখ্যা
• বড়াই (বড় + আই) — বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় 'আই' যোগে গঠিত শব্দ।

অন্যদিকে, 
- √দা +তৃ = দাতা; সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
- √দুষ্ + ইন = দোষী; কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
- √লেখ + অক = লেখক; কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০২১.
নিচের কোন বাক্যে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ঝম ঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
  2. ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা নীড়ে ফিরছে।
  3. বুদ্ধিশুদ্ধি কিছু নেই।
  4. বেলটা টং টং করে বাজছে।
ব্যাখ্যা
• ‘ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা নীড়ে ফিরছে।’ বাক্যে ব্যবহৃত ‘ঝাঁকে ঝাঁকে’ শব্দটি পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধিশুদ্ধি অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
• ঝম ঝম ও টং টং ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০২২.
'বজ্রসম' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
  যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,
- এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ - পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস,
- বজ্রের সম = বজ্রসম। (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস),
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তি লোপ পেয়েছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০২৩.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মাছুয়া > মেছাে
  2. খ) আজি > আইজ
  3. গ) কবাট > কপাট
  4. ঘ) সকাল > সক্কাল
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি : শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন-
কবাট > কপাট,
ধােবা > ধােপা,
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
সকাল > সক্কাল = দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
আজি > আইজ = অপিনিহিতি
মাছুয়া > মেছাে = অভিশ্রুতি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০২৪.
'Manual’ শব্দের বাংলা পরিভাষা -
  1. পাণ্ডুলিপি
  2. সারগ্রন্থ
  3. স্মারকলিপি
  4. ঘোষণাপত্র
ব্যাখ্যা
• 'Manual’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - 'সারগ্রন্থ'।

অন্যদিকে,
• 'Manuscript' শব্দের বাংলা পরিভাষা - 'পাণ্ডুলিপি'।
• ‘Memorandum’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - 'স্মারকলিপি'।
• 'Gazette' শব্দের বাংলা পরিভাষা - 'ঘোষণাপত্র'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১,০২৫.
'আনন্দ'-এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি? 
  1. উচ্ছ্বাস 
  2. উল্লাস 
  3. শ্রান্তি 
  4. স্ফুরণ
ব্যাখ্যা

• 'আনন্দ'-এর সমার্থক শব্দ নয়-'শ্রান্তি'।

'শ্রান্তি' শব্দের অর্থ:
- বিরাম, পরিশ্রমজনিত অবসাদ, নিবৃত্তি।  

'আনন্দ'-এর সমার্থক শব্দ
- উচ্ছ্বাস, উল্লাস, স্ফুরণ।  

আনন্দ'-এর আরো কিছু সমার্থক শব্দ:  
- খুশি, আমোদ, মজা, পুলক, হর্ষ, আহ্লাদ, স্ফূর্তি, সন্তোষ, পরিতোষ, প্রমোদ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।  

১,০২৬.
রাজা শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) কিষাণ
  2. খ) প্রজানাথ
  3. গ) মহীপাল
  4. ঘ) ভূপাল
ব্যাখ্যা

রাজা শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো:
- প্রজানাথ ,
- মহীপাল,
- ভূপাল 
- অধিরাজ,
- নরপতি,
- নরেশ,
- নরেন্দ্র,
- বাদশা,
- মহীন্দ্র ইত্যাদি।

কিষাণ শব্দের অর্থ কৃষ; চাষি।

উৎস :বাংলা ভাষা শিক্ষা (হায়াৎ মামুদ) ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

১,০২৭.
'আবেদন' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) আহবান
  2. খ) ডাক
  3. গ) আহূতি
  4. ঘ) মাগন
ব্যাখ্যা
'আবেদন' এর সমার্থক শব্দ - মাগন

অন্যদিকে,
• 'আমন্ত্রণ' এর সমার্থক শব্দ - আহবান, আহূতি, ডাক।

আবেদন এর সমার্থক শব্দ: 
- আরজি,
- দরখাস্ত,
- প্রার্থনা,
- নিবেদন,
- অনুরোধ,
- মাগন,
- চাওয়া।

আমন্ত্রণ এর সমার্থক শব্দ:
- নিমন্ত্রণ,
- আহ্বান,
- আহূতি,
- ডাক,
- নেমন্তন্ন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,০২৮.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন - 'অক্ষৌহিণী'
  1. অক্ষ + উহিণী
  2. অক্ষ + ঊহিণী
  3. আক্ষ + উহিণী
  4. আক্ষ + ঊহিণী
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২৯.
Agent এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. ক) নকশা
  2. খ) কৃত্যসূচি
  3. গ) প্রতিনিধি
  4. ঘ) সাময়িকী
ব্যাখ্যা
Agent - প্রতিনিধি,
Aenda - কৃত্যসূচি,
Periodical - সাময়িকী,
Design - নকশা।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
১,০৩০.
‘রাঁধুনি’ এর প্রকৃতি প্রত্যয় কি?
  1. রাঁধ + আনি
  2. রাঁধ্ + উনি
  3. রাঁধন + নি
  4. রাঁধ + নি
ব্যাখ্যা
• রাঁধুনি,
- তৎসম বা সংস্কৃত।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [√রাঁধ্‌+উনি বা অনি]
অর্থ:
১ পাচক; পাচিকা। 
২ যে রান্না বা পাক করে; পাচক; রন্ধনকারী; রান্ধনকারিণী; পাকানি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।
১,০৩১.
শব্দ গঠনকালে প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পাওয়াকে কী বলে?
  1. ক) ইৎ
  2. খ) বৃদ্ধি
  3. গ) গুণ
  4. ঘ) উপধা
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত নিয়ম অনুসারে কখনও কখনও প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার কালে প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পায়।
- এই লােপ পাওয়া অংশটিকে ‘ইৎ' নামে অভিহিত করা হয়।
- এছাড়া, প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনিকে ‘উপধা' বলা হয়ে থাকে এবং প্রকৃতির আদ্যধ্বনির পরবর্তী সকল ধ্বনিকে ‘টি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- অর্থাৎ, ‘ইৎ' প্রত্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং 'উপধা’ ও ‘টি' প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩২.
‘বরখেলাপ’ শব্দে ‘বর’ উপসর্গটি দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে?
  1. ক) সহ
  2. খ) ব্যতীত
  3. গ) ছাড়া
  4. ঘ) বাইরে
ব্যাখ্যা

বর ফারসি উপসর্গ
বর দ্বারা বাইরে বুঝানো হয়েছে। 
যেমন বরখেলাপ,বদনাম
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ডঃ সৌমিত্র শেখর।

১,০৩৩.
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নির্ণয় করুন: 'তৃষ্ণার্ত'
  1. তৃষ্ণা + অর্থ
  2. তৃষ্ণঃ + ঋত
  3. তৃষ্ণ + ঋত
  4. তৃষ্ণাঃ + অর্থ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনোটিই নয়
• 'তৃষ্ণার্ত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - তৃষ্ণা + ঋত।

সন্ধির নিয়ম:

- অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।
যেমন:
- অ + ঋ = আর, শীত + ঋত = শীতার্ত।
- আ + ঋ = আর, তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৩৪.
’শ্যেনদৃষ্টি’ কথাটি অর্থ কী?
  1. ক) লোভী দৃষ্টি
  2. খ) তীক্ষ্ণ দৃষ্টি
  3. গ) শীতল দৃষ্টি
  4. ঘ) পেলব দৃষ্টি
ব্যাখ্যা
শ্যেনদৃষ্টি (বিশেষ্য) ক্রুর দৃষ্টি; বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
১,০৩৫.
'দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থান' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. দ্বারী
  2. দোহনীয়
  3. দোফলা
  4. দোয়াব
ব্যাখ্যা
• 'দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থান' এর এক কথায় প্রকাশ - দোয়াব

অন্যদিকে,
দু বার ফল ধরে যে গাছে - দোফলা।
দোহনের যোগ্য - দোহনীয়।
দ্বারে থাকে যে - দ্বারী/ দারোয়ান

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৩৬.
‘যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায় না’ - এর এককথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. অনন্য রকম
  2. অসাধারণ
  3. সাধারণ
  4. অনন্যসাধারণ
ব্যাখ্যা
• 'যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায়না এমন' এককথায় প্রকাশ - অনন্যসাধারণ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- ‘যার কোন কিছু থেকেই ভয় নেই’ এর এক কথায় প্রকাশ - অকুতোভয়৷
- ‘যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায়না এমন’ এর এক কথায় প্রকাশ - অনন্যসাধারণ।
- ‘কি করতে হবে যে স্থির করতে পারে না’ এর এক কথায় প্রকাশ - কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
- ‘দু’হাতে সমান কাজ করতে পারে যে/ দু হাত সমান চলে যার’ এর এক কথায় প্রকাশ - সব্যসাচী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১,০৩৭.
নিচের কোনটি তারিখ পূরণবাচক শব্দ?
  1. একাদশী
  2. দ্বিতীয়া
  3. ত্রিশে
  4. ষোড়শ
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যথা:
পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), এগারোই (১১ই), বারোই (১২ই), তেরোই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরোই (১৫ই), ষোলোই (১৬ই), সতেরোই (১৭ই), আঠারোই (১৮ই), উনিশে (১৯শে), বিশে (২০শে), একুশে (২১শে), বাইশে (২২শে), তেইশে (২৩শে), চব্বিশে (২৪শে), পঁচিশে (২৫শে), ছাব্বিশে (২৬শে), সাতাশে (২৭শে), আটাশে (২৮শে), উনত্রিশে (২৯শে), ত্রিশে (৩০শে), একত্রিশে (৩১শে)।

----------------
• পূরণবাচক:
পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি।

• সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম:
একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম), ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম (১৬তম), সপ্তদশ (১৭শ) ও সতেরোতম (১৭তম), অষ্টাদশ (১৮শ) ও আঠারোতম (১৮তম)।

• ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়।
যথা:
উনিশতম বা উনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম), উনপঞ্চাশতম বা ঊনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম), আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম), নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম), নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন:
প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ - সংস্করণ)।
১,০৩৮.
'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি কোন লিপিতে মুদ্রিত হয়?
  1. ফারসি 
  2. রোমান 
  3. তুর্কি 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:
- পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।

- এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'। এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। (অর্থ্যাৎ, কোনোটিই নয় উত্তর)

- এরপর উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।

- ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন। এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে-বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৯.
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ কোনটি?
  1. আলজিভ
  2. পিত্তকোষ
  3. বৃক্ক
  4. যকৃৎ
ব্যাখ্যা
• বাগযন্ত্রের অংশ - আলজিভ

বাগ্‌যন্ত্র:
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

বাগযন্ত্রের অংশ:
- ফুসফুস,
- শ্বাসনালি,
- স্বরযন্ত্র,
- জিভ,
- আলজিভ,
- তালু,
- মূর্ধা,
- দন্তমূল ও দন্ত,
- ওষ্ঠ,
- নাসিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৪০.
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।' এখানে 'মরি মরি' কোন ধরনের অব্যয়? 
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. পদান্বয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
ব্যাখ্যা

 • অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।

• সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৪১.
'ঝাঁকের কৈ' বাগধারাটির অর্থ কি?
  1. দল বেধে চলা
  2. একই স্বভাবের লোক
  3. দামী জিনিস
  4. হীনতা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• “ঝাঁকের কৈ” বাগধারাটির অর্থ - একই স্বভাবের লোক/ একই দলের লোক/সমমনা।
বাক্য গঠন: ওরা সবাই ঝাঁকের কৈ, এক কথা তো বলবেই।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- 'খয়ের খাঁ' বাগধারাটির অর্থ - তোষামোদকারী।
- ঢেঁকি অবতার বাগধারাটির অর্থ - নিষ্কর্মা ও নির্বোধ লোক।
- 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগধারাটির অর্থ -  ভূমিকা।
- 'গোঁফ খেজুরে' বাগধরার অর্থ অত্যন্ত অলস।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,০৪২.
STRANGE-এর বিপরীত?
  1. Similar
  2. Familiar
  3. Peculiar
  4. Obstinate
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: STRANGE-এর বিপরীত?

সমাধান:
STRANGE অর্থ - অচেনা, অপরিচিত, অস্বাভাবিক, বা অদ্ভুত।


প্রতিটি অপশন যাচাই করি:
ক) Similar → সদৃশ বা মিল রয়েছে।

খ) Familiar → পরিচিত, চেনা → STRANGE-এর সঠিক বিপরীত।

গ) Peculiar → বিরল, অদ্ভুত → STRANGE-এর সমার্থক শব্দের কাছাকাছি।

ঘ) Obstinate → জিদি, অনড় → কোন সম্পর্ক নেই।

সুতরাং STRANGE-এর বিপরীত অর্থ হলো Familiar.

১,০৪৩.
কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ?
  1. বনাম
  2. বলে
  3. কাছে
  4. দ্বারা
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
 
অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৪৪.
শুদ্ধ সন্ধির গঠন কোনটি?
  1. তপোঃ + বন = তপোবন
  2. তিরঃ + ধান = তিরোধান
  3. সদ্যোঃ + জাত = সদ্যোজাত
  4. মনোঃ + রম = মনোরম
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন:
সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
মনঃ + রম = মনোরম,
মনঃ + হর = মনোহর,
তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,০৪৫.
'বামেতর' শব্দটির অর্থ কী?
  1. বাম 
  2. ডান
  3. অধিক বামদিক
  4. পূর্বদিক
ব্যাখ্যা

• বামেতর (বিশেষণ পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ডান;
- ডাহিন;
- দক্ষিণ।

কবিতায় ব্যবহার: প্রমীলার বামেতর নয়ন নাচিল- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,০৪৬.
‘আড়াই’ কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক্রমবাচক
  2. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  3. সাধারণ পূরণবাচক
  4. তারিখ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।

যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৪৭.
বাংলা ব্যাকরণে কয়টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. দুটি
  2. চারটি
  3. তিনটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়:
- ধ্বনি, শব্দ, বাক্য, অর্থ - ভাষার চারটি মৌলিক উপাদান। এই উপাদানগুলোর ওপর ভিত্তি করেই সব ভাষার ব্যাকরণে নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলা ব্যাকরণও এর ব্যতিক্রম নয়।

যেমন:
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonetics),
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology),
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax) ও
৪ অর্থতত্ত্ব (Semantics)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০৪৮.
ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক কোনটি?
  1. শব্দ 
  2. বর্ণ
  3. বাক্য 
  4. ভাষা 
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক বা চিহ্নকে বর্ণ বলে।
- ভাষা লিখে প্রকাশ করার সাংকেতিক চিহ্ন সমূহকে বর্ণ বলে।
- বর্ণ হলো দৃশ্যগ্রাহ্য রূপ।

অন্যদিকে, 
• শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশকে - ধ্বনি বলে। 
-  ধ্বনি হলো- শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ।

• বাগযন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে অক্ষর বলে।
যেমন-
- সমাবর্তন শব্দে চারটি অক্ষর আছে।
- সম+আ+√বৃৎ +অন = সমাবর্তন।

----------------
• বর্ণ:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে। 
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। 
- এই বর্ণ কানে শােনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলাে বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৪৯.
'কালি-কলম' কোন কোন ভাষার শব্দের মিশ্রণ?
  1. ক) আরবি + সংস্কৃত
  2. খ) ফারসি + আরবী
  3. গ) ইংরেজি + ফারসি
  4. ঘ) সংস্কৃত + আরবি
ব্যাখ্যা

• কতিপয় মিশ্র শব্দের উদাহরণঃ
- ডাক্তার-বাবু = ইংরেজি + তৎসম,
- খ্রিস্টাব্দ = ইংরেজি + তৎসম,
- চৌ-হদ্দি = ফারসি + আরবী,
- হাট-বাজার = বাংলা + ফারসি,
- কালি-কলম = সংস্কৃত + আরবি,
- পকেট-মার = ইংরেজি + বাংলা,
- ডাক্তার-খানা = ইংরেজি + ফারসি,
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

১,০৫০.
'Translate' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. পারিভাষিক
  2. দোভাষী
  3. অনুবাদক
  4. অনুবাদ করা
ব্যাখ্যা

• 'Translate' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ- অনুবাদ করা।

অন্যদিকে,
• 'Technical' অর্থ - পারিভাষিক।
• 'Interpreter' অর্থ - দোভাষী।
• 'Translator'  অর্থ - অনুবাদক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।

১,০৫১.
তৎপুরুষ সমাস সাধিত সমস্তপদ নয় কোনটি?
  1. রাজপথ
  2. রান্নাঘর
  3. তেলেভাজা
  4. লালপেড়ে
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।এই সমাস এপরপদের প্রাধান্য পায়।
যেমন,
-পথের রাজা = রাজপথ।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পুর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন,
লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে,
কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৫২.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. দাঁত
  2. ঢেঁকি
  3. অধ্যাদেশ
  4. কুঁড়ি
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দ: 
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘দাঁত’ শব্দটি একটি  তদ্ভব শব্দ।
- দেশি শব্দ-  ’ঢেঁকি, কুঁড়ি’।

উল্লেখ্য,
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১,০৫৩.
'তোষামোদকারী' - শব্দটি দিয়ে কোন বাগ্‌ধারা নির্দেশ করা হয়?
  1. কংস মামা
  2. খয়ের খাঁ
  3. খোদার খাসি
  4. লেফাফা দুরস্ত
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'তোষামোদকারী' - শব্দটি দিয়ে "খয়ের খাঁ" বাগ্‌ধারা নির্দেশ করা হয়। 'খয়ের খাঁ' বাগধারাটির অর্থ - তোষামোদকারী।

অন্যদিকে,
- ‘লেফাফা দুরস্ত’ বাগধারাটির অর্থ 'পরিপাটি'।
- 'কংস মামা' বাগধারাটির অর্থ - নির্মম আত্মীয়,
- 'খোদার খাসি' বাগধারাটির অর্থ - ভাবনাচিন্তা হীন বা হৃষ্টপুষ্ট ব্যক্তি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৮)।

১,০৫৪.
'অদৃশ্য' কোন সমাস?
  1. নঞ্‌ তৎপুরুষ
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. নঞ্‌ বহুব্রীহি
  4. অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি বলে। নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন -
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- নয় দৃশ্যমান যা = অদৃশ্য ইত্যাদি।
এরকম - নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, বেপরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৫৫.
'অশ্বমেধ যজ্ঞ' বাগধারার অর্থ-
  1. ঘোড়া নিধন
  2. বিপুল আয়োজন
  3. ধ্বংস করা
  4. হত্যাযজ্ঞ
ব্যাখ্যা
• ‘অশ্বমেধ যজ্ঞ’ বাগধারাটির অর্থ- 'বিপুল আয়োজন'। 
বাক্য গঠন: ছেলের মুখে ভাতেত তুমি দেখছি অশ্বমেধ যজ্ঞ করে ফেলছো। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে, 
যজ্ঞ অর্থ- 
১ দেবতার অনুগ্রহ লাভের জন্য হিন্দুদের বেদবিহিত অনুষ্ঠান; ক্রতু; যাগ; হোম।
২ (আলঙ্কারিক) বিরাট অনুষ্ঠান; বড় আয়োজন।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
-  ‘উজলপাঁজল’ বাগধারার অর্থ - উথালপাথাল।
- ‘উলুখাগড়া’ বাগধারার অর্থ - গুরুত্বহীন লোক। 
- 'আঁধার ঘরের মানিক' বাগধারটির অর্থ অত্যন্ত প্রিয়জন।
- 'ইঁচড়ে পাকা' বাগধারাটির অর্থ- অকালপক্ব।
- অমাবস্যার চাঁদ বাগধারার অর্থ- দুর্লভ বস্তু বা বিরল বস্তু।
- আকাশ কুসুম বাগধারার অর্থ- অবাস্তব কল্পনা।
- আষাঢ়ে গল্প বাগধারার অর্থ- আজগুবি কাহিনি।
- 'অগ্নি পরীক্ষা' বাগধারাটির অর্থ-  কঠিন পরীক্ষা।
- 'অদৃষ্টের পরিহাস' বাগধারাটির অর্থ- ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
১,০৫৬.
নিচের কোন বহুবচনটি সঠিক?
  1. ক) মনুষ্যসকল
  2. খ) মনুষ্যসমূহ
  3. গ) পাখিসব
  4. ঘ) ক, খ, গ সবগুলােই
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণ, ২০১৯ সংস্করণ ]
১,০৫৭.
নিচের কোনটি বহুবচন?
  1. ক) বইটা
  2. খ) মাঝিরা
  3. গ) শিক্ষক
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- মাঝিরা- বহুবচনের উদাহরণ।
- 'বচন' অর্থ হচ্ছে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
 
• বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন ।
• একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন: শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন। বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

• বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন: মাঝিরা নৌকা চালায়। কলমগুলোর দাম অনেক।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৫৮.
দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. কাঁচা-মিঠা
  2. সোনারুপা
  3. গোলাপফুল
  4. লাঠালাঠি
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- সোনা ও রুপা = সোনা-রুপা,
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
- ভালো ও মন্দ = ভালো-মন্দ,
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল। 
যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত। 
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৫৯.
'শিলীমুখ' শব্দের অর্থ কী?
  1. বাতাস
  2. গিরিস্রাব
  3. গিরিখাত
  4. ভ্রমর
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'শিলীমুখ'- শব্দটি 'মৌমাছি' শব্দের সমার্থক শব্দ।

• 'মৌমাছি' এর সমার্থক শব্দ:
- মধুকর, মৌমাছি, মধুপ, শিলীমুখ, ভূঙ্গ, দ্বিরেফ, ভ্রমর, মধুলেহ, অলি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১,০৬০.
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. প্রতিশব্দ 
  2. কারক বিশ্লেষণ
  3. ক্রিয়ার কাল 
  4. বাগ্‌ধারা 
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।

তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
• 'ক্রিয়ার কাল' রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
• 'প্রতিশব্দ' ও 'বাগ্‌ধারা' নিয়ে ব্যাকরণের অর্থতত্ত্ব অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,০৬১.
কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. জিভ
  2. দাঁত
  3. ডাব
  4. পাত্র
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ - পাত্র

বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. তৎসম,
২. তদ্ভব,
৩. দেশি ও
৪. বিদেশি।
- এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তদ্ভব শব্দ - জিভ, দাঁত।
• দেশি শব্দ - ডাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১,০৬২.
'যা হৃদয়ে গমন করে' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. বিদীর্ণহৃদয়
  2. হৃদয়বিদারক
  3. হৃদয়গামী
  4. হৃদয়ঙ্গম
ব্যাখ্যা
• 'যা হৃদয়ে গমন করে' এর এক কথায় প্রকাশ - হৃদয়ঙ্গম।

উল্লেখ্য,
- যার সর্বস্ব চুরি গেছে - হৃতসর্বস্ব।
- যা হৃদয় বিদীর্ণ করে - হৃদয়বিদারক।
- যার হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে - বিদীর্ণহৃদয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,০৬৩.
'মাতুল' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? 
  1. মাতুলা
  2. মাতুলনী
  3. মাতুলাইন 
  4. মাতুলানী
ব্যাখ্যা


আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
বন - বনানী;
মাতুল - মাতুলানী;
অরণ্য - অরণ্যানি;
চৌধুরী - চৌধুরানী;
শেতাঙ্গ - শেতাঙ্গিনী;
বেদে - বেদেনী।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,০৬৪.
'নির্বাদ' শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. অবসান
  2. দুর্নাম
  3. বায়ুশূন্য
  4. বাধাহীন
ব্যাখ্যা
নির্বাদ:
- শব্দটি বিশেষ্য। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: দুর্নাম, নিন্দা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,০৬৫.
নিচের কোনটিতে 'সম্ভাবনা' অর্থে অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে
  2. খ) আজ রোদ উঠলেও উঠতে পারে
  3. গ) তুমি গেলে আমিও যাব
  4. ঘ) ইট মারলে পিটুনি খেতেই হয়
ব্যাখ্যা
আজ রোদ উঠলেও উঠতে পারে- বাক্যে 'সম্ভাবনা' অর্থে অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে।

অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাঁকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। 

'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার-
• বিধিনিষেধ বোঝাতে- এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে 
• প্রতিফল বোঝাতে- ইট মারলে পিটুনি খেতেই হয়।
• সাপেক্ষতা বোঝাতে --তুমি গেলে আমিও যাব। 
• সম্ভাব্যতা অর্থে -- আজ রোদ উঠলেও উঠতে পারে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৬৬.
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে তাকে কী বলে?
  1. অর্ধ-দ্বিস্বরধ্বনি
  2. দ্বিস্বরধ্বনি
  3. মিশ্রধ্বনি
  4. ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।
- দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৬৭.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন।
  1. ক) দুষ্কৃতকারি
  2. খ) দুষ্কৃতিকারি
  3. গ) দুষ্কৃতিকারী
  4. ঘ) দুষ্কৃতকারী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- দুষ্কৃতকারী (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [দুষ্কৃত+√কৃ+ইন্]
অর্থ: দুষ্কর্মকারী, অন্যায়কারী, অপরাধী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,০৬৮.
'রাজীব' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অরবিন্দ
  2. পদ্ম
  3. প্রসূন
  4. সরসিজ
ব্যাখ্যা
• ‘পুষ্প’ এর সমার্থক শব্দ: ফুল, কুসুম, প্রসূন
- 'রাজীব' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় প্রসূন। 

• রাজীব শব্দের সমার্থক শব্দ -
- পদ্ম,
- উৎপল,
- কমল,
- শতদল,
- সরসিজ,
- পঙ্কজ,
- সরোজ,
- অরবিন্দ

সূত্র: অভিগম্য অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,০৬৯.
Latitude-এর শুদ্ধ পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অক্ষাংশ
  2. খ) অভ্যুত্থান
  3. গ) নান্দনিকতা
  4. ঘ) উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা

Latitude - অক্ষাংশ
Coup - অভ্যুত্থান
Aesthetics - নান্দনিকতা
Successor - উত্তরাধিকার
উৎসঃ অক্সফোর্ড ডিকশনারি

১,০৭০.
নিচের কোন বাগধারাটি ভিন্নার্থক?
  1. আদায় - কাঁচকলায়
  2. গাছ পাথর
  3. দা-কুমড়া
  4. অহি-নকুল
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

আদায় - কাঁচকলায়, দা-কুমড়া ও অহি-নকুল - বাগধারাগুলোর অর্থ সমার্থক। এগুলোর অর্থ - ভীষণ শত্রুতা।
অন্যদিকে,
'গাছ পাথর' বাগধারাটির অর্থ হিসেব নিকেশ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই ও ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ

১,০৭১.
'তোমার দেখা পেলাম না।' - বাক্যে ‘তোমার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে ২য়া
  2. কর্ম কারকে ষষ্ঠী
  3. করণ কারকে ২য়া
  4. কর্মকারকে ৩য়া
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে।

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭২.
বহুবচন লগ্নক যোগে সঠিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পুস্তকবর্গ
  2. পুষ্পদাম
  3. কমলনিকর
  4. কুসুমনিচয়
ব্যাখ্যা
⇒ 'পুস্তক' শব্দের বহুবচন - 'পুস্তকাবলি'। 

• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়। 

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৭৩.
'অহ্ন' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. দব্য
  2. দিবা
  3. দেহ
  4. দোকান
ব্যাখ্যা
• ‘অহ্ন’ শব্দের প্রতিশব্দ - দিবা

• ‘অহ্ন’ শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- দিবস, দিনমান, তমসতাড়িনী, অযামিনী, দিন, অহন।

অন্যদিকে,
• ‘দব্য’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- অন্ন, ভাত, ওদন, আহার, তণ্ডুল।

• ’দেহ' শব্দের প্রতিশব্দ:
- কায়া, কলেবর, গা, গাত্র, তনু, শরীর, অঙ্গ, কায়।

• ‘দোকান’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- আপণ, বিপণি, হাট, পণ্যশালা, পণ্যনিকেতন, পণ্যগৃহ, পণ্যবিচিত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭৪.
'মাতা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ মা + তৃচ/তা
  2. √ মাতৃ + আ
  3. √ মাত্ + আ
  4. √ মাতা + অ
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়: উৎস অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কৃৎ প্রত্যয়সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো:
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও
- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। 

• উল্লিখিত 'মাতা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় হবে '√ মা + তৃচ্‌'। 
- এটি তৃচ্‌-প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃত-প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• তৃচ্‌-প্রত্যয়: প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' থলে 'তা' হয়।
যেমন-
√ দা + তৃচ = দাতা, 
√ মা + তৃচ = মাতা,
√ যুধ + তৃচ = যোদ্ধা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০১৯ সংস্করণ।
১,০৭৫.
'বিমুগ্ধ' শব্দটি ব্যাকরণের কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) উপসর্গযোগে
  2. খ) সন্ধিযোগে
  3. গ) প্রত্যয়যোগে
  4. ঘ) সমাসযোগে
ব্যাখ্যা
বিমুগ্ধ = বি+মুগ্ধ
এখানে 'বি' বাংলা এবং তৎসম উভয় উপসর্গ।  

• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।
• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭৬.
'সুত' শব্দের অর্থ কী?
  1. চরিত্র
  2. রাস্তা
  3. পুত্র
  4. কন্যা
ব্যাখ্যা
• 'সুত' শব্দের অর্থ: পুত্র।
---------------- 
• কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
→ শব - লাশ।
→ সব - সকল।
→ শিল - পাথর।
→ শীল - চরিত্র।
→ সুত - পুত্র।
→ সূত - সারথি। 
→ সূত - সারথি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭৭.
নিচের কোন শব্দটি গুজরাটি?
  1. কাহিনী
  2. চাহিদা
  3. হরতাল
  4. রিকশা
ব্যাখ্যা
• হরতাল (বিশেষ্য পদ)।
- 'গুজরাটি' ভাষার শব্দ।
 অর্থ:
- ধর্মঘট;
- বিক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য যানবাহন, হাট-বাজার, দোকান-পাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করা।

অপরদিকে,
-----------------------
• ‘কাহিনি’ হিন্দি ভাষার শব্দ।
অর্থ: গল্প, আখ্যান, উপন্যাস।
[অভিধান অনুসারে, কিাহিনী বানানটি অশুদ্ধ।]

• চাহিদা (বিশেষ্য পদ)।
- বাংলা ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- বাজারে পণ্যদ্রব্যের প্রয়োজনীয়তা।
- ক্রয়ের ইচ্ছা। 
[ উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে, 'চাহিদা' পাঞ্জাবি শব্দ।]

• রিকশা (বিশেষ্য), 
- এটি জাপানি শব্দ। 
অর্থ: মনুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়ক্যান। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,০৭৮.
নিচের কোনটি র্‌ - জাত বিসর্গের উদাহরণ?
  1. নমঃ
  2. পুনঃ
  3. পুরঃ
  4. শিরঃ
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।

১. র্‌ - জাত বিসর্গ:
র স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে র্‌ - জাত বিসর্গ বলে।
যেমন -
অন্তর - অন্তঃ,
প্রাতর - প্রাতঃ,
পুনর - পুনঃ ইত্যাদি।

২. স্‌ - জাত বিসর্গ:
স স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে স্‌ - জাত বিসর্গ বলে।
যেমন -
নমস্‌ - নমঃ,
পুরস্‌ - পুরঃ,
শিরস্‌ - শিরঃ ইত্যাদি।

বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭৯.
'কুজ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) কুয়াশা
  2. খ) অনুকার
  3. গ) শৈল
  4. ঘ) প্রভাকর
ব্যাখ্যা
'কুজ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ কুহেলিকা, কুয়াশা। প্রভাকর মানে সূর্য, ভাস্কর। শৈল মানে পর্বত, গিরি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
১,০৮০.
'মীনের অক্ষির ন্যায় অক্ষি যার' - এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. ক) মনোহর
  2. খ) মোহিনী
  3. গ) মৃদঙ্গ
  4. ঘ) মীনাক্ষি
ব্যাখ্যা
• মীনের অক্ষির ন্যায় অক্ষি যার এর এক কথায় প্রকাশ হলো - মীনাক্ষি

• অন্যান্য অপশন:
মন হরণ করে যা - মনোহর।
মুগ্ধ করে যে নারী - মোহিনী।
মৃৎ অঙ্গ যার - মৃদঙ্গ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,০৮১.
‘রোজনামচা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
'রোজনামচা’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে।

আরো কিছু ফারসি শব্দ:
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- লাল,
- লুঙ্গি,
- সাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,০৮২.
আরবি উৎস থেকে আত্তীকৃত এবং প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দ হলাে -
  1. ক) রায়
  2. খ) জবানবন্দি
  3. গ) নমুনা
  4. ঘ) দস্তখত
ব্যাখ্যা

রায় (Judgement) শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
এর অর্থ - বিচারকের সিদ্ধান্ত; আদালতের বা বিচারকের বিচার-ফল।

- জবানবন্দি, নমুনা, দস্তখত এই শব্দগুলোর উৎস ফারসি।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

১,০৮৩.
'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. বিরক্ত
  2. অননুমেয়  
  3. বিরত 
  4. প্রস্থিত
ব্যাখ্যা

• 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত 
- 'অনুমেয়' এর বিপরীত শব্দ - অননুমেয় 
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত 
- 'দরদি' এর বিপরীত শব্দ-নির্দয় 
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ-বিনীত 
- 'উগ্র' এর বিপরীত শব্দ-মৃদু / সৌম্য 
- 'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ-বিনয় 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০৮৪.
'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. ৭টি 
  2. ৬টি 
  3. ৫টি 
  4. ৪টি 
ব্যাখ্যা

• অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম - syllable. অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- দিন, রাত)

যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৮৫.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ নয়?
  1. কুলা
  2. ডুলা
  3. চুলা
  4. মুলা
ব্যাখ্যা
মুলা, মূলা, মুলো (বিশেষ্য): এক প্রকার কন্দ; তরকারিবিশেষ; radish।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) মূলক>}
অর্থ্যাৎ, মুলা শব্দটি সংস্কৃত মূল থেকে বাংলায় এসেছে।

কুলা, ডুলা, চুলা, গঞ্জ, টাপুর, টুপুর ইত্যাদি দেশি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
১,০৮৬.
কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল কত?
  1. কোনোরূপ বিরতির প্রয়োজন নেই
  2. ১ (এক) বলতে যে সময় লাগে
  3. ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ
  4. ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়কাল
ব্যাখ্যা
কোলন ড্যাস (:-)
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
- কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ।

যেমন:
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,০৮৭.
'মাতালদের ওই ভাঁটিশালায় নটিনী আজ বীণাপাণি।' - বাক্যে ‘ভাঁটিশালায়’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।

 
‘মাতালদের ওই ভাঁটিশালায় নটিনী আজ বীণাপাণি।’- এখানে 'ভাঁটিশালায়' হলো  অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
• ক্রিয়াকে ‘কোথায়/ কখন/ কী বিষয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
• উদাহরণটিতে ক্রিয়াকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে 'ভাঁটিশালায়' উত্তর পাওয়া যায় তাই 'ভাঁটিশালায়' হলো অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
 
অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
 
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা),
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ  = সাবান)।
 
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮৮.
'তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই' বাক্যে কোন অর্থে পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে
  2. খ) আধিক্য বােঝাতে
  3. গ) আগ্রহ বােঝাতে
  4. ঘ) অনুরূপ বোঝাতে
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি:
বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি।
- বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি:
বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।

- আধিক্য বােঝাতে: রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
- সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে: তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
- ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
- অনুরূপ বােঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
- আগ্রহ বােঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৯.
কোনটি অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণের উদাহরণ?
ব্যাখ্যা

অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ:
- ত, থ, দ, ধ, ন, , স।

অন্যদিকে,
জিহ্বামূলীয় বর্ণ:
- ক, খ, গ, ঘ,

অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ বর্ণ:
- চ, ছ, , ঝ, ঞ, , য, য়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৯০.
’ফাল্গুন > ফাগুন’-এখানে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি:
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি:
- অন্তর্হতি পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন-
- ফাল্গুন>ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা >আলাদা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট>কপাট, ধোবা>ধোপা, ধাইমা> দাইমা ইত্যাদি।
 
• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন: বউদিদি >বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি :
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-  বলিয়া>বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,০৯১.
'সে পুরস্কার পেয়েছে'। বাক্যটিতে কোন ধরনের বর্তমান কাল প্রকাশিত হয়েছে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
ব্যাখ্যা
• 'সে পুরস্কার পেয়েছে'। বাক্যটিতে পুরাঘটিত বর্তমান কাল প্রকাশিত হয়েছে। 
----------------- 
• ক্রিয়ার কাল:
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে। ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার:
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

• বর্তমান কাল চার প্রকার:
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান এবং
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
১,০৯২.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাযুক্ত বর্ণ কয়টি?
  1. ৩২
  2. ৪০
  3. ১০
ব্যাখ্যা
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০টি।
- যার ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ।
- স্বরবর্ণের ৬টি বর্ণের মধ্যে টি পূর্ণমাত্রার, ১টি অর্ধমাত্রার এবং ৪টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে।
- ব্যঞ্জনবর্ণের ৩৯টি বর্ণের মধ্যে ২৬টি পূর্ণমাত্রার, ৭টি অর্ধমাত্রার এবং ৬টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে।
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২টি অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি এবং মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি।
- সুতরাং মাত্রাযুক্ত বর্ণ ৩২+৮=৪০ টি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৯৩.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. বাঁশি
  2. আদিত্য
  3. কর্তব্য
  4. শয়ন
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
এইরকম:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'কর্তব্য' এবং 'শয়ন' যৌগিক শব্দ।
- 'আদিত্য' হচ্ছে যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৪.
’সমুদ্র’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি ?
  1. বারীন্দ্র
  2. তরঙ্গিণী
  3. বারীশ
  4. নীলাম্বু
ব্যাখ্যা
• 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ- 
সাগর, রত্নাকর, জলধি, সিন্ধুই, বারিধি, বারীশ, উদধি, অর্ণব, অম্বুধি, তোয়নিধি, বারীশ, পয়োধি, পারাবার, জলনিধি, নীলাম্বু, পাথার, পয়োনিধি, জলধর, অম্বুনিধি, বারীন্দ্র ইত্যাদি।

তাছাড়া, 
• নদী শব্দের সমার্থক শব্দ: তরঙ্গিণী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎমামুদ।
১,০৯৫.
যে বাচ্যের কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রতীয়মান হয় তাকে কোন বাচ্য বলে?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
- ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।
- ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৯৬.
কোনটি আদিম মানুষের ভাব প্রকাশের বাহন ছিল না?
  1. চিত্রাংকন
  2. ইশারা ইঙ্গিত
  3. অঙ্গপ্রতঙ্গের ব্যবহার
  4. ভাষা
ব্যাখ্যা
• আদিম মানুষের ভাব প্রকাশের বাহন ছিল না- ভাষা।

• আদিম ভাষার ইতিহাস:
মানুষের ভাবনা প্রকাশের আদিমতম মাধ্যম চিত্রকলা। মানুষ ভাষা আয়ত্ত করার আগে ইশারায় কথা বলত, কখনো-বা ছবি এঁকে মনের ভাব বোঝাত। প্রাচীন গুহার গায়ে আদিম মানুষের আঁকা যে সব ছবি পাওয়া যায় তার কার্যকারণ নিয়ে অনেক কথাই আছে, কিন্তু একটি কথা পরিষ্কার মানুষ কিছু বলতে চেয়েছে, সেই বলাটার প্রকাশ ছবিতে হয়েছে। এবং ছবি প্রাচীনতম ভাষা। 

উৎস: ‘আদিম ভাষার ইতিহাস ও মূল্য’ গ্রন্থ এবং ‘আদিম মানব সমাজের ইতিহাস’ ড. মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী।
১,০৯৭.
'সোম' কোন শব্দের সমার্থক?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) সত্য
  3. গ) মায়া
  4. ঘ) অনুকম্পা
ব্যাখ্যা
- 'সোম' হচ্ছে চাঁদ শব্দের সমার্থক।

• চাঁদ শব্দের সমার্থক:
- চন্দ্র, শশী, শশধর, ,শশাঙ্ক, বিধু, সোম, সিধাংশু, নিশাকর হিমাংশু, মৃগাঙক, সুধাকর ইত্যাদি।

অপরদিকে,
• 'দয়া' শব্দের সমার্থক:
- মায়া, অনুকম্পা, করুণা, অনুগ্রহ, কৃপা।

• 'ঠিক' শব্দের সমার্থক:
- সত্য, সঠিক, উপযুক্ত, যথার্থ, ভালো, নির্ভুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৯৮.
'ঠুটো জগন্নাথ' এর সমার্থক বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. চিনে জোঁক
  2. তীর্থের কাক
  3. খয়ের খাঁ
  4. কুমড়ো কাটা বটঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'ঠুটো জগন্নাথ' এর সমার্থক বাগ্‌ধারা 'কুমড়ো কাটা বটঠাকুর'। 

• 'ঠুটো জগন্নাথ' বাগ্‌ধারার অর্থ - অকর্মণ্য। 
• 'কুমড়ো কাটা বটঠাকুর' বাগ্‌ধারার অর্থ - অকর্মণ্য লোক

অন্যদিকে, 
• ‘চিনে জোঁক’ অর্থ - নাছোড়বান্দা।  
• তীর্থের কাক' অর্থ - সুযোগ সন্ধানী। 
• 'খয়ের খাঁ' অর্থ - তোষামোদকারী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১,০৯৯.
'যা চেটে খাবার যোগ্য' এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. চর্ব্য
  2. চোষ্য
  3. লেহ্য
  4. খাদ্য
ব্যাখ্যা
 • 'যা চেটে খাবার যোগ্য' কে এককথায় বলে - লেহ্য।

অন্যদিকে,
- 'যা চিবিয়ে খাবার যোগ্য' এর এককথায় প্রকাশ - চর্ব্য।
- ‘যা চুষে খাবার যোগ্য’ এর এককথায় প্রকাশ - চোষ্য।
- ‘যা খাওয়ার যোগ্য' এর এককথায় প্রকাশ - খাদ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১০০.
চোখের সমার্থক শব্দ নয়-
  1. লোচন
  2. নয়ন
  3. সলিল
  4. অক্ষি
ব্যাখ্যা

• চোখ শব্দের সমার্থক শব্দ- নয়ন, লোচন, অক্ষি।
• সলিল শব্দের সমার্থক শব্দ নীর, পানি, জল, বারি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।